ইরান ফুটবল দল

ছবি: সংগৃহীত
যুক্তরাষ্ট্র ছাড়ার আগে ড্রেসিংরুমে আবেগঘন বার্তা রেখে গেল ইরান, স্মরণে মিনাবের শিশুরা

যুক্তরাষ্ট্র ছাড়ার আগে ড্রেসিংরুমে একটি হাতে লেখা বার্তা রেখে গেছে ইরানের জাতীয় ফুটবল দল। লস অ্যাঞ্জেলেসে দুটি ম্যাচ খেলার পর বিদায়ী ওই বার্তায় শহরটির আতিথেয়তা ও সমর্থকদের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশের পাশাপাশি স্মরণ করা হয়েছে ইরানের মিনাব শহরের একটি বিদ্যালয়ে হামলায় নিহত শিশুদের।   চলমান বিশ্বকাপে অভিবাসন সংক্রান্ত বিধিনিষেধের কারণে যুক্তরাষ্ট্রে ৪৮ ঘণ্টার বেশি অবস্থানের অনুমতি পায়নি ইরান দল। সে কারণে লস অ্যাঞ্জেলেসে দুটি ম্যাচ শেষ করে দেশটি যুক্তরাষ্ট্র ছাড়ার আগে ড্রেসিংরুমে হাতে লেখা একটি বার্তা রেখে যায়।   রোববার বেলজিয়ামের বিপক্ষে গোলশূন্য ড্র করে ইরান টুর্নামেন্টে নিজেদের পরবর্তী ম্যাচ পর্যন্ত টিকে থাকা নিশ্চিত করে। তাদের পরবর্তী ম্যাচ সিয়াটলে মিসরের বিপক্ষে। দলটির রেখে যাওয়া বার্তার শুরুতে লেখা ছিল, “হাজার বছরের প্রাচীন পারস্য থেকে আজকের সভ্য ইরান পর্যন্ত, ইরানের আত্মা আজও জীবিত এবং দৃঢ়ভাবে স্থির রয়েছে।”   বার্তাটিতে #১৬৮ এবং #মিনাব হ্যাশট্যাগও ব্যবহার করা হয়। এটি মিনাব শহরের একটি বিদ্যালয়ে ফেব্রুয়ারির শেষ দিকে সংঘটিত হামলায় নিহতদের স্মরণে উল্লেখ করা হয়েছে। বিভিন্ন প্রতিবেদনে নিহতের সংখ্যা নিয়ে ভিন্ন তথ্য থাকলেও হামলাটির জন্য যুক্তরাষ্ট্রকে দায়ী করা হয়েছে।   বার্তায় আরও লেখা হয়, “আমরা গর্ব নিয়ে লস অ্যাঞ্জেলেসে এসেছি, সম্মানের সঙ্গে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেছি এবং মর্যাদার সঙ্গে বিদায় নিচ্ছি।” এতে আরও বলা হয়, “লস অ্যাঞ্জেলেস, তোমাদের আতিথেয়তার জন্য ধন্যবাদ। সেই সঙ্গে প্রতিটি ইরানিকে ধন্যবাদ, যারা এই ১৮০ মিনিট জুড়ে ইরানের জন্য তাদের হৃদয়, কণ্ঠ এবং আত্মা উজাড় করে দিয়েছে।”   বার্তার শেষাংশে বলা হয়, “সব জাতির মধ্যে শান্তি, সম্মান এবং বন্ধুত্ব বজায় থাকুক।” বিশ্বকাপ চলাকালে যুক্তরাষ্ট্রে অবস্থান নিয়ে নানা জটিলতার মুখোমুখি হতে হয়েছে ইরান দলকে। অভিবাসন কর্তৃপক্ষের বিধিনিষেধের কারণে দলটিকে তাদের বেস ক্যাম্প অ্যারিজোনার টুসন থেকে মেক্সিকোর তিহুয়ানায় সরিয়ে নিতে হয়। ড্রেসিংরুমে রেখে যাওয়া ইরানি ফুটবলারদের হাতে লেখা চিঠি। ছবি: ডেইল মেইল   নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে প্রথম ম্যাচ খেলতে ইরান দল ম্যাচের আগের দিন লস অ্যাঞ্জেলেসে পৌঁছায়। তবে ম্যাচ শেষ হওয়ার পরপরই তাদের আবার মেক্সিকোতে ফিরে যেতে হয়। এ ছাড়া দলের কয়েকজন কর্মকর্তা ও সহায়ক কর্মী যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা পাননি। নিউজিল্যান্ড ম্যাচের পর খেলোয়াড় মেহদি তোরাবির একবার প্রবেশযোগ্য ভিসার মেয়াদ শেষ হয়ে যাওয়ায় তাকে নতুন ভিসার জন্য যুক্তরাষ্ট্রের কনস্যুলেটে আবেদন করতে হয়।   ইরানের প্রধান কোচ আমির গালেনোই এই বিধিনিষেধের সমালোচনা করে তার দলকে “পুরো বিশ্বকাপের সবচেয়ে ক্ষতিগ্রস্ত দল” বলে উল্লেখ করেছেন।

Unknown জুন ২১, ২০২৬ ১৪:০
টিজুয়ানা স্টেডিয়াম | ছবি: সংগৃহীত
ইরানের বিশ্বকাপ প্রস্তুতি ভেন্যুর বাইরে গাড়ির ট্রাঙ্কে মিলল গলিত মরদেহ

ফুটবল বিশ্বকাপকে ঘিরে প্রস্তুতি চলার মধ্যেই মেক্সিকোর টিজুয়ানায় একটি স্টেডিয়ামের বাইরে পার্ক করে রাখা একটি গাড়ির ট্রাঙ্ক থেকে এক ব্যক্তির গলিত মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। যে স্টেডিয়ামে বর্তমানে ইরান জাতীয় ফুটবল দল অনুশীলন করছে, তার অদূরেই এ ঘটনা ঘটেছে। স্থানীয় কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, মরদেহটি একটি প্লাস্টিকের ব্যাগে মোড়ানো অবস্থায় গাড়ির ট্রাঙ্কে রাখা ছিল। প্রাথমিক তদন্তে লাশে গুরুতর সহিংসতার চিহ্ন পাওয়া গেছে। এ কারণে এটি পরিকল্পিত হত্যাকাণ্ড হতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।   স্টেডিয়ামের মতো উচ্চ নিরাপত্তাবেষ্টিত এলাকার বাইরে এমন ঘটনা সামনে আসায় স্থানীয় বাসিন্দাদের পাশাপাশি ক্রীড়াঙ্গনেও উদ্বেগ সৃষ্টি হয়েছে। তবে কর্তৃপক্ষ বলছে, পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রয়েছে এবং ঘটনাটির পূর্ণ তদন্ত চলছে।   পুলিশের ভাষ্য অনুযায়ী, গাড়িটি বেশ কিছু সময় ধরে একই স্থানে পরিত্যক্ত অবস্থায় ছিল। পরে সেখান থেকে তীব্র দুর্গন্ধ বের হতে শুরু করলে নিরাপত্তাকর্মীরা বিষয়টি পুলিশের নজরে আনেন। ঘটনাস্থলে পৌঁছে পুলিশ গাড়ির ট্রাঙ্ক খুলে প্লাস্টিকে মোড়ানো মরদেহটি উদ্ধার করে।   ঘটনার পর ইরান জাতীয় ফুটবল দলের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে স্টেডিয়াম ও আশপাশের এলাকায় নিরাপত্তা ব্যবস্থা আরও জোরদার করা হয়েছে। খেলোয়াড়, কোচিং স্টাফ এবং সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণও বাড়ানো হয়েছে বলে জানা গেছে।   মেক্সিকান প্রশাসন জানিয়েছে, হত্যাকাণ্ডের পেছনে কোনো সংঘবদ্ধ অপরাধী চক্র বা মাদক কার্টেলের সংশ্লিষ্টতা রয়েছে কি না, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। মরদেহটির পরিচয় শনাক্ত এবং মৃত্যুর কারণ নির্ধারণে ফরেনসিক পরীক্ষা চালানো হচ্ছে।

তাবাস্সুম জুন ১২, ২০২৬ ১৪:০
ফাইল ছবি
বিশ্বকাপে যুক্তরাষ্ট্রে দীর্ঘ সময় থাকতে পারবে না ইরান, ম্যাচের আগের দিন প্রবেশের অনুমতি

আসন্ন ফুটবল বিশ্বকাপে ইরান জাতীয় দলকে যুক্তরাষ্ট্রে অবস্থান নিয়ে নতুন নির্দেশনা দিয়েছে দেশটির ডিপার্টমেন্ট অব হোমল্যান্ড সিকিউরিটি (ডিএইচএস)। নির্দেশনা অনুযায়ী, ইরান দলকে এখন থেকে যুক্তরাষ্ট্রে দীর্ঘ সময় অবস্থানের অনুমতি দেওয়া হবে না; বরং প্রতিটি ম্যাচের আগের দিন তারা যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশ করতে পারবে।   ইরান দল বর্তমানে মেক্সিকোতে অবস্থান করছে। দলটি মেক্সিকোর তিজুয়ানায় অনুশীলন ক্যাম্প পরিচালনা করছে বলে জানা গেছে। তাদের বিশ্বকাপের তিনটি ম্যাচই যুক্তরাষ্ট্রে অনুষ্ঠিত হবে।   ডিএইচএস-এর এক মুখপাত্র স্থানীয় সময় মঙ্গলবার জানান, ইরান দলের ক্ষেত্রে ম্যাচের দিনই প্রবেশ ও একই দিনে প্রস্থান করতে হবে—এমন দাবি সঠিক নয়। তিনি বলেন, প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের নীতিগত সিদ্ধান্ত অনুযায়ী দলটি ম্যাচের আগের দিন যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশ করতে পারবে।   এর আগে বিভিন্ন আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমে দাবি করা হয়, ইরান দলকে শুধু ম্যাচের দিনই যুক্তরাষ্ট্রে ঢুকতে এবং একই দিনে দেশ ত্যাগ করতে হবে। এই তথ্যের কারণে দলটির লজিস্টিক পরিকল্পনা ও প্রস্তুতি নিয়ে প্রশ্ন ওঠে। তবে মার্কিন কর্তৃপক্ষ ওই দাবি নাকচ করে দিয়েছে।   অন্যদিকে ইরানের মেক্সিকোতে নিযুক্ত রাষ্ট্রদূত আবোলফজল পাসানদিদেহ জানান, দলের কিছু সদস্যের ভিসা দেওয়া হয়নি। তিনি বলেন, টিম ম্যানেজার, দুইজন বিশ্লেষক, মিডিয়া পরিচালক এবং পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের একজন প্রতিনিধি ভিসা পাননি। তবে যেসব ভিসা দেওয়া হয়েছে, সেখানে অবস্থানের সময়সীমা নির্দিষ্টভাবে উল্লেখ নেই বলে তিনি দাবি করেন।   রয়টার্সের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ইরান ফুটবল দলের সব খেলোয়াড়কে গত শুক্রবার যুক্তরাষ্ট্র ভিসা দিয়েছে। তবে কিছু গুরুত্বপূর্ণ স্টাফ সদস্য এখনো ভিসা পাননি বলে ইরান ফুটবল ফেডারেশন জানিয়েছে।   ইরান বিশ্বকাপে তাদের অভিযান শুরু করবে ১৫ জুন লস অ্যাঞ্জেলেসে নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে ম্যাচ দিয়ে। এরপর ২১ জুন একই শহরে বেলজিয়ামের মুখোমুখি হবে তারা। তৃতীয় ম্যাচটি ২৬ জুন সিয়াটলে মিসরের বিপক্ষে অনুষ্ঠিত হবে।   প্রাথমিকভাবে দলের অনুশীলন ক্যাম্প যুক্তরাষ্ট্রের অ্যারিজোনায় নির্ধারিত ছিল। তবে ফেব্রুয়ারিতে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সঙ্গে ইরানের সামরিক উত্তেজনার পর সেই পরিকল্পনায় পরিবর্তন আনা হয়। এর আগে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেন, ইরান বিশ্বকাপে অংশ নিতে স্বাগত। তবে একই সঙ্গে তিনি মন্তব্য করেন, যুক্তরাষ্ট্রে ইরান দলের অবস্থান তাদের নিরাপত্তার জন্য উপযুক্ত নয়।

Unknown জুন ৯, ২০২৬ ১৪:০
ছবি: এএফপি
বিশ্বকাপের আগে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা জটিলতা নিয়ে ক্ষোভ ইরানের, মেক্সিকোতে পৌঁছেছে জাতীয় দল

ফিফা বিশ্বকাপকে সামনে রেখে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিকে কেন্দ্র করে নতুন বিতর্কের সৃষ্টি হয়েছে। ইরানের জাতীয় ফুটবল দল মেক্সিকোতে পৌঁছানোর পর তেহরান অভিযোগ করেছে, দলটির যাতায়াত প্রক্রিয়ায় অপ্রয়োজনীয় বাধা সৃষ্টি করছে ওয়াশিংটন। যদিও যুক্তরাষ্ট্র বলছে, টুর্নামেন্টে অংশগ্রহণের জন্য প্রয়োজনীয় ভিসা ইতোমধ্যে দেওয়া হয়েছে।   রোববার মেক্সিকোর উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলীয় শহর তিহুয়ানায় পৌঁছায় ইরানের জাতীয় ফুটবল দল। যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়া অঙ্গরাজ্যের সীমান্তঘেঁষা এই শহরে অবস্থান করবে দলটি। এর আগে মেক্সিকোর প্রেসিডেন্ট ক্লাউদিয়া শেইনবাউম জানিয়েছিলেন, বিশ্বকাপ চলাকালে ম্যাচের মধ্যবর্তী সময়ে ইরান দল মেক্সিকোতেই অবস্থান করবে।   ইরান ফুটবল ফেডারেশনের সভাপতি মেহদি তাজ অভিযোগ করেন, যুক্তরাষ্ট্র দলটিকে বিশ্বকাপে অংশগ্রহণের অনুমতি দিলেও প্রথম ম্যাচের মাত্র এক দিন আগে প্রবেশের অনুমোদন দিয়েছে।   আধা-সরকারি বার্তা সংস্থা আইএসএনএকে তিনি বলেন, “আমরা জানি না যুক্তরাষ্ট্রের এই বাধা সৃষ্টির প্রবণতা আর কতদূর যাবে। তাদের আচরণ বিদ্বেষপূর্ণ এবং দলগুলোর মধ্যে সমতা রক্ষার নীতির সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়।”   তবে যুক্তরাষ্ট্র প্রশাসনের এক কর্মকর্তা সিএনএনকে জানিয়েছেন, ইরানের জাতীয় দল, খেলোয়াড় এবং প্রয়োজনীয় সহায়ক কর্মীদের জন্য প্রয়োজনীয় ভিসা ইস্যু করা হয়েছে।   তিনি বলেন, “বিশ্বকাপে অংশগ্রহণের জন্য প্রয়োজনীয় ভিসা দেওয়া হয়েছে। তবে আমরা কোনোভাবেই এই ব্যবস্থার অপব্যবহার করে সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডে জড়িত কাউকে ভুয়া পরিচয়ে যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশ করতে দেব না।”   ইরানের জন্য ফুটবল কেবল একটি জনপ্রিয় খেলা নয়, জাতীয় ঐক্যের অন্যতম প্রতীক। সামাজিক, আঞ্চলিক ও রাজনৈতিক বিভাজনের ঊর্ধ্বে উঠে জাতীয় দলকে ঘিরে দেশজুড়ে ব্যাপক সমর্থন দেখা যায়। ফলে বিশ্বকাপে অংশগ্রহণ বরাবরই দেশটির জন্য জাতীয় গর্বের বিষয়।   তবে ইরান, যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলকে ঘিরে চলমান সংঘাত এবং অভ্যন্তরীণ অর্থনৈতিক ও রাজনৈতিক পরিস্থিতির কারণে এবারের বিশ্বকাপকে ঘিরে ক্রীড়ার পাশাপাশি কূটনৈতিক আলোচনাও গুরুত্ব পাচ্ছে।   ফিফার সূচি অনুযায়ী, ইরান ১৫ জুন লস অ্যাঞ্জেলেসে নিউজিল্যান্ডের মুখোমুখি হবে। ২১ জুন একই শহরে খেলবে বেলজিয়ামের বিপক্ষে এবং ২৬ জুন সিয়াটলে মুখোমুখি হবে মিশরের। ইরানের রাষ্ট্রীয় সম্প্রচারমাধ্যম আইআরআইবি জানিয়েছে, প্রয়োজনীয় অনুমোদন সাপেক্ষে এসব ম্যাচ দেশের বিভিন্ন সিনেমা হলে সরাসরি সম্প্রচার করা হবে।   রয়টার্সের তথ্য অনুযায়ী, ১৯৩০ সালে বিশ্বকাপ শুরুর পর এবারই প্রথম এমন একটি আসর অনুষ্ঠিত হচ্ছে যেখানে আয়োজক দেশ একটি যুদ্ধরত দেশের দলকে স্বাগতিক হিসেবে গ্রহণ করছে। ইরান ফুটবল ফেডারেশনের এক মুখপাত্র জানান, দলটি মাল্টিপল-এন্ট্রি ভিসা ব্যবহার করবে। প্রথম ম্যাচের এক দিন আগে এবং পরবর্তী দুটি ম্যাচের আগে দুই দিন করে যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশ করবে খেলোয়াড়রা।   মেহদি তাজ যুক্তরাষ্ট্রের আচরণকে “অত্যন্ত অদ্ভুত” উল্লেখ করে বলেন, একটি আন্তর্জাতিক ক্রীড়া আসরের ব্যবস্থাপনায় এ ধরনের হস্তক্ষেপ গ্রহণযোগ্য নয়। তিনি জানান, এ বিষয়ে ফিফার কাছে আনুষ্ঠানিক অভিযোগ জানাবে ইরান ফুটবল ফেডারেশন। তিনি আরও দাবি করেন, চলমান যুদ্ধ পরিস্থিতির প্রভাব ফুটবলের মাঠেও টেনে আনার চেষ্টা করা হচ্ছে।   এদিকে ইরান দলের প্রধান কোচ আমির ঘালেনোয়ি অভিযোগ করেছেন, দলের কিছু প্রশাসনিক কর্মকর্তা, গণমাধ্যমকর্মী এবং একজন নির্বাহী পরিচালক এখনো টুর্নামেন্টে অংশগ্রহণের অনুমতি পাননি। তিনি বলেন, “এ ধরনের আচরণ কীভাবে গ্রহণযোগ্য হতে পারে? আমরা আশা করি পরিস্থিতির দ্রুত সমাধান হবে এবং ভবিষ্যতে এমন ঘটনা আর ঘটবে না।”   সমালোচনায় যোগ দিয়েছে তুরস্কে অবস্থিত ইরান দূতাবাসও। এক বিবৃতিতে তারা অভিযোগ করে, যুক্তরাষ্ট্র অপ্রয়োজনীয় চাপ ও মানসিক উদ্বেগ তৈরি করে ইরানের জাতীয় দলকে স্বাভাবিক পরিবেশে বিশ্বকাপে অংশগ্রহণের অধিকার থেকে বঞ্চিত করছে। দূতাবাসের ভাষ্য, “এটি খেলাধুলায় রাজনৈতিক হস্তক্ষেপের সবচেয়ে খারাপ উদাহরণ।”

Unknown জুন ৭, ২০২৬ ১৪:০
জনপ্রিয় সংবাদ
বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনার পর তরুণীর মৃত্যু, এক বছরের সাজায় ক্যালিফোর্নিয়ার আইন পরিবর্তনের দাবি

যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন।   মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়।   তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।”   ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে।   প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন।   ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন।   প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল।   মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি।   রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।

যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডে বড় পরিবর্তন, পরিবারভিত্তিক ভিসা আবেদনকারীদের জন্য সুখবর

যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর আগস্ট ২০২৬ সালের ভিসা বুলেটিন প্রকাশ করেছে। নতুন এই আপডেটে পরিবারভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি দেখা গেছে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের স্থায়ী বাসিন্দাদের স্বামী, স্ত্রী ও সন্তানদের জন্য নির্ধারিত এফ২এ ক্যাটাগরিতে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এসেছে।   নতুন ভিসা বুলেটিন অনুযায়ী, পরিবারভিত্তিক কয়েকটি ক্যাটাগরিতে অপেক্ষার সময় কমার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এর মধ্যে এফ২এ ক্যাটাগরির অগ্রগতি সবচেয়ে বেশি, যেখানে যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডধারীদের স্বামী-স্ত্রী ও অবিবাহিত সন্তানদের আবেদন অন্তর্ভুক্ত থাকে।   এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের অবিবাহিত প্রাপ্তবয়স্ক সন্তানদের জন্য এফ১ ক্যাটাগরি এবং অন্যান্য পরিবারভিত্তিক ক্যাটাগরিতেও কিছু অগ্রগতি দেখা গেছে। তবে আবেদনকারীদের ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার তারিখ বা প্রায়োরিটি ডেট অনুযায়ীই পরবর্তী ধাপ নির্ধারণ হবে।   ভিসা বুলেটিনে বলা হয়েছে, পরিবারভিত্তিক অভিবাসন ভিসার সংখ্যা প্রতিবছর নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে দেওয়া হয়। তাই কোনো ক্যাটাগরিতে চাহিদা বেশি হলে অপেক্ষার সময় বাড়তে পারে এবং কম হলে তারিখ এগিয়ে আসতে পারে।   অন্যদিকে কর্মসংস্থানভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য পরিস্থিতি তুলনামূলক কঠিন রয়েছে। বিশেষ করে কিছু এমপ্লয়মেন্ট-বেসড ক্যাটাগরিতে দীর্ঘ অপেক্ষা ও সীমিত ভিসা সংখ্যার কারণে আবেদনকারীদের অনিশ্চয়তা অব্যাহত রয়েছে।   যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ী বসবাসের জন্য আবেদনকারীদের কাছে ভিসা বুলেটিন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এই তালিকার মাধ্যমে জানা যায়, কোন আবেদনকারীরা গ্রিন কার্ডের পরবর্তী ধাপে এগিয়ে যেতে পারবেন এবং কারা এখনও অপেক্ষার তালিকায় থাকবেন।   বিশেষজ্ঞদের মতে, নতুন এই পরিবর্তন অনেক পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীর জন্য আশার খবর হলেও, প্রতিটি আবেদনকারীর পরিস্থিতি নির্ভর করবে তাদের আবেদন জমার তারিখ, দেশভিত্তিক সীমা এবং ভিসা ক্যাটাগরির ওপর।   যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ব্যবস্থায় দীর্ঘদিন ধরে গ্রিন কার্ডের অপেক্ষার তালিকা বড় একটি বিষয় হয়ে আছে। নতুন ভিসা বুলেটিনে পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীদের জন্য অগ্রগতি দেখা গেলেও, সব আবেদনকারী একইভাবে সুবিধা পাবেন না।

মার্কিন ভিসা আপডেট ২০২৬! বাংলাদেশিদের জন্য কোন ভিসা বন্ধ, কোনটা চালু?

২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো।   প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে।   এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে।   অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে।   স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে।   সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে।   সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।

যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশি মালিকানাধীন বিশ্ববিদ্যালয়ের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধন

যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে।   এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন।   নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি।   উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।”   বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে।   এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে।   শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়।   উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন।   বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত।   এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।

পাঁচ সন্তানকে এতিম করে মাকে কুপিয়ে হত্যা, গ্রেপ্তারের সময়ও হাসছিল ঘাতক দুই বোন

যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে এক মর্মান্তিক ও লোমহর্ষক ঘটনার জন্ম দিয়েছে দুই তরুণী বোন। দিনদুপুরে ক্যারোলিন ‘কারো’ পেনা নামের ৩২ বছর বয়সী এক নারীকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগে তাদের গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। নিহত নারী পাঁচ সন্তানের জননী ছিলেন। তবে সবচেয়ে শিউরে ওঠার মতো বিষয় হলো, গ্রেপ্তারের সময় অভিযুক্তদের চেহারায় অনুশোচনার সামান্যতম ছাপ তো ছিলই না, উল্টো তাদের মুখে পৈশাচিক হাসি দেখা গেছে। মেক্সিকো সীমান্তের কাছের শহর দেল রিও থেকে বৃহস্পতিবার বিকেলে পুলিশ তাদের হাতকড়া পরিয়ে নিয়ে যাওয়ার সময় এই দৃশ্য ক্যামেরায় ধরা পড়ে।   আরও পড়ুন... ‘ফোনটা ধরতে পারলে হয়তো তাকে বাঁচাতে পারতাম’- টেক্সাসে পাঁচ সন্তানের মাকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা, দুই বোনসহ তিনজন গ্রেপ্তার   পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নিহত ক্যারোলিনকে বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় দুপুর ২টার পরপরই গুরুতর জখম অবস্থায় ভাল ভার্দে রিজিওনাল মেডিকেল সেন্টারে নেওয়া হয়। তার শরীরে একাধিক ছুরিকাঘাতের চিহ্ন ছিল। ঘটনাস্থলের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, একটি সনিক ড্রাইভ-থ্রু রেস্তোরাঁর বাইরে রক্তাক্ত অবস্থায় ক্যারোলিন তার তিন হামলাকারীর মুখোমুখি দাঁড়িয়ে আছেন।   পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য সান আন্তোনিওর একটি হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছায় এবং প্রায় ৩৫ হাজার বাসিন্দার শহর দেল রিওতে অভিযান চালিয়ে হামলাকারীদের শনাক্ত করে।   সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া গ্রেপ্তারের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, ২১ বছর বয়সী কিটি মিয়া দিয়াজ খালি পায়ে হেঁটে যাওয়ার সময় পুলিশের গাড়িতে ওঠার আগে মৃদু হাসছেন। কিটি নিজেও এক শিশুপুত্রের মা। অন্যদিকে, তার ১৯ বছর বয়সী ছোট বোন আমায়া কুকি দিয়াজ ক্যামেরার দিকে তাকিয়ে নির্লজ্জভাবে দাঁত বের করে হাসতে থাকেন।   ▶️ টেক্সাসে নিজের মাকে নির্মমভাবে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুই মেয়ে |   এমনকি ভিডিও ধারণকারীকে ব্যঙ্গাত্মক সুরে ‘রেকর্ড করা বন্ধ করো’ বলেও চিৎকার করতে শোনা যায় তাকে। দেল রিও পুলিশ জানিয়েছে, এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ২১ বছর বয়সী কায়ান্দ্রা রেনি ফাজ নামের তৃতীয় আরেক নারীকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে ঠিক কী কারণে এই নারকীয় হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে, সে বিষয়ে পুলিশ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি।

Top week

যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডধারীদের স্বামী-স্ত্রী ও অবিবাহিত সন্তানদের জন্য নির্ধারিত ক্যাটাগরিতে এসেছে বড় অগ্রগতি। ছবি: সংগৃহীত
আমেরিকা

যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডে বড় পরিবর্তন, পরিবারভিত্তিক ভিসা আবেদনকারীদের জন্য সুখবর

তাবাস্সুম জুলাই ২০, ২০২৬ ১৪:০