মার্কিন প্রতিরক্ষা সচিব পিট হেগসেথের সাম্প্রতিক কর্মকাণ্ডে তোলপাড় শুরু হয়েছে খোদ ওয়াশিংটনে। অভিজ্ঞ জেনারেলদের একের পর এক বরখাস্তের পেছনে ইরান নিয়ে হেগসেথের 'অবাস্তব' পরিকল্পনাকে দায়ী করছেন দেশটির শীর্ষ রাজনীতিকরা।
মার্কিন সিনেটের ফরেন রিলেশনস কমিটির সদস্য সিনেটর ক্রিস মারফি এক বিস্ফোরক বিবৃতিতে জানিয়েছেন, পেন্টাগনের অভিজ্ঞ জেনারেলরা সম্ভবত হেগসেথকে সতর্ক করেছিলেন যে— ইরানের বিরুদ্ধে তার যুদ্ধ পরিকল্পনা একেবারেই 'অকার্যকর' এবং 'বিপজ্জনক'। আর এই সত্য বলার কারণেই এখন কোপের মুখে পড়তে হচ্ছে ঝানু সামরিক কর্মকর্তাদের।
মারফির মতে, হেগসেথ এমন এক যুদ্ধের স্বপ্ন দেখছেন যার বাস্তব ভিত্তি নেই। অভিজ্ঞ জেনারেলরা যখনই যুদ্ধের ভয়াবহতা এবং কারিগরি সীমাবদ্ধতার কথা তুলে ধরছেন, তখনই তাদের পথ থেকে সরিয়ে দেওয়া হচ্ছে। এই পরিস্থিতিকে মার্কিন সামরিক বাহিনীর জন্য এক বিশাল ঝুঁকি হিসেবে দেখছেন বিশেষজ্ঞরা।
একদিকে ইরান তাদের ক্ষেপণাস্ত্র শক্তি ও আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার সক্ষমতা প্রদর্শন করছে, অন্যদিকে পেন্টাগনের অন্দরে চলছে এই 'শুদ্ধি অভিযান'। সামরিক বিশ্লেষকদের আশঙ্কা, এভাবে অভিজ্ঞ নেতৃত্বহীন হয়ে পড়লে মার্কিন বাহিনী এক অনিশ্চিত ও রক্তক্ষয়ী যুদ্ধের দিকে ধাবিত হতে পারে।
মধ্যপ্রাচ্যের ক্রমবর্ধমান উত্তেজনার মধ্যেই একটি চাঞ্চল্যকর দাবি ভূ-রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন করে বিতর্কের ঝড় তুলেছে। গত ৪৮ থেকে ৫৬ ঘণ্টার মধ্যে ১৬টি চীনা 'ওয়াই-২০' (Y-20) সামরিক কার্গো বিমান তাদের ট্রান্সপন্ডার বা সিগন্যাল বন্ধ রেখে ইরানের আকাশে প্রবেশ করেছে বলে খবর ছড়িয়েছে। কোনো আনুষ্ঠানিক নিশ্চিতকরণ ছাড়াই এই তথ্যটি প্রতিরক্ষা বিশ্লেষক ও সোশ্যাল মিডিয়া ব্যবহারকারীদের মধ্যে তীব্র উদ্বেগ সৃষ্টি করেছে। দাবি করা হচ্ছে, এই বিমানগুলো বেসামরিক রাডার থেকে আড়াল থাকতে বিশেষ কৌশল অবলম্বন করেছিল। নেটিজেন ও সামরিক বিশ্লেষকদের একটি অংশের ধারণা, চীন হয়তো ইরানকে অত্যাধুনিক ইলেকট্রনিক ওয়ারফেয়ার সিস্টেম বা জ্যামিং প্রযুক্তি সরবরাহ করছে। যদি এটি সত্যি হয়, তবে মার্কিন এফ-৩৫ (F-35) যুদ্ধবিমান বা নৌ-অভিযানের জন্য এটি বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়াতে পারে। অনেকে একে যুক্তরাষ্ট্রের প্রতি বেইজিংয়ের সরাসরি ‘সতর্কবার্তা’ হিসেবেও দেখছেন। তবে এই উত্তেজনার মুদ্রার উল্টো পিঠও রয়েছে। ফ্লাইটরাডার২৪-এর মতো আন্তর্জাতিক ফ্লাইট ট্র্যাকিং প্ল্যাটফর্মে এ ধরনের কোনো অস্বাভাবিক ফ্লাইটের রেকর্ড পাওয়া যায়নি। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ১৬টি ভারী সামরিক কার্গো বিমানের মতো বিশাল বহরকে রাডার বা স্যাটেলাইট নজরদারি থেকে সম্পূর্ণ লুকিয়ে রাখা প্রায় অসম্ভব। বর্তমান ভূ-রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে চীন-ইরান সম্পর্ক গভীর হলেও, সুনির্দিষ্ট প্রমাণের অভাবে বিশ্লেষকরা একে আপাতত ‘সুপরিকল্পিত গুজব’ বা মিসইনফরমেশন হিসেবেই দেখছেন। তেহরান বা বেইজিং—কোনো পক্ষ থেকেই এখন পর্যন্ত এ নিয়ে কোনো আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া মেলেনি।
২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো। প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে। এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে। অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে। স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে। সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে। সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।
যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে। এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন। নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি। উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।” বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে। এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে। শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়। উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত। এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।
যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা প্রত্যাশীদের জন্য কঠোর হচ্ছে নিয়মাবলী। আগামী ৩০ মার্চ থেকে কার্যকর হতে যাচ্ছে নতুন ভিসা রুলস, যেখানে আবেদনকারীদের সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের প্রোফাইল পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে যাচাই বা স্ক্রিনিং করা হবে। মার্কিন প্রশাসনের এই নতুন পদক্ষেপে বাংলাদেশসহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশের ভিসা প্রত্যাশীদের মধ্যে ব্যাপক আলোচনার সৃষ্টি হয়েছে। নতুন এই নিয়ম মূলত অ-অভিবাসী (Non-immigrant) এবং অভিবাসী (Immigrant) উভয় ধরণের ভিসার ক্ষেত্রে প্রযোজ্য হতে পারে। বিশেষ করে যারা ট্যুরিস্ট ভিসা, স্টুডেন্ট ভিসা এবং কাজের সন্ধানে এইচ-১বি (H-1B) ভিসার জন্য আবেদন করবেন, তাদের সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের তথ্য প্রদান বাধ্যতামূলক করা হচ্ছে। আবেদনকারীদের গত পাঁচ বছরের ব্যবহৃত সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমগুলোর ইউজার আইডি বা হ্যান্ডেল নাম ফর্মে উল্লেখ করতে হবে। ফেসবুক, টুইটার (বর্তমানে এক্স), ইনস্টাগ্রাম এবং ইউটিউবের মতো জনপ্রিয় প্ল্যাটফর্মগুলো এই স্ক্রিনিংয়ের আওতায় থাকবে। তবে পাসওয়ার্ড দেওয়ার প্রয়োজন হবে না। মূলত আবেদনকারীর নিরাপত্তা ঝুঁকি এবং পূর্ববর্তী কোনো উসকানিমূলক বা সন্দেহজনক কর্মকাণ্ড আছে কি না, তা যাচাই করতেই এই পদক্ষেপ। মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তর জানিয়েছে, জাতীয় নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং জননিরাপত্তার স্বার্থেই এই স্ক্রিনিং প্রক্রিয়া জোরদার করা হয়েছে। কোনো ব্যক্তি যদি অতীতে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে উগ্রবাদ বা আইনবিরোধী কোনো কাজে লিপ্ত থেকে থাকেন, তবে তার ভিসা আবেদন বাতিল হওয়ার সম্ভাবনা তৈরি হবে। ভিসা বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ৩০ মার্চের পর যারা আবেদন করবেন, তাদের অবশ্যই গত ৫ বছরের ডিজিটাল ফুটপ্রিন্ট সম্পর্কে সতর্ক থাকতে হবে। কোনো ভুল তথ্য দিলে বা তথ্য গোপন করলে তা স্থায়ীভাবে ভিসা প্রত্যাখ্যাত হওয়ার কারণ হতে পারে। এছাড়া ইমেইল অ্যাড্রেস এবং ফোন নম্বর প্রদানের ক্ষেত্রেও অতিরিক্ত সতর্কতা অবলম্বনের পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। এই নতুন নিয়ম চালুর ফলে ভিসা প্রক্রিয়াকরণে কিছুটা অতিরিক্ত সময় লাগতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। তাই প্রয়োজনীয় কাগজপত্র এবং অনলাইন প্রোফাইল গুছিয়ে আবেদন করার পরামর্শ দিচ্ছে সংশ্লিষ্ট দপ্তরগুলো।
এপস্টেইন ফাইল: দাবি, বাইডেনকে ২০১৯ সালে হত্যা করে ক্লোন দ্বারা প্রতিস্থাপন করা হয়েছে জেফরি এপস্টেইনের ফাইল ট্রান্সপারেন্সি অ্যাক্টের সাথে যুক্ত সম্প্রতি প্রকাশিত একটি নথি ত্রাঞ্চে অভিযোগ করা হয়েছে যে, প্রাক্তন মার্কিন প্রেসিডেন্ট জো বাইডেনকে ২০১৯ সালে হত্যা করা হয়েছে এবং তাকে একটি ক্লোন দ্বারা প্রতিস্থাপন করা হয়েছে। এই নথিগুলি, যা আনক্লাসিফায়েড ডিপার্টমেন্ট অব জাস্টিস (DOJ) রেকর্ডের একটি বিশাল ডেটা রিলিজের অংশ, “চার্লস” নামে একজনের ক্ষুব্ধ ইমেইল অন্তর্ভুক্ত করেছে এবং অন্তর্বর্তী ফাইলিং কোড EFTA00173266 থেকে EFTA00173273 পর্যন্ত চিহ্নিত। এই ইমেইলগুলো তৃতীয় পক্ষের যোগাযোগের মধ্যে পাওয়া গেছে, যা জেফরি এপস্টেইনের নেটওয়ার্ক সংক্রান্ত বিস্তৃত ফেডারেল তদন্তের সময় সংগ্রহ করা হয়েছিল। এপস্টেইন সম্পর্কিত অন্যান্য প্রকাশনার মতো এখানে রাজনৈতিক ও ব্যবসায়িক ব্যক্তিদের সঙ্গে সম্পর্কের তথ্য নয়, বরং চরম ও ষড়যন্ত্রমূলক দাবিগুলো রয়েছে। ক্লোন তত্ত্বের উল্লেখ “চার্লস” ইমেইলগুলো এপ্রিল ২০২১-এ একজন এফবিআই এজেন্টকে ফরোয়ার্ড করা হয়েছিল, যাকে লাল করা প্রেরক হিসেবে দেখানো হয়েছে। প্রেরক দাবি করেছিলেন যে এটি একটি প্রযুক্তি সংস্থার এক ক্ষুব্ধ প্রাক্তন কর্মচারী বা সহযোগীর মেসেজ। ইমেইলগুলিতে গালাগালি ভাষা ব্যবহৃত হয়েছে এবং এখানে “কোয়ান্টাম” প্রযুক্তি, গোপন সামরিক ট্রাইব্যুনাল, এবং “বাইডেন আপনার বর্তমান প্রেসিডেন্ট নন” এমন দাবির উল্লেখ রয়েছে। একটি অনুচ্ছেদে বলা হয়েছে যে “বাস্তব” জো বাইডেনকে ২০১৯ সালে নির্বিচারে হত্যা করা হয়েছে এবং তাকে একজন অভিনেতা বা ক্লোন দ্বারা প্রতিস্থাপন করা হয়েছে, যেখানে প্রমাণ হিসেবে “মাস্কের ত্রুটি” দেখানো হয়েছে। তবে এই দাবিগুলোর সঙ্গে কোনো শারীরিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি বা সঙ্গত সাক্ষ্য নেই। “বাইডেন ক্লোন” দাবি অনলাইনে ষড়যন্ত্র তত্ত্বের একটি পরিচিত অংশ। তত্ত্বটি সাধারণত ধরে যে “বাস্তব” জো বাইডেনকে গোপনে জনমঞ্চ থেকে সরিয়ে দেওয়া হয়েছে, প্রায়শই ২০১৯ বা ২০২০ সালে, এবং তাকে চেহারা মিলানো লোক বা ক্লোন দিয়ে প্রতিস্থাপন করা হয়েছে। অনুগামীরা প্রায়শই নিম্নমানের ভিডিও এবং ফটোগ্রাফ বিশ্লেষণ করে, চেহারার পরিবর্তন যেমন আলোর পরিবর্তন, বয়সের প্রভাব বা ক্যামেরার ত্রুটিকে কৃত্রিমভাবে আড়াল করার প্রমাণ হিসেবে দেখান। এ পর্যন্ত কোনো যাচাইযোগ্য প্রমাণ নেই যে প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন কখনো ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন বা প্রতিস্থাপিত হয়েছেন। এই দাবিগুলি সম্পূর্ণভাবে একটি ষড়যন্ত্র তত্ত্ব হিসেবে রয়ে গেছে। সূত্র: Royanews
মার্কিন অ্যাটর্নি জেনারেল পদ থেকে পাম বন্ডির নাটকীয় বিদায়ের রেশ কাটতে না কাটতেই এক নজিরবিহীন ও অবমাননাকর ঘটনা সামনে এসেছে। দায়িত্ব ছাড়ার মাত্র কয়েক ঘণ্টার ব্যবধানে খোদ বিচার বিভাগের ভেতরে একটি ডাস্টবিনে তার ফ্রেমবন্দি ছবি পড়ে থাকতে দেখা গেছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এই ছবি ছড়িয়ে পড়ার পর ওয়াশিংটনের রাজনৈতিক মহলে শুরু হয়েছে তীব্র উত্তেজনা ও সমালোচনা। স্থানীয় সময় বৃহস্পতিবার মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এক আকস্মিক ঘোষণায় পাম বন্ডিকে তার পদ থেকে অব্যাহতি দেন। এই ঘটনার পরদিন শুক্রবার আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম টিএমজেড (TMZ) এক প্রতিবেদনে জানায়, বিচার বিভাগের করিডোরে রাখা একটি ময়লার ঝুড়িতে বন্ডির বাঁধাই করা ছবিটি পরিত্যক্ত অবস্থায় পাওয়া যায়। অত্যন্ত প্রভাবশালী এই কর্মকর্তার ছবি এভাবে ডাস্টবিনে কে বা কারা ফেলল, তা নিয়ে রহস্য দানা বাঁধছে। পাম বন্ডির ১৪ মাসের দায়িত্বকাল শুরু থেকেই ছিল নানা বিতর্কে ঘেরা। বিশেষ করে কুখ্যাত জেফ্রি এপস্টেইন মামলার নথি প্রকাশে অস্বচ্ছতার অভিযোগে তিনি শুরু থেকেই কোণঠাসা ছিলেন। এছাড়া ট্রাম্পের রাজনৈতিক প্রতিপক্ষের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নিতে ব্যর্থ হওয়া এবং বিচার বিভাগে গণহারে বরখাস্তের ঘটনায় খোদ রিপাবলিকান দলের ভেতরেই তার বিরুদ্ধে তীব্র অসন্তোষ তৈরি হয়েছিল। যদিও প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প বিদায়লগ্নে বন্ডিকে 'মহান দেশপ্রেমিক' বলে অভিহিত করেছেন, তবে বিশ্লেষকরা মনে করছেন এই বিদায় ছিল অত্যন্ত তিক্ত। ডাস্টবিনে ছবি পাওয়ার ঘটনাটি বিচার বিভাগের কর্মীদের ভেতরে জমে থাকা ক্ষোভেরই বহিঃপ্রকাশ বলে ধারণা করা হচ্ছে। বন্ডির পদত্যাগের পর ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল টড ব্লাঞ্চকে ভারপ্রাপ্ত অ্যাটর্নি জেনারেল হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। আগামী ১৪ এপ্রিল কংগ্রেসের ওভারসাইট কমিটির সামনে বন্ডির হাজির হওয়ার কথা রয়েছে, যা নিয়ে বর্তমানে উত্তাল মার্কিন রাজনীতি।
বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ নৌপথ ‘হরমুজ প্রণালি’ পুনরায় সচল করা নিয়ে নতুন চাঞ্চল্যকর দাবি করেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। শুক্রবার (৩ এপ্রিল) নিজের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ‘ট্রুথ সোশাল’-এ দেওয়া এক পোস্টে তিনি জানান, আর সামান্য কিছু সময় পেলে যুক্তরাষ্ট্র এই প্রণালি উন্মুক্ত করতে এবং সেখানকার তেলের নিয়ন্ত্রণ নিতে সক্ষম হবে। ট্রাম্পের এই বার্তার কয়েক ঘণ্টার ব্যবধানে ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি হরমুজ প্রণালি সচল করতে সামরিক সহায়তার প্রস্তাব দিয়েছেন। জেলেনস্কি এক সাক্ষাৎকারে জানিয়েছেন, কৃষ্ণসাগরে জাহাজ চলাচল সচল করার অভিজ্ঞতা কাজে লাগিয়ে ইউক্রেন মধ্যপ্রাচ্যের এই জলপথ উন্মুক্ত করতে প্রস্তুত। তিনি উল্লেখ করেন, হরমুজ প্রণালি সচল করতে ড্রোন ইন্টারসেপ্টর (ড্রোন ধ্বংসকারী ব্যবস্থা), সামরিক কনভয় এবং ইলেকট্রনিক যুদ্ধ সরঞ্জাম প্রয়োজন হবে, যা ইউক্রেন সরবরাহ করতে পারে। যদিও ইউরোপ ও ন্যাটোর সদস্যরা এই অঞ্চলে বড় ধরনের সামরিক অভিযানের প্রস্তাব সরাসরি প্রত্যাখ্যান করেছে, তবে জেলেনস্কির এই অবস্থান ওয়াশিংটনের জন্য নতুন আশার আলো হিসেবে দেখা দিচ্ছে। এদিকে, মার্কিন প্রেসিডেন্ট যখন মিত্রদের এগিয়ে আসার আহ্বান জানাচ্ছেন, তখন ফ্রান্সের প্রেসিডেন্ট এমানুয়েল মাখোঁ সামরিক অভিযানের বাস্তবতা নিয়ে সংশয় প্রকাশ করেছেন। তবে এর মধ্যেই এএফপি-র তথ্য অনুযায়ী, ফ্রান্সের মালিকানাধীন ও মাল্টার পতাকাবাহী কনটেইনার জাহাজ ‘ক্রিবি’ সফলভাবে হরমুজ প্রণালি অতিক্রম করেছে। ইরান এই নৌপথটি কার্যত বন্ধ রাখলেও ফরাসি জাহাজটির সফলভাবে পারস্য উপসাগর থেকে বেরিয়ে আসা বিশ্ব অর্থনীতিতে কিছুটা স্বস্তি ও কৌতূহলের জন্ম দিয়েছে।
যুক্তরাষ্ট্র সরকার ঘোষণা দিয়েছে, আমদানিকৃত পেটেন্ট করা বিদেশি ওষুধের ওপর ১০০ শতাংশ শুল্ক আরোপ করা হবে। তবে রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠানগুলো চাইলে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে চুক্তি করে এই শুল্ক এড়ানোর সুযোগ পাবেন। হোয়াইট হাউসের বরাত দিয়ে জানানো হয়েছে, এই পদক্ষেপের মূল লক্ষ্য দেশীয় ওষুধ উৎপাদন বাড়ানো এবং জাতীয় নিরাপত্তা ঝুঁকি কমানো। তবে বিশেষজ্ঞরা মনে করেন, তাৎক্ষণিক প্রভাব সীমিত হবে, কারণ এই শুল্ক জেনেরিক ওষুধের ওপর প্রযোজ্য নয়, যা মার্কিন বাজারে সবচেয়ে বেশি ব্যবহৃত হয়। বিশাল ওষুধ প্রস্তুতকারী অনেক প্রতিষ্ঠান ইতোমধ্যেই সরকারের সঙ্গে চুক্তিবদ্ধ হয়েছে। হোয়াইট হাউস জানিয়েছে, ২০২৯ সালের জানুয়ারির মধ্যে যদি কোনো কোম্পানি মার্কিন উৎপাদন শুরু করার প্রতিশ্রুতি দেয়, তাহলে তাদের শুল্ক ২০ শতাংশে নেমে আসবে। চুক্তি অনুযায়ী যদি ওষুধের দাম সরকারের সঙ্গে সমন্বয় করা হয়, তাহলে শুল্ক পুরোপুরি প্রত্যাহার করা হবে। কিছু চুক্তিতে দেখা গেছে, কোম্পানিগুলো সরকারি স্বাস্থ্যবীমা কর্মসূচি যেমন মেডিকেইডের সঙ্গে সমপর্যায়ের দাম ধরে বিদেশি ওষুধ সরবরাহে সম্মত হয়েছে। গত বছরের ইউরোপ, যুক্তরাজ্য, জাপান ও দক্ষিণ কোরিয়ার সঙ্গে করা চুক্তির আওতায় কম শুল্কের সুবিধা বহাল থাকবে। বিশেষ করে যুক্তরাজ্য থেকে রপ্তানিকৃত কিছু ওষুধ তিন বছর শুল্কমুক্ত থাকবে। বিশ্লেষকরা বলেন, ছোট ও মাঝারি ওষুধ প্রস্তুতকারী কোম্পানিগুলোর জন্য এই শুল্ক ঝুঁকিপূর্ণ হতে পারে, উৎপাদন ব্যয় বাড়তে পারে। তবে হোয়াইট হাউস দাবি করেছে, এই নীতির প্রভাবে প্রায় ৪০০ বিলিয়ন ডলার বিনিয়োগের প্রতিশ্রুতি ইতোমধ্যেই এসেছে। একই সময়ে, ইস্পাত, অ্যালুমিনিয়াম ও তামার ওপর আরোপিত শুল্ক নীতিতেও কিছু পরিবর্তনের কথা ঘোষণা করা হয়েছে। ধাতব উপাদান কম থাকা পণ্যে নতুন শুল্ক আরোপ হবে না।