- প্রচ্ছদ
- Topic
ইউএফও
চিহ্নিত উড়ন্ত বস্তু বা ইউএফও নিয়ে নতুন করে আলোচনার জন্ম দিয়েছেন নাসার সাবেক নভোচারী চার্লস ডিউক। তাঁর দাবি, ইউএফও ভিনগ্রহীদের যান নয়; বরং এগুলো শয়তানের পাঠানো অশুভ সত্তা হতে পারে। নিজের খ্রিষ্টীয় ধর্মবিশ্বাস এবং বাইবেলের একটি বাণীর ভিত্তিতে এমন ধারণা পোষণ করেন চাঁদে হেঁটে আসা এই সাবেক নভোচারী। তবে তাঁর এ বক্তব্য ব্যক্তিগত ধর্মীয় বিশ্বাসের প্রতিফলন, এর পক্ষে কোনো বৈজ্ঞানিক প্রমাণ তিনি উপস্থাপন করেননি। চার্লস ডিউকের বয়স এখন ৯১ বছর। ১৯৭২ সালে অ্যাপোলো ১৬ অভিযানে অংশ নিয়ে চাঁদের বুকে হাঁটেন তিনি। তখন তাঁর বয়স ছিল মাত্র ৩৬ বছর। চাঁদে পা রাখা সবচেয়ে কম বয়সী ব্যক্তিদের একজন হিসেবে পরিচিত ডিউক এখন ইউএফও সম্পর্কে প্রচলিত ধারণার বিপরীতে নিজের ধর্মীয় ব্যাখ্যা সামনে এনেছেন। ডিউকের বক্তব্য অনুযায়ী, ইউএফও নিয়ে তাঁর এই বিশ্বাসের সঙ্গে বাইবেলের একটি অংশের সম্পর্ক রয়েছে। বাইবেলের দ্বিতীয় করিন্থীয় পুস্তকের ১১ অধ্যায়ের ১৪ নম্বর পদে বলা হয়েছে, শয়তানও নিজেকে আলোর দূত হিসেবে ছদ্মবেশ ধারণ করায়। ডিউক মনে করেন, এই বাণী ইউএফও সম্পর্কে তাঁর ধারণার সঙ্গে মিলে যায়। তাঁর বিশ্বাস, মানুষের কাছে অজানা বা রহস্যময় বলে মনে হওয়া এসব ঘটনার পেছনে অশুভ কোনো শক্তি কাজ করতে পারে। তবে ইউএফও সম্পর্কে এমন ব্যাখ্যা বৈজ্ঞানিকভাবে প্রতিষ্ঠিত নয়। আকাশে দেখা কোনো অজ্ঞাত বস্তুকে ইউএফও বলা হয়; এর অর্থ এই নয় যে সেটি ভিনগ্রহের যান বা অতিপ্রাকৃত কোনো সত্তা। পর্যবেক্ষণের তথ্য অপর্যাপ্ত থাকলে কিংবা বস্তুটির পরিচয় নিশ্চিত করা না গেলে সেটিকে অজ্ঞাত উড়ন্ত বস্তু হিসেবে চিহ্নিত করা হয়। তাই ডিউকের ধর্মীয় ব্যাখ্যাকে বৈজ্ঞানিকভাবে প্রমাণিত সিদ্ধান্তের সঙ্গে এক করে দেখার সুযোগ নেই। নিজের অভিজ্ঞতার কথা বলতে গিয়ে ডিউক জানান, মহাকাশ অভিযানের সময় তিনি ব্যক্তিগতভাবে এমন কোনো ঘটনার মুখোমুখি হননি, যাকে ইউএফওর সঙ্গে ঘনিষ্ঠ সাক্ষাৎ বলা যায়। অর্থাৎ চাঁদে যাওয়া বা মহাকাশে থাকার অভিজ্ঞতার ভিত্তিতে তিনি ইউএফও সম্পর্কে এই দাবি করছেন না; বরং তাঁর বক্তব্যের মূল ভিত্তি ধর্মীয় বিশ্বাস। ডিউক আরও জানান, একবার তিনি ঈশ্বরের কাছে কোনো সংকেত চেয়েছিলেন। তাঁর বর্ণনা অনুযায়ী, পরদিনই এক বন্ধু ইউএফও নিয়ে তাঁর সঙ্গে আলোচনা করতে চান। ঘটনাটিকে তিনি নিজের বিশ্বাসের সঙ্গে সম্পর্কিত বলে মনে করেন। তবে এই অভিজ্ঞতা তাঁর ব্যক্তিগত উপলব্ধি; এটি ইউএফওর প্রকৃতি বা উৎস সম্পর্কে স্বাধীনভাবে যাচাই করা কোনো প্রমাণ নয়। ইউএফও নিয়ে ধর্মীয় ব্যাখ্যা শুধু ডিউকের মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়। যুক্তরাষ্ট্রের ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্সও চলতি বছরের মার্চে বেনি জনসনের পডকাস্টে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে বলেন, তিনি ইউএফওকে ভিনগ্রহীদের উপস্থিতির চেয়ে শয়তান বা অশুভ সত্তার সঙ্গে বেশি সম্পর্কিত বলে মনে করেন। তাঁর বক্তব্যও এ বিষয়ে ব্যক্তিগত ধর্মীয় ধারণার প্রতিফলন। এদিকে, ইউএফও-সংক্রান্ত নথি প্রকাশের আলোচনা ঘিরে যুক্তরাষ্ট্রের কংগ্রেস সদস্য আনা পাউলিনা লুনাও আলোচনায় আসেন। ৮ মে ইউএফও-সংক্রান্ত নথি প্রকাশের প্রসঙ্গের সময় তিনি ডানাওয়ালা ‘ওফানিম’ নামের এক স্বর্গীয় সত্তার ছবি প্রকাশ করেন। বাইবেল ও ধর্মীয় ঐতিহ্যে এ ধরনের সত্তার উল্লেখ থাকায় বিষয়টি ইউএফও নিয়ে চলমান ধর্মীয় আলোচনার সঙ্গে যুক্ত হয়। ইউএফও নিয়ে রহস্য, সরকারি নথি প্রকাশ এবং ভিনগ্রহে প্রাণের সম্ভাবনা—এসব বিষয়ে যুক্তরাষ্ট্রে দীর্ঘদিন ধরেই আগ্রহ রয়েছে। তবে অজ্ঞাত কোনো উড়ন্ত বস্তুর পরিচয় নিশ্চিত না হওয়া পর্যন্ত সেটিকে ভিনগ্রহী যান কিংবা শয়তানের পাঠানো সত্তা বলে সিদ্ধান্তে পৌঁছানোর বৈজ্ঞানিক ভিত্তি নেই। চার্লস ডিউকের বক্তব্য তাই ইউএফও নিয়ে চলমান বিতর্কে নতুন একটি ধর্মীয় দৃষ্টিভঙ্গি সামনে এনেছে, যদিও তাঁর দাবির পক্ষে যাচাইযোগ্য প্রমাণ পাওয়া যায়নি।
যুক্তরাষ্ট্রের কলোরাডো অঙ্গরাজ্যের একটি সামরিক ঘাঁটির ওপর প্রায় ১০০ ফুট আকারের কালো ত্রিভুজাকার একটি রহস্যময় উড়ন্ত বস্তুর (ইউএফও বা বর্তমানে ব্যবহৃত পরিভাষায় ইউএপি) দুটি ভিডিও এখনও জনসমক্ষে প্রকাশ করা হয়নি বলে দাবি করেছেন একাধিক হুইসেলব্লোয়ার। তাদের ভাষ্য, ভিডিও দুটি মার্কিন বিমান বাহিনীর গোপন নথির আওতায় থাকায় সেগুলো নিয়ে প্রকাশ্যে আলোচনা বা প্রকাশের অনুমতি নেই। মার্কিন সংবাদমাধ্যম নিউইয়র্ক পোস্টের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ভিডিও দুটি ২০২৩ সালে পরপর দুই রাতে এক সামরিক সদস্য তার ব্যক্তিগত মোবাইল ফোনে ধারণ করেন। হুইসেলব্লোয়ারদের দাবি, ভিডিওতে দেখা যায় একটি বিশাল কালো ত্রিভুজাকার বস্তু পাহাড়ি এলাকার ওপর দিয়ে দ্রুতগতিতে উড়ে যাচ্ছে এবং মেঘের মধ্যে নিজেকে আড়াল করার মতো আচরণ করছে। সূত্রগুলোর দাবি, ভিডিও দুটি বর্তমানে কলোরাডোতে অবস্থিত মার্কিন বিমান বাহিনীর অফিস অব স্পেশাল ইনভেস্টিগেশনস (এএফওএসআই)-এর হেফাজতে রয়েছে। এমনকি সংশ্লিষ্ট নথির ফাইল নম্বরও তারা উল্লেখ করেছেন। তবে এসব তথ্যের স্বাধীন বা সরকারি যাচাই এখনো প্রকাশ্যে আসেনি। সম্প্রতি প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এমন একটি নির্বাহী নির্দেশনা দেন, যার লক্ষ্য ছিল গোপনীয়তা চুক্তির কারণে নীরব থাকা সম্ভাব্য ইউএফও-সংক্রান্ত হুইসেলব্লোয়ারদের আরও সহজে তথ্য দেওয়ার সুযোগ তৈরি করা। কিন্তু হুইসেলব্লোয়ারদের একটি অংশের দাবি, বাস্তবে এতে পরিস্থিতির কোনো উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন হয়নি। মার্কিন বিমান বাহিনীর সাবেক সদস্য ও সাবেক প্রতিরক্ষা ঠিকাদার ডিলান বোরল্যান্ড নিউইয়র্ক পোস্টকে বলেন, "এতে এমন কিছু হয়নি, যা আগে থেকে তথ্য দিতে পারা ব্যক্তিদের জন্য নতুন সুযোগ তৈরি করেছে। বাস্তবে কিছুই বদলায়নি।" বোরল্যান্ড এর আগে কংগ্রেসে সাক্ষ্য দিয়ে দাবি করেছিলেন, তিনি দায়িত্ব পালনকালে একটি নাসা হ্যাঙ্গারের ওপর বিশাল ত্রিভুজাকার একটি উড়ন্ত বস্তু কয়েক মিনিট স্থির অবস্থায় থাকতে দেখেন। তার দাবি, সেটি কোনো শব্দ ছাড়াই পরে অত্যন্ত দ্রুতগতিতে উপরের দিকে উঠে বাণিজ্যিক উড়োজাহাজের উচ্চতায় পৌঁছে যায়। তার অভিযোগ, বিষয়টি আনুষ্ঠানিকভাবে জানানোর পর নিরাপত্তা ছাড়পত্র, কর্মপরিবেশ এবং পেশাগত জীবনে নানা ধরনের প্রতিকূলতার মুখে পড়তে হয়েছে। একই ধরনের অভিযোগ করেছেন সাবেক প্রতিরক্ষা শিল্পের ঠিকাদার ম্যাথিউ ব্রাউন। তিনি ২০২৬ সালে একটি পডকাস্টে দাবি করেন, তিনি অল-ডোমেইন অ্যানোমালি রেজোলিউশন অফিস (এএআরও) এবং ন্যাশনাল ইন্টেলিজেন্সের পরিচালক দপ্তরে (ওডিএনআই) যে তথ্য দিয়েছিলেন, তার মধ্যে কথিত "ইম্যাকুলেট কনস্টেলেশন" নামে একটি গোপন কর্মসূচির উল্লেখ ছিল। তার দাবি, ওই কর্মসূচির মাধ্যমে অজ্ঞাত উড়ন্ত বস্তুর তথ্য সংগ্রহ, বিশ্লেষণ এবং উদ্ধার কার্যক্রম পরিচালিত হতো। ব্রাউনের ভাষ্য, ট্রাম্পের নতুন নির্দেশনা হুইসেলব্লোয়ারদের প্রকাশ্যে কথা বলার ক্ষেত্রে নতুন কোনো বাস্তব সুযোগ তৈরি করেনি। বরং তিনি অভিযোগ করেন, যথাযথ প্রক্রিয়া অনুসরণ করেও পরে ব্যক্তিগত ও পেশাগতভাবে নানা ধরনের ক্ষতির শিকার হতে হয়েছে। তবে সাবেক মার্কিন বিমান বাহিনীর গোয়েন্দা কর্মকর্তা ও আলোচিত ইউএফও হুইসেলব্লোয়ার ডেভিড গ্রাশ ট্রাম্পের উদ্যোগকে ইতিবাচক হিসেবে দেখছেন। তিনি বলেন, এই পদক্ষেপের ফলে যারা এতদিন গোপনীয়তা চুক্তির কারণে কংগ্রেস বা প্রশাসনের কাছে তথ্য দিতে পারেননি, তারা সাহস পেতে পারেন। গ্রাশ আরও বলেন, তিনি নিজেই প্রথম দিকের ব্যক্তিদের একজন, যিনি অভিযোগ করেছিলেন যে কিছু ইউএপি-সংক্রান্ত পুরোনো কর্মসূচি যথাযথ তদারকির বাইরে গোপন রাখা হয়েছে। এ কারণে তাকে ব্যক্তিগত ও পেশাগতভাবে বড় মূল্য দিতে হয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রে অজ্ঞাত উড়ন্ত বস্তু নিয়ে বিতর্ক নতুন নয়। গত কয়েক বছরে কংগ্রেসে একাধিক শুনানি হয়েছে এবং প্রতিরক্ষা দপ্তরও বিভিন্ন ঘটনার তদন্ত করেছে। তবে এখন পর্যন্ত ভিনগ্রহের প্রাণ বা মহাকাশযানের উপস্থিতির পক্ষে কোনো চূড়ান্ত সরকারি প্রমাণ প্রকাশ করা হয়নি। একইভাবে কলোরাডোর কথিত ত্রিভুজাকার উড়ন্ত বস্তুর ভিডিও সম্পর্কেও মার্কিন বিমান বাহিনী আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো মন্তব্য বা ভিডিও প্রকাশ করেনি। ফলে হুইসেলব্লোয়ারদের দাবি ও সরকারি অবস্থানের মধ্যে ব্যবধান থাকায় বিষয়টি নিয়ে বিতর্ক এখনও অব্যাহত রয়েছে।
যুক্তরাষ্ট্রের উত্তর-পূর্বাঞ্চলে আকাশে রহস্যময় আলোক গোলকের (অজানা উড়ন্ত বস্তু) পুনরাবৃত্ত উপস্থিতির একটি নির্দিষ্ট স্থান শনাক্ত করেছেন দেশটির কর্মকর্তারা। দীর্ঘদিনের অমীমাংসিত ইউএফও রহস্যের ব্যাখ্যার কাছাকাছি পৌঁছানোর পথে এটি গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি হিসেবে দেখা হচ্ছে। মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, স্থানীয় এক বাসিন্দার তথ্যের ভিত্তিতে এবং পরে এফবিআইয়ের তদন্তের মাধ্যমে একটি নির্জন জলাশয়ের কাছে এই ঘটনাস্থল চিহ্নিত করা হয়। তবে নিরাপত্তাজনিত কারণে এর সুনির্দিষ্ট অবস্থান প্রকাশ করা হয়নি। প্রকাশিত নথি অনুযায়ী, ২০২১ সাল থেকে ওই এলাকায় বিভিন্ন সময়ে এসব আলোক গোলক দেখা গেছে। একাধিক ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, উজ্জ্বল আলো আকাশে ভেসে থাকা অবস্থায় আকার পরিবর্তন করছে, কখনও একাধিক আলোতে বিভক্ত হচ্ছে, আবার কখনও রঙ পরিবর্তন করছে। একটি ২০২১ সালের ভিডিওতে একটি উজ্জ্বল আলোকবিন্দু ধীরে ধীরে দুই থেকে তিনটি আলোক গোলকে বিভক্ত হতে দেখা যায়। ২০২২ ও ২০২৪ সালের ভিডিওতেও লাল ও সাদা আভাযুক্ত আলোর ভিন্ন আচরণ ধরা পড়ে। এফবিআই জানিয়েছে, ২০২৪ সালের অক্টোবরে তথ্যদাতা ব্যক্তি বিষয়টি জানালে তারা ঘটনাস্থলে গিয়ে সরাসরি কিছু অস্বাভাবিক আলো পর্যবেক্ষণ করেন। তদন্ত প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, একাধিকবার তারা গাছের মাথার কাছাকাছি আলো জ্বলে উঠতে ও হঠাৎ মিলিয়ে যেতে দেখেন। তদন্তে আরও উল্লেখ করা হয়েছে, কিছু আলোর নড়াচড়া অনিয়মিত ও দ্রুত ছিল এবং কিছু ক্ষেত্রে বৈদ্যুতিক যন্ত্র ও জিপিএস সিগন্যালেও অস্বাভাবিক পরিবর্তন লক্ষ্য করা যায় বলে দাবি করা হয়েছে। তবে কর্তৃপক্ষ এখনো এসব আলোর প্রকৃতি নিশ্চিত করতে পারেনি এবং এর উৎস সম্পর্কে কোনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্তে পৌঁছায়নি। প্রাথমিকভাবে ড্রোন বা মানবসৃষ্ট প্রযুক্তির সম্ভাবনাও পরীক্ষা করে তা যথাযথ মনে হয়নি বলে নথিতে উল্লেখ রয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের গোয়েন্দা সংস্থাগুলো বলছে, একই ধরনের আলোক ঘটনা পশ্চিমাঞ্চলসহ বিভিন্ন স্থানে আগে একাধিকবার দেখা গেছে, তবে নির্দিষ্ট এই স্থানটি গুরুত্বপূর্ণ কারণ এখানে পুনরাবৃত্ত ও ধারাবাহিক পর্যবেক্ষণ সম্ভব হচ্ছে। নতুন করে প্রকাশিত নথিগুলো ট্রাম্প প্রশাসনের নির্দেশে গোপন নথি প্রকাশ প্রক্রিয়ার অংশ হিসেবে সামনে এসেছে বলে জানা গেছে। যদিও এ বিষয়ে প্রশাসনের পক্ষ থেকে কোনো আনুষ্ঠানিক মন্তব্য পাওয়া যায়নি।' বিশ্লেষকদের মতে, ঘটনাটি এখনো রহস্যাবৃত থাকলেও এটি ভবিষ্যতে অজানা আকাশীয় ঘটনা নিয়ে বৈজ্ঞানিক গবেষণাকে আরও বিস্তৃত করতে পারে।
যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন। মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়। তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।” ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে। প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন। ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন। প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল। মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি। রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।
যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর আগস্ট ২০২৬ সালের ভিসা বুলেটিন প্রকাশ করেছে। নতুন এই আপডেটে পরিবারভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি দেখা গেছে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের স্থায়ী বাসিন্দাদের স্বামী, স্ত্রী ও সন্তানদের জন্য নির্ধারিত এফ২এ ক্যাটাগরিতে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এসেছে। নতুন ভিসা বুলেটিন অনুযায়ী, পরিবারভিত্তিক কয়েকটি ক্যাটাগরিতে অপেক্ষার সময় কমার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এর মধ্যে এফ২এ ক্যাটাগরির অগ্রগতি সবচেয়ে বেশি, যেখানে যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডধারীদের স্বামী-স্ত্রী ও অবিবাহিত সন্তানদের আবেদন অন্তর্ভুক্ত থাকে। এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের অবিবাহিত প্রাপ্তবয়স্ক সন্তানদের জন্য এফ১ ক্যাটাগরি এবং অন্যান্য পরিবারভিত্তিক ক্যাটাগরিতেও কিছু অগ্রগতি দেখা গেছে। তবে আবেদনকারীদের ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার তারিখ বা প্রায়োরিটি ডেট অনুযায়ীই পরবর্তী ধাপ নির্ধারণ হবে। ভিসা বুলেটিনে বলা হয়েছে, পরিবারভিত্তিক অভিবাসন ভিসার সংখ্যা প্রতিবছর নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে দেওয়া হয়। তাই কোনো ক্যাটাগরিতে চাহিদা বেশি হলে অপেক্ষার সময় বাড়তে পারে এবং কম হলে তারিখ এগিয়ে আসতে পারে। অন্যদিকে কর্মসংস্থানভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য পরিস্থিতি তুলনামূলক কঠিন রয়েছে। বিশেষ করে কিছু এমপ্লয়মেন্ট-বেসড ক্যাটাগরিতে দীর্ঘ অপেক্ষা ও সীমিত ভিসা সংখ্যার কারণে আবেদনকারীদের অনিশ্চয়তা অব্যাহত রয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ী বসবাসের জন্য আবেদনকারীদের কাছে ভিসা বুলেটিন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এই তালিকার মাধ্যমে জানা যায়, কোন আবেদনকারীরা গ্রিন কার্ডের পরবর্তী ধাপে এগিয়ে যেতে পারবেন এবং কারা এখনও অপেক্ষার তালিকায় থাকবেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, নতুন এই পরিবর্তন অনেক পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীর জন্য আশার খবর হলেও, প্রতিটি আবেদনকারীর পরিস্থিতি নির্ভর করবে তাদের আবেদন জমার তারিখ, দেশভিত্তিক সীমা এবং ভিসা ক্যাটাগরির ওপর। যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ব্যবস্থায় দীর্ঘদিন ধরে গ্রিন কার্ডের অপেক্ষার তালিকা বড় একটি বিষয় হয়ে আছে। নতুন ভিসা বুলেটিনে পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীদের জন্য অগ্রগতি দেখা গেলেও, সব আবেদনকারী একইভাবে সুবিধা পাবেন না।
২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো। প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে। এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে। অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে। স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে। সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে। সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।
যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে। এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন। নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি। উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।” বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে। এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে। শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়। উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত। এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।
যুক্তরাষ্ট্রের ফ্লোরিডা অঙ্গরাজ্যে প্রাণীর সঙ্গে যৌন কর্মকাণ্ডের ছবি বা ভিডিও ধারণ, বিতরণ ও সংরক্ষণের অভিযোগে গ্রেপ্তার হয়েছেন বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত রায়ান আবদুল বাতেন। তিনি বাংলাদেশের বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বুয়েট) তড়িৎ ও ইলেকট্রনিক প্রকৌশল বিভাগের সাবেক শিক্ষার্থী এবং যুক্তরাষ্ট্রের ইউনিভার্সিটি অব সাউথ ফ্লোরিডার সহকারী অধ্যাপক। হিলসবরো কাউন্টি শেরিফের কার্যালয়ের সরকারি ওয়েবসাইটে প্রকাশিত গ্রেপ্তারসংক্রান্ত তথ্য অনুযায়ী, গত ২৮ অক্টোবর ২০২৬ তারিখে তাঁকে গ্রেপ্তার করা হয়। প্রকাশিত রেকর্ডে তাঁর বিরুদ্ধে ‘Film, Distribute, or Possess Image or Video of Sexual Activity with an Animal’ শীর্ষক অভিযোগ উল্লেখ করা হয়েছে। অর্থাৎ, প্রাণীর সঙ্গে যৌন কর্মকাণ্ডের ছবি বা ভিডিও ধারণ, বিতরণ কিংবা নিজের কাছে রাখার অভিযোগে তাঁকে গ্রেপ্তার দেখানো হয়েছে। গ্রেপ্তারসংক্রান্ত সরকারি রেকর্ড প্রকাশের পর বিষয়টি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে। বিশেষ করে বুয়েটের সাবেক শিক্ষার্থী এবং যুক্তরাষ্ট্রের একটি বিশ্ববিদ্যালয়ের সহকারী অধ্যাপক হিসেবে তাঁর পরিচয়ের কারণে ঘটনাটি নিয়ে প্রবাসী বাংলাদেশিদের মধ্যেও আলোচনা তৈরি হয়েছে। এদিকে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রাণীটির পরিচয় সম্পর্কে বিভিন্ন দাবি ছড়িয়ে পড়লেও হিলসবরো কাউন্টি শেরিফের কার্যালয়ের প্রকাশিত গ্রেপ্তারসংক্রান্ত তথ্যে নির্দিষ্ট কোনো প্রাণীর নাম উল্লেখ করা হয়নি। ফলে ছাগলের সঙ্গে যৌন কর্মকাণ্ডের যে দাবি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে করা হচ্ছে, তা স্বাধীনভাবে নিশ্চিত হওয়া যায়নি। তথ্যসূত্র: হিলসবরো কাউন্টি শেরিফের কার্যালয় (Hillsborough County Sheriff’s Office), ফ্লোরিডা।