যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ীভাবে বসবাসের স্বপ্ন যাদের রয়েছে, বিশেষ করে বিনিয়োগ কোটায় (ইবি-৫ ভিসা), তাদের জন্য সতর্কবার্তা দিয়েছে মার্কিন স্টেট ডিপার্টমেন্ট। সাম্প্রতিক এক বুলেটিনে জানানো হয়েছে, ২০২৬ সালের মে মাস নাগাদ ভারত ও চীনের বিনিয়োগকারীদের জন্য ভিসার সহজলভ্যতা বা 'প্রায়োরিটি ডেট' অনেক পিছিয়ে যেতে পারে। যদিও এই সতর্কতা মূলত ভারতীয় ও চীনা নাগরিকদের জন্য, তবে এর প্রভাব বিশ্বব্যাপী এবং বাংলাদেশি উচ্চবিত্ত বিনিয়োগকারীদের জন্যও বিশেষ গুরুত্ব বহন করছে।
ইবি-৫ ভিসা আসলে কী?
যুক্তরাষ্ট্রের অর্থনীতিতে নির্দিষ্ট পরিমাণ বিনিয়োগ (বর্তমানে সাধারণত ৮ লাখ ডলার থেকে ১০ লাখ ৫০ হাজার ডলার) এবং অন্তত ১০ জন মার্কিন কর্মীর কর্মসংস্থান তৈরির বিনিময়ে যে গ্রিন কার্ড পাওয়া যায়, তাকেই ইবি-৫ বা 'গোল্ডেন ভিসা' বলা হয়।
মে ২০২৬-এর সতর্কবার্তায় কী আছে?
স্টেট ডিপার্টমেন্টের মে ২০২৬-এর ভিসা বুলেটিনে ইঙ্গিত দেওয়া হয়েছে যে, ওই সময়ের মধ্যে আবেদনের সংখ্যা ভিসা কোটার চেয়ে অনেক বেড়ে যেতে পারে। এর ফলে তৈরি হবে ‘ব্যাকলগ’। অর্থাৎ, আজ যারা আবেদন করবেন, তাদের গ্রিন কার্ড পেতে বর্তমান সময়ের চেয়ে অনেক বেশি বছর অপেক্ষা করতে হতে পারে।
বাংলাদেশি বিনিয়োগকারীদের জন্য এর গুরুত্ব:
বাংলাদেশ থেকে যারা বৈধ পথে বা বিদেশে থাকা সম্পদের মাধ্যমে যুক্তরাষ্ট্রে বিনিয়োগ করে নাগরিকত্ব পেতে চান, তাদের জন্য এই সময়টি অত্যন্ত সংবেদনশীল। যদি ভারত ও চীনের মতো বিশাল ব্যাকলগ অন্যান্য দেশের ক্ষেত্রেও তৈরি হয়, তবে দ্রুত আবেদন না করলে কয়েক বছরের দীর্ঘসূত্রিতায় পড়ার ঝুঁকি থাকে।
যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে। এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন। নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি। উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।” বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে। এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে। শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়। উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত। এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।
মধ্যপ্রাচ্যের ক্রমবর্ধমান উত্তেজনার মধ্যেই একটি চাঞ্চল্যকর দাবি ভূ-রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন করে বিতর্কের ঝড় তুলেছে। গত ৪৮ থেকে ৫৬ ঘণ্টার মধ্যে ১৬টি চীনা 'ওয়াই-২০' (Y-20) সামরিক কার্গো বিমান তাদের ট্রান্সপন্ডার বা সিগন্যাল বন্ধ রেখে ইরানের আকাশে প্রবেশ করেছে বলে খবর ছড়িয়েছে। কোনো আনুষ্ঠানিক নিশ্চিতকরণ ছাড়াই এই তথ্যটি প্রতিরক্ষা বিশ্লেষক ও সোশ্যাল মিডিয়া ব্যবহারকারীদের মধ্যে তীব্র উদ্বেগ সৃষ্টি করেছে। দাবি করা হচ্ছে, এই বিমানগুলো বেসামরিক রাডার থেকে আড়াল থাকতে বিশেষ কৌশল অবলম্বন করেছিল। নেটিজেন ও সামরিক বিশ্লেষকদের একটি অংশের ধারণা, চীন হয়তো ইরানকে অত্যাধুনিক ইলেকট্রনিক ওয়ারফেয়ার সিস্টেম বা জ্যামিং প্রযুক্তি সরবরাহ করছে। যদি এটি সত্যি হয়, তবে মার্কিন এফ-৩৫ (F-35) যুদ্ধবিমান বা নৌ-অভিযানের জন্য এটি বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়াতে পারে। অনেকে একে যুক্তরাষ্ট্রের প্রতি বেইজিংয়ের সরাসরি ‘সতর্কবার্তা’ হিসেবেও দেখছেন। তবে এই উত্তেজনার মুদ্রার উল্টো পিঠও রয়েছে। ফ্লাইটরাডার২৪-এর মতো আন্তর্জাতিক ফ্লাইট ট্র্যাকিং প্ল্যাটফর্মে এ ধরনের কোনো অস্বাভাবিক ফ্লাইটের রেকর্ড পাওয়া যায়নি। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ১৬টি ভারী সামরিক কার্গো বিমানের মতো বিশাল বহরকে রাডার বা স্যাটেলাইট নজরদারি থেকে সম্পূর্ণ লুকিয়ে রাখা প্রায় অসম্ভব। বর্তমান ভূ-রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে চীন-ইরান সম্পর্ক গভীর হলেও, সুনির্দিষ্ট প্রমাণের অভাবে বিশ্লেষকরা একে আপাতত ‘সুপরিকল্পিত গুজব’ বা মিসইনফরমেশন হিসেবেই দেখছেন। তেহরান বা বেইজিং—কোনো পক্ষ থেকেই এখন পর্যন্ত এ নিয়ে কোনো আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া মেলেনি।
২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো। প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে। এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে। অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে। স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে। সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে। সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।
যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা প্রত্যাশীদের জন্য কঠোর হচ্ছে নিয়মাবলী। আগামী ৩০ মার্চ থেকে কার্যকর হতে যাচ্ছে নতুন ভিসা রুলস, যেখানে আবেদনকারীদের সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের প্রোফাইল পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে যাচাই বা স্ক্রিনিং করা হবে। মার্কিন প্রশাসনের এই নতুন পদক্ষেপে বাংলাদেশসহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশের ভিসা প্রত্যাশীদের মধ্যে ব্যাপক আলোচনার সৃষ্টি হয়েছে। নতুন এই নিয়ম মূলত অ-অভিবাসী (Non-immigrant) এবং অভিবাসী (Immigrant) উভয় ধরণের ভিসার ক্ষেত্রে প্রযোজ্য হতে পারে। বিশেষ করে যারা ট্যুরিস্ট ভিসা, স্টুডেন্ট ভিসা এবং কাজের সন্ধানে এইচ-১বি (H-1B) ভিসার জন্য আবেদন করবেন, তাদের সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের তথ্য প্রদান বাধ্যতামূলক করা হচ্ছে। আবেদনকারীদের গত পাঁচ বছরের ব্যবহৃত সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমগুলোর ইউজার আইডি বা হ্যান্ডেল নাম ফর্মে উল্লেখ করতে হবে। ফেসবুক, টুইটার (বর্তমানে এক্স), ইনস্টাগ্রাম এবং ইউটিউবের মতো জনপ্রিয় প্ল্যাটফর্মগুলো এই স্ক্রিনিংয়ের আওতায় থাকবে। তবে পাসওয়ার্ড দেওয়ার প্রয়োজন হবে না। মূলত আবেদনকারীর নিরাপত্তা ঝুঁকি এবং পূর্ববর্তী কোনো উসকানিমূলক বা সন্দেহজনক কর্মকাণ্ড আছে কি না, তা যাচাই করতেই এই পদক্ষেপ। মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তর জানিয়েছে, জাতীয় নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং জননিরাপত্তার স্বার্থেই এই স্ক্রিনিং প্রক্রিয়া জোরদার করা হয়েছে। কোনো ব্যক্তি যদি অতীতে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে উগ্রবাদ বা আইনবিরোধী কোনো কাজে লিপ্ত থেকে থাকেন, তবে তার ভিসা আবেদন বাতিল হওয়ার সম্ভাবনা তৈরি হবে। ভিসা বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ৩০ মার্চের পর যারা আবেদন করবেন, তাদের অবশ্যই গত ৫ বছরের ডিজিটাল ফুটপ্রিন্ট সম্পর্কে সতর্ক থাকতে হবে। কোনো ভুল তথ্য দিলে বা তথ্য গোপন করলে তা স্থায়ীভাবে ভিসা প্রত্যাখ্যাত হওয়ার কারণ হতে পারে। এছাড়া ইমেইল অ্যাড্রেস এবং ফোন নম্বর প্রদানের ক্ষেত্রেও অতিরিক্ত সতর্কতা অবলম্বনের পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। এই নতুন নিয়ম চালুর ফলে ভিসা প্রক্রিয়াকরণে কিছুটা অতিরিক্ত সময় লাগতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। তাই প্রয়োজনীয় কাগজপত্র এবং অনলাইন প্রোফাইল গুছিয়ে আবেদন করার পরামর্শ দিচ্ছে সংশ্লিষ্ট দপ্তরগুলো।
এপস্টেইন ফাইল: দাবি, বাইডেনকে ২০১৯ সালে হত্যা করে ক্লোন দ্বারা প্রতিস্থাপন করা হয়েছে জেফরি এপস্টেইনের ফাইল ট্রান্সপারেন্সি অ্যাক্টের সাথে যুক্ত সম্প্রতি প্রকাশিত একটি নথি ত্রাঞ্চে অভিযোগ করা হয়েছে যে, প্রাক্তন মার্কিন প্রেসিডেন্ট জো বাইডেনকে ২০১৯ সালে হত্যা করা হয়েছে এবং তাকে একটি ক্লোন দ্বারা প্রতিস্থাপন করা হয়েছে। এই নথিগুলি, যা আনক্লাসিফায়েড ডিপার্টমেন্ট অব জাস্টিস (DOJ) রেকর্ডের একটি বিশাল ডেটা রিলিজের অংশ, “চার্লস” নামে একজনের ক্ষুব্ধ ইমেইল অন্তর্ভুক্ত করেছে এবং অন্তর্বর্তী ফাইলিং কোড EFTA00173266 থেকে EFTA00173273 পর্যন্ত চিহ্নিত। এই ইমেইলগুলো তৃতীয় পক্ষের যোগাযোগের মধ্যে পাওয়া গেছে, যা জেফরি এপস্টেইনের নেটওয়ার্ক সংক্রান্ত বিস্তৃত ফেডারেল তদন্তের সময় সংগ্রহ করা হয়েছিল। এপস্টেইন সম্পর্কিত অন্যান্য প্রকাশনার মতো এখানে রাজনৈতিক ও ব্যবসায়িক ব্যক্তিদের সঙ্গে সম্পর্কের তথ্য নয়, বরং চরম ও ষড়যন্ত্রমূলক দাবিগুলো রয়েছে। ক্লোন তত্ত্বের উল্লেখ “চার্লস” ইমেইলগুলো এপ্রিল ২০২১-এ একজন এফবিআই এজেন্টকে ফরোয়ার্ড করা হয়েছিল, যাকে লাল করা প্রেরক হিসেবে দেখানো হয়েছে। প্রেরক দাবি করেছিলেন যে এটি একটি প্রযুক্তি সংস্থার এক ক্ষুব্ধ প্রাক্তন কর্মচারী বা সহযোগীর মেসেজ। ইমেইলগুলিতে গালাগালি ভাষা ব্যবহৃত হয়েছে এবং এখানে “কোয়ান্টাম” প্রযুক্তি, গোপন সামরিক ট্রাইব্যুনাল, এবং “বাইডেন আপনার বর্তমান প্রেসিডেন্ট নন” এমন দাবির উল্লেখ রয়েছে। একটি অনুচ্ছেদে বলা হয়েছে যে “বাস্তব” জো বাইডেনকে ২০১৯ সালে নির্বিচারে হত্যা করা হয়েছে এবং তাকে একজন অভিনেতা বা ক্লোন দ্বারা প্রতিস্থাপন করা হয়েছে, যেখানে প্রমাণ হিসেবে “মাস্কের ত্রুটি” দেখানো হয়েছে। তবে এই দাবিগুলোর সঙ্গে কোনো শারীরিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি বা সঙ্গত সাক্ষ্য নেই। “বাইডেন ক্লোন” দাবি অনলাইনে ষড়যন্ত্র তত্ত্বের একটি পরিচিত অংশ। তত্ত্বটি সাধারণত ধরে যে “বাস্তব” জো বাইডেনকে গোপনে জনমঞ্চ থেকে সরিয়ে দেওয়া হয়েছে, প্রায়শই ২০১৯ বা ২০২০ সালে, এবং তাকে চেহারা মিলানো লোক বা ক্লোন দিয়ে প্রতিস্থাপন করা হয়েছে। অনুগামীরা প্রায়শই নিম্নমানের ভিডিও এবং ফটোগ্রাফ বিশ্লেষণ করে, চেহারার পরিবর্তন যেমন আলোর পরিবর্তন, বয়সের প্রভাব বা ক্যামেরার ত্রুটিকে কৃত্রিমভাবে আড়াল করার প্রমাণ হিসেবে দেখান। এ পর্যন্ত কোনো যাচাইযোগ্য প্রমাণ নেই যে প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন কখনো ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন বা প্রতিস্থাপিত হয়েছেন। এই দাবিগুলি সম্পূর্ণভাবে একটি ষড়যন্ত্র তত্ত্ব হিসেবে রয়ে গেছে। সূত্র: Royanews
ইরান যুদ্ধ, মূল্যস্ফীতি এবং ধর্মীয় নেতাকে ঘিরে বিতর্ক- যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বর্তমানে তীব্র চাপের মুখে পড়েছেন। রয়টার্স-ইপসসের সর্বশেষ জরিপে দেখা গেছে, তার জনপ্রিয়তা বর্তমান মেয়াদের সর্বনিম্ন পর্যায়ে রয়েছে। ছয় দিনব্যাপী জাতীয় এই জরিপে ট্রাম্পের কাজের প্রতি সমর্থন ৩৬ শতাংশে স্থির রয়েছে, যা এক মাস আগের মতোই। তবে এটি তার মেয়াদকালের সর্বনিম্ন অবস্থানের কাছাকাছি। ২০২৫ সালের জানুয়ারিতে দায়িত্ব নেওয়ার পর তার সর্বোচ্চ অনুমোদন ছিল ৪৭ শতাংশ। ফেব্রুয়ারিতে ইরানের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের সামরিক অভিযান শুরুর পর জ্বালানির দাম বৃদ্ধি পায়, যা সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রার ব্যয় বাড়িয়েছে। জরিপে দেখা যায়, জীবনযাত্রার ব্যয় মোকাবিলায় ট্রাম্পের অনুমোদন মাত্র ২৬ শতাংশ, যা তার অন্যতম সর্বনিম্ন স্কোর। ইরানে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক হামলার প্রতি জনসমর্থনও সীমিত। জরিপে ৩৬ শতাংশ উত্তরদাতা এ হামলাকে সমর্থন করেছেন, তবে মাত্র ২৬ শতাংশ মনে করেন, এটি ব্যয়ের তুলনায় সার্থক হয়েছে। জরিপে ট্রাম্পের আচরণ ও মানসিক সক্ষমতা নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে। মাত্র ২৬ শতাংশ উত্তরদাতা তাকে “শান্ত স্বভাবের” নেতা হিসেবে দেখেন। গত এক বছরে তার মানসিক তীক্ষ্ণতা কমেছে বলে মনে করেন ৫১ শতাংশ অংশগ্রহণকারী। এদিকে ইরান যুদ্ধের সমালোচনা করায় পোপ লিওকে নিয়ে ট্রাম্পের মন্তব্য নতুন বিতর্কের জন্ম দিয়েছে। জরিপে দেখা যায়, ৬০ শতাংশ উত্তরদাতা পোপ লিও সম্পর্কে ইতিবাচক ধারণা পোষণ করেন, যেখানে ট্রাম্পের ক্ষেত্রে এ হার ৩৬ শতাংশ। নিরাপত্তা ও পররাষ্ট্রনীতি নিয়েও মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা গেছে। মাত্র ২৫ শতাংশ উত্তরদাতা মনে করেন, ইরানে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক পদক্ষেপ দেশটিকে আরও নিরাপদ করবে। একইসঙ্গে অধিকাংশই ন্যাটো জোট থেকে বেরিয়ে যাওয়ার ধারণার বিরোধিতা করেছেন। বিশ্লেষকদের মতে, ইরান যুদ্ধ, অর্থনৈতিক চাপ এবং ব্যক্তিগত আচরণ নিয়ে বিতর্ক এই তিনটি বড় ইস্যুতে একসঙ্গে চাপে পড়েছেন ট্রাম্প। সামনে মধ্যবর্তী নির্বাচন থাকায় এই পরিস্থিতি হোয়াইট হাউসের জন্য সতর্কবার্তা হিসেবে দেখা হচ্ছে।
যুক্তরাষ্ট্রে নতুন জীবন গড়ার স্বপ্ন নিয়ে বহু বছর ধরে হাজারো অভিবাসীর প্রথম পছন্দ ছিল নিউ ইয়র্ক সিটি। বিশেষ করে বাংলাদেশি কমিউনিটির কাছে এই শহর ছিল সুযোগ, আয় এবং স্থায়ী ভবিষ্যতের প্রতীক। তবে সময় বদলেছে। আকাশছোঁয়া বাড়িভাড়া, নিত্যপ্রয়োজনীয় খরচ বৃদ্ধি, চাকরির অনিশ্চয়তা এবং করের চাপের কারণে এখন অনেকেই বলছেন—নিউইয়র্কে আর টিকে থাকা কঠিন হয়ে পড়েছে। আরো পড়ুন: জর্জিয়া স্টেট: নতুন স্বপ্নের ঠিকানা হয়ে উঠছে বাংলাদেশিদের জন্য সাম্প্রতিক বিভিন্ন অর্থনৈতিক বিশ্লেষণ ও স্থানীয় প্রতিবেদনে দেখা যাচ্ছে, গত কয়েক বছরে নিউ ইয়র্ক সিটি থেকে উল্লেখযোগ্য সংখ্যক মানুষ অন্য স্টেটে চলে যাচ্ছেন। শুধু উচ্চবিত্ত নয়, নিম্ন ও মধ্যবিত্ত পরিবারও এখন শহর ছাড়ার সিদ্ধান্ত নিচ্ছে। এর প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশি অভিবাসী পরিবারগুলোর মধ্যেও। আরো পড়ুন: যুক্তরাষ্ট্রের ২০২৬ মিডটার্ম নির্বাচনে বড় প্রভাব ফেলতে পারে ১ কোটি ৬০ লাখ অভিবাসী ভোটার অনেক বাংলাদেশি পরিবার জানিয়েছেন, আগে যেখানে একটি পরিবারের একজন উপার্জন করেই সংসার চালানো যেত, এখন সেখানে দুইজন কাজ করেও খরচ সামলানো কঠিন হয়ে যাচ্ছে। বাড়িভাড়া, গাড়ি বীমা, স্বাস্থ্যসেবা, শিশুর ডে-কেয়ার ও মুদি বাজারের খরচ বেড়ে যাওয়ায় অনেক পরিবার সঞ্চয় করতে পারছে না। আরো পড়ুন: মামদানির বক্তব্যে নিউইয়র্কের পর জাতীয় রাজনীতির আভাস ফলে অনেকে নিউ জার্সি, পেনসিলভানিয়া, ফ্লোরিডা, টেক্সাস এবং জর্জিয়া -এর মতো তুলনামূলক কম খরচের স্টেটে চলে যাচ্ছেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, নিউইয়র্কে চাকরির সুযোগ এখনও রয়েছে, তবে সেই আয়ের তুলনায় জীবনযাত্রার ব্যয় অনেক বেশি বেড়ে গেছে। অনেক ছোট ব্যবসায়ীও বাড়তি ভাড়া ও শ্রম ব্যয়ের কারণে দোকান বা রেস্টুরেন্ট টিকিয়ে রাখতে হিমশিম খাচ্ছেন। এতে নতুন অভিবাসীদের জন্যও শহরে শুরুটা আগের চেয়ে কঠিন হয়ে উঠেছে। বাংলাদেশি কমিউনিটির অনেকেই বলছেন, একসময় নিউইয়র্ক মানেই ছিল স্বপ্নের ঠিকানা। এখন সেই স্বপ্নের শহরে টিকে থাকাই বড় চ্যালেঞ্জ। কেউ কেউ পরিবার নিয়ে অন্য স্টেটে চলে যাচ্ছেন, আবার কেউ অপেক্ষা করছেন পরিস্থিতি বদলের। সব মিলিয়ে, সুযোগের শহর হিসেবে পরিচিত নিউ ইয়র্ক সিটি এখন নতুন বাস্তবতার মুখে দাঁড়িয়ে। প্রশ্ন উঠছে—স্বপ্নের শহর কি ধীরে ধীরে সাধারণ মানুষের নাগালের বাইরে চলে যাচ্ছে? সূত্র: স্থানীয় অর্থনৈতিক বিশ্লেষণ, অভিবাসন প্রবণতা প্রতিবেদন, নিউইয়র্কভিত্তিক সংবাদমাধ্যম।
যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্ক সিটি-এ সাউথ এশিয়ান কালচারাল সেন্টারে একসঙ্গে উদযাপিত হয়েছে ঈদুল ফিতর, হোলি এবং বাংলাদেশের স্বাধীনতা দিবস। গত ১৫ এপ্রিল (শুক্রবার) আয়োজিত এই বহুসাংস্কৃতিক মিলনমেলায় বিভিন্ন সম্প্রদায়ের মানুষের অংশগ্রহণে সৃষ্টি হয় আনন্দ, সম্প্রীতি ও বৈচিত্র্যের অনন্য পরিবেশ। আয়োজনে অংশ নেন সেন্টারলাইট হেলথকেয়ারের পেস কর্মসূচির সদস্যরা। তারা বলেন, ঈদুল ফিতর রমজানের পর আনন্দের বার্তা নিয়ে আসে, হোলি বসন্ত ও নতুন জীবনের প্রতীক এবং বাংলাদেশের স্বাধীনতা দিবস গৌরবময় ইতিহাসের স্মারক। তিনটি ভিন্ন উৎসব একসঙ্গে উদযাপনের মধ্য দিয়ে প্রবাসে সংস্কৃতির মধ্যে সেতুবন্ধন তৈরি হয়। দিনব্যাপী কর্মসূচিতে ছিল ঐতিহ্যবাহী সংগীত ও নৃত্য পরিবেশনা, বিভিন্ন সংস্কৃতির খাবারের আয়োজন, প্রার্থনা এবং শেষে বাইরে রঙ খেলার মধ্য দিয়ে হোলির উচ্ছ্বাস। অংশগ্রহণকারী আয়েশা সিদ্দিকা বলেন, “অনুষ্ঠানটি খুবই সুন্দর হয়েছে, সবাই দারুণ উপভোগ করেছে।” সেন্টারলাইট হেলথকেয়ারের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা তারা বুয়োনোকোরে-রুট বলেন, ভিন্ন সংস্কৃতির উৎসব একসঙ্গে উদযাপনের মাধ্যমে একটি অন্তর্ভুক্তিমূলক সমাজ গড়ে তোলা সম্ভব, যেখানে সবাই নিজেকে মূল্যবান মনে করতে পারে। সাউথ এশিয়ান কালচারাল সেন্টার দীর্ঘদিন ধরে দক্ষিণ এশীয় বয়স্কদের সামাজিক ও সাংস্কৃতিক চাহিদা পূরণে কাজ করে আসছে। এই আয়োজন প্রবাসে বহুসাংস্কৃতিক সম্প্রীতির একটি উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।