আমেরিকা

ট্রাম্পের হুমকিতে বিশ্বজুড়ে আতঙ্ক, তীব্র প্রতিক্রিয়া বার্নি স্যান্ডার্সের

Unknown প্রকাশ: এপ্রিল ৮, ২০২৬ ২:৪২
ছবি: সংগৃহীত
ছবি: সংগৃহীত

আন্তর্জাতিক অঙ্গনে নতুন করে উত্তেজনা সৃষ্টি হয়েছে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের এক বক্তব্যকে ঘিরে। সম্প্রতি ট্রাম্প এক মন্তব্যে সতর্ক করে বলেন, “আজ রাতে একটি পুরো সভ্যতা ধ্বংস হয়ে যেতে পারে,” যা মূলত ইরানকে কেন্দ্র করে সম্ভাব্য বড় ধরনের সামরিক পদক্ষেপের ইঙ্গিত হিসেবে দেখা হচ্ছে। তার এই বক্তব্যের পরপরই আন্তর্জাতিক মহলে উদ্বেগ ও আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে।

 

এই পরিস্থিতিতে কড়া প্রতিক্রিয়া জানান সিনেটর বার্নি স্যান্ডার্স। তিনি বলেন, এ ধরনের বক্তব্য শুধু রাজনৈতিক উত্তেজনাই বাড়ায় না, বরং হাজার হাজার নিরীহ মানুষের প্রাণহানির ঝুঁকি তৈরি করে। স্যান্ডার্সের মতে, সম্ভাব্য সংঘাতে ইরানের সাধারণ জনগণ মারাত্মক মানবিক সংকটে পড়তে পারে যেখানে পানীয় জল, বিদ্যুৎ ও স্বাস্থ্যসেবার মতো মৌলিক সুবিধাও বিপর্যস্ত হয়ে পড়বে।

 

তিনি আরও অভিযোগ করেন, এ ধরনের পদক্ষেপ আন্তর্জাতিক আইন লঙ্ঘনের শামিল হতে পারে এবং এতে মার্কিন করদাতাদের অর্থ ব্যবহার করে একটি বড় মানবিক বিপর্যয় ডেকে আনা হতে পারে। স্যান্ডার্স দাবি করেন, মার্কিন কংগ্রেসের ভেতরেও অনেকেই ট্রাম্পের এই অবস্থানের সঙ্গে একমত নন। তিনি তাদের প্রতি আহ্বান জানিয়ে বলেন, এখনই সময় এই ধরনের নীতির বিরুদ্ধে সোচ্চার হওয়ার।

 

অন্যদিকে, ট্রাম্প তার বক্তব্যে ইরানে “পূর্ণাঙ্গ শাসন পরিবর্তন” আনার সম্ভাবনার কথা উল্লেখ করে বলেন, এতে দেশটির দীর্ঘদিনের সংকটের অবসান হতে পারে। বিশ্লেষকদের মতে, এই বক্তব্য ও পাল্টা বক্তব্য বিশ্ব রাজনীতিতে নতুন করে অনিশ্চয়তা তৈরি করেছে এবং মধ্যপ্রাচ্যে উত্তেজনা আরও বাড়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে।

জনপ্রিয় সংবাদ
বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনার পর তরুণীর মৃত্যু, এক বছরের সাজায় ক্যালিফোর্নিয়ার আইন পরিবর্তনের দাবি

যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন।   মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়।   তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।”   ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে।   প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন।   ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন।   প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল।   মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি।   রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।

যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশি মালিকানাধীন বিশ্ববিদ্যালয়ের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধন

যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে।   এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন।   নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি।   উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।”   বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে।   এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে।   শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়।   উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন।   বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত।   এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।

মার্কিন ভিসা আপডেট ২০২৬! বাংলাদেশিদের জন্য কোন ভিসা বন্ধ, কোনটা চালু?

২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো।   প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে।   এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে।   অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে।   স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে।   সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে।   সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।

পাঁচ সন্তানকে এতিম করে মাকে কুপিয়ে হত্যা, গ্রেপ্তারের সময়ও হাসছিল ঘাতক দুই বোন

যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে এক মর্মান্তিক ও লোমহর্ষক ঘটনার জন্ম দিয়েছে দুই তরুণী বোন। দিনদুপুরে ক্যারোলিন ‘কারো’ পেনা নামের ৩২ বছর বয়সী এক নারীকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগে তাদের গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। নিহত নারী পাঁচ সন্তানের জননী ছিলেন। তবে সবচেয়ে শিউরে ওঠার মতো বিষয় হলো, গ্রেপ্তারের সময় অভিযুক্তদের চেহারায় অনুশোচনার সামান্যতম ছাপ তো ছিলই না, উল্টো তাদের মুখে পৈশাচিক হাসি দেখা গেছে। মেক্সিকো সীমান্তের কাছের শহর দেল রিও থেকে বৃহস্পতিবার বিকেলে পুলিশ তাদের হাতকড়া পরিয়ে নিয়ে যাওয়ার সময় এই দৃশ্য ক্যামেরায় ধরা পড়ে।   আরও পড়ুন... ‘ফোনটা ধরতে পারলে হয়তো তাকে বাঁচাতে পারতাম’- টেক্সাসে পাঁচ সন্তানের মাকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা, দুই বোনসহ তিনজন গ্রেপ্তার   পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নিহত ক্যারোলিনকে বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় দুপুর ২টার পরপরই গুরুতর জখম অবস্থায় ভাল ভার্দে রিজিওনাল মেডিকেল সেন্টারে নেওয়া হয়। তার শরীরে একাধিক ছুরিকাঘাতের চিহ্ন ছিল। ঘটনাস্থলের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, একটি সনিক ড্রাইভ-থ্রু রেস্তোরাঁর বাইরে রক্তাক্ত অবস্থায় ক্যারোলিন তার তিন হামলাকারীর মুখোমুখি দাঁড়িয়ে আছেন।   পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য সান আন্তোনিওর একটি হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছায় এবং প্রায় ৩৫ হাজার বাসিন্দার শহর দেল রিওতে অভিযান চালিয়ে হামলাকারীদের শনাক্ত করে।   সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া গ্রেপ্তারের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, ২১ বছর বয়সী কিটি মিয়া দিয়াজ খালি পায়ে হেঁটে যাওয়ার সময় পুলিশের গাড়িতে ওঠার আগে মৃদু হাসছেন। কিটি নিজেও এক শিশুপুত্রের মা। অন্যদিকে, তার ১৯ বছর বয়সী ছোট বোন আমায়া কুকি দিয়াজ ক্যামেরার দিকে তাকিয়ে নির্লজ্জভাবে দাঁত বের করে হাসতে থাকেন।   ▶️ টেক্সাসে নিজের মাকে নির্মমভাবে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুই মেয়ে |   এমনকি ভিডিও ধারণকারীকে ব্যঙ্গাত্মক সুরে ‘রেকর্ড করা বন্ধ করো’ বলেও চিৎকার করতে শোনা যায় তাকে। দেল রিও পুলিশ জানিয়েছে, এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ২১ বছর বয়সী কায়ান্দ্রা রেনি ফাজ নামের তৃতীয় আরেক নারীকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে ঠিক কী কারণে এই নারকীয় হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে, সে বিষয়ে পুলিশ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি।

দেশের প্রথম ৪০ তলা ভবন ‘শান্তা পিনাকল’ হস্তান্তর সম্পন্ন

বাংলাদেশের আবাসন শিল্পে এক নতুন ইতিহাস রচিত হলো। রাজধানীর তেজগাঁও শিল্প এলাকায় নির্মিত দেশের প্রথম ৪০ তলা বিশিষ্ট আকাশচুম্বী বাণিজ্যিক ভবন ‘শান্তা পিনাকল’ আনুষ্ঠানিকভাবে হস্তান্তর করেছে শান্তা হোল্ডিংস। ৫০০ ফুট উচ্চতার এই আইকনিক ভবনটি এখন দেশের সর্বোচ্চ সম্পন্ন হওয়া ইমারত। গত শনিবার (১৮ এপ্রিল) ভবনের ৪০তম তলায় আয়োজিত এক আড়ম্বরপূর্ণ অনুষ্ঠানের মাধ্যমে এটি হস্তান্তর করা হয়। অনুষ্ঠানে শান্তা হোল্ডিংসের চেয়ারম্যান খন্দকার মনির উদ্দিন, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, স্থপতি এহসান খানসহ প্রতিষ্ঠানের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা, ভূমি মালিক এবং গ্রাহকরা উপস্থিত ছিলেন। স্থাপত্যশৈলী ও আধুনিক প্রযুক্তি:‘শান্তা পিনাকল’ শুধুমাত্র উচ্চতার কারণেই অনন্য নয়, বরং এটি আধুনিক নির্মাণশৈলী ও প্রযুক্তির এক অনন্য সমন্বয়। এটি বাংলাদেশের প্রথম ভবন যা পরিবেশবান্ধব স্থাপত্যের জন্য আন্তর্জাতিক ‘লিড প্ল্যাটিনাম’ (LEED Platinum) স্বীকৃতি পেয়েছে। সিঙ্গাপুরভিত্তিক বিখ্যাত ইঞ্জিনিয়ারিং প্রতিষ্ঠান ‘মেইনহার্ট’ (Meinhardt) এর সহায়তায় ভবনটির স্ট্রাকচারাল ডিজাইন এবং ভূমিকম্প প্রতিরোধক ব্যবস্থা নিশ্চিত করা হয়েছে। বিশেষ বৈশিষ্ট্যসমূহ: উন্নত লিফট ব্যবস্থা: ভবনটিতে রয়েছে ৮টি দ্রুতগামী লিফট, যা প্রতি সেকেন্ডে ৪ মিটার উচ্চতায় উঠতে সক্ষম। এটি দেশের দ্রুততম ভার্টিক্যাল ট্রান্সপোর্ট ব্যবস্থা। পরিবেশ ও সুরক্ষা: ভবনে ব্যবহৃত হয়েছে ৩৬ মিমি পুরুত্বের ডাবল গ্লেজড গ্লাস, যা তাপ ও শব্দ নিরোধক। এছাড়া এটি দেশের প্রথম ‘উইন্ড টানেল টেস্ট’ করা ভবন, যা প্রতিকূল আবহাওয়ায় এর স্থায়িত্ব নিশ্চিত করে। আইবিএমএস প্রযুক্তি: পুরো ভবনটি একটি ইন্টেলিজেন্ট বিল্ডিং ম্যানেজমেন্ট সিস্টেম (iBMS) দ্বারা পরিচালিত, যা সার্বক্ষণিক নিরাপত্তা ও জ্বালানি সাশ্রয় নিশ্চিত করবে। অগ্নি নিরাপত্তা: আন্তর্জাতিক এনএফপিএ (NFPA) স্ট্যান্ডার্ড অনুসরণ করে এখানে অত্যাধুনিক অগ্নিনির্বাপক ব্যবস্থা স্থাপন করা হয়েছে। অনুষ্ঠানে শান্তা হোল্ডিংসের পক্ষ থেকে জানানো হয়, ‘শান্তা পিনাকল’ হস্তান্তর দেশের রিয়েল এস্টেট খাতের সক্ষমতার এক বড় প্রমাণ। এটি শুধুমাত্র তেজগাঁও নয়, বরং পুরো ঢাকার বাণিজ্যিক পরিবেশকে বিশ্বমানের স্তরে নিয়ে যাবে। দেশের ইতিহাসে প্রথমবার অ্যালুমিনিয়াম ফর্মওয়ার্ক ব্যবহারের মাধ্যমে মাত্র সাত দিনে এক একটি তলার ছাদ ঢালাইয়ের রেকর্ড গড়ে এই প্রকল্পের কাজ সম্পন্ন করা হয়েছে। ঢাকার আকাশসীমায় নতুন এই ল্যান্ডমার্ক দেশের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি এবং আধুনিক নগরায়নের এক শক্তিশালী প্রতীক হিসেবে দাঁড়িয়ে আছে।

Advertisement

আমেরিকা

View more
ছবি: বক্তব্য দিচ্ছেন মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স (সংগৃহীত)
এইচ-১বি ভিসা জালিয়াতির বিরুদ্ধে বড় অভিযান, তদন্তে নেমেছে ট্রাম্প প্রশাসন: জেডি ভ্যান্স

যুক্তরাষ্ট্রের এইচ-১বি ওয়ার্ক ভিসা এবং কর্মসংস্থানভিত্তিক অভিবাসন প্রক্রিয়ায় কথিত জালিয়াতি ও অপব্যবহারের অভিযোগে বড় ধরনের ফেডারেল তদন্ত শুরু করেছে ট্রাম্প প্রশাসন। বুধবার উইসকনসিন অঙ্গরাজ্যের মিলওয়াকিতে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে এ ঘোষণা দেন মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স। তিনি জানান, তদন্তের অংশ হিসেবে ইতোমধ্যেই একাধিক সাবপোনা (Subpoena) জারি করা হয়েছে এবং সংশ্লিষ্টদের কাছ থেকে নথি ও তথ্য সংগ্রহের প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে।   মার্কিন শ্রম বিভাগের অফিস অব ইনস্পেক্টর জেনারেলের (OIG) তত্ত্বাবধানে পরিচালিত এই তদন্তে এইচ-১বি ভিসা এবং PERM লেবার সার্টিফিকেশন প্রক্রিয়ার সম্ভাব্য জালিয়াতি, শ্রমিক শোষণ, মজুরি-সংক্রান্ত অনিয়ম, ভুয়া নিয়োগ এবং মানবপাচার-সংশ্লিষ্ট অভিযোগ খতিয়ে দেখা হবে।   অনুষ্ঠানে জেডি ভ্যান্স বলেন, এইচ-১বি কর্মসূচির মূল উদ্দেশ্য ছিল বিশ্বের মেধাবী পেশাজীবীদের যুক্তরাষ্ট্রে কাজের সুযোগ দেওয়া। তবে তাঁর অভিযোগ, কিছু অসাধু নিয়োগকর্তা ও মধ্যস্বত্বভোগী এই কর্মসূচির অপব্যবহার করে মার্কিন শ্রমবাজারে অন্যায্য প্রতিযোগিতার পরিবেশ সৃষ্টি করছে। তিনি বলেন, ট্রাম্প প্রশাসন এ ধরনের প্রতারণা বন্ধে কঠোর অবস্থান নিয়েছে এবং যারা ভিসা ব্যবস্থাকে অপব্যবহার করবে তাদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।   শ্রম বিভাগের ইন্সপেক্টর জেনারেল অ্যান্থনি ডি’এসপোসিটো জানান, তদন্তে এমন অভিযোগগুলো গুরুত্বের সঙ্গে পর্যালোচনা করা হচ্ছে যেখানে বিদেশি কর্মীদের কাছ থেকে অবৈধভাবে মজুরির অংশ ফেরত নেওয়া, ভুয়া চাকরির প্রস্তাব দেখিয়ে ভিসা সংগ্রহ, শ্রমিকদের শোষণ এবং সংগঠিত অপরাধচক্রের সম্পৃক্ততার অভিযোগ রয়েছে। প্রয়োজনে ফেডারেল পর্যায়ে আরও আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলেও তিনি ইঙ্গিত দেন।   মার্কিন প্রশাসনের কর্মকর্তারা জানান, তদন্ত কেবল প্রযুক্তি খাতেই সীমাবদ্ধ থাকবে না; স্বাস্থ্যসেবা, প্রকৌশল, তথ্যপ্রযুক্তি এবং অন্যান্য শিল্পেও এইচ-১বি ও কর্মসংস্থানভিত্তিক অভিবাসন কর্মসূচির অপব্যবহারের অভিযোগ খতিয়ে দেখা হবে।   এইচ-১বি ভিসা যুক্তরাষ্ট্রের একটি অস্থায়ী কর্মভিসা, যার মাধ্যমে বিশেষ দক্ষতাসম্পন্ন বিদেশি পেশাজীবীদের নিয়োগ দিতে পারে মার্কিন প্রতিষ্ঠানগুলো। অন্যদিকে PERM হলো কর্মসংস্থানভিত্তিক গ্রিন কার্ডের জন্য প্রয়োজনীয় শ্রম সার্টিফিকেশন প্রক্রিয়া, যার মাধ্যমে নিয়োগকর্তাকে প্রমাণ করতে হয় যে নির্দিষ্ট পদে যোগ্য মার্কিন কর্মী পাওয়া যায়নি।   তবে এখন পর্যন্ত কোনো নির্দিষ্ট ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে আনুষ্ঠানিক অভিযোগ কিংবা অপরাধ প্রমাণিত হওয়ার ঘোষণা দেওয়া হয়নি। প্রশাসনের ভাষ্য অনুযায়ী, তদন্ত চলমান রয়েছে এবং প্রাপ্ত তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে পরবর্তী সময়ে প্রয়োজনীয় আইনি পদক্ষেপ নেওয়া হবে।   এই তদন্তের ঘোষণা এমন সময় এলো, যখন যুক্তরাষ্ট্রে অভিবাসন নীতি, বিদেশি কর্মী নিয়োগ এবং এইচ-১বি কর্মসূচির ভবিষ্যৎ নিয়ে নতুন করে রাজনৈতিক ও নীতিগত আলোচনা শুরু হয়েছে। ট্রাম্প প্রশাসন বরাবরই কর্মসংস্থানভিত্তিক অভিবাসন ব্যবস্থায় জালিয়াতি রোধ এবং মার্কিন নাগরিকদের কর্মসংস্থানের সুযোগ সুরক্ষার ওপর গুরুত্ব দিয়ে আসছে।

আমেরিকা বাংলা ডেস্ক প্রকাশ: জুলাই ৮, ২০২৬ ২২:৩৮
ক্যালিফোর্নিয়ার শিক্ষা খাতে কোটি ডলারের জালিয়াতির অভিযোগ সামনে এসেছে। ছবি: সংগৃহীত

শিক্ষার্থীদের অর্থে বিলাসী জীবন, ক্যালিফোর্নিয়ায় কোটি ডলারের শিক্ষা জালিয়াতি ফাঁস

শিশুর মৃত্যুর ঘটনায় দণ্ডিত ভেনেসা এসকুইভেল। ছবি: সংগৃহীত

শিশুকে গরম গাড়িতে রেখে কাজে যান মা, মৃত্যুর ঘটনায় ২৫ বছরের কারাদণ্ড

সংবাদ সম্মেলনে কান্নায় ভেঙে পড়েন নিহত লোরেঞ্জো সালগাদো আরাউহোর ছেলে রোনালদো সালগাদো। ছবি: সংগৃহীত

যুক্তরাষ্ট্রে আইসিই এজেন্টের গুলিতে প্রবাসী মেক্সিকান নিহত, ভিডিওতে বাবার মৃত্যু দেখলেন সন্তান

তদন্তে জব্দ হওয়া অস্ত্র ও নগদ অর্থের তথ্য প্রকাশ করেছে যুক্তরাষ্ট্রের আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। ছবি: সংগৃহীত
ক্যালিফোর্নিয়ায় গ্রেপ্তার সিনালোয়া কার্টেলের শীর্ষ নেতা, স্বর্ণখচিত অস্ত্র ও বিপুল মাদকের তথ্য প্রকাশ

যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়া অঙ্গরাজ্যের সান ডিয়েগো শহরে সিনালোয়া কার্টেলের কথিত শীর্ষ নেতা কার্লোস পায়েজ পেরেদাকে (Carlos Paez Pereda) গ্রেপ্তার করেছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। তার বিরুদ্ধে মাদক পাচার, অর্থপাচার, মাদক-সংশ্লিষ্ট সন্ত্রাসবাদ, অপহরণ, হত্যাকাণ্ডে জড়িত থাকা এবং সংঘবদ্ধ অপরাধ পরিচালনার মতো একাধিক গুরুতর অভিযোগ এনেছে মার্কিন কর্তৃপক্ষ।   মঙ্গলবার যুক্তরাষ্ট্রের সাউদার্ন ডিস্ট্রিক্ট অব ক্যালিফোর্নিয়ার ইউএস অ্যাটর্নির কার্যালয় এক অভিযোগপত্রে জানায়, পেরেদা ‘কার্লিতোস’ এবং ‘কার্লিতোস রাগর্যাটস’ নামেও পরিচিত। তিনি সিনালোয়া কার্টেলের ‘লস রাগর্যাটস’ নামে পরিচিত একটি অংশের নেতৃত্ব দিয়েছেন বলে অভিযোগ করা হয়েছে।   অভিযোগপত্র অনুযায়ী, গত এক দশকে তিনি সিনালোয়া থেকে তিজুয়ানা সীমান্ত করিডর ব্যবহার করে যুক্তরাষ্ট্রে বিপুল পরিমাণ মেথঅ্যামফেটামিন, ফেন্টানিল ও কোকেন পাচারের সঙ্গে জড়িত ছিলেন। একই সঙ্গে এসব মাদক বিক্রির মাধ্যমে অর্জিত শত শত মিলিয়ন ডলার অর্থপাচারের অভিযোগও রয়েছে তার বিরুদ্ধে। মার্কিন মাদকবিরোধী সংস্থা ডিইএ-এর (DEA) সান ডিয়েগো বিভাগের বিশেষ এজেন্ট জেমস নানালির ভাষ্য, পেরেদা দীর্ঘদিন ধরে সহিংসতা, ভয়ভীতি ও সশস্ত্র বাহিনী ব্যবহার করে তার অপরাধ চক্র পরিচালনা করেছেন।   তিনি বলেন, অভিযোগ অনুযায়ী, এই সংগঠন নিজেদের প্রভাব ধরে রাখতে হত্যা, অপহরণ এবং সশস্ত্র হামলার মতো কর্মকাণ্ড চালিয়েছে। একই সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রে প্রাণঘাতী মাদকের প্রবাহ অব্যাহত রেখে অসংখ্য পরিবার ও সমাজকে ক্ষতিগ্রস্ত করেছে। তদন্তকারীদের দাবি, পেরেদা শুধু মাদক পাচার নেটওয়ার্ক পরিচালনাই করতেন না, তিনি কার্টেলের হয়ে সশস্ত্র সদস্য ও ভাড়াটে হত্যাকারীদেরও নির্দেশ দিতেন। এসব সদস্য হত্যাকাণ্ড, সশস্ত্র অপহরণ এবং অন্যান্য সহিংস কর্মকাণ্ড পরিচালনা করতেন।   গ্রেপ্তারের আগে পেরেদার বিরুদ্ধে এফবিআই একটি 'সশস্ত্র ও বিপজ্জনক' সতর্কতা জারি করেছিল। গত মার্চ মাসে তার বিরুদ্ধে ফেডারেল গ্রেপ্তারি পরোয়ানাও জারি করা হয়। তদন্তে আরও জানা যায়, গ্রেপ্তারের আগে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ইনস্টাগ্রামে তিনি নিজের অস্ত্রভাণ্ডারের বিভিন্ন ছবি প্রকাশ করতেন। সেখানে অন্তত তিনটি অ্যাসল্ট রাইফেলের ছবি দিয়ে তিনি লিখেছিলেন, 'My 3 Fav' (আমার তিনটি প্রিয়)। এছাড়া স্বর্ণখচিত একাধিক আগ্নেয়াস্ত্র, বিপুল পরিমাণ নগদ অর্থ এবং একটি অস্ত্রে নিজের পদবি ও আরেকটিতে 'Rugrats' খোদাই করা ছিল বলে অভিযোগপত্রে উল্লেখ করা হয়েছে।   মার্কিন বিচার বিভাগ (DOJ) জানিয়েছে, পেরেদা সিনালোয়া কার্টেলের 'লস মায়োস' অংশের হয়ে মাদক বিতরণ কার্যক্রম পরিচালনা করতেন। সাম্প্রতিক সময়ে কার্টেলের 'লস মায়োস' এবং 'লস চাপিতোস' অংশের মধ্যে সংঘর্ষেও তিনি অর্থ, অস্ত্র, যোদ্ধা এবং অন্যান্য লজিস্টিক সহায়তা দিয়েছেন বলে অভিযোগ রয়েছে। এফবিআইয়ের সান ডিয়েগো ফিল্ড অফিসের বিশেষ এজেন্ট মার্ক রেমিলি বলেন, 'লস রাগর্যাটস' শুধু মেক্সিকোতেই সহিংসতা ছড়ায়নি, তাদের মাদক পাচারের প্রভাব যুক্তরাষ্ট্রের বিভিন্ন কমিউনিটিতেও পৌঁছেছে।   যুক্তরাষ্ট্রের অ্যাটর্নির কার্যালয় জানিয়েছে, এই মামলাটি মেক্সিকান মাদক কার্টেলগুলোর বিরুদ্ধে চলমান অভিযানের অংশ। তারা আরও দাবি করেছে, সিনালোয়া কার্টেলকে বিদেশি সন্ত্রাসী সংগঠন হিসেবে চিহ্নিত করার বিষয়ে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের জারি করা নির্বাহী আদেশের পর এই তদন্ত আরও জোরদার হয় এবং তারই ধারাবাহিকতায় অভিযোগপত্র দাখিল করা হয়েছে।   তবে আদালতে অভিযোগ প্রমাণিত না হওয়া পর্যন্ত কার্লোস পায়েজ পেরেদা আইনগতভাবে নির্দোষ হিসেবে বিবেচিত হবেন।

আমেরিকা বাংলা ডেস্ক প্রকাশ: জুলাই ৮, ২০২৬ ২০:৫০
ওয়াশিংটনের মেট্রো ট্রেনে রসওয়েল এনসিনাকে ঘিরে প্যাট্রিয়ট ফ্রন্টের সদস্যরা। ছবি: সংগৃহীত

মেট্রো ট্রেনে শ্বেতাঙ্গ আধিপত্যবাদী গোষ্ঠীর মুখোমুখি এশীয় বংশোদ্ভূত যাত্রী, ‘ভয় আর অনিশ্চয়তায় জমে গিয়েছিলাম’

জন্মসূত্রে নাগরিকত্ব ইস্যুতে নতুন আইনি পদক্ষেপের ঘোষণা দিয়েছেন ডোনাল্ড ট্রাম্প। ছবি: সংগৃহীত

জন্মসূত্রে নাগরিকত্ব মামলায় আবারও সুপ্রিম কোর্টের দ্বারস্থ হচ্ছেন ট্রাম্প

ম্যাডি ওলসন ও তাঁর স্বামী I ছবি: সংগৃহীত

ওয়াশিংটনে নিজের হাতে স্বপ্নের বাড়ি গড়লেন দম্পতি, মাসিক মর্টগেজ ৯০০ ডলারেরও কম

অবিনাশ নারনে I ছবি: সংগৃহীত
যুক্তরাষ্ট্রে নববিবাহিত স্ত্রীকে হত্যার পর প্রেমিকাকে লাশের ছবি পাঠালেন ভারতীয় স্বামী

যুক্তরাষ্ট্রের ওয়াশিংটনে বিয়ের মাত্র ছয় মাসের মাথায় স্ত্রীকে শ্বাসরোধ করে হত্যার অভিযোগে অবিনাশ নারনে নামের এক ভারতীয় সফটওয়্যার ইঞ্জিনিয়ারকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। নিহত ওই স্ত্রীর নাম রাজিতা সাব্বিনেনি (২৭)। যুক্তরাষ্ট্রের বেলভিউ পুলিশ দীর্ঘ নয় মাসের তদন্ত শেষে সম্প্রতি ৩০ বছর বয়সী অবিনাশকে ফার্স্ট-ডিগ্রি বা পরিকল্পিত হত্যার অভিযোগে অভিযুক্ত করেছে।   পুলিশের দাবি, ভারতে থাকা এক নারীর সঙ্গে নিজের গোপন প্রেমের সম্পর্ক টিকিয়ে রাখতেই অবিনাশ এই নির্মম হত্যাকাণ্ড ঘটিয়েছেন এবং পরবর্তীতে ঘটনাটি আড়াল করতে পুরো বিষয়টিকে স্বাভাবিক মৃত্যু হিসেবে সাজানোর চেষ্টা করেছেন।   ২০২৫ সালের অক্টোবরের এক রাতে পুলিশ অবিনাশের কল পেয়ে তাদের অ্যাপার্টমেন্টে পৌঁছায়। সে সময় অবিনাশ দাবি করেছিলেন, তার স্ত্রী বাথরুমে ঢুকে আর সাড়া দিচ্ছেন না। পুলিশ বাথরুমের দরজা ভেঙে রাজিতাকে মৃত অবস্থায় উদ্ধার করে। তদন্তকারী কর্মকর্তাদের বিভ্রান্ত করতে অবিনাশ জানিয়েছিলেন, তিনি কিছু কাজের জন্য বাইরে গিয়েছিলেন এবং প্রায় ৪০ মিনিট পর ফিরে এসে দেখেন বাথরুমের দরজা ভেতর থেকে বন্ধ।   তবে ময়নাতদন্তের প্রতিবেদনে বেরিয়ে আসে যে, রাজিতাকে শ্বাসরোধ করে হত্যা করা হয়েছে। পরবর্তীতে অ্যাপার্টমেন্টের স্মার্ট-লক ও নিরাপত্তা ক্যামেরার ডিজিটাল তথ্য বিশ্লেষণ করে পুলিশ নিশ্চিত হয় যে, অবিনাশের বাইরে থাকা অবস্থায় অন্য কোনো ব্যক্তি ওই ঘরে প্রবেশ করেনি।   তদন্তে এই হত্যাকাণ্ডের পেছনের মূল কারণ হিসেবে অবিনাশের একটি গোপন প্রেমের সম্পর্ক উঠে আসে। প্রসিকিউটরদের মতে, বিয়ের আগে থেকেই ভারতে এক নারীর সঙ্গে তার প্রেমের সম্পর্ক ছিল, যা বিয়ের পরও অব্যাহত থাকে। এমনকি ওই নারী তাদের বিয়ের অনুষ্ঠানেও উপস্থিত ছিলেন। রাজিতার মৃত্যুর দিনও অবিনাশ ওই প্রেমিকাকে অন্তত চারবার কল করেছিলেন। সবচেয়ে চাঞ্চল্যকর তথ্য হলো, হত্যার পরদিন প্রেমিকার কাছে স্ত্রীর লাশের একটি ছবিও পাঠিয়েছিলেন তিনি, যা পুলিশের জেরার মুখে অবিনাশ স্বীকারও করেছেন।   হত্যাকাণ্ডের কয়েক সপ্তাহ আগে স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে আদান-প্রদান হওয়া বেশ কিছু মেসেজও পুলিশের হাতে এসেছে। সেখানে রাজিতা একাধিকবার অভিযোগ করেছিলেন যে, তার স্বামীর দেওয়া পানীয়গুলোর স্বাদ অস্বাভাবিক রকমের তেতো। এমনকি মৃত্যুর দিনও তিনি অবিনাশের বানানো একটি স্মুদিকে 'ওষুধ' ও 'কফ সিরাপ'-এর মতো স্বাদের বলে উল্লেখ করেছিলেন।   দীর্ঘ আট মাস ধরে ডিজিটাল প্রমাণ সংগ্রহ ও বিশ্লেষণের পর গত ১ জুলাই একটি স্থানীয় আদালত অবিনাশকে আনুষ্ঠানিকভাবে পরিকল্পিত হত্যার দায়ে অভিযুক্ত করে। বর্তমানে তিনি ৫০ লাখ ডলার (প্রায় ৪৮ কোটি রুপি) জামিনে কারাগারে বন্দি রয়েছেন। অভিযোগ প্রমাণিত হলে ওয়াশিংটনের আইন অনুযায়ী এই ভারতীয় নাগরিকের যাবজ্জীবন কারাদণ্ড হতে পারে।

আমেরিকা বাংলা ডেস্ক প্রকাশ: জুলাই ৮, ২০২৬ ১৯:২০
ফিলাডেলফিয়ায় গুলিতে নিহত বাংলাদেশি প্রবাসী মাহফুজুল হক | ছবি: সংগৃহীত

যুক্তরাষ্ট্রের ফিলাডেলফিয়ায় ফুড ডেলিভারির সময় দুর্বৃত্তদের গুলিতে নিহত বাংলাদেশি মাহফুজুল হকের জানাজা আগামীকাল

যুক্তরাষ্ট্রে অভিবাসন নীতিতে বড় পরিবর্তন, সবচেয়ে বেশি চাপে পড়তে পারেন ভারতীয় এইচ-১বি ও স্টুডেন্ট ভিসাধারীরা

যুক্তরাষ্ট্রে অভিবাসন নীতিতে বড় পরিবর্তন, সবচেয়ে বেশি চাপে পড়তে পারেন ভারতীয় এইচ-১বি ও স্টুডেন্ট ভিসাধারীরা

ছবি: নিউইয়র্ক পোস্ট

নিউজার্সিতে নিজ বাড়িতে স্ত্রীকে গুলি করে হত্যার পর ফেডারেল এজেন্টের আত্মহত্যা

0 Comments