মধ্যপ্রাচ্যে চলমান উত্তেজনা নবম দিনে পৌঁছেছে। যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের সামরিক পদক্ষেপের পাল্টা জবাবে ইরানও হামলা চালাচ্ছে। এ পরিস্থিতিতে মার্কিন সংবাদমাধ্যম জানিয়েছে, ইরানের গোপন স্থানে লুকানো সমৃদ্ধ ইউরেনিয়ামের সম্ভাব্য অবস্থান সম্পর্কে ধারণা পেয়েছে যুক্তরাষ্ট্র।
রোববার (৮ মার্চ) যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক সংবাদমাধ্যম Axios এক প্রতিবেদনে জানায়, ইরানের উচ্চমাত্রায় সমৃদ্ধ ইউরেনিয়ামের মজুত দখলে নিতে বিশেষ সামরিক অভিযান চালানোর পরিকল্পনা করছে Israel ও United States। এ জন্য বিশেষ কমান্ডো বাহিনী ব্যবহারের বিষয়টি বিবেচনায় রয়েছে।
প্রতিবেদনে বলা হয়, এই অভিযানে কেবল মার্কিন বাহিনী, নাকি ইসরাইলি বাহিনী, অথবা উভয় দেশের যৌথ কমান্ডো দল অংশ নেবে—এ বিষয়ে এখনো স্পষ্ট সিদ্ধান্ত জানা যায়নি।
ধারণা করা হচ্ছে, বর্তমান হামলার পরবর্তী ধাপ হিসেবে এই অভিযান পরিচালিত হতে পারে। যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইল মনে করছে, ইরানের সামরিক বাহিনী যদি শক্ত প্রতিরোধ গড়ে তোলার সক্ষমতা হারায়, তখনই কমান্ডো অভিযান চালানো সহজ হবে।
অন্যদিকে The New York Times তাদের প্রতিবেদনে জানায়, ইরান সম্ভবত উচ্চমাত্রায় সমৃদ্ধ ইউরেনিয়াম সরিয়ে নেওয়া বা ব্যবহার করার চেষ্টা করতে পারে। গত জুন মাসে ইরানের Isfahan Nuclear Technology Center-এ যুক্তরাষ্ট্রের হামলার পর এই উপাদানগুলো মাটির নিচে গোপনে সংরক্ষণ করা হয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
বর্তমানে ইরানের কাছে প্রায় ৬০ শতাংশ মাত্রায় সমৃদ্ধ ৪০০ কেজিরও বেশি ইউরেনিয়াম রয়েছে বলে বিভিন্ন সূত্রে উল্লেখ করা হয়েছে। তবে এই বিপুল পরিমাণ ইউরেনিয়ামের সঠিক অবস্থান ও বর্তমান পরিস্থিতি নিয়ে এখনও বড় ধরনের অনিশ্চয়তা রয়ে গেছে।
মার্কিন গোয়েন্দা সংস্থাগুলোর মতে, এখন একটি খুব সীমিত সুযোগ রয়েছে যার মাধ্যমে ওই ইউরেনিয়াম পুনরুদ্ধার করা সম্ভব হতে পারে।
মধ্যপ্রাচ্যের ক্রমবর্ধমান উত্তেজনার মধ্যেই একটি চাঞ্চল্যকর দাবি ভূ-রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন করে বিতর্কের ঝড় তুলেছে। গত ৪৮ থেকে ৫৬ ঘণ্টার মধ্যে ১৬টি চীনা 'ওয়াই-২০' (Y-20) সামরিক কার্গো বিমান তাদের ট্রান্সপন্ডার বা সিগন্যাল বন্ধ রেখে ইরানের আকাশে প্রবেশ করেছে বলে খবর ছড়িয়েছে। কোনো আনুষ্ঠানিক নিশ্চিতকরণ ছাড়াই এই তথ্যটি প্রতিরক্ষা বিশ্লেষক ও সোশ্যাল মিডিয়া ব্যবহারকারীদের মধ্যে তীব্র উদ্বেগ সৃষ্টি করেছে। দাবি করা হচ্ছে, এই বিমানগুলো বেসামরিক রাডার থেকে আড়াল থাকতে বিশেষ কৌশল অবলম্বন করেছিল। নেটিজেন ও সামরিক বিশ্লেষকদের একটি অংশের ধারণা, চীন হয়তো ইরানকে অত্যাধুনিক ইলেকট্রনিক ওয়ারফেয়ার সিস্টেম বা জ্যামিং প্রযুক্তি সরবরাহ করছে। যদি এটি সত্যি হয়, তবে মার্কিন এফ-৩৫ (F-35) যুদ্ধবিমান বা নৌ-অভিযানের জন্য এটি বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়াতে পারে। অনেকে একে যুক্তরাষ্ট্রের প্রতি বেইজিংয়ের সরাসরি ‘সতর্কবার্তা’ হিসেবেও দেখছেন। তবে এই উত্তেজনার মুদ্রার উল্টো পিঠও রয়েছে। ফ্লাইটরাডার২৪-এর মতো আন্তর্জাতিক ফ্লাইট ট্র্যাকিং প্ল্যাটফর্মে এ ধরনের কোনো অস্বাভাবিক ফ্লাইটের রেকর্ড পাওয়া যায়নি। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ১৬টি ভারী সামরিক কার্গো বিমানের মতো বিশাল বহরকে রাডার বা স্যাটেলাইট নজরদারি থেকে সম্পূর্ণ লুকিয়ে রাখা প্রায় অসম্ভব। বর্তমান ভূ-রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে চীন-ইরান সম্পর্ক গভীর হলেও, সুনির্দিষ্ট প্রমাণের অভাবে বিশ্লেষকরা একে আপাতত ‘সুপরিকল্পিত গুজব’ বা মিসইনফরমেশন হিসেবেই দেখছেন। তেহরান বা বেইজিং—কোনো পক্ষ থেকেই এখন পর্যন্ত এ নিয়ে কোনো আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া মেলেনি।
এপস্টেইন ফাইল: দাবি, বাইডেনকে ২০১৯ সালে হত্যা করে ক্লোন দ্বারা প্রতিস্থাপন করা হয়েছে জেফরি এপস্টেইনের ফাইল ট্রান্সপারেন্সি অ্যাক্টের সাথে যুক্ত সম্প্রতি প্রকাশিত একটি নথি ত্রাঞ্চে অভিযোগ করা হয়েছে যে, প্রাক্তন মার্কিন প্রেসিডেন্ট জো বাইডেনকে ২০১৯ সালে হত্যা করা হয়েছে এবং তাকে একটি ক্লোন দ্বারা প্রতিস্থাপন করা হয়েছে। এই নথিগুলি, যা আনক্লাসিফায়েড ডিপার্টমেন্ট অব জাস্টিস (DOJ) রেকর্ডের একটি বিশাল ডেটা রিলিজের অংশ, “চার্লস” নামে একজনের ক্ষুব্ধ ইমেইল অন্তর্ভুক্ত করেছে এবং অন্তর্বর্তী ফাইলিং কোড EFTA00173266 থেকে EFTA00173273 পর্যন্ত চিহ্নিত। এই ইমেইলগুলো তৃতীয় পক্ষের যোগাযোগের মধ্যে পাওয়া গেছে, যা জেফরি এপস্টেইনের নেটওয়ার্ক সংক্রান্ত বিস্তৃত ফেডারেল তদন্তের সময় সংগ্রহ করা হয়েছিল। এপস্টেইন সম্পর্কিত অন্যান্য প্রকাশনার মতো এখানে রাজনৈতিক ও ব্যবসায়িক ব্যক্তিদের সঙ্গে সম্পর্কের তথ্য নয়, বরং চরম ও ষড়যন্ত্রমূলক দাবিগুলো রয়েছে। ক্লোন তত্ত্বের উল্লেখ “চার্লস” ইমেইলগুলো এপ্রিল ২০২১-এ একজন এফবিআই এজেন্টকে ফরোয়ার্ড করা হয়েছিল, যাকে লাল করা প্রেরক হিসেবে দেখানো হয়েছে। প্রেরক দাবি করেছিলেন যে এটি একটি প্রযুক্তি সংস্থার এক ক্ষুব্ধ প্রাক্তন কর্মচারী বা সহযোগীর মেসেজ। ইমেইলগুলিতে গালাগালি ভাষা ব্যবহৃত হয়েছে এবং এখানে “কোয়ান্টাম” প্রযুক্তি, গোপন সামরিক ট্রাইব্যুনাল, এবং “বাইডেন আপনার বর্তমান প্রেসিডেন্ট নন” এমন দাবির উল্লেখ রয়েছে। একটি অনুচ্ছেদে বলা হয়েছে যে “বাস্তব” জো বাইডেনকে ২০১৯ সালে নির্বিচারে হত্যা করা হয়েছে এবং তাকে একজন অভিনেতা বা ক্লোন দ্বারা প্রতিস্থাপন করা হয়েছে, যেখানে প্রমাণ হিসেবে “মাস্কের ত্রুটি” দেখানো হয়েছে। তবে এই দাবিগুলোর সঙ্গে কোনো শারীরিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি বা সঙ্গত সাক্ষ্য নেই। “বাইডেন ক্লোন” দাবি অনলাইনে ষড়যন্ত্র তত্ত্বের একটি পরিচিত অংশ। তত্ত্বটি সাধারণত ধরে যে “বাস্তব” জো বাইডেনকে গোপনে জনমঞ্চ থেকে সরিয়ে দেওয়া হয়েছে, প্রায়শই ২০১৯ বা ২০২০ সালে, এবং তাকে চেহারা মিলানো লোক বা ক্লোন দিয়ে প্রতিস্থাপন করা হয়েছে। অনুগামীরা প্রায়শই নিম্নমানের ভিডিও এবং ফটোগ্রাফ বিশ্লেষণ করে, চেহারার পরিবর্তন যেমন আলোর পরিবর্তন, বয়সের প্রভাব বা ক্যামেরার ত্রুটিকে কৃত্রিমভাবে আড়াল করার প্রমাণ হিসেবে দেখান। এ পর্যন্ত কোনো যাচাইযোগ্য প্রমাণ নেই যে প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন কখনো ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন বা প্রতিস্থাপিত হয়েছেন। এই দাবিগুলি সম্পূর্ণভাবে একটি ষড়যন্ত্র তত্ত্ব হিসেবে রয়ে গেছে। সূত্র: Royanews
দাম বাড়ানোর ১২ ঘণ্টারও কম সময়ের ব্যবধানে দেশের বাজারে আবারও স্বর্ণের দাম কমিয়েছে বাংলাদেশ জুয়েলার্স অ্যাসোসিয়েশন (বাজুস)। ভরিতে এক লাফে ৩ হাজার ২৬৬ টাকা কমিয়ে ২২ ক্যারেটের প্রতি ভরি স্বর্ণের নতুন দাম নির্ধারণ করা হয়েছে ২ লাখ ৫৮ হাজার ৮২৪ টাকা। শনিবার (৭ ফেব্রুয়ারি) রাতে বাজুসের এক বিজ্ঞপ্তিতে দাম কমানোর বিষয়টি জানানো হয়েছে। নতুন দাম রোববার (৮ ফেব্রুয়ারি) থেকেই কার্যকর হবে। এর আগে একই দিন সকালে দেশের বাজারে স্বর্ণের দাম বাড়ানো হয়। ওই সময় ভরিপ্রতি এক লাফে ৭ হাজার ৬৪০ টাকা বাড়িয়ে ২২ ক্যারেটের এক ভরি স্বর্ণের দাম নির্ধারণ করা হয়েছিল ২ লাখ ৬২ হাজার ৯০ টাকা। নতুন দাম অনুযায়ী, বর্তমানে দেশের বাজারে ২২ ক্যারেটের প্রতি ভরি (১১.৬৬৪ গ্রাম) স্বর্ণের দাম পড়বে ২ লাখ ৫৮ হাজার ৮২৪ টাকা। পাশাপাশি ২১ ক্যারেটের প্রতি ভরি ২ লাখ ৪৭ হাজার ৪৪ টাকা, ১৮ ক্যারেটের প্রতি ভরি ২ লাখ ১১ হাজার ৭৬০ টাকা এবং সনাতন পদ্ধতির প্রতি ভরি স্বর্ণের দাম পড়বে ১ লাখ ৭৩ হাজার ৩২৭ টাকা। এ নিয়ে চলতি বছর দেশের বাজারে মোট ২৭ বার স্বর্ণের দাম সমন্বয় করলো বাজুস। এরমধ্যে ১৭ বারই দাম বাড়ানো হয়েছে। আর দাম কমেছে মাত্র ১০ বার। অন্যদিকে গতবছর দেশের বাজারে মোট ৯৩ বার স্বর্ণের দাম সমন্বয় করা হয়েছিল। যেখানে ৬৪ বারই দাম বাড়ানো হয়েছিল। এছাড়া ২০২৫ সালে ২৯ বার কমানো হয়েছিল স্বর্ণের দাম।
যুক্তরাষ্ট্রে অভিবাসন নীতিতে কঠোরতা আরও স্পষ্ট হচ্ছে। সর্বশেষ মেইন (Maine) অঙ্গরাজ্যে ফেডারেল ইমিগ্রেশন অভিযান শুরুর ঘোষণা দিয়েছে Department of Homeland Security (ডিএইচএস)। ডিএইচএসের এক মুখপাত্রের বরাতে জানা গেছে, “Operation Catch of the Day” নামে এই বিশেষ অভিযানের মাধ্যমে রাজ্যটিতে অবস্থানরত অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে জড়িত অবৈধ অভিবাসীদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তার করা হবে। অভিযানটি পরিচালনায় ফেডারেল ইমিগ্রেশন কর্মকর্তাদের পাশাপাশি স্থানীয় আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সমন্বয় রয়েছে। কর্তৃপক্ষ বলছে, এই উদ্যোগের প্রধান লক্ষ্য জননিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং সহিংস বা গুরুতর অপরাধে যুক্ত ব্যক্তিদের আইনের আওতায় আনা। ডিএইচএস আরও জানায়, আইন মেনে বসবাসকারী বা অপরাধে জড়িত নন—এমন অভিবাসীদের লক্ষ্যবস্তু করা হবে না। তবে মানবাধিকার ও অভিবাসী অধিকার সংগঠনগুলোর আশঙ্কা, এ ধরনের অভিযানে ভয় ও অনিশ্চয়তা তৈরি হতে পারে এবং নিরপরাধ মানুষও হয়রানির শিকার হতে পারেন। এ নিয়ে তারা স্বচ্ছতা ও যথাযথ আইনি প্রক্রিয়া অনুসরণের আহ্বান জানিয়েছে। বিশ্লেষকদের মতে, মেইনে এই অভিযান শুরুর মাধ্যমে ফেডারেল সরকারের অভিবাসন আইন প্রয়োগ আরও বিস্তৃত পরিসরে জোরদার হলো। এর প্রভাব স্থানীয় অভিবাসী কমিউনিটির পাশাপাশি রাজ্যের রাজনৈতিক ও সামাজিক পরিমণ্ডলেও পড়তে পারে। সূত্র: ABC News
যুক্তরাষ্ট্রের শ্রমবাজারে তীব্র কর্মী সংকট মোকাবিলায় ২০২৬ অর্থবছরে বড় ধরনের পদক্ষেপ নিয়েছে ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রশাসন। নিয়মিত কোটার বাইরে অতিরিক্ত প্রায় ৬৪ হাজার ৭১৬টি এইচ-২বি মৌসুমি অতিথি শ্রমিক ভিসা দেওয়ার চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। রয়টার্সের বরাতে জানা গেছে, স্থানীয় সময় শুক্রবার (৩০ জানুয়ারি) প্রকাশিত ফেডারেল রেজিস্টার নোটিশে বলা হয়, দেশীয় শ্রমিকের ঘাটতির কারণে যেসব মার্কিন নিয়োগকর্তা বড় ধরনের আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়ছেন, মূলত তাদের স্বার্থ বিবেচনায় নিয়েই এই অতিরিক্ত ভিসার অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। ফলে বছরে নির্ধারিত ৬৬ হাজার এইচ-২বি ভিসার সংখ্যা প্রায় দ্বিগুণে পৌঁছাতে যাচ্ছে। নতুন এই সিদ্ধান্তে নির্মাণ শিল্প, হোটেল ও রেস্তোরাঁ, ল্যান্ডস্কেপিং এবং সি-ফুড প্রক্রিয়াজাতকরণ খাতের মতো শ্রমনির্ভর মৌসুমি শিল্পগুলো সবচেয়ে বেশি উপকৃত হবে বলে মনে করা হচ্ছে। এসব খাতে দীর্ঘদিন ধরেই দক্ষ স্থানীয় কর্মীর অভাবে বিদেশি শ্রমিক আনার দাবি জানিয়ে আসছিলেন নিয়োগকর্তারা। ক্ষমতায় আসার পর ট্রাম্প প্রশাসন অবৈধ অভিবাসনের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান নিলেও, বৈধ পথে কর্মসংস্থানের সুযোগ বাড়িয়ে অর্থনীতিকে সচল রাখতে এই নমনীয় সিদ্ধান্ত নিয়েছে। এর আগেও সাবেক প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন প্রশাসনের সময় শ্রমঘাটতি মোকাবিলায় এইচ-২বি ভিসার সংখ্যা বাড়ানো হয়েছিল। তবে সরকারের এই সিদ্ধান্তের বিরোধিতাও রয়েছে। অভিবাসন কমানোর পক্ষে থাকা বিভিন্ন গোষ্ঠীর আশঙ্কা, বিপুল সংখ্যক বিদেশি শ্রমিক প্রবেশ করলে মার্কিন নাগরিকদের মজুরি কমে যেতে পারে। এ বিষয়ে পেন্টাগন ও শ্রম মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, দেশের উন্নয়ন প্রকল্প এবং পর্যটন খাত সচল রাখতে এই মুহূর্তে বিদেশি শ্রমিকের বিকল্প নেই। ফেডারেল রেজিস্টারের তথ্যানুযায়ী, অতিরিক্ত এইচ-২বি ভিসা কার্যকরের বিশেষ বিধিমালা আগামী মঙ্গলবার আনুষ্ঠানিকভাবে প্রকাশ করা হবে এবং এরপরই আবেদন প্রক্রিয়া শুরু হবে। সূত্র: দ্য ফিন্যান্সিয়াল এক্সপ্রেস
মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধের দামামা এবং ইরানের ওপর যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যৌথ সামরিক অভিযানের প্রতিবাদে উত্তাল হয়ে উঠেছে মার্কিন রাজধানী ওয়াশিংটন ডিসি। সোমবার সন্ধ্যায় হোয়াইট হাউসের সামনে সমবেত হয়ে শত শত বিক্ষোভকারী এই হামলার তীব্র নিন্দা জানান এবং অবিলম্বে যুদ্ধ বন্ধের দাবি তোলেন। বিক্ষোভকারীরা 'ইরানে হামলা বন্ধ করো' এবং 'আরেকটি অন্তহীন যুদ্ধ চাই না' সম্বলিত প্ল্যাকার্ড হাতে স্লোগান দিতে থাকেন। উল্লেখ্য, গত ২৮ ফেব্রুয়ারি থেকে শুরু হওয়া 'অপারেশন এপিক ফিউরি'-র আওতায় ইরানজুড়ে ব্যাপক বিমান হামলা চালাচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল। এই হামলায় ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনেসিসহ বহু মানুষ নিহত হওয়ার খবর পাওয়া গেছে। বিক্ষোভ সমাবেশ থেকে বক্তারা অভিযোগ করেন, কংগ্রেসের অনুমোদন ছাড়াই প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এই অবৈধ যুদ্ধ শুরু করেছেন, যা আন্তর্জাতিক আইনের চরম লঙ্ঘন। বিশেষ করে দক্ষিণ ইরানের মিনাবে একটি বালিকা বিদ্যালয়ে হামলায় ১৬৫ জন নিহতের ঘটনায় শোক ও ক্ষোভ প্রকাশ করেন তারা। 'অ্যানসার কোয়ালিশন' এবং 'কোড পিঙ্ক'-এর মতো শান্তিকামী সংগঠনের ব্যানারে আয়োজিত এই বিক্ষোভে সাধারণ মার্কিনিদের পাশাপাশি প্রবাসী ইরানিরাও অংশ নেন। বিক্ষোভকারীদের দাবি, মধ্যপ্রাচ্যে ক্ষমতার পালাবদল বা রেজিম চেঞ্জের নামে নিরপরাধ বেসামরিক মানুষকে হত্যা করা হচ্ছে। তারা সতর্ক করে বলেন, এই সংঘাত খুব দ্রুত একটি ভয়াবহ আঞ্চলিক যুদ্ধে রূপ নিতে পারে, যার প্রভাব পড়বে গোটা বিশ্বে।
মধ্যপ্রাচ্যে চলমান উত্তেজনা আরও তীব্র হয়ে উঠেছে। ইরান,ইসরায়েল এবং যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে চলমান সংঘাত এখন দ্বিতীয় সপ্তাহে গড়িয়েছে, যা পুরো অঞ্চলকে অস্থির করে তুলেছে। লেবানন কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, রাজধানী বৈরুতের একটি হোটেলে ইসরাইলি বিমান হামলায় অন্তত চারজন নিহত হয়েছেন। ইসরাইলি পক্ষ দাবি করেছে, ওই হামলায় তারা Islamic Revolutionary Guard Corps (আইআরজিসি)-এর বিদেশি কার্যক্রম পরিচালনাকারী ইউনিট Quds Force–এর লেবানন শাখার কয়েকজন গুরুত্বপূর্ণ কমান্ডারকে লক্ষ্য করে আঘাত হেনেছে। সংঘাতের প্রভাব এখন ধীরে ধীরে পারস্য উপসাগরীয় অঞ্চলেও ছড়িয়ে পড়ছে। তেহরানে তেল সংরক্ষণাগার এলাকায় বড় ধরনের হামলার খবর পাওয়া গেছে। পাশাপাশি Persian Gulf অঞ্চলের কয়েকটি দেশ তাদের আকাশসীমায় মিসাইল ও ড্রোনের উপস্থিতি শনাক্ত করার কথা জানিয়েছে। এদিকে কুয়েতে একটি বহুতল ভবনে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে। দেশটির সামরিক বাহিনীর দাবি, আকাশসীমা লঙ্ঘনকারী শত্রুপক্ষের ড্রোন প্রতিহত করার সময় এই পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়। বর্তমানে পুরো মধ্যপ্রাচ্যজুড়ে চরম উদ্বেগ ও অনিশ্চয়তা বিরাজ করছে। বিশ্লেষকদের মতে, এই সংঘাত দীর্ঘায়িত হলে তা বৈশ্বিক রাজনীতি এবং আন্তর্জাতিক জ্বালানি বাজারে বড় ধরনের প্রভাব ফেলতে পারে। সূত্র: BBC।
বাহরাইনে যুক্তরাষ্ট্রের একটি সামরিক ঘাঁটি লক্ষ্য করে ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালানোর দাবি করেছে ইরানের ইসলামী বিপ্লবী গার্ড কোর (আইআরজিসি)। দেশটির জুফায়র এলাকায় অবস্থিত মার্কিন ঘাঁটিকে লক্ষ্য করে এই হামলা চালানো হয়েছে বলে জানিয়েছে আইআরজিসি। আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমের খবরে বলা হয়েছে, ইরানের কেশম এলাকায় একটি পানি সরবরাহ প্ল্যান্টে যুক্তরাষ্ট্রের হামলার জবাব হিসেবে এই ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালানো হয়েছে বলে দাবি করেছে আইআরজিসি। এর আগে ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি বলেন, ওই হামলার ফলে কেশম অঞ্চলের অন্তত ৩০টি গ্রামের পানি সরবরাহ ব্যাহত হয়েছে। এদিকে হামলার সময় বাহরাইনে সতর্কতামূলক সাইরেন বেজে ওঠে বলে জানিয়েছে দেশটির স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্স–এ দেওয়া এক বার্তায় বাসিন্দাদের শান্ত থাকার এবং নিরাপদ আশ্রয়ে চলে যাওয়ার আহ্বান জানানো হয়। অন্যদিকে কাতার লক্ষ্য করে চালানো আরেকটি ক্ষেপণাস্ত্র হামলা প্রতিহত করার দাবি করেছে কাতারের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়। এক বিবৃতিতে জানানো হয়, দেশটির সশস্ত্র বাহিনী আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার মাধ্যমে ওই হামলা প্রতিহত করেছে। আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম আল জাজিরার প্রতিবেদনে এসব তথ্য জানানো হয়েছে।