যিশুর শেষ শয্যায় বাংলাদেশের ছোঁয়া? তুরিনের রহস্যময় চাদরে মিলল চমকপ্রদ তথ্য
হযরত ঈসা (আঃ) বা যিশু খ্রিস্টের পবিত্র দেহ যে চাদর দিয়ে ঢাকা ছিল, সেই ঐতিহাসিক ‘শবাচ্ছাদন বস্ত্র’ বা ‘শ্রাউড অব তুরিন’ নিয়ে দীর্ঘদিনের রহস্যে যুক্ত হলো নতুন এক মাত্রা। সাম্প্রতিক এক ডিএনএ গবেষণায় দাবি করা হয়েছে, এই পবিত্র কাপড়ের সঙ্গে প্রাচীন ভারতীয় উপমহাদেশের গভীর সংযোগ থাকার সম্ভাবনা রয়েছে। বাংলাদেশও এই উপমহাদেশের অংশ।
ইতালির পাডোভা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক জিয়ান্নি বারকাচ্চিয়ার নেতৃত্বে একদল গবেষক এই চাদর থেকে পাওয়া ধূলিকণা এবং ফাইবারের জেনেটিক বিশ্লেষণ করেছেন। গবেষণায় দেখা গেছে, কাপড়টিতে থাকা ডিএনএ-র প্রায় ৩৮.৭ শতাংশই উপমহাদেশীয় বংশোদ্ভূত।
বিজ্ঞানীদের ধারণা, এই কাপড়টি প্রাচীন সিন্ধু উপত্যকা অঞ্চল থেকে আমদানিকৃত লিনেন বা সুতো দিয়ে তৈরি হয়ে থাকতে পারে, যা প্রাচীন রেশম পথ বা সমুদ্রপথে মধ্যপ্রাচ্যে পৌঁছেছিল। বাইবেলের বর্ণনা অনুযায়ী, গুড ফ্রাইডে-তে যিশুর দেহ ক্রুশ থেকে নামানোর পর একটি মসীনার কাপড়ে জড়িয়ে সমাধিস্থ করা হয়েছিল।
ইতালির তুরিন শহরের ‘ক্যাথিড্রাল অব সেন্ট জন দ্য ব্যাপ্টিস্ট’-এ সংরক্ষিত এই ৪.৩৬ মিটার লম্বা কাপড়ে আজও এক দীর্ঘকায় পুরুষের আবয়ব এবং রক্তের ছাপ দৃশ্যমান। নতুন এই গবেষণা ইঙ্গিত দিচ্ছে যে, যিশুর সেই অন্তিম বিদায়ের চাদরটি হয়তো তৎকালীন উপমহাদেশের দক্ষ কারিগরদের বোনা কাপড় ছিল।
যদিও এই চাদরটির সত্যতা নিয়ে বিজ্ঞান মহলে বিতর্ক রয়েছে, তবে উপমহাদেশের সাথে এর বাণিজ্যিক ও ঐতিহাসিক যোগসূত্র স্থাপনের এই দাবি বিশ্বজুড়ে নতুন করে আলোচনার ঝড় তুলেছে।
যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে। এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন। নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি। উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।” বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে। এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে। শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়। উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত। এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।
মধ্যপ্রাচ্যের ক্রমবর্ধমান উত্তেজনার মধ্যেই একটি চাঞ্চল্যকর দাবি ভূ-রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন করে বিতর্কের ঝড় তুলেছে। গত ৪৮ থেকে ৫৬ ঘণ্টার মধ্যে ১৬টি চীনা 'ওয়াই-২০' (Y-20) সামরিক কার্গো বিমান তাদের ট্রান্সপন্ডার বা সিগন্যাল বন্ধ রেখে ইরানের আকাশে প্রবেশ করেছে বলে খবর ছড়িয়েছে। কোনো আনুষ্ঠানিক নিশ্চিতকরণ ছাড়াই এই তথ্যটি প্রতিরক্ষা বিশ্লেষক ও সোশ্যাল মিডিয়া ব্যবহারকারীদের মধ্যে তীব্র উদ্বেগ সৃষ্টি করেছে। দাবি করা হচ্ছে, এই বিমানগুলো বেসামরিক রাডার থেকে আড়াল থাকতে বিশেষ কৌশল অবলম্বন করেছিল। নেটিজেন ও সামরিক বিশ্লেষকদের একটি অংশের ধারণা, চীন হয়তো ইরানকে অত্যাধুনিক ইলেকট্রনিক ওয়ারফেয়ার সিস্টেম বা জ্যামিং প্রযুক্তি সরবরাহ করছে। যদি এটি সত্যি হয়, তবে মার্কিন এফ-৩৫ (F-35) যুদ্ধবিমান বা নৌ-অভিযানের জন্য এটি বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়াতে পারে। অনেকে একে যুক্তরাষ্ট্রের প্রতি বেইজিংয়ের সরাসরি ‘সতর্কবার্তা’ হিসেবেও দেখছেন। তবে এই উত্তেজনার মুদ্রার উল্টো পিঠও রয়েছে। ফ্লাইটরাডার২৪-এর মতো আন্তর্জাতিক ফ্লাইট ট্র্যাকিং প্ল্যাটফর্মে এ ধরনের কোনো অস্বাভাবিক ফ্লাইটের রেকর্ড পাওয়া যায়নি। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ১৬টি ভারী সামরিক কার্গো বিমানের মতো বিশাল বহরকে রাডার বা স্যাটেলাইট নজরদারি থেকে সম্পূর্ণ লুকিয়ে রাখা প্রায় অসম্ভব। বর্তমান ভূ-রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে চীন-ইরান সম্পর্ক গভীর হলেও, সুনির্দিষ্ট প্রমাণের অভাবে বিশ্লেষকরা একে আপাতত ‘সুপরিকল্পিত গুজব’ বা মিসইনফরমেশন হিসেবেই দেখছেন। তেহরান বা বেইজিং—কোনো পক্ষ থেকেই এখন পর্যন্ত এ নিয়ে কোনো আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া মেলেনি।
২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো। প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে। এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে। অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে। স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে। সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে। সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।
যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা প্রত্যাশীদের জন্য কঠোর হচ্ছে নিয়মাবলী। আগামী ৩০ মার্চ থেকে কার্যকর হতে যাচ্ছে নতুন ভিসা রুলস, যেখানে আবেদনকারীদের সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের প্রোফাইল পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে যাচাই বা স্ক্রিনিং করা হবে। মার্কিন প্রশাসনের এই নতুন পদক্ষেপে বাংলাদেশসহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশের ভিসা প্রত্যাশীদের মধ্যে ব্যাপক আলোচনার সৃষ্টি হয়েছে। নতুন এই নিয়ম মূলত অ-অভিবাসী (Non-immigrant) এবং অভিবাসী (Immigrant) উভয় ধরণের ভিসার ক্ষেত্রে প্রযোজ্য হতে পারে। বিশেষ করে যারা ট্যুরিস্ট ভিসা, স্টুডেন্ট ভিসা এবং কাজের সন্ধানে এইচ-১বি (H-1B) ভিসার জন্য আবেদন করবেন, তাদের সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের তথ্য প্রদান বাধ্যতামূলক করা হচ্ছে। আবেদনকারীদের গত পাঁচ বছরের ব্যবহৃত সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমগুলোর ইউজার আইডি বা হ্যান্ডেল নাম ফর্মে উল্লেখ করতে হবে। ফেসবুক, টুইটার (বর্তমানে এক্স), ইনস্টাগ্রাম এবং ইউটিউবের মতো জনপ্রিয় প্ল্যাটফর্মগুলো এই স্ক্রিনিংয়ের আওতায় থাকবে। তবে পাসওয়ার্ড দেওয়ার প্রয়োজন হবে না। মূলত আবেদনকারীর নিরাপত্তা ঝুঁকি এবং পূর্ববর্তী কোনো উসকানিমূলক বা সন্দেহজনক কর্মকাণ্ড আছে কি না, তা যাচাই করতেই এই পদক্ষেপ। মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তর জানিয়েছে, জাতীয় নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং জননিরাপত্তার স্বার্থেই এই স্ক্রিনিং প্রক্রিয়া জোরদার করা হয়েছে। কোনো ব্যক্তি যদি অতীতে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে উগ্রবাদ বা আইনবিরোধী কোনো কাজে লিপ্ত থেকে থাকেন, তবে তার ভিসা আবেদন বাতিল হওয়ার সম্ভাবনা তৈরি হবে। ভিসা বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ৩০ মার্চের পর যারা আবেদন করবেন, তাদের অবশ্যই গত ৫ বছরের ডিজিটাল ফুটপ্রিন্ট সম্পর্কে সতর্ক থাকতে হবে। কোনো ভুল তথ্য দিলে বা তথ্য গোপন করলে তা স্থায়ীভাবে ভিসা প্রত্যাখ্যাত হওয়ার কারণ হতে পারে। এছাড়া ইমেইল অ্যাড্রেস এবং ফোন নম্বর প্রদানের ক্ষেত্রেও অতিরিক্ত সতর্কতা অবলম্বনের পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। এই নতুন নিয়ম চালুর ফলে ভিসা প্রক্রিয়াকরণে কিছুটা অতিরিক্ত সময় লাগতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। তাই প্রয়োজনীয় কাগজপত্র এবং অনলাইন প্রোফাইল গুছিয়ে আবেদন করার পরামর্শ দিচ্ছে সংশ্লিষ্ট দপ্তরগুলো।
এপস্টেইন ফাইল: দাবি, বাইডেনকে ২০১৯ সালে হত্যা করে ক্লোন দ্বারা প্রতিস্থাপন করা হয়েছে জেফরি এপস্টেইনের ফাইল ট্রান্সপারেন্সি অ্যাক্টের সাথে যুক্ত সম্প্রতি প্রকাশিত একটি নথি ত্রাঞ্চে অভিযোগ করা হয়েছে যে, প্রাক্তন মার্কিন প্রেসিডেন্ট জো বাইডেনকে ২০১৯ সালে হত্যা করা হয়েছে এবং তাকে একটি ক্লোন দ্বারা প্রতিস্থাপন করা হয়েছে। এই নথিগুলি, যা আনক্লাসিফায়েড ডিপার্টমেন্ট অব জাস্টিস (DOJ) রেকর্ডের একটি বিশাল ডেটা রিলিজের অংশ, “চার্লস” নামে একজনের ক্ষুব্ধ ইমেইল অন্তর্ভুক্ত করেছে এবং অন্তর্বর্তী ফাইলিং কোড EFTA00173266 থেকে EFTA00173273 পর্যন্ত চিহ্নিত। এই ইমেইলগুলো তৃতীয় পক্ষের যোগাযোগের মধ্যে পাওয়া গেছে, যা জেফরি এপস্টেইনের নেটওয়ার্ক সংক্রান্ত বিস্তৃত ফেডারেল তদন্তের সময় সংগ্রহ করা হয়েছিল। এপস্টেইন সম্পর্কিত অন্যান্য প্রকাশনার মতো এখানে রাজনৈতিক ও ব্যবসায়িক ব্যক্তিদের সঙ্গে সম্পর্কের তথ্য নয়, বরং চরম ও ষড়যন্ত্রমূলক দাবিগুলো রয়েছে। ক্লোন তত্ত্বের উল্লেখ “চার্লস” ইমেইলগুলো এপ্রিল ২০২১-এ একজন এফবিআই এজেন্টকে ফরোয়ার্ড করা হয়েছিল, যাকে লাল করা প্রেরক হিসেবে দেখানো হয়েছে। প্রেরক দাবি করেছিলেন যে এটি একটি প্রযুক্তি সংস্থার এক ক্ষুব্ধ প্রাক্তন কর্মচারী বা সহযোগীর মেসেজ। ইমেইলগুলিতে গালাগালি ভাষা ব্যবহৃত হয়েছে এবং এখানে “কোয়ান্টাম” প্রযুক্তি, গোপন সামরিক ট্রাইব্যুনাল, এবং “বাইডেন আপনার বর্তমান প্রেসিডেন্ট নন” এমন দাবির উল্লেখ রয়েছে। একটি অনুচ্ছেদে বলা হয়েছে যে “বাস্তব” জো বাইডেনকে ২০১৯ সালে নির্বিচারে হত্যা করা হয়েছে এবং তাকে একজন অভিনেতা বা ক্লোন দ্বারা প্রতিস্থাপন করা হয়েছে, যেখানে প্রমাণ হিসেবে “মাস্কের ত্রুটি” দেখানো হয়েছে। তবে এই দাবিগুলোর সঙ্গে কোনো শারীরিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি বা সঙ্গত সাক্ষ্য নেই। “বাইডেন ক্লোন” দাবি অনলাইনে ষড়যন্ত্র তত্ত্বের একটি পরিচিত অংশ। তত্ত্বটি সাধারণত ধরে যে “বাস্তব” জো বাইডেনকে গোপনে জনমঞ্চ থেকে সরিয়ে দেওয়া হয়েছে, প্রায়শই ২০১৯ বা ২০২০ সালে, এবং তাকে চেহারা মিলানো লোক বা ক্লোন দিয়ে প্রতিস্থাপন করা হয়েছে। অনুগামীরা প্রায়শই নিম্নমানের ভিডিও এবং ফটোগ্রাফ বিশ্লেষণ করে, চেহারার পরিবর্তন যেমন আলোর পরিবর্তন, বয়সের প্রভাব বা ক্যামেরার ত্রুটিকে কৃত্রিমভাবে আড়াল করার প্রমাণ হিসেবে দেখান। এ পর্যন্ত কোনো যাচাইযোগ্য প্রমাণ নেই যে প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন কখনো ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন বা প্রতিস্থাপিত হয়েছেন। এই দাবিগুলি সম্পূর্ণভাবে একটি ষড়যন্ত্র তত্ত্ব হিসেবে রয়ে গেছে। সূত্র: Royanews
যিশুর শেষ শয্যায় বাংলাদেশের ছোঁয়া? তুরিনের রহস্যময় চাদরে মিলল চমকপ্রদ তথ্য হযরত ঈসা (আঃ) বা যিশু খ্রিস্টের পবিত্র দেহ যে চাদর দিয়ে ঢাকা ছিল, সেই ঐতিহাসিক ‘শবাচ্ছাদন বস্ত্র’ বা ‘শ্রাউড অব তুরিন’ নিয়ে দীর্ঘদিনের রহস্যে যুক্ত হলো নতুন এক মাত্রা। সাম্প্রতিক এক ডিএনএ গবেষণায় দাবি করা হয়েছে, এই পবিত্র কাপড়ের সঙ্গে প্রাচীন ভারতীয় উপমহাদেশের গভীর সংযোগ থাকার সম্ভাবনা রয়েছে। বাংলাদেশও এই উপমহাদেশের অংশ। ইতালির পাডোভা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক জিয়ান্নি বারকাচ্চিয়ার নেতৃত্বে একদল গবেষক এই চাদর থেকে পাওয়া ধূলিকণা এবং ফাইবারের জেনেটিক বিশ্লেষণ করেছেন। গবেষণায় দেখা গেছে, কাপড়টিতে থাকা ডিএনএ-র প্রায় ৩৮.৭ শতাংশই উপমহাদেশীয় বংশোদ্ভূত। বিজ্ঞানীদের ধারণা, এই কাপড়টি প্রাচীন সিন্ধু উপত্যকা অঞ্চল থেকে আমদানিকৃত লিনেন বা সুতো দিয়ে তৈরি হয়ে থাকতে পারে, যা প্রাচীন রেশম পথ বা সমুদ্রপথে মধ্যপ্রাচ্যে পৌঁছেছিল। বাইবেলের বর্ণনা অনুযায়ী, গুড ফ্রাইডে-তে যিশুর দেহ ক্রুশ থেকে নামানোর পর একটি মসীনার কাপড়ে জড়িয়ে সমাধিস্থ করা হয়েছিল। ইতালির তুরিন শহরের ‘ক্যাথিড্রাল অব সেন্ট জন দ্য ব্যাপ্টিস্ট’-এ সংরক্ষিত এই ৪.৩৬ মিটার লম্বা কাপড়ে আজও এক দীর্ঘকায় পুরুষের আবয়ব এবং রক্তের ছাপ দৃশ্যমান। নতুন এই গবেষণা ইঙ্গিত দিচ্ছে যে, যিশুর সেই অন্তিম বিদায়ের চাদরটি হয়তো তৎকালীন উপমহাদেশের দক্ষ কারিগরদের বোনা কাপড় ছিল। যদিও এই চাদরটির সত্যতা নিয়ে বিজ্ঞান মহলে বিতর্ক রয়েছে, তবে উপমহাদেশের সাথে এর বাণিজ্যিক ও ঐতিহাসিক যোগসূত্র স্থাপনের এই দাবি বিশ্বজুড়ে নতুন করে আলোচনার ঝড় তুলেছে।
জুলাই গণহত্যা ও মানবতাবিরোধী অপরাধের বিচারের কেন্দ্রবিন্দু ‘আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল’ (আইসিটি)-এর নেতৃত্বে বড় ধরনের পরিবর্তন এসেছে। দেড় বছর সফলভাবে দায়িত্ব পালনের পর চিফ প্রসিকিউটর পদ থেকে সরিয়ে দেওয়া হয়েছে অ্যাডভোকেট তাজুল ইসলামকে। তাঁর স্থলাভিষিক্ত হয়েছেন দেশের প্রথিতযশা আইনজীবী অ্যাডভোকেট আমিনুল ইসলাম। সোমবার (২৩ ফেব্রুয়ারি) আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রণালয় থেকে এই নিয়োগ সংক্রান্ত প্রজ্ঞাপন জারি করা হয়েছে। তাজুল ইসলামের দেড় বছর: এক সাহসিকতার ইতিহাস ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানে ফ্যাসিবাদের পতনের পর ৭ সেপ্টেম্বর আইসিটির হাল ধরেছিলেন তাজুল ইসলাম। তাঁর দেড় বছরের কর্মমেয়াদে জুলাই গণহত্যার বিচারে অভাবনীয় গতি আসে। তাঁর টিমের কঠোর পরিশ্রমে পলাতক সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা, সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামালসহ ২৬ জন অপরাধীর মৃত্যুদণ্ডসহ বিভিন্ন মেয়াদে সাজা নিশ্চিত হয়। এছাড়া আয়নাঘর বা গুমের ঘটনায় জড়িত প্রভাবশালী সামরিক কর্মকর্তাদের বিচারের মুখোমুখি করার ক্ষেত্রেও তিনি ঐতিহাসিক ভূমিকা পালন করেছেন। বিদায় বেলায় তাজুল ইসলাম বলেন, "রাজনৈতিক সরকার পরিবর্তনের সাথে প্রশাসনিক পরিবর্তন স্বাভাবিক। আমি আশা করি, নতুন যিনি আসছেন তিনি বিচারপ্রার্থী ও নির্যাতিত মানুষের কথা মাথায় রেখে সুবিচার নিশ্চিত করবেন।" কে এই আমিনুল ইসলাম? নতুন চিফ প্রসিকিউটর অ্যাডভোকেট আমিনুল ইসলামের গ্রামের বাড়ি হবিগঞ্জে। তিনি এর আগে বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার পক্ষে আইনি লড়াইয়ে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছেন। নতুন প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী, তিনি এখন থেকে ‘অ্যাটর্নি জেনারেল’-এর সমান পদমর্যাদা ও সুযোগ-সুবিধা ভোগ করবেন। দায়িত্ব গ্রহণের পর তাঁকে ফুল দিয়ে বরণ করে নেন বিদায়ী প্রসিকিউটর তাজুল ইসলাম। জুলাইয়ের আকাঙ্ক্ষা বাস্তবায়নের অঙ্গীকার দায়িত্ব নিয়েই আমিনুল ইসলাম সাংবাদিকদের সামনে তাঁর লক্ষ্য পরিষ্কার করেছেন। তিনি বলেন, "আমি জুলাই বিপ্লবের প্রতিটি শহীদের রক্তের মর্যাদা রক্ষায় প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। ট্রাইব্যুনালের চলমান বিচারপ্রক্রিয়ায় আমি জুলাইয়ের আকাঙ্ক্ষা অনুযায়ী পূর্ণ সহযোগিতা করব। আমার স্পষ্ট বার্তা হলো— যারা নির্দোষ তারা কোনোভাবেই হয়রানির শিকার হবেন না, কিন্তু যারা প্রকৃত অপরাধী তাদের সর্বোচ্চ সাজা পেতেই হবে।" নির্বাচিত সরকারের অধীনে বিচারকাজে আরও গতি আসবে বলেও তিনি আশা প্রকাশ করেন। বর্তমানে ট্রাইব্যুনালের চিত্র আইসিটিতে বর্তমানে ২৪টি আনুষ্ঠানিক অভিযোগ দাখিল করা হয়েছে, যার মধ্যে ২১টি মামলার বিচার সচল রয়েছে। জুলাই বিপ্লবের প্রথম শহীদ আবু সাঈদ হত্যাকাণ্ড এবং রামপুরা গণহত্যার মতো স্পর্শকাতর মামলাগুলো এখন রায়ের অপেক্ষায়। বর্তমানে ৪৫৭ জন আসামির মধ্যে ১৬১ জন গ্রেপ্তার থাকলেও ২৯৩ জন এখনো পলাতক। নতুন নেতৃত্বের অধীনে এই পলাতক আসামিদের ফিরিয়ে আনা এবং বিচার কাজ শেষ করাই হবে সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ।
বাংলাদেশের রাষ্ট্রীয় কাঠামো সংস্কারের পথে এক ঐতিহাসিক মাইলফলক অর্জিত হলো। গত ১২ ফেব্রুয়ারি ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের পাশাপাশি অনুষ্ঠিত গণভোটে দেশের সিংহভাগ মানুষ ‘জুলাই সনদ’ বাস্তবায়নের পক্ষে রায় দিয়েছেন। মোট সংগৃহীত ভোটের ৬২ শতাংশেরও বেশি ‘হ্যাঁ’ ভোট পড়ায় আনুষ্ঠানিকভাবে জুলাই সনদ ও সংবিধান সংস্কারের পথ সুগম হয়েছে। জুলাই জাতীয় সনদ (সংবিধান সংস্কার) বাস্তবায়ন আদেশ অনুযায়ী, নবনির্বাচিত সংসদ সদস্যরা কেবল আইনপ্রণেতা হিসেবেই নন, বরং একই সঙ্গে ‘সংবিধান সংস্কার পরিষদ’-এর সদস্য হিসেবেও দায়িত্ব পালন করবেন। সংসদের প্রথম অধিবেশন থেকে পরবর্তী ১৮০ কার্যদিবসের মধ্যে এই পরিষদকে গণভোটের রায় অনুযায়ী সংবিধানের প্রয়োজনীয় সংস্কার সম্পন্ন করতে হবে। কী কী পরিবর্তন আসছে সংবিধানে? গণভোটের রায়ে যে বিষয়গুলো নিশ্চিত হতে যাচ্ছে, তার মধ্যে অন্যতম হলো ক্ষমতার বিকেন্দ্রীকরণ। প্রধানমন্ত্রীর একচ্ছত্র নির্বাহী ক্ষমতা কমিয়ে রাষ্ট্রপতির ক্ষমতা বৃদ্ধি করা হবে। বিশেষ করে মানবাধিকার কমিশন, তথ্য কমিশন, বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর এবং এনার্জি রেগুলেটরি কমিশনের মতো গুরুত্বপূর্ণ পদে নিয়োগের ক্ষেত্রে রাষ্ট্রপতি এখন স্বাধীন সিদ্ধান্ত নিতে পারবেন। এছাড়া, এক ব্যক্তি জীবনে দুই মেয়াদের বেশি বা ১০ বছরের অধিক সময় প্রধানমন্ত্রী থাকতে পারবেন না—এই যুগান্তকারী প্রস্তাবেও সায় দিয়েছেন ভোটাররা। উচ্চকক্ষ নিয়ে নতুন বিতর্ক: গণভোটের জয় সত্ত্বেও একটি বিষয়ে বড় ধরণের আইনি ও রাজনৈতিক বিতর্কের আভাস পাওয়া যাচ্ছে। জুলাই সনদ ও গণভোটের প্রশ্নে সরাসরি বলা হয়েছে, সংসদের উচ্চকক্ষ (সিনেট) গঠিত হবে জাতীয় নির্বাচনে দলগুলোর প্রাপ্ত ‘ভোটের আনুপাতিক হারে’। এর বিপরীতে একক সংখ্যাগরিষ্ঠতা পাওয়া বিএনপির ইশতেহারে বলা ছিল উচ্চকক্ষ হবে ‘আসন সংখ্যার ভিত্তিতে’। পরিসংখ্যান বলছে, ভোটের হার বা ‘পিআর পদ্ধতি’ অনুসরণ করলে উচ্চকক্ষ ১০০ আসনের মধ্যে বিএনপি জোট ৫২-৫৩টি এবং জামায়াত জোট ৩৮টির মতো আসন পাবে। কিন্তু আসন সংখ্যার ভিত্তিতে হলে বিএনপি জোট একাই ৭০টি আসন পাবে। প্রধান উপদেষ্টার বিশেষ সহকারী মনির হায়দার এ প্রসঙ্গে জানিয়েছেন, বিএনপির ইশতেহার সরাসরি জনগণের ভোটে পাস হয়নি, কিন্তু আনুপাতিক হারের বিষয়টি গণভোটের ব্যালটে ছিল এবং জনগণ তাতে ‘হ্যাঁ’ বলেছে। ফলে জনরায়ের প্রাধান্য কোন দিকে থাকবে, সেটিই এখন বড় প্রশ্ন। আশা ও চ্যালেঞ্জ: যদিও বিএনপির কিছু বিষয়ে ‘নোট অব ডিসেন্ট’ বা ভিন্নমত ছিল, তবুও অধিকাংশ সংস্কার প্রস্তাবে দলগুলোর ঐকমত্য রয়েছে। আইনজীবী ও বিশ্লেষকদের মতে, নতুন সরকারকে এই ম্যান্ডেটকে সম্মান জানাতে হবে, অন্যথায় সাংবিধানিক ধারাবাহিকতা ও বৈধতা সংকটে পড়তে পারে। ১৮০ দিনের এই সংস্কার প্রক্রিয়ার মাধ্যমেই নির্ধারিত হবে নতুন বাংলাদেশের প্রকৃত গণতান্ত্রিক ভবিষ্যৎ।