আমেরিকা

৪,৪০০ বার অবৈধ ঘোষণা

যুক্তরাষ্ট্রে আদালতের আদেশ উপেক্ষা করে হাজার হাজার অভিবাসী আটক

আমেরিকা বাংলা ডেস্ক ফেব্রুয়ারি ১৪, ২০২৬ 0
ইমিগ্রেশন অ্যান্ড কাস্টমস এনফোর্সমেন্ট
ইমিগ্রেশন অ্যান্ড কাস্টমস এনফোর্সমেন্ট

মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রশাসনের অধীনে অভিবাসীদের আটক রাখার প্রক্রিয়া নিয়ে এক ভয়াবহ চিত্র উঠে এসেছে রয়টার্সের এক অনুসন্ধানী প্রতিবেদনে। আদালতের পক্ষ থেকে অন্তত ৪,৪০০ বার ইমিগ্রেশন অ্যান্ড কাস্টমস এনফোর্সমেন্ট (ICE) কর্তৃক অভিবাসীদের আটক রাখাকে 'অবৈধ' ঘোষণা করা হলেও, এই প্রক্রিয়া বন্ধ হয়নি।

 

রয়টার্সের পর্যালোচনায় দেখা গেছে, গত বছরের অক্টোবর থেকে দেশের বিভিন্ন প্রান্তের শত শত বিচারক ট্রাম্প প্রশাসনের অভিবাসন নীতির কড়া সমালোচনা করেছেন। বিচারকদের মতে, প্রশাসন আইন অমান্য করে হাজার হাজার অভিবাসীকে অনির্দিষ্টকালের জন্য বন্দি করে রাখছে। এমনকি আদালতের স্পষ্ট নির্দেশ থাকা সত্ত্বেও অনেক ক্ষেত্রে তাদের মুক্তি দেওয়া হচ্ছে না।

 

পশ্চিম ভার্জিনিয়ার মার্কিন জেলা জজ থমাস জনস্টন একটি মামলায় ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, “এটি অত্যন্ত উদ্বেগজনক যে সরকার আদালতকে বর্তমান আইন উপেক্ষা করতে বলছে। আইন যেভাবে স্পষ্টভাবে লেখা আছে, সরকারকে তা মেনে চলতে হবে।” তিনি গত সপ্তাহে একজন ভেনেজুয়েলান বন্দিকে মুক্তি দেওয়ার আদেশ দিয়ে এই মন্তব্য করেন।

 

আইনি বিরোধের মূল কারণ প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, এই আইনি লড়াইয়ের মূলে রয়েছে প্রায় তিন দশকের পুরনো একটি ফেডারেল আইনের ব্যাখ্যা। ট্রাম্প প্রশাসন সেই ব্যাখ্যা থেকে সরে এসে নতুন নীতি গ্রহণ করেছে। আগে নিয়ম ছিল যে, অভিবাসীরা যারা ইতিমধ্যে যুক্তরাষ্ট্রে বসবাস করছেন, তারা তাদের মামলার শুনানি চলাকালীন বন্ডের বিনিময়ে মুক্তি পেতে পারেন। কিন্তু বর্তমান প্রশাসন তাদের মুক্তি না দিয়ে বন্দি করে রাখার নীতি বেছে নিয়েছে।

 

রেকর্ড সংখ্যক বন্দি ট্রাম্প ক্ষমতা গ্রহণের পর থেকে আইসিই (ICE) হেফাজতে থাকা অভিবাসীর সংখ্যা প্রায় ৭৫ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে। চলতি মাসে এই সংখ্যা প্রায় ৬৮,০০০-এ পৌঁছেছে, যা ট্রাম্প প্রশাসনের অভিবাসন বিরোধী কঠোর অবস্থানের প্রতিফলন।

 

হোয়াইট হাউসের অবস্থান এই বিষয়ে হোয়াইট হাউসের মুখপাত্র অ্যাবিগেইল জ্যাকসন জানিয়েছেন, প্রশাসন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের ম্যান্ডেট অনুযায়ী ফেডারেল ইমিগ্রেশন আইন কার্যকরভাবে বাস্তবায়ন করছে। তবে সমালোচকরা বলছেন, আইনি প্রক্রিয়াকে বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখিয়ে এভাবে মানুষকে বন্দি রাখা মানবাধিকার এবং বিচার ব্যবস্থার মৌলিক নীতির পরিপন্থী।

 

এদিকে, নিউ অরলিন্সের একটি রক্ষণশীল আপিল আদালত গত সপ্তাহে ট্রাম্প প্রশাসনের পক্ষে রায় দিয়ে অভিবাসীদের আটকে রাখার ক্ষমতাকে সমর্থন করেছে। সার্কিট জজ এডিথ জোনস বলেন, আগের প্রশাসনগুলো এই আইন পুরোপুরি ব্যবহার করেনি মানে এই নয় যে তাদের সেই ক্ষমতা ছিল না।

 

আদালতের এই পরস্পরবিরোধী অবস্থান এবং প্রশাসনের অনড় মনোভাব যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ব্যবস্থায় এক চরম বিশৃঙ্খলা ও আইনি সংকট তৈরি করেছে বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।


সূত্র: রয়টার্স (১৪ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬)

জনপ্রিয় সংবাদ
যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশি মালিকানাধীন বিশ্ববিদ্যালয়ের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধন

যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে।   এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন।   নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি।   উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।”   বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে।   এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে।   শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়।   উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন।   বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত।   এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।

মার্কিন ভিসা আপডেট ২০২৬! বাংলাদেশিদের জন্য কোন ভিসা বন্ধ, কোনটা চালু?

২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো।   প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে।   এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে।   অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে।   স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে।   সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে।   সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।

দেশের প্রথম ৪০ তলা ভবন ‘শান্তা পিনাকল’ হস্তান্তর সম্পন্ন

বাংলাদেশের আবাসন শিল্পে এক নতুন ইতিহাস রচিত হলো। রাজধানীর তেজগাঁও শিল্প এলাকায় নির্মিত দেশের প্রথম ৪০ তলা বিশিষ্ট আকাশচুম্বী বাণিজ্যিক ভবন ‘শান্তা পিনাকল’ আনুষ্ঠানিকভাবে হস্তান্তর করেছে শান্তা হোল্ডিংস। ৫০০ ফুট উচ্চতার এই আইকনিক ভবনটি এখন দেশের সর্বোচ্চ সম্পন্ন হওয়া ইমারত। গত শনিবার (১৮ এপ্রিল) ভবনের ৪০তম তলায় আয়োজিত এক আড়ম্বরপূর্ণ অনুষ্ঠানের মাধ্যমে এটি হস্তান্তর করা হয়। অনুষ্ঠানে শান্তা হোল্ডিংসের চেয়ারম্যান খন্দকার মনির উদ্দিন, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, স্থপতি এহসান খানসহ প্রতিষ্ঠানের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা, ভূমি মালিক এবং গ্রাহকরা উপস্থিত ছিলেন। স্থাপত্যশৈলী ও আধুনিক প্রযুক্তি:‘শান্তা পিনাকল’ শুধুমাত্র উচ্চতার কারণেই অনন্য নয়, বরং এটি আধুনিক নির্মাণশৈলী ও প্রযুক্তির এক অনন্য সমন্বয়। এটি বাংলাদেশের প্রথম ভবন যা পরিবেশবান্ধব স্থাপত্যের জন্য আন্তর্জাতিক ‘লিড প্ল্যাটিনাম’ (LEED Platinum) স্বীকৃতি পেয়েছে। সিঙ্গাপুরভিত্তিক বিখ্যাত ইঞ্জিনিয়ারিং প্রতিষ্ঠান ‘মেইনহার্ট’ (Meinhardt) এর সহায়তায় ভবনটির স্ট্রাকচারাল ডিজাইন এবং ভূমিকম্প প্রতিরোধক ব্যবস্থা নিশ্চিত করা হয়েছে। বিশেষ বৈশিষ্ট্যসমূহ: উন্নত লিফট ব্যবস্থা: ভবনটিতে রয়েছে ৮টি দ্রুতগামী লিফট, যা প্রতি সেকেন্ডে ৪ মিটার উচ্চতায় উঠতে সক্ষম। এটি দেশের দ্রুততম ভার্টিক্যাল ট্রান্সপোর্ট ব্যবস্থা। পরিবেশ ও সুরক্ষা: ভবনে ব্যবহৃত হয়েছে ৩৬ মিমি পুরুত্বের ডাবল গ্লেজড গ্লাস, যা তাপ ও শব্দ নিরোধক। এছাড়া এটি দেশের প্রথম ‘উইন্ড টানেল টেস্ট’ করা ভবন, যা প্রতিকূল আবহাওয়ায় এর স্থায়িত্ব নিশ্চিত করে। আইবিএমএস প্রযুক্তি: পুরো ভবনটি একটি ইন্টেলিজেন্ট বিল্ডিং ম্যানেজমেন্ট সিস্টেম (iBMS) দ্বারা পরিচালিত, যা সার্বক্ষণিক নিরাপত্তা ও জ্বালানি সাশ্রয় নিশ্চিত করবে। অগ্নি নিরাপত্তা: আন্তর্জাতিক এনএফপিএ (NFPA) স্ট্যান্ডার্ড অনুসরণ করে এখানে অত্যাধুনিক অগ্নিনির্বাপক ব্যবস্থা স্থাপন করা হয়েছে। অনুষ্ঠানে শান্তা হোল্ডিংসের পক্ষ থেকে জানানো হয়, ‘শান্তা পিনাকল’ হস্তান্তর দেশের রিয়েল এস্টেট খাতের সক্ষমতার এক বড় প্রমাণ। এটি শুধুমাত্র তেজগাঁও নয়, বরং পুরো ঢাকার বাণিজ্যিক পরিবেশকে বিশ্বমানের স্তরে নিয়ে যাবে। দেশের ইতিহাসে প্রথমবার অ্যালুমিনিয়াম ফর্মওয়ার্ক ব্যবহারের মাধ্যমে মাত্র সাত দিনে এক একটি তলার ছাদ ঢালাইয়ের রেকর্ড গড়ে এই প্রকল্পের কাজ সম্পন্ন করা হয়েছে। ঢাকার আকাশসীমায় নতুন এই ল্যান্ডমার্ক দেশের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি এবং আধুনিক নগরায়নের এক শক্তিশালী প্রতীক হিসেবে দাঁড়িয়ে আছে।

ইরানের আকাশে ১৬টি চীনা সামরিক বিমানের রহস্য নিয়ে তোলপাড়

মধ্যপ্রাচ্যের ক্রমবর্ধমান উত্তেজনার মধ্যেই একটি চাঞ্চল্যকর দাবি ভূ-রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন করে বিতর্কের ঝড় তুলেছে।   গত ৪৮ থেকে ৫৬ ঘণ্টার মধ্যে ১৬টি চীনা 'ওয়াই-২০' (Y-20) সামরিক কার্গো বিমান তাদের ট্রান্সপন্ডার বা সিগন্যাল বন্ধ রেখে ইরানের আকাশে প্রবেশ করেছে বলে খবর ছড়িয়েছে। কোনো আনুষ্ঠানিক নিশ্চিতকরণ ছাড়াই এই তথ্যটি প্রতিরক্ষা বিশ্লেষক ও সোশ্যাল মিডিয়া ব্যবহারকারীদের মধ্যে তীব্র উদ্বেগ সৃষ্টি করেছে। দাবি করা হচ্ছে, এই বিমানগুলো বেসামরিক রাডার থেকে আড়াল থাকতে বিশেষ কৌশল অবলম্বন করেছিল। নেটিজেন ও সামরিক বিশ্লেষকদের একটি অংশের ধারণা, চীন হয়তো ইরানকে অত্যাধুনিক ইলেকট্রনিক ওয়ারফেয়ার সিস্টেম বা জ্যামিং প্রযুক্তি সরবরাহ করছে। যদি এটি সত্যি হয়, তবে মার্কিন এফ-৩৫ (F-35) যুদ্ধবিমান বা নৌ-অভিযানের জন্য এটি বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়াতে পারে। অনেকে একে যুক্তরাষ্ট্রের প্রতি বেইজিংয়ের সরাসরি ‘সতর্কবার্তা’ হিসেবেও দেখছেন। তবে এই উত্তেজনার মুদ্রার উল্টো পিঠও রয়েছে। ফ্লাইটরাডার২৪-এর মতো আন্তর্জাতিক ফ্লাইট ট্র্যাকিং প্ল্যাটফর্মে এ ধরনের কোনো অস্বাভাবিক ফ্লাইটের রেকর্ড পাওয়া যায়নি। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ১৬টি ভারী সামরিক কার্গো বিমানের মতো বিশাল বহরকে রাডার বা স্যাটেলাইট নজরদারি থেকে সম্পূর্ণ লুকিয়ে রাখা প্রায় অসম্ভব।  বর্তমান ভূ-রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে চীন-ইরান সম্পর্ক গভীর হলেও, সুনির্দিষ্ট প্রমাণের অভাবে বিশ্লেষকরা একে আপাতত ‘সুপরিকল্পিত গুজব’ বা মিসইনফরমেশন হিসেবেই দেখছেন। তেহরান বা বেইজিং—কোনো পক্ষ থেকেই এখন পর্যন্ত এ নিয়ে কোনো আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া মেলেনি।

৩০ মার্চ থেকে কার্যকর হচ্ছে যুক্তরাষ্ট্রের নতুন ভিসা নিয়ম: যা জানা প্রয়োজন

যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা প্রত্যাশীদের জন্য কঠোর হচ্ছে নিয়মাবলী। আগামী ৩০ মার্চ থেকে কার্যকর হতে যাচ্ছে নতুন ভিসা রুলস, যেখানে আবেদনকারীদের সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের প্রোফাইল পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে যাচাই বা স্ক্রিনিং করা হবে। মার্কিন প্রশাসনের এই নতুন পদক্ষেপে বাংলাদেশসহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশের ভিসা প্রত্যাশীদের মধ্যে ব্যাপক আলোচনার সৃষ্টি হয়েছে। নতুন এই নিয়ম মূলত অ-অভিবাসী (Non-immigrant) এবং অভিবাসী (Immigrant) উভয় ধরণের ভিসার ক্ষেত্রে প্রযোজ্য হতে পারে। বিশেষ করে যারা ট্যুরিস্ট ভিসা, স্টুডেন্ট ভিসা এবং কাজের সন্ধানে এইচ-১বি (H-1B) ভিসার জন্য আবেদন করবেন, তাদের সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের তথ্য প্রদান বাধ্যতামূলক করা হচ্ছে। আবেদনকারীদের গত পাঁচ বছরের ব্যবহৃত সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমগুলোর ইউজার আইডি বা হ্যান্ডেল নাম ফর্মে উল্লেখ করতে হবে। ফেসবুক, টুইটার (বর্তমানে এক্স), ইনস্টাগ্রাম এবং ইউটিউবের মতো জনপ্রিয় প্ল্যাটফর্মগুলো এই স্ক্রিনিংয়ের আওতায় থাকবে। তবে পাসওয়ার্ড দেওয়ার প্রয়োজন হবে না। মূলত আবেদনকারীর নিরাপত্তা ঝুঁকি এবং পূর্ববর্তী কোনো উসকানিমূলক বা সন্দেহজনক কর্মকাণ্ড আছে কি না, তা যাচাই করতেই এই পদক্ষেপ। মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তর জানিয়েছে, জাতীয় নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং জননিরাপত্তার স্বার্থেই এই স্ক্রিনিং প্রক্রিয়া জোরদার করা হয়েছে। কোনো ব্যক্তি যদি অতীতে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে উগ্রবাদ বা আইনবিরোধী কোনো কাজে লিপ্ত থেকে থাকেন, তবে তার ভিসা আবেদন বাতিল হওয়ার সম্ভাবনা তৈরি হবে। ভিসা বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ৩০ মার্চের পর যারা আবেদন করবেন, তাদের অবশ্যই গত ৫ বছরের ডিজিটাল ফুটপ্রিন্ট সম্পর্কে সতর্ক থাকতে হবে। কোনো ভুল তথ্য দিলে বা তথ্য গোপন করলে তা স্থায়ীভাবে ভিসা প্রত্যাখ্যাত হওয়ার কারণ হতে পারে। এছাড়া ইমেইল অ্যাড্রেস এবং ফোন নম্বর প্রদানের ক্ষেত্রেও অতিরিক্ত সতর্কতা অবলম্বনের পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। এই নতুন নিয়ম চালুর ফলে ভিসা প্রক্রিয়াকরণে কিছুটা অতিরিক্ত সময় লাগতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। তাই প্রয়োজনীয় কাগজপত্র এবং অনলাইন প্রোফাইল গুছিয়ে আবেদন করার পরামর্শ দিচ্ছে সংশ্লিষ্ট দপ্তরগুলো।

Advertisement

আমেরিকা

View more
ছবি: সংগৃহীত
যুক্তরাষ্ট্রে জীবনযাত্রায় প্রতিনিয়ত বাড়ছে নানা ঝুঁকি, নিরাপদ থাকতে চাইলে এই অভ্যাসগুলো গড়ে তুলুন

যুক্তরাষ্ট্রে প্রবাস জীবন অনেকের জন্য নতুন সম্ভাবনার দুয়ার খুলে দেয়। উন্নত জীবনযাত্রা, কর্মসংস্থান ও শিক্ষার সুযোগ মানুষকে সেখানে আকৃষ্ট করে। তবে এই সুযোগের পাশাপাশি প্রতিদিনের জীবনে নানা ধরনের ঝুঁকিও বিদ্যমান, যা মোকাবিলায় সচেতনতা ও প্রস্তুতি গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠছে।   সড়ক দুর্ঘটনা, ছিনতাই, অনলাইন প্রতারণা, গাড়ি চুরি, গভীর রাতে নিরাপত্তাহীনতা কিংবা আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর জিজ্ঞাসাবাদ- এসব পরিস্থিতি প্রবাস জীবনে বাস্তব চ্যালেঞ্জ হিসেবে দেখা দেয়। সংশ্লিষ্টদের মতে, নিরাপদ থাকার জন্য তাৎক্ষণিক প্রতিক্রিয়ার চেয়ে দৈনন্দিন জীবনে কিছু অভ্যাস গড়ে তোলাই বেশি কার্যকর।   ঘর থেকে বের হওয়ার আগে প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি নেওয়ার ওপর জোর দেওয়া হচ্ছে। মোবাইল ফোনে পর্যাপ্ত চার্জ রাখা এবং পরিবারের কাউকে নিজের অবস্থান ও পরিকল্পনা জানানো নিরাপত্তার জন্য সহায়ক। জরুরি প্রয়োজনে যোগাযোগের সুবিধা নিশ্চিত করতে অতিরিক্ত চার্জিং ডিভাইস রাখাও উপকারী হতে পারে।   গুরুত্বপূর্ণ কাগজপত্র বহনের ক্ষেত্রে সতর্কতা অবলম্বনের পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। প্রয়োজন ছাড়া অতিরিক্ত নথি সঙ্গে রাখা ঝুঁকিপূর্ণ হতে পারে। বরং গুরুত্বপূর্ণ নথির অনুলিপি নিরাপদ স্থানে সংরক্ষণ করাই নিরাপদ পন্থা হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।   সড়কে চলাচলের সময় চারপাশ সম্পর্কে সচেতন থাকা জরুরি। হাঁটার সময় মোবাইল ফোনে অতিরিক্ত মনোযোগ দেওয়া বা কানে উচ্চ শব্দে গান শোনা ঝুঁকি বাড়াতে পারে। নির্জন ও অন্ধকার এলাকায় একা চলাচল এড়িয়ে চলার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।   আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সঙ্গে যোগাযোগের ক্ষেত্রেও শান্ত আচরণ গুরুত্বপূর্ণ। গাড়ি থামানোর নির্দেশ পেলে নিরাপদ স্থানে গাড়ি থামানো এবং অপ্রয়োজনীয় নড়াচড়া এড়িয়ে চলা উচিত। উত্তেজিত প্রতিক্রিয়া পরিস্থিতি জটিল করে তুলতে পারে বলে সতর্ক করা হয়েছে।   অভিবাসন সংক্রান্ত জিজ্ঞাসাবাদের ক্ষেত্রে মানসিক স্থিরতা বজায় রাখা প্রয়োজন। আইনজীবীদের মতে, নিজের অধিকার সম্পর্কে সচেতন থাকা জরুরি এবং না বুঝে কোনো নথিতে স্বাক্ষর করা থেকে বিরত থাকা উচিত। প্রয়োজন হলে আইনি সহায়তা নেওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।   অনলাইন প্রতারণার ঝুঁকিও বাড়ছে। সরকারি প্রতিষ্ঠানের নাম ব্যবহার করে ভুয়া কল বা বার্তার মাধ্যমে ব্যক্তিগত তথ্য বা অর্থ আদায়ের চেষ্টা করা হয়। এ ধরনের পরিস্থিতিতে সতর্ক থাকা এবং অজানা উৎসে তথ্য প্রদান না করার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।   গাড়ির নিরাপত্তার ক্ষেত্রেও সচেতনতা প্রয়োজন। গাড়ির ভেতরে মূল্যবান সামগ্রী দৃশ্যমান স্থানে রেখে গেলে চুরির ঝুঁকি বাড়ে। গাড়ি তালাবদ্ধ রাখা এবং আলোযুক্ত স্থানে পার্ক করা নিরাপদ অভ্যাস হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।   সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহারে ব্যক্তিগত তথ্য সীমিত রাখার পরামর্শ দিয়েছেন নিরাপত্তা বিশ্লেষকেরা। বাসা ফাঁকা থাকা বা চলাচলের তথ্য প্রকাশ করলে অপরাধীরা সুযোগ নিতে পারে।   পরিবারের জন্য জরুরি পরিকল্পনা রাখা গুরুত্বপূর্ণ। জরুরি পরিস্থিতিতে কার সঙ্গে যোগাযোগ করতে হবে, কোথায় আশ্রয় নেওয়া যাবে- এসব বিষয়ে পরিবারের সবাইকে অবগত রাখা প্রয়োজন। শিশুদের জরুরি নম্বর ও ঠিকানা শেখানোও নিরাপত্তার অংশ।   বাসায় ফেরার সময়ও সতর্কতা বজায় রাখা জরুরি। আশপাশের পরিবেশ পর্যবেক্ষণ এবং দরজা-জানালা সঠিকভাবে বন্ধ আছে কি না তা নিশ্চিত করা নিরাপদ অভ্যাসের অংশ। সংশ্লিষ্টদের মতে, নিরাপত্তা নিশ্চিত করা একটি ধারাবাহিক প্রক্রিয়া। প্রতিদিনের ছোট ছোট সচেতনতা ও প্রস্তুতিই বড় ধরনের ঝুঁকি এড়াতে সহায়তা করতে পারে।

আমেরিকা বাংলা ডেস্ক মে ১৭, ২০২৬ 0
ছবি: সংগৃহীত

ডাক্তার হওয়ার লক্ষ্য, ২০ লাখ ডলারের স্কলারশিপ নিয়ে হাওয়ার্ড ইউনিভার্সিটিতে আলাবামার ছাত্রী

বাংলাদেশের সার্টিফিকেট দিয়ে কি যুক্তরাষ্ট্রে চাকরি করা যায়? যা জানা জরুরি

বাংলাদেশের সার্টিফিকেট দিয়ে কি যুক্তরাষ্ট্রে চাকরি করা যায়? যা জানা জরুরি

ছবি: সংগৃহীত

মেয়াদ শেষের আগমুহূর্তে পুরোনো প্যান্টের পকেটে মিললো ৫.৯ মিলিয়ন ডলারের লটারির টিকিট

ছবি: সংগৃহীত
১৭ বছর বয়সে দু’টি স্যুটকেস নিয়ে আমেরিকায় এসে প্রেস্টিজিয়াস কলেজে ভর্তি, স্বপ্ন জাতিসংঘে কাজ করার

মাত্র ১৭ বছর বয়সে জীবনের সব স্মৃতি, স্বপ্ন আর প্রয়োজনীয় জিনিস গুছিয়ে দুটি স্যুটকেস হাতে যুক্তরাষ্ট্রের উদ্দেশে রওনা হয়েছিলেন এক দক্ষিণ এশীয় তরুণী। দুবাইয়ে বেড়ে ওঠা এই তরুণীর সেই সাহসী সিদ্ধান্তই আজ তাকে পৌঁছে দিয়েছে বিশ্বের অন্যতম মর্যাদাপূর্ণ শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ইউনিভার্সিটি ওফ ক্যালিফর্নিয়া, বার্কলিতে। এখন তার স্বপ্ন আন্তর্জাতিক পর্যায়ে নীতিনির্ধারণী কাজে যুক্ত হওয়া এবং একদিন ইউনাইটেড নেশন এ কাজ করা।   তরুণীর পারিবারিক জীবন সহজ ছিল না। বাবা-মায়ের বিচ্ছেদের পর তার মা একাই তিন সন্তানকে বড় করেছেন। দক্ষিণ এশীয় সংস্কৃতিতে যেখানে অল্প বয়সী মেয়েদের একা বিদেশে পড়তে পাঠানো খুব সাধারণ নয়, সেখানে তার মা সিদ্ধান্ত নেন মেয়েকে স্বাধীন ও শিক্ষিত মানুষ হিসেবে গড়ে তুলবেন।   তরুণী জানান, তার মা অল্প বয়সেই বিয়ে ও মাতৃত্বের দায়িত্ব নিয়েছিলেন। তাই তিনি চেয়েছিলেন মেয়ের জীবনে সেই চক্র ভাঙতে। মায়ের সেই সাহস এবং আত্মত্যাগই তাকে নতুন জীবন শুরু করার অনুপ্রেরণা দিয়েছে।   যুক্তরাষ্ট্রে এসে শুরুটা ছিল সম্পূর্ণ অপরিচিত এক পৃথিবী। কোনো বন্ধু বা আত্মীয় ছাড়াই তাকে নতুন পরিবেশে মানিয়ে নিতে হয়েছে। ব্যাংক অ্যাকাউন্ট খোলা, নিজে রান্না করা, পড়াশোনার পাশাপাশি জীবনযাপনের প্রতিটি বিষয় তাকে নতুন করে শিখতে হয়েছে।   প্রথমে তিনি ক্যালিফোর্নিয়ার ডে আনজা কলেজে ভর্তি হন। সেখানে নিজের মেধা ও পরিশ্রমের মাধ্যমে একাডেমিক সাফল্য অর্জনের পর ২০২৫ সালের বসন্তে ট্রান্সফার হওয়ার সুযোগ পান ইউনিভার্সিটি ওফ ক্যালিফর্নিয়া, বার্কলিতে, যা বিশ্বের অন্যতম শীর্ষ পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয় হিসেবে পরিচিত।   বার্কলিতে ভর্তি হওয়ার খবর পাওয়ার মুহূর্তটি তার জীবনের সবচেয়ে আবেগঘন স্মৃতিগুলোর একটি। তিনি সঙ্গে সঙ্গে দুবাইয়ে থাকা মাকে ফোন করেন। তখন ভোর ৪টা হলেও মা আনন্দে সেই খবর উদযাপন করেছিলেন। তরুণীর ভাষায়, “বার্কলিতে ভর্তি হওয়া শুধু আমার নয়, আমার মা ও আমার যৌথ সংগ্রামের ফল।”   শুধু পড়াশোনাতেই নয়, নেতৃত্ব ও সামাজিক কর্মকাণ্ডেও নিজেকে সক্রিয়ভাবে যুক্ত করেছেন তিনি। বার্কলিতে “মুসলিম টেক কোলাবরেটিভ ”–এর প্রেসিডেন্ট হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন এবং ইউনিভার্সিটি অব ক্যালিফোর্নিয়া স্টুডেন্ট অ্যাসোসিয়েশনের আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থী প্রতিনিধি হিসেবেও কাজ করছেন।   বর্তমানে তিনি রাজনৈতিক অর্থনীতি (পলিটিকাল ইকোনোমি) বিষয়ে পড়াশোনা করছেন। রাজনীতি, অর্থনীতি ও সংস্কৃতি কীভাবে মানুষের জীবন ও সমাজকে প্রভাবিত করে, সেই বিষয়গুলো নিয়ে কাজ করতেই তার আগ্রহ বেশি।   স্নাতক শেষ করার পর তিনি সান ফ্রান্সিসকোর কোনো স্টার্টআপে কাজ করার পরিকল্পনা করছেন। পাশাপাশি ভবিষ্যতে আন্তর্জাতিক নীতিনির্ধারণী পর্যায়ে কাজ করে বিশ্বের বিভিন্ন কমিউনিটির জন্য ইতিবাচক পরিবর্তন আনার স্বপ্ন দেখছেন। আর সেই লক্ষ্য থেকেই একদিন জাতিসংঘে কাজ করার ইচ্ছা পোষণ করেন এই তরুণী।   অনেকের কাছে এটি শুধুই একজন আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীর সাফল্যের গল্প। কিন্তু বাস্তবে এটি একজন মায়ের সাহস, একটি মেয়ের আত্মবিশ্বাস এবং প্রতিকূলতাকে জয় করার এক অনুপ্রেরণামূলক যাত্রা।

আমেরিকা বাংলা ডেস্ক মে ১৫, ২০২৬ 0
ছবি: সংগৃহীত

নিউইয়র্ক লায়ন্স ক্লাবে সভাপতি রাসেল পুনর্নির্বাচিত, সেক্রেটারি তপন

ছবি: সংগৃহীত

হাওয়াই–ক্যালিফোর্নিয়া রুটে নতুন সরাসরি ফ্লাইট চালু করল আলাস্কা এয়ারলাইন্স

ছবি: সংগৃহীত

যুক্তরাষ্ট্রে শেষকৃত্যের আকাশছোঁয়া ব্যয়: “মরার সামর্থ্যও নেই আমাদের” অনুভূতি প্রবাসী মুসলিমদের

বাংলাদেশ সোসাইটি আয়োজিত মতবিনিময় সভায় বক্তব্য রাখছেন প্রবাসীকল্যাণ মন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরী
প্রবাসীদের ৯ দফা দাবি মন্ত্রীর কাছে, দুই মাসে চালু হচ্ছে ‘প্রবাসী কার্ড’

যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্কে বাংলাদেশ সোসাইটির আয়োজিত মতবিনিময় সভায় প্রবাসীদের বিভিন্ন সমস্যা ও প্রত্যাশা তুলে ধরে ৯ দফা দাবি পেশ করা হয়েছে প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থানমন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরীর কাছে। সভায় মন্ত্রী জানান, প্রবাসীদের জন্য বিশেষ সুবিধাসংবলিত ‘প্রবাসী কার্ড’ আগামী দুই মাসের মধ্যে চালু হতে পারে।   নিউইয়র্ক সফরকালে আয়োজিত এ সভায় প্রবাসীদের উদ্দেশে মন্ত্রী অতীতের ভেদাভেদ ভুলে সম্প্রীতির ভিত্তিতে নতুন বাংলাদেশ গড়ে তুলতে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করার আহ্বান জানান।   অনুষ্ঠানের শুরুতে বাংলাদেশ সোসাইটির সভাপতি আতাউর রহমান সেলিম স্বাগত বক্তব্যে সংগঠনটিকে অরাজনৈতিক হিসেবে উল্লেখ করে বলেন, এটি সকল প্রবাসীদের প্রতিনিধিত্বকারী একটি প্ল্যাটফর্ম। তিনি সভা সুন্দরভাবে সম্পন্ন করতে সবার সহযোগিতা কামনা করেন এবং বক্তাদের রাজনৈতিক বক্তব্য পরিহারের অনুরোধ জানান।   সাধারণ সম্পাদক মোহাম্মদ আলী সোসাইটির ৫০ বছরের কার্যক্রম তুলে ধরেন এবং প্রবাসীদের পক্ষে ৯ দফা দাবি ও প্রস্তাবনা উপস্থাপন করেন। দাবিগুলোর মধ্যে ছিল বিমানবন্দরে হয়রানি বন্ধ, প্রবাসীদের মরদেহ সরকারি খরচে দেশে আনা, জানমালের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা, বিনিয়োগবান্ধব পরিবেশ তৈরি, রেমিট্যান্স প্রণোদনা বৃদ্ধি, বিদেশে বাংলাদেশ মিশনের সেবা উন্নয়ন, ঢাকা-নিউইয়র্ক সরাসরি ফ্লাইট চালু, মোবাইল কনস্যুলার সেবা চালু এবং প্রবাসীদের ভোটাধিকার নিশ্চিত করা।   সভায় বক্তারা সিলেটের ওসমানী বিমানবন্দরকে পূর্ণাঙ্গ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে উন্নীত করা, বিমানবন্দরে যাত্রী হয়রানি বন্ধ, বিনিয়োগ নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং হাউজিং খাতে অনিয়ম বন্ধের দাবি জানান।   অনুষ্ঠানে বিভিন্ন সংগঠনের পক্ষ থেকে মন্ত্রীকে ফুলেল শুভেচ্ছা জানানো হয় এবং ক্রেস্ট প্রদান করা হয়।   বক্তাদের মধ্যে বাবরুল হোসেন বলেন, “আরিফুল হক চৌধুরী কর্মী থেকে জাতীয় নেতায় পরিণত হয়েছেন। তিনি মানুষের নেতা হিসেবে প্রতিষ্ঠিত হয়েছেন।” তিনি তাঁকে ‘সিলেট রত্ন’ হিসেবে অভিহিত করার প্রস্তাব দেন, যা উপস্থিতদের করতালিতে সমর্থন পায়।   জবাবে মন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরী বলেন, “প্রবাসীদের সর্বস্বান্ত করা ম্যানপাওয়ার ব্যবসার মাফিয়াচক্রকে আইনের আওতায় আনা হবে। সিন্ডিকেট চিহ্নিত করা হয়েছে এবং ইতোমধ্যে ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।”   হাউজিং খাতে অনিয়ম প্রসঙ্গে তিনি বলেন, প্লট বিক্রির নামে প্রবাসীদের অর্থ হাতিয়ে নেওয়ার অভিযোগে জড়িতদের বিরুদ্ধেও ব্যবস্থা নেওয়া হবে এবং বিষয়টি মন্ত্রিসভায় তোলা হবে।   মন্ত্রী জানান, সরকার প্রবাসীবান্ধব নীতি গ্রহণ করেছে এবং বাস্তবায়নে কাজ করছে। বিদেশে অবস্থানরত বাংলাদেশিদের জন্য ‘প্রবাসী কার্ড’ চালুর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে, যা বৈধ পথে রেমিট্যান্স পাঠাতে উৎসাহিত করবে এবং তাদের অবদানকে স্বীকৃতি দেবে।   সরকারি পরিকল্পনা অনুযায়ী, এই কার্ডধারীরা বিমানবন্দরে দ্রুত ইমিগ্রেশন সুবিধা পাবেন। দেশে অবস্থানকালে ব্যক্তিগত নিরাপত্তা ও সম্পদের সুরক্ষায়ও বিশেষ সহায়তা দেওয়া হবে। বেশি রেমিট্যান্স পাঠানো প্রবাসীদের জন্য অতিরিক্ত সুবিধার ব্যবস্থাও থাকবে।   মন্ত্রী আরও বলেন, বিদেশে মৃত্যুবরণ করলে সরকারি খরচে মরদেহ দেশে আনার বিষয়েও সরকার কাজ করছে। পাশাপাশি দেশে বিনিয়োগে আগ্রহী প্রবাসীদের জন্য নিরাপদ পরিবেশ নিশ্চিত করতে নতুন উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে।   ঢাকা-নিউইয়র্ক সরাসরি ফ্লাইট চালুর বিষয়েও ইতিবাচক অগ্রগতির কথা জানান তিনি।   এর আগে নিউইয়র্কে ফাউন্ডেশন অব গ্রেটার জৈন্তা আয়োজিত আরেক সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে মন্ত্রী বলেন, তিনি সিলেট-৪ আসনের সংসদ সদস্য হলেও মন্ত্রী হিসেবে সারা দেশের দায়িত্ব পালন করছেন। তিনি ন্যায় ও সততার সঙ্গে দায়িত্ব পালনে সবার সহযোগিতা কামনা করেন।   তিনি জানান, বিদেশগামী কর্মীদের কাছ থেকে অতিরিক্ত অর্থ আদায়কারী সিন্ডিকেট চিহ্নিত করা হয়েছে এবং ইতোমধ্যে কয়েকজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনা অনুযায়ী এখন থেকে কর্মীরা কম খরচে বিদেশ যেতে পারবেন।   প্রশিক্ষণের ওপর গুরুত্বারোপ করে মন্ত্রী বলেন, দক্ষতা ছাড়া আন্তর্জাতিক শ্রমবাজারে টিকে থাকা কঠিন। বিমানবন্দরে হয়রানি বন্ধে সরকার ইতোমধ্যে পদক্ষেপ নিয়েছে বলেও জানান তিনি।   সিলেট অঞ্চলের উন্নয়ন প্রসঙ্গে তিনি বলেন, এই অঞ্চলের সংসদ সদস্যরা সমন্বিতভাবে উন্নয়ন পরিকল্পনা নিয়ে কাজ করছেন এবং আগামী এক বছরের মধ্যে এর দৃশ্যমান ফল পাওয়া যাবে।

আমেরিকা বাংলা ডেস্ক মে ১৫, ২০২৬ 0
ছবি: সংগৃহীত

নকল ওষুধ বিক্রির দায়ে ১৩ ভারতীয়র ওপর মার্কিন ভিসা নিষেধাজ্ঞা

ছবি: সংগৃহীত

লস অ্যাঞ্জেলেসে ৪০তম ফোবানা কনভেনশনের প্রস্তুতি জোরদার, প্রকাশ করা হলো হোস্ট কমিটি

ছবি: প্রথম হাউস ক্লোজিং সম্পন্ন হওয়ার গ্রুপ ছবি ও পাশে মোহাম্মদ বি চৌধুরী

জর্জিয়ায় স্বপ্নের বাড়ি খুঁজে দিতে রিয়েল্টর হিসেবে প্রথম ক্লোজিং সম্পন্ন করলেন মোহাম্মদ বি চৌধুরী

0 Comments