অফিসের ভেতরে অনৈতিক সম্পর্ক ও মিথ্যা বলার দায়ে ক্ষমা চাইলেন আমেরিকার নারী বিচারক
যুক্তরাষ্ট্রের জর্জিয়ার একটি ফেডারেল আদালতের এজলাস বা চেম্বারের ভেতরে এক পুলিশ কর্মকর্তার সাথে অনৈতিক শারীরিক সম্পর্কে লিপ্ত হওয়া এবং পরবর্তীতে তদন্তকারীদের কাছে এই বিষয়ে মিথ্যা তথ্য দেওয়ার দায়ে অভিযুক্ত মার্কিন জেলা বিচারক এলিনর রস অবশেষে নিজের ভুল স্বীকার করে ক্ষমা চেয়েছেন। নিজের এক সাবেক আইন সহকারীর (ল ক্লার্ক) কাছে লেখা এক চিঠিতে তিনি নিজের এই কর্মকাণ্ডকে ক্ষতিকর, আপত্তিকর এবং চরম অপেশাদার আচরণ হিসেবে উল্লেখ করে গভীর দুঃখ প্রকাশ করেছেন।
অ্যাসোসিয়েটেড প্রেসের (এপি) হাতে আসা গত বৃহস্পতিবারের ডেট সম্বলিত ওই চিঠিতে বিচারক এলিনর রস স্পষ্ট করে লিখেছেন যে, তাঁর নেওয়া সেই পদক্ষেপগুলো স্পষ্টতই ভুল ছিল এবং নিজের এমন আচরণের পক্ষে দেখানোর মতো কোনো অজুহাত তাঁর কাছে নেই। গত বছর ১১তম জুডিশিয়াল সার্কিটের প্রধান বিচারকের নির্দেশে শুরু হওয়া এক তদন্তে জানা যায়, ২০১৪ সালে তৎকালীন ডেমোক্র্যাট প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামা কর্তৃক মনোনীত এই ফেডারেল বিচারক আদালতের কাজের সময় নিজের চেম্বারেই এক উচ্চপদস্থ পুলিশ কর্মকর্তার সাথে অনৈতিক সম্পর্কে জড়াতেন, যা আদালতের অন্যান্য কর্মচারীদের কানেও পৌঁছাত।
তদন্ত প্রতিবেদন অনুযায়ী, বিচারক এলিনর রসের এই অনৈতিক কর্মকাণ্ডের বিষয়টি প্রথম সবার সামনে নিয়ে আসেন তাঁরই এক ল ক্লার্ক বা আইন সহকারী। অভিযোগ ওঠার পর প্রথমদিকে বিচারক রস তাঁর বিরুদ্ধে আনা সমস্ত অভিযোগ সম্পূর্ণ অস্বীকার করেন এবং প্রধান বিচারকের কাছে দাবি করেন যে, অফিসে বেশি কাজ করানোর প্রতিশোধ নিতেই হয়তো সেই আইন সহকারী এই ধরনের মিথ্যা গল্প সাজিয়েছেন। তবে নিরপেক্ষ তদন্ত কমিটির অনুসন্ধানে আদালতের নিরাপত্তা ক্যামেরার ফুটেজ এবং প্রবেশ লগে দেখা যায়, দুপুরের খাবারের সময় প্রায়ই ইউনিফর্ম পরিহিত ওই পুলিশ কর্মকর্তা বিচারকের চেম্বারে যাতায়াত করতেন।
পরবর্তীতে তদন্তে সব প্রমাণ নিশ্চিত হওয়ার পর এলিনর রসকে একটি ‘ব্যক্তিগত তিরস্কার’ করা হয় এবং শাস্তি হিসেবে তাঁকে ভবিষ্যতে আদালতের প্রধান বিচারক পদের দৌড়ে অংশ না নেওয়ার শর্ত দেওয়া হয়। একই সাথে তাঁর অধীনে কাজ করা ছয়জন সাবেক আইন সহকারীর কাছে লিখিতভাবে ক্ষমা চাওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়। নিজের বর্তমান চিঠিতে বিচারক রস তাঁর পূর্বের করা মিথ্যা অভিযোগের জন্য সাবেক সেই কর্মীর কাছে বিশেষভাবে ক্ষমা চেয়ে লিখেছেন, ক্ষুব্ধ হয়ে কর্মীর বিরুদ্ধে মিথ্যা পাল্টা অভিযোগ আনার জন্য তিনি আজ গভীরভাবে অনুতপ্ত।
তদন্তে আরও বেরিয়ে আসে যে, বিচারক রস নিজের কাজের প্রতিও উদাসীন ছিলেন এবং আইন সহকারীদের তৈরি করা দেওয়ানি মামলার খসড়া আদেশগুলো তিনি নিজে খুব একটা সংশোধন বা তদারকি করতেন না। এছাড়া একবার এক জেলা অ্যাটর্নির নির্বাচনী বিজয় উৎসবে যোগ দিয়ে অতিরিক্ত মদ্যপান করার কারণে পরদিন আদালতে আসা ইন্টার্নদের সাথে দুপুরের খাবার খেতেও তিনি অস্বীকৃতি জানিয়েছিলেন। আমেরিকার আইন অনুযায়ী ফেডারেল বিচারকরা আজীবন মেয়াদে নিযুক্ত হন এবং কেবল কংগ্রেসের অভিশংসনের মাধ্যমেই তাদের অপসারণ করা সম্ভব। ইতিমধ্যেই এই ন্যক্কারজনক ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে চলতি সপ্তাহে জর্জিয়ার দুজন কংগ্রেস সদস্য বিচারক এলিনর রসের বিরুদ্ধে পৃথক অভিশংসন প্রস্তাব উত্থাপন করেছেন।
বিষয়
যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন। মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়। তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।” ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে। প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন। ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন। প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল। মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি। রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।
যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর আগস্ট ২০২৬ সালের ভিসা বুলেটিন প্রকাশ করেছে। নতুন এই আপডেটে পরিবারভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি দেখা গেছে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের স্থায়ী বাসিন্দাদের স্বামী, স্ত্রী ও সন্তানদের জন্য নির্ধারিত এফ২এ ক্যাটাগরিতে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এসেছে। নতুন ভিসা বুলেটিন অনুযায়ী, পরিবারভিত্তিক কয়েকটি ক্যাটাগরিতে অপেক্ষার সময় কমার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এর মধ্যে এফ২এ ক্যাটাগরির অগ্রগতি সবচেয়ে বেশি, যেখানে যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডধারীদের স্বামী-স্ত্রী ও অবিবাহিত সন্তানদের আবেদন অন্তর্ভুক্ত থাকে। এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের অবিবাহিত প্রাপ্তবয়স্ক সন্তানদের জন্য এফ১ ক্যাটাগরি এবং অন্যান্য পরিবারভিত্তিক ক্যাটাগরিতেও কিছু অগ্রগতি দেখা গেছে। তবে আবেদনকারীদের ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার তারিখ বা প্রায়োরিটি ডেট অনুযায়ীই পরবর্তী ধাপ নির্ধারণ হবে। ভিসা বুলেটিনে বলা হয়েছে, পরিবারভিত্তিক অভিবাসন ভিসার সংখ্যা প্রতিবছর নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে দেওয়া হয়। তাই কোনো ক্যাটাগরিতে চাহিদা বেশি হলে অপেক্ষার সময় বাড়তে পারে এবং কম হলে তারিখ এগিয়ে আসতে পারে। অন্যদিকে কর্মসংস্থানভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য পরিস্থিতি তুলনামূলক কঠিন রয়েছে। বিশেষ করে কিছু এমপ্লয়মেন্ট-বেসড ক্যাটাগরিতে দীর্ঘ অপেক্ষা ও সীমিত ভিসা সংখ্যার কারণে আবেদনকারীদের অনিশ্চয়তা অব্যাহত রয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ী বসবাসের জন্য আবেদনকারীদের কাছে ভিসা বুলেটিন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এই তালিকার মাধ্যমে জানা যায়, কোন আবেদনকারীরা গ্রিন কার্ডের পরবর্তী ধাপে এগিয়ে যেতে পারবেন এবং কারা এখনও অপেক্ষার তালিকায় থাকবেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, নতুন এই পরিবর্তন অনেক পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীর জন্য আশার খবর হলেও, প্রতিটি আবেদনকারীর পরিস্থিতি নির্ভর করবে তাদের আবেদন জমার তারিখ, দেশভিত্তিক সীমা এবং ভিসা ক্যাটাগরির ওপর। যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ব্যবস্থায় দীর্ঘদিন ধরে গ্রিন কার্ডের অপেক্ষার তালিকা বড় একটি বিষয় হয়ে আছে। নতুন ভিসা বুলেটিনে পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীদের জন্য অগ্রগতি দেখা গেলেও, সব আবেদনকারী একইভাবে সুবিধা পাবেন না।
২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো। প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে। এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে। অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে। স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে। সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে। সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।
যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে। এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন। নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি। উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।” বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে। এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে। শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়। উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত। এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।
যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে এক মর্মান্তিক ও লোমহর্ষক ঘটনার জন্ম দিয়েছে দুই তরুণী বোন। দিনদুপুরে ক্যারোলিন ‘কারো’ পেনা নামের ৩২ বছর বয়সী এক নারীকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগে তাদের গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। নিহত নারী পাঁচ সন্তানের জননী ছিলেন। তবে সবচেয়ে শিউরে ওঠার মতো বিষয় হলো, গ্রেপ্তারের সময় অভিযুক্তদের চেহারায় অনুশোচনার সামান্যতম ছাপ তো ছিলই না, উল্টো তাদের মুখে পৈশাচিক হাসি দেখা গেছে। মেক্সিকো সীমান্তের কাছের শহর দেল রিও থেকে বৃহস্পতিবার বিকেলে পুলিশ তাদের হাতকড়া পরিয়ে নিয়ে যাওয়ার সময় এই দৃশ্য ক্যামেরায় ধরা পড়ে। আরও পড়ুন... ‘ফোনটা ধরতে পারলে হয়তো তাকে বাঁচাতে পারতাম’- টেক্সাসে পাঁচ সন্তানের মাকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা, দুই বোনসহ তিনজন গ্রেপ্তার পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নিহত ক্যারোলিনকে বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় দুপুর ২টার পরপরই গুরুতর জখম অবস্থায় ভাল ভার্দে রিজিওনাল মেডিকেল সেন্টারে নেওয়া হয়। তার শরীরে একাধিক ছুরিকাঘাতের চিহ্ন ছিল। ঘটনাস্থলের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, একটি সনিক ড্রাইভ-থ্রু রেস্তোরাঁর বাইরে রক্তাক্ত অবস্থায় ক্যারোলিন তার তিন হামলাকারীর মুখোমুখি দাঁড়িয়ে আছেন। পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য সান আন্তোনিওর একটি হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছায় এবং প্রায় ৩৫ হাজার বাসিন্দার শহর দেল রিওতে অভিযান চালিয়ে হামলাকারীদের শনাক্ত করে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া গ্রেপ্তারের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, ২১ বছর বয়সী কিটি মিয়া দিয়াজ খালি পায়ে হেঁটে যাওয়ার সময় পুলিশের গাড়িতে ওঠার আগে মৃদু হাসছেন। কিটি নিজেও এক শিশুপুত্রের মা। অন্যদিকে, তার ১৯ বছর বয়সী ছোট বোন আমায়া কুকি দিয়াজ ক্যামেরার দিকে তাকিয়ে নির্লজ্জভাবে দাঁত বের করে হাসতে থাকেন। ▶️ টেক্সাসে নিজের মাকে নির্মমভাবে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুই মেয়ে | এমনকি ভিডিও ধারণকারীকে ব্যঙ্গাত্মক সুরে ‘রেকর্ড করা বন্ধ করো’ বলেও চিৎকার করতে শোনা যায় তাকে। দেল রিও পুলিশ জানিয়েছে, এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ২১ বছর বয়সী কায়ান্দ্রা রেনি ফাজ নামের তৃতীয় আরেক নারীকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে ঠিক কী কারণে এই নারকীয় হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে, সে বিষয়ে পুলিশ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি।
আমেরিকা
View moreযুক্তরাষ্ট্রকে এআই প্রযুক্তিতে বিশ্বনেতৃত্বের অবস্থানে রাখতে পুরোনো পারমাণবিক স্থাপনাগুলোকে নতুনভাবে কাজে লাগানোর উদ্যোগ নিয়েছে ট্রাম্প প্রশাসন। সরকারের পরিকল্পনা অনুযায়ী, সাবেক ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ কেন্দ্র ও জ্বালানি বিভাগের মালিকানাধীন কিছু স্থানে বিশাল আকারের এআই ডেটা সেন্টার এবং সেগুলোর জন্য প্রয়োজনীয় বিদ্যুৎ অবকাঠামো গড়ে তোলা হবে। সাম্প্রতিক ঘোষণায় কেনটাকির প্যাডুকাহে অবস্থিত একটি সাবেক ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ কেন্দ্রের স্থানে প্রায় ১০০ বিলিয়ন ডলারের একটি এআই ক্যাম্পাস নির্মাণের পরিকল্পনা তুলে ধরা হয়েছে। প্রকল্পটি বাস্তবায়ন করবে ব্রুকফিল্ড ও নেক্সটএরা এনার্জি। এতে বড় আকারের ডেটা সেন্টারের পাশাপাশি প্রাকৃতিক গ্যাসভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্র এবং ব্যাটারি স্টোরেজ সুবিধাও থাকবে। প্রথম ধাপ ২০২৮ সালে চালু এবং পুরো প্রকল্প ২০৩২ সালের মধ্যে শেষ করার লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে। ট্রাম্প প্রশাসনের দাবি, এআই প্রযুক্তির দ্রুত বিস্তারের কারণে বিপুল পরিমাণ নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুতের প্রয়োজন হচ্ছে। সে কারণেই বিদ্যমান ফেডারেল জমি ও অবকাঠামো ব্যবহার করে ডেটা সেন্টার নির্মাণের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। প্রশাসনের মতে, এতে নতুন জমি অধিগ্রহণের প্রয়োজন কমবে এবং যুক্তরাষ্ট্রের প্রযুক্তিগত প্রতিযোগিতা আরও শক্তিশালী হবে। এর আগে ট্রাম্প একটি নির্বাহী আদেশে জ্বালানি বিভাগকে নির্দেশ দেন, ফেডারেল মালিকানাধীন বিভিন্ন স্থানে উন্নত পারমাণবিক প্রযুক্তি ব্যবহার করে এআই অবকাঠামোর জন্য নির্ভরযোগ্য বিদ্যুৎ সরবরাহের ব্যবস্থা করতে। পাশাপাশি সামরিক ও জাতীয় নিরাপত্তাসংশ্লিষ্ট স্থাপনায়ও উন্নত পারমাণবিক রিঅ্যাক্টর ব্যবহারের পরিকল্পনা রয়েছে। তবে এই পরিকল্পনা নিয়ে বিতর্কও রয়েছে। পরিবেশবিদ ও স্থানীয় বাসিন্দাদের একাংশের আশঙ্কা, বড় আকারের ডেটা সেন্টার নির্মাণে বিদ্যুৎ, পানি ও পরিবেশের ওপর অতিরিক্ত চাপ তৈরি হতে পারে। অন্যদিকে প্রশাসনের দাবি, প্রকল্পগুলো মূলত বেসরকারি বিনিয়োগে বাস্তবায়িত হবে এবং এর ব্যয় সাধারণ বিদ্যুৎ গ্রাহকদের ওপর চাপিয়ে দেওয়া হবে না।
'এভাবে চললে দেশের ক্ষতি বাড়তেই থাকবে’, জন্মসূত্রে নাগরিকত্ব ও শুল্ক নিয়ে সুপ্রিম কোর্টের রায়ে ক্ষুব্ধ ট্রাম্প!
৩৩ বছর পালিয়ে শেষ রক্ষা হলো না, শিশু যৌননিপীড়কের প্রায় ৩০০ বছরের কারাদণ্ড!
ক্যালিফোর্নিয়ার উত্তাল সাগরে মৃত্যুর মুখ থেকে ১০ বছরের শিশুকে ফিরিয়ে আনলেন ১৬ বছরের লাইফগার্ড
জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে তাপপ্রবাহের ঝুঁকি বাড়তে থাকায় যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্ক সিটি নগরজুড়ে বৃক্ষের আচ্ছাদন বাড়ানোর নতুন পরিকল্পনা নিয়েছে। গত আট বছরে ১০ লাখ গাছ রোপণের উদ্যোগের সুফল দৃশ্যমান হওয়ার পর এবার ২০৪০ সালের মধ্যে শহরের মোট ভূমির ৩০ শতাংশ এলাকাকে বৃক্ষাচ্ছাদনের আওতায় আনার লক্ষ্য নির্ধারণ করেছে নগর কর্তৃপক্ষ। নিউইয়র্ক সিটির কর্মকর্তাদের মতে, শহরের বিভিন্ন এলাকায় পরিণত বয়সে পৌঁছানো গাছগুলো এখন গ্রীষ্মের তীব্র গরম কমাতে ছায়া দিচ্ছে, বায়ুর মান উন্নত করছে এবং বাসিন্দাদের জন্য বসবাসের পরিবেশ আরও আরামদায়ক করে তুলছে। একই সঙ্গে বৃক্ষ শহরের বৃষ্টির পানি শোষণে সহায়তা করে জলাবদ্ধতার ঝুঁকি কমায় এবং নগর পরিবেশকে জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব মোকাবিলায় আরও সহনশীল করে তোলে। নগর কর্তৃপক্ষের তথ্য অনুযায়ী, বর্তমানে নিউইয়র্কের প্রায় ২৩ শতাংশ এলাকা বৃক্ষাচ্ছাদনের আওতায় রয়েছে। নতুন ‘আরবান ফরেস্ট’ পরিকল্পনার লক্ষ্য হলো এই হার বাড়িয়ে ২০৪০ সালের মধ্যে ৩০ শতাংশে উন্নীত করা। এজন্য নতুন গাছ লাগানোর পাশাপাশি বিদ্যমান বড় গাছ সংরক্ষণ, নিয়মিত পরিচর্যা এবং ব্যক্তিমালিকানাধীন জমিতেও বৃক্ষ রোপণে উৎসাহ দেওয়া হবে। পরিকল্পনায় বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে সেই সব এলাকাকে, যেখানে গাছের সংখ্যা কম এবং তাপপ্রবাহের প্রভাব তুলনামূলক বেশি। বিশেষজ্ঞদের মতে, নিম্নআয়ের অনেক পাড়ায় পর্যাপ্ত বৃক্ষ না থাকায় সেসব এলাকায় গরমের তীব্রতা বেশি অনুভূত হয়। তাই নতুন কর্মসূচিতে তাপঝুঁকিপূর্ণ এলাকাগুলোকে অগ্রাধিকার দেওয়া হচ্ছে। নিউইয়র্ক সিটি পার্কস বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, সংস্থাটি বর্তমানে শহরের পার্কে থাকা প্রায় ২০ লাখ গাছ এবং সড়কের পাশে থাকা আরও প্রায় ৬ লাখ ৬০ হাজার গাছের পরিচর্যা করে। ২০২৪ অর্থবছরে শহরে ১৮ হাজারের বেশি নতুন গাছ লাগানো হয়েছে, যা গত আট বছরের মধ্যে সর্বোচ্চ। একই সঙ্গে অতিরিক্ত বিনিয়োগের মাধ্যমে ২০২৭ সালের মধ্যে সবচেয়ে তাপঝুঁকিপূর্ণ এলাকাগুলোর উপযুক্ত সব স্থানে নতুন গাছ লাগানোর পরিকল্পনাও রয়েছে। নগর এলাকায় বৃক্ষের পরিমাণ বাড়ানো শুধু সৌন্দর্য বৃদ্ধি করে না, এটি তাপমাত্রা কমাতে, বায়ুদূষণ হ্রাসে, কার্বন শোষণে, জীববৈচিত্র্য রক্ষায় এবং জনস্বাস্থ্য উন্নয়নেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে বিশ্বের বিভিন্ন শহরে তাপপ্রবাহ বাড়তে থাকায় নিউইয়র্কের এই উদ্যোগকে ভবিষ্যৎ নগর পরিকল্পনার একটি উল্লেখযোগ্য উদাহরণ হিসেবে দেখা হচ্ছে।
নিউইয়র্কে $১০০ নিয়ে কাঁচাবাজারে গেলে এখন কী কী কেনা যায়? এক বছরে কত বেড়েছে নিত্যপণ্যের দাম
চিকিৎসা সেবার নামে চরম প্রতারণা: রোগীদের অজান্তে নিজের শুক্রাণু ব্যবহারের অভিযোগে কাঠগড়ায় মার্কিন চিকিৎসক
যুক্তরাষ্ট্রে তিন দিনে ১৩ দোকান থেকে ৭৫ হাজার ডলারের প্রসাধনী চুরির অভিযোগে দুই বোন গ্রেপ্তার
মিশিগানের মেট্রো ডেট্রয়েটের বাসিন্দা ট্রেসি ব্রুমফিল্ডের জীবন বদলে দেয় এক সড়ক দুর্ঘটনা। ৩৪ বছর বয়সে মন্টানায় পার্টনার সাথে রোড ট্রিপে গিয়েছিলেন তিনি। ইয়েলোস্টোন ন্যাশনাল পার্ক ঘুরে পশ্চিম উপকূলের দিকে যাওয়ার সময় বৃষ্টিতে রাস্তায় পানি জমে গাড়ি স্কিড করে পাহাড়ের সাথে ধাক্কা খায়। দুর্ঘটনার পর দুজনকেই আপাতদৃষ্টিতে ঠিক মনে হলেও বুকে ব্যথা অনুভব করায় হাসপাতালে যান ট্রেসি। সিটি স্ক্যানে দেখা গেল, দুর্ঘটনায় কোনো আঘাত না থাকলেও অগ্ন্যাশয়ে (প্যানক্রিয়াস) একটি ভর (মাস) রয়েছে। এটি ছিল 'সলিড সিউডোপ্যাপিলারি টিউমার', অগ্ন্যাশয়ের অত্যন্ত বিরল এক ধরনের টিউমার। মেডিক্যাল জার্নাল রেডিওপিডিয়ার তথ্যমতে, এক্সোক্রাইন প্যানক্রিয়াটিক টিউমারের মাত্র ১ থেকে ২ শতাংশ হয় এই টিউমার। বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই এই টিউমার সৌম্য (বেনাইন) হলেও প্রায় ১৫ শতাংশ ক্ষেত্রে তা মারাত্মক (ম্যালিগন্যান্ট) হতে পারে। ট্রেসির সার্জন জানান, সময়মতো অপসারণ না করলে টিউমারটি ক্যান্সারে রূপ নিতে পারত। ভাগ্যক্রমে অস্ত্রোপচারের মাধ্যমে পুরো টিউমারটি অপসারণ করা সম্ভব হয়। তবে অগ্ন্যাশয়ের অর্ধেক অংশ কেটে ফেলায় পরবর্তীতে ডায়াবেটিসে আক্রান্ত হন তিনি। অস্ত্রোপচারের পর তিন মাসের মধ্যেই সেরে ওঠেন ট্রেসি। কিন্তু এই সময়টি ছিল তার জীবনের সবচেয়ে কঠিন সময়—দুর্ঘটনা, টিউমার আবিষ্কার, অস্ত্রোপচার এবং একই সময়ে বাবার মৃত্যু। নিউজউইককে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ট্রেসি বলেন, 'আমি পুরোপুরি ভাগ্যবান বোধ করছি যে গাড়ি দুর্ঘটনাটি ঘটেছিল এবং টিউমারটি আবিষ্কৃত হয়েছিল।' সম্প্রতি থ্রেডস অ্যাকাউন্টে পেটের দাগের ছবি শেয়ার করে তিনি লেখেন, 'অন্তত একটি মজার গল্প তো আছে!' চিকিৎসাবিজ্ঞানীরা বলছেন, প্যানক্রিয়াসের টিউমার প্রাথমিক পর্যায়ে কোনো উপসর্গ দেয় না বলে তা শনাক্ত করা কঠিন। ট্রেসির মতো আকস্মিক আবিষ্কারই অনেক ক্ষেত্রে রোগীকে বাঁচিয়ে দেয়। এই ঘটনা নিয়মিত চিকিৎসা পরীক্ষার গুরুত্ব ও সচেতনতার বার্তা দেয় বলেও মনে করছেন তারা।
৬০ হাজার ডলারের রোবট শিক্ষক নিয়ে বিতর্ক, নিউইয়র্কে থমকে গেল এআই রোবট শিক্ষক চালুর উদ্যো
এক দেহে দুই মাথা, সব শঙ্কা উড়িয়ে সুস্থভাবে বেড়ে উঠছে বিরল গেকো