ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জনের পর প্রথমবারের মতো আনুষ্ঠানিকভাবে দেশি-বিদেশি সংবাদমাধ্যমের মুখোমুখি হয়েছেন বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি)-র চেয়ারম্যান তারেক রহমান। শনিবার (১৪ ফেব্রুয়ারি) রাজধানীর হোটেল ইন্টারকন্টিনেন্টালের বলরুমে আয়োজিত এক জনাকীর্ণ সংবাদ সম্মেলনে তিনি এই বিজয়কে গণতন্ত্রের জন্য আত্মত্যাগকারী জনগণের প্রতি উৎসর্গ করেন এবং ঘোষণা দেন— "আজ থেকে আমরা সবাই স্বাধীন।"
তারেক রহমান তাঁর বক্তব্যে রাষ্ট্র মেরামতের অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করে বলেন, "বিএনপি দেশের মানুষের জন্য ৩১ দফার যে রূপরেখা দিয়েছিল, আমরা তা বাস্তবায়নে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। জুলাই সনদের অঙ্গীকারগুলোও আমরা পর্যায়ক্রমে পূরণ করব। ফ্যাসিবাদের রেখে যাওয়া ভঙ্গুর অর্থনীতি এবং অকার্যকর প্রতিষ্ঠানগুলোকে পুনর্গঠন করাই হবে আমাদের নতুন সরকারের প্রধান চ্যালেঞ্জ।"
সংবাদ সম্মেলনে আন্তর্জাতিক সম্পর্কের বিষয়ে এক প্রশ্নের জবাবে তিনি অত্যন্ত স্পষ্টভাবে জানান, "আমাদের পররাষ্ট্রনীতির মূল ভিত্তি হবে 'বাংলাদেশ ফার্স্ট'। দেশের এবং দেশের মানুষের স্বার্থ বজায় রেখে আমরা বিশ্বের প্রতিটি রাষ্ট্রের সঙ্গে সুসম্পর্ক বজায় রাখব।" এছাড়া আঞ্চলিক স্থিতিশীলতার স্বার্থে সার্ক (SAARC) পুনরুজ্জীবনের বিষয়েও তিনি বিশেষ গুরুত্বারোপ করেন।
ভোট পরবর্তী সহিংসতা রোধে তাঁর কঠোর অবস্থানের কথা জানিয়ে তারেক রহমান বলেন, "নির্বাচনে হার-জিত থাকবেই, কিন্তু কোনো অবস্থাতেই প্রতিশোধ বা প্রতিহিংসার রাজনীতি বরদাস্ত করা হবে না। আইনের শাসন সবার জন্য সমান। আমি সারা দেশে আমাদের নেতাকর্মীদের শান্ত থাকার নির্দেশ দিয়েছি। আমরা বিজয় মিছিল না করে আল্লাহর দরবারে শুকরিয়া আদায়ের মাধ্যমে এই জয় উদযাপন করেছি।"
নির্বাচনে ২০০-এর বেশি আসন পাওয়ার নেপথ্যে কোনো ‘ইঞ্জিনিয়ারিং’ ছিল কি না—এমন এক প্রশ্নের জবাবে তারেক রহমান তাঁর রাজনৈতিক দূরদর্শিতার পরিচয় দিয়ে বলেন, "জনগণকে কনভিন্স করা এবং তাঁদের আস্থায় নিয়ে আসাটাই ছিল আমাদের একমাত্র ইঞ্জিনিয়ারিং। আমরা সেই লক্ষ্য অর্জনে সফল হয়েছি।"
সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে দেশে ফিরিয়ে আনা এবং বিচার প্রক্রিয়া সম্পর্কে তিনি জানান, এটি সম্পূর্ণ আদালতের এখতিয়ার এবং সরকার এখানে কোনো হস্তক্ষেপ করবে না। সংবাদ সম্মেলনে বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরসহ দলের স্থায়ী কমিটির জ্যেষ্ঠ নেতারা উপস্থিত ছিলেন। দীর্ঘ ২০ বছর পর বিএনপির এই রাজকীয় প্রত্যাবর্তন এবং তারেক রহমানের দায়িত্বশীল বক্তব্য আগামীর এক স্থিতিশীল ও মানবিক বাংলাদেশের ইঙ্গিত দিচ্ছে বলে মনে করছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা।
এপস্টেইন ফাইল: দাবি, বাইডেনকে ২০১৯ সালে হত্যা করে ক্লোন দ্বারা প্রতিস্থাপন করা হয়েছে জেফরি এপস্টেইনের ফাইল ট্রান্সপারেন্সি অ্যাক্টের সাথে যুক্ত সম্প্রতি প্রকাশিত একটি নথি ত্রাঞ্চে অভিযোগ করা হয়েছে যে, প্রাক্তন মার্কিন প্রেসিডেন্ট জো বাইডেনকে ২০১৯ সালে হত্যা করা হয়েছে এবং তাকে একটি ক্লোন দ্বারা প্রতিস্থাপন করা হয়েছে। এই নথিগুলি, যা আনক্লাসিফায়েড ডিপার্টমেন্ট অব জাস্টিস (DOJ) রেকর্ডের একটি বিশাল ডেটা রিলিজের অংশ, “চার্লস” নামে একজনের ক্ষুব্ধ ইমেইল অন্তর্ভুক্ত করেছে এবং অন্তর্বর্তী ফাইলিং কোড EFTA00173266 থেকে EFTA00173273 পর্যন্ত চিহ্নিত। এই ইমেইলগুলো তৃতীয় পক্ষের যোগাযোগের মধ্যে পাওয়া গেছে, যা জেফরি এপস্টেইনের নেটওয়ার্ক সংক্রান্ত বিস্তৃত ফেডারেল তদন্তের সময় সংগ্রহ করা হয়েছিল। এপস্টেইন সম্পর্কিত অন্যান্য প্রকাশনার মতো এখানে রাজনৈতিক ও ব্যবসায়িক ব্যক্তিদের সঙ্গে সম্পর্কের তথ্য নয়, বরং চরম ও ষড়যন্ত্রমূলক দাবিগুলো রয়েছে। ক্লোন তত্ত্বের উল্লেখ “চার্লস” ইমেইলগুলো এপ্রিল ২০২১-এ একজন এফবিআই এজেন্টকে ফরোয়ার্ড করা হয়েছিল, যাকে লাল করা প্রেরক হিসেবে দেখানো হয়েছে। প্রেরক দাবি করেছিলেন যে এটি একটি প্রযুক্তি সংস্থার এক ক্ষুব্ধ প্রাক্তন কর্মচারী বা সহযোগীর মেসেজ। ইমেইলগুলিতে গালাগালি ভাষা ব্যবহৃত হয়েছে এবং এখানে “কোয়ান্টাম” প্রযুক্তি, গোপন সামরিক ট্রাইব্যুনাল, এবং “বাইডেন আপনার বর্তমান প্রেসিডেন্ট নন” এমন দাবির উল্লেখ রয়েছে। একটি অনুচ্ছেদে বলা হয়েছে যে “বাস্তব” জো বাইডেনকে ২০১৯ সালে নির্বিচারে হত্যা করা হয়েছে এবং তাকে একজন অভিনেতা বা ক্লোন দ্বারা প্রতিস্থাপন করা হয়েছে, যেখানে প্রমাণ হিসেবে “মাস্কের ত্রুটি” দেখানো হয়েছে। তবে এই দাবিগুলোর সঙ্গে কোনো শারীরিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি বা সঙ্গত সাক্ষ্য নেই। “বাইডেন ক্লোন” দাবি অনলাইনে ষড়যন্ত্র তত্ত্বের একটি পরিচিত অংশ। তত্ত্বটি সাধারণত ধরে যে “বাস্তব” জো বাইডেনকে গোপনে জনমঞ্চ থেকে সরিয়ে দেওয়া হয়েছে, প্রায়শই ২০১৯ বা ২০২০ সালে, এবং তাকে চেহারা মিলানো লোক বা ক্লোন দিয়ে প্রতিস্থাপন করা হয়েছে। অনুগামীরা প্রায়শই নিম্নমানের ভিডিও এবং ফটোগ্রাফ বিশ্লেষণ করে, চেহারার পরিবর্তন যেমন আলোর পরিবর্তন, বয়সের প্রভাব বা ক্যামেরার ত্রুটিকে কৃত্রিমভাবে আড়াল করার প্রমাণ হিসেবে দেখান। এ পর্যন্ত কোনো যাচাইযোগ্য প্রমাণ নেই যে প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন কখনো ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন বা প্রতিস্থাপিত হয়েছেন। এই দাবিগুলি সম্পূর্ণভাবে একটি ষড়যন্ত্র তত্ত্ব হিসেবে রয়ে গেছে। সূত্র: Royanews
দাম বাড়ানোর ১২ ঘণ্টারও কম সময়ের ব্যবধানে দেশের বাজারে আবারও স্বর্ণের দাম কমিয়েছে বাংলাদেশ জুয়েলার্স অ্যাসোসিয়েশন (বাজুস)। ভরিতে এক লাফে ৩ হাজার ২৬৬ টাকা কমিয়ে ২২ ক্যারেটের প্রতি ভরি স্বর্ণের নতুন দাম নির্ধারণ করা হয়েছে ২ লাখ ৫৮ হাজার ৮২৪ টাকা। শনিবার (৭ ফেব্রুয়ারি) রাতে বাজুসের এক বিজ্ঞপ্তিতে দাম কমানোর বিষয়টি জানানো হয়েছে। নতুন দাম রোববার (৮ ফেব্রুয়ারি) থেকেই কার্যকর হবে। এর আগে একই দিন সকালে দেশের বাজারে স্বর্ণের দাম বাড়ানো হয়। ওই সময় ভরিপ্রতি এক লাফে ৭ হাজার ৬৪০ টাকা বাড়িয়ে ২২ ক্যারেটের এক ভরি স্বর্ণের দাম নির্ধারণ করা হয়েছিল ২ লাখ ৬২ হাজার ৯০ টাকা। নতুন দাম অনুযায়ী, বর্তমানে দেশের বাজারে ২২ ক্যারেটের প্রতি ভরি (১১.৬৬৪ গ্রাম) স্বর্ণের দাম পড়বে ২ লাখ ৫৮ হাজার ৮২৪ টাকা। পাশাপাশি ২১ ক্যারেটের প্রতি ভরি ২ লাখ ৪৭ হাজার ৪৪ টাকা, ১৮ ক্যারেটের প্রতি ভরি ২ লাখ ১১ হাজার ৭৬০ টাকা এবং সনাতন পদ্ধতির প্রতি ভরি স্বর্ণের দাম পড়বে ১ লাখ ৭৩ হাজার ৩২৭ টাকা। এ নিয়ে চলতি বছর দেশের বাজারে মোট ২৭ বার স্বর্ণের দাম সমন্বয় করলো বাজুস। এরমধ্যে ১৭ বারই দাম বাড়ানো হয়েছে। আর দাম কমেছে মাত্র ১০ বার। অন্যদিকে গতবছর দেশের বাজারে মোট ৯৩ বার স্বর্ণের দাম সমন্বয় করা হয়েছিল। যেখানে ৬৪ বারই দাম বাড়ানো হয়েছিল। এছাড়া ২০২৫ সালে ২৯ বার কমানো হয়েছিল স্বর্ণের দাম।
যুক্তরাষ্ট্রে অভিবাসন নীতিতে কঠোরতা আরও স্পষ্ট হচ্ছে। সর্বশেষ মেইন (Maine) অঙ্গরাজ্যে ফেডারেল ইমিগ্রেশন অভিযান শুরুর ঘোষণা দিয়েছে Department of Homeland Security (ডিএইচএস)। ডিএইচএসের এক মুখপাত্রের বরাতে জানা গেছে, “Operation Catch of the Day” নামে এই বিশেষ অভিযানের মাধ্যমে রাজ্যটিতে অবস্থানরত অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে জড়িত অবৈধ অভিবাসীদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তার করা হবে। অভিযানটি পরিচালনায় ফেডারেল ইমিগ্রেশন কর্মকর্তাদের পাশাপাশি স্থানীয় আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সমন্বয় রয়েছে। কর্তৃপক্ষ বলছে, এই উদ্যোগের প্রধান লক্ষ্য জননিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং সহিংস বা গুরুতর অপরাধে যুক্ত ব্যক্তিদের আইনের আওতায় আনা। ডিএইচএস আরও জানায়, আইন মেনে বসবাসকারী বা অপরাধে জড়িত নন—এমন অভিবাসীদের লক্ষ্যবস্তু করা হবে না। তবে মানবাধিকার ও অভিবাসী অধিকার সংগঠনগুলোর আশঙ্কা, এ ধরনের অভিযানে ভয় ও অনিশ্চয়তা তৈরি হতে পারে এবং নিরপরাধ মানুষও হয়রানির শিকার হতে পারেন। এ নিয়ে তারা স্বচ্ছতা ও যথাযথ আইনি প্রক্রিয়া অনুসরণের আহ্বান জানিয়েছে। বিশ্লেষকদের মতে, মেইনে এই অভিযান শুরুর মাধ্যমে ফেডারেল সরকারের অভিবাসন আইন প্রয়োগ আরও বিস্তৃত পরিসরে জোরদার হলো। এর প্রভাব স্থানীয় অভিবাসী কমিউনিটির পাশাপাশি রাজ্যের রাজনৈতিক ও সামাজিক পরিমণ্ডলেও পড়তে পারে। সূত্র: ABC News
যুক্তরাষ্ট্রের শ্রমবাজারে তীব্র কর্মী সংকট মোকাবিলায় ২০২৬ অর্থবছরে বড় ধরনের পদক্ষেপ নিয়েছে ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রশাসন। নিয়মিত কোটার বাইরে অতিরিক্ত প্রায় ৬৪ হাজার ৭১৬টি এইচ-২বি মৌসুমি অতিথি শ্রমিক ভিসা দেওয়ার চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। রয়টার্সের বরাতে জানা গেছে, স্থানীয় সময় শুক্রবার (৩০ জানুয়ারি) প্রকাশিত ফেডারেল রেজিস্টার নোটিশে বলা হয়, দেশীয় শ্রমিকের ঘাটতির কারণে যেসব মার্কিন নিয়োগকর্তা বড় ধরনের আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়ছেন, মূলত তাদের স্বার্থ বিবেচনায় নিয়েই এই অতিরিক্ত ভিসার অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। ফলে বছরে নির্ধারিত ৬৬ হাজার এইচ-২বি ভিসার সংখ্যা প্রায় দ্বিগুণে পৌঁছাতে যাচ্ছে। নতুন এই সিদ্ধান্তে নির্মাণ শিল্প, হোটেল ও রেস্তোরাঁ, ল্যান্ডস্কেপিং এবং সি-ফুড প্রক্রিয়াজাতকরণ খাতের মতো শ্রমনির্ভর মৌসুমি শিল্পগুলো সবচেয়ে বেশি উপকৃত হবে বলে মনে করা হচ্ছে। এসব খাতে দীর্ঘদিন ধরেই দক্ষ স্থানীয় কর্মীর অভাবে বিদেশি শ্রমিক আনার দাবি জানিয়ে আসছিলেন নিয়োগকর্তারা। ক্ষমতায় আসার পর ট্রাম্প প্রশাসন অবৈধ অভিবাসনের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান নিলেও, বৈধ পথে কর্মসংস্থানের সুযোগ বাড়িয়ে অর্থনীতিকে সচল রাখতে এই নমনীয় সিদ্ধান্ত নিয়েছে। এর আগেও সাবেক প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন প্রশাসনের সময় শ্রমঘাটতি মোকাবিলায় এইচ-২বি ভিসার সংখ্যা বাড়ানো হয়েছিল। তবে সরকারের এই সিদ্ধান্তের বিরোধিতাও রয়েছে। অভিবাসন কমানোর পক্ষে থাকা বিভিন্ন গোষ্ঠীর আশঙ্কা, বিপুল সংখ্যক বিদেশি শ্রমিক প্রবেশ করলে মার্কিন নাগরিকদের মজুরি কমে যেতে পারে। এ বিষয়ে পেন্টাগন ও শ্রম মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, দেশের উন্নয়ন প্রকল্প এবং পর্যটন খাত সচল রাখতে এই মুহূর্তে বিদেশি শ্রমিকের বিকল্প নেই। ফেডারেল রেজিস্টারের তথ্যানুযায়ী, অতিরিক্ত এইচ-২বি ভিসা কার্যকরের বিশেষ বিধিমালা আগামী মঙ্গলবার আনুষ্ঠানিকভাবে প্রকাশ করা হবে এবং এরপরই আবেদন প্রক্রিয়া শুরু হবে। সূত্র: দ্য ফিন্যান্সিয়াল এক্সপ্রেস
মার্কিন নৌবাহিনীর সাবেক গোয়েন্দা কর্মকর্তা এবং জাতিসংঘের সাবেক অস্ত্র পরিদর্শক, ইরান-মার্কিন আলোচনার বিশ্লেষণ করতে গিয়ে জোর দিয়ে বলেছেন যে ইরানের চেয়ে ট্রাম্পেরই এই আলোচনার বেশি প্রয়োজন। পার্সটুডে- মার্কিন নৌবাহিনীর সাবেক গোয়েন্দা কর্মকর্তা এবং জাতিসংঘের সাবেক অস্ত্র পরিদর্শক, ইরান-মার্কিন আলোচনার বিশ্লেষণ করতে গিয়ে জোর দিয়ে বলেছেন যে ইরানের চেয়ে ট্রাম্পেরই এই আলোচনার বেশি প্রয়োজন। মার্কিন নৌবাহিনীর সাবেক গোয়েন্দা কর্মকর্তা স্কট রিটার সতর্ক করে বলেছেন যে পশ্চিমারা সর্বদা তার গুপ্তচর সংস্থাগুলির মাধ্যমে ইরানের সাংস্কৃতিক ও সামাজিক ভিত্তি ধ্বংস করতে চাইছে এবং অপর্যাপ্তভাবে নিয়ন্ত্রিত তথ্য-যোগাযোগ রুট ব্যবহার করে কিছু ইরানিকে তাদের এজেন্ট নিয়োগ করেছে। ক্ষেপণাস্ত্র ইরানের জন্য একটি পছন্দসই আক্রমণাত্মক হাতিয়ার নয় পার্সটুডে অনুসারে, ইরানের ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্রের পরিসর সীমিত করার বিষয়ে মার্কিন কর্মকর্তাদের বক্তব্যের কথা উল্লেখ করে রিটার ব্যাখ্যা করেছেন যে এই শর্তটি বাস্তবে "নিরস্ত্রীকরণ" এবং ইসলামিক প্রজাতন্ত্রের কাছ থেকে "কৌশলগত আত্মহত্যার" অনুরোধের সমতুল্য। তিনি স্পষ্ট করে বলেন যে ক্ষেপণাস্ত্র শুধুমাত্র ইরানের জন্য একটি কাঙ্ক্ষিত আক্রমণাত্মক হাতিয়ার নয়, বরং প্রতিরোধ ও বেঁচে থাকার মেরুদণ্ড এবং এই স্তম্ভটি অপসারণকারী যেকোনো চেষ্টো ইরানকে অরক্ষিত করে তুলবে। তিনি যুক্তি দেন যে ইরান যদি তার ক্ষেপণাস্ত্রের পাল্লা এতটাই কমিয়ে দেয় যে তারা আর ইসরায়েলে আঘাত করতে পারবে না, তাহলে ইসরায়েল প্রতিশোধের ভয় ছাড়াই ইরানে আক্রমণ করবে। ইরানের সাথে যুদ্ধ নীতিতে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের কৌশলগত অক্ষমতা আমেরিকান বিশ্লেষক স্পষ্ট করে বলেন যে ইরানের সাথে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের যুদ্ধ এড়ানোর মূল কারণ কৌশলগত অক্ষমতা। তিনি বলেন, যেকোনও সামরিক আক্রমণ ইরানকে এমন প্রতিক্রিয়ার দিকে ঠেলে দেবে যা একই সাথে মার্কিন বাহিনী এবং স্বার্থের জন্য গুরুতর ক্ষতি বয়ে আনতে পারে। রিটার জোর দিয়ে বলেন যে এই ধরনের পরিবেশে ইরানের সাথে যুদ্ধ কেবল মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের জন্য কৌশলগত সুবিধাতো আনবেই না বরং ট্রাম্পের জন্য একটি অভ্যন্তরীণ রাজনৈতিক বিপর্যয়ও হতে পারে। ইরানের বিরুদ্ধে যুদ্ধ কেবল ইসরায়েলের স্বার্থ রক্ষার জন্য। আলোচনা একটি ফাঁদ সাবেক মার্কিন গোয়েন্দা কর্মকর্তা পরামর্শ দেন যে ইরানের উচিত দুর্বলতা থেকে নয়, বরং ওয়াশিংটনে রাজনৈতিক অজুহাতের পথ বন্ধ করার জন্য আলোচনায় প্রবেশ করা। তবে, রিটার সতর্ক করে দেন যে ইরানি কর্মকর্তাদের সর্বদা ধরে নেওয়া উচিত যে আলোচনা "একটি ফাঁদ"। কূটনীতির মাধ্যম বজায় রেখে, ইরানের উচিত তার সামরিক ও গোয়েন্দা যন্ত্রপাতিকে পূর্ণ সতর্ক রাখা । স্কট রিটার সাম্প্রতিক নৌ সংঘর্ষকে আমেরিকার শ্রেষ্ঠত্ব বা আগ্রাসনের লক্ষণ হিসেবে নয়, বরং ইরানের প্রবেশাধিকার-বিরোধী এবং আঞ্চলিক-বিরোধী ক্ষমতার প্রতি ওয়াশিংটনের কৌশলগত ভয়ের প্রতিফলন। রিটার জোর দিয়ে বলেন যে ইরানের নতুন প্রজন্মের নির্ভুল, কৌশলগত এবং হাইপারসনিক ক্ষেপণাস্ত্রের সামনে মার্কিন বিমানবাহী রণতরীগুলি "অপ্রচলিত" সিস্টেমে পরিণত হয়েছে। প্রধান হুমকি: ভেতর থেকে পতনের জন্য মানসিক যুদ্ধ অবশেষে, স্কট রিটার "মানসিক যুদ্ধ" নামক একটি ধারণার কথা উল্লেখ করেছেন; এমন একটি যুদ্ধ যেখানে, তিনি যুক্তি দেন, সরাসরি সামরিক সংঘাতের চেয়ে অনেক বেশি বিপজ্জনক, কারণ এর লক্ষ্য হল একটি গুলি না চালিয়েও একটি সমাজকে ভেতর থেকে ধ্বংস করা
নোয়াখালীর হাতিয়া উপজেলার চানন্দী ইউনিয়নের একটি আশ্রয়ণ প্রকল্পে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ‘শাপলা কলি’ প্রতীকে ভোট দেওয়ার জেরে এক গৃহবধূকে (৩২) নিজ ঘরে ধর্ষণ ও সপরিবারে শারীরিক নির্যাতনের অভিযোগ উঠেছে। ভুক্তভোগী ওই নারী বর্তমানে নোয়াখালী ২৫০ শয্যা হাসপাতালে চিকিৎসাধীন। বিষয়টি নিয়ে একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে জেলাজুড়ে তোলপাড় সৃষ্টি হয়। ভাইরাল ভিডিওতে ওই নারী দাবি করেন, গত বৃহস্পতিবার নির্বাচনের দিন থেকেই তাঁকে হুমকি দেওয়া হচ্ছিল। শুক্রবার রাতে ‘কালা এমরান’, ‘রহমান’ ও ‘রুবেল’ নামে তিন ব্যক্তি তাঁর ঘরের দরজা ভেঙে ভেতরে ঢোকে। তাঁর স্বামীকে পাশের রুমে আটকে রেখে রহমান তাঁকে ধর্ষণ করে এবং কালা এমরান দরজায় পাহারা দেয়। অভিযুক্তরা এ সময় ‘এনসিপি (জাতীয় নাগরিক পার্টি) করার স্বাদ মিটিয়ে দেওয়ার’ হুমকি দেয়। পরদিন সওকালে পুনরায় ১০-১২ জন এসে তাঁদের বাড়িঘর ভাঙচুর করে এবং তাঁকে ও তাঁর স্বামীকে টেনে-হিঁচড়ে বের করে মারধর করে বলে জানান তিনি। এই ঘটনায় ক্ষোভ প্রকাশ করে ওই আসনের নবনির্বাচিত সংসদ সদস্য আবদুল হান্নান মাসউদ এক ভিডিও বার্তায় বলেন, “হাতিয়াতে শাপলা কলিতে ভোট দেওয়ার অপরাধে ধর্ষণের মতো জঘন্য ঘটনা ঘটেছে। ২০১৮ সালেও একইভাবে এক নারীকে হেনস্তা করা হয়েছিল। আমি সরকারকে বলব, অবিলম্বে হাতিয়াতে সেনাবাহিনী মোতায়েন করে অবৈধ অস্ত্র উদ্ধার অভিযান চালাতে হবে এবং দোষীদের কঠোর শাস্তি দিতে হবে।” এদিকে, প্রধান অভিযুক্ত এমরান সকল অভিযোগ অস্বীকার করে দাবি করেছেন, তিনি দীর্ঘদিন ধরে প্যারালাইসিসে ভুগছেন এবং বর্তমানে থেরাপি নিচ্ছেন। তিনি বলেন, “আমি ষড়যন্ত্রের শিকার। আমি ভোটের দিনই নিজের বাড়িতে চলে এসেছি। সঠিক তদন্ত হলে আমি নির্দোষ প্রমাণিত হব।” ঘটনার তদন্তকারী পুলিশ কর্মকর্তারা ভিন্ন তথ্য দিচ্ছেন। চানন্দী ইউনিয়ন পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ এসআই মোরশেদ ও তদন্ত কর্মকর্তা এএসআই শহীদ জানান, ঘটনাস্থলে গিয়ে প্রতিবেশীদের সাথে কথা বলে ওই নারীকে মারধরের সত্যতা পাওয়া গেছে। তবে ধর্ষণের বিষয়টি প্রাথমিকভাবে প্রতিবেশী বা তদন্তে প্রমাণিত হয়নি। নোয়াখালী ২৫০ শয্যা হাসপাতালের আবাসিক মেডিকেল অফিসার (আরএমও) রাজিব আহমেদ চৌধুরী জানান, ওই নারী প্রথমে ‘মারধরের রোগী’ হিসেবে ভর্তি হয়েছিলেন। ভর্তির দুই ঘণ্টা পর তিনি ধর্ষণের দাবি তোলেন। আইনি প্রক্রিয়া অনুসরণ করে এবং লেডি পুলিশের উপস্থিতিতে প্রয়োজনীয় পরীক্ষা সম্পন্ন হওয়ার পরেই ধর্ষণের বিষয়ে নিশ্চিত হওয়া যাবে। আপাতত তাঁর শারীরিক অবস্থা স্থিতিশীল রয়েছে। নির্বাচন পরবর্তী এই অভিযোগ হাতিয়ার রাজনৈতিক ও সামাজিক পরিবেশকে আবারও উত্তপ্ত করে তুলেছে। সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত সত্য উদঘাটনের দাবি জানিয়েছেন স্থানীয়রা।
পঞ্চগড়-১ আসনের নির্বাচনী ফলাফল নিয়ে পরিকল্পিত কারচুপি হয়েছে বলে অভিযোগ করেছেন প্রার্থী সারজিস আলম। শনিবার (১৪ ফেব্রুয়ারি) নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক অ্যাকাউন্টে তিনি এই অভিযোগ জানিয়েছেন। সারজিস আলম লিখেছেন, পঞ্চগড়-১ আসনে ‘শাপলা কলি’ ভোটে হারেনি। প্রশাসন, বিএনপি এবং ডিপস্টেট মিলে পরিকল্পিতভাবে কারচুপি করে শাপলা কলিকে হারিয়েছে। তিনি আরও দাবি করেছেন, ভোটকেন্দ্রে থাকা প্রশাসনের সদস্যের স্বীকারোক্তি, প্রধান পোলিং এজেন্টের স্বাক্ষর ছাড়া ফলাফলশীট, গণভোটের ব্যালটের চেয়ে এমপি ভোটে ২৫ হাজার বেশি ব্যালট, প্রথম ৮০টি কেন্দ্রে ৮ হাজার ভোটে এগিয়ে যাওয়ার পর দুই ঘন্টা ধরে ফলাফল প্রকাশ বন্ধ রাখা এবং পরবর্তী সব ফলাফলে অপ্রত্যাশিত মার্জিনে একসাথে ১৫০টি কেন্দ্রের ফলাফল প্রকাশের মতো ঘটনা সবই প্রমাণ হিসেবে আছে। সারজিস আলমের অভিযোগ অনুযায়ী, এসব কৌশল ব্যবহার করে নির্বাচনের ফলাফল ইঞ্জিনিয়ারিং করা হয়েছে এবং অন্য পক্ষকে জয়ী করা হয়েছে।
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জনের পর প্রথমবারের মতো আনুষ্ঠানিকভাবে বিশ্ব গণমাধ্যমের সামনে হাজির হয়েছেন বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি)-র চেয়ারম্যান তারেক রহমান। শনিবার (১৪ ফেব্রুয়ারি) বিকেলে রাজধানীর হোটেল ইন্টারকন্টিনেন্টালের বলরুমে আয়োজিত এক জনাকীর্ণ সংবাদ সম্মেলনে তিনি আগামীর বাংলাদেশের রূপরেখা ও তাঁর সরকারের অগ্রাধিকারগুলো তুলে ধরেন। পররাষ্ট্রনীতি: সবার সাথে বন্ধুত্ব, স্বার্থ বাংলাদেশের বিদেশি সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তারেক রহমান স্পষ্টভাবে জানিয়ে দেন যে, তাঁর সরকারের পররাষ্ট্রনীতির মূল ভিত্তি হবে ‘বাংলাদেশের স্বার্থ’। তিনি বলেন, "বাংলাদেশের মানুষের স্বার্থ বজায় রেখে আমরা বিশ্বের প্রতিটি দেশের সাথে সম্পর্ক বজায় রাখব।" এ সময় বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী বিষয়টিকে আরও বিস্তারিত ব্যাখ্যা করে বলেন, বিএনপি ‘মাল্টিলেটারালিজম’ বা বহুপাক্ষিকতায় বিশ্বাসী। কোনো নির্দিষ্ট রাষ্ট্রকেন্দ্রিক নীতি নয়, বরং পারস্পরিক শ্রদ্ধা, সমস্বার্থ এবং বাংলাদেশের কৌশলগত স্বায়ত্তশাসনই হবে আগামীর পথচলা। আসল ‘ইঞ্জিনিয়ারিং’ ছিল জনগণ নির্বাচনে ২০০-এর বেশি আসন পাওয়ার পেছনে কোনো ‘ইঞ্জিনিয়ারিং’ ছিল কি না—এমন এক প্রশ্নের জবাবে তারেক রহমান অত্যন্ত আত্মবিশ্বাসের সাথে বলেন, "জনগণকে কনভিন্স করা এবং তাঁদের পক্ষে নিয়ে আসাটাই ছিল আমাদের একমাত্র ইঞ্জিনিয়ারিং। আলহামদুলিল্লাহ, আমরা জনগণকে আমাদের আস্থায় নিতে সফল হয়েছি। যেকোনো বড় লক্ষ্য অর্জন করা কঠিন এবং কষ্টের, আমরা সেই কঠিন পথ পাড়ি দিয়েই আজকের এই বিজয় ছিনিয়ে এনেছি।" সুশাসন ও চ্যালেঞ্জসমূহ নতুন সরকারের সামনে থাকা বড় চ্যালেঞ্জগুলো নিয়ে তারেক রহমান বলেন, "ভঙ্গুর অর্থনীতি সচল করা, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ এবং জনগণের নিরাপত্তা নিশ্চিত করাই আমাদের প্রথম কাজ। গত দেড় দশকে রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানগুলোকে যেভাবে দলীয়করণ করা হয়েছে, তা ভেঙে আমরা সুশাসন প্রতিষ্ঠা করতে চাই। আমরা বিচার বিভাগকে নির্বাহী বিভাগ থেকে সম্পূর্ণ আলাদা এবং স্বাধীন হিসেবে দেখতে চাই।" সার্ক সক্রিয়করণ ও পাচারকৃত অর্থ ফেরত আঞ্চলিক রাজনীতির বিষয়ে তিনি জানান, শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের উদ্যোগে গঠিত সার্ককে তিনি আবারও সক্রিয় করতে চান। এছাড়া বিদেশে পাচার হওয়া অর্থ ফিরিয়ে আনা এবং লুটপাট বন্ধে দলের ‘গণতান্ত্রিক অর্থনীতি’র রূপরেখা বাস্তবায়নের প্রতিশ্রুতি দেন তিনি, যেখানে মেধা ও যোগ্যতার ভিত্তিতে সবাই ব্যবসা-বাণিজ্য করার সমান সুযোগ পাবেন। আওয়ামী লীগ ও শেখ হাসিনা প্রসঙ্গে সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে দেশে ফিরিয়ে আনা প্রসঙ্গে তারেক রহমান বলেন, এটি সম্পূর্ণ আইনি প্রক্রিয়ার বিষয়। এছাড়া আওয়ামী লীগের রাজনৈতিক ভবিষ্যৎ নিয়ে এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, "আইনের শাসন নিশ্চিত করার মাধ্যমেই সবকিছু নির্ধারিত হবে। আমরা বিশ্বাস করি, আইন সবার জন্য সমান এবং আইন যাতে তার নিজস্ব গতিতে চলে আমরা সেই পরিবেশ নিশ্চিত করব।" সংবাদ সম্মেলনে বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরসহ দলের স্থায়ী কমিটির জ্যেষ্ঠ নেতারা উপস্থিত ছিলেন। তারেক রহমান তাঁর বক্তব্যের শুরুতে এই বিশাল বিজয়ের জন্য দেশবাসীকে প্রাণঢালা অভিনন্দন জানান এবং নতুন বাংলাদেশের জয়যাত্রায় সবার সহযোগিতা কামনা করেন।