ইরান যুদ্ধের প্রেক্ষাপটে প্রত্যাশিত সমর্থন না পাওয়ায় ন্যাটো মিত্রদের কড়া সমালোচনা করেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। একই সঙ্গে ডেনমার্কের অধীন স্বায়ত্তশাসিত অঞ্চল গ্রিনল্যান্ড নিয়ে নতুন মন্তব্য করে জোটের ভেতরে অস্বস্তি আরও বাড়িয়ে তুলেছেন তিনি। বুধবার ওয়াশিংটনে ন্যাটোর মহাসচিব মার্ক রুটে–এর সঙ্গে বৈঠকের পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ট্রাম্প লিখেছেন, ‘আমাদের প্রয়োজনের সময় ন্যাটো পাশে ছিল না, ভবিষ্যতেও থাকবে না।’ বৈঠকের পর সিএনএনকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে রুটে বলেন, ইরান যুদ্ধের সময় বেশ কিছু ন্যাটো দেশ যুক্তরাষ্ট্রকে প্রত্যাশিত সহায়তা দেয়নি, যা নিয়ে ট্রাম্প ‘স্পষ্টতই হতাশ’। তবে তিনি আলোচনাকে ‘খোলামেলা’ হিসেবে উল্লেখ করেন এবং জোট ছাড়ার বিষয়ে সরাসরি কোনো মন্তব্য করেননি। এর আগে হোয়াইট হাউস–এর মুখপাত্র ক্যারোলিন লেভিট জানান, মিত্র দেশগুলো ‘আমেরিকান জনগণের প্রত্যাশা পূরণে ব্যর্থ হয়েছে’—এই বিষয়টি নিয়েই মূলত আলোচনা হয়েছে। ইরান যুদ্ধের সময় কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালি পুনরায় চালু করতে যুক্তরাষ্ট্রের আহ্বানে ন্যাটোর কয়েকটি দেশ সাড়া দেয়নি। কেউ আকাশসীমা ব্যবহারের অনুমতি দেয়নি, আবার কেউ সরাসরি সামরিক সহায়তা থেকেও বিরত ছিল। এ প্রেক্ষাপটে ট্রাম্প ন্যাটোকে ‘কাগুজে বাঘ’ বলেও আখ্যা দেন। বিতর্ক আরও বাড়িয়ে ট্রাম্প বৈঠকের পর গ্রিনল্যান্ড প্রসঙ্গ তুলে বলেন, ‘বিশাল, কিন্তু দুর্বলভাবে পরিচালিত এক বরফখণ্ড।’ তাঁর এই মন্তব্য ন্যাটো জোটের অভ্যন্তরে নতুন করে উত্তেজনা তৈরি করেছে। এদিকে ২০২৩ সালের একটি আইনে কংগ্রেসের অনুমোদন ছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষে ন্যাটো ত্যাগ করা সম্ভব নয়। তবুও ট্রাম্পের সাম্প্রতিক বক্তব্য জোটটির ভবিষ্যৎ নিয়ে নতুন করে আলোচনা উসকে দিয়েছে। বিশ্লেষকদের মতে, ইরান যুদ্ধকে কেন্দ্র করে ন্যাটোর অভ্যন্তরীণ বিভাজন স্পষ্ট হয়ে উঠেছে। একই সঙ্গে ট্রাম্পের কঠোর অবস্থান ট্রান্স-আটলান্টিক সম্পর্কের ওপর বাড়তি চাপ সৃষ্টি করছে।
পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফ-এর দেওয়া একটি কূটনৈতিক প্রস্তাব মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প-এর নজরে এসেছে বলে জানিয়েছে হোয়াইট হাউস। এ বিষয়ে শিগগিরই আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া দেওয়া হবে বলেও ইঙ্গিত দেওয়া হয়েছে। হোয়াইট হাউসের প্রেস সেক্রেটারি ক্যারোলিন লেভিট-কে উদ্ধৃত করে মার্কিন সংবাদমাধ্যম অ্যাক্সিওস এ তথ্য জানায়। এর আগে শাহবাজ শরিফ যুক্তরাষ্ট্রকে ইরানের সঙ্গে সম্ভাব্য চুক্তির সময়সীমা দুই সপ্তাহ বাড়ানোর আহ্বান জানান। একই সময়ের জন্য ইরানকে গুরুত্বপূর্ণ জলপথ হরমুজ প্রণালি উন্মুক্ত রাখার প্রস্তাবও দেন তিনি, যা আন্তর্জাতিক বাণিজ্যের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। হোয়াইট হাউসের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, ট্রাম্প প্রস্তাবটি সম্পর্কে অবগত আছেন এবং এটি নিয়ে পর্যালোচনা চলছে। খুব শিগগিরই এ বিষয়ে যুক্তরাষ্ট্রের অবস্থান জানানো হবে বলে আশা করা হচ্ছে। বিশ্লেষকদের মতে, মধ্যপ্রাচ্যের বর্তমান উত্তেজনাপূর্ণ পরিস্থিতিতে এই ধরনের কূটনৈতিক উদ্যোগ পরিস্থিতি প্রশমনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।
আন্তর্জাতিক অঙ্গনে নতুন করে উত্তেজনা সৃষ্টি হয়েছে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের এক বক্তব্যকে ঘিরে। সম্প্রতি ট্রাম্প এক মন্তব্যে সতর্ক করে বলেন, “আজ রাতে একটি পুরো সভ্যতা ধ্বংস হয়ে যেতে পারে,” যা মূলত ইরানকে কেন্দ্র করে সম্ভাব্য বড় ধরনের সামরিক পদক্ষেপের ইঙ্গিত হিসেবে দেখা হচ্ছে। তার এই বক্তব্যের পরপরই আন্তর্জাতিক মহলে উদ্বেগ ও আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। এই পরিস্থিতিতে কড়া প্রতিক্রিয়া জানান সিনেটর বার্নি স্যান্ডার্স। তিনি বলেন, এ ধরনের বক্তব্য শুধু রাজনৈতিক উত্তেজনাই বাড়ায় না, বরং হাজার হাজার নিরীহ মানুষের প্রাণহানির ঝুঁকি তৈরি করে। স্যান্ডার্সের মতে, সম্ভাব্য সংঘাতে ইরানের সাধারণ জনগণ মারাত্মক মানবিক সংকটে পড়তে পারে যেখানে পানীয় জল, বিদ্যুৎ ও স্বাস্থ্যসেবার মতো মৌলিক সুবিধাও বিপর্যস্ত হয়ে পড়বে। তিনি আরও অভিযোগ করেন, এ ধরনের পদক্ষেপ আন্তর্জাতিক আইন লঙ্ঘনের শামিল হতে পারে এবং এতে মার্কিন করদাতাদের অর্থ ব্যবহার করে একটি বড় মানবিক বিপর্যয় ডেকে আনা হতে পারে। স্যান্ডার্স দাবি করেন, মার্কিন কংগ্রেসের ভেতরেও অনেকেই ট্রাম্পের এই অবস্থানের সঙ্গে একমত নন। তিনি তাদের প্রতি আহ্বান জানিয়ে বলেন, এখনই সময় এই ধরনের নীতির বিরুদ্ধে সোচ্চার হওয়ার। অন্যদিকে, ট্রাম্প তার বক্তব্যে ইরানে “পূর্ণাঙ্গ শাসন পরিবর্তন” আনার সম্ভাবনার কথা উল্লেখ করে বলেন, এতে দেশটির দীর্ঘদিনের সংকটের অবসান হতে পারে। বিশ্লেষকদের মতে, এই বক্তব্য ও পাল্টা বক্তব্য বিশ্ব রাজনীতিতে নতুন করে অনিশ্চয়তা তৈরি করেছে এবং মধ্যপ্রাচ্যে উত্তেজনা আরও বাড়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে।
যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পকে ক্ষমতা থেকে সরাতে সংবিধানের ২৫তম সংশোধনী প্রয়োগ করা হতে পারে—এমন জল্পনা নতুন করে আলোচনায় এসেছে। সাম্প্রতিক সময়ে প্রেডিকশন মার্কেটগুলোতে এ বিষয়ে ‘সম্ভাবনা’ বাড়তে দেখা গেছে, যা রাজনৈতিক অঙ্গনে বিতর্ক ও বিশ্লেষণের জন্ম দিয়েছে। নিউজউইকের এক প্রতিবেদনে বলা হয়, প্রেডিকশন প্ল্যাটফর্ম ‘কালশি’-তে এ সংক্রান্ত লেনদেন বেড়েছে। ব্যবহারকারীরা বাজি ধরছেন, প্রেসিডেন্টকে দায়িত্ব পালনে অযোগ্য ঘোষণা করতে মন্ত্রিসভা পর্যায়ে কোনো পদক্ষেপ নেওয়া হবে কি না। বিশেষ করে ইরানকে ঘিরে বাড়তে থাকা উত্তেজনা এবং ট্রাম্পের সাম্প্রতিক কিছু মন্তব্যের পর এই প্রবণতা আরও তীব্র হয়েছে। কালশির তথ্যানুযায়ী, “ট্রাম্পের প্রেসিডেন্সির সময় ২৫তম সংশোধনী ব্যবহার করা হবে কি না”—এমন একটি চুক্তিতে ‘হ্যাঁ’ পক্ষের শেয়ারের দাম গত এক মাসে ২৮ দশমিক ৬ শতাংশ থেকে বেড়ে ৩৫ দশমিক ১ শতাংশে পৌঁছেছে। যদিও এই সংখ্যা নিশ্চিত কোনো পূর্বাভাস নয়, বরং বাজার অংশগ্রহণকারীদের মনোভাবের প্রতিফলন। ২৫তম সংশোধনী অনুযায়ী, প্রেসিডেন্ট দায়িত্ব পালনে অক্ষম হলে ভাইস প্রেসিডেন্ট এবং মন্ত্রিসভার সংখ্যাগরিষ্ঠ সদস্য তাকে অযোগ্য ঘোষণা করতে পারেন। তবে এ ধরনের পদক্ষেপ বাস্তবায়নে পরবর্তী ধাপে কংগ্রেসের সম্পৃক্ততাও প্রয়োজন হয়, যা একটি জটিল ও রাজনৈতিকভাবে সংবেদনশীল প্রক্রিয়া। বিশ্লেষকদের মতে, প্রেডিকশন মার্কেটের ওঠানামা জনমত ও রাজনৈতিক পরিবেশের ইঙ্গিত দিলেও তা চূড়ান্ত বাস্তবতা নির্দেশ করে না। সমালোচকদের অভিযোগ, এ ধরনের প্ল্যাটফর্ম কখনো কখনো অযাচিত জল্পনা বাড়াতে পারে। অন্যদিকে সমর্থকদের দাবি, অনিশ্চিত পরিস্থিতিতে এটি জনমতের তাৎক্ষণিক প্রতিফলন তুলে ধরে। এদিকে, ইরানকে ঘিরে উত্তেজনা ও প্রশাসনের ওপর বাড়তে থাকা চাপের মধ্যে রাজনৈতিক পরিস্থিতি আরও জটিল হতে পারে বলে মনে করছেন পর্যবেক্ষকরা। ফলে প্রেডিকশন মার্কেটগুলোতে অস্থিরতা অব্যাহত থাকার সম্ভাবনাও রয়েছে।
ইরানকে লক্ষ্য করে নতুন করে কড়া হুঁশিয়ারি দিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট Donald Trump। তিনি দাবি করেছেন, যুক্তরাষ্ট্র চাইলে মাত্র এক রাতের সামরিক অভিযানেই ইরানকে পুরোপুরি ধ্বংস করে দিতে সক্ষম এবং সেই অভিযান শুরু হতে পারে ‘আগামীকাল রাতেই’। হোয়াইট হাউসে আয়োজিত এক জরুরি সংবাদ সম্মেলনে ট্রাম্প এ মন্তব্য করেন। এ সময় তাঁর সঙ্গে উপস্থিত ছিলেন মার্কিন প্রতিরক্ষামন্ত্রী Pete Hegseth এবং জয়েন্ট চিফস অব স্টাফের চেয়ারম্যান জেনারেল Dan Caine। সংবাদ সম্মেলনে মূলত ইরানে আটকে পড়া মার্কিন বিমানবাহিনীর সদস্যদের উদ্ধারে পরিচালিত সাম্প্রতিক বিশেষ অভিযানের বিষয়ে কথা বলা হয়। ট্রাম্প ওই অভিযানকে ‘ঐতিহাসিক’ হিসেবে উল্লেখ করে বলেন, মার্কিন সেনাদের নিরাপদে ফিরিয়ে আনতে তিনি প্রয়োজনীয় সব নির্দেশনা দিয়েছিলেন। তাঁর দাবি, এই অভিযানে মোট ২১টি সামরিক উড়োজাহাজ অংশ নেয়। ইরান পরিস্থিতি নিয়ে কথা বলতে গিয়ে ট্রাম্প বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক অভিযান ‘ভালোভাবেই এগোচ্ছে’। একই সঙ্গে তিনি ইরানকে সরাসরি সতর্ক করে দিয়ে বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক সক্ষমতা এমন পর্যায়ে রয়েছে যে, প্রয়োজনে খুব অল্প সময়ের মধ্যেই বড় ধরনের ধ্বংসাত্মক হামলা চালানো সম্ভব। বিশেষ করে ‘আগামীকাল রাত’ উল্লেখ করে দেওয়া এই বার্তাকে অনেকেই একটি স্পষ্ট আলটিমেটাম হিসেবে দেখছেন। এতে মধ্যপ্রাচ্যের চলমান উত্তেজনা আরও তীব্র হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। তবে এ ধরনের সম্ভাব্য সামরিক পদক্ষেপ নিয়ে এখনো Pentagon বা হোয়াইট হাউসের পক্ষ থেকে কোনো আনুষ্ঠানিক পরিকল্পনা প্রকাশ করা হয়নি। বিশ্লেষকদের মতে, এমন বক্তব্য কূটনৈতিক পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলতে পারে এবং অঞ্চলজুড়ে অনিশ্চয়তা বাড়াতে পারে।
ইরানের বেসামরিক স্থাপনায় সম্ভাব্য সামরিক হামলাকে আন্তর্জাতিক আইনের পরিপন্থি ও ‘অগ্রহণযোগ্য’ বলে সতর্ক করেছে European Council। সংস্থাটির প্রেসিডেন্ট António Costa সোমবার সামাজিকমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক পোস্টে এ মন্তব্য করেন। তিনি জোর দিয়ে বলেন, ইরান–যুক্তরাষ্ট্র চলমান উত্তেজনা নিরসনের একমাত্র কার্যকর উপায় হলো কূটনৈতিক সংলাপ। বেসামরিক অবকাঠামো, বিশেষ করে জ্বালানি স্থাপনাকে লক্ষ্য করে হামলা চালানো আন্তর্জাতিক আইনের দৃষ্টিতে অবৈধ এবং তা কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। এর আগে রোববার ইরানের জ্বালানি ও পরিবহন অবকাঠামোয় হামলার হুমকি দেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট Donald Trump। নিজের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম প্ল্যাটফর্ম ট্রুথ সোশ্যালে দেওয়া এক পোস্টে তিনি হরমুজ প্রণালি খুলে দেওয়ার আলটিমেটাম দেন এবং তা না হলে বড় ধরনের সামরিক পদক্ষেপের ইঙ্গিত দেন। ট্রাম্পের ওই বক্তব্যে স্পষ্টভাবে ইরানের বিদ্যুৎকেন্দ্র ও গুরুত্বপূর্ণ সেতুগুলোকে সম্ভাব্য লক্ষ্যবস্তু হিসেবে তুলে ধরা হয়। এতে মধ্যপ্রাচ্যে উত্তেজনা আরও বেড়ে যায়। এ বিষয়ে আন্তর্জাতিক আইন বিশেষজ্ঞদের মধ্যেও উদ্বেগ বাড়ছে। আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালতের সাবেক প্রধান প্রসিকিউটর Luis Moreno Ocampo এক সাক্ষাৎকারে বলেন, উসকানি ছাড়া এ ধরনের হামলা আন্তর্জাতিক আইনের গুরুতর লঙ্ঘন হিসেবে বিবেচিত হতে পারে। এ ছাড়া আন্তর্জাতিক আইনের শতাধিক বিশেষজ্ঞ এক যৌথ বিবৃতিতে সতর্ক করে বলেছেন, যুক্তরাষ্ট্র, ইসরায়েল ও ইরান—তিন পক্ষের পদক্ষেপই আন্তর্জাতিক আইন লঙ্ঘনের ঝুঁকি তৈরি করছে। বিশ্লেষকদের মতে, বর্তমান পরিস্থিতিতে সামরিক উত্তেজনা বাড়ার পরিবর্তে কূটনৈতিক উদ্যোগ জোরদার না হলে আঞ্চলিক নিরাপত্তা আরও ঝুঁকির মুখে পড়তে পারে।
যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প–এর সাম্প্রতিক হুমকিকে কেন্দ্র করে ইরানে সাধারণ মানুষের মধ্যে উদ্বেগ ও আতঙ্ক বাড়ছে। হরমুজ প্রণালি খুলে না দিলে দেশটির বিদ্যুৎকেন্দ্র ও সেতুতে হামলার হুঁশিয়ারি দিয়েছেন তিনি, যা পরিস্থিতিকে আরও উত্তপ্ত করে তুলেছে। ট্রাম্প সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও কড়া ভাষায় ইঙ্গিত দিয়েছেন যে নির্ধারিত সময়সীমার মধ্যে ইরান সাড়া না দিলে সামরিক পদক্ষেপ নেওয়া হতে পারে। যদিও ইরানি কর্তৃপক্ষ এসব হুমকিকে গুরুত্বহীন বলে উড়িয়ে দিয়েছে, বাস্তবে সাধারণ মানুষের মধ্যে ভীতি ক্রমেই বাড়ছে। যুক্তরাজ্যভিত্তিক সংবাদমাধ্যম বিবিসির সঙ্গে কথা বলা কয়েকজন ইরানি নাগরিক জানান, দীর্ঘদিনের অনিশ্চয়তা ও সংকট তাদের মানসিকভাবে ভেঙে দিচ্ছে। তেহরানের এক তরুণ বলেন, ভবিষ্যৎ নিয়ে গভীর শঙ্কা কাজ করছে—বিদ্যুৎ, পানি ও নিত্যপ্রয়োজনীয় সেবার অভাব দেখা দিতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন তারা। অনেকে ইতোমধ্যে খাদ্য ও পানির মজুত শুরু করেছেন। পরিবারের সদস্যদের নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ বাড়ছে বলে জানিয়েছেন তেহরানের এক নারী বাসিন্দা। তাঁর ভাষায়, পরিস্থিতি কোন দিকে যাচ্ছে তা নিয়ে তারা সম্পূর্ণ অনিশ্চয়তায় রয়েছেন। ইরানের ভেতরে মতপার্থক্যও স্পষ্ট। কেউ কেউ যুক্তরাষ্ট্রের চাপকে রাজনৈতিক পরিবর্তনের সম্ভাবনা হিসেবে দেখছেন, তবে জ্বালানি অবকাঠামোতে হামলার সম্ভাবনাকে অনেকেই ‘লাল দাগ’ হিসেবে বিবেচনা করছেন। তাঁদের মতে, এমন হামলা হলে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হবেন সাধারণ মানুষই। এদিকে চলমান উত্তেজনার প্রভাব পড়েছে অর্থনীতিতেও। ব্যবসা-বাণিজ্য স্থবির হয়ে পড়ছে, ছোট প্রতিষ্ঠানগুলো কর্মী ছাঁটাই শুরু করেছে। নির্মাণ ও সেবা খাতের অনেকেই কাজ হারানোর আশঙ্কায় রয়েছেন। যোগাযোগ ব্যবস্থাও ভেঙে পড়েছে অনেকাংশে। দীর্ঘ সময় ধরে ইন্টারনেট সীমাবদ্ধতার কারণে মানুষ তথ্যপ্রবাহ থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ছে। বিকল্প উপায়ে সংযোগ স্থাপনের চেষ্টা করলেও তা ব্যয়বহুল ও ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে উঠেছে। সব মিলিয়ে, সম্ভাব্য সামরিক হামলার আশঙ্কা, রাজনৈতিক অনিশ্চয়তা এবং অর্থনৈতিক সংকট—এই তিনের চাপের মধ্যে ইরানের সাধারণ মানুষ এক অনিশ্চিত ভবিষ্যতের মুখোমুখি দাঁড়িয়ে আছে।
ইরানকে ঘিরে উত্তেজনার মধ্যে হোয়াইট হাউসে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তাঁর বক্তব্যে ইরানের বিরুদ্ধে সামরিক ও রাজনৈতিকভাবে কঠোর অবস্থানের ইঙ্গিত পাওয়া গেছে। আল–জাজিরার প্রতিবেদনের ভিত্তিতে জানা যায়, ট্রাম্প ইরানের সেতু, বিদ্যুৎকেন্দ্রসহ বিভিন্ন বেসামরিক অবকাঠামোতে আবারও হামলার হুমকি দিয়েছেন। বিশ্লেষকদের মতে, এ ধরনের হামলা আন্তর্জাতিক মানবিক আইনের দৃষ্টিতে গুরুতর প্রশ্নের জন্ম দিতে পারে। একই সঙ্গে ইরানের তেলের বিশাল মজুদ নিয়ে মন্তব্য করেন ট্রাম্প। তিনি বলেন, সুযোগ পেলে ওই সম্পদ ‘দখল’ করতে চাইতেন এবং এর মাধ্যমে বড় অঙ্কের অর্থ আয় সম্ভব হতো বলে দাবি করেন। যুক্তরাষ্ট্রে যুদ্ধবিরোধী মনোভাব প্রসঙ্গে ট্রাম্প বলেন, তাঁর রাজনৈতিক সমর্থকরা দৃঢ়ভাবে তাঁর পাশে আছেন। তবে যুদ্ধবিরোধী নাগরিকদের তিনি কড়া ভাষায় সমালোচনা করে ‘বোকা’ বলে উল্লেখ করেন। এ ছাড়া ট্রাম্প দাবি করেন, তাঁর প্রশাসন ইরানে সরকারবিরোধী বিক্ষোভকারীদের সহায়তা হিসেবে অস্ত্র পাঠিয়েছিল। যদিও তিনি নির্দিষ্ট কোনো গোষ্ঠীর নাম উল্লেখ করেননি এবং বিষয়টি নিয়ে বিস্তারিত ব্যাখ্যাও দেননি। হরমুজ প্রণালি প্রসঙ্গেও কড়া অবস্থান পুনর্ব্যক্ত করেন তিনি। ট্রাম্প জানান, প্রণালিটি পুনরায় চালু করার জন্য দেওয়া যুক্তরাষ্ট্রের আলটিমেটাম চূড়ান্ত। ইরানের প্রতিক্রিয়াকে ‘গুরুত্বপূর্ণ’ হলেও ‘যথেষ্ট সন্তোষজনক নয়’ বলে মন্তব্য করেন তিনি। বর্তমান পরিস্থিতিতে ট্রাম্পের এসব বক্তব্য মধ্যপ্রাচ্যে উত্তেজনা আরও বাড়াতে পারে বলে ধারণা করছেন বিশ্লেষকেরা।
ইরানের ভেতরে ভূপাতিত যুদ্ধবিমানের দুই ক্রুকে উদ্ধারে অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ সামরিক অভিযান চালিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। এই অভিযানে অংশ নেয় কয়েকশ বিশেষ বাহিনীর সদস্য, হারাতে হয় উচ্চপ্রযুক্তির দুটি পরিবহন বিমান ও একটি হেলিকপ্টার। সামরিক বিশ্লেষকদের মতে, সাম্প্রতিক সময়ের অন্যতম জটিল উদ্ধার অভিযান এটি।' ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম Daily Mail-এর এক প্রতিবেদনে বলা হয়, শত্রুপক্ষের হামলায় বিধ্বস্ত F-15E Strike Eagle যুদ্ধবিমান থেকে ইজেক্ট করার পর দুই ক্রু ভিন্ন ভিন্ন স্থানে অবতরণ করেন। পাইলটকে কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই উদ্ধার করা সম্ভব হলেও, অন্য ক্রুকে উদ্ধারে শুরু হয় দীর্ঘ ও ঝুঁকিপূর্ণ অভিযান। ঘটনাটি ঘটে দক্ষিণ-পশ্চিম ইরানের একটি দুর্গম পার্বত্য এলাকায়। আহত অবস্থায় পড়া ওই বিমান সেনা ‘সারভাইভাল, ইভেইশন, রেজিস্ট্যান্স অ্যান্ড এস্কেপ (SERE)’ কৌশল অনুসরণ করে আত্মগোপনে যান। নিজের সঙ্গে থাকা সীমিত সরঞ্জাম—পানি বিশুদ্ধকরণ ট্যাবলেট, মানচিত্র, কম্পাস ও একটি বিশেষ যোগাযোগ যন্ত্রের সাহায্যে তিনি টিকে থাকার চেষ্টা চালান। ওই যোগাযোগ যন্ত্র ‘কমব্যাট সারভাইভার ইভেশন লোকেটর (CSEL)’ ব্যবহার করে তিনি যুক্তরাষ্ট্রের কমান্ডে সংকেত পাঠান। পরে তার অবস্থান শনাক্ত করতে আকাশে নজরদারি শুরু করে মার্কিন বাহিনী। চালকবিহীন ড্রোন ও A-10 Thunderbolt II যুদ্ধবিমান দিয়ে এলাকাটি নিরাপদ রাখার চেষ্টা করা হয়। এদিকে ইরানি কর্তৃপক্ষ তাকে ধরিয়ে দিতে পুরস্কার ঘোষণা করলে পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে ওঠে। বিভিন্ন মিলিশিয়া ও স্থানীয়রা তার খোঁজে নামে বলে দাবি করা হয়। পরবর্তীতে যুক্তরাষ্ট্রের বিশেষ বাহিনী—নেভি সিলস, ডেল্টা ফোর্সসহ অন্যান্য ইউনিট—একটি সমন্বিত উদ্ধার পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করে। কমান্ডোদের C-130J Super Hercules বিমানে করে ঘটনাস্থলের কাছাকাছি আনা হয় এবং হেলিকপ্টারের মাধ্যমে পাহাড়ি এলাকায় নামানো হয়। উদ্ধার অভিযান পরিচালনার জন্য ইরানের ভেতরে একটি পরিত্যক্ত এয়ারফিল্ড দখল করে সেটিকে অস্থায়ী ঘাঁটিতে পরিণত করা হয়। প্রায় ২৪ ঘণ্টা ধরে এই ঘাঁটি ব্যবহার করে উদ্ধার কার্যক্রম চালানো হয়। তবে অভিযানের সময় জটিলতা তৈরি হয়, যখন দুটি পরিবহন বিমান নরম মাটিতে আটকে পড়ে। ফলে বিকল্প হিসেবে আরও তিনটি বিমান পাঠাতে হয়। নিরাপত্তাজনিত কারণে আটকে পড়া বিমান ও একটি হেলিকপ্টার পরে ধ্বংস করে দেওয়া হয়, যাতে সেগুলো শত্রুপক্ষের হাতে না পড়ে। সবশেষে, প্রায় দেড় দিনের টানটান উত্তেজনার পর আহত বিমান সেনাসহ সংশ্লিষ্ট সবাইকে নিরাপদে সরিয়ে নিতে সক্ষম হয় মার্কিন বাহিনী।
ইরানকে উদ্দেশ করে কড়া ও অপমানজনক ভাষায় হুমকি দেওয়ার পর মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প-কে ঘিরে যুক্তরাষ্ট্রের রাজনীতিতে তীব্র প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি হয়েছে। তাঁর আচরণে উদ্বেগ জানিয়ে অনেক রাজনীতিক এখন প্রকাশ্যে তাঁর মানসিক স্থিতি নিয়েও প্রশ্ন তুলছেন। নিজের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ট্রুথ সোশ্যালে দেওয়া এক পোস্টে ট্রাম্প পারস্য উপসাগরের গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালি খুলে দেওয়ার দাবি জানান। এ সময় তিনি অত্যন্ত আক্রমণাত্মক ভাষা ব্যবহার করেন এবং ইরানের অবকাঠামোতে বড় ধরনের হামলারও হুমকি দেন। এই বক্তব্যের জেরে ডেমোক্রেটিক ও স্বতন্ত্র রাজনীতিকদের পাশাপাশি তাঁর নিজ দল রিপাবলিকান পার্টির ভেতর থেকেও সমালোচনা শুরু হয়েছে। সাবেক ঘনিষ্ঠ মিত্র মার্জোরি টেলর গ্রিন ট্রাম্পের সাম্প্রতিক আচরণকে ‘পাগলামি’ আখ্যা দিয়ে বলেন, তিনি মানসিক ভারসাম্য হারিয়েছেন এবং প্রশাসনের কর্মকর্তাদের হস্তক্ষেপ করা উচিত। ডেমোক্রেটিক নেতা চাক শুমার ট্রাম্পের বক্তব্যকে ‘উন্মাদের প্রলাপ’ হিসেবে বর্ণনা করেছেন। একইভাবে স্বতন্ত্র সিনেটর বার্নি স্যান্ডার্স একে ‘বিপজ্জনক ও মানসিকভাবে ভারসাম্যহীন’ আচরণ বলে মন্তব্য করেন। আরেক সিনেটর ক্রিস মারফি বলেন, পরিস্থিতি এতটাই উদ্বেগজনক যে যুক্তরাষ্ট্রের সংবিধানের ২৫তম সংশোধনী প্রয়োগের বিষয়টি নিয়েও ভাবা উচিত। এই সংশোধনী কার্যকর হলে প্রেসিডেন্টকে দায়িত্ব পালনে অযোগ্য ঘোষণা করা যেতে পারে। ডেমোক্রেটিক আইনপ্রণেতা রো খান্না এবং সিনেটর টিম কেইন-ও ট্রাম্পের ভাষা ও অবস্থানকে ‘ঝুঁকিপূর্ণ’ এবং ‘অপরিণত’ বলে সমালোচনা করেছেন। তাঁদের মতে, এ ধরনের বক্তব্য আন্তর্জাতিক উত্তেজনা বাড়ানোর পাশাপাশি বিদেশে অবস্থানরত মার্কিন সেনাদের নিরাপত্তাকেও ঝুঁকির মুখে ফেলছে। এদিকে ইরান স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছে, যুদ্ধজনিত ক্ষয়ক্ষতির ক্ষতিপূরণ ছাড়া তারা হরমুজ প্রণালি খুলবে না। এতে করে পারস্য উপসাগরীয় অঞ্চলে উত্তেজনা আরও বেড়েছে এবং বিশ্ববাজারে জ্বালানি সরবরাহ নিয়েও উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। বিশ্লেষকদের মতে, ট্রাম্পের কঠোর অবস্থান এবং মিত্রদের সঙ্গে টানাপোড়েন যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্রনীতিতে নতুন অনিশ্চয়তা তৈরি করছে।
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানের ওপর চরম হুঁশিয়ারি জারি করে জানিয়েছেন, আগামী ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে হয় কোনো "চুক্তি" করতে হবে, নয়তো 'হরমুজ প্রণালি' উন্মুক্ত করে দিতে হবে। অন্যথায় ইরানের ওপর "জাহান্নাম নেমে আসবে" বলে তিনি সরাসরি হুমকি দিয়েছেন। শনিবার (৪ এপ্রিল) নিজের সোশ্যাল মিডিয়া প্ল্যাটফর্ম 'ট্রুথ সোশ্যাল'-এ এক পোস্টে ট্রাম্প এই সময়সীমা বেঁধে দেন। তিনি উল্লেখ করেন যে, ইরানকে দেওয়া আগের ১০ দিনের সময়সীমা এখন শেষের পথে। ট্রাম্প তার পোস্টে লিখেছেন, "মনে আছে, আমি ইরানকে একটি চুক্তি করার জন্য অথবা হরমুজ প্রণালি খুলে দেওয়ার জন্য ১০ দিন সময় দিয়েছিলাম? সময় শেষ হয়ে আসছে।" তিনি আরও যোগ করেন, "আর মাত্র ৪৮ ঘণ্টা, এরপরই তাদের ওপর দোজখের আগুন নেমে আসবে।" প্রেসিডেন্টের এই কঠোর বার্তা মধ্যপ্রাচ্যের বিদ্যমান উত্তেজনাকে আরও বহুগুণ বাড়িয়ে দিয়েছে এবং বিশ্বজুড়ে নতুন করে যুদ্ধের শঙ্কা তৈরি করেছে। এই চরম হুঁশিয়ারি দেওয়ার কিছুক্ষণ আগে ট্রাম্প অন্য একটি বার্তায় মার্কিন অর্থনীতিতে শুল্ক আরোপের সুফল নিয়ে কথা বলেন। সেখানে তিনি স্পষ্ট করেন যে, তার প্রশাসনের মূল লক্ষ্য হচ্ছে একটি "পারমাণবিক শক্তিহীন ইরান" গড়ে তোলা। ট্রাম্পের এই অনমনীয় অবস্থান ইঙ্গিত দিচ্ছে যে, নির্ধারিত সময়ের মধ্যে তেহরান কোনো ইতিবাচক সাড়া না দিলে যুক্তরাষ্ট্র বড় ধরনের সামরিক পদক্ষেপ নিতে পারে। বর্তমানে ইরানের ওপর যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যৌথ চাপ এবং হরমুজ প্রণালি বন্ধ থাকা নিয়ে বিশ্ব অর্থনীতিতে যে অস্থিরতা চলছে, ট্রাম্পের এই ৪৮ ঘণ্টার আল্টিমেটাম তাকে এক চূড়ান্ত পরিণতির দিকে নিয়ে যাচ্ছে। আন্তর্জাতিক বিশ্লেষকরা মনে করছেন, এই সময়সীমা পার হওয়ার পর মধ্যপ্রাচ্যের পরিস্থিতি কোন দিকে মোড় নেয়, তার ওপর নির্ভর করছে বৈশ্বিক জ্বালানি ও নিরাপত্তার ভবিষ্যৎ। সূত্র: ট্রুথ সোশ্যাল
মধ্যপ্রাচ্যে ইরানকে ঘিরে বাড়তে থাকা উত্তেজনার মধ্যে যুক্তরাষ্ট্রকে প্যাট্রিয়ট বিমান প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা দিতে অস্বীকৃতি জানিয়েছে পোল্যান্ড। এতে পশ্চিমা জোটের ভেতরে সমন্বয় ও কৌশলগত অবস্থান নিয়ে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে। পোল্যান্ডের প্রতিরক্ষামন্ত্রী ভ্লাদিস্লাভ কোসিনিয়াক-কামিশ বলেছেন, তাদের প্যাট্রিয়ট প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা বর্তমানে দেশের আকাশসীমা ও ন্যাটোর পূর্ব সীমান্ত রক্ষায় নিয়োজিত রয়েছে। ফলে এই মুহূর্তে সেগুলো অন্য অঞ্চলে পাঠানোর কোনো পরিকল্পনা নেই। এর আগে যুক্তরাষ্ট্র মধ্যপ্রাচ্যে সম্ভাব্য ইরানি হামলা প্রতিরোধে পোল্যান্ডের কাছে অন্তত দুটি প্যাট্রিয়ট ব্যবস্থা ও উন্নত ক্ষেপণাস্ত্র চেয়েছিল। তবে ওয়ারশ স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছে, নিজস্ব নিরাপত্তা বিবেচনায় তারা এ অনুরোধ রাখতে পারছে না। এদিকে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সামরিক অভিযান চললেও ইরান পরিস্থিতি এখনো স্থিতিশীল হয়নি। পাল্টা হামলায় মার্কিন ঘাঁটি ও সরঞ্জাম ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার খবর পাওয়া যাচ্ছে, যা সংঘাতের ঝুঁকি আরও বাড়াচ্ছে। এ পরিস্থিতিতে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইউরোপীয় মিত্রদের ভূমিকা নিয়ে অসন্তোষ প্রকাশ করেছেন। তিনি ন্যাটো জোটের কার্যকারিতা নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন। বিশ্লেষকদের মতে, ইরান ইস্যুতে ইউরোপীয় দেশগুলোর ভিন্ন অবস্থান ভবিষ্যতে পশ্চিমা জোটের ঐক্যে প্রভাব ফেলতে পারে। এরই মধ্যে স্পেনও যুক্তরাষ্ট্রকে তাদের আকাশসীমা ও সামরিক ঘাঁটি ব্যবহারের অনুমতি দিতে অস্বীকৃতি জানিয়েছে।
জার্মানির প্রেসিডেন্ট ফ্রাঙ্ক স্টেইনমায়ার যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ট ট্রাম্পের ইরান নীতি এবং সামরিক অভিযানকে কঠোরভাবে সমালোচনা করে বলেছেন, যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের ইরানের বিরুদ্ধে যুদ্ধ আন্তর্জাতিক আইনের লঙ্ঘন। মঙ্গলবার জার্মান পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে এক বক্তৃতায় স্টেইনমায়ার বলেন, এই যুদ্ধ আন্তর্জাতিক আইন ভঙ্গ করেছে এবং এটি একটি গুরুতর রাজনৈতিক ভুল। খবরটি প্রকাশ করেছে মিডিল ইস্ট মনিটর, যেখানে বলা হয়েছে জার্মান প্রেসিডেন্ট স্পষ্টভাবে বলেছেন যে কূটনৈতিক পথ খোলা থাকলেও যুদ্ধের পথ বেছে নেওয়া হয়েছে। স্টেইনমায়ার আরও বলেন, যুক্তরাষ্ট্র যখন ২০১৫ সালের ইরান পারমাণবিক চুক্তি থেকে সরে যায়, তখন থেকেই পরিস্থিতি খারাপ হতে শুরু করে। তার মতে, সেই চুক্তি কার্যকর থাকলে বর্তমান সংঘাত এড়ানো সম্ভব ছিল। এ বিষয়ে বিস্তারিত প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে জিনহুয়া নিউজ এজেন্সি যেখানে উল্লেখ করা হয়েছে যে ইউরোপীয় দেশগুলো শুরু থেকেই যুদ্ধের বদলে কূটনৈতিক সমাধানের পক্ষে ছিল। জার্মান প্রেসিডেন্ট সতর্ক করে বলেন, আন্তর্জাতিক আইন উপেক্ষা করলে বিশ্বব্যবস্থা দুর্বল হয়ে পড়বে এবং এতে ইউরোপ-আমেরিকা সম্পর্কেও চাপ তৈরি হতে পারে। একই ধরনের উদ্বেগের কথা উল্লেখ করেছে দ্য গার্ডিয়ান, যেখানে বলা হয়েছে ইরানকে ঘিরে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক পদক্ষেপ পশ্চিমা জোটের মধ্যেও মতভেদ বাড়াচ্ছে। বিশ্লেষকদের মতে, মধ্যপ্রাচ্যে নতুন করে সেনা মোতায়েন, ইসরায়েল-ইরান উত্তেজনা এবং আন্তর্জাতিক সমালোচনা—সব মিলিয়ে পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে উঠছে এবং বড় ধরনের সংঘাতের আশঙ্কা বাড়ছে।
ইরানকে ঘিরে চলমান সংঘাত নিয়ে ন্যাটো মিত্রদের তীব্র সমালোচনা করেছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তিনি অভিযোগ করেছেন, ইরানের বিরুদ্ধে সামরিক পদক্ষেপে সহযোগিতা না করায় মিত্ররা ‘কাপুরুষের’ আচরণ করছে। শুক্রবার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ট্রুথ সোশ্যালে দেওয়া এক পোস্টে ট্রাম্প দাবি করেন, এই সংঘাত সামরিকভাবে ইতোমধ্যেই যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষে “জয়ী” হয়েছে। তবে একই সঙ্গে তিনি বলেন, ন্যাটো মিত্ররা তেলের উচ্চমূল্য নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করলেও হরমুজ প্রণালি উন্মুক্ত রাখতে কার্যকর পদক্ষেপ নিতে আগ্রহ দেখাচ্ছে না। ট্রাম্পের ভাষায়, হরমুজ প্রণালি খুলে দেওয়া একটি “সহজ সামরিক পদক্ষেপ”, যা তেলের দাম বৃদ্ধির অন্যতম কারণ দূর করতে পারে। কিন্তু মিত্ররা এতে এগিয়ে না এসে দায় এড়িয়ে যাচ্ছে বলেও মন্তব্য করেন তিনি। তিনি আরও অভিযোগ করেন, ইরানের বিরুদ্ধে অবস্থান নেওয়ার ক্ষেত্রে ন্যাটো জোট কার্যকর ভূমিকা রাখতে ব্যর্থ হয়েছে। যুক্তরাষ্ট্র ছাড়া এই জোটকে “কাগুজে বাঘ” বলেও আখ্যা দেন ট্রাম্প। সপ্তাহের শুরুতে মিত্রদের সহায়তা চাইলেও পরে নিজের অবস্থান পরিবর্তন করে ট্রাম্প বলেন, এ ক্ষেত্রে যুক্তরাষ্ট্রের অন্যদের সহায়তার প্রয়োজন নেই। তাঁর মতে, যুক্তরাষ্ট্র একাই পরিস্থিতি মোকাবিলা করতে সক্ষম। বিশ্লেষকদের মতে, ট্রাম্পের এই বক্তব্য ন্যাটো জোটের ভেতরে বিদ্যমান মতপার্থক্যকে আরও স্পষ্ট করে তুলেছে এবং মধ্যপ্রাচ্য পরিস্থিতি নিয়ে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে নতুন করে উত্তেজনা সৃষ্টি করতে পারে।
ইরানে চলমান সংঘাতের মধ্যে আটকে পড়া বাংলাদেশিদের প্রথম একটি দল দেশে ফেরার পথে রয়েছে। ১৮৬ জন বাংলাদেশিকে নিয়ে একটি বিশেষ ফ্লাইট আজারবাইজানের রাজধানী বাকু থেকে ঢাকার উদ্দেশে রওনা দিয়েছে। স্থানীয় সময় শুক্রবার সন্ধ্যা সাড়ে ছয়টার পর (বাংলাদেশ সময় রাত সাড়ে আটটা) বাংলাদেশ বিমান-এর একটি বিশেষ ফ্লাইট হায়দার আলিয়েভ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে যাত্রা করে। তুরস্কে নিযুক্ত বাংলাদেশ দূতাবাসের উপ-মিশনপ্রধান মোহাম্মদ শাহনূর আলী মুঠোফোনে এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানান, দেশে ফেরত আসা এই দলে ১১ জন নারী, ১০ শিশু এবং ১৬৫ জন পুরুষ রয়েছেন। সরকারের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, ইরান থেকে বাংলাদেশি নাগরিকদের নিরাপদে দেশে ফেরাতে তুরস্কে নিযুক্ত বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত এম আমানুল হক-এর নেতৃত্বে একটি প্রতিনিধিদল আজারবাইজানে অবস্থান করছে। গত বৃহস্পতিবার থেকে প্রতিনিধিদলটি সীমান্ত এলাকায় পৌঁছানো বাংলাদেশিদের সহায়তা দিচ্ছে। ইরানের বিভিন্ন এলাকা, বিশেষ করে তেহরান থেকে আসা এসব নাগরিককে প্রথমে আজারবাইজানের আস্তারা সীমান্তে নিয়ে যাওয়া হয়। পরে সেখান থেকে বাসে করে তাঁদের বাকুর বিমানবন্দরে পৌঁছে দেওয়া হয়। এই পুরো প্রক্রিয়ায় সহায়তা করেছে আন্তর্জাতিক অভিবাসন সংস্থা। সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন, পরিস্থিতি বিবেচনায় পর্যায়ক্রমে আরও বাংলাদেশিকে দেশে ফিরিয়ে আনার উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে।
ইরানে বড় ধরনের গণ-অভ্যুত্থান কেন দেখা যাচ্ছে না এ প্রশ্নের জবাবে নিজের বিশ্লেষণ তুলে ধরেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তিনি বলেছেন, ইরান সরকারের কঠোর দমন-পীড়ন এবং সাধারণ মানুষের জীবনের নিরাপত্তাহীনতাই দেশটিতে বড় আকারের আন্দোলন গড়ে ওঠার পথে প্রধান বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। রোববার প্রেসিডেন্টের সরকারি বিমান এয়ার ফোর্স ওয়ানে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে ট্রাম্প ইরানের সাম্প্রতিক পরিস্থিতি নিয়ে এসব মন্তব্য করেন। ইরানি নেতৃত্বের কঠোর সমালোচনা করে ট্রাম্প বলেন, ইরানের শাসকগোষ্ঠী দেশজুড়ে এমন একটি ভীতিকর পরিবেশ তৈরি করেছে, যেখানে সরকারের বিরুদ্ধে কথা বলা বা প্রতিবাদ করা অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে উঠেছে। তার ভাষায়, “আপনারা একদল সন্ত্রাসীর মোকাবিলা করছেন।” তিনি অভিযোগ করেন, ইরান সরকার প্রকাশ্যে সতর্কবার্তা দিয়েছে কেউ যদি প্রতিবাদে রাস্তায় নামে, তবে তাকে সরাসরি গুলি করা হতে পারে। এই পরিস্থিতিতে সাধারণ মানুষ কেন প্রকাশ্যে আন্দোলনে নামছে না, তা বোঝা কঠিন নয় বলেও মন্তব্য করেন ট্রাম্প। এর আগে ইরানের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান নেওয়ার পর ট্রাম্প ইরানি জনগণকে রাজপথে নেমে তাদের সরকারকে উৎখাত করার আহ্বান জানিয়েছিলেন। তবে সেই আহ্বানের পরও দেশটিতে বড় ধরনের গণ-আন্দোলন দেখা না যাওয়ায় সাংবাদিকরা এ বিষয়ে তার ব্যাখ্যা জানতে চান। সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে ট্রাম্পকে জিজ্ঞেস করা হয়, বর্তমান পরিস্থিতিতে তিনি কি নিজেকে বিজয়ী ঘোষণা করতে প্রস্তুত। জবাবে তিনি বলেন, এখনই এমন ঘোষণা দেওয়ার সময় আসেনি। ট্রাম্প বলেন, “আমি এখনই নিজেকে বিজয়ী বলতে চাই না। তার কোনো প্রয়োজনও নেই। তবে এটুকু বলতে পারি, ইরানের নেতৃত্ব এখন বড় ধরনের চাপের মুখে রয়েছে।” রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, ট্রাম্পের এসব বক্তব্য ইরানের ওপর মার্কিন চাপ আরও বাড়ানোর ইঙ্গিত দিচ্ছে। একই সঙ্গে এটি ইরানি জনগণের প্রতি মার্কিন প্রশাসনের সমর্থনের বার্তা হিসেবেও বিবেচনা করা হচ্ছে, যেখানে সরকারবিরোধী আন্দোলনের পক্ষে আন্তর্জাতিক সমর্থন জোগানোর চেষ্টা করা হতে পারে।
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেছেন, যুক্তরাষ্ট্র এখনো ইরানের ওপর ‘কঠোর আঘাত’ শুরু করেনি এবং বড় ধরনের হামলা এখনও বাকি রয়েছে। তাঁর ভাষায়, শিগগিরই ইরানে ‘মূল আক্রমণ’ চালানো হতে পারে। মার্কিন সংবাদমাধ্যম CNN–কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ট্রাম্প এসব কথা বলেন। ইরানি জনগণকে দেশটির নিয়ন্ত্রণ পুনরুদ্ধারে সহায়তা করার জন্য সামরিক অভিযানের বাইরে যুক্তরাষ্ট্র অন্য কোনো পদক্ষেপ নিচ্ছে কিনা এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি ইতিবাচক ইঙ্গিত দেন। ট্রাম্প বলেন, বর্তমানে পরিস্থিতি কিছুটা ঝুঁকিপূর্ণ। তাই সাধারণ মানুষকে নিরাপদ স্থানে থাকার পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে। তাঁর মতে, পরিস্থিতি আরও অস্থিতিশীল হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। তিনি আরও বলেন, ইরানের বিরুদ্ধে এখনো বড় আকারের সামরিক অভিযান শুরু হয়নি। তবে ভবিষ্যতে শক্তিশালী হামলার পরিকল্পনা রয়েছে বলে ইঙ্গিত দেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট।
মধ্যপ্রাচ্যে চলমান উত্তেজনার মধ্যে ইরান–এর মিসাইল হামলায় কুয়েতের আকাশে এফ–১৫ যুদ্ধবিমান বিধ্বস্ত হয়েছে বলে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও আন্তর্জাতিক বিভিন্ন সূত্রে দাবি করা হয়েছে। সোমবার (২ মার্চ) দুপুরে ছড়িয়ে পড়া একাধিক ভিডিওতে আকাশে উড়ন্ত অবস্থায় থাকা যুদ্ধবিমানটি হঠাৎ আঘাতপ্রাপ্ত হয়ে নিচে পড়ে যেতে দেখা গেছে। ভিডিও ফুটেজে একজন পাইলটকে প্যারাসুটের সাহায্যে নিরাপদে বিমান থেকে বের হতে দেখা গেলেও যুক্তরাষ্ট্র প্রতিরক্ষা দপ্তর (পেন্টাগন) এ ঘটনার কারণ বা ক্ষয়ক্ষতি নিয়ে আনুষ্ঠানিক কোনো মন্তব্য করেনি। এদিকে ইরানের জাতীয় নিরাপত্তা পরিষদের প্রভাবশালী কর্মকর্তা আলি লারিজানি যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে আলোচনার সম্ভাবনা নাকচ করে দিয়েছেন। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক পোস্টে তিনি জানান, বর্তমান পরিস্থিতিতে যুক্তরাষ্ট্র–এর সঙ্গে কোনো ধরনের সংলাপ করবে না তেহরান। তিনি আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমের সেই প্রতিবেদনকেও ভিত্তিহীন বলে উল্লেখ করেন, যেখানে দাবি করা হয়েছিল মধ্যস্থতাকারীদের মাধ্যমে ইরান পুনরায় আলোচনা শুরু করতে আগ্রহী। লারিজানি বলেন, মার্কিন প্রশাসনের নীতি মধ্যপ্রাচ্যকে অস্থিতিশীলতার দিকে ঠেলে দিচ্ছে। বিশ্লেষকদের মতে, কুয়েতের আকাশে যুদ্ধবিমান বিধ্বস্তের ঘটনা মধ্যপ্রাচ্যের ভূরাজনৈতিক পরিস্থিতিকে নতুন মোড়ে নিয়ে যেতে পারে। পাল্টা সামরিক পদক্ষেপ নেওয়া হলে সংঘাত আরও বিস্তৃত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। বর্তমানে কুয়েতসহ আশপাশের আকাশসীমায় নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করা হয়েছে এবং পরিস্থিতি নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করছে নর্থ আটলান্টিক ট্রিটি অর্গানাইজেশন (ন্যাটো) ও সংশ্লিষ্ট আন্তর্জাতিক সংস্থাগুলো।
মধ্যপ্রাচ্যে নতুন করে বড় ধরনের সংঘাত ছড়িয়ে পড়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। ইরানের রাজধানী তেহরানসহ একাধিক শহরে গত শনিবার (২৮ ফেব্রুয়ারি) আকস্মিক সামরিক অভিযান শুরু করে ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্র। যৌথ এ অভিযানে ইরানের শীর্ষ পর্যায়ের কয়েকজন নেতা ও সামরিক কর্মকর্তার নিহত হওয়ার খবর প্রকাশিত হয়েছে। ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনি এবং সাবেক প্রেসিডেন্টসহ বিভিন্ন বাহিনীর প্রধান ও কমান্ডাররা নিহত হয়েছেন বলে দাবি করা হয়েছে। তবে এ বিষয়ে ইরানের পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে বিস্তারিত কিছু জানানো হয়নি। অভিযান শুরুর পর মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ঘোষণা দেন, নির্ধারিত লক্ষ্য অর্জিত না হওয়া পর্যন্ত হামলা অব্যাহত থাকবে। তিনি জানান, ইরানে এই সামরিক অভিযান পাঁচ সপ্তাহ পর্যন্ত চলতে পারে। এদিকে, রোববার এক প্রতিবেদনে The Washington Post দাবি করে, সৌদি যুবরাজ মোহাম্মদ বিন সালমান ও ইসরায়েলের চাপের মুখেই ইরানে হামলার সিদ্ধান্ত নেয় ওয়াশিংটন। প্রতিবেদনে বলা হয়, প্রকাশ্যে বিরোধিতা করলেও আড়ালে সামরিক পদক্ষেপের পক্ষে অবস্থান নিয়েছিলেন সৌদি যুবরাজ। পরিস্থিতির প্রেক্ষাপটে যুক্তরাজ্য জানিয়েছে, ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র স্থাপনায় হামলা চালাতে তাদের সামরিক ঘাঁটি ব্যবহারের অনুমতি যুক্তরাষ্ট্রকে দেওয়া হয়েছে। দেশটির প্রধানমন্ত্রী কিয়ার স্টারমার এ তথ্য নিশ্চিত করেন। এর আগে ফ্রান্স জানায়, ইরানের সর্বোচ্চ নেতার নিহত হওয়ার ঘটনায় তারা সন্তুষ্ট। সর্বশেষ ফ্রান্স, জার্মানি ও যুক্তরাজ্যের নেতারা এক যৌথ বিবৃতিতে বলেন, মধ্যপ্রাচ্যে তাদের ও তাদের মিত্রদের বিরুদ্ধে ইরানের নির্বিচার ও অসামঞ্জস্যপূর্ণ ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় তারা গভীরভাবে উদ্বিগ্ন। বিবৃতিতে আরও বলা হয়, প্রয়োজন হলে নিজেদের ও উপসাগরীয় মিত্রদের স্বার্থ রক্ষায় প্রতিরক্ষামূলক ও আনুপাতিক পদক্ষেপ নেওয়া হবে। বিশেষ করে ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন উৎক্ষেপণ সক্ষমতা নিষ্ক্রিয় করার বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করা হচ্ছে। বর্তমান পরিস্থিতি মধ্যপ্রাচ্যে বড় পরিসরের সংঘাতের আশঙ্কা বাড়িয়েছে বলে আন্তর্জাতিক বিশ্লেষকদের অভিমত।
যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে। এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন। নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি। উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।” বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে। এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে। শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়। উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত। এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।
মধ্যপ্রাচ্যের ক্রমবর্ধমান উত্তেজনার মধ্যেই একটি চাঞ্চল্যকর দাবি ভূ-রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন করে বিতর্কের ঝড় তুলেছে। গত ৪৮ থেকে ৫৬ ঘণ্টার মধ্যে ১৬টি চীনা 'ওয়াই-২০' (Y-20) সামরিক কার্গো বিমান তাদের ট্রান্সপন্ডার বা সিগন্যাল বন্ধ রেখে ইরানের আকাশে প্রবেশ করেছে বলে খবর ছড়িয়েছে। কোনো আনুষ্ঠানিক নিশ্চিতকরণ ছাড়াই এই তথ্যটি প্রতিরক্ষা বিশ্লেষক ও সোশ্যাল মিডিয়া ব্যবহারকারীদের মধ্যে তীব্র উদ্বেগ সৃষ্টি করেছে। দাবি করা হচ্ছে, এই বিমানগুলো বেসামরিক রাডার থেকে আড়াল থাকতে বিশেষ কৌশল অবলম্বন করেছিল। নেটিজেন ও সামরিক বিশ্লেষকদের একটি অংশের ধারণা, চীন হয়তো ইরানকে অত্যাধুনিক ইলেকট্রনিক ওয়ারফেয়ার সিস্টেম বা জ্যামিং প্রযুক্তি সরবরাহ করছে। যদি এটি সত্যি হয়, তবে মার্কিন এফ-৩৫ (F-35) যুদ্ধবিমান বা নৌ-অভিযানের জন্য এটি বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়াতে পারে। অনেকে একে যুক্তরাষ্ট্রের প্রতি বেইজিংয়ের সরাসরি ‘সতর্কবার্তা’ হিসেবেও দেখছেন। তবে এই উত্তেজনার মুদ্রার উল্টো পিঠও রয়েছে। ফ্লাইটরাডার২৪-এর মতো আন্তর্জাতিক ফ্লাইট ট্র্যাকিং প্ল্যাটফর্মে এ ধরনের কোনো অস্বাভাবিক ফ্লাইটের রেকর্ড পাওয়া যায়নি। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ১৬টি ভারী সামরিক কার্গো বিমানের মতো বিশাল বহরকে রাডার বা স্যাটেলাইট নজরদারি থেকে সম্পূর্ণ লুকিয়ে রাখা প্রায় অসম্ভব। বর্তমান ভূ-রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে চীন-ইরান সম্পর্ক গভীর হলেও, সুনির্দিষ্ট প্রমাণের অভাবে বিশ্লেষকরা একে আপাতত ‘সুপরিকল্পিত গুজব’ বা মিসইনফরমেশন হিসেবেই দেখছেন। তেহরান বা বেইজিং—কোনো পক্ষ থেকেই এখন পর্যন্ত এ নিয়ে কোনো আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া মেলেনি।
২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো। প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে। এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে। অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে। স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে। সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে। সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।
যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা প্রত্যাশীদের জন্য কঠোর হচ্ছে নিয়মাবলী। আগামী ৩০ মার্চ থেকে কার্যকর হতে যাচ্ছে নতুন ভিসা রুলস, যেখানে আবেদনকারীদের সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের প্রোফাইল পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে যাচাই বা স্ক্রিনিং করা হবে। মার্কিন প্রশাসনের এই নতুন পদক্ষেপে বাংলাদেশসহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশের ভিসা প্রত্যাশীদের মধ্যে ব্যাপক আলোচনার সৃষ্টি হয়েছে। নতুন এই নিয়ম মূলত অ-অভিবাসী (Non-immigrant) এবং অভিবাসী (Immigrant) উভয় ধরণের ভিসার ক্ষেত্রে প্রযোজ্য হতে পারে। বিশেষ করে যারা ট্যুরিস্ট ভিসা, স্টুডেন্ট ভিসা এবং কাজের সন্ধানে এইচ-১বি (H-1B) ভিসার জন্য আবেদন করবেন, তাদের সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের তথ্য প্রদান বাধ্যতামূলক করা হচ্ছে। আবেদনকারীদের গত পাঁচ বছরের ব্যবহৃত সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমগুলোর ইউজার আইডি বা হ্যান্ডেল নাম ফর্মে উল্লেখ করতে হবে। ফেসবুক, টুইটার (বর্তমানে এক্স), ইনস্টাগ্রাম এবং ইউটিউবের মতো জনপ্রিয় প্ল্যাটফর্মগুলো এই স্ক্রিনিংয়ের আওতায় থাকবে। তবে পাসওয়ার্ড দেওয়ার প্রয়োজন হবে না। মূলত আবেদনকারীর নিরাপত্তা ঝুঁকি এবং পূর্ববর্তী কোনো উসকানিমূলক বা সন্দেহজনক কর্মকাণ্ড আছে কি না, তা যাচাই করতেই এই পদক্ষেপ। মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তর জানিয়েছে, জাতীয় নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং জননিরাপত্তার স্বার্থেই এই স্ক্রিনিং প্রক্রিয়া জোরদার করা হয়েছে। কোনো ব্যক্তি যদি অতীতে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে উগ্রবাদ বা আইনবিরোধী কোনো কাজে লিপ্ত থেকে থাকেন, তবে তার ভিসা আবেদন বাতিল হওয়ার সম্ভাবনা তৈরি হবে। ভিসা বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ৩০ মার্চের পর যারা আবেদন করবেন, তাদের অবশ্যই গত ৫ বছরের ডিজিটাল ফুটপ্রিন্ট সম্পর্কে সতর্ক থাকতে হবে। কোনো ভুল তথ্য দিলে বা তথ্য গোপন করলে তা স্থায়ীভাবে ভিসা প্রত্যাখ্যাত হওয়ার কারণ হতে পারে। এছাড়া ইমেইল অ্যাড্রেস এবং ফোন নম্বর প্রদানের ক্ষেত্রেও অতিরিক্ত সতর্কতা অবলম্বনের পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। এই নতুন নিয়ম চালুর ফলে ভিসা প্রক্রিয়াকরণে কিছুটা অতিরিক্ত সময় লাগতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। তাই প্রয়োজনীয় কাগজপত্র এবং অনলাইন প্রোফাইল গুছিয়ে আবেদন করার পরামর্শ দিচ্ছে সংশ্লিষ্ট দপ্তরগুলো।
এপস্টেইন ফাইল: দাবি, বাইডেনকে ২০১৯ সালে হত্যা করে ক্লোন দ্বারা প্রতিস্থাপন করা হয়েছে জেফরি এপস্টেইনের ফাইল ট্রান্সপারেন্সি অ্যাক্টের সাথে যুক্ত সম্প্রতি প্রকাশিত একটি নথি ত্রাঞ্চে অভিযোগ করা হয়েছে যে, প্রাক্তন মার্কিন প্রেসিডেন্ট জো বাইডেনকে ২০১৯ সালে হত্যা করা হয়েছে এবং তাকে একটি ক্লোন দ্বারা প্রতিস্থাপন করা হয়েছে। এই নথিগুলি, যা আনক্লাসিফায়েড ডিপার্টমেন্ট অব জাস্টিস (DOJ) রেকর্ডের একটি বিশাল ডেটা রিলিজের অংশ, “চার্লস” নামে একজনের ক্ষুব্ধ ইমেইল অন্তর্ভুক্ত করেছে এবং অন্তর্বর্তী ফাইলিং কোড EFTA00173266 থেকে EFTA00173273 পর্যন্ত চিহ্নিত। এই ইমেইলগুলো তৃতীয় পক্ষের যোগাযোগের মধ্যে পাওয়া গেছে, যা জেফরি এপস্টেইনের নেটওয়ার্ক সংক্রান্ত বিস্তৃত ফেডারেল তদন্তের সময় সংগ্রহ করা হয়েছিল। এপস্টেইন সম্পর্কিত অন্যান্য প্রকাশনার মতো এখানে রাজনৈতিক ও ব্যবসায়িক ব্যক্তিদের সঙ্গে সম্পর্কের তথ্য নয়, বরং চরম ও ষড়যন্ত্রমূলক দাবিগুলো রয়েছে। ক্লোন তত্ত্বের উল্লেখ “চার্লস” ইমেইলগুলো এপ্রিল ২০২১-এ একজন এফবিআই এজেন্টকে ফরোয়ার্ড করা হয়েছিল, যাকে লাল করা প্রেরক হিসেবে দেখানো হয়েছে। প্রেরক দাবি করেছিলেন যে এটি একটি প্রযুক্তি সংস্থার এক ক্ষুব্ধ প্রাক্তন কর্মচারী বা সহযোগীর মেসেজ। ইমেইলগুলিতে গালাগালি ভাষা ব্যবহৃত হয়েছে এবং এখানে “কোয়ান্টাম” প্রযুক্তি, গোপন সামরিক ট্রাইব্যুনাল, এবং “বাইডেন আপনার বর্তমান প্রেসিডেন্ট নন” এমন দাবির উল্লেখ রয়েছে। একটি অনুচ্ছেদে বলা হয়েছে যে “বাস্তব” জো বাইডেনকে ২০১৯ সালে নির্বিচারে হত্যা করা হয়েছে এবং তাকে একজন অভিনেতা বা ক্লোন দ্বারা প্রতিস্থাপন করা হয়েছে, যেখানে প্রমাণ হিসেবে “মাস্কের ত্রুটি” দেখানো হয়েছে। তবে এই দাবিগুলোর সঙ্গে কোনো শারীরিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি বা সঙ্গত সাক্ষ্য নেই। “বাইডেন ক্লোন” দাবি অনলাইনে ষড়যন্ত্র তত্ত্বের একটি পরিচিত অংশ। তত্ত্বটি সাধারণত ধরে যে “বাস্তব” জো বাইডেনকে গোপনে জনমঞ্চ থেকে সরিয়ে দেওয়া হয়েছে, প্রায়শই ২০১৯ বা ২০২০ সালে, এবং তাকে চেহারা মিলানো লোক বা ক্লোন দিয়ে প্রতিস্থাপন করা হয়েছে। অনুগামীরা প্রায়শই নিম্নমানের ভিডিও এবং ফটোগ্রাফ বিশ্লেষণ করে, চেহারার পরিবর্তন যেমন আলোর পরিবর্তন, বয়সের প্রভাব বা ক্যামেরার ত্রুটিকে কৃত্রিমভাবে আড়াল করার প্রমাণ হিসেবে দেখান। এ পর্যন্ত কোনো যাচাইযোগ্য প্রমাণ নেই যে প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন কখনো ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন বা প্রতিস্থাপিত হয়েছেন। এই দাবিগুলি সম্পূর্ণভাবে একটি ষড়যন্ত্র তত্ত্ব হিসেবে রয়ে গেছে। সূত্র: Royanews