খেলাধুলা

বিশ্বকাপে দারুণ সূচনা যুক্তরাষ্ট্রের, প্যারাগুয়েকে ৪-১ গোলে হারিয়ে ইতিহাস গড়লেন বালোগুন

মোহাম্মদ ইব্রাহিম প্রকাশ: জুন ১৩, ২০২৬ ০:৫৮
ছবি: সংগৃহীত
ছবি: সংগৃহীত

লস অ্যাঞ্জেলেস: ঘরের মাঠে বিশ্বকাপ অভিযান শুরু করল দুর্দান্ত এক জয়ে। ফরোয়ার্ড ফোলারিন বালোগুনের জোড়া গোলে ভর করে প্যারাগুয়েকে ৪-১ ব্যবধানে হারিয়েছে স্বাগতিক যুক্তরাষ্ট্র। লস অ্যাঞ্জেলেসে অনুষ্ঠিত ‘ডি’ গ্রুপের ম্যাচে শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত আধিপত্য দেখিয়ে জয় তুলে নেয় মরিসিও পোচেত্তিনোর দল।

 

এই জয়ের মাধ্যমে শুধু তিন পয়েন্টই অর্জন করেনি যুক্তরাষ্ট্র, বিশ্বকাপ ইতিহাসেও একটি বিশেষ রেকর্ডের অংশ হয়ে গেছে দলটি। ১৯৩০ সালের বিশ্বকাপে প্যারাগুয়ে ও বেলজিয়ামের বিপক্ষে ৩-০ গোলের জয়ের পর এটিই বিশ্বকাপে যুক্তরাষ্ট্রের সবচেয়ে বড় জয়গুলোর একটি।

 

ম্যাচের নায়ক ছিলেন ২৪ বছর বয়সী ফোলারিন বালোগুন। জোড়া গোল করে তিনি বিশ্বকাপের এক ম্যাচে একাধিক গোল করা মাত্র দ্বিতীয় মার্কিন ফুটবলার হিসেবে ইতিহাসে নাম লেখান। এর আগে ১৯৩০ সালের বিশ্বকাপে প্যারাগুয়ের বিপক্ষেই বার্ট প্যাটেনডিউড এক ম্যাচে তিন গোল করেছিলেন।

 

প্রায় ৭০ হাজার দর্শকের উপস্থিতিতে জমজমাট পরিবেশে ম্যাচ শুরু হওয়ার পর প্রথম গোল পেতে যুক্তরাষ্ট্রকে অপেক্ষা করতে হয় মাত্র সাত মিনিট। আক্রমণের সূচনা করেন দলের অধিনায়ক ক্রিস্টিয়ান পুলিসিচ। দুই ডিফেন্ডারকে ফাঁকি দিয়ে তিনি বল বাড়িয়ে দেন ওয়েস্টন ম্যাককেনির কাছে। ম্যাককেনির কাটব্যাক ক্লিয়ার করতে গিয়ে নিজেদের জালেই বল পাঠিয়ে দেন প্যারাগুয়ের মিডফিল্ডার দামিয়ান বোবাদিয়া। আত্মঘাতী সেই গোলেই এগিয়ে যায় স্বাগতিকরা।

 

প্রথমার্ধে আরও কয়েকটি আক্রমণ চালায় যুক্তরাষ্ট্র। ২৮ মিনিটে বালোগুনের একটি গোল অফসাইডের কারণে বাতিল হলেও মাত্র তিন মিনিট পর আর ভুল করেননি তিনি। পুলিসিচের নিখুঁত পাস থেকে শক্তিশালী শটে ব্যবধান দ্বিগুণ করেন মোনাকো তারকা।

 

এরপর ৪১ মিনিটে নিজের দ্বিতীয় এবং দলের তৃতীয় গোলটি করেন বালোগুন। মালিক টিলম্যানের বাড়ানো বল ধরে ডিফেন্ডার ওমার আলদেরেতেকে পেছনে ফেলে গোলরক্ষক অরল্যান্ডো গিলকে পরাস্ত করে দারুণ এক ফিনিশিংয়ে বল জালে জড়ান তিনি।

 

প্রথমার্ধেই ৩-০ ব্যবধানে এগিয়ে থাকা যুক্তরাষ্ট্র দ্বিতীয়ার্ধেও আক্রমণাত্মক ফুটবল খেলতে থাকে। তবে ম্যাচের ধারার বিপরীতে ৬৫ মিনিটে একটি গোল শোধ দেয় প্যারাগুয়ে। সাবেক ব্রাইটন ফরোয়ার্ড হুলিও এনসিসোর পাস থেকে ব্রাজিলিয়ান বংশোদ্ভূত মিডফিল্ডার মাউরিসিও গোল করে ব্যবধান কমান।

 

তবে প্যারাগুয়ের সেই প্রত্যাবর্তনের আশা বেশিক্ষণ টেকেনি। নির্ধারিত সময়ের শেষ মুহূর্তে বদলি খেলোয়াড় জিওভানি রেইনা অসাধারণ এক গোল করে যুক্তরাষ্ট্রের জয়কে আরও উজ্জ্বল করে তোলেন। প্রায় ২০ গজ দূর থেকে ডান পায়ের বাইরের অংশ দিয়ে নেওয়া তার বাঁকানো শট সরাসরি জালে জড়িয়ে যায়। ম্যাচের শেষ কিকেই আসে দর্শনীয় এই গোল।

 

বিশ্বকাপের উদ্বোধনী ম্যাচকে ঘিরে ছিল উৎসবমুখর পরিবেশ। যুক্তরাষ্ট্রে আয়োজিত টুর্নামেন্টের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে সংগীতশিল্পী ক্যাটি পেরিসহ বেশ কয়েকজন আন্তর্জাতিক তারকা অংশ নেন। গ্যালারিতে উপস্থিত ছিলেন সাবেক ইংল্যান্ড অধিনায়ক ডেভিড বেকহ্যাম ও হলিউড তারকা টম ক্রুজও।

 

তবে মাঠের আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে ছিলেন বালোগুন। নিউইয়র্কে জন্ম নেওয়া এই ফরোয়ার্ড ছোটবেলায় পরিবারের সঙ্গে ইংল্যান্ডে চলে যান এবং আর্সেনালের একাডেমিতে বেড়ে ওঠেন। ইংল্যান্ডের বিভিন্ন বয়সভিত্তিক দলের হয়ে খেললেও ২০২৩ সালে আন্তর্জাতিক ফুটবলে যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিনিধিত্ব করার সিদ্ধান্ত নেন তিনি।

 

আর্সেনালে সুযোগ সীমিত থাকায় মিডলসব্রো ও পরে ফ্রান্সের রেইমসে ধারে খেলতে যান বালোগুন। রেইমসের হয়ে ২০২২-২৩ মৌসুমে ২১ গোল করে আলোচনায় আসেন এবং পরে প্রায় ৩৫ মিলিয়ন পাউন্ডে ফরাসি ক্লাব মোনাকোতে যোগ দেন।

 

সাম্প্রতিক মৌসুমেও দুর্দান্ত ফর্মে ছিলেন তিনি। ২০২৫-২৬ মৌসুমে মোনাকোর হয়ে ১৩ লিগ ম্যাচে ৯ গোল করেছেন। সেই ধারাবাহিকতাই বিশ্বকাপের মঞ্চেও ধরে রাখলেন এই ফরোয়ার্ড।

 

ম্যাচ শেষে ফুটবল বিশ্লেষকদের অনেকেই মনে করছেন, বালোগুনের নেতৃত্বে আক্রমণভাগ যদি একই ছন্দে খেলতে পারে, তাহলে এবারের বিশ্বকাপে অনেক দূর যাওয়ার স্বপ্ন দেখতেই পারে যুক্তরাষ্ট্র।

 

বিশ্বকাপের প্রথম ম্যাচে এমন আত্মবিশ্বাসী পারফরম্যান্স স্বাগতিকদের জন্য বড় প্রাপ্তি। ১৯৯৪ সালের পর আবারও নিজেদের মাটিতে বিশ্বকাপ আয়োজন করছে যুক্তরাষ্ট্র। আয়োজক দেশ হিসেবে ভালো ফল করার চাপ থাকলেও প্রথম পরীক্ষায় সফলভাবেই উত্তীর্ণ হয়েছে পোচেত্তিনোর দল।

 

এখন তাদের সামনে অপেক্ষা করছে আরও কঠিন চ্যালেঞ্জ। আগামী ১৯ জুন গ্রুপ পর্বের দ্বিতীয় ম্যাচে অস্ট্রেলিয়ার মুখোমুখি হবে যুক্তরাষ্ট্র। অন্যদিকে একই দিনে নিজেদের পরবর্তী ম্যাচে তুরস্কের বিপক্ষে মাঠে নামবে প্যারাগুয়ে।
 

জনপ্রিয় সংবাদ
যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশি মালিকানাধীন বিশ্ববিদ্যালয়ের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধন

যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে।   এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন।   নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি।   উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।”   বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে।   এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে।   শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়।   উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন।   বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত।   এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।

মার্কিন ভিসা আপডেট ২০২৬! বাংলাদেশিদের জন্য কোন ভিসা বন্ধ, কোনটা চালু?

২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো।   প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে।   এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে।   অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে।   স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে।   সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে।   সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।

দেশের প্রথম ৪০ তলা ভবন ‘শান্তা পিনাকল’ হস্তান্তর সম্পন্ন

বাংলাদেশের আবাসন শিল্পে এক নতুন ইতিহাস রচিত হলো। রাজধানীর তেজগাঁও শিল্প এলাকায় নির্মিত দেশের প্রথম ৪০ তলা বিশিষ্ট আকাশচুম্বী বাণিজ্যিক ভবন ‘শান্তা পিনাকল’ আনুষ্ঠানিকভাবে হস্তান্তর করেছে শান্তা হোল্ডিংস। ৫০০ ফুট উচ্চতার এই আইকনিক ভবনটি এখন দেশের সর্বোচ্চ সম্পন্ন হওয়া ইমারত। গত শনিবার (১৮ এপ্রিল) ভবনের ৪০তম তলায় আয়োজিত এক আড়ম্বরপূর্ণ অনুষ্ঠানের মাধ্যমে এটি হস্তান্তর করা হয়। অনুষ্ঠানে শান্তা হোল্ডিংসের চেয়ারম্যান খন্দকার মনির উদ্দিন, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, স্থপতি এহসান খানসহ প্রতিষ্ঠানের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা, ভূমি মালিক এবং গ্রাহকরা উপস্থিত ছিলেন। স্থাপত্যশৈলী ও আধুনিক প্রযুক্তি:‘শান্তা পিনাকল’ শুধুমাত্র উচ্চতার কারণেই অনন্য নয়, বরং এটি আধুনিক নির্মাণশৈলী ও প্রযুক্তির এক অনন্য সমন্বয়। এটি বাংলাদেশের প্রথম ভবন যা পরিবেশবান্ধব স্থাপত্যের জন্য আন্তর্জাতিক ‘লিড প্ল্যাটিনাম’ (LEED Platinum) স্বীকৃতি পেয়েছে। সিঙ্গাপুরভিত্তিক বিখ্যাত ইঞ্জিনিয়ারিং প্রতিষ্ঠান ‘মেইনহার্ট’ (Meinhardt) এর সহায়তায় ভবনটির স্ট্রাকচারাল ডিজাইন এবং ভূমিকম্প প্রতিরোধক ব্যবস্থা নিশ্চিত করা হয়েছে। বিশেষ বৈশিষ্ট্যসমূহ: উন্নত লিফট ব্যবস্থা: ভবনটিতে রয়েছে ৮টি দ্রুতগামী লিফট, যা প্রতি সেকেন্ডে ৪ মিটার উচ্চতায় উঠতে সক্ষম। এটি দেশের দ্রুততম ভার্টিক্যাল ট্রান্সপোর্ট ব্যবস্থা। পরিবেশ ও সুরক্ষা: ভবনে ব্যবহৃত হয়েছে ৩৬ মিমি পুরুত্বের ডাবল গ্লেজড গ্লাস, যা তাপ ও শব্দ নিরোধক। এছাড়া এটি দেশের প্রথম ‘উইন্ড টানেল টেস্ট’ করা ভবন, যা প্রতিকূল আবহাওয়ায় এর স্থায়িত্ব নিশ্চিত করে। আইবিএমএস প্রযুক্তি: পুরো ভবনটি একটি ইন্টেলিজেন্ট বিল্ডিং ম্যানেজমেন্ট সিস্টেম (iBMS) দ্বারা পরিচালিত, যা সার্বক্ষণিক নিরাপত্তা ও জ্বালানি সাশ্রয় নিশ্চিত করবে। অগ্নি নিরাপত্তা: আন্তর্জাতিক এনএফপিএ (NFPA) স্ট্যান্ডার্ড অনুসরণ করে এখানে অত্যাধুনিক অগ্নিনির্বাপক ব্যবস্থা স্থাপন করা হয়েছে। অনুষ্ঠানে শান্তা হোল্ডিংসের পক্ষ থেকে জানানো হয়, ‘শান্তা পিনাকল’ হস্তান্তর দেশের রিয়েল এস্টেট খাতের সক্ষমতার এক বড় প্রমাণ। এটি শুধুমাত্র তেজগাঁও নয়, বরং পুরো ঢাকার বাণিজ্যিক পরিবেশকে বিশ্বমানের স্তরে নিয়ে যাবে। দেশের ইতিহাসে প্রথমবার অ্যালুমিনিয়াম ফর্মওয়ার্ক ব্যবহারের মাধ্যমে মাত্র সাত দিনে এক একটি তলার ছাদ ঢালাইয়ের রেকর্ড গড়ে এই প্রকল্পের কাজ সম্পন্ন করা হয়েছে। ঢাকার আকাশসীমায় নতুন এই ল্যান্ডমার্ক দেশের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি এবং আধুনিক নগরায়নের এক শক্তিশালী প্রতীক হিসেবে দাঁড়িয়ে আছে।

৩০ মার্চ থেকে কার্যকর হচ্ছে যুক্তরাষ্ট্রের নতুন ভিসা নিয়ম: যা জানা প্রয়োজন

যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা প্রত্যাশীদের জন্য কঠোর হচ্ছে নিয়মাবলী। আগামী ৩০ মার্চ থেকে কার্যকর হতে যাচ্ছে নতুন ভিসা রুলস, যেখানে আবেদনকারীদের সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের প্রোফাইল পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে যাচাই বা স্ক্রিনিং করা হবে। মার্কিন প্রশাসনের এই নতুন পদক্ষেপে বাংলাদেশসহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশের ভিসা প্রত্যাশীদের মধ্যে ব্যাপক আলোচনার সৃষ্টি হয়েছে। নতুন এই নিয়ম মূলত অ-অভিবাসী (Non-immigrant) এবং অভিবাসী (Immigrant) উভয় ধরণের ভিসার ক্ষেত্রে প্রযোজ্য হতে পারে। বিশেষ করে যারা ট্যুরিস্ট ভিসা, স্টুডেন্ট ভিসা এবং কাজের সন্ধানে এইচ-১বি (H-1B) ভিসার জন্য আবেদন করবেন, তাদের সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের তথ্য প্রদান বাধ্যতামূলক করা হচ্ছে। আবেদনকারীদের গত পাঁচ বছরের ব্যবহৃত সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমগুলোর ইউজার আইডি বা হ্যান্ডেল নাম ফর্মে উল্লেখ করতে হবে। ফেসবুক, টুইটার (বর্তমানে এক্স), ইনস্টাগ্রাম এবং ইউটিউবের মতো জনপ্রিয় প্ল্যাটফর্মগুলো এই স্ক্রিনিংয়ের আওতায় থাকবে। তবে পাসওয়ার্ড দেওয়ার প্রয়োজন হবে না। মূলত আবেদনকারীর নিরাপত্তা ঝুঁকি এবং পূর্ববর্তী কোনো উসকানিমূলক বা সন্দেহজনক কর্মকাণ্ড আছে কি না, তা যাচাই করতেই এই পদক্ষেপ। মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তর জানিয়েছে, জাতীয় নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং জননিরাপত্তার স্বার্থেই এই স্ক্রিনিং প্রক্রিয়া জোরদার করা হয়েছে। কোনো ব্যক্তি যদি অতীতে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে উগ্রবাদ বা আইনবিরোধী কোনো কাজে লিপ্ত থেকে থাকেন, তবে তার ভিসা আবেদন বাতিল হওয়ার সম্ভাবনা তৈরি হবে। ভিসা বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ৩০ মার্চের পর যারা আবেদন করবেন, তাদের অবশ্যই গত ৫ বছরের ডিজিটাল ফুটপ্রিন্ট সম্পর্কে সতর্ক থাকতে হবে। কোনো ভুল তথ্য দিলে বা তথ্য গোপন করলে তা স্থায়ীভাবে ভিসা প্রত্যাখ্যাত হওয়ার কারণ হতে পারে। এছাড়া ইমেইল অ্যাড্রেস এবং ফোন নম্বর প্রদানের ক্ষেত্রেও অতিরিক্ত সতর্কতা অবলম্বনের পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। এই নতুন নিয়ম চালুর ফলে ভিসা প্রক্রিয়াকরণে কিছুটা অতিরিক্ত সময় লাগতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। তাই প্রয়োজনীয় কাগজপত্র এবং অনলাইন প্রোফাইল গুছিয়ে আবেদন করার পরামর্শ দিচ্ছে সংশ্লিষ্ট দপ্তরগুলো।

নাহিদা বৃষ্টির লাশ পাওয়া নিয়ে শঙ্কা কেন? দুই কারণ জানাল পুলিশ

যুক্তরাষ্ট্রের ফ্লোরিডায় দক্ষিণ ফ্লোরিডা বিশ্ববিদ্যালয়ের (ইউএসএফ) নিখোঁজ দুই বাংলাদেশি শিক্ষার্থীর মর্মান্তিক পরিণতির খবর পাওয়া গেছে। নিখোঁজ জামিল লিমনের (২৭) মরদেহ উদ্ধার করা হলেও, পুলিশ ধারণা করছে নাহিদা বৃষ্টিকেও (২৭) নৃশংসভাবে হত্যা করা হয়েছে। অভিযুক্ত ঘাতক ও লিমনের রুমমেট হিশাম আবুগারবিয়ার ফ্ল্যাটে ‘প্রচুর রক্ত’ পাওয়ার পর পুলিশ জানিয়েছে, বৃষ্টির মরদেহ উদ্ধার করা সম্ভবত আর কখনোই সম্ভব হবে না।   নিহত বৃষ্টির বড় ভাই জাহিদ হাসান প্রান্ত মার্কিন সংবাদমাধ্যম ‘১০ টাম্পা বে নিউজ’-কে জানান, শুক্রবার গভীর রাতে যুক্তরাষ্ট্রের তদন্তকারীরা বাংলাদেশে তাদের পরিবারের সাথে যোগাযোগ করেছেন। পুলিশ জানিয়েছে, লিমন ও হিশামের শেয়ার করা ফ্ল্যাটে যে পরিমাণ রক্ত পাওয়া গেছে, তা থেকে নিশ্চিত হওয়া গেছে যে বৃষ্টি আর বেঁচে নেই। পুলিশের আশঙ্কা, হত্যার পর মরদেহটি সম্ভবত ছিন্নবিচ্ছিন্ন বা টুকরো টুকরো করে ফেলা হয়েছে, যার ফলে এটি খুঁজে পাওয়া অত্যন্ত কঠিন। গত শুক্রবার সকাল সোয়া ৬টার দিকে হাওয়ার্ড ফ্র্যাঙ্কল্যান্ড ব্রিজের পাশ থেকে লিমনের মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। এর কয়েক ঘণ্টা পরেই সকাল ৯টার দিকে ইউএসএফ ক্যাম্পাসের কাছে লেক ফরেস্ট এলাকায় অভিযুক্ত হিশাম আবুগারবিয়ার বাড়িতে অভিযান চালায় হিলসবোরো কাউন্টি শেরিফ কার্যালয়। পুলিশ হিশামের বাড়িতে পৌঁছালে তিনি নিজেকে ঘরের ভেতর তালাবদ্ধ করে রাখেন। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে পুলিশের বিশেষায়িত ইউনিট ‘সোয়াট’ (SWAT) তলব করা হয়। প্রায় ২০ মিনিটের রুদ্ধশ্বাস পরিস্থিতির পর হিশাম আত্মসমর্পণ করেন। তার বিরুদ্ধে পারিবারিক সহিংসতা, তথ্যপ্রমাণ নষ্ট করা এবং অবৈধভাবে মরদেহ সরানোর মতো ছয়টি গুরুতর অভিযোগ আনা হয়েছে।   বিশ্ববিদ্যালয় সূত্রে জানা গেছে, হিশাম ফিলিস্তিনি বংশোদ্ভূত মার্কিন নাগরিক। তিনি লিমনের রুমমেট হিসেবে একই ফ্ল্যাটে থাকতেন। অন্যদিকে, কেমিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিংয়ে পিএইচডি গবেষণারত নাহিদা বৃষ্টি গত ১৬ এপ্রিল থেকে নিখোঁজ ছিলেন। লিমনের সাথে তার আগে প্রেমের সম্পর্ক থাকলেও বর্তমানে ছিল না বলে জানিয়েছেন বৃষ্টির পরিবার।   তদন্তকারীরা লিমনের মৃত্যু নিশ্চিত করলেও বৃষ্টির নিখোঁজ রহস্য ও তাকে হত্যার নৃশংসতা এখন পুরো ফ্লোরিডা ও বাংলাদেশি কমিউনিটিতে শোকের ছায়া ফেলেছে।

Advertisement

খেলাধুলা

View more
ছবি: সংগৃহীত
শরণার্থী শিবির থেকে বিশ্বকাপের মঞ্চে, ইতিহাস গড়লেন অস্ট্রেলিয়ার নেস্টরি ইরানকুন্ডা

তানজানিয়ার একটি শরণার্থী শিবির থেকে শুরু হয়েছিল যাত্রা। সেই পথ পেরিয়ে বিশ্ব ফুটবলের সবচেয়ে বড় আসরে ইতিহাস গড়লেন ২০ বছর বয়সী অস্ট্রেলিয়ান ফরোয়ার্ড নেস্টরি ইরানকুন্ডা। ভ্যাঙ্কুভারে তুরস্কের বিপক্ষে অস্ট্রেলিয়ার ২-০ গোলের জয়ের ম্যাচে দলের প্রথম গোলটি করে তিনি সকারুদের ইতিহাসে সর্বকনিষ্ঠ বিশ্বকাপ গোলদাতার রেকর্ড গড়েছেন।   একই সঙ্গে বিদেশি বংশোদ্ভূত প্রথম খেলোয়াড় হিসেবে অস্ট্রেলিয়ার হয়ে বিশ্বকাপে গোল করার কীর্তিও গড়েছেন তিনি। তবে এই সাফল্যের পেছনে রয়েছে কঠিন সংগ্রাম এবং ক্যারিয়ারের অন্যতম বড় ঝুঁকি নেওয়ার গল্প।   ২০২৪ সালে অস্ট্রেলিয়ার অ্যাডিলেড ইউনাইটেড ছেড়ে জার্মান জায়ান্ট বায়ার্ন মিউনিখে যোগ দেন ইরানকুন্ডা। হ্যারি কেইনের মতো বিশ্বমানের ফুটবলারের সঙ্গে অনুশীলনের সুযোগ পেলেও মূল দলে নিয়মিত খেলার সুযোগ পাননি। ফলে ২০২৬ বিশ্বকাপে জায়গা পাওয়ার স্বপ্ন অনিশ্চয়তার মুখে পড়ে। একপর্যায়ে অস্ট্রেলিয়ার জাতীয় দল থেকেও বাদ পড়তে হয় তাকে।   বিশ্বকাপ দলে জায়গা নিশ্চিত করতে গত গ্রীষ্মে বড় সিদ্ধান্ত নেন এই তরুণ ফরোয়ার্ড। নিয়মিত খেলার আশায় বায়ার্ন মিউনিখ ছেড়ে ইংলিশ চ্যাম্পিয়নশিপের ক্লাব ওয়াটফোর্ডে যোগ দেন তিনি। সিদ্ধান্তটি নিয়ে পরে ইরানকুন্ডা বলেন, “এটি অত্যন্ত কঠিন সিদ্ধান্ত ছিল। তবে আমার সবচেয়ে বড় লক্ষ্য ছিল বিশ্বকাপে খেলা। ২০২৬ বিশ্বকাপ খুব কাছাকাছি চলে আসছিল এবং আমার নিয়মিত মাঠে থাকা প্রয়োজন ছিল।”   ওয়াটফোর্ডের জার্সিতে ৪২ ম্যাচে চার গোল ও পাঁচ অ্যাসিস্ট করে নিজের সামর্থ্যের প্রমাণ দেন তিনি। সেই পারফরম্যান্সের সুবাদে আবারও অস্ট্রেলিয়ার বিশ্বকাপ দলে জায়গা ফিরে পান।   তুরস্কের বিপক্ষে ম্যাচের ২৭তম মিনিটে নিজের গতি ও শারীরিক শক্তির দারুণ প্রদর্শনীতে গোল করেন ইরানকুন্ডা। গোলের পর অস্ট্রেলিয়ার কিংবদন্তি টিম কাহিলের বিখ্যাত ‘কর্নার ফ্ল্যাগ পাঞ্চ’ উদযাপন করে নিজের আনন্দ প্রকাশ করেন। ম্যাচ শেষে তিনি বলেন, “এটা অবিশ্বাস্য। আমার স্বপ্ন সত্যি হয়েছে।”   ইরানকুন্ডা জানান, অস্ট্রেলিয়ার সাবেক তারকা টিম কাহিল এবং আর্জেন্টাইন মহাতারকা লিওনেল মেসি তার ফুটবল জীবনের সবচেয়ে বড় অনুপ্রেরণা।   তার সতীর্থ মোহাম্মদ তুরে ইরানকুন্ডাকে ‘হুডিনি’ বলে অভিহিত করেন এবং তার খেলায় ইংল্যান্ডের তারকা জুড বেলিংহ্যামের ছাপ দেখেন। অস্ট্রেলিয়ার সাবেক কোচ অ্যাঞ্জ পোস্টেকোগলুও এই তরুণের প্রশংসা করে বলেন, “একটি ভালো বিশ্বকাপ একজন খেলোয়াড়ের পুরো পৃথিবী বদলে দিতে পারে।”   বায়ার্ন মিউনিখের মতো ক্লাব ছেড়ে নিয়মিত খেলার জন্য যে ঝুঁকি নিয়েছিলেন নেস্টরি ইরানকুন্ডা, বিশ্বকাপের মঞ্চে ইতিহাস গড়ে সেই সিদ্ধান্তকেই সঠিক প্রমাণ করলেন তিনি।

আমেরিকা বাংলা ডেস্ক প্রকাশ: জুন ১৫, ২০২৬ ৩:২৩
ছবি: সংগৃহীত

কেপ ভার্দের বিপক্ষে খেলছেন লামিন ইয়ামাল, নিশ্চিত করলেন স্পেন কোচ

ছবি: সংগৃহীত

বিশ্বকাপে খেলা শেষে গ্যালারি পরিষ্কার করে ভাইরাল জাপানের সমর্থকেরা

ছবি: সংগৃহীত

বিশ্বকাপে ১৩ হাজার আর্জেন্টাইন সমর্থকদের নিষিদ্ধ করতে যুক্তরাষ্ট্রকে অনুরোধ

ছবি: কুরাসাওয়ের বিপক্ষে ৭-১ গোলের বড় জয়ে উচ্ছ্বাসে জার্মান ফুটবলাররা
ইতিহাসের পুনরাবৃত্তি, ব্রাজিলের পর কুরাসাওকেও ‘সেভেন আপ’ খাওয়াল জার্মানি

ফিফা বিশ্বকাপ ২০২৬-এ অভিষেক হওয়া কুরাসাওয়ের বিপক্ষে গোল উৎসবে মেতেছে চারবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়ন জার্মানি। হিউস্টন স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত ম্যাচে কুরাসাওকে ৭-১ গোলে উড়িয়ে দিয়েছে ইউরোপের পরাশক্তিরা। ম্যাচের ৮৮তম মিনিটে সপ্তম গোল করে জার্মানির বড় জয় নিশ্চিত করেন কাই হাভার্টজ। এর মাধ্যমে ২০১৪ বিশ্বকাপে ব্রাজিলের বিপক্ষে ৭-১ গোলের ঐতিহাসিক জয়ের স্মৃতিও ফিরিয়ে আনে জার্মানি।   ম্যাচের শুরু থেকেই আক্রমণাত্মক ফুটবল খেলতে থাকে জার্মানি। কুরাসাওয়ের জালে বল পাঠাতে তাদের সময় লাগে মাত্র ৬ মিনিট। জার্মান মিডফিল্ডার ফেলিক্স এনমেচা গোল করে দলকে এগিয়ে দেন।   তবে বিশ্বকাপের ইতিহাসে সবচেয়ে ক্ষুদ্র জনসংখ্যার দেশ হিসেবে অভিষেক হওয়া কুরাসাও দ্রুতই ম্যাচে ফিরে আসে। ২১তম মিনিটে বক্সের ভেতর থেকে লিভানো কোমেনেনসিয়ার বাঁ পায়ের শট জার্মান গোলরক্ষক ম্যানুয়েল নয়্যার ঠেকাতে ব্যর্থ হন। বিশ্বকাপ ইতিহাসে নিজেদের প্রথম গোল পেয়ে উচ্ছ্বাসে ভাসে কুরাসাও।   গোল করার পর রেসলার জন সিনার বিখ্যাত উদ্‌যাপনও করেন কোমেনেনসিয়া। গ্যালারিতে উপস্থিত কুরাসাও সমর্থকদের উচ্ছ্বাসে মুখর হয়ে ওঠে স্টেডিয়াম। মাত্র ১ লাখ ৫৮ হাজার জনসংখ্যার দেশের জন্য এটি ছিল ঐতিহাসিক এক মুহূর্ত।   তবে সমতা বেশিক্ষণ টিকতে দেয়নি জার্মানি। ম্যাচের ৩৮তম মিনিটে কর্নার থেকে সহজ হেডে গোল করেন ডিফেন্ডার নিকো শ্লটারবেক। এতে ২-১ ব্যবধানে এগিয়ে যায় জার্মানরা। প্রথমার্ধের যোগ করা সময়ে পেনাল্টি পায় জার্মানি। কুরাসাওয়ের বক্সে ফাউলের শিকার হন ফেলিক্স এনমেচা। স্পটকিক থেকে গোল করেন কাই হাভার্টজ। ৩-১ ব্যবধানে এগিয়ে থেকে বিরতিতে যায় জার্মানি।   দ্বিতীয়ার্ধের শুরুতেই ব্যবধান আরও বাড়ান জামাল মুসিয়ালা। ইয়োশুয়া কিমিখের পাস ধরে নিখুঁত ফিনিশিংয়ে গোল করে দলকে ৪-১ ব্যবধানে এগিয়ে দেন তিনি।   এরপর গোলের ধারা অব্যাহত রাখে জার্মানি। ম্যাচের ৬৮তম মিনিটে পঞ্চম গোল করেন লেফটব্যাক নাথানিয়েল ব্রাউন। ৭৮তম মিনিটে ষষ্ঠ গোলটি করেন ডেনিজ উনদাভ। উল্লেখযোগ্য বিষয় হলো, জার্মানির প্রথম ছয়টি গোলই আসে ছয়জন ভিন্ন খেলোয়াড়ের কাছ থেকে। ম্যাচের ৮৮তম মিনিটে নিজের দ্বিতীয় এবং দলের সপ্তম গোল করেন কাই হাভার্টজ। তার গোলেই ৭-১ ব্যবধানের বড় জয় নিশ্চিত হয় জার্মানির।   ম্যাচটি আরেকটি বিশেষ কারণে ইতিহাসে জায়গা করে নিয়েছে। ২০২৬ বিশ্বকাপে সবচেয়ে বয়স্ক প্রধান কোচ কুরাসাওয়ের ডিক অ্যাডভোকাট, যার বয়স ৭৮ বছর। অন্যদিকে জার্মানির প্রধান কোচ ইউলিয়ান নাগেলসমানের বয়স ৩৮ বছর। দুই কোচের বয়সের পার্থক্য ৪০ বছর, যা ফিফা বিশ্বকাপের ইতিহাসে কোনো ম্যাচে মুখোমুখি হওয়া দুই প্রধান কোচের মধ্যে সর্বোচ্চ ব্যবধান।   ম্যাচের আগে ডিক অ্যাডভোকাট বলেছিলেন, তার দল জার্মানিকে কঠিন পরীক্ষায় ফেলতে পারে। তিনি বলেন, “কোচেরা সব সময়ই প্রতিপক্ষকে বিপদে ফেলার পরিকল্পনা করেন। এই ম্যাচে জার্মানি যে পরিষ্কার ব্যবধানে এগিয়ে, তা বলাই বাহুল্য। তারা বিশ্বকাপের অন্যতম দাবিদার। তবে ফুটবলে মাঝেমধ্যেই ছোট দলগুলো বড় দলকে হারিয়ে দেয়। জার্মানির পাশে আমরা খুবই ছোট একটি দল, কিন্তু মাঠের লড়াইয়ে তাদের জন্য আমরা কঠিন প্রতিপক্ষ হওয়ার চেষ্টা করব।”   বিশ্বকাপের মঞ্চে প্রথমবারের মতো অংশ নেওয়া কুরাসাওয়ের খেলোয়াড়দের চোখে-মুখে জাতীয় সংগীতের সময় আবেগ স্পষ্ট ছিল। বিশ্বকাপ ইতিহাসের সবচেয়ে ছোট দেশ হিসেবে তাদের অভিষেক ইতোমধ্যে স্মরণীয় হয়ে আছে।   অন্যদিকে জার্মানি এই বড় জয়ের মাধ্যমে শিরোপার অন্যতম দাবিদার হিসেবে নিজেদের অবস্থান আরও শক্ত করেছে। ব্রাজিলের বিপক্ষে ঐতিহাসিক ৭-১ জয়ের স্মৃতি ফিরিয়ে এনে এবার কুরাসাওকেও সাত গোলের স্বাদ দিল ইউরোপের এই ফুটবল পরাশক্তি।

খেলা ডেস্ক প্রকাশ: জুন ১৪, ২০২৬ ১৫:৩১
ছবি: কোলাজ আমেরিকা বাংলা

ষষ্ঠ বিশ্বকাপে মেসি, ইতিহাস গড়ার সামনে আর্জেন্টাইন মহাতারকা

ছবি: সংগৃহীত

বিশ্বকাপে ভাগ্য বদলাতে স্ত্রীর পায়জামা নিয়ে এলেন স্প্যানিশ ডিফেন্ডার

ছবি: সংগৃহীত

শুরুতেই হোঁচট, হেক্সা মিশন সফল করতে পারবে ব্রাজিল?

ছবি: সংগৃহীত
বিশ্বকাপ এলেই কেন ব্রাজিল-আর্জেন্টিনা জ্বরে কাঁপে বাংলাদেশ, কখনো কখনো কেন তৈরি হয় সংঘাত?

বিশ্বকাপ ফুটবলের পর্দা উঠতেই আবারও রঙিন হয়ে উঠেছে বাংলাদেশের শহর, মফস্বল ও গ্রামাঞ্চল। বাড়ির ছাদ, অলিগলি, বাজার, সড়কের মোড় কিংবা খেলার মাঠ, সর্বত্রই চোখে পড়ছে ব্রাজিল ও আর্জেন্টিনার পতাকা। যদিও এবারের বিশ্বকাপে বাংলাদেশের কোনো অংশগ্রহণ নেই, তবুও ফুটবল উন্মাদনায় বিশ্বের অন্যতম আলোচিত দেশ হয়ে উঠেছে বাংলাদেশ।   ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম দ্য ইন্ডিপেনডেন্ট সম্প্রতি প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে বাংলাদেশের ফুটবলপ্রেম এবং বিশেষ করে ব্রাজিল-আর্জেন্টিনা সমর্থকদের মধ্যে প্রতিদ্বন্দ্বিতার বিষয়টি তুলে ধরেছে। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ১৭ কোটি মানুষের এই দেশে বিশ্বকাপ শুরু হলেই ফুটবল শুধু একটি খেলা নয়, বরং সামাজিক ও সাংস্কৃতিক আবেগের অংশ হয়ে ওঠে।   রাজধানী ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন এলাকায় ইতোমধ্যে দেখা গেছে বিশাল আকারের ব্রাজিল ও আর্জেন্টিনার পতাকা। কোথাও কোথাও তৈরি করা হয়েছে ফুটবল তারকাদের বিশাল কাটআউট। বাজারে বেড়েছে বিভিন্ন দেশের জার্সির চাহিদাও। বিশেষ করে আর্জেন্টিনার অধিনায়ক Lionel Messi এবং ব্রাজিলের তারকা Neymar-এর জার্সি কিনতে ভিড় করছেন সমর্থকেরা।   বাংলাদেশের সঙ্গে ব্রাজিল বা আর্জেন্টিনার কোনো বিশেষ রাজনৈতিক বা ভৌগোলিক সম্পর্ক না থাকলেও কয়েক প্রজন্ম ধরে এই দুই দেশের ফুটবল দলকে ঘিরে গড়ে উঠেছে অসাধারণ এক আবেগ। বিশ্বকাপের সময় বন্ধু, প্রতিবেশী কিংবা আত্মীয়দের মধ্যেও দেখা যায় মজার প্রতিদ্বন্দ্বিতা। তবে কখনো কখনো এই প্রতিদ্বন্দ্বিতা অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতিও তৈরি করে।   সম্প্রতি হবিগঞ্জে স্থানীয় একটি ফুটবল ম্যাচকে কেন্দ্র করে ব্রাজিল ও আর্জেন্টিনা সমর্থকদের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনায় কয়েক ডজন মানুষ আহত হওয়ার খবর আলোচনায় আসে। আবার শরীয়তপুরে কিছু তরুণ ঘোষণা দিয়েছেন, ২০০২ সালের পর আর বিশ্বকাপ জিততে না পারা ব্রাজিল শিরোপা না জেতা পর্যন্ত তারা বিয়ে করবেন না। এসব ঘটনা বাংলাদেশের ফুটবল আবেগের ব্যতিক্রমী দিকগুলোই তুলে ধরে।   তবে শুধু ব্রাজিল ও আর্জেন্টিনা নয়, মাঝে মাঝে অন্য দেশগুলোকেও ঘিরে তৈরি হয় আগ্রহ। সম্প্রতি এক প্রবীণ ফুটবলপ্রেমী নিজের জমির একটি অংশ বিক্রি করে প্রায় সাড়ে সাত কিলোমিটার দীর্ঘ জার্মানির পতাকা তৈরি করে আলোচনায় আসেন। তার আশা, একদিন এই বিশাল পতাকা জার্মানির কোনো জাদুঘরে স্থান পাবে।   এবারের বিশ্বকাপে ২৮ বছর পর জায়গা করে নেওয়া নরওয়েও বাংলাদেশের ফুটবল উন্মাদনাকে কাজে লাগানোর চেষ্টা করেছে। ঢাকায় নরওয়ে দূতাবাস সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বাংলাদেশিদের তাদের দলকে সমর্থন করার আহ্বান জানিয়ে পোস্ট দেয়। সেখানে বাংলাদেশের স্বাধীনতার পর নরওয়ের দ্রুত স্বীকৃতি দেওয়ার বিষয়টিও স্মরণ করিয়ে দেওয়া হয়।   বাংলাদেশে ফুটবলের জনপ্রিয়তার ইতিহাস বেশ পুরোনো। ঔপনিবেশিক আমলে ব্রিটিশদের হাত ধরে ভারতীয় উপমহাদেশে ফুটবলের আগমন ঘটে। পরে পূর্ব পাকিস্তান আমলে রাজনৈতিক অস্থিরতা ও সামাজিক পরিবর্তনের সময় তরুণদের কাছে ফুটবল হয়ে ওঠে অনুপ্রেরণার উৎস।   ষাট ও সত্তরের দশকে ব্রাজিলের কিংবদন্তি Pelé বাংলাদেশের তরুণদের মধ্যে বিপুল জনপ্রিয়তা অর্জন করেন। তার সাফল্য এবং ব্রাজিলের আধিপত্য অনেককে ফুটবলের প্রতি আকৃষ্ট করে। পরবর্তী সময়ে টেলিভিশনের প্রসার ঘটার পর আশির দশকে বিশ্বকাপ আরও বেশি মানুষের ঘরে পৌঁছে যায়।   বিশেষ করে ১৯৮৬ সালের বিশ্বকাপ বাংলাদেশের ফুটবল ইতিহাসে এক গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায়। সেই আসরে আর্জেন্টিনার কিংবদন্তি Diego Maradona-র নৈপুণ্য ও ইংল্যান্ডের বিপক্ষে স্মরণীয় পারফরম্যান্স অসংখ্য দর্শকের হৃদয় জয় করে। অনেকের কাছে সেটি ছিল কেবল ফুটবল নয়, বরং ইতিহাস ও আবেগের এক প্রতীকী মুহূর্ত।   ম্যারাডোনার অবসরের পর নতুন প্রজন্মের কাছে সেই আবেগের জায়গা দখল করেন লিওনেল মেসি। অন্যদিকে ব্রাজিল সমর্থকদের কাছে দীর্ঘদিন ধরে জনপ্রিয় মুখ নেইমার। ফলে বাংলাদেশের ফুটবল সমর্থকদের একটি বড় অংশ দুই শিবিরে বিভক্ত হয়ে পড়ে, যা বিশ্বকাপ এলেই আরও স্পষ্ট হয়ে ওঠে।   তবে এই আবেগ কখনো কখনো বিপজ্জনক রূপও নিয়েছে। বিভিন্ন গবেষণা ও সংবাদ প্রতিবেদনে উঠে এসেছে, ২০২২ সালের বিশ্বকাপ চলাকালে সমর্থকদের মধ্যে সংঘর্ষ ও সংশ্লিষ্ট ঘটনায় অন্তত ২৩ জনের মৃত্যু হয়েছিল। এর আগে ২০১৪ সালে পতাকা টাঙাতে গিয়ে বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে কয়েকজনের মৃত্যু ঘটে। ২০১৮ সালেও ব্রাজিলের পতাকা লাগাতে গিয়ে এক কিশোর প্রাণ হারায়।   বিশ্লেষকদের মতে, ফুটবল মানুষের আনন্দ, পরিচয় ও আবেগের জায়গা হলেও সেটি যেন সুস্থ প্রতিযোগিতা ও উৎসবের মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকে, সে বিষয়টি গুরুত্বপূর্ণ। কারণ বিশ্বকাপের সবচেয়ে বড় সৌন্দর্য প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নয়, বরং বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্তের মানুষের একসঙ্গে খেলা উপভোগ করার মধ্যেই নিহিত।   এবারের বিশ্বকাপ ৪৮ দলের অংশগ্রহণে অনুষ্ঠিত হচ্ছে, যা টুর্নামেন্টের ইতিহাসে সবচেয়ে বড় আসর। যুক্তরাষ্ট্র, মেক্সিকো ও কানাডায় আয়োজিত এই প্রতিযোগিতা চলবে ১৯ জুলাই পর্যন্ত। আর সেই সঙ্গে বাংলাদেশের রাস্তাঘাট, ছাদ ও আড্ডায়ও চলবে ব্রাজিল-আর্জেন্টিনা বিতর্ক, যা বিশ্বকাপের এক অনন্য অনুষঙ্গ হয়ে উঠেছে বহু বছর ধরেই।

খেলা ডেস্ক প্রকাশ: জুন ১৩, ২০২৬ ২১:৬
ছবি: সংগৃহীত

ভিনিসিউসের ঝলকে হার এড়াল ব্রাজিল, মরক্কোর সঙ্গে ১-১ গোলের ড্র

ছবি: সংগৃহীত

ব্রাজিল-মরক্কো ম্যাচের প্রথমার্ধ ১-১ গোলে সমতা

সবুজ-হলুদ জার্সিতে নিউইয়র্কের বিখ্যাত টাইমস স্কয়ার। ছবি: সংগৃহীত

মরক্কো ম্যাচের আগে ব্রাজিল সমর্থকদের দখলে নিউইয়র্কের টাইমস স্কয়ার

0 Comments