সাপ্তাহিক আমেরিকা বাংলা ই-পেপার

আবাসন

সাশ্রয়ী আবাসনের সুযোগ বাড়াতে নতুন একটি আবাসন প্রকল্পের প্রথম ধাপ চালু করা হয়েছে
নিউইয়র্কে আবাসন সংকট মোকাবিলায় ব্রুকলিনে ৮৩৯টি সাশ্রয়ী বাসা নির্মাণের উদ্যোগ

যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্ক অঙ্গরাজ্যের ব্রুকলিনে সাশ্রয়ী আবাসনের সুযোগ বাড়াতে নতুন একটি আবাসন প্রকল্পের প্রথম ধাপ চালু করা হয়েছে। ইস্ট নিউইয়র্ক এলাকার এই প্রকল্পে ৩৮৬টি স্থায়ীভাবে সাশ্রয়ী বাসা বসবাসের জন্য প্রস্তুত করা হয়েছে। একই প্রকল্পের পরবর্তী ধাপে আরও ৪৫৩টি বাসা এবং একটি শিশু পরিচর্যা কেন্দ্র নির্মাণের কাজ এগিয়ে যাচ্ছে।   নিউইয়র্ক সিটি মেয়র জোহরান মামদানি ও অঙ্গরাজ্যের গভর্নর ক্যাথি হোকুলসহ সংশ্লিষ্ট অংশীদারেরা ১৫ অক্টোবর প্রকল্পটির অগ্রগতি তুলে ধরেন। ‘ইনোভেটিভ আরবান ভিলেজ’ নামের এই উদ্যোগটি ক্রিশ্চিয়ান কালচারাল সেন্টারের ক্যাম্পাসে গড়ে উঠছে।    নগর কর্তৃপক্ষের তথ্য অনুযায়ী, পুরো প্রকল্প শেষ হলে সেখানে ১০টি ভবনে প্রায় ২ হাজার স্থায়ীভাবে সাশ্রয়ী বাসা তৈরি হবে। আবাসনের পাশাপাশি শিশু পরিচর্যা, কর্মসংস্থানমুখী প্রশিক্ষণ, কমিউনিটি কার্যক্রম, সাংস্কৃতিক আয়োজন, স্থানীয় দোকানপাট এবং জনসাধারণের ব্যবহারের জন্য খোলা জায়গার ব্যবস্থাও রাখার পরিকল্পনা রয়েছে।   নিউইয়র্কে বাড়িভাড়া ও জীবনযাত্রার ব্যয় অনেক পরিবারের জন্য বড় চাপ। এ পরিস্থিতিতে দীর্ঘমেয়াদি সাশ্রয়ী আবাসন প্রকল্পের মাধ্যমে কর্মজীবী পরিবার ও স্থানীয় বাসিন্দাদের শহরে বসবাস ধরে রাখার সুযোগ বাড়ানোই উদ্যোগটির অন্যতম লক্ষ্য।   মেয়র মামদানি বলেন, নিরাপদ ও স্থিতিশীল আবাসন প্রত্যেক নিউইয়র্কবাসীর প্রাপ্য। প্রকল্পটির মাধ্যমে নতুন বাসা চালুর পাশাপাশি প্রয়োজনীয় কমিউনিটি সুবিধা যুক্ত করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। গভর্নর হোকুলও আবাসনের সঙ্গে শিশু পরিচর্যা ও অন্যান্য সেবার সমন্বয়ের গুরুত্ব তুলে ধরেছেন।   তবে এই ঘোষণার অর্থ এই নয় যে সব বাসায় এখনই নতুন আবেদন গ্রহণ করা হচ্ছে বা প্রত্যেক আবেদনকারী বাসা পাবেন। কারা আবেদন করতে পারবেন, আয়সীমা কত এবং আবেদন কবে শুরু হবে—এসব বিষয়ে প্রকল্পের আনুষ্ঠানিক বিজ্ঞপ্তি যাচাই করা প্রয়োজন।   নিউইয়র্কের আবাসন সংকট মোকাবিলায় প্রকল্পটি একটি উল্লেখযোগ্য পদক্ষেপ। তবে এর প্রকৃত সুফল নির্ভর করবে যোগ্য বাসিন্দাদের কাছে বাসাগুলো কতটা সহজে পৌঁছায় এবং ভবিষ্যৎ নির্মাণকাজ নির্ধারিত সময়ে সম্পন্ন হয় তার ওপর।

বায়জিদ হাসান অক্টোবর ১৭, ২০২৬ ১৪:০
যুক্তরাষ্ট্রে অভিবাসন অভিযান জোরদার হওয়ায় বাড়ি নির্মাণ খাতে শ্রমিকসংকট
অভিবাসন অভিযানে চাপে যুক্তরাষ্ট্রে আবাসন খাত, বাড়ি নির্মাণ ব্যয় বাড়ার নতুন আশঙ্কা

যুক্তরাষ্ট্রে অভিবাসন অভিযান জোরদার হওয়ায় বাড়ি নির্মাণ খাতে শ্রমিকসংকট, প্রকল্পের বিলম্ব এবং নির্মাণ ব্যয় বৃদ্ধির চাপ তৈরি হচ্ছে। এর প্রভাব দেশটির আবাসন বাজারে পড়তে পারে বলে সতর্ক করছেন নির্মাণশিল্পের সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা। এমন পরিস্থিতিতে বাড়ি কেনার অপেক্ষায় থাকা পরিবার, নতুন বাড়ির ক্রেতা এবং ভাড়াটিয়াদের জন্য বিষয়টি গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে।   ১৬ অক্টোবর প্রকাশিত দ্য ওয়াল স্ট্রিট জার্নাল-এর এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, যুক্তরাষ্ট্রে অভিবাসন আইন প্রয়োগের অভিযান নির্মাণশিল্পে শ্রমিকের প্রাপ্যতা কমিয়ে দিচ্ছে। বিশেষ করে ছাদ নির্মাণ, রং করা, কাঠামো তৈরি এবং বাড়ির বিভিন্ন অংশ স্থাপনের মতো কাজে অভিবাসী শ্রমিকদের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রয়েছে। শ্রমিক কমে যাওয়ায় কিছু নির্মাণপ্রতিষ্ঠানকে কাজ শেষ করতে বেশি সময় ও অর্থ ব্যয় করতে হচ্ছে।   প্রতিবেদন অনুযায়ী, নির্মাতাদের প্রায় দুই-তৃতীয়াংশ প্রতিষ্ঠান শ্রমিকসংখ্যা কমে যাওয়ার অভিজ্ঞতার কথা জানিয়েছে। এক বছর আগে এ হার ছিল প্রায় ১৩ শতাংশ। নির্মাণশিল্পে শ্রমিকের প্রাপ্যতা নিয়ে এই পরিবর্তন খাতটির ওপর বাড়তি চাপের ইঙ্গিত দিচ্ছে।   যুক্তরাষ্ট্রের বাড়ি নির্মাণ খাতে অভিবাসী কর্মীদের অংশগ্রহণ দীর্ঘদিনের। ২০২৪ সালের তথ্য অনুযায়ী, নির্মাণশ্রমিকদের প্রায় ২৬ শতাংশ ছিলেন বিদেশে জন্মগ্রহণকারী কর্মী। তাঁদের অনেকে এমন কাজে নিয়োজিত, যেগুলো সম্পন্ন করতে নির্দিষ্ট দক্ষতা, অভিজ্ঞতা এবং শারীরিক পরিশ্রম প্রয়োজন।   অভিবাসন অভিযান জোরদার হওয়ার পর কিছু এলাকায় নির্মাণকাজের সঙ্গে যুক্ত প্রতিষ্ঠানগুলো কর্মী হারানোর কথা জানিয়েছে। প্রতিবেদনে ফ্লোরিডার জ্যাকসনভিলের কয়েকটি ক্ষেত্রে শ্রমিকসংখ্যা ব্যাপকভাবে কমে যাওয়ার তথ্যও উল্লেখ করা হয়েছে। কিছু নির্মাণপ্রতিষ্ঠানের হিসাবে, একটি বাড়ির কাঠামো তৈরির ব্যয় আগে যেখানে প্রায় ১০ হাজার ডলার ছিল, সেখানে পরিস্থিতিভেদে তা বেড়ে ২৮ হাজার ডলার পর্যন্ত পৌঁছেছে। তবে এই অঙ্ক পুরো যুক্তরাষ্ট্রের সব বাড়ি বা সব নির্মাণপ্রকল্পের জন্য প্রযোজ্য নয়।   শ্রমিকসংকটের প্রভাব শুধু নির্মাণপ্রতিষ্ঠানের মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকে না। নির্ধারিত সময়ে বাড়ি নির্মাণ শেষ না হলে ক্রেতাদের নতুন বাড়িতে ওঠার সময় পিছিয়ে যেতে পারে। নির্মাণকাজে বিলম্ব হলে ঋণের সুদ, যন্ত্রপাতি ভাড়া, উপকরণের সংরক্ষণ এবং শ্রমিক ব্যবস্থাপনার খরচও বাড়তে পারে। প্রতিষ্ঠানগুলো এসব অতিরিক্ত ব্যয়ের কিছু অংশ বাড়ির বিক্রয়মূল্যে যুক্ত করলে শেষ পর্যন্ত ক্রেতাদের ওপরও চাপ পড়তে পারে।   আবাসন বাজারে এর আরেকটি সম্ভাব্য প্রভাব হলো নতুন বাড়ির সরবরাহ কমে যাওয়া। জনসংখ্যা ও আবাসনের চাহিদার তুলনায় নতুন বাড়ি নির্মাণ ধীর হলে বিশেষ করে ব্যয়বহুল শহর ও দ্রুত সম্প্রসারিত এলাকায় সাশ্রয়ী বাড়ি পাওয়া কঠিন হতে পারে। তবে বাড়ির দাম ও ভাড়া শুধু শ্রমিকসংকটের ওপর নির্ভর করে না; বন্ধকী ঋণের সুদের হার, জমির মূল্য, নির্মাণসামগ্রীর দাম, স্থানীয় অনুমোদন এবং ক্রেতাদের চাহিদাও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।   অন্যদিকে, কঠোর অভিবাসন নীতির সমর্থকেরা যুক্তি দেন, এর মাধ্যমে আইন প্রয়োগ জোরদার করা এবং মার্কিন কর্মীদের জন্য সুযোগ তৈরি করা সম্ভব। তবে নির্মাণশিল্পের কিছু প্রতিষ্ঠান বলছে, অভিজ্ঞ শ্রমিকদের দ্রুত বিকল্প দিয়ে প্রতিস্থাপন করা সহজ নয়। বৈধভাবে কাজ করার অনুমতি থাকা কিছু কর্মীও অভিবাসন অভিযান নিয়ে উদ্বেগের কারণে কাজে যেতে অনীহা দেখাচ্ছেন বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

বায়জিদ হাসান অক্টোবর ১৫, ২০২৬ ১৪:০
মামদানিকে ঘিরে বিতর্কের মধ্যেই বিশ্বের ১ নম্বর শহরের স্বীকৃতি পেল নিউইয়র্ক
মামদানিকে ঘিরে বিতর্কের মধ্যেই চমক, বিশ্বের ১ নম্বর শহরের স্বীকৃতি পেল নিউইয়র্ক

মেয়র জোহরান মামদানিকে ঘিরে যুক্তরাষ্ট্রের রাজনীতিতে বিতর্ক চললেও নিউইয়র্ক আবারও বিশ্বসেরা শহরের স্বীকৃতি পেয়েছে। অক্সফোর্ড ইকোনমিকসের ২০২৬ সালের গ্লোবাল সিটিজ ইনডেক্সে বিশ্বের ১ হাজার শহরের মধ্যে নিউইয়র্ক প্রথম স্থান অর্জন করেছে। অর্থনীতি, মানবসম্পদ, জীবনযাত্রার মান, পরিবেশ ও শাসনব্যবস্থার মতো বিভিন্ন সূচকে মূল্যায়নের পর শহরটির সামগ্রিক স্কোর দাঁড়িয়েছে ১০০।   এই স্বীকৃতির সময় মামদানি প্রশাসন নিউইয়র্কবাসীর জীবনযাত্রার ব্যয় কমানোকে অগ্রাধিকার দিয়ে বেশ কিছু নীতি বাস্তবায়ন করছে। ভাড়ানিয়ন্ত্রিত অ্যাপার্টমেন্টের ভাড়া স্থির রাখা, বিনামূল্যে শিশু যত্নের সুযোগ বাড়ানো এবং উচ্চমূল্যের দ্বিতীয় বাড়ির ওপর অতিরিক্ত কর আরোপের উদ্যোগ এসবের মধ্যে উল্লেখযোগ্য। নিউইয়র্কের ভাড়ানিয়ন্ত্রিত অ্যাপার্টমেন্টগুলোর জন্য এক ও দুই বছরের লিজে ভাড়া না বাড়ানোর সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। তবে এই সিদ্ধান্ত নিয়ে বাড়ির মালিকদের পক্ষ থেকে আইনি চ্যালেঞ্জও এসেছে। শিশু যত্নের ক্ষেত্রে মামদানি প্রশাসন চারটি কমিউনিটিতে বিনামূল্যে ২-K আসন চালু করেছে। এর লক্ষ্য ধাপে ধাপে পুরো শহরের দুই বছর বয়সী শিশুদের জন্য বিনামূল্যে এই সুবিধা সম্প্রসারণ করা। এদিকে উচ্চমূল্যের দ্বিতীয় বাড়ির ওপর অতিরিক্ত কর আরোপের পরিকল্পনাও মামদানির প্রশাসনের অন্যতম আলোচিত উদ্যোগ। এই নীতি নিয়েও আইনি বিরোধ তৈরি হয়েছে। অক্সফোর্ড ইকোনমিকসের সূচকে নিউইয়র্কের শীর্ষ অবস্থান অবশ্য শুধু বর্তমান মেয়র প্রশাসনের নীতির ওপর নির্ভর করে দেওয়া হয়নি। শহরের বিশাল অর্থনীতি, শক্তিশালী শ্রমবাজার, দক্ষ জনশক্তি এবং বৈশ্বিক প্রভাবও এই র‌্যাংকিংয়ে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে। ফলে মামদানিকে ঘিরে রাজনৈতিক বিতর্ক এবং তার প্রশাসনের বিভিন্ন নীতি নিয়ে মতভেদ থাকলেও আন্তর্জাতিক সূচকে নিউইয়র্কের শক্ত অবস্থান অব্যাহত রয়েছে। আগামী বছরগুলোতে নতুন নীতিগুলো শহরের জীবনযাত্রা, আবাসন ও অর্থনীতিতে কী ধরনের প্রভাব ফেলে, সেটিই এখন নজর রাখার বিষয়।

অলি উল্লাহ আল মাসুদ অক্টোবর ৪, ২০২৬ ১৪:০
যুক্তরাষ্ট্রের মেরিল্যান্ড অঙ্গরাজ্যে অতিরিক্ত আবাসন ব্যয় দারিদ্র্যের অন্যতম বড় কারণ। ছবি: সংগৃহীত
মেরিল্যান্ডে বাড়িভাড়ার চাপে বাড়ছে দারিদ্র্য, ২১ শতাংশ দারিদ্র্যের পেছনে আবাসন ব্যয়

যুক্তরাষ্ট্রের মেরিল্যান্ড অঙ্গরাজ্যে অতিরিক্ত আবাসন ব্যয় দারিদ্র্যের অন্যতম বড় কারণ হয়ে উঠেছে। নতুন এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, রাজ্যটিতে পরিমাপ করা মোট দারিদ্র্যের প্রায় ২১ শতাংশের সঙ্গে গড়ে ওঠা আবাসন ব্যয়ের সরাসরি সম্পর্ক রয়েছে। গবেষণাটি প্রকাশ করেছে দ্য পিউ চ্যারিটেবল ট্রাস্টস। পিউ-এর বিশ্লেষণে মেরিল্যান্ডকে যুক্তরাষ্ট্রের সেই ১০টি অঙ্গরাজ্যের একটি হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে, যেখানে গড়ের তুলনায় বেশি আবাসন ব্যয় দারিদ্র্যের ওপর সবচেয়ে বেশি প্রভাব ফেলছে। তালিকায় রয়েছে হাওয়াই, ক্যালিফোর্নিয়া, ওয়াশিংটন ডিসি, নিউ জার্সি, ম্যাসাচুসেটস, কলোরাডো, মেরিল্যান্ড, কানেকটিকাট, নিউইয়র্ক ও নিউ হ্যাম্পশায়ার। প্রতিবেদনটির ভিত্তি হলো যুক্তরাষ্ট্রের সম্পূরক দারিদ্র্য পরিমাপ পদ্ধতি। প্রচলিত দারিদ্র্য পরিমাপের তুলনায় এই পদ্ধতিতে পরিবারের আয় ছাড়াও সরকারি সহায়তা, কর, জীবনযাত্রার ব্যয় এবং বিশেষ করে স্থানীয় আবাসন ব্যয়ের পার্থক্য বিবেচনা করা হয়। ফলে কোনো এলাকায় বাড়ি বা ভাড়া বেশি হলে সেই অতিরিক্ত ব্যয় পরিবারের প্রকৃত আর্থিক অবস্থার ওপর কী প্রভাব ফেলছে, তা আরও স্পষ্টভাবে বোঝা যায়। মেরিল্যান্ডে ২০২২ থেকে ২০২৩ সালের মধ্যে এই সম্পূরক দারিদ্র্য পরিমাপ অনুযায়ী দারিদ্র্যের হার ছিল ১১ দশমিক ১ শতাংশ। একই সময়ে যুক্তরাষ্ট্রের জাতীয় হার ছিল ১২ দশমিক ৬ শতাংশ। অর্থাৎ জাতীয় গড়ের তুলনায় মেরিল্যান্ডের সামগ্রিক দারিদ্র্যের হার কিছুটা কম হলেও উচ্চ আবাসন ব্যয় রাজ্যের নিম্নআয়ের পরিবারগুলোর ওপর বড় ধরনের চাপ সৃষ্টি করছে।    যুক্তরাষ্ট্রে আবাসন সংকট পরিস্থিতিকে আরও জটিল করেছে। দেশটিতে আনুমানিক ৪০ লাখ থেকে ৭০ লাখ বাড়ির ঘাটতি রয়েছে বলে পিউ-এর বিশ্লেষণে উল্লেখ করা হয়েছে। পর্যাপ্ত নতুন বাড়ি তৈরি না হওয়ায় চাহিদার তুলনায় সরবরাহ কম থাকছে এবং এর ফলে ভাড়া ও বাড়ির দাম দীর্ঘমেয়াদে উঁচু থাকছে। মেরিল্যান্ডের নিজস্ব আবাসন-চিত্রও একই সমস্যার ইঙ্গিত দেয়। রাজ্যের ২০২৫ সালের আবাসন চাহিদা মূল্যায়ন অনুযায়ী, মেরিল্যান্ডে প্রায় ৭ লাখ ৬৫ হাজার ভাড়াটিয়া পরিবার রয়েছে এবং তাদের মধ্যে প্রায় ৪৭ শতাংশ আবাসন ব্যয়ের চাপে রয়েছে। অর্থাৎ এসব পরিবার তাদের আয়ের উল্লেখযোগ্য অংশ বাসস্থানের পেছনে ব্যয় করছে। রাজ্য সরকারের গবেষণায় আরও বলা হয়েছে, মেরিল্যান্ডে সাশ্রয়ী আবাসনের বড় ঘাটতি রয়েছে। ৮০ শতাংশের নিচে মধ্যম আয়সীমার পরিবারের জন্য ২ লাখ ৭৫ হাজারের বেশি সাশ্রয়ী ভাড়ার বাড়ির ঘাটতি রয়েছে বলে হিসাব করা হয়েছে। একই সঙ্গে করোনা মহামারির পর আবাসন নির্মাণ উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়েনি। দীর্ঘমেয়াদে পরিস্থিতি সামাল দিতে মেরিল্যান্ডে প্রায় ৫ লাখ ৯০ হাজার নতুন আবাসিক ইউনিট প্রয়োজন হবে বলে রাজ্যের আবাসন চাহিদা মূল্যায়নে বলা হয়েছে। বর্তমান নির্মাণের গতি বজায় থাকলে এই প্রয়োজন পূরণ করা কঠিন হবে। রাজ্য সরকারের প্রতিবেদনে স্থানীয় ভূমি-ব্যবহার নীতি, কম ঘনত্বের নির্মাণ এবং অন্যান্য নিয়ন্ত্রক বাধাকেও আবাসন সরবরাহ কম থাকার অন্যতম কারণ হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে। পিউ-এর বিশ্লেষণ অনুযায়ী, আবাসন সরবরাহ বাড়িয়ে ভাড়া কমানো গেলে দারিদ্র্য উল্লেখযোগ্যভাবে কমানো সম্ভব। গবেষণায় দেখা গেছে, সংশ্লিষ্ট রাজ্যগুলোতে মূল্যস্ফীতি সমন্বিত ভাড়া প্রায় ২০ শতাংশ কমানো সম্ভব হলে দারিদ্র্য ১৮ থেকে ২৬ শতাংশ পর্যন্ত কমতে পারে এবং শিশু দারিদ্র্য কমতে পারে ২১ থেকে ৩৮ শতাংশ পর্যন্ত। শুধু খাদ্য সহায়তা বা নগদ সহায়তা বাড়ালেই নিম্নআয়ের পরিবারের আর্থিক সংকট পুরোপুরি দূর করা সম্ভব নয়। কারণ পরিবারের আয়ের বড় একটি অংশ যদি বাড়িভাড়া বা আবাসন ব্যয়ে চলে যায়, তাহলে অন্যান্য প্রয়োজনীয় খরচ মেটানোর জন্য অর্থ কমে যায়। পিউ-এর গবেষণাও দেখিয়েছে, উচ্চ আবাসন ব্যয় সরকারি দারিদ্র্যবিরোধী কর্মসূচির কিছু ইতিবাচক প্রভাবকে দুর্বল করে দিতে পারে। মেরিল্যান্ডে এই সংকটের প্রভাব শুধু নিম্নআয়ের ভাড়াটিয়াদের মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়। রাজ্যের তথ্য অনুযায়ী, ২০০০ থেকে ২০২২ সালের মধ্যে মধ্যম আয়ের পরিবারের জন্য গড় দামের বাড়ি কেনার সক্ষমতা ৭৫ শতাংশ থেকে কমে ৪৯ শতাংশের নিচে নেমে এসেছে। একই সময়ে বাড়ির দাম ও ভাড়ার চাপ বাড়তে থাকায় মধ্যবিত্ত পরিবারের জন্যও আবাসন ক্রমেই কঠিন হয়ে উঠেছে। পিউ-এর গবেষণার মূল বার্তা হলো, দারিদ্র্য কমাতে আয় বাড়ানোর পাশাপাশি আবাসন ব্যয় কমানো এবং পর্যাপ্ত নতুন বাড়ি নির্মাণের ওপর গুরুত্ব দেওয়া প্রয়োজন। মেরিল্যান্ডের ক্ষেত্রে সাশ্রয়ী আবাসন নির্মাণ বাড়ানো, জমি ব্যবহারের বিধিনিষেধ পর্যালোচনা এবং আবাসন সরবরাহের ঘাটতি কমানো হলে নিম্নআয়ের পরিবারগুলোর ওপর অর্থনৈতিক চাপ উল্লেখযোগ্যভাবে কমানো সম্ভব হতে পারে। ফলে মেরিল্যান্ডের জন্য আবাসন সংকট এখন শুধু রিয়েল এস্টেট বা ভাড়ার বাজারের সমস্যা নয়; এটি দারিদ্র্য, পারিবারিক ব্যয় এবং সামগ্রিক জীবনযাত্রার সঙ্গে সরাসরি যুক্ত একটি বড় অর্থনৈতিক চ্যালেঞ্জ হিসেবে সামনে এসেছে।

তাবাস্সুম অক্টোবর ৩, ২০২৬ ১৪:০
যুক্তরাষ্ট্রের ওয়াশিংটন ডিসির ন্যাশনাল মলে প্রদর্শিত নতুন স্টার্টআপ প্রতিষ্ঠান ‘আপলিফট’-এর দুর্যোগকালীন প্রস্তুত ঘর। ছবি: সংগৃহীত
ট্রাকে বহনযোগ্য ঘরেই মিলবে বিছানা-বাথরুম-রান্নাঘর, যুক্তরাষ্ট্রে নতুন উদ্যোগ

যুক্তরাষ্ট্রে প্রাকৃতিক দুর্যোগের পর দ্রুত মানুষের থাকার ব্যবস্থা করতে ট্রাকে বহনযোগ্য ছোট আকারের প্রস্তুত ঘর তৈরি করেছে টেক্সাসের অস্টিনভিত্তিক নতুন প্রতিষ্ঠান ‘আপলিফট’। এসব ঘরে থাকার জায়গার পাশাপাশি রান্না, গোসল ও শৌচাগারের প্রয়োজনীয় সুবিধা রাখার পরিকল্পনা করা হয়েছে। ঘরগুলো কারখানায় তৈরি করে প্রয়োজন অনুযায়ী এক স্থান থেকে অন্য স্থানে ট্রাকে নিয়ে অল্প সময়ের মধ্যে ব্যবহারের উপযোগী করে বসানো যাবে।   প্রতিষ্ঠানটির মূল লক্ষ্য প্রাকৃতিক দুর্যোগ, নির্মাণকাজ এবং স্বল্পমেয়াদি আবাসনের প্রয়োজন হলে দ্রুত থাকার ব্যবস্থা করা। বিশেষ করে বন্যা, ঝড়, দাবানল কিংবা অন্য কোনো দুর্যোগে মানুষের ঘরবাড়ি ক্ষতিগ্রস্ত হলে স্থায়ী বাড়ি পুনর্নির্মাণের আগ পর্যন্ত এসব ছোট ঘর অস্থায়ী আশ্রয় হিসেবে ব্যবহারের পরিকল্পনা রয়েছে। একই ঘর প্রয়োজন শেষে অন্য স্থানেও সরিয়ে নেওয়া যাবে।   ২৮ সেপ্টেম্বর প্রকাশিত মার্কিন আবাসনবিষয়ক সংবাদমাধ্যম ‘রিয়েল্টর ডটকম’-এর প্রতিবেদন অনুযায়ী, প্রায় চার মাস আগে জরুরি আবাসনের এই প্রকল্প চালু করে আপলিফট। প্রতিষ্ঠানটি এরই মধ্যে ৭০ লাখ মার্কিন ডলারের প্রাথমিক বিনিয়োগ পেয়েছে। এই বিনিয়োগের নেতৃত্ব দিয়েছে যুক্তরাষ্ট্রের পরিচিত বিনিয়োগ প্রতিষ্ঠান ‘অ্যান্ড্রিসেন হোরোভিৎস’।   আপলিফটের সহপ্রতিষ্ঠাতা চার্লি নিটশেলম আগে মহাকাশ গবেষণা প্রতিষ্ঠান স্পেসএক্সে প্রকৌশলী হিসেবে কাজ করেছেন। তাঁর সঙ্গে ট্রেভর ও'লিয়ার মিলে নতুন এই উদ্যোগ শুরু করেন। ম্যাসাচুসেটস ইনস্টিটিউট অব টেকনোলজির তথ্য অনুযায়ী, তাঁদের লক্ষ্য এমন ছোট ঘর তৈরি করা, যা দ্রুত তৈরি করা যাবে, সহজে পরিবহন করা যাবে এবং প্রয়োজন অনুযায়ী একাধিকবার ব্যবহার করা সম্ভব হবে।   এই ঘরগুলোর অন্যতম বৈশিষ্ট্য হলো সহজে এক জায়গা থেকে অন্য জায়গায় নেওয়ার সুবিধা। একটি সমতল পাটাতনযুক্ত বড় ট্রাকে একসঙ্গে দুই থেকে তিনটি ঘর বহন করা সম্ভব বলে সাম্প্রতিক প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। পরিবহনের সময় ঘরগুলোকে ট্রাকের সঙ্গে নিরাপদে আটকে রাখার জন্য বিশেষ বাঁধন ব্যবস্থাও রয়েছে। ফলে এক জায়গায় প্রয়োজন শেষ হলে একই ঘর অন্য এলাকায় নিয়ে গিয়ে পুনরায় ব্যবহার করা যাবে।   ঘরগুলোতে বিদ্যুৎ ও পানির সংযোগের ব্যবস্থা রাখা হয়েছে। পাশাপাশি নিচে এমন বিশেষ ব্যবস্থা রয়েছে, যা অসম জমিতেও ঘরটিকে সমতল ও স্থির রাখতে সহায়তা করে। প্রচলিত বাড়ির মতো সব সময় বড় ধরনের অবকাঠামোর ওপর নির্ভর না করেও যেন এগুলো ব্যবহার করা যায়, সেই লক্ষ্য সামনে রেখে নকশা করা হয়েছে। প্রাথমিক পরিকল্পনায় বিদ্যুৎ ও পানি সংরক্ষণের ব্যবস্থাও রাখা হয়েছে।   প্রাথমিক নকশা অনুযায়ী, প্রতিটি ক্ষুদ্র ঘরের আয়তন প্রায় ৬০ বর্গফুট। এত ছোট জায়গার মধ্যেই মানুষের থাকার জন্য প্রয়োজনীয় সুবিধা রাখার পরিকল্পনা করা হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে ঘুমানোর জায়গা, রান্নার ব্যবস্থা, গোসলের জায়গা এবং শৌচাগার। অল্প জায়গায় প্রয়োজনীয় সুবিধাগুলো একত্রে রাখাই এই নকশার অন্যতম বৈশিষ্ট্য।   এই প্রযুক্তির গুরুত্বপূর্ণ ব্যবহার হতে পারে প্রাকৃতিক দুর্যোগের পর জরুরি আবাসনের ক্ষেত্রে। যুক্তরাষ্ট্রের বিভিন্ন অঞ্চলে ঝড়, বন্যা, দাবানল ও ঘূর্ণিঝড়ে মানুষের ঘরবাড়ি ক্ষতিগ্রস্ত হয়। এসব ঘটনার পর স্থায়ী বাড়ি পুনর্নির্মাণ করতে দীর্ঘ সময় লাগতে পারে। সেই সময় ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের জন্য দ্রুত থাকার জায়গা তৈরি করাই বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়ায়।   আপলিফটের পরিকল্পনা হলো, স্থায়ী বাড়ি পুনর্নির্মাণের অপেক্ষায় থাকা মানুষকে দ্রুত ছোট কিন্তু ব্যবহারযোগ্য একটি ঘরে থাকার সুযোগ দেওয়া। কারখানায় আগে থেকেই ঘর তৈরি করে রাখা গেলে দুর্যোগের পর প্রয়োজনীয় এলাকায় দ্রুত সেগুলো পাঠানো সম্ভব হতে পারে। প্রচলিত পদ্ধতিতে জমি প্রস্তুত, ভিত্তি তৈরি, কাঠামো নির্মাণ এবং বিদ্যুৎ-পানির সংযোগসহ বিভিন্ন ধাপের পরিবর্তে প্রস্তুত ঘর সরাসরি নিয়ে যাওয়ার সুযোগ তৈরি হবে।   তবে প্রতিষ্ঠানটির পরিকল্পনা শুধু দুর্যোগের পর আশ্রয় দেওয়ার মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়। নির্মাণ প্রকল্পে কর্মরত মানুষের অস্থায়ী আবাসন, প্রত্যন্ত এলাকায় স্বল্পমেয়াদি থাকার ব্যবস্থা এবং বিভিন্ন ধরনের জরুরি আবাসনের প্রয়োজনেও এসব বহনযোগ্য ঘর ব্যবহারের পরিকল্পনা রয়েছে।   ২০২৬ সালের ম্যাসাচুসেটস ইনস্টিটিউট অব টেকনোলজির উদ্যোক্তা প্রতিযোগিতায় ‘আপলিফট মাইক্রোহোম’ প্রথম স্থান অর্জন করে। ওই প্রতিযোগিতায় ৭৫টির বেশি দল আবেদন করেছিল। শেষ পর্যায়ে সাতটি দল প্রতিযোগিতা করে এবং আপলিফট এক লাখ মার্কিন ডলার পুরস্কার পায়।   প্রতিষ্ঠানটির বাণিজ্যিক যাত্রায় গুরুত্বপূর্ণ আরেকটি ঘটনা ঘটে সেপ্টেম্বর মাসে। রিয়েল্টর ডটকমের প্রতিবেদন অনুযায়ী, সেপ্টেম্বরেই আপলিফট তাদের প্রথম ঘর একজন অর্থপ্রদানকারী গ্রাহকের কাছে বিক্রি করেছে। এর মাধ্যমে প্রকল্পটি পরীক্ষামূলক পর্যায়ের পাশাপাশি বাণিজ্যিক ব্যবহারেও প্রবেশ করেছে।   সেপ্টেম্বরের শেষ সপ্তাহে যুক্তরাষ্ট্রের আবাসন ও নগর উন্নয়ন দপ্তরের আয়োজিত জাতীয় আবাসন উদ্ভাবন প্রদর্শনীতেও আপলিফটের ঘর প্রদর্শন করা হয়। ওয়াশিংটন ডিসির জাতীয় উদ্যান এলাকায় আয়োজিত ওই প্রদর্শনীতে নতুন ধরনের আবাসন প্রযুক্তি তুলে ধরা হয়। ২০২৬ সালের প্রদর্শনীর মূল বিষয় ছিল ‘আমেরিকায় তৈরি’।   প্রদর্শনীতে নতুন আবাসন প্রযুক্তির পাশাপাশি কারখানায় তৈরি ঘর, খণ্ডাংশভিত্তিক ঘর এবং ত্রিমাত্রিক মুদ্রণ প্রযুক্তিতে তৈরি ঘরও প্রদর্শন করা হয়। আয়োজকদের তথ্য অনুযায়ী, আবাসন শিল্পের প্রতিষ্ঠান, উদ্ভাবক, নীতিনির্ধারক এবং সাধারণ মানুষ এতে অংশ নেন।   তবে আপলিফটের প্রযুক্তি এখনো যুক্তরাষ্ট্রের আবাসন সমস্যার সম্পূর্ণ সমাধান হিসেবে দেখার পর্যায়ে পৌঁছায়নি। প্রতিষ্ঠানটির বাণিজ্যিক কার্যক্রম এখনো প্রাথমিক পর্যায়ে রয়েছে। বড় পরিসরে উৎপাদন, বিভিন্ন অঙ্গরাজ্যের স্থানীয় নির্মাণবিধি, দীর্ঘমেয়াদি ব্যবহার, রক্ষণাবেক্ষণ এবং দুর্যোগপূর্ণ পরিবেশে বাস্তব কার্যকারিতা নিয়ে আরও অভিজ্ঞতার প্রয়োজন রয়েছে।   জরুরি আবাসন হিসেবে এসব ঘর ব্যবহারের ক্ষেত্রেও জমির অনুমোদন, পানি সরবরাহ, বর্জ্য ব্যবস্থাপনা, বিদ্যুৎ, নিরাপত্তা এবং পরিবহন ব্যবস্থার মতো বিষয় গুরুত্বপূর্ণ হবে। সীমিতসংখ্যক ঘর তৈরির পর্যায় থেকে বড় পরিসরে উৎপাদনে যাওয়া এবং বাস্তব পরিস্থিতিতে কার্যকারিতা প্রমাণ করাই বর্তমানে প্রতিষ্ঠানটির সামনে বড় চ্যালেঞ্জ।   তারপরও বহনযোগ্য এই ছোট ঘর যুক্তরাষ্ট্রের জরুরি ও অস্থায়ী আবাসনের ক্ষেত্রে নতুন একটি ধারণা সামনে এনেছে। একটি জায়গায় স্থায়ীভাবে বাড়ি নির্মাণের পরিবর্তে কারখানায় প্রস্তুত ঘর তৈরি করে ট্রাকে প্রয়োজনীয় এলাকায় পাঠানো গেলে দুর্যোগের পর দ্রুত আশ্রয়ের ব্যবস্থা করার সুযোগ তৈরি হতে পারে। একই ঘর পরে অন্য এলাকায় নিয়ে পুনরায় ব্যবহার করা গেলে এর ব্যবহারের পরিধিও বাড়তে পারে।   ৭০ লাখ মার্কিন ডলারের প্রাথমিক বিনিয়োগ, ম্যাসাচুসেটস ইনস্টিটিউট অব টেকনোলজির উদ্যোক্তা প্রতিযোগিতায় পুরস্কার এবং জাতীয় আবাসন উদ্ভাবন প্রদর্শনীতে অংশগ্রহণের মাধ্যমে আপলিফটের উদ্যোগটি নতুন আবাসন প্রযুক্তির আলোচনায় এসেছে। তবে এসব ঘর কতটা কম খরচে বড় পরিসরে তৈরি করা যাবে, কত দ্রুত প্রয়োজনীয় এলাকায় পৌঁছানো যাবে এবং দীর্ঘ সময় বাস্তবে কতটা কার্যকর থাকবে, সেটিই হবে উদ্যোগটির পরবর্তী বড় পরীক্ষা।

তাবাস্সুম অক্টোবর ২, ২০২৬ ১৪:০
ইংল্যান্ডে দীর্ঘদিন খালি পড়ে থাকা আবাসিক বাড়ি দ্রুত বসবাসের উপযোগী করার উদ্যোগ নিয়েছে যুক্তরাজ্য সরকার। ছবি: সংগৃহীত
ইংল্যান্ডে ছয় মাস বাড়ি খালি থাকলে দখল নিতে পারবে কাউন্সিল

ইংল্যান্ডে দীর্ঘদিন খালি পড়ে থাকা আবাসিক বাড়ি দ্রুত বসবাসের উপযোগী করতে স্থানীয় কাউন্সিলগুলোর ব্যবস্থাপনার ক্ষমতা ব্যবহারের শর্ত সহজ করার পরিকল্পনা ঘোষণা করেছে যুক্তরাজ্য সরকার। প্রস্তাবিত সংস্কারে কোনো বাড়ি দুই বছরের পরিবর্তে ছয় মাস খালি থাকলেই সেটির ব্যবস্থাপনা নেওয়ার আদেশের জন্য আবেদন করা যাবে। তবে এতে বাড়ির মালিকানা বদলাবে না।   হাউজিং, কমিউনিটিজ অ্যান্ড লোকাল গভর্নমেন্ট মন্ত্রণালয় ২৭ সেপ্টেম্বর এই সংস্কারের ঘোষণা দেয়। সরকারের ভাষ্য, বিদ্যমান আবাসন আরও কার্যকরভাবে ব্যবহার এবং খালি বাড়ি দীর্ঘদিন অব্যবহৃত থেকে মারাত্মকভাবে জরাজীর্ণ হয়ে পড়া ঠেকানোই এর লক্ষ্য।    এম্পটি ডুয়েলিং ম্যানেজমেন্ট অর্ডার বা ইডিএমওর মাধ্যমে কাউন্সিল দীর্ঘদিন খালি থাকা বাড়ির ব্যবস্থাপনা নিয়ে সেটি আবার বসবাসের আওতায় আনতে পারে। এই ব্যবস্থাপনার মেয়াদ সর্বোচ্চ সাত বছর হতে পারে। পুরো সময় সম্পত্তির মালিকানা মূল মালিকের কাছেই থাকে।   পরিকল্পনায় আবেদন প্রক্রিয়াও সহজ করার কথা বলা হয়েছে। বর্তমানে কাউন্সিলের হস্তক্ষেপের পক্ষে অসামাজিক আচরণ বা স্থানীয় কমিউনিটির সমর্থনসংক্রান্ত যেসব প্রমাণ দিতে হয়, তার কিছু শর্ত বাদ দিতে চায় সরকার। এর ফলে সংশ্লিষ্ট ট্রাইব্যুনালে ইডিএমওর আবেদন করা সহজ হবে।   তবে ছয় মাস খালি থাকলেই কোনো বাড়ি স্বয়ংক্রিয়ভাবে কাউন্সিলের ব্যবস্থাপনায় চলে যাবে না। ঘোষণাটি ইডিএমওর জন্য যোগ্য হওয়ার সময়সীমা কমানো এবং আবেদন সহজ করার পরিকল্পনা। সরকারি বিজ্ঞপ্তিতে নতুন নিয়ম কার্যকরের নির্দিষ্ট তারিখ জানানো হয়নি।    আইটিভি নিউজের প্রতিবেদনে উদ্ধৃত সরকারি পরিসংখ্যান অনুযায়ী, ২০২৫ সালে ইংল্যান্ডে তিন লাখ তিন হাজার ১৮৫টি বাড়ি ছয় মাসের বেশি সময় খালি ছিল। হাউজিং সেক্রেটারি অ্যাঞ্জেলা রেনার বলেছেন, বহু শিশু ও পরিবারের নিরাপদ বাসস্থানের প্রয়োজন থাকা অবস্থায় তিন লাখ দীর্ঘমেয়াদি খালি বাড়ি অব্যবহৃত রাখা গ্রহণযোগ্য নয়।    খালি বাড়ি নিয়ে কাজ করা সংগঠন এম্পটি হোমস নেটওয়ার্ক পরিকল্পনাকে স্বাগত জানিয়েছে। তবে তাদের মতে, শুধু সময়সীমা কমালেই কাউন্সিলগুলো এই ক্ষমতা বেশি ব্যবহার করতে পারবে না। বাড়ি মেরামত, আইনি প্রক্রিয়া ও ব্যবস্থাপনার জন্য দক্ষ কর্মী এবং পর্যাপ্ত অর্থের প্রয়োজন।   সংগঠনটি আরও বলেছে, দীর্ঘদিন খালি থাকা প্রতিটি বাড়ি ইডিএমওর উপযুক্ত নয়। কোনো বাড়িতে বড় বিনিয়োগ লাগতে পারে, আবার কোনো সম্পত্তির মালিকানা বা আইনি জটিলতা থাকতে পারে। তাই সংস্কারের বাস্তব ফল নির্ভর করবে কাউন্সিলগুলোর সক্ষমতা ও পরবর্তী বিস্তারিত নিয়মের ওপর।

তাবাস্সুম অক্টোবর ২, ২০২৬ ১৪:০
মাটির নিচে বা মাটিতে আংশিকভাবে আবৃত বাড়ির সম্ভাব্য ভবিষ্যৎ নকশা
যুক্তরাষ্ট্রে মাটির নিচে বসবাস শুরু হতে পারে, তবে যেসব সমস্যা চিহ্নিত হলো গবেষণায়

দ্রুত নগরায়ণ, আবাসন সংকট ও জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে ভবিষ্যতের বাড়িঘর কেমন হবে, তা নিয়ে নতুন করে ভাবছেন স্থপতি ও প্রকৌশলীরা। এরই মধ্যে আলোচনায় এসেছে মাটির নিচে বা মাটিকে বাড়ির কাঠামোর অংশ হিসেবে ব্যবহার করে বসবাসের ধারণা। চরম আবহাওয়ার প্রভাব কমানো এবং জ্বালানি খরচ নিয়ন্ত্রণে এ ধরনের বাড়ির সম্ভাবনা থাকলেও বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এর সঙ্গে রয়েছে বেশ কিছু বড় প্রকৌশলগত, আর্থিক ও সামাজিক চ্যালেঞ্জ।   মাটির নিচে বাড়ির ধারণা নতুন নয়   মাটিকে ব্যবহার করে ঘরকে প্রাকৃতিকভাবে উষ্ণ বা ঠান্ডা রাখার পদ্ধতি আধুনিক স্থাপত্যের অনেক আগের। আইসল্যান্ডে শত শত বছর ধরে মাটি ও ঘাস দিয়ে ঘরের দেয়াল ও ছাদ আচ্ছাদিত করে প্রচণ্ড ঠান্ডা ও বাতাস থেকে সুরক্ষা নেওয়া হয়েছে।   আধুনিক স্থাপত্যে সেই ধারণাকেই উন্নত জলরোধী ব্যবস্থা, প্রকৌশল ও নকশার সঙ্গে যুক্ত করা হচ্ছে। উত্তর চীনে ‘আন্ডারগ্রাউন্ড হাউস অব দ্য ফিউচার’ নামে একটি পরীক্ষামূলক প্রকল্পে মাটির নিচে ভল্ট আকৃতির কক্ষ তৈরি করা হয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের অ্যারিজোনার স্কটসডেলেও মাটির নিচে নামানো উঠানকে ঘিরে বাড়ির নকশা দেখা গেছে।   মেক্সিকোর স্থপতি হাভিয়ের সেনোসিয়াইনের ‘কাসা অর্গানিকা’ও এ ধরনের নকশার উদাহরণ। বাড়িটির ওপর ঘাস ও মাটি ব্যবহার করা হয়েছে, যা শীতকালে তাপ ধরে রাখতে এবং গ্রীষ্মে ঘর ঠান্ডা রাখতে সহায়তা করে।   কোবার পেডিতে বাস্তব উদাহরণ   অস্ট্রেলিয়ার খনিশহর কোবার পেডি ভূগর্ভস্থ বসবাসের সবচেয়ে পরিচিত উদাহরণগুলোর একটি। সেখানে আনুমানিক অর্ধেক মানুষ মাটির নিচের বাড়িতে বসবাস করেন।   ভূগর্ভস্থ এসব ঘরে সারা বছর প্রায় ২৩ থেকে ২৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস তাপমাত্রা বজায় থাকে। এর কারণ, মাটির কয়েক ফুট নিচের তাপমাত্রা বাইরের তুলনায় অনেক বেশি স্থিতিশীল।   স্থপতি এরলা দোগ ইনজালদোত্তিরের মতে, সঠিক জায়গায় মাটিকে বাড়ির কাঠামোর অংশ হিসেবে ব্যবহার করলে তাপমাত্রার ওঠানামা কমানো, গরম ও ঠান্ডা করার প্রয়োজনীয়তা কমানো এবং কিছু চরম আবহাওয়া থেকে বাড়িকে সুরক্ষা দেওয়া সম্ভব।   দাবানল ও অতিরিক্ত গরমে সুবিধা   জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে অতিরিক্ত তাপ, দাবানল ও প্রবল বাতাসের ঝুঁকি বাড়ছে। এ পরিস্থিতিতে মাটির নিচে বা আংশিকভাবে মাটিতে আবৃত বাড়ি কিছু এলাকায় বাড়তি সুরক্ষা দিতে পারে।   জলবায়ু-সহনশীল আবাসন নিয়ে কাজ করা দ্য পাওলেলে হালে অ্যাসোসিয়েশনের প্রধান ডেভিড গিলিল্যান্ড বলেন, উপযুক্ত ভৌগোলিক এলাকায় মাটিকে বাড়ির বাইরের আবরণ হিসেবে ব্যবহার করলে তাপমাত্রার বড় ওঠানামা কমানো এবং গরম ও ঠান্ডা করার চাহিদা কমানো সম্ভব। একই সঙ্গে বাতাস, দাবানল ও কিছু চরম আবহাওয়ার প্রভাব থেকেও সুরক্ষা মিলতে পারে।   ২০২৬ সালের ফেব্রুয়ারিতে প্রকাশিত একটি গবেষণাতেও নগর ভূগর্ভস্থ স্থানকে জলবায়ু পরিবর্তন ও সম্পদের ঘাটতির মতো বৈশ্বিক চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় সম্ভাবনাময় সম্পদ হিসেবে তুলে ধরা হয়েছে।   পানি থেকে আলো পর্যন্ত বড় প্রকৌশল চ্যালেঞ্জ   তবে মাটির নিচে বাড়ি নির্মাণ যতটা আকর্ষণীয় মনে হচ্ছে, বাস্তবে তা ততটা সহজ নয়। পানি ঢোকা ঠেকানো, নিষ্কাশন ব্যবস্থা, মাটির চাপ, রেডন গ্যাস, বায়ু চলাচল, প্রাকৃতিক আলো, জরুরি সময়ে বের হওয়ার পথ এবং দীর্ঘমেয়াদি জলরোধী ব্যবস্থা—সবকিছুর পরিকল্পনা শুরু থেকেই করতে হয়।   গিলিল্যান্ডের মতে, এসব সুবিধা বাস্তব হলেও প্রকৌশলগত চ্যালেঞ্জও যথেষ্ট। সঠিকভাবে তৈরি হলে ভূগর্ভস্থ বাড়ি কার্যকর ও টেকসই হতে পারে। কিন্তু নিম্নমানের নির্মাণ ভবিষ্যতে বড় আর্থিক সমস্যায় ফেলতে পারে।   ইনজালদোত্তিরও সতর্ক করে বলেছেন, জলরোধী ব্যবস্থা ও আর্দ্রতা নিয়ন্ত্রণে ভুল করার সুযোগ নেই। প্রাকৃতিক আলো ও বায়ু চলাচলের ব্যবস্থা করতেও দক্ষ নকশা প্রয়োজন। পাশাপাশি মাটির চাপ সামলানোর কারণে কাঠামোগত ব্যয় সাধারণ কাঠ বা স্টিলের বাড়ির তুলনায় বেশি হতে পারে।   মাটির নিচে আসলে কী আছে?   ভূগর্ভস্থ মানচিত্র তৈরির প্রযুক্তি নিয়ে কাজ করা প্রতিষ্ঠান এক্সোডিগোর সহপ্রতিষ্ঠাতা ও প্রধান নির্বাহী জেরেমি সুয়ার্ডের মতে, ভূগর্ভে নির্মাণের সবচেয়ে কঠিন বিষয় শুধু প্রকৌশল নয়—বরং মাটির নিচে আগে থেকেই কী রয়েছে, সেই অনিশ্চয়তা।   বিদ্যুৎ, গ্যাস ও পানির লাইনের পাশাপাশি অপ্রত্যাশিত মাটি, পাথর ও ভূগর্ভস্থ পানিও নির্মাণকাজে সমস্যা তৈরি করতে পারে। কমন গ্রাউন্ড অ্যালায়েন্সের এক প্রতিবেদনের উদ্ধৃতি দিয়ে সুয়ার্ড জানান, ভূগর্ভস্থ পরিষেবা লাইনের ক্ষতির কারণে যুক্তরাষ্ট্রের অর্থনীতিতে এক বছরে ৮৩ দশমিক ২ বিলিয়ন ডলারের ক্ষতি হয় এবং প্রায় ৬ লাখ ৬৯ হাজার ঘটনা ঘটে।   সবচেয়ে বড় বাধা হতে পারে মানুষের পছন্দ   প্রকৌশলগত সমস্যার পাশাপাশি মানুষের মানসিক পছন্দও বড় বিষয় হয়ে দাঁড়াতে পারে। অধিকাংশ মানুষ ঘরে প্রাকৃতিক আলো, বাইরের দৃশ্য, খোলা বাতাস এবং প্রকৃতির সঙ্গে যোগাযোগ চান।   ইনজালদোত্তিরের মতে, এটাই হয়তো মাটির নিচের বাড়িকে মূলধারায় নিয়ে আসার সবচেয়ে বড় বাধা। উঠান, আলো ঢোকার ব্যবস্থা ও বড় জানালার মাধ্যমে কিছু সমস্যা কমানো গেলেও অনেক মানুষ পুরোপুরি ভূগর্ভস্থ বাড়িতে স্বাচ্ছন্দ্যবোধ নাও করতে পারেন।   পুরোপুরি ভূগর্ভস্থ নয় বরং আংশিক মাটিসুরক্ষিত বাড়ি   বিশেষজ্ঞদের ধারণা, ভবিষ্যতে মানুষের বসবাসের জন্য পুরোপুরি জানালাবিহীন ভূগর্ভস্থ বাড়ির চেয়ে আংশিকভাবে মাটিতে আবৃত বাড়িই বেশি বাস্তবসম্মত হতে পারে। পাহাড়ের ঢালে বাড়ি তৈরি করে কয়েকটি দিক মাটি দিয়ে সুরক্ষিত করা এর একটি উদাহরণ।   ডেনভার বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক স্টেফান শ্যাভেজ-নর্গার্ডের মতে, অনেক এলাকার বর্তমান জোনিং, নির্মাণ ও অগ্নিনিরাপত্তা বিধিমালা ভূগর্ভস্থ বাড়িকে মাথায় রেখে তৈরি হয়নি। ফলে এ ধরনের নতুন আবাসন অনুমোদন ও নির্মাণে সময় এবং বাড়তি ঝুঁকি তৈরি হতে পারে।   তাঁর মতে, গ্রামীণ বা অনিবন্ধিত কিছু এলাকায় তুলনামূলক নমনীয় নির্মাণবিধির কারণে এ ধরনের বাড়ি আগে দেখা যেতে পারে। তবে এর জনপ্রিয়তা নির্ভর করবে স্থানীয় আবহাওয়া, নির্মাণ ব্যয়, জ্বালানির দাম, স্থাপত্য ও সংস্কৃতির ওপর।   বিশেষজ্ঞদের সামগ্রিক মূল্যায়ন হলো, মাটির নিচের বাড়ি হয়তো যুক্তরাষ্ট্রের আবাসন বাজারের মূলধারায় পরিণত হবে না। বরং দাবানল ও অতিরিক্ত গরমপ্রবণ এলাকায় মাটি, ঘাস ও সবুজ ছাদকে বাড়ির নকশায় কৌশলগতভাবে ব্যবহার করে আংশিক মাটিসুরক্ষিত আবাসন ধীরে ধীরে বাড়তে পারে।

অলি উল্লাহ আল মাসুদ সেপ্টেম্বর ৩০, ২০২৬ ১৪:০
যুক্তরাষ্ট্রে বয়স্ক মানুষের সংখ্যা বাড়ছে, অথচ কমছে আবাসন নির্মাণ
যুক্তরাষ্ট্রে বয়স্ক মানুষের সংখ্যা বাড়ছে, অথচ কমছে আবাসন নির্মাণ, ঘাটতি ১০ লাখ ইউনিট ছাড়ানোর শঙ্কা

যুক্তরাষ্ট্রে বয়স্ক মানুষের সংখ্যা দ্রুত বাড়লেও তাদের জন্য নির্মিত আবাসনের সরবরাহ সেই হারে বাড়ছে না। বিশেষ করে ৮০ বছর ও তার বেশি বয়সী মানুষের সংখ্যা বৃদ্ধির সঙ্গে তাল মিলিয়ে নতুন সিনিয়র আবাসন নির্মাণ না হওয়ায় আগামী বছরগুলোতে বড় ধরনের সরবরাহ ঘাটতির আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।   ন্যাশনাল ইনভেস্টমেন্ট সেন্টার ফর সিনিয়র হাউজিং অ্যান্ড কেয়ারের তথ্যভিত্তিক গবেষণা সংস্থা এনআইসি ম্যাপের ২০২৬ সালের পূর্বাভাস অনুযায়ী, বর্তমান নির্মাণের গতি অব্যাহত থাকলে ২০৩০ সালের মধ্যে অতিরিক্ত প্রায় ৫ লাখ ৭৬ হাজার সিনিয়র আবাসন ইউনিটের প্রয়োজন হবে। ২০৩৫ সালের মধ্যে এই প্রয়োজন ১০ লাখ ইউনিট ছাড়িয়ে যেতে পারে।   এই ঘাটতি সাধারণ আবাসিক বাড়ির হিসাব নয়। এখানে মূলত বয়স্ক মানুষের জন্য তৈরি সিনিয়র আবাসনের অতিরিক্ত প্রয়োজনের কথা বলা হচ্ছে। এনআইসি ম্যাপের হিসাব অনুযায়ী, বর্তমান সরবরাহের প্রাপ্যতা প্রায় ৯০ শতাংশ দখলদারির হার ধরে রাখতে হলেও ২০৩০ সালের মধ্যে প্রায় ৫ লাখ ৭৬ হাজার এবং ২০৩৫ সালের মধ্যে ১০ লাখের বেশি অতিরিক্ত ইউনিট প্রয়োজন হবে। অর্থাৎ বয়স্ক মানুষের চাহিদা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে নতুন আবাসন না বাড়লে বিদ্যমান সরবরাহের ওপর চাপ আরও বাড়বে।   এর পেছনে বড় কারণ যুক্তরাষ্ট্রের জনসংখ্যার বয়স কাঠামোয় দ্রুত পরিবর্তন। প্রথম দিকের বেবি বুমার প্রজন্ম ২০২৬ সালে ৮০ বছরে পৌঁছাতে শুরু করেছে। এনআইসি ম্যাপের পূর্বাভাস বলছে, দেশটির ৮০ বছর বা তার বেশি বয়সী মানুষের সংখ্যা ২০৩০ সালের মধ্যে প্রায় এক-তৃতীয়াংশ বাড়তে পারে এবং ২০৪০ সালের মধ্যে প্রায় দ্বিগুণ হতে পারে। এই সময়ে ৮০ বছর বা তার বেশি বয়সী মানুষের সংখ্যা আগামী পাঁচ বছরে প্রায় ৫০ লাখ এবং আগামী ১৫ বছরে প্রায় ১ কোটি ৩০ লাখ বাড়তে পারে বলে গবেষণায় উল্লেখ করা হয়েছে।   চাহিদা বাড়ার বিপরীতে নতুন সিনিয়র আবাসন নির্মাণের গতি কমেছে। এনআইসি ম্যাপের তথ্য অনুযায়ী, ২০২১ সালের পর থেকে সিনিয়র আবাসনের নির্মাণ শুরুর পরিমাণ প্রায় ৬৭ শতাংশ কমেছে। ২০২১ সালে যেখানে ৩০ হাজারের বেশি ইউনিট নির্মাণাধীন ছিল, ২০২৫ সালে তা কমে প্রায় ১০ হাজার ইউনিটে দাঁড়ায়। নির্মাণ ব্যয় বেড়ে যাওয়া এই পতনের অন্যতম কারণ হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে। উচ্চ সুদের হার, নির্মাণ ব্যয় এবং শ্রমিকসংক্রান্ত সীমাবদ্ধতাও নতুন প্রকল্পের গতি কমিয়ে দিচ্ছে।   এদিকে বিদ্যমান সিনিয়র আবাসনগুলোতে চাহিদার চাপ ইতোমধ্যেই দেখা যাচ্ছে। ২০২৬ সালের দ্বিতীয় প্রান্তিকে যুক্তরাষ্ট্রের সিনিয়র আবাসনের গড় দখলদারির হার ৮৯ দশমিক ৯ শতাংশে পৌঁছেছে। আগের প্রান্তিকে এই হার ছিল ৮৯ দশমিক ৫ শতাংশ। এনআইসি জানিয়েছে, এটি টানা ২০তম প্রান্তিক, যখন সিনিয়র আবাসনের দখলদারির হার বেড়েছে। ৩১টি প্রধান বাজারের মধ্যে ১৫টিতে দখলদারির হার ৯০ শতাংশ বা তার বেশি ছিল।   একই সময়ে দ্বিতীয় প্রান্তিকে নির্মাণাধীন মোট সিনিয়র আবাসন ইউনিটের সংখ্যা ১৬ হাজারের নিচে ছিল। ওই প্রান্তিকে দখলকৃত ইউনিটের সংখ্যা প্রায় ৩ হাজার ৭০০ বেড়ে ৬ লাখ ৩৯ হাজার ৬৫০টিতে পৌঁছায়। এক বছরে মোট সরবরাহ বৃদ্ধির হার ছিল মাত্র শূন্য দশমিক ৪ শতাংশ। অর্থাৎ বিদ্যমান আবাসনগুলোতে মানুষের বসবাস বাড়লেও নতুন ইউনিট যোগ হওয়ার গতি তুলনামূলকভাবে ধীর রয়েছে।   এনআইসি ম্যাপের হিসাবে, আগামী কয়েক বছরে প্রয়োজনীয় নতুন ইউনিটের সংখ্যা বর্তমান নির্মাণের তুলনায় অনেক বেশি হতে পারে। ২০২৭ সালে বছরে প্রয়োজন ১ লাখ ৪০ হাজারের বেশি নতুন ইউনিটে পৌঁছাতে পারে। এরপরও পরবর্তী এক দশকের বড় একটি সময়ে বছরে প্রায় ১ লাখ ইউনিটের প্রয়োজন থাকবে। এর বিপরীতে বর্তমান নির্মাণের গতি প্রায় ১০ হাজার ইউনিটের কাছাকাছি। ফলে প্রতি বছর চাহিদা ও নতুন সরবরাহের মধ্যে ব্যবধান জমতে থাকবে।   শুধু নতুন ভবন নির্মাণ করলেই এই ঘাটতি পূরণ হবে না বলেও গবেষণায় ইঙ্গিত দেওয়া হয়েছে। বিদ্যমান সিনিয়র আবাসনের ৪০ শতাংশের বেশি ইউনিটের বয়স ২৫ বছরের বেশি। তাই নতুন নির্মাণের পাশাপাশি পুরোনো ভবন সংস্কার, পুনর্বিন্যাস, সম্প্রসারণ এবং অন্য ধরনের পুনঃবিনিয়োগও প্রয়োজন হবে।   এই পুরো চাহিদা পূরণ করতে বিপুল বিনিয়োগের প্রয়োজন হবে। এনআইসি ম্যাপের হিসাব অনুযায়ী, যুক্তরাষ্ট্রে বর্তমান মাত্রার সিনিয়র আবাসন সরবরাহ বজায় রাখতে ২০৫০ সাল পর্যন্ত মোট বিনিয়োগের প্রয়োজন ১ ট্রিলিয়ন ডলারেরও বেশি হতে পারে। এই অর্থ শুধু নতুন ভবন তৈরিতে নয়, বিদ্যমান আবাসন আধুনিকীকরণ ও সক্ষমতা বাড়াতেও প্রয়োজন হবে।   সব মিলিয়ে, যুক্তরাষ্ট্রে বয়স্ক মানুষের সংখ্যা বৃদ্ধির সময়েই সিনিয়র আবাসন নির্মাণের গতি কমে যাওয়ায় ভবিষ্যতে সরবরাহের ওপর চাপ বাড়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। এনআইসি ম্যাপের পূর্বাভাস অনুযায়ী, বর্তমান নির্মাণের ধারা বদলানো না হলে ২০৩০ সালের মধ্যে অতিরিক্ত প্রায় ৫ লাখ ৭৬ হাজার ইউনিট এবং ২০৩৫ সালের মধ্যে ১০ লাখের বেশি ইউনিটের প্রয়োজন তৈরি হতে পারে। এখানে ১০ লাখ ইউনিটের বিষয়টি নিশ্চিত ভবিষ্যৎ ঘাটতি নয়, বরং বর্তমান উন্নয়নগতির ভিত্তিতে করা একটি পূর্বাভাস।

নীলুফা নিশাত সেপ্টেম্বর ২৯, ২০২৬ ১৪:০
নিউইয়র্কের গ্রেসি ম্যানশনে মেয়র জোহরান মামদানির সঙ্গে বৈঠকে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। ছবি: সংগৃহীত
জোহরান মামদানি সঙ্গে হঠাৎ গ্রেসি ম্যানশনে গোপন বৈঠকে ট্রাম্প, আলোচনার বিষয়বস্তু নিয়ে ধোঁয়াশা

যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প সোমবার সন্ধ্যায় নিউইয়র্ক সিটির মেয়রের সরকারি বাসভবন গ্রেসি ম্যানশনে গিয়ে মেয়র জোহরান মামদানির সঙ্গে বৈঠক করেছেন। জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের অধিবেশনে যোগ দিতে নিউইয়র্কে অবস্থানকালে এই বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। বৈঠকটি ছিল বন্ধ দরজার আড়ালে এবং এর আগে এ নিয়ে বিস্তারিত কর্মসূচি প্রকাশ করা হয়নি।    মামদানির যোগাযোগ পরিচালক আনা বাহর আগে জানিয়েছিলেন, ট্রাম্প ও মামদানি শহর এবং এর বাসিন্দাদের সরাসরি প্রভাবিত করে এমন বিভিন্ন বিষয় নিয়ে আলোচনা করবেন। হোয়াইট হাউসও বৈঠকটি অনুষ্ঠিত হওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত করেছিল। তবে বৈঠকের বিস্তারিত বিষয়বস্তু তাৎক্ষণিকভাবে প্রকাশ করা হয়নি।    ট্রাম্প ও মামদানির মধ্যে এর আগেও বৈঠক হয়েছে। চলতি বছরের ফেব্রুয়ারিতে মামদানি ট্রাম্পের সঙ্গে সাক্ষাৎ করে নিউইয়র্কের আবাসন ও ফেডারেল বিনিয়োগ নিয়ে আলোচনা করেন। সে সময় তিনি ট্রাম্পকে নিউইয়র্ক ডেইলি নিউজের একটি প্রতীকী প্রথম পৃষ্ঠার কপি উপহার দেন, যার শিরোনাম ছিল “ট্রাম্প টু সিটি: লেটস বিল্ড”। এটি ১৯৭৫ সালের ঐতিহাসিক “ফোর্ড টু সিটি: ড্রপ ডেড” শিরোনামের প্রতি ইঙ্গিত ছিল।    ট্রাম্প ও মামদানির রাজনৈতিক অবস্থান অনেক ক্ষেত্রেই ভিন্ন। মামদানি নিজেকে ডেমোক্রেটিক সোশ্যালিস্ট হিসেবে পরিচয় দেন। অন্যদিকে ট্রাম্প রিপাবলিকান পার্টির প্রেসিডেন্ট। তবে নিউইয়র্ক সিটির মেয়র হিসেবে মামদানির দায়িত্ব পালনের ক্ষেত্রে ফেডারেল সরকারের সঙ্গে বিভিন্ন বিষয়ে সমন্বয় গুরুত্বপূর্ণ। বিশেষ করে আবাসন, ফেডারেল অর্থায়ন, জননিরাপত্তা এবং অভিবাসনসহ বিভিন্ন বিষয়ে সিটি ও ফেডারেল প্রশাসনের সিদ্ধান্তের সরাসরি প্রভাব পড়তে পারে নিউইয়র্কবাসীর ওপর।   সম্প্রতি নিউইয়র্কের গভর্নর ক্যাথি হোকুল ও মেয়র মামদানি ট্রাম্প প্রশাসনের কাছে সন্ত্রাসবিরোধী নিরাপত্তা তহবিলের ৮ কোটি ৭০ লাখ ডলার দেওয়ার দাবি তুলেছেন। নিউইয়র্কের নিরাপত্তা কার্যক্রমে এই অর্থ গুরুত্বপূর্ণ বলে তারা উল্লেখ করেছেন। একই সময়ে ফেডারেল কর্মকর্তারা নিউইয়র্কের হাতে অব্যবহৃত নিরাপত্তা তহবিল রয়েছে বলে পাল্টা বক্তব্য দিয়েছেন।    গ্রেসি ম্যানশনে সোমবারের বৈঠকের মাধ্যমে ট্রাম্প ও মামদানির মধ্যে ফেডারেল ও স্থানীয় সরকারের সম্পর্ক নিয়ে আলোচনার আরেকটি পর্ব শুরু হলো। তবে বৈঠকে ঠিক কোন কোন বিষয়ে সিদ্ধান্ত বা সমঝোতা হয়েছে, সে বিষয়ে এখনো বিস্তারিত সরকারি বিবরণ প্রকাশ করা হয়নি।

মোহাম্মদ ইব্রাহিম সেপ্টেম্বর ২১, ২০২৬ ১৪:০
যুক্তরাষ্ট্রের ১০০টি বৃহত্তম মেট্রোপলিটন এলাকার মধ্যে বাড়ি কেনার দিক থেকে লস অ্যাঞ্জেলেস সবচেয়ে কম সাশ্রয়ী এলাকা হিসেবে চিহ্নিত হয়েছে। ছবি: সংগৃহীত
যুক্তরাষ্ট্রে বাড়ি কেনার জন্য এখন সবচেয়ে কঠিন লস অ্যাঞ্জেলেস, নতুন রিপোর্টে গ্রেড 'এফ'

লস অ্যাঞ্জেলেস যুক্তরাষ্ট্রের ১০০টি বৃহত্তম মেট্রোপলিটন এলাকার মধ্যে বাড়ি কেনার দিক থেকে সবচেয়ে কম সাশ্রয়ী এলাকা হিসেবে উঠে এসেছে। রিয়েলটর ডটকমের নতুন প্রতিবেদনে দেখা গেছে, লস অ্যাঞ্জেলেস এলাকায় একটি সাধারণ বাড়ির মধ্যম তালিকামূল্য প্রায় ১১ লাখ ২৯ হাজার ডলার, যেখানে মধ্যম পরিবারের বার্ষিক আয় ৯১ হাজার ৩৮০ ডলার। আয় ও বাড়ির দামের এই ব্যবধানের কারণে অঞ্চলটির আবাসন বাজারে ক্রেতাদের জন্য বড় চাপ তৈরি হয়েছে।   ১৬ সেপ্টেম্বর প্রকাশিত রিয়েলটর ডটকমের ‘মেট্রো আবাসন সাশ্রয়যোগ্যতা ও বাড়ি নির্মাণ মূল্যায়ন’ প্রতিবেদনে যুক্তরাষ্ট্রের ১০০টি বৃহত্তম মেট্রোকে বাড়ির সাশ্রয়যোগ্যতা এবং নতুন বাড়ি নির্মাণের পরিমাণের ভিত্তিতে মূল্যায়ন করা হয়েছে। প্রতিবেদনে লস অ্যাঞ্জেলেস-লং বিচ মেট্রো সর্বশেষ অবস্থানে রয়েছে। অঞ্চলটির মোট স্কোর ১০০-এর মধ্যে ১২, যার মধ্যে সাশ্রয়যোগ্যতার স্কোর মাত্র ০.৯ এবং নতুন বাড়ি নির্মাণের স্কোর ২৩.১।   প্রতিবেদনের হিসাব অনুযায়ী, ১০ শতাংশ প্রাথমিক জমা এবং ৩০ বছরের ৬.৫ শতাংশ নির্দিষ্ট সুদের গৃহঋণ ধরে লস অ্যাঞ্জেলেসের একটি সাধারণ বাড়ির মাসিক গৃহঋণের কিস্তি দিতে মধ্যম আয়ের একজন ক্রেতাকে তার আয়ের প্রায় ৮৪.৪ শতাংশ ব্যয় করতে হবে। সাধারণভাবে আবাসন ব্যয়ের ক্ষেত্রে আয়ের ৩০ শতাংশের মধ্যে গৃহঋণের কিস্তি রাখাকে সাশ্রয়যোগ্যতার একটি প্রচলিত সীমা হিসেবে বিবেচনা করা হয়।   রিয়েলটর ডটকমের হিসাব বলছে, মাসিক গৃহঋণের কিস্তিকে ওই ৩০ শতাংশ সীমার মধ্যে আনতে একজন ক্রেতার প্রায় ৬৮ শতাংশ প্রাথমিক জমা প্রয়োজন হবে। ১১ লাখ ২৯ হাজার ৪১৫ ডলারের বাড়ির ক্ষেত্রে এই প্রাথমিক জমার পরিমাণ প্রায় ৭ লাখ ৬৮ হাজার ডলার। অর্থাৎ মধ্যম আয়ের পরিবারের জন্য বাড়ি কেনার পথে শুধু গৃহঋণের সুদ নয়, প্রাথমিক জমাও বড় বাধা হয়ে দাঁড়াচ্ছে।   আবাসন সাশ্রয়যোগ্যতার পাশাপাশি নতুন বাড়ি নির্মাণের ঘাটতিও লস অ্যাঞ্জেলেসের অবস্থানকে প্রভাবিত করেছে। মেট্রো এলাকায় জনসংখ্যার তুলনায় নতুন বাড়ির নির্মাণ অনুমোদন দেওয়ার হার জাতীয় গড়ের অর্ধেকেরও কম। রিয়েলটর ডটকমের হিসাবে লস অ্যাঞ্জেলেসের জনসংখ্যার তুলনায় নতুন বাড়ি নির্মাণের অনুমোদনের অনুপাত ০.৪৭। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, উচ্চ বাড়ির দাম এবং সীমিত নতুন সরবরাহ একসঙ্গে ক্রেতাদের ওপর চাপ বাড়াচ্ছে।   লস অ্যাঞ্জেলেস একমাত্র বড় মেট্রো নয় যেখানে আবাসন ব্যয় নিয়ে বড় চাপ রয়েছে। প্রতিবেদনে ১৩টি মেট্রোপলিটন এলাকা এফ গ্রেড পেয়েছে। তালিকায় লস অ্যাঞ্জেলেসের পর রয়েছে প্রভিডেন্স, নিউইয়র্ক, হনোলুলু, বোস্টন, অক্সনার্ড-থাউজ্যান্ড ওকস-ভেনচুরা, সান ফ্রান্সিসকো, ওরচেস্টার, সান ডিয়েগো, স্টকটন, সান হোসে, মিয়ামি এবং রিভারসাইড।   প্রতিবেদনটি এমন এক সময়ে প্রকাশ করা হয়েছে, যখন যুক্তরাষ্ট্রের আবাসন বাজারে নতুন বাড়ির সরবরাহের ঘাটতি বড় সমস্যা হয়ে দাঁড়িয়েছে। রিয়েলটর ডটকম বলছে, দেশজুড়ে ৪০ লাখের বেশি বাড়ির ঘাটতি রয়েছে। এই সরবরাহ সংকট নতুন পরিবার গঠন, বাড়ির মালিক হওয়ার সুযোগ এবং দীর্ঘমেয়াদে সম্পদ গড়ার পথে বাধা তৈরি করছে।   রিয়েলটর ডটকমের প্রধান অর্থনীতিবিদ ড্যানিয়েল হেল বলেন, দীর্ঘমেয়াদে আবাসন সাশ্রয়যোগ্যতা বাড়াতে হলে বাড়ি নির্মাণও বাড়াতে হবে। প্রতিবেদনে দেখা গেছে, যেসব মেট্রোতে বর্তমান আয়ের সঙ্গে বাড়ির দাম তুলনামূলকভাবে সামঞ্জস্যপূর্ণ এবং একই সঙ্গে পর্যাপ্ত নতুন বাড়ি নির্মাণ হচ্ছে, সেসব এলাকায় ক্রেতাদের জন্য পরিস্থিতি তুলনামূলকভাবে ভিন্ন।   অন্যদিকে ডেস ময়নেস, আইওয়া এই প্রতিবেদনে সর্বোচ্চ অবস্থানে রয়েছে। সেখানে মধ্যম বাড়ির দাম প্রায় ৩ লাখ ৪৯ হাজার ৯০৩ ডলার এবং মধ্যম পরিবারের আয়ের তুলনায় মাসিক গৃহঋণের কিস্তির চাপ প্রায় ২৭.৫ শতাংশ। র‍্যালে, নর্থ ক্যারোলাইনাও নতুন বাড়ি নির্মাণের শক্তিশালী প্রবৃদ্ধির কারণে শীর্ষ অবস্থানগুলোর মধ্যে রয়েছে।   লস অ্যাঞ্জেলেসের এই অবস্থান মূলত রিয়েলটর ডটকমের ২০২৬ সালের নতুন মূল্যায়ন পদ্ধতির ফল, যেখানে আবাসন সাশ্রয়যোগ্যতা ও ভবিষ্যৎ আবাসন সরবরাহকে সমান গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। তাই এটি শুধু বাড়ির দাম কত, সেই হিসাব নয়; স্থানীয় মানুষের আয় অনুযায়ী সেই বাড়ি কেনার সক্ষমতা এবং ভবিষ্যৎ চাহিদার তুলনায় কতটা নতুন বাড়ি তৈরি হচ্ছে, দুটিই এতে বিবেচনা করা হয়েছে।

তাবাস্সুম সেপ্টেম্বর ১৬, ২০২৬ ১৪:০
যুক্তরাষ্ট্রে ৩০ বছরের ফিক্সড মর্টগেজের গড় সুদের হার আবারও ৭ শতাংশের ওপরে উঠেছে। ছবি: সংগৃহীত
যুক্তরাষ্ট্রে মর্টগেজ রেট ৭% ছাড়াল, এক বছরের বেশি সময়ের মধ্যে সর্বোচ্চ

যুক্তরাষ্ট্রে ৩০ বছরের ফিক্সড মর্টগেজের গড় সুদের হার আবারও ৭ শতাংশের ওপরে উঠেছে। ১০ সেপ্টেম্বর দৈনিক হিসাবে হার বেড়ে ৭ দশমিক ০৭ শতাংশে পৌঁছায়, যা এক বছরের বেশি সময়ের মধ্যে প্রথমবার ৭ শতাংশের সীমা অতিক্রম। এর ফলে বাড়ি কিনতে আগ্রহী ক্রেতাদের জন্য মাসিক মর্টগেজ পেমেন্টের চাপ আরও বাড়ছে।    মর্টগেজ নিউজ ডেইলির দৈনিক সূচক অনুযায়ী, ৯ সেপ্টেম্বর ৩০ বছরের ফিক্সড মর্টগেজের হার ছিল ৬ দশমিক ৯৭ শতাংশ। এক দিনের ব্যবধানে তা আরও ১০ বেসিস পয়েন্ট বেড়ে ৭ দশমিক ০৭ শতাংশে দাঁড়িয়েছে। এক বছর আগে একই সূচকে হার ছিল ৬ দশমিক ২৯ শতাংশ। অর্থাৎ এক বছরে হার বেড়েছে প্রায় ৭৮ বেসিস পয়েন্ট।    তবে বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের হিসাব পদ্ধতি আলাদা হওয়ায় মর্টগেজ রেটের সংখ্যায় কিছু পার্থক্য রয়েছে। ফ্রেডি ম্যাকের সাপ্তাহিক হিসাবে ১০ সেপ্টেম্বর শেষ হওয়া সপ্তাহে ৩০ বছরের ফিক্সড মর্টগেজের গড় হার ছিল ৬ দশমিক ৭৬ শতাংশ, যা আগের সপ্তাহের ৬ দশমিক ৭১ শতাংশ থেকে বেড়েছে।    মর্টগেজ রেটের এই ঊর্ধ্বগতির পেছনে যুক্তরাষ্ট্রের ট্রেজারি বন্ডের ফলন অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ কারণ। ১০ বছরের ট্রেজারি ইয়েল্ড ১০ সেপ্টেম্বর ৪ দশমিক ৯ শতাংশের কাছাকাছি বা তার ওপরে ওঠে। এই ইয়েল্ড মর্টগেজ রেটের জন্য গুরুত্বপূর্ণ বাজার সূচক হিসেবে কাজ করে।    মূল্যস্ফীতি নিয়ে নতুন উদ্বেগ, জ্বালানি তেলের বাড়তি দাম এবং ভূরাজনৈতিক উত্তেজনার কারণে বিনিয়োগকারীদের মধ্যে দীর্ঘমেয়াদি মূল্যস্ফীতি নিয়ে শঙ্কা তৈরি হয়েছে। এর প্রভাব পড়ছে বন্ড মার্কেটেও। ১০ বছরের ট্রেজারি ইয়েল্ডের ঊর্ধ্বগতি শেষ পর্যন্ত বাড়ির ঋণের খরচ বাড়িয়ে দিচ্ছে।    উচ্চ মর্টগেজ রেটের প্রভাব ইতোমধ্যে আবাসন বাজারেও দেখা যাচ্ছে। আগস্টে যুক্তরাষ্ট্রে বিদ্যমান বাড়ির বিক্রি আগের মাসের তুলনায় ২ শতাংশ কমে এক বছরের বেশি সময়ের মধ্যে সর্বনিম্ন পর্যায়ে নেমেছে। একই সময়ে বাজারে বিক্রির জন্য বাড়ির সরবরাহ বাড়লেও উচ্চ ঋণ খরচ অনেক ক্রেতাকে অপেক্ষায় রাখছে।    বাড়ি কিনতে চাওয়া ক্রেতাদের জন্য এর অর্থ হলো একই দামের বাড়ির ক্ষেত্রেও মাসিক মর্টগেজ পেমেন্ট আগের তুলনায় বেশি হতে পারে। বিশেষ করে ডাউন পেমেন্ট কম হলে সুদের হার বৃদ্ধির প্রভাব আরও বেশি পড়তে পারে।   মর্টগেজ রেট আবার ৭ শতাংশের ওপরে ওঠায় যুক্তরাষ্ট্রের আবাসন বাজারে ক্রয়ক্ষমতা নিয়ে চাপ আরও বাড়ল। চলতি বছরের শুরুতে সুদের হার কমে ক্রেতাদের জন্য কিছুটা স্বস্তি তৈরি হলেও সাম্প্রতিক ঊর্ধ্বগতি সেই সুবিধার বড় অংশ কমিয়ে দিয়েছে।

তাবাস্সুম সেপ্টেম্বর ১০, ২০২৬ ১৪:০
যুক্তরাষ্ট্রের বিভিন্ন শহরে দরিদ্রদের জন্য নির্মিত হাজার হাজার সাশ্রয়ী আবাসন ইউনিট বর্তমানে খালি পড়ে আছে। ছবি: সংগৃহীত
‘বাড়ি খালি, তবু গৃহহীন!’ যুক্তরাষ্ট্রে সবচেয়ে দরিদ্রদের আবাসনে ভয়াবহ বৈষম্য

যুক্তরাষ্ট্রে সবচেয়ে দরিদ্র মানুষের জন্য সাশ্রয়ী আবাসনের তীব্র সংকট তৈরি হলেও দেশটির বিভিন্ন শহরে হাজার হাজার সাশ্রয়ী হিসেবে চিহ্নিত আবাসন ইউনিট খালি পড়ে আছে। অস্টিন, ডেনভার ও পোর্টল্যান্ডের মতো শহরে এমন পরিস্থিতি দেখা যাচ্ছে, যেখানে কম আয়ের মানুষের জন্য নির্ধারিত কিছু বাড়ি ভাড়াটে পাচ্ছে না। কারণ, এসব আবাসনের ভাড়া অনেক দরিদ্র মানুষের সামর্থ্যের বাইরে চলে গেছে। ফলে একদিকে সবচেয়ে কম আয়ের মানুষ বাসস্থানের জন্য সংগ্রাম করছেন, অন্যদিকে তাদের জন্য নির্ধারিত কিছু ইউনিট খালি থাকছে।   টেক্সাসের অস্টিনে আশ্রয়কেন্দ্রে থাকা ম্যাথিউ ডেভিস নিজের একটি অ্যাপার্টমেন্ট চান। কিন্তু রক্তের প্লাজমা দান করে মাসে কয়েকশ ডলার আয় করা ডেভিসের জন্য মাসে ৪৫০ ডলারের একটি ছোট ঘরের ভাড়াও বহন করা কঠিন। ওই ছোট ঘরটিতে পানির সরবরাহ নেই এবং বাথরুমও যৌথভাবে ব্যবহার করতে হয়। অথচ অস্টিনে শহর কর্তৃপক্ষের হিসাবে সাশ্রয়ী আবাসন হিসেবে চিহ্নিত ৪ হাজার ৫০০টির বেশি ইউনিট খালি পড়ে আছে, যা মোট ইউনিটের প্রায় ১৬ শতাংশ।   এই বৈষম্যের বড় কারণ হলো, যুক্তরাষ্ট্রে সাম্প্রতিক বছরগুলোতে অর্থায়ন পাওয়া নিম্নআয়ের আবাসনের বড় অংশ এমন মানুষের জন্য তৈরি হয়েছে, যাদের আয় সংশ্লিষ্ট এলাকার মধ্যম আয়ের অন্তত ৫০ শতাংশ বা তার বেশি। কিন্তু সবচেয়ে দরিদ্র মানুষের আয় তার চেয়ে অনেক কম। ফলে কাগজে-কলমে এসব বাড়ি সাশ্রয়ী হিসেবে বিবেচিত হলেও দেশের সবচেয়ে কম আয়ের মানুষের কাছে সেগুলো বাস্তবে সাশ্রয়ী নয়। কিছু শহরে এসব ইউনিটের ভাড়া বাজারদরের কাছাকাছি চলে আসায় খালি থাকার হারও বেড়েছে।   ন্যাশনাল লো ইনকাম হাউজিং কোয়ালিশনের ২০২৬ সালের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, যুক্তরাষ্ট্রে অত্যন্ত কম আয়ের ১ কোটি ১০ লাখ ভাড়াটে পরিবারের জন্য সাশ্রয়ী ও খালি থাকা ভাড়ার আবাসনের ঘাটতি ৭২ লাখ। অর্থাৎ প্রতি ১০০টি অত্যন্ত কম আয়ের ভাড়াটে পরিবারের বিপরীতে এমন আবাসন রয়েছে মাত্র ৩৫টি। এই শ্রেণির মানুষের আয় ফেডারেল দারিদ্র্যসীমার নিচে অথবা তাদের এলাকার মধ্যম আয়ের ৩০ শতাংশের মধ্যে, যেটি বেশি।   এই পরিবারগুলোর প্রায় তিন-চতুর্থাংশ তাদের আয়ের অর্ধেকের বেশি বাড়িভাড়া ও ইউটিলিটি বিল পরিশোধে ব্যয় করে। ফলে খাবার ও অন্যান্য প্রয়োজনীয় খরচের জন্য তাদের হাতে খুব কম অর্থ থাকে। এর মধ্যে রয়েছেন কম বেতনের চাকরিজীবী, প্রবীণ এবং নির্দিষ্ট আয়ের ওপর নির্ভরশীল প্রতিবন্ধী ব্যক্তিরাও। সবচেয়ে কম আয়ের ভাড়াটেদের জন্য পর্যাপ্ত আবাসনের ঘাটতি যুক্তরাষ্ট্রের সব অঙ্গরাজ্য ও বড় মহানগর এলাকাতেই রয়েছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।   সাশ্রয়ী আবাসন তৈরিতে ব্যবহৃত ফেডারেল নিম্নআয়ের আবাসন কর সুবিধা কর্মসূচির আওতায় ২০২৪ সালে অর্থায়ন পাওয়া ইউনিটগুলোর মাত্র প্রায় ১২ শতাংশ অত্যন্ত কম আয়ের মানুষের জন্য নির্ধারিত ছিল। অধিকাংশ ইউনিট এমন মানুষের জন্য তৈরি হয়েছে, যাদের আয় সংশ্লিষ্ট এলাকার মধ্যম আয়ের অন্তত ৫০ শতাংশ। অস্টিনে উদাহরণ হিসেবে, একক ব্যক্তির ক্ষেত্রে এলাকার মধ্যম আয়ের ৫০ শতাংশ পর্যায়ের আয় প্রায় ৪৭ হাজার ডলার, যেখানে অত্যন্ত কম আয়ের একজনের আয় ২৮ হাজার ডলারের নিচে।   বিশেষজ্ঞদের কেউ কেউ মনে করেন, সাশ্রয়ী আবাসন তৈরির বর্তমান ব্যবস্থা জটিল এবং ভাড়া ভাউচারের তুলনায় বেশি ব্যয়বহুল। অন্যদিকে কিছু আবাসন বিশেষজ্ঞের মতে, কর সুবিধার মাধ্যমে তৈরি আবাসন ও ভাড়া ভাউচার একসঙ্গে কাজ করতে পারে। তবে ভাড়া ভাউচারের ক্ষেত্রেও বড় ঘাটতি রয়েছে। বিশেষজ্ঞদের হিসাবে, যোগ্য পরিবারগুলোর মাত্র চারটির মধ্যে একটি পরিবার ভাড়া ভাউচার পায় এবং অনেক ক্ষেত্রে অপেক্ষার তালিকায় থাকতে হয় বছরের পর বছর।   অস্টিনে এলাকার মধ্যম আয়ের ৬০ শতাংশ পর্যায়ের মানুষের জন্য তৈরি সাশ্রয়ী আবাসনের ভাড়া বাজারদরের কাছাকাছি চলে এসেছে। ফলে কিছু মানুষ সামান্য বেশি ভাড়া দিয়ে বাজারদরের অ্যাপার্টমেন্টে উঠতে আগ্রহী হচ্ছেন, কারণ সেখানে আয় যাচাই ও অনুমোদনের প্রক্রিয়া তুলনামূলকভাবে দ্রুত। বিপরীতে সাশ্রয়ী আবাসনের আবেদনকারীদের ব্যাংক হিসাব, বেতন, বিলসহ বিভিন্ন আর্থিক তথ্য যাচাই করা হয়।   ডেনভারে ফেডারেল কর সুবিধা কর্মসূচির আওতায় এলাকার মধ্যম আয়ের ৬০ শতাংশ পর্যায়ের ইউনিটে খালি থাকার হার ১৩ শতাংশ এবং ৮০ শতাংশ পর্যায়ের ইউনিটে ২১ শতাংশ। পোর্টল্যান্ডে ১ হাজার ৭০০টির বেশি সাশ্রয়ী আবাসন ইউনিট খালি রয়েছে। সেখানে এসব ইউনিটের বড় অংশ এমন মানুষের জন্য নির্ধারিত, যাদের আয় এলাকার মধ্যম আয়ের ৬০ শতাংশ পর্যন্ত।   অস্টিনে ২০১৮ থেকে ২০২৭ সালের মধ্যে অত্যন্ত কম আয়ের মানুষের জন্য ২০ হাজার আবাসন ইউনিট তৈরির লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছিল। কিন্তু ২০২৪ সাল পর্যন্ত তৈরি হয়েছে মাত্র ৫৪৩টি। বিপরীতে এলাকার মধ্যম আয়ের ৬০ থেকে ৮০ শতাংশ পর্যায়ের মানুষের জন্য পরিকল্পিত ১৫ হাজার ইউনিটই নির্মাণ করা হয়েছে। শহরের আবাসন বিভাগ জানিয়েছে, সবচেয়ে কম আয়ের মানুষের জন্য আরও আবাসন তৈরির প্রয়োজন তারা স্বীকার করছে এবং ৩০ শতাংশ মধ্যম আয় পর্যায়ের মানুষের জন্য ইউনিটসহ প্রকল্পে অর্থায়নে অগ্রাধিকার দেওয়ার পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে।   ম্যাথিউ ডেভিসের মতো মানুষের কাছে এই পরিস্থিতি অত্যন্ত হতাশাজনক। গাড়িতে এক বছর বসবাস করার পর অস্টিনের আশ্রয়কেন্দ্রে থাকার সুযোগ পাওয়া ডেভিস এমন একটি জায়গা চান, যেখানে রাতে দরজা বন্ধ করে নিশ্চিন্তে ঘুমাতে পারবেন। কিন্তু সবচেয়ে দরিদ্র মানুষের জন্য পর্যাপ্ত আবাসনের ঘাটতি এবং বিদ্যমান সাশ্রয়ী আবাসনের ভাড়া ও আবেদন প্রক্রিয়ার কারণে সেই সুযোগ পাওয়া কঠিন হয়ে উঠেছে।   সূত্র: অ্যাসোসিয়েটেড প্রেস

তাবাস্সুম সেপ্টেম্বর ৭, ২০২৬ ১৪:০
যুক্তরাষ্ট্রের আবাসন বাজারে মন্দার প্রভাবে আগস্টে বড় ৫০টি মহানগরের ৩৬টিতেই বাড়ির দাম কমেছে। ছবি: সংগৃহীত
যুক্তরাষ্ট্রের ১০ শহরে সবচেয়ে দ্রুত কমছে বাড়ির দাম, ক্রেতাদের জন্য স্বস্তি

যুক্তরাষ্ট্রের আবাসন বাজারে শীতলতার মধ্যে আগস্টে বড় ৫০টি মহানগরের ৩৬টিতে বাড়ির প্রতি বর্গফুটের মধ্যম তালিকাভুক্ত দাম গত বছরের একই সময়ের তুলনায় কমেছে। সবচেয়ে বড় পতন দেখা গেছে অস্টিনে, যেখানে দাম কমেছে ৮ দশমিক ১ শতাংশ। এরপর রয়েছে টাম্পা ৫ দশমিক ৬ শতাংশ এবং মেমফিস ৪ দশমিক ১ শতাংশ। উচ্চ বন্ধকি ঋণের সুদহার, বাড়ির বাড়তি সরবরাহ এবং করোনাভাইরাস মহামারির পর বাজারের পুনর্বিন্যাসের কারণে এসব এলাকায় দামের ওপর চাপ তৈরি হয়েছে।   রিয়েলটর ডটকমের আগস্টের আবাসন বাজারের তথ্য অনুযায়ী, দেশজুড়ে বাড়ির প্রতি বর্গফুটের দাম টানা ১০ম মাসের মতো বার্ষিক হিসাবে কমেছে। জাতীয়ভাবে এই দাম গত বছরের তুলনায় ১ দশমিক ৮ শতাংশ কমেছে। একই সময়ে উত্তর-পূর্বাঞ্চলে মধ্যম তালিকাভুক্ত বাড়ির দাম ৩ দশমিক ৬ শতাংশ, দক্ষিণাঞ্চলে ২ দশমিক ৬ শতাংশ এবং পশ্চিমাঞ্চলে ২ দশমিক ১ শতাংশ কমেছে। মধ্য-পশ্চিমাঞ্চলে দাম অপরিবর্তিত ছিল।   শীর্ষ ৫০টি মহানগরের মধ্যে সবচেয়ে বড় পতন হয়েছে অস্টিন-রাউন্ড রক-সান মারকোস এলাকায়। সেখানে প্রতি বর্গফুটের মধ্যম তালিকাভুক্ত দাম ৮ দশমিক ১ শতাংশ কমেছে এবং মধ্যম তালিকাভুক্ত বাড়ির দাম ৪ লাখ ৫০ হাজার ডলার। টাম্পা-সেন্ট পিটার্সবার্গ-ক্লিয়ারওয়াটারে প্রতি বর্গফুটের দাম কমেছে ৫ দশমিক ৬ শতাংশ। সেখানে মধ্যম তালিকাভুক্ত বাড়ির দাম ৩ লাখ ৯১ হাজার ৯৫০ ডলার। মেমফিসে প্রতি বর্গফুটের দাম ৪ দশমিক ১ শতাংশ কমেছে এবং মধ্যম তালিকাভুক্ত দাম ২ লাখ ৯৯ হাজার ৯৯৫ ডলার।   এ তালিকায় এরপর রয়েছে সান ফ্রান্সিসকো-অকল্যান্ড-ফ্রেমন্ট, যেখানে প্রতি বর্গফুটের দাম কমেছে ৩ দশমিক ৯ শতাংশ। ওই এলাকার মধ্যম তালিকাভুক্ত বাড়ির দাম ৯ লাখ ৮ হাজার ৭০০ ডলার। সান অ্যান্টোনিও-নিউ ব্রাউনফেলসে দাম কমেছে ৩ দশমিক ৬ শতাংশ এবং মধ্যম তালিকাভুক্ত দাম ৩ লাখ ২৪ হাজার ৪৫০ ডলার। ডেনভার-অরোরা-সেন্টেনিয়ালে প্রতি বর্গফুটের দাম ৩ দশমিক ৪ শতাংশ কমে মধ্যম তালিকাভুক্ত বাড়ির দাম দাঁড়িয়েছে ৫ লাখ ৭৪ হাজার ৯১৩ ডলারে।   বাল্টিমোর-কলাম্বিয়া-টাওসনে প্রতি বর্গফুটের দাম কমেছে ৩ দশমিক ২ শতাংশ এবং মধ্যম তালিকাভুক্ত বাড়ির দাম ৩ লাখ ৭৫ হাজার ডলার। সান ডিয়েগো-চুলা ভিস্তা-কার্লসবাডে কমেছে ২ দশমিক ৭ শতাংশ, যেখানে মধ্যম তালিকাভুক্ত দাম ৮ লাখ ৯৯ হাজার ডলার। অরল্যান্ডো-কিসিমি-স্যানফোর্ডে কমেছে ২ দশমিক ৬ শতাংশ এবং মধ্যম তালিকাভুক্ত দাম ৪ লাখ ১৭ হাজার ডলার। পোর্টল্যান্ড-ভ্যাঙ্কুভার-হিলসবোরো এলাকায় প্রতি বর্গফুটের দাম কমেছে ২ দশমিক ৪ শতাংশ এবং মধ্যম তালিকাভুক্ত দাম ৫ লাখ ৯৫ হাজার ডলার।   রিয়েলটর ডটকমের জ্যেষ্ঠ অর্থনীতিবিদ জেক ক্রিমেল বলেন, অস্টিন, টাম্পা, সান অ্যান্টোনিও ও ডেনভারের মতো বাজারে ২০২০ থেকে ২০২২ সালের আবাসন বাজারের দ্রুত উত্থানের পর এখন মহামারির সময়ের মূল্যবৃদ্ধির একটি অংশ কমে আসছে। এসব এলাকায় মহামারির আগের স্বাভাবিক সময়ের তুলনায় বাড়ির মজুতও বেশি রয়েছে। ফলে বিক্রেতাদের আগের তুলনায় আরও বাস্তবসম্মত দামে বাড়ি তালিকাভুক্ত করতে হচ্ছে।   সান ফ্রান্সিসকোতে পরিস্থিতি কিছুটা আলাদা। সেখানে প্রতি বর্গফুটের তালিকাভুক্ত দাম ৩ দশমিক ৯ শতাংশ কমলেও জুলাইয়ে সক্রিয় বাড়ির তালিকা আগের বছরের তুলনায় ১৬ দশমিক ৩ শতাংশ কমেছিল। শহরটির মধ্যম তালিকাভুক্ত বাড়ির দামও গত বছরের তুলনায় ৫ দশমিক ২ শতাংশ কমে ৯ লাখ ৮ হাজার ৭০০ ডলারে দাঁড়িয়েছে। অর্থনীতিবিদ ক্রিমেলের মতে, সেখানে দামের পরিবর্তনের পেছনে বাজারে আসা বাড়ির ধরনও ভূমিকা রাখছে।   ফ্রেমন্ট এলাকার রিয়েল এস্টেট এজেন্ট ভেরোনিকা পিটার বলেন, প্রযুক্তি খাতের পরিবর্তনও সান ফ্রান্সিসকো এলাকার আবাসন বাজারে প্রভাব ফেলছে। ওই এলাকার অনেক কর্মী প্রযুক্তি খাতে কাজ করেন। কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাকে কেন্দ্র করে প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানগুলোর পুনর্গঠন ও কর্মী ছাঁটাইয়ের কারণে কিছু ক্রেতা চাকরি নিয়ে অনিশ্চয়তায় রয়েছেন। এর সঙ্গে উচ্চ সুদের হার এবং প্রযুক্তি খাতের শেয়ারের দরপতনও বাড়ি কেনার জন্য রাখা অর্থের ওপর চাপ তৈরি করেছে।   রিয়েলটর ডটকমের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, এসব বাজারে বাড়ির দামের নিম্নমুখী সমন্বয় সাম্প্রতিক বছরগুলোতে বাড়ি কেনার সামর্থ্যের সমস্যায় থাকা সম্ভাব্য ক্রেতাদের জন্য কিছুটা সুযোগ তৈরি করছে। দেশজুড়ে সক্রিয় বাড়ির মজুতও বাড়ছে এবং ২০১৯ সালের শেষের পর দেখা যায়নি এমন মাত্রার কাছাকাছি পৌঁছাচ্ছে। ফলে বিক্রেতাদের তুলনামূলক বেশি বেছে নেওয়া ক্রেতাদের আকৃষ্ট করতে নিজেদের দাম নির্ধারণের কৌশল নতুন করে ভাবতে হচ্ছে।   তবে এসব বাজারে বাড়ির দাম কমার প্রবণতা সাময়িক নাকি আরও বড় আঞ্চলিক পরিবর্তনের সূচনা, তা এখনো নিশ্চিত নয়। স্থানীয় অর্থনৈতিক পরিস্থিতি এবং সামনে বন্ধকি ঋণের সুদহারে সম্ভাব্য পরিবর্তন শরৎকালীন বাড়ি কেনাবেচার মৌসুমে বাজারের গতিপথে প্রভাব ফেলতে পারে।   সূত্র: রিয়েলটর ডটকম

তাবাস্সুম সেপ্টেম্বর ৭, ২০২৬ ১৪:০
যুক্তরাষ্ট্রে বাড়ি কেনার আগে প্রপার্টি ট্যাক্সের হিসাব মাথায় রাখা অত্যন্ত জরুরি। ছবি: সংগৃহীত
যুক্তরাষ্ট্রে বাড়ি কেনার আগে এই ট্যাক্সের হিসাব না জানলে বাড়বে মানসিক চাপ

যুক্তরাষ্ট্রে বাড়ি কেনার সময় শুধু বাড়ির দাম ও মর্টগেজের কিস্তি হিসাব করলেই হয় না। প্রতি বছর কত প্রপার্টি ট্যাক্স দিতে হবে, সেটিও আগেই জানা জরুরি। কারণ এই ট্যাক্সের পরিমাণ রাজ্য, কাউন্টি ও স্থানীয় ট্যাক্সিং ইউনিটভেদে উল্লেখযোগ্যভাবে পরিবর্তিত হয় এবং অনেক ক্ষেত্রে বাড়ির মালিকের মাসিক খরচে বড় প্রভাব ফেলে।   প্রপার্টি ট্যাক্স সাধারণত স্থানীয় সরকার ও বিভিন্ন স্থানীয় ট্যাক্সিং ইউনিট আদায় করে। এই অর্থ স্কুল, রাস্তা, পুলিশ, ফায়ার সার্ভিসসহ বিভিন্ন স্থানীয় সেবা পরিচালনায় ব্যবহৃত হয়। ট্যাক্স ফাউন্ডেশনের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৪ সালে মালিকের বসবাস করা বাড়ির কার্যকর প্রপার্টি ট্যাক্স হারের হিসাবে নিউ জার্সি ছিল ১.৮৮ শতাংশ, কানেকটিকাট ১.৫৪ শতাংশ এবং মিসৌরি ০.৮৯ শতাংশ। একই হিসাবে টেক্সাসের হার ছিল ১.৪০ শতাংশ।    তবে এসব হারকে সরাসরি প্রতিটি বাড়ির নির্দিষ্ট ট্যাক্স বিল হিসেবে ধরা ঠিক নয়। যুক্তরাষ্ট্রের বিভিন্ন রাজ্যে বাড়ির মূল্য নির্ধারণ ও অ্যাসেসমেন্টের নিয়ম এক নয়। কোথাও বাজারমূল্যের একটি নির্দিষ্ট অংশকে অ্যাসেসড ভ্যালু হিসেবে ধরে ট্যাক্স নির্ধারণ করা হয়। আবার স্থানীয় সরকার, স্কুল ডিস্ট্রিক্ট ও অন্যান্য ট্যাক্সিং ইউনিটের আলাদা লেভিও থাকতে পারে। ফলে একই দামের দুটি বাড়ির প্রপার্টি ট্যাক্সও ভিন্ন হতে পারে।   উদাহরণ হিসেবে, ২ লাখ ৫০ হাজার ডলারের একটি বাড়িতে ১ শতাংশ কার্যকর হার প্রযোজ্য হলে বছরে প্রায় ২ হাজার ৫০০ ডলার, অর্থাৎ মাসে গড়ে প্রায় ২০৮ ডলার ট্যাক্স দাঁড়ায়। তবে নিউ জার্সি বা কানেকটিকাটের মতো তুলনামূলক বেশি প্রপার্টি ট্যাক্সের রাজ্যে একই দামের বাড়ির প্রকৃত ট্যাক্স বিল স্থানীয় নিয়ম অনুযায়ী আরও বেশি হতে পারে। তাই শুধু বাড়ির বিক্রয়মূল্য দেখে মাসিক খরচের হিসাব করা ঝুঁকিপূর্ণ।   বাড়ি কেনার পরও ট্যাক্সের পরিমাণ পরিবর্তিত হতে পারে। স্থানীয় কর্তৃপক্ষ বাড়ির অ্যাসেসড ভ্যালু পুনর্মূল্যায়ন করলে ট্যাক্স বিল বাড়তে পারে। আবার স্থানীয় ট্যাক্স রেট পরিবর্তন হলেও মালিকের বার্ষিক খরচে প্রভাব পড়তে পারে। তাই বাড়ি কেনার আগে সাম্প্রতিক কয়েক বছরের প্রপার্টি ট্যাক্স রেকর্ড দেখা গুরুত্বপূর্ণ।   টেক্সাসের ক্ষেত্রেও একটি বিষয় পরিষ্কারভাবে জানা দরকার। সেখানে স্টেট প্রপার্টি ট্যাক্স নেই। তবে স্থানীয় কাউন্টি, সিটি, স্কুল ডিস্ট্রিক্ট ও অন্যান্য ট্যাক্সিং ইউনিট প্রপার্টি ট্যাক্স আদায় করে। টেক্সাস কম্পট্রোলারের তথ্য অনুযায়ী, এসব স্থানীয় সংস্থাই ট্যাক্সের হার নির্ধারণ করে এবং সেই অর্থ স্থানীয় সেবায় ব্যবহার করে।    বাড়ি কেনার আগে সম্ভাব্য ক্রেতাদের সংশ্লিষ্ট কাউন্টির অ্যাসেসর বা অ্যাপ্রেইজাল ডিস্ট্রিক্টের রেকর্ড থেকে বাড়িটির আগের প্রপার্টি ট্যাক্স কত ছিল তা যাচাই করা উচিত। একই সঙ্গে বাড়িটি হোমস্টেড এক্সেম্পশনের জন্য যোগ্য কি না, সেটিও জানা দরকার। কারণ এ ধরনের ছাড়ের নিয়ম ও সুবিধার পরিমাণ রাজ্য ও স্থানীয় এলাকার ওপর নির্ভর করে।   তাই নতুন বাড়ি দেখার সময় শুধু মর্টগেজের মাসিক কিস্তি নয়, প্রপার্টি ট্যাক্স, হোম ইন্স্যুরেন্স, সম্ভাব্য হোমওনার্স অ্যাসোসিয়েশন ফি এবং অন্যান্য নিয়মিত খরচ মিলিয়ে মোট মাসিক ব্যয় হিসাব করাই নিরাপদ। এতে বাড়ি কেনার পর অপ্রত্যাশিত খরচের চাপ কমানো সম্ভব।

তাবাস্সুম সেপ্টেম্বর ২, ২০২৬ ১৪:০
উডস্টকের একটি আবাসিক এলাকায় ২০৪০ সাল পর্যন্ত ডেভেলপারের প্রভাব বজায় থাকার চুক্তিতে অসন্তোষ প্রকাশ করেছেন বাড়ির মালিকরা। ছবি: সংগৃহীত
জর্জিয়ায় বাড়ির মালিকদের অভিযোগ, ২০৪০ সাল পর্যন্ত ডেভেলপারের হাতেই থাকবে আবাসন ব্যবস্থার নিয়ন্ত্রণ

যুক্তরাষ্ট্রের জর্জিয়া অঙ্গরাজ্যের উডস্টকের একটি আবাসিক এলাকায় বাড়ির মালিকরা অভিযোগ করেছেন, ২০৪০ সাল পর্যন্ত এলাকার গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত ও ব্যবস্থাপনার ওপর মূল ডেভেলপারের প্রভাব বজায় থাকতে পারে। ভিলেজ অব টাউন লেক এলাকার বাসিন্দাদের দাবি, ২০২০ সালে করা একটি চুক্তির কারণে আবাসিক এলাকার বাড়ির মালিক সমিতির সঙ্গে ডেভেলপারের নিজস্ব সম্পত্তি ব্যবস্থাপনা প্রতিষ্ঠানের সম্পর্ক ২০৪০ সাল পর্যন্ত বহাল থাকবে।   প্রতিবেদন অনুযায়ী, এলাকার মূল ডেভেলপার ডেভিড পিয়ারসন ২০২০ সালে নিজের সম্পত্তি ব্যবস্থাপনা প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে ওই চুক্তি করেন। বাসিন্দাদের অভিযোগ, চুক্তিটির মাধ্যমে ব্যবস্থাপনা প্রতিষ্ঠানটি এমন কিছু দায়িত্ব পেয়েছে, যেগুলো সাধারণত বাড়ির মালিক সমিতির বোর্ডের মাধ্যমে পরিচালিত হয়ে থাকে। ফলে এলাকার গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত গ্রহণে ডেভেলপারের প্রভাব নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন কয়েকজন বাড়ির মালিক।   চুক্তি অনুযায়ী, ব্যবস্থাপনা প্রতিষ্ঠানটিকে বছরে কমপক্ষে ৭৯ হাজার ডলার অথবা বাড়ির মালিক সমিতির মোট বাজেটের ২০ শতাংশ, যেটি বেশি হবে, সেই পরিমাণ অর্থ দেওয়ার কথা রয়েছে। বাড়ির মালিকদের দাবি, গত কয়েক বছরে সমিতির বাজেট প্রায় তিন গুণ বেড়েছে। এর ফলে ব্যবস্থাপনা প্রতিষ্ঠানের বার্ষিক পারিশ্রমিকও বেড়ে প্রায় ১ লাখ ৯০ হাজার ৬৩৪ ডলারে দাঁড়িয়েছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।   এ নিয়ে বাসিন্দাদের মধ্যে অসন্তোষের একটি উদাহরণ হিসেবে একটি বেড়া নিয়ে বিরোধের কথা উঠে এসেছে। বাড়ির মালিক জেসন সার্সি জানান, তিনি একটি বেড়া নির্মাণে প্রায় ৩ হাজার ৬০০ ডলার খরচ করেছিলেন। পরে সম্পত্তির সীমানা নিয়ে বিরোধের কারণে সেটি সরিয়ে ফেলা হয়। তার দাবি, এ বিষয়ে তিনি কোনো ক্ষতিপূরণ বা যথাযথ যোগাযোগ পাননি।   বাড়ির মালিকদের আরও অভিযোগ, ব্যবস্থাপনা প্রতিষ্ঠানের পারিশ্রমিক তুলনামূলকভাবে বেশি হতে পারে। একজন বাসিন্দা অন্য কয়েকটি সম্পত্তি ব্যবস্থাপনা প্রতিষ্ঠানের কাছ থেকে খরচের হিসাব নেন। সেখানে সর্বোচ্চ প্রস্তাবও প্রায় ৪০ হাজার থেকে ৪৫ হাজার ডলারের মধ্যে ছিল বলে প্রতিবেদনে বলা হয়েছে। এর সঙ্গে বর্তমান ব্যবস্থাপনা প্রতিষ্ঠানের পারিশ্রমিকের পার্থক্য নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন বাসিন্দারা।   তবে ভিলেজ অব টাউন লেকের বাড়ির মালিক সমিতির সভাপতি বেকি রিপিক এই ব্যবস্থাকে ভিন্নভাবে ব্যাখ্যা করেছেন। লিখিত বক্তব্যে তিনি বলেন, তাদের এলাকার ব্যবস্থাপনা কাঠামোটি অন্য সাধারণ বাড়ির মালিক সমিতির তুলনায় আলাদা। তার মতে, সমিতির বোর্ডের দায়িত্বও প্রচলিত বাড়ির মালিক সমিতির তুলনায় সীমিত। তিনি আরও দাবি করেন, অধিকাংশ বাসিন্দা এলাকায় সন্তুষ্ট এবং যারা আপত্তি তুলছেন তারা সংখ্যায় কম।   এদিকে চুক্তির বৈধতা ও ব্যবস্থাপনা প্রতিষ্ঠানের ক্ষমতা নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে। জর্জিয়ার বাড়ির মালিক সমিতি-সংক্রান্ত আইন প্রণয়নে সহায়তাকারী আইনজীবী র‌্যান্ডি লিপশুটজ বলেছেন, চুক্তিটি যথাযথভাবে অনুমোদিত হয়ে থাকলে ব্যবস্থাপনা প্রতিষ্ঠানের পারিশ্রমিক নিজেই অবৈধ নাও হতে পারে। তবে বাড়ির মালিক সমিতির বোর্ডের ক্ষমতার বড় একটি অংশ ব্যবস্থাপনা প্রতিষ্ঠানের হাতে দেওয়ার বিষয়টি নিয়ে তিনি আলাদা উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন।   বিষয়টি সামনে আসার সময় জর্জিয়ায় বাড়ির মালিক সমিতি নিয়ে নতুন অভিযোগ ব্যবস্থাও চালুর প্রস্তুতি চলছে। রাজ্য কর্তৃপক্ষ ইতোমধ্যে অভিযোগ জানানোর ব্যবস্থা চালু করেছে। তবে এসব অভিযোগ আনুষ্ঠানিকভাবে পর্যালোচনার প্রক্রিয়া ২০২৭ সালের জানুয়ারি থেকে শুরু হওয়ার কথা রয়েছে। ফলে ভিলেজ অব টাউন লেকের বাসিন্দাদের অভিযোগও ভবিষ্যতে ওই ব্যবস্থার আওতায় আসতে পারে।   এলাকার বাড়ির মালিকদের মূল উদ্বেগের জায়গা হলো সিদ্ধান্ত গ্রহণে তাদের অংশগ্রহণ, অর্থ ব্যয়ের স্বচ্ছতা এবং ব্যবস্থাপনা প্রতিষ্ঠানের দীর্ঘমেয়াদি ভূমিকা। তাদের অভিযোগ, ২০৪০ সাল পর্যন্ত চলমান চুক্তির কারণে বাড়ির মালিক সমিতির গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে ডেভেলপারের প্রভাব সহজে শেষ হচ্ছে না। অন্যদিকে সমিতির পক্ষ থেকে ব্যবস্থাটিকে স্বতন্ত্র ও বিশেষ কাঠামো হিসেবে তুলে ধরা হয়েছে।   সূত্র: দ্য কুল ডাউন, ১১অ্যালাইভ

তাবাস্সুম আগস্ট ২৯, ২০২৬ ১৪:০
আবাসন বাজারে বাড়ি
বাড়ি কেনার চেয়ে ভাড়া থাকলেই মাসে সাশ্রয় $১,০০০, যুক্তরাষ্ট্রের যে ৭ শহর

যুক্তরাষ্ট্রের আবাসন বাজারে বাড়ি কেনা ও ভাড়া নেওয়া দুটোই এখন অনেক পরিবারের জন্য বড় আর্থিক সিদ্ধান্ত। তবে এপার্টমেন্ট ডট কমের সাম্প্রতিক বিশ্লেষণ বলছে, দেশটির সাতটি বড় মেট্রো এলাকায় বাড়ি কেনার তুলনায় ভাড়া থাকলে মাসে কয়েকশ থেকে ১ হাজার ডলারের বেশি সাশ্রয় হতে পারে। এর মধ্যে অস্টিন ও স্যাক্রামেন্টোতে এই ব্যবধান সবচেয়ে বেশি।    তালিকায় রয়েছে টেক্সাসের অস্টিন, ক্যালিফোর্নিয়ার স্যাক্রামেন্টো, কলোরাডোর ডেনভার, ওরেগনের পোর্টল্যান্ড, মেরিল্যান্ডের বাল্টিমোর, ইউটাহর সল্ট লেক সিটি এবং ফ্লোরিডার অরল্যান্ডো। এসব মেট্রো এলাকায় গড় মাসিক রেন্টের তুলনায় মধ্যম মাসিক মর্টগেজ পেমেন্ট উল্লেখযোগ্যভাবে বেশি।    অস্টিনে মধ্যম মাসিক মর্টগেজ পেমেন্ট ২ হাজার ৪৭৫ ডলার। বিপরীতে গড় মাসিক রেন্ট ১ হাজার ৪২১ ডলার। অর্থাৎ বাড়ি কেনার পরিবর্তে ভাড়া থাকলে মাসে প্রায় ১ হাজার ৫৪ ডলার কম খরচ হতে পারে।   স্যাক্রামেন্টোতে ব্যবধানও ১ হাজার ডলারের বেশি। সেখানে মধ্যম মাসিক মর্টগেজ পেমেন্ট ২ হাজার ৬২১ ডলার, আর গড় রেন্ট ১ হাজার ৫৭৯ ডলার। ফলে ভাড়া থাকলে মাসে প্রায় ১ হাজার ৪২ ডলার সাশ্রয় হতে পারে।    ডেনভারে মধ্যম মাসিক মর্টগেজ পেমেন্ট ২ হাজার ৫১৮ ডলার এবং গড় রেন্ট ১ হাজার ৬৩৩ ডলার। ব্যবধান প্রায় ৮৮৫ ডলার।   ওরেগনের পোর্টল্যান্ডে মধ্যম মর্টগেজ পেমেন্ট ২ হাজার ৪০৪ ডলার, যেখানে গড় রেন্ট ১ হাজার ৫৫১ ডলার। অর্থাৎ ভাড়া থাকলে মাসে প্রায় ৮৫৩ ডলার কম খরচ হতে পারে।   মেরিল্যান্ডের বাল্টিমোরে মধ্যম মাসিক মর্টগেজ পেমেন্ট ২ হাজার ২৫৪ ডলার এবং গড় রেন্ট ১ হাজার ৫২৭ ডলার। এখানে ব্যবধান প্রায় ৭২৭ ডলার।   ইউটাহর সল্ট লেক সিটিতে মধ্যম মর্টগেজ পেমেন্ট ২ হাজার ১০৬ ডলার। গড় রেন্ট ১ হাজার ৪২৮ ডলার। ফলে ভাড়া থাকলে মাসে প্রায় ৬৭৮ ডলার সাশ্রয় হতে পারে।   তালিকার সপ্তম শহর ফ্লোরিডার অরল্যান্ডো। সেখানে মধ্যম মাসিক মর্টগেজ পেমেন্ট ১ হাজার ৯৬৭ ডলার এবং গড় রেন্ট ১ হাজার ৫৯০ ডলার। ব্যবধান প্রায় ৩৭৭ ডলার।    বিশ্লেষণে ব্যবহৃত রেন্টের তথ্য এপার্টমেন্ট ডট কমের সাম্প্রতিক বাজারের হিসাবের সঙ্গেও সামঞ্জস্যপূর্ণ। জুলাই ২০২৬-এর তথ্য অনুযায়ী অস্টিনে গড় রেন্ট ছিল প্রায় ১ হাজার ৪২০ ডলার, স্যাক্রামেন্টোতে ১ হাজার ৫৮৩ ডলার, ডেনভারে ১ হাজার ৬৪২ ডলার এবং পোর্টল্যান্ডে ১ হাজার ৫২৯ ডলার। একই সময়ে অরল্যান্ডোর গড় রেন্ট ছিল প্রায় ১ হাজার ৫৮৫ ডলার।    অস্টিনের আবাসন বাজার নিয়ে স্থানীয় রিয়েল এস্টেট এজেন্ট দিলার শোয়ার্টজ ফক্স বিজনেসকে বলেন, শহরটিতে বাড়ি কেনা ও রেন্ট নেওয়া দুই বাজারেই চাহিদা রয়েছে। কাজের কারণে অস্টিনে আসা, নতুন এলাকায় যাওয়ার চেষ্টা এবং বিভিন্ন সাবডিভিশনে স্থানান্তরের কারণে রেন্টাল ইনকোয়ারি বেড়েছে বলে তিনি জানান।   তবে রেন্ট বনাম বাইয়ের সিদ্ধান্ত শুধু মাসিক রেন্ট ও মর্টগেজ পেমেন্টের পার্থক্যের ওপর নির্ভর করে না। বাড়ি কিনলে ডাউন পেমেন্ট, প্রপার্টি ট্যাক্স, হোম ইন্স্যুরেন্স, মেইনটেন্যান্স ও ক্লোজিং কস্টের মতো অতিরিক্ত খরচ থাকে। অন্যদিকে রেন্টারদের সাধারণত এসব মালিকানাসংক্রান্ত খরচ বহন করতে হয় না।   বর্তমান আবাসন বাজারে মর্টগেজের উচ্চ খরচ ও বাড়ির দামের কারণে অনেক পরিবারের জন্য রেন্ট নেওয়া স্বল্পমেয়াদে তুলনামূলক সাশ্রয়ী হয়ে উঠেছে। বিশেষ করে অস্টিন ও স্যাক্রামেন্টোর মতো শহরে মাসিক ব্যয়ের ব্যবধান ১ হাজার ডলারের বেশি হওয়ায় বাড়ি কেনার আগে রেন্ট বনাম বাইয়ের হিসাব নতুন করে বিবেচনা করছেন অনেক ক্রেতা।

বায়জিদ হাসান আগস্ট ২৪, ২০২৬ ১৪:০
রিফর্ম ইউকের ডেপুটি লিডার রিচার্ড টাইস
সন্তান থাকলে দম্পতিদের বিয়ে করা উচিত, বললেন রিফর্ম ইউকের ডেপুটি লিডার

যুক্তরাজ্যে সন্তানসহ বিবাহিত দম্পতিদের সামাজিক আবাসনের ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার দেওয়া উচিত বলে মন্তব্য করেছেন রিফর্ম ইউকের ডেপুটি লিডার রিচার্ড টাইস। নতুন আবাসন নীতির পক্ষে অবস্থান নিয়ে তিনি বলেছেন, সন্তানদের বিবাহিত বাবা-মায়ের সঙ্গে বেড়ে ওঠা আদর্শ পরিস্থিতি এবং ব্রিটেনে জন্ম নেওয়া শিশুদের উৎসাহিত করা উচিত।    রিফর্ম ইউকের প্রস্তাবিত পরিকল্পনা অনুযায়ী, ৩৫ বছরের কম বয়সী ব্রিটিশ নাগরিকদের সামাজিক আবাসনের অপেক্ষমাণ তালিকায় অগ্রাধিকার দেওয়ার কথা বলা হয়েছে। এর পাশাপাশি সন্তানসহ বিবাহিত দম্পতি, কর্মরত ব্যক্তি ও সাবেক সেনাসদস্যদেরও অগ্রাধিকার দেওয়ার প্রস্তাব রয়েছে।    টাইসকে জিজ্ঞেস করা হলে, সন্তানসহ বিবাহিত ব্রিটিশ দম্পতি একক ব্রিটিশ নাগরিকের চেয়ে সামাজিক আবাসনে অগ্রাধিকার পাবেন কি না, তিনি বলেন, হ্যাঁ। তাঁর যুক্তি, পরিবার সমাজের জন্য গুরুত্বপূর্ণ এবং ব্রিটেনে জন্ম নেওয়া শিশুদের উৎসাহিত করা প্রয়োজন।   একক অভিভাবকদের প্রসঙ্গে টাইস বলেন, বাস্তব জীবনে অনেক পরিস্থিতি ভিন্ন হতে পারে। তবে তাঁর মতে, আদর্শ পরিস্থিতিতে সন্তানদের বিবাহিত দম্পতির সঙ্গে বেড়ে ওঠা বেশি কাম্য এবং এ বিষয়টি উৎসাহিত করা উচিত।    রিফর্ম ইউকের এই পরিকল্পনায় ব্রিটিশ নাগরিকদের আবাসনের তালিকায় এগিয়ে রাখার পাশাপাশি বিদেশি নাগরিকদের সামাজিক আবাসন থেকে সরিয়ে দেওয়ার আগের একটি প্রস্তাবও রয়েছে। দলটির দাবি, বিদেশি নাগরিকদের সামাজিক আবাসন থেকে সরিয়ে দিলে প্রায় ৫ লাখ ৪০ হাজার বাড়ি খালি হতে পারে।    তবে প্রস্তাবটির তীব্র সমালোচনা করেছে গৃহহীনতা নিয়ে কাজ করা দাতব্য সংস্থা শেল্টার। সংস্থাটির মতে, এমন নীতি বাস্তবায়ন হলে অনেক পরিবার দীর্ঘ সময় অস্থায়ী আবাসনে আটকে থাকতে পারে। বিশেষ করে পারিবারিক সহিংসতা থেকে পালিয়ে আসা ব্যক্তিদের জন্য এটি গুরুতর ঝুঁকি তৈরি করতে পারে।   ব্রিটেনের ক্ষমতাসীন লেবার পার্টিও পরিকল্পনাটির সমালোচনা করেছে। দলটির দাবি, সামাজিক আবাসনের সুযোগ নির্ধারণে আবাসনের প্রয়োজনের পরিবর্তে জাতীয়তা ও কর্মসংস্থানকে অগ্রাধিকার দিলে আরও বেশি পরিবার গৃহহীনতার ঝুঁকিতে পড়তে পারে।   এর আগে জুন মাসে রিফর্ম ইউকের নেতা নাইজেল ফারাজ বিদেশি নাগরিকদের সামাজিক আবাসন থেকে সরিয়ে দেওয়ার একটি প্রস্তাব সামনে আনেন। তিনি বলেছিলেন, ক্ষমতায় গেলে সামাজিক আবাসনে থাকা বিদেশি নাগরিকদের বেসরকারি ভাড়া বাসায় যাওয়ার জন্য তিন মাস সময় দেওয়া হবে। তা না হলে তাদের যুক্তরাজ্যে থাকার অধিকার হারানো এবং দেশ থেকে বহিষ্কারের ঝুঁকিতে পড়ার কথা বলা হয়েছিল।

বায়জিদ হাসান আগস্ট ২৩, ২০২৬ ১৪:০
যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্কে আকাশছোঁয়া বাড়িভাড়া, দুই বেডরুমের বাসার গড় ভাড়া বছরে ৫৭ হাজার ডলার
যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্কে আকাশছোঁয়া বাড়িভাড়া, দুই বেডরুমের বাসার গড় ভাড়া বছরে ৫৭ হাজার ডলার

যুক্তরাষ্ট্রে তীব্র আবাসন সংকটের কারণে আকাশছোঁয়া বাড়িভাড়া সাধারণ মানুষের আয়ের বড় একটি অংশ গিলে খাচ্ছে। আবাসন খাতের প্রতিষ্ঠান জিলোর তথ্য অনুযায়ী, দেশটির সবচেয়ে ব্যয়বহুল শহর নিউইয়র্কে দুই বেডরুমের একটি বাসার গড় ভাড়া মাসে ৪ হাজার ৭৫০ ডলার, যা বছরে দাঁড়ায় ৫৭ হাজার ডলারে।   ২০২৩ সালের মার্কিন শুমারি ব্যুরোর তথ্যমতে, এটি ওই শহরের পরিবারগুলোর গড় আয়ের দুই-তৃতীয়াংশের চেয়েও বেশি। শুধু নিউইয়র্ক নয়, পুরো যুক্তরাষ্ট্রজুড়েই মানুষের আয়ের একটি বড় অংশ চলে যাচ্ছে বাসস্থানের পেছনে। জিলোর দেওয়া তথ্য বলছে, বর্তমানে দেশটিতে গড় বার্ষিক বাড়িভাড়া ২১ হাজার ৪৮০ ডলার।   জিলোর মতে, যুক্তরাষ্ট্রের প্রায় অর্ধেক ভাড়াটেই 'কস্ট-বার্ডেনড' বা আবাসন ব্যয়ভারের চাপে পিষ্ট, যার অর্থ হলো তাদের আয়ের ৩০ শতাংশেরও বেশি কেবল আবাসন খাতেই ব্যয় হয়। ১৮ বছরের কম বয়সী সন্তান থাকা পরিবারগুলোর মধ্যে এই হার আরও বেশি, প্রায় ৫৪ শতাংশ।   জিলো ও স্ট্রিটইজি-এর জ্যেষ্ঠ অর্থনীতিবিদ কেনি লি জানান, যদিও ভাড়া বৃদ্ধির গতি কিছুটা কমেছে, তবুও আয়ের তুলনায় ভাড়ার পরিমাণ এখনো অনেক উঁচুতে অবস্থান করছে। করোনা মহামারির পর থেকে প্রায় ৫০ শতাংশ ভাড়াটে এই অতিরিক্ত খরচের চাপে রয়েছেন। বিশেষ করে নিম্ন আয়ের মানুষের জন্য এই পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ।   হার্ভার্ড ইউনিভার্সিটির জয়েন্ট সেন্টার ফর হাউজিং স্টাডিজের এক প্রতিবেদন অনুযায়ী, বছরে ৩০ হাজার ডলারের কম আয় করা প্রতি ১০ জন ভাড়াটের মধ্যে ৮ জনেরও বেশি মানুষ ২০২৪ সালে মারাত্মক ব্যয়ভারের চাপে ছিলেন।   বাড়িভাড়া অস্বাভাবিকভাবে বেড়ে যাওয়ার মূল কারণ হলো তীব্র আবাসন সংকট। ২০০৮ সালের অর্থনৈতিক মন্দার পর থেকে দীর্ঘ দুই দশক ধরে নির্মাণকাজের ধীরগতির কারণে বর্তমানে মার্কিন আবাসন বাজারে ৪৭ লাখ বাড়ির বিশাল ঘাটতি রয়েছে। এই ঘাটতির কারণে অনেক মানুষ বাড়ি কেনার বদলে বাসা ভাড়া নিতে বাধ্য হচ্ছেন, যা আবাসন সরবরাহের ওপর অতিরিক্ত চাপ ফেলছে।   অর্থনীতিবিদ লি জানান, উন্নয়নের জন্য জমি থাকা সত্ত্বেও জোনিং বা আঞ্চলিক বিধিনিষেধ এবং আমলাতান্ত্রিক জটিলতায় নির্মাণকাজ থমকে আছে। উচ্চ চাহিদাসম্পন্ন ভাড়ার বাজারগুলোতে তাই আবাসন প্রকল্পগুলো আটকে রয়েছে। এই বাধাগুলো পুরোপুরি দূর না হওয়া পর্যন্ত সরবরাহ কোনোভাবেই চাহিদার সমকক্ষ হতে পারবে না বলে তিনি মন্তব্য করেন।   চলতি বছরের শুরুতে যুক্তরাষ্ট্রের আবাসন সরবরাহ বাড়ানোর লক্ষ্যে একটি দ্বিদলীয় বিল আইনে পরিণত হয়েছে। হোয়াইট হাউস এটিকে দেশের ইতিহাসে ‘সবচেয়ে যুগান্তকারী ও গুরুত্বপূর্ণ আবাসন আইন’ হিসেবে আখ্যা দিয়েছে। তবে বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, দীর্ঘমেয়াদে এই আইনটি আবাসন সরবরাহ বাড়াতে সাহায্য করলেও, তাৎক্ষণিকভাবে এটি বাড়িভাড়ার আকাশচুম্বী মূল্যের লাগাম টেনে ধরতে পারবে না।

ইসতিয়াক আহমেদ আগস্ট ১৩, ২০২৬ ১৪:০
মেট্রো আটলান্টায় আবাসনের সীমিত সরবরাহ এবং নতুন বাড়ি নির্মাণের ধীরগতি মানুষের স্থানান্তরে বাধা দিচ্ছে। ছবি: সংগৃহীত
আটলান্টায় বাড়ির ভয়াবহ সংকট, দামও চড়া, কমছে নতুন মানুষের আগমন

যুক্তরাষ্ট্রের দ্রুত বর্ধনশীল মেট্রো এলাকাগুলোর অন্যতম আটলান্টায় জনসংখ্যা এখনও বাড়ছে, তবে সেই বৃদ্ধির গতি কমে এসেছে। আটলান্টা রিজিওনাল কমিশনের সর্বশেষ হিসাবে, গত এক বছরে ১১ কাউন্টির মেট্রো আটলান্টায় প্রায় ৫৩ হাজার ৭০০ নতুন বাসিন্দা যোগ হলেও বাড়ির সীমিত সরবরাহ, চড়া দাম এবং নতুন বাড়ি নির্মাণের ধীরগতি মানুষের স্থানান্তরে বাধা তৈরি করছে।   আটলান্টা রিজিওনাল কমিশনের ২০২৬ সালের পপুলেশন এস্টিমেট অনুযায়ী, ২০২৫ সালের এপ্রিল থেকে ২০২৬ সালের এপ্রিল পর্যন্ত ১১ কাউন্টির আটলান্টা অঞ্চলে ৫৩ হাজার ৬৯০ জন নতুন বাসিন্দা যোগ হয়েছেন। এতে অঞ্চলটির মোট জনসংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে প্রায় ৫৩ লাখ ৩৯ হাজার।   এক বছরে জনসংখ্যা বেড়েছে প্রায় ১ শতাংশ। আগের বছর এই বৃদ্ধির হার ছিল ১ দশমিক ২ শতাংশ এবং তখন নতুন বাসিন্দা যোগ হয়েছিল ৬৪ হাজার ৪০০ জন। অর্থাৎ আটলান্টায় মানুষ আসা বন্ধ হয়নি, কিন্তু আগের বছরের তুলনায় প্রায় ১০ হাজার ৭০০ কম মানুষ যুক্ত হয়েছে।   দীর্ঘমেয়াদি হিসাবেও একই প্রবণতা দেখা যাচ্ছে। ২০২০ থেকে ২০২৬ সাল পর্যন্ত মেট্রো আটলান্টার গড় বার্ষিক জনসংখ্যা বৃদ্ধির হার প্রায় ১ দশমিক ২ শতাংশ। ২০১০-এর দশকে এই হার ছিল ১ দশমিক ৫ শতাংশ, ২০০০ থেকে ২০১০ সালের মধ্যে ২ শতাংশ এবং ১৯৯০-এর দশকে ছিল প্রায় ৩ দশমিক ৩ শতাংশ।   আটলান্টা রিজিওনাল কমিশন জনসংখ্যা বৃদ্ধির গতি কমে যাওয়ার পেছনে আবাসন সংকটকে অন্যতম কারণ হিসেবে চিহ্নিত করেছে। অঞ্চলে বাড়ির চাহিদার তুলনায় সরবরাহ কম থাকায় দাম উঁচু রয়েছে। এর সঙ্গে নতুন বাড়ি নির্মাণের পারমিট কমে যাওয়া এবং চাকরি বৃদ্ধির গতি কিছুটা কমে আসাও প্রভাব ফেলছে।   বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের অন্যান্য এলাকা থেকে আটলান্টায় স্থানান্তর হতে আগ্রহীদের ওপর বাড়ির চড়া দাম প্রভাব ফেলছে। একসময় তুলনামূলক কম খরচে বাড়ি কেনা এবং জীবনযাপনের সুযোগ আটলান্টার অন্যতম আকর্ষণ ছিল। কিন্তু জনসংখ্যা ও আবাসনের চাহিদা বাড়তে থাকায় সেই সুবিধা আগের মতো নেই।   নতুন বাড়ি নির্মাণের তথ্যেও সংকটের চিত্র স্পষ্ট। ২০২৫ সালে ১১ কাউন্টির আটলান্টা অঞ্চলে মোট ২৪ হাজার ১৫টি রেসিডেন্সিয়াল বিল্ডিং পারমিট ইস্যু করা হয়েছে। আগের বছরের তুলনায় এটি ১৮ দশমিক ৫ শতাংশ কম।   বর্তমান নির্মাণের হার দীর্ঘমেয়াদি গড়ের তুলনায়ও অনেক নিচে। ১৯৮০ থেকে ২০২৫ সাল পর্যন্ত এই অঞ্চলে বছরে গড়ে প্রায় ৩৩ হাজার ১৫০টি রেসিডেন্সিয়াল বিল্ডিং পারমিট ইস্যু হয়েছে। অর্থাৎ বর্তমান আবাসন নির্মাণ সেই ঐতিহাসিক গড়ের তুলনায় উল্লেখযোগ্যভাবে পিছিয়ে রয়েছে।   তবে পুরো মেট্রো এলাকার বৃদ্ধির গতি কমলেও সব জায়গায় পরিস্থিতি একই নয়। গত এক বছরে ১১টি কাউন্টির প্রতিটিতেই জনসংখ্যা বেড়েছে। ফুলটন কাউন্টিতে বৃদ্ধির হার ছিল সবচেয়ে বেশি, প্রায় ১ দশমিক ৯ শতাংশ। এরপর ফরসাইথ কাউন্টিতে ১ দশমিক ৫ শতাংশ এবং হেনরি কাউন্টিতে ১ দশমিক ৩ শতাংশ জনসংখ্যা বেড়েছে।   আটলান্টা শহরেও নতুন বাসিন্দা যোগ হওয়া অব্যাহত রয়েছে। গত এক বছরে শহরটিতে প্রায় ৬ হাজার ৯০০ নতুন বাসিন্দা যোগ হয়ে মোট জনসংখ্যা প্রায় ৫ লাখ ৪৯ হাজার ৬০০ জনে পৌঁছেছে।   আটলান্টা রিজিওনাল কমিশনের মতে, মিডটাউন এবং আটলান্টা বেল্টলাইনের আশপাশে মাল্টিফ্যামিলি হাউজিং ডেভেলপমেন্ট শহরের সাম্প্রতিক জনসংখ্যা বৃদ্ধিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে। শহরের কেন্দ্র ও আশপাশে অ্যাপার্টমেন্ট এবং অন্যান্য মাল্টিফ্যামিলি হাউজিং নির্মাণের কারণে আটলান্টা শহরের বৃদ্ধির হার আগের কয়েক দশকের তুলনায় বেশি রয়েছে।   ২০২৫ সালে আটলান্টা শহরেই ৫ হাজার ৬২২টি রেসিডেন্সিয়াল বিল্ডিং পারমিট ইস্যু হয়েছে, যা অঞ্চলটির মধ্যে সর্বোচ্চ। আটলান্টা শহরের বাইরের ফুলটন কাউন্টি এলাকায় ইস্যু হয়েছে আরও ৪ হাজার ৩৮টি পারমিট।   ফুলটন কাউন্টিতে মাল্টিফ্যামিলি হাউজিং নির্মাণের তৎপরতাও বেড়েছে। ২০২৫ সালে কাউন্টিটিতে এ ধরনের আবাসনের জন্য ২ হাজার ২৫৫টি পারমিট ইস্যু হয়। ২০২৪ সালে সংখ্যাটি ছিল ১ হাজার ৩২২। স্যান্ডি স্প্রিংস, জনস ক্রিক, ইউনিয়ন সিটি ও কলেজ পার্কে এর বড় অংশের নির্মাণ কার্যক্রম হয়েছে।   আটলান্টা রিজিওনাল কমিশন বলছে, অঞ্চলটির অর্থনীতি এখনও শক্তিশালী এবং নতুন বাসিন্দা আসছেন। তবে ভবিষ্যতের জনসংখ্যা বৃদ্ধির সঙ্গে তাল মিলিয়ে পর্যাপ্ত ও সাশ্রয়ী বাড়ি তৈরি করতে না পারলে হাউজিং খরচ আরও বড় বাধা হয়ে উঠতে পারে।   এই পরিস্থিতি মোকাবিলায় আটলান্টা রিজিওনাল কমিশন ইতিমধ্যে অঞ্চলব্যাপী একটি হাউজিং স্ট্র্যাটেজি তৈরির কাজ শুরু করেছে। পরিকল্পনাটির লক্ষ্য বিভিন্ন আয়ের মানুষের নাগালের মধ্যে আরও বাড়ি তৈরি, বিদ্যমান অ্যাফোর্ডেবল হাউজিং সংরক্ষণ এবং বাসিন্দাদের চাকরি ও প্রয়োজনীয় সেবার কাছাকাছি থাকার সুযোগ বাড়ানো।   সর্বশেষ জনসংখ্যার হিসাব তাই আটলান্টার জন্য দুই ধরনের বাস্তবতা সামনে আনছে। অঞ্চলটিতে মানুষ ও অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডের বৃদ্ধি অব্যাহত রয়েছে, কিন্তু পর্যাপ্ত বাড়ি তৈরি না হওয়া এবং হাউজিং খরচ বেড়ে যাওয়ায় একসময়কার দ্রুত জনসংখ্যা বৃদ্ধির গতি ধীরে ধীরে কমে আসছে।

তাবাস্সুম আগস্ট ১৩, ২০২৬ ১৪:০
নিউইয়র্ক সিটি কাউন্সিলের আবাসন ও ভূমি ব্যবহার সংক্রান্ত গণশুনানি। ছবি:সংগৃহীত
নিউইয়র্কে আবাসন ও ভূমি ব্যবহার নিয়ে একাধিক গণশুনানি, নজরে সাশ্রয়ী আবাসন

নিউইয়র্ক শহরে আবাসন সংকট মোকাবিলা, সাশ্রয়ী আবাসন বাড়ানো এবং জমির ব্যবহার নিয়ে আগস্ট মাসে একাধিক সভা, গণশুনানি ও নীতিনির্ধারণী কার্যক্রম চলছে। এসব আলোচনায় নতুন আবাসন প্রকল্প, ভূমি ব্যবহারের পরিবর্তন এবং নগরের আবাসন নীতির বিভিন্ন দিক গুরুত্ব পাচ্ছে।   চলতি সপ্তাহে নিউইয়র্কের আবাসন ও ভূমি ব্যবহারসংক্রান্ত বিভিন্ন কার্যক্রমের মধ্যে জনসাধারণের অংশগ্রহণের সুযোগ রাখা হয়েছে। নগরের কোনো এলাকায় নতুন আবাসন বা বড় ধরনের উন্নয়ন প্রকল্প হলে স্থানীয় বাসিন্দাদের মতামত নেওয়া এসব প্রক্রিয়ার গুরুত্বপূর্ণ অংশ।   নিউইয়র্কে ভূমি ব্যবহারের বড় পরিবর্তনের ক্ষেত্রে ইউনিফর্ম ল্যান্ড ইউজ রিভিউ প্রসিডিউর বা ইউলুর্প প্রক্রিয়া গুরুত্বপূর্ণ। এতে স্থানীয় কমিউনিটি বোর্ড, বরো প্রেসিডেন্ট, নগর পরিকল্পনা কমিশন এবং শেষ পর্যন্ত সিটি কাউন্সিলের পর্যালোচনা যুক্ত থাকে।   আবাসন সংকটের কারণে সাশ্রয়ী আবাসন নির্মাণ ও বিদ্যমান আবাসন সংরক্ষণ এখন নগর রাজনীতির অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। মেয়র জোহরান মামদানির প্রশাসনও আবাসন সংকট মোকাবিলাকে অগ্রাধিকার দিয়েছে। একই সময়ে নগরের আবাসন নীতি ও ভূমি ব্যবহারের সিদ্ধান্ত নিয়ে বিভিন্ন মহলে আলোচনা ও বিতর্ক চলছে।   বিশেষ করে নতুন আবাসন প্রকল্পের ক্ষেত্রে স্থানীয় বাসিন্দাদের উদ্বেগ, ভবনের ঘনত্ব, অবকাঠামোর সক্ষমতা, পরিবহন ব্যবস্থা এবং সাশ্রয়ী ইউনিটের সংখ্যা—এসব বিষয় গণশুনানিতে গুরুত্ব পেতে পারে।   নিউইয়র্কের বাংলাদেশি ও দক্ষিণ এশীয় অভিবাসী কমিউনিটির জন্যও বিষয়টি গুরুত্বপূর্ণ। কারণ ভাড়া, নতুন আবাসন নির্মাণ, ভবনের ব্যবহার পরিবর্তন এবং স্থানীয় উন্নয়ন পরিকল্পনার সিদ্ধান্ত সরাসরি অনেক পরিবারের জীবনযাত্রার ব্যয়ের ওপর প্রভাব ফেলতে পারে।   নগর প্রশাসনের সিদ্ধান্ত গ্রহণে জনসাধারণের অংশগ্রহণ নিশ্চিত করার জন্য এসব শুনানি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। ফলে আগামী দিনগুলোতে আবাসন ও ভূমি ব্যবহারের সিদ্ধান্তগুলো নিউইয়র্কের স্থানীয় রাজনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ আলোচনার বিষয় হয়ে থাকবে। 

Unknown আগস্ট ১০, ২০২৬ ১৪:০
ক্যালিফোর্নিয়া থেকে অ্যারিজোনায় মানুষের স্থানান্তর সাম্প্রতিক বছরগুলোতে উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। ছবি: সংগৃহীত
ক্যালিফোর্নিয়া ছাড়ার হিড়িক, কেন অ্যারিজোনার দিকে ছুটছেন হাজারো পরিবার?

ক্যালিফোর্নিয়া থেকে অ্যারিজোনায় মানুষের স্থানান্তর সাম্প্রতিক বছরগুলোতে যুক্তরাষ্ট্রের অন্যতম আলোচিত অভ্যন্তরীণ অভিবাসন প্রবণতায় পরিণত হয়েছে। উচ্চ আবাসন ব্যয়, তুলনামূলক বেশি রাজ্য আয়কর এবং নতুন কর্মসংস্থানের সুযোগের কারণে প্রতি বছর বিপুলসংখ্যক পরিবার ক্যালিফোর্নিয়া ছেড়ে অ্যারিজোনায় বসতি গড়ছে।   যুক্তরাষ্ট্রের আদমশুমারি ব্যুরোর জনসংখ্যা ও অভ্যন্তরীণ স্থানান্তরের তথ্যেও দুই রাজ্যের বিপরীত চিত্র দেখা যাচ্ছে। একদিকে ক্যালিফোর্নিয়া জনসংখ্যা হারাচ্ছে, অন্যদিকে অ্যারিজোনা দ্রুত জনসংখ্যা বাড়ানো রাজ্যগুলোর একটি হয়ে উঠছে।   ক্যালিফোর্নিয়া থেকে অ্যারিজোনায় যাওয়ার ক্ষেত্রে মূলত তিনটি বিষয় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে। এগুলো হলো রাজ্য আয়কর, বাড়ির দাম এবং কর্মসংস্থানের সুযোগ।   প্রথম কারণ, আয়করের বড় পার্থক্য   ক্যালিফোর্নিয়ায় ব্যক্তিগত আয়কর আয়ের স্তর অনুযায়ী ১ শতাংশ থেকে ১২ দশমিক ৩ শতাংশ পর্যন্ত। এর পাশাপাশি ১০ লাখ ডলারের বেশি করযোগ্য আয়ের ওপর অতিরিক্ত ১ শতাংশ কর রয়েছে। ফলে সর্বোচ্চ ব্যক্তিগত রাজ্য আয়করের হার দাঁড়ায় ১৩ দশমিক ৩ শতাংশ। অন্যদিকে, অ্যারিজোনায় ২০২৩ সাল থেকে ব্যক্তিগত আয়করের সমতল হার ২ দশমিক ৫ শতাংশ। ফলে উচ্চ আয়ের মানুষের জন্য দুই রাজ্যের আয়করের ব্যবধান বেশ বড়।   তবে শুধু আয়কর দিয়েই একজন মানুষের মোট করের বোঝা নির্ধারিত হয় না। বাড়ির দাম, সম্পত্তি কর, বিক্রয় কর, বাড়ির বীমা, বিদ্যুৎ ও অন্যান্য জীবনযাত্রার ব্যয়ও হিসাব করতে হয়। তারপরও ক্যালিফোর্নিয়ার তুলনায় কম রাজ্য আয়কর অ্যারিজোনাকে অনেক পরিবারের কাছে আকর্ষণীয় করে তুলেছে।   দ্বিতীয় কারণ, তুলনামূলক কম দামে বাড়ি কেনার সুযোগ   ক্যালিফোর্নিয়া থেকে অ্যারিজোনায় যাওয়ার অন্যতম প্রধান কারণ আবাসন ব্যয়। বিশেষ করে লস অ্যাঞ্জেলেস, সান ডিয়েগো, অরেঞ্জ কাউন্টি ও সান ফ্রান্সিসকো বে এলাকার মতো ব্যয়বহুল অঞ্চলের তুলনায় অ্যারিজোনার অনেক এলাকায় একই বাজেটে বড় বাড়ি কেনা সম্ভব। রিয়েল এস্টেট কোম্পানি রেডফিনের তথ্য অনুযায়ী, ক্যালিফোর্নিয়ার বড় শহর ও মহানগর এলাকাগুলোতে বাড়ির দাম দীর্ঘদিন ধরেই জাতীয় গড়ের তুলনায় অনেক বেশি। বিপরীতে ফিনিক্স ও টুসনের মতো অ্যারিজোনার বড় শহরগুলোতে তুলনামূলক কম দামে বাড়ি কেনার সুযোগ রয়েছে।   তবে দুই রাজ্যের বাড়ির দাম সরাসরি তুলনা করার সময় শহর ও এলাকার পার্থক্য বিবেচনায় নিতে হয়। ক্যালিফোর্নিয়ার সব এলাকার বাড়ির দাম যেমন সমান নয়, তেমনি অ্যারিজোনার সব এলাকাও সস্তা নয়। তারপরও ক্যালিফোর্নিয়ার উচ্চ আবাসন ব্যয় বহু পরিবারকে অন্য রাজ্যে যাওয়ার কথা ভাবতে বাধ্য করছে। অ্যারিজোনায় তুলনামূলক কম দামে বাড়ি কেনার পাশাপাশি অনেক পরিবার কম মাসিক ঋণের কিস্তির সুবিধাও পাচ্ছে।   তৃতীয় কারণ, প্রযুক্তি ও শিল্প খাতে নতুন কর্মসংস্থান   অ্যারিজোনার আকর্ষণ শুধু কম আবাসন ব্যয় বা কম করের মধ্যে সীমাবদ্ধ নেই। রাজ্যটি দ্রুত যুক্তরাষ্ট্রের গুরুত্বপূর্ণ প্রযুক্তি ও অর্ধপরিবাহী শিল্পকেন্দ্র হিসেবে গড়ে উঠছে। তাইওয়ানের অর্ধপরিবাহী নির্মাতা প্রতিষ্ঠান টিএসএমসি অ্যারিজোনার ফিনিক্স এলাকায় বড় ধরনের বিনিয়োগ করছে। কোম্পানিটি সেখানে তিনটি কারখানা নির্মাণের জন্য ৬৫ বিলিয়ন ডলারের বেশি বিনিয়োগের পরিকল্পনা ঘোষণা করেছে।   এর মধ্যে প্রথম কারখানায় ৪ ন্যানোমিটার প্রযুক্তিতে বাণিজ্যিক উৎপাদন শুরু হয়েছে। পরবর্তী কারখানাগুলো চালু হলে অ্যারিজোনায় উন্নত প্রযুক্তির অর্ধপরিবাহী উৎপাদন আরও বাড়বে বলে আশা করা হচ্ছে। অন্যদিকে, প্রযুক্তি জায়ান্ট ইন্টেলও অ্যারিজোনার চ্যান্ডলারে প্রায় ২০ বিলিয়ন ডলার বিনিয়োগ করে দুটি নতুন অর্ধপরিবাহী কারখানা নির্মাণের প্রকল্প নিয়েছে।   এসব বিনিয়োগের ফলে শুধু কারখানায় সরাসরি চাকরি নয়, প্রকৌশল, নির্মাণ, সরবরাহ ব্যবস্থা, পরিবহন, প্রযুক্তি ও অন্যান্য সহযোগী খাতেও কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরি হচ্ছে।   ক্যালিফোর্নিয়া ছাড়ার প্রবণতা অবশ্য নতুন নয়   ক্যালিফোর্নিয়া থেকে অন্য রাজ্যে মানুষের চলে যাওয়ার প্রবণতা কয়েক বছর ধরেই দেখা যাচ্ছে। উচ্চ আবাসন ব্যয়, জীবনযাত্রার খরচ, কর এবং কিছু ক্ষেত্রে কর্মসংস্থানের অবস্থান পরিবর্তন এর পেছনে ভূমিকা রাখছে। অন্যদিকে অ্যারিজোনা, টেক্সাস, নেভাদা ও ফ্লোরিডার মতো রাজ্যগুলো তুলনামূলক কম জীবনযাত্রার ব্যয় এবং ব্যবসাবান্ধব পরিবেশের কারণে নতুন বাসিন্দাদের আকর্ষণ করছে।   তবে অ্যারিজোনায় মানুষের সংখ্যা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে সেখানেও আবাসনের চাহিদা ও দাম বাড়ছে। পানি, পরিবহন, বিদ্যালয়, স্বাস্থ্যসেবা ও অন্যান্য অবকাঠামোর ওপরও বাড়তি চাপ তৈরি হচ্ছে। ফলে ক্যালিফোর্নিয়া থেকে অ্যারিজোনায় যাওয়ার সিদ্ধান্তকে শুধু কম কর বা কম বাড়ির দামের হিসাব দিয়ে ব্যাখ্যা করা যায় না। পরিবারের আয়, চাকরির ধরন, দূর থেকে কাজের সুযোগ, সন্তানদের শিক্ষা, জীবনযাত্রার ব্যয় এবং ভবিষ্যৎ আর্থিক পরিকল্পনাও এই সিদ্ধান্তে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে।   তারপরও সাম্প্রতিক বছরগুলোর অভ্যন্তরীণ জনসংখ্যা স্থানান্তরের চিত্রে ক্যালিফোর্নিয়া থেকে অ্যারিজোনার দিকে মানুষের আগমন একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রবণতা হিসেবে উঠে এসেছে। ক্যালিফোর্নিয়ার উচ্চ আবাসন ব্যয় ও করের চাপের বিপরীতে অ্যারিজোনার তুলনামূলক কম রাজ্য আয়কর, আবাসনের সুযোগ এবং প্রযুক্তি খাতে নতুন বিনিয়োগ অনেক পরিবারের কাছে নতুন করে বসতি গড়ার সম্ভাবনা তৈরি করছে।

মোহাম্মদ ইব্রাহিম আগস্ট ৯, ২০২৬ ১৪:০
জনপ্রিয় সংবাদ
বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনার পর তরুণীর মৃত্যু, এক বছরের সাজায় ক্যালিফোর্নিয়ার আইন পরিবর্তনের দাবি

যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন।   মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়।   তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।”   ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে।   প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন।   ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন।   প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল।   মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি।   রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।

যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডে বড় পরিবর্তন, পরিবারভিত্তিক ভিসা আবেদনকারীদের জন্য সুখবর

যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর আগস্ট ২০২৬ সালের ভিসা বুলেটিন প্রকাশ করেছে। নতুন এই আপডেটে পরিবারভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি দেখা গেছে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের স্থায়ী বাসিন্দাদের স্বামী, স্ত্রী ও সন্তানদের জন্য নির্ধারিত এফ২এ ক্যাটাগরিতে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এসেছে।   নতুন ভিসা বুলেটিন অনুযায়ী, পরিবারভিত্তিক কয়েকটি ক্যাটাগরিতে অপেক্ষার সময় কমার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এর মধ্যে এফ২এ ক্যাটাগরির অগ্রগতি সবচেয়ে বেশি, যেখানে যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডধারীদের স্বামী-স্ত্রী ও অবিবাহিত সন্তানদের আবেদন অন্তর্ভুক্ত থাকে।   এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের অবিবাহিত প্রাপ্তবয়স্ক সন্তানদের জন্য এফ১ ক্যাটাগরি এবং অন্যান্য পরিবারভিত্তিক ক্যাটাগরিতেও কিছু অগ্রগতি দেখা গেছে। তবে আবেদনকারীদের ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার তারিখ বা প্রায়োরিটি ডেট অনুযায়ীই পরবর্তী ধাপ নির্ধারণ হবে।   ভিসা বুলেটিনে বলা হয়েছে, পরিবারভিত্তিক অভিবাসন ভিসার সংখ্যা প্রতিবছর নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে দেওয়া হয়। তাই কোনো ক্যাটাগরিতে চাহিদা বেশি হলে অপেক্ষার সময় বাড়তে পারে এবং কম হলে তারিখ এগিয়ে আসতে পারে।   অন্যদিকে কর্মসংস্থানভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য পরিস্থিতি তুলনামূলক কঠিন রয়েছে। বিশেষ করে কিছু এমপ্লয়মেন্ট-বেসড ক্যাটাগরিতে দীর্ঘ অপেক্ষা ও সীমিত ভিসা সংখ্যার কারণে আবেদনকারীদের অনিশ্চয়তা অব্যাহত রয়েছে।   যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ী বসবাসের জন্য আবেদনকারীদের কাছে ভিসা বুলেটিন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এই তালিকার মাধ্যমে জানা যায়, কোন আবেদনকারীরা গ্রিন কার্ডের পরবর্তী ধাপে এগিয়ে যেতে পারবেন এবং কারা এখনও অপেক্ষার তালিকায় থাকবেন।   বিশেষজ্ঞদের মতে, নতুন এই পরিবর্তন অনেক পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীর জন্য আশার খবর হলেও, প্রতিটি আবেদনকারীর পরিস্থিতি নির্ভর করবে তাদের আবেদন জমার তারিখ, দেশভিত্তিক সীমা এবং ভিসা ক্যাটাগরির ওপর।   যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ব্যবস্থায় দীর্ঘদিন ধরে গ্রিন কার্ডের অপেক্ষার তালিকা বড় একটি বিষয় হয়ে আছে। নতুন ভিসা বুলেটিনে পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীদের জন্য অগ্রগতি দেখা গেলেও, সব আবেদনকারী একইভাবে সুবিধা পাবেন না।

মার্কিন ভিসা আপডেট ২০২৬! বাংলাদেশিদের জন্য কোন ভিসা বন্ধ, কোনটা চালু?

২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো।   প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে।   এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে।   অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে।   স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে।   সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে।   সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।

যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশি মালিকানাধীন বিশ্ববিদ্যালয়ের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধন

যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে।   এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন।   নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি।   উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।”   বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে।   এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে।   শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়।   উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন।   বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত।   এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।

পাঁচ সন্তানকে এতিম করে মাকে কুপিয়ে হত্যা, গ্রেপ্তারের সময়ও হাসছিল ঘাতক দুই বোন

যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে এক মর্মান্তিক ও লোমহর্ষক ঘটনার জন্ম দিয়েছে দুই তরুণী বোন। দিনদুপুরে ক্যারোলিন ‘কারো’ পেনা নামের ৩২ বছর বয়সী এক নারীকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগে তাদের গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। নিহত নারী পাঁচ সন্তানের জননী ছিলেন। তবে সবচেয়ে শিউরে ওঠার মতো বিষয় হলো, গ্রেপ্তারের সময় অভিযুক্তদের চেহারায় অনুশোচনার সামান্যতম ছাপ তো ছিলই না, উল্টো তাদের মুখে পৈশাচিক হাসি দেখা গেছে। মেক্সিকো সীমান্তের কাছের শহর দেল রিও থেকে বৃহস্পতিবার বিকেলে পুলিশ তাদের হাতকড়া পরিয়ে নিয়ে যাওয়ার সময় এই দৃশ্য ক্যামেরায় ধরা পড়ে।   আরও পড়ুন... ‘ফোনটা ধরতে পারলে হয়তো তাকে বাঁচাতে পারতাম’- টেক্সাসে পাঁচ সন্তানের মাকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা, দুই বোনসহ তিনজন গ্রেপ্তার   পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নিহত ক্যারোলিনকে বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় দুপুর ২টার পরপরই গুরুতর জখম অবস্থায় ভাল ভার্দে রিজিওনাল মেডিকেল সেন্টারে নেওয়া হয়। তার শরীরে একাধিক ছুরিকাঘাতের চিহ্ন ছিল। ঘটনাস্থলের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, একটি সনিক ড্রাইভ-থ্রু রেস্তোরাঁর বাইরে রক্তাক্ত অবস্থায় ক্যারোলিন তার তিন হামলাকারীর মুখোমুখি দাঁড়িয়ে আছেন।   পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য সান আন্তোনিওর একটি হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছায় এবং প্রায় ৩৫ হাজার বাসিন্দার শহর দেল রিওতে অভিযান চালিয়ে হামলাকারীদের শনাক্ত করে।   সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া গ্রেপ্তারের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, ২১ বছর বয়সী কিটি মিয়া দিয়াজ খালি পায়ে হেঁটে যাওয়ার সময় পুলিশের গাড়িতে ওঠার আগে মৃদু হাসছেন। কিটি নিজেও এক শিশুপুত্রের মা। অন্যদিকে, তার ১৯ বছর বয়সী ছোট বোন আমায়া কুকি দিয়াজ ক্যামেরার দিকে তাকিয়ে নির্লজ্জভাবে দাঁত বের করে হাসতে থাকেন।   ▶️ টেক্সাসে নিজের মাকে নির্মমভাবে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুই মেয়ে |   এমনকি ভিডিও ধারণকারীকে ব্যঙ্গাত্মক সুরে ‘রেকর্ড করা বন্ধ করো’ বলেও চিৎকার করতে শোনা যায় তাকে। দেল রিও পুলিশ জানিয়েছে, এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ২১ বছর বয়সী কায়ান্দ্রা রেনি ফাজ নামের তৃতীয় আরেক নারীকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে ঠিক কী কারণে এই নারকীয় হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে, সে বিষয়ে পুলিশ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি।

Top week

ইমার্জেন্সি স্নো শভলার পদে ঘণ্টায় ৩০ ডলার পারিশ্রমিক পাবেন কর্মীরা

নিউইয়র্কে তুষার সরানোর কাজে ঘণ্টায় ৩০ ডলার, আজ রেজিস্ট্রেশন

অক্টোবর ১৬, ২০২৬ ১৪:০