টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে চরম ব্যর্থতার দায়ে পাকিস্তান জাতীয় ক্রিকেট দলের প্রতিটি সদস্যকে বড় অঙ্কের আর্থিক জরিমানার কবলে পড়তে হয়েছে। পাকিস্তানি সংবাদমাধ্যম ‘এক্সপ্রেস ট্রিবিউন’-এর প্রতিবেদন অনুযায়ী, হতাশাজনক পারফরম্যান্সের কারণে পাকিস্তান ক্রিকেট বোর্ড (পিসিবি) দলের প্রত্যেক ক্রিকেটারকে ৫০ লাখ পাকিস্তানি রুপি করে জরিমানা করেছে। বিশেষ করে চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী ভারতের কাছে ৬১ রানে হারার পরপরই টিম ম্যানেজমেন্ট এই কঠোর শাস্তিমূলক সিদ্ধান্ত গ্রহণ করে বলে জানা গেছে।
এবারের বিশ্বকাপে পাকিস্তানের পারফরম্যান্স ছিল যাচ্ছেতাই। সেমিফাইনাল তো দূরের কথা, সুপার এইট পর্বেও দলটি লড়াই করতে ব্যর্থ হয়েছে। গ্রুপ পর্বে যে তিনটি ম্যাচে তারা জয় পেয়েছে, তার প্রতিটিই ছিল আইসিসির সহযোগী দেশগুলোর বিপক্ষে। ২০১৭ সালের চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফি জয়ের পর থেকে পাকিস্তান আর কোনো বড় শিরোপা জিততে না পারায় পিসিবি এবার ‘পুরস্কার ও শাস্তি’ নীতি কঠোরভাবে কার্যকর করার ঘোষণা দিয়েছে। বোর্ড কর্মকর্তারা স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন, এখন থেকে ক্রিকেটারদের সুযোগ-সুবিধা নির্ধারিত হবে তাদের মাঠের পারফরম্যান্সের ওপর ভিত্তি করে। অর্থাৎ, ভালো খেললে যেমন বোনাস দেওয়া হবে, তেমনি ব্যর্থতার জন্য গুনতে হবে জরিমানা।
তবে ব্যক্তিগত পারফরম্যান্সে উজ্জ্বল থাকা তিন ক্রিকেটার—সাহিবজাদা ফারহান, ফখর জামান ও উসমান তারিক এই জরিমানার আওতামুক্ত থাকতে পারেন। সাহিবজাদা ফারহান আসরের সর্বোচ্চ ৩৮৩ রান সংগ্রহ করে বিরাট কোহলির এক আসরে সর্বোচ্চ ৩১৯ রানের দীর্ঘদিনের রেকর্ডটি ভেঙে দিয়েছেন। এছাড়া ফখর জামান মাত্র ২ ম্যাচে ১০৯ রান এবং উসমান তারিক ৫ ম্যাচে ১০ উইকেট নিয়ে নিজেদের সামর্থ্যের প্রমাণ দিয়েছেন। বিপরীতে, শাদাব খান ও শাহিন শাহ আফ্রিদির মতো তারকাদের পারফরম্যান্স ছিল প্রত্যাশার তুলনায় অনেক নিচে। পিসিবির এই নজিরবিহীন কঠোর পদক্ষেপ পাকিস্তানের ক্রিকেট অঙ্গনে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছে।
এপস্টেইন ফাইল: দাবি, বাইডেনকে ২০১৯ সালে হত্যা করে ক্লোন দ্বারা প্রতিস্থাপন করা হয়েছে জেফরি এপস্টেইনের ফাইল ট্রান্সপারেন্সি অ্যাক্টের সাথে যুক্ত সম্প্রতি প্রকাশিত একটি নথি ত্রাঞ্চে অভিযোগ করা হয়েছে যে, প্রাক্তন মার্কিন প্রেসিডেন্ট জো বাইডেনকে ২০১৯ সালে হত্যা করা হয়েছে এবং তাকে একটি ক্লোন দ্বারা প্রতিস্থাপন করা হয়েছে। এই নথিগুলি, যা আনক্লাসিফায়েড ডিপার্টমেন্ট অব জাস্টিস (DOJ) রেকর্ডের একটি বিশাল ডেটা রিলিজের অংশ, “চার্লস” নামে একজনের ক্ষুব্ধ ইমেইল অন্তর্ভুক্ত করেছে এবং অন্তর্বর্তী ফাইলিং কোড EFTA00173266 থেকে EFTA00173273 পর্যন্ত চিহ্নিত। এই ইমেইলগুলো তৃতীয় পক্ষের যোগাযোগের মধ্যে পাওয়া গেছে, যা জেফরি এপস্টেইনের নেটওয়ার্ক সংক্রান্ত বিস্তৃত ফেডারেল তদন্তের সময় সংগ্রহ করা হয়েছিল। এপস্টেইন সম্পর্কিত অন্যান্য প্রকাশনার মতো এখানে রাজনৈতিক ও ব্যবসায়িক ব্যক্তিদের সঙ্গে সম্পর্কের তথ্য নয়, বরং চরম ও ষড়যন্ত্রমূলক দাবিগুলো রয়েছে। ক্লোন তত্ত্বের উল্লেখ “চার্লস” ইমেইলগুলো এপ্রিল ২০২১-এ একজন এফবিআই এজেন্টকে ফরোয়ার্ড করা হয়েছিল, যাকে লাল করা প্রেরক হিসেবে দেখানো হয়েছে। প্রেরক দাবি করেছিলেন যে এটি একটি প্রযুক্তি সংস্থার এক ক্ষুব্ধ প্রাক্তন কর্মচারী বা সহযোগীর মেসেজ। ইমেইলগুলিতে গালাগালি ভাষা ব্যবহৃত হয়েছে এবং এখানে “কোয়ান্টাম” প্রযুক্তি, গোপন সামরিক ট্রাইব্যুনাল, এবং “বাইডেন আপনার বর্তমান প্রেসিডেন্ট নন” এমন দাবির উল্লেখ রয়েছে। একটি অনুচ্ছেদে বলা হয়েছে যে “বাস্তব” জো বাইডেনকে ২০১৯ সালে নির্বিচারে হত্যা করা হয়েছে এবং তাকে একজন অভিনেতা বা ক্লোন দ্বারা প্রতিস্থাপন করা হয়েছে, যেখানে প্রমাণ হিসেবে “মাস্কের ত্রুটি” দেখানো হয়েছে। তবে এই দাবিগুলোর সঙ্গে কোনো শারীরিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি বা সঙ্গত সাক্ষ্য নেই। “বাইডেন ক্লোন” দাবি অনলাইনে ষড়যন্ত্র তত্ত্বের একটি পরিচিত অংশ। তত্ত্বটি সাধারণত ধরে যে “বাস্তব” জো বাইডেনকে গোপনে জনমঞ্চ থেকে সরিয়ে দেওয়া হয়েছে, প্রায়শই ২০১৯ বা ২০২০ সালে, এবং তাকে চেহারা মিলানো লোক বা ক্লোন দিয়ে প্রতিস্থাপন করা হয়েছে। অনুগামীরা প্রায়শই নিম্নমানের ভিডিও এবং ফটোগ্রাফ বিশ্লেষণ করে, চেহারার পরিবর্তন যেমন আলোর পরিবর্তন, বয়সের প্রভাব বা ক্যামেরার ত্রুটিকে কৃত্রিমভাবে আড়াল করার প্রমাণ হিসেবে দেখান। এ পর্যন্ত কোনো যাচাইযোগ্য প্রমাণ নেই যে প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন কখনো ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন বা প্রতিস্থাপিত হয়েছেন। এই দাবিগুলি সম্পূর্ণভাবে একটি ষড়যন্ত্র তত্ত্ব হিসেবে রয়ে গেছে। সূত্র: Royanews
দাম বাড়ানোর ১২ ঘণ্টারও কম সময়ের ব্যবধানে দেশের বাজারে আবারও স্বর্ণের দাম কমিয়েছে বাংলাদেশ জুয়েলার্স অ্যাসোসিয়েশন (বাজুস)। ভরিতে এক লাফে ৩ হাজার ২৬৬ টাকা কমিয়ে ২২ ক্যারেটের প্রতি ভরি স্বর্ণের নতুন দাম নির্ধারণ করা হয়েছে ২ লাখ ৫৮ হাজার ৮২৪ টাকা। শনিবার (৭ ফেব্রুয়ারি) রাতে বাজুসের এক বিজ্ঞপ্তিতে দাম কমানোর বিষয়টি জানানো হয়েছে। নতুন দাম রোববার (৮ ফেব্রুয়ারি) থেকেই কার্যকর হবে। এর আগে একই দিন সকালে দেশের বাজারে স্বর্ণের দাম বাড়ানো হয়। ওই সময় ভরিপ্রতি এক লাফে ৭ হাজার ৬৪০ টাকা বাড়িয়ে ২২ ক্যারেটের এক ভরি স্বর্ণের দাম নির্ধারণ করা হয়েছিল ২ লাখ ৬২ হাজার ৯০ টাকা। নতুন দাম অনুযায়ী, বর্তমানে দেশের বাজারে ২২ ক্যারেটের প্রতি ভরি (১১.৬৬৪ গ্রাম) স্বর্ণের দাম পড়বে ২ লাখ ৫৮ হাজার ৮২৪ টাকা। পাশাপাশি ২১ ক্যারেটের প্রতি ভরি ২ লাখ ৪৭ হাজার ৪৪ টাকা, ১৮ ক্যারেটের প্রতি ভরি ২ লাখ ১১ হাজার ৭৬০ টাকা এবং সনাতন পদ্ধতির প্রতি ভরি স্বর্ণের দাম পড়বে ১ লাখ ৭৩ হাজার ৩২৭ টাকা। এ নিয়ে চলতি বছর দেশের বাজারে মোট ২৭ বার স্বর্ণের দাম সমন্বয় করলো বাজুস। এরমধ্যে ১৭ বারই দাম বাড়ানো হয়েছে। আর দাম কমেছে মাত্র ১০ বার। অন্যদিকে গতবছর দেশের বাজারে মোট ৯৩ বার স্বর্ণের দাম সমন্বয় করা হয়েছিল। যেখানে ৬৪ বারই দাম বাড়ানো হয়েছিল। এছাড়া ২০২৫ সালে ২৯ বার কমানো হয়েছিল স্বর্ণের দাম।
মধ্যপ্রাচ্যের ক্রমবর্ধমান উত্তেজনার মধ্যেই একটি চাঞ্চল্যকর দাবি ভূ-রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন করে বিতর্কের ঝড় তুলেছে। গত ৪৮ থেকে ৫৬ ঘণ্টার মধ্যে ১৬টি চীনা 'ওয়াই-২০' (Y-20) সামরিক কার্গো বিমান তাদের ট্রান্সপন্ডার বা সিগন্যাল বন্ধ রেখে ইরানের আকাশে প্রবেশ করেছে বলে খবর ছড়িয়েছে। কোনো আনুষ্ঠানিক নিশ্চিতকরণ ছাড়াই এই তথ্যটি প্রতিরক্ষা বিশ্লেষক ও সোশ্যাল মিডিয়া ব্যবহারকারীদের মধ্যে তীব্র উদ্বেগ সৃষ্টি করেছে। দাবি করা হচ্ছে, এই বিমানগুলো বেসামরিক রাডার থেকে আড়াল থাকতে বিশেষ কৌশল অবলম্বন করেছিল। নেটিজেন ও সামরিক বিশ্লেষকদের একটি অংশের ধারণা, চীন হয়তো ইরানকে অত্যাধুনিক ইলেকট্রনিক ওয়ারফেয়ার সিস্টেম বা জ্যামিং প্রযুক্তি সরবরাহ করছে। যদি এটি সত্যি হয়, তবে মার্কিন এফ-৩৫ (F-35) যুদ্ধবিমান বা নৌ-অভিযানের জন্য এটি বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়াতে পারে। অনেকে একে যুক্তরাষ্ট্রের প্রতি বেইজিংয়ের সরাসরি ‘সতর্কবার্তা’ হিসেবেও দেখছেন। তবে এই উত্তেজনার মুদ্রার উল্টো পিঠও রয়েছে। ফ্লাইটরাডার২৪-এর মতো আন্তর্জাতিক ফ্লাইট ট্র্যাকিং প্ল্যাটফর্মে এ ধরনের কোনো অস্বাভাবিক ফ্লাইটের রেকর্ড পাওয়া যায়নি। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ১৬টি ভারী সামরিক কার্গো বিমানের মতো বিশাল বহরকে রাডার বা স্যাটেলাইট নজরদারি থেকে সম্পূর্ণ লুকিয়ে রাখা প্রায় অসম্ভব। বর্তমান ভূ-রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে চীন-ইরান সম্পর্ক গভীর হলেও, সুনির্দিষ্ট প্রমাণের অভাবে বিশ্লেষকরা একে আপাতত ‘সুপরিকল্পিত গুজব’ বা মিসইনফরমেশন হিসেবেই দেখছেন। তেহরান বা বেইজিং—কোনো পক্ষ থেকেই এখন পর্যন্ত এ নিয়ে কোনো আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া মেলেনি।
যুক্তরাষ্ট্রে অভিবাসন নীতিতে কঠোরতা আরও স্পষ্ট হচ্ছে। সর্বশেষ মেইন (Maine) অঙ্গরাজ্যে ফেডারেল ইমিগ্রেশন অভিযান শুরুর ঘোষণা দিয়েছে Department of Homeland Security (ডিএইচএস)। ডিএইচএসের এক মুখপাত্রের বরাতে জানা গেছে, “Operation Catch of the Day” নামে এই বিশেষ অভিযানের মাধ্যমে রাজ্যটিতে অবস্থানরত অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে জড়িত অবৈধ অভিবাসীদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তার করা হবে। অভিযানটি পরিচালনায় ফেডারেল ইমিগ্রেশন কর্মকর্তাদের পাশাপাশি স্থানীয় আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সমন্বয় রয়েছে। কর্তৃপক্ষ বলছে, এই উদ্যোগের প্রধান লক্ষ্য জননিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং সহিংস বা গুরুতর অপরাধে যুক্ত ব্যক্তিদের আইনের আওতায় আনা। ডিএইচএস আরও জানায়, আইন মেনে বসবাসকারী বা অপরাধে জড়িত নন—এমন অভিবাসীদের লক্ষ্যবস্তু করা হবে না। তবে মানবাধিকার ও অভিবাসী অধিকার সংগঠনগুলোর আশঙ্কা, এ ধরনের অভিযানে ভয় ও অনিশ্চয়তা তৈরি হতে পারে এবং নিরপরাধ মানুষও হয়রানির শিকার হতে পারেন। এ নিয়ে তারা স্বচ্ছতা ও যথাযথ আইনি প্রক্রিয়া অনুসরণের আহ্বান জানিয়েছে। বিশ্লেষকদের মতে, মেইনে এই অভিযান শুরুর মাধ্যমে ফেডারেল সরকারের অভিবাসন আইন প্রয়োগ আরও বিস্তৃত পরিসরে জোরদার হলো। এর প্রভাব স্থানীয় অভিবাসী কমিউনিটির পাশাপাশি রাজ্যের রাজনৈতিক ও সামাজিক পরিমণ্ডলেও পড়তে পারে। সূত্র: ABC News
যুক্তরাষ্ট্রের শ্রমবাজারে তীব্র কর্মী সংকট মোকাবিলায় ২০২৬ অর্থবছরে বড় ধরনের পদক্ষেপ নিয়েছে ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রশাসন। নিয়মিত কোটার বাইরে অতিরিক্ত প্রায় ৬৪ হাজার ৭১৬টি এইচ-২বি মৌসুমি অতিথি শ্রমিক ভিসা দেওয়ার চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। রয়টার্সের বরাতে জানা গেছে, স্থানীয় সময় শুক্রবার (৩০ জানুয়ারি) প্রকাশিত ফেডারেল রেজিস্টার নোটিশে বলা হয়, দেশীয় শ্রমিকের ঘাটতির কারণে যেসব মার্কিন নিয়োগকর্তা বড় ধরনের আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়ছেন, মূলত তাদের স্বার্থ বিবেচনায় নিয়েই এই অতিরিক্ত ভিসার অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। ফলে বছরে নির্ধারিত ৬৬ হাজার এইচ-২বি ভিসার সংখ্যা প্রায় দ্বিগুণে পৌঁছাতে যাচ্ছে। নতুন এই সিদ্ধান্তে নির্মাণ শিল্প, হোটেল ও রেস্তোরাঁ, ল্যান্ডস্কেপিং এবং সি-ফুড প্রক্রিয়াজাতকরণ খাতের মতো শ্রমনির্ভর মৌসুমি শিল্পগুলো সবচেয়ে বেশি উপকৃত হবে বলে মনে করা হচ্ছে। এসব খাতে দীর্ঘদিন ধরেই দক্ষ স্থানীয় কর্মীর অভাবে বিদেশি শ্রমিক আনার দাবি জানিয়ে আসছিলেন নিয়োগকর্তারা। ক্ষমতায় আসার পর ট্রাম্প প্রশাসন অবৈধ অভিবাসনের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান নিলেও, বৈধ পথে কর্মসংস্থানের সুযোগ বাড়িয়ে অর্থনীতিকে সচল রাখতে এই নমনীয় সিদ্ধান্ত নিয়েছে। এর আগেও সাবেক প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন প্রশাসনের সময় শ্রমঘাটতি মোকাবিলায় এইচ-২বি ভিসার সংখ্যা বাড়ানো হয়েছিল। তবে সরকারের এই সিদ্ধান্তের বিরোধিতাও রয়েছে। অভিবাসন কমানোর পক্ষে থাকা বিভিন্ন গোষ্ঠীর আশঙ্কা, বিপুল সংখ্যক বিদেশি শ্রমিক প্রবেশ করলে মার্কিন নাগরিকদের মজুরি কমে যেতে পারে। এ বিষয়ে পেন্টাগন ও শ্রম মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, দেশের উন্নয়ন প্রকল্প এবং পর্যটন খাত সচল রাখতে এই মুহূর্তে বিদেশি শ্রমিকের বিকল্প নেই। ফেডারেল রেজিস্টারের তথ্যানুযায়ী, অতিরিক্ত এইচ-২বি ভিসা কার্যকরের বিশেষ বিধিমালা আগামী মঙ্গলবার আনুষ্ঠানিকভাবে প্রকাশ করা হবে এবং এরপরই আবেদন প্রক্রিয়া শুরু হবে। সূত্র: দ্য ফিন্যান্সিয়াল এক্সপ্রেস
টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে চরম ব্যর্থতার দায়ে পাকিস্তান জাতীয় ক্রিকেট দলের প্রতিটি সদস্যকে বড় অঙ্কের আর্থিক জরিমানার কবলে পড়তে হয়েছে। পাকিস্তানি সংবাদমাধ্যম ‘এক্সপ্রেস ট্রিবিউন’-এর প্রতিবেদন অনুযায়ী, হতাশাজনক পারফরম্যান্সের কারণে পাকিস্তান ক্রিকেট বোর্ড (পিসিবি) দলের প্রত্যেক ক্রিকেটারকে ৫০ লাখ পাকিস্তানি রুপি করে জরিমানা করেছে। বিশেষ করে চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী ভারতের কাছে ৬১ রানে হারার পরপরই টিম ম্যানেজমেন্ট এই কঠোর শাস্তিমূলক সিদ্ধান্ত গ্রহণ করে বলে জানা গেছে। এবারের বিশ্বকাপে পাকিস্তানের পারফরম্যান্স ছিল যাচ্ছেতাই। সেমিফাইনাল তো দূরের কথা, সুপার এইট পর্বেও দলটি লড়াই করতে ব্যর্থ হয়েছে। গ্রুপ পর্বে যে তিনটি ম্যাচে তারা জয় পেয়েছে, তার প্রতিটিই ছিল আইসিসির সহযোগী দেশগুলোর বিপক্ষে। ২০১৭ সালের চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফি জয়ের পর থেকে পাকিস্তান আর কোনো বড় শিরোপা জিততে না পারায় পিসিবি এবার ‘পুরস্কার ও শাস্তি’ নীতি কঠোরভাবে কার্যকর করার ঘোষণা দিয়েছে। বোর্ড কর্মকর্তারা স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন, এখন থেকে ক্রিকেটারদের সুযোগ-সুবিধা নির্ধারিত হবে তাদের মাঠের পারফরম্যান্সের ওপর ভিত্তি করে। অর্থাৎ, ভালো খেললে যেমন বোনাস দেওয়া হবে, তেমনি ব্যর্থতার জন্য গুনতে হবে জরিমানা। তবে ব্যক্তিগত পারফরম্যান্সে উজ্জ্বল থাকা তিন ক্রিকেটার—সাহিবজাদা ফারহান, ফখর জামান ও উসমান তারিক এই জরিমানার আওতামুক্ত থাকতে পারেন। সাহিবজাদা ফারহান আসরের সর্বোচ্চ ৩৮৩ রান সংগ্রহ করে বিরাট কোহলির এক আসরে সর্বোচ্চ ৩১৯ রানের দীর্ঘদিনের রেকর্ডটি ভেঙে দিয়েছেন। এছাড়া ফখর জামান মাত্র ২ ম্যাচে ১০৯ রান এবং উসমান তারিক ৫ ম্যাচে ১০ উইকেট নিয়ে নিজেদের সামর্থ্যের প্রমাণ দিয়েছেন। বিপরীতে, শাদাব খান ও শাহিন শাহ আফ্রিদির মতো তারকাদের পারফরম্যান্স ছিল প্রত্যাশার তুলনায় অনেক নিচে। পিসিবির এই নজিরবিহীন কঠোর পদক্ষেপ পাকিস্তানের ক্রিকেট অঙ্গনে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছে।
নতুন মৌসুমের আগে প্রীতি সফরে Inter Miami CF-এর পুয়ের্তো রিকো ম্যাচটি হওয়ার কথা থাকলেও ইনজুরির কারণে মাঠে নামতে পারেননি Lionel Messi। আর্জেন্টিনা অধিনায়ক তখন প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন, সময় সুযোগ হলে ম্যাচটি খেলবেন। অবশেষে বৃহস্পতিবার সেই প্রতিশ্রুতি রক্ষা করে মাঠে নেমে গোলও করলেন তিনি। Independiente del Valle-এর বিপক্ষে ২-১ গোলে জয় পেয়েছে মায়ামি। দলের হয়ে গোল করেন সান্তিয়াগো মোরালেস ও মেসি। এই জয়ের মধ্য দিয়ে শেষ হলো তাদের প্রাক-মৌসুম সফর। যদিও ইতোমধ্যে এমএলএসের নতুন মৌসুমে একটি ম্যাচ খেলে ফেলেছে তারা। গত ১৩ ফেব্রুয়ারি ম্যাচটি হওয়ার কথা ছিল। কিন্তু হ্যামস্ট্রিং চোটে পড়ায় মেসি খেলতে পারেননি। ম্যাচের আকর্ষণ কমে যাওয়ার আশঙ্কায় আয়োজকদের সঙ্গে আলোচনা করে তা স্থগিত করা হয়। পরে ২৬ ফেব্রুয়ারি নতুন সূচি নির্ধারণ করা হয়। ম্যাচের ৭২ ঘণ্টা পরই রাজ্য প্রতিদ্বন্দ্বী Orlando City SC-এর বিপক্ষে তাদের খেলা রয়েছে। তবুও হেড কোচ Javier Mascherano পূর্ণ শক্তির দল নামান। লুইস সুয়ারেজ, রোক্কো রিওস নোভো, মোরালেস ও ফাকুন্দো মুরাকে শুরুর একাদশে দেখা যায়। মেসি হাফটাইমের পর মাঠে নামেন এবং পেনাল্টি থেকে গোল করেন। তিনি বল ছোঁয়ার সঙ্গে সঙ্গেই গ্যালারি থেকে ওঠে গগণবিদারী অভিবাদন। ম্যাচের শেষদিকে কয়েকজন ভক্ত মাঠে ঢুকে পড়েন; দুজন মেসির সঙ্গে সেলফি তুলতেও সক্ষম হন।
আবারও পাকিস্তানের পিএসএলে (PSL) গর্জন শোনা যাবে বাংলাদেশের ‘কাটার মাস্টার’ মুস্তাফিজুর রহমানের। আসন্ন পাকিস্তান সুপার লিগের জন্য নিলামের আগেই সরাসরি চুক্তিতে মুস্তাফিজকে দলে ভিড়িয়েছে শক্তিশালী ফ্র্যাঞ্চাইজি লাহোর কালান্দার্স। বাজেট এবং দলের রণকৌশল—সবকিছু মিলিয়ে ‘ফিজ’ই তাদের তালিকার এক নম্বর পছন্দ ছিল বলে জানিয়েছেন দলটির মালিক সামিন রানা। লাহোর কালান্দার্স মুস্তাফিজকে দলে নিতে খরচ করেছে ৬ কোটি ৪৪ লাখ পাকিস্তানি রুপি। এর আগে সবশেষ ২০১৮ সালে এই দলটির হয়েই পিএসএল খেলেছিলেন তিনি। দীর্ঘ ৮ বছর পর পুনরায় পুরোনো ডেরায় ফিরছেন বাংলাদেশের এই বাঁহাতি পেসার। মুস্তাফিজের ওপর এই বিশাল বিনিয়োগের কারণ ব্যাখ্যা করে এক পডকাস্টে সামিন রানা বলেন, “বোলিংয়ের প্রতি আমার যে বিশেষ আকর্ষণ, সেখানে ফিজ সবসময়ই আমার পছন্দের শীর্ষে ছিল। আমাদের বাজেট ও স্ট্র্যাটেজির দিক থেকেও সে একদম পারফেক্ট। মুস্তাফিজের মাঝে এমন কিছু বিশেষ গুণ (কোয়ালিটি) আছে, যা বর্তমান ক্রিকেট বিশ্বের খুব কম বোলারের মধ্যেই দেখা যায়।” তিনি আরও যোগ করেন, “বিপিএল কিংবা আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে মুস্তাফিজের বোলিং বৈচিত্র্য ও বৈচিত্র্যময় স্লোয়ারগুলো অনন্য। আমরা আমাদের দলে ঠিক এই ‘এক্স-ফ্যাক্টর’টাই চেয়েছিলাম। আমি সবসময় একটি কথা বিশ্বাস করি— ব্যাটাররা হয়তো আপনাকে ম্যাচ জেতাবে, কিন্তু টুর্নামেন্ট জেতাতে হলে কার্যকরী বোলারের কোনো বিকল্প নেই।” মুস্তাফিজের এই সরাসরি চুক্তি কেবল তাঁর ব্যক্তিগত ক্যারিয়ারের জন্যই নয়, বরং বাংলাদেশের ক্রিকেটের জন্যও এক বড় সুখবর। বিপিএলে দুর্দান্ত পারফরম্যান্সের ধারাবাহিকতা এবার বিদেশের মাটিতেও বজায় রাখবেন ফিজ—এমনটাই প্রত্যাশা ভক্তদের।