বিশেষ প্রতিবেদন

পরাজিত প্রার্থীর বাসায় সৌজন্য সাক্ষাৎ, বরগুনা-২ রাজনীতিতে নজির স্থাপন

আমেরিকা বাংলা ডেস্ক রিপোর্ট ফেব্রুয়ারি ১৩, ২০২৬ 0
বরগুনা-২ (পাথরঘাটা-বামনা-বেতাগী)
বরগুনা-২ (পাথরঘাটা-বামনা-বেতাগী)

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন পরবর্তী সময়ে বরগুনা-২ (পাথরঘাটা-বামনা-বেতাগী) আসনে দেখা গেল এক বিরল ও প্রশংসনীয় চিত্র। নির্বাচনের উত্তাপ আর রেষারেষি পেছনে ফেলে রাজনৈতিক শিষ্টাচার ও দীর্ঘদিনের ব্যক্তিগত সম্পর্ককে প্রাধান্য দিয়েছেন এই আসনের দুই শীর্ষ প্রতিদ্বন্দ্বী। ধানের শীষ প্রতীকে বিজয়ী প্রার্থী নুরুল ইসলাম মনি আজ শুক্রবার (১৩ ফেব্রুয়ারি) দুপুরে তাঁর নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী জামায়াতে ইসলামীর পরাজিত প্রার্থী ডা. সুলতানের বাসভবনে গিয়ে এক সৌজন্য সাক্ষাৎ করেন।

 

পাথরঘাটা-বামনা-বেতাগীর নবনির্বাচিত সংসদ সদস্য নুরুল ইসলাম মনি তাঁর প্রতিদ্বন্দ্বী নেতার সাথে কুশল বিনিময় করেন এবং ভ্রাতৃত্বের বন্ধন অটুট রাখার দৃঢ় অঙ্গীকার ব্যক্ত করেন। সাক্ষাৎকালে তিনি আবেগঘন কণ্ঠে বলেন, “রাজনীতি করতে গিয়ে ভোটের মাঠে অনেক সময় অনেক তিক্ত কথা বলতে হয়, তবে সেই অধ্যায় এখন শেষ। আমরা মূলত দুই ভাই। আমাদের মধ্যে দীর্ঘ ৪০ বছরের পারিবারিক ও ব্যক্তিগত সুসম্পর্ক রয়েছে যা বাকি জীবনও অটুট থাকবে। এখন আমাদের লক্ষ্য হওয়া উচিত দল-মত নির্বিশেষে ঐক্যবদ্ধভাবে এই এলাকার মানুষের ভাগ্যোন্নয়নে কাজ করা।”

 

বিজয়ী প্রার্থীর এমন মহানুভবতা ও উদারতাকে স্বাগত জানিয়েছেন ডা. সুলতান। তিনি অত্যন্ত সহজভাবে নির্বাচনি ফলাফল মেনে নিয়ে বলেন, “গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ায় জয়-পরাজয় থাকবেই, এটি অত্যন্ত স্বাভাবিক। এখন সময় সংকীর্ণতা ভুলে কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে জনপদে উন্নয়ন নিশ্চিত করার।” একই সাথে তিনি পাথরঘাটা ও বামনা এলাকার সাধারণ রাজনৈতিক কর্মীদের নিরাপত্তা ও স্বার্থ রক্ষার জন্য নবনির্বাচিত এমপির প্রতি বিশেষ অনুরোধ জানান।

 

সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে দুই নেতার এই হৃদ্যতাপূর্ণ সাক্ষাতের ছবি ও ভিডিও ছড়িয়ে পড়লে ব্যাপক প্রতিক্রিয়ার সৃষ্টি হয়। যদিও কেউ কেউ এটি নিয়ে নেতিবাচক মন্তব্য করেছেন, তবে বরগুনা-২ আসনের সচেতন সাধারণ ভোটাররা এই পদক্ষেপকে নতুন বাংলাদেশের ইতিবাচক রাজনীতির প্রতিফলন হিসেবে দেখছেন। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, এমন সম্প্রীতির চর্চা দেশের তৃণমূল পর্যায়ে সংঘাত কমাতে এবং সুস্থ ধারার গণতান্ত্রিক পরিবেশ ফিরিয়ে আনতে মাইলফলক হিসেবে কাজ করবে।

জনপ্রিয় সংবাদ
ইরানের আকাশে ১৬টি চীনা সামরিক বিমানের রহস্য নিয়ে তোলপাড়

মধ্যপ্রাচ্যের ক্রমবর্ধমান উত্তেজনার মধ্যেই একটি চাঞ্চল্যকর দাবি ভূ-রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন করে বিতর্কের ঝড় তুলেছে।   গত ৪৮ থেকে ৫৬ ঘণ্টার মধ্যে ১৬টি চীনা 'ওয়াই-২০' (Y-20) সামরিক কার্গো বিমান তাদের ট্রান্সপন্ডার বা সিগন্যাল বন্ধ রেখে ইরানের আকাশে প্রবেশ করেছে বলে খবর ছড়িয়েছে। কোনো আনুষ্ঠানিক নিশ্চিতকরণ ছাড়াই এই তথ্যটি প্রতিরক্ষা বিশ্লেষক ও সোশ্যাল মিডিয়া ব্যবহারকারীদের মধ্যে তীব্র উদ্বেগ সৃষ্টি করেছে। দাবি করা হচ্ছে, এই বিমানগুলো বেসামরিক রাডার থেকে আড়াল থাকতে বিশেষ কৌশল অবলম্বন করেছিল। নেটিজেন ও সামরিক বিশ্লেষকদের একটি অংশের ধারণা, চীন হয়তো ইরানকে অত্যাধুনিক ইলেকট্রনিক ওয়ারফেয়ার সিস্টেম বা জ্যামিং প্রযুক্তি সরবরাহ করছে। যদি এটি সত্যি হয়, তবে মার্কিন এফ-৩৫ (F-35) যুদ্ধবিমান বা নৌ-অভিযানের জন্য এটি বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়াতে পারে। অনেকে একে যুক্তরাষ্ট্রের প্রতি বেইজিংয়ের সরাসরি ‘সতর্কবার্তা’ হিসেবেও দেখছেন। তবে এই উত্তেজনার মুদ্রার উল্টো পিঠও রয়েছে। ফ্লাইটরাডার২৪-এর মতো আন্তর্জাতিক ফ্লাইট ট্র্যাকিং প্ল্যাটফর্মে এ ধরনের কোনো অস্বাভাবিক ফ্লাইটের রেকর্ড পাওয়া যায়নি। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ১৬টি ভারী সামরিক কার্গো বিমানের মতো বিশাল বহরকে রাডার বা স্যাটেলাইট নজরদারি থেকে সম্পূর্ণ লুকিয়ে রাখা প্রায় অসম্ভব।  বর্তমান ভূ-রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে চীন-ইরান সম্পর্ক গভীর হলেও, সুনির্দিষ্ট প্রমাণের অভাবে বিশ্লেষকরা একে আপাতত ‘সুপরিকল্পিত গুজব’ বা মিসইনফরমেশন হিসেবেই দেখছেন। তেহরান বা বেইজিং—কোনো পক্ষ থেকেই এখন পর্যন্ত এ নিয়ে কোনো আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া মেলেনি।

মার্কিন ভিসা আপডেট ২০২৬! বাংলাদেশিদের জন্য কোন ভিসা বন্ধ, কোনটা চালু?

২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো।   প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে।   এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে।   অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে।   স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে।   সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে।   সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।

“এপস্টেইন ফাইলের দাবি: বাইডেনকে হত্যা করে ক্লোন বানানো হয়েছে?”

এপস্টেইন ফাইল: দাবি, বাইডেনকে ২০১৯ সালে হত্যা করে ক্লোন দ্বারা প্রতিস্থাপন করা হয়েছে   জেফরি এপস্টেইনের ফাইল ট্রান্সপারেন্সি অ্যাক্টের সাথে যুক্ত সম্প্রতি প্রকাশিত একটি নথি ত্রাঞ্চে অভিযোগ করা হয়েছে যে, প্রাক্তন মার্কিন প্রেসিডেন্ট জো বাইডেনকে ২০১৯ সালে হত্যা করা হয়েছে এবং তাকে একটি ক্লোন দ্বারা প্রতিস্থাপন করা হয়েছে।   এই নথিগুলি, যা আনক্লাসিফায়েড ডিপার্টমেন্ট অব জাস্টিস (DOJ) রেকর্ডের একটি বিশাল ডেটা রিলিজের অংশ, “চার্লস” নামে একজনের ক্ষুব্ধ ইমেইল অন্তর্ভুক্ত করেছে এবং অন্তর্বর্তী ফাইলিং কোড EFTA00173266 থেকে EFTA00173273 পর্যন্ত চিহ্নিত। এই ইমেইলগুলো তৃতীয় পক্ষের যোগাযোগের মধ্যে পাওয়া গেছে, যা জেফরি এপস্টেইনের নেটওয়ার্ক সংক্রান্ত বিস্তৃত ফেডারেল তদন্তের সময় সংগ্রহ করা হয়েছিল।   এপস্টেইন সম্পর্কিত অন্যান্য প্রকাশনার মতো এখানে রাজনৈতিক ও ব্যবসায়িক ব্যক্তিদের সঙ্গে সম্পর্কের তথ্য নয়, বরং চরম ও ষড়যন্ত্রমূলক দাবিগুলো রয়েছে। ক্লোন তত্ত্বের উল্লেখ “চার্লস” ইমেইলগুলো এপ্রিল ২০২১-এ একজন এফবিআই এজেন্টকে ফরোয়ার্ড করা হয়েছিল, যাকে লাল করা প্রেরক হিসেবে দেখানো হয়েছে। প্রেরক দাবি করেছিলেন যে এটি একটি প্রযুক্তি সংস্থার এক ক্ষুব্ধ প্রাক্তন কর্মচারী বা সহযোগীর মেসেজ। ইমেইলগুলিতে গালাগালি ভাষা ব্যবহৃত হয়েছে এবং এখানে “কোয়ান্টাম” প্রযুক্তি, গোপন সামরিক ট্রাইব্যুনাল, এবং “বাইডেন আপনার বর্তমান প্রেসিডেন্ট নন” এমন দাবির উল্লেখ রয়েছে।   একটি অনুচ্ছেদে বলা হয়েছে যে “বাস্তব” জো বাইডেনকে ২০১৯ সালে নির্বিচারে হত্যা করা হয়েছে এবং তাকে একজন অভিনেতা বা ক্লোন দ্বারা প্রতিস্থাপন করা হয়েছে, যেখানে প্রমাণ হিসেবে “মাস্কের ত্রুটি” দেখানো হয়েছে। তবে এই দাবিগুলোর সঙ্গে কোনো শারীরিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি বা সঙ্গত সাক্ষ্য নেই।   “বাইডেন ক্লোন” দাবি অনলাইনে ষড়যন্ত্র তত্ত্বের একটি পরিচিত অংশ। তত্ত্বটি সাধারণত ধরে যে “বাস্তব” জো বাইডেনকে গোপনে জনমঞ্চ থেকে সরিয়ে দেওয়া হয়েছে, প্রায়শই ২০১৯ বা ২০২০ সালে, এবং তাকে চেহারা মিলানো লোক বা ক্লোন দিয়ে প্রতিস্থাপন করা হয়েছে।   অনুগামীরা প্রায়শই নিম্নমানের ভিডিও এবং ফটোগ্রাফ বিশ্লেষণ করে, চেহারার পরিবর্তন যেমন আলোর পরিবর্তন, বয়সের প্রভাব বা ক্যামেরার ত্রুটিকে কৃত্রিমভাবে আড়াল করার প্রমাণ হিসেবে দেখান।   এ পর্যন্ত কোনো যাচাইযোগ্য প্রমাণ নেই যে প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন কখনো ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন বা প্রতিস্থাপিত হয়েছেন। এই দাবিগুলি সম্পূর্ণভাবে একটি ষড়যন্ত্র তত্ত্ব হিসেবে রয়ে গেছে।   সূত্র: Royanews  

৩০ মার্চ থেকে কার্যকর হচ্ছে যুক্তরাষ্ট্রের নতুন ভিসা নিয়ম: যা জানা প্রয়োজন

যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা প্রত্যাশীদের জন্য কঠোর হচ্ছে নিয়মাবলী। আগামী ৩০ মার্চ থেকে কার্যকর হতে যাচ্ছে নতুন ভিসা রুলস, যেখানে আবেদনকারীদের সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের প্রোফাইল পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে যাচাই বা স্ক্রিনিং করা হবে। মার্কিন প্রশাসনের এই নতুন পদক্ষেপে বাংলাদেশসহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশের ভিসা প্রত্যাশীদের মধ্যে ব্যাপক আলোচনার সৃষ্টি হয়েছে। নতুন এই নিয়ম মূলত অ-অভিবাসী (Non-immigrant) এবং অভিবাসী (Immigrant) উভয় ধরণের ভিসার ক্ষেত্রে প্রযোজ্য হতে পারে। বিশেষ করে যারা ট্যুরিস্ট ভিসা, স্টুডেন্ট ভিসা এবং কাজের সন্ধানে এইচ-১বি (H-1B) ভিসার জন্য আবেদন করবেন, তাদের সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের তথ্য প্রদান বাধ্যতামূলক করা হচ্ছে। আবেদনকারীদের গত পাঁচ বছরের ব্যবহৃত সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমগুলোর ইউজার আইডি বা হ্যান্ডেল নাম ফর্মে উল্লেখ করতে হবে। ফেসবুক, টুইটার (বর্তমানে এক্স), ইনস্টাগ্রাম এবং ইউটিউবের মতো জনপ্রিয় প্ল্যাটফর্মগুলো এই স্ক্রিনিংয়ের আওতায় থাকবে। তবে পাসওয়ার্ড দেওয়ার প্রয়োজন হবে না। মূলত আবেদনকারীর নিরাপত্তা ঝুঁকি এবং পূর্ববর্তী কোনো উসকানিমূলক বা সন্দেহজনক কর্মকাণ্ড আছে কি না, তা যাচাই করতেই এই পদক্ষেপ। মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তর জানিয়েছে, জাতীয় নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং জননিরাপত্তার স্বার্থেই এই স্ক্রিনিং প্রক্রিয়া জোরদার করা হয়েছে। কোনো ব্যক্তি যদি অতীতে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে উগ্রবাদ বা আইনবিরোধী কোনো কাজে লিপ্ত থেকে থাকেন, তবে তার ভিসা আবেদন বাতিল হওয়ার সম্ভাবনা তৈরি হবে। ভিসা বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ৩০ মার্চের পর যারা আবেদন করবেন, তাদের অবশ্যই গত ৫ বছরের ডিজিটাল ফুটপ্রিন্ট সম্পর্কে সতর্ক থাকতে হবে। কোনো ভুল তথ্য দিলে বা তথ্য গোপন করলে তা স্থায়ীভাবে ভিসা প্রত্যাখ্যাত হওয়ার কারণ হতে পারে। এছাড়া ইমেইল অ্যাড্রেস এবং ফোন নম্বর প্রদানের ক্ষেত্রেও অতিরিক্ত সতর্কতা অবলম্বনের পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। এই নতুন নিয়ম চালুর ফলে ভিসা প্রক্রিয়াকরণে কিছুটা অতিরিক্ত সময় লাগতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। তাই প্রয়োজনীয় কাগজপত্র এবং অনলাইন প্রোফাইল গুছিয়ে আবেদন করার পরামর্শ দিচ্ছে সংশ্লিষ্ট দপ্তরগুলো।

১২ ঘণ্টারও কম সময়ে দেশে আবারও স্বর্ণের দামে বড় পতন

দাম বাড়ানোর ১২ ঘণ্টারও কম সময়ের ব্যবধানে দেশের বাজারে আবারও স্বর্ণের দাম কমিয়েছে বাংলাদেশ জুয়েলার্স অ্যাসোসিয়েশন (বাজুস)। ভরিতে এক লাফে ৩ হাজার ২৬৬ টাকা কমিয়ে ২২ ক্যারেটের প্রতি ভরি স্বর্ণের নতুন দাম নির্ধারণ করা হয়েছে ২ লাখ ৫৮ হাজার ৮২৪ টাকা।   শনিবার (৭ ফেব্রুয়ারি) রাতে বাজুসের এক বিজ্ঞপ্তিতে দাম কমানোর বিষয়টি জানানো হয়েছে। নতুন দাম রোববার (৮ ফেব্রুয়ারি) থেকেই কার্যকর হবে।   এর আগে একই দিন সকালে দেশের বাজারে স্বর্ণের দাম বাড়ানো হয়। ওই সময় ভরিপ্রতি এক লাফে ৭ হাজার ৬৪০ টাকা বাড়িয়ে ২২ ক্যারেটের এক ভরি স্বর্ণের দাম নির্ধারণ করা হয়েছিল ২ লাখ ৬২ হাজার ৯০ টাকা।   নতুন দাম অনুযায়ী, বর্তমানে দেশের বাজারে ২২ ক্যারেটের প্রতি ভরি (১১.৬৬৪ গ্রাম) স্বর্ণের দাম পড়বে ২ লাখ ৫৮ হাজার ৮২৪ টাকা। পাশাপাশি ২১ ক্যারেটের প্রতি ভরি ২ লাখ ৪৭ হাজার ৪৪ টাকা, ১৮ ক্যারেটের প্রতি ভরি ২ লাখ ১১ হাজার ৭৬০ টাকা এবং সনাতন পদ্ধতির প্রতি ভরি স্বর্ণের দাম পড়বে ১ লাখ ৭৩ হাজার ৩২৭ টাকা।   এ নিয়ে চলতি বছর দেশের বাজারে মোট ২৭ বার স্বর্ণের দাম সমন্বয় করলো বাজুস। এরমধ্যে ১৭ বারই দাম বাড়ানো হয়েছে। আর দাম কমেছে মাত্র ১০ বার। অন্যদিকে গতবছর দেশের বাজারে মোট ৯৩ বার স্বর্ণের দাম সমন্বয় করা হয়েছিল। যেখানে ৬৪ বারই দাম বাড়ানো হয়েছিল। এছাড়া ২০২৫ সালে ২৯ বার কমানো হয়েছিল স্বর্ণের দাম।

Advertisement

বিশেষ প্রতিবেদন

View more
ধর্ষণের পশুবৃত্তি
ধর্ষণের পশুবৃত্তিকে রুখবে কোন শক্তি: ভয়, আইন নাকি সামাজিক বিবেক?

মানুষের ভেতরে দুটি শক্তি সব সময় পাশাপাশি কাজ করে—একটি সভ্যতার, অন্যটি প্রবৃত্তির। সভ্যতা মানুষকে সামাজিক করে, নৈতিক করে, দায়িত্বশীল করে; আর প্রবৃত্তি মানুষকে প্রাণীর সঙ্গে যুক্ত করে, তাকে তাড়না দেয়, তাকে তাড়িত করে। এই দুই শক্তির সংঘর্ষই মানবসভ্যতার ইতিহাসের একটি মৌলিক বাস্তবতা। যখন মানুষের ভেতরে সভ্যতার শক্তি প্রবল থাকে, তখন সে ন্যায়-অন্যায় বিচার করতে পারে, অন্যের কষ্ট উপলব্ধি করতে পারে, নিজেকে নিয়ন্ত্রণ করতে পারে। কিন্তু যখন প্রবৃত্তি বা পশুবৃত্তি শক্তিশালী হয়ে ওঠে এবং সেই মুহূর্তে নিয়ন্ত্রণের কোনো বাহ্যিক বা অভ্যন্তরীণ শক্তি উপস্থিত থাকে না, তখন মানুষ ভয়ঙ্কর অপরাধও করতে পারে। ধর্ষণের মতো জঘন্য অপরাধকে বোঝার ক্ষেত্রে এই মানবিক ও প্রবৃত্তিগত দ্বন্দ্বকে উপেক্ষা করলে সমস্যার গভীরে পৌঁছানো যায় না। মানুষের শরীরে যৌনতা একটি প্রাকৃতিক জৈবিক প্রবৃত্তি। এই প্রবৃত্তি মানব প্রজাতির বংশবৃদ্ধি ও অস্তিত্বের সঙ্গে গভীরভাবে যুক্ত। কিন্তু সভ্য সমাজ এই প্রবৃত্তিকে নিয়ন্ত্রণ করার জন্য নিয়ম, নীতি, মূল্যবোধ ও আইন তৈরি করেছে। যৌনতা তখনই গ্রহণযোগ্য যখন তা নৈতিকতা, সামাজিক বিধি ও পারস্পরিক সম্মতির ভিত্তিতে ঘটে। কিন্তু যখন এই প্রবৃত্তি বিকৃত রূপ নেয় এবং অন্যের স্বাধীনতা ও মর্যাদাকে অগ্রাহ্য করে, তখন তা অপরাধে পরিণত হয়। ধর্ষণ আসলে শুধু যৌনতা নয়; এটি ক্ষমতার অপব্যবহার, সহিংসতা, অন্যকে অপমান করার বিকৃত মানসিকতা এবং মানবিকতার চরম অবক্ষয়ের বহি:প্রকাশ।   অনেকেই মনে করেন, মানুষ যদি ধার্মিক হয়, যদি নিয়মিত নামাজ পড়ে বা পূজা করে, যদি সামাজিকভাবে সম্মানিত হয়, তাহলে সে এমন অপরাধ করবে না। বাস্তবতা কিন্তু সব সময় এই ধারণাকে সমর্থন করে না। ইতিহাসে এমন অসংখ্য ঘটনা আছে যেখানে সমাজে সম্মানিত বা ধর্মীয় পরিচয়ের মানুষও ভয়াবহ অপরাধ করেছে। আবার অপরদিকে বলা হয় নারীরা পর্দা করলে ধর্ষণ ঘটত না, এক্ষেত্রেও শত শত উদাহরণ আছে পর্দানশীন নারী, বৃদ্ধ নারী বা নবজাতক বা দু-তিন বছরের মেয়ে শিশুও ধর্ষিতা হচ্ছে। এর কারণ হলো ধর্মীয় আচার বা সামাজিক পরিচয় মানুষকে নৈতিকভাবে শক্তিশালী করার একটি উপায় হতে পারে, কিন্তু তা কখনোই নিশ্চিত নিশ্চয়তা নয়। মানুষের চরিত্র গড়ে ওঠে দীর্ঘ পারিবারিক সুশিক্ষা, পরিবারের বয়োজ্যেষ্ঠদের আচরণ ও অভ্যাস, পরিবারের অন্য সদস্যদের অনৈতিক কার্যকলাপ, পারিবারিক পরিবেশ, সামাজিক শিক্ষা, আত্মনিয়ন্ত্রণ এবং নৈতিক বোধের মাধ্যমে। শুধু বাহ্যিক পরিচয় বা আচার দিয়ে মানুষের অন্তর্গত প্রবৃত্তিকে পুরোপুরি নিয়ন্ত্রণ করা যায় না। মানুষের মস্তিষ্ক একটি জটিল সিস্টেম। এখানে নানা ধরনের সিগন্যাল বা প্রেরণা বা প্রেষণা কাজ করে। একটি সিগন্যাল মানুষকে কোনো কাজ করতে উৎসাহিত করে, আবার আরেকটি সিগন্যাল সেই কাজ থেকে তাকে বিরত থাকতে বলে। সভ্যতা মূলত মানুষের মস্তিষ্কে এই দ্বিতীয় সিগন্যালটি তৈরি করার চেষ্টা করে-যাকে আমরা আত্মনিয়ন্ত্রণ, বিবেক বা নৈতিক বোধ বলতে পারি। কিন্তু সব মানুষের মধ্যে এই শক্তি সমানভাবে বিকশিত হয় না। অনেক সময় পরিস্থিতি, পরিবেশ, পারিবারিক সুশিক্ষা এবং সুযোগের অভাব এই নৈতিক সিগন্যালকে দুর্বল করে দেয়। এই জায়গায় আইন এবং শাস্তির ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হয়ে ওঠে। আইন শুধু অপরাধ ঘটার পর বিচার করার জন্য নয়; আইন মানুষের মনে একটি সম্ভাব্য পরিণতির ধারণা তৈরি করে। একজন মানুষ যখন কোনো অপরাধ করার কথা ভাবেন, তখন তার মস্তিষ্কে সম্ভাব্য শাস্তির ছবিও ভেসে ওঠে। এই ভয় অনেক সময় মানুষকে অপরাধ থেকে বিরত রাখে। সমাজবিজ্ঞানে এটিকে ‘ডিটারেন্স’ বা প্রতিরোধমূলক প্রভাব বলা হয়।   মানুষের দৈনন্দিন জীবনের অনেক সিদ্ধান্তই এই ধরনের মানসিক সিগন্যাল দ্বারা প্রভাবিত হয়। কেউ সাপ ধরে না, কারণ তার মনে সাপের কামড়ে মৃত্যুর ভয় কাজ করে। কেউ ক্ষমতাশালী ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে কিছু লেখার আগে দ্বিধা করে, কারণ তার মনে সম্ভাব্য বিপদের আশঙ্কা তৈরি হয়। কেউ আইন ভাঙতে চায় না, কারণ সে জানে এর জন্য শাস্তি হতে পারে। অর্থাৎ মানুষের আচরণের ওপর ভয় বা সম্ভাব্য পরিণতির ধারণা গুরুত্বপূর্ণ প্রভাব ফেলে। এই বাস্তবতা থেকেই অনেকের মনে প্রশ্ন আসে—যদি ধর্ষণের মতো অপরাধের জন্য অত্যন্ত কঠোর এবং প্রকাশ্য শাস্তি দেওয়া হয়, তাহলে কি মানুষের মনে এমন ভয় তৈরি হবে না যা তাকে অপরাধ থেকে বিরত রাখবে? এই প্রশ্নের পেছনে একটি শক্তিশালী যুক্তি আছে। ইতিহাসে দেখা গেছে, অনেক ক্ষেত্রে কঠোর আইন ও দৃশ্যমান শাস্তি অপরাধ কমাতে ভূমিকা রেখেছে। যখন সমাজে একটি বার্তা স্পষ্টভাবে প্রতিষ্ঠিত হয় যে কোনো অপরাধের জন্য কঠিন ও অবধারিত শাস্তি হবে, তখন অনেক মানুষ সেই অপরাধ করার আগে দ্বিতীয়বার ভাবতে বাধ্য হয়। তবে একই সঙ্গে একটি গুরুত্বপূর্ণ বাস্তবতাও রয়েছে। শুধু শাস্তির কঠোরতা সব সময় অপরাধ কমানোর একমাত্র বা সবচেয়ে কার্যকর উপায় নয়। গবেষণায় প্রায়ই দেখা যায় যে অপরাধ কমানোর ক্ষেত্রে শাস্তির কঠোরতার চেয়ে শাস্তির নিশ্চিততা বেশি গুরুত্বপূর্ণ। অর্থাৎ যদি মানুষ মনে করে যে অপরাধ করলে ধরা পড়ার সম্ভাবনা খুবই কম, তাহলে কঠোর শাস্তির ভয়ও অনেক সময় তাকে অপরাধ ঘটানো থেকে বিরত রাখতে পারে না। কিন্তু যদি সে নিশ্চিত থাকে যে অপরাধ করলে ধরা পড়বেই এবং শাস্তি হবেই, তাহলে তুলনামূলক কম শাস্তিও শক্তিশালী প্রতিরোধ গড়ে তুলতে পারে। আরেকটি জটিল বিষয় হলো, কিছু ক্ষেত্রে কঠোর শাস্তি বিপজ্জনক ও বিপরীত ফলও বয়ে আনতে পারে। যেমন কোনো অপরাধের শাস্তি যদি হয় মৃত্যুদণ্ড, তাহলে অপরাধী অনেক সময় প্রমাণ মুছে ফেলার জন্য ভিকটিমকে হত্যা করার মতো আরও গুরুতর অপরাধ করতে পারে। কারণ তার কাছে তখন আর হারানোর কিছু থাকে না। তাই আইন প্রণয়ন ও শাস্তির মাত্রা নির্ধারণের ক্ষেত্রে অত্যন্ত সতর্ক ও গবেষণাভিত্তিক সিদ্ধান্ত প্রয়োজন।   গণতান্ত্রিক সমাজে আরেকটি প্রশ্ন প্রায়ই উঠে আসে—যদি সমাজের অধিকাংশ মানুষ কোনো কঠোর আইন চায়, তাহলে সেটি কেন সব সময় বাস্তবায়িত হয় না? এর উত্তর সহজ নয়। গণতন্ত্র শুধু সংখ্যাগরিষ্ঠের ইচ্ছার ওপর ভিত্তি করে চলে না; এটি সংবিধান, মানবাধিকার, বিচারব্যবস্থা এবং আন্তর্জাতিক নীতিমালা সাথেও সম্পৃক্ত। অনেক সময় জনপ্রিয় আবেগের বাইরে গিয়ে দীর্ঘমেয়াদি সামাজিক ও টেকসই আইনি প্রভাব বিবেচনা করতে হয়। তবে এর অর্থ এই নয় যে জনগণের উদ্বেগ বা দাবি অগ্রাহ্য করা উচিত। বরং আইন প্রণয়ন প্রক্রিয়ায় জনগণের উদ্বেগকে গুরুত্ব দিয়ে, গবেষণা ও বাস্তবতার সঙ্গে মিলিয়ে কার্যকর সমাধান খুঁজে বের করতে হয়। ধর্ষণ প্রতিরোধের প্রশ্নে তাই একমাত্র কোনো একটি পদ্ধতির ওপর নির্ভর করা যথেষ্ট নয়। এটি একটি জটিল সামাজিক সমস্যা, যার শিকড় রয়েছে পরিবার, শিক্ষা, সংস্কৃতি, আইন, অর্থনীতি এবং মানসিকতার গভীরে। একটি শিশুর চরিত্র গড়ে ওঠে পরিবারে। যদি ছোটবেলা থেকেই তাকে অন্যের মর্যাদা, সম্মতি এবং মানবিকতার শিক্ষা দেওয়া হয়, তাহলে তার মধ্যে আত্মনিয়ন্ত্রণের শক্তি তৈরি হয়। শিক্ষা প্রতিষ্ঠানও এই মূল্যবোধ গঠনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে। সামাজিক সংস্কৃতিও এখানে বড় ভূমিকা রাখে। অনেক সমাজে এখনও নারীর প্রতি অবমাননাকর দৃষ্টিভঙ্গি বা পুরুষতান্ত্রিক মানসিকতা বিদ্যমান। এই মানসিকতা পরিবর্তন না করলে আইন একা খুব বেশি দূর এগোতে পারে না। সামাজিক ও প্রিন্ট-ইলেক্ট্রনিক মাধ্যম, সাহিত্য, সংস্কৃতি এবং জনসচেতনতা কর্মসূচি মানুষের মনোভাব পরিবর্তনে সহায়তা করতে পারে। আইনের কার্যকর প্রয়োগ অবশ্যই অপরিহার্য। একটি সমাজে যদি অপরাধের বিচার দীর্ঘসূত্রিতায় আটক   ©️মো: আবদুর রহমান মিঞা (লেখক, প্রাবন্ধিক ও গবেষক) ই-মেইল: arahmanmiah@gmail.com  

ডেস্ক রিপোর্ট মার্চ ১০, ২০২৬ 0

মন্ত্রী-প্রতিমন্ত্রীদের পিএস হতে সচিবালয়ে দৌড়ঝাঁপ

অ্যাডভোকেট তাজুল ইসলাম

সাহসী চিফ প্রসিকিউটর তাজুল ইসলামের বিদায়

ছবি: সংগৃহীত

আমাকে বিদেশ সফরে যেতে বাধা দিয়েছে ইউনূস সরকার

ছবি: সংগৃহীত
বাদ দেওয়া হচ্ছে আইসিটির চিফ প্রসিকিউটর তাজুল ইসলামকে

আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল (আইসিটি)-এর চিফ প্রসিকিউটর পদে বড় ধরনের পরিবর্তনের সিদ্ধান্ত নিয়েছে নবগঠিত সরকার। বর্তমান চিফ প্রসিকিউটর অ্যাডভোকেট তাজুল ইসলামের পরিবর্তে এই গুরুত্বপূর্ণ পদে অ্যাডভোকেট আমিনুল ইসলামকে নিয়োগ দেওয়ার প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। রোববার রাতে ব্রিটিশ সাংবাদিক ডেভিড বার্গম্যান তাঁর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এই চাঞ্চল্যকর তথ্যটি প্রকাশ করার পর থেকে আইনি ও রাজনৈতিক অঙ্গনে ব্যাপক আলোচনা শুরু হয়েছে।   সূত্রমতে, অ্যাডভোকেট আমিনুল ইসলাম দেশের একজন প্রথিতযশা আইনজীবী। তিনি বিএনপি চেয়ারপারসন ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার বিরুদ্ধে হওয়া বিভিন্ন দুর্নীতি মামলায় তাঁর আইনি দলের অন্যতম সক্রিয় সদস্য হিসেবে কাজ করেছেন। আইনি মহলে তাঁর অভিজ্ঞতা ও দক্ষতা সর্বজনবিদিত।   একটি নির্ভরযোগ্য সূত্র জানিয়েছে, সরকারের এই পরিবর্তনের সিদ্ধান্তের বিষয়ে বর্তমান চিফ প্রসিকিউটর তাজুল ইসলামকে ইতোমধ্যেই অনানুষ্ঠানিকভাবে অবহিত করা হয়েছে। গত রবিবার আইনমন্ত্রী মোহাম্মদ আসাদুজ্জামান তাঁর কার্যালয়ে তাজুল ইসলামকে ডেকে পাঠান। সেই বৈঠকেই ট্রাইব্যুনালের প্রসিকিউশন টিমে নতুন নেতৃত্ব নিয়ে আসার বিষয়ে সরকারের উচ্চ মহলের আগ্রহের কথা জানানো হয়। যদিও এই বিষয়ে এখন পর্যন্ত তাজুল ইসলামের পক্ষ থেকে কোনো প্রকাশ্য মন্তব্য পাওয়া যায়নি।   ফ্যাসিবাদী শাসনামলের মানবতাবিরোধী অপরাধের বিচার প্রক্রিয়া যখন এক গুরুত্বপূর্ণ পর্যায়ে রয়েছে, ঠিক সেই সময়ে প্রসিকিউশন টিমের শীর্ষে এমন রদবদল অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা। নতুন চিফ প্রসিকিউটর হিসেবে আমিনুল ইসলামের অন্তর্ভুক্তি বিচার কাজকে আরও গতিশীল ও স্বচ্ছ করবে বলে আশা করছে সরকার। খুব দ্রুতই এই নিয়োগের বিষয়ে আনুষ্ঠানিক প্রজ্ঞাপন জারি হতে পারে বলে সংশ্লিষ্ট দপ্তর থেকে জানা গেছে।

আমেরিকা বাংলা ডেস্ক রিপোর্ট ফেব্রুয়ারি ২৩, ২০২৬ 0
ছবি: সংগৃহীত

প্রধানমন্ত্রী হওয়ার পর উনি পরিষ্কার প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের পথেই হাঁটছেন: ফারুকী

ছবি: সংগৃহীত

‘হ্যাঁ’ জয়ী হলেও জুলাই সনদের যে বিষয় বাস্তবায়ন হবে না

নতুন আইজিপি হওয়ার চেষ্টায় তিনজন, পদ পেতে দৌড়ঝাঁপ

ছবি: সংগৃহীত
প্রথমবারেই বাজিমাত, সংসদে কুমিল্লার নতুন পাঁচ মুখ

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে কুমিল্লায় এক নতুন রাজনৈতিক যুগের সূচনা হয়েছে। প্রথাগত রাজনীতির হেভিওয়েটদের ভিড়ে প্রথমবারের মতো নির্বাচনে অংশ নিয়েই বাজিমাত করেছেন কুমিল্লার ৫ জন তরুণ ও মেধাবী নেতা। জেলার ১১টি সংসদীয় আসনের মধ্যে যে আটটিতে বিএনপি, একটিতে জামায়াত, একটিতে এনসিপি এবং একটিতে স্বতন্ত্র প্রার্থী বিজয়ী হয়েছেন, তার মধ্যে এই ৫ জনের সরাসরি সংসদে অভিষেক দেশজুড়ে আলোচনার জন্ম দিয়েছে।   সংসদে যাওয়া কুমিল্লার সেই ৫ নতুন মুখ হলেন: ১. কুমিল্লা-২ (হোমনা-তিতাস): বিএনপির কুমিল্লা বিভাগীয় সাংগঠনিক সম্পাদক অধ্যক্ষ সেলিম ভূঁইয়া। ২. কুমিল্লা-৪ (দেবিদ্বার): জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) দক্ষিণাঞ্চলের মুখ্য সংগঠক হাসনাত আবদুল্লাহ। ৩. কুমিল্লা-৫ (বুড়িচং-ব্রাহ্মণপাড়া): দক্ষিণ জেলা বিএনপির সাবেক সদস্য সচিব ও ব্রাহ্মণপাড়া উপজেলা বিএনপির সভাপতি জসিম উদ্দিন। ৪. কুমিল্লা-৭ (চান্দিনা): স্বতন্ত্র প্রার্থী আতিকুল আলম। ৫. কুমিল্লা-৯ (লাকসাম-মনোহরগঞ্জ): বিএনপির শিল্পবিষয়ক সম্পাদক আবুল কালাম।   সবচেয়ে আলোচিত বিজয়টি এসেছে কুমিল্লা-৪ (দেবিদ্বার) আসনে। ১১ দলীয় জোটের শরিক এনসিপির প্রার্থী হাসনাত আবদুল্লাহ তাঁর ‘শাপলা কলি’ প্রতীকে নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বীর চেয়ে প্রায় তিনগুণ বেশি ভোট পেয়ে নির্বাচিত হয়েছেন। বিজয়ী হওয়ার পর এক ভিডিও বার্তায় হাসনাত আবদুল্লাহ বলেন, “আমি ৮০ শতাংশ ভোট পেয়েছি। যারা আমাকে ভোট দেননি, তাদেরও মন জয় করে আমি সবার প্রতিনিধি হতে চাই। সমাজকে এমনভাবে সাজাবো যেখানে আমার কট্টর শত্রুর প্রতিও কেউ অবিচার করতে পারবে না।”   অন্যদিকে, কুমিল্লা-৫ আসনের নবনির্বাচিত এমপি জসিম উদ্দিন এক অনন্য রাজনৈতিক শিষ্টাচারের উদাহরণ দিয়েছেন। তিনি জানান, নির্বাচনের পর তাঁর এলাকায় রাজনৈতিক প্রতিপক্ষ জামায়াতে ইসলামীর কোনো নেতাকর্মী বা তাঁদের ঘরবাড়িতে কোনো ধরণের হামলা বা প্রতিহিংসামূলক আচরণ করা হয়নি। তিনি স্পষ্ট করে বলেন, “শান্তি ও সহনশীলতাই আমাদের মূল অঙ্গীকার। কোনো অনাকাঙ্ক্ষিত কর্মকাণ্ড ঘটলে আইন কঠোর ব্যবস্থা নেবে।”   কুমিল্লা-২ আসনের অধ্যক্ষ সেলিম ভূঁইয়া জানিয়েছেন, তাঁর মূল লক্ষ্য হবে নির্বাচনি এলাকার মানুষের প্রত্যাশা পূরণ এবং সংসদে বলিষ্ঠ কণ্ঠে কুমিল্লার সমস্যার কথা তুলে ধরা। স্থানীয় ভোটারদের মনে এখন নতুন এক আশার সঞ্চার হয়েছে। বিশেষ করে ‘কুমিল্লা বিভাগ’ করার দীর্ঘদিনের দাবি এবার সংসদে নতুন জোরালো ভূমিকা পাবে বলে মনে করছেন স্থানীয়রা। প্রবীণদের অভিজ্ঞতার পাশাপাশি এই ৫ নতুনের উদ্যম কুমিল্লার ভাগ্যোন্নয়নে কতটা প্রভাব ফেলে, সেটিই এখন দেখার বিষয়।

আমেরিকা বাংলা ডেস্ক রিপোর্ট ফেব্রুয়ারি ১৬, ২০২৬ 0
সজীব ওয়াজেদ জয়

তারেক রহমানের সঙ্গে বসতে রাজি জয়

ফেনীতে নির্বাচন-পরবর্তী সহিংসতা

দাঁড়িপাল্লা সমর্থকদের ওপর হামলা ও দোকান ভাঙচুর, কৃষক দল নেতাকে অব্যাহতি

হত্যাকাণ্ডের শিকার জসিম উদ্দিন ও বিএনপির লোগো

বিদ্রোহী প্রার্থীর সমর্থককে পিটিয়ে হত্যার অভিযোগ স্বেচ্ছাসেবক দল নেতার বিরুদ্ধে

0 Comments