১৫ বছর বয়সে পিতৃহারা হওয়া, ওয়ান–ইলেভেনের সময় কারাবরণ ও নির্মম নির্যাতন, পঙ্গুত্বের দ্বারপ্রান্তে পৌঁছানো এবং দীর্ঘ ১৭ বছরের নির্বাসিত জীবন—সব মিলিয়ে তারেক রহমানের জীবন যেন এক হার না মানা মহাকাব্য। বাবা শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান এবং মা তিনবারের সফল প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার উত্তরসূরি হয়েও রাজনীতিতে তার পথচলা ছিল কণ্টকাকীর্ণ ও সংগ্রামে ভরা।
রাজনীতিতে তারেক রহমানের পদার্পণ রাজকীয় হওয়ার কথা থাকলেও বাস্তবে তা ছিল রক্ত, ঘাম ও অশ্রুর ইতিহাস। শৈশব থেকেই তিনি প্রত্যক্ষ করেছেন রাষ্ট্র পরিচালনার জটিলতা ও সংকট। তবে পারিবারিক পরিচয়ের আড়ালে নিজেকে সীমাবদ্ধ রাখেননি। নব্বইয়ের দশকের শুরুতে বগুড়া থেকে তৃণমূল রাজনীতির মাধ্যমে তার যাত্রা শুরু হয়। ২০০২ সালে বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণের পর ‘তৃণমূল সম্মেলন’-এর মাধ্যমে দল পুনর্গঠনে তিনি নতুন প্রাণসঞ্চার করেন।
২০০৭ সালের ১/১১-এর রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর তার জীবনে নামে ভয়াবহ দুর্যোগ। কারাবরণকালে অমানবিক নির্যাতনের শিকার হয়ে তিনি মারাত্মকভাবে অসুস্থ হয়ে পড়েন, যা তাকে পঙ্গুত্বের কাছাকাছি নিয়ে যায়। উন্নত চিকিৎসার জন্য লন্ডনে গমন করলেও শুরু হয় দীর্ঘ নির্বাসিত জীবন—যার স্থায়িত্ব দাঁড়ায় প্রায় ১৭ বছর। এই সময়ে তিনি হারান তার প্রিয় ছোট ভাই আরাফাত রহমান কোকোকে—যা তার জীবনে গভীর শোকের ছাপ ফেলে।
মামলা, দণ্ড, দেশে ফেরার অনিশ্চয়তা এবং রাজনৈতিক ষড়যন্ত্রের ঘেরাটোপে থেকেও তিনি রাজনীতি থেকে বিচ্ছিন্ন হননি। প্রবাসে থেকেও দল পরিচালনা, আন্দোলনের কৌশল নির্ধারণ এবং ভবিষ্যৎ রাষ্ট্র সংস্কারের রূপরেখা প্রণয়নে তিনি ছিলেন সক্রিয়।
দীর্ঘ ১৭ বছরের নির্বাসনের অবসান ঘটে ২০২৫ সালের ২৫ ডিসেম্বর। সেদিন রাজধানীর রাজপথে লাখো মানুষের বাঁধভাঙা ঢল প্রমাণ করে দেয়—তারেক রহমান কেবল একজন রাজনৈতিক নেতা নন, তিনি গণমানুষের আবেগ ও প্রত্যাশার প্রতীক। কিন্তু সেই আনন্দের রেশ কাটতে না কাটতেই নেমে আসে গভীর শোক। দেশে ফেরার মাত্র পাঁচ দিনের মাথায় তিনি হারান মমতাময়ী মা বেগম খালেদা জিয়াকে। ব্যক্তিগত শোককে শক্তিতে রূপান্তর করে তিনি দল পুনর্গঠন, জোট সম্প্রসারণ এবং রাষ্ট্র সংস্কারের সুদূরপ্রসারী পরিকল্পনায় আত্মনিয়োগ করেন।
গণতন্ত্র পুনঃপ্রতিষ্ঠা, বিচার বিভাগের স্বাধীনতা, অর্থনৈতিক পুনরুদ্ধার এবং রাষ্ট্র কাঠামোর সংস্কারের অঙ্গীকার নিয়ে বিএনপি ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে অবতীর্ণ হয়। জনগণের বিপুল সমর্থনে বিএনপি জোট ২৯৭ আসনের মধ্যে ২১২টি আসনে বিজয়ী হয়ে নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জন করে।
এই ঐতিহাসিক সাফল্যের মধ্য দিয়ে তারেক রহমান নির্বাচিত হন সংসদ নেতা এবং দায়িত্ব নেন বাংলাদেশের ১১তম প্রধানমন্ত্রী হিসেবে।
কৈশোরে পিতৃহারা, যৌবনে কারাবাস আর মধ্যবয়সে দীর্ঘ নির্বাসন—জীবনের প্রতিটি অধ্যায় ছিল সংগ্রামের। অথচ সেই মানুষটির কাঁধেই আজ রাষ্ট্র পরিচালনার গুরুদায়িত্ব।
যার রাজনৈতিক জীবনের শেষ দেখে ফেলেছিলেন অনেকে—আজ তার কাঁধেই সওয়ার বাংলাদেশের ভবিষ্যৎ।
এপস্টেইন ফাইল: দাবি, বাইডেনকে ২০১৯ সালে হত্যা করে ক্লোন দ্বারা প্রতিস্থাপন করা হয়েছে জেফরি এপস্টেইনের ফাইল ট্রান্সপারেন্সি অ্যাক্টের সাথে যুক্ত সম্প্রতি প্রকাশিত একটি নথি ত্রাঞ্চে অভিযোগ করা হয়েছে যে, প্রাক্তন মার্কিন প্রেসিডেন্ট জো বাইডেনকে ২০১৯ সালে হত্যা করা হয়েছে এবং তাকে একটি ক্লোন দ্বারা প্রতিস্থাপন করা হয়েছে। এই নথিগুলি, যা আনক্লাসিফায়েড ডিপার্টমেন্ট অব জাস্টিস (DOJ) রেকর্ডের একটি বিশাল ডেটা রিলিজের অংশ, “চার্লস” নামে একজনের ক্ষুব্ধ ইমেইল অন্তর্ভুক্ত করেছে এবং অন্তর্বর্তী ফাইলিং কোড EFTA00173266 থেকে EFTA00173273 পর্যন্ত চিহ্নিত। এই ইমেইলগুলো তৃতীয় পক্ষের যোগাযোগের মধ্যে পাওয়া গেছে, যা জেফরি এপস্টেইনের নেটওয়ার্ক সংক্রান্ত বিস্তৃত ফেডারেল তদন্তের সময় সংগ্রহ করা হয়েছিল। এপস্টেইন সম্পর্কিত অন্যান্য প্রকাশনার মতো এখানে রাজনৈতিক ও ব্যবসায়িক ব্যক্তিদের সঙ্গে সম্পর্কের তথ্য নয়, বরং চরম ও ষড়যন্ত্রমূলক দাবিগুলো রয়েছে। ক্লোন তত্ত্বের উল্লেখ “চার্লস” ইমেইলগুলো এপ্রিল ২০২১-এ একজন এফবিআই এজেন্টকে ফরোয়ার্ড করা হয়েছিল, যাকে লাল করা প্রেরক হিসেবে দেখানো হয়েছে। প্রেরক দাবি করেছিলেন যে এটি একটি প্রযুক্তি সংস্থার এক ক্ষুব্ধ প্রাক্তন কর্মচারী বা সহযোগীর মেসেজ। ইমেইলগুলিতে গালাগালি ভাষা ব্যবহৃত হয়েছে এবং এখানে “কোয়ান্টাম” প্রযুক্তি, গোপন সামরিক ট্রাইব্যুনাল, এবং “বাইডেন আপনার বর্তমান প্রেসিডেন্ট নন” এমন দাবির উল্লেখ রয়েছে। একটি অনুচ্ছেদে বলা হয়েছে যে “বাস্তব” জো বাইডেনকে ২০১৯ সালে নির্বিচারে হত্যা করা হয়েছে এবং তাকে একজন অভিনেতা বা ক্লোন দ্বারা প্রতিস্থাপন করা হয়েছে, যেখানে প্রমাণ হিসেবে “মাস্কের ত্রুটি” দেখানো হয়েছে। তবে এই দাবিগুলোর সঙ্গে কোনো শারীরিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি বা সঙ্গত সাক্ষ্য নেই। “বাইডেন ক্লোন” দাবি অনলাইনে ষড়যন্ত্র তত্ত্বের একটি পরিচিত অংশ। তত্ত্বটি সাধারণত ধরে যে “বাস্তব” জো বাইডেনকে গোপনে জনমঞ্চ থেকে সরিয়ে দেওয়া হয়েছে, প্রায়শই ২০১৯ বা ২০২০ সালে, এবং তাকে চেহারা মিলানো লোক বা ক্লোন দিয়ে প্রতিস্থাপন করা হয়েছে। অনুগামীরা প্রায়শই নিম্নমানের ভিডিও এবং ফটোগ্রাফ বিশ্লেষণ করে, চেহারার পরিবর্তন যেমন আলোর পরিবর্তন, বয়সের প্রভাব বা ক্যামেরার ত্রুটিকে কৃত্রিমভাবে আড়াল করার প্রমাণ হিসেবে দেখান। এ পর্যন্ত কোনো যাচাইযোগ্য প্রমাণ নেই যে প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন কখনো ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন বা প্রতিস্থাপিত হয়েছেন। এই দাবিগুলি সম্পূর্ণভাবে একটি ষড়যন্ত্র তত্ত্ব হিসেবে রয়ে গেছে। সূত্র: Royanews
দাম বাড়ানোর ১২ ঘণ্টারও কম সময়ের ব্যবধানে দেশের বাজারে আবারও স্বর্ণের দাম কমিয়েছে বাংলাদেশ জুয়েলার্স অ্যাসোসিয়েশন (বাজুস)। ভরিতে এক লাফে ৩ হাজার ২৬৬ টাকা কমিয়ে ২২ ক্যারেটের প্রতি ভরি স্বর্ণের নতুন দাম নির্ধারণ করা হয়েছে ২ লাখ ৫৮ হাজার ৮২৪ টাকা। শনিবার (৭ ফেব্রুয়ারি) রাতে বাজুসের এক বিজ্ঞপ্তিতে দাম কমানোর বিষয়টি জানানো হয়েছে। নতুন দাম রোববার (৮ ফেব্রুয়ারি) থেকেই কার্যকর হবে। এর আগে একই দিন সকালে দেশের বাজারে স্বর্ণের দাম বাড়ানো হয়। ওই সময় ভরিপ্রতি এক লাফে ৭ হাজার ৬৪০ টাকা বাড়িয়ে ২২ ক্যারেটের এক ভরি স্বর্ণের দাম নির্ধারণ করা হয়েছিল ২ লাখ ৬২ হাজার ৯০ টাকা। নতুন দাম অনুযায়ী, বর্তমানে দেশের বাজারে ২২ ক্যারেটের প্রতি ভরি (১১.৬৬৪ গ্রাম) স্বর্ণের দাম পড়বে ২ লাখ ৫৮ হাজার ৮২৪ টাকা। পাশাপাশি ২১ ক্যারেটের প্রতি ভরি ২ লাখ ৪৭ হাজার ৪৪ টাকা, ১৮ ক্যারেটের প্রতি ভরি ২ লাখ ১১ হাজার ৭৬০ টাকা এবং সনাতন পদ্ধতির প্রতি ভরি স্বর্ণের দাম পড়বে ১ লাখ ৭৩ হাজার ৩২৭ টাকা। এ নিয়ে চলতি বছর দেশের বাজারে মোট ২৭ বার স্বর্ণের দাম সমন্বয় করলো বাজুস। এরমধ্যে ১৭ বারই দাম বাড়ানো হয়েছে। আর দাম কমেছে মাত্র ১০ বার। অন্যদিকে গতবছর দেশের বাজারে মোট ৯৩ বার স্বর্ণের দাম সমন্বয় করা হয়েছিল। যেখানে ৬৪ বারই দাম বাড়ানো হয়েছিল। এছাড়া ২০২৫ সালে ২৯ বার কমানো হয়েছিল স্বর্ণের দাম।
যুক্তরাষ্ট্রে অভিবাসন নীতিতে কঠোরতা আরও স্পষ্ট হচ্ছে। সর্বশেষ মেইন (Maine) অঙ্গরাজ্যে ফেডারেল ইমিগ্রেশন অভিযান শুরুর ঘোষণা দিয়েছে Department of Homeland Security (ডিএইচএস)। ডিএইচএসের এক মুখপাত্রের বরাতে জানা গেছে, “Operation Catch of the Day” নামে এই বিশেষ অভিযানের মাধ্যমে রাজ্যটিতে অবস্থানরত অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে জড়িত অবৈধ অভিবাসীদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তার করা হবে। অভিযানটি পরিচালনায় ফেডারেল ইমিগ্রেশন কর্মকর্তাদের পাশাপাশি স্থানীয় আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সমন্বয় রয়েছে। কর্তৃপক্ষ বলছে, এই উদ্যোগের প্রধান লক্ষ্য জননিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং সহিংস বা গুরুতর অপরাধে যুক্ত ব্যক্তিদের আইনের আওতায় আনা। ডিএইচএস আরও জানায়, আইন মেনে বসবাসকারী বা অপরাধে জড়িত নন—এমন অভিবাসীদের লক্ষ্যবস্তু করা হবে না। তবে মানবাধিকার ও অভিবাসী অধিকার সংগঠনগুলোর আশঙ্কা, এ ধরনের অভিযানে ভয় ও অনিশ্চয়তা তৈরি হতে পারে এবং নিরপরাধ মানুষও হয়রানির শিকার হতে পারেন। এ নিয়ে তারা স্বচ্ছতা ও যথাযথ আইনি প্রক্রিয়া অনুসরণের আহ্বান জানিয়েছে। বিশ্লেষকদের মতে, মেইনে এই অভিযান শুরুর মাধ্যমে ফেডারেল সরকারের অভিবাসন আইন প্রয়োগ আরও বিস্তৃত পরিসরে জোরদার হলো। এর প্রভাব স্থানীয় অভিবাসী কমিউনিটির পাশাপাশি রাজ্যের রাজনৈতিক ও সামাজিক পরিমণ্ডলেও পড়তে পারে। সূত্র: ABC News
যুক্তরাষ্ট্রের শ্রমবাজারে তীব্র কর্মী সংকট মোকাবিলায় ২০২৬ অর্থবছরে বড় ধরনের পদক্ষেপ নিয়েছে ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রশাসন। নিয়মিত কোটার বাইরে অতিরিক্ত প্রায় ৬৪ হাজার ৭১৬টি এইচ-২বি মৌসুমি অতিথি শ্রমিক ভিসা দেওয়ার চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। রয়টার্সের বরাতে জানা গেছে, স্থানীয় সময় শুক্রবার (৩০ জানুয়ারি) প্রকাশিত ফেডারেল রেজিস্টার নোটিশে বলা হয়, দেশীয় শ্রমিকের ঘাটতির কারণে যেসব মার্কিন নিয়োগকর্তা বড় ধরনের আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়ছেন, মূলত তাদের স্বার্থ বিবেচনায় নিয়েই এই অতিরিক্ত ভিসার অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। ফলে বছরে নির্ধারিত ৬৬ হাজার এইচ-২বি ভিসার সংখ্যা প্রায় দ্বিগুণে পৌঁছাতে যাচ্ছে। নতুন এই সিদ্ধান্তে নির্মাণ শিল্প, হোটেল ও রেস্তোরাঁ, ল্যান্ডস্কেপিং এবং সি-ফুড প্রক্রিয়াজাতকরণ খাতের মতো শ্রমনির্ভর মৌসুমি শিল্পগুলো সবচেয়ে বেশি উপকৃত হবে বলে মনে করা হচ্ছে। এসব খাতে দীর্ঘদিন ধরেই দক্ষ স্থানীয় কর্মীর অভাবে বিদেশি শ্রমিক আনার দাবি জানিয়ে আসছিলেন নিয়োগকর্তারা। ক্ষমতায় আসার পর ট্রাম্প প্রশাসন অবৈধ অভিবাসনের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান নিলেও, বৈধ পথে কর্মসংস্থানের সুযোগ বাড়িয়ে অর্থনীতিকে সচল রাখতে এই নমনীয় সিদ্ধান্ত নিয়েছে। এর আগেও সাবেক প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন প্রশাসনের সময় শ্রমঘাটতি মোকাবিলায় এইচ-২বি ভিসার সংখ্যা বাড়ানো হয়েছিল। তবে সরকারের এই সিদ্ধান্তের বিরোধিতাও রয়েছে। অভিবাসন কমানোর পক্ষে থাকা বিভিন্ন গোষ্ঠীর আশঙ্কা, বিপুল সংখ্যক বিদেশি শ্রমিক প্রবেশ করলে মার্কিন নাগরিকদের মজুরি কমে যেতে পারে। এ বিষয়ে পেন্টাগন ও শ্রম মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, দেশের উন্নয়ন প্রকল্প এবং পর্যটন খাত সচল রাখতে এই মুহূর্তে বিদেশি শ্রমিকের বিকল্প নেই। ফেডারেল রেজিস্টারের তথ্যানুযায়ী, অতিরিক্ত এইচ-২বি ভিসা কার্যকরের বিশেষ বিধিমালা আগামী মঙ্গলবার আনুষ্ঠানিকভাবে প্রকাশ করা হবে এবং এরপরই আবেদন প্রক্রিয়া শুরু হবে। সূত্র: দ্য ফিন্যান্সিয়াল এক্সপ্রেস
ঢাকা: দেশের সম্ভাব্য নতুন সরকার গঠনকে সামনে রেখে প্রস্তাবিত মন্ত্রিসভার কাঠামো সংবলিত একটি আনুষ্ঠানিক কমিউনিক্যে প্রকাশিত হয়েছে। এতে রাষ্ট্র পরিচালনার বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ মন্ত্রণালয় ও দপ্তরের দায়িত্ব বণ্টনের একটি খসড়া তালিকা তুলে ধরা হয়েছে। কমিউনিক্যে বলা হয়েছে, এটি সরকারি নথি ও আনুষ্ঠানিক রেফারেন্সের উদ্দেশ্যে প্রস্তুত করা একটি প্রস্তাবিত কাঠামো, যেখানে প্রতিষ্ঠিত সরকারি প্রোটোকল অনুযায়ী সম্ভাব্য নিয়োগ ও দায়িত্ব বণ্টনের বিষয়গুলো উল্লেখ রয়েছে। প্রস্তাবিত দায়িত্ব বণ্টন অনুযায়ী— • রাষ্ট্রপতি: ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন • জাতীয় সংসদের স্পিকার: অ্যাডভোকেট জয়নুল আবেদীন / নিতাই রায় চৌধুরী • প্রধানমন্ত্রী ও প্রতিরক্ষামন্ত্রী: তারেক রহমান • স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রী: মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর • স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী: সালাহউদ্দিন আহমেদ প্রতিমন্ত্রী: শহীদ উদ্দিন চৌধুরী (অ্যানি) • পররাষ্ট্রমন্ত্রী: আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী, প্রতিমন্ত্রী: ড. হুমায়ুন কবির • অর্থমন্ত্রী: ড. এ. বি. মির্জা আজিজুল ইসলাম / ড. রেজা কিবরিয়া (তালিকায় উল্লেখিত অনুযায়ী) • শিক্ষামন্ত্রী: আনাম এহসানুল হক মিলন, প্রতিমন্ত্রী: সাঈদ আল নোমান • আইন, বিচার ও সংসদবিষয়ক মন্ত্রী: মো. আসাদুজ্জামান • তথ্যমন্ত্রী: আন্দালিব রহমান পার্থ, প্রতিমন্ত্রী: ড. মাহদি আমিন • পরিকল্পনামন্ত্রী: ড. আব্দুল মঈন খান • বাণিজ্যমন্ত্রী: আব্দুল মুক্তাদির • শিল্পমন্ত্রী: আব্দুল আউয়াল মিন্টু • নৌপরিবহন মন্ত্রী: মেজর (অব.) হাফিজ উদ্দিন আহমেদ • শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রী: নজরুল ইসলাম খান • পানি সম্পদ মন্ত্রী: আসাদুল হাবিব দুলু • মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রী: ফজলুর রহমান • সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী: আমানউল্লাহ আমান • সংস্কৃতিবিষয়ক মন্ত্রী: জোনায়েদ সাকি • স্বাস্থ্য ও পরিবারকল্যাণ মন্ত্রী: ড. এ. জেড. এম. জাহিদ হোসেন • যুব ও ক্রীড়ামন্ত্রী: আলী আজগর লবি • ধর্মবিষয়ক মন্ত্রী: শামীম কায়সার লিংকন • বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রী: আলতাফ হোসেন চৌধুরী • বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রী: ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু • কৃষিমন্ত্রী: শামসুজ্জামান দুদু • গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রী: মির্জা আব্বাস • ডাক ও টেলিযোগাযোগ মন্ত্রী: নুরুল হক নুর • রেলপথমন্ত্রী: গয়েশ্বর চন্দ্র রায় • জনপ্রশাসন মন্ত্রী: ড. ইসমাইল জাবিউল্লাহ • সমাজকল্যাণ মন্ত্রী: রুহুল কবির রিজভী • পার্বত্য চট্টগ্রামবিষয়ক মন্ত্রী: দীপেন দেওয়ান কমিউনিক্যে আরও উল্লেখ করা হয়েছে, এটি একটি প্রস্তাবিত মন্ত্রিসভার কাঠামো—চূড়ান্ত ঘোষণা, নিয়োগ এবং শপথ গ্রহণ সংবিধান ও রাষ্ট্রীয় প্রক্রিয়া অনুযায়ী সম্পন্ন হবে।
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের পর এখন পর্যন্ত বিএনপির পক্ষ থেকে তার সঙ্গে কোনো যোগাযোগ করা হয়নি এবং এই মুহূর্তে দলটিতে ফেরার সম্ভাবনাও নেই বলে জানিয়েছেন ব্রাহ্মণবাড়িয়া-৫ আসন থেকে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে নির্বাচিত সংসদ সদস্য ব্যারিস্টার রুমিন ফারহানা। মঙ্গলবার (১৭ ফেব্রুয়ারি) জাতীয় সংসদ ভবনে সংসদ সদস্য হিসেবে শপথ গ্রহণ শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এসব কথা বলেন। তবে তিনি সংবিধান সংস্কার পরিষদের সদস্য হিসেবে শপথ নেননি। রুমিন ফারহানা বলেন, স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে নির্বাচন করা তার জন্য অত্যন্ত কঠিন ছিল। একটি বড় দলের জোয়ারের বিপক্ষে দাঁড়িয়ে নির্বাচন করা সহজ নয় উল্লেখ করে তিনি দাবি করেন, তাকে পরাজিত করার জন্য নানা কৌশলে চেষ্টা করা হয়েছিল। বিএনপিতে ফেরার বিষয়ে প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, নির্বাচনের পর দলটির পক্ষ থেকে এখন পর্যন্ত তার সঙ্গে কোনো যোগাযোগ করা হয়নি। তাই এই মুহূর্তে বিএনপিতে ফেরার সম্ভাবনা নেই। নিজের রাজনৈতিক অবস্থান ব্যাখ্যা করে তিনি বলেন, তিনি ব্রাহ্মণবাড়িয়ার মেয়ে এবং সেখানেই ছিলেন, ভবিষ্যতেও থাকবেন। তিনি কোনো দলের ‘মেয়ে’ নন। আগে একটি দলের সমর্থক হিসেবে দেশ ও মানুষের পক্ষে কথা বলেছেন, পরে মতের অমিল হওয়ায় সরে গেছেন। নির্বাচনি এলাকার উন্নয়ন প্রসঙ্গে রুমিন ফারহানা বলেন, সরাইল-আশুগঞ্জ ও বিজয়নগরের একাংশ দীর্ঘদিন ধরে অবহেলিত। এসব এলাকার প্রান্তিক ও পিছিয়ে পড়া মানুষের জীবনমান উন্নয়নে তিনি সর্বাত্মকভাবে কাজ করবেন।
দেশের রাজনৈতিক অঙ্গনে বইছে পরিবর্তনের হাওয়া! বিএনপির প্রভাবশালী নেতা মির্জা আব্বাস ও রুহুল কবির রিজভীসহ মোট ১০ জনকে উপদেষ্টা পদে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। ৫ জন পেয়েছেন পূর্ণ মন্ত্রীর মর্যাদা এবং বাকি ৫ জন প্রতিমন্ত্রীর মর্যাদা। আজ মঙ্গলবার রাষ্ট্রপতির আদেশক্রমে মন্ত্রিপরিষদ সচিব নাসিমুল গনি স্বাক্ষরিত এক প্রজ্ঞাপনে এ তথ্য জানানো হয়েছে। প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী মন্ত্রীর পদমর্যাদায় উপদেষ্টা হয়েছেন মির্জা আব্বাস, নজরুল ইসলাম খান, রুহুল কবির রিজভী আহমেদ, মো. ইসমাইল জবিউল্লাহ ও ড. রাশেদ আল মাহমুদ তিতুমীর। প্রতিমন্ত্রীর পদমর্যাদায় উপদেষ্টা হলেন- হুমায়ুন কবির, ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) শামসুল ইসলাম, ডা. জাহেদুর রহমান, ড. মাহাদি আমিন এবং রেহানা আসিফ আসাদ। প্রজ্ঞাপনে বলা হয়েছে এই আদেশ অবিলম্বে কার্যকর হবে।
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে তরুণ নেতৃত্বের উল্লেখযোগ্য উত্থান লক্ষ্য করা গেছে। বিভিন্ন ছাত্র সংগঠন থেকে উঠে আসা অন্তত ১৮ জন সাবেক ছাত্রনেতা এবার প্রথমবারের মতো জাতীয় সংসদে প্রতিনিধিত্ব করতে যাচ্ছেন। নির্বাচনের ফল বিশ্লেষণে দেখা গেছে, এদের মধ্যে রয়েছে বিএনপির ছাত্র সংগঠন ছাত্রদলের সাবেক নেতা পাঁচজন, জামায়াতে ইসলামীর ছাত্র সংগঠন ছাত্রশিবির থেকে ছয়জন, জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) থেকে পাঁচজন এবং গণসংহতি আন্দোলনের একজন নেতা। বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল-এর অঙ্গসংগঠন বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী ছাত্রদল থেকে সাবেক আট কেন্দ্রীয় সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক নির্বাচিত হয়েছেন। এর মধ্যে পাঁচজন প্রথমবার জাতীয় সংসদে যাচ্ছেন। নির্বাচিতদের মধ্যে রয়েছেন আমান উল্লাহ আমান (ঢাকা-২), একেএম ফজলুল হক মিলন (গাজীপুর-৫), শহীদ উদ্দীন চৌধুরী এ্যানী (লক্ষ্মীপুর-৩), আজিজুল বারী হেলাল (খুলনা-৪), সুলতান সালাউদ্দিন টুকু (টাঙ্গাইল-৫), আমিরুল ইসলাম খান আলিম (সিরাজগঞ্জ-৫), হাবিবুর রশিদ হাবিব (ঢাকা-৯) এবং রাজীব আহসান (বরিশাল-৪)। বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী-এর ছাত্র সংগঠন বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবির-এর সাবেক ছয় কেন্দ্রীয় সভাপতি এবার সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়েছেন। তাদের মধ্যে রয়েছেন সাইফুল আলম খান মিলন (ঢাকা-১২), রফিকুল ইসলাম খান (সিরাজগঞ্জ-৪), নুরুল ইসলাম বুলবুল (চাঁপাইনবাবগঞ্জ-৩), শফিকুল ইসলাম মাসুদ (পটুয়াখালী-১), সালাহউদ্দিন আইয়ুবী (গাজীপুর-৪) এবং হাফেজ রাশেদুল ইসলাম (শেরপুর-১)। জুলাই গণঅভ্যুত্থানের প্রেক্ষাপটে আত্মপ্রকাশ করা জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) থেকে নির্বাচিত ছয় সংসদ সদস্যের মধ্যে পাঁচজনই ছাত্র রাজনীতির পটভূমি থেকে উঠে এসেছেন এবং প্রথমবার নির্বাচনে অংশ নিয়ে বিজয়ী হয়েছেন। তারা হলেন নাহিদ ইসলাম (ঢাকা-১১), আখতার হোসেন (রংপুর-৪), আবদুল হান্নান মাসউদ (নোয়াখালী-৬), হাসনাত আবদুল্লাহ (কুমিল্লা-৪) এবং আব্দুল্লাহ আল আমিন (নারায়ণগঞ্জ-৪)। এছাড়া গণসংহতি আন্দোলন-এর প্রধান সমন্বয়ক জোনায়েদ সাকি প্রথমবারের মতো সংসদে যাচ্ছেন। তিনি ১৯৯০ সালের স্বৈরাচারবিরোধী আন্দোলনের মধ্য দিয়ে রাজনৈতিক অঙ্গনে যুক্ত হন। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, ছাত্র রাজনীতি থেকে উঠে আসা এসব নেতার সংসদে প্রবেশ দলীয় ও জাতীয় রাজনীতিতে নতুন মাত্রা যোগ করতে পারে। রাজপথের আন্দোলন-সংগ্রামের অভিজ্ঞতা নিয়ে আইনপ্রণেতার ভূমিকায় আসা এই তরুণদের উপস্থিতি সংসদীয় বিতর্ক ও নীতিনির্ধারণ প্রক্রিয়ায় ভিন্নধর্মী প্রভাব ফেলতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।