ভারত ইন্দোনেশিয়াকে ব্রহ্মোস (BrahMos) সুপারসনিক ক্রুজ ক্ষেপণাস্ত্র এবং অ্যাস্ট্রা (Astra) আকাশ থেকে আকাশে নিক্ষেপযোগ্য ক্ষেপণাস্ত্র সরবরাহ করবে। ভারতীয় সরকারের এক কর্মকর্তা এ তথ্য জানিয়েছেন। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির দুই দিনের জাকার্তা সফরের সময় এই প্রতিরক্ষা সহযোগিতার ঘোষণা আসে। ভারতীয় সূত্রের বরাত দিয়ে জানা গেছে, চুক্তিটির সম্ভাব্য মূল্য প্রায় ৬৩০ মিলিয়ন মার্কিন ডলার। এর মাধ্যমে ইন্দোনেশিয়া ফিলিপাইন ও ভিয়েতনামের পর তৃতীয় দেশ হিসেবে ব্রহ্মোস ক্ষেপণাস্ত্র সংগ্রহে যাচ্ছে। একই সঙ্গে দেশটি ভারতের তৈরি অ্যাস্ট্রা ক্ষেপণাস্ত্রের প্রথম বিদেশি ক্রেতা হতে যাচ্ছে। ব্রহ্মোস বিশ্বের অন্যতম দ্রুতগতির সুপারসনিক ক্রুজ ক্ষেপণাস্ত্র, যা স্থল, সমুদ্র ও আকাশ—তিনটি প্ল্যাটফর্ম থেকেই উৎক্ষেপণ করা যায়। অন্যদিকে অ্যাস্ট্রা ক্ষেপণাস্ত্র ইন্দোনেশিয়ার রাশিয়ান নির্মিত সুখোই যুদ্ধবিমানে সংযুক্ত করা হবে বলে জানিয়েছে ভারতীয় কর্মকর্তারা। এই চুক্তির পাশাপাশি ভারত ও ইন্দোনেশিয়া সামুদ্রিক নিরাপত্তা, বন্দর উন্নয়ন, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (AI), গুরুত্বপূর্ণ খনিজ সম্পদ এবং প্রতিরক্ষা শিল্পে সহযোগিতা বাড়াতে একাধিক সমঝোতা স্মারক সই করেছে। উভয় দেশ তাদের সম্পর্ককে ‘সমন্বিত কৌশলগত অংশীদারত্ব’ (Comprehensive Strategic Partnership)-এর নতুন পর্যায়ে উন্নীত করার ঘোষণা দিয়েছে। বিশ্লেষকদের মতে নয়, বরং চুক্তির প্রেক্ষাপটই ইঙ্গিত দিচ্ছে—ইন্দো-প্যাসিফিক অঞ্চলে চীনের ক্রমবর্ধমান সামরিক ও কৌশলগত প্রভাবের মধ্যে ভারত দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার দেশগুলোর সঙ্গে প্রতিরক্ষা সহযোগিতা বাড়ানোর নীতি অনুসরণ করছে। ভারতের ‘অ্যাক্ট ইস্ট’ নীতির অংশ হিসেবে সাম্প্রতিক বছরগুলোতে ভিয়েতনাম, ফিলিপাইন এবং এখন ইন্দোনেশিয়ার সঙ্গে প্রতিরক্ষা সম্পর্ক উল্লেখযোগ্যভাবে জোরদার হয়েছে।
ইন্দোনেশিয়ার পূর্বাঞ্চলের উত্তর মালুকু প্রদেশের উপকূলে শুক্রবার সকালে ৬ দশমিক ২ মাত্রার একটি শক্তিশালী ভূমিকম্প আঘাত হেনেছে। ভূমিকম্পের পর এলাকাজুড়ে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়লেও তাৎক্ষণিকভাবে কোনো হতাহত বা বড় ধরনের ক্ষয়ক্ষতির খবর পাওয়া যায়নি। দেশটির আবহাওয়া, জলবায়ু ও ভূ-পদার্থবিজ্ঞান সংস্থা (বিএমকেজি) জানিয়েছে, এ ভূমিকম্পের কারণে সুনামির কোনো আশঙ্কা নেই। যুক্তরাষ্ট্রের ভূতাত্ত্বিক জরিপ সংস্থা (ইউএসজিএস) জানায়, স্থানীয় সময় সকাল ১১টা ৩১ মিনিটে ভূমিকম্পটি অনুভূত হয়। এর উৎপত্তিস্থল ছিল উত্তর মালুকুর তোবেলো এলাকার প্রায় ৫৮ কিলোমিটার পশ্চিমে এবং ভূপৃষ্ঠের প্রায় ১২০ কিলোমিটার গভীরে। গভীরতায় সংঘটিত হওয়ায় এর প্রভাব তুলনামূলকভাবে সীমিত ছিল বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে। ভূমিকম্পের কম্পন উত্তর মালুকুর বিভিন্ন এলাকায় অনুভূত হয়। অনেক বাসিন্দা নিরাপত্তার জন্য ঘরবাড়ি ও ভবন থেকে দ্রুত বাইরে বেরিয়ে আসেন। তবে স্থানীয় কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, এখন পর্যন্ত কোনো ভবন ধসে পড়া, অবকাঠামোর বড় ধরনের ক্ষতি কিংবা প্রাণহানির তথ্য পাওয়া যায়নি। সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলো পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করছে এবং প্রয়োজনীয় তথ্য সংগ্রহ অব্যাহত রেখেছে। ইন্দোনেশিয়ার আবহাওয়া, জলবায়ু ও ভূ-পদার্থবিজ্ঞান সংস্থা (বিএমকেজি) স্পষ্টভাবে জানিয়েছে, এই ভূমিকম্পের ফলে সুনামি সৃষ্টির কোনো সম্ভাবনা নেই। তাই উপকূলীয় এলাকায় সুনামি সতর্কতা জারি করা হয়নি। তবে সম্ভাব্য পরাঘাতের বিষয়টি মাথায় রেখে জনগণকে সতর্ক থাকার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। প্রশান্ত মহাসাগরীয় ‘রিং অব ফায়ার’-এর ওপর অবস্থিত হওয়ায় ইন্দোনেশিয়ায় প্রায়ই ভূমিকম্প ও আগ্নেয়গিরির অগ্ন্যুৎপাত ঘটে। দেশটির বিভিন্ন অঞ্চলে নিয়মিত ভূমিকম্প অনুভূত হওয়ায় দুর্যোগ মোকাবিলায় কর্তৃপক্ষ সবসময় নজরদারি অব্যাহত রাখে। শুক্রবারের এই ভূমিকম্পের পর উত্তর মালুকু অঞ্চলে উদ্ধারকারী সংস্থা, স্থানীয় প্রশাসন ও দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা কর্তৃপক্ষ পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করছে। সংবাদ প্রকাশের সময় পর্যন্ত কোনো প্রাণহানি বা উল্লেখযোগ্য ক্ষয়ক্ষতির আনুষ্ঠানিক তথ্য প্রকাশ করা হয়নি এবং সুনামিরও কোনো সতর্কতা জারি করা হয়নি।
ইন্দোনেশিয়ার অশান্ত পাপুয়া অঞ্চলে এক মার্কিন বেসামরিক পাইলটকে গুলি করে হত্যার পর তার পরিচালিত বিমানটিতে আগুন ধরিয়ে দেওয়ার ঘটনা ঘটেছে। এ হামলার দায় স্বীকার করেছে অঞ্চলটির স্বাধীনতাকামী সশস্ত্র সংগঠন ওয়েস্ট পাপুয়া ন্যাশনাল লিবারেশন আর্মি (টিপিএনপিবি)। ঘটনাটি নতুন করে পাপুয়া অঞ্চলের দীর্ঘদিনের নিরাপত্তা সংকট ও বিচ্ছিন্নতাবাদী সংঘাতকে সামনে নিয়ে এসেছে। বিবিসি ও দ্য গার্ডিয়ানের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বৃহস্পতিবার (২ জুলাই) হাইল্যান্ড পাপুয়া প্রদেশের ইয়াহুকিমো এলাকায় অবতরণের পর মার্কিন নাগরিক পাইলট নিকোলাস এফ. গোসেলিনকে হত্যা করা হয়। এরপর তার বিমানটিতে আগুন ধরিয়ে দেয় হামলাকারীরা। টিপিএনপিবির মুখপাত্র সেবি সামবোম এক বিবৃতিতে দাবি করেন, তাদের সদস্যরাই এ হামলা চালিয়েছে। তার অভিযোগ, ওই অঞ্চলে বেসামরিক বিমান ব্যবহার করে ইন্দোনেশিয়ার সেনাদের পরিবহন করা হচ্ছিল। সেই কারণেই তারা বিমানটিকে লক্ষ্যবস্তু করেছে। তিনি বলেন, পাপুয়া অঞ্চলে সামরিক কার্যক্রমে সহায়তা করা যেকোনো বেসামরিক বিমান তাদের কাছে বৈধ লক্ষ্য হিসেবে বিবেচিত হবে। ভবিষ্যতেও যদি কোনো বিমান সেনাসদস্য বা সামরিক সরঞ্জাম পরিবহনে ব্যবহৃত হয়, তাহলে সেগুলোর বিরুদ্ধেও একই ধরনের পদক্ষেপ নেওয়া হবে বলে হুঁশিয়ারি দেন তিনি। ইন্দোনেশিয়ার কর্তৃপক্ষও নিশ্চিত করেছে যে ইয়াহুকিমো অঞ্চলের একটি বিমানবন্দরে বিমানটি সম্পূর্ণ পুড়ে যাওয়া অবস্থায় উদ্ধার করা হয়েছে। দেশটির বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষ জানায়, বিমানটি অবতরণের আগে কোনো ধরনের নিরাপত্তা ঝুঁকির তথ্য পাওয়া যায়নি। তবে অবতরণের পরপরই বিমানটির সঙ্গে যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়। কর্তৃপক্ষ আরও জানায়, বিমানটি সাতজন যাত্রী বহনের সক্ষমতাসম্পন্ন ছিল। তবে হামলার সময় সেখানে আর কেউ ছিলেন কি না, সে বিষয়ে তাৎক্ষণিকভাবে বিস্তারিত তথ্য প্রকাশ করা হয়নি। বিমানটি যে বিমানবন্দর থেকে যাত্রা শুরু করেছিল, সেখানকার পরিচালকের প্রাথমিক প্রতিবেদনে পাইলটের মৃত্যুর বিষয়টি উল্লেখ করা হয়েছে বলেও জানিয়েছে ইন্দোনেশিয়ার বেসামরিক বিমান চলাচল অধিদপ্তর। পাইলটের মরদেহ উদ্ধারের বিষয়েও শর্ত দিয়েছে টিপিএনপিবি। সংগঠনটির দাবি, মরদেহ নিতে হলে ইন্দোনেশিয়ার সামরিক বাহিনী বা পুলিশের সদস্যদের ছাড়া বেসামরিক প্রতিনিধিদের এলাকায় প্রবেশ করতে হবে। একই সঙ্গে সংঘাতের রাজনৈতিক সমাধানে ইন্দোনেশিয়া সরকারের প্রতি আলোচনায় বসার আহ্বানও জানিয়েছে তারা। পাপুয়া ইন্দোনেশিয়ার পূর্বাঞ্চলের একটি সম্পদসমৃদ্ধ অঞ্চল। ১৯৬৯ সালে বিতর্কিত এক গণভোটের মাধ্যমে অঞ্চলটি আনুষ্ঠানিকভাবে ইন্দোনেশিয়ার অন্তর্ভুক্ত হওয়ার পর থেকেই সেখানে স্বাধীনতাকামী আন্দোলন এবং নিরাপত্তা বাহিনীর মধ্যে সংঘাত চলছে। বিচ্ছিন্নতাবাদী গোষ্ঠীগুলোর অভিযোগ, এ সংঘাতে বহু বেসামরিক মানুষ প্রাণ হারিয়েছেন এবং বিপুলসংখ্যক বাসিন্দা বাস্তুচ্যুত হয়েছেন। অন্যদিকে ইন্দোনেশিয়া সরকার বলছে, তারা দেশের সার্বভৌমত্ব ও নিরাপত্তা রক্ষায় কাজ করছে। এর আগেও বিদেশি পাইলটদের লক্ষ্য করে হামলার ঘটনা ঘটেছে। ২০২৪ সালে একই সংগঠন নিউজিল্যান্ডের এক পাইলটকে অপহরণ করে প্রায় ১৯ মাস আটক রাখে। দীর্ঘ আলোচনার পর তাকে মুক্তি দেওয়া হয়। সর্বশেষ মার্কিন পাইলট নিহতের ঘটনায় পাপুয়া অঞ্চলের নিরাপত্তা পরিস্থিতি নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।
ইন্দোনেশিয়ায় মানবাধিকারকর্মীর ওপর নৃশংস অ্যাসিড হামলার ঘটনায় চার সেনা কর্মকর্তাকে বিভিন্ন মেয়াদে কারাদণ্ড দিয়েছেন একটি সামরিক আদালত। বুধবার প্রকাশিত আল জাজিরার প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে। রায়ে বিচারক জানান, দোষী সাব্যস্ত চার কর্মকর্তাকে যথাক্রমে তিন বছর, আড়াই বছর, দুই বছর ও দেড় বছর করে কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে। তারা দেশটির সেনাবাহিনীর স্ট্র্যাটেজিক ইন্টেলিজেন্স এজেন্সির সদস্য। মামলার তথ্য অনুযায়ী, কমিশন ফর মিসিং পারসন্স অ্যান্ড ভিকটিমস অব ভায়োলেন্সের (কন্ট্রাস) উপ-সমন্বয়ক আন্দ্রি ইউনুসের ওপর পূর্বপরিকল্পিতভাবে হামলা চালানোর দায়ে তাদের দোষী সাব্যস্ত করা হয়। গত এপ্রিলে রাজধানী জাকার্তায় এই মামলার বিচার শুরু হয়। এর আগে গত মার্চে জাকার্তার সড়কে মোটরসাইকেল চালানোর সময় আন্দ্রি ইউনুসের ওপর হামলা হয়। আরেকটি মোটরসাইকেলে থাকা দুই ব্যক্তি তার দিকে অ্যাসিড ছুড়ে মারলে তিনি একটি চোখের দৃষ্টিশক্তি হারান। পাশাপাশি তার মুখ ও শরীরের ২০ শতাংশের বেশি অংশ পুড়ে যায়। ঘটনাটি দেশজুড়ে তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি করে। সমালোচনার মুখে সামরিক গোয়েন্দা সংস্থাটির প্রধান পদত্যাগ করেন, যদিও এ বিষয়ে আনুষ্ঠানিক কোনো কারণ জানানো হয়নি। এ হামলার নিন্দা জানিয়েছে জাতিসংঘ। সংস্থাটির মানবাধিকারবিষয়ক হাই কমিশনার ভলকার তুর্ক ঘটনাটিকে ‘কাপুরুষোচিত’ বলে মন্তব্য করেছেন। একইসঙ্গে জাতিসংঘের বিশেষ দূত মেরি ললার এটিকে ‘ভয়াবহ’ আখ্যা দেন। উল্লেখ্য, আন্দ্রি ইউনুস ইন্দোনেশিয়ায় বেসামরিক প্রশাসনে সামরিক বাহিনীর ভূমিকা বাড়ানোর বিরোধিতা করে আসছিলেন। মানবাধিকার সংগঠনগুলোর অভিযোগ, দেশটিতে এ ধরনের হামলার ঘটনায় শাস্তির নজির খুবই কম। এ কারণে তিনি শুরু থেকেই সামরিক আদালতের পরিবর্তে বেসামরিক আদালতে বিচার চেয়েছিলেন এবং আদালতের ওপর অনাস্থা জানিয়ে কোনো শুনানিতে উপস্থিত হননি। বিশ্লেষকদের মতে, এই রায় ইন্দোনেশিয়ায় মানবাধিকার পরিস্থিতি এবং সামরিক বাহিনীর জবাবদিহিতা নিয়ে নতুন করে আলোচনা সৃষ্টি করবে।
দক্ষিণ লেবাননে শান্তিরক্ষা মিশনে নিয়োজিত তিন ইন্দোনেশীয় সেনার নিহতের ঘটনায় বিশ্বজুড়ে তীব্র প্রতিক্রিয়ার সৃষ্টি হয়েছে। উদ্ভূত পরিস্থিতিতে আন্তর্জাতিক মহলে উদ্বেগ প্রকাশ করে জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদের জরুরি বৈঠক আহ্বান করেছে ইন্দোনেশিয়া। লেবাননে জাতিসংঘের অন্তর্বর্তীকালীন বাহিনী (ইউনিফিল) জানিয়েছে, সোমবার বানি হাইয়ানের কাছে একটি শক্তিশালী বিস্ফোরণে দুজন শান্তিরক্ষী নিহত এবং দুজন আহত হন। এর আগে রবিবার গভীর রাতে আদচিত আল-কুসায়রের কাছে ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় আরও একজন ইন্দোনেশীয় সৈন্য প্রাণ হারান। এই হামলায় অন্য এক শান্তিরক্ষী গুরুতরভাবে আহত হয়েছেন বলে নিশ্চিত করা হয়েছে। শান্তিরক্ষীদের ওপর এমন বর্বরোচিত হামলার ঘটনায় মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধরত পক্ষগুলোকে ‘আন্তর্জাতিক মানবিক আইন’ মেনে চলার কঠোর বার্তা দিয়েছে জাকার্তা। ইন্দোনেশিয়ার প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র রিকো রিকার্ডো সিরাইত এক বিবৃতিতে জানান, শান্তিরক্ষী বাহিনীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এখন সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার। সংঘাতরত পক্ষগুলোকে অবশ্যই শান্তিরক্ষীদের সুরক্ষা দিতে হবে। হামলাগুলোকে ‘জঘন্য’ হিসেবে আখ্যায়িত করেছেন ইন্দোনেশিয়ার পররাষ্ট্রমন্ত্রী সুগিওনো। তিনি ইতিমধ্যে জাতিসংঘের মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেসের সঙ্গে এ বিষয়ে আলোচনা করেছেন এবং দ্রুত নিরাপত্তা পরিষদের বৈঠক ডাকার অনুরোধ জানিয়েছেন। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্স-এ দেওয়া এক বার্তায় তিনি সাফ জানিয়ে দিয়েছেন, জাতিসংঘ শান্তিরক্ষীদের নিরাপত্তা ও সুরক্ষা নিয়ে কোনো প্রকার আপস করা হবে না।
যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন। মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়। তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।” ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে। প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন। ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন। প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল। মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি। রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।
যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে। এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন। নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি। উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।” বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে। এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে। শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়। উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত। এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।
২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো। প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে। এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে। অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে। স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে। সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে। সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।
যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে এক মর্মান্তিক ও লোমহর্ষক ঘটনার জন্ম দিয়েছে দুই তরুণী বোন। দিনদুপুরে ক্যারোলিন ‘কারো’ পেনা নামের ৩২ বছর বয়সী এক নারীকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগে তাদের গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। নিহত নারী পাঁচ সন্তানের জননী ছিলেন। তবে সবচেয়ে শিউরে ওঠার মতো বিষয় হলো, গ্রেপ্তারের সময় অভিযুক্তদের চেহারায় অনুশোচনার সামান্যতম ছাপ তো ছিলই না, উল্টো তাদের মুখে পৈশাচিক হাসি দেখা গেছে। মেক্সিকো সীমান্তের কাছের শহর দেল রিও থেকে বৃহস্পতিবার বিকেলে পুলিশ তাদের হাতকড়া পরিয়ে নিয়ে যাওয়ার সময় এই দৃশ্য ক্যামেরায় ধরা পড়ে। আরও পড়ুন... ‘ফোনটা ধরতে পারলে হয়তো তাকে বাঁচাতে পারতাম’- টেক্সাসে পাঁচ সন্তানের মাকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা, দুই বোনসহ তিনজন গ্রেপ্তার পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নিহত ক্যারোলিনকে বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় দুপুর ২টার পরপরই গুরুতর জখম অবস্থায় ভাল ভার্দে রিজিওনাল মেডিকেল সেন্টারে নেওয়া হয়। তার শরীরে একাধিক ছুরিকাঘাতের চিহ্ন ছিল। ঘটনাস্থলের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, একটি সনিক ড্রাইভ-থ্রু রেস্তোরাঁর বাইরে রক্তাক্ত অবস্থায় ক্যারোলিন তার তিন হামলাকারীর মুখোমুখি দাঁড়িয়ে আছেন। পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য সান আন্তোনিওর একটি হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছায় এবং প্রায় ৩৫ হাজার বাসিন্দার শহর দেল রিওতে অভিযান চালিয়ে হামলাকারীদের শনাক্ত করে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া গ্রেপ্তারের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, ২১ বছর বয়সী কিটি মিয়া দিয়াজ খালি পায়ে হেঁটে যাওয়ার সময় পুলিশের গাড়িতে ওঠার আগে মৃদু হাসছেন। কিটি নিজেও এক শিশুপুত্রের মা। অন্যদিকে, তার ১৯ বছর বয়সী ছোট বোন আমায়া কুকি দিয়াজ ক্যামেরার দিকে তাকিয়ে নির্লজ্জভাবে দাঁত বের করে হাসতে থাকেন। ▶️ টেক্সাসে নিজের মাকে নির্মমভাবে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুই মেয়ে | এমনকি ভিডিও ধারণকারীকে ব্যঙ্গাত্মক সুরে ‘রেকর্ড করা বন্ধ করো’ বলেও চিৎকার করতে শোনা যায় তাকে। দেল রিও পুলিশ জানিয়েছে, এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ২১ বছর বয়সী কায়ান্দ্রা রেনি ফাজ নামের তৃতীয় আরেক নারীকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে ঠিক কী কারণে এই নারকীয় হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে, সে বিষয়ে পুলিশ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি।
বাংলাদেশের আবাসন শিল্পে এক নতুন ইতিহাস রচিত হলো। রাজধানীর তেজগাঁও শিল্প এলাকায় নির্মিত দেশের প্রথম ৪০ তলা বিশিষ্ট আকাশচুম্বী বাণিজ্যিক ভবন ‘শান্তা পিনাকল’ আনুষ্ঠানিকভাবে হস্তান্তর করেছে শান্তা হোল্ডিংস। ৫০০ ফুট উচ্চতার এই আইকনিক ভবনটি এখন দেশের সর্বোচ্চ সম্পন্ন হওয়া ইমারত। গত শনিবার (১৮ এপ্রিল) ভবনের ৪০তম তলায় আয়োজিত এক আড়ম্বরপূর্ণ অনুষ্ঠানের মাধ্যমে এটি হস্তান্তর করা হয়। অনুষ্ঠানে শান্তা হোল্ডিংসের চেয়ারম্যান খন্দকার মনির উদ্দিন, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, স্থপতি এহসান খানসহ প্রতিষ্ঠানের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা, ভূমি মালিক এবং গ্রাহকরা উপস্থিত ছিলেন। স্থাপত্যশৈলী ও আধুনিক প্রযুক্তি:‘শান্তা পিনাকল’ শুধুমাত্র উচ্চতার কারণেই অনন্য নয়, বরং এটি আধুনিক নির্মাণশৈলী ও প্রযুক্তির এক অনন্য সমন্বয়। এটি বাংলাদেশের প্রথম ভবন যা পরিবেশবান্ধব স্থাপত্যের জন্য আন্তর্জাতিক ‘লিড প্ল্যাটিনাম’ (LEED Platinum) স্বীকৃতি পেয়েছে। সিঙ্গাপুরভিত্তিক বিখ্যাত ইঞ্জিনিয়ারিং প্রতিষ্ঠান ‘মেইনহার্ট’ (Meinhardt) এর সহায়তায় ভবনটির স্ট্রাকচারাল ডিজাইন এবং ভূমিকম্প প্রতিরোধক ব্যবস্থা নিশ্চিত করা হয়েছে। বিশেষ বৈশিষ্ট্যসমূহ: উন্নত লিফট ব্যবস্থা: ভবনটিতে রয়েছে ৮টি দ্রুতগামী লিফট, যা প্রতি সেকেন্ডে ৪ মিটার উচ্চতায় উঠতে সক্ষম। এটি দেশের দ্রুততম ভার্টিক্যাল ট্রান্সপোর্ট ব্যবস্থা। পরিবেশ ও সুরক্ষা: ভবনে ব্যবহৃত হয়েছে ৩৬ মিমি পুরুত্বের ডাবল গ্লেজড গ্লাস, যা তাপ ও শব্দ নিরোধক। এছাড়া এটি দেশের প্রথম ‘উইন্ড টানেল টেস্ট’ করা ভবন, যা প্রতিকূল আবহাওয়ায় এর স্থায়িত্ব নিশ্চিত করে। আইবিএমএস প্রযুক্তি: পুরো ভবনটি একটি ইন্টেলিজেন্ট বিল্ডিং ম্যানেজমেন্ট সিস্টেম (iBMS) দ্বারা পরিচালিত, যা সার্বক্ষণিক নিরাপত্তা ও জ্বালানি সাশ্রয় নিশ্চিত করবে। অগ্নি নিরাপত্তা: আন্তর্জাতিক এনএফপিএ (NFPA) স্ট্যান্ডার্ড অনুসরণ করে এখানে অত্যাধুনিক অগ্নিনির্বাপক ব্যবস্থা স্থাপন করা হয়েছে। অনুষ্ঠানে শান্তা হোল্ডিংসের পক্ষ থেকে জানানো হয়, ‘শান্তা পিনাকল’ হস্তান্তর দেশের রিয়েল এস্টেট খাতের সক্ষমতার এক বড় প্রমাণ। এটি শুধুমাত্র তেজগাঁও নয়, বরং পুরো ঢাকার বাণিজ্যিক পরিবেশকে বিশ্বমানের স্তরে নিয়ে যাবে। দেশের ইতিহাসে প্রথমবার অ্যালুমিনিয়াম ফর্মওয়ার্ক ব্যবহারের মাধ্যমে মাত্র সাত দিনে এক একটি তলার ছাদ ঢালাইয়ের রেকর্ড গড়ে এই প্রকল্পের কাজ সম্পন্ন করা হয়েছে। ঢাকার আকাশসীমায় নতুন এই ল্যান্ডমার্ক দেশের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি এবং আধুনিক নগরায়নের এক শক্তিশালী প্রতীক হিসেবে দাঁড়িয়ে আছে।