এক ভিসায় ইউরোপ, মধ্যপ্রাচ্য ও লাতিন আমেরিকার ২২ দেশ ভ্রমণের সুযোগ
বাংলাদেশি ভ্রমণপ্রেমীদের কাছে যুক্তরাজ্যের (ইউকে) ভিসা এখন আর শুধু ব্রিটেনে প্রবেশের অনুমতিপত্র নয়, বরং বহুদেশ ভ্রমণের একটি কার্যকর মাধ্যম হিসেবেও গুরুত্ব পাচ্ছে। বৈধ ও ব্যবহৃত ইউকে ভিসা অথবা যুক্তরাজ্যের আবাসিক অনুমতিপত্র থাকলে বিশ্বের বিভিন্ন অঞ্চলের একাধিক দেশে সহজ শর্তে প্রবেশের সুযোগ পাওয়া যায়। ফলে একটি ভিসা ব্যবহার করেই একাধিক দেশ ভ্রমণের সুযোগ তৈরি হওয়ায় বাংলাদেশি পর্যটক, শিক্ষার্থী, ব্যবসায়ী ও প্রবাসীদের মধ্যে ইউকে ভিসার প্রতি আগ্রহ ক্রমেই বাড়ছে।
ভ্রমণ বিশেষজ্ঞদের মতে, বৈধ ইউকে ভিসাধারী বাংলাদেশি পাসপোর্টধারীরা অন্তত ২২টি দেশে ভিসামুক্ত, অন-অ্যারাইভাল ভিসা কিংবা সহজীকৃত প্রবেশ সুবিধা পেতে পারেন। এতে আলাদা আলাদা ভিসার জন্য আবেদন, অতিরিক্ত ফি এবং দীর্ঘ অপেক্ষার ঝামেলা অনেকাংশে কমে যায়।
বর্তমানে ইউকে ভিসাধারীদের জন্য সুবিধাজনক গন্তব্যগুলোর মধ্যে রয়েছে আলবেনিয়া, সার্বিয়া, মন্টিনিগ্রো, নর্থ মেসিডোনিয়া, জর্জিয়া, তুরস্ক, সৌদি আরব, মিশর, আজারবাইজান, মেক্সিকো, কোস্টারিকা, পানামা, ডোমিনিকান রিপাবলিক, অ্যান্টিগুয়া ও বারবুডা, অ্যাঙ্গুইলা, ব্রিটিশ ভার্জিন দ্বীপপুঞ্জ এবং তুর্কস অ্যান্ড কাইকোস দ্বীপপুঞ্জ। এছাড়া যুক্তরাজ্যের অন্তর্ভুক্ত স্কটল্যান্ড, ওয়েলস, উত্তর আয়ারল্যান্ডসহ অন্যান্য অঞ্চলেও একই ভিসায় ভ্রমণ করা যায়।
ভ্রমণসংশ্লিষ্টরা বলছেন, সাম্প্রতিক বছরগুলোতে ইউরোপের শেনজেনভুক্ত দেশগুলোর ভিসা পাওয়া তুলনামূলক কঠিন হয়ে উঠেছে। অনেক আবেদনকারী স্বল্পমেয়াদি ভিসা পাচ্ছেন, আবার আবেদন প্রক্রিয়াও দীর্ঘ ও জটিল হয়ে পড়েছে। একইভাবে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা আবেদনেও কঠোর যাচাই-বাছাই এবং সাক্ষাৎকার প্রক্রিয়ার কারণে অনিশ্চয়তা থাকে।
এমন পরিস্থিতিতে ইউকে ভিসা আন্তর্জাতিক ভ্রমণের ক্ষেত্রে একটি বাস্তবসম্মত বিকল্প হিসেবে আবির্ভূত হয়েছে। একবার যুক্তরাজ্যের ভিসা পাওয়া গেলে শুধু ব্রিটেন নয়, বরং ইউরোপ, মধ্যপ্রাচ্য, আফ্রিকা, লাতিন আমেরিকা ও ক্যারিবীয় অঞ্চলের বিভিন্ন দেশে ভ্রমণের সুযোগ তৈরি হয়।
বিশেষজ্ঞদের মতে, একটি সুপরিকল্পিত ভ্রমণসূচির মাধ্যমে ইউরোপ ও মধ্যপ্রাচ্যের কয়েকটি দেশকে একই সফরে অন্তর্ভুক্ত করা সম্ভব। এতে শুধু সময়ই সাশ্রয় হয় না, সামগ্রিক ভ্রমণ ব্যয়ও কমে আসে। অনেক ভ্রমণকারী এখন ইউকে ভিসাকে ‘মাল্টি-ডেস্টিনেশন ট্রাভেল স্ট্র্যাটেজি’র অংশ হিসেবে বিবেচনা করছেন।
তবে সব দেশের ক্ষেত্রে একই ধরনের সুবিধা প্রযোজ্য নয়। কোনো দেশে ভিসামুক্ত প্রবেশের সুযোগ থাকলেও অন্য কোনো দেশে অন-অ্যারাইভাল ভিসা বা ইলেকট্রনিক ভিসার প্রয়োজন হতে পারে। আবার অনেক ক্ষেত্রে ইউকে ভিসা অবশ্যই ব্যবহার করা থাকতে হবে অথবা নির্দিষ্ট সময় পর্যন্ত বৈধ থাকতে হবে।
ভ্রমণ বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করে বলেছেন, বিভিন্ন দেশের অভিবাসন ও ভিসা নীতিমালা সময়ের সঙ্গে পরিবর্তিত হতে পারে। তাই ভ্রমণের পরিকল্পনা করার আগে সংশ্লিষ্ট দেশের দূতাবাস, কনস্যুলেট বা সরকারি অভিবাসন কর্তৃপক্ষের সর্বশেষ নির্দেশনা যাচাই করা জরুরি।
এদিকে ইউকে ভিসা পাওয়ার ক্ষেত্রে আবেদনকারীদের আর্থিক সক্ষমতা, আয়ের উৎস, পেশাগত তথ্য, ব্যাংক হিসাবের লেনদেন, ভ্রমণ ইতিহাস এবং অন্যান্য প্রয়োজনীয় নথিপত্র যথাযথভাবে প্রস্তুত রাখার পরামর্শ দিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা। কোনো ধরনের ভুয়া বা জাল কাগজপত্র ব্যবহার করলে শুধু আবেদন বাতিলই নয়, ভবিষ্যতে দীর্ঘমেয়াদি ভিসা নিষেধাজ্ঞার ঝুঁকিও তৈরি হতে পারে।
বিশ্লেষকদের মতে, স্বচ্ছ আর্থিক তথ্য, সঠিক নথিপত্র এবং সুস্পষ্ট ভ্রমণ পরিকল্পনা থাকলে ইউকে ভিসা পাওয়ার সম্ভাবনা বাড়ে। আর একবার সেই ভিসা হাতে এলে বিশ্বের বিভিন্ন অঞ্চলের একাধিক দেশ ঘুরে দেখার সুযোগও তৈরি হয়, যা বাংলাদেশি ভ্রমণপ্রেমীদের জন্য নতুন সম্ভাবনার দুয়ার খুলে দিচ্ছে।
যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন। মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়। তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।” ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে। প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন। ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন। প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল। মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি। রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।
যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর আগস্ট ২০২৬ সালের ভিসা বুলেটিন প্রকাশ করেছে। নতুন এই আপডেটে পরিবারভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি দেখা গেছে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের স্থায়ী বাসিন্দাদের স্বামী, স্ত্রী ও সন্তানদের জন্য নির্ধারিত এফ২এ ক্যাটাগরিতে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এসেছে। নতুন ভিসা বুলেটিন অনুযায়ী, পরিবারভিত্তিক কয়েকটি ক্যাটাগরিতে অপেক্ষার সময় কমার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এর মধ্যে এফ২এ ক্যাটাগরির অগ্রগতি সবচেয়ে বেশি, যেখানে যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডধারীদের স্বামী-স্ত্রী ও অবিবাহিত সন্তানদের আবেদন অন্তর্ভুক্ত থাকে। এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের অবিবাহিত প্রাপ্তবয়স্ক সন্তানদের জন্য এফ১ ক্যাটাগরি এবং অন্যান্য পরিবারভিত্তিক ক্যাটাগরিতেও কিছু অগ্রগতি দেখা গেছে। তবে আবেদনকারীদের ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার তারিখ বা প্রায়োরিটি ডেট অনুযায়ীই পরবর্তী ধাপ নির্ধারণ হবে। ভিসা বুলেটিনে বলা হয়েছে, পরিবারভিত্তিক অভিবাসন ভিসার সংখ্যা প্রতিবছর নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে দেওয়া হয়। তাই কোনো ক্যাটাগরিতে চাহিদা বেশি হলে অপেক্ষার সময় বাড়তে পারে এবং কম হলে তারিখ এগিয়ে আসতে পারে। অন্যদিকে কর্মসংস্থানভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য পরিস্থিতি তুলনামূলক কঠিন রয়েছে। বিশেষ করে কিছু এমপ্লয়মেন্ট-বেসড ক্যাটাগরিতে দীর্ঘ অপেক্ষা ও সীমিত ভিসা সংখ্যার কারণে আবেদনকারীদের অনিশ্চয়তা অব্যাহত রয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ী বসবাসের জন্য আবেদনকারীদের কাছে ভিসা বুলেটিন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এই তালিকার মাধ্যমে জানা যায়, কোন আবেদনকারীরা গ্রিন কার্ডের পরবর্তী ধাপে এগিয়ে যেতে পারবেন এবং কারা এখনও অপেক্ষার তালিকায় থাকবেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, নতুন এই পরিবর্তন অনেক পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীর জন্য আশার খবর হলেও, প্রতিটি আবেদনকারীর পরিস্থিতি নির্ভর করবে তাদের আবেদন জমার তারিখ, দেশভিত্তিক সীমা এবং ভিসা ক্যাটাগরির ওপর। যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ব্যবস্থায় দীর্ঘদিন ধরে গ্রিন কার্ডের অপেক্ষার তালিকা বড় একটি বিষয় হয়ে আছে। নতুন ভিসা বুলেটিনে পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীদের জন্য অগ্রগতি দেখা গেলেও, সব আবেদনকারী একইভাবে সুবিধা পাবেন না।
২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো। প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে। এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে। অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে। স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে। সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে। সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।
যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে। এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন। নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি। উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।” বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে। এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে। শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়। উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত। এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।
যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে এক মর্মান্তিক ও লোমহর্ষক ঘটনার জন্ম দিয়েছে দুই তরুণী বোন। দিনদুপুরে ক্যারোলিন ‘কারো’ পেনা নামের ৩২ বছর বয়সী এক নারীকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগে তাদের গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। নিহত নারী পাঁচ সন্তানের জননী ছিলেন। তবে সবচেয়ে শিউরে ওঠার মতো বিষয় হলো, গ্রেপ্তারের সময় অভিযুক্তদের চেহারায় অনুশোচনার সামান্যতম ছাপ তো ছিলই না, উল্টো তাদের মুখে পৈশাচিক হাসি দেখা গেছে। মেক্সিকো সীমান্তের কাছের শহর দেল রিও থেকে বৃহস্পতিবার বিকেলে পুলিশ তাদের হাতকড়া পরিয়ে নিয়ে যাওয়ার সময় এই দৃশ্য ক্যামেরায় ধরা পড়ে। আরও পড়ুন... ‘ফোনটা ধরতে পারলে হয়তো তাকে বাঁচাতে পারতাম’- টেক্সাসে পাঁচ সন্তানের মাকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা, দুই বোনসহ তিনজন গ্রেপ্তার পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নিহত ক্যারোলিনকে বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় দুপুর ২টার পরপরই গুরুতর জখম অবস্থায় ভাল ভার্দে রিজিওনাল মেডিকেল সেন্টারে নেওয়া হয়। তার শরীরে একাধিক ছুরিকাঘাতের চিহ্ন ছিল। ঘটনাস্থলের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, একটি সনিক ড্রাইভ-থ্রু রেস্তোরাঁর বাইরে রক্তাক্ত অবস্থায় ক্যারোলিন তার তিন হামলাকারীর মুখোমুখি দাঁড়িয়ে আছেন। পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য সান আন্তোনিওর একটি হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছায় এবং প্রায় ৩৫ হাজার বাসিন্দার শহর দেল রিওতে অভিযান চালিয়ে হামলাকারীদের শনাক্ত করে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া গ্রেপ্তারের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, ২১ বছর বয়সী কিটি মিয়া দিয়াজ খালি পায়ে হেঁটে যাওয়ার সময় পুলিশের গাড়িতে ওঠার আগে মৃদু হাসছেন। কিটি নিজেও এক শিশুপুত্রের মা। অন্যদিকে, তার ১৯ বছর বয়সী ছোট বোন আমায়া কুকি দিয়াজ ক্যামেরার দিকে তাকিয়ে নির্লজ্জভাবে দাঁত বের করে হাসতে থাকেন। ▶️ টেক্সাসে নিজের মাকে নির্মমভাবে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুই মেয়ে | এমনকি ভিডিও ধারণকারীকে ব্যঙ্গাত্মক সুরে ‘রেকর্ড করা বন্ধ করো’ বলেও চিৎকার করতে শোনা যায় তাকে। দেল রিও পুলিশ জানিয়েছে, এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ২১ বছর বয়সী কায়ান্দ্রা রেনি ফাজ নামের তৃতীয় আরেক নারীকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে ঠিক কী কারণে এই নারকীয় হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে, সে বিষয়ে পুলিশ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি।
বিশেষ প্রতিবেদন
View moreমার্কিন সরকারের নতুন ভিসা বন্ড কর্মসূচিতে বাংলাদেশের নাম থাকলেও আফ্রিকার কয়েকটি নিম্ন আয়ের দেশ সেই তালিকার বাইরে রয়েছে। তালিকা প্রকাশের পর বাংলাদেশসহ বিভিন্ন দেশের অভিবাসী ও ভিসাপ্রত্যাশীদের মধ্যে প্রশ্ন উঠেছে কোন ভিত্তিতে এই দেশগুলো নির্বাচন করেছে যুক্তরাষ্ট্র? অর্থনৈতিক অবস্থান, নাকি অন্য কোনো মানদণ্ড? মার্কিন স্টেট ডিপার্টমেন্ট সম্প্রতি জানিয়েছে, নির্দিষ্ট কিছু দেশের নাগরিকদের ক্ষেত্রে ব্যবসা ও পর্যটন ভিসা (বি-১/বি-২) ইস্যুর সময় কনস্যুলার কর্মকর্তা প্রয়োজন মনে করলে সর্বোচ্চ ২০ হাজার ডলার পর্যন্ত ফেরতযোগ্য ভিসা বন্ডের শর্ত আরোপ করতে পারবেন। তবে এই নিয়ম তালিকাভুক্ত দেশের সব আবেদনকারীর জন্য বাধ্যতামূলক নয়; প্রতিটি আবেদন পৃথকভাবে মূল্যায়ন করা হবে। তালিকায় বাংলাদেশের পাশাপাশি নাইজেরিয়া, ইথিওপিয়া, উগান্ডা, মোজাম্বিক, বুরুন্ডিসহ বেশ কয়েকটি দেশের নাম রয়েছে। কিন্তু বিশ্বের নিম্ন আয়ের দেশ হিসেবে পরিচিত নাইজার, লাইবেরিয়া, মালি, চাদ ও মাদাগাস্কারের মতো কয়েকটি আফ্রিকান দেশ এই তালিকায় নেই। এখান থেকেই শুরু হয়েছে আলোচনা। প্রথম দেখায় মনে হতে পারে, অর্থনৈতিকভাবে দুর্বল দেশগুলোই হয়তো ভিসা বন্ডের আওতায় আসবে। কিন্তু স্টেট ডিপার্টমেন্টের প্রকাশিত নীতিমালা ভিন্ন চিত্র তুলে ধরে। সেখানে কোথাও বলা হয়নি যে কোনো দেশের দারিদ্র্য, মাথাপিছু আয় বা অর্থনৈতিক অবস্থাই তালিকা তৈরির প্রধান ভিত্তি। মার্কিন সরকারের ভাষ্য অনুযায়ী, এই কর্মসূচির লক্ষ্য হলো ভিসার শর্ত মেনে চলা নিশ্চিত করা এবং ভিসার অপব্যবহার কমানো। এজন্য কয়েকটি বিষয় বিশেষভাবে বিবেচনা করা হয়। এর মধ্যে রয়েছে ভিসার মেয়াদ শেষ হওয়ার পরও যুক্তরাষ্ট্রে থেকে যাওয়ার প্রবণতা (ভিসা ওভারস্টে), অভিবাসন আইন মেনে চলার রেকর্ড, নিজ দেশের নাগরিকদের প্রত্যাবাসনে সংশ্লিষ্ট সরকারের সহযোগিতা, পরিচয় ও নথি যাচাইয়ের সক্ষমতা, কনস্যুলার ঝুঁকি এবং জাতীয় নিরাপত্তাসংক্রান্ত মূল্যায়ন। অর্থাৎ, একই ধরনের অর্থনৈতিক অবস্থানে থাকা দুটি দেশের ক্ষেত্রে ভিন্ন সিদ্ধান্ত হতে পারে, যদি তাদের অভিবাসন-সংক্রান্ত ঝুঁকি বা ভিসা ব্যবহারের রেকর্ড এক না হয়। এই কারণেই বাংলাদেশ তালিকায় থাকলেও কিছু নিম্ন আয়ের আফ্রিকান দেশ বাইরে থাকতে পারে। এখানে আরেকটি বিষয়ও গুরুত্বপূর্ণ। ভিসা বন্ড কর্মসূচিতে অন্তর্ভুক্ত হওয়া মানেই ওই দেশের নাগরিকদের জন্য যুক্তরাষ্ট্রের দরজা বন্ধ হয়ে যাচ্ছে এমন ধারণা সঠিক নয়। স্টেট ডিপার্টমেন্ট বলছে, কেবল নির্দিষ্ট পরিস্থিতিতে কনস্যুলার কর্মকর্তা ভিসা বন্ডের শর্ত আরোপ করতে পারবেন। আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশের পর ভিসার সব শর্ত মেনে নির্ধারিত সময়ের মধ্যে দেশ ত্যাগ করলে জমা রাখা অর্থ ফেরত দেওয়া হবে। এই কর্মসূচি প্রথমে পরীক্ষামূলকভাবে চালু করা হয়েছিল। পরবর্তী মূল্যায়নে এটিকে কার্যকর বলে বিবেচনা করার পর যুক্তরাষ্ট্র সরকার স্থায়ী নীতির অংশ হিসেবে বাস্তবায়নের সিদ্ধান্ত নিয়েছে। নতুন নিয়ম অনুযায়ী, বন্ডের পরিমাণ আবেদনকারীর পরিস্থিতি বিবেচনায় নির্ধারণ করা হবে এবং তা সর্বোচ্চ ২০ হাজার ডলার পর্যন্ত হতে পারে। তবে নতুন নীতিকে ঘিরে বিতর্কও রয়েছে। অভিবাসন অধিকার নিয়ে কাজ করা বিভিন্ন সংগঠনের মতে, উচ্চ অঙ্কের ভিসা বন্ড অনেক বৈধ ভ্রমণকারী, শিক্ষার্থী, ব্যবসায়ী বা পরিবারের সদস্যদের জন্য অতিরিক্ত আর্থিক চাপ তৈরি করতে পারে। তাদের আশঙ্কা, এতে বৈধ ভ্রমণ নিরুৎসাহিত হওয়ার ঝুঁকি রয়েছে। সব মিলিয়ে, বাংলাদেশ তালিকায় রয়েছে অথচ আফ্রিকার কয়েকটি নিম্ন আয়ের দেশ নেই এটি অর্থনৈতিক সক্ষমতার পার্থক্যের কারণে নয় বলে মার্কিন সরকারের নীতিমালায় উল্লেখ করা হয়েছে। সরকারি ব্যাখ্যা অনুযায়ী, তালিকাটি প্রস্তুত করা হয়েছে অভিবাসন আইন মেনে চলার রেকর্ড, ভিসা ওভারস্টে প্রবণতা, প্রত্যাবাসনে সহযোগিতা এবং জাতীয় নিরাপত্তাসহ একাধিক ঝুঁকি মূল্যায়নের ভিত্তিতে। ফলে কোনো দেশ তালিকায় থাকা বা না থাকা সেই দেশের সামগ্রিক অর্থনৈতিক অবস্থার প্রতিফলন নয়; বরং যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন নীতির আওতায় করা একটি প্রশাসনিক ঝুঁকি মূল্যায়নের ফল।
নিউইয়র্কে দ্রুত বাড়ছে বাংলাদেশিদের সংখ্যা, এক দশকে বেড়েছে ৪৫ শতাংশ
যুক্তরাষ্ট্রে নাগরিকত্বের আবেদন ফি বেড়ে ১ হাজার ৩৩০ ডলারের প্রস্তাব
এক প্রিন্সিপালের জীবনের পরাজয়: সম্মান থেকে সংগ্রাম, শেষে রেললাইনে নিথর দেহ
যুক্তরাষ্ট্রের জর্জিয়া অঙ্গরাজ্যে ভারতীয় বংশোদ্ভূত প্রযুক্তি নির্বাহী ও গুগলের সাবেক কর্মকর্তা শীতল রেজিয়েনকে গুলি করে হত্যার অভিযোগে তাঁর স্বামী কির্ক বি. রেজিয়েনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। একই ঘটনায় দম্পতির ছেলে জেসন রেজিয়েন গুলিবিদ্ধ হয়ে আহত হন। কব কাউন্টি পুলিশ জানিয়েছে, স্থানীয় সময় মঙ্গলবার রাত ৮টার কিছু আগে স্মিরনা এলাকার একটি বাড়িতে গুলির খবর পেয়ে কর্মকর্তারা ঘটনাস্থলে পৌঁছান। সেখানে ৫৭ বছর বয়সী শীতল রেজিয়েনকে একাধিক গুলিবিদ্ধ অবস্থায় উদ্ধার করা হয়। পরে হাসপাতালে নেওয়া হলে চিকিৎসকেরা তাঁকে মৃত ঘোষণা করেন। একই সময় বাড়ির বাইরে আহত অবস্থায় পাওয়া যায় তাঁদের ২৩ বছর বয়সী ছেলে জেসনকে। ঘটনার পর ৫৬ বছর বয়সী কির্ক বি. রেজিয়েনকে আটক করা হয়। তাঁর বিরুদ্ধে ফেলনি মার্ডার, দুটি অ্যাগ্রাভেটেড অ্যাসল্ট এবং অপরাধ সংঘটনের সময় আগ্নেয়াস্ত্র ব্যবহারের দুটি অভিযোগ আনা হয়েছে। বর্তমানে তিনি জামিন ছাড়াই কব কাউন্টি অ্যাডাল্ট ডিটেনশন সেন্টারে রয়েছেন। শীতল রেজিয়েন প্রযুক্তি খাতে দুই দশকের বেশি সময় কাজ করেছেন। গুগলে দায়িত্ব পালনের পাশাপাশি তিনি হোম ডিপো ও গোটু ফুডসসহ একাধিক প্রতিষ্ঠানে প্রযুক্তি নেতৃত্ব দিয়েছেন। তিনি জর্জিয়া ইনস্টিটিউট অব টেকনোলজির কম্পিউটার সায়েন্স বিভাগের সাবেক শিক্ষার্থী এবং প্রতিষ্ঠানটির উপদেষ্টা বোর্ডের সদস্যও ছিলেন। এছাড়া তাঁর নামে দুটি সফটওয়্যার পেটেন্ট রয়েছে। পুলিশ প্রাথমিকভাবে ঘটনাটিকে পারিবারিক সহিংসতার ঘটনা হিসেবে বিবেচনা করছে। কী কারণে এই হামলার ঘটনা ঘটেছে, সে বিষয়ে এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কিছু জানানো হয়নি। তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত ঘটনার উদ্দেশ্য সম্পর্কে নিশ্চিত কোনো মন্তব্য করতে রাজি নয় আইনশৃঙ্খলা বাহিনী।
ডালাসে ইনডোর ওয়াটার পার্কে ঈদুল আজহা উদযাপন, মুসলিম পরিবারগুলোর ব্যতিক্রমী আয়োজন আলোচনায়
বিদেশে পড়তে চান? ফান্ডিং পাওয়ার আগে এই ৩ বিষয় অবশ্যই জেনে নিন
বিদেশে জন্ম নেওয়া ব্যক্তিদের ফেডারেল গুরুত্বপূর্ণ পদে নিয়োগের বিরোধিতায় ট্রাম্পপন্থীরা
যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়া অঙ্গরাজ্যের বহু স্কুলে শ্রেণিকক্ষের বেঞ্চ ধীরে ধীরে খালি হয়ে যাচ্ছে। কোথাও কমছে নতুন শিক্ষার্থীর ভর্তি, কোথাও ছোট হয়ে আসছে স্নাতক ব্যাচ, আবার কোথাও শিক্ষার্থী সংকটের কারণে বন্ধ করে দিতে হচ্ছে পুরো স্কুল। শিক্ষা গবেষকরা বলছেন, এটি সাময়িক কোনো সমস্যা নয়; বরং দীর্ঘমেয়াদি জনমিতিক পরিবর্তনের প্রতিফলন, যার প্রভাব আগামী বছরগুলোতে আরও স্পষ্ট হবে। সাম্প্রতিক বছরগুলোতে ক্যালিফোর্নিয়ার সরকারি স্কুলগুলোতে শিক্ষার্থী সংখ্যা ধারাবাহিকভাবে কমছে। অঙ্গরাজ্যের তথ্য অনুযায়ী, চলতি শিক্ষাবর্ষে কিন্ডারগার্টেন থেকে দ্বাদশ শ্রেণি পর্যন্ত সরকারি স্কুলে আগের বছরের তুলনায় প্রায় ৭৫ হাজার শিক্ষার্থী কম ভর্তি হয়েছে। গত এক দশকে সরকারি স্কুলের শিক্ষার্থী সংখ্যা কমেছে প্রায় ৪ লাখ ২০ হাজার। শিক্ষাবিদদের মতে, এই প্রবণতার পেছনে একাধিক কারণ কাজ করছে। এর মধ্যে রয়েছে জন্মহার হ্রাস, উচ্চ জীবনযাত্রার ব্যয়ের কারণে পরিবারগুলোর অন্য এলাকায় স্থানান্তর এবং অভিবাসন নীতির পরিবর্তনের প্রভাব। একসময় যেসব অঞ্চল দ্রুত জনসংখ্যা বৃদ্ধির জন্য পরিচিত ছিল, সেখানেও এখন শিক্ষার্থী সংখ্যা কমতে শুরু করেছে। স্ট্যানফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক শিক্ষা বোর্ড সভাপতি ও অধ্যাপক মাইকেল কার্স্ট বলেন, ক্যালিফোর্নিয়ার খুব কম স্কুল জেলা আছে যেখানে এই সংকট দেখা যাচ্ছে না। তার মতে, এটি এখন প্রায় পুরো দেশের শিক্ষা ব্যবস্থার একটি সাধারণ বাস্তবতা। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, বর্তমান পরিস্থিতির মূল কারণ যুক্তরাষ্ট্রে দীর্ঘদিন ধরে চলতে থাকা জন্মহার হ্রাস। দেশটির রোগ নিয়ন্ত্রণ ও প্রতিরোধ কেন্দ্রের (সিডিসি) তথ্য অনুযায়ী, ২০০৭ সালে যেখানে যুক্তরাষ্ট্রে জন্ম হয়েছিল প্রায় ৪৩ লাখ শিশুর, সেখানে ২০২৫ সালে সেই সংখ্যা নেমে এসেছে ৩৬ লাখে। অর্থাৎ প্রায় ১৬ শতাংশ কমেছে জন্মহার। গবেষকরা মনে করিয়ে দিচ্ছেন, শিক্ষা ব্যবস্থায় এর প্রভাব কয়েক বছর পর দৃশ্যমান হয়। কারণ আজ যারা কিন্ডারগার্টেনে ভর্তি হচ্ছে, তাদের জন্ম হয়েছে পাঁচ বা ছয় বছর আগে। ফলে কম জন্মহার এখন সরাসরি স্কুলের ভর্তি সংখ্যায় প্রতিফলিত হচ্ছে। করোনাভাইরাস মহামারি এই সংকটকে আরও ত্বরান্বিত করেছে। যদিও শুরুতে ধারণা করা হয়েছিল, অনেক পরিবার সাময়িকভাবে সন্তানদের বেসরকারি স্কুল বা ঘরে শিক্ষার দিকে নিয়ে যাওয়ায় ভর্তি কমেছে। কিন্তু পরবর্তী তথ্য বিশ্লেষণে দেখা গেছে, মূল কারণ জনমিতিক পরিবর্তনই। বিশেষ করে সান ফ্রান্সিসকো, ওকল্যান্ড, সান হোসে এবং উপকূলীয় ক্যালিফোর্নিয়ার বিভিন্ন এলাকায় শিক্ষার্থী কমার হার সবচেয়ে বেশি। গবেষণা প্রতিষ্ঠান পাবলিক পলিসি ইনস্টিটিউট অব ক্যালিফোর্নিয়ার (পিপিআইসি) তথ্য অনুযায়ী, ২০১৫ সালের পর থেকে বে এরিয়া অঞ্চলে সরকারি স্কুলে ভর্তি কমেছে ১০ দশমিক ৪ শতাংশ। ২০৩৫ সালের মধ্যে এই সংখ্যা আরও প্রায় ১০ শতাংশ কমতে পারে বলে পূর্বাভাস দেওয়া হয়েছে। বিশ্লেষকদের মতে, আবাসন ব্যয় বৃদ্ধিও এ পরিস্থিতির অন্যতম কারণ। সান ফ্রান্সিসকো ও সান হোসের মতো শহরে বসবাসের খরচ এতটাই বেড়েছে যে অনেক তরুণ পরিবার সেখান থেকে স্যাক্রামেন্টো বা সেন্ট্রাল ভ্যালির মতো তুলনামূলক সাশ্রয়ী এলাকায় চলে যাচ্ছে। ফলে বড় শহরগুলোর স্কুলে শিক্ষার্থী সংখ্যা কমে যাচ্ছে। তবে বর্তমানে কিছু অঞ্চলে জনসংখ্যা ও শিক্ষার্থী সংখ্যা বাড়লেও গবেষকরা বলছেন, দীর্ঘমেয়াদে সেখানেও একই প্রবণতা দেখা যেতে পারে। আগামী এক দশকে ক্যালিফোর্নিয়ার কোনো অঞ্চলেই ধারাবাহিক শিক্ষার্থী বৃদ্ধি বজায় থাকবে না বলে ধারণা করা হচ্ছে। অভিবাসন নীতির পরিবর্তনও পরিস্থিতিকে প্রভাবিত করছে। গবেষণায় দেখা গেছে, বহু ভাষাভাষী ও অভিবাসী পরিবারের সন্তানদের মধ্যে শিক্ষার্থী হ্রাসের হার তুলনামূলক বেশি। ২০১৫ থেকে ২০২৩ সালের মধ্যে ক্যালিফোর্নিয়ায় বহু ভাষাভাষী শিক্ষার্থীর সংখ্যা কমেছে প্রায় ৩ লাখ ৭২ হাজার। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ক্যালিফোর্নিয়ার শিক্ষা ব্যবস্থার বিকাশে অভিবাসী পরিবারগুলো দীর্ঘদিন গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছে। ফলে অভিবাসন প্রবাহ কমে যাওয়ার প্রভাবও এখন স্পষ্ট হয়ে উঠছে। শিক্ষার্থী কমে যাওয়ার সবচেয়ে বড় প্রভাব পড়ছে স্কুলগুলোর আর্থিক ব্যবস্থাপনায়। যুক্তরাষ্ট্রে সরকারি স্কুলের অর্থায়নের একটি বড় অংশ শিক্ষার্থী উপস্থিতি ও ভর্তি সংখ্যার ওপর নির্ভরশীল। ফলে শিক্ষার্থী কমলে কমে যায় বাজেটও। স্ট্যানফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষণায় দেখা গেছে, ২০১৫ সালের পর থেকে ক্যালিফোর্নিয়ায় ৬৩০টি স্কুল বন্ধ হয়ে গেছে। সাম্প্রতিক সময়ে সান হোসে ইউনিফায়েড স্কুল ডিস্ট্রিক্ট পাঁচটি স্কুল বন্ধের সিদ্ধান্ত নিয়েছে। এসব সিদ্ধান্ত নিয়ে অভিভাবক, শিক্ষক ও স্থানীয় জনগণের মধ্যে বিতর্কও তৈরি হয়েছে। শিক্ষকরা বলছেন, এর প্রভাব শুধু শিক্ষার্থীদের ওপর নয়, শিক্ষকদের কর্মসংস্থানের ওপরও পড়ছে। ভর্তি কমে যাওয়ার কারণে অনেক জেলায় নিয়োগ স্থগিত, কর্মী ছাঁটাই এবং শিক্ষক সংখ্যা কমানোর মতো পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে। তবে এই সংকটের মধ্যেও কিছু ইতিবাচক সম্ভাবনার কথা বলছেন বিশেষজ্ঞরা। তাদের মতে, যদি শিক্ষা খাতে অর্থায়ন স্থিতিশীল থাকে, তাহলে শিক্ষার্থী কমে যাওয়ায় প্রতি শিক্ষার্থীর পেছনে বেশি সম্পদ ব্যয় করা সম্ভব হবে। ছোট শ্রেণিকক্ষ, ব্যক্তিগত সহায়তা, মানসিক স্বাস্থ্যসেবা এবং শিক্ষার মান উন্নয়নে এটি কাজে লাগানো যেতে পারে। এদিকে গবেষকরা সতর্ক করছেন, এই প্রবণতা শুধু স্কুল পর্যায়েই সীমাবদ্ধ থাকবে না। আগামী বছরগুলোতে বিশ্ববিদ্যালয় ও কলেজগুলোও একই ধরনের চ্যালেঞ্জের মুখে পড়তে পারে। ইতোমধ্যে ক্যালিফোর্নিয়ার কয়েকটি বিশ্ববিদ্যালয় কমে যাওয়া শিক্ষার্থী এবং বাজেট সংকট মোকাবিলায় প্রশাসনিক কার্যক্রম একীভূত করার উদ্যোগ নিয়েছে। শিক্ষাবিদদের মতে, শিক্ষার্থী সংকট মোকাবিলায় শুধু ব্যয় কমানো যথেষ্ট হবে না। বরং নতুন বাস্তবতার সঙ্গে খাপ খাইয়ে শিক্ষা ব্যবস্থাকে পুনর্গঠন, সাশ্রয়ী আবাসন বৃদ্ধি এবং পরিবারবান্ধব নীতি গ্রহণের মাধ্যমে দীর্ঘমেয়াদি সমাধান খুঁজতে হবে। তাদের ভাষায়, এটি কেবল স্কুলের ভর্তি কমার গল্প নয়; বরং যুক্তরাষ্ট্রের জনসংখ্যা, অর্থনীতি এবং সামাজিক কাঠামোর একটি বড় পরিবর্তনের প্রতিচ্ছবি।
ফুটবলের দেশ ব্রাজিলে বাড়ছে ইসলামের অনুসারী, মুসলিম জনসংখ্যা প্রায় ১৫ লাখ
২৫০ বছর পূর্তির আগেই কমছে ‘আমেরিকান প্রাইড’, গণতন্ত্র ও আমেরিকান ড্রিমে আস্থা হারাচ্ছেন মার্কিন নাগরিকরা