এবারের ঈদযাত্রা তুলনামূলক স্বস্তিদায়ক হয়েছে বলে দাবি করেছেন সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী শেখ রবিউল আলম। তবে কিছু অনাকাঙ্ক্ষিত দুর্ঘটনার ঘটনায় তিনি দুঃখ প্রকাশ করেছেন। রোববার (২৯ মার্চ) সচিবালয়ে সড়ক নিরাপত্তা জোরদার সংক্রান্ত উচ্চপর্যায়ের এক সভা শেষে সাংবাদিকদের এ কথা বলেন মন্ত্রী। তিনি বলেন, “দেড় কোটি মানুষ তিন দিনের মধ্যে ঢাকা ছাড়লেও বড় ধরনের যানজট বা দুর্ভোগ হয়নি। অতীতের তুলনায় এবারের যাত্রা অনেক বেশি স্বস্তিদায়ক ছিল।” মন্ত্রী আরও বলেন, “দুই-তিনটি বড় দুর্ঘটনা আমাদের ব্যথিত করেছে। একটি প্রাণহানিও আমরা চাই না। তবুও সামগ্রিকভাবে মানুষ নিরাপদে ও স্বস্তিতে বাড়ি ফিরতে পেরেছে বলে আমরা মনে করি।” দুর্ঘটনার দায় প্রসঙ্গে তিনি বলেন, কাউকে সরাসরি দায়ী না করলেও তদন্তের মাধ্যমে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। ইতোমধ্যে কিছু ক্ষেত্রে শাস্তিমূলক পদক্ষেপও নেওয়া হয়েছে। তিনি জানান, রেল দুর্ঘটনার ঘটনায় সংশ্লিষ্ট গার্ডদের বহিষ্কার ও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। দায়িত্বে অবহেলার অভিযোগে একজন কর্মকর্তাকেও চাকরিচ্যুত করা হয়েছে। রাজবাড়ীর দৌলতদিয়ায় পদ্মা নদীতে বাসডুবির ঘটনায় সংশ্লিষ্ট পরিবহন কোম্পানির কাছ থেকে ব্যাখ্যা চাওয়া হয়েছে। সন্তোষজনক জবাব না পেলে ওই কোম্পানির সব বাসের রুট পারমিট বাতিলের হুঁশিয়ারি দেন তিনি। নিহতের সংখ্যা নিয়ে বিভিন্ন বেসরকারি সংস্থার তথ্যের সঙ্গে দ্বিমত পোষণ করে মন্ত্রী বলেন, সরকারি হিসেবে সড়ক, নৌ ও রেলপথ মিলিয়ে ১৭০ জন নিহত হয়েছেন। এর মধ্যে মহাসড়কে ৪৭ জন, নৌপথে ২৮ জন এবং রেলপথে ১৭ জন নিহত হয়েছেন। তিনি বলেন, “কোনো মৃত্যুই কাম্য নয়। তবে আগের বছরের তুলনায় পরিস্থিতি কিছুটা নিয়ন্ত্রণে এসেছে। ভবিষ্যতে দুর্ঘটনা আরও কমাতে আমরা কাজ করে যাচ্ছি।”
ঈদুল ফিতরের ছুটি শেষে কর্মস্থলে ফেরা ঢাকামুখী যাত্রীদের ঢল নামতে শুরু করেছে। এই পরিস্থিতিতে সড়কপথে সাধারণ মানুষের যাতায়াত নিরাপদ ও নির্বিঘ্ন করতে পরিবহন সংশ্লিষ্টদের জন্য একগুচ্ছ কঠোর নির্দেশনা জারি করেছে বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন মালিক সমিতি। বিশেষ করে বিআরটিএ নির্ধারিত ভাড়ার অতিরিক্ত টাকা আদায় না করার বিষয়ে সাফ জানিয়ে দিয়েছে সংগঠনটি। বুধবার (২৫ মার্চ) সংগঠনের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক কাজী মো. জোবায়ের মাসুদ স্বাক্ষরিত এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এই নির্দেশনার কথা জানানো হয়। বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, ঈদ পরবর্তী সময়ে যাত্রীদের চাপ সামলাতে এবং দুর্ঘটনা রোধে চালকদের অতিরিক্ত গতি ও ঝুঁকিপূর্ণ ওভারটেকিং থেকে বিরত থাকতে হবে। বিজ্ঞপ্তিতে আরও উল্লেখ করা হয়, ফিরতি যাত্রায় বয়স্ক, নারী ও শিশুদের প্রতি চালক ও সহকারীদের বিশেষভাবে যত্নবান হতে হবে। কোনো অবস্থাতেই নির্ধারিত ভাড়ার বেশি টাকা আদায় করা যাবে না। ভাড়া সংক্রান্ত যেকোনো অনিয়ম রোধে মাঠ পর্যায়ে তদারকি আরও জোরদার করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। নিরাপদ ও স্বস্তিদায়ক ভ্রমণ নিশ্চিত করতে পরিবহন খাতের সকল পক্ষকে সমন্বিতভাবে কাজ করার আহ্বান জানিয়েছে মালিক সমিতি।
ঈদের আনন্দ উদযাপনের পাশাপাশি পারস্পরিক শ্রদ্ধা ও সৌহার্দ্যের এক অনন্য উদাহরণ সৃষ্টি করেছেন প্রধানমন্ত্রী Tarique Rahman। সম্প্রতি ছড়িয়ে পড়া একটি ভিডিওতে দেখা যায়, তিনি রাস্তায় দায়িত্ব পালনরত এক পুলিশ সার্জেন্টকে জড়িয়ে ধরে ঈদের শুভেচ্ছা বিনিময় করছেন। ভিডিওতে দেখা যায়, দায়িত্বে থাকা পুলিশ সার্জেন্ট প্রধানমন্ত্রীকে দেখে এগিয়ে এসে স্যালুট ও হাত মেলাতে চাচ্ছেন। এ সময় তারেক রহমান তাকে কাছে টেনে নিয়ে কোলাকুলি করেন এবং হাসিমুখে ঈদের শুভেচ্ছা জানান। ঘটনাটি উপস্থিত সবাইকে মুগ্ধ করেছে এবং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক প্রশংসা কুড়িয়েছে। ভিডিওটি ফেসবুকে শেয়ার করেছেন সমাজকল্যাণমন্ত্রী ও বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য AZM Zahid Hossain। তিনি ক্যাপশনে লিখেছেন, “এই দৃশ্য ঈদের আনন্দ আরও কয়েক গুণ বাড়িয়ে দিল। যেমন রাষ্ট্র চাই, ঠিক সেই পথে।” এরপর থেকে ভিডিওটি ভাইরাল হয়ে সাধারণ মানুষ প্রধানমন্ত্রীর মানবিক ও সহজ-সরল আচরণে মুগ্ধতা প্রকাশ করছেন।
মুসলমানদের সবচেয়ে বড় ধর্মীয় উৎসব ঈদুল ফিতর ও ঈদুল আজহা—আনন্দ, সম্প্রীতি ও আত্মশুদ্ধির এক অনন্য উপলক্ষ। তবে এই আনন্দঘন দিনে ইসলামের নির্ধারিত কিছু করণীয় ও বর্জনীয় বিষয় রয়েছে, যা মেনে চলা প্রত্যেক মুসলমানের জন্য গুরুত্বপূর্ণ। ঈদের দিনে করণীয় ঈদের দিনটি শুরু হয় পবিত্রতা ও ইবাদতের মাধ্যমে। ইসলামি বিধান অনুযায়ী- গোসল ও পরিচ্ছন্নতা: ঈদের সকালে গোসল করা সুন্নাত। সাহাবি আবদুল্লাহ ইবনে উমর (রা.) ঈদগাহে যাওয়ার আগে গোসল করতেন। তাকবির পাঠ: ঈদের দিন বেশি বেশি তাকবির পড়া সুন্নাত। এটি আল্লাহর মহিমা ঘোষণা করার একটি গুরুত্বপূর্ণ আমল। উত্তম পোশাক পরিধান: সামর্থ্য অনুযায়ী নতুন বা পরিষ্কার ও সুন্দর পোশাক পরা উচিত। এটি আল্লাহর নেয়ামতের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশের অংশ। তাকওয়া অর্জন: বাহ্যিক সৌন্দর্যের পাশাপাশি আত্মিক পবিত্রতা বজায় রাখা সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ। ঈদুল ফিতরের আগে খাওয়া: ঈদের নামাজে যাওয়ার আগে বিজোড় সংখ্যক খেজুর খাওয়া সুন্নাত। ফিতরা আদায়: ঈদের নামাজের আগে ফিতরা প্রদান করা জরুরি, যাতে অসহায় মানুষেরাও ঈদের আনন্দে শামিল হতে পারে। ঈদগাহে যাওয়া: সম্ভব হলে হেঁটে যাওয়া এবং ভিন্ন পথে ফিরে আসা সুন্নাত। আত্মীয়-স্বজন ও প্রতিবেশীর খোঁজ নেওয়া: ঈদের আনন্দ ভাগাভাগি করা ইসলামের গুরুত্বপূর্ণ শিক্ষা। শুভেচ্ছা বিনিময়: ‘তাকাব্বালাল্লাহু মিন্না ওয়া মিনকা’ বলে পরস্পর শুভেচ্ছা জানানো উত্তম আমল। ঈদের দিনে যা করবেন না ঈদের আনন্দ যেন ইসলামের শিক্ষা থেকে বিচ্যুত না হয়, সে বিষয়েও সতর্ক থাকা জরুরি- ঈদের দিনে রোজা রাখা: সম্পূর্ণ হারাম। মুহাম্মদ (সা.) এই দিনে রোজা রাখতে নিষেধ করেছেন। অপ্রয়োজনীয় নফল নামাজ: ঈদের নামাজের আগে বা পরে ঈদগাহে কোনো নফল নামাজ আদায় নেই। ইবাদতে অবহেলা: ব্যস্ততার কারণে ঈদের নামাজ অবহেলা করা উচিত নয়। বিদআত ও কুসংস্কার: ধর্মে নেই এমন কাজকে ইবাদত মনে করা থেকে বিরত থাকতে হবে। অপচয় ও অনৈতিক কাজ: ঈদের আনন্দ যেন অপচয়, জুয়া বা ইসলামবিরোধী কর্মকাণ্ডে পরিণত না হয়। ইসলামি চিন্তাবিদদের মতে, ঈদ শুধু আনন্দের দিন নয়; এটি আত্মশুদ্ধি, সংযম ও মানবিকতার চর্চারও একটি বড় সুযোগ। তাই ঈদের প্রকৃত সৌন্দর্য তখনই ফুটে ওঠে, যখন তা শরিয়তের নির্দেশনা মেনে উদযাপন করা হয়।
পবিত্র ঈদুল ফিতরের আনন্দ উদযাপনের জন্য পাকিস্তান ও আফগানিস্তান পাঁচ দিনের সাময়িক যুদ্ধবিরতিতে সম্মত হয়েছে। সৌদি আরব, কাতার ও তুরস্কের মধ্যস্থতায় ইসলামাবাদ এ সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেছে। একই সঙ্গে তালেবান সরকারও তাদের সামরিক অভিযান সাময়িকভাবে বন্ধ রাখার প্রতিশ্রুতি দিয়েছে। জাতিসংঘ এই উদ্যোগকে স্বাগত জানিয়ে যুদ্ধবিরতির মেয়াদ বাড়ানোর আহ্বান জানিয়েছে। ঘটনার প্রেক্ষিতে, গত সোমবার (১৬ মার্চ) কাবুলের একটি মাদক নিরাময় কেন্দ্রে বিমান হামলায় চার শতাধিক মানুষ নিহত এবং অন্তত ২৬৫ জন আহত হয়। নিহতদের মধ্যে অনেকের গণজানাজা অনুষ্ঠিত হয়েছে এবং পরে কাবুল উপকণ্ঠে গণকবরে দাফন করা হয়। তালেবান সরকার হামলার জন্য পাকিস্তানকে দায়ী করলেও পাকিস্তান অভিযোগ অস্বীকার করে জানায়, তারা শুধুমাত্র সন্ত্রাসী অবকাঠামো ও সামরিক লক্ষ্যবস্তুকে লক্ষ্য করে নির্ভুল হামলা চালিয়েছে। পরিস্থিতির উত্তেজনা কমাতে পাকিস্তান ১৮ মার্চ রাত ১২টা থেকে ২৩ মার্চ রাত ১২টা পর্যন্ত আফগানিস্তানের বিরুদ্ধে সামরিক অভিযান স্থগিত রাখার ঘোষণা দেয়। তালেবান মুখপাত্র জাবিহুল্লাহ মুজাহিদও নিশ্চিত করেছেন, ঈদ উপলক্ষে তারা সামরিক তৎপরতা স্থগিত রাখছে। জাতিসংঘ উভয় পক্ষকে সংযত থাকার আহ্বান জানিয়ে আলোচনার মাধ্যমে স্থায়ী সমাধানের ওপর গুরুত্বারোপ করেছে।
ঈদ সামনে রেখে বাড়িমুখো মানুষের ঢল নেমেছে মহাসড়কে। প্রিয়জনদের সঙ্গে উৎসব উদযাপন করতে রাজধানী ছাড়ছেন হাজারো মানুষ, যার ফলে বেড়েছে যানবাহনের চাপ। এর প্রভাব পড়েছে ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়কে—যমুনা সেতু এলাকা থেকে রাবনা বাইপাস পর্যন্ত প্রায় ২০ কিলোমিটারজুড়ে ধীরগতিতে চলছে যানবাহন। এতে যাত্রী ও চালকদের দুর্ভোগ বাড়ছে। বৃহস্পতিবার (১৯ মার্চ) সকালে মহাসড়কের বিভিন্ন পয়েন্ট—এলেঙ্গা বাসস্ট্যান্ড, আশেকপুর ও রাবনা বাইপাস এলাকায় দেখা গেছে, বাসের পাশাপাশি ট্রাক, পিকআপ ও মাইক্রোবাসে ঝুঁকি নিয়ে যাতায়াত করছেন অনেকেই। গণপরিবহনের সংকট ও ভাড়া বেশি হওয়ায় অনেকে বিকল্প হিসেবে ভাড়ায়চালিত মোটরসাইকেল ও প্রাইভেটকার ব্যবহার করছেন। কেউ কেউ বাধ্য হয়ে খোলা ট্রাক বা পিকআপেও যাত্রা করছেন। যমুনা সেতু কর্তৃপক্ষের তথ্য অনুযায়ী, একদিনে (মঙ্গলবার রাত থেকে বুধবার রাত পর্যন্ত) ২৪ ঘণ্টায় ৫১ হাজারের বেশি যানবাহন সেতু পার হয়েছে। এর মধ্যে উত্তরবঙ্গমুখী যানবাহনের সংখ্যা ছিল বেশি। টোল আদায় থেকেও উল্লেখযোগ্য রাজস্ব এসেছে। আগের দিনের তুলনায় যানবাহন পারাপারও বেড়েছে কয়েক হাজার। গত চার দিনে সেতু দিয়ে মোট দেড় লাখের বেশি যানবাহন চলাচল করেছে, যা থেকে কয়েক কোটি টাকার টোল আদায় হয়েছে বলে জানানো হয়েছে। এদিকে এলেঙ্গা হাইওয়ে পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ মুহাম্মদ শরীফ জানান, অতিরিক্ত যানবাহনের চাপ এবং পথে কোথাও কোথাও গাড়ি বিকল হয়ে পড়ার কারণে রাত থেকে ভোর পর্যন্ত ধীরগতির সৃষ্টি হয়েছে। তবে পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে মহাসড়কে পর্যাপ্ত পুলিশ মোতায়েন রয়েছে এবং যান চলাচল স্বাভাবিক রাখতে তারা কাজ করে যাচ্ছেন।
পবিত্র রমজান শেষ হওয়ার আগে উত্তেজিত সীমান্ত অঞ্চলে পাকিস্তান সামরিক অভিযান সাময়িকভাবে স্থগিত করেছে। বুধবার ঘোষণা করা হয়েছে, আফগানিস্তানের বিরুদ্ধে হামলা আগামী পাঁচ দিনের জন্য স্থগিত থাকবে। পাকিস্তানের তথ্যমন্ত্রী আতাউল্লাহ তারা সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে জানান, এই বিরতির সিদ্ধান্ত সৌদি আরব, কাতার ও তুরস্কের অনুরোধে নেওয়া হয়েছে। তিনি আরও উল্লেখ করেন, “যদি পাকিস্তানের ভেতরে সীমান্ত পেরিয়ে কোনো সন্ত্রাসী ঘটনা ঘটে, তবে সামরিক অভিযান অবিলম্বে পুনরায় শুরু করা হবে।” আফগান তালেবান সরকারও সামরিক অভিযান স্থগিতের ঘোষণা দিয়েছে। কাবুলের তালেবান মুখপাত্র জাবিহুল্লাহ মুজাহিদ বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। মঙ্গলবার কাবুলের ওমিদ মাদকাসক্তি চিকিৎসা কেন্দ্রে বিমান হামলায় শতাধিক মানুষ নিহত হওয়ার পর বুধবার গণজানাজা অনুষ্ঠিত হয়েছে। তালেবান দাবি করেছে, ওই হামলায় ৪০০ জনের বেশি নিহত এবং ২৬৫ জন আহত হয়েছে। পাকিস্তান দাবি করেছে, তারা লক্ষ্যবস্তু হিসেবে মাদক পুনর্বাসন কেন্দ্রকে ব্যবহার করেনি। বরং ‘নির্ভুলভাবে সামরিক স্থাপনা এবং সন্ত্রাসী অবকাঠামো’ লক্ষ্য করা হয়েছে। ইসলামাবাদ অভিযোগ তুলেছে, কিছু চরমপন্থী গোষ্ঠী আফগানিস্তান থেকে পাকিস্তান হামলা চালায় এবং কাবুলের তালেবান সরকার তাদের আশ্রয় দেয়। এর আগে সীমান্তে সংঘর্ষের কারণে দু’দেশের মধ্যে উত্তেজনা বাড়লেও চীনসহ বিভিন্ন দেশের মধ্যস্থতায় পরিস্থিতি কিছুটা প্রশমিত হয়েছিল। তবে সাম্প্রতিক সময়ে পাকিস্তান সরাসরি আফগান তালেবানকে লক্ষ্যবস্তু করা শুরু করলে উত্তেজনা পুনরায় বৃদ্ধি পায়।
সৌদি আরবসহ মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলোতে ২০২৬ সালের পবিত্র ঈদুল ফিতর কবে উদযাপিত হতে পারে, তা নিয়ে বড় ধরনের পূর্বাভাস দিয়েছেন জ্যোতির্বিজ্ঞানীরা। আমিরাত জ্যোতির্বিদ্যা সোসাইটির চেয়ারম্যান ইব্রাহিম আল জারওয়ান এবং শারজাহ অ্যাকাডেমি ফর অ্যাস্ট্রোনমি-র যৌথ পর্যবেক্ষণে জানা গেছে, আগামী ২০ মার্চ মধ্যপ্রাচ্যে পবিত্র ঈদুল ফিতর অনুষ্ঠিত হওয়ার জোরালো সম্ভাবনা রয়েছে। জ্যোতির্বিজ্ঞানীদের বিশ্লেষণ অনুযায়ী, হিজরি ১৪৪৭ সনের রমজান মাস এবার ৩০ দিন পূর্ণ করতে পারে। ১৮ মার্চ রমজানের ২৯তম দিনে সূর্যাস্তের আগেই চাঁদ অস্ত যাওয়ায় সেদিন আকাশে নতুন চাঁদের দেখা পাওয়ার সম্ভাবনা নেই বললেই চলে। ১৯ মার্চ ভোরে নতুন চাঁদের সংযোগ ঘটলেও সূর্যাস্তের সময় এর অবস্থান ও বয়স এমন থাকবে যে, খালি চোখে এমনকি টেলিস্কোপ দিয়েও চাঁদ দেখা প্রায় অসম্ভব হবে। বিশেষ প্রযুক্তি ব্যবহার করে ছবি ধারণের ক্ষীণ সম্ভাবনা থাকলেও সাধারণ পর্যবেক্ষণে তা দৃশ্যমান হবে না। ফলে ১৯ মার্চ রমজান ৩০ পূর্ণ হবে এবং তার পরদিন অর্থাৎ ২০ মার্চ শাওয়াল মাসের প্রথম দিন বা ঈদুল ফিতর পালিত হতে পারে। সৌদি আরব, সংযুক্ত আরব আমিরাত ও কাতারসহ মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলো সাধারণত একই দিনে ঈদ পালন করে থাকে। তবে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত চাঁদ দেখার ওপরই নির্ভর করবে।
মধ্যপ্রাচ্যে চলমান উত্তেজনাপূর্ণ পরিস্থিতির প্রেক্ষাপটে আসন্ন ঈদকে সামনে রেখে সতর্ক অবস্থান নিয়েছে সংযুক্ত আরব আমিরাত। দেশটির জেনারেল অথরিটি অব ইসলামিক অ্যাফেয়ার্স এবার খোলা মাঠে ঈদের জামাত আয়োজন না করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে, যা তাদের দীর্ঘদিনের প্রচলিত রীতির বাইরে। গালফ নিউজের বরাতে জানা গেছে, এ বছর কোনো ঈদগাহ বা উন্মুক্ত স্থানে জামাত অনুষ্ঠিত হবে না। পুরো দেশজুড়ে শুধুমাত্র মসজিদের ভেতরেই ঈদের নামাজ আদায় করতে হবে। সাধারণত আমিরাতে খোলা জায়গায় ঈদের জামাতের আয়োজন হয়ে থাকে এবং বিপুল সংখ্যক মুসল্লি সেখানে অংশ নেন। তবে বর্তমান পরিস্থিতি বিবেচনায় সরকার এই আয়োজন সীমিত করেছে। কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, জননিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং নামাজের সুষ্ঠু ব্যবস্থাপনার জন্যই এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। তাই সবাইকে নিজ নিজ এলাকার মসজিদে গিয়ে ঈদের নামাজ আদায়ের আহ্বান জানানো হয়েছে। এছাড়া দেশের সব মসজিদে প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি সম্পন্ন রয়েছে বলেও জানিয়েছে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ। মুসল্লিদের সরকারি নির্দেশনা মেনে চলার জন্য বিশেষভাবে অনুরোধ করা হয়েছে।
আসন্ন পবিত্র ঈদুল ফিতরের ছুটির আগেই দেশের সব শিল্পকারখানার শ্রমিকদের বকেয়া বেতন ও বোনাস পরিশোধ নিশ্চিত করার কঠোর নির্দেশনা দিয়েছেন শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরী। শ্রমিকদের প্রাপ্য পাওনা নিয়ে কোনো ধরনের জটিলতা বা অসন্তোষ যেন তৈরি না হয়, সে বিষয়ে সংশ্লিষ্ট সবাইকে সর্বোচ্চ সতর্ক থাকার আহ্বান জানিয়েছেন তিনি। শনিবার (১৪ মার্চ) বেইলি রোডে নিজ সরকারি বাসভবনে আরএমজি ও নন-আরএমজি খাতের শ্রম পরিস্থিতি নিয়ে আয়োজিত এক উচ্চপর্যায়ের সভায় মন্ত্রী এই নির্দেশনা দেন। মন্ত্রী জানান, ঝুঁকিপূর্ণ কারখানার তালিকা তৈরি করে সংশ্লিষ্ট সংসদ সদস্যদের কাছে পাঠানো হবে। সংসদ সদস্যরা সরাসরি মালিকপক্ষের সঙ্গে কথা বলে পাওনা পরিশোধের ব্যবস্থা নেবেন। এছাড়া ইউসিবিএল, ট্রাস্ট ও প্রিমিয়ার ব্যাংকসহ যেসব ব্যাংক ঋণ দিতে গড়িমসি করছে, তাদের সঙ্গে দ্রুত যোগাযোগ করে ঋণের ব্যবস্থা করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। শিল্পখাতে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টিকারী সুযোগসন্ধানী শ্রমিক নেতাদের ওপর নজরদারি বাড়ানোর নির্দেশ দিয়ে মন্ত্রী বলেন, পলাতক মালিকদের প্রতিষ্ঠানের তালিকা তৈরি করতে হবে যাতে সেখানে কোনো অপ্রীতিকর ঘটনা না ঘটে। সভায় প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা মাহদি আমিন আশাবাদ ব্যক্ত করেন যে, সরকার গঠনের ১৮০ দিনের মধ্যেই বন্ধ কারখানাগুলো পুনরায় চালু করা হবে। বিজিএমইএ ও বিকেএমইএ নেতারা জানান, ইতিমধ্যে অধিকাংশ কারখানা ফেব্রুয়ারি মাসের বেতন ও ঈদের বোনাস পরিশোধ করেছে। তবে মার্চ মাসের বেতন নিয়ে কোনো কোনো পক্ষ উসকানি দিচ্ছে বলে তারা অভিযোগ করেন। শ্রম সচিব আব্দুর রহমান তরফদার এই সমস্যার স্থায়ী সমাধানে একটি 'আপদকালীন ফান্ড' গঠনের প্রস্তাব দেন। সভায় বিভিন্ন শিল্পাঞ্চলের সংসদ সদস্য এবং সরকারের উচ্চপদস্থ কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
পবিত্র ঈদুল ফিতর দরজায় কড়া নাড়ছে। পোশাকের দোকান থেকে জুতার শোরুম— সর্বত্রই এখন উৎসবের আমেজ আর ক্রেতাদের উপচে পড়া ভিড়। তবে কেনাকাটার এই বিপুল আনন্দ যেন অগোছালো পরিকল্পনার কারণে ভোগান্তিতে রূপ না নেয়, সেদিকে সতর্ক থাকা জরুরি। অগোছালো শপিং যেমন পকেটে বাড়তি চাপ তৈরি করে, তেমনি নষ্ট করে মূল্যবান সময়। তাই ঈদের কেনাকাটা সহজ, সাশ্রয়ী ও আনন্দদায়ক করতে বের হওয়ার আগেই কিছু বিষয়ের ওপর নজর দেওয়া প্রয়োজন। কেনাকাটা করতে যাওয়ার আগে সবচাইতে জরুরি হলো একটি নিখুঁত বাজেট ও তালিকা তৈরি করা। কার জন্য কী কিনবেন তা আগেভাগেই লিখে ফেললে মার্কেটে গিয়ে অযথা বিভ্রান্ত হতে হবে না। সম্ভব হলে বিভিন্ন দোকানের দাম যাচাই করে এবং অনলাইনে পণ্যটির বাজারমূল্য সম্পর্কে ধারণা নিয়ে বের হওয়া ভালো। এতে সাশ্রয়ী দামে সেরা মানের জিনিসটি পাওয়া সহজ হয়। এছাড়া ভিড় এড়াতে সকাল সকাল মার্কেটে যাওয়া এবং ছুটির দিনগুলো এড়িয়ে চলা বুদ্ধিমানের কাজ। দীর্ঘ সময় হাঁটার প্রয়োজনে হিল বা নতুন জুতা না পরে আরামদায়ক ফ্ল্যাট স্যান্ডেল এবং হালকা সুতি পোশাক বেছে নেওয়া উচিত। নিরাপত্তার বিষয়েও এই সময় বিশেষ সতর্কতা জরুরি। উৎসবের বাজারে পকেটমার বা অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা এড়াতে নগদ টাকা এক জায়গায় না রেখে ভাগ করে রাখা এবং কার্ড বা মোবাইল ব্যাংকিং ব্যবহারের চেষ্টা করা ভালো। যারা জ্যাম আর ভিড় এড়াতে অনলাইনে কেনাকাটা করতে চান, তাদের অন্তত ১০-১৫ দিন আগেই অর্ডার সম্পন্ন করার পরামর্শ দিচ্ছেন বিশেষজ্ঞরা, যাতে সময়মতো ডেলিভারি পাওয়া নিশ্চিত হয়। একটু সচেতনতা আর সুশৃঙ্খল পরিকল্পনাই পারে আপনার ঈদের আনন্দকে বহুগুণ বাড়িয়ে দিতে।
ঈদকে কেন্দ্র করে রাজধানীর বাজারগুলোতে কেনাকাটার চিত্র জমে উঠেছে। ক্রেতাদের উপস্থিতি বেশি হওয়ায় বাজারে চাহিদা বেড়ে গেছে, যা একাংশ অসাধু ব্যবসায়ীর জন্য অতিমুনাফার সুযোগ তৈরি করেছে। শুক্রবার রাজধানীর নিউ সুপারমার্কেট, গাউছিয়া, চাঁদনীচক, চন্দ্রিমা, নূরজাহান সুপারমার্কেট, প্রিয়াঙ্গন শপিং সেন্টারসহ বিভিন্ন মার্কেটে ভিড় লক্ষ্য করা গেছে। এবার নারীদের পোশাকে এসেছে বৈচিত্র্যময়তার ছোঁয়া—ফারসি সালোয়ার কামিজ, পাকিস্তান-ভারতীয় নকশা ও প্যাটার্নের কাপড়, কুর্তি, সিঙ্গেল কামিজ, টু-পিস, সারারা ও ঘারারা পাওয়া গেছে গাউছিয়ার দোকানগুলোতে। দামে অতিরিক্ত বেড়ে যাওয়ায় ভোক্তাদের জন্য ঈদের কেনাকাটা আরও চাপের হয়ে উঠেছে। পোলাওর চালের দাম প্রতি কেজি ২০-৩০ টাকা বেড়ে ১৫০-১৬০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। মুগ ডালের দাম ১০ টাকা বৃদ্ধি পেয়ে ১৫০-১৬০ টাকা হয়েছে। ব্রয়লার মুরগির দাম বেড়ে সর্বোচ্চ ২৩০ টাকা, কক মুরগি ৩৫০ টাকা, লেয়ার মুরগি ৩৬০ টাকা এবং দেশি মুরগি ৭৩০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। গরুর মাংস প্রতি কেজি ৮০০ টাকা, খাসির মাংস ১২০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। গুঁড়া দুধের দামও বেড়েছে—ডানো ৮৬০, ডিপ্লোমা ৯২০, ফ্রেশ ৮৯০ এবং মার্কস ৯০০ টাকা প্রতি কেজি। ২০০ গ্রামের লাচ্চা সেমাই ৫০ টাকা ও চিকন সেমাই ৪৫ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। চিনি ১০৫ টাকা, দেশি পেঁয়াজ ৬০ টাকা, রসুন ২৪০ টাকা, হলুদ ৪০০ টাকা এবং আদা ২২০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। এছাড়া খোলা সয়াবিন প্রতি লিটার ১৮৫ টাকা এবং বোতলজাত সয়াবিন ১৯৫ টাকায় পাওয়া যাচ্ছে। কনজ্যুমারস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের (ক্যাব) কেন্দ্রীয় কমিটির ভাইস প্রেসিডেন্ট এসএম নাজের হোসাইন জানান, প্রতিবার রোজা ও ঈদের সময় কিছু ব্যবসায়ী অতিমুনাফা করতে উদগ্রীব হয়। ভোক্তাদের স্বার্থ রক্ষায় আইন প্রয়োগ এবং বাজার তদারকি জরুরি। জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তরের কর্মকর্তারা সার্বিকভাবে বাজার তদারকি অব্যাহত রেখেছেন। শুক্রবারও ৬টি টিম রাজধানীর বাজারে নজরদারি চালিয়েছে এবং অপ্রত্যাশিত মূল্যবৃদ্ধি বা অনিয়ম ধরা পড়লে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।
ঈদ এলেই যেন নতুন প্রাণ ফিরে পায় ঢাকাই সিনেমা ইন্ডাস্ট্রি। বছরের অন্য সময় প্রেক্ষাগৃহে দর্শক টানতে হিমশিম খেলেও দুই ঈদকে ঘিরে তৈরি হয় ভিন্ন মাত্রার উন্মাদনা। এবার সেই উন্মাদনা রেকর্ড ছুঁতে যাচ্ছে—ঈদ উপলক্ষে মুক্তির ঘোষণায় রয়েছে ১২টি সিনেমা। তবে সীমিত প্রেক্ষাগৃহ, বড় বাজেটের প্রতিযোগিতা এবং শেষ মুহূর্তের প্রস্তুতি—সব মিলিয়ে প্রশ্ন উঠেছে, শেষ পর্যন্ত কয়টি ছবি প্রেক্ষাগৃহে জায়গা পাবে? শাকিব খানের ‘প্রিন্স’: সময়ের সঙ্গে দৌড়: নব্বইয়ের দশকের অপরাধজগতকে পটভূমি করে নির্মিত ‘প্রিন্স’ শুরু থেকেই আলোচনায়। শাকিব খানের বিপরীতে আছেন কলকাতার জ্যোতির্ময়ী কুণ্ডু ও তাসনিয়া ফারিণ। বিদেশি লোকেশন, অ্যাকশন ও বড় বাজেটের কারণে ছবিটি ঈদের অন্যতম আকর্ষণ হিসেবে বিবেচিত। যদিও শুটিংয়ের শেষ লট এখনও বাকি, নির্মাতা আবু হায়াত মাহমুদ জানিয়েছেন—শুটিং, সম্পাদনা, কালার গ্রেডিং ও মিউজিক একসঙ্গে এগোচ্ছে। তবে সময়মতো কাজ শেষ না হলে মুক্তি অনিশ্চিত হয়ে পড়তে পারে। নিশোর ‘দম’: আন্তর্জাতিক প্রেক্ষাপটে সারভাইভাল গল্প: রেদওয়ান রনির পরিচালনায় আফরান নিশো অভিনীত ‘দম’-এর বড় অংশের শুটিং হয়েছে কাজাখস্তানে। সত্য ঘটনা অবলম্বনে নির্মিত সারভাইভালধর্মী এ ছবিতে আরও আছেন চঞ্চল চৌধুরী ও পূজা চেরী। বর্তমানে পোস্টপ্রোডাকশন চলছে। কনটেন্টনির্ভর গল্পের কারণে শহুরে দর্শকের আগ্রহের কেন্দ্রবিন্দুতে থাকতে পারে ছবিটি। ‘মালিক’ ও ‘রাক্ষস’: সাইফ চন্দনের পরিচালনায় আরিফিন শুভ ও বিদ্যা সিনহা মিম অভিনীত ‘মালিক’ এখন পোস্টপ্রোডাকশনে। মেহেদী হাসানের ‘রাক্ষস’-এ সিয়াম আহমেদ ও সুস্মিতা চট্টোপাধ্যায়কে দেখা যাবে অ্যাকশন–ভিত্তিক গল্পে। দুটি ছবিই তরুণ দর্শকদের লক্ষ্য করে নির্মিত। ‘দুর্বার’, ‘ট্রাইব্যুনাল’, ‘প্রেশার কুকার’: থ্রিলার ‘দুর্বার’-এ প্রথমবার জুটি হচ্ছেন সজল ও অপু বিশ্বাস। চট্টগ্রামের আলোচিত একটি ঘটনার প্রেক্ষাপটে নির্মিত ‘ট্রাইব্যুনাল’ সামাজিক বার্তা–নির্ভর সিনেমা। রায়হান রাফীর ‘প্রেশার কুকার’ নারী–কেন্দ্রিক গল্প নিয়ে নির্মিত, যেখানে অভিনয় করেছেন শবনম বুবলী, নাজিফা তুষি ও মারিয়া শান্ত। নির্মাতার ভাষায়, এই শহর মেয়েদের জন্য এক প্রেশার কুকার। ‘বনলতা এক্সপ্রেস’: তানিম নূর পরিচালিত ‘বনলতা এক্সপ্রেস’ নির্মিত হয়েছে হুমায়ূন আহমেদের ‘কিছুক্ষণ’ উপন্যাস অবলম্বনে। সাবিলা নূর অভিনীত এ ছবির শুটিং শেষ, চলছে পোস্টপ্রোডাকশন। নির্মাতার দাবি, নির্ধারিত সময়েই কাজ শেষ হয়েছে। অনুদান ও অন্যান্য ছবি:পরীমনি অভিনীত সরকারি অনুদানের ছবি ‘ডোডোর গল্প’, রাশিদ পলাশের ‘রঙবাজার’, জাহিদ জুয়েলের ‘পিনিক’ এবং বদিউল আলম খোকনের ‘তছনছ’—সব মিলিয়ে মুক্তির তালিকা দীর্ঘ হচ্ছে। তবে সব ছবিই যে প্রেক্ষাগৃহ পাবে, তা নিশ্চিত নয়। হল–সংকট: সংখ্যার লড়াইয়ে ঝুঁকি: দেশে বর্তমানে মাল্টিপ্লেক্স ও সিঙ্গেল স্ক্রিন মিলিয়ে সক্রিয় প্রেক্ষাগৃহ প্রায় ৬০-৭০টি। ঈদে বন্ধ থাকা কিছু হল চালু হলেও ১২টি সিনেমার জন্য এ সংখ্যা যথেষ্ট নয় বলে মনে করছেন প্রদর্শকরা। তাঁদের মতে, সর্বোচ্চ তিন থেকে চারটি বড় ছবি মুক্তি পেলেই ব্যবসায়িকভাবে লাভজনক হয়।
প্রিয়জনদের সঙ্গে ঈদের আনন্দ ভাগাভাগি করতে যারা ট্রেনযাত্রার পরিকল্পনা করছেন, তাদের জন্য চলে এলো কাঙ্ক্ষিত ঘোষণা। বাংলাদেশ রেলওয়ে কর্তৃপক্ষ আজ মঙ্গলবার (২৪ ফেব্রুয়ারি) ঈদুল ফিতর উপলক্ষে ট্রেনের অগ্রিম টিকিট বিক্রির বিস্তারিত সময়সূচী প্রকাশ করেছে। টিকিট প্রত্যাশীদের জন্য গুরুত্বপূর্ণ কিছু তথ্য: টিকিট বিক্রি শুরু: আগামী ৩ মার্চ থেকে শুরু হচ্ছে ঘরমুখো মানুষের অগ্রিম টিকিট লড়াই। ফিরতি টিকিট: ঈদ শেষে কর্মস্থলে ফেরার টিকিট পাওয়া যাবে ২৩ মার্চ থেকে। পুরোটাই অনলাইন: যাত্রীদের ভোগান্তি কমাতে এবারও শতভাগ টিকিট বিক্রি করা হবে অনলাইন প্ল্যাটফর্মে। অঞ্চলভেদে সময় ভাগ: সার্ভারের ওপর চাপ কমাতে পশ্চিমাঞ্চলের ট্রেনের টিকিট পাওয়া যাবে সকালে এবং পূর্বাঞ্চলের টিকিট বিক্রি শুরু হবে দুপুরে। বিশেষ ব্যবস্থা: ঈদে বাড়তি ভিড় সামাল দিতে রেল বহরে যুক্ত হচ্ছে ৫ জোড়া অর্থাৎ মোট ২০টি স্পেশাল ট্রেন। টিকিট কাটার শেষ মুহূর্তের হুড়োহুড়ি এড়াতে এখনই আপনার রেল সেবা অ্যাকাউন্টটি চেক করে নিন। সবার ঈদযাত্রা হোক নিরাপদ ও আনন্দময়।
খতিব, ইমাম ও মুয়াজ্জিনসহ সকল ধর্মীয় গুরুদের জন্য সুখবর নিয়ে এলো সরকার। দীর্ঘ প্রতীক্ষার অবসান ঘটিয়ে পবিত্র ঈদুল ফিতরের আগেই তাদের সম্মানী এবং বিশেষ উৎসব ভাতা প্রদানের কার্যক্রম শুরু হতে যাচ্ছে। প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা মাহদী আমিন আজ এক সংবাদ সম্মেলনে এই গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্তের কথা জানান। তিনি উল্লেখ করেন যে, নির্বাচনী ইশতেহারে দেওয়া প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নে সরকার বদ্ধপরিকর। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ইতিমধ্যেই সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়গুলোকে এই বিষয়ে প্রয়োজনীয় নির্দেশনা প্রদান করেছেন। মাহদী আমিন বলেন, “জনগণের কাছে দেওয়া প্রতিটি অঙ্গীকার পূরণে প্রধানমন্ত্রী অত্যন্ত আন্তরিক। সেই ধারাবাহিকতায় এবারই প্রথম বারের মতো খতিব, ইমাম ও মুয়াজ্জিনদের রাষ্ট্রীয়ভাবে সম্মানী ও উৎসব ভাতা দেওয়ার প্রক্রিয়া শুরু হচ্ছে।” বৈষম্যহীন কর্মসংস্থান ও জবাবদিহিতা তেজগাঁও কার্যালয়ে প্রধানমন্ত্রীর প্রথম কর্মদিবসের কার্যক্রম সম্পর্কে আলোকপাত করে উপদেষ্টা জানান, আজ মূলত মেধার ভিত্তিতে বৈষম্যহীন কর্মসংস্থান সৃষ্টির বিষয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়েছে। একটি স্বচ্ছ ও জবাবদিহিমূলক প্রশাসন গড়ে তোলাই বর্তমান সরকারের মূল লক্ষ্য। তিনি আরও যোগ করেন, সরকার কেবল প্রতিশ্রুতি দিয়েই ক্ষান্ত নয়, বরং তা দ্রুত বাস্তবায়নের পথে হাঁটছে। ঈদের আগে এই বিশেষ আর্থিক সুবিধা প্রদান সেই বৃহত্তর পরিকল্পনারই একটি অংশ। এর ফলে সারা দেশের ধর্মীয় সেবকদের দীর্ঘদিনের দাবি পূরণ হতে যাচ্ছে, যা সামাজিক ও ধর্মীয় ক্ষেত্রে এক ইতিবাচক প্রভাব ফেলবে বলে আশা করা হচ্ছে।
যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে। এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন। নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি। উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।” বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে। এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে। শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়। উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত। এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।
মধ্যপ্রাচ্যের ক্রমবর্ধমান উত্তেজনার মধ্যেই একটি চাঞ্চল্যকর দাবি ভূ-রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন করে বিতর্কের ঝড় তুলেছে। গত ৪৮ থেকে ৫৬ ঘণ্টার মধ্যে ১৬টি চীনা 'ওয়াই-২০' (Y-20) সামরিক কার্গো বিমান তাদের ট্রান্সপন্ডার বা সিগন্যাল বন্ধ রেখে ইরানের আকাশে প্রবেশ করেছে বলে খবর ছড়িয়েছে। কোনো আনুষ্ঠানিক নিশ্চিতকরণ ছাড়াই এই তথ্যটি প্রতিরক্ষা বিশ্লেষক ও সোশ্যাল মিডিয়া ব্যবহারকারীদের মধ্যে তীব্র উদ্বেগ সৃষ্টি করেছে। দাবি করা হচ্ছে, এই বিমানগুলো বেসামরিক রাডার থেকে আড়াল থাকতে বিশেষ কৌশল অবলম্বন করেছিল। নেটিজেন ও সামরিক বিশ্লেষকদের একটি অংশের ধারণা, চীন হয়তো ইরানকে অত্যাধুনিক ইলেকট্রনিক ওয়ারফেয়ার সিস্টেম বা জ্যামিং প্রযুক্তি সরবরাহ করছে। যদি এটি সত্যি হয়, তবে মার্কিন এফ-৩৫ (F-35) যুদ্ধবিমান বা নৌ-অভিযানের জন্য এটি বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়াতে পারে। অনেকে একে যুক্তরাষ্ট্রের প্রতি বেইজিংয়ের সরাসরি ‘সতর্কবার্তা’ হিসেবেও দেখছেন। তবে এই উত্তেজনার মুদ্রার উল্টো পিঠও রয়েছে। ফ্লাইটরাডার২৪-এর মতো আন্তর্জাতিক ফ্লাইট ট্র্যাকিং প্ল্যাটফর্মে এ ধরনের কোনো অস্বাভাবিক ফ্লাইটের রেকর্ড পাওয়া যায়নি। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ১৬টি ভারী সামরিক কার্গো বিমানের মতো বিশাল বহরকে রাডার বা স্যাটেলাইট নজরদারি থেকে সম্পূর্ণ লুকিয়ে রাখা প্রায় অসম্ভব। বর্তমান ভূ-রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে চীন-ইরান সম্পর্ক গভীর হলেও, সুনির্দিষ্ট প্রমাণের অভাবে বিশ্লেষকরা একে আপাতত ‘সুপরিকল্পিত গুজব’ বা মিসইনফরমেশন হিসেবেই দেখছেন। তেহরান বা বেইজিং—কোনো পক্ষ থেকেই এখন পর্যন্ত এ নিয়ে কোনো আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া মেলেনি।
২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো। প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে। এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে। অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে। স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে। সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে। সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।
যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা প্রত্যাশীদের জন্য কঠোর হচ্ছে নিয়মাবলী। আগামী ৩০ মার্চ থেকে কার্যকর হতে যাচ্ছে নতুন ভিসা রুলস, যেখানে আবেদনকারীদের সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের প্রোফাইল পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে যাচাই বা স্ক্রিনিং করা হবে। মার্কিন প্রশাসনের এই নতুন পদক্ষেপে বাংলাদেশসহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশের ভিসা প্রত্যাশীদের মধ্যে ব্যাপক আলোচনার সৃষ্টি হয়েছে। নতুন এই নিয়ম মূলত অ-অভিবাসী (Non-immigrant) এবং অভিবাসী (Immigrant) উভয় ধরণের ভিসার ক্ষেত্রে প্রযোজ্য হতে পারে। বিশেষ করে যারা ট্যুরিস্ট ভিসা, স্টুডেন্ট ভিসা এবং কাজের সন্ধানে এইচ-১বি (H-1B) ভিসার জন্য আবেদন করবেন, তাদের সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের তথ্য প্রদান বাধ্যতামূলক করা হচ্ছে। আবেদনকারীদের গত পাঁচ বছরের ব্যবহৃত সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমগুলোর ইউজার আইডি বা হ্যান্ডেল নাম ফর্মে উল্লেখ করতে হবে। ফেসবুক, টুইটার (বর্তমানে এক্স), ইনস্টাগ্রাম এবং ইউটিউবের মতো জনপ্রিয় প্ল্যাটফর্মগুলো এই স্ক্রিনিংয়ের আওতায় থাকবে। তবে পাসওয়ার্ড দেওয়ার প্রয়োজন হবে না। মূলত আবেদনকারীর নিরাপত্তা ঝুঁকি এবং পূর্ববর্তী কোনো উসকানিমূলক বা সন্দেহজনক কর্মকাণ্ড আছে কি না, তা যাচাই করতেই এই পদক্ষেপ। মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তর জানিয়েছে, জাতীয় নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং জননিরাপত্তার স্বার্থেই এই স্ক্রিনিং প্রক্রিয়া জোরদার করা হয়েছে। কোনো ব্যক্তি যদি অতীতে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে উগ্রবাদ বা আইনবিরোধী কোনো কাজে লিপ্ত থেকে থাকেন, তবে তার ভিসা আবেদন বাতিল হওয়ার সম্ভাবনা তৈরি হবে। ভিসা বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ৩০ মার্চের পর যারা আবেদন করবেন, তাদের অবশ্যই গত ৫ বছরের ডিজিটাল ফুটপ্রিন্ট সম্পর্কে সতর্ক থাকতে হবে। কোনো ভুল তথ্য দিলে বা তথ্য গোপন করলে তা স্থায়ীভাবে ভিসা প্রত্যাখ্যাত হওয়ার কারণ হতে পারে। এছাড়া ইমেইল অ্যাড্রেস এবং ফোন নম্বর প্রদানের ক্ষেত্রেও অতিরিক্ত সতর্কতা অবলম্বনের পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। এই নতুন নিয়ম চালুর ফলে ভিসা প্রক্রিয়াকরণে কিছুটা অতিরিক্ত সময় লাগতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। তাই প্রয়োজনীয় কাগজপত্র এবং অনলাইন প্রোফাইল গুছিয়ে আবেদন করার পরামর্শ দিচ্ছে সংশ্লিষ্ট দপ্তরগুলো।
এপস্টেইন ফাইল: দাবি, বাইডেনকে ২০১৯ সালে হত্যা করে ক্লোন দ্বারা প্রতিস্থাপন করা হয়েছে জেফরি এপস্টেইনের ফাইল ট্রান্সপারেন্সি অ্যাক্টের সাথে যুক্ত সম্প্রতি প্রকাশিত একটি নথি ত্রাঞ্চে অভিযোগ করা হয়েছে যে, প্রাক্তন মার্কিন প্রেসিডেন্ট জো বাইডেনকে ২০১৯ সালে হত্যা করা হয়েছে এবং তাকে একটি ক্লোন দ্বারা প্রতিস্থাপন করা হয়েছে। এই নথিগুলি, যা আনক্লাসিফায়েড ডিপার্টমেন্ট অব জাস্টিস (DOJ) রেকর্ডের একটি বিশাল ডেটা রিলিজের অংশ, “চার্লস” নামে একজনের ক্ষুব্ধ ইমেইল অন্তর্ভুক্ত করেছে এবং অন্তর্বর্তী ফাইলিং কোড EFTA00173266 থেকে EFTA00173273 পর্যন্ত চিহ্নিত। এই ইমেইলগুলো তৃতীয় পক্ষের যোগাযোগের মধ্যে পাওয়া গেছে, যা জেফরি এপস্টেইনের নেটওয়ার্ক সংক্রান্ত বিস্তৃত ফেডারেল তদন্তের সময় সংগ্রহ করা হয়েছিল। এপস্টেইন সম্পর্কিত অন্যান্য প্রকাশনার মতো এখানে রাজনৈতিক ও ব্যবসায়িক ব্যক্তিদের সঙ্গে সম্পর্কের তথ্য নয়, বরং চরম ও ষড়যন্ত্রমূলক দাবিগুলো রয়েছে। ক্লোন তত্ত্বের উল্লেখ “চার্লস” ইমেইলগুলো এপ্রিল ২০২১-এ একজন এফবিআই এজেন্টকে ফরোয়ার্ড করা হয়েছিল, যাকে লাল করা প্রেরক হিসেবে দেখানো হয়েছে। প্রেরক দাবি করেছিলেন যে এটি একটি প্রযুক্তি সংস্থার এক ক্ষুব্ধ প্রাক্তন কর্মচারী বা সহযোগীর মেসেজ। ইমেইলগুলিতে গালাগালি ভাষা ব্যবহৃত হয়েছে এবং এখানে “কোয়ান্টাম” প্রযুক্তি, গোপন সামরিক ট্রাইব্যুনাল, এবং “বাইডেন আপনার বর্তমান প্রেসিডেন্ট নন” এমন দাবির উল্লেখ রয়েছে। একটি অনুচ্ছেদে বলা হয়েছে যে “বাস্তব” জো বাইডেনকে ২০১৯ সালে নির্বিচারে হত্যা করা হয়েছে এবং তাকে একজন অভিনেতা বা ক্লোন দ্বারা প্রতিস্থাপন করা হয়েছে, যেখানে প্রমাণ হিসেবে “মাস্কের ত্রুটি” দেখানো হয়েছে। তবে এই দাবিগুলোর সঙ্গে কোনো শারীরিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি বা সঙ্গত সাক্ষ্য নেই। “বাইডেন ক্লোন” দাবি অনলাইনে ষড়যন্ত্র তত্ত্বের একটি পরিচিত অংশ। তত্ত্বটি সাধারণত ধরে যে “বাস্তব” জো বাইডেনকে গোপনে জনমঞ্চ থেকে সরিয়ে দেওয়া হয়েছে, প্রায়শই ২০১৯ বা ২০২০ সালে, এবং তাকে চেহারা মিলানো লোক বা ক্লোন দিয়ে প্রতিস্থাপন করা হয়েছে। অনুগামীরা প্রায়শই নিম্নমানের ভিডিও এবং ফটোগ্রাফ বিশ্লেষণ করে, চেহারার পরিবর্তন যেমন আলোর পরিবর্তন, বয়সের প্রভাব বা ক্যামেরার ত্রুটিকে কৃত্রিমভাবে আড়াল করার প্রমাণ হিসেবে দেখান। এ পর্যন্ত কোনো যাচাইযোগ্য প্রমাণ নেই যে প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন কখনো ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন বা প্রতিস্থাপিত হয়েছেন। এই দাবিগুলি সম্পূর্ণভাবে একটি ষড়যন্ত্র তত্ত্ব হিসেবে রয়ে গেছে। সূত্র: Royanews