৬৫ বছর পার হলেই আমেরিকায় কী কী সুবিধা, ২০২৬ সালের ৭টি তথ্য জানলে চমকে যাবেন
যুক্তরাষ্ট্রে ৬৫ বছর বয়সে পৌঁছালেই সরকার বিনা শর্তে টাকা, বাড়ি ও চিকিৎসার সব খরচ বহন করে, এমন ধারণা ঠিক নয়। তবে ২০২৬ সালে সিনিয়রদের জন্য সামাজিক নিরাপত্তা, মেডিকেয়ার, সম্পূরক নিরাপত্তা আয়, মেডিকেড, খাদ্য সহায়তা, আবাসন সহায়তা এবং কর সুবিধাসহ বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ সরকারি কর্মসূচি রয়েছে। প্রতিটি সুবিধা পাওয়ার জন্য আলাদা যোগ্যতা, আয়, কাজের ইতিহাস ও অভিবাসন-সংক্রান্ত শর্ত থাকতে পারে।
প্রথম বড় সুবিধা হলো সামাজিক নিরাপত্তা অবসর ভাতা। যোগ্য ব্যক্তিরা ৬২ বছর বয়স থেকেই এই সুবিধা নেওয়া শুরু করতে পারেন। তবে ৬২ বছর বয়সে নিলে মাসিক ভাতার পরিমাণ কমে যায়। ২০২৬ সালে সামাজিক নিরাপত্তা ও সম্পূরক নিরাপত্তা আয়ে ২ দশমিক ৮ শতাংশ জীবনযাত্রার ব্যয় সমন্বয় যোগ হয়েছে। এতে অবসরপ্রাপ্ত কর্মীদের গড় মাসিক ভাতা প্রায় ৫৭ ডলার বেড়ে ২ হাজার ৭১ ডলারে দাঁড়িয়েছে।
এই সুবিধার জন্য সাধারণত কাজ করে পর্যাপ্ত সামাজিক নিরাপত্তা ক্রেডিট অর্জন করতে হয়। ২০২৬ সালে একটি ক্রেডিট পেতে নির্দিষ্ট পরিমাণ আয় প্রয়োজন। বেশিরভাগ মানুষের অবসর ভাতার জন্য ৪০টি ক্রেডিট প্রয়োজন হয়। পূর্ণ অবসরের বয়স জন্মসাল অনুযায়ী ৬৬ থেকে ৬৭ বছরের মধ্যে। তাই ৬৫ বছর হলেই সবাই একই পরিমাণ সামাজিক নিরাপত্তা ভাতা পাবেন, এমন নয়।
দ্বিতীয় বড় সুবিধা হলো মেডিকেয়ার। সাধারণত ৬৫ বছর বয়সে মেডিকেয়ারের জন্য যোগ্য হওয়া যায়। বেশিরভাগ মানুষ কর্মজীবনে যথেষ্ট মেডিকেয়ার কর দেওয়ার কারণে হাসপাতালভিত্তিক পার্ট এ-এর জন্য মাসিক প্রিমিয়াম দেন না। তবে পার্ট বি বিনামূল্যে নয়। ২০২৬ সালে এর স্ট্যান্ডার্ড Part B মাসিক প্রিমিয়াম ২০২ দশমিক ৯০ ডলার এবং বার্ষিক কর্তনযোগ্য অর্থ ২৮৩ ডলার। আয় বেশি হলে পার্ট বি-এর প্রিমিয়াম আরও বাড়তে পারে।
মেডিকেয়ারের পার্ট এ মূলত হাসপাতালসহ নির্দিষ্ট রোগী ভর্তি চিকিৎসা কভার করে। পার্ট বি চিকিৎসক ও অন্যান্য চিকিৎসাসেবা কভার করে এবং পার্ট ডি প্রেসক্রিপশন ওষুধের খরচে সহায়তা করে। কম আয়ের মেডিকেয়ার গ্রাহকদের জন্য চিকিৎসা ব্যয় কমাতে আলাদা সহায়তা কর্মসূচিও রয়েছে। তবে ৬৫ বছর পূর্ণ হলেই সব ধরনের চিকিৎসা সম্পূর্ণ বিনামূল্যে হয়ে যায় না।
তৃতীয় সুবিধা হলো সম্পূরক নিরাপত্তা আয় বা এসএসআই। ৬৫ বছর বা তার বেশি বয়সী, অন্ধ বা প্রতিবন্ধী এবং খুব কম আয় ও সীমিত সম্পদের মানুষ এই সুবিধার জন্য যোগ্য হতে পারেন। ২০২৬ সালে ফেডারেল পর্যায়ে এসএসআই-এর সর্বোচ্চ মাসিক হার একজনের জন্য ৯৯৪ ডলার এবং যোগ্য দম্পতির জন্য ১ হাজার ৪৯১ ডলার। তবে আয়, সম্পদ ও অন্যান্য পরিস্থিতির ওপর নির্ভর করে প্রকৃত অর্থের পরিমাণ কম হতে পারে।
চতুর্থ সুবিধা হলো মেডিকেড। কম আয়ের সিনিয়রদের চিকিৎসা ব্যয় কমাতে এই কর্মসূচি গুরুত্বপূর্ণ। তবে মেডিকেডের যোগ্যতা ও সুবিধা অঙ্গরাজ্যভেদে আলাদা। কোথাও দাঁতের চিকিৎসা বা চোখের চিকিৎসার মতো অতিরিক্ত সুবিধা থাকতে পারে, আবার কোথাও নিয়ম ভিন্ন। তাই শুধু ৬৫ বছর বয়স হলেই মেডিকেড পাওয়া যায় না।
পঞ্চম সুবিধা হলো খাদ্য সহায়তা কর্মসূচি বা এসএনএপি, যা অনেকের কাছে ফুড স্ট্যাম্প নামে পরিচিত। যোগ্য নিম্ন আয়ের সিনিয়ররা খাবার কেনার জন্য এই সহায়তা পেতে পারেন। ২০২৬ অর্থবছরে ৪৮টি অঙ্গরাজ্য ও ওয়াশিংটন ডিসিতে একজনের পরিবারের জন্য সর্বোচ্চ মাসিক এসএনএপি বরাদ্দ ২৯৮ ডলার। তবে প্রকৃত সুবিধার পরিমাণ পরিবারের আয় ও অন্যান্য তথ্যের ওপর নির্ভর করে।
ষষ্ঠ সুবিধা হলো আবাসন সহায়তা। সেকশন ৮ বা হাউজিং চয়েস ভাউচার কর্মসূচিতে নিম্ন আয়ের পরিবার, সিনিয়র, সাবেক সেনাসদস্য এবং প্রতিবন্ধী ব্যক্তিরা যোগ্য হতে পারেন। তবে সরকার সবার রেন্টের নির্দিষ্ট ৭০ শতাংশ দিয়ে দেয়, এমন কোনো সাধারণ নিয়ম নেই। পরিবারের আয়, সদস্যসংখ্যা ও স্থানীয় নিয়মের ভিত্তিতে সহায়তার পরিমাণ নির্ধারণ করা হয়। অনেক এলাকায় আবেদনকারীদের দীর্ঘ অপেক্ষার তালিকায়ও থাকতে হয়।
সপ্তম গুরুত্বপূর্ণ সুবিধার মধ্যে রয়েছে সিনিয়রদের জন্য অতিরিক্ত ফেডারেল কর ছাড়। ৬৫ বছর বা তার বেশি বয়সী যোগ্য করদাতারা ২০২৫ থেকে ২০২৮ সালের করবর্ষে জনপ্রতি অতিরিক্ত ৬ হাজার ডলার কর ছাড় দাবি করতে পারেন। স্বামী-স্ত্রী দুজনই যোগ্য হলে যৌথভাবে এই অতিরিক্ত কর ছাড় ১২ হাজার ডলার পর্যন্ত হতে পারে। তবে নির্দিষ্ট আয়ের সীমা অতিক্রম করলে সুবিধাটি ধীরে ধীরে কমে যায়।
এ ছাড়া ৬২ বছর বা তার বেশি বয়সী মার্কিন নাগরিক ও স্থায়ী বাসিন্দাদের জন্য জাতীয় উদ্যানের আজীবন সিনিয়র পাস রয়েছে। ২০২৬ সালে এই পাসের দাম ৮০ ডলার। এর মাধ্যমে নির্দিষ্ট ফেডারেল বিনোদনমূলক এলাকায় প্রবেশ ফি ও কিছু সুবিধায় ছাড় পাওয়া যায়।
সব মিলিয়ে, যুক্তরাষ্ট্রে ৬৫ বছর বয়স সরকারি সুবিধা পাওয়ার ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ একটি মাইলফলক হলেও এটি কোনোভাবেই ‘সবকিছু ফ্রি’ পাওয়ার বয়স নয়। কোন সুবিধা পাওয়া যাবে, কত টাকা পাওয়া যাবে বা কতটা খরচ কমবে, তা নির্ভর করে ব্যক্তির কাজের ইতিহাস, আয়, সম্পদ, অভিবাসন-সংক্রান্ত অবস্থান, বসবাসের অঙ্গরাজ্য এবং পারিবারিক পরিস্থিতির ওপর। তাই কোনো কর্মসূচির সুবিধা পাওয়ার আগে নিজের যোগ্যতা যাচাই করা জরুরি।
© America Bangla | All Rights Reserved. আমেরিকা বাংলার পূর্বানুমতি ছাড়া এই প্রতিবেদনের লেখা, ছবি, গ্রাফিক্স বা অন্যান্য মৌলিক কনটেন্ট সম্পূর্ণ বা আংশিকভাবে কপি বা পুনঃপ্রকাশ করা নিষিদ্ধ। অনুমোদিত ব্যবহারের ক্ষেত্রে আমেরিকা বাংলা কে স্পষ্টভাবে সোর্স হিসেবে উল্লেখ করতে হবে।
বিষয়
যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন। মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়। তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।” ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে। প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন। ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন। প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল। মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি। রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।
যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর আগস্ট ২০২৬ সালের ভিসা বুলেটিন প্রকাশ করেছে। নতুন এই আপডেটে পরিবারভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি দেখা গেছে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের স্থায়ী বাসিন্দাদের স্বামী, স্ত্রী ও সন্তানদের জন্য নির্ধারিত এফ২এ ক্যাটাগরিতে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এসেছে। নতুন ভিসা বুলেটিন অনুযায়ী, পরিবারভিত্তিক কয়েকটি ক্যাটাগরিতে অপেক্ষার সময় কমার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এর মধ্যে এফ২এ ক্যাটাগরির অগ্রগতি সবচেয়ে বেশি, যেখানে যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডধারীদের স্বামী-স্ত্রী ও অবিবাহিত সন্তানদের আবেদন অন্তর্ভুক্ত থাকে। এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের অবিবাহিত প্রাপ্তবয়স্ক সন্তানদের জন্য এফ১ ক্যাটাগরি এবং অন্যান্য পরিবারভিত্তিক ক্যাটাগরিতেও কিছু অগ্রগতি দেখা গেছে। তবে আবেদনকারীদের ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার তারিখ বা প্রায়োরিটি ডেট অনুযায়ীই পরবর্তী ধাপ নির্ধারণ হবে। ভিসা বুলেটিনে বলা হয়েছে, পরিবারভিত্তিক অভিবাসন ভিসার সংখ্যা প্রতিবছর নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে দেওয়া হয়। তাই কোনো ক্যাটাগরিতে চাহিদা বেশি হলে অপেক্ষার সময় বাড়তে পারে এবং কম হলে তারিখ এগিয়ে আসতে পারে। অন্যদিকে কর্মসংস্থানভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য পরিস্থিতি তুলনামূলক কঠিন রয়েছে। বিশেষ করে কিছু এমপ্লয়মেন্ট-বেসড ক্যাটাগরিতে দীর্ঘ অপেক্ষা ও সীমিত ভিসা সংখ্যার কারণে আবেদনকারীদের অনিশ্চয়তা অব্যাহত রয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ী বসবাসের জন্য আবেদনকারীদের কাছে ভিসা বুলেটিন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এই তালিকার মাধ্যমে জানা যায়, কোন আবেদনকারীরা গ্রিন কার্ডের পরবর্তী ধাপে এগিয়ে যেতে পারবেন এবং কারা এখনও অপেক্ষার তালিকায় থাকবেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, নতুন এই পরিবর্তন অনেক পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীর জন্য আশার খবর হলেও, প্রতিটি আবেদনকারীর পরিস্থিতি নির্ভর করবে তাদের আবেদন জমার তারিখ, দেশভিত্তিক সীমা এবং ভিসা ক্যাটাগরির ওপর। যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ব্যবস্থায় দীর্ঘদিন ধরে গ্রিন কার্ডের অপেক্ষার তালিকা বড় একটি বিষয় হয়ে আছে। নতুন ভিসা বুলেটিনে পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীদের জন্য অগ্রগতি দেখা গেলেও, সব আবেদনকারী একইভাবে সুবিধা পাবেন না।
২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো। প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে। এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে। অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে। স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে। সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে। সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।
যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে। এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন। নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি। উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।” বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে। এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে। শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়। উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত। এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।
যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে এক মর্মান্তিক ও লোমহর্ষক ঘটনার জন্ম দিয়েছে দুই তরুণী বোন। দিনদুপুরে ক্যারোলিন ‘কারো’ পেনা নামের ৩২ বছর বয়সী এক নারীকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগে তাদের গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। নিহত নারী পাঁচ সন্তানের জননী ছিলেন। তবে সবচেয়ে শিউরে ওঠার মতো বিষয় হলো, গ্রেপ্তারের সময় অভিযুক্তদের চেহারায় অনুশোচনার সামান্যতম ছাপ তো ছিলই না, উল্টো তাদের মুখে পৈশাচিক হাসি দেখা গেছে। মেক্সিকো সীমান্তের কাছের শহর দেল রিও থেকে বৃহস্পতিবার বিকেলে পুলিশ তাদের হাতকড়া পরিয়ে নিয়ে যাওয়ার সময় এই দৃশ্য ক্যামেরায় ধরা পড়ে। আরও পড়ুন... ‘ফোনটা ধরতে পারলে হয়তো তাকে বাঁচাতে পারতাম’- টেক্সাসে পাঁচ সন্তানের মাকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা, দুই বোনসহ তিনজন গ্রেপ্তার পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নিহত ক্যারোলিনকে বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় দুপুর ২টার পরপরই গুরুতর জখম অবস্থায় ভাল ভার্দে রিজিওনাল মেডিকেল সেন্টারে নেওয়া হয়। তার শরীরে একাধিক ছুরিকাঘাতের চিহ্ন ছিল। ঘটনাস্থলের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, একটি সনিক ড্রাইভ-থ্রু রেস্তোরাঁর বাইরে রক্তাক্ত অবস্থায় ক্যারোলিন তার তিন হামলাকারীর মুখোমুখি দাঁড়িয়ে আছেন। পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য সান আন্তোনিওর একটি হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছায় এবং প্রায় ৩৫ হাজার বাসিন্দার শহর দেল রিওতে অভিযান চালিয়ে হামলাকারীদের শনাক্ত করে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া গ্রেপ্তারের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, ২১ বছর বয়সী কিটি মিয়া দিয়াজ খালি পায়ে হেঁটে যাওয়ার সময় পুলিশের গাড়িতে ওঠার আগে মৃদু হাসছেন। কিটি নিজেও এক শিশুপুত্রের মা। অন্যদিকে, তার ১৯ বছর বয়সী ছোট বোন আমায়া কুকি দিয়াজ ক্যামেরার দিকে তাকিয়ে নির্লজ্জভাবে দাঁত বের করে হাসতে থাকেন। ▶️ টেক্সাসে নিজের মাকে নির্মমভাবে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুই মেয়ে | এমনকি ভিডিও ধারণকারীকে ব্যঙ্গাত্মক সুরে ‘রেকর্ড করা বন্ধ করো’ বলেও চিৎকার করতে শোনা যায় তাকে। দেল রিও পুলিশ জানিয়েছে, এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ২১ বছর বয়সী কায়ান্দ্রা রেনি ফাজ নামের তৃতীয় আরেক নারীকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে ঠিক কী কারণে এই নারকীয় হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে, সে বিষয়ে পুলিশ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি।
আমেরিকা
View moreনিউইয়র্ক সিটিতে ইয়েলো ট্যাক্সি, উবার, লিফট বা লিভারি চালকদের জন্য রাস্তার ক্যামেরা এনফোর্সমেন্ট এখন আরও গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। বাস লেনে ভুল করে গাড়ি চালানো, সেখানে দাঁড়ানো বা পার্ক করার মতো ঘটনায় শুধু রাস্তার ক্যামেরাই নয়, এমটিএ বাসে থাকা ক্যামেরার মাধ্যমেও টিকিট আসতে পারে। শহরের নির্দিষ্ট বাস লেনে থাকা ক্যামেরা গাড়ির ছবি ও ভিডিও ধারণ করে। পরে গাড়ির নিবন্ধিত মালিকের ঠিকানায় নোটিস অব লায়াবিলিটি পাঠানো হয়। এমটিএ বাসে থাকা ক্যামেরাও বাস লেনে দাঁড়ানো বা পার্ক করা, বাসস্টপে দাঁড়ানো এবং ডাবল পার্কিংয়ের মতো লঙ্ঘন শনাক্ত করতে পারে। বাস লেনের নিয়ম অনুযায়ী, নির্ধারিত সময়ের মধ্যে সাধারণভাবে সেখানে গাড়ি চালানো যায় না। তবে নিকটতম মোড়ে ডানে মোড় নেওয়া, দ্রুত যাত্রী ওঠানো বা নামানো এবং বৈধ পার্কিং স্পটে যাওয়ার মতো কিছু ক্ষেত্রে ব্যতিক্রম রয়েছে। তাই শুধু কয়েক সেকেন্ডের জন্য বাস লেনে ঢুকলেও পরিস্থিতি ও সাইন অনুযায়ী সেটি লঙ্ঘন হিসেবে বিবেচিত হতে পারে। ক্যামেরায় ধরা পড়া বাস লেনের লঙ্ঘনের জরিমানা প্রথমবার ৫০ ডলার থেকে শুরু হয়। একই ধরনের লঙ্ঘন ১২ মাসের মধ্যে আবার হলে জরিমানা ধাপে ধাপে ১০০, ১৫০, ২০০ এবং পরবর্তী প্রতিটি লঙ্ঘনে ২৫০ ডলার পর্যন্ত বাড়তে পারে। এমটিএ বাসের ক্যামেরায় ধরা পড়া সংশ্লিষ্ট লঙ্ঘনের ক্ষেত্রেও একই ধরনের ধাপে ধাপে জরিমানা প্রযোজ্য। শুধু বাস লেন নয়, নিউইয়র্কে রেড লাইট ও স্পিড ক্যামেরার এনফোর্সমেন্টও গুরুত্বপূর্ণ। ২০২৬ সালের মধ্যে শহরের ৬০০টি ইন্টারসেকশনে রেড লাইট ক্যামেরা চালুর লক্ষ্য নির্ধারণ করেছে নিউইয়র্ক সিটি। ২০২৬ সালের শুরুতে শহর প্রতি সপ্তাহে ৫০টি নতুন ইন্টারসেকশনে ক্যামেরা চালুর প্রক্রিয়া শুরু করে। রেড লাইট ক্যামেরায় ধরা পড়লে জরিমানা ৫০ ডলার এবং স্পিড ক্যামেরার ক্ষেত্রেও জরিমানা ৫০ ডলার থেকে শুরু হয়। এসব ক্যামেরা লঙ্ঘনের ক্ষেত্রে সাধারণত গাড়ির নিবন্ধিত মালিকের কাছে নোটিস পাঠানো হয়। সবচেয়ে বড় সমস্যা হতে পারে টিকিট জমিয়ে রাখলে। নিউইয়র্ক সিটিতে পার্কিং ও ক্যামেরা-সংক্রান্ত বকেয়া জরিমানা নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে পরিশোধ বা চ্যালেঞ্জ না করলে তা জাজমেন্টে যেতে পারে। এরপর জরিমানা ও সুদের সঙ্গে অতিরিক্ত ব্যবস্থা নেওয়া হতে পারে। নিউইয়র্ক স্টেটে ১৮ মাসের মধ্যে তিন বা তার বেশি পার্কিং, রেড লাইট, বাস লেন বা স্পিড ক্যামেরার বকেয়া জাজমেন্ট থাকলে গাড়ির রেজিস্ট্রেশন নবায়ন স্থগিত বা আটকে যেতে পারে। একইভাবে ১২ মাসের মধ্যে পাঁচ বা তার বেশি পার্কিং টিকিট জাজমেন্টে থাকলেও রেজিস্ট্রেশন নবায়নে সমস্যা হতে পারে। টিএলসি গাড়িও এই নিয়মের আওতায় রয়েছে। তাই নিউইয়র্কের ড্রাইভারদের জন্য বাস লেনের সাইন, পার্কিং সাইন ও কার্বের নির্দেশনা ভালোভাবে দেখা গুরুত্বপূর্ণ। ক্যামেরার উপস্থিতি চোখে না পড়লেও নিয়ম ভাঙলে পরে ডাকযোগে নোটিস আসতে পারে। আর কোনো টিকিট এলে সেটি উপেক্ষা না করে নির্ধারিত সময়ের মধ্যে জরিমানা পরিশোধ বা প্রয়োজন হলে হিয়ারিংয়ের মাধ্যমে চ্যালেঞ্জ করা উচিত।
সন্তানরা বাড়ি ছেড়েছে, কিন্তু ‘মিস করি না’ মিশেল ওবামার মন্তব্যে তুমুল আলোচনা
৬৫ বছর পার হলেই আমেরিকায় কী কী সুবিধা, ২০২৬ সালের ৭টি তথ্য জানলে চমকে যাবেন
ওহাইওতে এক মাসের অভিযানে ৭৯ নিখোঁজ শিশুকে উদ্ধার করল মার্কিন মার্শালরা
প্রযুক্তি উদ্যোক্তা ইলন মাস্কের সাবেক সঙ্গী অ্যাশলি সেন্ট ক্লেয়ার দাবি করেছেন, তাদের সম্পর্কের সময় মাস্ক তাকে বলেছিলেন, ‘গৃহযুদ্ধের আগে অনেক সন্তান’ প্রয়োজন। ভেনিস চলচ্চিত্র উৎসবে অ্যালেক্স গিবনির নির্মিত নতুন তথ্যচিত্র ‘মাস্ক’ প্রদর্শনের আগে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এ দাবি করেন। সেন্ট ক্লেয়ারের বক্তব্য অনুযায়ী, মাস্ক তাকে এ কথা একটি খুদে বার্তায় জানিয়েছিলেন। তবে তিনি ঠিক কোন অর্থে ‘গৃহযুদ্ধের’ কথা বলেছিলেন, সেটি স্পষ্ট নয়। মাস্ক সত্যিই যুক্তরাষ্ট্রে গৃহযুদ্ধের আশঙ্কা করতেন, নাকি এমন ধারণাকে উসকে দেওয়ার চেষ্টা করছিলেন, এমন প্রশ্নের সরাসরি উত্তর না দিয়ে সেন্ট ক্লেয়ার মাস্কের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্স ব্যবহারের সমালোচনা করেন। সেন্ট ক্লেয়ার বলেন, এক্সে মাস্কের বিভিন্ন বক্তব্য ও কর্মকাণ্ড বাস্তব জীবনে প্রভাব ফেলছে এবং তার ভাষ্য অনুযায়ী, প্ল্যাটফর্মটিতে এমন বিভাজন তৈরি করা হচ্ছে, যা নিয়ন্ত্রণ করা না হলে বড় ধরনের সামাজিক ক্ষতির কারণ হতে পারে। এসব অবশ্য সেন্ট ক্লেয়ারের ব্যক্তিগত মতামত ও অভিযোগ, যার সঙ্গে মাস্ক একমত কি না তা তিনি নিজে এই প্রতিবেদনে কোনো মন্তব্য করেননি। অ্যাশলি সেন্ট ক্লেয়ার ২০২৪ সালে মাস্কের একটি সন্তানের জন্ম দেন। শিশুটির নাম রোমুলাস। তাদের সম্পর্কের বিষয়টি প্রকাশ্যে আসার পর থেকেই দুজনকে ঘিরে ব্যক্তিগত ও আইনি নানা আলোচনা চলছে। সেন্ট ক্লেয়ার ২০২৫ সালের ফেব্রুয়ারিতে রোমুলাসের একক হেফাজত চেয়ে মামলা করেছিলেন। পরবর্তী সময়ে মাস্কও সন্তানের হেফাজত নিয়ে আইনি পদক্ষেপের কথা প্রকাশ্যে জানান। সেন্ট ক্লেয়ারের সাম্প্রতিক বক্তব্যের আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ হলো, তিনি দাবি করেছেন, মাস্কের পক্ষ থেকে তাকে ৪ কোটি ডলারের একটি গোপনীয়তা চুক্তিতে সই করার প্রস্তাব দেওয়া হয়েছিল। তার ভাষ্য অনুযায়ী, প্রস্তাবটির সঙ্গে এককালীন অর্থ এবং দীর্ঘমেয়াদি মাসিক অর্থ দেওয়ার বিষয় ছিল। তিনি শেষ পর্যন্ত সেই চুক্তিতে সই করেননি। ভেনিস চলচ্চিত্র উৎসবে সাংবাদিকদের সেন্ট ক্লেয়ার বলেন, অর্থের বিনিময়ে নীরব থাকার প্রস্তাব পাওয়ার পর বিষয়টি নিয়ে তিনি গভীরভাবে চিন্তা করেন। শেষ পর্যন্ত সন্তানদের জন্য সত্য বলার সিদ্ধান্তকে তিনি আর্থিক সুবিধার চেয়ে বেশি গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করেন। এর আগে জুনে ডন লেমন শো পডকাস্টে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারেও সেন্ট ক্লেয়ার একই ধরনের দাবি করেছিলেন। তার ভাষ্য অনুযায়ী, মাস্কের সম্পদ ব্যবস্থাপক জ্যারেড বার্চাল তার সঙ্গে গোপনীয়তা চুক্তি নিয়ে আলোচনা করেছিলেন। তিনি দাবি করেন, প্রথম দিকে মাস্ক তাকে ১৫ লাখ ডলার বাড়ি কেনা ও সঞ্চিত মূলধনের জন্য দেওয়ার কথা জানিয়েছিলেন। পরে তার সঙ্গে দীর্ঘ ফোনালাপে গোপনীয়তা চুক্তির বিষয়টি তোলা হয়। তবে এই দাবিগুলোর বিষয়ে মাস্কের পক্ষ থেকে বিস্তারিত জবাব পাওয়া যায়নি। সেন্ট ক্লেয়ারের বক্তব্যের স্বাধীনভাবে যাচাইযোগ্য প্রমাণও প্রকাশ্যে আসেনি। ফলে অর্থের প্রস্তাব কিংবা ব্যক্তিগত বার্তার বিষয়গুলোকে সেন্ট ক্লেয়ারের দাবি হিসেবেই দেখা হচ্ছে। ইলন মাস্কের ব্যক্তিগত জীবন নিয়ে আলোচনা নতুন নয়। তিনি বর্তমানে ১৪ সন্তানের বাবা হিসেবে পরিচিত এবং চার নারীর সঙ্গে তার সন্তান রয়েছে বলে তথ্যচিত্রটিতে উল্লেখ করা হয়েছে। সেন্ট ক্লেয়ারের সঙ্গে তার সন্তান রোমুলাস ছাড়াও নেভাদা, ভিভিয়ান, গ্রিফিন, কাই, স্যাক্সন, ড্যামিয়ান, এক্স অ্যাশ এ-টুয়েলভ, এক্সা, স্ট্রাইডার, অ্যাজুর, টেকনো, আর্কাডিয়া এবং সেলডন লাইকর্গাসের নাম প্রকাশ্যে এসেছে। ‘মাস্ক’ তথ্যচিত্রটি নির্মাণ করেছেন অস্কারজয়ী নির্মাতা অ্যালেক্স গিবনি। প্রায় চার ঘণ্টার এই ছবিতে মাস্কের ব্যক্তিগত জীবন, ব্যবসায়িক উত্থান, টেসলা ও স্পেসএক্সসহ তার ব্যবসায়িক সাম্রাজ্য এবং রাজনীতিতে ক্রমবর্ধমান প্রভাব তুলে ধরা হয়েছে। ভেনিস চলচ্চিত্র উৎসবে ৮ সেপ্টেম্বর ছবিটির বিশ্ব প্রিমিয়ার অনুষ্ঠিত হয়। তথ্যচিত্রে সেন্ট ক্লেয়ার ছাড়াও মাস্কের সাবেক স্ত্রী জাস্টিন মাস্ক, তার বাবা এরল মাস্ক, প্রযুক্তি সাংবাদিক জো শিফার, টেসলার সহপ্রতিষ্ঠাতা মার্টিন এবারহার্ড এবং কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বিশেষজ্ঞ জিওফ্রে হিন্টনের মতো ব্যক্তিদের সাক্ষাৎকার রয়েছে। মাস্ক নিজে তথ্যচিত্রটিতে সাক্ষাৎকার দেননি। নির্মাতা গিবনি জানিয়েছেন, তিনি মাস্কের সঙ্গে যোগাযোগ করেছিলেন, কিন্তু মাস্ক অংশ নিতে রাজি হননি। মাস্ক এর আগে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তথ্যচিত্রটিকে ‘হিট পিস’ হিসেবে অভিহিত করেছিলেন। অন্যদিকে গিবনি বলেছেন, তিনি মাস্কের প্রযুক্তি, ব্যবসা, রাজনীতি এবং ব্যক্তিগত জীবনের বিভিন্ন দিক অনুসন্ধান করে একটি সামগ্রিক চিত্র তুলে ধরার চেষ্টা করেছেন। তথ্যচিত্রটির নির্মাণ শুরু হয় ২০২৩ সালে। এর দৈর্ঘ্য প্রায় ২৩২ মিনিট। যুক্তরাষ্ট্রে এটি ১৬ অক্টোবর প্রেক্ষাগৃহে মুক্তি পাওয়ার কথা রয়েছে এবং পরে এইচবিও ম্যাক্সে দেখানো হবে। ভেনিসে সেন্ট ক্লেয়ারের বক্তব্যের পর মাস্কের ব্যক্তিগত জীবন, সন্তান নেওয়ার বিষয়ে তার দৃষ্টিভঙ্গি এবং এক্স প্ল্যাটফর্মে তার রাজনৈতিক প্রভাব নিয়ে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে। তবে গৃহযুদ্ধের আগে ‘অনেক সন্তান’ চাওয়ার বক্তব্যসহ এসব তথ্যের বড় অংশই সেন্ট ক্লেয়ারের বর্ণনার ওপর নির্ভরশীল। তাই মাস্কের নিজের বক্তব্য বা স্বাধীন প্রমাণ ছাড়া এগুলোকে নিশ্চিত তথ্য হিসেবে উপস্থাপন না করাই সাংবাদিকতার দিক থেকে যথাযথ। সূত্র: দ্য গার্ডিয়ান, পিপল ও ভ্যারাইটি।
নিউইয়র্কের গির্জায় আবারও কুরআন ছিঁড়লেন ট্রাম্পের ক্ষমাপ্রাপ্ত জেক ল্যাং
যুক্তরাষ্ট্রে ১৫ কোটি ড্রাইভিং লাইসেন্সের তথ্য ফাঁসের দাবি, তদন্তে এফবিআই
নিউ ইয়র্কে আজ থেকে নির্দিষ্ট ট্র্যাশ বিন বাধ্যতামূলক, না মানলে জরিমানা
মিশিগানের আসন্ন সিনেট নির্বাচনে ডেমোক্র্যাট প্রার্থী আবদুল এল-সাইদকে ঘিরে মুসলিম পরিচয় ও তার রাজনৈতিক অবস্থান নিয়ে আক্রমণ তীব্র হলেও সাম্প্রতিক জরিপে তিনি রিপাবলিকান প্রার্থী মাইক রজার্সের চেয়ে এগিয়ে রয়েছেন। আগামী ৩ নভেম্বরের মিডটার্ম নির্বাচনে এল-সাইদ জয়ী হলে যুক্তরাষ্ট্রের ইতিহাসে প্রথম মুসলিম সিনেটর হিসেবে নতুন ইতিহাস গড়বেন। ৪ আগস্টের ডেমোক্র্যাটিক প্রাইমারিতে সাবেক জনস্বাস্থ্য কর্মকর্তা এল-সাইদ কংগ্রেসওম্যান হ্যালি স্টিভেনসকে পরাজিত করে দলীয় মনোনয়ন নিশ্চিত করেন। প্রাইমারিতে তিনি ডেমোক্র্যাটিক পার্টির প্রতিষ্ঠিত নেতৃত্বের সমর্থন পাওয়া স্টিভেনসকে অল্প ব্যবধানে হারান। তার এই জয় জাতীয় পর্যায়েও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে ওঠে, কারণ নির্বাচনের আগে এল-সাইদের প্রচারণার বিরুদ্ধে বিপুল অঙ্কের বাইরের অর্থ ব্যয় করা হয়েছিল। প্রাইমারি জয়ের পর এল-সাইদকে ঘিরে রাজনৈতিক আক্রমণের বড় একটি অংশ তার মুসলিম পরিচয়কে কেন্দ্র করে চলে আসে। রয়টার্সের সাম্প্রতিক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স মিশিগানে রিপাবলিকান প্রার্থী মাইক রজার্সের পক্ষে প্রচারে গিয়ে এল-সাইদকে তীব্র ভাষায় আক্রমণ করেন এবং তাকে সন্ত্রাসবাদকে সমর্থনের অভিযোগে অভিযুক্ত করেন। এল-সাইদ এসব অভিযোগ প্রত্যাখ্যান করে সন্ত্রাসবাদ ও ৯/১১ হামলার নিন্দা করার অবস্থান পুনর্ব্যক্ত করেছেন। তার বিরুদ্ধে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও নানা ধরনের প্রচার চালানো হয়েছে। এর মধ্যে তাকে যুক্তরাষ্ট্রে শরিয়া আইন প্রতিষ্ঠার সমর্থক হিসেবে উপস্থাপনের দাবিও রয়েছে। এসব দাবির কিছু ইতোমধ্যে ফ্যাক্টচেকের মুখে পড়েছে। একই সময়ে ইসরায়েল ও ফিলিস্তিন ইস্যুতে এল-সাইদের অবস্থানও রিপাবলিকান ও প্রো-ইসরায়েল গোষ্ঠীগুলোর সমালোচনার অন্যতম বিষয় হয়ে উঠেছে। এল-সাইদ ইসরায়েলের গাজা নীতির কঠোর সমালোচক। তিনি ফিলিস্তিনিদের ওপর ইসরায়েলি সামরিক অভিযানকে গণহত্যা হিসেবে বর্ণনা করেছেন এবং ইসরায়েলকে দেওয়া মার্কিন সহায়তার পরিবর্তে স্বাস্থ্যসেবা, আবাসন ও অবকাঠামোয় অর্থ ব্যয়ের পক্ষে অবস্থান নিয়েছেন। তার এই অবস্থানের কারণে নির্বাচনী প্রচারণায় প্রো-ইসরায়েল গোষ্ঠীগুলোর বিরোধিতারও মুখে পড়েছেন তিনি। তবে এসব আক্রমণের মধ্যেও সাধারণ নির্বাচনের লড়াইয়ে এল-সাইদের অবস্থান শক্তিশালী রয়েছে। মিশিগান স্টেট ইউনিভার্সিটির ১ সেপ্টেম্বর প্রকাশিত জরিপে সম্ভাব্য ভোটারদের মধ্যে এল-সাইদ ৫০ শতাংশ এবং রজার্স ৪৫ শতাংশ সমর্থন পেয়েছেন। একই জরিপে নিবন্ধিত ভোটারদের মধ্যে এল-সাইদ ৪৮ শতাংশ এবং রজার্স ৪৪ শতাংশে ছিলেন। অন্যদিকে, বিভিন্ন জরিপে ব্যবধান এক নয়। ফক্স নিউজের আগস্টের জরিপে রজার্স ৫১ শতাংশ এবং এল-সাইদ ৪৭ শতাংশে ছিলেন। পরে প্রকাশিত একাধিক জরিপে এল-সাইদ আবার এগিয়ে যান। রিয়েলক্লিয়ারপলিটিক্সের সাম্প্রতিক গড় হিসাবে এল-সাইদ ৪৬ দশমিক ৯ শতাংশ এবং রজার্স ৪৪ দশমিক ৬ শতাংশ সমর্থনে রয়েছেন। ফলে মিশিগানের এই লড়াই এখনো টস-আপ বা অত্যন্ত প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ হিসেবেই বিবেচিত হচ্ছে। এল-সাইদের প্রচারণায় মুসলিম পরিচয়ের চেয়ে অর্থনীতি ও সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রার ব্যয়কে বেশি গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। স্বাস্থ্যসেবা, সাশ্রয়ী আবাসন, শিক্ষা, কর্মসংস্থান এবং জীবনযাত্রার ব্যয় কমানোর মতো বিষয় তার প্রচারের গুরুত্বপূর্ণ অংশ। তিনি দীর্ঘদিন মিশিগানে জনস্বাস্থ্য নিয়ে কাজ করেছেন এবং ডেট্রয়েট ও ওয়েইন কাউন্টির স্বাস্থ্য বিভাগের দায়িত্বেও ছিলেন। অন্যদিকে, সাবেক কংগ্রেসম্যান মাইক রজার্স প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সমর্থন পেয়েছেন। রিপাবলিকান প্রচারণায় এল-সাইদের প্রগতিশীল রাজনৈতিক অবস্থান, স্বাস্থ্যনীতি, করনীতি এবং ইসরায়েল-ফিলিস্তিন ইস্যুতে তার অবস্থানকে আক্রমণের কেন্দ্রবিন্দু করা হচ্ছে। একই সঙ্গে তাকে ডেমোক্র্যাটিক পার্টির বামপন্থী অংশের প্রতিনিধি হিসেবে তুলে ধরার চেষ্টা চলছে। মিশিগানের এই নির্বাচন শুধু একটি সিনেট আসনের লড়াই নয়। ২০২৬ সালের মিডটার্মে সিনেটের নিয়ন্ত্রণ নির্ধারণে মিশিগান গুরুত্বপূর্ণ ব্যাটলগ্রাউন্ড হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। ডেমোক্র্যাটরা সিনেটে সংখ্যাগরিষ্ঠতা ফিরে পেতে চারটি আসন নিজেদের দখলে নিতে চাইছে। ফলে এল-সাইদ ও রজার্সের লড়াই জাতীয় রাজনীতিতেও বিশেষ গুরুত্ব পাচ্ছে। এল-সাইদ জয়ী হলে শুধু মিশিগান থেকেই একজন নতুন সিনেটর নির্বাচিত হবেন না, যুক্তরাষ্ট্রের সিনেটের ইতিহাসেও নতুন অধ্যায় যুক্ত হবে। তবে নির্বাচনের এখনও প্রায় দুই মাস বাকি এবং জরিপে ব্যবধান খুব বেশি নয়। মুসলিম পরিচয়কে ঘিরে রাজনৈতিক আক্রমণ, অর্থনীতি, স্বাস্থ্যসেবা, ইসরায়েল-ফিলিস্তিন নীতি এবং ট্রাম্প প্রশাসনের প্রতি ভোটারদের মনোভাব শেষ পর্যন্ত মিশিগানের ফলাফলে কতটা প্রভাব ফেলে, সেটিই এখন দেখার বিষয়।
লং আইল্যান্ডে নিজের ছেলের ছুরিকাঘাতে ৬৯ বছরের বাবার মৃত্যু, মৃত্যুর আগে ৯১১-এ শেষ ফোন
যুক্তরাষ্ট্রে নিজের দুই বছরের সন্তানকে ফাঁস দিয়ে হত্যার পর নিজেই আত্মহত্যার চেষ্টা, গ্রেপ্তার মা