সাপ্তাহিক আমেরিকা বাংলা ই-পেপার
রাজনীতি

১৭ বছরে শিক্ষার ভিত দুর্বল হয়েছে, জাতিকে এর মূল্য দিতে হচ্ছে: রিজভী

নিজস্ব প্রতিবেদক প্রকাশ: সেপ্টেম্বর ১৯, ২০২৬ ৭:৪৯
বিএনপি নেতা রুহুল কবির রিজভী।
বিএনপি নেতা রুহুল কবির রিজভী।

দেশের শিক্ষাব্যবস্থার বর্তমান পরিস্থিতি নিয়ে কঠোর সমালোচনা করেছেন বিএনপি নেতা রুহুল কবির রিজভী। তাঁর অভিযোগ, গত ১৭ বছর ধরে শিক্ষাব্যবস্থা নিয়ে নানা ধরনের পরীক্ষা-নিরীক্ষা ও অনিয়মের কারণে শিক্ষার মূল ভিত্তি দুর্বল হয়েছে। এর দীর্ঘমেয়াদি প্রভাব পুরো জাতির ওপর পড়েছে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

 

শনিবার ঢাকার কেরানীগঞ্জ মহিলা ডিগ্রি কলেজে কৃতী শিক্ষার্থীদের সংবর্ধনা ও বৃত্তি প্রদান অনুষ্ঠানে বক্তব্য দেওয়ার সময় এসব কথা বলেন রিজভী। অনুষ্ঠানে এসএসসি পরীক্ষায় ভালো ফল করা শিক্ষার্থীদের সম্মাননা ও আর্থিক বৃত্তি দেওয়া হয়।

 

রিজভীর বক্তব্যের বড় অংশজুড়ে ছিল শিক্ষার গুণগত মান। তিনি বলেন, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে শুধু নতুন ভবন নির্মাণ কিংবা অবকাঠামোগত উন্নয়ন করলেই শিক্ষার মান নিশ্চিত হয় না। এর জন্য প্রয়োজন দক্ষ ও নিবেদিত শিক্ষক, উপযুক্ত শিক্ষার পরিবেশ এবং শিক্ষার্থীদের মেধা বিকাশের সুযোগ।

 

গত ১৭ বছরের শিক্ষাব্যবস্থা নিয়ে সমালোচনা করতে গিয়ে রিজভী অভিযোগ করেন, অতীতে প্রভাবশালী ব্যক্তিদের পক্ষ থেকে শিক্ষার্থীদের পাস করিয়ে দেওয়ার জন্য চাপ দেওয়ার মতো ঘটনাও ঘটেছে। তাঁর মতে, এ ধরনের কর্মকাণ্ড শিক্ষার মান ও পরীক্ষাব্যবস্থার বিশ্বাসযোগ্যতাকে ক্ষতিগ্রস্ত করে। তবে এসব বক্তব্য রিজভীর রাজনৈতিক অভিযোগ; প্রকাশিত প্রতিবেদনে অভিযোগগুলোর স্বাধীন প্রমাণ বা পরিসংখ্যান দেওয়া হয়নি।

 

তিনি শিক্ষার্থীদের আধুনিক বিশ্বের সঙ্গে তাল মিলিয়ে গড়ে তোলার ওপরও গুরুত্ব দেন। প্রযুক্তিনির্ভর বিশ্বে প্রতিযোগিতায় টিকে থাকতে শুধু পাঠ্যবইয়ের জ্ঞান যথেষ্ট নয় উল্লেখ করে শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা, সৃজনশীলতা ও মানবিক মূল্যবোধ অর্জনের সুযোগ বাড়ানোর কথা বলেন তিনি।

 

নারী শিক্ষার প্রসঙ্গ তুলে রিজভী বলেন, মেয়েদের উচ্চশিক্ষায় অংশগ্রহণ আরও বাড়ানো প্রয়োজন। এ ক্ষেত্রে আর্থিক প্রতিবন্ধকতা কমিয়ে উচ্চশিক্ষার সুযোগ সম্প্রসারণের কথাও তাঁর বক্তব্যে উঠে আসে।

 

একটি দেশের ভবিষ্যৎ নির্ভর করে তার নতুন প্রজন্ম কী ধরনের শিক্ষা পাচ্ছে তার ওপর। শিক্ষার্থীরা যেন কেবল পরীক্ষায় পাস বা সনদ অর্জনের জন্য পড়াশোনা না করে, বরং বাস্তব জীবনে কাজে লাগানোর মতো জ্ঞান ও দক্ষতা অর্জন করতে পারে—এমন শিক্ষাব্যবস্থা গড়ে তোলার প্রয়োজনীয়তার কথা বলেন তিনি।

 

অনুষ্ঠানে কৃতী শিক্ষার্থীদের সম্মাননা জানানোর পাশাপাশি তাদের ভবিষ্যৎ শিক্ষাজীবনে ভালো ফলাফল ধরে রাখা এবং দেশ ও সমাজের জন্য দায়িত্বশীল নাগরিক হিসেবে নিজেদের তৈরি করার আহ্বান জানানো হয়।


© America Bangla | All Rights Reserved. আমেরিকা বাংলার পূর্বানুমতি ছাড়া এই প্রতিবেদনের লেখা, ছবি, গ্রাফিক্স বা অন্যান্য মৌলিক কনটেন্ট সম্পূর্ণ বা আংশিকভাবে কপি বা পুনঃপ্রকাশ করা নিষিদ্ধ। অনুমোদিত ব্যবহারের ক্ষেত্রে আমেরিকা বাংলা কে স্পষ্টভাবে সোর্স হিসেবে উল্লেখ করতে হবে।

জনপ্রিয় সংবাদ
বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনার পর তরুণীর মৃত্যু, এক বছরের সাজায় ক্যালিফোর্নিয়ার আইন পরিবর্তনের দাবি

যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন।   মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়।   তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।”   ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে।   প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন।   ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন।   প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল।   মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি।   রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।

যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডে বড় পরিবর্তন, পরিবারভিত্তিক ভিসা আবেদনকারীদের জন্য সুখবর

যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর আগস্ট ২০২৬ সালের ভিসা বুলেটিন প্রকাশ করেছে। নতুন এই আপডেটে পরিবারভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি দেখা গেছে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের স্থায়ী বাসিন্দাদের স্বামী, স্ত্রী ও সন্তানদের জন্য নির্ধারিত এফ২এ ক্যাটাগরিতে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এসেছে।   নতুন ভিসা বুলেটিন অনুযায়ী, পরিবারভিত্তিক কয়েকটি ক্যাটাগরিতে অপেক্ষার সময় কমার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এর মধ্যে এফ২এ ক্যাটাগরির অগ্রগতি সবচেয়ে বেশি, যেখানে যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডধারীদের স্বামী-স্ত্রী ও অবিবাহিত সন্তানদের আবেদন অন্তর্ভুক্ত থাকে।   এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের অবিবাহিত প্রাপ্তবয়স্ক সন্তানদের জন্য এফ১ ক্যাটাগরি এবং অন্যান্য পরিবারভিত্তিক ক্যাটাগরিতেও কিছু অগ্রগতি দেখা গেছে। তবে আবেদনকারীদের ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার তারিখ বা প্রায়োরিটি ডেট অনুযায়ীই পরবর্তী ধাপ নির্ধারণ হবে।   ভিসা বুলেটিনে বলা হয়েছে, পরিবারভিত্তিক অভিবাসন ভিসার সংখ্যা প্রতিবছর নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে দেওয়া হয়। তাই কোনো ক্যাটাগরিতে চাহিদা বেশি হলে অপেক্ষার সময় বাড়তে পারে এবং কম হলে তারিখ এগিয়ে আসতে পারে।   অন্যদিকে কর্মসংস্থানভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য পরিস্থিতি তুলনামূলক কঠিন রয়েছে। বিশেষ করে কিছু এমপ্লয়মেন্ট-বেসড ক্যাটাগরিতে দীর্ঘ অপেক্ষা ও সীমিত ভিসা সংখ্যার কারণে আবেদনকারীদের অনিশ্চয়তা অব্যাহত রয়েছে।   যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ী বসবাসের জন্য আবেদনকারীদের কাছে ভিসা বুলেটিন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এই তালিকার মাধ্যমে জানা যায়, কোন আবেদনকারীরা গ্রিন কার্ডের পরবর্তী ধাপে এগিয়ে যেতে পারবেন এবং কারা এখনও অপেক্ষার তালিকায় থাকবেন।   বিশেষজ্ঞদের মতে, নতুন এই পরিবর্তন অনেক পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীর জন্য আশার খবর হলেও, প্রতিটি আবেদনকারীর পরিস্থিতি নির্ভর করবে তাদের আবেদন জমার তারিখ, দেশভিত্তিক সীমা এবং ভিসা ক্যাটাগরির ওপর।   যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ব্যবস্থায় দীর্ঘদিন ধরে গ্রিন কার্ডের অপেক্ষার তালিকা বড় একটি বিষয় হয়ে আছে। নতুন ভিসা বুলেটিনে পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীদের জন্য অগ্রগতি দেখা গেলেও, সব আবেদনকারী একইভাবে সুবিধা পাবেন না।

মার্কিন ভিসা আপডেট ২০২৬! বাংলাদেশিদের জন্য কোন ভিসা বন্ধ, কোনটা চালু?

২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো।   প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে।   এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে।   অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে।   স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে।   সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে।   সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।

যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশি মালিকানাধীন বিশ্ববিদ্যালয়ের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধন

যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে।   এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন।   নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি।   উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।”   বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে।   এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে।   শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়।   উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন।   বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত।   এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।

প্রাণীর সঙ্গে যৌন কর্মকাণ্ডের অভিযোগে গ্রেপ্তার বুয়েটের সাবেক শিক্ষার্থী ও সাউথ ফ্লোরিডা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক

যুক্তরাষ্ট্রের ফ্লোরিডা অঙ্গরাজ্যে প্রাণীর সঙ্গে যৌন কর্মকাণ্ডের ছবি বা ভিডিও ধারণ, বিতরণ ও সংরক্ষণের অভিযোগে গ্রেপ্তার হয়েছেন বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত রায়ান আবদুল বাতেন। তিনি বাংলাদেশের বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বুয়েট) তড়িৎ ও ইলেকট্রনিক প্রকৌশল বিভাগের সাবেক শিক্ষার্থী এবং যুক্তরাষ্ট্রের ইউনিভার্সিটি অব সাউথ ফ্লোরিডার সহকারী অধ্যাপক।   হিলসবরো কাউন্টি শেরিফের কার্যালয়ের সরকারি ওয়েবসাইটে প্রকাশিত গ্রেপ্তারসংক্রান্ত তথ্য অনুযায়ী, গত ২৮ অক্টোবর ২০২৬ তারিখে তাঁকে গ্রেপ্তার করা হয়। প্রকাশিত রেকর্ডে তাঁর বিরুদ্ধে ‘Film, Distribute, or Possess Image or Video of Sexual Activity with an Animal’ শীর্ষক অভিযোগ উল্লেখ করা হয়েছে। অর্থাৎ, প্রাণীর সঙ্গে যৌন কর্মকাণ্ডের ছবি বা ভিডিও ধারণ, বিতরণ কিংবা নিজের কাছে রাখার অভিযোগে তাঁকে গ্রেপ্তার দেখানো হয়েছে।   গ্রেপ্তারসংক্রান্ত সরকারি রেকর্ড প্রকাশের পর বিষয়টি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে। বিশেষ করে বুয়েটের সাবেক শিক্ষার্থী এবং যুক্তরাষ্ট্রের একটি বিশ্ববিদ্যালয়ের সহকারী অধ্যাপক হিসেবে তাঁর পরিচয়ের কারণে ঘটনাটি নিয়ে প্রবাসী বাংলাদেশিদের মধ্যেও আলোচনা তৈরি হয়েছে।   এদিকে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রাণীটির পরিচয় সম্পর্কে বিভিন্ন দাবি ছড়িয়ে পড়লেও হিলসবরো কাউন্টি শেরিফের কার্যালয়ের প্রকাশিত গ্রেপ্তারসংক্রান্ত তথ্যে নির্দিষ্ট কোনো প্রাণীর নাম উল্লেখ করা হয়নি। ফলে ছাগলের সঙ্গে যৌন কর্মকাণ্ডের যে দাবি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে করা হচ্ছে, তা স্বাধীনভাবে নিশ্চিত হওয়া যায়নি।   তথ্যসূত্র: হিলসবরো কাউন্টি শেরিফের কার্যালয় (Hillsborough County Sheriff’s Office), ফ্লোরিডা।

রাজনীতি

View more
যুক্তরাষ্ট্রের ইতিহাসে প্রথম প্রকাশ্যে সমকামী পুরুষ সিনেটর নির্বাচিত ক্রিস পাপাস
যুক্তরাষ্ট্রের ইতিহাসে প্রথম প্রকাশ্যে সমকামী পুরুষ সিনেটর নির্বাচিত ক্রিস পাপাস

যুক্তরাষ্ট্রের ইতিহাসে প্রথম প্রকাশ্যে সমকামী পুরুষ হিসেবে সিনেটর নির্বাচিত হয়ে নতুন ইতিহাস গড়েছেন ডেমোক্রেটিক পার্টির ক্রিস পাপাস। মঙ্গলবার (৩ নভেম্বর) অনুষ্ঠিত মধ্যবর্তী নির্বাচনে নিউ হ্যাম্পশায়ার অঙ্গরাজ্য থেকে রিপাবলিকান প্রার্থী ও সাবেক সিনেটর জন ই. সুনুনুকে পরাজিত করেন তিনি। এই জয়ের মধ্য দিয়ে মার্কিন সিনেটে সমকামী জনগোষ্ঠীর প্রতিনিধিত্বের ক্ষেত্রে নতুন অধ্যায়ের সূচনা হলো।   বার্তা সংস্থা অ্যাসোসিয়েটেড প্রেস ও রয়টার্সের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ৪৬ বছর বয়সী পাপাসের জয়ের ফলে নিউ হ্যাম্পশায়ারের গুরুত্বপূর্ণ সিনেট আসনটি ডেমোক্রেটিক পার্টির নিয়ন্ত্রণেই থাকছে। দীর্ঘদিনের সিনেটর জিন শাহিন অবসরের সিদ্ধান্ত নেওয়ায় আসনটি শূন্য হচ্ছিল। রিপাবলিকানরা আসনটি পুনরুদ্ধারের চেষ্টা করলেও শেষ পর্যন্ত সফল হয়নি। নির্বাচনের ফল ঘোষণার পর নিউ হ্যাম্পশায়ারের ম্যানচেস্টারে সমর্থকদের উদ্দেশে বক্তব্য দেন পাপাস। তিনি বলেন, এই বিজয় ওয়াশিংটনের প্রচলিত রাজনৈতিক ব্যবস্থার বিরুদ্ধে নিউ হ্যাম্পশায়ারের মানুষের অবস্থানের প্রতিফলন। একই সঙ্গে দেশের অর্থনৈতিক পরিস্থিতি, হেলথ কেয়ারের ব্যয় এবং সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রার সংকট মোকাবিলায় পরিবর্তনের প্রয়োজনীয়তার কথা তুলে ধরেন তিনি।   বিজয়ী ভাষণে স্বামী ভ্যানের প্রতিও কৃতজ্ঞতা জানান পাপাস। তিনি বলেন, রাজনৈতিক প্রতিযোগিতার ফল যা-ই হোক, ভালোবাসার মানুষের সঙ্গে জীবন কাটাতে পারাকে তিনি নিজের সৌভাগ্য মনে করেন। তাঁর এই বক্তব্য উপস্থিত সমর্থকদের মধ্যে ব্যাপক সাড়া ফেলে। ক্রিস পাপাস ২০১৮ সালে প্রথমবার মার্কিন প্রতিনিধি পরিষদে নির্বাচিত হন। ২০১৯ সাল থেকে তিনি নিউ হ্যাম্পশায়ারের প্রথম কংগ্রেসনাল ডিস্ট্রিক্টের প্রতিনিধিত্ব করছেন। এর আগে অঙ্গরাজ্যের আইনসভা, হিলসবোরো কাউন্টির ট্রেজারার এবং নিউ হ্যাম্পশায়ার এক্সিকিউটিভ কাউন্সিলে দায়িত্ব পালন করেছেন। রাজনীতির পাশাপাশি পারিবারিক রেস্টুরেন্ট ব্যবসার সঙ্গেও তাঁর দীর্ঘদিনের সম্পৃক্ততা রয়েছে।   এবারের নির্বাচনে তাঁর প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বী জন সুনুনু ২০০৩ থেকে ২০০৯ সাল পর্যন্ত মার্কিন সিনেটে দায়িত্ব পালন করেছিলেন। ২০০৮ সালের নির্বাচনে জিন শাহিনের কাছে পরাজিত হন তিনি। দীর্ঘ বিরতির পর আবারও সিনেটে ফেরার চেষ্টা করলেও পাপাসের কাছে হেরে যান। ভোটগ্রহণ শেষ হওয়ার কিছুক্ষণের মধ্যেই পরাজয় স্বীকার করে পাপাসকে অভিনন্দন জানান সুনুনু। মার্কিন সিনেটে এর আগেও প্রকাশ্যে সমকামী নারী ও এলজিবিটিকিউ জনগোষ্ঠীর সদস্যরা দায়িত্ব পালন করেছেন। তাঁদের মধ্যে উইসকনসিনের সিনেটর ট্যামি বল্ডউইন অন্যতম। তবে প্রকাশ্যে সমকামী পুরুষ হিসেবে সিনেটে নির্বাচিত হওয়ার ঘটনা এটিই প্রথম।   নিউ হ্যাম্পশায়ারের এই নির্বাচন জাতীয় রাজনীতিতেও গুরুত্বপূর্ণ ছিল। সিনেটের নিয়ন্ত্রণ নিয়ে ডেমোক্রেটিক ও রিপাবলিকান পার্টির প্রতিদ্বন্দ্বিতার মধ্যে আসনটি ধরে রাখা ডেমোক্রেটিকদের জন্য বড় সাফল্য। আগামী জানুয়ারিতে নতুন কংগ্রেসের অধিবেশন শুরু হলে সিনেটর হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করবেন ক্রিস পাপাস। সূত্র: অ্যাসোসিয়েটেড প্রেস, রয়টার্স, নিউ হ্যাম্পশায়ার পাবলিক রেডিও, ডব্লিউএমইউআর।    

প্রকাশ: নভেম্বর ৪, ২০২৬ ০:৩৯
ডেমোক্র্যাটিক পার্টির প্রার্থী অ্যাডাম হ্যামিল্টন

৯৪ বছরের ইতিহাস বদলে কানসাসে রিপাবলিকান সিনেটরকে হারালেন ডেমোক্র্যাট প্রার্থী

যুক্তরাষ্ট্রের ইতিহাসে প্রথম কৃষ্ণাঙ্গ হাউস স্পিকার হওয়ার পথে রয়েছেন ডেমোক্র্যাটিক পার্টির নেতা হাকিম জেফরিস

যুক্তরাষ্ট্রের প্রথম কৃষ্ণাঙ্গ স্পিকার হওয়ার পথে হাকিম জেফরিস

বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত আবু মূসা

মিশিগানের হ্যামট্রাম্যাকে ভারপ্রাপ্ত মেয়র হিসেবে শপথ নিলেন বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত আবু মূসা

সিনেটের নিয়ন্ত্রণ নিয়ে অনিশ্চয়তা
যুক্তরাষ্ট্রের সাত গুরুত্বপূর্ণ স্টেইটে এগিয়ে ডেমোক্র্যাটরা, সিনেটের নিয়ন্ত্রণ নিয়ে অনিশ্চয়তা

যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী নির্বাচনের আগে সাতটি গুরুত্বপূর্ণ স্টেইটের সিনেট নির্বাচনে জনমত জরিপে এগিয়ে রয়েছেন ডেমোক্র্যাট প্রার্থীরা। নিউইয়র্ক টাইমস ও সিয়েনা ইউনিভার্সিটির সর্বশেষ জরিপে এমন চিত্র উঠে এসেছে। আগামীকাল ৩ নভেম্বরের ভোটের আগে এই ফলাফল রিপাবলিকানদের সিনেটের সংখ্যাগরিষ্ঠতা ধরে রাখার সম্ভাবনা নিয়ে নতুন আলোচনা তৈরি করেছে। তবে বেশ কয়েকটি স্টেইটে দুই দলের প্রার্থীদের সমর্থনের ব্যবধান খুবই কম। ফলে নির্বাচনের চূড়ান্ত ফল সম্পর্কে এখনই নিশ্চিত হওয়ার সুযোগ নেই।   রোববার, ১ নভেম্বর প্রকাশিত জরিপ অনুযায়ী, টেক্সাস, কানসাস, মেইন, ওহাইও ও আলাস্কায় রিপাবলিকানদের দখলে থাকা সিনেট আসনগুলোতে ডেমোক্র্যাট প্রার্থীরা এগিয়ে রয়েছেন। আইওয়াতেও ডেমোক্র্যাট প্রার্থী সামান্য ব্যবধানে এগিয়ে আছেন। অন্যদিকে ডেমোক্র্যাটদের দখলে থাকা মিশিগানের আসনে দলটির প্রার্থী তুলনামূলক বড় ব্যবধানে এগিয়ে রয়েছেন। সাতটি স্টেইটের এই প্রতিদ্বন্দ্বিতা সিনেটের পরবর্তী ক্ষমতার ভারসাম্য নির্ধারণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।   সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য ফল এসেছে টেক্সাস থেকে। সেখানে ডেমোক্র্যাট প্রার্থী জেমস তালারিকো ৫০ শতাংশ এবং রিপাবলিকান প্রার্থী কেন প্যাক্সটন ৪৩ শতাংশ সমর্থন পেয়েছেন। অর্থাৎ সাত শতাংশ পয়েন্টে এগিয়ে রয়েছেন তালারিকো। টেক্সাস দীর্ঘদিন ধরে রিপাবলিকানদের শক্ত ঘাঁটি হিসেবে পরিচিত। ১৯৮৮ সালের পর এই স্টেইট থেকে কোনো ডেমোক্র্যাট প্রার্থী যুক্তরাষ্ট্রের সিনেটে নির্বাচিত হননি। ফলে সেখানে ডেমোক্র্যাট প্রার্থীর এগিয়ে থাকার বিষয়টি বিশেষ গুরুত্ব পেয়েছে।   কানসাসেও রিপাবলিকানদের জন্য প্রতিদ্বন্দ্বিতা কঠিন হয়ে উঠেছে। জরিপে ডেমোক্র্যাট প্রার্থী অ্যাডাম হ্যামিল্টন পেয়েছেন ৪৯ শতাংশ সমর্থন। বর্তমান রিপাবলিকান সিনেটর রজার মার্শাল পেয়েছেন ৪৪ শতাংশ। কানসাস থেকে সর্বশেষ ডেমোক্র্যাট সিনেটর নির্বাচিত হয়েছিলেন ১৯৩২ সালে। ফলে দীর্ঘদিনের রাজনৈতিক অবস্থানের তুলনায় এবারের জরিপে ভিন্ন চিত্র দেখা যাচ্ছে।   ওহাইওতে সাবেক ডেমোক্র্যাট সিনেটর শেরড ব্রাউন ৪৯ শতাংশ সমর্থন নিয়ে রিপাবলিকান সিনেটর জন হাস্টেডের চেয়ে পাঁচ শতাংশ পয়েন্টে এগিয়ে রয়েছেন। মেইনে ডেমোক্র্যাট প্রার্থী ট্রয় জ্যাকসন পেয়েছেন ৫১ শতাংশ এবং বর্তমান রিপাবলিকান সিনেটর সুসান কলিন্স পেয়েছেন ৪৫ শতাংশ সমর্থন। দুই স্টেইটেই নির্বাচনী প্রতিদ্বন্দ্বিতা সিনেটের সংখ্যাগরিষ্ঠতার হিসাবের জন্য গুরুত্বপূর্ণ।   আলাস্কায় ডেমোক্র্যাট প্রার্থী মেরি পেলটোলা ৪৮ শতাংশ এবং বর্তমান রিপাবলিকান সিনেটর ড্যান সুলিভান ৪৬ শতাংশ সমর্থন পেয়েছেন। আইওয়ায় ডেমোক্র্যাট প্রার্থী জশ টুরেক রিপাবলিকান অ্যাশলি হিনসনের চেয়ে মাত্র এক শতাংশ পয়েন্টে এগিয়ে রয়েছেন। অন্যদিকে মিশিগানে ডেমোক্র্যাট আবদুল এল-সাঈদ রিপাবলিকান মাইক রজার্সের চেয়ে ১১ শতাংশ পয়েন্টে এগিয়ে আছেন।   জরিপে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রতি ভোটারদের সমর্থন এবং অর্থনৈতিক পরিস্থিতি নিয়েও মতামত নেওয়া হয়েছে। জীবনযাত্রার ব্যয়, অর্থনীতি ও রাজনৈতিক নেতৃত্বের বিষয়ে ভোটারদের অবস্থান নির্বাচনী প্রতিদ্বন্দ্বিতায় গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। বিশেষ করে স্বতন্ত্র ভোটারদের সমর্থন কোন দিকে যাচ্ছে, তা দুই দলের প্রার্থীদের জন্য গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হিসেবে দেখা হচ্ছে।   বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্রের ১০০ সদস্যের সিনেটে রিপাবলিকানদের ৫৩টি আসন রয়েছে। ডেমোক্র্যাট এবং তাঁদের সঙ্গে থাকা স্বতন্ত্র সদস্যদের আসনসংখ্যা ৪৭। সিনেটের নিয়ন্ত্রণ পেতে ডেমোক্র্যাটদের নিজেদের আসন ধরে রাখার পাশাপাশি রিপাবলিকানদের কাছ থেকে অন্তত চারটি আসন জিততে হবে। কারণ দুই দলের আসনসংখ্যা ৫০টি করে হলে ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স নির্ণায়ক ভোট দিতে পারবেন।   নিউইয়র্ক টাইমস ও সিয়েনা ইউনিভার্সিটির জরিপগুলো ২৩ অক্টোবর থেকে ১ নভেম্বরের মধ্যে পরিচালিত হয়েছে। সাতটি স্টেইটে মোট ৫ হাজার ৭০৮ জন সম্ভাব্য ভোটারের মতামত নেওয়া হয়েছে। স্টেইটভেদে জরিপের ত্রুটিসীমা ভিন্ন। মিশিগান ও টেক্সাসে ডেমোক্র্যাট প্রার্থীদের এগিয়ে থাকার ব্যবধান তুলনামূলক বেশি হলেও অন্য পাঁচটি স্টেইটে ফল পরিসংখ্যানগতভাবে খুব কাছাকাছি।   সিয়েনা রিসার্চ ইনস্টিটিউটের নির্বাহী পরিচালক ডন লেভি জানিয়েছেন, জরিপ অনুযায়ী ডেমোক্র্যাটদের সিনেটের সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জনের সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। তবে প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ আসনগুলোর ব্যবধান বিবেচনায় উভয় দলেরই সংখ্যাগরিষ্ঠতা পাওয়ার সুযোগ রয়েছে। শেষ পর্যন্ত ভোটারদের উপস্থিতি ও প্রকৃত ভোটের ফলই নির্ধারণ করবে সিনেটের নিয়ন্ত্রণ কার হাতে থাকবে।   আগামীকাল মঙ্গলবার, ৩ নভেম্বর যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী নির্বাচনে ভোট দেবেন মার্কিন নাগরিকেরা। এই নির্বাচনে প্রতিনিধি পরিষদের সব আসনের পাশাপাশি সিনেটের ৩৫টি আসনে ভোট অনুষ্ঠিত হবে। নির্বাচনের ফলের ওপর নির্ভর করবে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের মেয়াদের বাকি দুই বছরে কংগ্রেসে রিপাবলিকান ও ডেমোক্র্যাটদের ক্ষমতার ভারসাম্য।

প্রকাশ: নভেম্বর ২, ২০২৬ ১৮:৮
৫ বিলিয়ন ডলারের সহায়তা পাচ্ছেন কৃষকরা, প্রতিশ্রুতি ট্রাম্পের

যুক্তরাষ্ট্রের নির্বাচনের আগেই ১৫ বিলিয়ন ডলারের সহায়তা পাচ্ছেন কৃষকরা, প্রতিশ্রুতি ট্রাম্পের

আবদুল এল-সায়েদ ও প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প

আবদুল এল-সায়েদকে ভোট দিলে আপনারা ‘পাগল’, কৃষ্ণাঙ্গ ও ইহুদিদের সতর্ক বললেন ট্রাম্প

আবদুল এল-সায়েদকে ভোট দিলে আপনারা ‘পাগল’, কৃষ্ণাঙ্গ ও ইহুদিদের সতর্ক বললেন ট্রাম্প

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ও মডেল বিয়াট্রিস কিউল
‘আমি তোমার যত্ন নেব’ বলে ধর্ষণের অভিযোগ ট্রাম্পের বিরুদ্ধে

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের বিরুদ্ধে ধর্ষণের গুরুতর অভিযোগ তুলেছেন সাবেক সুইস সুন্দরী ও মডেল বিয়াট্রিস কিউল। তাঁর দাবি, যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা এবং নিউইয়র্ক ইউনিভার্সিটিতে ভর্তির ব্যবস্থা করে দেওয়ার আশ্বাস দিয়ে ১৯৯৩ সালের নভেম্বরে নিউইয়র্কের প্লাজা হোটেলে তাঁকে ধর্ষণ করেন ট্রাম্প। মার্কিন কংগ্রেসের প্রতিনিধি পরিষদের বিচারবিষয়ক কমিটির ডেমোক্র্যাট সদস্যদের প্রকাশিত তদন্ত প্রতিবেদনে এই অভিযোগ উঠে এসেছে। তবে হোয়াইট হাউস অভিযোগটি সম্পূর্ণ অস্বীকার করেছে। এ ঘটনায় ট্রাম্পের বিরুদ্ধে ফৌজদারি অভিযোগ আনা হয়নি। সোমবার (২৬ অক্টোবর) প্রকাশিত প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ঘটনার সময় কিউলের বয়স ছিল ২৪ বছর। তিনি সুইজারল্যান্ডে মডেলিংয়ের পাশাপাশি আর্থিক খাতে কাজ করতেন। ১৯৯৩ সালে ট্রাম্পের আয়োজিত একটি সুন্দরী প্রতিযোগিতায় অংশ নিতে নিউইয়র্কে যান তিনি। সেখানেই ট্রাম্প ও পরবর্তী সময়ে যৌন অপরাধে অভিযুক্ত জেফরি এপস্টাইনের সঙ্গে তাঁর পরিচয় হয়।   কিউলের বর্ণনা অনুযায়ী, প্লাজা হোটেলে এক অনুষ্ঠানে ট্রাম্প তাঁকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা এবং নিউইয়র্ক ইউনিভার্সিটিতে পড়াশোনার সুযোগ করে দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দেন। এ সময় তিনি আশ্বাস দিয়ে বলেন, ‘আমি তোমার যত্ন নেব।’ এরপর ট্রাম্পের একজন প্রতিনিধি তাঁকে হোটেলের ওপরের তলায় একটি কক্ষে নিয়ে যান। কিউলের অভিযোগ, সেখানে প্রবেশের পর ট্রাম্প তাঁকে জোরপূর্বক যৌন নির্যাতন করেন। কংগ্রেসের ডেমোক্র্যাট সদস্যদের তদন্ত প্রতিবেদনে কিউলের বক্তব্য তুলে ধরে বলা হয়েছে, ওই ঘটনায় তিনি শারীরিকভাবে আহত হন। তাঁর অভিযোগ অনুযায়ী, ঘটনার পর ট্রাম্প আবারও ভিসা ও বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তির প্রতিশ্রুতি দেন। একই সঙ্গে বিষয়টি গোপন রাখতে বলে মন্তব্য করেন, ‘শো চলতেই হবে।’ কিউল জানান, এই অভিজ্ঞতার পর আতঙ্কিত অবস্থায় প্রতিযোগিতা শেষ করে সুইজারল্যান্ডে ফিরে যান তিনি।   এর আগে ২০২৪ সালের অক্টোবরে ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম ডেইলি মেইলকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ট্রাম্পের বিরুদ্ধে অনাকাঙ্ক্ষিত শারীরিক স্পর্শ ও যৌন হয়রানির অভিযোগ করেছিলেন কিউল। তবে তখন তিনি জানিয়েছিলেন, প্রতিবাদ করে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে পেরেছিলেন। নতুন সাক্ষাৎকারে তিনি ধর্ষণের অভিযোগ তুলেছেন। আগের ও বর্তমান বর্ণনার এই গুরুত্বপূর্ণ পার্থক্য নিয়ে প্রশ্ন রয়েছে। নতুন প্রতিবেদনে তাঁর বিস্তারিত বক্তব্য তুলে ধরা হলেও অভিযোগটি আদালতে প্রমাণিত হয়নি।   সোমবার মার্কিন প্রতিনিধি পরিষদের বিচারবিষয়ক কমিটির শীর্ষ ডেমোক্র্যাট সদস্য জেমি রাসকিন নতুন তদন্ত প্রতিবেদন প্রকাশ করেন। প্রতিবেদনে ট্রাম্প ও জেফরি এপস্টাইনের সম্পর্ক এবং বিভিন্ন নারীর যৌন নির্যাতনের অভিযোগ পর্যালোচনা করা হয়েছে। ডেমোক্র্যাট সদস্যদের দাবি, অন্তত পাঁচজন নারী এপস্টাইনের উপস্থিতিতে বা তাঁর ঘনিষ্ঠ সংশ্লিষ্টতার প্রেক্ষাপটে ট্রাম্পের বিরুদ্ধে ধর্ষণ কিংবা যৌন নির্যাতনের অভিযোগ করেছেন। আরও কয়েকজন নারীকে ট্রাম্পের কাছে নিয়ে যাওয়ার চেষ্টার অভিযোগও প্রতিবেদনে রয়েছে। অন্যদিকে হোয়াইট হাউসের মুখপাত্র লরেন বিস অভিযোগগুলো প্রত্যাখ্যান করেছেন। তাঁর দাবি, প্রতিবেদনে উত্থাপিত কোনো অভিযোগই সত্য নয়। হোয়াইট হাউস এটিকে মধ্যবর্তী নির্বাচনের আগে রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত প্রচেষ্টা হিসেবে বর্ণনা করেছে। প্রশাসনের বক্তব্য, জেফরি এপস্টাইনের অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডের সঙ্গে ট্রাম্পের সংশ্লিষ্টতার অভিযোগ ভিত্তিহীন। তবে এই প্রত্যাখ্যানের মাধ্যমে অভিযোগগুলোর স্বাধীন তদন্ত বা বিচারিক নিষ্পত্তি হয়েছে, এমন নয়।   ট্রাম্পের বিরুদ্ধে এর আগেও বিভিন্ন সময় যৌন অসদাচরণের অভিযোগ উঠেছে। ২০২৩ সালে লেখক ই. জিন ক্যারলের করা পৃথক দেওয়ানি মামলায় নিউইয়র্কের একটি ফেডারেল জুরি ট্রাম্পকে যৌন নির্যাতন ও মানহানির জন্য দায়ী করেন। তবে সেই দেওয়ানি রায় এবং বিয়াট্রিস কিউলের নতুন ধর্ষণের অভিযোগ সম্পূর্ণ পৃথক ঘটনা। ক্যারলের মামলার সিদ্ধান্ত দিয়ে কিউলের অভিযোগ প্রমাণিত হয়েছে বলে ধরে নেওয়ার সুযোগ নেই। আগামী ৩ নভেম্বর যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী কংগ্রেস নির্বাচনের আগে প্রকাশিত এই প্রতিবেদন নতুন রাজনৈতিক বিতর্ক তৈরি করেছে। ডেমোক্র্যাট আইনপ্রণেতারা এপস্টাইন-সংশ্লিষ্ট অপরাধের অভিযোগ নিয়ে স্বাধীন তদন্ত এবং পূর্ণাঙ্গ নথি প্রকাশের দাবি জানিয়েছেন। অন্যদিকে ট্রাম্প প্রশাসন অভিযোগগুলোকে রাজনৈতিক আক্রমণ হিসেবে প্রত্যাখ্যান করছে। কিউলের অভিযোগ নিয়ে ভবিষ্যতে আনুষ্ঠানিক তদন্ত বা বিচারিক প্রক্রিয়া শুরু হবে কি না, তা এখনো নিশ্চিত নয়।   SOURCE মার্কিন প্রতিনিধি পরিষদের বিচারবিষয়ক কমিটির ডেমোক্র্যাট সদস্যদের তদন্ত প্রতিবেদন, ২৬ অক্টোবর ২০২৬; পিপল ম্যাগাজিন, ২৬ অক্টোবর ২০২৬; দ্য টেলিগ্রাফ, ২৬ অক্টোবর ২০২৬; দ্য ইনডিপেনডেন্টের পূর্ববর্তী প্রতিবেদন।  

প্রকাশ: অক্টোবর ২৭, ২০২৬ ৫:১৪
ডোনাল্ড ট্রাম্পের সঙ্গে মঞ্চে হাজির হয়েছেন জনপ্রিয় র‍্যাপার নিকি মিনাজ

‘নিকি মিনাজকে এত সুন্দর আগে লাগেনি’ বললেন ট্রাম্প, রিপাবলিকানদের প্রচারে র‍্যাপার

হলিউড অভিনেতা ম্যাথিউ ম্যাককনাহে

২০২৮ সালে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে লড়ার ইঙ্গিত দিলেন হলিউড অভিনেতা ম্যাথিউ ম্যাককনাহে

কারাগারে ফিলিস্তিনি নারীদের বল প্রয়োগ করে হিজাব খুলতে বাধ্য করছে ইসরাইলি বাহিনী

কারাগারে ফিলিস্তিনি নারীদের বল প্রয়োগ করে হিজাব খুলতে বাধ্য করছে ইসরাইলি বাহিনী

0 Comments