সাপ্তাহিক আমেরিকা বাংলা ই-পেপার
আমেরিকা

নিউইয়র্কে আবাসন ও ভূমি ব্যবহার নিয়ে একাধিক গণশুনানি, নজরে সাশ্রয়ী আবাসন

নিউ ইয়র্ক প্রতিনিধি প্রকাশ: আগস্ট ১০, ২০২৬ ১৯:৩
নিউইয়র্ক সিটি কাউন্সিলের আবাসন ও ভূমি ব্যবহার সংক্রান্ত গণশুনানি। ছবি:সংগৃহীত
নিউইয়র্ক সিটি কাউন্সিলের আবাসন ও ভূমি ব্যবহার সংক্রান্ত গণশুনানি। ছবি:সংগৃহীত

নিউইয়র্ক শহরে আবাসন সংকট মোকাবিলা, সাশ্রয়ী আবাসন বাড়ানো এবং জমির ব্যবহার নিয়ে আগস্ট মাসে একাধিক সভা, গণশুনানি ও নীতিনির্ধারণী কার্যক্রম চলছে। এসব আলোচনায় নতুন আবাসন প্রকল্প, ভূমি ব্যবহারের পরিবর্তন এবং নগরের আবাসন নীতির বিভিন্ন দিক গুরুত্ব পাচ্ছে।

 

চলতি সপ্তাহে নিউইয়র্কের আবাসন ও ভূমি ব্যবহারসংক্রান্ত বিভিন্ন কার্যক্রমের মধ্যে জনসাধারণের অংশগ্রহণের সুযোগ রাখা হয়েছে। নগরের কোনো এলাকায় নতুন আবাসন বা বড় ধরনের উন্নয়ন প্রকল্প হলে স্থানীয় বাসিন্দাদের মতামত নেওয়া এসব প্রক্রিয়ার গুরুত্বপূর্ণ অংশ।

 

নিউইয়র্কে ভূমি ব্যবহারের বড় পরিবর্তনের ক্ষেত্রে ইউনিফর্ম ল্যান্ড ইউজ রিভিউ প্রসিডিউর বা ইউলুর্প প্রক্রিয়া গুরুত্বপূর্ণ। এতে স্থানীয় কমিউনিটি বোর্ড, বরো প্রেসিডেন্ট, নগর পরিকল্পনা কমিশন এবং শেষ পর্যন্ত সিটি কাউন্সিলের পর্যালোচনা যুক্ত থাকে।

 

আবাসন সংকটের কারণে সাশ্রয়ী আবাসন নির্মাণ ও বিদ্যমান আবাসন সংরক্ষণ এখন নগর রাজনীতির অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। মেয়র জোহরান মামদানির প্রশাসনও আবাসন সংকট মোকাবিলাকে অগ্রাধিকার দিয়েছে। একই সময়ে নগরের আবাসন নীতি ও ভূমি ব্যবহারের সিদ্ধান্ত নিয়ে বিভিন্ন মহলে আলোচনা ও বিতর্ক চলছে।

 

বিশেষ করে নতুন আবাসন প্রকল্পের ক্ষেত্রে স্থানীয় বাসিন্দাদের উদ্বেগ, ভবনের ঘনত্ব, অবকাঠামোর সক্ষমতা, পরিবহন ব্যবস্থা এবং সাশ্রয়ী ইউনিটের সংখ্যা—এসব বিষয় গণশুনানিতে গুরুত্ব পেতে পারে।

 

নিউইয়র্কের বাংলাদেশি ও দক্ষিণ এশীয় অভিবাসী কমিউনিটির জন্যও বিষয়টি গুরুত্বপূর্ণ। কারণ ভাড়া, নতুন আবাসন নির্মাণ, ভবনের ব্যবহার পরিবর্তন এবং স্থানীয় উন্নয়ন পরিকল্পনার সিদ্ধান্ত সরাসরি অনেক পরিবারের জীবনযাত্রার ব্যয়ের ওপর প্রভাব ফেলতে পারে।

 

নগর প্রশাসনের সিদ্ধান্ত গ্রহণে জনসাধারণের অংশগ্রহণ নিশ্চিত করার জন্য এসব শুনানি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। ফলে আগামী দিনগুলোতে আবাসন ও ভূমি ব্যবহারের সিদ্ধান্তগুলো নিউইয়র্কের স্থানীয় রাজনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ আলোচনার বিষয় হয়ে থাকবে। 


© America Bangla | All Rights Reserved. আমেরিকা বাংলার পূর্বানুমতি ছাড়া এই প্রতিবেদনের লেখা, ছবি, গ্রাফিক্স বা অন্যান্য মৌলিক কনটেন্ট সম্পূর্ণ বা আংশিকভাবে কপি বা পুনঃপ্রকাশ করা নিষিদ্ধ। অনুমোদিত ব্যবহারের ক্ষেত্রে আমেরিকা বাংলা কে স্পষ্টভাবে সোর্স হিসেবে উল্লেখ করতে হবে।

জনপ্রিয় সংবাদ
বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনার পর তরুণীর মৃত্যু, এক বছরের সাজায় ক্যালিফোর্নিয়ার আইন পরিবর্তনের দাবি

যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন।   মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়।   তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।”   ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে।   প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন।   ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন।   প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল।   মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি।   রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।

যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডে বড় পরিবর্তন, পরিবারভিত্তিক ভিসা আবেদনকারীদের জন্য সুখবর

যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর আগস্ট ২০২৬ সালের ভিসা বুলেটিন প্রকাশ করেছে। নতুন এই আপডেটে পরিবারভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি দেখা গেছে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের স্থায়ী বাসিন্দাদের স্বামী, স্ত্রী ও সন্তানদের জন্য নির্ধারিত এফ২এ ক্যাটাগরিতে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এসেছে।   নতুন ভিসা বুলেটিন অনুযায়ী, পরিবারভিত্তিক কয়েকটি ক্যাটাগরিতে অপেক্ষার সময় কমার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এর মধ্যে এফ২এ ক্যাটাগরির অগ্রগতি সবচেয়ে বেশি, যেখানে যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডধারীদের স্বামী-স্ত্রী ও অবিবাহিত সন্তানদের আবেদন অন্তর্ভুক্ত থাকে।   এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের অবিবাহিত প্রাপ্তবয়স্ক সন্তানদের জন্য এফ১ ক্যাটাগরি এবং অন্যান্য পরিবারভিত্তিক ক্যাটাগরিতেও কিছু অগ্রগতি দেখা গেছে। তবে আবেদনকারীদের ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার তারিখ বা প্রায়োরিটি ডেট অনুযায়ীই পরবর্তী ধাপ নির্ধারণ হবে।   ভিসা বুলেটিনে বলা হয়েছে, পরিবারভিত্তিক অভিবাসন ভিসার সংখ্যা প্রতিবছর নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে দেওয়া হয়। তাই কোনো ক্যাটাগরিতে চাহিদা বেশি হলে অপেক্ষার সময় বাড়তে পারে এবং কম হলে তারিখ এগিয়ে আসতে পারে।   অন্যদিকে কর্মসংস্থানভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য পরিস্থিতি তুলনামূলক কঠিন রয়েছে। বিশেষ করে কিছু এমপ্লয়মেন্ট-বেসড ক্যাটাগরিতে দীর্ঘ অপেক্ষা ও সীমিত ভিসা সংখ্যার কারণে আবেদনকারীদের অনিশ্চয়তা অব্যাহত রয়েছে।   যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ী বসবাসের জন্য আবেদনকারীদের কাছে ভিসা বুলেটিন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এই তালিকার মাধ্যমে জানা যায়, কোন আবেদনকারীরা গ্রিন কার্ডের পরবর্তী ধাপে এগিয়ে যেতে পারবেন এবং কারা এখনও অপেক্ষার তালিকায় থাকবেন।   বিশেষজ্ঞদের মতে, নতুন এই পরিবর্তন অনেক পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীর জন্য আশার খবর হলেও, প্রতিটি আবেদনকারীর পরিস্থিতি নির্ভর করবে তাদের আবেদন জমার তারিখ, দেশভিত্তিক সীমা এবং ভিসা ক্যাটাগরির ওপর।   যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ব্যবস্থায় দীর্ঘদিন ধরে গ্রিন কার্ডের অপেক্ষার তালিকা বড় একটি বিষয় হয়ে আছে। নতুন ভিসা বুলেটিনে পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীদের জন্য অগ্রগতি দেখা গেলেও, সব আবেদনকারী একইভাবে সুবিধা পাবেন না।

মার্কিন ভিসা আপডেট ২০২৬! বাংলাদেশিদের জন্য কোন ভিসা বন্ধ, কোনটা চালু?

২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো।   প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে।   এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে।   অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে।   স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে।   সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে।   সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।

যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশি মালিকানাধীন বিশ্ববিদ্যালয়ের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধন

যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে।   এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন।   নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি।   উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।”   বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে।   এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে।   শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়।   উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন।   বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত।   এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।

পাঁচ সন্তানকে এতিম করে মাকে কুপিয়ে হত্যা, গ্রেপ্তারের সময়ও হাসছিল ঘাতক দুই বোন

যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে এক মর্মান্তিক ও লোমহর্ষক ঘটনার জন্ম দিয়েছে দুই তরুণী বোন। দিনদুপুরে ক্যারোলিন ‘কারো’ পেনা নামের ৩২ বছর বয়সী এক নারীকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগে তাদের গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। নিহত নারী পাঁচ সন্তানের জননী ছিলেন। তবে সবচেয়ে শিউরে ওঠার মতো বিষয় হলো, গ্রেপ্তারের সময় অভিযুক্তদের চেহারায় অনুশোচনার সামান্যতম ছাপ তো ছিলই না, উল্টো তাদের মুখে পৈশাচিক হাসি দেখা গেছে। মেক্সিকো সীমান্তের কাছের শহর দেল রিও থেকে বৃহস্পতিবার বিকেলে পুলিশ তাদের হাতকড়া পরিয়ে নিয়ে যাওয়ার সময় এই দৃশ্য ক্যামেরায় ধরা পড়ে।   আরও পড়ুন... ‘ফোনটা ধরতে পারলে হয়তো তাকে বাঁচাতে পারতাম’- টেক্সাসে পাঁচ সন্তানের মাকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা, দুই বোনসহ তিনজন গ্রেপ্তার   পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নিহত ক্যারোলিনকে বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় দুপুর ২টার পরপরই গুরুতর জখম অবস্থায় ভাল ভার্দে রিজিওনাল মেডিকেল সেন্টারে নেওয়া হয়। তার শরীরে একাধিক ছুরিকাঘাতের চিহ্ন ছিল। ঘটনাস্থলের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, একটি সনিক ড্রাইভ-থ্রু রেস্তোরাঁর বাইরে রক্তাক্ত অবস্থায় ক্যারোলিন তার তিন হামলাকারীর মুখোমুখি দাঁড়িয়ে আছেন।   পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য সান আন্তোনিওর একটি হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছায় এবং প্রায় ৩৫ হাজার বাসিন্দার শহর দেল রিওতে অভিযান চালিয়ে হামলাকারীদের শনাক্ত করে।   সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া গ্রেপ্তারের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, ২১ বছর বয়সী কিটি মিয়া দিয়াজ খালি পায়ে হেঁটে যাওয়ার সময় পুলিশের গাড়িতে ওঠার আগে মৃদু হাসছেন। কিটি নিজেও এক শিশুপুত্রের মা। অন্যদিকে, তার ১৯ বছর বয়সী ছোট বোন আমায়া কুকি দিয়াজ ক্যামেরার দিকে তাকিয়ে নির্লজ্জভাবে দাঁত বের করে হাসতে থাকেন।   ▶️ টেক্সাসে নিজের মাকে নির্মমভাবে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুই মেয়ে |   এমনকি ভিডিও ধারণকারীকে ব্যঙ্গাত্মক সুরে ‘রেকর্ড করা বন্ধ করো’ বলেও চিৎকার করতে শোনা যায় তাকে। দেল রিও পুলিশ জানিয়েছে, এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ২১ বছর বয়সী কায়ান্দ্রা রেনি ফাজ নামের তৃতীয় আরেক নারীকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে ঠিক কী কারণে এই নারকীয় হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে, সে বিষয়ে পুলিশ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি।

আমেরিকা

View more
নিউইয়র্কে চাকরি খুঁজছেন? সারাবছর নিয়োগ হয়, জেনে নিন এমন ১০ পেশা
নিউইয়র্কে চাকরি খুঁজছেন? সারাবছর নিয়োগ হয়, জেনে নিন এমন ১০ পেশা

নিউইয়র্ক সিটিতে চাকরি খুঁজতে গেলে স্বাস্থ্যসেবা, পরিবহন, প্রযুক্তি ও সরকারি সেবার মতো বড় খাতগুলো নিয়মি ত নজরে রাখা যায়। তবে এসব খাতে বছরের প্রতিটি সময় নিয়োগ চলে বা আবেদন করলেই কাজ মেলে, এমন দাবি সরকারি তথ্য সমর্থন করে না। সিটির কম্পট্রোলারের সাম্প্রতিক বিশ্লেষণে স্বাস্থ্যসেবার বাইরে নতুন চাকরি তৈরির গতি কম থাকার কথা বলা হয়েছে। তাই কোন পেশায় সুযোগ আছে, তার পাশাপাশি এখন কোন পদে আবেদন নেওয়া হচ্ছে, সেটিও দেখতে হবে।    প্রথমত, রেজিস্টার্ড নার্স। নিউইয়র্ক অঙ্গরাজ্যের সরকারি চাকরির তালিকায় কুইন্স ও ম্যানহাটনের প্রতিষ্ঠানে নার্স পদের বিজ্ঞপ্তি পাওয়া যাচ্ছে। দ্বিতীয়ত, সার্টিফায়েড নার্সিং অ্যাসিস্ট্যান্ট। তৃতীয়ত, ক্লিনিক্যাল মেডিকেল অ্যাসিস্ট্যান্ট। শেষের দুটি পেশার প্রশিক্ষণ নিউইয়র্ক সিটির সীমিতসংখ্যক ইনডিভিজুয়াল ট্রেনিং গ্রান্টের যোগ্য কোর্সের তালিকায় রয়েছে। চিকিৎসাসংক্রান্ত এসব কাজের জন্য পদভেদে আলাদা লাইসেন্স, সনদ বা অন্যান্য যোগ্যতা প্রয়োজন হতে পারে।    চতুর্থত, বাসচালক এবং পঞ্চমত, ট্রাক বা বাণিজ্যিক যানবাহনের চালক। সিটির প্রশিক্ষণ নির্দেশিকায় এসব পেশার জন্য কোর্স রয়েছে। তবে প্রশিক্ষণের তালিকায় কোনো পেশার নাম থাকা মানেই এমটিএ বা অন্য প্রতিষ্ঠানে এই মুহূর্তে নির্দিষ্টসংখ্যক পদ খালি আছে, তা নয়। মূল লেখায় উল্লেখ করা এমটিএর ২ হাজার ৮৬৮টি শূন্যপদের সংখ্যাটি নির্ভরযোগ্য সরকারি তথ্যে নিশ্চিত করা যায়নি।    ষষ্ঠত, কম্পিউটার সাপোর্ট স্পেশালিস্ট এবং সপ্তমত, নেটওয়ার্ক বা কম্পিউটার সিস্টেমস অ্যানালিস্ট। এই পেশাগুলোও সিটির প্রশিক্ষণ নির্দেশিকায় রয়েছে। অষ্টমত, আনআর্মড সিকিউরিটি গার্ডের প্রশিক্ষণও একই তালিকায় আছে। আবেদনকারীর আগের দক্ষতা, প্রয়োজনীয় সার্টিফিকেট এবং নিয়োগদাতার শর্ত অনুযায়ী সুযোগ বদলায়।   নবমত, নির্মাণ ও ভবন রক্ষণাবেক্ষণের কাজ। নিউইয়র্ক সিটির চাকরির পোর্টালে ভবন পরিচালনা ও রক্ষণাবেক্ষণ, প্রকৌশল এবং স্থাপনা পরিকল্পনার আলাদা বিভাগ রয়েছে। দশমত, সিটি সরকারের সামাজিক সেবা, প্রশাসন ও গ্রাহকসেবার পদ। এসব পদের কিছুতে সিভিল সার্ভিস পরীক্ষা লাগে; কিছু ক্ষেত্রে নিয়োগের পর পরীক্ষায় অংশ নেওয়ার শর্তও থাকতে পারে। প্রতিটি বিজ্ঞপ্তির ন্যূনতম যোগ্যতা তাই আলাদা করে পড়তে হবে।    প্রশিক্ষণ কর্মসূচির তালিকাকে সবচেয়ে বেশি নিয়োগ হওয়া চাকরির তালিকা ধরে নেওয়া ঠিক হবে না। একইভাবে একটি প্রতিষ্ঠানের কয়েকটি বিজ্ঞপ্তি থেকে পুরো খাতে সারা বছর নিয়োগ চলে বলে সিদ্ধান্ত দেওয়া যায় না। চাকরিপ্রার্থীদের জন্য সবচেয়ে কার্যকর উপায় হলো পছন্দের পেশা বেছে নিয়ে সিটি, অঙ্গরাজ্য ও সংশ্লিষ্ট নিয়োগদাতার বর্তমান বিজ্ঞপ্তিতে যোগ্যতা, কাজের স্থান এবং আবেদনের শেষ তারিখ মিলিয়ে দেখা।

আমেরিকা বাংলা ডেস্ক প্রকাশ: সেপ্টেম্বর ২৫, ২০২৬ ৯:৪৩
নিউ ইয়র্কে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকে ‘ভাইয়া’ সম্বোধনে বিএনপি নেতাকর্মীদের আকুতি

নিউ ইয়র্কে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকে ‘ভাইয়া’ সম্বোধনে বিএনপি নেতাকর্মীদের আকুতি

অভিজ্ঞতা কম থাকলেও নিউইয়র্কে চাকরি খোঁজার কয়েকটি সরকারি সুযোগ রয়েছে

অভিজ্ঞতা ছাড়াও নিউ ইয়র্কে চাকরি খোঁজার সাতটি পথ, জেনে নিন

কার্ড পেতে সাজানো বিয়ের মামলায় দোষ স্বীকার করেছেন আন্তোনিয়া মিরচা

নিউ জার্সিতে গ্রিন কার্ড পেতে সাজানো বিয়ে, আদালতে দোষ স্বীকার রোমানীয় নারীর

নিউইয়র্কে তুলনামূলক কম ভাড়ায় বাসা খুঁজছেন নতুন অভিবাসীরা
নিউইয়র্কে বাসা খুঁজছেন? বাংলাদেশিদের কাজে আসবে এই ৫ সাইট ও জরুরি কিছু নিয়ম

নিউইয়র্কে নতুন এসেছেন, পরিবার নিয়ে বাসা বদলাতে চান কিংবা একটু কম ভাড়ায় ভালো অ্যাপার্টমেন্ট খুঁজছেন—বাংলাদেশিদের জন্য শুরুতেই বাসা পাওয়া অনেক সময় কঠিন হয়ে দাঁড়ায়। কোন ওয়েবসাইটে নতুন বাসার বিজ্ঞাপন আসে, ব্রোকার ফি কে দেবে, কত টাকা সিকিউরিটি ডিপোজিট নেওয়া যাবে কিংবা অনলাইনে দেওয়া বিজ্ঞাপনটি আসল কি না—এসব জানা না থাকলে ঝামেলা আরও বাড়তে পারে। নিউইয়র্কে বাসা খোঁজার জন্য কয়েকটি পরিচিত রেন্টাল ওয়েবসাইট রয়েছে। পাশাপাশি কম ও মাঝারি আয়ের পরিবারগুলোর জন্য এনওয়াইসি হাউজিং কানেক্ট খুব গুরুত্বপূর্ণ। বিশেষ করে নতুন অভিবাসীদের জন্য গুরুত্বপূর্ণ তথ্য হলো, নাগরিকত্ব বা ইমিগ্রেশন স্ট্যাটাস নিজে থেকে হাউজিং কানেক্টে আবেদন করার বাধা নয়। তবে প্রতিটি বাসার জন্য আয়, পরিবারের সদস্যসংখ্যা ও অন্যান্য যোগ্যতার শর্ত আলাদা। ১. স্ট্রিটইজি নিউইয়র্কে বাসা খোঁজার সবচেয়ে পরিচিত ওয়েবসাইটগুলোর একটি স্ট্রিটইজি। এখানে কোন বরো বা এলাকায় বাসা চান, কত ভাড়া দিতে পারবেন, কয়টি বেডরুম বা বাথরুম দরকার, পোষা প্রাণী আছে কি না—এসব অনুযায়ী সহজেই খোঁজ করা যায়। ২৫ সেপ্টেম্বর স্ট্রিটইজির সার্চে নিউইয়র্ক সিটিতে ১৬ হাজারের বেশি রেন্টাল লিস্টিং দেখা যাচ্ছিল। তবে এই সংখ্যা প্রতিদিনই বদলাতে পারে। পছন্দের এলাকার সার্চ সেভ করে রাখলে নতুন বাসার বিজ্ঞাপন দ্রুত দেখা যায়। ২. জিলো জিলো শুধু নিউইয়র্ক নয়, পুরো যুক্তরাষ্ট্রে বাসা ভাড়া ও কেনার জন্য ব্যবহৃত বড় একটি প্ল্যাটফর্ম। নিজের বাজেট ও পছন্দের এলাকা দিয়ে সহজেই বাসা খুঁজে দেখা যায়। কুইন্স, ব্রুকলিন, ব্রঙ্কসের পাশাপাশি নিউইয়র্কের আশপাশের এলাকাও দেখতে চাইলে জিলোর ম্যাপ ফিচার বেশ কাজে আসতে পারে। এতে একাধিক এলাকার ভাড়া পাশাপাশি তুলনা করা সহজ হয়। ৩. অ্যাপার্টমেন্টস ডটকম অ্যাপার্টমেন্টস ডটকম-এও নিউইয়র্কের অনেক রেন্টাল লিস্টিং পাওয়া যায়। এখানে বাসার ছবি, ভাড়া, বেডরুম, সুযোগ-সুবিধা এবং কিছু ক্ষেত্রে ভার্চুয়াল ট্যুরও দেখা যায়। কোনো বাসা পছন্দ হলে শুধু একটি ওয়েবসাইটের ওপর নির্ভর না করে একই ঠিকানা অন্য সাইটেও খুঁজে দেখা ভালো। এতে ভাড়া, এজেন্টের তথ্য এবং বাসার বিজ্ঞাপন মিলিয়ে দেখা যায়। ৪. হটপ্যাডস হটপ্যাডসও বাসা ভাড়ার একটি পরিচিত প্ল্যাটফর্ম। তবে এটি জিলো গ্রুপের অংশ। তাই জিলো গ্রুপের অন্য ওয়েবসাইটে দেখা কিছু বিজ্ঞাপন এখানেও পাওয়া যেতে পারে। ৫. ট্রুলিয়া ট্রুলিয়াতেও নিউইয়র্কের বিভিন্ন এলাকার ভাড়া বাসা খুঁজে পাওয়া যায়। এটিও জিলো গ্রুপের প্ল্যাটফর্ম। ফলে জিলো, হটপ্যাডস বা অন্য প্ল্যাটফর্মে থাকা কিছু একই বিজ্ঞাপন এখানে আবার দেখা যেতে পারে। তাই পাঁচটি ওয়েবসাইটে খুঁজলেই পাঁচ রকম আলাদা বাসার বাজার পাওয়া যাবে—এমন নয়। একই অ্যাপার্টমেন্ট একাধিক সাইটে দেখলে ঠিকানা, ভাড়া, এজেন্টের নাম এবং অতিরিক্ত ফি মিলিয়ে দেখুন। কম ভাড়ার বাসার জন্য হাউজিং কানেক্ট সাধারণ রেন্টাল ওয়েবসাইটের পাশাপাশি এনওয়াইসি হাউজিং কানেক্ট দেখা বিশেষভাবে গুরুত্বপূর্ণ। এটি নিউইয়র্ক সিটি সরকারের অফিসিয়াল পোর্টাল। এখানে পাঁচ বরোতে কম ভাড়ার অ্যাপার্টমেন্ট এবং কিছু বাড়ি কেনার সুযোগে আবেদন করা যায়। তবে হাউজিং লটারিতে আবেদন করলেই বাসা পাওয়া নিশ্চিত নয়। প্রতিটি আবাসনের জন্য পরিবারের মোট আয় ও সদস্যসংখ্যার আলাদা শর্ত থাকে। যোগ্যদের মধ্য থেকে বাছাই করা হয় এবং অনেক সময় কয়েক মাস অপেক্ষা করতে হতে পারে। নিউইয়র্ক সিটির তথ্য অনুযায়ী, নাগরিকত্ব বা ইমিগ্রেশন স্ট্যাটাসের কারণে কেউ নিজে থেকেই হাউজিং কানেক্টের লটারি বা রি-রেন্টালে আবেদন থেকে বাদ পড়েন না। তবে নির্বাচিত হলে আয়, সম্পদ, পরিবারের সদস্যসংখ্যা এবং অন্যান্য যোগ্যতার কাগজপত্র দেখাতে হতে পারে। নতুন অভিবাসীদের জন্য আইডিএনওয়াইসি নিউইয়র্ক স্টেটের ড্রাইভার লাইসেন্স না থাকলে আইডিএনওয়াইসি পরিচয়পত্র হিসেবে কাজে লাগতে পারে। নিউইয়র্ক সিটির তথ্য অনুযায়ী, ১০ বছর বা তার বেশি বয়সী সিটির বাসিন্দারা ইমিগ্রেশন স্ট্যাটাস নির্বিশেষে আইডিএনওয়াইসির জন্য আবেদন করতে পারেন। কিছু ক্ষেত্রে এটি হাউজিং-সংক্রান্ত কাজেও পরিচয়পত্র হিসেবে ব্যবহার করা যেতে পারে। ব্রোকার ফি নিয়ে গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তন নিউইয়র্কে বাসা নেওয়ার সময় বড় অঙ্কের ব্রোকার ফি দিতে হবে—এমন ধারণা অনেকের মধ্যে রয়েছে। কিন্তু নিয়মে পরিবর্তন এসেছে। ফেয়ারনেস ইন অ্যাপার্টমেন্ট রেন্টাল এক্সপেন্সেস বা ফেয়ার অ্যাক্ট ১১ জুন ২০২৫ থেকে কার্যকর হয়েছে। এই আইনের অধীনে বাড়িওয়ালা যে ব্রোকার বা লিস্টিং এজেন্ট নিয়োগ করেছেন, তার ফি ভাড়াটিয়ার ওপর চাপানো যাবে না। বাড়িওয়ালা বা তার এজেন্টকে ভাড়াটিয়ার কাছ থেকে নেওয়া অন্যান্য ফিও আগে জানাতে হয়। তবে ভাড়াটিয়া নিজে যদি নিজের প্রয়োজনের জন্য আলাদা ব্রোকার নিয়োগ করেন, তাহলে সেই ব্রোকারের ফি তাকে দিতে হতে পারে। তাই টাকা দেওয়ার আগে জেনে নিন—ব্রোকারকে নিয়োগ করেছেন কে। আইনবহির্ভূত ব্রোকার ফি দাবি করা হলে নিউইয়র্ক সিটির সংশ্লিষ্ট ভোক্তা সুরক্ষা দপ্তরে অভিযোগ করা যায় বা ৩১১-এ যোগাযোগ করা যায়। সিকিউরিটি ডিপোজিট কত? নিউইয়র্ক স্টেট অ্যাটর্নি জেনারেলের নির্দেশনা অনুযায়ী, সাধারণভাবে বাড়িওয়ালা এক মাসের ভাড়ার বেশি সিকিউরিটি ডিপোজিট নিতে পারেন না। তাই কেউ যদি দুই বা তিন মাসের ভাড়ার সমান বড় ডিপোজিট দাবি করেন, টাকা দেওয়ার আগে নিয়মটি যাচাই করে নিন। অ্যাপ্লিকেশন ফি কত? লিজ সই করার আগে ক্রেডিট বা ব্যাকগ্রাউন্ড চেকের জন্য বাড়িওয়ালা সর্বোচ্চ ২০ ডলার নিতে পারেন। এ ক্ষেত্রে রিপোর্ট ও সংশ্লিষ্ট ইনভয়েসের কপি আবেদনকারীকে দিতে হয়। গত ৩০ দিনের মধ্যে করা গ্রহণযোগ্য ক্রেডিট বা ব্যাকগ্রাউন্ড চেক থাকলে সেটি ব্যবহার করার সুযোগও থাকতে পারে। এতে একই পরীক্ষার জন্য আবার টাকা দিতে নাও হতে পারে। টাকা দেওয়ার আগে অবশ্যই যাচাই করুন ফেসবুক, হোয়াটসঅ্যাপ, কমিউনিটি গ্রুপ বা পরিচিতদের মাধ্যমে নিউইয়র্কে বাসার বিজ্ঞাপন পাওয়া খুবই স্বাভাবিক। সেখান থেকেও ভালো বাসা পাওয়া যেতে পারে। তবে পরিচিত কেউ বিজ্ঞাপন দিয়েছে বলেই যাচাই না করে টাকা পাঠানো ঠিক নয়। কেউ যদি বলেন, ‘অনেক মানুষ বাসাটি নিতে চাইছে, এখনই ডিপোজিট পাঠান’—তাহলে তাড়াহুড়ো না করাই ভালো। প্রথমে বাসার সঠিক ঠিকানা নিন। সম্ভব হলে নিজে গিয়ে বাসাটি দেখে আসুন। বাড়িওয়ালা বা এজেন্টের পরিচয় যাচাই করুন। একই ঠিকানা অন্য কোথাও অন্য নাম বা অন্য ভাড়ায় দেওয়া হয়েছে কি না, সেটিও দেখুন। লিজ না পড়ে এবং টাকা কার কাছে যাচ্ছে তা নিশ্চিত না হয়ে নগদ টাকা, ওয়্যার ট্রান্সফার বা অন্য কোনো মাধ্যমে বড় অঙ্কের টাকা পাঠাবেন না। বিশেষ করে নতুন অভিবাসীদের জন্য ইংরেজি লিজের সব শর্ত বুঝে নেওয়া খুব জরুরি। কোনো বিষয় পরিষ্কার না হলে পরিচিত কাউকে দিয়ে পড়ে নিন বা প্রয়োজন হলে পেশাদার সহায়তা নিন। আয় কম হলে সহায়তাও পাওয়া যায় হাউজিং কানেক্টের আবেদন বুঝতে সমস্যা হলে নিউইয়র্ক সিটির হাউজিং অ্যাম্বাসেডরস কর্মসূচির মাধ্যমে বিভিন্ন অলাভজনক প্রতিষ্ঠানের সহায়তা পাওয়া যায়। এ ছাড়া রেডি টু রেন্ট কর্মসূচির মাধ্যমে বিনামূল্যে আর্থিক কাউন্সেলিং এবং হাউজিং আবেদন প্রস্তুত করার সহায়তাও পাওয়া যেতে পারে। বাসা হারানোর ঝুঁকিতে থাকা বা গুরুতর আবাসন সমস্যায় থাকা যোগ্য ব্যক্তি ও পরিবারের জন্য আরও কিছু রেন্টাল সহায়তা ও হোমলেসনেস প্রিভেনশন কর্মসূচি রয়েছে। বাসা খোঁজার সহজ কৌশল প্রথমে ঠিক করুন, প্রতি মাসে সর্বোচ্চ কত ভাড়া দিতে পারবেন। এরপর কাজ, স্কুল, মসজিদ, গ্রোসারি, সাবওয়ে বা পরিবারের কাছে যাতায়াতের জন্য কোন এলাকা সুবিধাজনক হবে, সেটি ঠিক করুন। তারপর স্ট্রিটইজি, জিলো ও অন্যান্য প্ল্যাটফর্মে সেই বাজেট ও এলাকার ভিত্তিতে সার্চ সেভ করে রাখুন। নতুন লিস্টিং এলে দ্রুত যোগাযোগ করুন। একই সঙ্গে হাউজিং কানেক্টে প্রোফাইল তৈরি করে আপনার আয় ও পরিবারের সদস্যসংখ্যার সঙ্গে মেলে এমন লটারিতে আবেদন করতে থাকুন। কোনো বাসা পছন্দ হলে শুধু মাসিক ভাড়া দেখলেই হবে না। মোট কত টাকা দিতে হবে, অতিরিক্ত কোনো মাসিক ফি আছে কি না, ইউটিলিটি কে দেবে, লিজ কত দিনের এবং বাসাটি রেন্ট-স্ট্যাবিলাইজড কি না—এসবও আগে জেনে নিন। নিউইয়র্কে ভালো বাসা খুঁজে পাওয়া সময়সাপেক্ষ হতে পারে। তবে নিয়মিত খোঁজ করা, সরকারি সুযোগ কাজে লাগানো এবং টাকা দেওয়ার আগে সবকিছু যাচাই করা গেলে অনেক ঝুঁকি ও অপ্রয়োজনীয় খরচ এড়ানো সম্ভব। সূত্র: নিউইয়র্ক সিটি হাউজিং প্রিজারভেশন অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট, এনওয়াইসি ৩১১, ডিপার্টমেন্ট অব কনজিউমার অ্যান্ড ওয়ার্কার প্রোটেকশন, নিউইয়র্ক স্টেট অ্যাটর্নি জেনারেল, আইডিএনওয়াইসি, স্ট্রিটইজি  

আমেরিকা বাংলা ডেস্ক প্রকাশ: সেপ্টেম্বর ২৫, ২০২৬ ৭:৫৩
আদালতে পোশাক নিয়ে বিচারকের আপত্তির কথা জানিয়েছেন আইনজীবী মারিয়া মেডিনা

হাতাকাটা পোশাকেই আদালতে বিপত্তি, আইনজীবীকে ব্লেজার পরতে বললেন বিচারক

উচ্চ সুদের চাপে যুক্তরাষ্ট্রে কমেছে নতুন বাড়ি নির্মাণের গতি

আমেরিকায় বাসার সংকট কাটেনি, উচ্চ সুদের মধ্যে কমছে নতুন নির্মাণ

ইরান যুদ্ধ নিয়ে সিনেটে ট্রাম্পের ক্ষমতা সীমিত করার প্রস্তাবে ভোট চলছে

ইরান যুদ্ধে ট্রাম্পের ক্ষমতা সীমিতের পক্ষে ৪ রিপাবলিকান, এক ভোটে ব্যর্থ প্রস্তাব

যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা আবেদনের ফি থেকে নির্দিষ্ট ৭ ক্যাটাগরির আবেদনকারীদের ছাড় দেওয়া হয়েছে।
যুক্তরাষ্ট্রের ভিসায় আবেদন ফি নেই ৭ ক্যাটাগরির, কারা পাবেন এই সুবিধা

যুক্তরাষ্ট্রে ননইমিগ্র্যান্ট ভিসার আবেদন করার সময় নির্দিষ্ট কিছু আবেদনকারীকে প্রসেসিং ফি দিতে হয় না। মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তরের সরকারি তথ্য অনুযায়ী, মোট ৭ ধরনের আবেদনকারী এই ফি-মওকুফের আওতায় পড়তে পারেন। তবে এই সুবিধা সব ভিসা আবেদনকারীর জন্য প্রযোজ্য নয় এবং নিজে থেকেই কার্যকরও হয় না।   প্রথমত, A, G, C-2, C-3, NATO ও কূটনৈতিক ভিসার জন্য আবেদনকারীদের ননইমিগ্র্যান্ট ভিসা আবেদন প্রসেসিং ফি দিতে হয় না। এসব ভিসা মূলত কূটনীতিক, সরকারি কর্মকর্তা, আন্তর্জাতিক সংস্থা ও ন্যাটোর সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের নির্দিষ্ট সরকারি কাজে ভ্রমণের ক্ষেত্রে ব্যবহৃত হয়।   দ্বিতীয়ত, J ভিসায় যুক্তরাষ্ট্র সরকারের অর্থায়নে পরিচালিত নির্দিষ্ট শিক্ষামূলক ও সাংস্কৃতিক এক্সচেঞ্জ প্রোগ্রামে অংশ নেওয়া আবেদনকারীদের আবেদন ফি মওকুফ করা হয়। সরকারি তথ্য অনুযায়ী, এই ছাড় নির্দিষ্ট সরকারি অর্থায়ন ও প্রোগ্রাম সিরিয়াল নম্বরের সঙ্গে যুক্ত।   তৃতীয় ক্যাটাগরিতে রয়েছেন এমন আবেদনকারীরা, যাদের মেশিন-রিডেবল ভিসা নতুন করে প্রতিস্থাপন বা পুনরায় ইস্যু করতে হচ্ছে আবেদনকারীর কোনো ভুল ছাড়াই। যেমন, আগের ভিসাটি সঠিকভাবে পাসপোর্টে সংযুক্ত না হলে নির্দিষ্ট শর্তে নতুন ভিসা ইস্যুর জন্য আবেদন ফি নেওয়া হয় না।   চতুর্থত, আন্তর্জাতিক চুক্তির আওতায় ফি থেকে অব্যাহতি পাওয়া ব্যক্তিরা এই সুবিধা পেতে পারেন। এর মধ্যে জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদ স্বীকৃত জাতিসংঘ সদর দপ্তরের কোনো পর্যবেক্ষক মিশনের সদস্য ও কর্মী এবং তাদের নিকট পরিবারের সদস্যরাও অন্তর্ভুক্ত হতে পারেন। বিষয়টি ভিসা সার্ভিসেসের নির্ধারণের ওপর নির্ভর করে।   পঞ্চম ক্যাটাগরিতে রয়েছেন দাতব্য বা মানবিক সেবা দিতে যুক্তরাষ্ট্রে ভ্রমণকারী ব্যক্তিরা, তবে তাদের ক্ষেত্রে ফি ছাড় প্রযোজ্য হবে কি না, তা ভিসা সার্ভিসেস নির্ধারণ করে।   ষষ্ঠত, যুক্তরাষ্ট্র সরকারের কর্মীরা সরকারি দায়িত্বে বিদেশ থেকে যুক্তরাষ্ট্রে ভ্রমণ করলে তাদের ননইমিগ্র্যান্ট ভিসা আবেদন প্রসেসিং ফি দিতে হয় না।   সপ্তম ক্যাটাগরিতে রয়েছেন কর্তব্যরত অবস্থায় নি হত বা গুরুতর আহ ত মার্কিন সরকারি কর্মীর নিকট পরিবারের সদস্যরা। কর্মস্থলে মৃ ত্যুবরণ করা সরকারি কর্মীর জানাজা বা দাফনে অংশ নিতে যাওয়া বাবা-মা, ভাই-বোন, স্বামী বা স্ত্রী ও সন্তানরা নির্দিষ্ট শর্তে ফি ছাড় পেতে পারেন। একইভাবে দায়িত্ব পালনের সময় গুরুতর আহত সরকারি কর্মীকে জরুরি চিকিৎসা বা সুস্থ হওয়ার সময়ে দেখতে যাওয়া নিকট পরিবারের সদস্যরাও এই ছাড়ের আওতায় পড়তে পারেন।   তবে সাধারণ পর্যটন, ব্যবসা, শিক্ষার্থী বা অধিকাংশ কর্মসংক্রান্ত ভিসার আবেদনকারীদের জন্য এই ফি-মওকুফ প্রযোজ্য নয়। উদাহরণ হিসেবে, মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তরের তথ্য অনুযায়ী সাধারণ নন-পিটিশনভিত্তিক ননইমিগ্র্যান্ট ভিসার আবেদন প্রসেসিং ফি ১৮৫ ডলার; আর কিছু পিটিশনভিত্তিক ভিসায় ফি আরও বেশি।   সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, আবেদন ফি মওকুফ আর ভিসা ইস্যু ফি এক বিষয় নয়। কোনো আবেদনকারী ফি-মওকুফের যোগ্য হলেও তার জাতীয়তা বা ভিসার ধরন অনুযায়ী আলাদা রেসিপ্রোসিটি বা ইস্যুয়েন্স ফি প্রযোজ্য হতে পারে। তাই আবেদন করার আগে নিজের ভিসার ধরন, ভ্রমণের উদ্দেশ্য ও প্রযোজ্য ছাড়ের শর্ত যাচাই করা জরুরি।

আমেরিকা বাংলা ডেস্ক প্রকাশ: সেপ্টেম্বর ২৫, ২০২৬ ৬:১১
সুপার এল নিনোর প্রভাবে বিশ্বজুড়ে তাপ প্রবাহ ও চরম আবহাওয়ার ঝুঁকি বাড়ার আশঙ্কা

সুপার এল নিনোতে বাড়বে তাপপ্রবাহ, বিশ্বজুড়ে ৪ লাখ ৫১ হাজার মৃ ত্যুর আশঙ্কা

বিদ্যুতের বাড়তি চাহিদা মেটাতে যুক্তরাষ্ট্রের পাওয়ার গ্রিড উন্নয়নে বড় বিনিয়োগের উদ্যোগ

বিদ্যুতের চাহিদা বাড়ছে, গ্রিড শক্তিশালী করতে ২০০ কোটি ডলার দিচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র

২০৩২ সালে সোশ্যাল সিকিউরিটি সুবিধা কমে যাওয়ার আশঙ্কা নিয়ে আলোচনা চলছে

সোশ্যাল সিকিউরিটির টাকা ফুরিয়ে আসছে, ট্রাস্ট ফান্ড শেষ হতে পারে ২০৩২ সালে

0 Comments