সাপ্তাহিক আমেরিকা বাংলা ই-পেপার

ইউরোপীয়ইউনিয়ন

চীনের ওপর অতিনির্ভরশীলতা ইউরোপের সার্বভৌমত্বের জন্য  হু মকি, তাইওয়ানের সতর্কবার্তা
চীনের ওপর অতিনির্ভরশীলতা ইউরোপের সার্বভৌমত্বের জন্য হু মকি, তাইওয়ানের সতর্কবার্তা

পণ্য ও সেবার জন্য চীনা সরবরাহকারীদের ওপর মাত্রাতিরিক্ত নির্ভরতা ইউরোপীয় ইউনিয়নের (ইইউ) স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্বের জন্য মারাত্মক ঝুঁকি তৈরি করছে বলে সতর্ক করেছে তাইওয়ান। পোল্যান্ডের ওয়ারশ নিরাপত্তা ফোরামে বক্তব্য দেওয়ার সময় তাইওয়ানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী লিন চিয়া-লুং এই কড়া বার্তা দেন।   তিনি স্পষ্ট ভাষায় উল্লেখ করেন, চীনের কর্তৃত্ববাদী আদর্শ ইউরোপের গণতান্ত্রিক কাঠামোর সঙ্গে মৌলিকভাবেই সাংঘর্ষিক। ফলে বেইজিংয়ের ওপর এ ধরনের নির্ভরতা কেবল কোনো সাধারণ অর্থনৈতিক ঝুঁকির মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়, বরং এটি ইউরোপের নিজস্ব সার্বভৌমত্ব ও সিদ্ধান্তের স্বাধীনতার ওপর সরাসরি বড় আঘাত।   লিন চিয়া-লুংয়ের এই মন্তব্য এমন এক সময়ে এলো, যার ঠিক দুই দিন পরেই ব্রাসেলসে ইউরোপীয় ইউনিয়নের শীর্ষ সম্মেলন শুরু হতে যাচ্ছে। ওই সম্মেলনের কার্যসূচির অন্যতম প্রধান বিষয় চীনের সঙ্গে বিদ্যমান বিশাল বাণিজ্য ঘাটতি কমানো এবং গুরুত্বপূর্ণ খাতগুলোতে বেইজিংয়ের ওপর অতিনির্ভরশীলতা হ্রাস করা।   নিরাপত্তা ফোরামে তিনি মন্তব্য করেন, সরবরাহ ব্যবস্থার মাধ্যমে নিয়ন্ত্রিত একটি ইউরোপ প্রকারান্তরে নিজের স্বাধীনতারই একটি অংশ অন্যের হাতে তুলে দেওয়ার শামিল। তবে এ বিষয়ে প্রতিক্রিয়া জানতে যোগাযোগ করা হলেও পোল্যান্ডে অবস্থিত চীনা দূতাবাস তাৎক্ষণিকভাবে কোনো মন্তব্য করেনি।   তাইওয়ানের কর্মকর্তাদের যেকোনো ধরনের বিদেশ সফরের কড়া বিরোধিতা করে থাকে বেইজিং। বর্তমান প্রেসিডেন্ট লাই চিং-তেকে 'বিচ্ছিন্নতাবাদী' হিসেবে আখ্যা দিয়ে তার প্রশাসনের সঙ্গে যেকোনো আনুষ্ঠানিক আলোচনা প্রত্যাখ্যান করে আসছে চীন। তবে প্রতিকূল ভূরাজনৈতিক পরিস্থিতির মধ্যেও ইউরোপের সঙ্গে অর্থনৈতিক ও কৌশলগত সম্পর্ক জোরদারের ওপর গুরুত্বারোপ করেন তাইওয়ানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী।   তিনি জানান, গণতন্ত্র, স্বাধীনতা, মানবাধিকার এবং আইনের শাসনের মতো অভিন্ন মূল্যবোধের ভিত্তিতে তাইওয়ানের সঙ্গে ইউরোপের বাণিজ্য উভয় পক্ষের জন্যই অত্যন্ত লাভজনক হতে পারে। পাশাপাশি তাইওয়ানের সফল প্রযুক্তি মডেল যেমন সিলিকন ভ্যালিতে উদ্ভাবন ও সমৃদ্ধির বিকাশ ঘটিয়েছে, তেমনি তা ইউরোপের অর্থনৈতিক সক্ষমতা বৃদ্ধিতেও বড় ভূমিকা রাখতে সক্ষম।   ২০২২ সালে ইউক্রেনে রাশিয়ার সামরিক অভিযানের পর থেকেই ইউরোপীয় দেশগুলোর সঙ্গে সম্পর্ক গভীর করার তৎপরতা বাড়িয়ে দিয়েছে তাইওয়ান। একই সঙ্গে বাণিজ্য ঘাটতি এবং মস্কোর সঙ্গে বেইজিংয়ের ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক নিয়ে ইইউর উদ্বেগও দিন দিন বাড়ছে।   যদিও পোল্যান্ডসহ বিশ্বের অধিকাংশ দেশের সঙ্গে তাইওয়ানের কোনো আনুষ্ঠানিক কূটনৈতিক সম্পর্ক নেই এবং চীন তাইওয়ানকে নিজেদের অবিচ্ছেদ্য অংশ বলে দাবি করে, তবুও তাইওয়ানের গণতান্ত্রিক সরকার এই দাবি প্রত্যাখ্যান করে বিশ্বের যেকোনো দেশের সঙ্গে সমান মর্যাদায় স্বাধীন সম্পর্ক বজায় রাখার প্রত্যয় ব্যক্ত করেছে।

ইসতিয়াক আহমেদ অক্টোবর ১৪, ২০২৬ ১৪:০
আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালতের সাবেক বিচারক নাভি পিল্লাইয়ের নোবেল জয়ের দিনেই আইসিসির ওপর মার্কিন নিষেধাজ্ঞা। গ্রাফিক্স: আমেরিকা বাংলা
সাবেক বিচারকের নোবেল জয়ের কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালতে যুক্তরাষ্ট্রের নিষেধাজ্ঞা

আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালতের বা আইসিসির একজন সাবেক বিচারক নোবেল শান্তি পুরস্কার জেতার মাত্র কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই সংস্থাটির ওপর নজিরবিহীন নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রশাসন। শুক্রবার নেওয়া এই সিদ্ধান্তের ফলে ইউরোপীয় মিত্রদের সাথে যুক্তরাষ্ট্রের একটি বড় ধরনের কূটনৈতিক সংঘাতের আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। এই নিষেধাজ্ঞার কারণে আইসিসির সাথে চুক্তিবদ্ধ যেকোনো প্রতিষ্ঠানের লেনদেন বন্ধ হয়ে যেতে পারে। আন্তর্জাতিক কোনো চুক্তির মাধ্যমে প্রতিষ্ঠিত কোনো প্রতিষ্ঠানের ওপর এ ধরনের আক্রমণ এর আগে কখনো দেখা যায়নি। যুক্তরাষ্ট্র শুরুতে আইসিসি প্রতিষ্ঠার রোম চুক্তিতে স্বাক্ষর করলেও পরে তা অনুমোদন করেনি।   মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও রয়টার্সকে দেওয়া এক বিবৃতিতে জানিয়েছেন, প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প কখনোই আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালতকে আমেরিকানদের বিচার করার সুযোগ দেবেন না। তিনি আইসিসিকে একটি 'বিপথগামী আদালত' হিসেবে আখ্যা দিয়ে বলেন, এই কারণেই যুক্তরাষ্ট্র আইসিসির ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করছে। এর মাধ্যমে সংস্থাটির সাথে সমস্ত লেনদেন নিষিদ্ধ করা হবে এবং তাদের পরিচালনার সক্ষমতা পুরোপুরি পঙ্গু করে দেওয়া হবে। তবে মার্কিন ট্রেজারি বিভাগ জানিয়েছে, প্রাথমিকভাবে ছয় মাসের একটি শিথিল মেয়াদ বা গ্রেস পিরিয়ড রাখা হয়েছে। এই সময়ে টেলিযোগাযোগ, সফটওয়্যার, পেনশন পরিশোধ এবং বন্দি সংক্রান্ত কিছু লেনদেনের সুযোগ থাকবে।   এই নিষেধাজ্ঞার কড়া নিন্দা জানিয়েছে আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালত। তারা এটিকে 'আইনের শাসন এবং আন্তর্জাতিক আইনি কাঠামোর ভিত্তির ওপর সরাসরি আঘাত' বলে উল্লেখ করেছে। এক বিবৃতিতে আইসিসি তাদের ১২৫টি সদস্য রাষ্ট্রকে এই আদালত রক্ষায় এগিয়ে আসার আহ্বান জানিয়েছে। সংস্থাটি জানিয়েছে যে, তারা একা লড়াই করতে পারবে না, তাদের ভাগ্য এখন সদস্য রাষ্ট্রগুলোর হাতে। এটি শুধু একটি প্রতিষ্ঠান রক্ষার বিষয় নয়, বরং আইনের শাসনের ওপর ভিত্তি করে গড়ে ওঠা আন্তর্জাতিক ব্যবস্থা রক্ষার প্রশ্ন। আইসিসির ডেপুটি প্রসিকিউটর নাজাত শামিম খান রয়টার্সকে বলেন, এই নিষেধাজ্ঞার মূল লক্ষ্য হলো স্বাধীন বিচারিক প্রতিষ্ঠানের কাজকে বাধাগ্রস্ত করা। তবে তারা তাদের তদন্ত ও বিচারিক কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার ব্যাপারে দৃঢ়প্রতিজ্ঞ।   মূলত ইসরাইলি প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহুসহ কয়েকজন শীর্ষ কর্মকর্তার বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি এবং আফগানিস্তানে মার্কিন সেনাদের কর্মকাণ্ড নিয়ে তদন্তের কারণেই ওয়াশিংটন আইসিসির ওপর ক্ষুব্ধ। যদিও আইসিসি জানিয়েছে যে আফগানিস্তান তদন্তটি এখন তাদের অগ্রাধিকার তালিকায় নেই। মার্কো রুবিও তার বিবৃতিতে দাবি করেছেন যে কিছু বহিরাগত বিশেষজ্ঞ আমেরিকান সেনা, সীমান্তরক্ষী এবং নির্বাচিত নেতাদের বিচারের আওতায় আনার জন্য আইসিসির প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন। তবে আইসিসি কর্মকর্তারা এমন কোনো পদক্ষেপ নেননি। ইউরোপীয় ইউনিয়নের পররাষ্ট্রনীতি বিষয়ক প্রধান কাজা কালাস জানিয়েছেন, ছয় মাসের এই শিথিল মেয়াদ আলোচনার একটি সুযোগ তৈরি করেছে। তবে আইসিসি যাতে তাদের কাজ চালিয়ে যেতে পারে, সেজন্য ইউরোপীয় ইউনিয়নের হাতেও বিকল্প ব্যবস্থা রয়েছে। বেলজিয়ামের পররাষ্ট্রমন্ত্রীও আদালতকে সুরক্ষার জন্য ইইউ ব্লকিং স্ট্যাটিউট কার্যকর করার আহ্বান জানিয়েছেন।   আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালত এ পর্যন্ত বিশ্বনেতা এবং বড় ধরনের সংঘাতের মূল হোতাসহ ৭০ জনের বেশি ব্যক্তির বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করেছে। এর মধ্যে রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন, সুদানের সাবেক প্রেসিডেন্ট ওমর আল-বশির এবং লিবিয়ার সাবেক নেতা মুয়াম্মার গাদ্দাফির মতো নাম রয়েছে। কেনিয়ার প্রেসিডেন্ট উইলিয়াম রুটো এবং সাবেক প্রেসিডেন্ট উহুরু কেনিয়াত্তার বিরুদ্ধে আনা অভিযোগগুলো অবশ্য পরে প্রত্যাহার করা হয়েছিল। যুক্তরাষ্ট্র সদস্য দেশগুলোকে আইসিসি ছাড়ার আহ্বান জানালেও ইউরোপীয় ইউনিয়ন এবং যুক্তরাষ্ট্র ও তুরস্ক ছাড়া ন্যাটোর প্রায় সব সদস্য রাষ্ট্রই আইসিসিকে জোরালো সমর্থন দিয়ে আসছে। নেদারল্যান্ডসভিত্তিক এই আদালতটিকে রক্ষায় তারা বদ্ধপরিকর।   কাকতালীয়ভাবে শুক্রবার এই নিষেধাজ্ঞা আরোপের কয়েক ঘণ্টা আগেই আইসিসির সাবেক বিচারক নাভি পিল্লাইকে নোবেল শান্তি পুরস্কারে ভূষিত করা হয়। ২০০৩ থেকে ২০০৮ সাল পর্যন্ত আইসিসির আপিল বিভাগে দায়িত্ব পালন করা দক্ষিণ আফ্রিকার এই আইনজ্ঞকে পুরস্কৃত করার মাধ্যমে নোবেল কমিটি আন্তর্জাতিক আইন ও বিচারকদের প্রতি সমর্থন ব্যক্ত করেছে। তারা জানিয়েছে, যুদ্ধাপরাধীদের জবাবদিহির আওতায় আনা এবং নির্যাতিতদের ন্যায়বিচার নিশ্চিত করা একটি শান্তিপূর্ণ বিশ্বের জন্য অপরিহার্য। ট্রাম্প তার প্রথম মেয়াদেও আইসিসি কর্মকর্তাদের ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছিলেন, যা পরে জো বাইডেন প্রশাসন বাতিল করে দেয়। তবে গত জানুয়ারিতে ট্রাম্প পুনরায় ক্ষমতায় ফেরার পর থেকেই আইসিসি সম্ভাব্য নিষেধাজ্ঞার প্রস্তুতি নিচ্ছিল এবং বিকল্প ব্যাংকিং ও সফটওয়্যার ব্যবস্থা গড়ে তুলছিল।   উৎস: রয়টার্স

মোহাম্মদ ইব্রাহিম অক্টোবর ৯, ২০২৬ ১৪:০
ইইউর দক্ষিণ-পূর্ব সীমান্তে কয়েক হাজার অভিবাসীর একযোগে প্রবেশের চেষ্টা। ছবি: সংগৃহীত
ইইউ সীমান্তে অভিবাসীদের ঢল, জরুরি অবস্থা ঘোষণা, সেনা মোতায়েনের দাবি

ইউরোপীয় ইউনিয়নের (ইইউ) দক্ষিণ-পূর্ব সীমান্তে কয়েক হাজার অভিবাসীর একযোগে প্রবেশের চেষ্টাকে কেন্দ্র করে পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে উঠেছে। সীমান্ত এলাকায় জরুরি অবস্থা ঘোষণা করা হয়েছে এবং নিরাপত্তা জোরদারে সেনাবাহিনী মোতায়েনের দাবি জোরালো হয়েছে।   ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম দ্য সানের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, উত্তর আফ্রিকা ও মধ্যপ্রাচ্য থেকে আসা বিপুলসংখ্যক অভিবাসী ইইউ সীমান্তে জড়ো হয়েছেন। সীমান্ত অতিক্রমের চেষ্টা ঘিরে নিরাপত্তা বাহিনীর সঙ্গে উত্তেজনাপূর্ণ পরিস্থিতির সৃষ্টি হলে স্থানীয় প্রশাসন জরুরি ব্যবস্থা গ্রহণ করে।   প্রতিবেদনে আরও বলা হয়, সীমান্তে অতিরিক্ত পুলিশ ও সীমান্তরক্ষী মোতায়েন করা হয়েছে। একই সঙ্গে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে সেনাবাহিনীর সহায়তা চেয়ে রাজনৈতিক মহল ও স্থানীয় প্রশাসনের পক্ষ থেকে আহ্বান জানানো হয়েছে। তবে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ এখন পর্যন্ত পূর্ণাঙ্গ সামরিক মোতায়েনের বিষয়ে আনুষ্ঠানিক ঘোষণা দেয়নি।   সাম্প্রতিক মাসগুলোতে ভূমধ্যসাগরীয় রুট হয়ে ইউরোপে অনিয়মিত অভিবাসন প্রবাহ বেড়েছে। এ পরিস্থিতিতে সীমান্ত নিয়ন্ত্রণ আরও কঠোর করতে বিভিন্ন পদক্ষেপ নিয়েছে ইউরোপীয় ইউনিয়নের সদস্য রাষ্ট্রগুলো। গ্রিসও সম্ভাব্য অভিবাসী প্রবাহ মোকাবিলায় অতিরিক্ত প্রস্তুতি গ্রহণ এবং নতুন সীমান্ত ব্যবস্থাপনা পরিকল্পনা বাস্তবায়নের কথা জানিয়েছে।    অভিবাসন ইস্যু ইউরোপীয় রাজনীতির অন্যতম আলোচিত বিষয়ে পরিণত হয়েছে। একদিকে সীমান্ত নিরাপত্তা জোরদারের দাবি উঠছে, অন্যদিকে মানবাধিকার সংস্থাগুলো আশ্রয়প্রার্থীদের আন্তর্জাতিক আইনের অধীনে সুরক্ষা নিশ্চিত করার আহ্বান জানিয়ে আসছে।

তাবাস্সুম জুলাই ২৯, ২০২৬ ১৪:০
জার্মানিতে ৬২ দেশের নাগরিকদের ভিসামুক্ত প্রবেশাধিকার I ছবি: সংগৃহীত
জার্মানিতে ৬২ দেশের নাগরিকদের ভিসামুক্ত প্রবেশাধিকার, তালিকায় নেই বাংলাদেশ

২০২৬ সালেও ইউরোপীয় ইউনিয়ন (ইইউ) ও শেনজেন অঞ্চলের বাইরে থাকা ৬২টি দেশের নাগরিকদের জন্য স্বল্পমেয়াদি ভিসামুক্ত প্রবেশের সুবিধা বহাল রেখেছে জার্মানি। দেশটির পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সর্বশেষ প্রকাশিত তালিকা অনুযায়ী, এসব দেশের নাগরিকরা পর্যটন, ব্যবসা কিংবা অন্যান্য স্বল্পমেয়াদি কাজে সর্বোচ্চ ৯০ দিন পর্যন্ত কোনো ভিসা ছাড়াই জার্মানিতে প্রবেশ করতে পারবেন। তবে এই সুবিধাপ্রাপ্ত ৬২টি দেশের তালিকায় বাংলাদেশের নাম নেই। ফলে আগের নিয়মেই ভিসা সংগ্রহ করে বাংলাদেশি নাগরিকদের জার্মানিতে ভ্রমণ করতে হবে।   জার্মান পররাষ্ট্র দপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, ভিসামুক্ত সুবিধার আওতায় থাকা দেশগুলোর নাগরিকরা প্রতি ১৮০ দিনের মধ্যে সর্বোচ্চ ৯০ দিন জার্মানিতে অবস্থানের সুযোগ পাবেন। এই সময়ে তারা পর্যটন, ব্যবসায়িক কাজ, কিংবা পরিবার ও আত্মীয়-স্বজনের সঙ্গে সাক্ষাতের উদ্দেশ্যে দেশটিতে অবস্থান করতে পারবেন। তবে এই স্বল্পমেয়াদি ভিসামুক্ত সুবিধা ব্যবহার করে জার্মানিতে কোনো ধরনের চাকরি বা অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডে যুক্ত হওয়ার বা কাজ করার সুযোগ থাকবে না।   জার্মানির এই ভিসামুক্ত তালিকায় যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য, কানাডা, অস্ট্রেলিয়া, জাপান, দক্ষিণ কোরিয়া, নিউজিল্যান্ড এবং ইসরায়েলের মতো গুরুত্বপূর্ণ অর্থনৈতিক ও কূটনৈতিক অংশীদার দেশগুলো স্থান পেয়েছে। এছাড়া ইউরোপ, এশিয়া, লাতিন আমেরিকা ও ওশেনিয়া অঞ্চলের অন্যান্য দেশগুলোর মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো আর্জেন্টিনা, ব্রাজিল, মেক্সিকো, সিঙ্গাপুর, মালয়েশিয়া, সংযুক্ত আরব আমিরাত, ইউক্রেন, জর্জিয়া, মলদোভা, তাইওয়ান, আলবেনিয়া, কলম্বিয়া, পেরু, ভেনেজুয়েলা, পানামা ও সার্বিয়া।   এর পাশাপাশি বাহামাস, বার্বাডোস, ব্রুনাই, চিলি, কোস্টারিকা, ডোমিনিকা, এল সালভাদর, গ্রেনাডা, গুয়াতেমালা, হন্ডুরাস, হংকং, কিরিবাতি, কসোভো, ম্যাকাও, মার্শাল দ্বীপপুঞ্জ, মরিশাস, মাইক্রোনেশিয়া, মোনাকো, মন্টিনিগ্রো, উত্তর ম্যাসিডোনিয়া, নিকারাগুয়া, পালাউ, প্যারাগুয়ে, সেন্ট কিটস ও নেভিস, সেন্ট লুসিয়া, সেন্ট ভিনসেন্ট ও গ্রেনাডাইনস, সামোয়া, সান মারিনো, সেশেলস, সলোমন দ্বীপপুঞ্জ, তিমোর-লেস্তে, টোঙ্গা, ত্রিনিদাদ ও টোবাগো, টুভালু, উরুগুয়ে, ভানুয়াতু, অ্যান্ডোরা, অ্যান্টিগুয়া ও বারবুডা, বসনিয়া ও হার্জেগোভিনা এবং ভ্যাটিকান সিটির নাগরিকরাও জার্মানিতে স্বল্পমেয়াদি ভিসামুক্ত প্রবেশের এই বিশেষ সুবিধা উপভোগ করবেন।

ইসতিয়াক আহমেদ জুলাই ১২, ২০২৬ ১৪:০
ইউরোপীয় কমিশনের ভাইস প্রেসিডেন্ট কাজা কালাস | ছবি: সংগৃহীত
পরমাণু চুক্তি হলেই কেবল ইরানের ওপর থেকে নিষেধাজ্ঞা তুলবে ইইউ

ইরানের ওপর থেকে ইউরোপীয় ইউনিয়নের (ইইউ) বহুপাক্ষিক নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহারের বিষয়টি তখনই বিবেচনা করা হবে, যখন তেহরানের সঙ্গে একটি পূর্ণাঙ্গ পরমাণু চুক্তি সম্পন্ন হবে। ইইউভুক্ত দেশগুলোর নেতাদের এক গুরুত্বপূর্ণ শীর্ষ সম্মেলনের আগে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে এই স্পষ্ট বার্তা দিয়েছেন ইউরোপীয় কমিশনের ভাইস প্রেসিডেন্ট কাজা কালাস। কাতারভিত্তিক আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম আল জাজিরার এক প্রতিবেদনে এই তথ্য জানানো হয়েছে।   কাজা কালাস বলেন, ‘পরিস্থিতি পুরোপুরি অনুকূল হলে ইইউ-এর সদস্য রাষ্ট্রগুলো অবশ্যই নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার করা উপযুক্ত হবে কি না, তা নিয়ে নিজেদের মধ্যে আলোচনা করবে। তবে আমরা এখনও সেই চূড়ান্ত পর্যায়ে পৌঁছাতে পারিনি।’ বর্তমানে ইউরোপীয় ইউনিয়ন ইরানের ৭০০-এরও বেশি ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের ওপর কঠোর বহুপাক্ষিক নিষেধাজ্ঞা বজায় রেখেছে। এসব নিষেধাজ্ঞার মধ্যে রয়েছে ইউরোপে ভ্রমণ নিষেধাজ্ঞা এবং সম্পদ জব্দের মতো কঠোর ব্যবস্থা।   এর আগে, ইউরোপের শীর্ষ চার দেশ ইরানের ওপর থেকে নিষেধাজ্ঞা তুলে নেওয়ার ঘোষণা দেয়। যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যকার যুদ্ধ অবসান, ইরানের ওপর থেকে মার্কিন নৌ-অবরোধ প্রত্যাহার এবং আন্তর্জাতিক বাণিজ্যের প্রধান রুট হরমুজ প্রণালি পুনরায় খুলে দেওয়ার লক্ষ্যে দুই দেশের একটি ঐতিহাসিক সমঝোতায় পৌঁছানোর পরই মূলত ইউরোপের দেশগুলো থেকে এই ইতিবাচক সাড়া আসে।   এক যৌথ বিবৃতিতে যুক্তরাজ্য, ফ্রান্স, জার্মানি ও ইতালি—এই চার (ই-৪) দেশ গত রোববার জানায়, আমেরিকা ও ইরানের মধ্যে যুদ্ধ অবসানের চুক্তি হওয়ার পর ইরানের পরমাণু কর্মসূচির পরবর্তী পদক্ষেপ ও আচরণের ওপর ভিত্তি করে তারা দেশটির ওপর থেকে সব নিষেধাজ্ঞা তুলে নিতে প্রস্তুত। যৌথ বিবৃতিতে চার দেশের নেতারা আরও বলেছেন, ‘ইরান যেন কখনোই পরমাণু অস্ত্র তৈরি করতে না পারে, আমরা সেই লক্ষ্যে আমেরিকা, ইরান এবং আন্তর্জাতিক পরমাণু শক্তি সংস্থার (আইএইএ) সঙ্গে কাজ করতে সম্পূর্ণ প্রস্তুত।’

তাবাস্সুম জুন ১৮, ২০২৬ ১৪:০
ছবি : সংগৃহীত
বাংলাদেশের সঙ্গে সম্পর্ক আরও জোরদার করতে আগ্রহী জার্মানি

বাংলাদেশের সাম্প্রতিক রাজনৈতিক উত্তরণ এবং নতুন সরকারের সঙ্গে কাজ করার সুযোগকে সামনে রেখে দেশটির সঙ্গে সম্পর্ক আরও জোরদার করতে আগ্রহ প্রকাশ করেছে জার্মানি। জার্মানির ফেডারেল ফরেন অফিসের (এফএফও) এশিয়া ও প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলের মহাপরিচালক ফ্রাঙ্ক হার্টম্যান বলেছেন, বাংলাদেশকে আরও নিবিড়ভাবে জানতে এবং দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক শক্তিশালী করতে জার্মানি ও ইউরোপ অত্যন্ত আগ্রহী।   মঙ্গলবার জার্মান দূতাবাসের এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়। বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, ফ্রাঙ্ক হার্টম্যান এবং এফএফওর দক্ষিণ এশিয়া বিভাগের প্রধান স্টিফেন কোখ গত ৯ থেকে ১১ জুন বাংলাদেশ সফর করেন। সফরকালে তারা সরকারি কর্মকর্তা, সুশীল সমাজের প্রতিনিধি, ব্যবসায়ী নেতা এবং উন্নয়ন সহযোগীদের সঙ্গে বৈঠক করেন।   হার্টম্যান বলেন, সাম্প্রতিক বছরগুলোতে বাংলাদেশ একটি গুরুত্বপূর্ণ রাজনৈতিক উত্তরণের মধ্য দিয়ে গেছে এবং এর মাধ্যমে দেশটি গণতান্ত্রিকভাবে নির্বাচিত নতুন সরকার পেয়েছে। এ প্রেক্ষাপটে জার্মানি ও ইউরোপ বাংলাদেশের সঙ্গে সম্পর্ক আরও গভীর করতে চায়।   জার্মান রাষ্ট্রদূত ড. রুডিগার লোটজের উপস্থিতিতে প্রতিনিধি দলটি পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ ইসলাম, ভারপ্রাপ্ত পররাষ্ট্র সচিব ড. মু. নজরুল ইসলাম এবং মহাপরিচালক (পশ্চিম ইউরোপ ও ইইউ) মোশাররফ হোসেনের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন।   সাক্ষাৎকালে উভয় পক্ষ দীর্ঘদিনের দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক আরও জোরদার এবং বাংলাদেশ-ইউরোপীয় ইউনিয়ন সহযোগিতা সম্প্রসারণে তাদের অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করে। বাংলাদেশ ইউরোপীয় ইউনিয়নের সঙ্গে একটি মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি (এফটিএ) স্বাক্ষরের আগ্রহও তুলে ধরে।   বৈঠকে রোহিঙ্গা সংকট গুরুত্বপূর্ণ স্থান পায়। ফ্রাঙ্ক হার্টম্যান বাস্তুচ্যুত রোহিঙ্গাদের আশ্রয় দেওয়ার ক্ষেত্রে বাংলাদেশের ভূমিকার প্রশংসা করেন। অন্যদিকে, পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ ইসলাম মিয়ানমারে রোহিঙ্গাদের নিরাপদ, স্বেচ্ছায় এবং মর্যাদাপূর্ণ প্রত্যাবাসনে সমর্থন অব্যাহত রাখতে জার্মানি ও আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের প্রতি আহ্বান জানান।   জার্মান রাষ্ট্রদূত ড. রুডিগার লোটজ বলেন, এ ধরনের উচ্চপর্যায়ের সফর দুই দেশের মধ্যে সহযোগিতার নতুন ক্ষেত্র তৈরি করবে এবং বিদ্যমান সম্পর্ককে আরও শক্তিশালী করবে।   সফরকালে প্রতিনিধি দলটি বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদিরের সঙ্গেও বৈঠক করে। এ সময় বাণিজ্যমন্ত্রী ব্যবসা-বাণিজ্য সহজতর করা, কারিগরি ও বৃত্তিমূলক শিক্ষার সম্প্রসারণ এবং চামড়া, পাট ও লাইট ইঞ্জিনিয়ারিং পণ্যের রপ্তানি বাড়াতে সরকারের বিভিন্ন উদ্যোগের কথা তুলে ধরেন।   ফ্রাঙ্ক হার্টম্যান স্বল্পোন্নত দেশের (এলডিসি) তালিকা থেকে বাংলাদেশের উত্তরণের আগে অর্থনৈতিক সংস্কারের গুরুত্বের ওপর জোর দেন। একই সঙ্গে তৈরি পোশাক খাতের বাইরে রপ্তানি বহুমুখীকরণের প্রয়োজনীয়তার কথাও উল্লেখ করেন।   সফরের অংশ হিসেবে জার্মান কর্মকর্তারা কাশিমপুরে ডিবিএল গ্রুপের টেক্সটাইল উৎপাদন কারখানা পরিদর্শন করেন। সেখানে তারা বাংলাদেশের তৈরি পোশাক শিল্পের উৎপাদন প্রক্রিয়া এবং টেকসই উন্নয়ন উদ্যোগ সম্পর্কে অবহিত হন।

Unknown জুন ১৬, ২০২৬ ১৪:০
ছবি: সংগৃহীত
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর সাথে ইইউ রাষ্ট্রদূতের সাক্ষাৎ; পুলিশ সংস্কার ও দুর্নীতি দমনে সহযোগিতার আশ্বাস

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেছেন বাংলাদেশে নিযুক্ত ইউরোপীয় ইউনিয়নের (ইইউ) রাষ্ট্রদূত মাইকেল মিলার। সোমবার (১৩ এপ্রিল ২০২৬) দুপুরে সচিবালয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর অফিসকক্ষে এই বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। বৈঠকে পুলিশ সংস্কার, নিরাপত্তা, অভিবাসন ব্যবস্থাপনা, বিচার বিভাগের স্বাধীনতা এবং দুর্নীতি দমন কৌশলসহ দ্বিপাক্ষিক স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিভিন্ন বিষয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়।   বৈঠকে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী জানান, সরকার একটি ‘পুলিশ কমিশন’ গঠনের পরিকল্পনা করছে। এই লক্ষে বাহিনীর পুনর্গঠন ও আধুনিকায়নে ইউরোপীয় ইউনিয়নের পরামর্শক সেবা ও কারিগরি সহায়তা কামনা করেন তিনি। রাষ্ট্রদূত মাইকেল মিলার ইতিবাচক সাড়া দিয়ে জানান, ইইউ বাংলাদেশ পুলিশের প্রশিক্ষণ ও দক্ষতা বৃদ্ধিতে সহযোগিতা করতে আগ্রহী। এছাড়া বিচার বিভাগের পূর্ণ স্বাধীনতা নিশ্চিত করতে এবং একটি শক্তিশালী দুর্নীতি দমন কৌশল প্রণয়নে ইইউ সব ধরনের কৌশলগত সহায়তা দেবে বলে তিনি আশ্বাস দেন।   সাক্ষাৎকালে রাষ্ট্রদূত মাইকেল মিলার নতুন দায়িত্ব গ্রহণের জন্য স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীকে অভিনন্দন জানান এবং বাংলাদেশকে একটি পরীক্ষিত উন্নয়ন অংশীদার হিসেবে উল্লেখ করেন। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ইইউ-র প্রস্তাবগুলোকে স্বাগত জানান এবং সহযোগিতার সুনির্দিষ্ট ক্ষেত্রগুলো দ্রুত চিহ্নিত করতে কর্মকর্তাদের নির্দেশ দেন। বৈঠকে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা ও ইউরোপীয় ইউনিয়নের প্রতিনিধিদলের সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন।

তাবাস্সুম এপ্রিল ১২, ২০২৬ ১৪:০
অস্ট্রিয়ার ইরান দূতাবাস। ছবি: সংগৃহীত
ইউরোপীয় ইউনিয়নের অবস্থানকে ‘ভণ্ডামি’ বলে আখ্যা দিল ইরান

অস্ট্রিয়ায় নিযুক্ত ইরান দূতাবাস ইউরোপীয় ইউনিয়নের (ইইউ) পররাষ্ট্র নীতি বিষয়ক প্রধান কাজা কালাসের সাম্প্রতিক মন্তব্যের তীব্র সমালোচনা করে তাকে ‘ভণ্ডামি’র দায়ে অভিযুক্ত করেছে। হরমুজ প্রণালি সংকট নিয়ে কালাসের অবস্থানের প্রেক্ষিতে তেহরান এই কঠোর প্রতিক্রিয়া জানিয়েছে। সম্প্রতি চীনের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ওয়াং ই-র সঙ্গে আলাপকালে কালাস হরমুজ প্রণালিতে ‘শুল্কমুক্ত নৌ-চলাচলের স্বাধীনতা’ ফিরিয়ে আনাকে জরুরি অগ্রাধিকার হিসেবে উল্লেখ করেন এবং এই পথে জাহাজ চলাচলে বিঘ্ন ঘটানোর জন্য ইরানের পদক্ষেপকে দায়ী করেন।   কালাসের এই বক্তব্যের জবাবে ইরান দূতাবাস জানিয়েছে, ইইউ প্রধান ইরানের ‘খাঁটি আত্মরক্ষামূলক পদক্ষেপের’ নিন্দা জানালেও ইরানকে লক্ষ্য করে ‘আমেরিকান-ইসরাইলি অশুভ জোটের আগ্রাসী হামলা’ সম্পূর্ণ উপেক্ষা করেছেন। এছাড়া আইনি প্রেক্ষাপটে তাকে চ্যালেঞ্জ ছুঁড়ে দিয়ে দূতাবাস উল্লেখ করেছে যে, কালাস ইরানকে জাতিসংঘের সমুদ্র আইন বিষয়ক কনভেনশন মেনে চলার আহ্বান জানিয়েছেন, অথচ ইরান এই চুক্তির পক্ষভুক্ত কোনো রাষ্ট্র নয়। মূলত ইউরোপীয় ইউনিয়নের এই দৃষ্টিভঙ্গিকে একপাক্ষিক ও পক্ষপাতদুষ্ট বলে দাবি করছে তেহরান।   দূতাবাস আরও কঠোর ভাষায় কালাসের উপদেষ্টাদের পেশাদারিত্ব নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে এবং অভিযোগ করেছে যে তারা তাকে সঠিক পরামর্শ দিতে ব্যর্থ হচ্ছেন। ইরানের দাবি অনুযায়ী, দেশটি পারমাণবিক অস্ত্র অ-প্রসার চুক্তি (NPT) সম্মান করে চললেও তাদের শান্তিপূর্ণ ও সুরক্ষিত পারমাণবিক স্থাপনাগুলো বারবার হামলার শিকার হয়েছে। আন্তর্জাতিক মহলের এই ধরনের আচরণকে দ্বিমুখী এবং বৈষম্যমূলক হিসেবে অভিহিত করেছে ইরান দূতাবাস।   বর্তমান যুদ্ধকালীন পরিস্থিতিতে হরমুজ প্রণালি ও আঞ্চলিক নিরাপত্তা ইস্যুতে ইউরোপীয় ইউনিয়নের অবস্থানকে ইরান সরাসরি প্রত্যাখ্যান করেছে। ইরান মনে করে, আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের উচিত কেবল একপক্ষকে দায়ী না করে সামগ্রিক আগ্রাসনের বিরুদ্ধে কথা বলা। এই বাদানুবাদের ফলে মধ্যপ্রাচ্যের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার ক্ষেত্রে ইউরোপ ও ইরানের মধ্যকার কূটনৈতিক দূরত্ব আরও বাড়বে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।   সূত্র: আলজাজিরা

তাবাস্সুম এপ্রিল ৩, ২০২৬ ১৪:০
ইইউর পররাষ্ট্রনীতি বিষয়ক প্রধান কাজা কালা। ফাইল ছবি: রয়টার্স
ইইউ স্বাগত জানাল ট্রাম্পের ইরানের বিদ্যুৎকেন্দ্রে হামলা স্থগিতের সিদ্ধান্তকে

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানের জ্বালানি ও বিদ্যুৎ অবকাঠামোতে হামলা স্থগিতের সিদ্ধান্ত নেয়ার পর ইউরোপীয় ইউনিয়নের (ইইউ) পররাষ্ট্রনীতি বিষয়ক প্রধান কাজা কালাস তা স্বাগত জানিয়েছেন।   কালাস বলেন, “মধ্যপ্রাচ্যের চলমান সংঘাতের মধ্যে অবকাঠামোতে হামলা আরও বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করতে পারত এবং যুদ্ধকে আরও উসকে দিত।” তিনি আশা প্রকাশ করেন, এই পদক্ষেপ পরিস্থিতি শিথিল করার দিকে সহায়ক হবে এবং আঞ্চলিক স্থিতিশীলতা বজায় রাখতে অবদান রাখবে।   সূত্র: আল-জাজিরা

Unknown মার্চ ২২, ২০২৬ ১৪:০
জনপ্রিয় সংবাদ
বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনার পর তরুণীর মৃত্যু, এক বছরের সাজায় ক্যালিফোর্নিয়ার আইন পরিবর্তনের দাবি

যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন।   মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়।   তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।”   ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে।   প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন।   ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন।   প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল।   মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি।   রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।

যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডে বড় পরিবর্তন, পরিবারভিত্তিক ভিসা আবেদনকারীদের জন্য সুখবর

যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর আগস্ট ২০২৬ সালের ভিসা বুলেটিন প্রকাশ করেছে। নতুন এই আপডেটে পরিবারভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি দেখা গেছে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের স্থায়ী বাসিন্দাদের স্বামী, স্ত্রী ও সন্তানদের জন্য নির্ধারিত এফ২এ ক্যাটাগরিতে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এসেছে।   নতুন ভিসা বুলেটিন অনুযায়ী, পরিবারভিত্তিক কয়েকটি ক্যাটাগরিতে অপেক্ষার সময় কমার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এর মধ্যে এফ২এ ক্যাটাগরির অগ্রগতি সবচেয়ে বেশি, যেখানে যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডধারীদের স্বামী-স্ত্রী ও অবিবাহিত সন্তানদের আবেদন অন্তর্ভুক্ত থাকে।   এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের অবিবাহিত প্রাপ্তবয়স্ক সন্তানদের জন্য এফ১ ক্যাটাগরি এবং অন্যান্য পরিবারভিত্তিক ক্যাটাগরিতেও কিছু অগ্রগতি দেখা গেছে। তবে আবেদনকারীদের ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার তারিখ বা প্রায়োরিটি ডেট অনুযায়ীই পরবর্তী ধাপ নির্ধারণ হবে।   ভিসা বুলেটিনে বলা হয়েছে, পরিবারভিত্তিক অভিবাসন ভিসার সংখ্যা প্রতিবছর নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে দেওয়া হয়। তাই কোনো ক্যাটাগরিতে চাহিদা বেশি হলে অপেক্ষার সময় বাড়তে পারে এবং কম হলে তারিখ এগিয়ে আসতে পারে।   অন্যদিকে কর্মসংস্থানভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য পরিস্থিতি তুলনামূলক কঠিন রয়েছে। বিশেষ করে কিছু এমপ্লয়মেন্ট-বেসড ক্যাটাগরিতে দীর্ঘ অপেক্ষা ও সীমিত ভিসা সংখ্যার কারণে আবেদনকারীদের অনিশ্চয়তা অব্যাহত রয়েছে।   যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ী বসবাসের জন্য আবেদনকারীদের কাছে ভিসা বুলেটিন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এই তালিকার মাধ্যমে জানা যায়, কোন আবেদনকারীরা গ্রিন কার্ডের পরবর্তী ধাপে এগিয়ে যেতে পারবেন এবং কারা এখনও অপেক্ষার তালিকায় থাকবেন।   বিশেষজ্ঞদের মতে, নতুন এই পরিবর্তন অনেক পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীর জন্য আশার খবর হলেও, প্রতিটি আবেদনকারীর পরিস্থিতি নির্ভর করবে তাদের আবেদন জমার তারিখ, দেশভিত্তিক সীমা এবং ভিসা ক্যাটাগরির ওপর।   যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ব্যবস্থায় দীর্ঘদিন ধরে গ্রিন কার্ডের অপেক্ষার তালিকা বড় একটি বিষয় হয়ে আছে। নতুন ভিসা বুলেটিনে পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীদের জন্য অগ্রগতি দেখা গেলেও, সব আবেদনকারী একইভাবে সুবিধা পাবেন না।

মার্কিন ভিসা আপডেট ২০২৬! বাংলাদেশিদের জন্য কোন ভিসা বন্ধ, কোনটা চালু?

২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো।   প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে।   এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে।   অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে।   স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে।   সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে।   সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।

যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশি মালিকানাধীন বিশ্ববিদ্যালয়ের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধন

যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে।   এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন।   নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি।   উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।”   বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে।   এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে।   শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়।   উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন।   বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত।   এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।

পাঁচ সন্তানকে এতিম করে মাকে কুপিয়ে হত্যা, গ্রেপ্তারের সময়ও হাসছিল ঘাতক দুই বোন

যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে এক মর্মান্তিক ও লোমহর্ষক ঘটনার জন্ম দিয়েছে দুই তরুণী বোন। দিনদুপুরে ক্যারোলিন ‘কারো’ পেনা নামের ৩২ বছর বয়সী এক নারীকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগে তাদের গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। নিহত নারী পাঁচ সন্তানের জননী ছিলেন। তবে সবচেয়ে শিউরে ওঠার মতো বিষয় হলো, গ্রেপ্তারের সময় অভিযুক্তদের চেহারায় অনুশোচনার সামান্যতম ছাপ তো ছিলই না, উল্টো তাদের মুখে পৈশাচিক হাসি দেখা গেছে। মেক্সিকো সীমান্তের কাছের শহর দেল রিও থেকে বৃহস্পতিবার বিকেলে পুলিশ তাদের হাতকড়া পরিয়ে নিয়ে যাওয়ার সময় এই দৃশ্য ক্যামেরায় ধরা পড়ে।   আরও পড়ুন... ‘ফোনটা ধরতে পারলে হয়তো তাকে বাঁচাতে পারতাম’- টেক্সাসে পাঁচ সন্তানের মাকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা, দুই বোনসহ তিনজন গ্রেপ্তার   পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নিহত ক্যারোলিনকে বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় দুপুর ২টার পরপরই গুরুতর জখম অবস্থায় ভাল ভার্দে রিজিওনাল মেডিকেল সেন্টারে নেওয়া হয়। তার শরীরে একাধিক ছুরিকাঘাতের চিহ্ন ছিল। ঘটনাস্থলের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, একটি সনিক ড্রাইভ-থ্রু রেস্তোরাঁর বাইরে রক্তাক্ত অবস্থায় ক্যারোলিন তার তিন হামলাকারীর মুখোমুখি দাঁড়িয়ে আছেন।   পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য সান আন্তোনিওর একটি হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছায় এবং প্রায় ৩৫ হাজার বাসিন্দার শহর দেল রিওতে অভিযান চালিয়ে হামলাকারীদের শনাক্ত করে।   সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া গ্রেপ্তারের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, ২১ বছর বয়সী কিটি মিয়া দিয়াজ খালি পায়ে হেঁটে যাওয়ার সময় পুলিশের গাড়িতে ওঠার আগে মৃদু হাসছেন। কিটি নিজেও এক শিশুপুত্রের মা। অন্যদিকে, তার ১৯ বছর বয়সী ছোট বোন আমায়া কুকি দিয়াজ ক্যামেরার দিকে তাকিয়ে নির্লজ্জভাবে দাঁত বের করে হাসতে থাকেন।   ▶️ টেক্সাসে নিজের মাকে নির্মমভাবে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুই মেয়ে |   এমনকি ভিডিও ধারণকারীকে ব্যঙ্গাত্মক সুরে ‘রেকর্ড করা বন্ধ করো’ বলেও চিৎকার করতে শোনা যায় তাকে। দেল রিও পুলিশ জানিয়েছে, এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ২১ বছর বয়সী কায়ান্দ্রা রেনি ফাজ নামের তৃতীয় আরেক নারীকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে ঠিক কী কারণে এই নারকীয় হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে, সে বিষয়ে পুলিশ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি।

Top week

৭২ বছর বয়সী শিশু চিকিৎসক ডা. ফজল ইউসুফ

নিউইয়র্কে কিশোরী রোগীকে যৌন নিপীড়নে বাংলাদেশি শিশু চিকিৎসক গ্রেপ্তার

অক্টোবর ২৮, ২০২৬ ১৪:০