যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়া অঙ্গরাজ্যের কয়েকটি শহরের পানি সরবরাহ ব্যবস্থায় অনুপ্রবেশের দাবি করেছে একটি ইরান-সমর্থিত হ্যাকার গোষ্ঠী। তবে সাইবার নিরাপত্তা বিশেষজ্ঞরা বলছেন, গোষ্ঠীটির দাবি নিয়ে সতর্ক থাকা প্রয়োজন, কারণ তারা অতীতেও নিজেদের সক্ষমতা অতিরঞ্জিত করে দেখানোর অভিযোগে সমালোচিত হয়েছে।
‘হান্দালা’ নামে পরিচিত হ্যাকার গোষ্ঠীটি বৃহস্পতিবার দাবি করে, তারা ক্যালিফোর্নিয়ার বেকার্সফিল্ড, ভিসালিয়া এবং চিকো শহরের পানি ব্যবস্থার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট কিছু সিস্টেমে প্রবেশ করতে সক্ষম হয়েছে। নিজেদের দাবির পক্ষে তারা কিছু নথি ও স্ক্রিনশটও প্রকাশ করেছে, যেখানে স্থানীয় বাসিন্দাদের পানি বিলের তথ্য দেখা যাচ্ছে বলে দাবি করা হয়েছে।
গোষ্ঠীটির বক্তব্য অনুযায়ী, সম্প্রতি ইরানের কিছু জলাধারে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক হামলার প্রতিক্রিয়া হিসেবেই এই সাইবার অভিযান চালানো হয়েছে। এক বিবৃতিতে তারা দাবি করে, ইরানের সিরিক অঞ্চলের পানির উৎস ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার ঘটনার জবাব হিসেবে এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে।
তবে হ্যাকাররা একই সঙ্গে জানিয়েছে, তারা ক্যালিফোর্নিয়ার পানি সরবরাহ বন্ধ করেনি এবং আপাতত এমন কোনো পদক্ষেপ নেওয়ার পরিকল্পনাও নেই। তাদের ভাষ্য, এটি ছিল মূলত মার্কিন প্রেসিডেন্ট Donald Trump-কে উদ্দেশ্য করে দেওয়া একটি ‘সতর্কবার্তা’।
হান্দালা আরও দাবি করেছে, তারা অনুপ্রবেশের সময় প্রায় ৫ গিগাবাইট তথ্য সংগ্রহ করেছে। তবে এই দাবির সত্যতা এখনো স্বাধীনভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি।
অন্যদিকে সংশ্লিষ্ট পানি সরবরাহ প্রতিষ্ঠানগুলো হ্যাকারদের দাবি নিয়ে সন্দেহ প্রকাশ করেছে। ক্যালিফোর্নিয়া ওয়াটার সার্ভিস (ক্যালওয়াটার) জানিয়েছে, প্রাথমিক পর্যায়ের নিরাপত্তা পরীক্ষায় তাদের তথ্যপ্রযুক্তি বা পানি উৎপাদন ও সরবরাহ ব্যবস্থায় কোনো অনুপ্রবেশের প্রমাণ পাওয়া যায়নি।
প্রতিষ্ঠানটির এক মুখপাত্র বলেন, অভ্যন্তরীণ তথ্যপ্রযুক্তি ও পরিচালন নেটওয়ার্কে বিস্তারিত পরীক্ষা চালানো হয়েছে। এখন পর্যন্ত কোনো ধরনের নিরাপত্তা লঙ্ঘনের ইঙ্গিত মেলেনি। তবে বিষয়টি নিয়ে তদন্ত অব্যাহত রয়েছে।
সাইবার নিরাপত্তা বিশেষজ্ঞদের একাংশও হ্যাকারদের দাবিকে সতর্কতার সঙ্গে মূল্যায়নের পরামর্শ দিয়েছেন। সাইবার নিরাপত্তা প্রতিষ্ঠান বিয়ন্ডট্রাস্টের প্রধান তথ্য নিরাপত্তা কর্মকর্তা শন মালোন বলেন, হান্দালা অতীতেও নিজেদের সক্ষমতা নিয়ে অতিরঞ্জিত দাবি করেছে। তার মতে, পানি সরবরাহ ব্যবস্থা অক্ষত রেখেছে বলে যে প্রচার চালানো হচ্ছে, সেটিও সম্ভবত মনস্তাত্ত্বিক প্রভাব তৈরির কৌশলের অংশ।
তবে বিশেষজ্ঞরা একই সঙ্গে সতর্ক করেছেন, পানি সরবরাহ ও অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামো বিদেশি প্রতিপক্ষ ও সাইবার অপরাধীদের জন্য দীর্ঘদিন ধরেই আকর্ষণীয় লক্ষ্যবস্তু। তাই এমন দাবি সম্পূর্ণভাবে উড়িয়ে দেওয়ার সুযোগ নেই।
ঘটনাটি এমন এক সময়ে সামনে এলো, যখন যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে উত্তেজনা নতুন মাত্রা পেয়েছে। সাম্প্রতিক সামরিক ও কূটনৈতিক ঘটনাবলির কারণে দুই দেশের সম্পর্ক আবারও আন্তর্জাতিক আলোচনার কেন্দ্রে উঠে এসেছে।
এদিকে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প সম্প্রতি দাবি করেছেন, যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে একটি সম্ভাব্য শান্তি চুক্তি নিয়ে আলোচনা চলছে এবং দুই পক্ষ শিগগিরই একটি সমঝোতায় পৌঁছাতে পারে। তার ভাষ্য অনুযায়ী, ওই চুক্তির মাধ্যমে ইরানকে পারমাণবিক অস্ত্র অর্জন থেকে বিরত রাখার বিষয়টি নিশ্চিত করা হবে।
বিশ্লেষকদের মতে, ক্যালিফোর্নিয়ার পানি সরবরাহ ব্যবস্থা নিয়ে হ্যাকারদের এই দাবি সত্য হোক বা না হোক, ঘটনাটি গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামোর সাইবার নিরাপত্তা নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি করেছে। বিশেষ করে পানি, বিদ্যুৎ, পরিবহন ও যোগাযোগ ব্যবস্থার মতো খাতগুলো ভবিষ্যতে আরও বড় ধরনের সাইবার ঝুঁকির মুখে পড়তে পারে বলে তারা সতর্ক করছেন।
তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত হ্যাকারদের দাবির সত্যতা নিয়ে নিশ্চিত সিদ্ধান্তে পৌঁছানো সম্ভব নয়। তবে ঘটনাটি যুক্তরাষ্ট্রের সাইবার নিরাপত্তা ব্যবস্থা এবং আন্তর্জাতিক সাইবার সংঘাতের নতুন বাস্তবতা নিয়ে আলোচনা আরও জোরালো করেছে।
যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে। এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন। নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি। উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।” বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে। এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে। শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়। উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত। এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।
২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো। প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে। এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে। অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে। স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে। সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে। সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।
বাংলাদেশের আবাসন শিল্পে এক নতুন ইতিহাস রচিত হলো। রাজধানীর তেজগাঁও শিল্প এলাকায় নির্মিত দেশের প্রথম ৪০ তলা বিশিষ্ট আকাশচুম্বী বাণিজ্যিক ভবন ‘শান্তা পিনাকল’ আনুষ্ঠানিকভাবে হস্তান্তর করেছে শান্তা হোল্ডিংস। ৫০০ ফুট উচ্চতার এই আইকনিক ভবনটি এখন দেশের সর্বোচ্চ সম্পন্ন হওয়া ইমারত। গত শনিবার (১৮ এপ্রিল) ভবনের ৪০তম তলায় আয়োজিত এক আড়ম্বরপূর্ণ অনুষ্ঠানের মাধ্যমে এটি হস্তান্তর করা হয়। অনুষ্ঠানে শান্তা হোল্ডিংসের চেয়ারম্যান খন্দকার মনির উদ্দিন, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, স্থপতি এহসান খানসহ প্রতিষ্ঠানের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা, ভূমি মালিক এবং গ্রাহকরা উপস্থিত ছিলেন। স্থাপত্যশৈলী ও আধুনিক প্রযুক্তি:‘শান্তা পিনাকল’ শুধুমাত্র উচ্চতার কারণেই অনন্য নয়, বরং এটি আধুনিক নির্মাণশৈলী ও প্রযুক্তির এক অনন্য সমন্বয়। এটি বাংলাদেশের প্রথম ভবন যা পরিবেশবান্ধব স্থাপত্যের জন্য আন্তর্জাতিক ‘লিড প্ল্যাটিনাম’ (LEED Platinum) স্বীকৃতি পেয়েছে। সিঙ্গাপুরভিত্তিক বিখ্যাত ইঞ্জিনিয়ারিং প্রতিষ্ঠান ‘মেইনহার্ট’ (Meinhardt) এর সহায়তায় ভবনটির স্ট্রাকচারাল ডিজাইন এবং ভূমিকম্প প্রতিরোধক ব্যবস্থা নিশ্চিত করা হয়েছে। বিশেষ বৈশিষ্ট্যসমূহ: উন্নত লিফট ব্যবস্থা: ভবনটিতে রয়েছে ৮টি দ্রুতগামী লিফট, যা প্রতি সেকেন্ডে ৪ মিটার উচ্চতায় উঠতে সক্ষম। এটি দেশের দ্রুততম ভার্টিক্যাল ট্রান্সপোর্ট ব্যবস্থা। পরিবেশ ও সুরক্ষা: ভবনে ব্যবহৃত হয়েছে ৩৬ মিমি পুরুত্বের ডাবল গ্লেজড গ্লাস, যা তাপ ও শব্দ নিরোধক। এছাড়া এটি দেশের প্রথম ‘উইন্ড টানেল টেস্ট’ করা ভবন, যা প্রতিকূল আবহাওয়ায় এর স্থায়িত্ব নিশ্চিত করে। আইবিএমএস প্রযুক্তি: পুরো ভবনটি একটি ইন্টেলিজেন্ট বিল্ডিং ম্যানেজমেন্ট সিস্টেম (iBMS) দ্বারা পরিচালিত, যা সার্বক্ষণিক নিরাপত্তা ও জ্বালানি সাশ্রয় নিশ্চিত করবে। অগ্নি নিরাপত্তা: আন্তর্জাতিক এনএফপিএ (NFPA) স্ট্যান্ডার্ড অনুসরণ করে এখানে অত্যাধুনিক অগ্নিনির্বাপক ব্যবস্থা স্থাপন করা হয়েছে। অনুষ্ঠানে শান্তা হোল্ডিংসের পক্ষ থেকে জানানো হয়, ‘শান্তা পিনাকল’ হস্তান্তর দেশের রিয়েল এস্টেট খাতের সক্ষমতার এক বড় প্রমাণ। এটি শুধুমাত্র তেজগাঁও নয়, বরং পুরো ঢাকার বাণিজ্যিক পরিবেশকে বিশ্বমানের স্তরে নিয়ে যাবে। দেশের ইতিহাসে প্রথমবার অ্যালুমিনিয়াম ফর্মওয়ার্ক ব্যবহারের মাধ্যমে মাত্র সাত দিনে এক একটি তলার ছাদ ঢালাইয়ের রেকর্ড গড়ে এই প্রকল্পের কাজ সম্পন্ন করা হয়েছে। ঢাকার আকাশসীমায় নতুন এই ল্যান্ডমার্ক দেশের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি এবং আধুনিক নগরায়নের এক শক্তিশালী প্রতীক হিসেবে দাঁড়িয়ে আছে।
যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা প্রত্যাশীদের জন্য কঠোর হচ্ছে নিয়মাবলী। আগামী ৩০ মার্চ থেকে কার্যকর হতে যাচ্ছে নতুন ভিসা রুলস, যেখানে আবেদনকারীদের সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের প্রোফাইল পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে যাচাই বা স্ক্রিনিং করা হবে। মার্কিন প্রশাসনের এই নতুন পদক্ষেপে বাংলাদেশসহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশের ভিসা প্রত্যাশীদের মধ্যে ব্যাপক আলোচনার সৃষ্টি হয়েছে। নতুন এই নিয়ম মূলত অ-অভিবাসী (Non-immigrant) এবং অভিবাসী (Immigrant) উভয় ধরণের ভিসার ক্ষেত্রে প্রযোজ্য হতে পারে। বিশেষ করে যারা ট্যুরিস্ট ভিসা, স্টুডেন্ট ভিসা এবং কাজের সন্ধানে এইচ-১বি (H-1B) ভিসার জন্য আবেদন করবেন, তাদের সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের তথ্য প্রদান বাধ্যতামূলক করা হচ্ছে। আবেদনকারীদের গত পাঁচ বছরের ব্যবহৃত সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমগুলোর ইউজার আইডি বা হ্যান্ডেল নাম ফর্মে উল্লেখ করতে হবে। ফেসবুক, টুইটার (বর্তমানে এক্স), ইনস্টাগ্রাম এবং ইউটিউবের মতো জনপ্রিয় প্ল্যাটফর্মগুলো এই স্ক্রিনিংয়ের আওতায় থাকবে। তবে পাসওয়ার্ড দেওয়ার প্রয়োজন হবে না। মূলত আবেদনকারীর নিরাপত্তা ঝুঁকি এবং পূর্ববর্তী কোনো উসকানিমূলক বা সন্দেহজনক কর্মকাণ্ড আছে কি না, তা যাচাই করতেই এই পদক্ষেপ। মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তর জানিয়েছে, জাতীয় নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং জননিরাপত্তার স্বার্থেই এই স্ক্রিনিং প্রক্রিয়া জোরদার করা হয়েছে। কোনো ব্যক্তি যদি অতীতে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে উগ্রবাদ বা আইনবিরোধী কোনো কাজে লিপ্ত থেকে থাকেন, তবে তার ভিসা আবেদন বাতিল হওয়ার সম্ভাবনা তৈরি হবে। ভিসা বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ৩০ মার্চের পর যারা আবেদন করবেন, তাদের অবশ্যই গত ৫ বছরের ডিজিটাল ফুটপ্রিন্ট সম্পর্কে সতর্ক থাকতে হবে। কোনো ভুল তথ্য দিলে বা তথ্য গোপন করলে তা স্থায়ীভাবে ভিসা প্রত্যাখ্যাত হওয়ার কারণ হতে পারে। এছাড়া ইমেইল অ্যাড্রেস এবং ফোন নম্বর প্রদানের ক্ষেত্রেও অতিরিক্ত সতর্কতা অবলম্বনের পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। এই নতুন নিয়ম চালুর ফলে ভিসা প্রক্রিয়াকরণে কিছুটা অতিরিক্ত সময় লাগতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। তাই প্রয়োজনীয় কাগজপত্র এবং অনলাইন প্রোফাইল গুছিয়ে আবেদন করার পরামর্শ দিচ্ছে সংশ্লিষ্ট দপ্তরগুলো।
যুক্তরাষ্ট্রের ফ্লোরিডায় দক্ষিণ ফ্লোরিডা বিশ্ববিদ্যালয়ের (ইউএসএফ) নিখোঁজ দুই বাংলাদেশি শিক্ষার্থীর মর্মান্তিক পরিণতির খবর পাওয়া গেছে। নিখোঁজ জামিল লিমনের (২৭) মরদেহ উদ্ধার করা হলেও, পুলিশ ধারণা করছে নাহিদা বৃষ্টিকেও (২৭) নৃশংসভাবে হত্যা করা হয়েছে। অভিযুক্ত ঘাতক ও লিমনের রুমমেট হিশাম আবুগারবিয়ার ফ্ল্যাটে ‘প্রচুর রক্ত’ পাওয়ার পর পুলিশ জানিয়েছে, বৃষ্টির মরদেহ উদ্ধার করা সম্ভবত আর কখনোই সম্ভব হবে না। নিহত বৃষ্টির বড় ভাই জাহিদ হাসান প্রান্ত মার্কিন সংবাদমাধ্যম ‘১০ টাম্পা বে নিউজ’-কে জানান, শুক্রবার গভীর রাতে যুক্তরাষ্ট্রের তদন্তকারীরা বাংলাদেশে তাদের পরিবারের সাথে যোগাযোগ করেছেন। পুলিশ জানিয়েছে, লিমন ও হিশামের শেয়ার করা ফ্ল্যাটে যে পরিমাণ রক্ত পাওয়া গেছে, তা থেকে নিশ্চিত হওয়া গেছে যে বৃষ্টি আর বেঁচে নেই। পুলিশের আশঙ্কা, হত্যার পর মরদেহটি সম্ভবত ছিন্নবিচ্ছিন্ন বা টুকরো টুকরো করে ফেলা হয়েছে, যার ফলে এটি খুঁজে পাওয়া অত্যন্ত কঠিন। গত শুক্রবার সকাল সোয়া ৬টার দিকে হাওয়ার্ড ফ্র্যাঙ্কল্যান্ড ব্রিজের পাশ থেকে লিমনের মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। এর কয়েক ঘণ্টা পরেই সকাল ৯টার দিকে ইউএসএফ ক্যাম্পাসের কাছে লেক ফরেস্ট এলাকায় অভিযুক্ত হিশাম আবুগারবিয়ার বাড়িতে অভিযান চালায় হিলসবোরো কাউন্টি শেরিফ কার্যালয়। পুলিশ হিশামের বাড়িতে পৌঁছালে তিনি নিজেকে ঘরের ভেতর তালাবদ্ধ করে রাখেন। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে পুলিশের বিশেষায়িত ইউনিট ‘সোয়াট’ (SWAT) তলব করা হয়। প্রায় ২০ মিনিটের রুদ্ধশ্বাস পরিস্থিতির পর হিশাম আত্মসমর্পণ করেন। তার বিরুদ্ধে পারিবারিক সহিংসতা, তথ্যপ্রমাণ নষ্ট করা এবং অবৈধভাবে মরদেহ সরানোর মতো ছয়টি গুরুতর অভিযোগ আনা হয়েছে। বিশ্ববিদ্যালয় সূত্রে জানা গেছে, হিশাম ফিলিস্তিনি বংশোদ্ভূত মার্কিন নাগরিক। তিনি লিমনের রুমমেট হিসেবে একই ফ্ল্যাটে থাকতেন। অন্যদিকে, কেমিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিংয়ে পিএইচডি গবেষণারত নাহিদা বৃষ্টি গত ১৬ এপ্রিল থেকে নিখোঁজ ছিলেন। লিমনের সাথে তার আগে প্রেমের সম্পর্ক থাকলেও বর্তমানে ছিল না বলে জানিয়েছেন বৃষ্টির পরিবার। তদন্তকারীরা লিমনের মৃত্যু নিশ্চিত করলেও বৃষ্টির নিখোঁজ রহস্য ও তাকে হত্যার নৃশংসতা এখন পুরো ফ্লোরিডা ও বাংলাদেশি কমিউনিটিতে শোকের ছায়া ফেলেছে।
চীনের উপকূলীয় জলসীমায় কচ্ছপ, মাছ এবং অন্যান্য সামুদ্রিক প্রাণী ব্যবহার করে গুপ্তচরবৃত্তি চালানো হচ্ছে বলে দাবি করেছে দেশটির রাষ্ট্রীয় নিরাপত্তা মন্ত্রণালয়। বেইজিংয়ের ভাষ্য অনুযায়ী, বিদেশি শক্তিগুলো সামুদ্রিক তথ্য সংগ্রহের জন্য উন্নত প্রযুক্তিসমৃদ্ধ সেন্সর প্রাণীদের শরীরে স্থাপন করে সংবেদনশীল এলাকায় পাঠাচ্ছে। শুক্রবার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম উইচ্যাটে প্রকাশিত এক বিবৃতিতে চীনের রাষ্ট্রীয় নিরাপত্তা মন্ত্রণালয় দাবি করে, দেশটির জলসীমায় এক ধরনের ‘সামুদ্রিক গুপ্তচরবৃত্তির স্রোত’ সক্রিয় রয়েছে। এর মাধ্যমে বিদেশি গোয়েন্দা সংস্থাগুলো চীনের উপকূল, সমুদ্রতল এবং সামুদ্রিক পরিবেশসংক্রান্ত গুরুত্বপূর্ণ তথ্য সংগ্রহের চেষ্টা করছে। বিবৃতিতে বলা হয়, কিছু সামুদ্রিক প্রাণীর শরীরে বিশেষ সেন্সর বসানো হয়েছে, যা সমুদ্রের স্রোত, পানির তাপমাত্রা, গভীরতা এবং সমুদ্রতলের বৈশিষ্ট্য সম্পর্কে তথ্য সংগ্রহ করে। পরে এসব তথ্য বিদেশে অবস্থানরত উপগ্রহে পাঠানো হয় বলে অভিযোগ করেছে চীনা কর্তৃপক্ষ। চীনের দাবি, এই তথ্য ব্যবহার করে বিদেশি শক্তিগুলো দেশটির উপকূলীয় এলাকার বিস্তারিত সামুদ্রিক মানচিত্র তৈরি করতে পারে, যা ভবিষ্যতে সামরিক বা গোয়েন্দা কর্মকাণ্ডে ব্যবহৃত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। রাষ্ট্রীয় নিরাপত্তা মন্ত্রণালয় আরও জানিয়েছে, তারা বিভিন্ন সময়ে আবহাওয়া পর্যবেক্ষণ যন্ত্র, উচ্চক্ষমতাসম্পন্ন শ্রবণ সেন্সরযুক্ত ভাসমান যন্ত্র এবং সৌরশক্তিচালিত স্বয়ংক্রিয় সামুদ্রিক গ্লাইডার উদ্ধার করেছে। এসব যন্ত্র বন্দর এলাকায় চলাচল, সমুদ্রপথের কার্যক্রম এবং পরিবেশগত তথ্য সংগ্রহে সক্ষম বলে দাবি করা হয়েছে। চীনা কর্তৃপক্ষের মতে, সমুদ্রস্রোতের গতিবিধি, পানির তাপমাত্রা, তাপমাত্রার বণ্টন এবং সমুদ্রতলের গঠনসংক্রান্ত তথ্য বিদেশি গোয়েন্দা সংস্থার হাতে গেলে তা দেশের জাতীয় নিরাপত্তা, সামরিক স্বার্থ এবং অর্থনৈতিক নিরাপত্তার জন্য ঝুঁকি তৈরি করতে পারে। তবে চীনের এই দাবিগুলোর পক্ষে স্বাধীনভাবে যাচাই করা কোনো প্রমাণ এখন পর্যন্ত প্রকাশ করা হয়নি। আন্তর্জাতিক নিরাপত্তা বিশ্লেষকদের একটি অংশ মনে করেন, সামুদ্রিক গবেষণা ও পরিবেশ পর্যবেক্ষণে বিভিন্ন ধরনের সেন্সর, ভাসমান যন্ত্র ও স্বয়ংক্রিয় প্রযুক্তি ব্যবহৃত হলেও সেগুলোর সবকিছুকে গুপ্তচরবৃত্তির সঙ্গে যুক্ত করা যায় না। ফলে চীনের অভিযোগগুলোর প্রকৃত ভিত্তি নিয়ে প্রশ্নও রয়েছে। এদিকে দেশটির নিরাপত্তা সংস্থা জেলে, নৌযান মালিক, গবেষক এবং উপকূলীয় বাসিন্দাদের সন্দেহজনক যেকোনো যন্ত্র বা অস্বাভাবিক সামুদ্রিক বস্তুর বিষয়ে সতর্ক থাকার আহ্বান জানিয়েছে। চীনে সামুদ্রিক গোয়েন্দা সরঞ্জাম শনাক্ত বা উদ্ধারকারীদের জন্য পুরস্কার দেওয়ার ব্যবস্থাও রয়েছে। গত কয়েক বছর ধরে দেশটির বিভিন্ন অঞ্চলে এমন কর্মসূচি চালু রয়েছে। সরকারি তথ্য অনুযায়ী, সন্দেহভাজন নজরদারি সরঞ্জাম শনাক্ত করে কর্তৃপক্ষকে সহায়তা করলে সর্বোচ্চ পাঁচ লাখ ইউয়ান পর্যন্ত পুরস্কার দেওয়া হতে পারে। বিশ্লেষকদের মতে, সাম্প্রতিক বছরগুলোতে প্রযুক্তিনির্ভর গোয়েন্দা কর্মকাণ্ড, সামুদ্রিক নিরাপত্তা এবং ভূরাজনৈতিক প্রতিযোগিতা নিয়ে যুক্তরাষ্ট্র, চীন ও অন্যান্য শক্তিধর দেশের মধ্যে উত্তেজনা বেড়েছে। সেই প্রেক্ষাপটে চীনের এই অভিযোগ নতুন করে আন্তর্জাতিক আলোচনার জন্ম দিয়েছে। তবে কচ্ছপ বা মাছ ব্যবহার করে বিদেশি শক্তিগুলো বাস্তবিক অর্থে কতটা গোয়েন্দা কার্যক্রম চালাচ্ছে, সে বিষয়ে এখনো কোনো স্বাধীন ও নির্ভরযোগ্য প্রমাণ প্রকাশিত হয়নি। ফলে বিষয়টি নিয়ে কৌতূহল যেমন তৈরি হয়েছে, তেমনি সংশয়ও রয়ে গেছে।
ভারতের পশ্চিমবঙ্গ রাজ্যের পুরুলিয়া জেলায় এক মুসলিম ফেরিওয়ালাকে কুড়াল দিয়ে কুপিয়ে হত্যা করা হয়েছে। পরিবারের অভিযোগ, নিহত ব্যক্তিকে হত্যার আগে ধর্মীয় স্লোগান দিতে বাধ্য করা হয় এবং দীর্ঘদিন ধরে এলাকায় চলমান ভয় ও বিদ্বেষের পরিবেশ এই ঘটনার সঙ্গে জড়িত। তবে পুলিশ এ ঘটনায় ধর্মীয় বিদ্বেষের কোনো ভূমিকা থাকার বিষয়টি অস্বীকার করেছে। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, গত ৯ জুন ৪৭ বছর বয়সী আকবর মণ্ডলকে হত্যা করা হয়। নিহতের ২০ বছর বয়সী ছেলে জুলফিকার মণ্ডল জানান, তার বাবা বন্দওয়ান অঞ্চলে ফেরিওয়ালা হিসেবে জীবিকা নির্বাহ করতেন। ঘটনার দিন সকালে তিনি ঠেলাগাড়িতে স্টিলের বাসনপত্র বিক্রি করতে বের হন। জুলফিকারের ভাষ্য অনুযায়ী, সুপুরদিহি গ্রামের একটি বাড়িতে আকবরকে হঠাৎ করে টেনে নেওয়া হয় এবং সেখানে এক ব্যক্তি তার ওপর হামলা চালায়। প্রথমে লাঠি দিয়ে মারধর করা হয়, পরে কুড়াল দিয়ে আঘাত করা হয়। তিনি আরও জানান, ধারালো অস্ত্র দিয়ে আঘাতের ঘটনাও ঘটে। পরিবারের দাবি, ঘটনার দিন দুপুরে বান্দওয়ান থানার একজন কর্মকর্তা ফোনে আকবরের মৃত্যুর খবর দেন এবং হাসপাতালে যেতে বলেন। পরে হাসপাতালে গিয়ে তারা তার মরদেহ দেখতে পান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, মরদেহে গুরুতর আঘাতের চিহ্ন ছিল এবং হাসপাতালে নেওয়ার আগেই তার মৃত্যু হয়েছে বলে চিকিৎসকরা জানান। নিহতের ছেলে জুলফিকার অভিযোগ করেন, এলাকায় দীর্ঘদিন ধরে ভয়ের পরিবেশ তৈরি হয়েছে এবং কিছু লোক তাদের ধর্মীয় পরিচয়ের কারণে হয়রানি করত। তিনি বলেন, দাড়ি থাকার কারণে তাদের ‘জয় শ্রীরাম’ বলতে বাধ্য করা হতো এবং ফেরিওয়ালা হিসেবে কাজ করতে বাধা দেওয়ার কথাও বলা হতো। তিনি আরও দাবি করেন, রাজনৈতিক পরিবর্তনের পর থেকে এলাকায় ভয়ের পরিবেশ বেড়েছে এবং তার পরিবারসহ স্থানীয় মুসলিম সম্প্রদায় নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছে। ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত এবং দায়ীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছে নিহতের পরিবার। অন্যদিকে পুলিশ এ ঘটনায় ধর্মীয় বিদ্বেষের অভিযোগ অস্বীকার করে তদন্ত চলছে বলে জানিয়েছে।
২০২৬ ফুটবল বিশ্বকাপ উত্তর আমেরিকার জন্য এক ঐতিহাসিক আয়োজন। প্রথমবারের মতো যুক্তরাষ্ট্র, কানাডা ও মেক্সিকো যৌথভাবে বিশ্বের সবচেয়ে বড় ফুটবল আসরের আয়োজন করছে। তবে এই আয়োজন কেবল ক্রীড়াঙ্গনের আলোচনায় সীমাবদ্ধ নেই; বরং তিন প্রতিবেশী দেশের রাজনৈতিক, অর্থনৈতিক ও কূটনৈতিক সম্পর্কও নতুন করে আলোচনায় উঠে এসেছে। ১৬টি শহর ও তিনটি দেশের বিস্তীর্ণ ভৌগোলিক পরিসরে অনুষ্ঠিত হতে যাওয়া বিশ্বকাপ এমন এক সময়ে আয়োজন করা হচ্ছে, যখন যুক্তরাষ্ট্র, কানাডা ও মেক্সিকোর মধ্যে বিভিন্ন ইস্যুতে সম্পর্ক টানাপোড়েনের মধ্য দিয়ে যাচ্ছে। গত ডিসেম্বর ওয়াশিংটনে অনুষ্ঠিত বিশ্বকাপের ড্র অনুষ্ঠানে ফিফা সভাপতি জিয়ান্নি ইনফান্তিনোর সঙ্গে তিন দেশের নেতাদের হাস্যোজ্জ্বল উপস্থিতি সহযোগিতার একটি ইতিবাচক বার্তা দিলেও ৩৯ দিনের দীর্ঘ টুর্নামেন্ট পরিচালনা এবং লাখো দর্শনার্থীর যাতায়াত নিশ্চিত করা বাস্তবে আরও জটিল চ্যালেঞ্জ হয়ে উঠতে পারে। যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বারবার যুক্তরাষ্ট্রকে উত্তর আমেরিকার প্রধান শক্তি হিসেবে উল্লেখ করেছেন। তার প্রশাসনের বাণিজ্যনীতি, অভিবাসন নীতি এবং সীমান্ত নিরাপত্তা সংক্রান্ত অবস্থান তিন দেশের সম্পর্কের ওপর প্রভাব ফেলেছে। মেক্সিকো ও কানাডা, উভয়ই যুক্তরাষ্ট্রের গুরুত্বপূর্ণ বাণিজ্য অংশীদার। তবে ট্রাম্পের শুল্কনীতি প্রথম ধাক্কা দেয় এই দুই দেশকেই। কানাডা বিশেষভাবে ক্ষুব্ধ হয়েছিল ট্রাম্পের সেই মন্তব্যে, যেখানে তিনি দেশটিকে যুক্তরাষ্ট্রের ‘৫১তম অঙ্গরাজ্য’ হিসেবে উল্লেখ করেছিলেন। এর প্রতিক্রিয়ায় কানাডার বিভিন্ন প্রদেশ দোকান থেকে মার্কিন অ্যালকোহল পণ্য সরিয়ে নেয়। একই সঙ্গে কানাডীয় নাগরিকদের যুক্তরাষ্ট্র ভ্রমণের হারও উল্লেখযোগ্যভাবে কমে যায়। ক্যালগারি বিশ্ববিদ্যালয়ের আন্তর্জাতিক নীতি পরিচালক কার্লো ডেডের মতে, যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে বিরোধ কানাডা ও মেক্সিকোর পারস্পরিক সম্পর্কেও প্রভাব ফেলেছে। বিশেষ করে উত্তর আমেরিকায় চীনা বিনিয়োগের প্রবেশপথ হিসেবে মেক্সিকোকে অভিযুক্ত করার ঘটনায় দুই দেশের মধ্যে অস্বস্তি তৈরি হয়েছিল। এই প্রেক্ষাপটে কানাডার প্রধানমন্ত্রী মার্ক কার্নিকে একদিকে মেক্সিকোর সঙ্গে সম্পর্ক উন্নয়নের চেষ্টা করতে হচ্ছে, অন্যদিকে যুক্তরাষ্ট্রের ওপর নির্ভরশীলতা কমিয়ে বাণিজ্য বহুমুখীকরণের পথও খুঁজতে হচ্ছে। এর আগে কখনো বিশ্বকাপ একসঙ্গে তিনটি দেশে অনুষ্ঠিত হয়নি। ফলে ২০২৬ সালের এই আয়োজনকে ঘিরে নিরাপত্তা, পরিবহন, অভিবাসন ও প্রশাসনিক সমন্বয়ের বড় চ্যালেঞ্জ তৈরি হয়েছে। বিশ্বকাপ চলাকালে লাখো সমর্থককে তিন দেশের মধ্যে যাতায়াত করতে হবে। এ ক্ষেত্রে যুক্তরাষ্ট্রের কঠোর অভিবাসন নীতি এবং সীমান্ত নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থাকে সম্ভাব্য জটিলতার অন্যতম কারণ হিসেবে দেখা হচ্ছে। একই সময়ে ইরানকে ঘিরে আন্তর্জাতিক নিরাপত্তা পরিস্থিতি এবং যুক্তরাষ্ট্রের বাড়তি নিরাপত্তা সতর্কতাও নতুন উদ্বেগের জন্ম দিয়েছে। নিউইয়র্ক ইউনিভার্সিটির গ্লোবাল স্পোর্টের ক্লিনিক্যাল অ্যাসিস্ট্যান্ট প্রফেসর লিন্ডসে সারাহ ক্র্যাসনফ বলেন, কোনো বৈশ্বিক ক্রীড়া আসর যৌথভাবে আয়োজন করা মানেই সংশ্লিষ্ট দেশগুলোর মধ্যে আদর্শ সম্পর্ক বিদ্যমান থাকবে, এমনটি ধরে নেওয়া যায় না। তিনি ২০২৩ সালের নারী বিশ্বকাপ এবং ২০০২ সালের জাপান-দক্ষিণ কোরিয়া যৌথ বিশ্বকাপের উদাহরণ টেনে বলেন, বড় ক্রীড়া আয়োজন কূটনৈতিক যোগাযোগ বাড়াতে পারে, তবে সব সময় রাজনৈতিক সম্পর্কের মৌলিক পরিবর্তন ঘটায় না। এদিকে মেক্সিকোতে বিশ্বকাপ প্রস্তুতি নিয়েও প্রশ্ন রয়েছে। দেশটির রাজধানীতে বিমানবন্দর অবকাঠামো, যানজটপূর্ণ গণপরিবহন ব্যবস্থা এবং সংস্কারাধীন অ্যাজটেকা স্টেডিয়াম নিয়ে উদ্বেগ দেখা দিয়েছে। এর পাশাপাশি দেশটিতে চলমান শিক্ষক আন্দোলন ও ধর্মঘট পরিস্থিতিও বিশ্বকাপ আয়োজনের প্রস্তুতির ওপর প্রভাব ফেলতে পারে। আন্দোলনকারীরা ইতোমধ্যে সতর্ক করেছেন, দাবি পূরণ না হলে তারা আরও কঠোর কর্মসূচি দিতে পারেন। তবে মেক্সিকোর প্রেসিডেন্ট ক্লাউডিয়া শেইনবম বিশ্বকাপকে দেশের সাংস্কৃতিক পরিচয় ও সক্ষমতা বিশ্ববাসীর সামনে তুলে ধরার একটি বড় সুযোগ হিসেবে দেখছেন। মেক্সিকান ক্রীড়া সাংবাদিক রাফায়েল পুয়েন্তে বলেন, বিশ্বকাপের আগে দেশটির যেসব সমস্যা রয়েছে, সেগুলো আড়াল করার চেষ্টা করা উচিত হবে না। তার মতে, দর্শনার্থীদেরও বাস্তব পরিস্থিতি সম্পর্কে সচেতন থাকা প্রয়োজন। বিশ্বকাপের বাইরেও তিন দেশের সামনে গুরুত্বপূর্ণ অর্থনৈতিক ও কূটনৈতিক বিষয় রয়েছে। বর্তমানে উত্তর আমেরিকার দীর্ঘদিনের মুক্ত বাণিজ্য কাঠামো পর্যালোচনার একটি গুরুত্বপূর্ণ পর্যায় চলছে। এই প্রক্রিয়া ভবিষ্যৎ আঞ্চলিক অর্থনৈতিক সহযোগিতার দিক নির্ধারণ করতে পারে। মেক্সিকো ইতোমধ্যে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে আনুষ্ঠানিক আলোচনা শুরু করেছে। অন্যদিকে কানাডা নতুন বাণিজ্য অংশীদার খুঁজে অর্থনৈতিক সম্পর্ক সম্প্রসারণের পথ অনুসন্ধান করছে। পর্যবেক্ষকদের মতে, বিশ্বকাপ সফলভাবে আয়োজন করতে পারলে তা তিন দেশের মধ্যে সহযোগিতার নতুন দিগন্ত উন্মোচন করতে পারে। একই সঙ্গে এই আয়োজন কূটনৈতিক সম্পর্ক উন্নয়ন, আঞ্চলিক সমন্বয় এবং অর্থনৈতিক সহযোগিতার ক্ষেত্রেও ইতিবাচক ভূমিকা রাখতে পারে। তবে ফুটবলের মতোই এই আয়োজনের পরিণতিও এখনো অনিশ্চিত। আগামী এক মাসে মাঠের খেলার পাশাপাশি আন্তর্জাতিক রাজনীতি ও কূটনীতির আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ পরীক্ষাও অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে উত্তর আমেরিকাজুড়ে।