২০২৬ সালেও ইউরোপীয় ইউনিয়ন (ইইউ) ও শেনজেন অঞ্চলের বাইরে থাকা ৬২টি দেশের নাগরিকদের জন্য স্বল্পমেয়াদি ভিসামুক্ত প্রবেশের সুবিধা বহাল রেখেছে জার্মানি। দেশটির পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সর্বশেষ প্রকাশিত তালিকা অনুযায়ী, এসব দেশের নাগরিকরা পর্যটন, ব্যবসা কিংবা অন্যান্য স্বল্পমেয়াদি কাজে সর্বোচ্চ ৯০ দিন পর্যন্ত কোনো ভিসা ছাড়াই জার্মানিতে প্রবেশ করতে পারবেন। তবে এই সুবিধাপ্রাপ্ত ৬২টি দেশের তালিকায় বাংলাদেশের নাম নেই। ফলে আগের নিয়মেই ভিসা সংগ্রহ করে বাংলাদেশি নাগরিকদের জার্মানিতে ভ্রমণ করতে হবে।
জার্মান পররাষ্ট্র দপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, ভিসামুক্ত সুবিধার আওতায় থাকা দেশগুলোর নাগরিকরা প্রতি ১৮০ দিনের মধ্যে সর্বোচ্চ ৯০ দিন জার্মানিতে অবস্থানের সুযোগ পাবেন। এই সময়ে তারা পর্যটন, ব্যবসায়িক কাজ, কিংবা পরিবার ও আত্মীয়-স্বজনের সঙ্গে সাক্ষাতের উদ্দেশ্যে দেশটিতে অবস্থান করতে পারবেন। তবে এই স্বল্পমেয়াদি ভিসামুক্ত সুবিধা ব্যবহার করে জার্মানিতে কোনো ধরনের চাকরি বা অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডে যুক্ত হওয়ার বা কাজ করার সুযোগ থাকবে না।
জার্মানির এই ভিসামুক্ত তালিকায় যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য, কানাডা, অস্ট্রেলিয়া, জাপান, দক্ষিণ কোরিয়া, নিউজিল্যান্ড এবং ইসরায়েলের মতো গুরুত্বপূর্ণ অর্থনৈতিক ও কূটনৈতিক অংশীদার দেশগুলো স্থান পেয়েছে। এছাড়া ইউরোপ, এশিয়া, লাতিন আমেরিকা ও ওশেনিয়া অঞ্চলের অন্যান্য দেশগুলোর মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো আর্জেন্টিনা, ব্রাজিল, মেক্সিকো, সিঙ্গাপুর, মালয়েশিয়া, সংযুক্ত আরব আমিরাত, ইউক্রেন, জর্জিয়া, মলদোভা, তাইওয়ান, আলবেনিয়া, কলম্বিয়া, পেরু, ভেনেজুয়েলা, পানামা ও সার্বিয়া।
এর পাশাপাশি বাহামাস, বার্বাডোস, ব্রুনাই, চিলি, কোস্টারিকা, ডোমিনিকা, এল সালভাদর, গ্রেনাডা, গুয়াতেমালা, হন্ডুরাস, হংকং, কিরিবাতি, কসোভো, ম্যাকাও, মার্শাল দ্বীপপুঞ্জ, মরিশাস, মাইক্রোনেশিয়া, মোনাকো, মন্টিনিগ্রো, উত্তর ম্যাসিডোনিয়া, নিকারাগুয়া, পালাউ, প্যারাগুয়ে, সেন্ট কিটস ও নেভিস, সেন্ট লুসিয়া, সেন্ট ভিনসেন্ট ও গ্রেনাডাইনস, সামোয়া, সান মারিনো, সেশেলস, সলোমন দ্বীপপুঞ্জ, তিমোর-লেস্তে, টোঙ্গা, ত্রিনিদাদ ও টোবাগো, টুভালু, উরুগুয়ে, ভানুয়াতু, অ্যান্ডোরা, অ্যান্টিগুয়া ও বারবুডা, বসনিয়া ও হার্জেগোভিনা এবং ভ্যাটিকান সিটির নাগরিকরাও জার্মানিতে স্বল্পমেয়াদি ভিসামুক্ত প্রবেশের এই বিশেষ সুবিধা উপভোগ করবেন।
যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন। মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়। তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।” ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে। প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন। ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন। প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল। মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি। রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।
২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো। প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে। এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে। অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে। স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে। সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে। সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।
যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে। এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন। নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি। উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।” বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে। এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে। শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়। উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত। এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।
যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে এক মর্মান্তিক ও লোমহর্ষক ঘটনার জন্ম দিয়েছে দুই তরুণী বোন। দিনদুপুরে ক্যারোলিন ‘কারো’ পেনা নামের ৩২ বছর বয়সী এক নারীকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগে তাদের গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। নিহত নারী পাঁচ সন্তানের জননী ছিলেন। তবে সবচেয়ে শিউরে ওঠার মতো বিষয় হলো, গ্রেপ্তারের সময় অভিযুক্তদের চেহারায় অনুশোচনার সামান্যতম ছাপ তো ছিলই না, উল্টো তাদের মুখে পৈশাচিক হাসি দেখা গেছে। মেক্সিকো সীমান্তের কাছের শহর দেল রিও থেকে বৃহস্পতিবার বিকেলে পুলিশ তাদের হাতকড়া পরিয়ে নিয়ে যাওয়ার সময় এই দৃশ্য ক্যামেরায় ধরা পড়ে। আরও পড়ুন... ‘ফোনটা ধরতে পারলে হয়তো তাকে বাঁচাতে পারতাম’- টেক্সাসে পাঁচ সন্তানের মাকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা, দুই বোনসহ তিনজন গ্রেপ্তার পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নিহত ক্যারোলিনকে বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় দুপুর ২টার পরপরই গুরুতর জখম অবস্থায় ভাল ভার্দে রিজিওনাল মেডিকেল সেন্টারে নেওয়া হয়। তার শরীরে একাধিক ছুরিকাঘাতের চিহ্ন ছিল। ঘটনাস্থলের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, একটি সনিক ড্রাইভ-থ্রু রেস্তোরাঁর বাইরে রক্তাক্ত অবস্থায় ক্যারোলিন তার তিন হামলাকারীর মুখোমুখি দাঁড়িয়ে আছেন। পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য সান আন্তোনিওর একটি হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছায় এবং প্রায় ৩৫ হাজার বাসিন্দার শহর দেল রিওতে অভিযান চালিয়ে হামলাকারীদের শনাক্ত করে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া গ্রেপ্তারের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, ২১ বছর বয়সী কিটি মিয়া দিয়াজ খালি পায়ে হেঁটে যাওয়ার সময় পুলিশের গাড়িতে ওঠার আগে মৃদু হাসছেন। কিটি নিজেও এক শিশুপুত্রের মা। অন্যদিকে, তার ১৯ বছর বয়সী ছোট বোন আমায়া কুকি দিয়াজ ক্যামেরার দিকে তাকিয়ে নির্লজ্জভাবে দাঁত বের করে হাসতে থাকেন। ▶️ টেক্সাসে নিজের মাকে নির্মমভাবে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুই মেয়ে | এমনকি ভিডিও ধারণকারীকে ব্যঙ্গাত্মক সুরে ‘রেকর্ড করা বন্ধ করো’ বলেও চিৎকার করতে শোনা যায় তাকে। দেল রিও পুলিশ জানিয়েছে, এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ২১ বছর বয়সী কায়ান্দ্রা রেনি ফাজ নামের তৃতীয় আরেক নারীকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে ঠিক কী কারণে এই নারকীয় হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে, সে বিষয়ে পুলিশ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি।
বাংলাদেশের আবাসন শিল্পে এক নতুন ইতিহাস রচিত হলো। রাজধানীর তেজগাঁও শিল্প এলাকায় নির্মিত দেশের প্রথম ৪০ তলা বিশিষ্ট আকাশচুম্বী বাণিজ্যিক ভবন ‘শান্তা পিনাকল’ আনুষ্ঠানিকভাবে হস্তান্তর করেছে শান্তা হোল্ডিংস। ৫০০ ফুট উচ্চতার এই আইকনিক ভবনটি এখন দেশের সর্বোচ্চ সম্পন্ন হওয়া ইমারত। গত শনিবার (১৮ এপ্রিল) ভবনের ৪০তম তলায় আয়োজিত এক আড়ম্বরপূর্ণ অনুষ্ঠানের মাধ্যমে এটি হস্তান্তর করা হয়। অনুষ্ঠানে শান্তা হোল্ডিংসের চেয়ারম্যান খন্দকার মনির উদ্দিন, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, স্থপতি এহসান খানসহ প্রতিষ্ঠানের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা, ভূমি মালিক এবং গ্রাহকরা উপস্থিত ছিলেন। স্থাপত্যশৈলী ও আধুনিক প্রযুক্তি:‘শান্তা পিনাকল’ শুধুমাত্র উচ্চতার কারণেই অনন্য নয়, বরং এটি আধুনিক নির্মাণশৈলী ও প্রযুক্তির এক অনন্য সমন্বয়। এটি বাংলাদেশের প্রথম ভবন যা পরিবেশবান্ধব স্থাপত্যের জন্য আন্তর্জাতিক ‘লিড প্ল্যাটিনাম’ (LEED Platinum) স্বীকৃতি পেয়েছে। সিঙ্গাপুরভিত্তিক বিখ্যাত ইঞ্জিনিয়ারিং প্রতিষ্ঠান ‘মেইনহার্ট’ (Meinhardt) এর সহায়তায় ভবনটির স্ট্রাকচারাল ডিজাইন এবং ভূমিকম্প প্রতিরোধক ব্যবস্থা নিশ্চিত করা হয়েছে। বিশেষ বৈশিষ্ট্যসমূহ: উন্নত লিফট ব্যবস্থা: ভবনটিতে রয়েছে ৮টি দ্রুতগামী লিফট, যা প্রতি সেকেন্ডে ৪ মিটার উচ্চতায় উঠতে সক্ষম। এটি দেশের দ্রুততম ভার্টিক্যাল ট্রান্সপোর্ট ব্যবস্থা। পরিবেশ ও সুরক্ষা: ভবনে ব্যবহৃত হয়েছে ৩৬ মিমি পুরুত্বের ডাবল গ্লেজড গ্লাস, যা তাপ ও শব্দ নিরোধক। এছাড়া এটি দেশের প্রথম ‘উইন্ড টানেল টেস্ট’ করা ভবন, যা প্রতিকূল আবহাওয়ায় এর স্থায়িত্ব নিশ্চিত করে। আইবিএমএস প্রযুক্তি: পুরো ভবনটি একটি ইন্টেলিজেন্ট বিল্ডিং ম্যানেজমেন্ট সিস্টেম (iBMS) দ্বারা পরিচালিত, যা সার্বক্ষণিক নিরাপত্তা ও জ্বালানি সাশ্রয় নিশ্চিত করবে। অগ্নি নিরাপত্তা: আন্তর্জাতিক এনএফপিএ (NFPA) স্ট্যান্ডার্ড অনুসরণ করে এখানে অত্যাধুনিক অগ্নিনির্বাপক ব্যবস্থা স্থাপন করা হয়েছে। অনুষ্ঠানে শান্তা হোল্ডিংসের পক্ষ থেকে জানানো হয়, ‘শান্তা পিনাকল’ হস্তান্তর দেশের রিয়েল এস্টেট খাতের সক্ষমতার এক বড় প্রমাণ। এটি শুধুমাত্র তেজগাঁও নয়, বরং পুরো ঢাকার বাণিজ্যিক পরিবেশকে বিশ্বমানের স্তরে নিয়ে যাবে। দেশের ইতিহাসে প্রথমবার অ্যালুমিনিয়াম ফর্মওয়ার্ক ব্যবহারের মাধ্যমে মাত্র সাত দিনে এক একটি তলার ছাদ ঢালাইয়ের রেকর্ড গড়ে এই প্রকল্পের কাজ সম্পন্ন করা হয়েছে। ঢাকার আকাশসীমায় নতুন এই ল্যান্ডমার্ক দেশের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি এবং আধুনিক নগরায়নের এক শক্তিশালী প্রতীক হিসেবে দাঁড়িয়ে আছে।
উত্তর ইউরোপের ইতিহাসে প্রথমবারের মতো নরওয়ের জলসীমায় আঠারো শতকের একটি প্রাচীন জাহাজের ধ্বংসাবশেষের সন্ধান পেয়েছেন প্রত্নতত্ত্ববিদরা। নরওয়েজিয়ান ডিরেক্টরেট ফর কালচারাল হেরিটেজ-এর পরিচালক হানা গেইরান জানিয়েছেন, জাহাজটিতে থাকা অক্ষত পণ্যসামগ্রী উত্তর ইউরোপে এর আগে আবিষ্কৃত যেকোনো জাহাজের ধ্বংসাবশেষের চেয়ে একেবারেই আলাদা ও বিরল। গত জুনের শুরুর দিকে এই যুগান্তকারী আবিষ্কারের কথা আনুষ্ঠানিকভাবে ঘোষণা করে সংস্থাটি। ঐতিহাসিক এই ধ্বংসাবশেষটি আবিষ্কার করেছেন ঘড়ির নকশাকার এসপেন সাসতাড, যিনি একটি ছোট রিমোটলি অপারেটেড ভেহিকেল (আরওভি) এবং জরিপকারী কোম্পানি পরিচালনা করেন। নরওয়ের দক্ষিণ-পূর্ব উপকূলের স্কাগেরাক প্রণালির প্রায় ১,৯৭০ ফুট গভীরে সমুদ্রতলে জাহাজটির অবস্থান শনাক্ত করা হয়েছে। সাগরের তলদেশ থেকে প্রাপ্ত ছবিতে দেখা গেছে, জাহাজের ধ্বংসাবশেষের মধ্যে চীনা পোর্সেলিনের থালাবাসনসহ অন্যান্য প্রাচীন নিদর্শন স্তূপাকারে পড়ে রয়েছে। গেইরান জানিয়েছেন, আঠারো শতকের কোনো জাহাজে এতটা নিখুঁতভাবে সংরক্ষিত পণ্য খুঁজে পাওয়ার ঘটনা সত্যিই বিরল। এখন পর্যন্ত জাহাজটি থেকে বিপুল পরিমাণ অক্ষত চীনা পোর্সেলিন বা চীনামাটির বাসনপত্র শনাক্ত করা হয়েছে। এর পাশাপাশি ঝাড়বাতির অংশবিশেষ, পানপাত্র (গবলেট), বোতল এবং শস্যভর্তি ব্যারেলেরও সন্ধান মিলেছে। গেইরান জানান, সেখানে সারি সারি বাক্স বা ক্রেট আবিষ্কৃত হলেও সেগুলো এখনো পুরোপুরি পরীক্ষা করে দেখা সম্ভব হয়নি। তবে ধারণা করা হচ্ছে, এর একটিতে টেক্সটাইল বা বস্ত্রজাতীয় পণ্য এবং অন্যটিতে চা, লতাপাতা ও ওষুধের মতো বিভিন্ন জৈব পদার্থ থাকতে পারে। বয়স বিবেচনায় পণ্যগুলো অবিশ্বাস্যভাবে অক্ষত থাকলেও, আধুনিক ট্রলারের কারণে ধ্বংসাবশেষের কিছু অংশ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে বলে উল্লেখ করেন তিনি। জাহাজটি কোথা থেকে যাত্রা শুরু করেছিল বা এর গন্তব্য কোথায় ছিল, সে বিষয়ে গবেষকরা এখনো নিশ্চিত হতে পারেননি। তবে গেইরান মনে করেন, ধ্বংসাবশেষ থেকে উদ্ধার হওয়া ছোটখাটো সূত্রগুলোই তাদের উত্তরের দিকে নিয়ে যেতে পারে। তিনি বলেন, চীনা পোর্সেলিন ছাড়াও অন্যান্য বিলাসবহুল পণ্যগুলো ইংল্যান্ড বা জার্মানি থেকে এসে থাকতে পারে। এর মধ্যে সবচেয়ে চমকপ্রদ সূত্রটি হলো জাহাজের রান্নাঘর থেকে উদ্ধার হওয়া একটি ইট, যাতে ‘লুবেকার রাটজিগেলেই’ (Lübecker Ratsziegelei)-এর সিলমোহর রয়েছে। এটি জার্মানির লুবেক শহরের একটি সুপরিচিত ইটভাটা, যা পনেরো শতক থেকে ১৭৭২ সাল পর্যন্ত চালু ছিল। গবেষকরা এই পণ্যের আদি আর্থিক মূল্য সঠিকভাবে নিরূপণ করতে না পারলেও, আঠারো শতকের মাঝামাঝি সময়ে পোর্সেলিনকে ইউরোপের অভিজাতদের কাছে একটি অত্যন্ত বিলাসবহুল পণ্য হিসেবে বিবেচনা করা হতো। তবে বর্তমানে এর আর্থিক মূল্যের চেয়ে একটি সংরক্ষিত সাংস্কৃতিক স্মৃতিস্তম্ভ হিসেবেই এর ঐতিহাসিক গুরুত্ব অনেক বেশি। ভবিষ্যতে আরও অনুসন্ধান চালালে নতুন কোনো নিদর্শন পাওয়া যাবে কি না, তা নিয়ে গবেষকরা অত্যন্ত আশাবাদী। সাগরের তলদেশ থেকে পাওয়া ছবিতে পোর্সেলিনের তৈরি একটি চমৎকার পদ্মফুলের ঝলকও দেখা গেছে, যা এই প্রত্নতাত্ত্বিক অভিযানকে আরও রোমাঞ্চকর করে তুলেছে।
মিয়ানমারের কারাবন্দি সাবেক নেত্রী অং সান সু চি সুস্থ আছেন এবং তাঁর যথাযথ দেখভাল করা হচ্ছে বলে আসিয়ানভুক্ত দেশগুলোর পররাষ্ট্রমন্ত্রীদের জানিয়েছেন মিয়ানমারের পররাষ্ট্রমন্ত্রী টিন মাউং সোয়ে। থাইল্যান্ডে অনুষ্ঠিত বৈঠক শেষে এ তথ্য জানান মিয়ানমারে আসিয়ানের বিশেষ দূত ও ফিলিপাইনের পররাষ্ট্রমন্ত্রী মারিয়া তেরেসা লাজারো। লাজারো বলেন, মিয়ানমারের পররাষ্ট্রমন্ত্রী সু চিকে ‘একজন আত্মীয়’ ও ‘বোন’ হিসেবে উল্লেখ করে বলেছেন, তাঁর সরকার তাঁর যত্ন নেবে। তবে আসিয়ান সু চির সঙ্গে সরাসরি সাক্ষাতের সুযোগ চেয়েছে, যাতে তাঁর শারীরিক অবস্থার বিষয়ে স্বাধীনভাবে নিশ্চিত হওয়া যায়। ২০২১ সালের সামরিক অভ্যুত্থানের পর ক্ষমতাচ্যুত হন নোবেলজয়ী অং সান সু চি। বর্তমানে তিনি বিভিন্ন মামলায় দণ্ডিত হয়ে কারাভোগ করছেন। তাঁর সমর্থকদের দাবি, রাজনৈতিকভাবে তাঁকে নিষ্ক্রিয় রাখতেই এসব মামলা করা হয়েছে। যদিও মিয়ানমারের সামরিক প্রশাসন এ অভিযোগ অস্বীকার করে আসছে। অভ্যুত্থানের পর এই প্রথমবারের মতো আসিয়ানের পররাষ্ট্রমন্ত্রীরা মিয়ানমারের প্রতিনিধির সঙ্গে আনুষ্ঠানিক বৈঠকে বসেন। বৈঠকে আসিয়ানের পাঁচ দফা শান্তি পরিকল্পনা বাস্তবায়ন, মানবিক সহায়তা এবং চলমান সংঘাত নিরসয়ের বিষয়গুলো গুরুত্ব পায়। তবে সম্প্রতি মিয়ানমারের সামরিকপন্থী পার্লামেন্ট আসিয়ানের শান্তি উদ্যোগকে দেশের অভ্যন্তরীণ বিষয়ে হস্তক্ষেপ হিসেবে আখ্যা দিয়ে তা প্রত্যাখ্যানের আহ্বান জানায়। এরপরও লাজারো বলেন, পাঁচ দফা শান্তি পরিকল্পনাই সংলাপ ও শান্তি প্রতিষ্ঠার একমাত্র কার্যকর কাঠামো এবং আসিয়ান এ অবস্থানেই অনড় থাকবে। ২০২১ সালের ফেব্রুয়ারিতে সামরিক অভ্যুত্থানের মাধ্যমে অং সান সু চির নির্বাচিত সরকারকে ক্ষমতাচ্যুত করা হয়। এরপর থেকে মিয়ানমারে সেনাবাহিনী ও বিভিন্ন প্রতিরোধ গোষ্ঠীর মধ্যে সংঘাত চলছে। বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সংস্থার হিসাব অনুযায়ী, এই সংঘাতে এখন পর্যন্ত প্রায় এক লাখ মানুষের প্রাণহানি ঘটেছে।
চলমান মার্কিন-ইসরায়েল উত্তেজনার ও আগ্রাসী পরিস্থিতির মধ্যেই নিজেদের সামরিক সক্ষমতার এক অভাবনীয় সাফল্যের কথা জানিয়েছে ইরান। যুদ্ধের এমন চরম উত্তেজনাকর পরিস্থিতির মাঝেও দেশটির ড্রোন উৎপাদন ক্ষমতা আগের তুলনায় তিনগুণ বৃদ্ধি পেয়েছে বলে দাবি করেছেন ইরানের বর্তমান তত্ত্বাবধায়ক প্রতিরক্ষামন্ত্রী ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মজিদ ইবন আল-রেজা। শনিবার (১১ জুলাই) এই অভূতপূর্ব অর্জনকে তিনি সম্পূর্ণ ‘দেশীয় দক্ষতার ফল’ বলে আখ্যায়িত করেছেন, যা মধ্যপ্রাচ্যের বর্তমান ভূ-রাজনীতিতে বেশ তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা। শনিবার ইরানের পার্লামেন্টের জাতীয় নিরাপত্তা কমিশনের সদস্যদের সঙ্গে এক গুরুত্বপূর্ণ যৌথ বৈঠকে অংশ নেন প্রতিরক্ষামন্ত্রী। বৈঠক শেষে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে (সাবেক টুইটার) দেওয়া এক বার্তায় তিনি ড্রোন উৎপাদন বৃদ্ধির এই তথ্য নিশ্চিত করেন। জেনারেল মজিদ ইবন আল-রেজা তার পোস্টে উল্লেখ করেন, সাম্প্রতিক এই সংঘাত সন্দেহাতীতভাবে প্রমাণ করেছে যে, ইরানের দেশীয় অভিজাত শ্রেণি এবং উন্নত প্রযুক্তিতে বিনিয়োগই হচ্ছে দেশটির জাতীয় প্রতিরক্ষা শক্তির সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ও শক্তিশালী স্তম্ভ। প্রতিরক্ষামন্ত্রী তার বার্তায় আরও জানান, যুদ্ধের চরম মুহূর্তে যখন চারপাশ থেকে একের পর এক আগ্রাসন ও বহুমুখী প্রতিবন্ধকতা আসছিল, তখনও ইরানের প্রতিরক্ষা উৎপাদন ব্যবস্থা এক মুহূর্তের জন্যও থমকে যায়নি। বরং এমন চরম প্রতিকূল ও আগ্রাসী পরিস্থিতির মাঝেই নিজস্ব কারিগরি সক্ষমতা ও মেধা কাজে লাগিয়ে তেহরান তাদের ড্রোন উৎপাদন ক্ষমতা তিনগুণ বৃদ্ধি করতে সক্ষম হয়েছে। আন্তর্জাতিক মহলের রক্তচক্ষু উপেক্ষা করে সামরিক খাতে ইরানের এই ধারাবাহিক অগ্রগতি শত্রুদের জন্য একটি কড়া বার্তা বলেই মনে করছে দেশটির প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়।