কেপ ভার্দের সঙ্গে গোলশূন্য ড্র দিয়ে শুরু করা স্পেনই শেষ পর্যন্ত শেষ হাসি হাসল। বিশ্বকাপের হট ফেভারিট আর্জেন্টিনাকে হারিয়ে বিশ্ব চ্যাম্পিয়নের মুকুট পরল লা রোজারা। ফাইনালে ১০ জনের আর্জেন্টিনার বিপক্ষে ১-০ গোলের রোমাঞ্চকর জয়ে ২০১০ সালের পর দ্বিতীয়বারের মতো বিশ্বকাপ ট্রফি নিজেদের করে নিল ইউরোপের পরাশক্তিরা। শুরুর হতাশা কাটিয়ে একের পর এক জয় আর গোলপোস্ট অক্ষত রেখে স্পেনের এই শিরোপা জয় যেন এক অবিশ্বাস্য রূপকথার গল্প। দারুণ সব প্রত্যাবর্তনের গল্প লিখে ফাইনালে ওঠা আর্জেন্টিনা এদিন সমর্থকদের পুরোপুরি হতাশ করেছে। পুরো ১২০ মিনিটের খেলায় একচ্ছত্র আধিপত্য বিস্তার করে স্পেন। আর্জেন্টিনা মাত্র ৩৫ শতাংশ বল দখলে রাখতে সক্ষম হয় এবং পুরো ম্যাচে প্রতিপক্ষের গোলমুখে একটি শটও রাখতে পারেনি। নির্ধারিত সময়ে স্পেনের জয় না পাওয়াটা ছিল স্রেফ দুর্ভাগ্য। তবে ম্যাচ অতিরিক্ত সময়ে নিয়ে যাওয়ার পেছনে মূল অবদান ছিল আর্জেন্টিনার গোলরক্ষক এমিলিয়ানো মার্টিনেজের, যিনি ১০টি দুর্দান্ত সেভ করে দলকে লড়াইয়ে রাখেন। কিন্তু শেষ পর্যন্ত অতিরিক্ত সময়ের দ্বিতীয়ার্ধের গোল আর ঠেকাতে পারেননি তিনি। ম্যাচের শুরু থেকেই স্পেনের দাপট ছিল চোখে পড়ার মতো। মাত্র ৫ মিনিটের মাথায় লামিন ইয়ামাল দলকে প্রায় এগিয়ে নিয়ে গিয়েছিলেন। প্রথমার্ধের ২৩ মিনিটে আর্জেন্টিনা মাত্র ৩২ শতাংশ বল দখলে রাখতে পেরেছিল, যেখানে মেসি, গঞ্জালেজ ও আলভারেজরা ছিলেন অনেকটা নিষ্প্রভ। স্প্যানিশ অধিনায়ক রদ্রি পুরো মাঠ জুড়ে দারুণ খেলেছেন, এমনকি ডিফেন্সেও রেখেছেন বড় অবদান। অন্যদিকে ৪১ মিনিটে ওয়ারজাবালকে ফাউল করে হলুদ কার্ড দেখেন লিসান্দ্রো মার্টিনেজ, যিনি পরবর্তীতে ইনজুরি নিয়ে মাঠ ছাড়তে বাধ্য হন। দ্বিতীয়ার্ধে লিওনেল স্কালোনি দলে পরিবর্তন আনলেও আর্জেন্টিনার খেলায় খুব একটা ধার ফেরেনি। ৫৫ মিনিটে ওতামেন্দির দারুণ ট্যাকল এবং গোলরক্ষক মার্টিনেজের বীরত্বে আর্জেন্টিনা বেশ কয়েকটি নিশ্চিত গোল হজম থেকে বেঁচে যায়। তবে ম্যাচের শেষ ভাগে এনজো ফার্নান্দেজ দ্বিতীয় হলুদ কার্ড দেখে মাঠ ছাড়লে আর্জেন্টিনা ১০ জনের দলে পরিণত হয়। ১৯৬৬ সালের পর প্রথম দল হিসেবে বিশ্বকাপের ফাইনালে প্রথম ৭০ মিনিটে লক্ষ্যে কোনো শট নিতে ব্যর্থ হওয়ার অনাকাঙ্ক্ষিত রেকর্ডও গড়ে স্কালোনির শিষ্যরা। অতিরিক্ত সময়ের শুরুতেই নিকো উইলিয়ামসের একটি গোল ভিএআর-এর সাহায্যে বাতিল হয়ে যায় ফাউলের কারণে। তবে স্পেন তাদের আক্রমণের ধারা অব্যাহত রাখে। অবশেষে অতিরিক্ত সময়ের দ্বিতীয়ার্ধের মাত্র ২৭ সেকেন্ডের মাথায় আসে সেই মাহেন্দ্রক্ষণ। পেদ্রো পোরোর ক্রস থেকে উইলিয়ামসের সহায়তায় দারুণ এক ফিনিশিংয়ে বল জালে জড়ান বদলি হিসেবে নামা ফেরান তোরেস। ২০১৪ সালে মারিও গোৎসের পর আবারও ফাইনালে অতিরিক্ত সময়ের গোলে হৃদয় ভাঙে আর্জেন্টিনার, আর স্পেন মেতে ওঠে বিশ্বজয়ের বুনো উল্লাসে।
চলতি ফুটবল বিশ্বকাপের ফাইনাল ম্যাচকে কেন্দ্র করে ভারতের কেরালা রাজ্যে এখন অভূতপূর্ব উন্মাদনা বিরাজ করছে। ট্রফি নির্ধারণী ম্যাচে মুখোমুখি হতে যাচ্ছে আর্জেন্টিনা ও স্পেন। এই হাই-ভোল্টেজ মহাদূন্দ্ব উপলক্ষে সোমবার রাজ্যের সব ধরনের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ রাখার সিদ্ধান্ত নিয়েছে স্থানীয় সরকার। ভারতের গণমাধ্যম টাইমস অব ইন্ডিয়ার এক প্রতিবেদনে বিষয়টি নিশ্চিত করা হয়েছে। খেলাটির সময়সূচি গভীর রাতে হওয়ায় শিক্ষার্থী ও সাধারণ কর্মজীবী মানুষের কথা বিবেচনা করে এই বিশেষ ছুটি দেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছে কেরালা প্রশাসন। একজন সরকারি কর্মকর্তা নিশ্চিত করেছেন যে, সাধারণ স্কুল-কলেজের পাশাপাশি সব ধরনের পেশাদার উচ্চ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানও এই ছুটির আওতায় থাকবে। রাত জেগে প্রিয় দলের জমজমাট লড়াই দেখার পর পরদিন সকালে শিক্ষার্থীদের পক্ষে ক্লাসে উপস্থিত হওয়া কষ্টকর হতে পারে—এমন যুক্তি দেখিয়ে সাবেক শিক্ষামন্ত্রী ভি শিবনকুট্টিসহ বিরোধী দলীয় নেতা ও সাধারণ মানুষ ছুটির দাবি জানিয়ে আসছিলেন। সেই দাবির প্রতি ইতিবাচক সাড়া দিয়ে মুখ্যমন্ত্রী ভি ডি সতীসান সোমবার রাজ্যের সব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ রাখার নির্দেশ দেন। অবশ্য ক্লাস স্থগিত থাকলেও আগে থেকে নির্ধারিত পরীক্ষাগুলো যথাসময়ে অনুষ্ঠিত হবে। পরীক্ষা সূচিতে যেন কোনো বিঘ্ন না ঘটে এবং শিক্ষাবর্ষের ক্ষতি না হয়, সেজন্য এই পরীক্ষাগুলো চলমান রাখার সিদ্ধান্ত নিয়েছে কেরালা সরকার। ফুটবলের প্রতি কেরালার মানুষের আবেগ চিরকালই একটু আলাদা। আন্তর্জাতিক যেকোনো বড় টুর্নামেন্ট এলেই রাজ্যজুড়ে উৎসবের আমেজ তৈরি হয়। এবারের ফাইনাল ম্যাচকে ঘিরেও তার কোনো ব্যতিক্রম হয়নি। সূত্র: টাইমস অব ইন্ডিয়া।
ফিফা বিশ্বকাপ ২০২৬-এর ফাইনালে চ্যাম্পিয়ন দলের হাতে ট্রফি তুলে দেবেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। ফাইনালের আগে তিনি পুরো টুর্নামেন্টকে যুক্তরাষ্ট্রের জন্য একটি বড় সাফল্য হিসেবে উল্লেখ করে বলেছেন, এই আসরের মাধ্যমে বিশ্ব দেখেছে যে যুক্তরাষ্ট্রও এখন একটি ফুটবলপ্রেমী দেশ। নিউইয়র্কে ফিফার এক সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে ট্রাম্প বলেন, বিশ্বকাপ প্রমাণ করেছে যে যুক্তরাষ্ট্রে ফুটবলের জনপ্রিয়তা বেড়েছে এবং এই ধারা ভবিষ্যতেও অব্যাহত থাকবে। তাঁর ভাষায়, এই টুর্নামেন্ট বিশ্বের মানুষকে একত্রিত করেছে। রোববার অনুষ্ঠিত ফাইনালে আর্জেন্টিনা ও স্পেন মুখোমুখি হবে। আয়োজক দেশের রাষ্ট্রপ্রধান হিসেবে প্রচলিত নিয়ম অনুযায়ী ট্রাম্প ফিফা সভাপতি জিয়ান্নি ইনফান্তিনোর সঙ্গে চ্যাম্পিয়ন দলের অধিনায়কের হাতে বিশ্বকাপ ট্রফি তুলে দেবেন। এবারের বিশ্বকাপ যুক্তরাষ্ট্র, কানাডা ও মেক্সিকো যৌথভাবে আয়োজন করেছে। এটি ইতিহাসের সবচেয়ে বড় বিশ্বকাপ, যেখানে ৪৮টি দল অংশ নিয়েছে। টুর্নামেন্ট চলাকালে নিরাপত্তা, ভিসা ব্যবস্থা এবং আয়োজনসংক্রান্ত বিভিন্ন বিষয় নিয়ে আলোচনা হলেও শেষ পর্যন্ত সফলভাবে ফাইনাল পর্যন্ত পৌঁছেছে আসরটি। ফাইনাল উপলক্ষে নিউইয়র্ক–নিউ জার্সি অঞ্চলে নিরাপত্তা জোরদার করা হয়েছে। ট্রাম্পসহ বিভিন্ন দেশের শীর্ষ নেতাদের উপস্থিতিকে কেন্দ্র করে ম্যাচটিকে বিশেষ নিরাপত্তা ব্যবস্থার আওতায় আনা হয়েছে। তবে ট্রাম্প প্রকাশ্যে কোনো দলের প্রতি সমর্থন জানাননি। ফলে আর্জেন্টিনা নাকি স্পেন, কার হাতে তিনি বিশ্বকাপের ট্রফি তুলে দেবেন, সেই সিদ্ধান্ত নির্ধারণ হবে শুধুই মাঠের লড়াইয়ের ফলাফলে।
ফিফা বিশ্বকাপের ফাইনালে স্পেনের বিপক্ষে মাঠে নামার আগে বর্তমান বিশ্বচ্যাম্পিয়ন আর্জেন্টিনার প্রতি প্রকাশ্যে সমর্থন জানিয়েছেন ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু। আর্জেন্টিনার প্রেসিডেন্ট হাভিয়ের মিলেইকে ‘ঘনিষ্ঠ বন্ধু’ উল্লেখ করে তিনি ফাইনালে আর্জেন্টিনার জন্য শুভকামনা জানান। টাইমস অব ইসরাইলের খবরে বলা হয়েছে, ইসরাইলে নিযুক্ত আর্জেন্টিনার রাষ্ট্রদূত রাব্বি শিমন অ্যাক্সেল ওয়ানিশের সঙ্গে বৈঠকের সময় নেতানিয়াহু এ মন্তব্য করেন। বৈঠকে রাষ্ট্রদূত প্রেসিডেন্ট হাভিয়ের মিলেইর পক্ষ থেকে নেতানিয়াহুর কাছে একটি বার্তাও পৌঁছে দেন। এর জবাবে নেতানিয়াহু বলেন, “হাভিয়ের, আপনি একজন সত্যিকারের বন্ধু। আপনি আমাদের ঘনিষ্ঠ বন্ধু। আমরা আর্জেন্টিনার পাশে আছি এবং বিভিন্ন ক্ষেত্রেই তাদের সমর্থন করি। আগামীকালের ম্যাচের জন্যও শুভকামনা। শুভকামনা আর্জেন্টিনার জন্য।” রোববার যুক্তরাষ্ট্রের নিউ জার্সির মেটলাইফ স্টেডিয়ামে বিশ্বকাপের ফাইনালে মুখোমুখি হচ্ছে আর্জেন্টিনা ও স্পেন। শিরোপা ধরে রাখার লক্ষ্য নিয়ে মাঠে নামছে আর্জেন্টিনা, আর দ্বিতীয় বিশ্বকাপ জয়ের আশা নিয়ে খেলবে স্পেন। আর্জেন্টিনা ও ইসরায়েলের মধ্যে সাম্প্রতিক সময়ে কূটনৈতিক সম্পর্ক আরও ঘনিষ্ঠ হয়েছে। প্রেসিডেন্ট হাভিয়ের মিলেই দায়িত্ব নেওয়ার পর ইসরায়েলের প্রতি প্রকাশ্য সমর্থন জানিয়েছেন এবং দুই দেশের মধ্যে সহযোগিতা জোরদারের উদ্যোগ নিয়েছেন। বিশ্বকাপ ফাইনালকে ঘিরে রাজনৈতিক আলোচনাও তৈরি হয়েছে। পর্যবেক্ষকদের মতে, মধ্যপ্রাচ্য ইস্যুতে স্পেন ও আর্জেন্টিনার সরকারের অবস্থানে পার্থক্য থাকায় ম্যাচটি মাঠের লড়াইয়ের পাশাপাশি কূটনৈতিক আলোচনারও অংশ হয়ে উঠেছে। একই সময়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আর্জেন্টিনার অধিনায়ক লিওনেল মেসিকে ঘিরে বিভ্রান্তিকর ও বিদ্বেষমূলক কিছু পোস্টও ছড়িয়ে পড়েছে, যদিও সেসব দাবির অনেকগুলোর সত্যতা স্বাধীনভাবে নিশ্চিত হয়নি।
ইংল্যান্ড ও আর্জেন্টিনার মধ্যকার ২০২৬ ফিফা বিশ্বকাপের সেমিফাইনাল শেষে একটি ছবি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছে। ম্যাচ শেষ হওয়ার পর ইংল্যান্ডের গোলরক্ষক জর্ডান পিকফোর্ডের পানির বোতলে লাগানো পেনাল্টি ‘চিট শিট’ ঘিরে কৌতূহল প্রকাশ করতে দেখা যায় লিওনেল মেসিসহ আর্জেন্টিনার কয়েকজন খেলোয়াড়কে। ছবিতে দেখা যায়, পিকফোর্ডের পানির বোতলে আর্জেন্টিনার সম্ভাব্য পেনাল্টি শুটারদের নামের পাশে তাদের শট নেওয়ার সম্ভাব্য দিক ও গোলরক্ষকের করণীয় সম্পর্কে সংক্ষিপ্ত নোট লেখা ছিল। অর্থাৎ ম্যাচ টাইব্রেকারে গড়ালে কীভাবে প্রতিপক্ষের শট মোকাবিলা করা হবে, সেই প্রস্তুতি আগেই নিয়ে রেখেছিল ইংল্যান্ড। তবে শেষ পর্যন্ত সেই পরিকল্পনা কাজে লাগানোর সুযোগই পায়নি ইংলিশরা। নির্ধারিত ৯০ মিনিটেই ২-১ গোলের জয়ে ফাইনালে উঠে যায় আর্জেন্টিনা। ফলে টাইব্রেকারের প্রয়োজন হয়নি এবং পিকফোর্ডের বোতলে থাকা নোটও মাঠে ব্যবহার করার সুযোগ আসেনি। ম্যাচ শেষে ভাইরাল হওয়া ছবিতে মেসি ও তার সতীর্থদের বোতলটি হাতে নিয়ে নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করতে দেখা যায়। ঘটনাটি সামাজিক মাধ্যমে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দেয়। অনেকেই এটিকে বড় ম্যাচের আগে আধুনিক ফুটবলে কৌশলগত প্রস্তুতির একটি উদাহরণ হিসেবে উল্লেখ করেছেন। আন্তর্জাতিক ফুটবলে এমন প্রস্তুতি নতুন নয়। বড় টুর্নামেন্টে সম্ভাব্য টাইব্রেকারের কথা মাথায় রেখে গোলরক্ষকদের জন্য প্রতিপক্ষের পেনাল্টি নেওয়ার ধরণ, পছন্দের দিক ও পূর্ববর্তী রেকর্ড বিশ্লেষণ করে বিশেষ নোট বা ‘চিট শিট’ তৈরি করে কোচিং স্টাফ ও বিশ্লেষক দল। অতীতেও বিশ্বকাপ ও ইউরোপিয়ান চ্যাম্পিয়নশিপে বিভিন্ন দলের গোলরক্ষকদের বোতলে এ ধরনের তথ্যসংবলিত নোট দেখা গেছে। যদিও পিকফোর্ডের প্রস্তুতি মাঠে পরীক্ষার সুযোগ পায়নি, তবু তার পানির বোতলে থাকা সেই ‘চিট শিট’ ম্যাচ-পরবর্তী আলোচনার অন্যতম আকর্ষণ হয়ে উঠেছে।
চলতি গ্রীষ্মে কেবল ফুটবল তারকারাই মাঠ মাতাচ্ছেন না, ডেটিং অ্যাপ এবং ম্যাচমেকিং সার্ভিসের মুখপাত্রদের মতে, অবিবাহিত বা সিঙ্গেল ব্যক্তিরাও ফিফা বিশ্বকাপ উপলক্ষে তাদের নিজ শহরে আসা নতুন মানুষদের সাথে পরিচিত হওয়ার সুযোগ নিচ্ছেন। ডেটিং ওয়েবসাইট ‘ডেটিংঅ্যাডভাইস ডটকম’-এর তথ্য অনুযায়ী, ফিফা বিশ্বকাপের রোমান্সের শহরের তালিকায় আটলান্টা দ্বিতীয় স্থানে রয়েছে। তাদের জরিপ করা সিঙ্গেলদের মধ্যে ৪৬ শতাংশ জানিয়েছেন, তারা টুর্নামেন্ট দেখতে আসা কোনো দর্শকের সাথে ডেটে গেছেন অথবা রোমান্টিক সম্পর্কে জড়িয়েছেন। টিন্ডারের একজন মুখপাত্র জানিয়েছেন, তারা সোয়াইপ করার হার বৃদ্ধি পেতে দেখেছেন। ফিফা বিশ্বকাপের আয়োজক শহরগুলোতে আন্তর্জাতিক ব্যবহারকারীদের মাধ্যমে ক্রিয়াকলাপ ৪৭ শতাংশ এবং দেশীয় ব্যবহারকারীদের মাধ্যমে ২২ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে। বাম্বল গ্রুপ ইভেন্টগুলোর প্রতি আগ্রহ বৃদ্ধির কথা জানিয়েছে এবং সিঙ্গেলদের জন্য আয়োজিত ওয়াচ পার্টিগুলোতে তারা বড় ধরনের উপস্থিতি লক্ষ্য করছে। ‘ইন দ্য ওয়াইল্ড ডেটিং’-এর প্রতিষ্ঠাতা লেক্সি ইয়াং বলেন, তার অনুসারীরা সরাসরি বা সশরীরে দেখা করার সুযোগ খুঁজছিলেন এবং বিশ্বকাপ ওয়াচ পার্টি ও দর্শনার্থীদের আগমনের মাধ্যমে ঠিক সেই সুযোগটিই তৈরি করে দিয়েছে। তিনি বলেন, "আমার মনে হয় এটি সত্যিই দেখায় যে মানুষ সরাসরি যোগাযোগ চায় এবং খেলাধুলা হলো যুক্ত হওয়ার একটি দারুণ মাধ্যম। ক্রীড়া ইভেন্টের মাধ্যমে মানুষের মাঝে একটি যৌথ আগ্রহ তৈরি হয়। এটি স্পষ্টতই তাদের আরও গভীর স্তরে যুক্ত হতে সাহায্য করে। আমি সত্যিই অনেক মানুষকে তাদের খোলস থেকে বেরিয়ে আসতে এবং বিভিন্ন সংস্কৃতির প্রতি নিজেদের দৃষ্টিভঙ্গি প্রসারিত করতে দেখছি, যা ডেটিংয়ের ক্ষেত্রটিকে সাহায্য করেছে।" আটলান্টার একজন অবিবাহিত বাসিন্দা, যিনি একাধিক বিশ্বকাপ আয়োজক শহরে গিয়েছেন, তার মতে প্রেম সত্যিই বাতাসে ভেসে বেড়াচ্ছে। কেটি ফ্রিডম্যান নামে ওই বাসিন্দা বলেন, "আমি আমার গ্রীষ্মকালীন ছুটিতে আছি, তাই এ পর্যন্ত চারটিতে গিয়েছি। আটলান্টা, সিয়াটল, বোস্টন এবং নিউইয়র্ক। এটি দারুণ ছিল। প্রথমবারের মতো মানুষের আমেরিকা সফরের অভিজ্ঞতা শোনার বিষয়টি আমার কাছে সত্যিই মজার মনে হয়েছে। তারা কী দেখল, কী পছন্দ করল—এগুলো কথা শুরু করার দারুণ উপায়।" আটলান্টার আরেক বাসিন্দা রাশাদ বলেন, "আমি মনে করি আরও মানুষের এখানে আসা উচিত। এটি একটি চমৎকার পরিবেশ। এখানে পানীয়, খাবার এবং গান রয়েছে, কোনো কিছুর জন্য আপনাকে অর্থ দিতে হবে না, এটি একটি দারুণ বিষয়।"
বিশ্বকাপ ফুটবলের সেমিফাইনালে মুখোমুখি হতে যাচ্ছে বিশ্ব ফুটবলের দুই পরাশক্তি ইংল্যান্ড ও আর্জেন্টিনা। যুক্তরাষ্ট্রের আটলান্টার মার্সিডিজ-বেঞ্জ স্টেডিয়ামে বুধবার হাইভোল্টেজ এই ম্যাচটি অনুষ্ঠিত হবে। হাইপ্রোফাইল এই ম্যাচটিকে ঘিরে দর্শকদের মাঝে তুমুল উন্মাদনা তৈরি হয়েছে এবং শেষ মুহূর্তের কিছু টিকিট এখনও পাওয়া যাচ্ছে, যার সর্বনিম্ন মূল্য শুরু হয়েছে ২ হাজার ৫২৭ ডলার থেকে। চলতি ২০২৬ বিশ্বকাপের সেমিফাইনালের এই লড়াইয়ে একদিকে যেমন মাঠে নামবেন হ্যারি কেইন ও জুড বেলিংহামের মতো তারকারা, অন্যদিকে আর্জেন্টিনার হয়ে মাঠ মাতাবেন লিওনেল মেসি। মাঠের লড়াইয়ে নামার আগে গত সপ্তাহে কোয়ার্টার ফাইনালে অতিরিক্ত সময়ের নাটকীয়তায় নরওয়েকে হারিয়ে সেমিফাইনাল নিশ্চিত করে ইংল্যান্ড। অপরদিকে সুইজারল্যান্ডকে ৩-১ ব্যবধানে হারিয়ে শেষ চারে জায়গা করে নেয় আর্জেন্টিনা। পরাশক্তিদের এই লড়াই মাঠে বসে দেখার জন্য ফুটবলপ্রেমীদের পকেটের বড় একটি অংশই খসাতে হচ্ছে। বর্তমানে সাধারণ ক্যাটাগরির সবচেয়ে কমদামী টিকিটের মূল্যই নির্ধারণ করা হয়েছে ২ হাজার ৫২৭ ডলার। এই মূল্য গত মঙ্গলবারের ফ্রান্স বনাম স্পেনের সেমিফাইনাল ম্যাচের শেষ মুহূর্তের টিকিটের দামের তুলনায় প্রায় ঠিক দ্বিগুণ। যারা গ্যালারির একদম সামনে থেকে মেসি ও কেইনের দ্বৈরথ উপভোগ করতে চান, তাদের জন্য টিকিটের মূল্য আরও অনেক বেশি। স্টেডিয়ামের একদম লোয়ার লেভেলের ১০০-লেভেলের গ্যালারির টিকিটগুলোর মূল্য বর্তমানে শুরু হচ্ছে ৩ হাজার ৬৬৯ ডলার থেকে, যা মূলত সেকশন ১২২-এর আসনের জন্য প্রযোজ্য। আটলান্টার মার্সিডিজ-বেঞ্জ স্টেডিয়ামে স্থানীয় সময় বিকেল ৩টায় এই ব্লকবাস্টার ম্যাচটি শুরু হবে। এবারের বিশ্বকাপের সেমিফাইনাল পর্বের জন্য দুটি ভেন্যু নির্ধারণ করা হয়েছিল, যার একটি টেক্সাসের আর্লিংটনের এটিঅ্যান্ডটি স্টেডিয়াম এবং অন্যটি আটলান্টার মার্সিডিজ-বেঞ্জ স্টেডিয়াম। মঙ্গলবারের প্রথম সেমিফাইনালে মুখোমুখি হয়েছিল ফ্রান্স ও স্পেন। এই সেমিফাইনালের মহারণ শেষ হওয়ার পর আগামী ১৯ জুলাই নিউ ইয়র্ক সিটির মেটলাইফ স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত হবে ২০২৬ ফিফা বিশ্বকাপের মেগা ফাইনাল। ফাইনাল ম্যাচের টিকিটের দামও ইতোমধ্যে আকাশ ছুঁয়েছে, যার সর্বনিম্ন মূল্য শুরু হচ্ছে ৬ হাজার ৮৪২ ডলার থেকে। আর একদম মাঠের কাছাকাছি লোয়ার-লেভেলের ক্যাটাগরি-১ টিকিটের দাম শুরু হচ্ছে ১৩ হাজার ৭০ ডলার থেকে।
বিশ্বকাপ শিরোপা ধরে রাখার মিশনে আরও এক ধাপ এগিয়ে গেল আর্জেন্টিনা। রুদ্ধশ্বাস লড়াইয়ে সুইজারল্যান্ডকে ৩-১ গোলে হারিয়ে ২০২৬ ফিফা বিশ্বকাপের সেমিফাইনাল নিশ্চিত করেছে বর্তমান চ্যাম্পিয়নরা। নির্ধারিত ৯০ মিনিট শেষে ১-১ সমতায় থাকা ম্যাচের নিষ্পত্তি হয় অতিরিক্ত সময়ে। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের কানসাস সিটির কানসাস সিটি স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত কোয়ার্টার ফাইনালে শুরু থেকেই আক্রমণাত্মক ফুটবল খেলতে থাকে আর্জেন্টিনা। ম্যাচের ১০ মিনিটে লিওনেল মেসির নেওয়া কর্নার থেকে অ্যালেক্সিস ম্যাক অ্যালিস্টার গোল করে দলকে এগিয়ে দেন। বিশ্বকাপে এটি ছিল মেসির রেকর্ড দশম অ্যাসিস্ট, যা তাকে বিশ্বকাপ ইতিহাসে সর্বোচ্চ অ্যাসিস্টদাতার আসনে বসিয়েছে। গোল হজমের পরও দারুণভাবে ম্যাচে ফিরে আসে সুইজারল্যান্ড। দ্বিতীয়ার্ধের ৬৭ মিনিটে দান এনদোয়ে সমতা ফেরান। এরপর ৭৩ মিনিটে ব্রিল এম্বোলো দ্বিতীয় হলুদ কার্ড দেখে মাঠ ছাড়লে ১০ জনের দলে পরিণত হয় সুইজারল্যান্ড। এরপরও দৃঢ় রক্ষণে আর্জেন্টিনাকে আটকে রাখে তারা। ম্যাচ যখন টাইব্রেকারের দিকেই এগোচ্ছিল, ঠিক তখনই অতিরিক্ত সময়ের ১১২ মিনিটে জুলিয়ান আলভারেজ বক্সের বাইরে থেকে দারুণ এক বাঁকানো শটে গোল করে আর্জেন্টিনাকে ২-১ ব্যবধানে এগিয়ে দেন। এটি ছিল চলতি বিশ্বকাপে আলভারেজের প্রথম গোল। এরপর যোগ করা সময়ে সুইজারল্যান্ড সমতায় ফেরার মরিয়া চেষ্টা চালালেও রক্ষণে সফলভাবে তা ঠেকিয়ে দেয় আর্জেন্টিনা। পাল্টা আক্রমণে ১২০+১ মিনিটে লাওতারো মার্তিনেজ তৃতীয় গোল করে ম্যাচের ফল নিশ্চিত করেন। টানা কঠিন দুটি নকআউট ম্যাচ জিতে শেষ চারে ওঠা আর্জেন্টিনার সামনে এবার অপেক্ষা করছে ইংল্যান্ড। সেমিফাইনালে দুই দলের লড়াই বিশ্বকাপের অন্যতম আকর্ষণীয় ম্যাচ হতে যাচ্ছে বলে মনে করছেন ফুটবল বিশ্লেষকরা।
চলতি মাসেই অনুষ্ঠিত হতে যাওয়া বিশ্বকাপ ফুটবলের ফাইনাল ম্যাচের বিরতিতে জমকালো ‘হাফটাইম শো’ বা বিশেষ সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের আয়োজন করতে যাচ্ছে আন্তর্জাতিক ফুটবল সংস্থা ফিফা। ইতিহাসের প্রথম এই হাফটাইম শোতে পারফর্ম করার তালিকায় এবার যুক্ত হয়েছেন বিশ্বখ্যাত পপ তারকা জাস্টিন বিবার। গত বুধবার ফিফার অফিসিয়াল ওয়েবসাইটে প্রকাশিত এক বিবৃতিতে এই ঘোষণা দেওয়া হয়। বিবৃতি অনুযায়ী, পপ তারকা জাস্টিন বিবার এই বৈশ্বিক অনুষ্ঠানে সহ-প্রধান শিল্পী বা কো-হেডলাইনার হিসেবে মঞ্চ মাতাবেন। এই বর্ণাঢ্য আয়োজনে তার সঙ্গে প্রধান আকর্ষণ হিসেবে থাকছেন পপ সম্রাজ্ঞী ম্যাডোনা, দক্ষিণ কোরিয়ার জনপ্রিয় বয় ব্যান্ড বিটিএস এবং ল্যাটিন পপ তারকা শাকিরা। ইতিহাসে এই প্রথম ফুটবল বিশ্বকাপের ফাইনালে এমন বড় আকারের কনসার্টের আয়োজন করা হচ্ছে। আগামী ১৯ জুলাই নিউ ইয়র্ক নিউ জার্সি স্টেডিয়ামে (যা মেটলাইফ স্টেডিয়াম নামে পরিচিত) বিশ্বকাপের ফাইনাল ম্যাচটি অনুষ্ঠিত হবে। ওই দিন ম্যাচের প্রথমার্ধের বিরতির সময়ে এই হাফটাইম শো প্রদর্শিত হবে। পপ তারকাদের পাশাপাশি এই আয়োজনে আরও পারফর্ম করবেন নাইজেরিয়ান সংগীতশিল্পী বার্না বয়, বিশ্বখ্যাত কন্ডাক্টর গুস্তাভো দুদামেল এবং কোল্ডপ্লে ব্যান্ডের সাথে নিউ ইয়র্কের স্টেটেন আইল্যান্ডের পিএস-২২ কোরাস স্কুল অব চিলড্রেন। চলতি বছরের শুরুর দিকে কোল্ডপ্লে ব্যান্ডের প্রধান গায়ক ক্রিস মার্টিন জনপ্রিয় শিশুতোষ অনুষ্ঠান ‘সেসামি স্ট্রিট’-এর এলমো এবং কুকি মনস্টারের মতো জনপ্রিয় পুতুল চরিত্রদের সাথে নিয়ে এক ভিডিও বার্তায় এই সুপারস্টারদের নাম ঘোষণা করেছিলেন। বিশ্বকাপের ফাইনালের এই ঐতিহাসিক হাফটাইম শোটির তত্ত্বাবধান করছেন ক্রিস মার্টিন নিজেই এবং এটি প্রযোজনা করছে দারিদ্র্য বিমোচনে নিয়োজিত বৈশ্বিক সংস্থা ‘গ্লোবাল সিটিজেন’। এই কনসার্ট থেকে সংগৃহীত অর্থ ‘ফিফা গ্লোবাল সিটিজেন এডুকেশন ফান্ড’-এ জমা হবে, যা বিশ্বজুড়ে সুবিধাবঞ্চিত শিশুদের শিক্ষা ও ফুটবল খেলার সুযোগ সৃষ্টিতে কাজ করে। ফিফার দেওয়া বিবৃতিতে জাস্টিন বিবার বলেন, বিশ্বকাপ ফুটবল বিশ্বকে এমনভাবে একত্রিত করে যা অন্য কোনো কিছু পারে না। এই হাফটাইম শোর অংশ হতে পেরে আমি কৃতজ্ঞ এবং আরও বেশি আনন্দিত যে এই আয়োজন বিশ্বজুড়ে শিশুদের শিক্ষার সুযোগ প্রসারিত করতে সাহায্য করছে। গত ১১ জুন থেকে শুরু হওয়া এই বিশ্বকাপের চূড়ান্ত ফাইনাল ম্যাচটি আগামী ১৯ জুলাই মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের স্থানীয় সময় বিকেল ৩টায় অনুষ্ঠিত হবে।
বিশ্বকাপ ফুটবলের শেষ ষোলোর ম্যাচে আর্জেন্টিনার মুখোমুখি হওয়ার আগে এক সংবাদ সম্মেলনে ফিলিস্তিনের প্রতি সংহতি জানিয়ে শক্তিশালী মানবিক বার্তা দিয়েছেন মিশরের প্রধান কোচ হোসাম হাসান। এর আগে অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে জয়ের পর মাঠে ফিলিস্তিনের পতাকা উড়িয়েছিলেন তিনি। সংবাদ সম্মেলনে এক তুর্কি সাংবাদিক তাঁকে প্রশ্ন করেন—আর্জেন্টিনাকে হারালে আবারও তিনি ফিলিস্তিনের পতাকা ওড়াবেন কি না। প্রশ্নের জবাবে কোনো সাধারণ হ্যাঁ বা না না বলে হোসাম হাসান সরাসরি মানবতার পক্ষে কথা বলেন। তিনি বলেন, "পৃথিবীতে এমন কেউ যদি থাকে যে ফিলিস্তিনিদের কষ্ট অনুভব করতে পারে না, তবে সে মানুষই নয়। সে আরব, ইউরোপীয় বা যে কোনো দেশেরই হোক না কেন—এটি কেবল ধর্মের বা নাগরিকত্বের বিষয় নয়, এটি পুরোপুরি মানবতার বিষয়।" মিশরীয় কোচ পশ্চিমা বিশ্বের দ্বিমুখী নীতির সমালোচনা করে বলেন, "ইউরোপ ও আমেরিকায় পশুপাখির প্রতি নিষ্ঠুরতা হলেও মানুষ সোচ্চার হয়। তাহলে মানবাধিকার কোথায় গেল, যখন প্রতিদিন ফিলিস্তিনি নারী ও শিশুরা হামলার শিকার হচ্ছে? আমরা যখন শীতাতপ নিয়ন্ত্রিত ঘরে বসে আরাম-আয়েশে খাচ্ছি, তখন আরেকটি জাতি রাস্তায় খাবার, পানি ও আশ্রয়হীন অবস্থায় ধ্বংসের মুখোমুখি দাঁড়িয়ে আছে। এই তীব্র শীতে বা গরমে তাদের রক্ষা করার কেউ নেই।" ফুটবলকে বিশ্বমঞ্চে বার্তা ছড়ানোর অন্যতম মাধ্যম উল্লেখ করে হোসাম হাসান আবেগপ্রবণ কণ্ঠে বলেন, "আমি আরব বা মিশরীয় হওয়ার আগে একজন মানুষ। ফুটবলের মাধ্যমে আমরা পুরো বিশ্বকে একটি বার্তাই দিতে চাই—দয়া করে ফিলিস্তিনিদের বাঁচতে দিন, দয়া করে তাদের শান্তিতে বাঁচতে দিন।"
প্যারাগুয়ের এক নারী সেনেটরের তীব্র বর্ণবাদী মন্তব্যের কড়া জবাব দিয়েছেন ফ্রান্স ফুটবল দলের অধিনায়ক কিলিয়ান এমবাপ্পে। বিশ্বকাপে প্যারাগুয়েকে হারিয়ে ফ্রান্স কোয়ার্টার ফাইনালে ওঠার পর ওই সেনেটর এমবাপ্পেকে লক্ষ্য করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে কুৎসিত আক্রমণ চালান। এর জবাবে ফরাসি তারকা তাকে একজন 'ঘৃণ্য নারী' হিসেবে আখ্যায়িত করেছেন। চলমান ফুটবল বিশ্বকাপের শেষ ষোলোর ম্যাচে ফিলিপিন্সে প্যারাগুয়ের মুখোমুখি হয়েছিল ফ্রান্স। কিলিয়ান এমবাপ্পের একমাত্র পেনাল্টি গোলেই প্যারাগুয়েকে ১-০ ব্যবধানে হারিয়ে কোয়ার্টার ফাইনালে জায়গা করে নেয় ফরাসিরা। এই হারের পর প্যারাগুয়ের সেনেটর সেলেস্তে আমারিলা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্স-এ (সাবেক টুইটার) এমবাপ্পেকে নিয়ে চরম বর্ণবাদী পোস্ট করেন। তিনি এমবাপ্পেকে 'উপনিবেশিত ক্যামেরুনীয়' বলে কটূক্তি করেন এবং দাবি করেন যে ফরাসি ফরোয়ার্ড লিখতে পর্যন্ত জানেন না। এই চরম অপমানের জবাবে কিলিয়ান এমবাপ্পে একটি জোরালো বিবৃতি প্রকাশ করেন। সেখানে তিনি ওই নারী সেনেটরের কঠোর সমালোচনা করার পাশাপাশি প্যারাগুয়ের ফুটবলারদের পাশে দাঁড়ান। এমবাপ্পে লেখেন, সেলেস্তে আমারিলা একজন অত্যন্ত ঘৃণ্য নারী এবং তিনি নিজের পদের অযোগ্য। তার এই নির্লজ্জ বর্ণবাদের কারণে পুরো বিশ্ব প্যারাগুয়ের খেলোয়াড়দের ঐতিহাসিক লড়াইয়ের কথা ভুলে এখন একজন অযোগ্য নারীর কুৎসিত রূপ দেখছে। এই ঘটনার পর ফরাসি ফুটবল ফেডারেশন (এফএফএফ) ওই প্যারাগুয়ান সেনেটরের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার ঘোষণা দিয়েছে। ফেডারেশন এই মন্তব্যকে সম্পূর্ণ অগ্রহণযোগ্য এবং অপরাধমূলক বলে অভিহিত করে সরকারি কৌঁসুলির কার্যালয়ে একটি আনুষ্ঠানিক অভিযোগ দায়ের করার কথা জানিয়েছে। অন্যদিকে ফরাসি প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল ম্যাক্রনও এমবাপ্পের প্রতি পূর্ণ সমর্থন জানিয়ে বর্ণবাদের বিরুদ্ধে লড়াইয়ের প্রশংসা করেছেন। প্যারাগুয়ে সরকার এবং দেশটির জাতীয় কংগ্রেসের সভাপতিও সেনেটর আমারিলার এই কুৎসিত বক্তব্যের তীব্র নিন্দা জানিয়েছেন। সরকারি বিবৃতিতে বলা হয়েছে, এই ধরণের মন্তব্য কোনোভাবেই প্যারাগুয়ের জনগণ বা সরকারের অবস্থানের প্রতিফলন নয়। খেলাধুলা এবং রাজনীতিকে আলাদা রাখা উচিত এবং তারা এই বর্ণবাদী আচরণের তীব্র বিরোধিতা করছেন।
২০২৬ ফিফা বিশ্বকাপের শেষ ষোলো থেকে বিদায় নেওয়ার পর আর্জেন্টিনাকে ঘিরে বিস্ফোরক অভিযোগ তুলেছেন মিশরের প্রধান কোচ হোসাম হাসান। তার দাবি, লিওনেল মেসির আর্জেন্টিনাকে টুর্নামেন্টে টিকিয়ে রাখতে সহায়তা করা হয়েছে এবং ম্যাচে তার দলই সব দিক থেকে ভালো খেলেছে। মঙ্গলবার আটলান্টায় অনুষ্ঠিত শেষ ষোলোর ম্যাচে একসময় ২-০ গোলে পিছিয়ে পড়েছিল বর্তমান বিশ্বচ্যাম্পিয়ন আর্জেন্টিনা। তবে শেষ ১৫ মিনিটে নাটকীয় প্রত্যাবর্তন করে ৩-২ ব্যবধানে জয় তুলে নিয়ে কোয়ার্টার ফাইনালে উঠে যায় লিওনেল স্কালোনির দল। ম্যাচে গোল করেন ক্রিস্তিয়ান রোমেরো, লিওনেল মেসি ও এনজো ফার্নান্দেজ। ম্যাচ শেষে সংবাদ সম্মেলনে হোসাম হাসান বলেন, “আমরা আর্জেন্টিনার চেয়ে ভালো খেলেছি। কিন্তু মনে হয়েছে, মেসিকে টুর্নামেন্টে রাখতে চাওয়া হচ্ছিল।” তিনি আরও অভিযোগ করেন, ম্যাচ পরিচালনা এবং কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্তে তার দল ন্যায্য বিচার পায়নি। ম্যাচের শেষ দিকে রেফারির একাধিক সিদ্ধান্ত নিয়ে মিশরের খেলোয়াড় ও কোচিং স্টাফ তীব্র প্রতিবাদ জানান। ইনজুরি সময়ে আর্জেন্টিনার জয়সূচক গোলের আগে সম্ভাব্য ফাউল এবং পেনাল্টির দাবি উপেক্ষা করা হয়েছে বলে তাদের অভিযোগ। উত্তপ্ত পরিস্থিতিতে মিশরের গোলরক্ষক কোচকে লাল কার্ড দেখানো হয় এবং হোসাম হাসানও সতর্কবার্তা (ইয়েলো কার্ড) পান। তবে হোসাম হাসানের অভিযোগের পক্ষে এখন পর্যন্ত ফিফা বা অন্য কোনো স্বাধীন সংস্থা কোনো প্রমাণ বা আনুষ্ঠানিক মন্তব্য দেয়নি। আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমগুলো বিষয়টিকে ম্যাচ-পরবর্তী কোচের ব্যক্তিগত অভিযোগ ও হতাশার প্রতিক্রিয়া হিসেবেই তুলে ধরেছে। এই জয়ের মাধ্যমে আর্জেন্টিনা ২০২৬ বিশ্বকাপের কোয়ার্টার ফাইনালে জায়গা নিশ্চিত করেছে এবং শিরোপা ধরে রাখার লড়াইয়ে টিকে রয়েছে। অন্যদিকে, ইতিহাস গড়ে প্রথমবার নকআউট পর্বে জয় পাওয়ার পর শেষ ষোলো পর্যন্ত পৌঁছানো মিশরের বিশ্বকাপ অভিযান শেষ হয়েছে হৃদয়ভাঙা পরাজয়ে।
যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প সোমবার নিশ্চিত করেছেন যে, গত সপ্তাহে বিশ্বকাপ ফুটবল ম্যাচে মার্কিন স্ট্রাইকার ফোলারিন বালোগুনের পাওয়া লাল কার্ডটি পুনর্বিবেচনা করার জন্য তিনি ফিফা সভাপতি জিয়ান্নি ইনফান্তিনোর সঙ্গে ব্যক্তিগতভাবে কথা বলেছেন। হোয়াইট হাউসে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে ট্রাম্প জানান, খেলা চলাকালীন ওই ঘটনাটি কোনো ফাউল ছিল না বলেই তিনি মনে করেন। হোয়াইট হাউসে উপস্থিত সাংবাদিকদের ট্রাম্প বলেন, তিনি এই সিদ্ধান্তের একটি আনুষ্ঠানিক পর্যালোচনা বা রিভিউ চেয়েছিলেন, কারণ তাঁর দৃষ্টিতে সেটি কোনো ফাউল ছিল না। তিনি আরও যোগ করেন, এই বিষয়ে তিনি ফিফার এমন একজন শীর্ষ কর্মকর্তার সঙ্গে কথা বলেছেন যিনি ক্রীড়া বিশ্বে অত্যন্ত সম্মানিত ও প্রভাবশালী ব্যক্তি। মূল ঘটনাটি ঘটেছিল গত সপ্তাহে বিশ্বকাপের শেষ বত্রিশের লড়াইয়ে, যেখানে বসনিয়া ও হার্জেগোভিনার খেলোয়াড় তারিক মুহারেমোভিচকে ফাউল করার অপরাধে ২৫ বছর বয়সী মার্কিন ফরোয়ার্ড বালোগুনকে সরাসরি লাল কার্ড দেখিয়ে মাঠ থেকে বের করে দেওয়া হয়েছিল। ওই ম্যাচে অবশ্য বসনিয়াকে ২-০ গোলে হারিয়ে শেষ ষোলো নিশ্চিত করে যুক্তরাষ্ট্র। ট্রাম্পের এই অনুরোধের পর গত রবিবার বিশ্ব ফুটবলের সর্বোচ্চ নিয়ন্তা সংস্থা ফিফা আকস্মিক এক ঘোষণায় জানায় যে, বালোগুনের ওপর আরোপিত নিষেধাজ্ঞা এক বছরের জন্য স্থগিত রাখা হয়েছে। ফিফার এই নাটকীয় সিদ্ধান্তের ফলে সোমবার সিয়াটলে বেলজিয়ামের বিরুদ্ধে অনুষ্ঠেয় অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ নকআউট ম্যাচে মার্কিন এই তারকার খেলার পথ পুরোপুরি পরিষ্কার হয়ে যায়। ফিফার এমন নজিরবিহীন সিদ্ধান্তে তীব্র ক্ষোভ ও বিস্ময় প্রকাশ করেছে বেলজিয়ামের ফুটবল ফেডারেশন। রবিবার এক বিবৃতিতে তারা জানায়, আগের রাউন্ডে সরাসরি লাল কার্ড পাওয়ার পরও বেলজিয়ামের মতো শক্তিশালী প্রতিপক্ষের বিরুদ্ধে ম্যাচের ঠিক আগমুহূর্তে বালোগুনকে খেলার অনুমতি দেওয়ার এই সিদ্ধান্তে তারা চরমভাবে বিস্মিত ও হতাশ।
২০২৬ ফিফা বিশ্বকাপে ব্রাজিলের হতাশাজনক বিদায়ের পর আন্তর্জাতিক ফুটবল থেকে অবসরের ঘোষণা দিয়েছেন তারকা ফরোয়ার্ড নেইমার জুনিয়র। শেষ ষোলোতে নরওয়ের কাছে হেরে টুর্নামেন্ট থেকে ছিটকে পড়ার পরই জাতীয় দলের জার্সিতে নিজের দীর্ঘ অধ্যায়ের সমাপ্তির ঘোষণা দেন তিনি। ব্রাজিলের শীর্ষ সংবাদমাধ্যম গ্লোবো জানিয়েছে, ম্যাচ শেষ হওয়ার পর আবেগঘন প্রতিক্রিয়ায় নেইমার জানান, ব্রাজিলের হয়ে এটাই ছিল তার শেষ ম্যাচ। ম্যাচ শেষে আবেগাপ্লুত কণ্ঠে তিনি বলেন, "আমি চেষ্টা করেছি। নিজের সর্বোচ্চটাই দিয়েছি। এই মেটলাইফ স্টেডিয়ামেই আমার পথচলা শুরু হয়েছিল, আর এখানেই শেষ হলো। এখন সব শেষ।" এই ঘোষণার মধ্য দিয়ে ব্রাজিল জাতীয় দলের হয়ে প্রায় দেড় দশকের এক বর্ণাঢ্য ক্যারিয়ারের ইতি টানলেন ৩৪ বছর বয়সী এই ফরোয়ার্ড। ২০১০ সালে ব্রাজিলের জার্সিতে অভিষেক হওয়ার পর দ্রুতই দলের অন্যতম নির্ভরযোগ্য খেলোয়াড়ে পরিণত হন নেইমার। জাতীয় দলের ইতিহাসে সর্বোচ্চ গোলদাতাও তিনি। ব্রাজিলের হয়ে ৮০টি গোল করেছেন এই তারকা, যা দেশের ফুটবল ইতিহাসে সর্বাধিক। এছাড়া জাতীয় দলের জার্সিতে তার রয়েছে চারটি হ্যাটট্রিক। প্রতিপক্ষ হিসেবে জাপানের বিপক্ষে সর্বোচ্চ নয়টি গোল করেছেন তিনি। ক্যারিয়ারে ব্রাজিলকে ২০১৩ সালের ফিফা কনফেডারেশনস কাপের শিরোপা জেতাতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখেন নেইমার। এছাড়া ২০১৬ সালের রিও অলিম্পিকে ব্রাজিলকে প্রথমবারের মতো অলিম্পিক ফুটবলে স্বর্ণপদক এনে দেওয়ার অন্যতম নায়ক ছিলেন তিনি। এবারের বিশ্বকাপে অবশ্য প্রত্যাশা পূরণ করতে পারেনি পাঁচবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়ন ব্রাজিল। শেষ ষোলোয় আর্লিং হলান্ডের জোড়া গোলে নরওয়ের কাছে হেরে বিদায় নিতে হয় সেলেসাওদের। এই জয়ে ইতিহাস গড়ে প্রথমবারের মতো বিশ্বকাপের কোয়ার্টার ফাইনালে ওঠে নর্ডিক দেশটি। বিশ্বকাপ থেকে বিদায়ের হতাশার মধ্যেই নেইমারের অবসরের ঘোষণা ব্রাজিল সমর্থকদের জন্য আরও বড় ধাক্কা হয়ে এসেছে। দীর্ঘ সময় ধরে ব্রাজিলের আক্রমণভাগের মূল ভরসা ছিলেন তিনি। তার বিদায়ের মাধ্যমে ব্রাজিল ফুটবলের একটি স্মরণীয় অধ্যায়েরও সমাপ্তি ঘটল।
যুক্তরাষ্ট্রের জাতীয় ফুটবল দলের স্ট্রাইকার ফোলারিন বালোগুনের নিষেধাজ্ঞা নিয়ে ফিফা সভাপতি জিয়ান্নি ইনফান্তিনোর সঙ্গে সরাসরি কথা বলেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। বিষয়টি সম্পর্কে অবগত একটি সূত্রের বরাত দিয়ে এমন তথ্য প্রকাশ করেছে দ্য নিউইয়র্ক টাইমস। প্রতিবেদনে বলা হয়, গত সপ্তাহে বসনিয়া-হার্জেগোভিনার বিপক্ষে ম্যাচে লাল কার্ড দেখায় বালোগুনকে এক ম্যাচের জন্য নিষিদ্ধ করা হয়েছিল। তবে রোববার ফিফার শৃঙ্খলা কমিটি জানায়, ওই লাল কার্ডের কার্যকারিতা এক বছরের জন্য স্থগিত রাখা হয়েছে। ফলে আসন্ন বিশ্বকাপে বেলজিয়ামের বিপক্ষে গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচে খেলতে পারবেন এই মার্কিন ফরোয়ার্ড। দ্য নিউইয়র্ক টাইমস জানায়, ট্রাম্প ব্যক্তিগতভাবে ইনফান্তিনোর সঙ্গে ফোনে বিষয়টি নিয়ে আলোচনা করেন। যদিও ফোনালাপ সম্পর্কে প্রকাশ্যে কোনো পক্ষই বিস্তারিত জানায়নি। এদিকে দ্য গার্ডিয়ান এবং অ্যাসোসিয়েটেড প্রেস (এপি)-ও পৃথক প্রতিবেদনে জানিয়েছে, বালোগুনের লাল কার্ড পুনর্বিবেচনার অনুরোধ জানিয়ে হোয়াইট হাউস ফিফার সঙ্গে যোগাযোগ করেছিল। তবে ওই প্রতিবেদনে ট্রাম্প নিজে ফোন করেছিলেন কি না, সে বিষয়ে নিশ্চিত করে কিছু বলা হয়নি। রোববার নিজের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ট্রুথ সোশ্যালে ট্রাম্প ফিফার সিদ্ধান্তকে স্বাগত জানান। তিনি লেখেন, "সঠিক সিদ্ধান্ত নেওয়ার জন্য ফিফাকে ধন্যবাদ। একটি বড় অন্যায়ের অবসান হয়েছে।" তবে ওই পোস্টে ইনফান্তিনোর সঙ্গে কোনো ফোনালাপের উল্লেখ করেননি। এ বিষয়ে মন্তব্য জানতে ফিফার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলেও সংস্থাটি তাৎক্ষণিকভাবে কোনো প্রতিক্রিয়া দেয়নি। ফিফা সভাপতি জিয়ান্নি ইনফান্তিনো ও ডোনাল্ড ট্রাম্পের মধ্যে দীর্ঘদিন ধরেই ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক রয়েছে বলে আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমে বিভিন্ন সময় উল্লেখ করা হয়েছে। ২০২৫ সালে ইনফান্তিনো ট্রাম্পকে ফিফার নবপ্রবর্তিত 'ফিফা পিস প্রাইজ' প্রদান করেন, যা দুই পক্ষের ঘনিষ্ঠ সম্পর্কের একটি আলোচিত উদাহরণ হিসেবে বিবেচিত হয়। বিশ্বকাপের মতো বড় টুর্নামেন্ট চলাকালে খেলোয়াড়দের শাস্তি ও শৃঙ্খলাবিষয়ক সিদ্ধান্ত অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হয়ে ওঠে। বালোগুনের নিষেধাজ্ঞা স্থগিত হওয়ায় যুক্তরাষ্ট্রের আক্রমণভাগ আরও শক্তিশালী হবে বলে মনে করছেন ফুটবল বিশ্লেষকরা। তবে ট্রাম্পের কথিত ফোনালাপ ফিফার সিদ্ধান্তে কোনো প্রভাব ফেলেছিল কি না, সে বিষয়ে এখন পর্যন্ত কোনো আনুষ্ঠানিক তথ্য প্রকাশ করা হয়নি। ফলে বিষয়টি নিয়ে আলোচনা চললেও ফিফার পক্ষ থেকে এ বিষয়ে আনুষ্ঠানিক ব্যাখ্যার অপেক্ষায় রয়েছে ক্রীড়াঙ্গন।
মিশন ছিল বিশ্বমঞ্চে ষষ্ঠ শিরোপা বা 'হেক্সা' জয় করা। কিন্তু ২০২৬ বিশ্বকাপে নরওয়ের কাছে হেরে উল্টো এক ট্র্যাজিক হেক্সার বৃত্ত পূরণ হলো ব্রাজিলের। এই নিয়ে টানা ছয়টি বিশ্বকাপে শিরোপা জিততে ব্যর্থ হলো ফুটবলের সফলতম এই দেশটি। সেই ২০০২ সালে এশিয়ার মাটিতে রোনালদো-রিভালদোদের হাত ধরে সর্বশেষ সোনালি ট্রফিতে চুমু খেয়েছিল সেলেসাওরা। এরপর দীর্ঘ ২৪টি বছর কেটে গেলেও বিশ্বকাপের ট্রফি আর ব্রাজিলে ফেরানো সম্ভব হয়নি। চলমান ২০২৬ বিশ্বকাপে নরওয়ের বিপক্ষে ম্যাচটি ছিল ব্রাজিলের কোয়ার্টার ফাইনালে ওঠার লড়াই। কিন্তু মাঠের খেলায় ভাগ্য ও পারফরম্যান্স কোনোটিই পক্ষে ছিল না দলটির। প্রথমার্ধে ব্রুনো গুইমারেসের পেনাল্টি মিসের ধাক্কা এবং দ্বিতীয়ার্ধে নরওয়েজিয়ান গোলমেশিন আর্লিং হালান্ডের জোড়া গোল ব্রাজিলকে ম্যাচ থেকে পুরোপুরি ছিটকে দেয়। ম্যাচের একদম শেষ মুহূর্তে নেইমার জুনিয়র পেনাল্টি থেকে গোল করে ব্যবধান কমালেও তা কেবল সান্ত্বনার তালিকাই ভারী করেছে, ব্রাজিলের বিদায় আটকাতে পারেনি। ২০০২ সালের পর থেকে প্রতিবারই ফেভারিটের তকমা নিয়ে বিশ্বকাপে এসেছে ব্রাজিল। কিন্তু ২০০৬, ২০১০, ২০১৮, ২০২২ এবং এবার ২০২৬—এই পাঁচবারই কোয়ার্টার ফাইনাল বা তার আগেই থামতে হয়েছে তাদের। আর ২০১৪ সালে ঘরের মাঠে জার্মানির কাছে সেমিফাইনালের সেই ৭-১ গোলের দুঃস্বপ্ন তো রয়েছেই। সোনালি ট্রফি জয়ের মিশন নিয়ে এসে প্রতিবারই এভাবে খালি হাতে ফিরতে হলো পাঁচবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়নদের। রেফারির শেষ বাঁশি বাজার পর মাঠের মধ্যেই নেইমারসহ ব্রাজিলের ফুটবলারদের অশ্রুসিক্ত চোখ যেন কোটি সমর্থকের সেই ২৪ বছরের কান্নারই প্রতিচ্ছবি। ষষ্ঠ বিশ্বকাপ ট্রফির খোঁজে আসা সেলেসাওদের এখন আরও চার বছর অপেক্ষা করতে হবে। আর এর মধ্য দিয়েই ফুটবল ইতিহাসের পাতায় যুক্ত হলো টানা ছয়টি বিশ্বকাপে ব্রাজিলের ট্রফিহীন থাকার এক অনাকাঙ্ক্ষিত দীর্ঘ খরা।
কোয়ার্টার ফাইনালে ওঠার মর্যাদাপূর্ণ লড়াইয়ে আজ নরওয়ের মুখোমুখি হতে যাচ্ছে পাঁচবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়ন ব্রাজিল। তারকা স্ট্রাইকার আর্লিং হালান্ড সমৃদ্ধ নরওয়েকে রুখতে এবং মাঠে নিজেদের চিরচেনা আধিপত্য বজায় রাখতে অভিজ্ঞ ও তরুণদের মিশ্রণে এক শক্তিশালী শুরুর একাদশ ঘোষণা করেছে সেলেসাওরা। আজকের এই হাইভোল্টেজ ম্যাচে ব্রাজিলের গোলপোস্টের নিচে অতন্দ্র প্রহরী হিসেবে দায়িত্ব পালন করবেন নির্ভরযোগ্য গোলরক্ষক আলিসন বেকার। রক্ষণভাগ সামলানোর মূল দায়িত্ব থাকছে অভিজ্ঞ মার্কিনিওস এবং গ্যাব্রিয়েল মাগালাইসের ওপর। উইং ব্যাক হিসেবে রক্ষণ ও আক্রমণ দুই বিভাগেই সমানভাবে সাহায্য করবেন দলের অধিনায়ক দানিলো এবং দগলাস সান্তোস। মাঝমাঠের দখল নিজেদের নিয়ন্ত্রণে রাখতে এবং নরওয়ের আক্রমণ রুখতে অভিজ্ঞ কাসেমিরোর সঙ্গে জুটি বাঁধবেন ব্রুনো গিমারাইস। তাদের ঠিক সামনে মাঝমাঠ ও উইংয়ের সংযোগ সেতু হিসেবে খেলবেন আর্সেনাল তারকা গ্যাব্রিয়েল মার্তিনেল্লি। অন্যদিকে, আক্রমণভাগে নরওয়ে রক্ষণভাগকে চূর্ণ করতে মূল অস্ত্রের ভূমিকায় থাকবেন রিয়াল মাদ্রিদ মহাতারকা ভিনিসিয়ুস জুনিয়র। স্ট্রাইকার পজিশনে মাতেউস কুনিয়ার ওপর ভরসা রেখেছে ব্রাজিল কোচ, আর তাদের সঙ্গে ডানপ্রান্তের আক্রমণে থাকবেন উদীয়মান তরুণ ফরোয়ার্ড রায়ান।
চলমান ফুটবল বিশ্বকাপে অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে টাইব্রেকারে এক ঐতিহাসিক জয় তুলে নিয়েছে মিশরের জাতীয় ফুটবল দল। নকআউট পর্বের শেষ বত্রিশের এই অবিস্মরণীয় জয়কে ফিলিস্তিনের নিপীড়িত ও সম্মানিত মানুষের উদ্দেশ্যে উৎসর্গ করেছেন মিশরের হেড কোচ হোসাম হাসান। শুক্রবার যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসের আর্লিংটনের ডালাস স্টেডিয়ামে এক উত্তেজনাপূর্ণ ম্যাচে অস্ট্রেলিয়াকে পেনাল্টি শুটআউটে ৪-২ ব্যবধানে হারিয়ে শেষ ১৬ পর্বে জায়গা করে নেয় মিশর। এটি বিশ্বকাপের নকআউট পর্বে মিশরের প্রথম কোনো জয়ের রেকর্ড। নির্ধারিত ও অতিরিক্ত সময়ের খেলা ১-১ গোলে ড্র হওয়ার পর ম্যাচটি ভাগ্যনির্ধারণী টাইব্রেকারে গড়ায়। এর আগে খেলার ১৩তম মিনিটে ইমাম আশুরের চমৎকার হেডারে এগিয়ে যায় মিশর। তবে ম্যাচের ৫৫তম মিনিটে মোহামেদ হানির একটি আত্মঘাতী গোলের কারণে সমতায় ফেরে অস্ট্রেলিয়া। পরবর্তীতে টাইব্রেকারে অস্ট্রেলিয়ার হ্যারি সাউটার এবং লুকাস হ্যারিংটন পেনাল্টি মিস করলে মিশরের হোসাম আবদেলমাগুইদ ঠান্ডা মাথায় লক্ষ্যভেদ করে দলের ঐতিহাসিক জয় নিশ্চিত করেন। শেষ ১৬-এর লড়াইয়ে মিশর এখন আর্জেন্টিনা অথবা কেপ ভার্দের মুখোমুখি হবে। ম্যাচ শেষে আয়োজিত এক আবেগঘন সংবাদ সম্মেলনে মিশরের কোচ হোসাম হাসান বলেন, ঈশ্বর যেন ফিলিস্তিনের মানুষকে চূড়ান্ত বিজয় দান করেন এবং তাদের শহীদদের ওপর রহমত বর্ষণ করেন। তিনি আরও উল্লেখ করেন যে, এই অসাধারণ জয়টি তিনি একই সাথে মিশরের সাধারণ মানুষ এবং ফিলিস্তিনের সদয় ও সম্মানিত জনগণের উদ্দেশ্যে উৎসর্গ করছেন। ম্যাচ জয়ের পর মাঠের ভেতরেই কোচ হোসাম হাসান মিশরের পতাকার পাশাপাশি ফিলিস্তিনের জাতীয় পতাকাও ওড়ান এবং পুরো মিশরীয় দল একসঙ্গে মাঠে সেজদা দিয়ে এই জয় উদযাপন করে। মিশরের এই জয়কে কেন্দ্র করে যুদ্ধবিধ্বস্ত গাজা উপত্যকাজুড়ে এক অভূতপূর্ব ও আবেগঘন পরিবেশের সৃষ্টি হয়। ইসরায়েলি বোমাবর্ষণে ধ্বংস হয়ে যাওয়া বিভিন্ন ভবনের মাঝে এবং শরণার্থী শিবিরের অস্থায়ী তাঁবুর সামনে বড় পর্দায় ম্যাচটি দেখছিলেন হাজার হাজার ফিলিস্তিনি। মিশরের ঐতিহাসিক জয়ের পর তারা গভীর রাত পর্যন্ত বাঁধভাঙা উল্লাসে মেতে ওঠেন। গাজার অনেক শিশু ও কিশোর তাদের গালে মিশরের জাতীয় পতাকা এঁকে আনন্দ প্রকাশ করে। গাজার বাসিন্দারা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে জানান, দীর্ঘদিনের অবরুদ্ধ দশা ও কষ্টের মাঝে মিশরের এই জয় তাদের মুখে কিছুটা সময়ের জন্য হলেও খুশির ঝিলিক এনে দিয়েছে। এদিকে এই ঐতিহাসিক ম্যাচটি শুরু হওয়ার মাত্র কয়েক ঘণ্টা আগে মিশরের ফুটবল দলের সদস্যরা হোটেল চত্বরে স্থানীয় পুলিশ কর্মকর্তাদের সঙ্গে একটি অনাকাঙ্ক্ষিত বিবাদে জড়িয়ে পড়েন। মিশরীয় জাতীয় দলের পক্ষ থেকে অভিযোগ করা হয় যে, শুক্রবার ডালাসের একটি হোটেলে এক ভক্তের সঙ্গে ছবি তোলার সময় সেখানকার একজন পুলিশ কর্মকর্তা তাদের ডিরেক্টর ইব্রাহিম হাসান এবং তারকা খেলোয়াড় ত্রেজেগেকে ধাক্কা দেন। এই ঘটনার একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দ্রুত ভাইরাল হয়ে যায়। পরবর্তীতে ডালাস পুলিশ বিভাগ বিষয়টি নিয়ে আনুষ্ঠানিক স্পষ্টীকরণ দেয় এবং জানায় যে ঘটনাস্থলেই সমস্যার সমাধান করা হয়েছে।
বর্তমান বিশ্বচ্যাম্পিয়ন আর্জেন্টিনাকে জয়ের জন্য লড়তে হয়েছে অতিরিক্ত সময় পর্যন্ত। ১২০ মিনিটের রুদ্ধশ্বাস লড়াই শেষে কেপ ভার্দেকে ৩-২ গোলে হারিয়ে ২০২৬ বিশ্বকাপের শেষ ষোলো নিশ্চিত করেছে লিওনেল মেসির দল। আগামী পর্বে আর্জেন্টিনার প্রতিপক্ষ হবে মোহাম্মদ সালাহর নেতৃত্বাধীন মিসর, যারা অস্ট্রেলিয়াকে টাইব্রেকারে হারিয়ে ইতিহাসে প্রথমবারের মতো বিশ্বকাপের নকআউট পর্বে জয় পেয়েছে। ম্যাচের ফলাফল আর্জেন্টিনার পক্ষে গেলেও ফুটবলপ্রেমীদের প্রশংসা কুড়িয়েছে কেপ ভার্দে। বিশ্বকাপে প্রথমবার অংশ নেওয়া দলটি শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত বিশ্বচ্যাম্পিয়নদের সামনে আত্মসমর্পণ করেনি। বরং সংগঠিত ফুটবল, আত্মবিশ্বাসী আক্রমণ এবং অসাধারণ মানসিক দৃঢ়তায় একাধিকবার আর্জেন্টিনাকে চাপে ফেলে দেয় তারা। ম্যাচে প্রথমে লিওনেল মেসির গোলে এগিয়ে যায় আর্জেন্টিনা। কিন্তু কেপ ভার্দে দ্রুত সমতা ফেরায়। নির্ধারিত ৯০ মিনিট শেষে ১-১ সমতায় থাকায় ম্যাচ গড়ায় অতিরিক্ত সময়ে। সেখানে লিসান্দ্রো মার্টিনেজ আর্জেন্টিনাকে আবার এগিয়ে দিলেও লোপেস কাবরালের দারুণ গোলে দ্বিতীয়বার সমতা আনে কেপ ভার্দে। শেষ পর্যন্ত কর্নার থেকে মেসির বাড়ানো বল হেডে জালে জড়িয়ে ক্রিস্তিয়ান রোমেরো আর্জেন্টিনার জয় নিশ্চিত করেন। ম্যাচে একটি গোল ও একটি অ্যাসিস্ট করেন মেসি। এই ম্যাচে কেপ ভার্দের গোলরক্ষক ভোজিনিয়া ছিলেন দলের অন্যতম সেরা পারফর্মার। পুরো ম্যাচজুড়ে তিনি মেসিসহ আর্জেন্টিনার একাধিক নিশ্চিত গোল ঠেকিয়ে দলকে লড়াইয়ে টিকিয়ে রাখেন। তার অসাধারণ নৈপুণ্যের কারণেই ম্যাচটি অতিরিক্ত সময় পর্যন্ত গড়ায়। বিশ্বকাপে কেপ ভার্দের যাত্রা শেষ হলেও তাদের পারফরম্যান্স নজর কেড়েছে ফুটবল বিশ্বের। গ্রুপ পর্বে তারা স্পেনের সঙ্গে গোলশূন্য ড্র করে এবং উরুগুয়ের বিপক্ষে ২-২ গোলে সমতা আনে। পরে নকআউট পর্বে আর্জেন্টিনাকে ১২০ মিনিট পর্যন্ত লড়াই করতে বাধ্য করে তারা। অভিষেক বিশ্বকাপেই এমন পারফরম্যান্স কেপ ভার্দেকে ভবিষ্যতের সম্ভাবনাময় দল হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করেছে। অন্যদিকে, এই জয়ের মধ্য দিয়ে টানা শিরোপা ধরে রাখার স্বপ্ন বাঁচিয়ে রাখল আর্জেন্টিনা। তবে শেষ ষোলোয় তাদের সামনে অপেক্ষা করছে কঠিন পরীক্ষা। মোহাম্মদ সালাহর মিসর ইতোমধ্যেই অস্ট্রেলিয়াকে হারিয়ে আত্মবিশ্বাসী অবস্থায় রয়েছে। ফলে শেষ ষোলোর লড়াইও হতে যাচ্ছে বিশ্বকাপের অন্যতম আকর্ষণীয় ম্যাচ।
ফুটবল ইতিহাসে রেকর্ড বুক আর ক্রিস্টিয়ানো রোনালদো শব্দ দুটি যেন একে অপরের পরিপূরক। ক্যারিয়ার জুড়ে গোল উৎসবের পাশাপাশি পেনাল্টি স্পট থেকে তাঁর নিখুঁত লক্ষ্যভেদ সবসময়ই আলোচনার জন্ম দিয়েছে। সমালোচকরা ভালোবেসে বা কটাক্ষ করে তাঁকে 'পেনাল্ডো' ডাকলেও, ১২ গজের এই চাপ সামলানোর ক্ষেত্রে যে সিআরসেভেন-ই আসল রাজা, তা আবারও প্রমাণিত হলো। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভাইরাল হওয়া একটি পরিসংখ্যান দেখাচ্ছে, রোনালদোর ক্যারিয়ারের বড় বড় সব মাইলফলকের প্রথম গোলটি এসেছে পেনাল্টি থেকেই! বর্তমানে ক্রিস্টিয়ানো রোনালদোর সর্বমোট অফিসিয়াল ক্যারিয়ার গোল সংখ্যা ৯৭৬টি। ১,০০০ গোলের এক অবিশ্বাস্য ও ঐতিহাসিক মাইলফলক ছোঁয়ার পথে আন্তর্জাতিক ও ক্লাব ফুটবল মিলিয়ে ফুটবল ইতিহাসের সর্বোচ্চ এই গোলদাতা আর মাত্র ২৪টি গোল দূরে রয়েছেন। পর্তুগিজ মহানায়কের ক্যারিয়ারের সেই ৫টি ঐতিহাসিক 'প্রথম' পেনাল্টি গোল, যা তাঁর এই বিশাল গোলের রাজত্বে বিশেষ জায়গা জুড়ে আছে: ১. রিয়াল মাদ্রিদ ও লা লিগায় প্রথম গোল: ২০০৯ সালে রেকর্ড ট্রান্সফার ফিতে রিয়াল মাদ্রিদে যোগ দেওয়ার পর ২৯ আগস্ট দেপোর্তিভো লা করুনার বিপক্ষে রোনালদোর লা লিগা অভিষেক হয়। ম্যাচের ৩৫ মিনিটে পেনাল্টি থেকে গোল করে স্প্যানিশ ক্লাবটির হয়ে নিজের গোলের খাতা খোলেন তিনি। ২. ইউরোপা লিগে প্রথম গোল: ক্যারিয়ারের সিংহভাগ সময় চ্যাম্পিয়ন্স লিগে রাজত্ব করলেও ২০২২ সালে ম্যানচেস্টার ইউনাইটেডের হয়ে উয়েফা ইউরোপা লিগে খেলতে হয়েছিল তাঁকে। ১৫ সেপ্টেম্বর শেরিফ তিরাস্পোলের বিপক্ষে ম্যাচের ৩৯ মিনিটে পেনাল্টি থেকে লক্ষ্যভেদ করেন সিআরসেভেন। এটিই ছিল ইউরোপা লিগের ইতিহাসে তাঁর প্রথম গোল। ৩. আল নাসরের হয়ে প্রথম গোল: ইউরোপের অধ্যায় চুকিয়ে ২০২৩ সালের শুরুতে সৌদি আরবের ক্লাব আল নাসরে পাড়ি জমান রোনালদো। ৩ ফেব্রুয়ারি আল-ফাতেহের বিপক্ষে ম্যাচের একেবারে শেষ মুহূর্তে (৯৩ মিনিটে) পেনাল্টি থেকে গোল করে দলকে হার থেকে বাঁচান এবং এশিয়ান ক্লাব ফুটবলে নিজের প্রথম গোলটি উদযাপন করেন। ৪. বিশ্বকাপে প্রথম গোল: ২০০৬ সালের জার্মানি বিশ্বকাপে তরুণ রোনালদো নিজের প্রথম বিশ্বকাপ গোলটি পেয়েছিলেন। ইরানের বিপক্ষে গ্রুপ পর্বের ম্যাচে ৮১ মিনিটে পেনাল্টি থেকে জাল খুঁজে নেন ২১ বছর বয়সী এই ফরোয়ার্ড, যা ছিল বিশ্বমঞ্চে তাঁর সুদীর্ঘ যাত্রার প্রথম পদক্ষেপ। ৫. বিশ্বকাপের নকআউট পর্বে প্রথম গোল: বিশ্বকাপের নকআউট পর্বে গোল না পাওয়ার দীর্ঘ খরা অবশেষে কেটেছে রোনালদোর। চলতি ২০২৬ ফিফা বিশ্বকাপে ক্রোয়েশিয়ার বিপক্ষে শেষ ৩২-এর ম্যাচে ৬৮ মিনিটে ভিএআর (VAR) রিভিউয়ের মাধ্যমে পাওয়া একটি পেনাল্টি থেকে দুর্দান্ত গোল করেন তিনি। ৪১ বছর বয়সে এসে করা এই গোলটিই বিশ্বকাপের নকআউট পর্বে তাঁর ক্যারিয়ারের প্রথম গোল। সমালোচকরা পেনাল্টি নিয়ে যতই কথা বলুক না কেন, চাপের মুখে ১২ গজ দূর থেকে নার্ভ ঠিক রেখে বল জালে জড়ানো যে সবার কাজ নয়, তা ক্রিস্টিয়ানো রোনালদো ক্যারিয়ারের প্রতিটি বড় বাঁকে প্রমাণ করে দেখিয়েছেন।
কাতার বিশ্বকাপের পর থেকেই ফুটবল বিশ্বে এক ধরনের গুঞ্জন শোনা যাচ্ছে যে, বিশ্ব ফুটবলের সর্বোচ্চ নিয়ন্ত্রক সংস্থা ফিফা আর্জেন্টিনাকে বিশেষ সুবিধা দিয়ে থাকে। অনেক ফুটবল বোদ্ধা ও সমালোচক আর্জেন্টিনাকে উপহাস করে ‘কমিটির দল’ বলেও আখ্যা দিয়ে থাকেন। চলমান বিশ্বকাপে অধিনায়ক লিওনেল মেসির একটি ফাউলকে কেন্দ্র করে এই পুরোনো বিতর্কটি নতুন করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছে। কেপ ভার্দের বিপক্ষে গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচের আগে সংবাদ সম্মেলনে আর্জেন্টিনা দলের কোচ লিওনেল স্কালোনির দিকে এই বিষয়ে সরাসরি প্রশ্ন ছুড়ে দেওয়া হয়। বিশ্বকাপে তাঁর দল বিশেষ কোনো সুবিধা পাচ্ছে কি না—এমন প্রশ্নে বেশ ক্ষুব্ধ হন এই মাস্টারমাইন্ড। তবে নিজের ক্ষোভ সামলে নিয়ে এই সমালোচনার বেশ সোজাসাপ্টা ও কড়া জবাব দিয়েছেন তিনি। কোচ স্কালোনি এই বিতর্কের সহজ সমাধান দিয়ে বলেন, এই ধরনের ভিত্তিহীন আলোচনা থেকে দূরে থাকার একমাত্র উপায় হলো সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম না পড়া। তিনি সবাইকে সোশ্যাল মিডিয়া দেখা বন্ধ করার পরামর্শ দিয়ে বলেন, মানুষ যদি এসব না দেখে, তবে অবান্তর বিষয়গুলো নিয়ে আলোচনাও তৈরি হবে না। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের নেতিবাচক দিক নিয়ে নিজের চরম বিরক্তি প্রকাশ করে আর্জেন্টিনা কোচ বলেন, আজকাল যে কেউ কোনো নির্ভরযোগ্য প্রমাণ ছাড়াই ইন্টারনেটে যা খুশি পোস্ট করে দিতে পারে। দুর্ভাগ্যবশত মানুষ কোনো একটি ছোট বিষয়কে বিশাল আকার দিয়ে চারদিকে ছড়িয়ে দেয় এবং তা মুহূর্তের মধ্যে ভাইরাল হয়ে যায়। তাই এসব বিষয়কে বিন্দুমাত্র গুরুত্ব দেওয়ার কোনো কারণ তিনি দেখছেন না। স্কালোনি দৃঢ়তার সঙ্গে মনে করিয়ে দেন যে, আলবিসেলেস্তেদের বর্তমান সাফল্য কারও দয়া বা কোনো কমিটির বিশেষ সুবিধার ফল নয়। এই গৌরব পুরো দলের কঠোর পরিশ্রমের ফসল। তিনি স্পষ্ট জানান, লিওনেল মেসি থেকে শুরু করে দলের কিটম্যান মারিও দে স্তেফানো পর্যন্ত প্রত্যেকের অক্লান্ত পরিশ্রম ও অবদান রয়েছে এই অর্জনের পেছনে। তাই তারা মাঠের বাইরের কোনো নেতিবাচক গুঞ্জনে মোটেও কান দিচ্ছেন না।
যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন। মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়। তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।” ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে। প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন। ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন। প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল। মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি। রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।
২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো। প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে। এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে। অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে। স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে। সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে। সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।
যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে। এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন। নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি। উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।” বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে। এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে। শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়। উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত। এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।
যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে এক মর্মান্তিক ও লোমহর্ষক ঘটনার জন্ম দিয়েছে দুই তরুণী বোন। দিনদুপুরে ক্যারোলিন ‘কারো’ পেনা নামের ৩২ বছর বয়সী এক নারীকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগে তাদের গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। নিহত নারী পাঁচ সন্তানের জননী ছিলেন। তবে সবচেয়ে শিউরে ওঠার মতো বিষয় হলো, গ্রেপ্তারের সময় অভিযুক্তদের চেহারায় অনুশোচনার সামান্যতম ছাপ তো ছিলই না, উল্টো তাদের মুখে পৈশাচিক হাসি দেখা গেছে। মেক্সিকো সীমান্তের কাছের শহর দেল রিও থেকে বৃহস্পতিবার বিকেলে পুলিশ তাদের হাতকড়া পরিয়ে নিয়ে যাওয়ার সময় এই দৃশ্য ক্যামেরায় ধরা পড়ে। আরও পড়ুন... ‘ফোনটা ধরতে পারলে হয়তো তাকে বাঁচাতে পারতাম’- টেক্সাসে পাঁচ সন্তানের মাকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা, দুই বোনসহ তিনজন গ্রেপ্তার পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নিহত ক্যারোলিনকে বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় দুপুর ২টার পরপরই গুরুতর জখম অবস্থায় ভাল ভার্দে রিজিওনাল মেডিকেল সেন্টারে নেওয়া হয়। তার শরীরে একাধিক ছুরিকাঘাতের চিহ্ন ছিল। ঘটনাস্থলের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, একটি সনিক ড্রাইভ-থ্রু রেস্তোরাঁর বাইরে রক্তাক্ত অবস্থায় ক্যারোলিন তার তিন হামলাকারীর মুখোমুখি দাঁড়িয়ে আছেন। পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য সান আন্তোনিওর একটি হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছায় এবং প্রায় ৩৫ হাজার বাসিন্দার শহর দেল রিওতে অভিযান চালিয়ে হামলাকারীদের শনাক্ত করে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া গ্রেপ্তারের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, ২১ বছর বয়সী কিটি মিয়া দিয়াজ খালি পায়ে হেঁটে যাওয়ার সময় পুলিশের গাড়িতে ওঠার আগে মৃদু হাসছেন। কিটি নিজেও এক শিশুপুত্রের মা। অন্যদিকে, তার ১৯ বছর বয়সী ছোট বোন আমায়া কুকি দিয়াজ ক্যামেরার দিকে তাকিয়ে নির্লজ্জভাবে দাঁত বের করে হাসতে থাকেন। ▶️ টেক্সাসে নিজের মাকে নির্মমভাবে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুই মেয়ে | এমনকি ভিডিও ধারণকারীকে ব্যঙ্গাত্মক সুরে ‘রেকর্ড করা বন্ধ করো’ বলেও চিৎকার করতে শোনা যায় তাকে। দেল রিও পুলিশ জানিয়েছে, এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ২১ বছর বয়সী কায়ান্দ্রা রেনি ফাজ নামের তৃতীয় আরেক নারীকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে ঠিক কী কারণে এই নারকীয় হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে, সে বিষয়ে পুলিশ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি।
বাংলাদেশের আবাসন শিল্পে এক নতুন ইতিহাস রচিত হলো। রাজধানীর তেজগাঁও শিল্প এলাকায় নির্মিত দেশের প্রথম ৪০ তলা বিশিষ্ট আকাশচুম্বী বাণিজ্যিক ভবন ‘শান্তা পিনাকল’ আনুষ্ঠানিকভাবে হস্তান্তর করেছে শান্তা হোল্ডিংস। ৫০০ ফুট উচ্চতার এই আইকনিক ভবনটি এখন দেশের সর্বোচ্চ সম্পন্ন হওয়া ইমারত। গত শনিবার (১৮ এপ্রিল) ভবনের ৪০তম তলায় আয়োজিত এক আড়ম্বরপূর্ণ অনুষ্ঠানের মাধ্যমে এটি হস্তান্তর করা হয়। অনুষ্ঠানে শান্তা হোল্ডিংসের চেয়ারম্যান খন্দকার মনির উদ্দিন, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, স্থপতি এহসান খানসহ প্রতিষ্ঠানের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা, ভূমি মালিক এবং গ্রাহকরা উপস্থিত ছিলেন। স্থাপত্যশৈলী ও আধুনিক প্রযুক্তি:‘শান্তা পিনাকল’ শুধুমাত্র উচ্চতার কারণেই অনন্য নয়, বরং এটি আধুনিক নির্মাণশৈলী ও প্রযুক্তির এক অনন্য সমন্বয়। এটি বাংলাদেশের প্রথম ভবন যা পরিবেশবান্ধব স্থাপত্যের জন্য আন্তর্জাতিক ‘লিড প্ল্যাটিনাম’ (LEED Platinum) স্বীকৃতি পেয়েছে। সিঙ্গাপুরভিত্তিক বিখ্যাত ইঞ্জিনিয়ারিং প্রতিষ্ঠান ‘মেইনহার্ট’ (Meinhardt) এর সহায়তায় ভবনটির স্ট্রাকচারাল ডিজাইন এবং ভূমিকম্প প্রতিরোধক ব্যবস্থা নিশ্চিত করা হয়েছে। বিশেষ বৈশিষ্ট্যসমূহ: উন্নত লিফট ব্যবস্থা: ভবনটিতে রয়েছে ৮টি দ্রুতগামী লিফট, যা প্রতি সেকেন্ডে ৪ মিটার উচ্চতায় উঠতে সক্ষম। এটি দেশের দ্রুততম ভার্টিক্যাল ট্রান্সপোর্ট ব্যবস্থা। পরিবেশ ও সুরক্ষা: ভবনে ব্যবহৃত হয়েছে ৩৬ মিমি পুরুত্বের ডাবল গ্লেজড গ্লাস, যা তাপ ও শব্দ নিরোধক। এছাড়া এটি দেশের প্রথম ‘উইন্ড টানেল টেস্ট’ করা ভবন, যা প্রতিকূল আবহাওয়ায় এর স্থায়িত্ব নিশ্চিত করে। আইবিএমএস প্রযুক্তি: পুরো ভবনটি একটি ইন্টেলিজেন্ট বিল্ডিং ম্যানেজমেন্ট সিস্টেম (iBMS) দ্বারা পরিচালিত, যা সার্বক্ষণিক নিরাপত্তা ও জ্বালানি সাশ্রয় নিশ্চিত করবে। অগ্নি নিরাপত্তা: আন্তর্জাতিক এনএফপিএ (NFPA) স্ট্যান্ডার্ড অনুসরণ করে এখানে অত্যাধুনিক অগ্নিনির্বাপক ব্যবস্থা স্থাপন করা হয়েছে। অনুষ্ঠানে শান্তা হোল্ডিংসের পক্ষ থেকে জানানো হয়, ‘শান্তা পিনাকল’ হস্তান্তর দেশের রিয়েল এস্টেট খাতের সক্ষমতার এক বড় প্রমাণ। এটি শুধুমাত্র তেজগাঁও নয়, বরং পুরো ঢাকার বাণিজ্যিক পরিবেশকে বিশ্বমানের স্তরে নিয়ে যাবে। দেশের ইতিহাসে প্রথমবার অ্যালুমিনিয়াম ফর্মওয়ার্ক ব্যবহারের মাধ্যমে মাত্র সাত দিনে এক একটি তলার ছাদ ঢালাইয়ের রেকর্ড গড়ে এই প্রকল্পের কাজ সম্পন্ন করা হয়েছে। ঢাকার আকাশসীমায় নতুন এই ল্যান্ডমার্ক দেশের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি এবং আধুনিক নগরায়নের এক শক্তিশালী প্রতীক হিসেবে দাঁড়িয়ে আছে।