আদালত

ফাইল ফটো।
ট্রাম্পের সিদ্ধান্ত অবৈধ: ভয়েস অব আমেরিকা সচল করার নির্দেশ মার্কিন আদালতের

যুক্তরাষ্ট্রের আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম ভয়েস অব আমেরিকা (VOA) পুনরায় চালু করতে ট্রাম্প প্রশাসনকে কড়া নির্দেশ দিয়েছেন দেশটির একটি আদালত। প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের নির্বাহী আদেশে প্রতিষ্ঠানটি বন্ধ করে দেওয়ার সিদ্ধান্তকে সরাসরি 'অবৈধ' বলে ঘোষণা করেছেন ডিস্ট্রিক্ট কোর্ট।   বিচারক রয়েস ল্যামবারথ গত মঙ্গলবার এই যুগান্তকারী রায় প্রদান করেন। রায়ে কেবল প্রতিষ্ঠানটি চালুর নির্দেশই দেওয়া হয়নি, বরং ট্রাম্পের নির্দেশে চাকরি হারানো সাংবাদিকদের অবিলম্বে সপদে পুনর্বহালের আদেশও দেওয়া হয়েছে। আদালত কর্তৃপক্ষকে আগামী এক সপ্তাহের মধ্যে সম্প্রচার কার্যক্রম পুনরায় সচল করার সময়সীমা বেঁধে দিয়েছেন।   উল্লেখ্য, দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সময় নাৎসি অপপ্রচারের মোকাবিলা করতে ভিওএ প্রতিষ্ঠিত হয়েছিল। তবে প্রেসিডেন্ট হিসেবে দ্বিতীয় মেয়াদে দায়িত্ব নেওয়ার কয়েক সপ্তাহের মধ্যেই ট্রাম্প এক নির্বাহী আদেশে এটি বন্ধ করে দেন। তার প্রশাসনের অভিযোগ ছিল, সংবাদমাধ্যমটি 'বামঘেঁষা' মতাদর্শ প্রচার করছে।    একই সাথে তিনি রেডিও ফ্রি ইউরোপ ও রেডিও ফ্রি এশিয়ার মতো সংস্থাগুলোকেও যতটা সম্ভব সংকুচিত করার নির্দেশ দিয়েছিলেন। আদালতের এই রায়ের মাধ্যমে ট্রাম্প প্রশাসনের সেই পদক্ষেপ বড় ধরনের আইনি ধাক্কা খেল।

ডেস্ক রিপোর্ট মার্চ ১৯, ২০২৬ 0
যুক্তরাষ্ট্রের আদালতে তিনবার জামিনের নির্দেশ, তবুও মুক্তি অনিশ্চিত ফিলিস্তিনি নারী লেকা করদিয়ার
যুক্তরাষ্ট্রের আদালতে তিনবার জামিনের নির্দেশ, তবুও মুক্তি অনিশ্চিত ফিলিস্তিনি নারী লেকা করদিয়ার

যুক্তরাষ্ট্রে আটক ফিলিস্তিনি নারী লেকা করদিয়াকে তৃতীয়বারের মতো জামিনে মুক্তির নির্দেশ দিয়েছেন এক অভিবাসন বিচারক। তবে আদালতের নির্দেশ থাকা সত্ত্বেও তিনি এখনো মুক্তি পাবেন কি না তা নিয়ে অনিশ্চয়তা দেখা দিয়েছে।   জানা গেছে, নিয়মিত ইমিগ্রেশন চেক-ইনের জন্য কর্মকর্তাদের সঙ্গে দেখা করতে গেলে তাকে আটক করা হয়। এর আগে একটি বিক্ষোভে অংশ নেওয়ার ঘটনাকে কেন্দ্র করে তাকে গ্রেপ্তার করা হলেও পরে সেই অভিযোগ বাতিল হয়ে যায়।   অভিবাসন আদালত একাধিকবার মত দিয়েছে যে তিনি জননিরাপত্তার জন্য কোনো হুমকি নন এবং তাকে জামিনে মুক্তি দেওয়া যেতে পারে। তবুও প্রশাসনিক আপিল ও আইনি প্রক্রিয়ার কারণে তার মুক্তি বারবার বিলম্বিত হচ্ছে।   বর্তমানে তিনি যুক্তরাষ্ট্রের একটি ইমিগ্রেশন ডিটেনশন সেন্টারে আটক রয়েছেন। আটক অবস্থায় তার অসুস্থ হয়ে পড়ার খবরও সামনে এসেছে, যা নিয়ে মানবাধিকার সংগঠনগুলো উদ্বেগ প্রকাশ করেছে।   আইনজীবীদের দাবি, আদালতের বারবার নির্দেশ সত্ত্বেও তাকে আটক রাখার ঘটনা অস্বাভাবিক এবং এটি অভিবাসন আইনের প্রয়োগ নিয়ে নতুন করে বিতর্ক তৈরি করেছে। তবে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ বলছে, তার অভিবাসন সংক্রান্ত মামলার প্রক্রিয়া শেষ না হওয়া পর্যন্ত তাকে হেফাজতে রাখা হতে পারে।

ডেস্ক রিপোর্ট মার্চ ১৪, ২০২৬ 0
জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) মুখপাত্র আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়া
আসিফ মাহমুদসহ ৪২ জনের বিরুদ্ধে পুলিশ হত্যা মামলা নাকচ আদালতের

জুলাই গণঅভ্যুত্থানের সময় এক পুলিশ সদস্য নিহতের ঘটনায় জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) মুখপাত্র আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়াসহ ৪২ জনের বিরুদ্ধে দায়ের করা মামলার আবেদন খারিজ করে দিয়েছেন আদালত। বৃহস্পতিবার (১২ মার্চ) ঢাকার চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট (সিএমএম) আদালত শুনানি শেষে এই সিদ্ধান্ত জানান। আদালত সূত্রে জানা গেছে, জালাল হোসেন নামে এক ব্যক্তি দণ্ডবিধির বিভিন্ন ধারায় মামলাটি গ্রহণের আবেদন জানিয়েছিলেন। অভিযোগপত্রে এনসিপি মুখপাত্র আসিফ মাহমুদকে প্রধান আসামি এবং আব্দুল কাদেরকে ২ নম্বর আসামিসহ মোট ৪২ জনের নাম উল্লেখ করা হয়েছিল। তবে মহানগর ম্যাজিস্ট্রেট নথিপত্র পর্যালোচনা ও শুনানি শেষে অভিযোগটি আমলে নেওয়ার মতো কোনো উপাদান না পেয়ে তা খারিজ করে দেন। মামলায় উল্লেখযোগ্য অন্যান্য আসামিদের মধ্যে ছিলেন আবু বকর মজুমদার, আব্দুল হান্নান মাসুদ, আদনান আবির, জামান মৃধা, রিফাত রশিদ ও হাসিব আল ইসলাম। এদিকে মামলার আবেদনের বিষয়টি ছড়িয়ে পড়লে ২ নম্বর আসামি আব্দুল কাদের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন। তিনি লিখেছেন, বিগত সরকারের আমলেও তিনি একইরকম মামলার আসামি হয়ে জেল খেটেছেন। তবে বর্তমান সময়ে এমন অভিযোগে তিনি বিস্ময় প্রকাশ করেন। উল্লেখ্য, ২০২৪ সালের জুলাই-আগস্টের ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানে আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর আসিফ মাহমুদ অন্তর্বর্তী সরকারের উপদেষ্টার দায়িত্ব পালন করেন। পরবর্তীতে নির্বাচনের প্রস্তুতির লক্ষ্যে গত বছরের ১০ ডিসেম্বর তিনি পদত্যাগ করে জাতীয় নাগরিক পার্টির মুখপাত্র হিসেবে রাজনীতিতে সক্রিয় হন। জুলাইয়ের গণঅভ্যুত্থানে সরকারি হিসেবে ৮৪৪ জন এবং জাতিসংঘের হিসেবে প্রায় ১ হাজার ৪০০ মানুষের প্রাণহানি ঘটেছিল, যার মধ্যে পুলিশ সদস্য নিহতের ঘটনাও অন্তর্ভুক্ত ছিল।

নিজস্ব প্রতিবেদক মার্চ ১২, ২০২৬ 0
ছবি: সংগৃহীত।
এক কোটি টাকা ঘুষ দাবির অডিও ফাঁস: ট্রাইব্যুনাল প্রসিকিউটর সাইমুম রেজার পদত্যাগ

আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের প্রসিকিউটর মো. সাইমুম রেজা তালুকদারের বিরুদ্ধে জুলাই গণ-অভ্যুত্থানে শহীদ ওয়াসিম আকরাম হত্যা মামলার আসামিকে খালাস পাইয়ে দেওয়ার বিনিময়ে এক কোটি টাকা ঘুষ দাবির গুরুতর অভিযোগ উঠেছে। এই অভিযোগ ওঠার পরপরই তিনি পদত্যাগ করেছেন এবং সরকার দ্রুততার সাথে তা গ্রহণ করে তাকে অব্যাহতি প্রদান করেছে। সোমবার (৯ মার্চ) পদত্যাগের খবর প্রকাশের পরেই সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ও একটি বেসরকারি টেলিভিশন চ্যানেলে ঘুষ সংক্রান্ত দুটি চাঞ্চল্যকর অডিও ক্লিপ ফাঁস হয়। ফাঁস হওয়া কথোপকথনে চট্টগ্রামের রাউজান আসনের সাবেক সংসদ সদস্য এবিএম ফজলে করিম চৌধুরীর পরিবারের এক আইনজীবীর সঙ্গে লেনদেন নিয়ে দরকষাকষি করতে শোনা যায়। অভিযোগ অনুযায়ী, মামলার অব্যাহতি নিশ্চিত করতে এক কোটি টাকা দাবি করা হয় এবং অগ্রিম হিসেবে ১০ লাখ টাকা চাওয়া হয়। কথোপকথনে আরও শোনা যায়, বিএনপির একজন সংসদ সদস্য ও একজন প্রতিমন্ত্রীর মাধ্যমে তদবির করানোর আশ্বাস দেওয়া হচ্ছে। এমনকি ট্রাইব্যুনালের চিফ প্রসিকিউটরকে ‘রিজনেবল’ বলে উল্লেখ করে তার সমর্থন আদায়ের বিষয়েও আলোচনা হয়। এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট আইনজীবী রেজওয়ানা ইউসুফ সরাসরি মন্তব্য না করলেও ঘটনার সত্যতা থাকার সম্ভাবনা উড়িয়ে দেননি। তবে সাইমুম রেজা তালুকদার তার ফেসবুক পোস্টে সকল অভিযোগ অস্বীকার করেছেন। তিনি দাবি করেছেন, এই অডিও ক্লিপগুলো সম্পূর্ণ মিথ্যা এবং একটি মহলের অপপ্রচার। তার মতে, প্রসিকিউশনের কাজের ধরন অনুযায়ী এককভাবে কাউকে সুবিধা দেওয়া সম্ভব নয়। তিনি আরও জানান, শিক্ষকতা ও গবেষণায় ফেরার উদ্দেশ্যেই তিনি স্বেচ্ছায় পদত্যাগ করেছেন। এদিকে, সাইবার বিশেষজ্ঞ ও প্রসিকিউটর তানভীর হাসান জোহা জানিয়েছেন, প্রাথমিক বিশ্লেষণে অডিওগুলো কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই দিয়ে তৈরি বলে মনে হচ্ছে না। তবে পূর্ণাঙ্গ ডিজিটাল ফরেনসিক তদন্তের মাধ্যমেই প্রকৃত সত্য বেরিয়ে আসবে। উল্লেখ্য, গত বছরের ১২ সেপ্টেম্বর সীমান্ত দিয়ে পালানোর সময় গ্রেপ্তার হওয়া সাবেক সংসদ সদস্য ফজলে করিম চৌধুরীর বিরুদ্ধে জুলাই গণ-অভ্যুত্থানে ছাত্র হত্যার একাধিক মামলা রয়েছে।

ডেস্ক রিপোর্ট মার্চ ১০, ২০২৬ 0
ছবি: সংগৃহীত
মির্জা আব্বাসকে ভয়ভীতি দেখানোর অভিযোগে নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারীর বিরুদ্ধে বিএনপির নেতার মামলা

প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক উপদেষ্টা মির্জা আব্বাস উদ্দিন আহমেদকে নিয়ে মানহানিকর বক্তব্য ও ভয়ভীতি প্রদর্শনের অভিযোগে এনসিপির মুখ্য সমন্বয়ক নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারীর বিরুদ্ধে মামলা করার আবেদন করা হয়েছে।   রোববার (৮ মার্চ) সকালে ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট মো. হাসান শাহাদাতের আদালতে এ আবেদন করেন রাজধানীর রমনা থানার বিএনপির বর্তমান সভাপতি মো. আশরাফুল ইসলাম। বাদীপক্ষের আইনজীবী মো. আমিরুল ইসলাম আমির বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, আদালতে মামলার আবেদন জমা দেওয়া হয়েছে এবং বেলা ১১টার দিকে এ আবেদনের ওপর শুনানি হওয়ার কথা রয়েছে।   মামলার আবেদনে অভিযোগ করা হয়, ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে শাপলা কলি প্রতীক নিয়ে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করে নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী মির্জা আব্বাসের কাছে পরাজিত হন। নির্বাচনের আগে ও পরে তিনি বিভিন্ন সময় সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এবং অনলাইন সংবাদমাধ্যমে মির্জা আব্বাসকে নিয়ে মিথ্যা ও মানহানিকর বক্তব্য দিয়েছেন বলে অভিযোগ করা হয়েছে।   আবেদনে আরও বলা হয়, গত ৫ মার্চ ফেসবুকে দেওয়া একটি বক্তব্য বিভিন্ন অনলাইন সংবাদমাধ্যমে প্রকাশ পায়, যেখানে মির্জা আব্বাসকে নিয়ে আপত্তিকর মন্তব্য করা হয়েছে বলে দাবি করা হয়েছে। বাদীপক্ষের ভাষ্য অনুযায়ী, ওই বক্তব্য সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ায় মির্জা আব্বাসের ব্যক্তিগত ও রাজনৈতিক সুনাম ক্ষুণ্ণ হয়েছে।   অভিযোগে বলা হয়, উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে এসব মন্তব্য প্রচার করে মির্জা আব্বাসের রাজনৈতিক ভাবমূর্তি ক্ষতিগ্রস্ত করার চেষ্টা করা হয়েছে। এসব বক্তব্যকে মানহানিকর এবং শিষ্টাচারবহির্ভূত বলেও উল্লেখ করা হয়েছে।   এ বিষয়ে আদালতের সিদ্ধান্তের জন্য অপেক্ষা করা হচ্ছে।

ডেস্ক রিপোর্ট মার্চ ৮, ২০২৬ 0
ছবি: সংগৃহীত।
ইরানকে আন্তর্জাতিক আদালতের সামনে দাঁড়ানোর আহ্বান, যুদ্ধাপরাধ তদন্তে নতুন মোড়

মার্কিন মানবাধিকার সংগঠন Democracy for the Arab World Now (DAWN) ইরানকে আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালত International Criminal Court (ICC)-এর বিচারিক ক্ষমতা স্বীকার করার আহ্বান জানিয়েছে। সংগঠনটির মতে, ২০২৬ সালের ২৮ ফেব্রুয়ারি শুরু হওয়া সাম্প্রতিক সংঘাতের পর থেকে ইরানের ভূখণ্ডে সংঘটিত সম্ভাব্য যুদ্ধাপরাধের অভিযোগ তদন্তের জন্য এই পদক্ষেপ জরুরি।   DAWN বলেছে, আইসিসির নিয়ম অনুযায়ী কোনো দেশ আদালতের পূর্ণ সদস্য না হলেও একটি বিশেষ ঘোষণার মাধ্যমে নির্দিষ্ট সময় থেকে সংঘটিত অপরাধের ওপর আদালতের বিচারিক ক্ষমতা গ্রহণ করতে পারে। ইরান যদি এমন ঘোষণা দেয়, তাহলে যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর থেকে দেশটির ভেতরে ঘটে যাওয়া হামলা, বেসামরিক হতাহত এবং অবকাঠামো ধ্বংসের ঘটনাগুলো আন্তর্জাতিক তদন্তের আওতায় আসতে পারবে।   সংগঠনটি আরও দাবি করেছে, চলমান সংঘাতে হাসপাতাল, আবাসিক এলাকা ও অন্যান্য বেসামরিক স্থাপনা ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার অভিযোগ উঠেছে। এসব ঘটনার নিরপেক্ষ তদন্ত নিশ্চিত করতে আন্তর্জাতিক আদালতের ভূমিকা গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করছে তারা।   DAWN শুধু ইরান নয়, মধ্যপ্রাচ্যের যেসব দেশ এই সংঘাতের প্রভাবের মধ্যে পড়েছে তাদেরও একই ধরনের ঘোষণা দেওয়ার আহ্বান জানিয়েছে। সংগঠনটির মতে, এতে ভবিষ্যতে যুদ্ধাপরাধের অভিযোগের বিচার করার আইনি পথ খোলা থাকবে এবং ক্ষতিগ্রস্তদের জন্য ন্যায়বিচার নিশ্চিত করা সহজ হবে।   বিশ্লেষকদের মতে, ইরান, যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল—তিন দেশই আইসিসির পূর্ণ সদস্য নয়। ফলে আদালতের সরাসরি তদন্ত শুরু করতে হলে সংশ্লিষ্ট দেশের সম্মতি বা আন্তর্জাতিক পর্যায়ে বিশেষ অনুমোদন প্রয়োজন হতে পারে। তবে ইরান যদি স্বেচ্ছায় আদালতের এখতিয়ার মেনে নেয়, তাহলে চলমান সংঘাত নিয়ে আন্তর্জাতিক তদন্তের নতুন পথ তৈরি হতে পারে।

ডেস্ক রিপোর্ট মার্চ ৭, ২০২৬ 0
শিয়া লাবিউফ
শিয়া লাবিউফ গ্রেপ্তার, দ্বিতীয়বার ঝুলল আদালতের মামলায়

মার্কিন জনপ্রিয় টিভি অভিনেতা ও চলচ্চিত্র নির্মাতা শিয়া লাবিউফকে আবারও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। এর আগে ফেব্রুয়ারির শুরুতে নিউ অরলিন্সের একটি বারের বাইরে মারামারির ঘটনায় তাকে গ্রেপ্তার করা হয়েছিল।   এবার ১ মার্চের প্রতিবেদনে জানা গেছে, ফেব্রুয়ারির শেষ দিকে লাবিউফকে দ্বিতীয়বার গ্রেপ্তার করা হয়েছে। আদালতের রেকর্ড অনুযায়ী তার বিরুদ্ধে আরও একটি অপকর্মের অভিযোগ রয়েছে।   অভিনেতার আইনজীবী সারাহ চেরভিনস্কি জানান, ১৭ ফেব্রুয়ারি ফ্রেঞ্চ কোয়ার্টারের রয়্যাল স্ট্রিট ইন অ্যান্ড আউট বার সংলগ্ন সংঘর্ষের জন্য গ্রেপ্তার করা হয়েছে শিয়া লাবিউফকে। সেই ঘটনায় মার্ডিস গ্রাস উদযাপনের সময় একাধিক ব্যক্তিকে আঘাত এবং নির্দিষ্ট গোষ্ঠীকে গালাগালি করার অভিযোগ রয়েছে।   নিউ অরলিন্স পুলিশ জানায়, সংঘর্ষের একটি ভিডিওতে দেখা গেছে, একজন ব্যক্তিকে ধাক্কা দিয়ে মাটিতে ফেলা হচ্ছে এবং অন্য ব্যক্তির মুখে আঘাত করা হচ্ছে। এতে একজনের নাক ভেঙে গেছে বলে ধারণা করা হচ্ছে। অভিযুক্তদের মধ্যে তিনিও একজন পরিচিত বিনোদনকর্মী।   আইনজীবী বলেন, নতুন গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি হওয়ার পর শিয়া লাবিউফ স্বেচ্ছায় আত্মসমর্পণ করেছেন। আদালত জানিয়েছে, এক লাখ ডলারের বেশি বন্ডে তাকে মুক্তি দেওয়া হয়েছে এবং দুই আলাদা কারাভোগ হবে না।

ডেস্ক রিপোর্ট মার্চ ৫, ২০২৬ 0
ছবি: সংগৃহীত
স্ত্রীকে শ্বাসরোধে হত্যা, নেত্রকোণায় স্বামীকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড

নেত্রকোণায় স্ত্রী রেজিয়া খাতুনকে শ্বাসরোধ করে হত্যার ঘটনায় স্বামী মো. আবু বক্করকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড এবং ১০ হাজার টাকা অর্থদণ্ড প্রদান করেছেন আদালত। বৃহস্পতিবার (২৬ ফেব্রুয়ারি) নেত্রকোণা জেলা ও দায়রা জজ মরিয়ম মুন মুঞ্জরী এই রায় ঘোষণা করেন।   রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী (পিপি) আবুল হাসেম জানান, রায় ঘোষণার সময় আসামি আদালতে উপস্থিত ছিলেন। আবু বক্কর (৬২) কিশোরগঞ্জের করিমগঞ্জ উপজেলার মোলামখার চর এলাকার মৃত জাফর আলীর ছেলে। নিহত রেজিয়া খাতুন (৩৮) নেত্রকোণার মোহনগঞ্জ উপজেলার বসন্তিয়া গ্রামের বাসিন্দা ছিলেন।   আদালত সূত্রে জানা যায়, উভয়েরই এটি দ্বিতীয় বিবাহ ছিল। বিয়ের পর আবু বক্কর মোহনগঞ্জের বসন্তিয়া গ্রামে রেজিয়ার বাড়িতে বসবাস শুরু করেন। তাদের দাম্পত্য জীবনে প্রায়ই কলহ লেগে থাকত। ২০১৪ সালের ২৯ এপ্রিল রাতে পারিবারিক কলহের জের ধরে আবু বক্কর তার পরনের শার্ট দিয়ে রেজিয়ার গলা পেঁচিয়ে শ্বাসরোধ করে হত্যা করেন। পরে লাশটি ঘরের পাশে খড়ের গাদায় লুকিয়ে রাখেন এবং প্রথম স্ত্রীর গর্ভজাত ছেলেকে বিষয়টি জানান। পরদিন পুলিশ লাশ উদ্ধার করে।   নিহতের বোন বিউটি আক্তার翌দিন মোহনগঞ্জ থানায় হত্যা মামলা দায়ের করেন। তদন্ত শেষে পুলিশ ২০১৮ সালের ২৮ ফেব্রুয়ারি আদালতে অভিযোগপত্র জমা দেয়। মোট ১১ জন সাক্ষীর সাক্ষ্যগ্রহণ শেষে আদালত আজ এই রায় প্রদান করে।   প্রতিবেদকঃ মামুন রনবীর প্রেস

ডেস্ক রিপোর্ট ফেব্রুয়ারি ২৬, ২০২৬ 0
এলজিইডিতে ২৫৭ প্রকৌশলীর পদোন্নতি নিয়ে তোলপাড়
এলজিইডিতে ২৫৭ প্রকৌশলীর পদোন্নতি নিয়ে তোলপাড়

উচ্চ আদালতের স্থিতাবস্থার আদেশ বলবৎ থাকা অবস্থাতেই স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর (এলজিইডি)-এর একটি প্রকল্প থেকে রাজস্ব খাতে স্থানান্তরিত ২৫৭ জন সহকারী প্রকৌশলীকে পদোন্নতি দেওয়ার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে। বিষয়টি নিয়ে অভ্যন্তরীণভাবে তোড়জোড় চলছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে।   এ উদ্দেশ্যে সম্প্রতি এলজিইডি দুই দফায় স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ে প্রস্তাব পাঠিয়েছে। গত ১০ ফেব্রুয়ারি সংস্থাটির প্রধান প্রকৌশলী (চলতি দায়িত্ব) বেলাল হোসেন মন্ত্রণালয়ের সচিবের কাছে একটি দাপ্তরিক চিঠি পাঠান বলে জানা যায়।   চিঠিতে উল্লেখ করা হয়, এলজিইডির সাংগঠনিক কাঠামোয় ৫ম গ্রেডভুক্ত নির্বাহী প্রকৌশলী বা সমমানের পদগুলো চলতি দায়িত্বের মাধ্যমে পূরণ করা যেতে পারে। সেখানে বলা হয়, রাজস্ব বাজেটের আওতায় নির্বাহী প্রকৌশলীর মোট ১৬৮টি অনুমোদিত পদ রয়েছে, যার মধ্যে বর্তমানে ১১৪টি শূন্য। জাতীয় বেতন স্কেল ২০১৫ অনুযায়ী এসব পদের বেতনক্রম ৪৩ হাজার থেকে ৬৯ হাজার ৮৫০ টাকা।   এছাড়া উন্নয়ন বাজেটের বিভিন্ন প্রকল্পে নির্বাহী প্রকৌশলী, উপ-প্রকল্প পরিচালক ও উপ-পরিচালকের মিলিয়ে আরও ১১২টি পদ রয়েছে। এর মধ্যে ১৬টি পদ প্রেষণে পূরণ করা হয়েছে। ফলে রাজস্ব ও উন্নয়ন—দুই খাত মিলিয়ে মোট ২১০টি পদ বর্তমানে শূন্য রয়েছে বলে চিঠিতে উল্লেখ করা হয়।   প্রস্তাবে আরও বলা হয়, যোগদানের তারিখের ভিত্তিতে পূর্বে ৩৩৩ জন কর্মকর্তাকে পদোন্নতি দেওয়া হয়েছে। তবে জ্যেষ্ঠতা-সংক্রান্ত মামলা বিচারাধীন থাকায় পরবর্তীতে পদোন্নতি প্রক্রিয়া স্থগিত থাকে। দীর্ঘদিন পদগুলো শূন্য থাকায় প্রশাসনিক কার্যক্রম ব্যাহত হচ্ছে উল্লেখ করে চলতি দায়িত্ব প্রদানের মাধ্যমে পদ পূরণের বিষয়টি বিবেচনার অনুরোধ জানানো হয়।   তবে বঞ্চিত কর্মকর্তাদের একাংশের দাবি, প্রকল্প থেকে রাজস্ব খাতে অন্তর্ভুক্ত ২৫৭ জন সহকারী প্রকৌশলীকে ৫ম গ্রেডে দায়িত্ব দেওয়ার পথ সুগম করতেই এই উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে।   এ বিষয়ে জানতে চাইলে স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. রেজাউল মাহমুদ জাহেদী বলেন, সহকারী প্রকৌশলীদের পদোন্নতি সংক্রান্ত কোনো প্রস্তাব তার নজরে আসেনি।   অন্যদিকে এলজিইডির প্রধান প্রকৌশলী (চলতি দায়িত্ব) বেলাল হোসেনের বক্তব্য জানতে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাকে পাওয়া যায়নি। পরবর্তীতে খুদেবার্তা পাঠানো হলেও তিনি সাড়া দেননি।

ডেস্ক রিপোর্ট ফেব্রুয়ারি ২৬, ২০২৬ 0
ধর্ষণ ও প্রতারণা মামলায় ব্যবসায়ী পাঁচ দিনের রিমান্ডে

বিয়ের আশ্বাসে ধর্ষণ ও অর্থ আত্মসাতের অভিযোগে দায়ের করা মামলায় এক ব্যবসায়ীকে পাঁচ দিনের রিমান্ডে নেওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন আদালত। মঙ্গলবার ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট মাহবুব আলম এ আদেশ দেন। প্রসিকিউশনের পক্ষে পুলিশের এসআই তাহমিনা আক্তার বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।   শুনানির দিন আসামিকে আদালতে হাজির করা হলে তার পক্ষে আইনজীবী সাকিব আহমেদ রিমান্ড বাতিল ও জামিনের আবেদন করেন। উভয় পক্ষের শুনানি শেষে আদালত জামিন আবেদন নামঞ্জুর করে পাঁচ দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন।   এর আগে গত ১৮ ফেব্রুয়ারি মামলার তদন্ত কর্মকর্তা লালবাগ থানার এসআই আব্দুর রাজ্জাক খান আসামির সাত দিনের রিমান্ড আবেদন করেন। আদালত তখন আসামির উপস্থিতিতে শুনানির জন্য মঙ্গলবার দিন ধার্য করেন।   মামলার নথি অনুযায়ী, গত ৫ ফেব্রুয়ারি লালবাগ থানায় এক নারী সার্জেন্ট বাদী হয়ে মামলা দায়ের করেন। মামলায় জাহিদুল ইসলাম জাহিদ খান নামের এক ভূমি ব্যবসায়ীকে আসামি করা হয়।   অভিযোগে বলা হয়, গত বছরের ৫ নভেম্বর একটি ‘ম্যাট্রিমনি’ অ্যাপের মাধ্যমে তাদের পরিচয় হয়। পরবর্তীতে দুই পরিবারের মধ্যে বিয়ের বিষয়ে আলোচনা শুরু হয় এবং এরপর থেকে তাদের নিয়মিত দেখা-সাক্ষাৎ চলতে থাকে।   বাদীর অভিযোগ, বিয়ের প্রলোভন দেখিয়ে আসামি বিভিন্ন সময় তার লালবাগের বাসায় গিয়ে ধর্ষণ করেন। পাশাপাশি ব্যবসার কথা বলে তার কাছ থেকে ১৫ লাখ ৬৯ হাজার টাকা আত্মসাৎ করেন।

ডেস্ক রিপোর্ট ফেব্রুয়ারি ২৫, ২০২৬ 0
যুবলীগ নেতা সম্রাটের ২০ বছরের কারাদণ্ড, গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি
যুবলীগ নেতা সম্রাটের ২০ বছরের কারাদণ্ড, গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি

অবৈধ সম্পদ অর্জন ও মানিলন্ডারিংয়ের অভিযোগে করা মামলায় ঢাকা মহানগর দক্ষিণ যুবলীগের সাবেক সভাপতি ইসমাইল চৌধুরী সম্রাটকে পৃথক দুই ধারায় মোট ২০ বছরের সশ্রম কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত।  বুধবার ঢাকার বিশেষ জজ আদালত-৬-এর বিচারক মো. জাকারিয়া হোসেন এই চাঞ্চল্যকর রায় ঘোষণা করেন। আদালতের সূত্র অনুযায়ী, অবৈধ সম্পদ অর্জনের দায়ে সম্রাটকে ১০ বছরের কারাদণ্ড ও ১০ লাখ টাকা জরিমানা করা হয়েছে; অনাদায়ে আরও ৬ মাসের বিনাশ্রম কারাদণ্ড। অন্যদিকে, মানিলন্ডারিংয়ের অভিযোগে তাকে আরও ১০ বছরের কারাদণ্ড এবং ১০ লাখ টাকা জরিমানা করা হয়।  বিচারক তাঁর আদেশে উল্লেখ করেছেন যে, এই দুই ধারার সাজা একটির পর একটি কার্যকর হবে, ফলে তাকে মোট ২০ বছর কারাভোগ করতে হবে। একই সঙ্গে তাঁর অর্জিত অবৈধ সম্পদ রাষ্ট্রীয় অনুকূলে বাজেয়াপ্ত করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। বর্তমানে সম্রাট পলাতক থাকায় তাঁর বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করেছে আদালত। এর আগে ২০১৯ সালে ক্যাসিনোবিরোধী অভিযানের সময় কুমিল্লার চৌদ্দগ্রাম থেকে সম্রাটকে গ্রেপ্তার করা হয়েছিল। তাঁর বিরুদ্ধে ২ কোটি ৯৪ লাখ ৮০ হাজার ৮৭ টাকার অবৈধ সম্পদ অর্জনের অভিযোগে মামলাটি দায়ের করেছিল দুদক। দীর্ঘ বিচারিক প্রক্রিয়া এবং ২১ জন সাক্ষীর সাক্ষ্যগ্রহণ শেষে আজ এই রায় প্রদান করা হলো।

ডেস্ক রিপোর্ট ফেব্রুয়ারি ২৫, ২০২৬ 0
ছবি সংগৃহীত
কর্মী নিয়োগে বৈষম্যের অভিযোগ: টেসলার বিরুদ্ধে মামলা চালানোর নির্দেশ আদালতের

বৈদ্যুতিক গাড়ি নির্মাতা প্রতিষ্ঠান টেসলার বিরুদ্ধে কর্মী নিয়োগে মার্কিন নাগরিকদের প্রতি বৈষম্য করার অভিযোগে দায়ের করা একটি মামলা এগিয়ে নেওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন যুক্তরাষ্ট্রের একজন ফেডারেল বিচারক। মামলার অভিযোগে বলা হয়েছে, টেসলা জেনেশুনে মার্কিন নাগরিকদের বাদ দিয়ে বিদেশি কর্মীদের নিয়োগ দিচ্ছে, যাতে তাদের কম বেতন দেওয়া সম্ভব হয়। মঙ্গলবার ক্যালিফোর্নিয়ার একজন বিচারক টেসলার পক্ষ থেকে মামলাটি খারিজ করার আবেদন প্রত্যাখ্যান করেন। তবে একই সঙ্গে বিচারক মামলার ভবিষ্যৎ নিয়ে কিছুটা সংশয় প্রকাশ করে জানান, মামলাকারী সফটওয়্যার ইঞ্জিনিয়ার শেষ পর্যন্ত জয়ী হতে পারবেন কি না, তা নিয়ে তিনি নিশ্চিত নন। মামলাটি দায়ের করেছেন একজন সফটওয়্যার ইঞ্জিনিয়ার, যিনি অভিযোগ করেছেন যে তিনি টেসলায় চাকরির জন্য যোগ্য হওয়া সত্ত্বেও তাকে নিয়োগ দেওয়া হয়নি। তার দাবি, টেসলা সুপরিকল্পিতভাবে এইচ-১বি (H-1B) বা অন্যান্য বিশেষ ভিসাধারী বিদেশি কর্মীদের প্রাধান্য দিচ্ছে। এর কারণ হিসেবে তিনি উল্লেখ করেছেন যে, বিদেশি কর্মীরা সাধারণত মার্কিন নাগরিকদের তুলনায় কম বেতনে কাজ করতে রাজি থাকেন এবং ভিসার শর্তের কারণে তারা সহজে চাকরি ছাড়তে পারেন না। মামলাকারীর অভিযোগ অনুযায়ী, এটি কেবল সাধারণ নিয়োগ প্রক্রিয়া নয়, বরং মার্কিন নাগরিকদের বিরুদ্ধে সরাসরি একটি ‘আমেরিকান-বিরোধী’ বৈষম্য। টেসলা কর্তৃপক্ষ শুরু থেকেই এই অভিযোগ অস্বীকার করে আসছে। তাদের দাবি, তারা শুধুমাত্র মেধার ভিত্তিতে কর্মী নিয়োগ দেয় এবং কোনো নির্দিষ্ট জাতীয়তা বা নাগরিকত্বের বিরুদ্ধে তাদের কোনো বিদ্বেষ নেই। প্রতিষ্ঠানটি মামলাটি খারিজ করার জন্য আদালতে আবেদন করেছিল, যা আদালত নাকচ করে দিয়েছে। মামলাটি খারিজ না করলেও বিচারক কিছু গুরুত্বপূর্ণ মন্তব্য করেছেন। তিনি উল্লেখ করেছেন যে, একজন নিয়োগদাতার জন্য ব্যবসায়িক স্বার্থে খরচ কমানো একটি সাধারণ বিষয় হতে পারে, কিন্তু যদি সেটি প্রমাণ করা যায় যে শুধুমাত্র জাতীয়তার কারণে মার্কিন নাগরিকদের বঞ্চিত করা হয়েছে, তবে তা আইনের লঙ্ঘন। তবে এই অভিযোগ প্রমাণ করা মামলাকারীর জন্য বেশ চ্যালেঞ্জিং হবে বলেও তিনি সতর্ক করেছেন। উল্লেখ্য, এর আগেও টেসলার বিরুদ্ধে বর্ণবাদ এবং কর্মক্ষেত্রে হয়রানির একাধিক অভিযোগ উঠেছে। ক্যালিফোর্নিয়ার ফ্রিমন্ট কারখানায় কৃষ্ণাঙ্গ কর্মীদের প্রতি বৈষম্যের অভিযোগে টেসলা বর্তমানে আরও কয়েকটি আইনি লড়াই চালিয়ে যাচ্ছে। নতুন এই মামলাটি টেসলা এবং এর প্রধান নির্বাহী এলন মাস্কের জন্য নতুন এক অস্বস্তি তৈরি করল বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা। এখন দেখার বিষয়, আইনি প্রক্রিয়ায় এই ‘আমেরিকান-বিরোধী’ বৈষম্যের অভিযোগ কতটুকু সত্য প্রমাণিত হয়।

নিজস্ব প্রতিবেদক ফেব্রুয়ারি ২৪, ২০২৬ 0
অধ্যাপক ড. হারুন-অর-রশীদ এবং অধ্যাপক ড. মো. মশিউর রহমান
জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ে দুর্নীতির তদন্ত: এবার ফেঁসে যাচ্ছেন সাবেক দুই উপাচার্য

জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ে অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগের ছায়া! তদন্ত চলাকালে প্রতিষ্ঠানটির সাবেক দুই উপাচার্য অধ্যাপক ড. হারুন-অর-রশীদ এবং অধ্যাপক ড. মো. মশিউর রহমানের বিদেশযাত্রায় কঠোর নিষেধাজ্ঞা জারি করেছেন আদালত। দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে মঙ্গলবার ঢাকার মেট্রোপলিটন সিনিয়র স্পেশাল জজ সাব্বির ফয়েজ এই আদেশ প্রদান করেন। দুদকের উপপরিচালক মুহাম্মদ জয়নাল আবেদীন আদালতে এই আবেদনটি দাখিল করেছিলেন। কেন এই নিষেধাজ্ঞা? দুর্নীতির অভিযোগ: এই দুই শীর্ষ শিক্ষকের বিরুদ্ধে বিভিন্ন অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগের সত্যতা যাচাইয়ে তিন সদস্যের একটি শক্তিশালী অনুসন্ধান টিম কাজ করছে। পালিয়ে যাওয়ার আশঙ্কা: বিশ্বস্ত সূত্রের বরাত দিয়ে দুদক জানায়, তদন্ত চলাকালীন তারা দেশ ছেড়ে পালিয়ে যেতে পারেন বলে আশঙ্কা রয়েছে। সুষ্ঠু তদন্তের স্বার্থে তাদের বিদেশ গমন বন্ধ করা এখন সময়ের দাবি। অধ্যাপক হারুন-অর-রশীদ ২০১৩ থেকে ২০২১ সাল পর্যন্ত দুই মেয়াদে উপাচার্যের দায়িত্ব পালন করেন। এরপর ২০২১ সালে তাঁর স্থলাভিষিক্ত হন অধ্যাপক মশিউর রহমান। বর্তমানে তাদের দুজনের বিরুদ্ধেই আইনি প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে।

ডেস্ক রিপোর্ট ফেব্রুয়ারি ২৪, ২০২৬ 0
নির্বাচনী ট্রাইব্যুনাল গঠন হাইকোর্টে
নির্বাচনী ট্রাইব্যুনাল গঠন হাইকোর্টে

গণপ্রতিনিধিত্ব অধ্যাদেশ অনুযায়ী, নির্বাচনের ফল গেজেট আকারে প্রকাশের ৪৫ দিনের মধ্যে যেকোনো প্রার্থী বা সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি অনিয়মের অভিযোগ তুলে হাইকোর্টে আবেদন করতে পারেন। সেই আইনি প্রক্রিয়া সুগম করতেই এই ট্রাইব্যুনাল গঠন করা হয়েছে।   আদালতের নির্দেশনা ও বিচারিক এখতিয়ার হাইকোর্ট বিভাগের বিচারপতি মো. জাকির হোসেনের নেতৃত্বে একক বেঞ্চে এই আবেদনগুলোর শুনানি অনুষ্ঠিত হবে। বৃহস্পতিবার হাইকোর্টের কার্যতালিকায় (কজ লিস্ট) এই বেঞ্চের বিচারিক এখতিয়ার সুনির্দিষ্ট করা হয়েছে। এতে বলা হয়েছে: ১৯৭২ সালের গণপ্রতিনিধিত্ব অধ্যাদেশ (২০০১ সালের সংশোধনসহ) অনুযায়ী নির্বাচনী আবেদনপত্র গ্রহণ করা হবে।   এই বেঞ্চে স্থানান্তরিত বিষয়াদি সংক্রান্ত রুল ও আবেদনপত্রের ওপর শুনানি অনুষ্ঠিত হবে।   গেজেট প্রকাশ ও বর্তমান পরিস্থিতি উল্লেখ্য, গত বৃহস্পতিবার ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের ২৯৯টি আসনে ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হয়। এর মধ্যে ২৯৭টি আসনের বেসরকারি ফলাফল ঘোষণার পর নির্বাচন কমিশন ইতিমধ্যেই বিজয়ী সংসদ সদস্যদের নাম ও পরিচয়সহ গেজেট প্রকাশ করেছে।   নির্বাচন কমিশনের জ্যেষ্ঠ সচিব আখতার আহমেদ শুক্রবার রাতে এই গেজেট জারি করেন। আইন অনুযায়ী, এই গেজেট প্রকাশের দিন থেকেই ট্রাইব্যুনালে আবেদনের সময়সীমা গণনা শুরু হবে। তবে উচ্চ আদালতের নির্দেশনা থাকায় আপাতত দুটি আসনের গেজেট স্থগিত রাখা হয়েছে।   আগামী কয়েক দিনের মধ্যে নির্বাচিত সংসদ সদস্যদের শপথ গ্রহণ অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হবে। তবে সমান্তরালভাবে নির্বাচনী ট্রাইব্যুনালে আইনি চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করতে হবে অনেককেই।

ডেস্ক রিপোর্ট ফেব্রুয়ারি ১৯, ২০২৬ 0
টিউলিপ সিদ্দিক
দুর্নীতির মামলায় সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ভাগ্নি টিউলিপ সিদ্দিকের বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি

ঢাকার একটি আদালত টিউলিপ সিদ্দিকের বিরুদ্ধে ফ্ল্যাট সংক্রান্ত দুর্নীতির মামলায় গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করেছে। আদালতের আদেশ প্রদান করেন মেট্রোপলিটন সিনিয়র স্পেশাল জজ মো. সাব্বির ফয়েজ।   দুদকের দাখিলকৃত অভিযোগপত্র আমলে নিয়ে আদালত এই সিদ্ধান্ত নেন। টিউলিপ সিদ্দিক ছাড়াও রাজউকের সাবেক সহকারী আইন উপদেষ্টা সরদার মোশাররফ হোসেনের বিরুদ্ধেও গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করা হয়েছে।   আদালত আগামী ৮ মার্চ আসামিদের গ্রেফতার সংক্রান্ত প্রতিবেদন দাখিলের পরবর্তী দিন ধার্য করেছেন। মামলাটি গুলশান এলাকার একটি ফ্ল্যাট বরাদ্দ ও লেনদেনে অনিয়মের অভিযোগের ভিত্তিতে দায়ের করা হয়েছিল।

ডেস্ক রিপোর্ট ফেব্রুয়ারি ১৮, ২০২৬ 0
ইমিগ্রেশন অ্যান্ড কাস্টমস এনফোর্সমেন্ট
যুক্তরাষ্ট্রে আদালতের আদেশ উপেক্ষা করে হাজার হাজার অভিবাসী আটক

মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রশাসনের অধীনে অভিবাসীদের আটক রাখার প্রক্রিয়া নিয়ে এক ভয়াবহ চিত্র উঠে এসেছে রয়টার্সের এক অনুসন্ধানী প্রতিবেদনে। আদালতের পক্ষ থেকে অন্তত ৪,৪০০ বার ইমিগ্রেশন অ্যান্ড কাস্টমস এনফোর্সমেন্ট (ICE) কর্তৃক অভিবাসীদের আটক রাখাকে 'অবৈধ' ঘোষণা করা হলেও, এই প্রক্রিয়া বন্ধ হয়নি।   রয়টার্সের পর্যালোচনায় দেখা গেছে, গত বছরের অক্টোবর থেকে দেশের বিভিন্ন প্রান্তের শত শত বিচারক ট্রাম্প প্রশাসনের অভিবাসন নীতির কড়া সমালোচনা করেছেন। বিচারকদের মতে, প্রশাসন আইন অমান্য করে হাজার হাজার অভিবাসীকে অনির্দিষ্টকালের জন্য বন্দি করে রাখছে। এমনকি আদালতের স্পষ্ট নির্দেশ থাকা সত্ত্বেও অনেক ক্ষেত্রে তাদের মুক্তি দেওয়া হচ্ছে না।   পশ্চিম ভার্জিনিয়ার মার্কিন জেলা জজ থমাস জনস্টন একটি মামলায় ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, “এটি অত্যন্ত উদ্বেগজনক যে সরকার আদালতকে বর্তমান আইন উপেক্ষা করতে বলছে। আইন যেভাবে স্পষ্টভাবে লেখা আছে, সরকারকে তা মেনে চলতে হবে।” তিনি গত সপ্তাহে একজন ভেনেজুয়েলান বন্দিকে মুক্তি দেওয়ার আদেশ দিয়ে এই মন্তব্য করেন।   আইনি বিরোধের মূল কারণ প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, এই আইনি লড়াইয়ের মূলে রয়েছে প্রায় তিন দশকের পুরনো একটি ফেডারেল আইনের ব্যাখ্যা। ট্রাম্প প্রশাসন সেই ব্যাখ্যা থেকে সরে এসে নতুন নীতি গ্রহণ করেছে। আগে নিয়ম ছিল যে, অভিবাসীরা যারা ইতিমধ্যে যুক্তরাষ্ট্রে বসবাস করছেন, তারা তাদের মামলার শুনানি চলাকালীন বন্ডের বিনিময়ে মুক্তি পেতে পারেন। কিন্তু বর্তমান প্রশাসন তাদের মুক্তি না দিয়ে বন্দি করে রাখার নীতি বেছে নিয়েছে।   রেকর্ড সংখ্যক বন্দি ট্রাম্প ক্ষমতা গ্রহণের পর থেকে আইসিই (ICE) হেফাজতে থাকা অভিবাসীর সংখ্যা প্রায় ৭৫ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে। চলতি মাসে এই সংখ্যা প্রায় ৬৮,০০০-এ পৌঁছেছে, যা ট্রাম্প প্রশাসনের অভিবাসন বিরোধী কঠোর অবস্থানের প্রতিফলন।   হোয়াইট হাউসের অবস্থান এই বিষয়ে হোয়াইট হাউসের মুখপাত্র অ্যাবিগেইল জ্যাকসন জানিয়েছেন, প্রশাসন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের ম্যান্ডেট অনুযায়ী ফেডারেল ইমিগ্রেশন আইন কার্যকরভাবে বাস্তবায়ন করছে। তবে সমালোচকরা বলছেন, আইনি প্রক্রিয়াকে বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখিয়ে এভাবে মানুষকে বন্দি রাখা মানবাধিকার এবং বিচার ব্যবস্থার মৌলিক নীতির পরিপন্থী।   এদিকে, নিউ অরলিন্সের একটি রক্ষণশীল আপিল আদালত গত সপ্তাহে ট্রাম্প প্রশাসনের পক্ষে রায় দিয়ে অভিবাসীদের আটকে রাখার ক্ষমতাকে সমর্থন করেছে। সার্কিট জজ এডিথ জোনস বলেন, আগের প্রশাসনগুলো এই আইন পুরোপুরি ব্যবহার করেনি মানে এই নয় যে তাদের সেই ক্ষমতা ছিল না।   আদালতের এই পরস্পরবিরোধী অবস্থান এবং প্রশাসনের অনড় মনোভাব যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ব্যবস্থায় এক চরম বিশৃঙ্খলা ও আইনি সংকট তৈরি করেছে বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা। সূত্র: রয়টার্স (১৪ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬)

নিজস্ব প্রতিবেদক ফেব্রুয়ারি ১৪, ২০২৬ 0
সাংবাদিক শ্যামল দত্ত এবং মোজাম্মেল বাবুর ব্যাংক হিসাব অবরুদ্ধ
সাংবাদিক শ্যামল দত্ত এবং মোজাম্মেল বাবুর ব্যাংক হিসাব অবরুদ্ধ

দুর্নীতি সংক্রান্ত তদন্তের অংশ হিসেবে আদালত ভোরের কাগজের সম্পাদক শ্যামল দত্ত ও তার পরিবার এবং একাত্তর টেলিভিশনের সাবেক ব্যবস্থাপনা পরিচালক মোজাম্মেল হক বাবুর নামে থাকা বিভিন্ন ব্যাংক হিসাব অবরুদ্ধের নির্দেশ দিয়েছেন।   ঢাকার মেট্রোপলিটন সিনিয়র স্পেশাল জজ সাব্বির ফয়েজ আজ, সোমবার ৯ জানুয়ারি, দুদকের আবেদনের প্রেক্ষিতে এই আদেশ দেন। শ্যামল দত্ত, তার স্ত্রী সঞ্চিতা দত্ত ও কন্যা সুষমা শশী দত্তের নামে থাকা মোট ১৮টি ব্যাংক হিসাব অবরুদ্ধ হয়েছে, যেখানে প্রায় ৫ কোটি ৩২ লাখ টাকা রয়েছে। একইভাবে, মোজাম্মেল হক বাবু, তার স্ত্রী অপরাজিতা হক ও মেয়ে শাবাবা ইশায়াত হকের নামে থাকা ১১টি ব্যাংক হিসাবেও প্রায় ৩ কোটি ৮৯ লাখ টাকা রয়েছে।   দুদকের পক্ষ থেকে সংস্থার উপ-পরিচালক বায়োজিদুর রহমান খান আদালতে জানিয়েছিলেন যে, উক্ত সাংবাদিকদের পরিবারের নামে থাকা সম্পদগুলো অর্জনের স্পষ্ট উৎস পাওয়া যায়নি। তদন্তে দেখা গেছে, এসব সম্পদ বিভিন্নভাবে হস্তান্তর বা স্থানান্তরের মাধ্যমে আড়াল করার চেষ্টা করা হয়েছে, যা অর্থপাচার এবং মানিলন্ডারিংয়ের অভিযোগে প্রমাণিত হয়েছে।   উল্লেখ্য, ১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্টের অভ্যুত্থানের পর ৫ আগস্ট শেখ হাসিনার সরকার পতনের পর শ্যামল দত্তকে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার আখাউড়া সীমান্তে ভারত যাওয়ার সময় ইমিগ্রেশন পুলিশ আটক করেছিল। মোজাম্মেল হক বাবু সেই সময় আত্মগোপনে ছিলেন। পরে ১৬ সেপ্টেম্বর ময়মনসিংহের ধোবাউড়া সীমান্ত দিয়ে অবৈধভাবে ভারতে পালানোর সময় দুজনকেই আটক করা হয়। এরপর থেকে তারা কারাগারে রয়েছেন।   প্রতিবেদক: শ্যামল সান্যাল

ডেস্ক রিপোর্ট ফেব্রুয়ারি ৯, ২০২৬ 0
আশুলিয়ায় ছয়জনের লাশ পোড়ানোর মামলায় সাবেক এমপি সাইফুল ইসলামের মৃত্যুদণ্ড
আশুলিয়ায় ছয়জনের লাশ পোড়ানোর মামলায় সাবেক এমপি সাইফুল ইসলামের মৃত্যুদণ্ড

আমেরিকা বাংলা ডেস্ক : জুলাই গণঅভ্যুত্থানে আশুলিয়ায় ছয়জনের লাশ পোড়ানোসহ সাতজনকে হত্যার দায়ে মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় সাবেক সংসদ সদস্য সাইফুল ইসলামসহ ছয়জনের মৃত্যুদণ্ড দিয়েছেন আদালত।   বৃহস্পতিবার (৫ ফেব্রুয়ারি) দুপুর ১টা ২০ মিনিটে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-২ এর চেয়ারম্যান বিচারপতি নজরুল ইসলাম চৌধুরীর নেতৃত্বে তিন সদস্যের বিচারিক প্যানেল এ রায় ঘোষণা করেন।   মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত অন্য পাঁচজন হলেন আশুলিয়া থানার তৎকালীন ওসি এএফএম সায়েদ রনি, এসআই মালেক, সাবেক এএসআই বিশ্বজিৎ সাহা, কনস্টেবল মুকুল এবং স্থানীয় আওয়ামী লীগ নেতা রনি ভূঁইয়া।   একই সঙ্গে সাবেক সংসদ সদস্য সাইফুল ইসলামের সব সম্পত্তি বাজেয়াপ্ত করে তা ভুক্তভোগী পরিবারগুলোর মধ্যে বণ্টনের নির্দেশ দেন আদালত।   এর আগে একই দিন দুপুর ১২টা ৫০ মিনিটে রায় পড়া শুরু হয়। বিচারিক প্যানেলের অপর দুই সদস্য ছিলেন বিচারক মো. মঞ্জুরুল বাছিদ ও বিচারক নূর মোহাম্মদ শাহরিয়ার কবীর।   দুপুর ১২টা ২৫ মিনিটে এ মামলায় গ্রেপ্তার আট আসামিকে ট্রাইব্যুনালের কাঠগড়ায় হাজির করা হয়। তাদের উপস্থিতিতে সংক্ষিপ্ত রায় পাঠ করেন বিচারক নূর মোহাম্মদ শাহরিয়ার কবীর।   গ্রেপ্তার আসামিরা হলেন ঢাকা জেলার সাবেক অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ক্রাইম অ্যান্ড অপস) মো. আব্দুল্লাহিল কাফী, সাবেক অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (সাভার সার্কেল) মো. শাহিদুল ইসলাম, ডিবির তৎকালীন পরিদর্শক আরাফাত হোসেন, এসআই মালেক, এসআই আরাফাত উদ্দিন, এএসআই কামরুল হাসান, এসআই শেখ আবজালুল হক ও কনস্টেবল মুকুল।   পলাতক আট আসামি হলেন ঢাকা-১৯ আসনের সাবেক এমপি মুহাম্মদ সাইফুল ইসলাম, ঢাকা রেঞ্জের সাবেক ডিআইজি সৈয়দ নুরুল ইসলাম, সাবেক পুলিশ সুপার মো. আসাদুজ্জামান রিপন, আশুলিয়া থানার তৎকালীন ওসি এএফএম সায়েদ রনি, সাবেক পুলিশ পরিদর্শক (তদন্ত) মোহাম্মদ মাসুদুর রহমান, সাবেক পুলিশ পরিদর্শক (অপারেশন) নির্মল কুমার দাস, সাবেক এএসআই বিশ্বজিৎ সাহা ও স্থানীয় আওয়ামী লীগ নেতা রনি ভূঁইয়া।   এ ঘটনায় সাতজন শহীদ হন। তারা হলেন শহীদ সাজ্জাদ হোসেন সজল, আস সাবুর, তানজিল মাহমুদ সুজয়, বায়োজিদ বোস্তামী, আবুল হোসেন, ওমর ফারুক ও মোহাম্মদ শাহাবুল ইসলাম।   গত বছরের ২১ আগস্ট আসামিদের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করে বিচার শুরুর আদেশ দেন ট্রাইব্যুনাল-২। সে সময় উপস্থিত আট আসামির সাতজনই নিজেদের নির্দোষ দাবি করেন। তবে দোষ স্বীকার করে রাজসাক্ষী হিসেবে জবানবন্দি দেন এসআই শেখ আবজালুল হক।   একই বছরের ২ জুলাই প্রসিকিউশনের দাখিল করা আনুষ্ঠানিক অভিযোগ আমলে নেন আদালত। অভিযোগের সঙ্গে ৩১৩ পৃষ্ঠার অন্যান্য তথ্যসূত্র, ১৬৮ পৃষ্ঠার দালিলিক প্রমাণাদি এবং দুটি পেনড্রাইভ সংযুক্ত করা হয়।   রায় ঘোষণাকে কেন্দ্র করে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল ও সুপ্রিম কোর্ট এলাকায় কয়েক স্তরের নিরাপত্তা জোরদার করা হয়। পুলিশ, র‍্যাব ও বিজিবির পাশাপাশি সেনাবাহিনী মোতায়েন ছিল। গোয়েন্দা সংস্থার সদস্যরাও তৎপর ছিলেন।   প্রতিবেদক: শ্যামল সান্যাল

আমেরিকা বাংলা ডেস্ক রিপোর্ট ফেব্রুয়ারি ৫, ২০২৬ 0
ছবি: সংগৃহীত
অভিবাসন প্রশ্নে নতুন বিতর্ক— আদালতের রায়ে স্থগিত ট্রাম্প প্রশাসনের পদক্ষেপ

যুক্তরাষ্ট্রে অভিবাসন নীতি ঘিরে আবারও তীব্র বিতর্কের জন্ম দিয়েছে এক ফেডারেল আদালতের রায়। তিন লাখ পঞ্চাশ হাজারের বেশি হাইতিয়ান অভিবাসীর অস্থায়ী সুরক্ষা মর্যাদা (TPS) বাতিলের উদ্যোগ আপাতত স্থগিত করেছে আদালত, যা বড় ধাক্কা হিসেবে দেখা হচ্ছে Donald Trump প্রশাসনের জন্য।   মার্কিন ডিস্ট্রিক্ট জজ Ana Reyes রায়ে বলেন, বিচারিক পর্যালোচনা শেষ না হওয়া পর্যন্ত হাইতিয়ান নাগরিকদের আইনি অবস্থান বহাল থাকবে। তার মতে, প্রশাসনের সিদ্ধান্তে যথাযথ নিরপেক্ষতা ছিল না এবং তা আগেভাগেই নির্ধারিত ছিল বলে প্রতীয়মান হয়।   রায়ে তিনি আরও কঠোর ভাষায় সমালোচনা করেন Department of Homeland Security-এর সচিব Kristi Noem-কে। বিচারকের মন্তব্য অনুযায়ী, TPS বাতিলের পেছনে অশ্বেতাঙ্গ অভিবাসীদের প্রতি বিরূপ মনোভাব কাজ করেছে বলেও ইঙ্গিত পাওয়া যায়।   বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এই রায় শুধু হাইতিয়ান অভিবাসীদের জন্য নয়, বরং যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ব্যবস্থার ভবিষ্যৎ নীতিনির্ধারণেও বড় প্রভাব ফেলতে পারে। কারণ TPS বাতিল হলে লাখো মানুষ কাজ, বাসস্থান ও আইনি সুরক্ষা হারানোর ঝুঁকিতে পড়তেন।   এদিকে প্রশাসনের পক্ষ থেকে রায়ের বিরুদ্ধে আপিলের প্রস্তুতির ইঙ্গিত মিললেও আপাতত আদালতের আদেশেই স্বস্তিতে রয়েছেন হাজারো হাইতিয়ান পরিবার। তবে অভিবাসন নীতি ঘিরে যুক্তরাষ্ট্রের রাজনৈতিক অঙ্গনে বিতর্ক আরও তীব্র হওয়ার আশঙ্কা করছেন বিশ্লেষকেরা।

নিজস্ব প্রতিবেদক ফেব্রুয়ারি ৪, ২০২৬ 0
ঢাকা মহানগর জ্যেষ্ঠ বিশেষ জজ আদালত
সাবেক শিল্প সচিবসহ দুই শীর্ষ কর্মকর্তার দেশত্যাগে নিষেধাজ্ঞা

বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশনের (বিএসইসি) সাবেক কমিশনার ও সাবেক শিল্প সচিব মো. আব্দুল হালিম এবং বিদ্যুৎ বিভাগের অতিরিক্ত সচিব মো. সবুর হোসেনের বিদেশ গমনে নিষেধাজ্ঞা জারি করেছেন আদালত। ঢাকা মহানগর জ্যেষ্ঠ বিশেষ জজ আদালতের বিচারক মো. সাব্বির ফয়েজ দুদকের আবেদনের প্রেক্ষিতে এই আদেশ দেন।   দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) আবেদনের প্রেক্ষিতে আজ মঙ্গলবার ঢাকা মহানগর জ্যেষ্ঠ বিশেষ জজ আদালত এই গুরুত্বপূর্ণ আদেশ দিয়েছেন। স্মার্ট প্রি-পেমেন্ট মিটার স্থাপন প্রকল্পে অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগ অনুসন্ধানের স্বার্থেই এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে।   দুর্নীতির বিরুদ্ধে বড় পদক্ষেপ: ৫ লাখ স্মার্ট মিটার স্থাপন প্রকল্পে বড় ধরণের অনিয়মের অভিযোগ। পালানোর শঙ্কা: বিশ্বস্ত সূত্রে দেশত্যাগের পরিকল্পনার খবর পেয়েই আদালতের এই কঠোর নিষেধাজ্ঞা। তদন্তের স্বার্থে কড়াকড়ি: অভিযোগের সুষ্ঠু তদন্তের জন্য অভিযুক্তদের দেশে থাকা একান্ত প্রয়োজন বলে জানিয়েছে দুদক।   আদালত সূত্রে জানা গেছে, 'পল্লী বিদ্যুতায়ন কার্যক্রমের আওতায় ৫ লাখ স্মার্ট প্রি-পেমেন্ট মিটার স্থাপন' শীর্ষক প্রকল্পের ক্রয় প্রক্রিয়ায় ব্যাপক অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগ বর্তমানে অনুসন্ধানাধীন। অভিযোগ সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা দেশ ছেড়ে পালিয়ে যেতে পারেন এমন আশঙ্কায় দুদকের অনুসন্ধান টিম এই নিষেধাজ্ঞার আবেদন করেছিল। রাষ্ট্রীয় বার্তা সংস্থা বাসস-কে বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন আদালতের বেঞ্চ সহকারী মো. রিয়াজ হোসেন।

নিজস্ব প্রতিবেদক ফেব্রুয়ারি ৩, ২০২৬ 0
চট্টগ্রাম বন্দরে বিক্ষোভকারীদের বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থার হুঁশিয়ারি

চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষের আওতাধীন নিউমুরিং কনটেইনার টার্মিনাল (এনসিটি) সংক্রান্ত উচ্চ আদালতের রায়কে কেন্দ্র করে বিশৃঙ্খল পরিস্থিতি সৃষ্টির অভিযোগে কঠোর অবস্থান নিয়েছে বন্দর কর্তৃপক্ষ। অফিস চলাকালে মিছিল, মহড়া ও আন্দোলনে অংশ নেওয়া কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়ার হুঁশিয়ারি দেওয়া হয়েছে।   বৃহস্পতিবার (২৯ জানুয়ারি) বন্দর কর্তৃপক্ষের পরিচালক (প্রশাসন) ওমর ফারুক স্বাক্ষরিত এক বিজ্ঞপ্তিতে এই নির্দেশনা দেওয়া হয়।   শুক্রবার (৩০ জানুয়ারি) বিজ্ঞপ্তিটি গণমাধ্যমে পাঠানো হয়েছে।   বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, বৃহস্পতিবার বেলা সাড়ে ১১টায় অফিস চলাকালে এনসিটি সংক্রান্ত হাইকোর্টের রায়ের বিরুদ্ধে বন্দরের কিছু কর্মচারী ভবন চত্বরে মিছিল করেন। এ সময় তারা আদালতের রায়ের বিরুদ্ধে বিরূপ মন্তব্য করেন এবং দলবদ্ধভাবে মহড়া দিয়ে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করেন।   কর্তৃপক্ষ জানায়, সরকারি সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে আন্দোলন, সভা-মিছিল এবং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে পোস্ট দেওয়া ‘সরকারি কর্মচারী (আচরণ) বিধিমালা-১৯৭৯’ ও ‘চট্টগ্রাম বন্দর কর্মচারী চাকরি প্রবিধানমালা-১৯৯১’ সহ সংশ্লিষ্ট আইন অনুযায়ী সুস্পষ্ট পেশাগত অসদাচরণ ও শাস্তিযোগ্য অপরাধ। এ ধরনের কর্মকাণ্ডে বন্দরের স্বাভাবিক কার্যক্রম ব্যাহত হচ্ছে, যা রাষ্ট্রীয় স্বার্থবিরোধী।   বিজ্ঞপ্তিতে আরও জানানো হয়, ভবিষ্যতে এ ধরনের কাজ থেকে বিরত না থাকলে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনি ও প্রশাসনিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে।   এনসিটি পরিচালনার দায়িত্ব বিদেশি প্রতিষ্ঠানের হাতে হস্তান্তরের উদ্যোগ এবং আদালতের রায়ের প্রতিবাদে ফুঁসে উঠেছেন বন্দর শ্রমিক-কর্মচারীরা। এর প্রতিবাদে আগামী শনিবার (৩১ জানুয়ারি) ও রোববার (১ ফেব্রুয়ারি) বন্দর এলাকায় ‘শাটডাউন’ কর্মসূচি ঘোষণা করা হয়েছে।   কর্মসূচি অনুযায়ী, শনিবার সকাল ৮টা থেকে বিকেল ৪টা পর্যন্ত বন্দরের সব অপারেশনাল কার্যক্রম এবং রোববার একই সময়ে প্রশাসনিক ও অপারেশনাল উভয় কার্যক্রম বন্ধ রাখার ঘোষণা দেওয়া হয়েছে।   এর আগে বৃহস্পতিবার সকাল থেকে বন্দরের কারশেড ও আশপাশের এলাকায় বিভিন্ন শ্রমিক সংগঠনের ব্যানারে বিক্ষোভ সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়। শ্রমিক নেতারা এনসিটি ইজারা দেওয়ার সিদ্ধান্তকে জাতীয় স্বার্থবিরোধী আখ্যা দিয়ে তা বাতিলের দাবি জানান।   একই ইস্যুতে বৃহস্পতিবার চট্টগ্রাম প্রেস ক্লাবে সংবাদ সম্মেলন করেছে ‘চট্টগ্রাম শ্রমিক কর্মচারী ঐক্য পরিষদ’ (স্কপ)। সংগঠনটির নেতারা বলেন, পর্যাপ্ত দেশীয় সক্ষমতা থাকা সত্ত্বেও লাভজনক ও কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ এনসিটি টার্মিনাল বিদেশি কোম্পানির হাতে তুলে দেওয়ার কোনো যৌক্তিকতা নেই। তারা অবিলম্বে এই সিদ্ধান্ত থেকে সরে আসার আহ্বান জানান। অন্যথায় সাধারণ মানুষকে সঙ্গে নিয়ে বৃহত্তর আন্দোলনের হুঁশিয়ারি দেন তারা।   সংবাদ সম্মেলন থেকে জানানো হয়, আগামী ১ ফেব্রুয়ারি সকাল ১১টায় বন্দর ভবন অভিমুখে কালো পতাকা মিছিল করবেন শ্রমিকেরা।  

ডেস্ক রিপোর্ট জানুয়ারী ৩০, ২০২৬ 0
জনপ্রিয় সংবাদ
ইরানের আকাশে ১৬টি চীনা সামরিক বিমানের রহস্য নিয়ে তোলপাড়

মধ্যপ্রাচ্যের ক্রমবর্ধমান উত্তেজনার মধ্যেই একটি চাঞ্চল্যকর দাবি ভূ-রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন করে বিতর্কের ঝড় তুলেছে।   গত ৪৮ থেকে ৫৬ ঘণ্টার মধ্যে ১৬টি চীনা 'ওয়াই-২০' (Y-20) সামরিক কার্গো বিমান তাদের ট্রান্সপন্ডার বা সিগন্যাল বন্ধ রেখে ইরানের আকাশে প্রবেশ করেছে বলে খবর ছড়িয়েছে। কোনো আনুষ্ঠানিক নিশ্চিতকরণ ছাড়াই এই তথ্যটি প্রতিরক্ষা বিশ্লেষক ও সোশ্যাল মিডিয়া ব্যবহারকারীদের মধ্যে তীব্র উদ্বেগ সৃষ্টি করেছে। দাবি করা হচ্ছে, এই বিমানগুলো বেসামরিক রাডার থেকে আড়াল থাকতে বিশেষ কৌশল অবলম্বন করেছিল। নেটিজেন ও সামরিক বিশ্লেষকদের একটি অংশের ধারণা, চীন হয়তো ইরানকে অত্যাধুনিক ইলেকট্রনিক ওয়ারফেয়ার সিস্টেম বা জ্যামিং প্রযুক্তি সরবরাহ করছে। যদি এটি সত্যি হয়, তবে মার্কিন এফ-৩৫ (F-35) যুদ্ধবিমান বা নৌ-অভিযানের জন্য এটি বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়াতে পারে। অনেকে একে যুক্তরাষ্ট্রের প্রতি বেইজিংয়ের সরাসরি ‘সতর্কবার্তা’ হিসেবেও দেখছেন। তবে এই উত্তেজনার মুদ্রার উল্টো পিঠও রয়েছে। ফ্লাইটরাডার২৪-এর মতো আন্তর্জাতিক ফ্লাইট ট্র্যাকিং প্ল্যাটফর্মে এ ধরনের কোনো অস্বাভাবিক ফ্লাইটের রেকর্ড পাওয়া যায়নি। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ১৬টি ভারী সামরিক কার্গো বিমানের মতো বিশাল বহরকে রাডার বা স্যাটেলাইট নজরদারি থেকে সম্পূর্ণ লুকিয়ে রাখা প্রায় অসম্ভব।  বর্তমান ভূ-রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে চীন-ইরান সম্পর্ক গভীর হলেও, সুনির্দিষ্ট প্রমাণের অভাবে বিশ্লেষকরা একে আপাতত ‘সুপরিকল্পিত গুজব’ বা মিসইনফরমেশন হিসেবেই দেখছেন। তেহরান বা বেইজিং—কোনো পক্ষ থেকেই এখন পর্যন্ত এ নিয়ে কোনো আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া মেলেনি।

“এপস্টেইন ফাইলের দাবি: বাইডেনকে হত্যা করে ক্লোন বানানো হয়েছে?”

এপস্টেইন ফাইল: দাবি, বাইডেনকে ২০১৯ সালে হত্যা করে ক্লোন দ্বারা প্রতিস্থাপন করা হয়েছে   জেফরি এপস্টেইনের ফাইল ট্রান্সপারেন্সি অ্যাক্টের সাথে যুক্ত সম্প্রতি প্রকাশিত একটি নথি ত্রাঞ্চে অভিযোগ করা হয়েছে যে, প্রাক্তন মার্কিন প্রেসিডেন্ট জো বাইডেনকে ২০১৯ সালে হত্যা করা হয়েছে এবং তাকে একটি ক্লোন দ্বারা প্রতিস্থাপন করা হয়েছে।   এই নথিগুলি, যা আনক্লাসিফায়েড ডিপার্টমেন্ট অব জাস্টিস (DOJ) রেকর্ডের একটি বিশাল ডেটা রিলিজের অংশ, “চার্লস” নামে একজনের ক্ষুব্ধ ইমেইল অন্তর্ভুক্ত করেছে এবং অন্তর্বর্তী ফাইলিং কোড EFTA00173266 থেকে EFTA00173273 পর্যন্ত চিহ্নিত। এই ইমেইলগুলো তৃতীয় পক্ষের যোগাযোগের মধ্যে পাওয়া গেছে, যা জেফরি এপস্টেইনের নেটওয়ার্ক সংক্রান্ত বিস্তৃত ফেডারেল তদন্তের সময় সংগ্রহ করা হয়েছিল।   এপস্টেইন সম্পর্কিত অন্যান্য প্রকাশনার মতো এখানে রাজনৈতিক ও ব্যবসায়িক ব্যক্তিদের সঙ্গে সম্পর্কের তথ্য নয়, বরং চরম ও ষড়যন্ত্রমূলক দাবিগুলো রয়েছে। ক্লোন তত্ত্বের উল্লেখ “চার্লস” ইমেইলগুলো এপ্রিল ২০২১-এ একজন এফবিআই এজেন্টকে ফরোয়ার্ড করা হয়েছিল, যাকে লাল করা প্রেরক হিসেবে দেখানো হয়েছে। প্রেরক দাবি করেছিলেন যে এটি একটি প্রযুক্তি সংস্থার এক ক্ষুব্ধ প্রাক্তন কর্মচারী বা সহযোগীর মেসেজ। ইমেইলগুলিতে গালাগালি ভাষা ব্যবহৃত হয়েছে এবং এখানে “কোয়ান্টাম” প্রযুক্তি, গোপন সামরিক ট্রাইব্যুনাল, এবং “বাইডেন আপনার বর্তমান প্রেসিডেন্ট নন” এমন দাবির উল্লেখ রয়েছে।   একটি অনুচ্ছেদে বলা হয়েছে যে “বাস্তব” জো বাইডেনকে ২০১৯ সালে নির্বিচারে হত্যা করা হয়েছে এবং তাকে একজন অভিনেতা বা ক্লোন দ্বারা প্রতিস্থাপন করা হয়েছে, যেখানে প্রমাণ হিসেবে “মাস্কের ত্রুটি” দেখানো হয়েছে। তবে এই দাবিগুলোর সঙ্গে কোনো শারীরিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি বা সঙ্গত সাক্ষ্য নেই।   “বাইডেন ক্লোন” দাবি অনলাইনে ষড়যন্ত্র তত্ত্বের একটি পরিচিত অংশ। তত্ত্বটি সাধারণত ধরে যে “বাস্তব” জো বাইডেনকে গোপনে জনমঞ্চ থেকে সরিয়ে দেওয়া হয়েছে, প্রায়শই ২০১৯ বা ২০২০ সালে, এবং তাকে চেহারা মিলানো লোক বা ক্লোন দিয়ে প্রতিস্থাপন করা হয়েছে।   অনুগামীরা প্রায়শই নিম্নমানের ভিডিও এবং ফটোগ্রাফ বিশ্লেষণ করে, চেহারার পরিবর্তন যেমন আলোর পরিবর্তন, বয়সের প্রভাব বা ক্যামেরার ত্রুটিকে কৃত্রিমভাবে আড়াল করার প্রমাণ হিসেবে দেখান।   এ পর্যন্ত কোনো যাচাইযোগ্য প্রমাণ নেই যে প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন কখনো ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন বা প্রতিস্থাপিত হয়েছেন। এই দাবিগুলি সম্পূর্ণভাবে একটি ষড়যন্ত্র তত্ত্ব হিসেবে রয়ে গেছে।   সূত্র: Royanews  

১২ ঘণ্টারও কম সময়ে দেশে আবারও স্বর্ণের দামে বড় পতন

দাম বাড়ানোর ১২ ঘণ্টারও কম সময়ের ব্যবধানে দেশের বাজারে আবারও স্বর্ণের দাম কমিয়েছে বাংলাদেশ জুয়েলার্স অ্যাসোসিয়েশন (বাজুস)। ভরিতে এক লাফে ৩ হাজার ২৬৬ টাকা কমিয়ে ২২ ক্যারেটের প্রতি ভরি স্বর্ণের নতুন দাম নির্ধারণ করা হয়েছে ২ লাখ ৫৮ হাজার ৮২৪ টাকা।   শনিবার (৭ ফেব্রুয়ারি) রাতে বাজুসের এক বিজ্ঞপ্তিতে দাম কমানোর বিষয়টি জানানো হয়েছে। নতুন দাম রোববার (৮ ফেব্রুয়ারি) থেকেই কার্যকর হবে।   এর আগে একই দিন সকালে দেশের বাজারে স্বর্ণের দাম বাড়ানো হয়। ওই সময় ভরিপ্রতি এক লাফে ৭ হাজার ৬৪০ টাকা বাড়িয়ে ২২ ক্যারেটের এক ভরি স্বর্ণের দাম নির্ধারণ করা হয়েছিল ২ লাখ ৬২ হাজার ৯০ টাকা।   নতুন দাম অনুযায়ী, বর্তমানে দেশের বাজারে ২২ ক্যারেটের প্রতি ভরি (১১.৬৬৪ গ্রাম) স্বর্ণের দাম পড়বে ২ লাখ ৫৮ হাজার ৮২৪ টাকা। পাশাপাশি ২১ ক্যারেটের প্রতি ভরি ২ লাখ ৪৭ হাজার ৪৪ টাকা, ১৮ ক্যারেটের প্রতি ভরি ২ লাখ ১১ হাজার ৭৬০ টাকা এবং সনাতন পদ্ধতির প্রতি ভরি স্বর্ণের দাম পড়বে ১ লাখ ৭৩ হাজার ৩২৭ টাকা।   এ নিয়ে চলতি বছর দেশের বাজারে মোট ২৭ বার স্বর্ণের দাম সমন্বয় করলো বাজুস। এরমধ্যে ১৭ বারই দাম বাড়ানো হয়েছে। আর দাম কমেছে মাত্র ১০ বার। অন্যদিকে গতবছর দেশের বাজারে মোট ৯৩ বার স্বর্ণের দাম সমন্বয় করা হয়েছিল। যেখানে ৬৪ বারই দাম বাড়ানো হয়েছিল। এছাড়া ২০২৫ সালে ২৯ বার কমানো হয়েছিল স্বর্ণের দাম।

অভিবাসন নীতিতে কঠোরতা: এবার মেইনে ফেডারেল ইমিগ্রেশন অভিযানের ঘোষণা

যুক্তরাষ্ট্রে অভিবাসন নীতিতে কঠোরতা আরও স্পষ্ট হচ্ছে। সর্বশেষ মেইন (Maine) অঙ্গরাজ্যে ফেডারেল ইমিগ্রেশন অভিযান শুরুর ঘোষণা দিয়েছে Department of Homeland Security (ডিএইচএস)।   ডিএইচএসের এক মুখপাত্রের বরাতে জানা গেছে, “Operation Catch of the Day” নামে এই বিশেষ অভিযানের মাধ্যমে রাজ্যটিতে অবস্থানরত অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে জড়িত অবৈধ অভিবাসীদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তার করা হবে। অভিযানটি পরিচালনায় ফেডারেল ইমিগ্রেশন কর্মকর্তাদের পাশাপাশি স্থানীয় আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সমন্বয় রয়েছে।   কর্তৃপক্ষ বলছে, এই উদ্যোগের প্রধান লক্ষ্য জননিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং সহিংস বা গুরুতর অপরাধে যুক্ত ব্যক্তিদের আইনের আওতায় আনা। ডিএইচএস আরও জানায়, আইন মেনে বসবাসকারী বা অপরাধে জড়িত নন—এমন অভিবাসীদের লক্ষ্যবস্তু করা হবে না।   তবে মানবাধিকার ও অভিবাসী অধিকার সংগঠনগুলোর আশঙ্কা, এ ধরনের অভিযানে ভয় ও অনিশ্চয়তা তৈরি হতে পারে এবং নিরপরাধ মানুষও হয়রানির শিকার হতে পারেন। এ নিয়ে তারা স্বচ্ছতা ও যথাযথ আইনি প্রক্রিয়া অনুসরণের আহ্বান জানিয়েছে।   বিশ্লেষকদের মতে, মেইনে এই অভিযান শুরুর মাধ্যমে ফেডারেল সরকারের অভিবাসন আইন প্রয়োগ আরও বিস্তৃত পরিসরে জোরদার হলো। এর প্রভাব স্থানীয় অভিবাসী কমিউনিটির পাশাপাশি রাজ্যের রাজনৈতিক ও সামাজিক পরিমণ্ডলেও পড়তে পারে।  সূত্র: ABC News

ভিসা নিয়ে বড় সুখবর দিলো যুক্তরাষ্ট্র

যুক্তরাষ্ট্রের শ্রমবাজারে তীব্র কর্মী সংকট মোকাবিলায় ২০২৬ অর্থবছরে বড় ধরনের পদক্ষেপ নিয়েছে ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রশাসন। নিয়মিত কোটার বাইরে অতিরিক্ত প্রায় ৬৪ হাজার ৭১৬টি এইচ-২বি মৌসুমি অতিথি শ্রমিক ভিসা দেওয়ার চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।   রয়টার্সের বরাতে জানা গেছে, স্থানীয় সময় শুক্রবার (৩০ জানুয়ারি) প্রকাশিত ফেডারেল রেজিস্টার নোটিশে বলা হয়, দেশীয় শ্রমিকের ঘাটতির কারণে যেসব মার্কিন নিয়োগকর্তা বড় ধরনের আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়ছেন, মূলত তাদের স্বার্থ বিবেচনায় নিয়েই এই অতিরিক্ত ভিসার অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। ফলে বছরে নির্ধারিত ৬৬ হাজার এইচ-২বি ভিসার সংখ্যা প্রায় দ্বিগুণে পৌঁছাতে যাচ্ছে।   নতুন এই সিদ্ধান্তে নির্মাণ শিল্প, হোটেল ও রেস্তোরাঁ, ল্যান্ডস্কেপিং এবং সি-ফুড প্রক্রিয়াজাতকরণ খাতের মতো শ্রমনির্ভর মৌসুমি শিল্পগুলো সবচেয়ে বেশি উপকৃত হবে বলে মনে করা হচ্ছে। এসব খাতে দীর্ঘদিন ধরেই দক্ষ স্থানীয় কর্মীর অভাবে বিদেশি শ্রমিক আনার দাবি জানিয়ে আসছিলেন নিয়োগকর্তারা।   ক্ষমতায় আসার পর ট্রাম্প প্রশাসন অবৈধ অভিবাসনের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান নিলেও, বৈধ পথে কর্মসংস্থানের সুযোগ বাড়িয়ে অর্থনীতিকে সচল রাখতে এই নমনীয় সিদ্ধান্ত নিয়েছে। এর আগেও সাবেক প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন প্রশাসনের সময় শ্রমঘাটতি মোকাবিলায় এইচ-২বি ভিসার সংখ্যা বাড়ানো হয়েছিল।   তবে সরকারের এই সিদ্ধান্তের বিরোধিতাও রয়েছে। অভিবাসন কমানোর পক্ষে থাকা বিভিন্ন গোষ্ঠীর আশঙ্কা, বিপুল সংখ্যক বিদেশি শ্রমিক প্রবেশ করলে মার্কিন নাগরিকদের মজুরি কমে যেতে পারে।   এ বিষয়ে পেন্টাগন ও শ্রম মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, দেশের উন্নয়ন প্রকল্প এবং পর্যটন খাত সচল রাখতে এই মুহূর্তে বিদেশি শ্রমিকের বিকল্প নেই। ফেডারেল রেজিস্টারের তথ্যানুযায়ী, অতিরিক্ত এইচ-২বি ভিসা কার্যকরের বিশেষ বিধিমালা আগামী মঙ্গলবার আনুষ্ঠানিকভাবে প্রকাশ করা হবে এবং এরপরই আবেদন প্রক্রিয়া শুরু হবে। সূত্র: দ্য ফিন্যান্সিয়াল এক্সপ্রেস

Top week

ছবি: সংগৃহীত
আন্তর্জাতিক

হরমুজ প্রণালীতে জাহাজ পারাপারের বিনিময়ে ভারতের কাছে তিন ট্যাংকার ফেরত চাইল ইরান

ডেস্ক রিপোর্ট মার্চ ১৬, ২০২৬ 0