ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে ‘প্রহসন’ আখ্যা দিয়ে ফলাফল বর্জন করলেও দেশের ভবিষ্যৎ প্রধানমন্ত্রী হিসেবে তারেক রহমানের সঙ্গে আলোচনায় বসার আগ্রহ প্রকাশ করেছেন ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ছেলে সজীব ওয়াজেদ জয়। ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম আইটিভি (ITV)-কে দেওয়া এক বিশেষ সাক্ষাৎকারে তিনি এই চাঞ্চল্যকর মন্তব্য করেন। শনিবার ভোরে প্রচারিত এই সাক্ষাৎকারে তিনি বর্তমান বাংলাদেশের রাজনৈতিক পরিস্থিতি ও নিজের অবস্থান পরিষ্কার করেন।
সজীব ওয়াজেদ জয় বলেন, “আমি এমন একজন মানুষ যে সবসময় আলোচনায় বিশ্বাস করি। পরিস্থিতি যত কঠিনই হোক বা প্রতিপক্ষ যেই হোক না কেন, সংলাপই আমার জীবনের মূল কৌশল।” তিনি দাবি করেন, দেশের বৃহত্তম রাজনৈতিক দল ও প্রগতিশীল শক্তিগুলোকে বাইরে রেখে যে নির্বাচন হয়েছে, তা কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। তাঁর মতে, এই নির্বাচনটি এমনভাবে সাজানো হয়েছে যাতে বড় ইসলামপন্থি দল জামায়াতে ইসলামী তাদের জনসমর্থনের তুলনায় সংসদে অনেক বেশি প্রভাব অর্জন করতে পারে।
নির্বাচনকালীন পরিস্থিতির তুলনা করতে গিয়ে তিনি বলেন, “যুক্তরাজ্যে যদি টোরি বা লিবারেলদের মতো কোনো বড় দলকে নিষিদ্ধ করে নির্বাচন দেওয়া হতো, তবে সেটা যেমন হতো, বাংলাদেশের পরিস্থিতি এখন ঠিক তেমনই। এটাকে কোনোভাবেই অবাধ ও সুষ্ঠু বলা যায় না।” তবে আওয়ামী লীগ আমলের বিতর্কিত নির্বাচনগুলোর সাফাই গেয়ে জয় দাবি করেন, বিগত নির্বাচনগুলোতে কোনো কারচুপি হয়নি, বরং বিরোধীরাই সেগুলো বর্জন করেছিল।
আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষকদের মূল্যায়নের প্রতি অনাস্থা জানিয়ে তিনি বলেন, “দেশে যে অল্পসংখ্যক পর্যবেক্ষক রয়েছেন, তারা সরকারের কড়া পাহাড়ায় চলাফেরা করছেন। আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নাজুক হওয়ায় তাদের পক্ষে প্রকৃত চিত্র দেখা সম্ভব নয়।”
নিজ দেশে ফেরার বিষয়ে আত্মবিশ্বাসী জয় বলেন, “আমরা অবশ্যই একদিন দেশে ফিরব। দেখুন—তারেক রহমান, যিনি একসময় দণ্ডিত হয়েছিলেন, তিনি যদি আজ সম্ভাব্য প্রধানমন্ত্রী হতে পারেন, তবে আমাদের জন্য পরিস্থিতি চিরকাল এমন থাকবে না।” মা শেখ হাসিনার ফেরার প্রসঙ্গে তিনি বলেন, তিনি নিশ্চিত যে শেখ হাসিনা একদিন বাংলাদেশে ফিরবেন, তবে বর্তমান পরিস্থিতিতে তাঁর ফেরা ‘একেবারেই নিরাপদ’ নয়।
মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র থেকে ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে দেওয়া জয়ের এই সাক্ষাৎকারটি দেশের রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন আলোচনার জন্ম দিয়েছে। একদিকে নির্বাচনের বৈধতা নিয়ে প্রশ্ন তোলা এবং অন্যদিকে বিজয়ী পক্ষের সাথে আলোচনার প্রস্তাবকে বিশ্লেষকরা এক নতুন কৌশল হিসেবে দেখছেন।
এপস্টেইন ফাইল: দাবি, বাইডেনকে ২০১৯ সালে হত্যা করে ক্লোন দ্বারা প্রতিস্থাপন করা হয়েছে জেফরি এপস্টেইনের ফাইল ট্রান্সপারেন্সি অ্যাক্টের সাথে যুক্ত সম্প্রতি প্রকাশিত একটি নথি ত্রাঞ্চে অভিযোগ করা হয়েছে যে, প্রাক্তন মার্কিন প্রেসিডেন্ট জো বাইডেনকে ২০১৯ সালে হত্যা করা হয়েছে এবং তাকে একটি ক্লোন দ্বারা প্রতিস্থাপন করা হয়েছে। এই নথিগুলি, যা আনক্লাসিফায়েড ডিপার্টমেন্ট অব জাস্টিস (DOJ) রেকর্ডের একটি বিশাল ডেটা রিলিজের অংশ, “চার্লস” নামে একজনের ক্ষুব্ধ ইমেইল অন্তর্ভুক্ত করেছে এবং অন্তর্বর্তী ফাইলিং কোড EFTA00173266 থেকে EFTA00173273 পর্যন্ত চিহ্নিত। এই ইমেইলগুলো তৃতীয় পক্ষের যোগাযোগের মধ্যে পাওয়া গেছে, যা জেফরি এপস্টেইনের নেটওয়ার্ক সংক্রান্ত বিস্তৃত ফেডারেল তদন্তের সময় সংগ্রহ করা হয়েছিল। এপস্টেইন সম্পর্কিত অন্যান্য প্রকাশনার মতো এখানে রাজনৈতিক ও ব্যবসায়িক ব্যক্তিদের সঙ্গে সম্পর্কের তথ্য নয়, বরং চরম ও ষড়যন্ত্রমূলক দাবিগুলো রয়েছে। ক্লোন তত্ত্বের উল্লেখ “চার্লস” ইমেইলগুলো এপ্রিল ২০২১-এ একজন এফবিআই এজেন্টকে ফরোয়ার্ড করা হয়েছিল, যাকে লাল করা প্রেরক হিসেবে দেখানো হয়েছে। প্রেরক দাবি করেছিলেন যে এটি একটি প্রযুক্তি সংস্থার এক ক্ষুব্ধ প্রাক্তন কর্মচারী বা সহযোগীর মেসেজ। ইমেইলগুলিতে গালাগালি ভাষা ব্যবহৃত হয়েছে এবং এখানে “কোয়ান্টাম” প্রযুক্তি, গোপন সামরিক ট্রাইব্যুনাল, এবং “বাইডেন আপনার বর্তমান প্রেসিডেন্ট নন” এমন দাবির উল্লেখ রয়েছে। একটি অনুচ্ছেদে বলা হয়েছে যে “বাস্তব” জো বাইডেনকে ২০১৯ সালে নির্বিচারে হত্যা করা হয়েছে এবং তাকে একজন অভিনেতা বা ক্লোন দ্বারা প্রতিস্থাপন করা হয়েছে, যেখানে প্রমাণ হিসেবে “মাস্কের ত্রুটি” দেখানো হয়েছে। তবে এই দাবিগুলোর সঙ্গে কোনো শারীরিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি বা সঙ্গত সাক্ষ্য নেই। “বাইডেন ক্লোন” দাবি অনলাইনে ষড়যন্ত্র তত্ত্বের একটি পরিচিত অংশ। তত্ত্বটি সাধারণত ধরে যে “বাস্তব” জো বাইডেনকে গোপনে জনমঞ্চ থেকে সরিয়ে দেওয়া হয়েছে, প্রায়শই ২০১৯ বা ২০২০ সালে, এবং তাকে চেহারা মিলানো লোক বা ক্লোন দিয়ে প্রতিস্থাপন করা হয়েছে। অনুগামীরা প্রায়শই নিম্নমানের ভিডিও এবং ফটোগ্রাফ বিশ্লেষণ করে, চেহারার পরিবর্তন যেমন আলোর পরিবর্তন, বয়সের প্রভাব বা ক্যামেরার ত্রুটিকে কৃত্রিমভাবে আড়াল করার প্রমাণ হিসেবে দেখান। এ পর্যন্ত কোনো যাচাইযোগ্য প্রমাণ নেই যে প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন কখনো ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন বা প্রতিস্থাপিত হয়েছেন। এই দাবিগুলি সম্পূর্ণভাবে একটি ষড়যন্ত্র তত্ত্ব হিসেবে রয়ে গেছে। সূত্র: Royanews
দাম বাড়ানোর ১২ ঘণ্টারও কম সময়ের ব্যবধানে দেশের বাজারে আবারও স্বর্ণের দাম কমিয়েছে বাংলাদেশ জুয়েলার্স অ্যাসোসিয়েশন (বাজুস)। ভরিতে এক লাফে ৩ হাজার ২৬৬ টাকা কমিয়ে ২২ ক্যারেটের প্রতি ভরি স্বর্ণের নতুন দাম নির্ধারণ করা হয়েছে ২ লাখ ৫৮ হাজার ৮২৪ টাকা। শনিবার (৭ ফেব্রুয়ারি) রাতে বাজুসের এক বিজ্ঞপ্তিতে দাম কমানোর বিষয়টি জানানো হয়েছে। নতুন দাম রোববার (৮ ফেব্রুয়ারি) থেকেই কার্যকর হবে। এর আগে একই দিন সকালে দেশের বাজারে স্বর্ণের দাম বাড়ানো হয়। ওই সময় ভরিপ্রতি এক লাফে ৭ হাজার ৬৪০ টাকা বাড়িয়ে ২২ ক্যারেটের এক ভরি স্বর্ণের দাম নির্ধারণ করা হয়েছিল ২ লাখ ৬২ হাজার ৯০ টাকা। নতুন দাম অনুযায়ী, বর্তমানে দেশের বাজারে ২২ ক্যারেটের প্রতি ভরি (১১.৬৬৪ গ্রাম) স্বর্ণের দাম পড়বে ২ লাখ ৫৮ হাজার ৮২৪ টাকা। পাশাপাশি ২১ ক্যারেটের প্রতি ভরি ২ লাখ ৪৭ হাজার ৪৪ টাকা, ১৮ ক্যারেটের প্রতি ভরি ২ লাখ ১১ হাজার ৭৬০ টাকা এবং সনাতন পদ্ধতির প্রতি ভরি স্বর্ণের দাম পড়বে ১ লাখ ৭৩ হাজার ৩২৭ টাকা। এ নিয়ে চলতি বছর দেশের বাজারে মোট ২৭ বার স্বর্ণের দাম সমন্বয় করলো বাজুস। এরমধ্যে ১৭ বারই দাম বাড়ানো হয়েছে। আর দাম কমেছে মাত্র ১০ বার। অন্যদিকে গতবছর দেশের বাজারে মোট ৯৩ বার স্বর্ণের দাম সমন্বয় করা হয়েছিল। যেখানে ৬৪ বারই দাম বাড়ানো হয়েছিল। এছাড়া ২০২৫ সালে ২৯ বার কমানো হয়েছিল স্বর্ণের দাম।
যুক্তরাষ্ট্রে অভিবাসন নীতিতে কঠোরতা আরও স্পষ্ট হচ্ছে। সর্বশেষ মেইন (Maine) অঙ্গরাজ্যে ফেডারেল ইমিগ্রেশন অভিযান শুরুর ঘোষণা দিয়েছে Department of Homeland Security (ডিএইচএস)। ডিএইচএসের এক মুখপাত্রের বরাতে জানা গেছে, “Operation Catch of the Day” নামে এই বিশেষ অভিযানের মাধ্যমে রাজ্যটিতে অবস্থানরত অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে জড়িত অবৈধ অভিবাসীদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তার করা হবে। অভিযানটি পরিচালনায় ফেডারেল ইমিগ্রেশন কর্মকর্তাদের পাশাপাশি স্থানীয় আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সমন্বয় রয়েছে। কর্তৃপক্ষ বলছে, এই উদ্যোগের প্রধান লক্ষ্য জননিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং সহিংস বা গুরুতর অপরাধে যুক্ত ব্যক্তিদের আইনের আওতায় আনা। ডিএইচএস আরও জানায়, আইন মেনে বসবাসকারী বা অপরাধে জড়িত নন—এমন অভিবাসীদের লক্ষ্যবস্তু করা হবে না। তবে মানবাধিকার ও অভিবাসী অধিকার সংগঠনগুলোর আশঙ্কা, এ ধরনের অভিযানে ভয় ও অনিশ্চয়তা তৈরি হতে পারে এবং নিরপরাধ মানুষও হয়রানির শিকার হতে পারেন। এ নিয়ে তারা স্বচ্ছতা ও যথাযথ আইনি প্রক্রিয়া অনুসরণের আহ্বান জানিয়েছে। বিশ্লেষকদের মতে, মেইনে এই অভিযান শুরুর মাধ্যমে ফেডারেল সরকারের অভিবাসন আইন প্রয়োগ আরও বিস্তৃত পরিসরে জোরদার হলো। এর প্রভাব স্থানীয় অভিবাসী কমিউনিটির পাশাপাশি রাজ্যের রাজনৈতিক ও সামাজিক পরিমণ্ডলেও পড়তে পারে। সূত্র: ABC News
যুক্তরাষ্ট্রের শ্রমবাজারে তীব্র কর্মী সংকট মোকাবিলায় ২০২৬ অর্থবছরে বড় ধরনের পদক্ষেপ নিয়েছে ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রশাসন। নিয়মিত কোটার বাইরে অতিরিক্ত প্রায় ৬৪ হাজার ৭১৬টি এইচ-২বি মৌসুমি অতিথি শ্রমিক ভিসা দেওয়ার চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। রয়টার্সের বরাতে জানা গেছে, স্থানীয় সময় শুক্রবার (৩০ জানুয়ারি) প্রকাশিত ফেডারেল রেজিস্টার নোটিশে বলা হয়, দেশীয় শ্রমিকের ঘাটতির কারণে যেসব মার্কিন নিয়োগকর্তা বড় ধরনের আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়ছেন, মূলত তাদের স্বার্থ বিবেচনায় নিয়েই এই অতিরিক্ত ভিসার অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। ফলে বছরে নির্ধারিত ৬৬ হাজার এইচ-২বি ভিসার সংখ্যা প্রায় দ্বিগুণে পৌঁছাতে যাচ্ছে। নতুন এই সিদ্ধান্তে নির্মাণ শিল্প, হোটেল ও রেস্তোরাঁ, ল্যান্ডস্কেপিং এবং সি-ফুড প্রক্রিয়াজাতকরণ খাতের মতো শ্রমনির্ভর মৌসুমি শিল্পগুলো সবচেয়ে বেশি উপকৃত হবে বলে মনে করা হচ্ছে। এসব খাতে দীর্ঘদিন ধরেই দক্ষ স্থানীয় কর্মীর অভাবে বিদেশি শ্রমিক আনার দাবি জানিয়ে আসছিলেন নিয়োগকর্তারা। ক্ষমতায় আসার পর ট্রাম্প প্রশাসন অবৈধ অভিবাসনের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান নিলেও, বৈধ পথে কর্মসংস্থানের সুযোগ বাড়িয়ে অর্থনীতিকে সচল রাখতে এই নমনীয় সিদ্ধান্ত নিয়েছে। এর আগেও সাবেক প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন প্রশাসনের সময় শ্রমঘাটতি মোকাবিলায় এইচ-২বি ভিসার সংখ্যা বাড়ানো হয়েছিল। তবে সরকারের এই সিদ্ধান্তের বিরোধিতাও রয়েছে। অভিবাসন কমানোর পক্ষে থাকা বিভিন্ন গোষ্ঠীর আশঙ্কা, বিপুল সংখ্যক বিদেশি শ্রমিক প্রবেশ করলে মার্কিন নাগরিকদের মজুরি কমে যেতে পারে। এ বিষয়ে পেন্টাগন ও শ্রম মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, দেশের উন্নয়ন প্রকল্প এবং পর্যটন খাত সচল রাখতে এই মুহূর্তে বিদেশি শ্রমিকের বিকল্প নেই। ফেডারেল রেজিস্টারের তথ্যানুযায়ী, অতিরিক্ত এইচ-২বি ভিসা কার্যকরের বিশেষ বিধিমালা আগামী মঙ্গলবার আনুষ্ঠানিকভাবে প্রকাশ করা হবে এবং এরপরই আবেদন প্রক্রিয়া শুরু হবে। সূত্র: দ্য ফিন্যান্সিয়াল এক্সপ্রেস
মার্কিন নৌবাহিনীর সাবেক গোয়েন্দা কর্মকর্তা এবং জাতিসংঘের সাবেক অস্ত্র পরিদর্শক, ইরান-মার্কিন আলোচনার বিশ্লেষণ করতে গিয়ে জোর দিয়ে বলেছেন যে ইরানের চেয়ে ট্রাম্পেরই এই আলোচনার বেশি প্রয়োজন। পার্সটুডে- মার্কিন নৌবাহিনীর সাবেক গোয়েন্দা কর্মকর্তা এবং জাতিসংঘের সাবেক অস্ত্র পরিদর্শক, ইরান-মার্কিন আলোচনার বিশ্লেষণ করতে গিয়ে জোর দিয়ে বলেছেন যে ইরানের চেয়ে ট্রাম্পেরই এই আলোচনার বেশি প্রয়োজন। মার্কিন নৌবাহিনীর সাবেক গোয়েন্দা কর্মকর্তা স্কট রিটার সতর্ক করে বলেছেন যে পশ্চিমারা সর্বদা তার গুপ্তচর সংস্থাগুলির মাধ্যমে ইরানের সাংস্কৃতিক ও সামাজিক ভিত্তি ধ্বংস করতে চাইছে এবং অপর্যাপ্তভাবে নিয়ন্ত্রিত তথ্য-যোগাযোগ রুট ব্যবহার করে কিছু ইরানিকে তাদের এজেন্ট নিয়োগ করেছে। ক্ষেপণাস্ত্র ইরানের জন্য একটি পছন্দসই আক্রমণাত্মক হাতিয়ার নয় পার্সটুডে অনুসারে, ইরানের ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্রের পরিসর সীমিত করার বিষয়ে মার্কিন কর্মকর্তাদের বক্তব্যের কথা উল্লেখ করে রিটার ব্যাখ্যা করেছেন যে এই শর্তটি বাস্তবে "নিরস্ত্রীকরণ" এবং ইসলামিক প্রজাতন্ত্রের কাছ থেকে "কৌশলগত আত্মহত্যার" অনুরোধের সমতুল্য। তিনি স্পষ্ট করে বলেন যে ক্ষেপণাস্ত্র শুধুমাত্র ইরানের জন্য একটি কাঙ্ক্ষিত আক্রমণাত্মক হাতিয়ার নয়, বরং প্রতিরোধ ও বেঁচে থাকার মেরুদণ্ড এবং এই স্তম্ভটি অপসারণকারী যেকোনো চেষ্টো ইরানকে অরক্ষিত করে তুলবে। তিনি যুক্তি দেন যে ইরান যদি তার ক্ষেপণাস্ত্রের পাল্লা এতটাই কমিয়ে দেয় যে তারা আর ইসরায়েলে আঘাত করতে পারবে না, তাহলে ইসরায়েল প্রতিশোধের ভয় ছাড়াই ইরানে আক্রমণ করবে। ইরানের সাথে যুদ্ধ নীতিতে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের কৌশলগত অক্ষমতা আমেরিকান বিশ্লেষক স্পষ্ট করে বলেন যে ইরানের সাথে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের যুদ্ধ এড়ানোর মূল কারণ কৌশলগত অক্ষমতা। তিনি বলেন, যেকোনও সামরিক আক্রমণ ইরানকে এমন প্রতিক্রিয়ার দিকে ঠেলে দেবে যা একই সাথে মার্কিন বাহিনী এবং স্বার্থের জন্য গুরুতর ক্ষতি বয়ে আনতে পারে। রিটার জোর দিয়ে বলেন যে এই ধরনের পরিবেশে ইরানের সাথে যুদ্ধ কেবল মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের জন্য কৌশলগত সুবিধাতো আনবেই না বরং ট্রাম্পের জন্য একটি অভ্যন্তরীণ রাজনৈতিক বিপর্যয়ও হতে পারে। ইরানের বিরুদ্ধে যুদ্ধ কেবল ইসরায়েলের স্বার্থ রক্ষার জন্য। আলোচনা একটি ফাঁদ সাবেক মার্কিন গোয়েন্দা কর্মকর্তা পরামর্শ দেন যে ইরানের উচিত দুর্বলতা থেকে নয়, বরং ওয়াশিংটনে রাজনৈতিক অজুহাতের পথ বন্ধ করার জন্য আলোচনায় প্রবেশ করা। তবে, রিটার সতর্ক করে দেন যে ইরানি কর্মকর্তাদের সর্বদা ধরে নেওয়া উচিত যে আলোচনা "একটি ফাঁদ"। কূটনীতির মাধ্যম বজায় রেখে, ইরানের উচিত তার সামরিক ও গোয়েন্দা যন্ত্রপাতিকে পূর্ণ সতর্ক রাখা । স্কট রিটার সাম্প্রতিক নৌ সংঘর্ষকে আমেরিকার শ্রেষ্ঠত্ব বা আগ্রাসনের লক্ষণ হিসেবে নয়, বরং ইরানের প্রবেশাধিকার-বিরোধী এবং আঞ্চলিক-বিরোধী ক্ষমতার প্রতি ওয়াশিংটনের কৌশলগত ভয়ের প্রতিফলন। রিটার জোর দিয়ে বলেন যে ইরানের নতুন প্রজন্মের নির্ভুল, কৌশলগত এবং হাইপারসনিক ক্ষেপণাস্ত্রের সামনে মার্কিন বিমানবাহী রণতরীগুলি "অপ্রচলিত" সিস্টেমে পরিণত হয়েছে। প্রধান হুমকি: ভেতর থেকে পতনের জন্য মানসিক যুদ্ধ অবশেষে, স্কট রিটার "মানসিক যুদ্ধ" নামক একটি ধারণার কথা উল্লেখ করেছেন; এমন একটি যুদ্ধ যেখানে, তিনি যুক্তি দেন, সরাসরি সামরিক সংঘাতের চেয়ে অনেক বেশি বিপজ্জনক, কারণ এর লক্ষ্য হল একটি গুলি না চালিয়েও একটি সমাজকে ভেতর থেকে ধ্বংস করা
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে ‘প্রহসন’ আখ্যা দিয়ে ফলাফল বর্জন করলেও দেশের ভবিষ্যৎ প্রধানমন্ত্রী হিসেবে তারেক রহমানের সঙ্গে আলোচনায় বসার আগ্রহ প্রকাশ করেছেন ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ছেলে সজীব ওয়াজেদ জয়। ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম আইটিভি (ITV)-কে দেওয়া এক বিশেষ সাক্ষাৎকারে তিনি এই চাঞ্চল্যকর মন্তব্য করেন। শনিবার ভোরে প্রচারিত এই সাক্ষাৎকারে তিনি বর্তমান বাংলাদেশের রাজনৈতিক পরিস্থিতি ও নিজের অবস্থান পরিষ্কার করেন। সজীব ওয়াজেদ জয় বলেন, “আমি এমন একজন মানুষ যে সবসময় আলোচনায় বিশ্বাস করি। পরিস্থিতি যত কঠিনই হোক বা প্রতিপক্ষ যেই হোক না কেন, সংলাপই আমার জীবনের মূল কৌশল।” তিনি দাবি করেন, দেশের বৃহত্তম রাজনৈতিক দল ও প্রগতিশীল শক্তিগুলোকে বাইরে রেখে যে নির্বাচন হয়েছে, তা কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। তাঁর মতে, এই নির্বাচনটি এমনভাবে সাজানো হয়েছে যাতে বড় ইসলামপন্থি দল জামায়াতে ইসলামী তাদের জনসমর্থনের তুলনায় সংসদে অনেক বেশি প্রভাব অর্জন করতে পারে। নির্বাচনকালীন পরিস্থিতির তুলনা করতে গিয়ে তিনি বলেন, “যুক্তরাজ্যে যদি টোরি বা লিবারেলদের মতো কোনো বড় দলকে নিষিদ্ধ করে নির্বাচন দেওয়া হতো, তবে সেটা যেমন হতো, বাংলাদেশের পরিস্থিতি এখন ঠিক তেমনই। এটাকে কোনোভাবেই অবাধ ও সুষ্ঠু বলা যায় না।” তবে আওয়ামী লীগ আমলের বিতর্কিত নির্বাচনগুলোর সাফাই গেয়ে জয় দাবি করেন, বিগত নির্বাচনগুলোতে কোনো কারচুপি হয়নি, বরং বিরোধীরাই সেগুলো বর্জন করেছিল। আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষকদের মূল্যায়নের প্রতি অনাস্থা জানিয়ে তিনি বলেন, “দেশে যে অল্পসংখ্যক পর্যবেক্ষক রয়েছেন, তারা সরকারের কড়া পাহাড়ায় চলাফেরা করছেন। আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নাজুক হওয়ায় তাদের পক্ষে প্রকৃত চিত্র দেখা সম্ভব নয়।” নিজ দেশে ফেরার বিষয়ে আত্মবিশ্বাসী জয় বলেন, “আমরা অবশ্যই একদিন দেশে ফিরব। দেখুন—তারেক রহমান, যিনি একসময় দণ্ডিত হয়েছিলেন, তিনি যদি আজ সম্ভাব্য প্রধানমন্ত্রী হতে পারেন, তবে আমাদের জন্য পরিস্থিতি চিরকাল এমন থাকবে না।” মা শেখ হাসিনার ফেরার প্রসঙ্গে তিনি বলেন, তিনি নিশ্চিত যে শেখ হাসিনা একদিন বাংলাদেশে ফিরবেন, তবে বর্তমান পরিস্থিতিতে তাঁর ফেরা ‘একেবারেই নিরাপদ’ নয়। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র থেকে ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে দেওয়া জয়ের এই সাক্ষাৎকারটি দেশের রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন আলোচনার জন্ম দিয়েছে। একদিকে নির্বাচনের বৈধতা নিয়ে প্রশ্ন তোলা এবং অন্যদিকে বিজয়ী পক্ষের সাথে আলোচনার প্রস্তাবকে বিশ্লেষকরা এক নতুন কৌশল হিসেবে দেখছেন।
বাংলাদেশের রাজনৈতিক মানচিত্রে এক বিশাল রদবদল ঘটে গেল ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে। এক সময়ের দাপুটে রাজনৈতিক শক্তি এবং হুসেইন মুহম্মদ এরশাদের প্রতিষ্ঠিত জাতীয় পার্টি (জাপা) এবারের নির্বাচনে এক চরম লজ্জাজনক পরিস্থিতির সম্মুখীন হয়েছে। সারা দেশে ২০০টি আসনে প্রার্থী দিলেও একটি আসনেও জয়ের মুখ দেখতে পারেনি দলটি। এমনকি দলটির প্রাণকেন্দ্র হিসেবে পরিচিত বৃহত্তর রংপুরেও ধুলোয় মিশে গেছে লাঙ্গল। রংপুর বিভাগের ৩৩টি আসনের মধ্যে ৩০টিতেই জাপা প্রার্থী দিয়েছিল, কিন্তু কুড়িগ্রাম, নীলফামারী বা রংপুরের কোথাও তারা জয়ী হতে পারেনি। এরশাদের এই দুর্গে এবার জয়জয়কার দেখা গেছে জামায়াতে ইসলামী নেতৃত্বাধীন জোটের এবং নব্য রাজনৈতিক শক্তি জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি)। লাঙ্গলের চরম ভরাডুবির দিনে সাধারণ মানুষের রায় গেছে মূলত ‘দাঁড়িপাল্লা’ ও ‘শাপলা কলি’র বাক্সে। প্রতিদ্বন্দ্বিতা হয়েছে মূলত জামায়াত জোটের সঙ্গে বিএনপির। বিশ্লেষকদের মতে, গত ১৭ বছর ধরে আওয়ামী লীগের সহযোগী ও ‘গৃহপালিত বিরোধী দল’ হিসেবে জাপার ভূমিকা সাধারণ মানুষের মনে চরম ক্ষোভের জন্ম দিয়েছিল। ২০২৪ সালের আগস্টের গণঅভ্যুত্থানের পর থেকেই দলটির অস্তিত্ব সংকটে পড়ে। বিশেষ করে ভারতের সাথে সখ্যতা এবং জিএম কাদেরের ‘ভারতীয় দালাল’ ভাবমূর্তি ভোটারদের বিমুখ করেছে। ২০২৩ সালে দিল্লি সফর শেষে ভারতের অনুমতি ছাড়া কথা বলতে না পারার মতো স্পর্শকাতর মন্তব্য জাপার রাজনৈতিক অবস্থানের কফিনে শেষ পেরেক ঠুকে দিয়েছিল বলে মনে করা হচ্ছে। নির্বাচনের আগে আওয়ামী লীগ কর্তৃক ‘ব্ল্যাকমেইল’ হওয়ার দোহাই দিলেও জনগণ আর জিএম কাদেরের ওপর আস্থা রাখতে পারেনি। দলের অভ্যন্তরীণ কোন্দল—রওশন এরশাদ ও আনিসুল ইসলাম মাহমুদের আলাদা গ্রুপ হওয়া—দলটিকে ভেতর থেকে আরও জরাজীর্ণ করে তুলেছে। চার দশকের ইতিহাসে এই প্রথম জাতীয় সংসদ একটিও লাঙ্গল প্রতীক ছাড়াই গঠিত হতে যাচ্ছে। অধিকাংশ প্রার্থীর জামানত বাজেয়াপ্ত হওয়ার মধ্য দিয়ে জাতীয় পার্টির রাজনৈতিক মৃত্যু এখন এক রূঢ় বাস্তবে পরিণত হয়েছে।
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের চূড়ান্ত বেসরকারি ফলাফলে এক অভাবনীয় ও নাটকীয় চিত্র ফুটে উঠেছে। নির্বাচনে অংশগ্রহণকারী ৫১টি নিবন্ধিত রাজনৈতিক দলের মধ্যে ৪২টি দল কোনো আসনেই জয়লাভ করতে পারেনি। গত ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত এই নির্বাচনে ভোটারদের রায় মূলত বড় দুই জোটের দিকেই ঝুঁকেছে, যার ফলে ছোট এবং নতুন দলগুলোর অধিকাংশই নির্বাচনী মাঠ থেকে ধুয়েমুছে গেছে। নির্বাচন কমিশনের তথ্য ও বেসরকারি ফলাফল বিশ্লেষণে দেখা যায়, ২৯৯টি আসনের মধ্যে বিএনপি নেতৃত্বাধীন জোট ২১২টি আসন পেয়ে নিরঙ্কুশ আধিপত্য বজায় রেখেছে। এর মধ্যে এককভাবে বিএনপি জিতেছে ২০৭টি আসনে। জোটের শরিক হিসেবে বাংলাদেশ জাতীয় পার্টি (বিজেপি), গণঅধিকার পরিষদ এবং গণসংহতি আন্দোলন ১টি করে আসন নিশ্চিত করতে সক্ষম হয়েছে। অন্যদিকে, জামায়াতে ইসলামীর নেতৃত্বাধীন জোট ৭৭টি আসন পেয়ে সংসদে দ্বিতীয় বৃহত্তম শক্তি হিসেবে আবির্ভূত হয়েছে। এই জোটে জামায়াতে ইসলামী এককভাবে ৬৯টি আসন পেয়ে নিজেদের শক্তিমত্তার জানান দিয়েছে। এছাড়া তরুণদের নিয়ে গঠিত নতুন দল জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) ৬টি এবং খেলাফত মজলিসের দুই অংশ মিলিয়ে ৩টি আসন লাভ করেছে। সংসদের বাকি আসনগুলোর মধ্যে ৬ জন স্বতন্ত্র প্রার্থী এবং ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের (চরমোনাই) ১ জন প্রার্থী বিজয়ী হয়ে সংসদে আসার টিকিট পেয়েছেন। একটি আসনের ফলাফল আইনি বা কারিগরি কারণে এখনো স্থগিত রয়েছে। রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা বলছেন, এবারের নির্বাচনে ভোটারদের মধ্যে কৌশলগত ভোট দেওয়ার প্রবণতা এবং জোটভিত্তিক মেরুকরণ প্রবল ছিল। ফলে ৫১টি দল মাঠে থাকলেও নতুন সংসদে কণ্ঠস্বর থাকবে মাত্র ৯টি দলের। এই ফলাফল বাংলাদেশের সংসদীয় রাজনীতিতে বড় দলগুলোর প্রভাবকে আরও সুসংহত করল, যা ছোট দলগুলোর জন্য এক বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে।