সাপ্তাহিক আমেরিকা বাংলা ই-পেপার

ইহুদিবিদ্বেষ

নিউইয়র্কের স্কুলশিক্ষিকার মেসিকে নিয়ে বিতর্কিত পোস্ট, ইহুদিবিদ্বেষের অভিযোগে তোলপাড়
নিউইয়র্কের স্কুলশিক্ষিকার মেসিকে নিয়ে বিতর্কিত পোস্ট, ইহুদিবিদ্বেষের অভিযোগে তোলপাড়

নিউইয়র্ক সিটির পাবলিক স্কুলের এক শিক্ষিকার বিরুদ্ধে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ইহুদিবিদ্বেষী মিম ছড়ানোর গুরুতর অভিযোগ উঠেছে। মাইসা জারারা নামের ওই গণিত শিক্ষিকা আর্জেন্টাইন ফুটবল তারকা লিওনেল মেসিকে নিয়ে একটি বিকৃত ব্যঙ্গচিত্র পোস্ট করেছেন।   গত ১৯ জুলাই ফেসবুকে করা ওই পোস্টে মেসিকে বড় নাক ও মাথায় ইহুদিদের ঐতিহ্যবাহী টুপি (ইয়ারমুলকে) পরিহিত অবস্থায় হাত ঘষতে দেখা যায়, যা ইহুদিদের লোভী ও চক্রান্তকারী হিসেবে তুলে ধরা পুরোনো নাৎসি প্রোপাগান্ডার কথা স্মরণ করিয়ে দেয়। ‘দ্য হ্যাপি মার্চেন্ট’ নামের ঘৃণ্য একটি মিমের আদলে তৈরি ওই ছবির ক্যাপশনে পার্ক স্লোপ কলেজিয়েটের এই শিক্ষিকা লেখেন, "তার মুখের অভিব্যক্তিটি অমূল্য।"   উল্লেখ্য, ২০১৩ সালে একটি ‘শান্তি সফরে’ ইসরায়েল গিয়েছিলেন মেসি। অনলাইন অ্যান্টিসেমিটিজম ওয়াচডগ 'সাইবারওয়েল'-এর তথ্যমতে, বিশ্বকাপ চলাকালেও মেসিকে নিয়ে এমন ষড়যন্ত্র তত্ত্ব ছড়িয়েছিল যে, ফুটবলের নিয়ন্ত্রক সংস্থা ফিফা ইহুদিদের দ্বারা নিয়ন্ত্রিত এবং তারা মেসির ক্যারিয়ারকে সুবিধা দিতে পর্দার আড়ালে কাজ করছে।   শিক্ষিকার এমন আচরণের কড়া সমালোচনা করে ইউনাইটেড জিউইশ টিচার্স-এর প্রেসিডেন্ট মোশে স্পার্ন জানিয়েছেন, ইহুদিদের লোভী ও চক্রান্তকারী হিসেবে তুলে ধরে জারারা একটি বড় সীমা অতিক্রম করেছেন। অন্যদিকে, নিউইয়র্ক সিটি পাবলিক স্কুলস অ্যালায়েন্সের প্রেসিডেন্ট কারেন ফেল্ডম্যান একে ‘গভীর উদ্বেগজনক’ আখ্যা দিয়ে বলেছেন, শিশুদের শিক্ষিত করার দায়িত্বে থাকা একজন ব্যক্তি যখন প্রকাশ্যে এমন উসকানিমূলক ও বিভ্রান্তিকর পোস্ট করেন, তা কিছুতেই মেনে নেওয়া যায় না।   মেসিকে নিয়ে পোস্টের বাইরেও জারারা নিয়মিত ইসরায়েলবিরোধী বার্তা ছড়ান, যার মধ্যে রক্তমাখা ইসরায়েলি পতাকার ছবিও রয়েছে। এমনকি, ২০২৩ সালের ৭ অক্টোবরের হামাসের প্রাণঘাতী হামলার তৃতীয় বার্ষিকীতেও তিনি ইনস্টাগ্রামে জ্বলন্ত স্তূপের সামনে নারী-পুরুষের নাচের একটি বিতর্কিত ছবি পোস্ট করে উল্লাস প্রকাশ করেন।   নিউইয়র্কের ডিপার্টমেন্ট অব এডুকেশন (DOE) পরিচালিত স্কুলগুলোতে সাম্প্রতিক সময়ে এ ধরনের বিদ্বেষমূলক ঘটনা বেড়েই চলেছে। এর আগে ড্যামিয়ান নেভা এবং জর্জ ট্রিমের মতো অন্যান্য শিক্ষকরাও প্রকাশ্যে ইহুদিবিদ্বেষী ও সন্ত্রাসবাদ সমর্থনকারী কার্যকলাপে যুক্ত থাকার দায়ে সমালোচিত ও তিরস্কৃত হয়েছেন।   শ্রেণিকক্ষে ক্রমাগত এমন পক্ষপাতদুষ্ট ও বিদ্বেষমূলক আচরণের কারণে নিউইয়র্ক শহরের হাজার হাজার ইহুদি পরিবার তাদের সন্তানদের সুরক্ষা দিতে পাবলিক স্কুল থেকে সরিয়ে নিচ্ছে। 'টিচ কোয়ালিশন'-এর একটি সমীক্ষা অনুযায়ী, এই পরিস্থিতির কারণে বিগ অ্যাপল এবং এম্পায়ার স্টেটের ইহুদি স্কুলগুলোতে শিক্ষার্থীর সংখ্যা উল্লেখযোগ্য হারে বৃদ্ধি পেয়েছে, যেখানে নতুন করে প্রায় ৩,১০০ শিক্ষার্থী ভর্তি হয়েছে।   সরকারি নথি অনুযায়ী, ২০২৫ সালে ১ লাখ ৪০ হাজার ডলার বেতন পাওয়া শিক্ষিকা মাইসা জারারার সাথে এ বিষয়ে মন্তব্যের জন্য সংবাদমাধ্যমের পক্ষ থেকে যোগাযোগ করা হলেও তাকে পাওয়া যায়নি।

ইসতিয়াক আহমেদ অক্টোবর ১৭, ২০২৬ ১৪:০ 0
যুক্তরাষ্ট্রের মিশিগান অঙ্গরাজ্যের অ্যাটর্নি জেনারেল ডানা নেসেল
ফিলিস্তিনপন্থীদের বিক্ষোভের আশঙ্কায় নিজ দলের সম্মেলন এড়ালেন মিশিগানের ইহুদি অ্যাটর্নি জেনারেল

যুক্তরাষ্ট্রের মিশিগান অঙ্গরাজ্যের অ্যাটর্নি জেনারেল ডানা নেসেল ইহুদিবিদ্বেষী হয়রানির আশঙ্কায় নিজের দল ডেমোক্রেটিক পার্টির সম্মেলনে অংশ নেননি। গত ২৯ আগস্ট অনুষ্ঠিত দলটির অঙ্গরাজ্য সম্মেলনে তার অনুপস্থিতি নতুন করে দলটির অভ্যন্তরীণ বিভাজন সামনে এনেছে।    নেসেল আগেই জানিয়েছিলেন, সম্মেলনে গেলে তাকে ধাওয়া করা, হয়রানি করা, চিৎকার করে বাধা দেওয়া কিংবা দুয়োধ্বনি দেওয়ার আশঙ্কা করছেন। তার দাবি, অতীতের দলীয় আয়োজনে এ ধরনের পরিস্থিতির মুখোমুখি হতে হয়েছে তাকে।    ঘটনার পেছনে মূলত ডেমোক্রেটিক পার্টির মধ্যে ইসরায়েল-ফিলিস্তিন ইস্যুতে তীব্র মতপার্থক্য কাজ করছে। দলটির প্রগতিশীল অংশের অনেকেই গাজায় ইসরায়েলের সামরিক কর্মকাণ্ডের কঠোর সমালোচনা করছেন। অন্যদিকে নেসেলসহ ইসরায়েলপন্থী ডেমোক্র্যাটরা দলটির ভেতরে ইহুদিবিদ্বেষ বাড়ছে বলে উদ্বেগ প্রকাশ করছেন।    এরই মধ্যে মিশিগানের ডেমোক্রেটিক পার্টির সিনেট প্রার্থী আবদুল এল-সাইয়েদকে ঘিরেও বিতর্ক তৈরি হয়েছে। ইসরায়েল নিয়ে তার অবস্থান এবং অতীতের কিছু মন্তব্যের কারণে দলটির ইহুদি নেতাদের একটি অংশ উদ্বেগ প্রকাশ করেছে। তবে এল-সাইয়েদ ইহুদিদের নিরাপত্তার প্রতি তার অঙ্গীকারের কথা বলেছেন এবং সম্প্রতি একটি বিতর্কিত মন্তব্যের জন্য ক্ষমাও চেয়েছেন।    এদিকে নেসেলের সম্মেলন বর্জনের পর প্রায় ২০০ জন ইহুদি নেতা ও ধর্মীয় ব্যক্তিত্ব মিশিগান ডেমোক্রেটিক পার্টির চেয়ারম্যান কার্টিস হার্টেলকে চিঠি দিয়ে সম্মেলনে ইহুদি প্রতিনিধিদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার আহ্বান জানান।    পরিস্থিতি বিবেচনায় সম্মেলনে নিরাপত্তাও জোরদার করা হয়। আয়োজকদের পক্ষ থেকে জানানো হয়, প্রবেশপথে তল্লাশি, আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর উপস্থিতি এবং অতিরিক্ত নিরাপত্তা ব্যবস্থা রাখা হয়েছে। কোনো ধরনের হয়রানি বা বিশৃঙ্খলা হলে ব্যবস্থা নেওয়ার কথাও জানানো হয়।    ফলে মিশিগানের ডেমোক্রেটিক পার্টির সম্মেলন শুধু প্রার্থী বাছাইয়ের আয়োজনেই সীমাবদ্ধ থাকেনি; বরং ইসরায়েল-ফিলিস্তিন ইস্যু, ইহুদি নিরাপত্তা এবং দলটির অভ্যন্তরীণ মতাদর্শগত বিভাজনও সামনে নিয়ে এসেছে।

বায়জিদ হাসান আগস্ট ২৯, ২০২৬ ১৪:০ 0
পেনসিলভানিয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের ইহুদি কর্মীদের তথ্য চাওয়ার সমন প্রত্যাহার করেছে ইইওসি। ছবি: সংগৃহীত
বিশ্ববিদ্যালয়ের ইহুদি কর্মীদের তথ্য চেয়ে চাপে ট্রাম্প প্রশাসন, শেষ পর্যন্ত দাবি প্রত্যাহার

যুক্তরাষ্ট্রের ট্রাম্প প্রশাসন শেষ পর্যন্ত পেনসিলভানিয়া বিশ্ববিদ্যালয় (পেন)-এর ইহুদি কর্মীদের নাম ও ব্যক্তিগত যোগাযোগের তথ্য চাওয়ার বিতর্কিত দাবি প্রত্যাহার করেছে। আদালতে দাখিল করা নতুন নথিতে এ তথ্য জানানো হয়েছে। তবে প্রশাসন স্পষ্ট করেছে, বিশ্ববিদ্যালয়ে ইহুদিবিদ্বেষের অভিযোগ নিয়ে চলমান ফেডারেল তদন্ত বন্ধ হচ্ছে না; কেবল বিতর্কিত সমনটি আর কার্যকর করা হবে না।    মামলাটি পরিচালনা করছে যুক্তরাষ্ট্রের সমান কর্মসংস্থান সুযোগ কমিশন (ইইওসি)। সংস্থাটি আগে পেন বিশ্ববিদ্যালয়কে ইহুদি কর্মীদের নাম, যোগাযোগের তথ্য এবং কিছু ইহুদি-সংশ্লিষ্ট সংগঠনের সদস্যদের তথ্য দিতে নির্দেশ দিয়েছিল। বিশ্ববিদ্যালয় ব্যক্তিগত গোপনীয়তা ও সাংবিধানিক অধিকার লঙ্ঘনের আশঙ্কা তুলে সেই নির্দেশের বিরুদ্ধে আদালতে আপিল করে।    নতুন সমঝোতা অনুযায়ী, ইইওসি ওই সমন আর কার্যকর করবে না। এর বিনিময়ে পেন বিশ্ববিদ্যালয়ও আদালতে করা আপিল প্রত্যাহার করবে। বিশ্ববিদ্যালয় এক বিবৃতিতে জানায়, তাদের কোনো কর্মীর ব্যক্তিগত যোগাযোগের তথ্য সরকারের কাছে হস্তান্তর করা হয়নি এবং তারা কর্মীদের অধিকার রক্ষা করতে সক্ষম হয়েছে। একই সঙ্গে প্রতিষ্ঠানটি ইহুদিবিদ্বেষসহ সব ধরনের বৈষম্যের বিরুদ্ধে অবস্থান পুনর্ব্যক্ত করেছে।    এই বিরোধের সূত্রপাত হয় বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে ইহুদিবিদ্বেষের অভিযোগ তদন্তকে কেন্দ্র করে। ফেডারেল কর্তৃপক্ষের দাবি ছিল, সম্ভাব্য ভুক্তভোগীদের সঙ্গে যোগাযোগ এবং অভিযোগের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য এসব তথ্য প্রয়োজন। অন্যদিকে বিশ্ববিদ্যালয় ও বিভিন্ন নাগরিক অধিকার সংগঠন যুক্তি দেয়, ধর্মীয় পরিচয়ের ভিত্তিতে কর্মীদের তালিকা চাওয়া ব্যক্তিগত গোপনীয়তা ও সাংবিধানিক অধিকারের জন্য উদ্বেগজনক নজির তৈরি করতে পারে।    এর আগে এক ফেডারেল বিচারক বিশ্ববিদ্যালয়কে তথ্য দিতে নির্দেশ দিলেও আপিলের সুযোগ দিতে সেই আদেশ সাময়িক স্থগিত করেছিলেন। সর্বশেষ সমঝোতার ফলে সেই আইনি বিরোধের অবসান ঘটলেও, পেন বিশ্ববিদ্যালয়ে ইহুদিবিদ্বেষের অভিযোগ নিয়ে ইইওসির মূল তদন্ত এখনও চলমান রয়েছে এবং ভবিষ্যতে প্রয়োজনে সংস্থাটি অন্য আইনি পদক্ষেপ নিতে পারে।

মোহাম্মদ ইব্রাহিম জুলাই ২৪, ২০২৬ ১৪:০ 0
ছবি: সংগৃহীত
লন্ডনে স্বেচ্ছাসেবী অ্যাম্বুলেন্সে আগুন, ঘৃণাজনিত হামলার আশঙ্কা

লন্ডনের গোল্ডার্স গ্রিন এলাকায় ইহুদি স্বেচ্ছাসেবী অ্যাম্বুলেন্সে অগ্নিসংযোগের ঘটনায় তীব্র উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। পুলিশ এই ঘটনাকে সম্ভাব্য ইহুদিবিদ্বেষী (অ্যান্টিসেমিটিক) ঘৃণাজনিত হামলা হিসেবে তদন্ত করছে।   সোমবার ভোররাতে ঘটে যাওয়া এ ঘটনায় ‘হাতজোলা নর্থওয়েস্ট’ নামের একটি স্বেচ্ছাসেবী জরুরি চিকিৎসাসেবার অন্তত চারটি অ্যাম্বুলেন্স আগুনে পুড়ে যায়। সিসিটিভি ফুটেজে দেখা গেছে, কয়েকজন ব্যক্তি গাড়িগুলোতে দাহ্য পদার্থ ঢেলে আগুন ধরিয়ে দ্রুত সেখান থেকে পালিয়ে যায়।   লন্ডন ফায়ার ব্রিগেড জানিয়েছে, অ্যাম্বুলেন্সগুলোর ভেতরে থাকা গ্যাস সিলিন্ডার বিস্ফোরিত হওয়ায় আগুন দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে এবং আশপাশের ভবনের জানালাও ক্ষতিগ্রস্ত হয়। সতর্কতামূলক ব্যবস্থা হিসেবে আশপাশের বাড়ির বাসিন্দাদের সরিয়ে নেওয়া হয়। তবে এ ঘটনায় এখন পর্যন্ত কেউ হতাহত হয়নি।   ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী কিয়ার স্টারমার একে “গভীরভাবে উদ্বেগজনক ও জঘন্য ইহুদিবিদ্বেষী অগ্নিসংযোগ” বলে উল্লেখ করে দায়ীদের দ্রুত আইনের আওতায় আনার আহ্বান জানিয়েছেন। পুলিশ জানিয়েছে, ঘটনাটির তদন্ত এখন কাউন্টার-টেররিজম ইউনিট পরিচালনা করছে। যদিও এটিকে এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে সন্ত্রাসী হামলা বলা হয়নি, তবুও এর পেছনে সংগঠিত কোনো গোষ্ঠী জড়িত থাকতে পারে—এমন সম্ভাবনাও খতিয়ে দেখা হচ্ছে।   উল্লেখ্য, সাম্প্রতিক সময়ে ইসরায়েল-হামাস যুদ্ধ শুরুর পর থেকে যুক্তরাজ্যে ইহুদিবিদ্বেষী ঘটনার সংখ্যা উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। সামনে পাসওভার উৎসবকে ঘিরে নিরাপত্তা জোরদার করেছে কর্তৃপক্ষ।

Unknown মার্চ ২২, ২০২৬ ১৪:০ 0
জনপ্রিয় সংবাদ
বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনার পর তরুণীর মৃত্যু, এক বছরের সাজায় ক্যালিফোর্নিয়ার আইন পরিবর্তনের দাবি

যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন।   মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়।   তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।”   ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে।   প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন।   ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন।   প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল।   মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি।   রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।

যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডে বড় পরিবর্তন, পরিবারভিত্তিক ভিসা আবেদনকারীদের জন্য সুখবর

যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর আগস্ট ২০২৬ সালের ভিসা বুলেটিন প্রকাশ করেছে। নতুন এই আপডেটে পরিবারভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি দেখা গেছে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের স্থায়ী বাসিন্দাদের স্বামী, স্ত্রী ও সন্তানদের জন্য নির্ধারিত এফ২এ ক্যাটাগরিতে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এসেছে।   নতুন ভিসা বুলেটিন অনুযায়ী, পরিবারভিত্তিক কয়েকটি ক্যাটাগরিতে অপেক্ষার সময় কমার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এর মধ্যে এফ২এ ক্যাটাগরির অগ্রগতি সবচেয়ে বেশি, যেখানে যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডধারীদের স্বামী-স্ত্রী ও অবিবাহিত সন্তানদের আবেদন অন্তর্ভুক্ত থাকে।   এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের অবিবাহিত প্রাপ্তবয়স্ক সন্তানদের জন্য এফ১ ক্যাটাগরি এবং অন্যান্য পরিবারভিত্তিক ক্যাটাগরিতেও কিছু অগ্রগতি দেখা গেছে। তবে আবেদনকারীদের ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার তারিখ বা প্রায়োরিটি ডেট অনুযায়ীই পরবর্তী ধাপ নির্ধারণ হবে।   ভিসা বুলেটিনে বলা হয়েছে, পরিবারভিত্তিক অভিবাসন ভিসার সংখ্যা প্রতিবছর নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে দেওয়া হয়। তাই কোনো ক্যাটাগরিতে চাহিদা বেশি হলে অপেক্ষার সময় বাড়তে পারে এবং কম হলে তারিখ এগিয়ে আসতে পারে।   অন্যদিকে কর্মসংস্থানভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য পরিস্থিতি তুলনামূলক কঠিন রয়েছে। বিশেষ করে কিছু এমপ্লয়মেন্ট-বেসড ক্যাটাগরিতে দীর্ঘ অপেক্ষা ও সীমিত ভিসা সংখ্যার কারণে আবেদনকারীদের অনিশ্চয়তা অব্যাহত রয়েছে।   যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ী বসবাসের জন্য আবেদনকারীদের কাছে ভিসা বুলেটিন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এই তালিকার মাধ্যমে জানা যায়, কোন আবেদনকারীরা গ্রিন কার্ডের পরবর্তী ধাপে এগিয়ে যেতে পারবেন এবং কারা এখনও অপেক্ষার তালিকায় থাকবেন।   বিশেষজ্ঞদের মতে, নতুন এই পরিবর্তন অনেক পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীর জন্য আশার খবর হলেও, প্রতিটি আবেদনকারীর পরিস্থিতি নির্ভর করবে তাদের আবেদন জমার তারিখ, দেশভিত্তিক সীমা এবং ভিসা ক্যাটাগরির ওপর।   যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ব্যবস্থায় দীর্ঘদিন ধরে গ্রিন কার্ডের অপেক্ষার তালিকা বড় একটি বিষয় হয়ে আছে। নতুন ভিসা বুলেটিনে পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীদের জন্য অগ্রগতি দেখা গেলেও, সব আবেদনকারী একইভাবে সুবিধা পাবেন না।

মার্কিন ভিসা আপডেট ২০২৬! বাংলাদেশিদের জন্য কোন ভিসা বন্ধ, কোনটা চালু?

২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো।   প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে।   এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে।   অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে।   স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে।   সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে।   সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।

যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশি মালিকানাধীন বিশ্ববিদ্যালয়ের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধন

যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে।   এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন।   নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি।   উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।”   বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে।   এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে।   শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়।   উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন।   বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত।   এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।

প্রাণীর সঙ্গে যৌন কর্মকাণ্ডের অভিযোগে গ্রেপ্তার বুয়েটের সাবেক শিক্ষার্থী ও সাউথ ফ্লোরিডা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক

যুক্তরাষ্ট্রের ফ্লোরিডা অঙ্গরাজ্যে প্রাণীর সঙ্গে যৌন কর্মকাণ্ডের ছবি বা ভিডিও ধারণ, বিতরণ ও সংরক্ষণের অভিযোগে গ্রেপ্তার হয়েছেন বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত রায়ান আবদুল বাতেন। তিনি বাংলাদেশের বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বুয়েট) তড়িৎ ও ইলেকট্রনিক প্রকৌশল বিভাগের সাবেক শিক্ষার্থী এবং যুক্তরাষ্ট্রের ইউনিভার্সিটি অব সাউথ ফ্লোরিডার সহকারী অধ্যাপক।   হিলসবরো কাউন্টি শেরিফের কার্যালয়ের সরকারি ওয়েবসাইটে প্রকাশিত গ্রেপ্তারসংক্রান্ত তথ্য অনুযায়ী, গত ২৮ অক্টোবর ২০২৬ তারিখে তাঁকে গ্রেপ্তার করা হয়। প্রকাশিত রেকর্ডে তাঁর বিরুদ্ধে ‘Film, Distribute, or Possess Image or Video of Sexual Activity with an Animal’ শীর্ষক অভিযোগ উল্লেখ করা হয়েছে। অর্থাৎ, প্রাণীর সঙ্গে যৌন কর্মকাণ্ডের ছবি বা ভিডিও ধারণ, বিতরণ কিংবা নিজের কাছে রাখার অভিযোগে তাঁকে গ্রেপ্তার দেখানো হয়েছে।   গ্রেপ্তারসংক্রান্ত সরকারি রেকর্ড প্রকাশের পর বিষয়টি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে। বিশেষ করে বুয়েটের সাবেক শিক্ষার্থী এবং যুক্তরাষ্ট্রের একটি বিশ্ববিদ্যালয়ের সহকারী অধ্যাপক হিসেবে তাঁর পরিচয়ের কারণে ঘটনাটি নিয়ে প্রবাসী বাংলাদেশিদের মধ্যেও আলোচনা তৈরি হয়েছে।   এদিকে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রাণীটির পরিচয় সম্পর্কে বিভিন্ন দাবি ছড়িয়ে পড়লেও হিলসবরো কাউন্টি শেরিফের কার্যালয়ের প্রকাশিত গ্রেপ্তারসংক্রান্ত তথ্যে নির্দিষ্ট কোনো প্রাণীর নাম উল্লেখ করা হয়নি। ফলে ছাগলের সঙ্গে যৌন কর্মকাণ্ডের যে দাবি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে করা হচ্ছে, তা স্বাধীনভাবে নিশ্চিত হওয়া যায়নি।   তথ্যসূত্র: হিলসবরো কাউন্টি শেরিফের কার্যালয় (Hillsborough County Sheriff’s Office), ফ্লোরিডা।

Top week

যুক্তরাষ্ট্রের ইউনিভার্সিটি অব সাউথ ফ্লোরিডার সহকারী অধ্যাপক রাইয়ান আবদুল বাতেন। গ্রাফিক্স: আমেরিকা বাংলা

প্রাণীর সঙ্গে যৌন কর্মকাণ্ডের অভিযোগে গ্রেপ্তার বুয়েটের সাবেক শিক্ষার্থী ও সাউথ ফ্লোরিডা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক

নভেম্বর ২, ২০২৬ ১৩:০