সাপ্তাহিক আমেরিকা বাংলা ই-পেপার

তথ্যপ্রবাহের ক্রমবিকাশ: গণমাধ্যম থেকে ডিজিটাল তথ্যসভ্যতা, রাষ্ট্রের পঞ্চম স্তম্ভের সন্ধানে

লুৎফর খোন্দকার

প্রকৌশলী, বিশ্লেষক ও মানবাধিকার কর্মী

সেপ্টেম্বর ১৪, ২০২৬ ১৪:৫৯

প্রেক্ষাপট: আধুনিক রাষ্ট্রের স্তম্ভ ভাবনা : একটি আধুনিক রাষ্ট্র সাধারণভাবে চারটি মৌলিক স্তম্ভের ওপর প্রতিষ্ঠিত বলে বিবেচিত হয়—নির্বাহী বিভাগ, আইন বিভাগ, বিচার বিভাগ এবং গণমাধ্যম। নির্বাহী বিভাগ রাষ্ট্র পরিচালনা ও প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত বাস্তবায়ন করে; আইন বিভাগ জনগণের পক্ষে আইন প্রণয়ন করে; বিচার বিভাগ সংবিধান, আইনের শাসন ও নাগরিক অধিকারের আশ্রয়স্থল; আর গণমাধ্যমকে বলা হয় রাষ্ট্রের “চতুর্থ স্তম্ভ”, কারণ এটি ক্ষমতার ওপর জন-নজরদারি প্রতিষ্ঠা করে, জনগণের কণ্ঠ তুলে ধরে এবং শাসকদের জবাবদিহির আওতায় আনতে সাহায্য করে।

 

কিন্তু একবিংশ শতাব্দীতে ইন্টারনেট, স্মার্টফোন, সামাজিক মাধ্যম, ক্লাউড কম্পিউটিং এবং কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (AI) তথ্যপ্রবাহের পুরোনো কাঠামো বদলে দিয়েছে। ফলে একটি মৌলিক প্রশ্ন সামনে এসেছে—সামাজিক মাধ্যম কি রাষ্ট্রের পঞ্চম স্তম্ভে পরিণত হচ্ছে? আমার বিশ্বাস, অন্তত তার একটি শক্তিশালী ভিত্তি ইতিমধ্যে তৈরি হয়েছে। তবে যত গভীরে বিষয়টি দেখি, ততই মনে হয়—এটি শুধু Facebook, YouTube বা অন্য কোনো প্ল্যাটফর্মের গল্প নয়; এর ভেতরে আরও বড় একটি ডিজিটাল তথ্য সভ্যতার জন্ম হচ্ছে।

 

বাংলাদেশের বাস্তবতা এবং চতুর্থ স্তম্ভ: বাংলাদেশের মতো উন্নয়নশীল গণতন্ত্রে এই প্রশ্ন আরও গুরুত্বপূর্ণ। স্বাধীনতার পর বিভিন্ন সময়ে রাজনৈতিক অস্থিরতা, অগণতান্ত্রিক শাসন, দুর্বল প্রাতিষ্ঠানিক সংস্কৃতি এবং ক্ষমতার অতিরিক্ত কেন্দ্রীকরণ রাষ্ট্রের প্রচলিত প্রতিষ্ঠানগুলোকে চাপে ফেলেছে। সংসদ সব সময় কার্যকর জবাবদিহির মঞ্চ হতে পারেনি; বিচার বিভাগের স্বাধীনতা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে; গণমাধ্যমও নানা বাস্তব সীমাবদ্ধতার মধ্যে কাজ করেছে।

 

বাংলাদেশে সাংবিধানিক ও রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানগুলোর অনেক ক্ষেত্রেই প্রত্যাশিত স্বাধীনতা, নিরপেক্ষতা, কার্যকারিতা ও জবাবদিহিতা গড়ে ওঠেনি। বিশেষ করে সরকারের অতিরিক্ত নিয়ন্ত্রণ, রাজনৈতিক প্রভাব এবং দলীয়করণ অনেক সময় এসব প্রতিষ্ঠানের স্বাধীনভাবে দায়িত্ব পালনের সক্ষমতাকে ক্ষতিগ্রস্ত করেছে। সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠানগুলো যখন ক্ষমতাসীন সরকারের প্রভাব থেকে প্রয়োজনীয় প্রাতিষ্ঠানিক দূরত্ব বজায় রাখতে পারে না, তখন রাষ্ট্রের জবাবদিহিতা দুর্বল হয়। ফলে নাগরিকের জন্য স্বাধীন তথ্যপ্রবাহ, জন-নজরদারি এবং বিকল্প জবাবদিহিতার ক্ষেত্র আরও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে ওঠে।

 

বাংলাদেশের সাংবাদিকতার ইতিহাসে মরহুম মানিক মিয়ার মতো ব্যক্তিত্ব সত্যনিষ্ঠা, সাহস ও নৈতিকতার যে মানদণ্ড স্থাপন করেছিলেন, তা আজও অনুকরণীয়। প্রথাগত সাংবাদিকতার মূল্য এখানেই—সম্পাদকীয় যাচাই, পেশাগত নীতি, প্রেক্ষাপট ও সামাজিক দায়বদ্ধতা। কিন্তু রাজনৈতিক চাপ, প্রশাসনিক বিধিনিষেধ, মালিকানাগত স্বার্থ, বিজ্ঞাপননির্ভর অর্থনীতি, ব্যক্তিগত নিরাপত্তা এবং আত্মনিয়ন্ত্রণ (Self-Censorship)-এর বাস্তবতাও অস্বীকার করা যায় না। কখনো গুরুত্বপূর্ণ সংবাদ বিলম্বিত হয়, সীমিতভাবে প্রকাশিত হয়, কিংবা মূলধারার গণমাধ্যমে প্রকাশই পায় না।

 

অন্যদিকে ডিজিটাল যুগে সংবাদমাধ্যমের বাইরেও তথ্যের বিশাল প্রবাহ তৈরি হয়েছে। এখানেই “চতুর্থ স্তম্ভ বনাম পঞ্চম স্তম্ভ” নয়; বরং দুই ধরনের শক্তির পারস্পরিক সহযোগিতার প্রশ্ন। পেশাদার গণমাধ্যমের যাচাই ও নাগরিকের প্রত্যক্ষ তথ্য—দুটির সমন্বয়ই একটি সুস্থ তথ্যব্যবস্থাকে শক্তিশালী করতে পারে।

 

অপরিশোধিত ও স্বতঃস্ফূর্ত (Raw & Organic) তথ্য: সাধারণ মানুষ এখন প্রত্যক্ষ সাক্ষী: আজ বাংলাদেশের প্রত্যন্ত গ্রামের একজন কৃষক, পাহাড়ের একজন শিক্ষক, চরাঞ্চলের একজন জেলে, নদীভাঙনের শিকার একটি পরিবার, কোনো কারখানার শ্রমিক কিংবা দুর্ঘটনার প্রত্যক্ষদর্শী—সবার হাতেই একটি স্মার্টফোন থাকতে পারে। একটি ছবি, একটি ভিডিও বা কয়েকটি বাক্য কয়েক সেকেন্ডের মধ্যে পৃথিবীর অন্য প্রান্তে পৌঁছে যায়।

 

এই তথ্য অনেক সময় অপরিশোধিত (Raw)—অর্থাৎ এখনো কোনো সম্পাদকীয় প্রক্রিয়ায় পরিশোধিত নয়। আবার স্বতঃস্ফূর্ত (Organic)—অর্থাৎ কোনো প্রতিষ্ঠানের পরিকল্পিত সংবাদ নয়; ঘটনাস্থল থেকে মানুষের স্বতঃস্ফূর্ত অভিজ্ঞতা। অপরিশোধিত ও স্বতঃস্ফূর্ত তথ্যের শক্তি হলো তা প্রায়ই ঘটনার প্রথম সাক্ষ্য। সীমাবদ্ধতা হলো—অপরিশোধিত মানেই সত্য নয়, স্বতঃস্ফূর্ত মানেই নির্ভুল নয়। এই দুই সত্য একসঙ্গে মনে রাখতে হবে।

 

প্রথাগত গণমাধ্যমেরও বাস্তব সীমাবদ্ধতা আছে। প্রত্যন্ত অঞ্চলে সর্বত্র প্রতিনিধি থাকে না; তথ্য সংগ্রহ, যাচাই, আইনি পর্যালোচনা ও সম্পাদনায় সময় লাগে। সামাজিক মাধ্যম সেই সময় ও দূরত্বের ব্যবধান নাটকীয়ভাবে কমিয়েছে। তথ্যের একচেটিয়া মালিকানা আর কয়েকটি প্রতিষ্ঠানের হাতে নেই। সাধারণ নাগরিক এখন সম্ভাব্য প্রত্যক্ষদর্শী, তথ্যসংগ্রাহক, প্রকাশক এবং নাগরিক সাংবাদিক (Citizen Journalist)।

 

তথ্যের গণতন্ত্রীকরণ: শুধু সংবাদ নয়, সুযোগও: এই পরিবর্তনের সুফল সংবাদে সীমাবদ্ধ নয়। গ্রামের একজন মেধাবী ছাত্র, প্রান্তিক পাড়াগাঁয়ের শিল্পী, তরুণ উদ্ভাবক, নারী উদ্যোক্তা, দক্ষ কারিগর বা গবেষণামনস্ক মানুষ এখন কোনো বড় প্রতিষ্ঠানের অনুমতির অপেক্ষা না করেও নিজের কাজ পৃথিবীর সামনে তুলে ধরতে পারেন। ভৌগোলিক দূরত্ব প্রতিভাকে আগের মতো সহজে আড়াল করে রাখতে পারে না।

 

শিক্ষা, গবেষণা, দক্ষতা উন্নয়ন, ক্ষুদ্র উদ্যোক্তা, ফ্রিল্যান্সিং, জনস্বাস্থ্য সচেতনতা, দুর্যোগের সময় দ্রুত তথ্য বিনিময় এবং মানবিক সহায়তা—সব ক্ষেত্রেই ডিজিটাল তথ্যপ্রবাহ নতুন সম্ভাবনা তৈরি করেছে। কোনো বন্যা, অগ্নিকাণ্ড বা দুর্ঘটনার প্রথম তথ্য অনেক সময় ঘটনাস্থলের মানুষই দেয়; পরে প্রতিষ্ঠান ও গণমাধ্যম সেই তথ্য যাচাই ও বিস্তৃত করে।

 

২০২৪-এর অভিজ্ঞতা: বিকল্প তথ্যপথের গুরুত্ব: বাংলাদেশের ২০২৪ সালের গণআন্দোলন আমাদের একটি কঠিন প্রশ্নের সামনে দাঁড় করিয়েছে: প্রচলিত প্রতিষ্ঠানগুলো যখন যথাসময়ে মানুষের অভিজ্ঞতা, ক্ষোভ বা প্রত্যক্ষ সাক্ষ্য ধারণ করতে পারে না, তখন জনগণ কোথায় যায়? ডিজিটাল প্ল্যাটফর্ম তখন বিকল্প যোগাযোগপথ, দলিলভাণ্ডার এবং জনমতের ক্ষেত্র হয়ে ওঠে। এই অভিজ্ঞতাকে কোনো একক রাজনৈতিক ব্যাখ্যার মধ্যে সীমাবদ্ধ না রেখে তথ্যপ্রবাহ ও জবাবদিহির দৃষ্টিকোণ থেকে বোঝা জরুরি।

 

সমষ্টিগত স্মৃতি (Collective Memory): সাধারণ মানুষও এখন ইতিহাসের সংরক্ষক: আমাদের প্রজন্মের একটি বড় সৌভাগ্য—এবং একই সঙ্গে বড় দায়িত্ব—হলো আমরা এমন এক সময়ে বাস করছি যখন সাধারণ মানুষ নিজের চিন্তা, অভিজ্ঞতা, পর্যবেক্ষণ, ছবি, ভিডিও এবং প্রত্যক্ষ সাক্ষ্য বিশ্বব্যাপী সংরক্ষণ করতে পারে। অতীতে ইতিহাসের বড় অংশ লিখতেন রাজা, রাষ্ট্র, লেখক, সাংবাদিক, গবেষক বা প্রতিষ্ঠান। এখন সাধারণ নাগরিকও ইতিহাসের উপাদান রেখে যাচ্ছেন। আজকের একটি পোস্ট, ভিডিও, মন্তব্য বা ডিজিটাল নথি আগামী দিনের গবেষণার মূল্যবান দলিল হতে পারে। ভবিষ্যতের ইতিহাসবিদ, গবেষক কিংবা আরও উন্নত কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (AI) কয়েক সেকেন্ডে আজকের কোটি কোটি ডিজিটাল রেকর্ড বিশ্লেষণ করতে পারে। এই অর্থে সামাজিক মাধ্যম ও বৃহত্তর ডিজিটাল অবকাঠামো মানবসভ্যতার এক বিশাল সমষ্টিগত স্মৃতি (Collective Memory) গড়ে তুলছে।

 

কিন্তু সমষ্টিগত স্মৃতি (Collective Memory) যদি ভুল, বিকৃত বা উদ্দেশ্যপ্রণোদিত তথ্য দিয়ে ভরে যায়, তাহলে ভবিষ্যতের ইতিহাসও বিভ্রান্ত হতে পারে। তাই আমরা শুধু আজকের পাঠকের জন্য লিখছি না; অজান্তেই ভবিষ্যতের জন্যও দলিল রেখে যাচ্ছি।

 

মিথ্যা তথ্যের বিপদ: সত্যের চেয়ে দ্রুত, কখনো প্রায় অন্তহীন: ডিজিটাল তথ্যপ্রবাহের সবচেয়ে বড় বিপদ হলো অনিচ্ছাকৃত ভুল তথ্য (Misinformation) ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত বিভ্রান্তিকর তথ্য (Disinformation)। প্রথমটি ভুল বা বিভ্রান্তিকর তথ্য হতে পারে অনিচ্ছাকৃতভাবে; দ্বিতীয়টি হতে পারে জেনে-বুঝে মানুষকে বিভ্রান্ত করার উদ্দেশ্যে। এর সঙ্গে যুক্ত হয়েছে ক্লিক-প্রলোভন (Clickbait), পুরোনো ছবি নতুন ঘটনার সঙ্গে জুড়ে দেওয়া, অসম্পূর্ণ ভিডিও, প্রেক্ষাপট বাদ দেওয়া, ব্যক্তিগত মানহানি, বিদ্বেষমূলক প্রচারণা এবং সংগঠিত অপপ্রচার।

 

একসময় বলা হতো, মিথ্যা খবরের জীবন সত্যের চেয়ে দীর্ঘ। ডিজিটাল যুগে আমি আরও এক ধাপ এগিয়ে ভাবি—একটি মিথ্যা তথ্যের জীবন কার্যত অন্তহীন হয়ে যেতে পারে। মূল পোস্ট মুছে গেলেও পর্দাছবি (Screenshot) থাকে, পুনঃপ্রচার হয়, অন্য সার্ভারে কপি হয়, আর্কাইভে থেকে যায়, সার্চে ফিরে আসে, এমনকি ভবিষ্যতের কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার (AI) উপাত্তভান্ডার বা বিশ্লেষণেও তার ছাপ থাকতে পারে। ভুল সংশোধন করা যায়; কিন্তু তার সব কপি পৃথিবী থেকে ফিরিয়ে আনা প্রায় অসম্ভব।

 

AI: সত্য-মিথ্যার সীমারেখা আরও কঠিন: কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (AI) আমাদের জ্ঞান, শিক্ষা, গবেষণা ও উৎপাদনশীলতায় অসাধারণ সুযোগ দিচ্ছে। একই প্রযুক্তি বাস্তবসম্মত লেখা, ছবি, কণ্ঠস্বর ও ভিডিও তৈরি করতে পারে। ফলে চোখে দেখলাম বা কানে শুনলাম—এই পুরোনো নিশ্চয়তা আর যথেষ্ট নয়। উৎস, সময়, প্রেক্ষাপট, সম্পাদনা এবং সত্যতা যাচাই ক্রমেই গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠছে।

 

এখানে প্রযুক্তিকে শত্রু ভাবলে চলবে না। প্রযুক্তি একটি শক্তি; এর নৈতিক ব্যবহার নির্ভর করে মানুষের ওপর। কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (AI) যেমন বিভ্রান্তি তৈরি করতে পারে, তেমনি যাচাই, অনুবাদ, তথ্য বিশ্লেষণ, নকল শনাক্তকরণ ও জ্ঞানপ্রাপ্তির শক্তিশালী হাতিয়ারও হতে পারে। প্রশ্ন প্রযুক্তি থাকবে কি না নয়; প্রশ্ন আমরা কীভাবে এর সঙ্গে দায়িত্বশীল নাগরিক সংস্কৃতি গড়ব।

 

প্রামাণ্য ও বিশ্বস্ত তথ্য (Authentic Information): শুধু সত্য হলেই কি যথেষ্ট? তথ্য সত্য হওয়া মৌলিক শর্ত, কিন্তু দায়িত্বশীল প্রকাশের জন্য শুধু তথ্যগত নির্ভুলতা (Factual Accuracy) যথেষ্ট নয়। তথ্যটি প্রামাণ্য ও বিশ্বস্ত (Authentic) কি না, উৎস নির্ভরযোগ্য কি না, সম্পূর্ণ প্রেক্ষাপট আছে কি না, প্রকাশের উদ্দেশ্য সৎ কি না, সময়টি উপযুক্ত কি না, কারও ব্যক্তিগত মর্যাদা বা নিরাপত্তা অপ্রয়োজনীয়ভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে কি না—এসব প্রশ্নও জরুরি। সত্য তথ্যও বিদ্বেষ, অপমান, শোষণ বা বিভ্রান্তির উদ্দেশ্যে ব্যবহার করা যেতে পারে।

 

তাই ডিজিটাল নৈতিকতার একটি সহজ সূত্র হতে পারে: সত্যতা + প্রেক্ষাপট + উদ্দেশ্য + মানবিকতা + জবাবদিহিতা। তথ্য প্রকাশের অধিকার আছে; কিন্তু সেই অধিকার অন্য মানুষের অধিকার ও সমাজের নিরাপত্তা থেকে বিচ্ছিন্ন নয়।

 

প্রথমে যাচাই, পরে প্রচার (First Verify, Then Publish): আমি মনে করি ডিজিটাল নাগরিকত্বের একটি মৌলিক নীতি হওয়া উচিত—“প্রথমে যাচাই, পরে প্রচার” (First Verify, Then Publish)। শেয়ার করার আগে কয়েক সেকেন্ডের বিরতিও গুরুত্বপূর্ণ: উৎস কী? তারিখ কী? ছবি বা ভিডিওটি একই ঘটনার? অন্য নির্ভরযোগ্য উৎস কী বলছে? আমি কি তথ্য দিচ্ছি, না অনুমানকে তথ্য হিসেবে ছড়াচ্ছি?

 

সামাজিক মাধ্যমে প্রত্যেক ব্যবহারকারীর হাতে এখন কার্যত একটি ক্যামেরা, একটি প্রকাশনা প্রতিষ্ঠান এবং বৈশ্বিক সম্প্রচারব্যবস্থা রয়েছে। এত ক্ষমতার সঙ্গে দায়িত্ব না বাড়লে স্বাধীনতাই একদিন আস্থাহীনতার কারণ হয়ে দাঁড়াতে পারে।

 

ডিজিটাল সাক্ষরতা: স্কুল থেকেই নাগরিক শিক্ষা: ডিজিটাল সাক্ষরতা (Digital Literacy)-কে শুধু ফোন, অ্যাপ বা কম্পিউটার চালানোর দক্ষতা হিসেবে দেখলে ভুল হবে। ভবিষ্যতের শিক্ষায় ডিজিটাল নাগরিকত্ব শিক্ষা (Digital Citizenship Education) থাকা দরকার—কীভাবে উৎস যাচাই করতে হয়, মতামত ও তথ্যের পার্থক্য বুঝতে হয়, ছবি-ভিডিওর প্রেক্ষাপট পরীক্ষা করতে হয়, ব্যক্তিগত গোপনীয়তা সম্মান করতে হয়, অনলাইন আচরণের বাস্তব পরিণতি বুঝতে হয় এবং ভুল করলে সংশোধন করতে হয়।

 

এই শিক্ষা স্কুল থেকেই শুরু হওয়া উচিত এবং বয়স অনুযায়ী ধাপে ধাপে বাড়তে পারে। পরিবার, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, গণমাধ্যম, প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠান এবং রাষ্ট্র—সবাই এর অংশীদার। উদ্দেশ্য নিয়ন্ত্রণ নয়; বরং স্বাধীনতাকে দায়িত্বশীল করার সক্ষমতা তৈরি করা।

 

ডিজিটাল বিশ্বাসযোগ্যতা (Digital Credibility): ভবিষ্যতের ব্যক্তিগত মূলধন: মানুষের সামাজিক সুনাম যেমন একদিনে তৈরি হয় না, ডিজিটাল বিশ্বাসযোগ্যতা (Digital Credibility)-ও তেমনি দীর্ঘ সময়ে গড়ে ওঠে। আমরা কী লিখি, কী শেয়ার করি, ভুল হলে সংশোধন করি কি না, ভিন্নমতকে কীভাবে সম্মান করি, তথ্যের উৎস দিই কি না—এসব মিলিয়ে একটি দীর্ঘমেয়াদি ডিজিটাল পরিচয় তৈরি হয়।

 

ভবিষ্যতে ডিজিটাল বিশ্বাসযোগ্যতা ব্যক্তির এক ধরনের সামাজিক মূলধনে পরিণত হতে পারে। এটি কোনো রাষ্ট্রনির্ধারিত স্কোর হওয়ার প্রস্তাব নয়; বরং মানুষের নিজের আচরণ থেকে গড়ে ওঠা বিশ্বাস। ভাইরালতার আগে বিশ্বাসযোগ্যতা (Credibility before virality)—ভাইরাল হওয়ার আগে বিশ্বাসযোগ্য হওয়া—এই সংস্কৃতি প্রতিষ্ঠা করা জরুরি।

 

নাগরিক তথ্য-অভিভাবক (Citizen Information Steward): একটি স্বেচ্ছাসেবী ধারণা: আরও একটি চিন্তা বিবেচনা করা যেতে পারে—দায়িত্বশীল নাগরিক তথ্যচর্চাকে উৎসাহিত করতে স্বেচ্ছাসেবী নাগরিক তথ্য-অভিভাবক (Citizen Information Steward) বা “নাগরিক তথ্য-অভিভাবক” ধারণা। এটি কোনো সরকারি সেন্সর বা মতামত নিয়ন্ত্রণের ব্যবস্থা নয়। বরং যারা নিয়মিত উৎস উল্লেখ করেন, ভুল সংশোধন করেন, গোপনীয়তা ও মানবিক মর্যাদা রক্ষা করেন এবং যাচাই ছাড়া তথ্য ছড়ান না—তাদের জন্য একটি নৈতিক স্বীকৃতির কাঠামো হতে পারে।

 

এই ধারণা ভবিষ্যতে বিশ্ববিদ্যালয়, পেশাজীবী সংগঠন, নাগরিক প্রতিষ্ঠান বা স্বাধীন প্ল্যাটফর্মের মাধ্যমে আলোচিত হতে পারে। মূল উদ্দেশ্য হবে শাস্তি নয়; ভালো আচরণের সামাজিক মূল্য বাড়ানো।

 

এ ধরনের ডিজিটাল নাগরিক শিক্ষা শুধু পাঠ্যক্রমে সীমাবদ্ধ থাকলে চলবে না। সরকারি ও বেসরকারি গণমাধ্যম এবং ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মে তথ্য যাচাই, অনলাইন নিরাপত্তা, গোপনীয়তা ও দায়িত্বশীল প্রকাশনা সম্পর্কে নিয়মিত জনসচেতনতামূলক প্রচার থাকা উচিত। জনস্বার্থে নির্ধারিত কিছু শিক্ষামূলক বার্তা নিয়মিত প্রচারের জন্য নীতিগতভাবে বাধ্যতামূলক জনসেবা-সময় বা প্রচারব্যবস্থাও বিবেচনা করা যেতে পারে।

 

স্বাধীন তথ্য-যাচাই অবকাঠামো: বাংলাদেশে একটি স্বাধীন, স্বচ্ছ, পেশাগত এবং রাজনৈতিক প্রভাবমুক্ত জাতীয় তথ্য-যাচাই অবকাঠামো গঠনের সম্ভাবনাও বিবেচনা করা যেতে পারে। এটি সরকারের প্রচারযন্ত্র হবে না এবং কোনো দলের সত্য নির্ধারণের প্রতিষ্ঠানও হবে না। বরং বহুপক্ষীয়, পদ্ধতিগত ও স্বচ্ছ যাচাইব্যবস্থা—যেখানে উৎস, পদ্ধতি ও সংশোধন প্রকাশ্য থাকবে।

 

নাগরিক সাংবাদিক, গবেষক, শিক্ষার্থী, ছোট সংবাদমাধ্যম বা সামাজিক মাধ্যম ব্যবহারকারী সহজে তথ্য যাচাইয়ের সহায়তা পেলে ভুল তথ্যের বিস্তার কিছুটা কমানো সম্ভব। স্বাধীন ফ্যাক্ট-চেকিং প্রতিষ্ঠানগুলোও এই বৃহত্তর পরিবেশের অংশ হতে পারে।

 

প্ল্যাটফর্মের দায়িত্ব—কিন্তু স্বাধীনতা নষ্ট করে নয়" নাগরিকের দায়িত্বের পাশাপাশি ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মেরও দায়িত্ব আছে। অ্যালগরিদম যদি কেবল উত্তেজনা, রাগ ও বিভাজনকে পুরস্কৃত করে, তাহলে ভালো নাগরিক আচরণ একা যথেষ্ট হবে না। ভুয়া অ্যাকাউন্ট, সংগঠিত প্রতারণা, কৃত্রিমভাবে বাড়ানো প্রচার এবং ক্ষতিকর ম্যানিপুলেশন মোকাবিলায় প্রযুক্তিগত স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি দরকার।

 

তবে সমাধানের নামে মতপ্রকাশের স্বাধীনতা ধ্বংস করাও বিপজ্জনক। তাই লক্ষ্য হওয়া উচিত—কম সেন্সরশিপ, বেশি স্বচ্ছতা; কম গোপন নিয়ন্ত্রণ, বেশি ব্যবহারকারী সক্ষমতা; এবং ভুল তথ্য দমনের পাশাপাশি বৈধ মতভিন্নতার সুরক্ষা।

 

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমগুলো স্বচ্ছ ও নিরপেক্ষ মানদণ্ডের ভিত্তিতে ব্যবহারকারী বা কনটেন্ট নির্মাতার একটি প্রকাশ্য ‘তথ্য- বিশ্বাসযোগ্যতা সূচক’ (Information Credibility Indicator) চালুর সম্ভাবনা বিবেচনা করতে পারে। অনেকটা ধারাবাহিক আস্থার মানদণ্ডের মতো, নিয়মিত উৎস উল্লেখ, ভুল তথ্য সংশোধন, প্রমাণিত বিভ্রান্তিকর তথ্য না ছড়ানো এবং দায়িত্বশীল আচরণে সূচক উন্নত হতে পারে; বিপরীতে বারবার প্রমাণিত ভুল বা বিভ্রান্তিকর তথ্য প্রচারে তা কমতে পারে। অনুসারী বা পাঠক এই সূচক দেখতে পারবেন। তবে এটি রাজনৈতিক মত, মতাদর্শ বা জনপ্রিয়তার বিচার করবে না; মূল্যায়নের পদ্ধতি প্রকাশ্য হতে হবে এবং ভুল মূল্যায়নের বিরুদ্ধে আপিলের সুযোগ থাকতে হবে।

 

সামাজিক মাধ্যম নয়—একটি বৃহত্তর ডিজিটাল তথ্য-পরিবেশ (Digital Information Ecosystem): এই আলোচনা শুরু হয়েছিল সামাজিক মাধ্যমকে “পঞ্চম স্তম্ভ” হিসেবে দেখে। কিন্তু এখন পরিষ্কার যে সামাজিক মাধ্যম বৃহত্তর পরিবর্তনের দৃশ্যমান অংশমাত্র। স্মার্টফোন, মেঘভিত্তিক তথ্যসংরক্ষণ (Cloud), অনুসন্ধানযন্ত্র (Search Engine), কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (AI), ডিজিটাল আর্কাইভ, বার্তা আদান-প্রদান ব্যবস্থা, অনলাইন ভিডিও, স্বাধীন প্রকাশক এবং কোটি কোটি নাগরিক মিলে একটি ডিজিটাল তথ্য-পরিবেশ (Digital Information Ecosystem) তৈরি করছে।

 

এই ব্যবস্থায় চারটি মৌলিক প্রশ্ন বদলে যাচ্ছে: কে তথ্য তৈরি করে? কে তা ছড়ায়? কে যাচাই করে? এবং কে ইতিহাস সংরক্ষণ করে? অতীতে এই ক্ষমতা মূলত প্রতিষ্ঠানকেন্দ্রিক ছিল; এখন তা ক্রমশ নাগরিকের কাছেও ছড়িয়ে পড়ছে। এটাই সম্ভবত পঞ্চম স্তম্ভ ধারণার সবচেয়ে গভীর তাৎপর্য।

 

একটি প্রকৌশলগত দৃষ্টিভঙ্গি ও দৃষ্টান্ত: একজন প্রকৌশলী হিসেবে আমি বিষয়টিকে কাঠামোর ভাষায়ও দেখি। একটি ভবন শুধু কলাম বা বিম দিয়ে নিরাপদ হয় না; ভিত্তি, ভারবহন-পথ, সংযোগ, বিধিমালা এবং মাননিয়ন্ত্রণ—সবকিছু একসঙ্গে কাজ করতে হয়। একইভাবে একটি সুস্থ ডিজিটাল সমাজও শুধু মতপ্রকাশের স্বাধীনতা দিয়ে টেকসই হবে না। স্বাধীনতার সঙ্গে যাচাই, দায়িত্ব, জবাবদিহিতা, নৈতিকতা, শিক্ষা এবং বিশ্বাসযোগ্যতার সংযোগ থাকতে হবে। কোনো একটি উপাদান দুর্বল হলে পুরো কাঠামোর আস্থা ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে।

 

পঞ্চম স্তম্ভ এবং তার দায়বদ্ধতা: পঞ্চম স্তম্ভের উদ্দেশ্য প্রথাগত গণমাধ্যমকে প্রতিস্থাপন করা নয়। পেশাদার সাংবাদিকতা সমাজের জন্য অপরিহার্য—বিশেষ করে অনুসন্ধান, যাচাই, প্রেক্ষাপট, আইনি দায় এবং সম্পাদকীয় শৃঙ্খলার কারণে। একইভাবে নাগরিক তথ্যপ্রবাহের শক্তি হলো গতি, বিস্তার, প্রত্যক্ষতা এবং এমন স্থান থেকে তথ্য আনা যেখানে কোনো সংবাদকর্মী উপস্থিত নেই।

 

ভবিষ্যতের শক্তিশালী তথ্যব্যবস্থা হবে সহযোগিতামূলক: নাগরিক তথ্য দেবে, সাংবাদিক যাচাই ও গভীরতা যোগ করবে, গবেষক বিশ্লেষণ করবে, প্রযুক্তি সত্যতা যাচাইয়ে সাহায্য করবে, আর প্রতিষ্ঠান জবাবদিহির উত্তর দেবে।

 

জাতি কী ধরনের ডিজিটাল সভ্যতা ও নিরাপত্তা প্রত্যাশা করে?প্রযুক্তি আরও শক্তিশালী হবে। কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (AI) আরও সক্ষম হবে। তথ্যের গতি আরও বাড়বে। কিন্তু ভবিষ্যতের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন প্রযুক্তিগত নয়—নৈতিক ও নাগরিক। আমরা কি এমন একটি সমাজ গড়ব যেখানে দ্রুততম কণ্ঠ সবচেয়ে শক্তিশালী, নাকি সবচেয়ে বিশ্বাসযোগ্য কণ্ঠ সবচেয়ে মূল্যবান? আমরা কি ভুলকে লুকাব, নাকি প্রকাশ্যে সংশোধন করাকে সম্মানের বিষয় করব? আমরা কি মানুষের দুর্বল মুহূর্তকে ভাইরাল করব, নাকি মানবিক মর্যাদাকে রক্ষা করব?

 

ডিজিটাল তথ্য সভ্যতার ভিত্তি হওয়া উচিত সত্য, মানবিকতা ও দায়িত্ববোধ। স্বাধীনতা তার প্রাণ; কিন্তু বিশ্বাসযোগ্যতা তার কাঠামোগত শক্তি। একই সঙ্গে এই সভ্যতার নিরাপত্তা বলতে শুধু প্রযুক্তিগত সুরক্ষা নয়; ব্যক্তিগত গোপনীয়তা, পরিচয়, তথ্যের অখণ্ডতা এবং প্রতারণা, অপব্যবহার ও বিভ্রান্তি থেকে নাগরিকের সুরক্ষাও নিশ্চিত করতে হবে।

 

উপসংহার: জনগণের মাধ্যমে গড়ে ওঠা প্রস্তাবিত পঞ্চম স্তম্ভ: রাষ্ট্রের প্রথম চারটি স্তম্ভ গড়ে উঠেছে প্রধানত রাষ্ট্র ও প্রাতিষ্ঠানিক কাঠামোর মাধ্যমে। কিন্তু যে পঞ্চম স্তম্ভের কথা আমরা বলছি, সেটি গড়ে উঠছে জনগণের মাধ্যমে—কোটি কোটি নাগরিকের সম্মিলিত অংশগ্রহণ, প্রত্যক্ষ অভিজ্ঞতা, প্রশ্ন, দলিল, প্রতিবাদ, জ্ঞান, সৃজনশীলতা এবং স্মৃতির মধ্য দিয়ে।

 

এর সবচেয়ে বড় শক্তি প্রযুক্তি নয়—মানুষ। আবার সবচেয়ে বড় ঝুঁকিও মানুষ। স্বাধীনতা যদি সততা, দায়িত্ব ও যাচাইয়ের সঙ্গে যুক্ত হয়, সামাজিক মাধ্যম এবং বৃহত্তর ডিজিটাল তথ্যব্যবস্থা গণতন্ত্র ও মানবসভ্যতার এক শক্তিশালী সহায়ক হয়ে উঠতে পারে। আর যদি দায়িত্ব ছাড়া কেবল গতি ও ভাইরালতাকে পুরস্কৃত করি, একই শক্তি আস্থাকে ধ্বংস করতে পারে।

 

হয়তো ভবিষ্যতের ইতিহাসবিদরা একদিন লিখবেন—একবিংশ শতাব্দীর বড় পরিবর্তনগুলোর একটি এসেছিল তখন, যখন সাধারণ মানুষ শুধু ভোটার বা সংবাদপাঠক ছিল না; তারা হয়ে উঠেছিল ঘটনার প্রত্যক্ষ সাক্ষী, তথ্যের নির্মাতা, সত্যের পরীক্ষক, মানবসভ্যতার স্মৃতির সংরক্ষক এবং রাষ্ট্রের পঞ্চম স্তম্ভের নির্মাতা।

 

লেখক পরিচিতি: প্রকৌশলী লুৎফর খোন্দকার একজন কাঠামোগত প্রকৌশলী। যুক্তরাষ্ট্র, বাংলাদেশসহ বিভিন্ন দেশে শিল্প, বাণিজ্যিক ও বিশেষ কাঠামো প্রকল্পে প্রায় চার দশকের পেশাগত অভিজ্ঞতা রয়েছে। তিনি জর্জিয়া, যুক্তরাষ্ট্রে বসবাস করেন। সহলেখক: প্রকৌশলী রওনাক খোন্দকার, স্ট্রাকচারাল ইঞ্জিনিয়ার, যুক্তরাষ্ট্র।

0 Comments

জনপ্রিয় সংবাদ
বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনার পর তরুণীর মৃত্যু, এক বছরের সাজায় ক্যালিফোর্নিয়ার আইন পরিবর্তনের দাবি

যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন।   মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়।   তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।”   ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে।   প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন।   ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন।   প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল।   মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি।   রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।

যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডে বড় পরিবর্তন, পরিবারভিত্তিক ভিসা আবেদনকারীদের জন্য সুখবর

যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর আগস্ট ২০২৬ সালের ভিসা বুলেটিন প্রকাশ করেছে। নতুন এই আপডেটে পরিবারভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি দেখা গেছে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের স্থায়ী বাসিন্দাদের স্বামী, স্ত্রী ও সন্তানদের জন্য নির্ধারিত এফ২এ ক্যাটাগরিতে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এসেছে।   নতুন ভিসা বুলেটিন অনুযায়ী, পরিবারভিত্তিক কয়েকটি ক্যাটাগরিতে অপেক্ষার সময় কমার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এর মধ্যে এফ২এ ক্যাটাগরির অগ্রগতি সবচেয়ে বেশি, যেখানে যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডধারীদের স্বামী-স্ত্রী ও অবিবাহিত সন্তানদের আবেদন অন্তর্ভুক্ত থাকে।   এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের অবিবাহিত প্রাপ্তবয়স্ক সন্তানদের জন্য এফ১ ক্যাটাগরি এবং অন্যান্য পরিবারভিত্তিক ক্যাটাগরিতেও কিছু অগ্রগতি দেখা গেছে। তবে আবেদনকারীদের ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার তারিখ বা প্রায়োরিটি ডেট অনুযায়ীই পরবর্তী ধাপ নির্ধারণ হবে।   ভিসা বুলেটিনে বলা হয়েছে, পরিবারভিত্তিক অভিবাসন ভিসার সংখ্যা প্রতিবছর নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে দেওয়া হয়। তাই কোনো ক্যাটাগরিতে চাহিদা বেশি হলে অপেক্ষার সময় বাড়তে পারে এবং কম হলে তারিখ এগিয়ে আসতে পারে।   অন্যদিকে কর্মসংস্থানভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য পরিস্থিতি তুলনামূলক কঠিন রয়েছে। বিশেষ করে কিছু এমপ্লয়মেন্ট-বেসড ক্যাটাগরিতে দীর্ঘ অপেক্ষা ও সীমিত ভিসা সংখ্যার কারণে আবেদনকারীদের অনিশ্চয়তা অব্যাহত রয়েছে।   যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ী বসবাসের জন্য আবেদনকারীদের কাছে ভিসা বুলেটিন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এই তালিকার মাধ্যমে জানা যায়, কোন আবেদনকারীরা গ্রিন কার্ডের পরবর্তী ধাপে এগিয়ে যেতে পারবেন এবং কারা এখনও অপেক্ষার তালিকায় থাকবেন।   বিশেষজ্ঞদের মতে, নতুন এই পরিবর্তন অনেক পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীর জন্য আশার খবর হলেও, প্রতিটি আবেদনকারীর পরিস্থিতি নির্ভর করবে তাদের আবেদন জমার তারিখ, দেশভিত্তিক সীমা এবং ভিসা ক্যাটাগরির ওপর।   যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ব্যবস্থায় দীর্ঘদিন ধরে গ্রিন কার্ডের অপেক্ষার তালিকা বড় একটি বিষয় হয়ে আছে। নতুন ভিসা বুলেটিনে পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীদের জন্য অগ্রগতি দেখা গেলেও, সব আবেদনকারী একইভাবে সুবিধা পাবেন না।

মার্কিন ভিসা আপডেট ২০২৬! বাংলাদেশিদের জন্য কোন ভিসা বন্ধ, কোনটা চালু?

২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো।   প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে।   এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে।   অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে।   স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে।   সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে।   সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।

যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশি মালিকানাধীন বিশ্ববিদ্যালয়ের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধন

যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে।   এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন।   নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি।   উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।”   বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে।   এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে।   শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়।   উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন।   বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত।   এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।

পাঁচ সন্তানকে এতিম করে মাকে কুপিয়ে হত্যা, গ্রেপ্তারের সময়ও হাসছিল ঘাতক দুই বোন

যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে এক মর্মান্তিক ও লোমহর্ষক ঘটনার জন্ম দিয়েছে দুই তরুণী বোন। দিনদুপুরে ক্যারোলিন ‘কারো’ পেনা নামের ৩২ বছর বয়সী এক নারীকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগে তাদের গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। নিহত নারী পাঁচ সন্তানের জননী ছিলেন। তবে সবচেয়ে শিউরে ওঠার মতো বিষয় হলো, গ্রেপ্তারের সময় অভিযুক্তদের চেহারায় অনুশোচনার সামান্যতম ছাপ তো ছিলই না, উল্টো তাদের মুখে পৈশাচিক হাসি দেখা গেছে। মেক্সিকো সীমান্তের কাছের শহর দেল রিও থেকে বৃহস্পতিবার বিকেলে পুলিশ তাদের হাতকড়া পরিয়ে নিয়ে যাওয়ার সময় এই দৃশ্য ক্যামেরায় ধরা পড়ে।   আরও পড়ুন... ‘ফোনটা ধরতে পারলে হয়তো তাকে বাঁচাতে পারতাম’- টেক্সাসে পাঁচ সন্তানের মাকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা, দুই বোনসহ তিনজন গ্রেপ্তার   পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নিহত ক্যারোলিনকে বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় দুপুর ২টার পরপরই গুরুতর জখম অবস্থায় ভাল ভার্দে রিজিওনাল মেডিকেল সেন্টারে নেওয়া হয়। তার শরীরে একাধিক ছুরিকাঘাতের চিহ্ন ছিল। ঘটনাস্থলের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, একটি সনিক ড্রাইভ-থ্রু রেস্তোরাঁর বাইরে রক্তাক্ত অবস্থায় ক্যারোলিন তার তিন হামলাকারীর মুখোমুখি দাঁড়িয়ে আছেন।   পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য সান আন্তোনিওর একটি হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছায় এবং প্রায় ৩৫ হাজার বাসিন্দার শহর দেল রিওতে অভিযান চালিয়ে হামলাকারীদের শনাক্ত করে।   সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া গ্রেপ্তারের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, ২১ বছর বয়সী কিটি মিয়া দিয়াজ খালি পায়ে হেঁটে যাওয়ার সময় পুলিশের গাড়িতে ওঠার আগে মৃদু হাসছেন। কিটি নিজেও এক শিশুপুত্রের মা। অন্যদিকে, তার ১৯ বছর বয়সী ছোট বোন আমায়া কুকি দিয়াজ ক্যামেরার দিকে তাকিয়ে নির্লজ্জভাবে দাঁত বের করে হাসতে থাকেন।   ▶️ টেক্সাসে নিজের মাকে নির্মমভাবে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুই মেয়ে |   এমনকি ভিডিও ধারণকারীকে ব্যঙ্গাত্মক সুরে ‘রেকর্ড করা বন্ধ করো’ বলেও চিৎকার করতে শোনা যায় তাকে। দেল রিও পুলিশ জানিয়েছে, এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ২১ বছর বয়সী কায়ান্দ্রা রেনি ফাজ নামের তৃতীয় আরেক নারীকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে ঠিক কী কারণে এই নারকীয় হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে, সে বিষয়ে পুলিশ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি।

Top week

অস্ট্রেলিয়ার স্টুডেন্ট ভিসায় ৫ দেশের নাগরিকদের ইংরেজি পরীক্ষায় ছাড়

অস্ট্রেলিয়ার স্টুডেন্ট ভিসায় ৫ দেশের নাগরিকদের ইংরেজি পরীক্ষায় ছাড়

বায়জিদ হাসান সেপ্টেম্বর ১২, ২০২৬ ১৪:০