আমেরিকা

আমেরিকার গ্রামে প্রযুক্তি পার্ক বন্ধের দাবিতে সাধারণ মানুষের ঐতিহাসিক গণভোটের ডাক

তাবাস্সুম মোহাম্মদ প্রকাশ: জুন ১৪, ২০২৬ ১০:৩৯
ছবি: সংগৃহীত
ছবি: সংগৃহীত

যুক্তরাষ্ট্রের জর্জিয়া অঙ্গরাজ্যের প্রত্যন্ত কোয়েটা কাউন্টিতে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই প্রযুক্তির জন্য বিশাল কম্পিউটার ডাটা সেন্টার বা প্রযুক্তি পার্ক তৈরির সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে কোমর বেঁধে মাঠে নেমেছেন স্থানীয় সাধারণ মানুষ। ‘প্রজেক্ট সেল’ নামের আটশ একরেরও বেশি বড় এই ডাটা সেন্টারটির নির্মাণকাজ রুখে দিতে তারা সেখানে এক বিশাল গণস্বাক্ষর অভিযান শুরু করেছেন। নিজেদের গ্রামীণ পরিবেশ, চাষের জমি, ভূগর্ভস্থ পানি ও সামগ্রিক প্রকৃতি রক্ষা করতে এবার সম্পূর্ণ একজোট হয়েছেন আমেরিকার এই প্রান্তিক অঞ্চলের হাজার হাজার বাসিন্দা।

 

কয়েক সপ্তাহ আগে শুরু হওয়া এই গণস্বাক্ষর আন্দোলনে ইতোমধ্যেই প্রায় সাড়ে ছয় হাজার স্থানীয় মানুষ নিজেদের নাম তালিকাভুক্ত করেছেন। এই আন্দোলনের মূল লক্ষ্য হলো দ্রুততম সময়ের মধ্যে ১৪ হাজার মানুষের নিশ্চিত স্বাক্ষর সংগ্রহ করা। যদি এই গণস্বাক্ষর অভিযান সফল হয়, তবে জর্জিয়া অঙ্গরাজ্যের ইতিহাসে এটি হবে মাত্র তৃতীয় ঘটনা যেখানে সাধারণ জনগণের সরাসরি ভোটের মাধ্যমে স্থানীয় প্রশাসনের নেওয়া কোনো নীতি বা সিদ্ধান্তকে চ্যালেঞ্জ করার আইনি সুযোগ তৈরি হবে।

 

সাম্প্রতিক এক জাতীয় জরিপের ফলাফলে দেখা গেছে, আমেরিকার প্রতি ১০ জনের মধ্যে ৭ জন মানুষই তাদের বসতবাড়ির কাছাকাছি এমন বড় কোনো প্রযুক্তি পার্ক বা ডাটা সেন্টার তৈরির তীব্র বিরোধিতা করছেন। আন্দোলনকারীরা জানিয়েছেন, এই বিশাল প্রকল্পের কারণে গ্রামীণ এলাকায় মারাত্মক শব্দদূষণ বাড়বে এবং সার্ভার ঠান্ডা রাখতে প্রচুর পরিমাণে পানি ও বিদ্যুৎ ব্যবহারের ফলে সাধারণ মানুষের দৈনন্দিন জীবনযাত্রার ওপর চরম অর্থনৈতিক ও সামাজিক চাপ পড়বে।

 

পরিবেশবাদী বিভিন্ন সংগঠনের গবেষকরাও এই বিষয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করে সতর্কবাণী উচ্চারণ করেছেন। তাদের মতে, এই বিশাল কনস্ট্রাকশন বা নির্মাণকাজের ফলে স্থানীয় নদীগুলোতে পলি জমে পানির স্বাভাবিক তাপমাত্রা পরিবর্তন হতে পারে, যা মাছসহ বিভিন্ন জলজ প্রাণীর জন্য মারাত্মক ক্ষতিকর হবে। একই সাথে বনাঞ্চল ধ্বংস করার কারণে বন্যপ্রাণী ও প্রাকৃতিক ভারসাম্য পুরোপুরি নষ্ট হয়ে যাওয়ার সুনির্দিষ্ট আশঙ্কা রয়েছে।

 

কোয়েটা কাউন্টির স্থানীয় প্রশাসন সাধারণ মানুষের এই দীর্ঘদিনের উদ্বেগ ও আপত্তির বিষয়গুলোকে উপেক্ষা করে জমিটিকে গ্রামীণ সংরক্ষণ এলাকা থেকে শিল্প এলাকা হিসেবে ঘোষণা করায় ক্ষোভ আরও তীব্র হয়েছে। এর আগে ক্যালিফোর্নিয়ার মন্টেরি পার্ক নামক শহরটি আমেরিকার প্রথম শহর হিসেবে এই ধরনের ডাটা সেন্টারের বিরুদ্ধে গণভোটে জয়লাভ করেছিল। আমেরিকার এই প্রত্যন্ত অঞ্চলের মানুষের তৈরি হওয়া আন্দোলন এখন দেশের অন্যান্য অঞ্চলের মানুষদেরও বড় বড় কর্পোরেট আগ্রাসনের বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়ানোর নতুন সাহস জোগাচ্ছে।

জনপ্রিয় সংবাদ
বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনার পর তরুণীর মৃত্যু, এক বছরের সাজায় ক্যালিফোর্নিয়ার আইন পরিবর্তনের দাবি

যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন।   মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়।   তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।”   ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে।   প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন।   ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন।   প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল।   মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি।   রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।

যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডে বড় পরিবর্তন, পরিবারভিত্তিক ভিসা আবেদনকারীদের জন্য সুখবর

যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর আগস্ট ২০২৬ সালের ভিসা বুলেটিন প্রকাশ করেছে। নতুন এই আপডেটে পরিবারভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি দেখা গেছে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের স্থায়ী বাসিন্দাদের স্বামী, স্ত্রী ও সন্তানদের জন্য নির্ধারিত এফ২এ ক্যাটাগরিতে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এসেছে।   নতুন ভিসা বুলেটিন অনুযায়ী, পরিবারভিত্তিক কয়েকটি ক্যাটাগরিতে অপেক্ষার সময় কমার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এর মধ্যে এফ২এ ক্যাটাগরির অগ্রগতি সবচেয়ে বেশি, যেখানে যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডধারীদের স্বামী-স্ত্রী ও অবিবাহিত সন্তানদের আবেদন অন্তর্ভুক্ত থাকে।   এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের অবিবাহিত প্রাপ্তবয়স্ক সন্তানদের জন্য এফ১ ক্যাটাগরি এবং অন্যান্য পরিবারভিত্তিক ক্যাটাগরিতেও কিছু অগ্রগতি দেখা গেছে। তবে আবেদনকারীদের ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার তারিখ বা প্রায়োরিটি ডেট অনুযায়ীই পরবর্তী ধাপ নির্ধারণ হবে।   ভিসা বুলেটিনে বলা হয়েছে, পরিবারভিত্তিক অভিবাসন ভিসার সংখ্যা প্রতিবছর নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে দেওয়া হয়। তাই কোনো ক্যাটাগরিতে চাহিদা বেশি হলে অপেক্ষার সময় বাড়তে পারে এবং কম হলে তারিখ এগিয়ে আসতে পারে।   অন্যদিকে কর্মসংস্থানভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য পরিস্থিতি তুলনামূলক কঠিন রয়েছে। বিশেষ করে কিছু এমপ্লয়মেন্ট-বেসড ক্যাটাগরিতে দীর্ঘ অপেক্ষা ও সীমিত ভিসা সংখ্যার কারণে আবেদনকারীদের অনিশ্চয়তা অব্যাহত রয়েছে।   যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ী বসবাসের জন্য আবেদনকারীদের কাছে ভিসা বুলেটিন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এই তালিকার মাধ্যমে জানা যায়, কোন আবেদনকারীরা গ্রিন কার্ডের পরবর্তী ধাপে এগিয়ে যেতে পারবেন এবং কারা এখনও অপেক্ষার তালিকায় থাকবেন।   বিশেষজ্ঞদের মতে, নতুন এই পরিবর্তন অনেক পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীর জন্য আশার খবর হলেও, প্রতিটি আবেদনকারীর পরিস্থিতি নির্ভর করবে তাদের আবেদন জমার তারিখ, দেশভিত্তিক সীমা এবং ভিসা ক্যাটাগরির ওপর।   যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ব্যবস্থায় দীর্ঘদিন ধরে গ্রিন কার্ডের অপেক্ষার তালিকা বড় একটি বিষয় হয়ে আছে। নতুন ভিসা বুলেটিনে পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীদের জন্য অগ্রগতি দেখা গেলেও, সব আবেদনকারী একইভাবে সুবিধা পাবেন না।

মার্কিন ভিসা আপডেট ২০২৬! বাংলাদেশিদের জন্য কোন ভিসা বন্ধ, কোনটা চালু?

২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো।   প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে।   এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে।   অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে।   স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে।   সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে।   সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।

যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশি মালিকানাধীন বিশ্ববিদ্যালয়ের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধন

যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে।   এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন।   নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি।   উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।”   বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে।   এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে।   শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়।   উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন।   বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত।   এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।

পাঁচ সন্তানকে এতিম করে মাকে কুপিয়ে হত্যা, গ্রেপ্তারের সময়ও হাসছিল ঘাতক দুই বোন

যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে এক মর্মান্তিক ও লোমহর্ষক ঘটনার জন্ম দিয়েছে দুই তরুণী বোন। দিনদুপুরে ক্যারোলিন ‘কারো’ পেনা নামের ৩২ বছর বয়সী এক নারীকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগে তাদের গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। নিহত নারী পাঁচ সন্তানের জননী ছিলেন। তবে সবচেয়ে শিউরে ওঠার মতো বিষয় হলো, গ্রেপ্তারের সময় অভিযুক্তদের চেহারায় অনুশোচনার সামান্যতম ছাপ তো ছিলই না, উল্টো তাদের মুখে পৈশাচিক হাসি দেখা গেছে। মেক্সিকো সীমান্তের কাছের শহর দেল রিও থেকে বৃহস্পতিবার বিকেলে পুলিশ তাদের হাতকড়া পরিয়ে নিয়ে যাওয়ার সময় এই দৃশ্য ক্যামেরায় ধরা পড়ে।   আরও পড়ুন... ‘ফোনটা ধরতে পারলে হয়তো তাকে বাঁচাতে পারতাম’- টেক্সাসে পাঁচ সন্তানের মাকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা, দুই বোনসহ তিনজন গ্রেপ্তার   পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নিহত ক্যারোলিনকে বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় দুপুর ২টার পরপরই গুরুতর জখম অবস্থায় ভাল ভার্দে রিজিওনাল মেডিকেল সেন্টারে নেওয়া হয়। তার শরীরে একাধিক ছুরিকাঘাতের চিহ্ন ছিল। ঘটনাস্থলের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, একটি সনিক ড্রাইভ-থ্রু রেস্তোরাঁর বাইরে রক্তাক্ত অবস্থায় ক্যারোলিন তার তিন হামলাকারীর মুখোমুখি দাঁড়িয়ে আছেন।   পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য সান আন্তোনিওর একটি হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছায় এবং প্রায় ৩৫ হাজার বাসিন্দার শহর দেল রিওতে অভিযান চালিয়ে হামলাকারীদের শনাক্ত করে।   সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া গ্রেপ্তারের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, ২১ বছর বয়সী কিটি মিয়া দিয়াজ খালি পায়ে হেঁটে যাওয়ার সময় পুলিশের গাড়িতে ওঠার আগে মৃদু হাসছেন। কিটি নিজেও এক শিশুপুত্রের মা। অন্যদিকে, তার ১৯ বছর বয়সী ছোট বোন আমায়া কুকি দিয়াজ ক্যামেরার দিকে তাকিয়ে নির্লজ্জভাবে দাঁত বের করে হাসতে থাকেন।   ▶️ টেক্সাসে নিজের মাকে নির্মমভাবে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুই মেয়ে |   এমনকি ভিডিও ধারণকারীকে ব্যঙ্গাত্মক সুরে ‘রেকর্ড করা বন্ধ করো’ বলেও চিৎকার করতে শোনা যায় তাকে। দেল রিও পুলিশ জানিয়েছে, এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ২১ বছর বয়সী কায়ান্দ্রা রেনি ফাজ নামের তৃতীয় আরেক নারীকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে ঠিক কী কারণে এই নারকীয় হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে, সে বিষয়ে পুলিশ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি।

আমেরিকা

View more
তাপপ্রবাহের বিরুদ্ধে লড়াইয়ে নিউইয়র্ক
তাপপ্রবাহের বিরুদ্ধে লড়াইয়ে নিউইয়র্ক, ২০৪০ সালের মধ্যে শহরের ৩০% এলাকায় গাছ লাগানোর পরিকল্পনা

জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে তাপপ্রবাহের ঝুঁকি বাড়তে থাকায় যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্ক সিটি নগরজুড়ে বৃক্ষের আচ্ছাদন বাড়ানোর নতুন পরিকল্পনা নিয়েছে। গত আট বছরে ১০ লাখ গাছ রোপণের উদ্যোগের সুফল দৃশ্যমান হওয়ার পর এবার ২০৪০ সালের মধ্যে শহরের মোট ভূমির ৩০ শতাংশ এলাকাকে বৃক্ষাচ্ছাদনের আওতায় আনার লক্ষ্য নির্ধারণ করেছে নগর কর্তৃপক্ষ। নিউইয়র্ক সিটির কর্মকর্তাদের মতে, শহরের বিভিন্ন এলাকায় পরিণত বয়সে পৌঁছানো গাছগুলো এখন গ্রীষ্মের তীব্র গরম কমাতে ছায়া দিচ্ছে, বায়ুর মান উন্নত করছে এবং বাসিন্দাদের জন্য বসবাসের পরিবেশ আরও আরামদায়ক করে তুলছে। একই সঙ্গে বৃক্ষ শহরের বৃষ্টির পানি শোষণে সহায়তা করে জলাবদ্ধতার ঝুঁকি কমায় এবং নগর পরিবেশকে জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব মোকাবিলায় আরও সহনশীল করে তোলে।    নগর কর্তৃপক্ষের তথ্য অনুযায়ী, বর্তমানে নিউইয়র্কের প্রায় ২৩ শতাংশ এলাকা বৃক্ষাচ্ছাদনের আওতায় রয়েছে। নতুন ‘আরবান ফরেস্ট’ পরিকল্পনার লক্ষ্য হলো এই হার বাড়িয়ে ২০৪০ সালের মধ্যে ৩০ শতাংশে উন্নীত করা। এজন্য নতুন গাছ লাগানোর পাশাপাশি বিদ্যমান বড় গাছ সংরক্ষণ, নিয়মিত পরিচর্যা এবং ব্যক্তিমালিকানাধীন জমিতেও বৃক্ষ রোপণে উৎসাহ দেওয়া হবে। পরিকল্পনায় বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে সেই সব এলাকাকে, যেখানে গাছের সংখ্যা কম এবং তাপপ্রবাহের প্রভাব তুলনামূলক বেশি। বিশেষজ্ঞদের মতে, নিম্নআয়ের অনেক পাড়ায় পর্যাপ্ত বৃক্ষ না থাকায় সেসব এলাকায় গরমের তীব্রতা বেশি অনুভূত হয়। তাই নতুন কর্মসূচিতে তাপঝুঁকিপূর্ণ এলাকাগুলোকে অগ্রাধিকার দেওয়া হচ্ছে।    নিউইয়র্ক সিটি পার্কস বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, সংস্থাটি বর্তমানে শহরের পার্কে থাকা প্রায় ২০ লাখ গাছ এবং সড়কের পাশে থাকা আরও প্রায় ৬ লাখ ৬০ হাজার গাছের পরিচর্যা করে। ২০২৪ অর্থবছরে শহরে ১৮ হাজারের বেশি নতুন গাছ লাগানো হয়েছে, যা গত আট বছরের মধ্যে সর্বোচ্চ। একই সঙ্গে অতিরিক্ত বিনিয়োগের মাধ্যমে ২০২৭ সালের মধ্যে সবচেয়ে তাপঝুঁকিপূর্ণ এলাকাগুলোর উপযুক্ত সব স্থানে নতুন গাছ লাগানোর পরিকল্পনাও রয়েছে।  নগর এলাকায় বৃক্ষের পরিমাণ বাড়ানো শুধু সৌন্দর্য বৃদ্ধি করে না, এটি তাপমাত্রা কমাতে, বায়ুদূষণ হ্রাসে, কার্বন শোষণে, জীববৈচিত্র্য রক্ষায় এবং জনস্বাস্থ্য উন্নয়নেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে বিশ্বের বিভিন্ন শহরে তাপপ্রবাহ বাড়তে থাকায় নিউইয়র্কের এই উদ্যোগকে ভবিষ্যৎ নগর পরিকল্পনার একটি উল্লেখযোগ্য উদাহরণ হিসেবে দেখা হচ্ছে।

আমেরিকা বাংলা ডেস্ক প্রকাশ: জুলাই ৩০, ২০২৬ ০:৪০
নিউইয়র্কের জ্যাকসন হাইটসে নিত্যপণ্যের দাম বেড়ে বাজার খরচে চাপ বেড়েছে। ছবি: সংগৃহীত

নিউইয়র্কে $১০০ নিয়ে কাঁচাবাজারে গেলে এখন কী কী কেনা যায়? এক বছরে কত বেড়েছে নিত্যপণ্যের দাম

ডিএনএ পরীক্ষার ফল প্রকাশের পর নর্থ ডাকোটায় দায়ের হয়েছে নতুন মামলা। ছবি: সংগৃহীত

চিকিৎসা সেবার নামে চরম প্রতারণা: রোগীদের অজান্তে নিজের শুক্রাণু ব্যবহারের অভিযোগে কাঠগড়ায় মার্কিন চিকিৎসক

অ্যারিজোনায় প্রসাধনী চুরির মামলায় অভিযুক্ত দুই বোন। ছবি: সংগৃহীত

যুক্তরাষ্ট্রে তিন দিনে ১৩ দোকান থেকে ৭৫ হাজার ডলারের প্রসাধনী চুরির অভিযোগে দুই বোন গ্রেপ্তার

ট্রেসি ব্রুমফিল্ডের জীবন বদলে দেয় এক সড়ক দুর্ঘটনা
'ঐ দুর্ঘটনা না হলে আজ বাঁচতাম না' পাহাড়ে গাড়ি বিধ্বস্তে হাসপাতালে গিয়ে চমকে গেলো দম্পতি

মিশিগানের মেট্রো ডেট্রয়েটের বাসিন্দা ট্রেসি ব্রুমফিল্ডের জীবন বদলে দেয় এক সড়ক দুর্ঘটনা। ৩৪ বছর বয়সে মন্টানায় পার্টনার সাথে রোড ট্রিপে গিয়েছিলেন তিনি। ইয়েলোস্টোন ন্যাশনাল পার্ক ঘুরে পশ্চিম উপকূলের দিকে যাওয়ার সময় বৃষ্টিতে রাস্তায় পানি জমে গাড়ি স্কিড করে পাহাড়ের সাথে ধাক্কা খায়।     দুর্ঘটনার পর দুজনকেই আপাতদৃষ্টিতে ঠিক মনে হলেও বুকে ব্যথা অনুভব করায় হাসপাতালে যান ট্রেসি। সিটি স্ক্যানে দেখা গেল, দুর্ঘটনায় কোনো আঘাত না থাকলেও অগ্ন্যাশয়ে (প্যানক্রিয়াস) একটি ভর (মাস) রয়েছে। এটি ছিল 'সলিড সিউডোপ্যাপিলারি টিউমার', অগ্ন্যাশয়ের অত্যন্ত বিরল এক ধরনের টিউমার। মেডিক্যাল জার্নাল রেডিওপিডিয়ার তথ্যমতে, এক্সোক্রাইন প্যানক্রিয়াটিক টিউমারের মাত্র ১ থেকে ২ শতাংশ হয় এই টিউমার। বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই এই টিউমার সৌম্য (বেনাইন) হলেও প্রায় ১৫ শতাংশ ক্ষেত্রে তা মারাত্মক (ম্যালিগন্যান্ট) হতে পারে। ট্রেসির সার্জন জানান, সময়মতো অপসারণ না করলে টিউমারটি ক্যান্সারে রূপ নিতে পারত। ভাগ্যক্রমে অস্ত্রোপচারের মাধ্যমে পুরো টিউমারটি অপসারণ করা সম্ভব হয়। তবে অগ্ন্যাশয়ের অর্ধেক অংশ কেটে ফেলায় পরবর্তীতে ডায়াবেটিসে আক্রান্ত হন তিনি। অস্ত্রোপচারের পর তিন মাসের মধ্যেই সেরে ওঠেন ট্রেসি। কিন্তু এই সময়টি ছিল তার জীবনের সবচেয়ে কঠিন সময়—দুর্ঘটনা, টিউমার আবিষ্কার, অস্ত্রোপচার এবং একই সময়ে বাবার মৃত্যু। নিউজউইককে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ট্রেসি বলেন, 'আমি পুরোপুরি ভাগ্যবান বোধ করছি যে গাড়ি দুর্ঘটনাটি ঘটেছিল এবং টিউমারটি আবিষ্কৃত হয়েছিল।' সম্প্রতি থ্রেডস অ্যাকাউন্টে পেটের দাগের ছবি শেয়ার করে তিনি লেখেন, 'অন্তত একটি মজার গল্প তো আছে!'     চিকিৎসাবিজ্ঞানীরা বলছেন, প্যানক্রিয়াসের টিউমার প্রাথমিক পর্যায়ে কোনো উপসর্গ দেয় না বলে তা শনাক্ত করা কঠিন। ট্রেসির মতো আকস্মিক আবিষ্কারই অনেক ক্ষেত্রে রোগীকে বাঁচিয়ে দেয়। এই ঘটনা নিয়মিত চিকিৎসা পরীক্ষার গুরুত্ব ও সচেতনতার বার্তা দেয় বলেও মনে করছেন তারা।

আমেরিকা বাংলা ডেস্ক প্রকাশ: জুলাই ২৯, ২০২৬ ২২:৩৮
নিউইয়র্কের একটি স্কুলে ব্যবহারের জন্য পরিকল্পিত এআইচালিত মানবাকৃতির রোবট ‘স্যালি’। ছবি: সংগৃহীত

৬০ হাজার ডলারের রোবট শিক্ষক নিয়ে বিতর্ক, নিউইয়র্কে থমকে গেল এআই রোবট শিক্ষক চালুর উদ্যো

পেনসিলভানিয়ায় জন্ম নেওয়া বিরল দুই মাথার ক্রেস্টেড গেকো। ছবি: সংগৃহীত

এক দেহে দুই মাথা, সব শঙ্কা উড়িয়ে সুস্থভাবে বেড়ে উঠছে বিরল গেকো

ওহাইওতে আলোচিত হত্যা মামলার শুনানিতে অভিযুক্ত স্যামুয়েল হকস্টেটলার। ছবি: সংগৃহীত

যুক্তরাষ্ট্রে তরুণীকে ধর্ষণের পর হত্যা, এরপর পরিবারকে শেষকৃত্যের সহায়তার প্রস্তাব আমিস যুবকের

আকস্মিক হামলার জবাব হিসেবে এই সামরিক অভিযান
ব্যালিস্টিক হামলার জবাবে ইরানে সামরিক স্থাপনায় যুক্তরাষ্ট্রের বিমান হামলা, মধ্যপ্রাচ্যে বাড়ছে উত্তেজনা

যুক্তরাষ্ট্র মধ্যপ্রাচ্যে সামরিক তৎপরতা বাড়িয়েছে। ইরানের ভূখণ্ডে নতুন করে বিমান হামলা চালিয়েছে মার্কিন বাহিনী। মঙ্গলবার ইরানের পক্ষ থেকে চালানো এক সিরিজ আকস্মিক হামলার জবাব হিসেবে এই সামরিক অভিযান পরিচালনা করা হয়েছে বলে পেন্টাগন সূত্রে জানা গেছে।  খবরটি নিশ্চিত করেছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিরক্ষা কর্মকর্তারা। তাঁদের ভাষ্য অনুযায়ী, ইরানের বিভিন্ন সামরিক স্থাপনাকে লক্ষ্য করে এই হামলা চালানো হয়েছে। গত মঙ্গলবারের ঘটনার পর থেকে উপসাগরীয় অঞ্চলে মার্কিন নৌবাহিনীর অবস্থানও জোরদার করা হয়েছে। যদিও এখন পর্যন্ত হামলায় কোনো হতাহতের ঘটনা ঘটেছে কিনা, তা স্পষ্ট নয়।     যুক্তরাষ্ট্রের এই সামরিক পদক্ষেপের মধ্যেই তেলের দাম আবারও বেড়েছে। আন্তর্জাতিক বাজারে অস্থিরতা দেখা দিয়েছে। মধ্যপ্রাচ্যের এই ক্রমবর্ধমান উত্তেজনা বৈশ্বিক অর্থনীতির জন্যও উদ্বেগের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এখনও আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো প্রতিক্রিয়া জানায়নি, তবে তেহরানের কূটনৈতিক সূত্রগুলো এই হামলাকে 'আগ্রাসন' হিসেবে আখ্যায়িত করেছে।    এই প্রতিবেদন পরিস্থিতি অত্যন্ত পরিবর্তনশীল। সিরিজ হামলার পর পুরো অঞ্চলজুড়ে বাড়তি নিরাপত্তা জারি করা হয়েছে। পরিস্থিতির আরও অবনতি এড়াতে জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদ জরুরি বৈঠক ডেকেছে বলে জানা গেছে।

সামিয়া আঁখি প্রকাশ: জুলাই ২৯, ২০২৬ ২১:৪৮
দুই বছরের ব্যবধানে সড়ক দুর্ঘটনায় মা-বাবাকে হারিয়েছে কানসাসের দুই কিশোর। ছবি: সংগৃহীত

দুই বছর আগে সড়ক দুর্ঘটনায় মা ও ভাই, একই দিনে এবার মোটরসাইকেল দুর্ঘটনায় বাবাকেও হারাল দুই শিশু

১৪ মাসের শিশু হেনরি ব্রাউন। ছবি: সংগৃহীত

ক্যালিফোর্নিয়ায় ১৪ মাসের শিশুকে নির্মম নির্যাতনে হত্যা, মা ও প্রেমিকের বিভিন্ন মেয়াদে কারাদণ্ড

ভাইরাল সংঘর্ষের পর আইনি জটিলতায় জড়ানো নিউইয়র্কের আবাসন ভবন। ছবি: সংগৃহীত

উচ্ছেদ ঠেকাতে আদালতের দরজায় পরিবার, নিউইয়র্কের অভিজাত আবাসনে জাতিগত বিদ্বেষ ও সংঘাতের জল গড়ালো বহুদূর

0 Comments