সাপ্তাহিক আমেরিকা বাংলা ই-পেপার
আমেরিকা

মেডিকেইড-ফুড স্ট্যাম্প নিলেই গ্রিন কার্ডে বাধা, ট্রাম্পের নতুন নিয়ম কার্যকর

আমেরিকা বাংলা ডেস্ক প্রকাশ: সেপ্টেম্বর ১৯, ২০২৬ ৫:২৫
সরকারি সুবিধা নিলে গ্রিন কার্ডে পড়তে পারে প্রভাব
সরকারি সুবিধা নিলে গ্রিন কার্ডে পড়তে পারে প্রভাব

যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ীভাবে বসবাসের জন্য গ্রিন কার্ডের আবেদনকারীদের জন্য নতুন নিয়ম চালু করেছে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রশাসন। এখন ফুড স্ট্যাম্প, মেডিকেইড, শিক্ষা সহায়তা কিংবা বিনামূল্যে স্কুলের খাবারের মতো সরকারি সুবিধা নেওয়ার বিষয়টি গ্রিন কার্ডের আবেদন বিবেচনার সময় প্রভাব ফেলতে পারে।
 

শুক্রবার থেকে কার্যকর হওয়া নতুন এই নীতিতে অভিবাসন কর্মকর্তারা কোনো আবেদনকারী ভবিষ্যতে সরকারি সহায়তার ওপর নির্ভরশীল হয়ে পড়তে পারেন কি না, তা মূল্যায়নের সময় এসব সুবিধা ব্যবহারের বিষয় বিবেচনা করতে পারবেন।


যুক্তরাষ্ট্রের ডিপার্টমেন্ট অব হোমল্যান্ড সিকিউরিটির (DHS) হিসাব অনুযায়ী, নতুন নিয়মের কারণে বছরে প্রায় ১৩ বিলিয়ন ডলার পর্যন্ত সরকারি ব্যয় কমতে পারে। সংস্থাটির ধারণা, প্রায় ৯ লাখ ৫০ হাজার মানুষ সরকারি সহায়তা থেকে সরে দাঁড়াতে পারেন অথবা এসব সুবিধায় নতুন করে আবেদন করা এড়িয়ে যেতে পারেন।


DHS বলছে, যুক্তরাষ্ট্রে বসবাসরত অভিবাসীদের স্বনির্ভর হওয়া উচিত এবং করদাতাদের অর্থে পরিচালিত সরকারি সুবিধা যেন অভিবাসনের ক্ষেত্রে কোনো প্রণোদনা তৈরি না করে, সেটিই এই নীতির উদ্দেশ্য।


গ্রিন কার্ড যুক্তরাষ্ট্রে বৈধভাবে স্থায়ীভাবে বসবাসের অনুমতি দেয় এবং দেশটির নাগরিকত্ব পাওয়ার পথেও এটি গুরুত্বপূর্ণ একটি ধাপ।


নতুন নিয়মের বিরুদ্ধে ইতোমধ্যে নিউইয়র্কসহ ২১টি অঙ্গরাজ্য, ডিস্ট্রিক্ট অব কলাম্বিয়া ও কয়েকটি শহর ট্রাম্প প্রশাসনের বিরুদ্ধে মামলা করেছে। মামলাকারীদের অভিযোগ, নতুন নীতির কারণে অভিবাসী পরিবার, বিশেষ করে যেসব পরিবারে অভিবাসী ও মার্কিন নাগরিক—দুই ধরনের সদস্য রয়েছেন, তারা ক্ষতির মুখে পড়তে পারেন।


নতুন নীতিটি যুক্তরাষ্ট্রের দীর্ঘদিনের ‘পাবলিক চার্জ’ ব্যবস্থার বিস্তৃত সংস্করণ। আগে সাধারণত নগদ সরকারি সহায়তা বা দীর্ঘমেয়াদি সরকারি অর্থায়নে হাসপাতালে থাকার মতো বিষয়গুলো গ্রিন কার্ডের আবেদনে বেশি গুরুত্ব পেত। নতুন নিয়মে খাদ্য সহায়তা ও মেডিকেইডের মতো আরও কিছু সুবিধাও কর্মকর্তাদের বিবেচনার আওতায় এসেছে।


তবে সব অভিবাসী এই নিয়মের আওতায় পড়বেন না। আশ্রয়প্রার্থী ও শরণার্থীদের মতো কিছু শ্রেণির অভিবাসীকে নতুন নীতির বাইরে রাখা হয়েছে।


ট্রাম্প প্রশাসন এর আগে ২০১৯ সালেও একই ধরনের একটি ‘পাবলিক চার্জ’ নীতি চালু করেছিল। পরে আদালতের হস্তক্ষেপে সেটি আটকে যায়। ওই সময় অভিবাসী পরিবারগুলোর মধ্যে সরকারি সহায়তা নেওয়া নিয়ে ভয় ও বিভ্রান্তি তৈরি হয়েছিল এবং সরকারি খাদ্য সহায়তাসহ বিভিন্ন সুবিধা নেওয়ার হারও কমে গিয়েছিল বলে আরবান ইনস্টিটিউটের এক প্রতিবেদনে উঠে আসে।


© America Bangla | All Rights Reserved. আমেরিকা বাংলার পূর্বানুমতি ছাড়া এই প্রতিবেদনের লেখা, ছবি, গ্রাফিক্স বা অন্যান্য মৌলিক কনটেন্ট সম্পূর্ণ বা আংশিকভাবে কপি বা পুনঃপ্রকাশ করা নিষিদ্ধ। অনুমোদিত ব্যবহারের ক্ষেত্রে আমেরিকা বাংলা কে স্পষ্টভাবে সোর্স হিসেবে উল্লেখ করতে হবে।

জনপ্রিয় সংবাদ
বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনার পর তরুণীর মৃত্যু, এক বছরের সাজায় ক্যালিফোর্নিয়ার আইন পরিবর্তনের দাবি

যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন।   মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়।   তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।”   ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে।   প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন।   ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন।   প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল।   মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি।   রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।

যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডে বড় পরিবর্তন, পরিবারভিত্তিক ভিসা আবেদনকারীদের জন্য সুখবর

যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর আগস্ট ২০২৬ সালের ভিসা বুলেটিন প্রকাশ করেছে। নতুন এই আপডেটে পরিবারভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি দেখা গেছে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের স্থায়ী বাসিন্দাদের স্বামী, স্ত্রী ও সন্তানদের জন্য নির্ধারিত এফ২এ ক্যাটাগরিতে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এসেছে।   নতুন ভিসা বুলেটিন অনুযায়ী, পরিবারভিত্তিক কয়েকটি ক্যাটাগরিতে অপেক্ষার সময় কমার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এর মধ্যে এফ২এ ক্যাটাগরির অগ্রগতি সবচেয়ে বেশি, যেখানে যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডধারীদের স্বামী-স্ত্রী ও অবিবাহিত সন্তানদের আবেদন অন্তর্ভুক্ত থাকে।   এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের অবিবাহিত প্রাপ্তবয়স্ক সন্তানদের জন্য এফ১ ক্যাটাগরি এবং অন্যান্য পরিবারভিত্তিক ক্যাটাগরিতেও কিছু অগ্রগতি দেখা গেছে। তবে আবেদনকারীদের ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার তারিখ বা প্রায়োরিটি ডেট অনুযায়ীই পরবর্তী ধাপ নির্ধারণ হবে।   ভিসা বুলেটিনে বলা হয়েছে, পরিবারভিত্তিক অভিবাসন ভিসার সংখ্যা প্রতিবছর নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে দেওয়া হয়। তাই কোনো ক্যাটাগরিতে চাহিদা বেশি হলে অপেক্ষার সময় বাড়তে পারে এবং কম হলে তারিখ এগিয়ে আসতে পারে।   অন্যদিকে কর্মসংস্থানভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য পরিস্থিতি তুলনামূলক কঠিন রয়েছে। বিশেষ করে কিছু এমপ্লয়মেন্ট-বেসড ক্যাটাগরিতে দীর্ঘ অপেক্ষা ও সীমিত ভিসা সংখ্যার কারণে আবেদনকারীদের অনিশ্চয়তা অব্যাহত রয়েছে।   যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ী বসবাসের জন্য আবেদনকারীদের কাছে ভিসা বুলেটিন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এই তালিকার মাধ্যমে জানা যায়, কোন আবেদনকারীরা গ্রিন কার্ডের পরবর্তী ধাপে এগিয়ে যেতে পারবেন এবং কারা এখনও অপেক্ষার তালিকায় থাকবেন।   বিশেষজ্ঞদের মতে, নতুন এই পরিবর্তন অনেক পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীর জন্য আশার খবর হলেও, প্রতিটি আবেদনকারীর পরিস্থিতি নির্ভর করবে তাদের আবেদন জমার তারিখ, দেশভিত্তিক সীমা এবং ভিসা ক্যাটাগরির ওপর।   যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ব্যবস্থায় দীর্ঘদিন ধরে গ্রিন কার্ডের অপেক্ষার তালিকা বড় একটি বিষয় হয়ে আছে। নতুন ভিসা বুলেটিনে পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীদের জন্য অগ্রগতি দেখা গেলেও, সব আবেদনকারী একইভাবে সুবিধা পাবেন না।

মার্কিন ভিসা আপডেট ২০২৬! বাংলাদেশিদের জন্য কোন ভিসা বন্ধ, কোনটা চালু?

২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো।   প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে।   এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে।   অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে।   স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে।   সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে।   সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।

যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশি মালিকানাধীন বিশ্ববিদ্যালয়ের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধন

যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে।   এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন।   নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি।   উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।”   বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে।   এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে।   শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়।   উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন।   বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত।   এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।

প্রাণীর সঙ্গে যৌন কর্মকাণ্ডের অভিযোগে গ্রেপ্তার বুয়েটের সাবেক শিক্ষার্থী ও সাউথ ফ্লোরিডা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক

যুক্তরাষ্ট্রের ফ্লোরিডা অঙ্গরাজ্যে প্রাণীর সঙ্গে যৌন কর্মকাণ্ডের ছবি বা ভিডিও ধারণ, বিতরণ ও সংরক্ষণের অভিযোগে গ্রেপ্তার হয়েছেন বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত রায়ান আবদুল বাতেন। তিনি বাংলাদেশের বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বুয়েট) তড়িৎ ও ইলেকট্রনিক প্রকৌশল বিভাগের সাবেক শিক্ষার্থী এবং যুক্তরাষ্ট্রের ইউনিভার্সিটি অব সাউথ ফ্লোরিডার সহকারী অধ্যাপক।   হিলসবরো কাউন্টি শেরিফের কার্যালয়ের সরকারি ওয়েবসাইটে প্রকাশিত গ্রেপ্তারসংক্রান্ত তথ্য অনুযায়ী, গত ২৮ অক্টোবর ২০২৬ তারিখে তাঁকে গ্রেপ্তার করা হয়। প্রকাশিত রেকর্ডে তাঁর বিরুদ্ধে ‘Film, Distribute, or Possess Image or Video of Sexual Activity with an Animal’ শীর্ষক অভিযোগ উল্লেখ করা হয়েছে। অর্থাৎ, প্রাণীর সঙ্গে যৌন কর্মকাণ্ডের ছবি বা ভিডিও ধারণ, বিতরণ কিংবা নিজের কাছে রাখার অভিযোগে তাঁকে গ্রেপ্তার দেখানো হয়েছে।   গ্রেপ্তারসংক্রান্ত সরকারি রেকর্ড প্রকাশের পর বিষয়টি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে। বিশেষ করে বুয়েটের সাবেক শিক্ষার্থী এবং যুক্তরাষ্ট্রের একটি বিশ্ববিদ্যালয়ের সহকারী অধ্যাপক হিসেবে তাঁর পরিচয়ের কারণে ঘটনাটি নিয়ে প্রবাসী বাংলাদেশিদের মধ্যেও আলোচনা তৈরি হয়েছে।   এদিকে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রাণীটির পরিচয় সম্পর্কে বিভিন্ন দাবি ছড়িয়ে পড়লেও হিলসবরো কাউন্টি শেরিফের কার্যালয়ের প্রকাশিত গ্রেপ্তারসংক্রান্ত তথ্যে নির্দিষ্ট কোনো প্রাণীর নাম উল্লেখ করা হয়নি। ফলে ছাগলের সঙ্গে যৌন কর্মকাণ্ডের যে দাবি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে করা হচ্ছে, তা স্বাধীনভাবে নিশ্চিত হওয়া যায়নি।   তথ্যসূত্র: হিলসবরো কাউন্টি শেরিফের কার্যালয় (Hillsborough County Sheriff’s Office), ফ্লোরিডা।

আমেরিকা

View more
মাস্কের রসিকতা
‘এবার স্পেস লেজার কাজ করেনি’, নির্বাচনে হারের পর মাস্কের রসিকতা

যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী নির্বাচনে রিপাবলিকানদের পরাজয়ের পর নিজের ‘নির্বাচনে হস্তক্ষেপকারী স্পেস লেজার’ নিয়ে রসিকতা করেছেন বিশ্বের অন্যতম শীর্ষ ধনকুবের ইলন মাস্ক। নির্বাচনের দিন রিপাবলিকানদের ভোট দেওয়ার আহ্বান জানালেও ফল প্রকাশের পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যঙ্গাত্মক মন্তব্য করেন তিনি।   নিজের মালিকানাধীন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে মাস্ক লেখেন, ‘মনে হচ্ছে, এবার আমার নির্বাচনে হস্তক্ষেপকারী স্পেস লেজারগুলো কাজ করেনি।’ এর কয়েক ঘণ্টা আগে আরেক পোস্টে তিনি ভোটারদের উদ্দেশে লিখেছিলেন, ‘আজ লালকে ভোট দিন।’ যুক্তরাষ্ট্রের রাজনীতিতে লাল রং রিপাবলিকান পার্টির প্রতীক।   মধ্যবর্তী নির্বাচনে ডেমোক্র্যাটরা কংগ্রেসের সিনেট ও প্রতিনিধি পরিষদ, উভয় কক্ষেই সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জন করেছে বলে প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে। নির্বাচনের ফল মেনে নেওয়ার প্রস্তুতির কথাও জানিয়েছেন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প।   এবারের নির্বাচনে বিপুল অর্থ ব্যয় হয়েছে। নির্বাচনী অর্থায়ন পর্যবেক্ষণকারী সংস্থা ওপেনসিক্রেটসের পূর্বাভাস অনুযায়ী, মোট নির্বাচনী ব্যয় প্রায় ১২ বিলিয়ন ডলারে পৌঁছাতে পারে।   বিবিসির প্রতিবেদনের বরাতে জানানো হয়েছে, ব্যক্তিগত দাতাদের মধ্যে রিপাবলিকানদের পক্ষে সবচেয়ে বেশি অর্থ ব্যয় করেছেন ইলন মাস্ক। তাঁর ব্যয়ের পরিমাণ প্রায় ৫০ কোটি ডলার। বিশেষ করে টেক্সাসে রিপাবলিকান প্রার্থীদের সমর্থনে বিপুল অর্থ দিয়েছেন তিনি।   তবে টেক্সাসের সিনেট নির্বাচনে ট্রাম্পসমর্থিত রিপাবলিকান প্রার্থী কেন প্যাক্সটনকে পরাজিত করেছেন ডেমোক্র্যাট জেমস টালারিকো বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। এর মধ্য দিয়ে রাজ্যটিতে দীর্ঘ ৩৮ বছর পর সিনেট নির্বাচনে ডেমোক্র্যাটদের জয়ের দাবি করা হচ্ছে।   রিপাবলিকানদের পক্ষে বিপুল অর্থ ব্যয় ও প্রকাশ্য সমর্থনের পরও প্রত্যাশিত ফল না আসায় মাস্কের ‘স্পেস লেজার’ মন্তব্য সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আলোচনার জন্ম দিয়েছে।

প্রকাশ: নভেম্বর ৪, ২০২৬ ৬:২
ফিলিস্তিনি বংশোদ্ভূত আবের কাওয়াস

নিউইয়র্কের আইনসভায় ইতিহাস গড়লেন ফিলিস্তিনি বংশোদ্ভূত আবের কাওয়াস

মুসলিম কংগ্রেসওম্যান ইলহান ওমর

ট্রাম্পের সকল অভিযোগ-কটুক্তিকে পিছনে ফেলে নির্বাচনে জয়ী মুসলিম কংগ্রেসওম্যান ইলহান ওমর

ডেমোক্র্যাটদের জয়ে ওবামার বার্তা

ডেমোক্র্যাটদের জয়ে ওবামার বার্তা, বিভাজন নয় ঐক্যের রাজনীতি চান মার্কিনিরা

নির্বাচনে পরাজয়ের পেছনে ইরান যুদ্ধের প্রভাব
নির্বাচনে পরাজয়ের পেছনে ইরান যুদ্ধের প্রভাব স্বীকার করলেন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প

যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী নির্বাচনে রিপাবলিকান পার্টির বড় ধরনের পরাজয়ের পেছনে ইরান যুদ্ধের প্রভাব রয়েছে বলে স্বীকার করেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। মঙ্গলবার (৩ নভেম্বর) অনুষ্ঠিত নির্বাচনে ডেমোক্র্যাটরা সিনেট ও প্রতিনিধি পরিষদের নিয়ন্ত্রণ পাওয়ার পর ট্রাম্প এই মন্তব্য করেন। নির্বাচনের ফল নিয়ে কিছুটা বিস্ময় প্রকাশ করে তিনি বলেছেন, রিপাবলিকান প্রার্থীরা আরও ভালো করবেন বলে আশা করেছিলেন।   ফক্স নিউজকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ট্রাম্প স্বীকার করেন, নির্বাচনে রিপাবলিকানদের আসন হারানোর পেছনে ইরান যুদ্ধ আংশিকভাবে দায়ী। তবে তিনি দাবি করেন, ইরানের বিরুদ্ধে তাঁর নেওয়া সামরিক পদক্ষেপের গুরুত্ব মার্কিন জনগণ বুঝতে পেরেছে। তাঁর মতে, ইরানকে পারমাণবিক অস্ত্র অর্জন থেকে বিরত রাখা নির্বাচনের ফলাফলের চেয়েও ঐতিহাসিকভাবে বেশি গুরুত্বপূর্ণ।   ইরানের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক সংঘাত মধ্যবর্তী নির্বাচনের প্রচারণায় বড় ইস্যু হয়ে ওঠে। যুদ্ধের কারণে জ্বালানি তেলের দাম বৃদ্ধি এবং জীবনযাত্রার ব্যয় নিয়ে ভোটারদের মধ্যে অসন্তোষ তৈরি হয়। বিশেষ করে ইসরায়েলের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক অভিযানে অংশগ্রহণের সিদ্ধান্ত নিয়ে ট্রাম্পের নিজস্ব সমর্থকগোষ্ঠীতেও মতবিরোধ দেখা দেয়। রক্ষণশীল ভাষ্যকার টাকার কার্লসনসহ কয়েকজন প্রভাবশালী ব্যক্তি প্রশাসনের যুদ্ধনীতির সমালোচনা করেন।   অ্যাসোসিয়েটেড প্রেসের নির্বাচনি জরিপ অনুযায়ী, প্রায় ৬০ শতাংশ ভোটার ইরানের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক অভিযানের সিদ্ধান্তকে ভুল বলে মনে করেন। প্রায় এক-তৃতীয়াংশ ভোটার জানিয়েছেন, কংগ্রেস নির্বাচনে ভোট দেওয়ার ক্ষেত্রে ইরান যুদ্ধ তাঁদের কাছে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় ছিল। তবে জীবনযাত্রার ব্যয় এবং সরকারের দুর্নীতিসংক্রান্ত উদ্বেগ আরও বেশি ভোটারের সিদ্ধান্তে প্রভাব ফেলেছে।   মঙ্গলবারের নির্বাচনে রিপাবলিকানদের কাছ থেকে সিনেটের নিয়ন্ত্রণ নিয়েছে ডেমোক্র্যাটরা। বুধবার প্রকাশিত প্রাথমিক হিসাবে দলটি ৫২টি সিনেট আসন নিশ্চিত করে। পাশাপাশি প্রতিনিধি পরিষদের নিয়ন্ত্রণও ডেমোক্র্যাটদের হাতে গেছে বলে অ্যাসোসিয়েটেড প্রেস নিশ্চিত করেছে। নির্বাচনে টেক্সাস, কানসাস ও সাউথ ক্যারোলাইনার মতো দীর্ঘদিনের রিপাবলিকান ঘাঁটিতেও ডেমোক্র্যাট প্রার্থীরা উল্লেখযোগ্য জয় পেয়েছেন।   নির্বাচনের ফল নিয়ে বিস্ময় প্রকাশ করে ট্রাম্প বলেন, রিপাবলিকানরা আরও ভালো ফল করবে বলে তিনি ভেবেছিলেন। প্রচারণায় প্রায় ৩০টি বড় সমাবেশ আয়োজনের কথা উল্লেখ করে তিনি জানান, এসব সমাবেশে বিপুলসংখ্যক মানুষ অংশ নিয়েছিলেন। তাঁর আশা ছিল, সমাবেশে আসা সমর্থকেরা রিপাবলিকান প্রার্থীদের পক্ষেও ভোট দেবেন।   সাউথ ক্যারোলাইনায় ডারলিন গ্রাহামের পরাজয়েও দুঃখ প্রকাশ করেছেন ট্রাম্প। প্রয়াত রিপাবলিকান সিনেটর লিন্ডসে গ্রাহামের বোন ডারলিনকে নির্বাচনে সমর্থন দিয়েছিলেন তিনি। ট্রাম্পের ভাষায়, ভাইয়ের মৃত্যুতে শোক পালনের পাশাপাশি নির্বাচনি প্রচারণা চালাতে হয়েছে তাঁকে।   এদিকে কংগ্রেসে ডেমোক্র্যাটদের নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠিত হওয়ায় প্রেসিডেন্টের বাকি দুই বছরের আইন প্রণয়ন কার্যক্রমে নতুন বাধা তৈরি হতে পারে। ট্রাম্প জানিয়েছেন, ডেমোক্র্যাটরা তাঁর কাছে অগ্রহণযোগ্য কোনো বিল পাঠালে তিনি প্রেসিডেন্টের ভিটো ক্ষমতা ব্যবহার করবেন। নির্বাচনের ফল প্রকাশের সময় সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ‘ভিটো’ লেখা একটি লাল টুপির ছবিও প্রকাশ করেন তিনি।   নির্বাচনের প্রাথমিক প্রতিক্রিয়ায় ট্রাম্প দাবি করেছিলেন, তিনি নিজে ব্যালটে থাকলে রিপাবলিকানরা বড় ব্যবধানে জয় পেত। পরে নিউইয়র্ক টাইমসকে তিনি জানান, নির্বাচনের ফলাফল মেনে নেবেন। তবে ইরান যুদ্ধ ও অর্থনৈতিক অসন্তোষের প্রভাব নিয়ে রিপাবলিকান পার্টির অভ্যন্তরে আলোচনা অব্যাহত রয়েছে।   সূত্র: রয়টার্স, হিন্দুস্তান টাইমস।

প্রকাশ: নভেম্বর ৪, ২০২৬ ৩:৪৬
যুক্তরাষ্ট্রের প্রথম মুসলিম সিনেটর আবদুল এল-সাঈদ

দলের বিরোধিতা পেরিয়ে মিশিগানে জয়ী যুক্তরাষ্ট্রের প্রথম মুসলিম সিনেটর আবদুল এল-সাঈদ

যুক্তরাষ্ট্রে আফগান অভিবাসীদের ডিপোর্টেশন সাময়িক স্থগিত করলেন ফেডারেল বিচারক

যুক্তরাষ্ট্রে আফগান অভিবাসীদের ডিপোর্টেশন সাময়িক স্থগিত করলেন ফেডারেল বিচারক

যুক্তরাষ্ট্রে আবারও কংগ্রেস নির্বাচনে জয়ী মুসলিম নারী ইলহান ওমর ও রশিদা তালিব

যুক্তরাষ্ট্রে আবারও কংগ্রেস নির্বাচনে জয়ী মুসলিম নারী ইলহান ওমর ও রশিদা তালিব

যুক্তরাষ্ট্রের সিনেট নির্বাচনে প্রথম মুসলিম সিনেটর হওয়ার পথে মিশিগানের প্রার্থী এল-সায়েদ
যুক্তরাষ্ট্রের সিনেট নির্বাচনে প্রথম মুসলিম সিনেটর হওয়ার পথে মিশিগানের প্রার্থী এল-সায়েদ

যুক্তরাষ্ট্রের মিশিগান অঙ্গরাজ্যের সিনেট নির্বাচনে প্রাথমিক ভোট গণনায় রিপাবলিকান প্রতিদ্বন্দ্বীকে পেছনে ফেলে এগিয়ে রয়েছেন ডেমোক্র্যাট দলীয় প্রার্থী আবদুল এল-সায়েদ। এখন পর্যন্ত প্রাপ্ত ভোটের হিসাবে তিনি ৫৪ দশমিক ৩ শতাংশ ভোট পেয়ে শীর্ষস্থানে অবস্থান করছেন। অন্যদিকে, তার মূল প্রতিদ্বন্দ্বী রিপাবলিকান প্রার্থী মাইক রজার্স পেয়েছেন ৪৪ শতাংশ ভোট। তবে ভোট গণনা এখনও পুরোপুরি শেষ না হওয়ায় নির্ভরযোগ্য বার্তা সংস্থা অ্যাসোসিয়েটেড প্রেস (এপি) আনুষ্ঠানিকভাবে কাউকে বিজয়ী ঘোষণা করেনি।   নির্বাচনের প্রাথমিক ফলাফলে বড় ব্যবধানে এগিয়ে থাকলেও চূড়ান্ত জয় নিশ্চিত করতে আরও কিছুটা অপেক্ষা করতে হবে। নির্বাচনী ফলাফলের পরিসংখ্যান ও বিশ্লেষণে দেখা গেছে, এল-সায়েদকে হারাতে হলে রিপাবলিকান প্রার্থী মাইক রজার্সকে বাকি থাকা ভোটগুলোর অন্তত ৫০ দশমিক ৬ শতাংশ পেতে হবে। অভিবাসী পরিবারের সন্তান আবদুল এল-সায়েদ এর আগে মিশিগানের জনস্বাস্থ্য কর্মকর্তা হিসেবে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালন করেছেন। তার এই রাজনৈতিক উত্থান ও সাফল্য মার্কিন রাজনীতিতে আরব এবং মুসলিম আমেরিকানদের অংশগ্রহণ ও প্রতিনিধিত্বের বিষয়টিকে নতুন করে আলোচনার কেন্দ্রে নিয়ে এসেছে।   নির্বাচনের শেষ দিনগুলোতে ভোটারদের সঙ্গে সরাসরি যোগাযোগের ওপর জোর দিয়েছিলেন এল-সায়েদ। তার নির্বাচনী প্রচারণার মূল হাতিয়ার ছিল— স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করা, ক্রমবর্ধমান জীবনযাত্রার ব্যয় কমানো, যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্রনীতি এবং মুসলিম আমেরিকানদের প্রতিনিধিত্ব বাড়ানো। জনস্বার্থ সংশ্লিষ্ট এই বিষয়গুলো সামনে রেখেই তিনি ভোটারদের মন জয় করতে সক্ষম হয়েছেন বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা। এখন দেখার বিষয়, চূড়ান্ত ভোট গণনা শেষে তিনি বিজয়ের হাসি হাসতে পারেন কি না।

প্রকাশ: নভেম্বর ৪, ২০২৬ ২:৫
যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী নির্বাচনে ইতিহাস গড়ার লড়াইয়ে ১২ মুসলিম প্রার্থী

যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী নির্বাচনে ইতিহাস গড়ার লড়াইয়ে ১২ মুসলিম প্রার্থী

‘আমি থাকলে হারত না রিপাবলিকানরা’, নির্বাচনে হারার পর ট্রাম্প

‘আমি থাকলে হারত না রিপাবলিকানরা’, নির্বাচনে হারার পর ট্রাম্প

মিশিগান অঙ্গরাজ্যে পঞ্চমবার কংগ্রেস সদস্য নির্বাচিত হলেন ফিলিস্তিনি বংশোদ্ভূত রাশিদা তালিব

মিশিগান অঙ্গরাজ্যে পঞ্চমবার কংগ্রেস সদস্য নির্বাচিত হলেন ফিলিস্তিনি বংশোদ্ভূত রাশিদা তালিব

0 Comments