আমেরিকা

বিশ্বকাপ ঘিরে যুক্তরাষ্ট্রের শহরগুলোতে অভিবাসী সংগঠনগুলোর সতর্কতা, আইস আতঙ্কে তৎপরতা

Unknown প্রকাশ: মে ৩১, ২০২৬ ১৮:৪৫
লস অ্যাঞ্জেলেসে, সোফাই স্টেডিয়ামে কর্মরত ২,০০০-এরও বেশি আতিথেয়তা কর্মীর প্রতিনিধিত্বকারী একটি শ্রমিক ইউনিয়ন হুমকি দিয়েছে যে আইসিই (ইমিগ্রেশন অ্যান্ড কাস্টমস এনফোর্সমেন্ট) এজেন্টরা যদি দূরে না থাকে, তবে তারা ধর্মঘটে যাবে । ছবি: এএফপি
লস অ্যাঞ্জেলেসে, সোফাই স্টেডিয়ামে কর্মরত ২,০০০-এরও বেশি আতিথেয়তা কর্মীর প্রতিনিধিত্বকারী একটি শ্রমিক ইউনিয়ন হুমকি দিয়েছে যে আইসিই (ইমিগ্রেশন অ্যান্ড কাস্টমস এনফোর্সমেন্ট) এজেন্টরা যদি দূরে না থাকে, তবে তারা ধর্মঘটে যাবে । ছবি: এএফপি

আগামী ১১ জুন শুরু হতে যাওয়া ফিফা বিশ্বকাপকে কেন্দ্র করে যুক্তরাষ্ট্রের ১১টি আয়োজক শহরে অভিবাসী অধিকার সংগঠনগুলো ব্যাপক প্রস্তুতি নিচ্ছে। অভিবাসন ও সীমান্ত নিরাপত্তা সংস্থা আইসিই (ইমিগ্রেশন অ্যান্ড কাস্টমস এনফোর্সমেন্ট)-এর সম্ভাব্য অভিযান ও গ্রেপ্তার আতঙ্কের কারণে দর্শক ও স্থানীয়দের সতর্ক করতে অন্তত ১২০টিরও বেশি সংগঠন একত্র হয়েছে।

 

প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, লস অ্যাঞ্জেলেস, ডালাস, মিয়ামি, সিয়াটলসহ বিভিন্ন শহরে শ্রমিক ইউনিয়ন, মানবাধিকার সংগঠন ও আইনজীবীরা জরুরি সহায়তা নেটওয়ার্ক গড়ে তুলছে। তাদের লক্ষ্য হচ্ছে বিশ্বকাপ চলাকালীন সম্ভাব্য অভিবাসন আইন প্রয়োগ কার্যক্রমের সময় দ্রুত আইনি সহায়তা ও প্রতিরোধ ব্যবস্থা নিশ্চিত করা।

 

লস অ্যাঞ্জেলেসে সোফাই স্টেডিয়ামে কর্মরত দুই হাজারের বেশি হোটেল ও পরিষেবা কর্মীর প্রতিনিধিত্বকারী একটি শ্রমিক ইউনিয়ন হুমকি দিয়েছে, স্টেডিয়াম এলাকায় আইসিই এজেন্টদের উপস্থিতি বন্ধ না হলে তারা ধর্মঘটে যাবে। ডালাসে মানবাধিকার সংগঠন এল মুভিমিয়েন্তো ডিএফডব্লিউ গির্জা, দোকান এবং আবাসিক এলাকায় ‘হুইসেল কিট’ বিতরণ করছে। এতে আইসিই উপস্থিতি সম্পর্কে তথ্য ও বিনামূল্যে অভিবাসন আইনজীবীর সঙ্গে যোগাযোগের উপায় রাখা হয়েছে।

 

একাধিক সংগঠন যুক্তরাষ্ট্রে সম্ভাব্য ১ কোটি দর্শনার্থীর উদ্দেশে সতর্কতা জারি করেছে। এতে বলা হয়েছে, বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে “অবৈধভাবে প্রবেশ নিষেধাজ্ঞা, গ্রেপ্তার, আটক ও নির্বাসনের ঝুঁকি” থাকতে পারে। বিশ্বের অন্যতম বড় এই ক্রীড়া আসর এমন এক সময়ে যুক্তরাষ্ট্রে অনুষ্ঠিত হচ্ছে, যখন দেশটির অভিবাসন নীতিকে ঘিরে রাজনৈতিক বিতর্ক তীব্র হয়েছে। ট্রাম্প প্রশাসনের কঠোর অভিবাসন দমননীতির কারণে এই উদ্বেগ আরও বেড়েছে বলে দাবি করছে অধিকার সংগঠনগুলো।

 

তবে যুক্তরাষ্ট্রের হোমল্যান্ড সিকিউরিটি বিভাগ বলেছে, বিশ্বকাপ চলাকালে নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে তারা স্থানীয় ও আন্তর্জাতিক অংশীদারদের সঙ্গে সমন্বয় করছে। সংস্থাটির মতে, দর্শক ও খেলোয়াড়দের নিরাপত্তাই তাদের সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার।

 

অধিকার সংগঠনগুলো জানিয়েছে, তারা জরুরি প্রতিক্রিয়া নেটওয়ার্ক, আইনজীবী সহায়তা এবং দ্রুত তথ্য আদান-প্রদানের ব্যবস্থা গড়ে তুলছে, যাতে কোনো অভিযান বা গ্রেপ্তার ঘটলে দ্রুত সাড়া দেওয়া যায়। সিয়াটলে শ্রম অধিকার সংগঠন ‘ওয়ার্কিং ওয়াশিংটন’ জানিয়েছে, তারা রেস্তোরাঁ ও কর্মস্থলে কর্মীদের জন্য সাংবিধানিক অধিকার বিষয়ক প্রশিক্ষণ দিচ্ছে। এর মধ্যে রয়েছে আইন প্রয়োগকারী সংস্থার মুখোমুখি হলে করণীয় ও যোগাযোগ কৌশল।

 

মিয়ামিতে, যেখানে অভিবাসী গ্রেপ্তারের হার তুলনামূলকভাবে বেশি, সেখানে বিশেষ হটলাইন এবং আইন পর্যবেক্ষক দল সক্রিয় করা হয়েছে। এসব দল আইসিই উপস্থিতি নথিভুক্ত করার কাজ করবে।

 

কিছু সংগঠন বিশ্বকাপকে কেন্দ্র করে ‘নো আইসিই ইন দ্য কাপ’ নামের একটি জাতীয় প্রচারণা শুরু করেছে। এর মাধ্যমে আয়োজক শহরগুলোতে নিরাপদ অঞ্চল, কমিউনিটি সহায়তা কেন্দ্র এবং অভিবাসীদের জন্য সহায়তা ব্যবস্থা গড়ে তোলার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। সিয়াটলে কিছু সংগঠন ব্যবসায়ী প্রতিষ্ঠান ও রেস্তোরাঁর সঙ্গে কাজ করে “সেফ জোন” ঘোষণা করার উদ্যোগ নিয়েছে, যেখানে অভিবাসীরা সহায়তা ও তথ্য পেতে পারবেন।

 

অধিকারকর্মীদের মতে, এই উদ্যোগ কেবল রাজনৈতিক নয়, বরং অর্থনৈতিক দৃষ্টিকোণ থেকেও গুরুত্বপূর্ণ। তাদের যুক্তি, নিরাপত্তা উদ্বেগ ও অভিবাসন অভিযান যদি পর্যটকদের মধ্যে আতঙ্ক সৃষ্টি করে, তবে তা স্থানীয় অর্থনীতিতে নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে।

জনপ্রিয় সংবাদ
বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনার পর তরুণীর মৃত্যু, এক বছরের সাজায় ক্যালিফোর্নিয়ার আইন পরিবর্তনের দাবি

যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন।   মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়।   তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।”   ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে।   প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন।   ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন।   প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল।   মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি।   রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।

মার্কিন ভিসা আপডেট ২০২৬! বাংলাদেশিদের জন্য কোন ভিসা বন্ধ, কোনটা চালু?

২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো।   প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে।   এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে।   অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে।   স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে।   সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে।   সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।

যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশি মালিকানাধীন বিশ্ববিদ্যালয়ের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধন

যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে।   এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন।   নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি।   উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।”   বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে।   এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে।   শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়।   উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন।   বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত।   এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।

পাঁচ সন্তানকে এতিম করে মাকে কুপিয়ে হত্যা, গ্রেপ্তারের সময়ও হাসছিল ঘাতক দুই বোন

যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে এক মর্মান্তিক ও লোমহর্ষক ঘটনার জন্ম দিয়েছে দুই তরুণী বোন। দিনদুপুরে ক্যারোলিন ‘কারো’ পেনা নামের ৩২ বছর বয়সী এক নারীকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগে তাদের গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। নিহত নারী পাঁচ সন্তানের জননী ছিলেন। তবে সবচেয়ে শিউরে ওঠার মতো বিষয় হলো, গ্রেপ্তারের সময় অভিযুক্তদের চেহারায় অনুশোচনার সামান্যতম ছাপ তো ছিলই না, উল্টো তাদের মুখে পৈশাচিক হাসি দেখা গেছে। মেক্সিকো সীমান্তের কাছের শহর দেল রিও থেকে বৃহস্পতিবার বিকেলে পুলিশ তাদের হাতকড়া পরিয়ে নিয়ে যাওয়ার সময় এই দৃশ্য ক্যামেরায় ধরা পড়ে।   আরও পড়ুন... ‘ফোনটা ধরতে পারলে হয়তো তাকে বাঁচাতে পারতাম’- টেক্সাসে পাঁচ সন্তানের মাকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা, দুই বোনসহ তিনজন গ্রেপ্তার   পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নিহত ক্যারোলিনকে বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় দুপুর ২টার পরপরই গুরুতর জখম অবস্থায় ভাল ভার্দে রিজিওনাল মেডিকেল সেন্টারে নেওয়া হয়। তার শরীরে একাধিক ছুরিকাঘাতের চিহ্ন ছিল। ঘটনাস্থলের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, একটি সনিক ড্রাইভ-থ্রু রেস্তোরাঁর বাইরে রক্তাক্ত অবস্থায় ক্যারোলিন তার তিন হামলাকারীর মুখোমুখি দাঁড়িয়ে আছেন।   পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য সান আন্তোনিওর একটি হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছায় এবং প্রায় ৩৫ হাজার বাসিন্দার শহর দেল রিওতে অভিযান চালিয়ে হামলাকারীদের শনাক্ত করে।   সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া গ্রেপ্তারের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, ২১ বছর বয়সী কিটি মিয়া দিয়াজ খালি পায়ে হেঁটে যাওয়ার সময় পুলিশের গাড়িতে ওঠার আগে মৃদু হাসছেন। কিটি নিজেও এক শিশুপুত্রের মা। অন্যদিকে, তার ১৯ বছর বয়সী ছোট বোন আমায়া কুকি দিয়াজ ক্যামেরার দিকে তাকিয়ে নির্লজ্জভাবে দাঁত বের করে হাসতে থাকেন।   ▶️ টেক্সাসে নিজের মাকে নির্মমভাবে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুই মেয়ে |   এমনকি ভিডিও ধারণকারীকে ব্যঙ্গাত্মক সুরে ‘রেকর্ড করা বন্ধ করো’ বলেও চিৎকার করতে শোনা যায় তাকে। দেল রিও পুলিশ জানিয়েছে, এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ২১ বছর বয়সী কায়ান্দ্রা রেনি ফাজ নামের তৃতীয় আরেক নারীকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে ঠিক কী কারণে এই নারকীয় হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে, সে বিষয়ে পুলিশ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি।

দেশের প্রথম ৪০ তলা ভবন ‘শান্তা পিনাকল’ হস্তান্তর সম্পন্ন

বাংলাদেশের আবাসন শিল্পে এক নতুন ইতিহাস রচিত হলো। রাজধানীর তেজগাঁও শিল্প এলাকায় নির্মিত দেশের প্রথম ৪০ তলা বিশিষ্ট আকাশচুম্বী বাণিজ্যিক ভবন ‘শান্তা পিনাকল’ আনুষ্ঠানিকভাবে হস্তান্তর করেছে শান্তা হোল্ডিংস। ৫০০ ফুট উচ্চতার এই আইকনিক ভবনটি এখন দেশের সর্বোচ্চ সম্পন্ন হওয়া ইমারত। গত শনিবার (১৮ এপ্রিল) ভবনের ৪০তম তলায় আয়োজিত এক আড়ম্বরপূর্ণ অনুষ্ঠানের মাধ্যমে এটি হস্তান্তর করা হয়। অনুষ্ঠানে শান্তা হোল্ডিংসের চেয়ারম্যান খন্দকার মনির উদ্দিন, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, স্থপতি এহসান খানসহ প্রতিষ্ঠানের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা, ভূমি মালিক এবং গ্রাহকরা উপস্থিত ছিলেন। স্থাপত্যশৈলী ও আধুনিক প্রযুক্তি:‘শান্তা পিনাকল’ শুধুমাত্র উচ্চতার কারণেই অনন্য নয়, বরং এটি আধুনিক নির্মাণশৈলী ও প্রযুক্তির এক অনন্য সমন্বয়। এটি বাংলাদেশের প্রথম ভবন যা পরিবেশবান্ধব স্থাপত্যের জন্য আন্তর্জাতিক ‘লিড প্ল্যাটিনাম’ (LEED Platinum) স্বীকৃতি পেয়েছে। সিঙ্গাপুরভিত্তিক বিখ্যাত ইঞ্জিনিয়ারিং প্রতিষ্ঠান ‘মেইনহার্ট’ (Meinhardt) এর সহায়তায় ভবনটির স্ট্রাকচারাল ডিজাইন এবং ভূমিকম্প প্রতিরোধক ব্যবস্থা নিশ্চিত করা হয়েছে। বিশেষ বৈশিষ্ট্যসমূহ: উন্নত লিফট ব্যবস্থা: ভবনটিতে রয়েছে ৮টি দ্রুতগামী লিফট, যা প্রতি সেকেন্ডে ৪ মিটার উচ্চতায় উঠতে সক্ষম। এটি দেশের দ্রুততম ভার্টিক্যাল ট্রান্সপোর্ট ব্যবস্থা। পরিবেশ ও সুরক্ষা: ভবনে ব্যবহৃত হয়েছে ৩৬ মিমি পুরুত্বের ডাবল গ্লেজড গ্লাস, যা তাপ ও শব্দ নিরোধক। এছাড়া এটি দেশের প্রথম ‘উইন্ড টানেল টেস্ট’ করা ভবন, যা প্রতিকূল আবহাওয়ায় এর স্থায়িত্ব নিশ্চিত করে। আইবিএমএস প্রযুক্তি: পুরো ভবনটি একটি ইন্টেলিজেন্ট বিল্ডিং ম্যানেজমেন্ট সিস্টেম (iBMS) দ্বারা পরিচালিত, যা সার্বক্ষণিক নিরাপত্তা ও জ্বালানি সাশ্রয় নিশ্চিত করবে। অগ্নি নিরাপত্তা: আন্তর্জাতিক এনএফপিএ (NFPA) স্ট্যান্ডার্ড অনুসরণ করে এখানে অত্যাধুনিক অগ্নিনির্বাপক ব্যবস্থা স্থাপন করা হয়েছে। অনুষ্ঠানে শান্তা হোল্ডিংসের পক্ষ থেকে জানানো হয়, ‘শান্তা পিনাকল’ হস্তান্তর দেশের রিয়েল এস্টেট খাতের সক্ষমতার এক বড় প্রমাণ। এটি শুধুমাত্র তেজগাঁও নয়, বরং পুরো ঢাকার বাণিজ্যিক পরিবেশকে বিশ্বমানের স্তরে নিয়ে যাবে। দেশের ইতিহাসে প্রথমবার অ্যালুমিনিয়াম ফর্মওয়ার্ক ব্যবহারের মাধ্যমে মাত্র সাত দিনে এক একটি তলার ছাদ ঢালাইয়ের রেকর্ড গড়ে এই প্রকল্পের কাজ সম্পন্ন করা হয়েছে। ঢাকার আকাশসীমায় নতুন এই ল্যান্ডমার্ক দেশের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি এবং আধুনিক নগরায়নের এক শক্তিশালী প্রতীক হিসেবে দাঁড়িয়ে আছে।

Advertisement

আমেরিকা

View more
নিউইয়র্ক পুলিশে দায়িত্বরত অবস্থায় নিহত দিদারুল ইসলাম
নিউইয়র্ক পুলিশে দায়িত্বরত অবস্থায় নিহত দিদারুল ইসলামের নামে সড়কের নামকরণ

নিউইয়র্ক পুলিশ বিভাগের (এনওয়াইপিডি) দায়িত্ব পালনকালে নিহত বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত ডিটেকটিভ ফার্স্ট গ্রেড দিদারুল ইসলামের স্মৃতির প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে আজ ব্রঙ্কসে একটি সড়কের সহ-নামকরণ (স্ট্রিট কো-নেমিং) করা হচ্ছে। শনিবার (১৮ জুলাই) সকাল ১০টা ৩০ মিনিটে ইস্ট ১৭২ স্ট্রিট ও বিচ অ্যাভিনিউয়ের সংযোগস্থলে আনুষ্ঠানিকভাবে সড়কটির নাম রাখা হবে ‘ডিটেকটিভ ফার্স্ট গ্রেড দিদারুল ইসলাম ওয়ে’।   নিউইয়র্ক সিটি কাউন্সিলের অনুমোদনের পর আয়োজিত এই অনুষ্ঠানে এনওয়াইপিডির কর্মকর্তা, নির্বাচিত জনপ্রতিনিধি, কমিউনিটি নেতৃবৃন্দ, প্রবাসী বাংলাদেশি এবং স্থানীয় বাসিন্দাদের উপস্থিত থাকার কথা রয়েছে। আয়োজকদের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, অনুষ্ঠানটি সংক্ষিপ্ত হবে। তাই অংশগ্রহণকারীদের নির্ধারিত সময়ের আগেই উপস্থিত থাকার অনুরোধ জানানো হয়েছে।   ডিটেকটিভ দিদারুল ইসলাম ২০২৫ সালের ২৮ জুলাই ম্যানহাটনের ৩৪৫ পার্ক অ্যাভিনিউ ভবনে দায়িত্ব পালনকালে বন্দুকধারীর গুলিতে নিহত হন। তদন্তে জানা যায়, নেভাডা থেকে আসা শেন ডেভন তামুরা ভবনে প্রবেশ করে এলোপাতাড়ি গুলি চালালে ঘটনাস্থলেই দিদারুল ইসলাম প্রাণ হারান। পরে ভবনের ভেতর হামলাকারী আত্মহত্যা করে। তদন্তকারীদের তথ্য অনুযায়ী, হামলাকারীর মূল লক্ষ্য ছিল ভবনটিতে অবস্থিত ন্যাশনাল ফুটবল লিগের (এনএফএল) সদর দপ্তর; দিদারুল ইসলাম তার ব্যক্তিগত লক্ষ্য ছিলেন না।   বাংলাদেশে জন্ম নেওয়া দিদারুল ইসলাম যুক্তরাষ্ট্রে অভিবাসনের পর নিউইয়র্ক সিটির স্কুল সেফটি এজেন্ট হিসেবে কর্মজীবন শুরু করেন। পরে তিনি এনওয়াইপিডিতে যোগ দেন এবং নিষ্ঠা ও পেশাদারিত্বের সঙ্গে দায়িত্ব পালন করেন। কর্তব্যরত অবস্থায় নিহত হওয়ার পর তাকে মরণোত্তর ডিটেকটিভ ফার্স্ট গ্রেড পদে পদোন্নতি দেওয়া হয়।   দিদারুল ইসলামের মৃত্যুর সময় তার স্ত্রী তৃতীয় সন্তানের গর্ভে ছিলেন। পরে সন্তানের জন্ম হলেও বাবাকে আর দেখার সুযোগ হয়নি। তার অকাল মৃত্যুতে স্ত্রী, তিন সন্তান এবং পরিবারের সদস্যদের পাশাপাশি নিউইয়র্কের বাংলাদেশি কমিউনিটিতেও গভীর শোকের ছায়া নেমে আসে। জানাজা ও শেষ বিদায় অনুষ্ঠানে হাজারো পুলিশ সদস্য, জনপ্রতিনিধি এবং বিভিন্ন ধর্ম-বর্ণের মানুষ উপস্থিত হয়ে তার প্রতি শ্রদ্ধা জানান।   নিউইয়র্ক সিটিতে সমাজ, জননিরাপত্তা ও নগরের জন্য বিশেষ অবদান রাখা ব্যক্তিদের স্মরণে সড়কের সহ-নামকরণের দীর্ঘদিনের ঐতিহ্য রয়েছে। সেই ধারাবাহিকতায় ব্রঙ্কসের ইস্ট ১৭২ স্ট্রিট ও বিচ অ্যাভিনিউয়ের সংযোগস্থল এখন থেকে ‘ডিটেকটিভ ফার্স্ট গ্রেড দিদারুল ইসলাম ওয়ে’ নামে পরিচিত হবে। এই নামকরণ একজন কর্তব্যপরায়ণ পুলিশ কর্মকর্তার আত্মত্যাগের প্রতি নিউইয়র্ক সিটির আনুষ্ঠানিক শ্রদ্ধা ও স্বীকৃতির প্রতীক হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।

নিউ ইয়র্ক প্রতিনিধি প্রকাশ: জুলাই ১৬, ২০২৬ ১৭:৩৪
ক্যাথলিক ধর্মীয় প্রশিক্ষণ কেন্দ্র কিনে ইসলামিক বোর্ডিং স্কুল গড়ছে মুসলিম সংগঠন

নিউইয়র্কের লং আইল্যান্ডে সাবেক ক্যাথলিক ধর্মীয় প্রশিক্ষণ কেন্দ্র কিনে ইসলামিক স্কুল গড়ছে মুসলিম সংগঠন

কোলাজ: আমেরিকা বাংলা

নিউইয়র্কে স্প্যানিশ পরিবারসহ ৬ জনের প্রাণহানি, পাখির আঘাতেই বিধ্বস্ত হয়েছিল হেলিকপ্টার

ফুড ডেলিভারি কর্মীর I ছবি: সংগৃহীত

যুক্তরাষ্ট্রে খাবারের অর্ডারের সংখ্যা বাড়লেও কমছে টিপস, আয় সংকটে ফুড ডেলিভারি কর্মীরা

নিউইয়র্ক পুলিশ I ছবি: সংগৃহীত
নিউইয়র্কে পুলিশে নিয়োগের নতুন নিয়ম, ৪৩ বছর বয়সেও করা যাবে আবেদন

নিউইয়র্ক পুলিশ বিভাগে (এনওয়াইপিডি) নিয়োগের ক্ষেত্রে আবেদনের সর্বোচ্চ বয়সসীমা উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি করা হয়েছে। নিউইয়র্ক সিটি কাউন্সিলে সদ্য পাস হওয়া নতুন একটি আইনের ফলে এখন থেকে জীবনের কিছুটা পরিণত বয়সেও নগরবাসীরা পুলিশ কর্মকর্তা হওয়ার জন্য আবেদন করতে পারবেন। বৃহস্পতিবার সিটি কাউন্সিলে সর্বসম্মতিক্রমে আইনটি পাস হয়। আগে এনওয়াইপিডিতে আবেদনের সর্বোচ্চ বয়সসীমা ছিল ৩৫ বছর, যা এখন বাড়িয়ে ৪৩ বছর করা হয়েছে। এই পদক্ষেপটি ২০২৫ সালে পাস হওয়া নিউইয়র্ক অঙ্গরাজ্যের অনুরূপ একটি আইনের সঙ্গে পুরোপুরি সামঞ্জস্যপূর্ণ।   সিটি কাউন্সিলের সদস্য আমান্ডা ফারিয়াসের উত্থাপিত নতুন এই আইনে সামরিক বাহিনীর সাবেক সদস্যদের (ভেটেরান) জন্য বিশেষ ছাড়ের ব্যবস্থা রাখা হয়েছে। তারা আবেদনের ক্ষেত্রে তাদের বর্তমান বয়স থেকে সামরিক বাহিনীতে কাজের সময়কাল (সর্বোচ্চ ৬ বছর পর্যন্ত) বাদ দিয়ে হিসাব করার সুযোগ পাবেন। বৃহস্পতিবার এক সংবাদ সম্মেলনে ফারিয়াস স্পষ্ট করেন যে, এই আইনের ফলে আবেদনকারীদের মূল যোগ্যতার মানদণ্ডে কোনো পরিবর্তন আসবে না; বরং এটি আরও বেশি অভিজ্ঞ ও পরিণত বয়সের প্রার্থীদের পুলিশে যোগদানে ব্যাপকভাবে উৎসাহিত করবে।   ফারিয়াস আরও জানান, গত কয়েক বছরে নিয়োগ প্রক্রিয়া চূড়ান্ত হওয়ার আগেই ৩৫ বছর পার হয়ে যাওয়ায় শত শত যোগ্য প্রার্থী এনওয়াইপিডিতে যোগদানের সুযোগ হারিয়েছেন। আবেদনের সর্বোচ্চ বয়সসীমা বাড়ানোর এই সিদ্ধান্ত এনওয়াইপিডির চলমান নিয়োগ প্রক্রিয়াকে আরও গতিশীল করবে এবং যোগ্য প্রার্থীদের একটি বৃহত্তর পুল থেকে বাছাই করার সুযোগ তৈরি করবে। উল্লেখ্য, পুলিশ বিভাগে কর্মীসংকট কাটাতে গত বছরও এনওয়াইপিডি আবেদনের ন্যূনতম বয়স ২১ থেকে কমিয়ে সাড়ে ২০ বছর (২০.৫) করেছিল। এছাড়া শিক্ষাগত যোগ্যতার ক্ষেত্রেও ৬০ ক্রেডিটের শর্ত শিথিল করে ২৪ ক্রেডিটে নামিয়ে আনা হয়েছিল।   এনওয়াইপিডি কমিশনার জেসিকা টিশ জানিয়েছেন, গত বছর পুলিশ বিভাগ কর্মী সংকটে এতটাই ভুগেছিল যে তারা আক্ষরিক অর্থেই আবেদনকারীদের জন্য আবেদন জানাচ্ছিল বা ‘মিনতি’ করছিল। তবে নিয়োগ নীতিমালায় বয়সের শর্ত শিথিলকরণসহ এসব ধারাবাহিক পরিবর্তনের ফলে সম্প্রতি পুলিশের চাকরিতে আবেদনের হার উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে, যা শহরের আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় ইতিবাচক ভূমিকা রাখবে বলে আশা করা হচ্ছে।

নিউ ইয়র্ক প্রতিনিধি প্রকাশ: জুলাই ১৬, ২০২৬ ১৬:১০
উত্তর আমেরিকার প্রবাসী বাংলাদেশিদের অন্যতম বৃহৎ সংগঠন ফেডারেশন অব বাংলাদেশি অ্যাসোসিয়েশন্স ইন নর্থ আমেরিকা (ফোবানা)

লস অ্যাঞ্জেলেসের ৪০তম ফোবানাই মূল কনভেনশন, ফোবানার নামে অন্য আয়োজনে বিভ্রান্ত না হওয়ার আহ্বান

গ্রাফিক্স: আমেরিকা বাংলা

এপস্টেইন কেলেঙ্কারির জেরে বিল গেটসের ফাউন্ডেশনে ১৪০ বিলিয়ন ডলারের অনুদান বন্ধ করলেন বাফেট

ছবি: পডকাস্টে বাইডেনকে নিয়ে মন্তব্য, সমালোচনার মুখে ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স

জো বাইডেনের আইসক্রিম খাওয়া নিয়ে জেডি ভ্যানসের মন্তব্যে সামাজিক মাধ্যমে তুমুল বিতর্ক

আইসিই-এর একদিনের অভিযানে গ্রেপ্তার করা হয়েছে ২৩৮ জনকে I ছবি: নিউইয়র্ক পোস্ট
টেক্সাসে আইসিইর রেকর্ড অভিযান, একদিনে গ্রেপ্তার ২৩৮ অবৈধ অভিবাসী

যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাস অঙ্গরাজ্যের হার্লিনজেন ফিল্ড অফিসের অধীনে এক সাঁড়াশি অভিযান পরিচালনা করেছে ইউএস ইমিগ্রেশন অ্যান্ড কাস্টমস এনফোর্সমেন্ট (আইসিই)। মঙ্গলবার সংস্থাটির পক্ষ থেকে জানানো হয়, স্থানীয় আইনশৃঙ্খলারক্ষাকারী বাহিনীর সহায়তায় মাত্র একদিনেই রেকর্ড ২৩৮ জন অবৈধ অভিবাসীকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। আইসিই-এর তথ্যমতে, রিও গ্র্যান্ড ভ্যালি অঞ্চলে পরিচালিত সুনির্দিষ্ট লক্ষ্যভিত্তিক অভিযানের ক্ষেত্রে এটি একদিনে সর্বোচ্চ গ্রেপ্তারের নতুন রেকর্ড।   সংস্থাটি জানিয়েছে, গত ১৮ জুনের এই বড় পরিসরের অভিযানে যাদের গ্রেপ্তার করা হয়েছে, তাদের অনেকের বিরুদ্ধেই অপহরণের চেষ্টা, যৌন নিপীড়ন এবং মাদক রাখার মতো গুরুতর অপরাধের সাজা খাটার পূর্ব-রেকর্ড রয়েছে। আইসিই-এর হার্লিনজেন ফিল্ড অফিসের পরিচালক হুয়ান আগুডেলো এক বিবৃতিতে বলেন, "জননিরাপত্তা বৃদ্ধি এবং আমাদের দেশের অভিবাসন ব্যবস্থায় শৃঙ্খলা ও সততা ফিরিয়ে আনাই আইসিই-এর চলমান লক্ষ্য। সমাজ থেকে একজন একজন করে অপরাধী অবৈধ অভিবাসীদের বিতাড়িত করে আমেরিকান সম্প্রদায়কে নিরাপদ রাখতে আমরা সম্ভাব্য সবকিছুই করব।"   প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রশাসন যখন অবৈধ অভিবাসনের বিরুদ্ধে দেশজুড়ে কঠোর পদক্ষেপ নিচ্ছে এবং চিহ্নিত অপরাধীদের সমাজ থেকে বিতাড়িত করার নিরন্তর চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে, ঠিক তখনই এই রেকর্ড গ্রেপ্তারের ঘটনা ঘটল। গ্রেপ্তারকৃতদের মধ্যে ম্যানুয়েল মোরালেস-জেরোনিমো নামে এক মেক্সিকান নাগরিক রয়েছেন, যাকে 'পায়সাস' গ্যাংয়ের সদস্য হিসেবে চিহ্নিত করেছে কর্তৃপক্ষ। আইসিই জানিয়েছে, তার বিরুদ্ধে আগে থেকেই মারধর করে জখম করা, মাদক ও গাঁজা রাখা, মদ্যপ অবস্থায় গাড়ি চালানো, যুক্তরাষ্ট্রে অবৈধ অনুপ্রবেশ এবং তিনবার অবৈধভাবে পুনরায় প্রবেশের মতো গুরুতর অভিযোগ প্রমাণিত হয়েছে।   এছাড়া এই অভিযানে জোসে আলফ্রেডো কাস্তিলো-মেন্ডোজা নামের আরও এক মেক্সিকান নাগরিককে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। আইসিই-এর তথ্য অনুযায়ী, তার বিরুদ্ধেও আগে থেকে অপহরণের চেষ্টা, যৌন নিপীড়ন ও অবৈধভাবে পুনরায় প্রবেশের রেকর্ড রয়েছে।   এদিকে, আইসিই-এর 'ট্রাফিক স্টপ' বা রাস্তায় গাড়ি থামিয়ে তল্লাশি করার প্রক্রিয়া সাময়িকভাবে স্থগিত করার একটি উদ্যোগ নিয়েছিল ডিপার্টমেন্ট অব হোমল্যান্ড সিকিউরিটি (ডিএইচএস)। তল্লাশিকালে সাম্প্রতিক কিছু প্রাণঘাতী ঘটনার জেরে ওঠা সমালোচনার মুখে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছিল। তবে মঙ্গলবার এই ঘোষণার দিনেই প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প ডিএইচএস-এর ওই উদ্যোগের তীব্র সমালোচনা করেন। তিনি আইসিই-এর ট্রাফিক স্টপকে 'অপরাধ দমনে অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ এবং কার্যকর হাতিয়ার' হিসেবে আখ্যা দিয়ে এই তল্লাশি প্রক্রিয়া অব্যাহত রাখার পক্ষে জোরালো অবস্থান ব্যক্ত করেছেন।

আমেরিকা বাংলা ডেস্ক প্রকাশ: জুলাই ১৬, ২০২৬ ১৪:১১
নতুন নিয়ম কার্যকর হলে পড়াশোনা শেষ হওয়া পর্যন্ত যুক্তরাষ্ট্রে থাকার স্বয়ংক্রিয় সুযোগ হারাতে পারেন শিক্ষার্থীরা। ছবি: সংগৃহীত

যুক্তরাষ্ট্রে বিদেশি শিক্ষার্থীদের ভিসার মেয়াদ সীমিত করতে ট্রাম্প প্রশাসনের পরিকল্পনা

যুক্তরাষ্ট্রে বিদেশি শিক্ষার্থী ও সাংবাদিকদের ভিসা নীতিতে আসছে বড় পরিবর্তন

যুক্তরাষ্ট্রে বিদেশি শিক্ষার্থী ও সাংবাদিকদের ভিসা নীতিতে আসছে বড় পরিবর্তন

মার্কিন বর্ডার প্যাট্রোল এজেন্টকে ছুরিকাঘাত; সহকর্মীর পাল্টা গুলিতে হামলাকারী নিহত। ছবি: সংগৃহীত

ক্যালিফোর্নিয়া-অ্যারিজোনা সীমান্তে বর্ডার প্যাট্রোল কর্মকর্তার উপর হামলা, গুলিতে হামলাকারী নিহত

0 Comments