যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ীভাবে বসবাসের স্বপ্ন যাদের রয়েছে, বিশেষ করে বিনিয়োগ কোটায় (ইবি-৫ ভিসা), তাদের জন্য সতর্কবার্তা দিয়েছে মার্কিন স্টেট ডিপার্টমেন্ট। সাম্প্রতিক এক বুলেটিনে জানানো হয়েছে, ২০২৬ সালের মে মাস নাগাদ ভারত ও চীনের বিনিয়োগকারীদের জন্য ভিসার সহজলভ্যতা বা 'প্রায়োরিটি ডেট' অনেক পিছিয়ে যেতে পারে। যদিও এই সতর্কতা মূলত ভারতীয় ও চীনা নাগরিকদের জন্য, তবে এর প্রভাব বিশ্বব্যাপী এবং বাংলাদেশি উচ্চবিত্ত বিনিয়োগকারীদের জন্যও বিশেষ গুরুত্ব বহন করছে।
ইবি-৫ ভিসা আসলে কী?
যুক্তরাষ্ট্রের অর্থনীতিতে নির্দিষ্ট পরিমাণ বিনিয়োগ (বর্তমানে সাধারণত ৮ লাখ ডলার থেকে ১০ লাখ ৫০ হাজার ডলার) এবং অন্তত ১০ জন মার্কিন কর্মীর কর্মসংস্থান তৈরির বিনিময়ে যে গ্রিন কার্ড পাওয়া যায়, তাকেই ইবি-৫ বা 'গোল্ডেন ভিসা' বলা হয়।
মে ২০২৬-এর সতর্কবার্তায় কী আছে?
স্টেট ডিপার্টমেন্টের মে ২০২৬-এর ভিসা বুলেটিনে ইঙ্গিত দেওয়া হয়েছে যে, ওই সময়ের মধ্যে আবেদনের সংখ্যা ভিসা কোটার চেয়ে অনেক বেড়ে যেতে পারে। এর ফলে তৈরি হবে ‘ব্যাকলগ’। অর্থাৎ, আজ যারা আবেদন করবেন, তাদের গ্রিন কার্ড পেতে বর্তমান সময়ের চেয়ে অনেক বেশি বছর অপেক্ষা করতে হতে পারে।
বাংলাদেশি বিনিয়োগকারীদের জন্য এর গুরুত্ব:
বাংলাদেশ থেকে যারা বৈধ পথে বা বিদেশে থাকা সম্পদের মাধ্যমে যুক্তরাষ্ট্রে বিনিয়োগ করে নাগরিকত্ব পেতে চান, তাদের জন্য এই সময়টি অত্যন্ত সংবেদনশীল। যদি ভারত ও চীনের মতো বিশাল ব্যাকলগ অন্যান্য দেশের ক্ষেত্রেও তৈরি হয়, তবে দ্রুত আবেদন না করলে কয়েক বছরের দীর্ঘসূত্রিতায় পড়ার ঝুঁকি থাকে।
যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন। মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়। তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।” ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে। প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন। ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন। প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল। মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি। রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।
২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো। প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে। এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে। অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে। স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে। সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে। সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।
যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে। এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন। নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি। উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।” বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে। এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে। শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়। উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত। এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।
যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে এক মর্মান্তিক ও লোমহর্ষক ঘটনার জন্ম দিয়েছে দুই তরুণী বোন। দিনদুপুরে ক্যারোলিন ‘কারো’ পেনা নামের ৩২ বছর বয়সী এক নারীকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগে তাদের গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। নিহত নারী পাঁচ সন্তানের জননী ছিলেন। তবে সবচেয়ে শিউরে ওঠার মতো বিষয় হলো, গ্রেপ্তারের সময় অভিযুক্তদের চেহারায় অনুশোচনার সামান্যতম ছাপ তো ছিলই না, উল্টো তাদের মুখে পৈশাচিক হাসি দেখা গেছে। মেক্সিকো সীমান্তের কাছের শহর দেল রিও থেকে বৃহস্পতিবার বিকেলে পুলিশ তাদের হাতকড়া পরিয়ে নিয়ে যাওয়ার সময় এই দৃশ্য ক্যামেরায় ধরা পড়ে। আরও পড়ুন... ‘ফোনটা ধরতে পারলে হয়তো তাকে বাঁচাতে পারতাম’- টেক্সাসে পাঁচ সন্তানের মাকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা, দুই বোনসহ তিনজন গ্রেপ্তার পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নিহত ক্যারোলিনকে বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় দুপুর ২টার পরপরই গুরুতর জখম অবস্থায় ভাল ভার্দে রিজিওনাল মেডিকেল সেন্টারে নেওয়া হয়। তার শরীরে একাধিক ছুরিকাঘাতের চিহ্ন ছিল। ঘটনাস্থলের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, একটি সনিক ড্রাইভ-থ্রু রেস্তোরাঁর বাইরে রক্তাক্ত অবস্থায় ক্যারোলিন তার তিন হামলাকারীর মুখোমুখি দাঁড়িয়ে আছেন। পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য সান আন্তোনিওর একটি হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছায় এবং প্রায় ৩৫ হাজার বাসিন্দার শহর দেল রিওতে অভিযান চালিয়ে হামলাকারীদের শনাক্ত করে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া গ্রেপ্তারের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, ২১ বছর বয়সী কিটি মিয়া দিয়াজ খালি পায়ে হেঁটে যাওয়ার সময় পুলিশের গাড়িতে ওঠার আগে মৃদু হাসছেন। কিটি নিজেও এক শিশুপুত্রের মা। অন্যদিকে, তার ১৯ বছর বয়সী ছোট বোন আমায়া কুকি দিয়াজ ক্যামেরার দিকে তাকিয়ে নির্লজ্জভাবে দাঁত বের করে হাসতে থাকেন। ▶️ টেক্সাসে নিজের মাকে নির্মমভাবে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুই মেয়ে | এমনকি ভিডিও ধারণকারীকে ব্যঙ্গাত্মক সুরে ‘রেকর্ড করা বন্ধ করো’ বলেও চিৎকার করতে শোনা যায় তাকে। দেল রিও পুলিশ জানিয়েছে, এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ২১ বছর বয়সী কায়ান্দ্রা রেনি ফাজ নামের তৃতীয় আরেক নারীকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে ঠিক কী কারণে এই নারকীয় হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে, সে বিষয়ে পুলিশ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি।
বাংলাদেশের আবাসন শিল্পে এক নতুন ইতিহাস রচিত হলো। রাজধানীর তেজগাঁও শিল্প এলাকায় নির্মিত দেশের প্রথম ৪০ তলা বিশিষ্ট আকাশচুম্বী বাণিজ্যিক ভবন ‘শান্তা পিনাকল’ আনুষ্ঠানিকভাবে হস্তান্তর করেছে শান্তা হোল্ডিংস। ৫০০ ফুট উচ্চতার এই আইকনিক ভবনটি এখন দেশের সর্বোচ্চ সম্পন্ন হওয়া ইমারত। গত শনিবার (১৮ এপ্রিল) ভবনের ৪০তম তলায় আয়োজিত এক আড়ম্বরপূর্ণ অনুষ্ঠানের মাধ্যমে এটি হস্তান্তর করা হয়। অনুষ্ঠানে শান্তা হোল্ডিংসের চেয়ারম্যান খন্দকার মনির উদ্দিন, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, স্থপতি এহসান খানসহ প্রতিষ্ঠানের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা, ভূমি মালিক এবং গ্রাহকরা উপস্থিত ছিলেন। স্থাপত্যশৈলী ও আধুনিক প্রযুক্তি:‘শান্তা পিনাকল’ শুধুমাত্র উচ্চতার কারণেই অনন্য নয়, বরং এটি আধুনিক নির্মাণশৈলী ও প্রযুক্তির এক অনন্য সমন্বয়। এটি বাংলাদেশের প্রথম ভবন যা পরিবেশবান্ধব স্থাপত্যের জন্য আন্তর্জাতিক ‘লিড প্ল্যাটিনাম’ (LEED Platinum) স্বীকৃতি পেয়েছে। সিঙ্গাপুরভিত্তিক বিখ্যাত ইঞ্জিনিয়ারিং প্রতিষ্ঠান ‘মেইনহার্ট’ (Meinhardt) এর সহায়তায় ভবনটির স্ট্রাকচারাল ডিজাইন এবং ভূমিকম্প প্রতিরোধক ব্যবস্থা নিশ্চিত করা হয়েছে। বিশেষ বৈশিষ্ট্যসমূহ: উন্নত লিফট ব্যবস্থা: ভবনটিতে রয়েছে ৮টি দ্রুতগামী লিফট, যা প্রতি সেকেন্ডে ৪ মিটার উচ্চতায় উঠতে সক্ষম। এটি দেশের দ্রুততম ভার্টিক্যাল ট্রান্সপোর্ট ব্যবস্থা। পরিবেশ ও সুরক্ষা: ভবনে ব্যবহৃত হয়েছে ৩৬ মিমি পুরুত্বের ডাবল গ্লেজড গ্লাস, যা তাপ ও শব্দ নিরোধক। এছাড়া এটি দেশের প্রথম ‘উইন্ড টানেল টেস্ট’ করা ভবন, যা প্রতিকূল আবহাওয়ায় এর স্থায়িত্ব নিশ্চিত করে। আইবিএমএস প্রযুক্তি: পুরো ভবনটি একটি ইন্টেলিজেন্ট বিল্ডিং ম্যানেজমেন্ট সিস্টেম (iBMS) দ্বারা পরিচালিত, যা সার্বক্ষণিক নিরাপত্তা ও জ্বালানি সাশ্রয় নিশ্চিত করবে। অগ্নি নিরাপত্তা: আন্তর্জাতিক এনএফপিএ (NFPA) স্ট্যান্ডার্ড অনুসরণ করে এখানে অত্যাধুনিক অগ্নিনির্বাপক ব্যবস্থা স্থাপন করা হয়েছে। অনুষ্ঠানে শান্তা হোল্ডিংসের পক্ষ থেকে জানানো হয়, ‘শান্তা পিনাকল’ হস্তান্তর দেশের রিয়েল এস্টেট খাতের সক্ষমতার এক বড় প্রমাণ। এটি শুধুমাত্র তেজগাঁও নয়, বরং পুরো ঢাকার বাণিজ্যিক পরিবেশকে বিশ্বমানের স্তরে নিয়ে যাবে। দেশের ইতিহাসে প্রথমবার অ্যালুমিনিয়াম ফর্মওয়ার্ক ব্যবহারের মাধ্যমে মাত্র সাত দিনে এক একটি তলার ছাদ ঢালাইয়ের রেকর্ড গড়ে এই প্রকল্পের কাজ সম্পন্ন করা হয়েছে। ঢাকার আকাশসীমায় নতুন এই ল্যান্ডমার্ক দেশের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি এবং আধুনিক নগরায়নের এক শক্তিশালী প্রতীক হিসেবে দাঁড়িয়ে আছে।
যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়া অঙ্গরাজ্যে ডিজিটাল ড্রাইভিং লাইসেন্স (ডিজিটাল আইডি) ব্যবহারের পরিধি আরও বিস্তৃত করা হয়েছে। নতুন প্রণীত একটি আইনের ফলে এখন থেকে রাজ্যের প্রায় ৬০ শতাংশ চালক এই আধুনিক কর্মসূচিতে অংশ নেওয়ার সুযোগ পাবেন। এর আগে ক্যালিফোর্নিয়া ডিপার্টমেন্ট অব মোটর ভেহিকলস (DMV)-এর মোবাইল ড্রাইভিং লাইসেন্স পাইলট কর্মসূচিতে সর্বোচ্চ ১৫ শতাংশ চালককে যুক্ত করার সুযোগ ছিল। সম্প্রতি রাজ্যের গভর্নর গ্যাভিন নিউসম 'এসবি ১৬৯' (SB 169) নামের একটি গুরুত্বপূর্ণ বিলে স্বাক্ষর করার পর ব্যবহারকারীর এই সীমা একলাফে ৬০ শতাংশে উন্নীত করা হয়েছে। এই উদ্যোগের কথা জানিয়ে গভর্নর নিউসম বলেন, ডিএমভি (DMV) তাদের সেবাকে আরও আধুনিক ও জনবান্ধব করতে নিরলস কাজ করে যাচ্ছে। নতুন এই সুবিধার ফলে আরও বেশি সংখ্যক মানুষ এখন থেকে তাদের স্মার্টফোনেই ডিজিটাল পরিচয়পত্র বহনের সুবিধা পাবেন। অ্যান্ড্রয়েড ও আইফোন ব্যবহারকারীরা খুব সহজেই ডিএমভি-এর নির্দিষ্ট ডিজিটাল ওয়ালেট অ্যাপের মাধ্যমে এই কর্মসূচিতে নিজেদের নিবন্ধন করতে পারবেন। এই ডিজিটাল আইডি ব্যবহার করে সান ফ্রান্সিসকো আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর (SFO) এবং লস অ্যাঞ্জেলেস আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরসহ (LAX) বেশ কয়েকটি বিমানবন্দরে টিএসএ (TSA) নিরাপত্তা তল্লাশিও নির্বিঘ্নে পার হওয়া যাবে। ডিএমভি-এর চিফ ডেপুটি এড সুয়েনসন জানিয়েছেন, সাধারণ মানুষের হাতে এই অত্যাধুনিক প্রযুক্তি পৌঁছে দেওয়া এবং এর ব্যবহার আরও বাড়াতেই কর্মসূচির পরিধি বাড়ানো হয়েছে। বিভিন্ন দোকান ও ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান যাতে কেনাকাটার সময় এই ডিজিটাল আইডি গ্রহণ করে, সে লক্ষ্যেও কাজ করছে সংস্থাটি। তবে ডিএমভি একটি বিষয়ে চালকদের স্পষ্টভাবে সতর্ক করে দিয়েছে। বর্তমানে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী ট্রাফিক স্টপে এই ডিজিটাল ড্রাইভিং লাইসেন্সকে সম্পূর্ণ বৈধ বা মূল লাইসেন্স হিসেবে গ্রহণ করে না। তাই গাড়ি চালানোর সময় চালকদের অবশ্যই সঙ্গে লাইসেন্সের মূল হার্ড কপি রাখতে হবে। এদিকে, নতুন এই আইনের মাধ্যমে ডিএমভি-এর সেবাকে আধুনিক করার পাশাপাশি ২০২৮ সালের লস অ্যাঞ্জেলেস অলিম্পিক ও প্যারালিম্পিক গেমসকে সামনে রেখেও প্রয়োজনীয় নানা প্রস্তুতির ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।
যুক্তরাষ্ট্রের কলাম্বিয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের ফিলিস্তিনপন্থী আন্দোলনের অন্যতম পরিচিত মুখ এবং বৈধ স্থায়ী বাসিন্দা (গ্রিন কার্ডধারী) শিক্ষার্থী মোহসেন মাহদাভির বিরুদ্ধে আবারও বহিষ্কার কার্যক্রম চালানোর পথ খুলে দিয়েছে যুক্তরাষ্ট্রের একটি ফেডারেল আপিল আদালত। সর্বশেষ এই রায়ের ফলে দীর্ঘদিন ধরে চলা আলোচিত অভিবাসন মামলায় নতুন মোড় এসেছে। মঙ্গলবার নিউইয়র্কভিত্তিক সেকেন্ড ইউএস সার্কিট কোর্ট অব আপিলস রায়ে ভারমন্টের একটি নিম্ন আদালতের আগের সিদ্ধান্ত বাতিল করে দেয়। আপিল আদালতের মতে, ফেডারেল জেলা আদালত অভিবাসন আদালতের বিচারিক প্রক্রিয়া শেষ হওয়ার আগেই মামলায় হস্তক্ষেপ করেছিল, যা তার এখতিয়ারের বাইরে ছিল। তবে আদালত মাহদাভির মতপ্রকাশের স্বাধীনতা বা সাংবিধানিক অধিকার লঙ্ঘনের অভিযোগের বিষয়ে কোনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত দেয়নি। এসব বিষয় অভিবাসন আদালতেই নিষ্পত্তি হওয়া উচিত বলে রায়ে উল্লেখ করা হয়েছে। মোহসেন মাহদাভি পশ্চিম তীরের বাসিন্দা এবং ২০১৫ সাল থেকে যুক্তরাষ্ট্রের বৈধ স্থায়ী বাসিন্দা। কলাম্বিয়া বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়াশোনার সময় তিনি গাজা যুদ্ধবিরোধী ও ফিলিস্তিনপন্থী শিক্ষার্থী আন্দোলনে সক্রিয় ভূমিকা পালন করেন। ২০২৫ সালে যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকত্বের সাক্ষাৎকার দিতে গেলে ইমিগ্রেশন কর্তৃপক্ষ তাকে আটক করে এবং তার বিরুদ্ধে বহিষ্কার প্রক্রিয়া শুরু হয়। পরে এক ফেডারেল বিচারক তাকে মুক্তির নির্দেশ দেন। মাহদাভির আইনজীবীরা জানিয়েছেন, তারা আইনি লড়াই অব্যাহত রাখবেন। তাদের দাবি, আপিল প্রক্রিয়া চলাকালে তাকে আটক বা বহিষ্কার করা উচিত নয়। একই সঙ্গে তারা বলছেন, এই মামলা যুক্তরাষ্ট্রে মতপ্রকাশের স্বাধীনতা, যথাযথ আইনি প্রক্রিয়া এবং অভিবাসন আইনের প্রয়োগ নিয়ে গুরুত্বপূর্ণ সাংবিধানিক প্রশ্ন উত্থাপন করেছে। সাম্প্রতিক সময়ে গাজা যুদ্ধবিরোধী আন্দোলনে অংশ নেওয়া একাধিক অ-মার্কিন নাগরিক শিক্ষার্থীর বিরুদ্ধে ট্রাম্প প্রশাসনের নেওয়া পদক্ষেপ জাতীয় পর্যায়ে ব্যাপক বিতর্কের জন্ম দিয়েছে। মাহদাভির মামলাও সেই ধারাবাহিকতার অন্যতম আলোচিত উদাহরণ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। আপিল আদালতের এই রায়ের ফলে তার বিরুদ্ধে বহিষ্কার কার্যক্রম আবারও অভিবাসন আদালতে এগিয়ে যাবে, যদিও তার সামনে এখনও আইনি আপিলের সুযোগ রয়েছে।
নিউইয়র্কের কুইন্সে অনুষ্ঠিত ডেমোক্র্যাটিক প্রাইমারিতে বাংলাদেশি-আমেরিকান প্রার্থী শামসুল হক শেষ পর্যন্ত মাত্র ৭ ভোটের ব্যবধানে পরাজিত হয়েছেন। দীর্ঘ ভোট গণনা ও হাতে পুনর্গণনার (হ্যান্ড রিকাউন্ট) পর ১৫ জুলাই চূড়ান্ত ফল ঘোষণা করে নিউইয়র্ক সিটি বোর্ড অব ইলেকশনস। ফলাফলে প্রতিদ্বন্দ্বী প্যাট্রিক মার্টিনেজ ২ হাজার ৭৮৪ ভোট পেয়ে বিজয়ী হন। শামসুল হক পান ২ হাজার ৭৭৭ ভোট। নির্বাচনটি ছিল নিউইয়র্ক স্টেট অ্যাসেম্বলির ৩০তম ডিস্ট্রিক্টের ডেমোক্র্যাটিক প্রাইমারি। এই ডিস্ট্রিক্টের আওতায় কুইন্সের জ্যাকসন হাইটস, উডসাইড, এলমহার্স্ট, ইস্ট এলমহার্স্ট ও মাসপেথের অংশ রয়েছে। ডেমোক্র্যাটিক পার্টির শক্ত ঘাঁটি হিসেবে পরিচিত এই এলাকায় প্রাইমারিতে বিজয়ী হওয়াই সাধারণ নির্বাচনে জয়ের সম্ভাবনা অনেক বাড়িয়ে দেয়। গত ২৪ জুন অনুষ্ঠিত প্রাইমারি ভোটের রাতে দুই প্রার্থীর মধ্যে ব্যবধান ছিল ১৩ ভোট। পরে অনুপস্থিত (অ্যাবসেন্টি), আগাম এবং অন্যান্য বৈধ ব্যালট গণনার পর ব্যবধান কমে দাঁড়ায় মাত্র ২ ভোটে। এত অল্প ব্যবধান হওয়ায় নিউইয়র্কের নির্বাচন আইন অনুযায়ী স্বয়ংক্রিয়ভাবে হাতে পুনর্গণনার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। কয়েক দিন ধরে প্রতিটি ব্যালট যাচাই শেষে ব্যবধান বেড়ে দাঁড়ায় ৭ ভোটে এবং প্যাট্রিক মার্টিনেজকে আনুষ্ঠানিকভাবে বিজয়ী ঘোষণা করা হয়। শামসুল হক একজন বাংলাদেশি-আমেরিকান এবং নিউইয়র্ক পুলিশ ডিপার্টমেন্টের (এনওয়াইপিডি) সাবেক কর্মকর্তা। তিনি দীর্ঘ সময় নিউইয়র্ক সিটিতে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীতে দায়িত্ব পালন করেছেন। পুলিশ বাহিনীতে কর্মজীবন শেষে তিনি কমিউনিটি সংগঠন, জননিরাপত্তা এবং অভিবাসী জনগোষ্ঠীর বিভিন্ন ইস্যুতে সক্রিয় ভূমিকা রাখতে শুরু করেন। এবারের নির্বাচনী প্রচারণায় তিনি সাশ্রয়ী আবাসন, মানসম্মত শিক্ষা, স্বাস্থ্যসেবা সম্প্রসারণ, গণপরিবহন উন্নয়ন, জননিরাপত্তা এবং অভিবাসী পরিবারের অধিকারকে অগ্রাধিকার দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দেন। অন্যদিকে বিজয়ী প্যাট্রিক মার্টিনেজ একজন সাবেক শিক্ষক, কুইন্স ডেমোক্র্যাটিক পার্টির ডিস্ট্রিক্ট লিডার এবং কমিউনিটি বোর্ড–২-এর সদস্য। নির্বাচনের ফল নিশ্চিত হওয়ার পর তিনি ভোটারদের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন এবং পুরো ডিস্ট্রিক্টের প্রতিনিধিত্ব করার অঙ্গীকার ব্যক্ত করেন। নিউইয়র্ক বাংলাদেশি কমিউনিটি নেতাদের মতে, শামসুল হকের এই প্রার্থিতা বাংলাদেশি-আমেরিকান কমিউনিটির জন্য বিশেষ তাৎপর্যপূর্ণ ছিল। তিনি বিজয়ী হলে নিউইয়র্ক স্টেট আইনসভায় নির্বাচিত প্রথম বাংলাদেশি-আমেরিকান সদস্যদের একজন হিসেবে ইতিহাস গড়ার সুযোগ পেতেন। তাঁর প্রচারণা কুইন্সের বাংলাদেশি ও দক্ষিণ এশীয় কমিউনিটির মধ্যে ব্যাপক সাড়া সৃষ্টি করেছিল। নিউইয়র্ক পোস্ট, কুইন্স ঈগল এবং সিটি অ্যান্ড স্টেট নিউইয়র্কের প্রতিবেদনে প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, এই নির্বাচন আবারও দেখিয়ে দিয়েছে যে যুক্তরাষ্ট্রের স্থানীয় নির্বাচনে প্রতিটি ভোট কতটা গুরুত্বপূর্ণ। মাত্র ৭ ভোটের ব্যবধানই নির্ধারণ করে দিয়েছে একটি গুরুত্বপূর্ণ আইনসভা আসনের প্রতিনিধিত্ব এবং একটি ঐতিহাসিক সম্ভাবনার পরিণতি।