উত্তর কোরিয়ার দোর্দণ্ডপ্রতাপ শাসক কিম জং উনের একনায়কতন্ত্র ও কঠোর শাসনের কথা বিশ্বজুড়ে সমাদৃত না হলেও আতঙ্কিত হওয়ার মতো যথেষ্ট। সম্প্রতি দেশটিতে অনুষ্ঠিত নির্বাচনে কিম জং উন ৯৯.৯৩ শতাংশ ভোট পেয়ে জয়লাভ করেছেন। আপাতদৃষ্টিতে এটি বিশাল ব্যবধান মনে হলেও, আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে উঠে এসেছে বাকি ০.০৭ শতাংশ ভোটার। ১৯৫৭ সালের পর এই প্রথম উত্তর কোরিয়ার কোনো নির্বাচনে শাসকের বিপক্ষে অর্থাৎ ‘না’ ভোট পড়েছে, যা বিশ্বজুড়ে বিস্ময়ের সৃষ্টি করেছে। ইন্টারনেট দুনিয়ায় এখন একটাই প্রশ্ন—কারা এই দুঃসাহসী ০.০৭ শতাংশ মানুষ? গত সাত দশকে উত্তর কোরিয়ায় যা কেউ ভাবতেও পারেনি, সেই অসম্ভবকে সম্ভব করা এই ভোটারদের নিয়ে চলছে তুমুল জল্পনা। নেটিজেনরা মজা করে বলছেন, এই ০.০৭ শতাংশ মানুষই এখন উত্তর কোরিয়ার ‘মোস্ট ওয়ান্টেড’ তালিকার শীর্ষে। অনেকে আবার তাদের পরিণতি নিয়ে শঙ্কা প্রকাশ করে লিখেছেন, ‘এই সাহসী মানুষদের জন্য এক মিনিট নীরবতা পালন করা উচিত’। ইতিহাস বলে, কিম জং উনের শাসনে অবাধ্যতার কোনো স্থান নেই। এমনকি নিজের আপন চাচাকেও ‘বিশ্বাসঘাতকতা’র অভিযোগে ১২০টি ক্ষুধার্ত কুকুরের মুখে ঠেলে দিতে দ্বিধা করেননি এই স্বৈরশাসক। এমন কঠোর মানসিকতার একজন মানুষের শাসনে থেকে যারা ‘না’ ভোট দেওয়ার সাহস দেখিয়েছেন, তারা কি তবে কোনো গণঅভ্যুত্থানের ইঙ্গিত দিচ্ছেন? ভঙ্গুর অর্থনীতি আর দীর্ঘদিনের দমন-পীড়নের মাঝে এই সামান্য ভোট কি কিমের সাজানো সিংহাসনে কোনো কম্পন ধরাতে পারবে, এখন সেটাই দেখার বিষয়।
গত ১২ ফেব্রুয়ারির নির্বাচনে দুই-তৃতীয়াংশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা নিয়ে জয়লাভের পর ১৭ই ফেব্রুয়ারি শপথ গ্রহণ করে তারেক রহমানের নেতৃত্বাধীন বিএনপি সরকার। ছাত্র-জনতার গণঅভ্যুত্থান পরবর্তী অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের পর এই নির্বাচিত সরকারের প্রথম ৩০ দিন বা এক মাস পূর্ণ হলো। এই স্বল্প সময়ে সরকারের গৃহীত পদক্ষেপগুলো রাষ্ট্র পরিচালনায় কোন বার্তার ইঙ্গিত দিচ্ছে, তা নিয়ে চুলচেরা বিশ্লেষণ শুরু হয়েছে রাজনৈতিক ও কূটনৈতিক মহলে। নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি ও জনকল্যাণমুখী পদক্ষেপ সরকার গঠনের পরপরই নির্বাচনী ইশতেহার বাস্তবায়নে জোর দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। প্রথাগত ১০০ দিনের পরিবর্তে এবার ১৮০ দিনের দীর্ঘমেয়াদী অগ্রাধিকার পরিকল্পনা গ্রহণ করা হয়েছে। এর মধ্যে সবচেয়ে আলোচিত ‘ফ্যামিলি কার্ড’ কর্মসূচির উদ্বোধন করেছেন প্রধানমন্ত্রী নিজেই, যার মাধ্যমে প্রতিটি পরিবার মাসে ২,৫০০ টাকা করে ভাতা পাবে। এছাড়া প্রান্তিক কৃষকদের ১০ হাজার টাকা পর্যন্ত কৃষি ঋণ মওকুফ এবং সারাদেশে খাল খনন কর্মসূচি পুনরায় চালু করাকে ইতিবাচক হিসেবে দেখছেন বিশ্লেষকরা। প্রশাসন ও নিয়োগ নিয়ে বিতর্ক জনকল্যাণমূলক কাজের পাশাপাশি কিছু বিষয়ে সমালোচনাও পিছু ছাড়ছে না। বিশেষ করে সিটি কর্পোরেশন ও জেলা পরিষদগুলোতে দলীয় নেতাদের প্রশাসক নিয়োগ এবং বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে আগের আমলের মতোই দলীয় শিক্ষকদের উপাচার্য হিসেবে পদায়ন নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষক মহিউদ্দিন আহমদ। কেন্দ্রীয় ব্যাংকের গভর্নর নিয়োগ এবং লন্ডনে বাংলাদেশ হাইকমিশনারকে প্রত্যাহারের প্রক্রিয়া নিয়েও পেশাদার কূটনীতিক ও অর্থনীতিবিদদের মধ্যে মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে। কূটনীতি: ‘সবার আগে বাংলাদেশ’ নীতি পররাষ্ট্রনীতিতে ভারসাম্য বজায় রাখা এবং ভারতের সাথে সম্পর্কের বরফ গলানোকে বড় চ্যালেঞ্জ হিসেবে দেখা হচ্ছিল। তবে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকে নরেন্দ্র মোদীর অভিনন্দন এবং শপথ অনুষ্ঠানে ভারতীয় পররাষ্ট্রমন্ত্রীর উপস্থিতি একটি ইতিবাচক সূচনার ইঙ্গিত দেয়। পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ স্পষ্ট করেছেন যে, ‘সবার আগে বাংলাদেশ’ নীতি অনুসরণ করেই সার্বভৌমত্ব ও সমতার ভিত্তিতে সব রাষ্ট্রের সঙ্গে সম্পর্ক রক্ষা করা হবে। আইন-শৃঙ্খলা ও সংবিধান সংস্কার আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে পুলিশ ও প্রশাসনে বড় ধরনের রদবদল আনা হয়েছে। তবে অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের সময়কার ‘জুলাই সনদ’ অনুযায়ী সংবিধান সংস্কার পরিষদের কার্যক্রম নিয়ে কিছুটা জটিলতা তৈরি হয়েছে। বিএনপি সংসদীয় পদ্ধতিতে সংবিধান সংশোধনের পক্ষে অনড় অবস্থানে থাকায় গণভোট পরবর্তী এই প্রক্রিয়াটি নতুন মোড় নিতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। অর্থনীতিবিদ ড. মুস্তাফিজুর রহমানের মতে, সামাজিক সুরক্ষার পদক্ষেপগুলো ইতিবাচক হলেও উচ্চ মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণ এবং বিনিয়োগ চাঙ্গা করে কর্মসংস্থান সৃষ্টি করাই হবে এই সরকারের আগামীর আসল পরীক্ষা।
জল্পনার অবসান ঘটিয়ে পশ্চিমবঙ্গসহ দেশের চার রাজ্য ও একটি কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলের নির্বাচনী তফশিল ঘোষণা করল ভারতের নির্বাচন কমিশন। রোববার দিল্লির বিজ্ঞান ভবনে আয়োজিত এক জনাকীর্ণ সংবাদ সম্মেলনে মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমার জানান, পশ্চিমবঙ্গে এবারের বিধানসভা নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে মাত্র দুই দফায়। আগামী ২৩শে এপ্রিল এবং ২৯শে এপ্রিল ভোটগ্রহণ করা হবে এবং আগামী ৪ঠা মে জানা যাবে বাংলার মসনদে কে বসছেন। উল্লেখ্য, ২০২১ সালের নির্বাচনে আট দফায় ভোট হলেও এবার নজিরবিহীনভাবে তা কমিয়ে আনা হয়েছে। কমিশনারের মতে, প্রক্রিয়ার সুবিধার্থেই এই সিদ্ধান্ত। একইসাথে আসাম, কেরালা, তামিলনাড়ু ও পন্ডিচেরিতেও ভোটের তারিখ ঘোষণা করা হয়েছে। এক নজরে ভোটের তফশিল: প্রথম দফা (২৩শে এপ্রিল): উত্তরবঙ্গ ও জঙ্গলমহলসহ মোট ১৫টি জেলায় ভোট। জেলাগুলো হলো— কোচবিহার, আলিপুরদুয়ার, জলপাইগুড়ি, দার্জিলিং, কালিম্পং, উত্তর ও দক্ষিণ দিনাজপুর, মালদা, মুর্শিদাবাদ, পশ্চিম বর্ধমান, বীরভূম, পূর্ব ও পশ্চিম মেদিনীপুর, পুরুলিয়া, বাঁকুড়া ও ঝাড়গ্রাম। দ্বিতীয় দফা (২৯শে এপ্রিল): দক্ষিণবঙ্গের গুরুত্বপূর্ণ জেলাগুলোতে ভোট। জেলাগুলো হলো— কলকাতা, উত্তর ও দক্ষিণ ২৪ পরগণা, হাওড়া, হুগলি, নদীয়া এবং পূর্ব বর্ধমান। ফলাফল: ৪ঠা মে। ভোটের আগে 'ভোটার তালিকা' কাঁটা নির্বাচন ঘোষণা হলেও পশ্চিমবঙ্গে ভোটার তালিকার বিশেষ নিবিড় সংশোধন (SIR) নিয়ে বিতর্ক এখনো থামেনি। কমিশনের তথ্য অনুযায়ী, প্রায় ৬০ লক্ষ ৬ হাজার ৬৭৫ জন ভোটারের নাম বর্তমানে 'বিবেচনাধীন' অবস্থায় রয়েছে। হাইকোর্ট নিযুক্ত বিচার বিভাগীয় কর্মকর্তারা এই তালিকা খতিয়ে দেখছেন। মুখ্য নির্বাচন কমিশনার আশ্বস্ত করেছেন যে, "কোনো বৈধ ভোটারের নাম বাদ যাবে না, আবার কোনো অবৈধ নাম তালিকায় থাকবে না।" ভোট গ্রহণের আগে পর্যন্ত যাদের নাম নিষ্পত্তি হবে, তারা ভোটাধিকার প্রয়োগ করতে পারবেন। লড়াই যখন অস্তিত্বের ও পরিবর্তনের ২০২৬-এর এই নির্বাচন তৃণমূল কংগ্রেসের জন্য যেমন ক্ষমতা ধরে রাখার চ্যালেঞ্জ, তেমনই বিজেপির জন্য এটি মহাকরণ দখলের লড়াই। একদিকে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের 'লক্ষ্মীর ভাণ্ডার', 'কন্যাশ্রী' ও ডিএ বৃদ্ধির মতো জনমুখী প্রকল্প; অন্যদিকে বিজেপির তোলা 'দুর্নীতি', 'নারী নিরাপত্তা' ও 'পরিবর্তন'-এর ডাক— দুই শিবিরের প্রচারেই এখন উত্তপ্ত বঙ্গ রাজনীতি। ব্রিগেডের সভা থেকে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর আক্রমণ এবং তৃণমূলের পাল্টা হুঙ্কার আসন্ন নির্বাচনকে এক অন্য মাত্রা দিয়েছে। ২৯৪ আসনের এই বিধানসভায় ম্যাজিক ফিগার ১৪৮। শেষ পর্যন্ত বাংলার জনতা কাকে বেছে নেয়, এখন সেটাই দেখার।
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ঢাকা-১৩ (মোহাম্মদপুর) আসনের ভোটের ফলাফলে কারচুপির অভিযোগে বড় ধরনের আইনি পদক্ষেপ নিয়েছে হাইকোর্ট। আসনটিতে বিজয়ী বিএনপি প্রার্থী ববি হাজ্জাজের আসনের ব্যবহৃত সকল ব্যালট পেপার, রেজাল্ট শিট ও অন্যান্য নির্বাচনী সরঞ্জামাদি অবিলম্বে নির্বাচন কমিশনের (ইসি) হেফাজতে নেয়ার নির্দেশ দেয়া হয়েছে। বুধবার (১১ মার্চ) বিচারপতি মো. জাকির হোসেনের একক হাইকোর্ট বেঞ্চ মাওলানা মামুনুল হকের দায়ের করা নির্বাচনী মামলাটি শুনানির জন্য গ্রহণ করে এই আদেশ দেন। আদালত সূত্রে জানা গেছে, কেবল ঢাকা-১৩ নয়, বরং গাইবান্ধা-৫, ঢাকা-৫, পাবনা-৩ ও কুষ্টিয়া-৪ আসনের নির্বাচনী নথিপত্রও সংরক্ষণের নির্দেশ দেয়া হয়েছে। খেলাফত মজলিসের আমির মাওলানা মামুনুল হকসহ গত ২৬ ফেব্রুয়ারি থেকে ৮ মার্চ পর্যন্ত ২৫ জনেরও বেশি প্রার্থী নির্বাচনে অনিয়মের অভিযোগ তুলে হাইকোর্টে আবেদন জানিয়েছিলেন। গণপ্রতিনিধিত্ব অধ্যাদেশ অনুযায়ী গঠিত এই বিশেষ নির্বাচনী ট্রাইব্যুনাল আবেদনগুলো আমলে নিয়ে নির্বাচনী সরঞ্জামাদি সুরক্ষিত রাখার আদেশ প্রদান করেন। এর ফলে বিতর্কিত আসনগুলোর প্রকৃত ফলাফল পুনর্মূল্যায়নের পথ আরও প্রশস্ত হলো বলে মনে করছেন আইন বিশেষজ্ঞরা।
নেপালের রাজনীতিতে দীর্ঘ কয়েক দশক ধরে চলে আসা প্রবীণ নেতাদের আধিপত্য এক লহমায় ধূলিসাৎ হয়ে গেল। হিমালয় কন্যা নেপালে বইছে পরিবর্তনের প্রবল হাওয়া। প্রথাগত রাজনীতির ‘হেভিওয়েট’দের ধরাশায়ী করে দেশটিতে এক ঐতিহাসিক জয় ছিনিয়ে নিয়েছে সাবেক র্যাপার ও কাঠমান্ডুর সাবেক মেয়র বালেন্দ্র শাহের (বালেন) দল ‘রাষ্ট্রীয় স্বতন্ত্র পার্টি’ (RSP)। রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা একে দেখছেন নেপালের তরুণ প্রজন্মের বা ‘জেন-জি’ (Gen Z) ভোটারদের এক নীরব বিপ্লব হিসেবে। দীর্ঘদিন ধরে নেপালের রাজনীতি মূলত নেপালি কংগ্রেস ও সিপিএন-ইউএমএল-এর মতো পুরোনো দলগুলোর হাতে বন্দি ছিল। দুর্নীতির অভিযোগ, বেকারত্ব এবং স্থবির অর্থনীতির বিরুদ্ধে গত সেপ্টেম্বর মাসে নেপালের রাস্তায় নেমেছিল তরুণ প্রজন্ম। সেই আন্দোলনের রেশ ধরেই এবারের নির্বাচনে ব্যালট পেপারে নিজেদের ক্ষোভ উগড়ে দিয়েছে জেন-জি ভোটাররা। ফলাফল অনুযায়ী, বালেন্দ্র শাহ নিজে ঝাপা-৫ আসনে সাবেক প্রধানমন্ত্রী কে পি শর্মা ওলিকে বিশাল ব্যবধানে পরাজিত করেছেন। এবারের নির্বাচনে মূল চালিকাশক্তি ছিল তরুণরা। নেপালের জনসংখ্যার একটি বড় অংশ যাদের বয়স ২৪-এর নিচে, তারা প্রথাগত নেতাদের ওপর থেকে আস্থা হারিয়ে ঝুঁকছেন বালেন্দ্রর দিকে। বালেন্দ্র শাহর প্রচারণার মূল ভিত্তি ছিল দুর্নীতিমুক্ত প্রশাসন, স্বচ্ছতা এবং আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর উন্নয়ন। গত বছর নেপাল সরকারের সামাজিক মাধ্যম বা 'টিকটক' নিষিদ্ধ করার সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে তরুণদের যে আন্দোলন গড়ে উঠেছিল, বালেন শাহ সেই ক্ষোভকে সফলভাবে রাজনৈতিক শক্তিতে রূপান্তর করতে পেরেছেন। নেপালের রাজনীতিতে ‘আউটসাইডার’ হিসেবে পরিচিত ৩৫ বছর বয়সী বালেন্দ্র শাহ পেশায় একজন স্ট্রাকচারাল ইঞ্জিনিয়ার এবং জনপ্রিয় র্যাপার। কাঠমান্ডুর মেয়র থাকাকালীন তার কাজের ধরণ তাকে সাধারণ মানুষের অত্যন্ত কাছের মানুষে পরিণত করে। এবারের নির্বাচনে তার দল আরএসপি (RSP) একক সংখ্যাগরিষ্ঠতার পথে এগিয়ে যাচ্ছে, যা তাকে নেপালের ইতিহাসে সর্বকনিষ্ঠ প্রধানমন্ত্রী হওয়ার দৌড়ে অনেকটাই এগিয়ে দিয়েছে। তবে এই ভূমিধস জয়ের পরেও বালেনের সামনে রয়েছে বড় চ্যালেঞ্জ। নেপালের ভঙ্গুর অর্থনীতি পুনরুদ্ধার এবং প্রতিবেশী দেশগুলোর সাথে কূটনৈতিক ভারসাম্য বজায় রাখা তার জন্য কঠিন পরীক্ষা হবে। বিশেষ করে তার অতীত সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের কিছু মন্তব্য নিয়ে বিতর্ক থাকায় আন্তর্জাতিক অঙ্গনে তিনি কীভাবে নিজেকে তুলে ধরেন, সেদিকেই তাকিয়ে রয়েছে কূটনৈতিক মহল। নেপালের এই নির্বাচন প্রমাণ করল যে, দক্ষিণ এশিয়ায় শুধু জনমোহিনী বক্তৃতা দিয়ে তরুণ প্রজন্মকে আর ভুলিয়ে রাখা সম্ভব নয়। কর্মসংস্থান এবং সুশাসনের দাবিতে নেপালের এই ‘জেন-জি বিপ্লব’ পার্শ্ববর্তী দেশগুলোর রাজনীতির জন্যও এক বড় বার্তা হয়ে রইল।
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে কারচুপির অভিযোগের প্রেক্ষিতে ঢাকা-৪ ও ঢাকা-১৬ আসনের ব্যালট পেপার, রেজাল্ট শিটসহ যাবতীয় নির্বাচনি সরঞ্জামাদি নির্বাচন কমিশনের হেফাজতে নেওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন হাইকোর্ট। একইসঙ্গে ওই দুই আসনে ঘোষিত বিজয়ীদের প্রতি আদালতের পক্ষ থেকে কারণ দর্শানোর নোটিশ ইস্যু করা হয়েছে। আজ রোববার বিচারপতি মো. জাকির হোসেনের একক হাইকোর্ট বেঞ্চ মামলাটি শুনানির জন্য গ্রহণ করে এই আদেশ প্রদান করেন। মামলার পরবর্তী শুনানির তারিখ নির্ধারণ করা হয়েছে আগামী ৮ জুন। নির্বাচনে কারচুপির সুনির্দিষ্ট অভিযোগ এনে ঢাকা-৪ আসনের বিএনপি প্রার্থী তানভীর আহমেদ রবিন এবং ঢাকা-১৬ আসনের বিএনপি প্রার্থী প্রতিমন্ত্রী আমিনুল হক হাইকোর্টের নির্বাচনি ট্রাইব্যুনালে এই মামলা দায়ের করেন। আবেদনে তারা সংশ্লিষ্ট কেন্দ্রগুলোর ভোট পুনর্গণনার দাবি জানিয়েছেন। উল্লেখ্য যে, ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে অনিয়মের অভিযোগে এখন পর্যন্ত বিএনপি ও জামায়াতে ইসলামীর ১৫ জন এবং ১ জন স্বতন্ত্র প্রার্থীর আবেদনের প্রেক্ষিতে বিভিন্ন আসনের ব্যালট পেপার ও সরঞ্জামাদি হেফাজতে নেওয়ার নির্দেশ দিয়েছে আদালত। গত ১৯ ফেব্রুয়ারি গণপ্রতিনিধিত্ব অধ্যাদেশের ৪৯ ধারা অনুযায়ী নির্বাচনি ট্রাইব্যুনাল গঠিত হওয়ার পর থেকেই একের পর এক অভিযোগের শুনানি চলছে।
হিমালয়কন্যা নেপালে আজ সকাল থেকেই শুরু হয়েছে সংসদীয় নির্বাচনের ভোটগ্রহণ। তবে এবারের নির্বাচন কেবল ক্ষমতা দখলের লড়াই নয়, বরং দেশটির রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা এবং দক্ষিণ এশিয়ার ভূ-রাজনীতিতে ভারত ও চীনের প্রভাব বিস্তারের এক অগ্নিপরীক্ষা। দীর্ঘদিনের দুর্নীতি এবং সামাজিক বৈষম্যের বিরুদ্ধে ২০২৫ সালের সেপ্টেম্বরে নেপালি 'জেন জি' (Gen Z) প্রজন্মের নজিরবিহীন আন্দোলনের পর এই প্রথম ব্যালট বাক্সে রায় দিচ্ছে জনতা। ১৯৯০ সালে রাজতন্ত্রের পতনের পর থেকে নেপাল ৩২টি সরকার পরিবর্তন হতে দেখলেও স্থায়ী স্থিতিশীলতা অধরাই থেকে গেছে। পর্যবেক্ষকদের মতে, এবারও কোনো একক দলের সংখ্যাগরিষ্ঠতা পাওয়ার সম্ভাবনা ক্ষীণ। তবে আকর্ষণের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন কাঠমান্ডুর সাবেক মেয়র ও সাবেক র্যাপার ৩৫ বছর বয়সী বালেন শাহ। পেশাদার সংগীতশিল্পী থেকে রাজনীতিক বনে যাওয়া বালেন লড়ছেন ঝাপা-৫ আসনে, যা সাবেক প্রধানমন্ত্রী কেপি শর্মা ওলির দুর্ভেদ্য দুর্গ হিসেবে পরিচিত। ভারত নাকি চীন: অস্বস্তিতে দিল্লি নেপালের কমিউনিস্ট পার্টি (ইউএমএল)-এর প্রধান কেপি শর্মা ওলি বরাবরই চীনঘনিষ্ঠ হিসেবে পরিচিত। অন্যদিকে, তরুণ প্রজন্মের আইকন বালেন শাহ নিজেকে কট্টর 'ভারত-বিরোধী' হিসেবে তুলে ধরেছেন। মেয়র থাকাকালীন তিনি তাঁর দপ্তরে 'অখণ্ড নেপাল'-এর মানচিত্র টাঙিয়ে বিতর্কের জন্ম দিয়েছিলেন, যেখানে ভারতের উত্তরাখণ্ড, বিহার ও পশ্চিমবঙ্গের কিছু অংশকে নেপালের অন্তর্ভুক্ত দেখানো হয়েছে। দিল্লির কূটনৈতিক মহলে উদ্বেগ বাড়ছে যে, ওলি বা বালেন—যারাই ক্ষমতায় আসুক না কেন, তা ভারতের কৌশলগত স্বার্থের প্রতিকূলে যেতে পারে। নির্বাচনী ময়দানের সমীকরণ নেপালি কংগ্রেস এবার প্রবীণ নেতা শের বাহাদুর দেউবার পরিবর্তে ৪৯ বছর বয়সী তরুণ নেতা গগন থাপাকে সামনে এনেছে। অন্যদিকে, সাবেক মাওবাদী নেতা পুষ্প কমল দাহাল ওরফে 'প্রচণ্ড'ও রয়েছেন লড়াইয়ে। তবে সবার নজর বালেন শাহের 'রাষ্ট্রীয় স্বতন্ত্র পার্টি' (আরএসপি)-র দিকে। বিশ্লেষকদের ধারণা, সোশ্যাল মিডিয়া এবং তরুণ প্রজন্মের বিপুল সমর্থনে বালেন এবার চমক দেখাতে পারেন। নেপাল নির্বাচন কমিশন জানিয়েছে, ভোটগ্রহণ শেষে ১৬৫টি আসন থেকে ব্যালট সংগ্রহের ২৪ ঘণ্টার মধ্যেই ফলাফল ঘোষণা করা হবে। হিমালয়ের এই দেশে কি এবার জেন-জি বিপ্লব সফল হবে, নাকি পুরনো রাজনৈতিক সমীকরণই বজায় থাকবে—তার উত্তর পাওয়া এখন সময়ের অপেক্ষা।
ইরানের বিরুদ্ধে চলমান সামরিক তৎপরতা নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের অভ্যন্তরীণ রাজনীতিতে প্রবল চাপের মুখে পড়তে যাচ্ছেন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। বিশ্লেষকদের মতে, বাইরে থেকে ট্রাম্পকে যতটা শক্তিশালী মনে হচ্ছে, দেশের ভেতরের রাজনৈতিক সমীকরণ তার জন্য ততটাই জটিল। জর্জটাউন ইউনিভার্সিটি ইন কাতার-এর সহযোগী অধ্যাপক পল মাসগ্রেভ আল জাজিরাকে জানান, "ডোনাল্ড ট্রাম্পের ওপর রাজনৈতিক সীমাবদ্ধতাগুলো আপাতদৃষ্টির চেয়ে অনেক বেশি গভীর।" সাম্প্রতিক জনমত জরিপগুলো বলছে, ইরানের ওপর হামলার বিষয়ে মার্কিন নাগরিকদের সমর্থন অত্যন্ত নগণ্য। বিশেষ করে রিপাবলিকান সমর্থকদের ৪২ শতাংশ জানিয়েছেন, যদি এই সংঘাতের ফলে মধ্যপ্রাচ্যে কোনো মার্কিন সেনার মৃত্যু বা ক্ষয়ক্ষতি হয়, তবে তারা এই হামলার সমর্থনে থাকবেন না। অন্যদিকে, ইসরায়েলের চিত্র সম্পূর্ণ ভিন্ন। সেখানে ৯৩ শতাংশ নাগরিক ইরানের ওপর হামলার পক্ষে মত দিয়েছেন। মাসগ্রেভ মনে করেন, ট্রাম্প যদি এই সংঘাত দীর্ঘায়িত করেন, তবে তাকে দেশে চরম রাজনৈতিক মূল্য চোকাতে হবে এবং তীব্র জনরোষের মুখোমুখি হতে হবে।
চব্বিশের গণঅভ্যুত্থান পরবর্তী রাজনৈতিক বাস্তবতায় এক কঠিন সময় পার করছে আওয়ামী লীগ। ২০২৫ সালের মে মাসে অন্তর্বর্তীকালীন সরকার কর্তৃক দলীয় নিবন্ধন স্থগিত ও সহযোগী সংগঠনের রাজনীতি নিষিদ্ধ হওয়ায় সংসদ নির্বাচনে অংশ নিতে পারেনি টানা ১৫ বছর ক্ষমতায় থাকা এই দলটি। বর্তমানে রাজনৈতিক ‘স্পেস’ ফিরে পেতে কৌশলী অবস্থানে রয়েছে আওয়ামী লীগের নীতি-নির্ধারণী মহল। দলীয় সূত্রমতে, আপাতত সহিংসতা এড়িয়ে সংগঠন পুনর্গঠনেই মূল মনোযোগ দিচ্ছে আওয়ামী লীগ। বিশেষ করে বিতর্কিত নেতাদের বাদ দিয়ে পরিচ্ছন্ন ভাবমূর্তির তরুণ নেতৃত্ব সামনে আনার বিষয়ে হাইকমান্ডে নীতিগত ঐকমত্য তৈরি হয়েছে। তবে মূল প্রশ্নটি ঘুরপাক খাচ্ছে নেতৃত্ব ঘিরেই। দলের ভেতরে এখনো শেখ হাসিনাকেই চূড়ান্ত সিদ্ধান্তদাতা মনে করা হলেও, বর্তমান পরিস্থিতিতে বিকল্প নেতৃত্ব আনার বিষয়টি জোরালো আলোচনায় রয়েছে। বিচক্ষণ মহলের মতে, আওয়ামী লীগ ‘শেখ পরিবার’-এর হাতেই নেতৃত্ব বজায় রাখতে আগ্রহী। সেক্ষেত্রে শেখ হাসিনা নেপথ্য শক্তি হিসেবে কাজ করবেন এবং সামনে আনা হতে পারে নতুন কোনো মুখ। সজীব ওয়াজেদ জয়ের সাম্প্রতিক মন্তব্য অনুযায়ী, শেখ হাসিনার সক্রিয় রাজনীতিতে ফেরার সম্ভাবনা কম। তবে তৃণমূল ও শীর্ষ নেতাদের বড় অংশ এখনো মনে করেন, পরিস্থিতির বিচারে শেখ হাসিনার বিকল্প নেই। বর্তমানে বিএনপির রাজনৈতিক অবস্থানের দিকে কড়া নজর রাখছে দলটি। অনেক আত্মগোপনে থাকা নেতা প্রকাশ্যে আসতে শুরু করেছেন এবং দলীয় কার্যালয় খোলার প্রস্তুতি চলছে। বিএনপি নেতা তারেক রহমানের সাম্প্রতিক কিছু ইতিবাচক বক্তব্যে আওয়ামী লীগ নেতারা আইনি নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহারের আশা দেখছেন। সব মিলিয়ে, একদিকে শেখ হাসিনার প্রতি আনুগত্য বজায় রাখা এবং অন্যদিকে বাস্তবতা মেনে বিকল্প নেতৃত্বের পথ খোলা রাখা—এই দ্বৈত কৌশলে এগোচ্ছে আওয়ামী লীগের হাইকমান্ড।
নির্বাচনে ব্যাপক অনিয়ম ও ফলাফল প্রভাবিত করার অভিযোগ তুলে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী-এর আমির ডা. শফিকুর রহমান দাবি করেছেন, ক্ষমতাসীন বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) সংখ্যাগরিষ্ঠ মানুষের প্রত্যক্ষ ভোটে ক্ষমতায় আসেনি; বরং বিভিন্ন কৌশল ও ‘ইঞ্জিনিয়ারিং’-এর মাধ্যমে ফল নিজেদের পক্ষে নিয়েছে। বুধবার (২৫ ফেব্রুয়ারি) রাজধানীর মনিপুর উচ্চবিদ্যালয়ে বিশিষ্ট ব্যক্তিদের সম্মানে আয়োজিত এক ইফতার মাহফিলে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। ডা. শফিকুর রহমান বলেন, স্বাধীনতার ৫৪ বছরেও ইসলামি আদর্শভিত্তিক সরকার প্রতিষ্ঠিত হয়নি। তাঁর দাবি, এবারের নির্বাচনে বিশেষ করে তরুণরা পরিবর্তনের পক্ষে অবস্থান নিয়েছিল এবং সংস্কারের পক্ষে উল্লেখযোগ্য সমর্থন দেখা গেছে, যা জনগণের মনোভাবের প্রতিফলন। নির্বাচনী অনিয়মের প্রসঙ্গে তিনি অভিযোগ করেন, বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন করা, ফলাফল ‘ইঞ্জিনিয়ারিং’ এবং বিভিন্ন কৌশল প্রয়োগের মাধ্যমে ভোটের চিত্র বদলে দেওয়া হয়েছে। দেশের বিভিন্ন স্থানে তাঁদের দলের এজেন্টদের কেন্দ্র থেকে বের করে দেওয়ার ঘটনাও ঘটেছে বলে তিনি উল্লেখ করেন। তবে ভবিষ্যতে এমন পরিস্থিতি মোকাবিলায় দল শক্ত অবস্থান নেবে বলেও জানান। স্বল্প আসন পেয়েও সংসদে যাওয়ার বিষয়ে তিনি বলেন, যে পরিমাণ ভোটের স্বীকৃতি মিলেছে, তার মর্যাদা রক্ষায় তাঁরা সংসদে যোগ দিয়েছেন। সেখানে দলীয় স্বার্থ নয়, জনগণের অধিকার ও দাবি তুলে ধরাই তাঁদের লক্ষ্য। সরকারের কিছু সিদ্ধান্তের প্রশংসা করে জামায়াত আমির বলেন, এমপি-মন্ত্রীদের সরকারি প্লট ও করমুক্ত গাড়ির সুবিধা না নেওয়ার ঘোষণা তাঁরাই আগে দিয়েছিলেন। একইসঙ্গে প্রবাসী আয়ে সংশ্লিষ্ট কর্মীদের মরদেহ রাষ্ট্রীয় খরচে দেশে আনার সিদ্ধান্তকে ইতিবাচক পদক্ষেপ হিসেবে উল্লেখ করেন। ঢাকা-১৫ (মিরপুর-কাফরুল) এলাকার ব্যবসায়ী ও সাধারণ মানুষের প্রতি রমজানে চাঁদাবাজি বন্ধের আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, কেউ চাঁদা দাবি করলে তা না দিতে এবং বাধা এলে দলকে অবহিত করতে। ভবিষ্যতে মাসে অন্তত একদিন জনগণের সঙ্গে সরাসরি মতবিনিময়ের পরিকল্পনার কথাও তুলে ধরেন তিনি।
বাংলাদেশ জামায়তে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান বুধবার (২৫ ফেব্রুয়ারি) রাজধানীর মনিপুর উচ্চবিদ্যালয়ে আয়োজিত ইফতার মাহফিলে অভিযোগ করেন, বর্তমান ক্ষমতাসীন দল বিএনপি জনগণের প্রকৃত ম্যান্ডেট না নিয়ে, বরং নানা কৌশল ও ‘ইঞ্জিনিয়ারিং’-এর মাধ্যমে ক্ষমতায় এসেছে। ডা. শফিকুর রহমান বলেন, “স্বাধীনতার ৫৪ বছরে মানুষ অনেক পালাবদল দেখলেও ইসলামি আদর্শের সরকার দেখেনি। এবার যুবসমাজসহ দেশের ৬৯ শতাংশ মানুষ পরিবর্তনের পক্ষে রায় দিলেও ডিজিটাল কারচুপি ও কায়দা করে ফলাফল পাল্টে দেওয়া হয়েছে।” তিনি নির্বাচনী পরিবেশ নিয়েও প্রশ্ন তোলেন। তার মতে, অনেক কেন্দ্রে বিদ্যুৎ বন্ধ করে ভোটের ফল পরিবর্তন করা হয়েছে এবং জামায়াতের এজেন্টদের বের করে দেওয়া হয়েছে। তবে ভবিষ্যতে ‘সব ঘাটে শক্ত পাহারা’ দেওয়ার হুঁশিয়ারিও দেন তিনি। কয়েকটি আসনের মধ্যেই সংসদে যোগ দেওয়ার কারণ ব্যাখ্যা করতে গিয়ে তিনি জানান, জনগণের ভোটের ন্যূনতম মর্যাদা রক্ষা করতে তারা সংসদে যাচ্ছেন। সেখানে নিজের স্বার্থ নয়, বরং জনগণের অধিকার আদায়ে কাজ করবেন। সরকারের কিছু সিদ্ধান্তের প্রশংসা করে তিনি বলেন, ট্যাক্স ফ্রি গাড়ি ও প্লট না নেওয়ার প্রস্তাব সরকার অনুসরণ করেছে এবং রেমিট্যান্স যোদ্ধাদের মরদেহ সরকারি খরচে আনার সিদ্ধান্তও স্বাগত জানান। মিরপুর-কাফরুল এলাকার ব্যবসায়ীদের উদ্দেশ্যে তিনি ঘোষণা করেন, “রমজানে কোনো চাঁদাবাজি সহ্য করা হবে না। কেউ চাঁদা চাইলে আমাদের জানান, আমরা সরাসরি প্রতিরোধ গড়ে তুলবো।” পাশাপাশি তিনি ভবিষ্যতে দায়িত্ব পেলে মাসে একদিন সরাসরি জনগণের সঙ্গে মিলিত হয়ে সমালোচনা গ্রহণের প্রতিশ্রুতিও দেন।
রাজনীতিতে স্বচ্ছতা ও নৈতিকতার এক বিরল নজির স্থাপন করলেন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ঢাকা-৯ আসনের স্বতন্ত্র প্রার্থী ডা. তাসনিম জারা। নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতার জন্য সমর্থকদের কাছ থেকে নেওয়া অনুদানের অর্থের অবশিষ্টাংশ দাতাদের ফেরত দেওয়ার ঘোষণা দিয়েছেন তিনি। মঙ্গলবার রাতে নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে এক পোস্টের মাধ্যমে তিনি এই অভাবনীয় সিদ্ধান্তের কথা জানান। সদ্য সমাপ্ত নির্বাচনে ঢাকা-৯ আসনে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে লড়াই করে ৪৪ হাজার ৬৮৪ ভোট পেয়ে তৃতীয় স্থান অধিকার করেন ডা. জারা। নির্বাচনের ফল প্রকাশের পর তিনি জানান, যারা তাকে ভালোবেসে নির্বাচনী তহবিলে অর্থ সহায়তা দিয়েছিলেন, তারা চাইলে এখন তা ফেরত নিতে পারবেন। রাজনৈতিক অঙ্গনে সাধারণত নির্বাচনের পর তহবিলের হিসাব বা অর্থ ফেরতের সংস্কৃতি দেখা যায় না, সেখানে ডা. জারার এই উদ্যোগ সর্বমহলে প্রশংসিত হচ্ছে। অর্থ ফেরতের প্রক্রিয়া: ডা. তাসনিম জারা জানিয়েছেন, ব্যাংক এবং বিকাশ—উভয় মাধ্যমেই যারা অনুদান দিয়েছিলেন, তাদের জন্য পৃথক দুটি গুগল ফর্ম উন্মুক্ত করা হয়েছে। এমনকি যারা সরাসরি ব্যাংকে টাকা জমা দিয়ে স্লিপ হারিয়ে ফেলেছেন, তারাও প্রয়োজনীয় যাচাই-বাছাই সাপেক্ষে অর্থ ফেরত পাবেন। আগ্রহী দাতাদের আগামী ১০ মার্চের মধ্যে আবেদনের জন্য অনুরোধ জানানো হয়েছে। উল্লেখ্য, ঢাকা-৯ আসনে ১ লাখ ১১ হাজার ২১২ ভোট পেয়ে বিজয়ী হয়েছেন ধানের শীষ প্রতীকের হাবিবুর রশিদ এবং ৫৩ হাজার ৪৬০ ভোট পেয়ে দ্বিতীয় হয়েছেন শাপলা কলি প্রতীকের জাভেদ মিয়া রাসিন। ভোটের লড়াইয়ে জয়ী হতে না পারলেও, তহবিল ব্যবস্থাপনায় ডা. জারার এই সততা ও দায়বদ্ধতা বাংলাদেশের রাজনৈতিক সংস্কৃতিতে এক নতুন মাইলফলক হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে কেন্দ্র দখল এবং বিএনপি নেতাকর্মীদের ওপর হামলার অভিযোগ তুলেছেন সংসদ সদস্য ও শিক্ষা প্রতিমন্ত্রী ববি হাজ্জাজ। তিনি জানিয়েছেন, এসব ঘটনায় জামায়াতে ইসলামী নেতৃত্বাধীন ১১ দলীয় জোটের প্রার্থী মামুনুল হককে প্রধান আসামি করে একাধিক মামলা করা হবে। রোববার (২২ ফেব্রুয়ারি) ধানমন্ডিতে এক বেসরকারি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন নেতাকর্মীদের দেখতে গিয়ে ববি হাজ্জাজ এই তথ্য জানান। তিনি অভিযোগ করেন, নির্বাচনের দিন একাধিক কেন্দ্রে প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থী নিজে দাঁড়িয়ে হামলার নির্দেশ দিয়েছেন। এসব হামলায় শতাধিক নেতাকর্মী হাসপাতালে চিকিৎসা নিয়েছেন এবং এখনও কয়েকজন ভর্তি রয়েছেন। শিক্ষা প্রতিমন্ত্রী বলেন, ‘গত ১২ ফেব্রুয়ারি নির্বাচনে জয়ের আগে অনেক চড়াই–উতরাই পেরোতে হয়েছে। প্রতিপক্ষ কেন্দ্র দখলের চেষ্টা করেছে। এই হামলাকে আমরা আইন ছাড়া ছাড়ব না। প্রত্যেক আহত কর্মীর বিষয়ে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’ অন্যদিকে, মামুনুল হক এই অভিযোগ অস্বীকার করেছেন। তিনি জানান, ‘ভোটের দিন তাদের সঙ্গে তেমন কোনো সংঘাত হয়নি। পুলিশ ও আর্মি উভয়পক্ষের লোকজনকে ছত্রভঙ্গ করেছে। যে যেখানেই আহত হয়েছেন, তা পুলিশের ও আর্মির কারণে হয়েছে। মামলা দিয়ে হয়রানি করা রাজনৈতিকভাবে অগ্রহণযোগ্য।’
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের প্রথম অধিবেশন আগামী ২৫ অথবা ২৬ ফেব্রুয়ারি শুরু হতে পারে বলে সংসদ সচিবালয়ের একটি সূত্র জানিয়েছে। সংবিধান অনুযায়ী, জাতীয় সংসদ নির্বাচনের ফলাফলের গেজেট প্রকাশের ৩০ দিনের মধ্যে রাষ্ট্রপতিকে নতুন সংসদের প্রথম অধিবেশন আহ্বান করতে হয়, যা তিনি প্রধানমন্ত্রীর লিখিত পরামর্শক্রমে করে থাকেন। গত ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত নির্বাচনে বিজয়ী সংসদ সদস্যদের গেজেট ১৩ ফেব্রুয়ারি প্রকাশিত হয়েছে। সে হিসেবে আগামী ১৪ মার্চের মধ্যেই নতুন সংসদের প্রথম বৈঠক অনুষ্ঠিত হওয়ার সাংবিধানিক বাধ্যবাধকতা রয়েছে। ইতোমধ্যে ১৭ ফেব্রুয়ারি নবনির্বাচিত সংসদ সদস্যরা শপথ গ্রহণ করেছেন। পূর্ববর্তী কয়েকটি নির্বাচনে দেখা গেছে, আগের সংসদের মেয়াদ শেষ হওয়ার পরই নতুন সংসদের অধিবেশন শুরু হয়েছে। তবে এবার সংসদ শূন্য থাকায় অধিবেশন শুরু করতে দীর্ঘ অপেক্ষার প্রয়োজন নেই বলে সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন। ১৮ ফেব্রুয়ারি প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে সংসদ সচিবালয়ের কর্মকর্তাদের সঙ্গে এক বৈঠকে ২৫ বা ২৬ ফেব্রুয়ারি অধিবেশন শুরুর বিষয়ে আলোচনা হয় বলে জানা গেছে। যদিও সংসদ সচিবালয়ের সচিব কানিজ মওলা এ বিষয়ে আনুষ্ঠানিক কোনো নির্দেশনা পাওয়ার কথা নিশ্চিত করেননি। সংবিধান অনুসারে, নতুন সংসদের প্রথম অধিবেশনে রাষ্ট্রপতি ভাষণ প্রদান করেন। তার আগে ভাষণের খসড়া মন্ত্রিসভায় অনুমোদিত হয়। প্রথম অধিবেশনের বেশির ভাগ সময়ই রাষ্ট্রপতির ভাষণের ওপর আলোচনা অনুষ্ঠিত হয়। এবার অধিবেশন পরিচালনা নিয়ে কিছু অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে। গত বছরের সেপ্টেম্বর মাসে দ্বাদশ সংসদের স্পিকার শিরীন শারমিন চৌধুরী পদত্যাগ করেন এবং তার আগে ডেপুটি স্পিকার শামসুল হক টুকু গ্রেপ্তার হন। তাদের অনুপস্থিতিতে রাষ্ট্রপতি কাউকে দায়িত্ব না দেওয়ায় এবার সংসদ সদস্যদের শপথ পড়ান প্রধান নির্বাচন কমিশনার এ এম এম নাসির উদ্দিন। প্রথম অধিবেশনে কে সভাপতিত্ব করবেন, সে বিষয়ে কার্যপ্রণালি বিধিতে সুস্পষ্ট নির্দেশনা নেই। অতীতে ১৯৭৩ সালের প্রথম সংসদে জ্যেষ্ঠ সদস্যের সভাপতিত্বে স্পিকার নির্বাচন সম্পন্ন করার নজির রয়েছে। এবারও তেমন কোনো পদ্ধতি অনুসরণ করা হতে পারে বলে জানা গেছে। সম্ভাব্য কর্মসূচি অনুযায়ী, প্রথম দিনে জ্যেষ্ঠ কোনো সদস্যের সভাপতিত্বে স্পিকার ও ডেপুটি স্পিকার নির্বাচন অনুষ্ঠিত হতে পারে। এরপর সভাপতিমণ্ডলী মনোনয়ন ও শোকপ্রস্তাব উত্থাপন করা হবে। পরে রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন ভাষণ দেবেন এবং তার ভাষণের মাধ্যমে দিনের অধিবেশন মুলতবি করা হতে পারে। নির্বাচনের ফলাফলে দেখা গেছে, ৩০০ আসনের মধ্যে ২৯৯টিতে ভোটগ্রহণ হয় এবং ২৯৭টির ফল ঘোষণা করা হয়েছে। বিএনপি সংখ্যাগরিষ্ঠ আসনে জয়লাভ করেছে। এছাড়া জামায়াতে ইসলামী, তাদের জোটসঙ্গী দল, ইসলামী আন্দোলন ও কয়েকজন স্বতন্ত্র প্রার্থীও নির্বাচিত হয়েছেন। ক্ষমতাসীন দলের সংসদীয় নেতা হিসেবে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকে নির্বাচিত করা হয়েছে। অন্যদিকে বিরোধী জোটের পক্ষ থেকে শফিকুর রহমানকে বিরোধীদলীয় নেতা মনোনীত করা হয়েছে। নতুন সংসদে বিরোধী দল থেকে ডেপুটি স্পিকার নির্বাচনের বিষয়টিও আলোচনায় রয়েছে।
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের ২৯৬টি আসনের ফলাফল গেজেট আকারে প্রকাশ করেছে নির্বাচন কমিশন। আর এই ফলাফলের ভিত্তিতেই এখন শুরু হয়েছে সংসদের ৫০টি সংরক্ষিত নারী আসনের হিসাব-নিকাশ। কমিশনের দেওয়া তথ্যমতে, বর্তমান সংসদীয় কাঠামো অনুযায়ী বিএনপি জোট ৩৫টি এবং জামায়াত জোট ১৩টি সংরক্ষিত নারী আসন পেতে পারে। আসনের গাণিতিক সমীকরণ: আইন অনুযায়ী, জাতীয় সংসদে একটি সংরক্ষিত নারী আসন পেতে হলে কোনো রাজনৈতিক দল বা জোটের অন্তত ছয়জন নির্বাচিত সংসদ সদস্য থাকতে হয়। গেজেট অনুযায়ী, বিএনপি জোট ২১১টি এবং জামায়াত জোট ৭৪টি আসন পাওয়ায় তারা যথাক্রমে ৩৫ ও ১৩টি সংরক্ষিত আসনের দাবিদার। অন্যদিকে, স্বতন্ত্র প্রার্থীরা ৭টি আসনে জয়লাভ করায় তারাও একটি সংরক্ষিত নারী আসন পাওয়ার যোগ্যতা রাখছেন। তবে নির্বাচন কমিশন জানিয়েছে, স্বতন্ত্র প্রার্থীরা যদি অন্য কোনো জোটে যোগ দেন, তবে এই হিসাব পরিবর্তিত হতে পারে। খেলাফত মজলিস, বাংলাদেশ খেলাফত মজলিস এবং ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ—এই দলগুলো এককভাবে প্রয়োজনীয় আসন না পেলেও অন্য কোনো জোটকে সমর্থনের মাধ্যমে সংরক্ষিত আসনের প্রক্রিয়ায় ভূমিকা রাখতে পারবে। ঝুলে থাকা চার আসন ও আইনি প্রক্রিয়া: বর্তমানে চট্টগ্রাম-২ ও ৪ আসনের গেজেট হাইকোর্টের আদেশে স্থগিত রয়েছে। এছাড়া বগুড়া-৬ আসন শূন্য ঘোষণা এবং শেরপুর-৩ আসনে প্রার্থীর মৃত্যুতে ভোট স্থগিত রাখা হয়েছে। এই চারটি আসনের ফলাফল পরবর্তীতে ঘোষিত হলে সংরক্ষিত নারী আসনের চূড়ান্ত সংখ্যায় কিছুটা পরিবর্তন আসতে পারে বলে জানিয়েছেন নির্বাচন কমিশনার আব্দুর রহমানেল মাছউদ। নির্বাচন ও শপথের সময়সূচী: সংবিধান অনুযায়ী, সাধারণ নির্বাচনের গেজেট প্রকাশের ৯০ দিনের মধ্যে সংরক্ষিত নারী আসনের নির্বাচন সম্পন্ন করতে হয়। সেই হিসেবে আগামী মে মাসের মাঝামাঝি সময়ের মধ্যে এই নির্বাচনের প্রস্তুতি নিচ্ছে কমিশন। নবনির্বাচিত সংসদ সদস্যরা এই নির্বাচনে ভোট দেবেন। জাতীয় সংসদ (সংরক্ষিত নারী আসন) আইন-২০০৪ অনুযায়ী, রাজনৈতিক দলগুলো তাদের প্রাপ্ত আসন সংখ্যার ভিত্তিতে একক প্রার্থী মনোনয়ন দিলে সাধারণত ভোটের প্রয়োজন হয় না। তবে প্রার্থীর সংখ্যা বেশি হলে সংসদ ভবনে ভোটকেন্দ্র স্থাপন করে নির্বাচনের আয়োজন করা হবে। আগামী ২১ কার্যদিবসের মধ্যে দল বা জোটগুলোকে তাদের প্রার্থী তালিকা কমিশনে জমা দিতে হবে।
মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর জানিয়েছেন, শূন্য থাকা স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠানের পদগুলোতে দ্রুত নির্বাচন আয়োজন করা হবে। বুধবার (১৮ ফেব্রুয়ারি) সচিবালয়ে স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ের সভাকক্ষে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এ কথা বলেন। ইউনিয়ন পরিষদ, উপজেলা পরিষদ ও জেলা পরিষদের যেসব পদ বর্তমানে খালি রয়েছে, সেগুলোতে নির্বাচন কবে হবে— এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, যত দ্রুত সম্ভব নির্বাচন আয়োজনের লক্ষ্যে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে এবং প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি শুরু করা হবে। দেশের আইনশৃঙ্খলা, অর্থনীতি ও পররাষ্ট্রনীতি দুর্বল অবস্থায় রয়েছে— এমন মন্তব্যের প্রতিক্রিয়ায় মন্ত্রী বলেন, পরিস্থিতি এতটা নেতিবাচক নয় যতটা উপস্থাপন করা হচ্ছে। তার দাবি, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নতি হয়েছে, সামষ্টিক অর্থনীতিতে স্থিতিশীলতা ফিরে আসছে এবং ব্যাংকিং খাতও নিয়ন্ত্রণে এসেছে। সমন্বিত উদ্যোগের মাধ্যমে পরিস্থিতি আরও ভালো করা সম্ভব বলেও তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন। আওয়ামী লীগ প্রসঙ্গে সরকারের অবস্থান সম্পর্কে জানতে চাইলে তিনি বলেন, এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত রাজনৈতিক পর্যায়ে আলোচনা শেষে আনুষ্ঠানিকভাবে জানানো হবে।
বাংলাদেশের রাজনীতির এক নতুন অধ্যায় সূচিত হলো আজ। রাজধানীসহ সারা দেশে বইছে উৎসবের আমেজ। ছাত্র-জনতার গণঅভ্যুত্থান পরবর্তী অন্তর্বর্তী সরকারের ১৮ মাস পর, ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিপুল জনসমর্থন নিয়ে রাষ্ট্র পরিচালনার দায়িত্ব নিল বিএনপি। বঙ্গভবনে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী হিসেবে রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিনের কাছে শপথ নিলেন নতুন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে দুই-তৃতীয়াংশ আসনে জয়ী হয়ে বিএনপি আজ সরকার গঠন করছে। শেখ হাসিনার নেতৃত্বাধীন আওয়ামী লীগ সরকার পতনের পর অন্তর্বর্তী সরকার দায়িত্ব নেওয়ার ১৮ মাস পর নির্বাচনের মাধ্যমে গঠিত হলো এই সরকার।
রাজনীতিতে বইছে নতুন হাওয়া! আজ দুপুর সোয়া একটায় এক ঐতিহাসিক মুহূর্তে জাতীয় নাগরিক কমিটির (এনসিপি) নির্বাচিত ছয় নেতা সংসদ সদস্য হিসেবে শপথ গ্রহণ করেছেন। প্রধান নির্বাচন কমিশনার এএমএম নাসির উদ্দিন তাদের এই শপথ পাঠ করান। তবে এই শপথগ্রহণ কেবল সংসদ সদস্য হিসেবেই সীমাবদ্ধ ছিল না; এনসিপির এই এমপিরা একইসাথে সংবিধান সংস্কার পরিষদের সদস্য হিসেবেও শপথ নিয়েছেন। উল্লেখ্য যে, এবারের নির্বাচনে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর জোটসঙ্গী হিসেবে এনসিপি অংশ নিয়েছিল এবং জামায়াত এমপিরাও এই সংস্কার পরিষদের সদস্য হিসেবে শপথ নিয়েছেন। আশ্চর্যের বিষয় হলো, যেখানে এনসিপি ও জামায়াত সংবিধান সংস্কারের অঙ্গীকারে শামিল হয়েছে, সেখানে বিএনপির সংসদ সদস্যরা আজ এই পরিষদের সদস্য হিসেবে শপথ গ্রহণ করা থেকে বিরত ছিলেন। এই সিদ্ধান্ত দেশের রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন কোনো আলোচনার জন্ম দেবে কি না, সেটাই এখন দেখার বিষয়।
বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী ছাত্রদলের সাবেক কেন্দ্রীয় সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকদের মধ্যে আটজন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়েছেন। তাঁদের মধ্যে পাঁচজন এবারই প্রথম জাতীয় সংসদে প্রবেশ করছেন। একই সঙ্গে কেন্দ্রীয় কমিটির সহ-সভাপতি এবং ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শাখার একাধিক সাবেক নেতা ধানের শীষ প্রতীক নিয়ে বিজয় অর্জন করেছেন। দলের নেতাকর্মীরা বিষয়টিকে ইতিবাচক হিসেবে দেখছেন। তাঁদের মতে, ছাত্রদল দীর্ঘদিন ধরে বিএনপির ‘ভ্যানগার্ড’ সংগঠন হিসেবে কাজ করে আসছে, আর সাবেক ছাত্রনেতাদের সংসদে প্রবেশ দলটির প্রতি নেতৃত্বের আস্থা ও তাঁদের জনসমর্থনের প্রমাণ বহন করে। সাবেক আহ্বায়ক ও ডাকসুর সাবেক ভিপি আমানউল্লাহ আমান ঢাকা-২ (কেরানীগঞ্জ) আসনে ১ লাখ ৬৩ হাজার ৭৯৩ ভোট পেয়ে নির্বাচিত হয়েছেন। তিনি এর আগে প্রতিমন্ত্রীর দায়িত্ব পালন করেছেন। সাবেক সাধারণ সম্পাদক খায়রুল কবির খোকন নরসিংদী-১ আসনে ১ লাখ ৬০ হাজার ৬৭৬ ভোট পেয়ে জয়ী হয়েছেন। গাজীপুর-৫ আসনে সাবেক সভাপতি এ কে এম ফজলুল হক মিলন পেয়েছেন ১ লাখ ৩৩ হাজার ৬৯৭ ভোট। লক্ষ্মীপুর-৩ আসনে সাবেক সভাপতি শহীদ উদ্দিন চৌধুরী এ্যানি পেয়েছেন ১ লাখ ৩৩ হাজার ৭৬৫ ভোট। দলীয় সূত্র বলছে, এদের মধ্যে কয়েকজনকে দলের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান-এর নেতৃত্বে সম্ভাব্য মন্ত্রিসভায় স্থান দেওয়া হতে পারে। খুলনা-৪ আসনে প্রথমবারের মতো নির্বাচিত হয়েছেন সাবেক সভাপতি আজিজুল বারী হেলাল। টাঙ্গাইল-৫ (সদর) আসনে জয় পেয়েছেন সাবেক সভাপতি সুলতান সালাউদ্দিন টুকু। ঢাকা-৯ আসনে নির্বাচিত হয়েছেন সাবেক সাধারণ সম্পাদক হাবিবুর রশিদ হাবিব। ভোলা আসন থেকে প্রথমবারের মতো সংসদ সদস্য হয়েছেন সাবেক সহ-সভাপতি ও বর্তমান যুবদল সাধারণ সম্পাদক নুরুল ইসলাম নয়ন। এ ছাড়া রকিবুল ইসলাম বকুল, আমিরুল ইসলাম খান আলিম, এবিএম মোশাররফ হোসেন, রাজীব আহসান এবং এস এম জিলানীসহ আরও কয়েকজন সাবেক ছাত্রনেতা নির্বাচনে জয়লাভ করেছেন। নির্বাচন-পরবর্তী সময়ে নতুন মন্ত্রিসভা গঠনের প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। দলীয় নীতিনির্ধারকদের ভাষ্য অনুযায়ী, মন্ত্রিসভার আকার ৩২ থেকে ৪২ সদস্যের মধ্যে সীমিত থাকতে পারে। সেখানে অভিজ্ঞ ও নবীন নেতৃত্বের সমন্বয়ে একটি ভারসাম্যপূর্ণ কাঠামো গঠনের পরিকল্পনা রয়েছে। বিশ্বস্ত সূত্র জানায়, নির্বাচনের পরদিন সিনিয়র নেতারা দলের শীর্ষ নেতৃত্বের সঙ্গে বৈঠকে বসেন। বৈঠকে সম্ভাব্য মন্ত্রীদের তালিকা, সংসদ সদস্যদের শপথগ্রহণ এবং সরকার গঠনের সার্বিক প্রস্তুতি নিয়ে আলোচনা হয়। সংসদ সদস্য নন—এমন কয়েকজন গুরুত্বপূর্ণ নেতাকেও টেকনোক্র্যাট কোটায় মন্ত্রিসভায় অন্তর্ভুক্ত করার সম্ভাবনা রয়েছে। আলোচনায় রয়েছেন বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী এবং যুগ্ম মহাসচিব হাবিব-উন-নবী খান সোহেল। দলের স্থায়ী কমিটির সদস্য সালাহউদ্দিন আহমদ জানিয়েছেন, সম্ভাব্য মন্ত্রিসভার চূড়ান্ত রূপ জানতে দেশবাসীকে অল্প সময় অপেক্ষা করতে হবে। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, ছাত্ররাজনীতি থেকে উঠে আসা নেতাদের সংসদে উপস্থিতি দলীয় রাজনীতিতে নতুন গতি সঞ্চার করতে পারে। বিশেষ করে যারা প্রথমবারের মতো জাতীয় সংসদে যাচ্ছেন, তাঁদের ভূমিকা ভবিষ্যৎ নেতৃত্ব বিকাশে তাৎপর্যপূর্ণ হতে পারে। একই সঙ্গে জাতীয় রাজনীতিতে ছাত্রনেতৃত্বের ধারাবাহিক প্রভাবও আরও স্পষ্ট হয়ে উঠছে।
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে নজিরবিহীন কারচুপি, সূক্ষ্ম ‘ইলেকশন ইঞ্জিনিয়ারিং’ এবং নির্বাচন পরবর্তী দেশব্যাপী সহিংসতার প্রতিবাদে ফুঁসে উঠেছে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী নেতৃত্বাধীন ১১ দলীয় নির্বাচনি ঐক্যজোট। জোটের নেতাদের দাবি, ২০২৬ সালের এই নির্বাচন মূলত একটি ‘ম্যানেজ ভোট’ ছিল, যেখানে প্রশাসন ও নির্বাচন কমিশনকে ব্যবহার করে জনগণের প্রকৃত রায় ছিনতাই করা হয়েছে। সোমবার (১৭ ফেব্রুয়ারি) বিকেলে রাজধানীর বায়তুল মোকাররম মসজিদের উত্তর গেটে আয়োজিত এক বিশাল বিক্ষোভ সমাবেশে জোটের শীর্ষ নেতারা এসব অভিযোগ তুলে ধরেন। সমাবেশ শেষে একটি বিশাল মিছিল জাতীয় প্রেস ক্লাব হয়ে শাহবাগ মোড়ে গিয়ে শেষ হয়। সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের আমির আল্লামা মামুনুল হক বলেন, "সারাদিন একটি সন্দেহপূর্ণ ভোটের পরিবেশ বজায় রেখে সন্ধ্যার পর সূক্ষ্ম ইঞ্জিনিয়ারিংয়ের মাধ্যমে টার্গেট করা প্রার্থীদের বিজয়ী হতে বাধা দেওয়া হয়েছে। ডিপ স্টেট এজেন্ডা বাস্তবায়নে প্রশাসনকে নগ্নভাবে ব্যবহার করা হয়েছে।" তিনি ঢাকা-১৩ আসনসহ সারা দেশের অনিয়মের চিত্র তুলে ধরে এর সুষ্ঠু তদন্ত দাবি করেন। জামায়াতের সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ার বলেন, "নির্বাচন পরবর্তী সহিংসতায় গোটা জাতি আজ স্তম্ভিত। ম্যানিপুলেশন করে বিজয়ী হয়েও আপনারা জনগণের ওপর হামলে পড়েছেন। খুন, অগ্নিসংযোগ আর মা-বোনদের ওপর পাশবিক নির্যাতন আমাদের পুনরায় ফ্যাসিবাদের অন্ধকার দিনগুলোর কথা মনে করিয়ে দিচ্ছে।" তিনি নির্বাচন কমিশনে দাখিলকৃত অভিযোগগুলো টালবাহানা না করে অবিলম্বে নিষ্পত্তির আল্টিমেটাম দেন। জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) মুখ্য সমন্বয়ক নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী আক্রমণাত্মক ভঙ্গিতে বলেন, "আমরা ভোট ডাকাতদের মুখোশ জনগণের সামনে উন্মোচন করেছি। সংসদে আজ যারা বসেছেন, তারা জনগণের রায় নিয়ে নয়, বরং ডাকাতি করে গেছেন। আমরা রাজপথ ছাড়ব না; ইঞ্চি ইঞ্চি করে এই জুলুমের হিসাব বুঝে নেওয়া হবে।" এবি পার্টির চেয়ারম্যান মজিবুর রহমান মঞ্জু এবং জাগপার মুখপাত্র রাশেদ প্রধান বর্তমান নির্বাচনকে ২০১৪ ও ২০১৮ সালের নির্বাচনের মতোই কলঙ্কিত হিসেবে অভিহিত করেন। রাশেদ প্রধান বলেন, "লন্ডন থেকে এসে প্রশাসন ও সরকারকে ম্যানেজ করে এই 'ম্যানেজ ভোটের' আয়োজন করা হয়েছে।" অন্যদিকে বাংলাদেশ লেবার পার্টির চেয়ারম্যান ডা. মোস্তাফিজুর রহমান ইরান দাবি করেন, অন্তর্বর্তী সরকারের সাথে বিএনপির বিশেষ আন্ডারস্ট্যান্ডিংয়ের ফলেই এই ফলাফল তৈরি করা হয়েছে। সমাবেশে উপস্থিত নেতারা বিএনপিকে ‘ভুল পথ’ ছেড়ে সঠিক ও গণতান্ত্রিক ধারার রাজনীতিতে ফিরে আসার আহ্বান জানান। অন্যথায় ছাত্র-জনতাকে সাথে নিয়ে পুনরায় ফ্যাসিবাদ বিরোধী আন্দোলনের মতো কঠোর প্রতিরোধ গড়ে তোলার হুঁশিয়ারি দেওয়া হয়।
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের পর নতুন সরকার গঠনের মাহেন্দ্রক্ষণ ঘনিয়ে এসেছে। আগামী মঙ্গলবার (১৭ ফেব্রুয়ারি) শপথ নিতে পারেন নতুন মন্ত্রী ও প্রতিমন্ত্রীরা। আর এই নতুন অতিথিদের বরণ করে নিতে রাজধানীর আব্দুল গণি রোডের সরকারি যানবাহন অধিদপ্তরে এখন সাজ সাজ রব। প্রস্তুতির খুঁটিনাটি: মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের নির্দেশনা অনুযায়ী, প্রাথমিকভাবে ৫০টি গাড়ি পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন করে প্রস্তুত রাখা হয়েছে। যদিও মন্ত্রিসভার আকার কত বড় হবে তা এখনো চূড়ান্ত হয়নি, তবে ভিভিআইপি প্রটোকল বজায় রাখতে চাহিদার চেয়ে অতিরিক্ত গাড়ি তৈরি রাখা হয়েছে। কোনো যান্ত্রিক ত্রুটি বা জরুরি পরিস্থিতি সামাল দিতেই এই বাড়তি সতর্কতা। গাড়ির ধরণ ও বর্তমান অবস্থা: পরিবহন কমিশনার মো. খায়রুল কবীর মেনন জানিয়েছেন, মন্ত্রী-প্রতিমন্ত্রীদের জন্য সাধারণত ল্যান্ডক্রুজার এবং কেমব্রিজ গাড়ি ব্যবহার করা হয়। নতুন কোনো গাড়ি কেনা হয়নি; বরং বর্তমান বহরের গাড়িগুলোই মেরামত ও ধুয়ে-মুছে প্রস্তুত করা হচ্ছে। ইতিমধ্যে ১০-১২ জন উপদেষ্টা তাদের ব্যবহৃত গাড়ি জমা দিয়েছেন, বাকিরাও প্রক্রিয়া শুরু করেছেন। শপথের দিন আমন্ত্রণ পাওয়া অতিথিদের তাদের নিজ নিজ বাসা থেকে বঙ্গভবনে পৌঁছে দেবে এই বিশেষ যানবাহনগুলো। পতাকা স্ট্যান্ড ও রাষ্ট্রীয় মনোগ্রাম সংবলিত এই গাড়িগুলোই হবে নতুন সরকারের প্রথম যাত্রার সঙ্গী।
মধ্যপ্রাচ্যের ক্রমবর্ধমান উত্তেজনার মধ্যেই একটি চাঞ্চল্যকর দাবি ভূ-রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন করে বিতর্কের ঝড় তুলেছে। গত ৪৮ থেকে ৫৬ ঘণ্টার মধ্যে ১৬টি চীনা 'ওয়াই-২০' (Y-20) সামরিক কার্গো বিমান তাদের ট্রান্সপন্ডার বা সিগন্যাল বন্ধ রেখে ইরানের আকাশে প্রবেশ করেছে বলে খবর ছড়িয়েছে। কোনো আনুষ্ঠানিক নিশ্চিতকরণ ছাড়াই এই তথ্যটি প্রতিরক্ষা বিশ্লেষক ও সোশ্যাল মিডিয়া ব্যবহারকারীদের মধ্যে তীব্র উদ্বেগ সৃষ্টি করেছে। দাবি করা হচ্ছে, এই বিমানগুলো বেসামরিক রাডার থেকে আড়াল থাকতে বিশেষ কৌশল অবলম্বন করেছিল। নেটিজেন ও সামরিক বিশ্লেষকদের একটি অংশের ধারণা, চীন হয়তো ইরানকে অত্যাধুনিক ইলেকট্রনিক ওয়ারফেয়ার সিস্টেম বা জ্যামিং প্রযুক্তি সরবরাহ করছে। যদি এটি সত্যি হয়, তবে মার্কিন এফ-৩৫ (F-35) যুদ্ধবিমান বা নৌ-অভিযানের জন্য এটি বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়াতে পারে। অনেকে একে যুক্তরাষ্ট্রের প্রতি বেইজিংয়ের সরাসরি ‘সতর্কবার্তা’ হিসেবেও দেখছেন। তবে এই উত্তেজনার মুদ্রার উল্টো পিঠও রয়েছে। ফ্লাইটরাডার২৪-এর মতো আন্তর্জাতিক ফ্লাইট ট্র্যাকিং প্ল্যাটফর্মে এ ধরনের কোনো অস্বাভাবিক ফ্লাইটের রেকর্ড পাওয়া যায়নি। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ১৬টি ভারী সামরিক কার্গো বিমানের মতো বিশাল বহরকে রাডার বা স্যাটেলাইট নজরদারি থেকে সম্পূর্ণ লুকিয়ে রাখা প্রায় অসম্ভব। বর্তমান ভূ-রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে চীন-ইরান সম্পর্ক গভীর হলেও, সুনির্দিষ্ট প্রমাণের অভাবে বিশ্লেষকরা একে আপাতত ‘সুপরিকল্পিত গুজব’ বা মিসইনফরমেশন হিসেবেই দেখছেন। তেহরান বা বেইজিং—কোনো পক্ষ থেকেই এখন পর্যন্ত এ নিয়ে কোনো আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া মেলেনি।
এপস্টেইন ফাইল: দাবি, বাইডেনকে ২০১৯ সালে হত্যা করে ক্লোন দ্বারা প্রতিস্থাপন করা হয়েছে জেফরি এপস্টেইনের ফাইল ট্রান্সপারেন্সি অ্যাক্টের সাথে যুক্ত সম্প্রতি প্রকাশিত একটি নথি ত্রাঞ্চে অভিযোগ করা হয়েছে যে, প্রাক্তন মার্কিন প্রেসিডেন্ট জো বাইডেনকে ২০১৯ সালে হত্যা করা হয়েছে এবং তাকে একটি ক্লোন দ্বারা প্রতিস্থাপন করা হয়েছে। এই নথিগুলি, যা আনক্লাসিফায়েড ডিপার্টমেন্ট অব জাস্টিস (DOJ) রেকর্ডের একটি বিশাল ডেটা রিলিজের অংশ, “চার্লস” নামে একজনের ক্ষুব্ধ ইমেইল অন্তর্ভুক্ত করেছে এবং অন্তর্বর্তী ফাইলিং কোড EFTA00173266 থেকে EFTA00173273 পর্যন্ত চিহ্নিত। এই ইমেইলগুলো তৃতীয় পক্ষের যোগাযোগের মধ্যে পাওয়া গেছে, যা জেফরি এপস্টেইনের নেটওয়ার্ক সংক্রান্ত বিস্তৃত ফেডারেল তদন্তের সময় সংগ্রহ করা হয়েছিল। এপস্টেইন সম্পর্কিত অন্যান্য প্রকাশনার মতো এখানে রাজনৈতিক ও ব্যবসায়িক ব্যক্তিদের সঙ্গে সম্পর্কের তথ্য নয়, বরং চরম ও ষড়যন্ত্রমূলক দাবিগুলো রয়েছে। ক্লোন তত্ত্বের উল্লেখ “চার্লস” ইমেইলগুলো এপ্রিল ২০২১-এ একজন এফবিআই এজেন্টকে ফরোয়ার্ড করা হয়েছিল, যাকে লাল করা প্রেরক হিসেবে দেখানো হয়েছে। প্রেরক দাবি করেছিলেন যে এটি একটি প্রযুক্তি সংস্থার এক ক্ষুব্ধ প্রাক্তন কর্মচারী বা সহযোগীর মেসেজ। ইমেইলগুলিতে গালাগালি ভাষা ব্যবহৃত হয়েছে এবং এখানে “কোয়ান্টাম” প্রযুক্তি, গোপন সামরিক ট্রাইব্যুনাল, এবং “বাইডেন আপনার বর্তমান প্রেসিডেন্ট নন” এমন দাবির উল্লেখ রয়েছে। একটি অনুচ্ছেদে বলা হয়েছে যে “বাস্তব” জো বাইডেনকে ২০১৯ সালে নির্বিচারে হত্যা করা হয়েছে এবং তাকে একজন অভিনেতা বা ক্লোন দ্বারা প্রতিস্থাপন করা হয়েছে, যেখানে প্রমাণ হিসেবে “মাস্কের ত্রুটি” দেখানো হয়েছে। তবে এই দাবিগুলোর সঙ্গে কোনো শারীরিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি বা সঙ্গত সাক্ষ্য নেই। “বাইডেন ক্লোন” দাবি অনলাইনে ষড়যন্ত্র তত্ত্বের একটি পরিচিত অংশ। তত্ত্বটি সাধারণত ধরে যে “বাস্তব” জো বাইডেনকে গোপনে জনমঞ্চ থেকে সরিয়ে দেওয়া হয়েছে, প্রায়শই ২০১৯ বা ২০২০ সালে, এবং তাকে চেহারা মিলানো লোক বা ক্লোন দিয়ে প্রতিস্থাপন করা হয়েছে। অনুগামীরা প্রায়শই নিম্নমানের ভিডিও এবং ফটোগ্রাফ বিশ্লেষণ করে, চেহারার পরিবর্তন যেমন আলোর পরিবর্তন, বয়সের প্রভাব বা ক্যামেরার ত্রুটিকে কৃত্রিমভাবে আড়াল করার প্রমাণ হিসেবে দেখান। এ পর্যন্ত কোনো যাচাইযোগ্য প্রমাণ নেই যে প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন কখনো ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন বা প্রতিস্থাপিত হয়েছেন। এই দাবিগুলি সম্পূর্ণভাবে একটি ষড়যন্ত্র তত্ত্ব হিসেবে রয়ে গেছে। সূত্র: Royanews
দাম বাড়ানোর ১২ ঘণ্টারও কম সময়ের ব্যবধানে দেশের বাজারে আবারও স্বর্ণের দাম কমিয়েছে বাংলাদেশ জুয়েলার্স অ্যাসোসিয়েশন (বাজুস)। ভরিতে এক লাফে ৩ হাজার ২৬৬ টাকা কমিয়ে ২২ ক্যারেটের প্রতি ভরি স্বর্ণের নতুন দাম নির্ধারণ করা হয়েছে ২ লাখ ৫৮ হাজার ৮২৪ টাকা। শনিবার (৭ ফেব্রুয়ারি) রাতে বাজুসের এক বিজ্ঞপ্তিতে দাম কমানোর বিষয়টি জানানো হয়েছে। নতুন দাম রোববার (৮ ফেব্রুয়ারি) থেকেই কার্যকর হবে। এর আগে একই দিন সকালে দেশের বাজারে স্বর্ণের দাম বাড়ানো হয়। ওই সময় ভরিপ্রতি এক লাফে ৭ হাজার ৬৪০ টাকা বাড়িয়ে ২২ ক্যারেটের এক ভরি স্বর্ণের দাম নির্ধারণ করা হয়েছিল ২ লাখ ৬২ হাজার ৯০ টাকা। নতুন দাম অনুযায়ী, বর্তমানে দেশের বাজারে ২২ ক্যারেটের প্রতি ভরি (১১.৬৬৪ গ্রাম) স্বর্ণের দাম পড়বে ২ লাখ ৫৮ হাজার ৮২৪ টাকা। পাশাপাশি ২১ ক্যারেটের প্রতি ভরি ২ লাখ ৪৭ হাজার ৪৪ টাকা, ১৮ ক্যারেটের প্রতি ভরি ২ লাখ ১১ হাজার ৭৬০ টাকা এবং সনাতন পদ্ধতির প্রতি ভরি স্বর্ণের দাম পড়বে ১ লাখ ৭৩ হাজার ৩২৭ টাকা। এ নিয়ে চলতি বছর দেশের বাজারে মোট ২৭ বার স্বর্ণের দাম সমন্বয় করলো বাজুস। এরমধ্যে ১৭ বারই দাম বাড়ানো হয়েছে। আর দাম কমেছে মাত্র ১০ বার। অন্যদিকে গতবছর দেশের বাজারে মোট ৯৩ বার স্বর্ণের দাম সমন্বয় করা হয়েছিল। যেখানে ৬৪ বারই দাম বাড়ানো হয়েছিল। এছাড়া ২০২৫ সালে ২৯ বার কমানো হয়েছিল স্বর্ণের দাম।
যুক্তরাষ্ট্রে অভিবাসন নীতিতে কঠোরতা আরও স্পষ্ট হচ্ছে। সর্বশেষ মেইন (Maine) অঙ্গরাজ্যে ফেডারেল ইমিগ্রেশন অভিযান শুরুর ঘোষণা দিয়েছে Department of Homeland Security (ডিএইচএস)। ডিএইচএসের এক মুখপাত্রের বরাতে জানা গেছে, “Operation Catch of the Day” নামে এই বিশেষ অভিযানের মাধ্যমে রাজ্যটিতে অবস্থানরত অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে জড়িত অবৈধ অভিবাসীদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তার করা হবে। অভিযানটি পরিচালনায় ফেডারেল ইমিগ্রেশন কর্মকর্তাদের পাশাপাশি স্থানীয় আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সমন্বয় রয়েছে। কর্তৃপক্ষ বলছে, এই উদ্যোগের প্রধান লক্ষ্য জননিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং সহিংস বা গুরুতর অপরাধে যুক্ত ব্যক্তিদের আইনের আওতায় আনা। ডিএইচএস আরও জানায়, আইন মেনে বসবাসকারী বা অপরাধে জড়িত নন—এমন অভিবাসীদের লক্ষ্যবস্তু করা হবে না। তবে মানবাধিকার ও অভিবাসী অধিকার সংগঠনগুলোর আশঙ্কা, এ ধরনের অভিযানে ভয় ও অনিশ্চয়তা তৈরি হতে পারে এবং নিরপরাধ মানুষও হয়রানির শিকার হতে পারেন। এ নিয়ে তারা স্বচ্ছতা ও যথাযথ আইনি প্রক্রিয়া অনুসরণের আহ্বান জানিয়েছে। বিশ্লেষকদের মতে, মেইনে এই অভিযান শুরুর মাধ্যমে ফেডারেল সরকারের অভিবাসন আইন প্রয়োগ আরও বিস্তৃত পরিসরে জোরদার হলো। এর প্রভাব স্থানীয় অভিবাসী কমিউনিটির পাশাপাশি রাজ্যের রাজনৈতিক ও সামাজিক পরিমণ্ডলেও পড়তে পারে। সূত্র: ABC News
যুক্তরাষ্ট্রের শ্রমবাজারে তীব্র কর্মী সংকট মোকাবিলায় ২০২৬ অর্থবছরে বড় ধরনের পদক্ষেপ নিয়েছে ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রশাসন। নিয়মিত কোটার বাইরে অতিরিক্ত প্রায় ৬৪ হাজার ৭১৬টি এইচ-২বি মৌসুমি অতিথি শ্রমিক ভিসা দেওয়ার চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। রয়টার্সের বরাতে জানা গেছে, স্থানীয় সময় শুক্রবার (৩০ জানুয়ারি) প্রকাশিত ফেডারেল রেজিস্টার নোটিশে বলা হয়, দেশীয় শ্রমিকের ঘাটতির কারণে যেসব মার্কিন নিয়োগকর্তা বড় ধরনের আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়ছেন, মূলত তাদের স্বার্থ বিবেচনায় নিয়েই এই অতিরিক্ত ভিসার অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। ফলে বছরে নির্ধারিত ৬৬ হাজার এইচ-২বি ভিসার সংখ্যা প্রায় দ্বিগুণে পৌঁছাতে যাচ্ছে। নতুন এই সিদ্ধান্তে নির্মাণ শিল্প, হোটেল ও রেস্তোরাঁ, ল্যান্ডস্কেপিং এবং সি-ফুড প্রক্রিয়াজাতকরণ খাতের মতো শ্রমনির্ভর মৌসুমি শিল্পগুলো সবচেয়ে বেশি উপকৃত হবে বলে মনে করা হচ্ছে। এসব খাতে দীর্ঘদিন ধরেই দক্ষ স্থানীয় কর্মীর অভাবে বিদেশি শ্রমিক আনার দাবি জানিয়ে আসছিলেন নিয়োগকর্তারা। ক্ষমতায় আসার পর ট্রাম্প প্রশাসন অবৈধ অভিবাসনের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান নিলেও, বৈধ পথে কর্মসংস্থানের সুযোগ বাড়িয়ে অর্থনীতিকে সচল রাখতে এই নমনীয় সিদ্ধান্ত নিয়েছে। এর আগেও সাবেক প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন প্রশাসনের সময় শ্রমঘাটতি মোকাবিলায় এইচ-২বি ভিসার সংখ্যা বাড়ানো হয়েছিল। তবে সরকারের এই সিদ্ধান্তের বিরোধিতাও রয়েছে। অভিবাসন কমানোর পক্ষে থাকা বিভিন্ন গোষ্ঠীর আশঙ্কা, বিপুল সংখ্যক বিদেশি শ্রমিক প্রবেশ করলে মার্কিন নাগরিকদের মজুরি কমে যেতে পারে। এ বিষয়ে পেন্টাগন ও শ্রম মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, দেশের উন্নয়ন প্রকল্প এবং পর্যটন খাত সচল রাখতে এই মুহূর্তে বিদেশি শ্রমিকের বিকল্প নেই। ফেডারেল রেজিস্টারের তথ্যানুযায়ী, অতিরিক্ত এইচ-২বি ভিসা কার্যকরের বিশেষ বিধিমালা আগামী মঙ্গলবার আনুষ্ঠানিকভাবে প্রকাশ করা হবে এবং এরপরই আবেদন প্রক্রিয়া শুরু হবে। সূত্র: দ্য ফিন্যান্সিয়াল এক্সপ্রেস