ইন্দোনেশিয়ার অশান্ত পাপুয়া অঞ্চলে এক মার্কিন বেসামরিক পাইলটকে গুলি করে হত্যার পর তার পরিচালিত বিমানটিতে আগুন ধরিয়ে দেওয়ার ঘটনা ঘটেছে। এ হামলার দায় স্বীকার করেছে অঞ্চলটির স্বাধীনতাকামী সশস্ত্র সংগঠন ওয়েস্ট পাপুয়া ন্যাশনাল লিবারেশন আর্মি (টিপিএনপিবি)। ঘটনাটি নতুন করে পাপুয়া অঞ্চলের দীর্ঘদিনের নিরাপত্তা সংকট ও বিচ্ছিন্নতাবাদী সংঘাতকে সামনে নিয়ে এসেছে।
বিবিসি ও দ্য গার্ডিয়ানের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বৃহস্পতিবার (২ জুলাই) হাইল্যান্ড পাপুয়া প্রদেশের ইয়াহুকিমো এলাকায় অবতরণের পর মার্কিন নাগরিক পাইলট নিকোলাস এফ. গোসেলিনকে হত্যা করা হয়। এরপর তার বিমানটিতে আগুন ধরিয়ে দেয় হামলাকারীরা।
টিপিএনপিবির মুখপাত্র সেবি সামবোম এক বিবৃতিতে দাবি করেন, তাদের সদস্যরাই এ হামলা চালিয়েছে। তার অভিযোগ, ওই অঞ্চলে বেসামরিক বিমান ব্যবহার করে ইন্দোনেশিয়ার সেনাদের পরিবহন করা হচ্ছিল। সেই কারণেই তারা বিমানটিকে লক্ষ্যবস্তু করেছে।
তিনি বলেন, পাপুয়া অঞ্চলে সামরিক কার্যক্রমে সহায়তা করা যেকোনো বেসামরিক বিমান তাদের কাছে বৈধ লক্ষ্য হিসেবে বিবেচিত হবে। ভবিষ্যতেও যদি কোনো বিমান সেনাসদস্য বা সামরিক সরঞ্জাম পরিবহনে ব্যবহৃত হয়, তাহলে সেগুলোর বিরুদ্ধেও একই ধরনের পদক্ষেপ নেওয়া হবে বলে হুঁশিয়ারি দেন তিনি।
ইন্দোনেশিয়ার কর্তৃপক্ষও নিশ্চিত করেছে যে ইয়াহুকিমো অঞ্চলের একটি বিমানবন্দরে বিমানটি সম্পূর্ণ পুড়ে যাওয়া অবস্থায় উদ্ধার করা হয়েছে। দেশটির বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষ জানায়, বিমানটি অবতরণের আগে কোনো ধরনের নিরাপত্তা ঝুঁকির তথ্য পাওয়া যায়নি। তবে অবতরণের পরপরই বিমানটির সঙ্গে যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়।
কর্তৃপক্ষ আরও জানায়, বিমানটি সাতজন যাত্রী বহনের সক্ষমতাসম্পন্ন ছিল। তবে হামলার সময় সেখানে আর কেউ ছিলেন কি না, সে বিষয়ে তাৎক্ষণিকভাবে বিস্তারিত তথ্য প্রকাশ করা হয়নি। বিমানটি যে বিমানবন্দর থেকে যাত্রা শুরু করেছিল, সেখানকার পরিচালকের প্রাথমিক প্রতিবেদনে পাইলটের মৃত্যুর বিষয়টি উল্লেখ করা হয়েছে বলেও জানিয়েছে ইন্দোনেশিয়ার বেসামরিক বিমান চলাচল অধিদপ্তর।
পাইলটের মরদেহ উদ্ধারের বিষয়েও শর্ত দিয়েছে টিপিএনপিবি। সংগঠনটির দাবি, মরদেহ নিতে হলে ইন্দোনেশিয়ার সামরিক বাহিনী বা পুলিশের সদস্যদের ছাড়া বেসামরিক প্রতিনিধিদের এলাকায় প্রবেশ করতে হবে। একই সঙ্গে সংঘাতের রাজনৈতিক সমাধানে ইন্দোনেশিয়া সরকারের প্রতি আলোচনায় বসার আহ্বানও জানিয়েছে তারা।
পাপুয়া ইন্দোনেশিয়ার পূর্বাঞ্চলের একটি সম্পদসমৃদ্ধ অঞ্চল। ১৯৬৯ সালে বিতর্কিত এক গণভোটের মাধ্যমে অঞ্চলটি আনুষ্ঠানিকভাবে ইন্দোনেশিয়ার অন্তর্ভুক্ত হওয়ার পর থেকেই সেখানে স্বাধীনতাকামী আন্দোলন এবং নিরাপত্তা বাহিনীর মধ্যে সংঘাত চলছে। বিচ্ছিন্নতাবাদী গোষ্ঠীগুলোর অভিযোগ, এ সংঘাতে বহু বেসামরিক মানুষ প্রাণ হারিয়েছেন এবং বিপুলসংখ্যক বাসিন্দা বাস্তুচ্যুত হয়েছেন। অন্যদিকে ইন্দোনেশিয়া সরকার বলছে, তারা দেশের সার্বভৌমত্ব ও নিরাপত্তা রক্ষায় কাজ করছে।
এর আগেও বিদেশি পাইলটদের লক্ষ্য করে হামলার ঘটনা ঘটেছে। ২০২৪ সালে একই সংগঠন নিউজিল্যান্ডের এক পাইলটকে অপহরণ করে প্রায় ১৯ মাস আটক রাখে। দীর্ঘ আলোচনার পর তাকে মুক্তি দেওয়া হয়। সর্বশেষ মার্কিন পাইলট নিহতের ঘটনায় পাপুয়া অঞ্চলের নিরাপত্তা পরিস্থিতি নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।
যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন। মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়। তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।” ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে। প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন। ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন। প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল। মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি। রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।
যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে। এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন। নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি। উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।” বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে। এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে। শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়। উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত। এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।
২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো। প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে। এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে। অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে। স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে। সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে। সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।
যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে এক মর্মান্তিক ও লোমহর্ষক ঘটনার জন্ম দিয়েছে দুই তরুণী বোন। দিনদুপুরে ক্যারোলিন ‘কারো’ পেনা নামের ৩২ বছর বয়সী এক নারীকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগে তাদের গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। নিহত নারী পাঁচ সন্তানের জননী ছিলেন। তবে সবচেয়ে শিউরে ওঠার মতো বিষয় হলো, গ্রেপ্তারের সময় অভিযুক্তদের চেহারায় অনুশোচনার সামান্যতম ছাপ তো ছিলই না, উল্টো তাদের মুখে পৈশাচিক হাসি দেখা গেছে। মেক্সিকো সীমান্তের কাছের শহর দেল রিও থেকে বৃহস্পতিবার বিকেলে পুলিশ তাদের হাতকড়া পরিয়ে নিয়ে যাওয়ার সময় এই দৃশ্য ক্যামেরায় ধরা পড়ে। আরও পড়ুন... ‘ফোনটা ধরতে পারলে হয়তো তাকে বাঁচাতে পারতাম’- টেক্সাসে পাঁচ সন্তানের মাকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা, দুই বোনসহ তিনজন গ্রেপ্তার পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নিহত ক্যারোলিনকে বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় দুপুর ২টার পরপরই গুরুতর জখম অবস্থায় ভাল ভার্দে রিজিওনাল মেডিকেল সেন্টারে নেওয়া হয়। তার শরীরে একাধিক ছুরিকাঘাতের চিহ্ন ছিল। ঘটনাস্থলের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, একটি সনিক ড্রাইভ-থ্রু রেস্তোরাঁর বাইরে রক্তাক্ত অবস্থায় ক্যারোলিন তার তিন হামলাকারীর মুখোমুখি দাঁড়িয়ে আছেন। পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য সান আন্তোনিওর একটি হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছায় এবং প্রায় ৩৫ হাজার বাসিন্দার শহর দেল রিওতে অভিযান চালিয়ে হামলাকারীদের শনাক্ত করে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া গ্রেপ্তারের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, ২১ বছর বয়সী কিটি মিয়া দিয়াজ খালি পায়ে হেঁটে যাওয়ার সময় পুলিশের গাড়িতে ওঠার আগে মৃদু হাসছেন। কিটি নিজেও এক শিশুপুত্রের মা। অন্যদিকে, তার ১৯ বছর বয়সী ছোট বোন আমায়া কুকি দিয়াজ ক্যামেরার দিকে তাকিয়ে নির্লজ্জভাবে দাঁত বের করে হাসতে থাকেন। ▶️ টেক্সাসে নিজের মাকে নির্মমভাবে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুই মেয়ে | এমনকি ভিডিও ধারণকারীকে ব্যঙ্গাত্মক সুরে ‘রেকর্ড করা বন্ধ করো’ বলেও চিৎকার করতে শোনা যায় তাকে। দেল রিও পুলিশ জানিয়েছে, এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ২১ বছর বয়সী কায়ান্দ্রা রেনি ফাজ নামের তৃতীয় আরেক নারীকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে ঠিক কী কারণে এই নারকীয় হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে, সে বিষয়ে পুলিশ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি।
বাংলাদেশের আবাসন শিল্পে এক নতুন ইতিহাস রচিত হলো। রাজধানীর তেজগাঁও শিল্প এলাকায় নির্মিত দেশের প্রথম ৪০ তলা বিশিষ্ট আকাশচুম্বী বাণিজ্যিক ভবন ‘শান্তা পিনাকল’ আনুষ্ঠানিকভাবে হস্তান্তর করেছে শান্তা হোল্ডিংস। ৫০০ ফুট উচ্চতার এই আইকনিক ভবনটি এখন দেশের সর্বোচ্চ সম্পন্ন হওয়া ইমারত। গত শনিবার (১৮ এপ্রিল) ভবনের ৪০তম তলায় আয়োজিত এক আড়ম্বরপূর্ণ অনুষ্ঠানের মাধ্যমে এটি হস্তান্তর করা হয়। অনুষ্ঠানে শান্তা হোল্ডিংসের চেয়ারম্যান খন্দকার মনির উদ্দিন, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, স্থপতি এহসান খানসহ প্রতিষ্ঠানের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা, ভূমি মালিক এবং গ্রাহকরা উপস্থিত ছিলেন। স্থাপত্যশৈলী ও আধুনিক প্রযুক্তি:‘শান্তা পিনাকল’ শুধুমাত্র উচ্চতার কারণেই অনন্য নয়, বরং এটি আধুনিক নির্মাণশৈলী ও প্রযুক্তির এক অনন্য সমন্বয়। এটি বাংলাদেশের প্রথম ভবন যা পরিবেশবান্ধব স্থাপত্যের জন্য আন্তর্জাতিক ‘লিড প্ল্যাটিনাম’ (LEED Platinum) স্বীকৃতি পেয়েছে। সিঙ্গাপুরভিত্তিক বিখ্যাত ইঞ্জিনিয়ারিং প্রতিষ্ঠান ‘মেইনহার্ট’ (Meinhardt) এর সহায়তায় ভবনটির স্ট্রাকচারাল ডিজাইন এবং ভূমিকম্প প্রতিরোধক ব্যবস্থা নিশ্চিত করা হয়েছে। বিশেষ বৈশিষ্ট্যসমূহ: উন্নত লিফট ব্যবস্থা: ভবনটিতে রয়েছে ৮টি দ্রুতগামী লিফট, যা প্রতি সেকেন্ডে ৪ মিটার উচ্চতায় উঠতে সক্ষম। এটি দেশের দ্রুততম ভার্টিক্যাল ট্রান্সপোর্ট ব্যবস্থা। পরিবেশ ও সুরক্ষা: ভবনে ব্যবহৃত হয়েছে ৩৬ মিমি পুরুত্বের ডাবল গ্লেজড গ্লাস, যা তাপ ও শব্দ নিরোধক। এছাড়া এটি দেশের প্রথম ‘উইন্ড টানেল টেস্ট’ করা ভবন, যা প্রতিকূল আবহাওয়ায় এর স্থায়িত্ব নিশ্চিত করে। আইবিএমএস প্রযুক্তি: পুরো ভবনটি একটি ইন্টেলিজেন্ট বিল্ডিং ম্যানেজমেন্ট সিস্টেম (iBMS) দ্বারা পরিচালিত, যা সার্বক্ষণিক নিরাপত্তা ও জ্বালানি সাশ্রয় নিশ্চিত করবে। অগ্নি নিরাপত্তা: আন্তর্জাতিক এনএফপিএ (NFPA) স্ট্যান্ডার্ড অনুসরণ করে এখানে অত্যাধুনিক অগ্নিনির্বাপক ব্যবস্থা স্থাপন করা হয়েছে। অনুষ্ঠানে শান্তা হোল্ডিংসের পক্ষ থেকে জানানো হয়, ‘শান্তা পিনাকল’ হস্তান্তর দেশের রিয়েল এস্টেট খাতের সক্ষমতার এক বড় প্রমাণ। এটি শুধুমাত্র তেজগাঁও নয়, বরং পুরো ঢাকার বাণিজ্যিক পরিবেশকে বিশ্বমানের স্তরে নিয়ে যাবে। দেশের ইতিহাসে প্রথমবার অ্যালুমিনিয়াম ফর্মওয়ার্ক ব্যবহারের মাধ্যমে মাত্র সাত দিনে এক একটি তলার ছাদ ঢালাইয়ের রেকর্ড গড়ে এই প্রকল্পের কাজ সম্পন্ন করা হয়েছে। ঢাকার আকাশসীমায় নতুন এই ল্যান্ডমার্ক দেশের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি এবং আধুনিক নগরায়নের এক শক্তিশালী প্রতীক হিসেবে দাঁড়িয়ে আছে।
তুরস্কে সড়ক দুর্ঘটনায় আহত এক ব্যক্তিকে উদ্ধার করতে গিয়ে বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে প্রাণ হারিয়েছেন ২৭ বছর বয়সী এক নববিবাহিত যুবক। বিয়ের মাত্র এক সপ্তাহ পর এবং হানিমুন থেকে ফেরার একদিনের মধ্যেই ঘটে এই মর্মান্তিক ঘটনা। ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম দ্য ইউএস সান জানিয়েছে, নিহত যুবকের নাম ফুরকান আলান। পরিবারের সদস্যদের ভাষ্য, তিনি এমন একজন মানুষ ছিলেন, যিনি বিপদে কাউকে দেখলে কখনো পাশ কাটিয়ে চলে যেতে পারতেন না। সেই মানবিকতাই শেষ পর্যন্ত তার জীবনের মূল্য হয়ে দাঁড়ায়। প্রতিবেদন অনুযায়ী, দুর্ঘটনাটি তুরস্কের উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলের বুরসা প্রদেশের মুদানিয়া এলাকায় ঘটে। ২৯ বছর বয়সী ওনুর উসলো নামের এক চালক গাড়ির নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে একটি বিদ্যুতের খুঁটিতে ধাক্কা দেন। এতে খুঁটিটি ভেঙে পড়ে এবং উচ্চ ভোল্টেজের বিদ্যুৎ লাইন ছিঁড়ে সড়কের ওপর পড়ে যায়। এ সময় নিজের গাড়িতে ওই পথ দিয়ে যাচ্ছিলেন ফুরকান আলান। দুর্ঘটনা দেখে তিনি গাড়ি থামিয়ে আহত চালককে সহায়তা করতে এগিয়ে যান। তিনি জরুরি সেবা বিভাগে ফোন করেন এবং আহত ব্যক্তিকে প্রাথমিকভাবে সাহায্য করার চেষ্টা করছিলেন। পুলিশের প্রাথমিক তদন্তে জানা যায়, ফোনে কথা বলতে বলতে আহত ব্যক্তির কাছে যাওয়ার সময় ফুরকান অসাবধানতাবশত সড়কে পড়ে থাকা উচ্চ ভোল্টেজের বৈদ্যুতিক তারের ওপর পা দেন। সঙ্গে সঙ্গে তিনি বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হন। খবর পেয়ে জরুরি উদ্ধারকর্মী ও চিকিৎসকরা দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছান। তারা আহত চালক এবং ফুরকান দুজনকেই উদ্ধারের চেষ্টা করেন। তবে চিকিৎসকেরা ঘটনাস্থলেই ফুরকানকে মৃত ঘোষণা করেন। অন্যদিকে আহত চালককে প্রাথমিক চিকিৎসা দিয়ে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। তার চিকিৎসা চলছে। ঘটনার পর পুলিশ ও প্রসিকিউটর ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন। তদন্ত শেষে ময়নাতদন্তের জন্য ফুরকানের মরদেহ মুদানিয়া স্টেট হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়। স্থানীয় গণমাধ্যমের তথ্যমতে, ফুরকান মাত্র এক সপ্তাহ আগে বিয়ে করেছিলেন। স্ত্রীকে নিয়ে হানিমুন শেষে ঘটনার মাত্র একদিন আগে বুরসায় ফিরেছিলেন। দুর্ঘটনার দিন তিনি কর্মস্থল থেকে নিজের ভাইকে আনতে যাচ্ছিলেন। ফুরকানের পরিবার জানিয়েছে, তিনি সব সময় অন্যের পাশে দাঁড়াতে চেষ্টা করতেন। তাদের ভাষায়, "তিনি এমন একজন মানুষ ছিলেন, যিনি বিপদে কাউকে ফেলে রেখে চলে যেতে পারতেন না। অন্যরা যেখানে হয়তো চলে যেত, সেখানে তিনি থেমে সাহায্যের হাত বাড়িয়েছিলেন।" এই হৃদয়বিদারক ঘটনার পর বুরসায় তার জানাজা ও দাফন সম্পন্ন হয়েছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও অনেকেই তার মানবিকতা ও আত্মত্যাগের প্রশংসা করেছেন। বিশেষজ্ঞরা মনে করিয়ে দেন, সড়ক দুর্ঘটনার পর যদি বিদ্যুতের খুঁটি বা বৈদ্যুতিক তার ক্ষতিগ্রস্ত হয়, তাহলে উদ্ধারকাজে এগিয়ে যাওয়ার আগে অবশ্যই নিরাপদ দূরত্ব বজায় রাখতে হবে এবং বিদ্যুৎ সরবরাহ বন্ধ না হওয়া পর্যন্ত ছিঁড়ে পড়া তারের কাছাকাছি যাওয়া থেকে বিরত থাকতে হবে। কারণ উচ্চ ভোল্টেজের বিদ্যুৎ লাইন অত্যন্ত প্রাণঘাতী হতে পারে।
ইরাকে চলমান দুর্নীতিবিরোধী অভিযানে দেশটির সংসদ সদস্য হিন্দ আল-আব্বাসির বাড়িতে তল্লাশি চালিয়ে বিপুল পরিমাণ নগদ অর্থ ও স্বর্ণ উদ্ধারের দাবি আন্তর্জাতিক গণমাধ্যম ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছে। বিভিন্ন প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, অভিযানে প্রায় ৫৭ মিলিয়ন মার্কিন ডলার নগদ অর্থ এবং ২৭ কেজি স্বর্ণ উদ্ধার করা হয়েছে। একই সঙ্গে সামাজিক মাধ্যমে আরও দাবি করা হচ্ছে, তল্লাশির সময় স্বর্ণ দিয়ে তৈরি কিছু ব্যক্তিগত সামগ্রীও পাওয়া গেছে। ঘটনাটি সামনে আসার পর ইরাকজুড়ে নতুন করে দুর্নীতি নিয়ে বিতর্ক শুরু হয়েছে। দেশটির দীর্ঘদিনের রাজনৈতিক অস্থিরতা, প্রশাসনিক দুর্নীতি এবং সরকারি অর্থের অপব্যবহার নিয়ে জনমনে যে ক্ষোভ রয়েছে, এই ঘটনাকে তারই একটি নতুন অধ্যায় হিসেবে দেখছেন অনেক বিশ্লেষক। প্রতিবেদন অনুযায়ী, সাম্প্রতিক সময়ে ইরাক সরকার দুর্নীতির বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান নিয়েছে। সেই ধারাবাহিকতায় রাজধানী বাগদাদসহ বিভিন্ন স্থানে একযোগে অভিযান চালানো হয়। এসব অভিযানে কয়েকজন বর্তমান ও সাবেক সরকারি কর্মকর্তা এবং প্রভাবশালী ব্যক্তির বিরুদ্ধে তদন্ত চলছে। আইনশৃঙ্খলা বাহিনী বিভিন্ন স্থানে তল্লাশি চালিয়ে গুরুত্বপূর্ণ নথি, নগদ অর্থ ও মূল্যবান সম্পদ জব্দ করেছে বলেও জানা গেছে। তবে হিন্দ আল-আব্বাসির বাড়ি থেকে ৫৭ মিলিয়ন ডলার, ২৭ কেজি স্বর্ণ এবং স্বর্ণের তৈরি অন্তর্বাস উদ্ধারের নির্দিষ্ট দাবির বিষয়ে এখন পর্যন্ত ইরাকের সরকার বা সংশ্লিষ্ট তদন্তকারী সংস্থার আনুষ্ঠানিক নিশ্চিতকরণ পাওয়া যায়নি। ফলে ভাইরাল হওয়া এসব তথ্যের কিছু অংশ এখনও স্বাধীনভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি। বিভিন্ন গণমাধ্যমে প্রকাশিত প্রতিবেদন অনুযায়ী, যদি তদন্তে এসব অভিযোগের সত্যতা প্রমাণিত হয়, তাহলে এটি ইরাকের সাম্প্রতিক ইতিহাসে অন্যতম বড় দুর্নীতির মামলাগুলোর একটি হিসেবে বিবেচিত হতে পারে। একই সঙ্গে সরকারি প্রতিষ্ঠানগুলোর জবাবদিহিতা এবং দুর্নীতিবিরোধী অভিযানের কার্যকারিতা নিয়েও নতুন করে আলোচনা শুরু হতে পারে। ইরাকি কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, চলমান তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত এ বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য প্রকাশ করা হবে না। তদন্তের অগ্রগতির ওপর ভিত্তি করে ভবিষ্যতে আরও তথ্য প্রকাশ করা হতে পারে।
দক্ষিণ আফ্রিকায় অভিবাসনবিরোধী বিক্ষোভ ঘিরে সহিংসতা ও বিশৃঙ্খলার অভিযোগে ৯০০-এর বেশি আন্দোলনকারীকে আটক করেছে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী। মঙ্গলবার (৩০ জুন) দেশজুড়ে সংঘটিত বিভিন্ন কর্মসূচি থেকে তাদের আটক করা হয় বলে বুধবার (১ জুলাই) আনুষ্ঠানিকভাবে নিশ্চিত করেছে দেশটির পুলিশ প্রশাসন। পুলিশের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, সেদিন সারা দেশে ছোট-বড় মিলিয়ে প্রায় ১২০টি প্রতিবাদ মিছিল অনুষ্ঠিত হয়। এর মধ্যে ১০৮টি কর্মসূচি শান্তিপূর্ণভাবে শেষ হলেও অন্তত ১২টি স্থানে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যায়। এসব জায়গায় সংঘর্ষ, ভাঙচুর এবং দোকানপাটে হামলার ঘটনা ঘটে। পরিস্থিতি সামাল দিতে ওইসব এলাকায় সরাসরি হস্তক্ষেপ করে পুলিশ। সহিংসতায় জড়িত থাকার অভিযোগে ঘটনাস্থল থেকেই বিপুল সংখ্যক আন্দোলনকারীকে আটক করা হয়। অভিযানের সময় কয়েকজন নথিপত্রহীন অভিবাসীকেও হেফাজতে নেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছে কর্তৃপক্ষ। গত কয়েক মাস ধরে দেশটিতে অভিবাসন ইস্যুকে কেন্দ্র করে উত্তেজনা বাড়ছিল। কঠোর আইন প্রয়োগ ও ক্রমবর্ধমান সামাজিক চাপের মুখে ইতোমধ্যেই হাজার হাজার বিদেশি নাগরিক দক্ষিণ আফ্রিকা ছেড়ে নিজ দেশে ফিরে গেছেন বলে বিভিন্ন সূত্রে জানা গেছে। আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমগুলোর তথ্য অনুযায়ী, অভিবাসীদের লক্ষ্য করে চলমান সহিংসতায় এ পর্যন্ত অন্তত চারজনের মৃত্যু হয়েছে। এতে পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ বাড়ছে। বিশ্লেষকদের মতে, অর্থনৈতিক চাপ, বেকারত্ব ও সামাজিক বৈষম্যের মতো দীর্ঘদিনের সমস্যাগুলোই এই অসন্তোষকে উসকে দিচ্ছে। সরকারের পক্ষ থেকে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনার চেষ্টা চললেও সাম্প্রতিক ঘটনাগুলো দেশটির সামাজিক স্থিতিশীলতার জন্য নতুন করে চ্যালেঞ্জ তৈরি করেছে। এই প্রতিবেদনটি আল জাজিরার তথ্যের ভিত্তিতে প্রস্তুত করা হয়েছে।