রাশিয়ায় মুসলিম ধর্মীয় নেতাদের কেন গ্রেফতার করা হচ্ছে? সামনে আসছে নতুন তথ্য
রাশিয়ায় সাম্প্রতিক সপ্তাহগুলোতে একাধিক মুসলিম ধর্মীয় নেতা, মুফতি এবং মুসলিম কমিউনিটির প্রতিনিধিদের গ্রেফতার ও আটক করার ঘটনাকে কেন্দ্র করে দেশটির মুসলিম সমাজে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। মানবাধিকারকর্মী, বিশ্লেষক এবং কিছু স্বাধীন গণমাধ্যমের মতে, এসব ঘটনা শুধু আইন প্রয়োগের বিষয় নয়; বরং এর সঙ্গে রাশিয়ার অভ্যন্তরীণ রাজনীতি, ধর্মীয় স্বাধীনতা এবং রাষ্ট্রের পরিচয়গত অবস্থানের প্রশ্নও জড়িয়ে রয়েছে।
বিবিসি মনিটরিংয়ের এক বিশ্লেষণধর্মী প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ২০২৬ সালের মে মাসে রাশিয়ার নিরাপত্তা বাহিনী অন্তত আটজন মুসলিম আলেম ও মুসলিম সম্প্রদায়ের প্রতিনিধিকে আটক করেছে। তাদের বিরুদ্ধে ঘুষ, প্রশাসনিক অবাধ্যতা থেকে শুরু করে নিষিদ্ধ সংগঠনের সঙ্গে সম্পৃক্ততার মতো বিভিন্ন অভিযোগ আনা হয়েছে। তবে সমালোচকদের একটি অংশের দাবি, এসব অভিযোগের পেছনে রাজনৈতিক ও আদর্শিক কারণও থাকতে পারে।
আটক হওয়া ব্যক্তিদের মধ্যে ছিলেন কারেলিয়ার সাবেক মুফতি উইসাম বার্দভিল। রুশ রাষ্ট্রীয় সংবাদ সংস্থা তাসের তথ্য অনুযায়ী, মস্কোর শেরেমেতিয়েভো বিমানবন্দরে পুলিশের নির্দেশ অমান্যের অভিযোগে তাকে ১৫ দিনের কারাদণ্ড দেওয়া হয়। এছাড়া মর্দোভিয়া প্রজাতন্ত্রের মুফতি রয়াল আসেনভকেও ঘুষ দাবির অভিযোগে গ্রেফতার করা হয়েছে বলে স্থানীয় গণমাধ্যমে জানানো হয়।
রুশ গণমাধ্যম কোমেরসান্তের প্রতিবেদনে আরও কয়েকজন মুসলিম ধর্মীয় নেতার নাম উঠে এসেছে, যাদের বিরুদ্ধে তদন্ত চলছে। কিছু মামলায় অভিযুক্তদের সঙ্গে নিষিদ্ধ ঘোষিত মুসলিম ব্রাদারহুডের সম্পর্ক থাকার অভিযোগও আনা হয়েছে। রাশিয়া ২০০৩ সালে মুসলিম ব্রাদারহুডকে সন্ত্রাসী সংগঠন হিসেবে নিষিদ্ধ ঘোষণা করেছিল।
তবে গ্রেফতারগুলোর পেছনে আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ প্রেক্ষাপট সামনে এসেছে। মে মাসের শুরুতে রাশিয়ার স্পিরিচুয়াল বোর্ড অব মুসলিমস (ডিইউএম)-এর প্রধান রাভিল গাইনুতদিন প্রেসিডেন্ট Vladimir Putin-এর কাছে একটি খোলা চিঠি পাঠান। সেখানে তিনি আবাসিক ভবনে ধর্মীয় সমাবেশ ও জামাতবদ্ধ নামাজ কার্যত নিষিদ্ধ করার প্রস্তাবিত আইনের বিরোধিতা করেন।
চিঠিতে তিনি সতর্ক করে বলেন, আইনটি কার্যকর হলে মুসলমানদের সাংবিধানিক ধর্মীয় অধিকার ক্ষতিগ্রস্ত হবে। এমনকি আত্মীয়স্বজন বা বন্ধুদের বাড়িতে একসঙ্গে নামাজ আদায় করাও আইন লঙ্ঘনের শামিল হতে পারে। তিনি আরও অভিযোগ করেন, দেশে পর্যাপ্ত মসজিদ ও উপাসনালয় না থাকা সত্ত্বেও নতুন স্থাপনা নির্মাণে কর্তৃপক্ষ অনীহা দেখাচ্ছে।
এর কিছুদিন পরই মুসলিম আলেমদের বিরুদ্ধে গ্রেফতার অভিযান শুরু হওয়ায় অনেক পর্যবেক্ষক দুই ঘটনার মধ্যে সম্ভাব্য সম্পর্কের ইঙ্গিত দিয়েছেন। যদিও এ বিষয়ে রাশিয়ার সরকার বা নিরাপত্তা সংস্থাগুলো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো মন্তব্য করেনি।
এদিকে রাশিয়ার কট্টর জাতীয়তাবাদী ও উগ্র-ডানপন্থি গোষ্ঠীগুলো এসব গ্রেফতারকে প্রকাশ্যে সমর্থন জানিয়েছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও বিভিন্ন চ্যানেলে তারা মুসলিম নেতৃত্বের বিরুদ্ধে আরও কঠোর পদক্ষেপের দাবি তুলেছে। কিছু চ্যানেল এমনকি ডিইউএমকে ‘চরমপন্থি’ সংগঠন হিসেবে ঘোষণা করার আহ্বানও জানিয়েছে।
বিতর্ক আরও তীব্র হয় ডিইউএম-এর উপপ্রধান দামির মুখেতদিনভকে ঘিরে। তার কার্যালয়ে ১২২৩ সালের কালকা যুদ্ধের একটি চিত্রকর্ম প্রদর্শন নিয়ে রুশ জাতীয়তাবাদীদের একটি অংশ ক্ষোভ প্রকাশ করে। সমালোচকদের দাবি ছিল, ওই চিত্রকর্ম রাশিয়ার ঐতিহাসিক বর্ণনার সঙ্গে সাংঘর্ষিক। পরে মুখেতদিনভ চিত্রকর্মটি সরিয়ে ফেলেন এবং এর জায়গায় দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের একটি চিত্রকর্ম স্থাপনের ঘোষণা দেন।
ডিইউএম শুরুতে এসব গ্রেফতার নিয়ে প্রকাশ্যে খুব বেশি প্রতিক্রিয়া না জানালেও পরে সংগঠনটির প্রধান রাভিল গাইনুতদিন একটি বিবৃতিতে বলেন, ডিইউএমকে চরমপন্থা, বিদেশি প্রভাব বা উগ্রবাদের সঙ্গে যুক্ত করার চেষ্টা ভিত্তিহীন। তিনি এসব অভিযোগ প্রত্যাখ্যান করে বলেন, এ ধরনের প্রচারণা সমাজে বিভাজন সৃষ্টি করছে।
বিশ্লেষকদের মতে, রাশিয়ায় বর্তমানে দুই ধরনের প্রবণতা একসঙ্গে কাজ করছে। একদিকে সরকার মুসলিম সংখ্যাগরিষ্ঠ অঞ্চলগুলোর সঙ্গে সুসম্পর্ক বজায় রাখার চেষ্টা করছে এবং আন্তর্জাতিক অঙ্গনে মুসলিম বিশ্বের সঙ্গে সম্পর্ক জোরদার করছে। অন্যদিকে যুদ্ধকালীন জাতীয়তাবাদী আবহে ইসলামবিদ্বেষী ও অভিবাসীবিরোধী বক্তব্যও আরও বেশি দৃশ্যমান হয়ে উঠছে।
রাশিয়ায় বর্তমানে দুই কোটিরও বেশি মুসলিম বসবাস করে, যা ইউরোপের বৃহত্তম মুসলিম জনসংখ্যাগুলোর একটি। দীর্ঘদিন ধরে দেশটির মুসলিম প্রতিষ্ঠানগুলো রাষ্ট্রের নীতির প্রতি আনুগত্য প্রদর্শন করে এসেছে। তবে সাম্প্রতিক গ্রেফতার অভিযান নতুন প্রশ্ন তৈরি করেছে, সেই আনুগত্য এখনো কি রাজনৈতিক সুরক্ষার জন্য যথেষ্ট?
পর্যবেক্ষকদের মতে, মুসলিম নেতাদের বিরুদ্ধে চলমান এই অভিযান শুধু কয়েকজন ধর্মীয় ব্যক্তিত্বের ভবিষ্যৎ নয়, বরং রাশিয়ায় ধর্মীয় স্বাধীনতা, সংখ্যালঘু অধিকার এবং রাষ্ট্রের ভবিষ্যৎ সামাজিক নীতির দিকনির্দেশনা সম্পর্কেও গুরুত্বপূর্ণ বার্তা বহন করতে পারে।
© America Bangla | All Rights Reserved. আমেরিকা বাংলার পূর্বানুমতি ছাড়া এই প্রতিবেদনের লেখা, ছবি, গ্রাফিক্স বা অন্যান্য মৌলিক কনটেন্ট সম্পূর্ণ বা আংশিকভাবে কপি বা পুনঃপ্রকাশ করা নিষিদ্ধ। অনুমোদিত ব্যবহারের ক্ষেত্রে আমেরিকা বাংলা কে স্পষ্টভাবে সোর্স হিসেবে উল্লেখ করতে হবে।
যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন। মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়। তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।” ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে। প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন। ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন। প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল। মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি। রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।
যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর আগস্ট ২০২৬ সালের ভিসা বুলেটিন প্রকাশ করেছে। নতুন এই আপডেটে পরিবারভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি দেখা গেছে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের স্থায়ী বাসিন্দাদের স্বামী, স্ত্রী ও সন্তানদের জন্য নির্ধারিত এফ২এ ক্যাটাগরিতে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এসেছে। নতুন ভিসা বুলেটিন অনুযায়ী, পরিবারভিত্তিক কয়েকটি ক্যাটাগরিতে অপেক্ষার সময় কমার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এর মধ্যে এফ২এ ক্যাটাগরির অগ্রগতি সবচেয়ে বেশি, যেখানে যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডধারীদের স্বামী-স্ত্রী ও অবিবাহিত সন্তানদের আবেদন অন্তর্ভুক্ত থাকে। এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের অবিবাহিত প্রাপ্তবয়স্ক সন্তানদের জন্য এফ১ ক্যাটাগরি এবং অন্যান্য পরিবারভিত্তিক ক্যাটাগরিতেও কিছু অগ্রগতি দেখা গেছে। তবে আবেদনকারীদের ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার তারিখ বা প্রায়োরিটি ডেট অনুযায়ীই পরবর্তী ধাপ নির্ধারণ হবে। ভিসা বুলেটিনে বলা হয়েছে, পরিবারভিত্তিক অভিবাসন ভিসার সংখ্যা প্রতিবছর নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে দেওয়া হয়। তাই কোনো ক্যাটাগরিতে চাহিদা বেশি হলে অপেক্ষার সময় বাড়তে পারে এবং কম হলে তারিখ এগিয়ে আসতে পারে। অন্যদিকে কর্মসংস্থানভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য পরিস্থিতি তুলনামূলক কঠিন রয়েছে। বিশেষ করে কিছু এমপ্লয়মেন্ট-বেসড ক্যাটাগরিতে দীর্ঘ অপেক্ষা ও সীমিত ভিসা সংখ্যার কারণে আবেদনকারীদের অনিশ্চয়তা অব্যাহত রয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ী বসবাসের জন্য আবেদনকারীদের কাছে ভিসা বুলেটিন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এই তালিকার মাধ্যমে জানা যায়, কোন আবেদনকারীরা গ্রিন কার্ডের পরবর্তী ধাপে এগিয়ে যেতে পারবেন এবং কারা এখনও অপেক্ষার তালিকায় থাকবেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, নতুন এই পরিবর্তন অনেক পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীর জন্য আশার খবর হলেও, প্রতিটি আবেদনকারীর পরিস্থিতি নির্ভর করবে তাদের আবেদন জমার তারিখ, দেশভিত্তিক সীমা এবং ভিসা ক্যাটাগরির ওপর। যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ব্যবস্থায় দীর্ঘদিন ধরে গ্রিন কার্ডের অপেক্ষার তালিকা বড় একটি বিষয় হয়ে আছে। নতুন ভিসা বুলেটিনে পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীদের জন্য অগ্রগতি দেখা গেলেও, সব আবেদনকারী একইভাবে সুবিধা পাবেন না।
২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো। প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে। এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে। অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে। স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে। সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে। সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।
যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে। এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন। নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি। উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।” বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে। এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে। শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়। উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত। এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।
যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে এক মর্মান্তিক ও লোমহর্ষক ঘটনার জন্ম দিয়েছে দুই তরুণী বোন। দিনদুপুরে ক্যারোলিন ‘কারো’ পেনা নামের ৩২ বছর বয়সী এক নারীকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগে তাদের গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। নিহত নারী পাঁচ সন্তানের জননী ছিলেন। তবে সবচেয়ে শিউরে ওঠার মতো বিষয় হলো, গ্রেপ্তারের সময় অভিযুক্তদের চেহারায় অনুশোচনার সামান্যতম ছাপ তো ছিলই না, উল্টো তাদের মুখে পৈশাচিক হাসি দেখা গেছে। মেক্সিকো সীমান্তের কাছের শহর দেল রিও থেকে বৃহস্পতিবার বিকেলে পুলিশ তাদের হাতকড়া পরিয়ে নিয়ে যাওয়ার সময় এই দৃশ্য ক্যামেরায় ধরা পড়ে। আরও পড়ুন... ‘ফোনটা ধরতে পারলে হয়তো তাকে বাঁচাতে পারতাম’- টেক্সাসে পাঁচ সন্তানের মাকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা, দুই বোনসহ তিনজন গ্রেপ্তার পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নিহত ক্যারোলিনকে বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় দুপুর ২টার পরপরই গুরুতর জখম অবস্থায় ভাল ভার্দে রিজিওনাল মেডিকেল সেন্টারে নেওয়া হয়। তার শরীরে একাধিক ছুরিকাঘাতের চিহ্ন ছিল। ঘটনাস্থলের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, একটি সনিক ড্রাইভ-থ্রু রেস্তোরাঁর বাইরে রক্তাক্ত অবস্থায় ক্যারোলিন তার তিন হামলাকারীর মুখোমুখি দাঁড়িয়ে আছেন। পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য সান আন্তোনিওর একটি হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছায় এবং প্রায় ৩৫ হাজার বাসিন্দার শহর দেল রিওতে অভিযান চালিয়ে হামলাকারীদের শনাক্ত করে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া গ্রেপ্তারের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, ২১ বছর বয়সী কিটি মিয়া দিয়াজ খালি পায়ে হেঁটে যাওয়ার সময় পুলিশের গাড়িতে ওঠার আগে মৃদু হাসছেন। কিটি নিজেও এক শিশুপুত্রের মা। অন্যদিকে, তার ১৯ বছর বয়সী ছোট বোন আমায়া কুকি দিয়াজ ক্যামেরার দিকে তাকিয়ে নির্লজ্জভাবে দাঁত বের করে হাসতে থাকেন। ▶️ টেক্সাসে নিজের মাকে নির্মমভাবে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুই মেয়ে | এমনকি ভিডিও ধারণকারীকে ব্যঙ্গাত্মক সুরে ‘রেকর্ড করা বন্ধ করো’ বলেও চিৎকার করতে শোনা যায় তাকে। দেল রিও পুলিশ জানিয়েছে, এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ২১ বছর বয়সী কায়ান্দ্রা রেনি ফাজ নামের তৃতীয় আরেক নারীকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে ঠিক কী কারণে এই নারকীয় হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে, সে বিষয়ে পুলিশ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি।
বিশেষ প্রতিবেদন
View moreযুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্ক সিটির ব্রঙ্কসের মট হ্যাভেন এলাকায় একটি আবাসিক ভবনের ১১ তলার অ্যাপার্টমেন্টে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে একই পরিবারের চারজনের মৃত্যু হয়েছে। নিহতদের মধ্যে রয়েছে ১১ বছরের শিশু জিয়ন মেইন, তার দুই কিশোর ভাই এবং ৩৩ বছর বয়সী মা সাইদা অ্যাডামস প্যাটারসন। পরিবারের বাবা ৩৭ বছর বয়সী কোর্টনি মেইন গুরুতর দগ্ধ অবস্থায় হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। গত ২৮ অক্টোবর বুধবার রাত প্রায় ১২টা ৫০ মিনিটে প্যাটারসন হাউসেসের ওই অ্যাপার্টমেন্টে আগুন লাগে। আগুনের খবর পেয়ে ফায়ার সার্ভিসের কর্মীরা দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছান। কিন্তু আগুন ও ধোঁয়া দ্রুত ছড়িয়ে পড়ায় পরিবারের সদস্যরা ঘর থেকে বের হতে পারেননি। তদন্তে জানা যায়, রান্নাঘরের প্রবেশপথের কাছে চার্জে থাকা একটি বৈদ্যুতিক স্কুটারের লিথিয়াম-আয়ন ব্যাটারি থেকে আগুনের সূত্রপাত। স্কুটারটি অ্যাপার্টমেন্টের দরজার কাছে থাকায় আগুন ছড়িয়ে পড়ার পর বের হওয়ার পথ আটকে যায়। ফলে পরিবারের সদস্যরা ভয়াবহ বিপদের মুখে পড়েন। প্রথমে ১১ বছরের জিয়নকে হাসপাতালে নেওয়া হলেও চিকিৎসকেরা তাকে বাঁচাতে পারেননি। এরপর গুরুতর দগ্ধ অবস্থায় হাসপাতালে থাকা তার দুই কিশোর ভাই—১৫ বছর বয়সী সিজে ও ১৬ বছর বয়সী জামারিও এবং মা সাইদা চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান। পরিবারের বাবা কোর্টনি এখনো হাসপাতালে চিকিৎসা নিচ্ছেন। এই ঘটনায় সবচেয়ে হৃদয়বিদারক বিষয় হলো, পরিবারের চার সদস্যকে হারিয়ে বাবাকে এখন একাই বেঁচে থাকার লড়াই করতে হচ্ছে। যে ঘরে একসময় সন্তানদের হাসি, পরিবারের দৈনন্দিন ব্যস্ততা আর ভবিষ্যতের স্বপ্ন ছিল, সেই ঘরেই মুহূর্তের আগুন সবকিছু বদলে দিয়েছে। প্রতিবেশীরাও শোকে ভেঙে পড়েছেন। ছোট্ট জিয়নকে তাঁরা প্রাণবন্ত ও সবার প্রিয় শিশু হিসেবে স্মরণ করছেন। ভবনের বাইরে তার স্মরণে মোমবাতি জ্বালিয়ে শ্রদ্ধা জানিয়েছেন স্থানীয় বাসিন্দারা। নিউইয়র্কের ফায়ার সার্ভিস জানিয়েছে, লিথিয়াম-আয়ন ব্যাটারির আগুন খুব দ্রুত ছড়িয়ে পড়তে পারে। ২০২৬ সালে নিউইয়র্ক সিটিতে এ ধরনের ব্যাটারিসংশ্লিষ্ট ৪০০টির বেশি অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে বলে কর্মকর্তারা জানিয়েছেন। নগর কর্তৃপক্ষ বাসিন্দাদের বৈদ্যুতিক সাইকেল ও স্কুটারের ব্যাটারি নিরাপদ স্থানে চার্জ দেওয়ার, চার্জের সময় ঘুমিয়ে না থাকার এবং দরজা, জানালা বা বের হওয়ার পথের সামনে এসব যান না রাখার পরামর্শ দিয়েছে। একটি পরিবারের এই মর্মান্তিক পরিণতি আবারও মনে করিয়ে দিল—ঘরের ভেতরে ব্যবহৃত ছোট একটি ব্যাটারির নিরাপত্তা অবহেলা কত বড় বিপর্যয় ডেকে আনতে পারে।
ক্যানসার আক্রান্ত নারীকে হাসাতে সারা বছর বাড়িতে কঙ্কাল সাজিয়ে রাখলেন প্রতিবেশী
১ নভেম্বর থেকে স্বাস্থ্যবিমায় নতুন সুযোগ, ২০২৭ সালের চিকিৎসা খরচ কমাতে যা করবেন
যুক্তরাষ্ট্রের ৩ অঙ্গরাজ্যে আটক অভিবাসীদের বন্ড শুনানি ছাড়াই আটকের পক্ষে আদালতের রায়
যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্ক শহরে ফেডারেল অভিবাসন কর্তৃপক্ষের অভিযান ঘিরে নতুন করে উত্তেজনা তৈরি হয়েছে। ২৮ বছর বয়সী অস্কার বার্গালকে গুলি করার ঘটনার প্রতিবাদে শনিবার, ১০ অক্টোবর, ম্যানহাটনের হেরাল্ড স্কয়ারে শত শত মানুষ বিক্ষোভ করেন। অভিবাসন ও শুল্ক প্রয়োগকারী সংস্থা আইসিইর কার্যক্রম বন্ধ এবং ফেডারেল কর্মকর্তাদের জবাবদিহি নিশ্চিত করার দাবি জানান বিক্ষোভকারীরা। সিবিএস নিউইয়র্কের প্রতিবেদন অনুযায়ী, বৃহস্পতিবার ম্যানহাটনের মার্বেল হিল এলাকায় ফেডারেল অভিবাসন কর্মকর্তাদের অভিযানের সময় গুলির ঘটনা ঘটে। ওই সময় বার্গালের পাঁচ বছর বয়সী ছেলে গাড়ির পেছনের আসনে ছিল। শিশুটি গুলিতে আহত হয়নি বলে প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের হোমল্যান্ড সিকিউরিটি বিভাগ জানায়, কর্মকর্তারা বার্গালকে আটক করার চেষ্টা করছিলেন। বিভাগের দাবি, গাড়িটিকে কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে ব্যবহার করা হয়েছিল এবং তাঁরা নিজেদের নিরাপত্তার জন্য গুলি চালান। তবে গুলি চালানোর পরিস্থিতি, কর্মকর্তাদের কৌশল এবং ঘটনার আগে ঠিক কী ঘটেছিল, তা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। বার্গালের আইনজীবীর বক্তব্য অনুযায়ী, তাঁর শরীরে একটি গুলি আটকে রয়েছে। ঘটনাটির পর নিউইয়র্ক পুলিশ বিভাগের প্রকাশ করা ভিডিওতে গুলির মুহূর্ত দেখা যায়নি। তবে ভিডিওতে কর্মকর্তাদের গাড়ির কাছে যেতে এবং গাড়িচালককে সেখান থেকে চলে যাওয়ার চেষ্টা করতে দেখা গেছে বলে সংবাদমাধ্যম জানিয়েছে। এ ঘটনায় শুক্রবার ও শনিবার নিউইয়র্কের বিভিন্ন স্থানে প্রতিবাদ কর্মসূচি হয়। ফেডারেল অভিবাসন অভিযান নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেন অভিবাসী অধিকারকর্মী, স্থানীয় বাসিন্দা ও নির্বাচিত জনপ্রতিনিধিরা। তাঁদের বক্তব্য, অভিবাসন আইন কার্যকর করার নামে যেন অপ্রয়োজনীয় বলপ্রয়োগ না হয় এবং পরিবারের সদস্যদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হয়। হোমল্যান্ড সিকিউরিটি বিভাগ বার্গালের অভিবাসন অবস্থান এবং অতীতের গ্রেপ্তারের ঘটনা নিয়ে অভিযোগ করেছে। বিভাগটির আরও দাবি, তাঁর একটি অপরাধী চক্রের সঙ্গে সংশ্লিষ্টতা রয়েছে। এসব অভিযোগের স্বাধীন বিচারিক নিষ্পত্তি এবং ঘটনার তদন্তের ফলাফল প্রকাশ না হওয়া পর্যন্ত সেগুলোকে প্রমাণিত অপরাধ হিসেবে বিবেচনা করা যায় না। সিবিএস নিউইয়র্ক জানিয়েছে, শুক্রবার একজন ফেডারেল বিচারক সাময়িকভাবে বার্গালকে দেশ থেকে বহিষ্কারের ওপর নিষেধাজ্ঞা দেন। নিউইয়র্কের মেয়র জোহরান মামদানি তাঁর মুক্তির বিষয়ে ট্রাম্প প্রশাসনের সঙ্গে আলোচনা করার চেষ্টা করেছিলেন বলেও প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
যুক্তরাষ্ট্রে জনপ্রিয় পাউরুটি ফেরত নেওয়া হচ্ছে, দুধের উপাদান নিয়ে সতর্কতা
২৩৫ ইউনিট বিদ্যুতে ৫০৬ কোটি টাকার বিল, গ্রাহককে ফোন করে দুঃখ প্রকাশ মন্ত্রীর
জাপানের ধনী পরিবারে ‘ঘরজামাই’ দত্তক, উত্তরাধিকারী হওয়ার সুযোগ বাংলাদেশিদেরও
দেশে নিজের নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন জনপ্রিয় অভিনেত্রী তানজিন তিশা। সম্প্রতি একটি অনুষ্ঠানে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি বলেন, বাংলাদেশের বিভিন্ন জায়গায় নিরাপত্তার ঘাটতি রয়েছে এবং সাধারণ মানুষকে এমন অনেক পরিস্থিতির মুখোমুখি হতে হয়, যা তাদের প্রাপ্য নয়। তিশার বক্তব্যের মূল বিষয় ছিল ব্যক্তিগত নিরাপত্তা, বিশেষ করে নারীদের নিরাপদে চলাফেরার সুযোগ। তিনি বলেন, “সত্যি বলতে বাংলাদেশে নিজেকে নিরাপদ মনে করি না।” তাঁর ভাষ্য অনুযায়ী, বিভিন্ন পরিস্থিতিতে মানুষ অন্যায়ের শিকার হলেও অনেক সময় প্রত্যাশিত ন্যায়বিচার পায় না। নারীদের নিরাপত্তার বিষয়টিতে আরও গুরুত্ব দেওয়ার প্রয়োজন রয়েছে বলেও মন্তব্য করেন এই অভিনেত্রী। তাঁর মতে, একজন নারী যেন যেকোনো পরিস্থিতিতে নিশ্চিন্তে ও নিরাপদে চলাফেরা করতে পারেন, সে জন্য কার্যকর ব্যবস্থা নিশ্চিত করা জরুরি। আলোচনায় সোনার গয়না পরে বাইরে চলাফেরার প্রসঙ্গও উঠে আসে। তিশা প্রশ্ন তোলেন, নিরাপত্তার আশঙ্কায় একজন নারীকে কেন গয়না ব্যাগে লুকিয়ে নিয়ে চলতে হবে? তাঁর বক্তব্যের সারকথা ছিল—নারীরা নিজেদের জিনিসপত্র সঙ্গে নিয়ে বা পরে স্বাভাবিকভাবে চলাফেরা করতে পারবেন, এমন নিরাপদ পরিবেশ থাকা উচিত। তানজিন তিশা দীর্ঘদিন ধরে দেশের টেলিভিশন নাটকের পরিচিত মুখ। র্যাম্প মডেলিং দিয়ে বিনোদন অঙ্গনে যাত্রা শুরু করার পর বিজ্ঞাপন ও সংগীতচিত্রের মাধ্যমে পরিচিতি পান তিনি। পরে নিয়মিত নাটক এবং ওটিটি কনটেন্টে অভিনয় করে দর্শকদের কাছে পরিচিত হয়ে ওঠেন। বর্তমানে বড় পর্দাতেও কাজ করছেন তিশা। ২১ সেপ্টেম্বর প্রকাশিত একটি প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, তাঁর অভিনীত ‘সোলজার’ সিনেমাটি মুক্তির অপেক্ষায় রয়েছে এবং এতে শাকিব খানের সঙ্গে অভিনয় করেছেন তিনি। নিজের নিরাপত্তা নিয়ে তিশার সাম্প্রতিক মন্তব্যটি ২০ ও ২১ সেপ্টেম্বর দেশের একাধিক সংবাদমাধ্যমে প্রকাশিত হয়েছে। তবে আপনার দেওয়া “সবসময় একটা ভয় ও অনিশ্চয়তার মধ্যে থাকতে হচ্ছে আমাকে” বাক্যটি আমি যাচাই করা প্রতিবেদনগুলোতে হুবহু পাইনি। তাই সেটিকে সরাসরি তিশার উদ্ধৃতি হিসেবে না দিয়ে তাঁর যাচাইকৃত বক্তব্যের ভিত্তিতে সংবাদটি লেখা হলো।
“আপনার ভিসা অনুমোদন হয়েছে” - ইংরেজি না জানা বাংলাদেশি শিশুর নিউইয়র্কে জীবন বদলের গল্প
বর্জ্য পুনর্ব্যবহার ও পরিবেশবান্ধব অর্থনীতিতে বাংলাদেশ–নেদারল্যান্ডসের নতুন সহযোগিতার অঙ্গীকার