মুসলমানদের সবচেয়ে বড় ধর্মীয় উৎসব ঈদুল ফিতর ও ঈদুল আজহা—আনন্দ, সম্প্রীতি ও আত্মশুদ্ধির এক অনন্য উপলক্ষ। তবে এই আনন্দঘন দিনে ইসলামের নির্ধারিত কিছু করণীয় ও বর্জনীয় বিষয় রয়েছে, যা মেনে চলা প্রত্যেক মুসলমানের জন্য গুরুত্বপূর্ণ।
ঈদের দিনটি শুরু হয় পবিত্রতা ও ইবাদতের মাধ্যমে। ইসলামি বিধান অনুযায়ী-
ঈদের আনন্দ যেন ইসলামের শিক্ষা থেকে বিচ্যুত না হয়, সে বিষয়েও সতর্ক থাকা জরুরি-
ইসলামি চিন্তাবিদদের মতে, ঈদ শুধু আনন্দের দিন নয়; এটি আত্মশুদ্ধি, সংযম ও মানবিকতার চর্চারও একটি বড় সুযোগ। তাই ঈদের প্রকৃত সৌন্দর্য তখনই ফুটে ওঠে, যখন তা শরিয়তের নির্দেশনা মেনে উদযাপন করা হয়।
মধ্যপ্রাচ্যের ক্রমবর্ধমান উত্তেজনার মধ্যেই একটি চাঞ্চল্যকর দাবি ভূ-রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন করে বিতর্কের ঝড় তুলেছে। গত ৪৮ থেকে ৫৬ ঘণ্টার মধ্যে ১৬টি চীনা 'ওয়াই-২০' (Y-20) সামরিক কার্গো বিমান তাদের ট্রান্সপন্ডার বা সিগন্যাল বন্ধ রেখে ইরানের আকাশে প্রবেশ করেছে বলে খবর ছড়িয়েছে। কোনো আনুষ্ঠানিক নিশ্চিতকরণ ছাড়াই এই তথ্যটি প্রতিরক্ষা বিশ্লেষক ও সোশ্যাল মিডিয়া ব্যবহারকারীদের মধ্যে তীব্র উদ্বেগ সৃষ্টি করেছে। দাবি করা হচ্ছে, এই বিমানগুলো বেসামরিক রাডার থেকে আড়াল থাকতে বিশেষ কৌশল অবলম্বন করেছিল। নেটিজেন ও সামরিক বিশ্লেষকদের একটি অংশের ধারণা, চীন হয়তো ইরানকে অত্যাধুনিক ইলেকট্রনিক ওয়ারফেয়ার সিস্টেম বা জ্যামিং প্রযুক্তি সরবরাহ করছে। যদি এটি সত্যি হয়, তবে মার্কিন এফ-৩৫ (F-35) যুদ্ধবিমান বা নৌ-অভিযানের জন্য এটি বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়াতে পারে। অনেকে একে যুক্তরাষ্ট্রের প্রতি বেইজিংয়ের সরাসরি ‘সতর্কবার্তা’ হিসেবেও দেখছেন। তবে এই উত্তেজনার মুদ্রার উল্টো পিঠও রয়েছে। ফ্লাইটরাডার২৪-এর মতো আন্তর্জাতিক ফ্লাইট ট্র্যাকিং প্ল্যাটফর্মে এ ধরনের কোনো অস্বাভাবিক ফ্লাইটের রেকর্ড পাওয়া যায়নি। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ১৬টি ভারী সামরিক কার্গো বিমানের মতো বিশাল বহরকে রাডার বা স্যাটেলাইট নজরদারি থেকে সম্পূর্ণ লুকিয়ে রাখা প্রায় অসম্ভব। বর্তমান ভূ-রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে চীন-ইরান সম্পর্ক গভীর হলেও, সুনির্দিষ্ট প্রমাণের অভাবে বিশ্লেষকরা একে আপাতত ‘সুপরিকল্পিত গুজব’ বা মিসইনফরমেশন হিসেবেই দেখছেন। তেহরান বা বেইজিং—কোনো পক্ষ থেকেই এখন পর্যন্ত এ নিয়ে কোনো আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া মেলেনি।
এপস্টেইন ফাইল: দাবি, বাইডেনকে ২০১৯ সালে হত্যা করে ক্লোন দ্বারা প্রতিস্থাপন করা হয়েছে জেফরি এপস্টেইনের ফাইল ট্রান্সপারেন্সি অ্যাক্টের সাথে যুক্ত সম্প্রতি প্রকাশিত একটি নথি ত্রাঞ্চে অভিযোগ করা হয়েছে যে, প্রাক্তন মার্কিন প্রেসিডেন্ট জো বাইডেনকে ২০১৯ সালে হত্যা করা হয়েছে এবং তাকে একটি ক্লোন দ্বারা প্রতিস্থাপন করা হয়েছে। এই নথিগুলি, যা আনক্লাসিফায়েড ডিপার্টমেন্ট অব জাস্টিস (DOJ) রেকর্ডের একটি বিশাল ডেটা রিলিজের অংশ, “চার্লস” নামে একজনের ক্ষুব্ধ ইমেইল অন্তর্ভুক্ত করেছে এবং অন্তর্বর্তী ফাইলিং কোড EFTA00173266 থেকে EFTA00173273 পর্যন্ত চিহ্নিত। এই ইমেইলগুলো তৃতীয় পক্ষের যোগাযোগের মধ্যে পাওয়া গেছে, যা জেফরি এপস্টেইনের নেটওয়ার্ক সংক্রান্ত বিস্তৃত ফেডারেল তদন্তের সময় সংগ্রহ করা হয়েছিল। এপস্টেইন সম্পর্কিত অন্যান্য প্রকাশনার মতো এখানে রাজনৈতিক ও ব্যবসায়িক ব্যক্তিদের সঙ্গে সম্পর্কের তথ্য নয়, বরং চরম ও ষড়যন্ত্রমূলক দাবিগুলো রয়েছে। ক্লোন তত্ত্বের উল্লেখ “চার্লস” ইমেইলগুলো এপ্রিল ২০২১-এ একজন এফবিআই এজেন্টকে ফরোয়ার্ড করা হয়েছিল, যাকে লাল করা প্রেরক হিসেবে দেখানো হয়েছে। প্রেরক দাবি করেছিলেন যে এটি একটি প্রযুক্তি সংস্থার এক ক্ষুব্ধ প্রাক্তন কর্মচারী বা সহযোগীর মেসেজ। ইমেইলগুলিতে গালাগালি ভাষা ব্যবহৃত হয়েছে এবং এখানে “কোয়ান্টাম” প্রযুক্তি, গোপন সামরিক ট্রাইব্যুনাল, এবং “বাইডেন আপনার বর্তমান প্রেসিডেন্ট নন” এমন দাবির উল্লেখ রয়েছে। একটি অনুচ্ছেদে বলা হয়েছে যে “বাস্তব” জো বাইডেনকে ২০১৯ সালে নির্বিচারে হত্যা করা হয়েছে এবং তাকে একজন অভিনেতা বা ক্লোন দ্বারা প্রতিস্থাপন করা হয়েছে, যেখানে প্রমাণ হিসেবে “মাস্কের ত্রুটি” দেখানো হয়েছে। তবে এই দাবিগুলোর সঙ্গে কোনো শারীরিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি বা সঙ্গত সাক্ষ্য নেই। “বাইডেন ক্লোন” দাবি অনলাইনে ষড়যন্ত্র তত্ত্বের একটি পরিচিত অংশ। তত্ত্বটি সাধারণত ধরে যে “বাস্তব” জো বাইডেনকে গোপনে জনমঞ্চ থেকে সরিয়ে দেওয়া হয়েছে, প্রায়শই ২০১৯ বা ২০২০ সালে, এবং তাকে চেহারা মিলানো লোক বা ক্লোন দিয়ে প্রতিস্থাপন করা হয়েছে। অনুগামীরা প্রায়শই নিম্নমানের ভিডিও এবং ফটোগ্রাফ বিশ্লেষণ করে, চেহারার পরিবর্তন যেমন আলোর পরিবর্তন, বয়সের প্রভাব বা ক্যামেরার ত্রুটিকে কৃত্রিমভাবে আড়াল করার প্রমাণ হিসেবে দেখান। এ পর্যন্ত কোনো যাচাইযোগ্য প্রমাণ নেই যে প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন কখনো ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন বা প্রতিস্থাপিত হয়েছেন। এই দাবিগুলি সম্পূর্ণভাবে একটি ষড়যন্ত্র তত্ত্ব হিসেবে রয়ে গেছে। সূত্র: Royanews
দাম বাড়ানোর ১২ ঘণ্টারও কম সময়ের ব্যবধানে দেশের বাজারে আবারও স্বর্ণের দাম কমিয়েছে বাংলাদেশ জুয়েলার্স অ্যাসোসিয়েশন (বাজুস)। ভরিতে এক লাফে ৩ হাজার ২৬৬ টাকা কমিয়ে ২২ ক্যারেটের প্রতি ভরি স্বর্ণের নতুন দাম নির্ধারণ করা হয়েছে ২ লাখ ৫৮ হাজার ৮২৪ টাকা। শনিবার (৭ ফেব্রুয়ারি) রাতে বাজুসের এক বিজ্ঞপ্তিতে দাম কমানোর বিষয়টি জানানো হয়েছে। নতুন দাম রোববার (৮ ফেব্রুয়ারি) থেকেই কার্যকর হবে। এর আগে একই দিন সকালে দেশের বাজারে স্বর্ণের দাম বাড়ানো হয়। ওই সময় ভরিপ্রতি এক লাফে ৭ হাজার ৬৪০ টাকা বাড়িয়ে ২২ ক্যারেটের এক ভরি স্বর্ণের দাম নির্ধারণ করা হয়েছিল ২ লাখ ৬২ হাজার ৯০ টাকা। নতুন দাম অনুযায়ী, বর্তমানে দেশের বাজারে ২২ ক্যারেটের প্রতি ভরি (১১.৬৬৪ গ্রাম) স্বর্ণের দাম পড়বে ২ লাখ ৫৮ হাজার ৮২৪ টাকা। পাশাপাশি ২১ ক্যারেটের প্রতি ভরি ২ লাখ ৪৭ হাজার ৪৪ টাকা, ১৮ ক্যারেটের প্রতি ভরি ২ লাখ ১১ হাজার ৭৬০ টাকা এবং সনাতন পদ্ধতির প্রতি ভরি স্বর্ণের দাম পড়বে ১ লাখ ৭৩ হাজার ৩২৭ টাকা। এ নিয়ে চলতি বছর দেশের বাজারে মোট ২৭ বার স্বর্ণের দাম সমন্বয় করলো বাজুস। এরমধ্যে ১৭ বারই দাম বাড়ানো হয়েছে। আর দাম কমেছে মাত্র ১০ বার। অন্যদিকে গতবছর দেশের বাজারে মোট ৯৩ বার স্বর্ণের দাম সমন্বয় করা হয়েছিল। যেখানে ৬৪ বারই দাম বাড়ানো হয়েছিল। এছাড়া ২০২৫ সালে ২৯ বার কমানো হয়েছিল স্বর্ণের দাম।
যুক্তরাষ্ট্রে অভিবাসন নীতিতে কঠোরতা আরও স্পষ্ট হচ্ছে। সর্বশেষ মেইন (Maine) অঙ্গরাজ্যে ফেডারেল ইমিগ্রেশন অভিযান শুরুর ঘোষণা দিয়েছে Department of Homeland Security (ডিএইচএস)। ডিএইচএসের এক মুখপাত্রের বরাতে জানা গেছে, “Operation Catch of the Day” নামে এই বিশেষ অভিযানের মাধ্যমে রাজ্যটিতে অবস্থানরত অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে জড়িত অবৈধ অভিবাসীদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তার করা হবে। অভিযানটি পরিচালনায় ফেডারেল ইমিগ্রেশন কর্মকর্তাদের পাশাপাশি স্থানীয় আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সমন্বয় রয়েছে। কর্তৃপক্ষ বলছে, এই উদ্যোগের প্রধান লক্ষ্য জননিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং সহিংস বা গুরুতর অপরাধে যুক্ত ব্যক্তিদের আইনের আওতায় আনা। ডিএইচএস আরও জানায়, আইন মেনে বসবাসকারী বা অপরাধে জড়িত নন—এমন অভিবাসীদের লক্ষ্যবস্তু করা হবে না। তবে মানবাধিকার ও অভিবাসী অধিকার সংগঠনগুলোর আশঙ্কা, এ ধরনের অভিযানে ভয় ও অনিশ্চয়তা তৈরি হতে পারে এবং নিরপরাধ মানুষও হয়রানির শিকার হতে পারেন। এ নিয়ে তারা স্বচ্ছতা ও যথাযথ আইনি প্রক্রিয়া অনুসরণের আহ্বান জানিয়েছে। বিশ্লেষকদের মতে, মেইনে এই অভিযান শুরুর মাধ্যমে ফেডারেল সরকারের অভিবাসন আইন প্রয়োগ আরও বিস্তৃত পরিসরে জোরদার হলো। এর প্রভাব স্থানীয় অভিবাসী কমিউনিটির পাশাপাশি রাজ্যের রাজনৈতিক ও সামাজিক পরিমণ্ডলেও পড়তে পারে। সূত্র: ABC News
যুক্তরাষ্ট্রের শ্রমবাজারে তীব্র কর্মী সংকট মোকাবিলায় ২০২৬ অর্থবছরে বড় ধরনের পদক্ষেপ নিয়েছে ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রশাসন। নিয়মিত কোটার বাইরে অতিরিক্ত প্রায় ৬৪ হাজার ৭১৬টি এইচ-২বি মৌসুমি অতিথি শ্রমিক ভিসা দেওয়ার চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। রয়টার্সের বরাতে জানা গেছে, স্থানীয় সময় শুক্রবার (৩০ জানুয়ারি) প্রকাশিত ফেডারেল রেজিস্টার নোটিশে বলা হয়, দেশীয় শ্রমিকের ঘাটতির কারণে যেসব মার্কিন নিয়োগকর্তা বড় ধরনের আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়ছেন, মূলত তাদের স্বার্থ বিবেচনায় নিয়েই এই অতিরিক্ত ভিসার অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। ফলে বছরে নির্ধারিত ৬৬ হাজার এইচ-২বি ভিসার সংখ্যা প্রায় দ্বিগুণে পৌঁছাতে যাচ্ছে। নতুন এই সিদ্ধান্তে নির্মাণ শিল্প, হোটেল ও রেস্তোরাঁ, ল্যান্ডস্কেপিং এবং সি-ফুড প্রক্রিয়াজাতকরণ খাতের মতো শ্রমনির্ভর মৌসুমি শিল্পগুলো সবচেয়ে বেশি উপকৃত হবে বলে মনে করা হচ্ছে। এসব খাতে দীর্ঘদিন ধরেই দক্ষ স্থানীয় কর্মীর অভাবে বিদেশি শ্রমিক আনার দাবি জানিয়ে আসছিলেন নিয়োগকর্তারা। ক্ষমতায় আসার পর ট্রাম্প প্রশাসন অবৈধ অভিবাসনের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান নিলেও, বৈধ পথে কর্মসংস্থানের সুযোগ বাড়িয়ে অর্থনীতিকে সচল রাখতে এই নমনীয় সিদ্ধান্ত নিয়েছে। এর আগেও সাবেক প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন প্রশাসনের সময় শ্রমঘাটতি মোকাবিলায় এইচ-২বি ভিসার সংখ্যা বাড়ানো হয়েছিল। তবে সরকারের এই সিদ্ধান্তের বিরোধিতাও রয়েছে। অভিবাসন কমানোর পক্ষে থাকা বিভিন্ন গোষ্ঠীর আশঙ্কা, বিপুল সংখ্যক বিদেশি শ্রমিক প্রবেশ করলে মার্কিন নাগরিকদের মজুরি কমে যেতে পারে। এ বিষয়ে পেন্টাগন ও শ্রম মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, দেশের উন্নয়ন প্রকল্প এবং পর্যটন খাত সচল রাখতে এই মুহূর্তে বিদেশি শ্রমিকের বিকল্প নেই। ফেডারেল রেজিস্টারের তথ্যানুযায়ী, অতিরিক্ত এইচ-২বি ভিসা কার্যকরের বিশেষ বিধিমালা আগামী মঙ্গলবার আনুষ্ঠানিকভাবে প্রকাশ করা হবে এবং এরপরই আবেদন প্রক্রিয়া শুরু হবে। সূত্র: দ্য ফিন্যান্সিয়াল এক্সপ্রেস
মুসলমানদের সবচেয়ে বড় ধর্মীয় উৎসব ঈদুল ফিতর ও ঈদুল আজহা—আনন্দ, সম্প্রীতি ও আত্মশুদ্ধির এক অনন্য উপলক্ষ। তবে এই আনন্দঘন দিনে ইসলামের নির্ধারিত কিছু করণীয় ও বর্জনীয় বিষয় রয়েছে, যা মেনে চলা প্রত্যেক মুসলমানের জন্য গুরুত্বপূর্ণ। ঈদের দিনে করণীয় ঈদের দিনটি শুরু হয় পবিত্রতা ও ইবাদতের মাধ্যমে। ইসলামি বিধান অনুযায়ী- গোসল ও পরিচ্ছন্নতা: ঈদের সকালে গোসল করা সুন্নাত। সাহাবি আবদুল্লাহ ইবনে উমর (রা.) ঈদগাহে যাওয়ার আগে গোসল করতেন। তাকবির পাঠ: ঈদের দিন বেশি বেশি তাকবির পড়া সুন্নাত। এটি আল্লাহর মহিমা ঘোষণা করার একটি গুরুত্বপূর্ণ আমল। উত্তম পোশাক পরিধান: সামর্থ্য অনুযায়ী নতুন বা পরিষ্কার ও সুন্দর পোশাক পরা উচিত। এটি আল্লাহর নেয়ামতের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশের অংশ। তাকওয়া অর্জন: বাহ্যিক সৌন্দর্যের পাশাপাশি আত্মিক পবিত্রতা বজায় রাখা সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ। ঈদুল ফিতরের আগে খাওয়া: ঈদের নামাজে যাওয়ার আগে বিজোড় সংখ্যক খেজুর খাওয়া সুন্নাত। ফিতরা আদায়: ঈদের নামাজের আগে ফিতরা প্রদান করা জরুরি, যাতে অসহায় মানুষেরাও ঈদের আনন্দে শামিল হতে পারে। ঈদগাহে যাওয়া: সম্ভব হলে হেঁটে যাওয়া এবং ভিন্ন পথে ফিরে আসা সুন্নাত। আত্মীয়-স্বজন ও প্রতিবেশীর খোঁজ নেওয়া: ঈদের আনন্দ ভাগাভাগি করা ইসলামের গুরুত্বপূর্ণ শিক্ষা। শুভেচ্ছা বিনিময়: ‘তাকাব্বালাল্লাহু মিন্না ওয়া মিনকা’ বলে পরস্পর শুভেচ্ছা জানানো উত্তম আমল। ঈদের দিনে যা করবেন না ঈদের আনন্দ যেন ইসলামের শিক্ষা থেকে বিচ্যুত না হয়, সে বিষয়েও সতর্ক থাকা জরুরি- ঈদের দিনে রোজা রাখা: সম্পূর্ণ হারাম। মুহাম্মদ (সা.) এই দিনে রোজা রাখতে নিষেধ করেছেন। অপ্রয়োজনীয় নফল নামাজ: ঈদের নামাজের আগে বা পরে ঈদগাহে কোনো নফল নামাজ আদায় নেই। ইবাদতে অবহেলা: ব্যস্ততার কারণে ঈদের নামাজ অবহেলা করা উচিত নয়। বিদআত ও কুসংস্কার: ধর্মে নেই এমন কাজকে ইবাদত মনে করা থেকে বিরত থাকতে হবে। অপচয় ও অনৈতিক কাজ: ঈদের আনন্দ যেন অপচয়, জুয়া বা ইসলামবিরোধী কর্মকাণ্ডে পরিণত না হয়। ইসলামি চিন্তাবিদদের মতে, ঈদ শুধু আনন্দের দিন নয়; এটি আত্মশুদ্ধি, সংযম ও মানবিকতার চর্চারও একটি বড় সুযোগ। তাই ঈদের প্রকৃত সৌন্দর্য তখনই ফুটে ওঠে, যখন তা শরিয়তের নির্দেশনা মেনে উদযাপন করা হয়।
মালয়েশিয়ায় অনুষ্ঠিত আন্তর্জাতিক কোরআন প্রতিযোগিতায় প্রথম স্থান অধিকার করেছেন বাংলাদেশি হাফেজ ইব্রাহীম শেখ। বাংলাদেশি ইয়ুথ কমিউনিটির উদ্যোগে আয়োজিত এই প্রতিযোগিতায় মোট ২৮টি দেশের প্রতিযোগী অংশ নিয়েছিল, যার মধ্যে ছিলেন বাংলাদেশ, ভারত ও পাকিস্তানসহ অন্যান্য দেশের হাফেজরা। প্রতিযোগিতায় দ্বিতীয় স্থান অর্জন করেন মালয়েশিয়ার হাফেজ নূরুল আবছার এবং তৃতীয় স্থান পেয়েছেন থাইল্যান্ডের হাফেজ সায়েদুর রহমান। হাফেজ ইব্রাহীম বাংলাদেশের আন্তর্জাতিক ক্বিরাত সংস্থা পরিচালিত মাদরাসা উম্মুল কুরার ছাত্র। সংস্থার মহাসচিব শায়েখ সাদ সাইফুল্লাহ মাদানী এই মাদরাসার পরিচালনায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন। পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয় কুয়ালালামপুরে, যেখানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন মালয়েশিয়ার দাতো ডা. হাসনিজাল হাসান। ইয়ুথ কমিউনিটির সভাপতি মোহাম্মদ রাজু মিয়ার সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ হাইকমিশনের লেবার মিনিস্টার সিদ্দিকুর রহমান। এছাড়া সম্মাননা প্রদান করা হয় যমুনা টেলিভিশনের মালয়েশিয়া প্রতিনিধি মো. মনিরুজ্জামানকেও।
যেসব মুসলমান ভবিষ্যতে বাড়ি নির্মাণের উদ্দেশ্যে কম বা বেশি দামে জমি কিনে রাখেন, কিন্তু এখনও সেখানে কোনো নির্মাণ শুরু হয়নি, সেই জমির ওপর জাকাত দিতে হবে না। কারণ ইসলামি বিধান অনুযায়ী ব্যবসার উদ্দেশ্য ছাড়া অন্য কোনো কারণে ক্রয় করা সম্পদের ওপর জাকাত ফরজ হয় না। হজরত আবদুল্লাহ ইবনে ওমর (রা.) থেকে বর্ণিত আছে, “স্বর্ণ, রৌপ্য ও নগদ অর্থ ছাড়া অন্য কোনো বস্তুর ওপর জাকাত আসে না, যদি তা ব্যবসার জন্য না হয়। আর ব্যবসার জন্য হলে তার ওপর জাকাত আসবে।” (মুসান্নাফে ইবনে আবী শাইবা: ১০৫৬০) জাকাত ইসলামের পাঁচটি স্তম্ভের অন্যতম এবং এটি প্রাপ্তবয়স্ক, স্বাধীন ও সম্পদশালী মুসলমানদের জন্য বাধ্যতামূলক। এক হিজরি বছর পর্যন্ত নেসাব পরিমাণ সম্পদ থাকলে ২.৫ শতাংশ বা ১/৪০ অংশ জাকাত হিসেবে বিতরণ করতে হবে। পবিত্র কুরআনে সালাতের সঙ্গে জাকাতের গুরুত্ব উল্লেখ আছে: “তোমরা সালাত কায়েম কর, জাকাত দাও এবং নিজেদের জন্য যে কল্যাণ অগ্রিম পাঠাবে, তা আল্লাহর কাছেই পাবে। নিশ্চয়ই আল্লাহ যা করছ তা দেখছেন।” (সুরা বাকারা: ১১০) নগদ অর্থ, স্বর্ণ-রৌপ্য বা ব্যবসার মাল যখন নেসাবের পর্যায়ে পৌঁছায়, তখন জাকাতের হিসাবের বছর গণনা শুরু হয়। এক বছর পূর্ণ হলে বর্ধনশীল সম্পদের ২.৫ শতাংশ জাকাত হিসেবে পরিশোধ করতে হবে। হিজরি সন অনুযায়ী বছরে একবার জাকাত হিসাব করা বাধ্যতামূলক হলেও পরিশোধ ধাপে ধাপে করা যেতে পারে।