কুমিল্লা

প্রবাসী পরিবারে ডাকাতি: আসামি ধরাতে সংসদ সদস্যের ৫০ হাজার টাকার পুরস্কার ঘোষণা
প্রবাসী পরিবারে ডাকাতি: আসামি ধরাতে সংসদ সদস্যের ৫০ হাজার টাকার পুরস্কার ঘোষণা

কুমিল্লা-৯ (লাকসাম-মনোহরগঞ্জ) আসনের সংসদ সদস্য আবুল কালাম প্রবাসী নাসির উদ্দিনের পরিবারকে ডাকাতির ঘটনায় মূল আসামিদের ধরিয়ে দিতে ৫০ হাজার টাকা পুরস্কারের ঘোষণা দিয়েছেন। তিনি বলেছেন, ডাকাতদের ধরা পড়ার সময় আহত হলে তাদের চিকিৎসা ব্যয়ও তিনি বহন করবেন।   শুক্রবার (১৩ মার্চ) রাতে মনোহরগঞ্জ উপজেলার ভাউপুর গ্রামে নাসির উদ্দিনের বাড়ি পরিদর্শনকালে এই ঘোষণা দেন সংসদ সদস্য। এসময় উপস্থিত ছিলেন দলের স্থানীয় নেতাকর্মীরা।   স্থানীয় সূত্র ও মামলার তথ্য অনুযায়ী, ৮ মার্চ রাত ১০টার দিকে নাসির উদ্দিন তার শ্বশুরবাড়ি কিসমত গ্রামে যাওয়ার জন্য অটোরিকশায় চলছিলেন। ভাউপুর গ্রামের আলী মিয়ার বাড়ির সামনে পৌঁছালে মোটরসাইকেলে আসা সৈয়দ আহমেদের ছেলে সাদ্দাম হোসেন ও রুহুল আমিনের ছেলে ইলিয়াস তার অটোরিকশা আটকিয়ে নাসিরকে গলায় ছুরি ধরে নামিয়ে নেন। এরপর তাঁকে ভাউপুর দক্ষিণপাড়া নুরানি মাদ্রাসার ছাদে নিয়ে গিয়ে মারধর এবং টাকা-পয়সা আছে কিনা জানতে চেষ্টা করা হয়।   অত্যাচারে হতাশ হয়ে নাসির জানান, টাকা তার শ্বশুরবাড়িতে আছে। রাত পৌনে ১১টার দিকে সাদ্দাম ও ইলিয়াস নাসিরকে জিম্মি করে শ্বশুর হাজি হাশেমের বাড়িতে নিয়ে যান। পরে একই গ্রামের আরও তিনজন—শাহ আলম (শামসুল হকের ছেলে), মো. রাসেল (রোয়াব মিয়ার ছেলে) ও কামাল হোসেন (মৃত ছাদেকের ছেলে)—সাথে যোগ দিয়ে পুরো পরিবারকে অস্ত্রের মুখে জিম্মি করেন। ডাকাতির সময় নাসিরের এক বছর বয়সী ছেলের গলায় ছুরি ধরে হুমকি দেওয়া হয় এবং ৫ লাখ ৭০ হাজার টাকা ও স্ত্রী ব্যবহৃত প্রায় চার ভরি স্বর্ণালঙ্কার লুট করা হয়।   পরবর্তী দিন গ্রামবাসী একত্র হয়ে সন্ত্রাসীদের বিচারের দাবি জানালে সংসদ সদস্য আবুল কালাম মনোহরগঞ্জ থানার ওসিকে তৎক্ষণিক ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দেন।   ৯ মার্চ নাসির উদ্দিন থানায় ৫ জনকে আসামি করে মামলা দায়ের করেন। পুলিশ অভিযান চালিয়ে সাদ্দাম হোসেন ও শাহ আলম (সালাউদ্দিন)কে গ্রেফতার করে। উদ্ধার করা হয় চার ভরি স্বর্ণ ও এক লাখ ৫৫ হাজার টাকা। মনোহরগঞ্জ থানার ওসি শাহিনুর ইসলাম জানিয়েছেন, বাকিদের গ্রেফতারের চেষ্টা চলছে।

ডেস্ক রিপোর্ট মার্চ ১৪, ২০২৬ 0
ফাইল ছবি।
স্বতন্ত্র প্রার্থীর পক্ষে প্রচারণার অভিযোগে তিতাসে বিএনপির তিন নেতা বহিষ্কার

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে দলীয় শৃঙ্খলাভঙ্গ করে স্বতন্ত্র প্রার্থী আব্দুল মতিন খানের পক্ষে প্রচার-প্রচারণায় অংশ নেওয়ার অভিযোগে কুমিল্লার তিতাস উপজেলার সদর কড়িকান্দি ইউনিয়ন বিএনপির তিন নেতাকে বহিষ্কার করা হয়েছে।   বহিষ্কৃত নেতারা হলেন, সদর কড়িকান্দি ইউনিয়ন বিএনপির ২নং ওয়ার্ডের সাধারণ সম্পাদক মিজানুর রহমান ভূঁইয়া, ৫নং ওয়ার্ডের সাধারণ সম্পাদক সুরুজ মিয়া এবং ৫নং ওয়ার্ড সদস্য জুয়েল শিকদার।   এ বিষয়ে তিতাস উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক মেহেদি হাসান সেলিম ভূঁইয়া বলেন, দলীয় সিদ্ধান্তের বাইরে গিয়ে তারা দলের ক্ষতি করেছেন। তিনি জানান, তারা বিএনপি প্রার্থী অধ্যক্ষ সেলিম ভূঁইয়ার বিরুদ্ধে কাজ করেছেন। এ কারণেই তাদের বিরুদ্ধে এই সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।

ডেস্ক রিপোর্ট মার্চ ১১, ২০২৬ 0
খেজুর | ছবি: সংগৃহীত
ঢাকা থেকে কুমিল্লা পৌঁছাতেই উধাও ২০ কার্টন খেজুর

সৌদি আরবের পক্ষ থেকে উপহার হিসেবে পাওয়া ১২ হাজার ৫০০ কার্টন খেজুর দেশের বিভিন্ন জেলায় বরাদ্দ দিয়েছে সরকার। এর মধ্যে কুমিল্লা জেলার জন্য ৫২০ কার্টন খেজুর বরাদ্দ দেয় দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়। তবে জেলার ১৭টি উপজেলায় মোট ৫০০ কার্টন খেজুর বণ্টন করা হয়েছে। ফলে বাকি ২০ কার্টনের কোনো হিসেব পাওয়া যাচ্ছে না।   দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা অধিদপ্তরের ওয়েবসাইট সূত্রে জানা যায়, সৌদি যুবরাজের পক্ষ থেকে বাংলাদেশে ১২ হাজার ৫০০ কার্টন খেজুর উপহার আসে। গত ১ মার্চ এসব খেজুর জেলাভিত্তিক বণ্টনের জন্য সংশ্লিষ্ট জেলা প্রশাসকদের কাছে পাঠায় দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা অধিদপ্তর। ওই তালিকা অনুযায়ী কুমিল্লা জেলায় ৫২০ কার্টন খেজুর পাঠানো হয়েছে বলে ওয়েবসাইটে উল্লেখ রয়েছে। তবে জেলার ১৭টি উপজেলায় মোট ৫০০ কার্টন খেজুর বিতরণ করা হয়েছে। বাকি ২০ কার্টনের বিষয়ে কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি। যদিও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ বিষয়টিকে সংখ্যাগত ভুল বলে দাবি করেছে।   জেলা ত্রাণ ও পুনর্বাসন কর্মকর্তা মো. আবেদ আলী বলেন, তাদের কাছে ৫০০ কার্টন খেজুরই এসেছিল এবং সেগুলোই বিতরণ করা হয়েছে। পরে অধিদপ্তর বিষয়টি সংশোধন করে ৫০০ কার্টন দেখিয়েছে বলেও জানান তিনি।   তালিকা সংশোধন করা হয়েছে কি না জানতে চাইলে তিনি বলেন, তালিকা নয়, বরাদ্দই ৫০০ কার্টন ছিল এবং সেটিই সংশোধন করা হয়েছে।   তবে প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা অধিদপ্তরের ওয়েবসাইটে কুমিল্লা জেলায় ৫২০ কার্টন খেজুর বরাদ্দের তথ্যই দেখা যাচ্ছে।   এ বিষয়ে কুমিল্লার জেলা প্রশাসক মু. রেজা হাসান এবং অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) সাইফুল ইসলামকে ফোন করা হলেও তারা ফোন রিসিভ না করায় তাদের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।   প্রসঙ্গত, গত মঙ্গলবার (১০ মার্চ) রাতে ফেসবুকে লাইভে এসে নিজ এলাকার বিভিন্ন কর্মকাণ্ডের হিসাব তুলে ধরেন কুমিল্লা-৪ (দেবিদ্বার) আসনের সংসদ সদস্য হাসনাত আবদুল্লাহ। ওই লাইভে দেবিদ্বারে ৩৯ কার্টন খেজুর পাওয়ার বিষয়টি তিনি উল্লেখ করেন। তার এই তথ্য প্রকাশের পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বিষয়টি নিয়ে ব্যাপক আলোচনা শুরু হয়।

ডেস্ক রিপোর্ট মার্চ ১১, ২০২৬ 0
হাজী আমিন উর রশীদ ইয়াছিন। ছবি: সংগৃহীত
দেশে জ্বালানি তেলের সংকট নেই: মন্ত্রী

কৃষি, খাদ্য, মৎস্য ও প্রাণীসম্পদ মন্ত্রী হাজী আমিন উর রশীদ ইয়াছিন বলেছেন, মধ্যপ্রাচ্যে চলমান যুদ্ধ পরিস্থিতির কারণে আন্তর্জাতিক বাজারে জ্বালানি তেলের সরবরাহে কিছুটা চাপ তৈরি হলেও বাংলাদেশে এখনো কোনো সংকট দেখা দেয়নি।   শনিবার (৭ মার্চ) কুমিল্লা স্টেডিয়াম জিমনেসিয়ামে বাংলাদেশ দোকান মালিক সমিতি কুমিল্লা জেলা শাখার পরিচিতি সভা, ইফতার ও দোয়ার অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন।   মন্ত্রী জানান, দেশে আগামী এক মাসের চাহিদা পূরণ করার মতো জ্বালানি তেলের মজুত রয়েছে। পাশাপাশি পরবর্তী চালানবাহী জাহাজ ইতোমধ্যে বাংলাদেশের উদ্দেশে রওনা দিয়েছে। এ কারণে জ্বালানি তেলের সরবরাহ নিয়ে উদ্বিগ্ন হওয়ার কোনো কারণ নেই বলে তিনি উল্লেখ করেন।   ঈদ উপলক্ষে মার্কেটগুলোতে অতিরিক্ত আলোকসজ্জা না করার জন্য ব্যবসায়ীদের প্রতি আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, বিশ্ব এখন কঠিন সময় পার করছে। তাই বিদ্যুতের অপচয় কমিয়ে সবাইকে হিসাব করে চলতে হবে। বর্তমান পরিস্থিতিতে বিদ্যুতের সঠিক ব্যবহার নিশ্চিত করা এবং অপচয় রোধে সচেতন হওয়া জরুরি।   মন্ত্রী আরও বলেন, প্রধানমন্ত্রী তাকে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব দিয়েছেন। দেশের মানুষের জীবন-জীবিকার সঙ্গে সরাসরি সম্পর্কিত কয়েকটি মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব তিনি পেয়েছেন। এই দায়িত্ব সঠিকভাবে পালন করতে তিনি সবার দোয়া ও সহযোগিতা কামনা করেন, যাতে দায়িত্ব পালনের মাধ্যমে কুমিল্লার মানুষের মুখ উজ্জ্বল করতে পারেন।   কুমিল্লা দোকান মালিক সমিতির সভাপতি সৈয়দ জাহাঙ্গীর আলমের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বিএনপির বিভাগীয় সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক (কুমিল্লা বিভাগ) মো. মোস্তাক মিয়া, বাংলাদেশ দোকান মালিক সমিতির সভাপতি হেলাল উদ্দিন, সংগঠনের মহাসচিব মো. জহিরুল হক ভূঁইয়া এবং কুমিল্লা মহানগর বিএনপির সাধারণ সম্পাদক ইউসুফ মোল্লা টিপু।   অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য দেন কুমিল্লা দোকান মালিক সমিতির সাধারণ সম্পাদক জামাল খন্দকার। এছাড়া সংগঠনের সাংগঠনিক সম্পাদক মোহাম্মদ নজরুল ইসলাম ও সিনিয়র যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মো. মঞ্জুরুল আলম ভূইয়া মঞ্জুরের পরিচালনায় কুমিল্লার বিভিন্ন ব্যবসায়ী সংগঠনের নেতারা বক্তব্য দেন। আলোচনা শেষে দোকান মালিক সমিতির কেন্দ্রীয় সভাপতি হেলাল উদ্দিন কুমিল্লা জেলার নবগঠিত কমিটির নেতাদের পরিচয় করিয়ে দেন।

ডেস্ক রিপোর্ট মার্চ ৭, ২০২৬ 0
কুমিল্লা-৪ (দেবিদ্বার) আসনের নবনির্বাচিত সংসদ সদস্য ও এনসিপির অন্যতম শীর্ষ সংগঠক হাসনাত আবদুল্লাহ। ছবি: সংগৃহীত
আকস্মিক সফরে বান্দরবানে হাসনাত আবদুল্লাহ

পাহাড়ি জেলা বান্দরবানের লামা ও আলীকদম উপজেলায় আকস্মিক সফরে গিয়েছেন কুমিল্লা-৪ (দেবিদ্বার) আসনের নবনির্বাচিত সংসদ সদস্য ও এনসিপির শীর্ষ সংগঠক হাসনাত আবদুল্লাহ। রোববার (২২ ফেব্রুয়ারি) দুপুরে তাকে বিভিন্ন স্থানে দেখা গেলে স্থানীয়দের মধ্যে কৌতূহল তৈরি হয়।   প্রত্যক্ষদর্শী সূত্র জানায়, তিনি প্রথমে লামা উপজেলা–র ইয়াংছা চেকপোস্ট সংলগ্ন একটি মসজিদে জোহরের নামাজ আদায় করেন। পরে তাকে লামা বাজার ও আলীকদম উপজেলা–র বিভিন্ন এলাকায় ঘুরতে দেখা যায়। এ সময় তার সঙ্গে অল্পসংখ্যক সঙ্গী ছিলেন এবং তিনি সাধারণ পোশাকে চলাফেরা করেন।   জনপ্রিয় এ নেতার আকস্মিক সফরের উদ্দেশ্য নিয়ে স্থানীয়ভাবে নানা আলোচনা শুরু হয়েছে। এটি রাজনৈতিক কর্মসূচি নাকি ব্যক্তিগত ভ্রমণ—তা স্পষ্ট নয়। সংশ্লিষ্ট প্রশাসনিক সূত্র এ বিষয়ে কোনো আনুষ্ঠানিক তথ্য জানাতে পারেনি।   এ বিষয়ে জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি)–র লামা উপজেলা সমন্বয়কারী মো. নাজমুল হোসেন জানান, সফরটি সম্পর্কে আগে থেকে সাংগঠনিকভাবে অবহিত করা হয়নি। তিনি এটিকে ব্যক্তিগত সফর বলেই উল্লেখ করেন।   হঠাৎ এ সফরের পেছনে কোনো রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট রয়েছে কি না, তা নিয়ে স্থানীয় জনপদ ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আলোচনা চলছে।  

নিজস্ব প্রতিবেদক ফেব্রুয়ারি ২৩, ২০২৬ 0
হাসনাত-নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারীর পর এবার সারজিসের স্ট্যাটাস ভাইরাল
হাসনাত-নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারীর পর এবার সারজিসের স্ট্যাটাস ভাইরাল

কুমিল্লা-৪ (দেবীদ্বার) আসনের নবনির্বাচিত সংসদ সদস্য ও এনসিপির প্রধান সংগঠক হাসনাত আবদুল্লাহ, দলটির মুখ্য সমন্বয়ক নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী এবং উত্তরাঞ্চলের মুখ্য সমন্বয়ক সারজিস আলম—তিন নেতার ফেসবুক স্ট্যাটাস নিয়ে সামাজিক মাধ্যমে ব্যাপক আলোচনা শুরু হয়েছে।   শনিবার (২১ ফেব্রুয়ারি) তারা প্রত্যেকে নিজ নিজ ভেরিফায়েড ফেসবুক অ্যাকাউন্ট থেকে আলাদা পোস্ট দেন। প্রকাশের পরপরই সেগুলো দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে এবং নেটিজেনদের মধ্যে নানা প্রতিক্রিয়া দেখা যায়।   ইফতারের কিছুক্ষণ পর সন্ধ্যা ৬টা ১৬ মিনিটে হাসনাত আবদুল্লাহ একটি সংক্ষিপ্ত স্ট্যাটাস দেন। সেখানে তিনি লেখেন, “ইনকিলাব জিন্দাবাদ।” মাত্র দুটি শব্দের এই পোস্ট মুহূর্তেই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হয়। সমর্থকরা যেমন সমর্থন জানান, তেমনি সমালোচকরাও বিভিন্ন মন্তব্য করেন।   এরপর সন্ধ্যা ৭টা ৪০ মিনিটে নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী নিজের ফেসবুক আইডিতে লেখেন, “ইনকিলাব জিন্দাবাদ! ✊ চাঁদাবাজ মুর্দাবাদ! 🚫।” পোস্টটি প্রকাশের পর ব্যাপক সাড়া পড়ে। এতে আড়াই লাখেরও বেশি প্রতিক্রিয়া, ২১ হাজারের বেশি মন্তব্য এবং প্রায় ৮ হাজার শেয়ার হয়েছে।   একই দিন রাত ৮টা ১০ মিনিটের দিকে এনসিপির উত্তরাঞ্চলের মুখ্য সমন্বয়ক সারজিস আলমও একটি স্ট্যাটাস দেন। তিনি লেখেন, “যে স্লোগান স্বৈরাচারের পতন ঘটিয়েছে, সেই স্লোগান তাদের উত্তরসূরিদের জন্য ভয়ের কারণ হবেই।”   তার পোস্টেও বিপুল সাড়া পাওয়া যায়। এতে দেড় লাখের কাছাকাছি প্রতিক্রিয়া, ১৬ হাজারের বেশি মন্তব্য এবং প্রায় আড়াই হাজার শেয়ার হয়েছে।   তিন নেতার ধারাবাহিক এই পোস্ট সামাজিক মাধ্যমে নতুন করে রাজনৈতিক আলোচনা ও বিতর্কের জন্ম দিয়েছে।

ডেস্ক রিপোর্ট ফেব্রুয়ারি ২২, ২০২৬ 0
কুমিল্লায় প্রবাসীর পরিবারের মর্মান্তিক কাণ্ড স্ত্রী ও দুই শিশু নিহত
কুমিল্লায় প্রবাসীর পরিবারের মর্মান্তিক কাণ্ড: স্ত্রী ও দুই শিশু নিহত

কুমিল্লা জেলার হোমনা উপজেলার ঘারমোড়া ইউনিয়নের মনিপুর গ্রামে এক প্রবাসীর স্ত্রী ও তার দুই শিশুর মরদেহ উদ্ধারকে কেন্দ্র করে এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে।   মঙ্গলবার (১৭ ফেব্রুয়ারি) সকালে প্রতিবেশীরা দীর্ঘ সময় ধরে ঘর থেকে কোনো সাড়া না পেয়ে খোঁজ নিতে যান। পরে জানালা দিয়ে ভেতরে তাকিয়ে তিনজনকে নিথর অবস্থায় পড়ে থাকতে দেখে তারা পুলিশকে খবর দেন। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে মরদেহগুলো উদ্ধার করে।   ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে হোমনা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. মোরশেদুল আলম চৌধুরী জানান, প্রাথমিক তদন্ত শেষে মরদেহগুলো ময়নাতদন্তের জন্য কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানোর প্রস্তুতি নেওয়া হচ্ছে।   ঘটনার পেছনের কারণ উদঘাটনে পুলিশ তদন্ত শুরু করেছে।

ডেস্ক রিপোর্ট ফেব্রুয়ারি ১৭, ২০২৬ 0
ছবি: সংগৃহীত
চাঁদাবাজি রুখতে ময়মনসিংহে বিএনপির নবনির্বাচিত সংসদ সদস্যের মাইকিং, কুমিল্লায় অভিযোগ বাক্স স্থাপন

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে জয়লাভের পর এক দিনও সময় নষ্ট না করে নিজ নিজ এলাকায় শান্তিশৃঙ্খলা ফেরাতে এবং ‘চাঁদাবাজি’র সংস্কৃতি চিরতরে নির্মূল করতে ব্যতিক্রমী সব উদ্যোগ নিয়েছেন নবনির্বাচিত দুই সংসদ সদস্য। ময়মনসিংহ-১০ (গফরগাঁও) এবং কুমিল্লা-১০ (নাঙ্গলকোট ও লালমাই) আসনে শুরু হওয়া এই কার্যক্রম ইতোমধ্যেই সাধারণ মানুষের মাঝে ব্যাপক আশার সঞ্চার করেছে।   গফরগাঁওয়ে মাইকিং ও কঠোর হুশিয়ারি: ময়মনসিংহ-১০ আসনের নবনির্বাচিত সংসদ সদস্য মোহাম্মদ আক্তারুজ্জামানের পক্ষ থেকে পুরো উপজেলায় মাইকিং করা হয়েছে। ব্যবসায়ীদের অভয় দিয়ে বলা হয়েছে, কেউ যদি ব্যবসা প্রতিষ্ঠান বা কোনো ব্যক্তির কাছে চাঁদা দাবি করে, তবে তাকে তৎক্ষণাৎ ধরে পুলিশের হাতে তুলে দিতে হবে। আক্তারুজ্জামান তাঁর ফেসবুক বার্তায় স্পষ্ট করেছেন, “বিশৃঙ্খলা ও অপরাধে জড়িতরা কোনোভাবেই দলের লোক হতে পারে না। অপরাধীর একমাত্র পরিচয় সে অপরাধী।” তিনি ‘দেশ আগে, দল পরে’ নীতিতে বিশ্বাসী হয়ে এলাকার উন্নয়নের প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন।   নাঙ্গলকোটে এমপির ‘অভিযোগ বাক্স’: এদিকে কুমিল্লা-১০ আসনের নবনির্বাচিত সংসদ সদস্য মোবাশ্বের আলম ভূঁইয়া চাঁদাবাজি ও অনৈতিক কর্মকাণ্ড রুখতে এক অভিনব পদক্ষেপ নিয়েছেন। তিনি নাঙ্গলকোট বাজারের গুরুত্বপূর্ণ স্থানগুলোতে বিশেষ ‘অভিযোগ বাক্স’ স্থাপন করেছেন। এই বাক্সে বিএনপির কোনো নেতাকর্মীর বিরুদ্ধেও যদি চাঁদাবাজির অভিযোগ থাকে, তবে যে কেউ পরিচয় গোপন রেখে তা জমা দিতে পারবেন।   বিশেষভাবে তৈরি করা এই স্টিলের বাক্সগুলোর চাবি থাকবে সরাসরি সংসদ সদস্যের হাতে। তিনি নিজেই সেগুলো নিয়মিত পরীক্ষা করবেন এবং প্রাপ্ত অভিযোগের ভিত্তিতে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর মাধ্যমে ব্যবস্থা নেবেন। মোবাশ্বের আলম বলেন, “জনগণ আমাকে পাহারাদার হিসেবে নির্বাচিত করেছে। আমার দলের কেউ অপরাধ করলে আমি তার প্রতি আরও বেশি কঠোর হব। সন্ত্রাস ও মাদকের বিরুদ্ধে আমাদের অবস্থান ‘জিরো টলারেন্স’।”   নতুন বাংলাদেশের এই বদলে যাওয়া রাজনৈতিক সংস্কৃতিকে স্বাগত জানিয়েছেন স্থানীয় সচেতন মহল। তাঁরা মনে করছেন, নেতাদের এমন দায়িত্বশীল ভূমিকা ও স্বচ্ছতা বজায় থাকলে দেশ থেকে অপরাজনীতি দূর করা সম্ভব হবে।

আমেরিকা বাংলা ডেস্ক রিপোর্ট ফেব্রুয়ারি ১৭, ২০২৬ 0
ছবি: সংগৃহীত
প্রথমবারেই বাজিমাত, সংসদে কুমিল্লার নতুন পাঁচ মুখ

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে কুমিল্লায় এক নতুন রাজনৈতিক যুগের সূচনা হয়েছে। প্রথাগত রাজনীতির হেভিওয়েটদের ভিড়ে প্রথমবারের মতো নির্বাচনে অংশ নিয়েই বাজিমাত করেছেন কুমিল্লার ৫ জন তরুণ ও মেধাবী নেতা। জেলার ১১টি সংসদীয় আসনের মধ্যে যে আটটিতে বিএনপি, একটিতে জামায়াত, একটিতে এনসিপি এবং একটিতে স্বতন্ত্র প্রার্থী বিজয়ী হয়েছেন, তার মধ্যে এই ৫ জনের সরাসরি সংসদে অভিষেক দেশজুড়ে আলোচনার জন্ম দিয়েছে।   সংসদে যাওয়া কুমিল্লার সেই ৫ নতুন মুখ হলেন: ১. কুমিল্লা-২ (হোমনা-তিতাস): বিএনপির কুমিল্লা বিভাগীয় সাংগঠনিক সম্পাদক অধ্যক্ষ সেলিম ভূঁইয়া। ২. কুমিল্লা-৪ (দেবিদ্বার): জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) দক্ষিণাঞ্চলের মুখ্য সংগঠক হাসনাত আবদুল্লাহ। ৩. কুমিল্লা-৫ (বুড়িচং-ব্রাহ্মণপাড়া): দক্ষিণ জেলা বিএনপির সাবেক সদস্য সচিব ও ব্রাহ্মণপাড়া উপজেলা বিএনপির সভাপতি জসিম উদ্দিন। ৪. কুমিল্লা-৭ (চান্দিনা): স্বতন্ত্র প্রার্থী আতিকুল আলম। ৫. কুমিল্লা-৯ (লাকসাম-মনোহরগঞ্জ): বিএনপির শিল্পবিষয়ক সম্পাদক আবুল কালাম।   সবচেয়ে আলোচিত বিজয়টি এসেছে কুমিল্লা-৪ (দেবিদ্বার) আসনে। ১১ দলীয় জোটের শরিক এনসিপির প্রার্থী হাসনাত আবদুল্লাহ তাঁর ‘শাপলা কলি’ প্রতীকে নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বীর চেয়ে প্রায় তিনগুণ বেশি ভোট পেয়ে নির্বাচিত হয়েছেন। বিজয়ী হওয়ার পর এক ভিডিও বার্তায় হাসনাত আবদুল্লাহ বলেন, “আমি ৮০ শতাংশ ভোট পেয়েছি। যারা আমাকে ভোট দেননি, তাদেরও মন জয় করে আমি সবার প্রতিনিধি হতে চাই। সমাজকে এমনভাবে সাজাবো যেখানে আমার কট্টর শত্রুর প্রতিও কেউ অবিচার করতে পারবে না।”   অন্যদিকে, কুমিল্লা-৫ আসনের নবনির্বাচিত এমপি জসিম উদ্দিন এক অনন্য রাজনৈতিক শিষ্টাচারের উদাহরণ দিয়েছেন। তিনি জানান, নির্বাচনের পর তাঁর এলাকায় রাজনৈতিক প্রতিপক্ষ জামায়াতে ইসলামীর কোনো নেতাকর্মী বা তাঁদের ঘরবাড়িতে কোনো ধরণের হামলা বা প্রতিহিংসামূলক আচরণ করা হয়নি। তিনি স্পষ্ট করে বলেন, “শান্তি ও সহনশীলতাই আমাদের মূল অঙ্গীকার। কোনো অনাকাঙ্ক্ষিত কর্মকাণ্ড ঘটলে আইন কঠোর ব্যবস্থা নেবে।”   কুমিল্লা-২ আসনের অধ্যক্ষ সেলিম ভূঁইয়া জানিয়েছেন, তাঁর মূল লক্ষ্য হবে নির্বাচনি এলাকার মানুষের প্রত্যাশা পূরণ এবং সংসদে বলিষ্ঠ কণ্ঠে কুমিল্লার সমস্যার কথা তুলে ধরা। স্থানীয় ভোটারদের মনে এখন নতুন এক আশার সঞ্চার হয়েছে। বিশেষ করে ‘কুমিল্লা বিভাগ’ করার দীর্ঘদিনের দাবি এবার সংসদে নতুন জোরালো ভূমিকা পাবে বলে মনে করছেন স্থানীয়রা। প্রবীণদের অভিজ্ঞতার পাশাপাশি এই ৫ নতুনের উদ্যম কুমিল্লার ভাগ্যোন্নয়নে কতটা প্রভাব ফেলে, সেটিই এখন দেখার বিষয়।

আমেরিকা বাংলা ডেস্ক রিপোর্ট ফেব্রুয়ারি ১৬, ২০২৬ 0
কুমিল্লায় ভোটকেন্দ্রে ককটেল বিস্ফোরণ, আতঙ্কে ভোটারদের দৌড়ঝাঁপ
কুমিল্লায় ভোটকেন্দ্রে ককটেল বিস্ফোরণ, আতঙ্কে ভোটারদের দৌড়ঝাঁপ

কুমিল্লার চৌদ্দগ্রাম উপজেলার জগন্নাথদীঘি ইউনিয়নের আতাকরা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় ভোটকেন্দ্রে সকাল থেকে শান্তিপূর্ণ পরিবেশে ভোটগ্রহণ চলছিল। কুমিল্লা-১১ আসনের এই কেন্দ্রে শুরু থেকেই ভোটারদের দীর্ঘ সারি দেখা যায়।   তবে বৃহস্পতিবার দুপুর প্রায় ১২টার দিকে কেন্দ্রের আশপাশে একাধিক ককটেল বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটে। এতে উপস্থিত ভোটারদের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে এবং তারা নিরাপদ আশ্রয়ের খোঁজে ছুটোছুটি শুরু করেন।   ঘটনার সময় কেন্দ্র থেকে আনুমানিক ৩০০ মিটার দূরে সেনাবাহিনী ও বিজিবির সদস্যরা অবস্থান করছিলেন। বিস্ফোরণের খবর পেয়ে তারা দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনেন। প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, অন্তত সাতটি বিস্ফোরণের শব্দ শোনা গেছে। কেন্দ্রটিতে মোট ভোটার সংখ্যা ৩ হাজার ৯০৬ জন। প্রিসাইডিং কর্মকর্তা আতিকুল ইসলাম জানান, দুপুর ১২টা পর্যন্ত প্রায় ১ হাজার ২৫০টি ভোট পড়েছে।   ঘটনার পর রাজনৈতিক মহলে পাল্টাপাল্টি অভিযোগ ওঠে। বিএনপি প্রার্থীর পক্ষ থেকে দাবি করা হয়, সুষ্ঠু ভোটের পরিবেশ ব্যাহত করতে জামায়াত-শিবিরের কর্মীরা এই বিস্ফোরণ ঘটিয়েছে। অন্যদিকে জামায়াত প্রার্থীর পক্ষের নেতারা অভিযোগটি অস্বীকার করে বলেন, তাদের কেউ এতে জড়িত নয়; বরং এটি উদ্দেশ্যপ্রণোদিত অপপ্রচার।   প্রিসাইডিং কর্মকর্তা বলেন, শুরু থেকেই কেন্দ্রের পরিবেশ শান্ত ছিল। একটি পক্ষ পরিস্থিতি অস্থিতিশীল করতে এমন ঘটনা ঘটিয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে। তবে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর দ্রুত হস্তক্ষেপে ভোটগ্রহণ পুনরায় স্বাভাবিকভাবে চালু হয়।   কেন্দ্রে দায়িত্ব পালনকারী আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরাও জানান, বিস্ফোরণের শব্দ শোনার পরপরই নিরাপত্তা জোরদার করা হয় এবং ভোটারদের আশ্বস্ত করা হয়। বর্তমানে কেন্দ্রে ভোটগ্রহণ স্বাভাবিক রয়েছে।

ডেস্ক রিপোর্ট ফেব্রুয়ারি ১২, ২০২৬ 0
হাসনাত আবদুল্লাহ। ছবি: ফেসবুক লাইভ থেকে নেওয়া
কালো টাকার সরবরাহ প্রতিহত করা হবে: হাসনাত আবদুল্লাহ

এনসিপির দক্ষিণাঞ্চলীয় মুখ্য সংগঠক এবং কুমিল্লা-৪ (দেবিদ্বার) আসনের ১১ দলীয় জোটের প্রার্থী হাসনাত আবদুল্লাহ বলেছেন, কালো টাকার সরবরাহ প্রতিহত করা হবে। তারা বাংলাদেশটাকে আবার বিক্রি করে দিতে চায়। তাদের ভুলের কারণে আমাদের তরুণ প্রজন্মকে বছরের পর বছর খেসারত দিতে হয়েছে। রাজপথে রক্ত দিতে হয়েছে। তারা টাকা নিয়ে বের হলে বেঁধে রাখতে হবে। তাদের কোনোভাবে স্পেস দেওয়া যাবে না। অর্থসহ যেখানে দেখা যাবে তাদের গাছের সঙ্গে বেঁধে প্রশাসনকে খবর দিতে হবে।   বুধবার (১১ ফেব্রুয়ারি) বিকালে কুমিল্লার দেবিদ্বার থেকে ফেসবুক লাইভে তিনি এসব কথা বলেন।   হাসনাত বলেন, যারা কালো টাকা নিয়ে ঢুকেছেন তাদের প্রত্যেকের চূড়ান্ত পরিণতি দেখে নেওয়া হবে। এটা আমার শেষ ওয়ার্নিং। প্রত্যেকটা মোড়ে মোড়ে প্রত্যেকটা কেন্দ্রে, প্রত্যেকটা গলিতে গলিতে, প্রত্যেকটা পাড়ায়-পাড়ায় আপনারা অবস্থান নেন। ভোটের ফলাফল না পাওয়া পর্যন্ত অবস্থান নেন।    তিনি বলেন, কালোটাকা দেখলে আপনারা এনসিপির কন্ট্রোল রুমে ইনফর্ম করবেন। আর আমি এখন থেকে মাঠে থাকছি। যেখান থেকে খবর আসবে আমি সেখানে যাব। আমি আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কাছে সহায়তা চাই। কালোটাকা প্রতিরোধ করতে হবে। ভোট আমাদের পবিত্র আমানত। অর্থ দিয়ে ভোট বিক্রি করা যাবে না। কালো টাকার ছড়াছড়ি আমরা কোনোভাবেই হতে দেব না। আমরা নিজেরা মাঠে থেকে এটা প্রতিরোধ করব। এখন থেকে এই মুহূর্ত থেকে একদম ভোট না দেওয়া পর্যন্ত আমরা পাহারা দেব।    ফলাফল প্রকাশ না হওয়া পর্যন্ত মাঠে থাকবেন উল্লেখ করে হাসনাত আবদুল্লাহ বলেন, বিশেষ করে কয়েকটা এলাকায় এখন অর্থ ঢুকছে। জাফরগঞ্জ ও বরকামতায় অর্থ নিয়ে ঢুকেছে। এটা প্রতিরোধ করা হবে। সুলতানপুর এবং রাজামেহার এলাকায় অর্থের ছড়াছড়ি শুরু হয়েছে। ফাতেহাবাদ ইউনিয়নেও অর্থের ছড়াছড়ি শুরু হয়েছে। যেখানে অর্থসহ কাউকে দেখা হবে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে সঙ্গে নিয়ে তাদের প্রতিহত করা হবে।   তিনি বলেন, আপনারা যারা অর্থ নিয়ে মাঠে নেমেছেন তাদের কারোর অস্তিত্ব থাকবে না দেবিদ্বারে। আমি আবারও বলছি যেভাবে টাকা নিয়ে আসছেন ঠিক সেভাবেই আবার চলে যান। যদি কেউ একজন ধরা পড়েন আইনশৃঙ্খলা বাহিনী আপনাদের অস্তিত্ব রাখবে না। প্রশাসন পুলিশ যথেষ্ট পরিমাণে সতর্ক অবস্থানে রয়েছে। এতদিন আমরা একটা উৎসবমুখর ভোটের জন্য অপেক্ষা করেছি। নির্বিঘ্নে মানুষ ভোট দেবেন।   হাসনাত আবদুল্লাহ বলেন, মানুষ ভোট যাকে খুশি তাকে দেবে। আপনি আনুষ্ঠানিকভাবে ঘোষণা দিচ্ছেন আপনার বিরুদ্ধে ভোট দিলে বাড়িঘর জ্বালিয়ে দেবেন। কাউকে থাকতে দেবেন না। সবাইকে ধ্বংস করে দেবেন। এ ধরনের পরিবেশ দেবিদ্বারে হতে দেওয়া হবে না।    তিনি বলেন, যারা অর্থ নিয়ে নেমেছেন প্রমাণসহ প্রত্যেকের নাম জাতির সামনে প্রকাশ করব। রাজনীতিতে বাংলাদেশের মানুষ চিরতরে আপনাদের প্রত্যাখ্যান করবে। দেবিদ্বারের মানুষ আপনারা সবাই সচেতন থাকেন। আপনাদের বাড়ির সামনে যারা টাকা নিয়ে আসবে তাদের বেঁধে রাখবেন। আপনারা সবাই বাড়ির সামনে অবস্থান নেন। একটা সুষ্ঠু নিরপেক্ষ ভোট হতে যাচ্ছে। সেখানে যারা বাধা দিবে তাদের প্রতিহত করুন। প্রত্যেকটা কেন্দ্রে আপনারা পাহারা বসান।    স্থানীয় মসজিদে ইমাম-মোয়াজ্জিনদের প্রতি আহ্বান জানিয়ে হাসনাত বলেন, যারা কালোটাকা দিতে আসে তাদের প্রতিহত করার আহ্বান জানাবেন। তারা পাঁচ বছরের জন্য জনগণকে গোলাম বানাতে আসে। আপনার অধিকার হরণ করার জন্য আসে। বাংলাদেশটাকে পিছিয়ে দিতে আসে। ভোট যাকে ইচ্ছা তাকেই দেবে; কিন্তু টাকা দিয়ে পেশিশক্তি দেখিয়ে ভয়-ভীতি দেখিয়ে যারা ভোট কিনতে আসছে তাদের প্রতিহত করতেই হবে।

ডেস্ক রিপোর্ট ফেব্রুয়ারি ১১, ২০২৬ 0
ভোটার স্লিপের সঙ্গে টাকা বিলির সময় বিএনপি নেতাসহ ‘আটক’ ২
ভোটার স্লিপের সঙ্গে টাকা বিলির সময় বিএনপি নেতাসহ ‘আটক’ ২

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের একদম শেষ মুহূর্তে এসে কুমিল্লার চৌদ্দগ্রামে ভোটারদের প্রভাবিত করতে নগদ অর্থ বিতরণের এক চাঞ্চল্যকর ঘটনা ঘটেছে। বুধবার (১১ ফেব্রুয়ারি) সকালে উপজেলার গুনবতী ইউনিয়নের খাটরা গ্রামে ভোটার স্লিপের সঙ্গে টাকা বিতরণের সময় ৯ নম্বর ওয়ার্ড বিএনপির সাধারণ সম্পাদক আব্দুল মান্নানসহ দুইজনকে হাতেনাতে আটক করে জামায়াত-শিবিরের নেতাকর্মীরা।   স্থানীয় ও প্রত্যক্ষদর্শী সূত্রে জানা গেছে, সকাল সাড়ে ৯টার দিকে আব্দুল মান্নান ও একই গ্রামের বাসিন্দা ফকির মেম্বার খাটরা গ্রামে বাড়ি বাড়ি গিয়ে ভোটার স্লিপ বিতরণ করছিলেন। অভিযোগ উঠেছে, এ সময় তারা স্লিপের সঙ্গে ভোটারদের হাতে নগদ টাকাও তুলে দিচ্ছিলেন। বিষয়টি স্থানীয় জামায়াত-শিবিরের কর্মীদের নজরে আসলে তারা ওই দুইজনকে ঘিরে ধরেন। তল্লাশি চালিয়ে তাদের কাছ থেকে ২০০ টাকা নোটের দুটি বান্ডিল জব্দ করা হয়।   উপজেলা জামায়াতে ইসলামীর কর্মপরিষদ সদস্য ডা. মনজুর আহমমদ শাকি সংবাদমাধ্যমকে জানান, আটকের পর অভিযুক্তরা তাদের অপরাধ স্বীকার করেছেন। ভবিষ্যতে আর এ ধরনের অনৈতিক কাজে জড়াবেন না মর্মে অঙ্গীকার করলে মানবিক কারণে তাদের ছেড়ে দেওয়া হয়।   তবে এই পুরো ঘটনাটিকে ‘সুপরিকল্পিত নাটক’ ও ‘সাজানো ষড়যন্ত্র’ হিসেবে দাবি করেছে স্থানীয় বিএনপি। গুনবতী ইউনিয়ন বিএনপির সাধারণ সম্পাদক জসিম উদ্দিন বলেন, “আটককৃত দুইজন সকালে একটি চা দোকানে বসে ছিলেন। সেখান থেকেই জামায়াত-শিবিরের লোকজন জোরপূর্বক তাদের তুলে নিয়ে যায় এবং ভিডিও করে মিথ্যা তথ্য ছড়াচ্ছে। তারা কোথাও কোনো টাকা নিয়ে ভোট কিনতে যাননি।”   ভোটের ঠিক আগের দিন কুমিল্লার এই ঘটনাটি পুরো এলাকায় ব্যাপক উত্তেজনা ও আলোচনার জন্ম দিয়েছে। সাধারণ ভোটারদের মধ্যে নির্বাচনের স্বচ্ছতা নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন দেখা দিয়েছে। নির্বাচনি এলাকায় প্রশাসনের নজরদারি ও টহল আরও জোরদার করার দাবি জানিয়েছেন স্থানীয়রা।

আমেরিকা বাংলা ডেস্ক রিপোর্ট ফেব্রুয়ারি ১১, ২০২৬ 0
হাবিবুর রহমান হেলালী
টাকা বিতরণের অভিযোগ, কুমিল্লায় জামায়াত নেতা আটক

কুমিল্লার মুরাদনগর উপজেলায় নির্বাচনী উত্তাপের মধ্যেই টাকা বিতরণের অভিযোগে হাবিবুর রহমান হেলালী নামে এক জামায়াত নেতাকে আটক করেছে স্থানীয় জনতা। আজ বুধবার সকালে উপজেলার ছালিয়াকান্দি ইউনিয়নের নেয়ামতকান্দি এলাকায় এই ঘটনা ঘটে।   আটক হাবিবুর রহমান হেলালী ধামঘর ইউনিয়ন জামায়াতের আমির এবং সংশ্লিষ্ট ইউনিয়নে জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থীর নির্বাচন পরিচালনা কমিটির প্রধান সমন্বয়ক হিসেবে দায়িত্ব পালন করছিলেন।   উদ্ধারকৃত অর্থ ও প্রশাসনের ভূমিকা: ঘটনার খবর পেয়ে দ্রুত সেখানে পৌঁছায় ভ্রাম্যমাণ আদালত। প্রশাসন জানিয়েছে, আটকের সময় হেলালীর কাছ থেকে নগদ দুই লাখ টাকা উদ্ধার করা হয়েছে। আইনশৃঙ্খলার স্বার্থে তাকে তাৎক্ষণিকভাবে থানা হেফাজতে নিয়ে যাওয়া হয়।   জামায়াতের দাবি: তবে এই অভিযোগকে পুরোপুরি নাকচ করে দিয়েছে স্থানীয় জামায়াত নেতৃবৃন্দ। তাদের দাবি, এটি একটি সুপরিকল্পিত 'ষড়যন্ত্র'। নির্বাচনী পরিবেশকে প্রভাবিত করতে এবং তাদের প্রার্থীর ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ণ করতেই এই নাটক সাজানো হয়েছে বলে তারা অভিযোগ করেন।   মুরাদনগর থানা পুলিশ এবং স্থানীয় প্রশাসন বিষয়টি গুরুত্বের সাথে খতিয়ে দেখছে। বর্তমানে ওই এলাকায় নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করা হয়েছে।

নিজস্ব প্রতিবেদক ফেব্রুয়ারি ১১, ২০২৬ 0
বক্তব্য রাখছেন হাসনাত আব্দুল্লাহ।
এবার ভোট চুরি করতে এলে সেনাবাহিনী চামড়া লাল করে দেবে: হাসনাত

এনসিপির মুখ্য সংগঠক এবং কুমিল্লা-৪ আসনে ১১ দলীয় জোটের প্রার্থী হাসনাত আব্দুল্লাহ বলেছেন, অতীতে জোরজবরদস্তি জনগণের ভোটাধিকার হরণ করা হয়েছে। ডিসি এসপিদের সহযোগিতায় তারা নির্বাচিত হয়েছে। ফ্যাসিবাদ চক্র জনগণের ভোটের অধিকারে বিশ্বাস করেনি। একদিকে ভোট লুটেছে, অন্যদিকে মানুষের অর্থ সম্পদ লুট করেছে। এবার ভোট চুরি করতে এলে সেনাবাহিনী চামড়া লাল করে দিবে। আমরা প্রশাসনকে সহায়তা করব।    শনিবার (৩১ জানুয়ারি) বিকালে কুমিল্লার দেবিদ্বার উপজেলার এলাহাবাদ এলাকায় উঠান বৈঠকে তিনি এসব কথা বলেন।    হাসনাত বলেন, পুরোনো কায়দায় ভোটারদের কেউ কেউ হুমকি ভয় ভীতি দেখিয়ে ভোট নেওয়ার চেষ্টা করছে। এটা তাদের এখতিয়ারের মধ্যে পড়ে না।   তিনি বলেন, জনগণ রাষ্ট্রের মালিক, তাদের কাছে ভোট ভিক্ষা চাইতে কোনো লজ্জা নেই। আমরা আসছি ভোট ভিক্ষা চাইতে। চাঁদাবাজি করার চাইতে ভোট ভিক্ষা চাওয়া সম্মানের। যারা এই রাষ্ট্রের বৈধতা দেয়, ট্যাক্স দিয়ে রাষ্ট্রের অর্থনীতির চাকা সচল রাখে, তাদের কাছে মাথা নত করে ভোট ভিক্ষা চাইলে সম্মান বাড়ে। অথচ যুগের পর যুগ এই জনগণকে রাষ্ট্র এবং সরকার, বিভিন্নভাবে অবমূল্যায়ন করেছে। ফ্যাসিবাদ আমলে জনগণের কোনো মূল্যায়ন ছিল না। তারা জনগণের ভোটে নয়, টাকার শক্তিতে নির্বাচিত হতো। প্রশাসনের সহযোগিতায় নির্বাচিত হতো। ডিসি এসপির সহযোগিতা নির্বাচিত হতো।   হাসনাত বলেন, সময় এসেছে আপনাদের ভোটের অধিকার প্রয়োগ করার। আপনারা নিজে ভোট প্রয়োগ করে জনপ্রতিনিধি নির্বাচিত করুন। টাকার বিনিময়ে কারো কাছে ভোট বিক্রি করবেন না। তাহলে দেখবেন নির্বাচিত জনপ্রতিনিধিরা আপনাদের কাছে দায়বদ্ধ থাকবে। পাশাপাশি রাষ্ট্রের প্রজাতন্ত্রের কর্মচারীরাও আপনাদের সেবায় যথাযথ দায়িত্ব পালন করবে। আমরা সামাজিক নিরাপত্তা এবং জনগণের প্রত্যাশার বাংলাদেশ বিনির্মাণ করতে চাই।    এ সময় জামায়াত এবং এনসিপি নেতাকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন। এদিন তিনি উপজেলার এলাহাবাদ পৌর এলাকার ছোট আলমপুরসহ আশপাশের এলাকায় গণসংযোগ এবং উঠান বৈঠক করেন। 

ডেস্ক রিপোর্ট জানুয়ারী ৩১, ২০২৬ 0
ডা. শফিকুর রহমান
কুমিল্লা নামেই বিভাগ হবে: জামায়াত আমির

কুমিল্লা নামেই বিভাগ হবে এবং এটি বাস্তবায়নে জামায়াতে ইসলামী বদ্ধপরিকর। এমনকি অন্য কোনো দল সরকার গঠন করলেও এই দাবি আদায়ে তাঁদের বাধ্য করা হবে—এমনই সাহসী ও চূড়ান্ত ঘোষণা দিলেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমীর ডা. শফিকুর রহমান। শুক্রবার রাতে কুমিল্লার ঐতিহাসিক টাউন হল মাঠে ১১ দলীয় জোটের এক বিশাল নির্বাচনী জনসভায় তিনি এই প্রতিশ্রুতি দেন। কেবল প্রশাসনিক সংস্কার নয়, বরং নারী শিক্ষা এবং পরমতসহিষ্ণু রাজনীতির এক নতুন রূপরেখা তুলে ধরেছেন তিনি।   কুমিল্লাবাসীর স্বপ্ন ও উন্নয়ন: জনসভায় ডা. শফিকুর রহমান বলেন, দেশে বিভাগের সংখ্যা বৃদ্ধি নিয়ে কোনো আপত্তি নেই, তবে কুমিল্লা বিভাগকে অবশ্যই তার নিজস্ব নামে প্রতিষ্ঠা করতে হবে। এটি এখন তাঁর দলের জন্য একটি ‘পবিত্র দায়িত্ব’। পাশাপাশি কুমিল্লার ঝিমিয়ে পড়া বিমানবন্দরকে সচল করা এবং স্থানীয় ইপিজেডকে আন্তর্জাতিক মানে উন্নীত করার মাধ্যমে এলাকার অর্থনৈতিক চিত্র বদলে দেওয়ার অঙ্গীকার করেন তিনি।   প্রতিশোধ নয়, নীতির রাজত্ব: বিগত সরকারের সমালোচনা করে জামায়াত আমীর বলেন, “আমরা প্রতিশোধের রাজনীতি করি না, বরং একে ‘হারাম’ মনে করি। দীর্ঘ দেড় দশকে জামায়াতে ইসলামীর ওপর যে অবর্ণনীয় জুলুম হয়েছে, নেতাদের ফাঁসি দেওয়া হয়েছে, ঘরবাড়ি বুলডোজার দিয়ে গুঁড়িয়ে দেওয়া হয়েছে—এতকিছুর পরেও আমরা আইন হাতে তুলে নেব না। আমরা নীতির রাজ কায়েম করতে চাই, যেখানে একজন সাধারণ নাগরিকও মিথ্যা মামলায় হয়রানির শিকার হবে না।”   শিক্ষা ও সমাজ সংস্কার: নারী শিক্ষার প্রসারে এক বৈপ্লবিক ঘোষণা দিয়ে তিনি বলেন, জামায়াতে ইসলামী সরকার গঠন করলে এ দেশের মেয়েরা সরকারি খরচে মাস্টার্স পর্যন্ত পড়াশোনা করতে পারবে। তিনি প্রশাসনকে কোনো দলের আনুকূল্য না করে জনগণের সেবক হওয়ার এবং গণমাধ্যমকে ‘জাতির বিবেক’ হিসেবে অন্যায়ের বিরুদ্ধে সোচ্চার হওয়ার আহ্বান জানান।   শহীদ পরিবারের প্রতি সংহতি: চব্বিশের গণঅভ্যুত্থানের বীর শহীদদের স্মরণ করে তিনি বলেন, শহীদদের রক্তের বিনিময়ে আজ জাতি কথা বলার অধিকার ফিরে পেয়েছে। জামায়াত প্রতিটি শহীদ পরিবারের পাশে সদস্য হিসেবে দাঁড়িয়েছে এবং ইনসাফ কায়েমের মাধ্যমে তাঁদের রক্তের ঋণ শোধ করতে চায়।   বক্তব্য শেষে তিনি কুমিল্লার ১১টি সংসদীয় আসনে ১১ দলীয় জোটের মনোনীত প্রার্থীদের হাতে নির্বাচনি প্রতীক তুলে দিয়ে আনুষ্ঠানিক প্রচারণার জোয়ার সৃষ্টি করেন। জনসভায় জামায়াতের কেন্দ্রীয় নেতৃবৃন্দ ছাড়াও এনসিপি ও ডাকসু’র প্রতিনিধিরা সংহতি প্রকাশ করে বক্তব্য রাখেন।

আমেরিকা বাংলা ডেস্ক জানুয়ারী ৩১, ২০২৬ 0
জনপ্রিয় সংবাদ
ইরানের আকাশে ১৬টি চীনা সামরিক বিমানের রহস্য নিয়ে তোলপাড়

মধ্যপ্রাচ্যের ক্রমবর্ধমান উত্তেজনার মধ্যেই একটি চাঞ্চল্যকর দাবি ভূ-রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন করে বিতর্কের ঝড় তুলেছে।   গত ৪৮ থেকে ৫৬ ঘণ্টার মধ্যে ১৬টি চীনা 'ওয়াই-২০' (Y-20) সামরিক কার্গো বিমান তাদের ট্রান্সপন্ডার বা সিগন্যাল বন্ধ রেখে ইরানের আকাশে প্রবেশ করেছে বলে খবর ছড়িয়েছে। কোনো আনুষ্ঠানিক নিশ্চিতকরণ ছাড়াই এই তথ্যটি প্রতিরক্ষা বিশ্লেষক ও সোশ্যাল মিডিয়া ব্যবহারকারীদের মধ্যে তীব্র উদ্বেগ সৃষ্টি করেছে। দাবি করা হচ্ছে, এই বিমানগুলো বেসামরিক রাডার থেকে আড়াল থাকতে বিশেষ কৌশল অবলম্বন করেছিল। নেটিজেন ও সামরিক বিশ্লেষকদের একটি অংশের ধারণা, চীন হয়তো ইরানকে অত্যাধুনিক ইলেকট্রনিক ওয়ারফেয়ার সিস্টেম বা জ্যামিং প্রযুক্তি সরবরাহ করছে। যদি এটি সত্যি হয়, তবে মার্কিন এফ-৩৫ (F-35) যুদ্ধবিমান বা নৌ-অভিযানের জন্য এটি বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়াতে পারে। অনেকে একে যুক্তরাষ্ট্রের প্রতি বেইজিংয়ের সরাসরি ‘সতর্কবার্তা’ হিসেবেও দেখছেন। তবে এই উত্তেজনার মুদ্রার উল্টো পিঠও রয়েছে। ফ্লাইটরাডার২৪-এর মতো আন্তর্জাতিক ফ্লাইট ট্র্যাকিং প্ল্যাটফর্মে এ ধরনের কোনো অস্বাভাবিক ফ্লাইটের রেকর্ড পাওয়া যায়নি। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ১৬টি ভারী সামরিক কার্গো বিমানের মতো বিশাল বহরকে রাডার বা স্যাটেলাইট নজরদারি থেকে সম্পূর্ণ লুকিয়ে রাখা প্রায় অসম্ভব।  বর্তমান ভূ-রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে চীন-ইরান সম্পর্ক গভীর হলেও, সুনির্দিষ্ট প্রমাণের অভাবে বিশ্লেষকরা একে আপাতত ‘সুপরিকল্পিত গুজব’ বা মিসইনফরমেশন হিসেবেই দেখছেন। তেহরান বা বেইজিং—কোনো পক্ষ থেকেই এখন পর্যন্ত এ নিয়ে কোনো আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া মেলেনি।

“এপস্টেইন ফাইলের দাবি: বাইডেনকে হত্যা করে ক্লোন বানানো হয়েছে?”

এপস্টেইন ফাইল: দাবি, বাইডেনকে ২০১৯ সালে হত্যা করে ক্লোন দ্বারা প্রতিস্থাপন করা হয়েছে   জেফরি এপস্টেইনের ফাইল ট্রান্সপারেন্সি অ্যাক্টের সাথে যুক্ত সম্প্রতি প্রকাশিত একটি নথি ত্রাঞ্চে অভিযোগ করা হয়েছে যে, প্রাক্তন মার্কিন প্রেসিডেন্ট জো বাইডেনকে ২০১৯ সালে হত্যা করা হয়েছে এবং তাকে একটি ক্লোন দ্বারা প্রতিস্থাপন করা হয়েছে।   এই নথিগুলি, যা আনক্লাসিফায়েড ডিপার্টমেন্ট অব জাস্টিস (DOJ) রেকর্ডের একটি বিশাল ডেটা রিলিজের অংশ, “চার্লস” নামে একজনের ক্ষুব্ধ ইমেইল অন্তর্ভুক্ত করেছে এবং অন্তর্বর্তী ফাইলিং কোড EFTA00173266 থেকে EFTA00173273 পর্যন্ত চিহ্নিত। এই ইমেইলগুলো তৃতীয় পক্ষের যোগাযোগের মধ্যে পাওয়া গেছে, যা জেফরি এপস্টেইনের নেটওয়ার্ক সংক্রান্ত বিস্তৃত ফেডারেল তদন্তের সময় সংগ্রহ করা হয়েছিল।   এপস্টেইন সম্পর্কিত অন্যান্য প্রকাশনার মতো এখানে রাজনৈতিক ও ব্যবসায়িক ব্যক্তিদের সঙ্গে সম্পর্কের তথ্য নয়, বরং চরম ও ষড়যন্ত্রমূলক দাবিগুলো রয়েছে। ক্লোন তত্ত্বের উল্লেখ “চার্লস” ইমেইলগুলো এপ্রিল ২০২১-এ একজন এফবিআই এজেন্টকে ফরোয়ার্ড করা হয়েছিল, যাকে লাল করা প্রেরক হিসেবে দেখানো হয়েছে। প্রেরক দাবি করেছিলেন যে এটি একটি প্রযুক্তি সংস্থার এক ক্ষুব্ধ প্রাক্তন কর্মচারী বা সহযোগীর মেসেজ। ইমেইলগুলিতে গালাগালি ভাষা ব্যবহৃত হয়েছে এবং এখানে “কোয়ান্টাম” প্রযুক্তি, গোপন সামরিক ট্রাইব্যুনাল, এবং “বাইডেন আপনার বর্তমান প্রেসিডেন্ট নন” এমন দাবির উল্লেখ রয়েছে।   একটি অনুচ্ছেদে বলা হয়েছে যে “বাস্তব” জো বাইডেনকে ২০১৯ সালে নির্বিচারে হত্যা করা হয়েছে এবং তাকে একজন অভিনেতা বা ক্লোন দ্বারা প্রতিস্থাপন করা হয়েছে, যেখানে প্রমাণ হিসেবে “মাস্কের ত্রুটি” দেখানো হয়েছে। তবে এই দাবিগুলোর সঙ্গে কোনো শারীরিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি বা সঙ্গত সাক্ষ্য নেই।   “বাইডেন ক্লোন” দাবি অনলাইনে ষড়যন্ত্র তত্ত্বের একটি পরিচিত অংশ। তত্ত্বটি সাধারণত ধরে যে “বাস্তব” জো বাইডেনকে গোপনে জনমঞ্চ থেকে সরিয়ে দেওয়া হয়েছে, প্রায়শই ২০১৯ বা ২০২০ সালে, এবং তাকে চেহারা মিলানো লোক বা ক্লোন দিয়ে প্রতিস্থাপন করা হয়েছে।   অনুগামীরা প্রায়শই নিম্নমানের ভিডিও এবং ফটোগ্রাফ বিশ্লেষণ করে, চেহারার পরিবর্তন যেমন আলোর পরিবর্তন, বয়সের প্রভাব বা ক্যামেরার ত্রুটিকে কৃত্রিমভাবে আড়াল করার প্রমাণ হিসেবে দেখান।   এ পর্যন্ত কোনো যাচাইযোগ্য প্রমাণ নেই যে প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন কখনো ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন বা প্রতিস্থাপিত হয়েছেন। এই দাবিগুলি সম্পূর্ণভাবে একটি ষড়যন্ত্র তত্ত্ব হিসেবে রয়ে গেছে।   সূত্র: Royanews  

১২ ঘণ্টারও কম সময়ে দেশে আবারও স্বর্ণের দামে বড় পতন

দাম বাড়ানোর ১২ ঘণ্টারও কম সময়ের ব্যবধানে দেশের বাজারে আবারও স্বর্ণের দাম কমিয়েছে বাংলাদেশ জুয়েলার্স অ্যাসোসিয়েশন (বাজুস)। ভরিতে এক লাফে ৩ হাজার ২৬৬ টাকা কমিয়ে ২২ ক্যারেটের প্রতি ভরি স্বর্ণের নতুন দাম নির্ধারণ করা হয়েছে ২ লাখ ৫৮ হাজার ৮২৪ টাকা।   শনিবার (৭ ফেব্রুয়ারি) রাতে বাজুসের এক বিজ্ঞপ্তিতে দাম কমানোর বিষয়টি জানানো হয়েছে। নতুন দাম রোববার (৮ ফেব্রুয়ারি) থেকেই কার্যকর হবে।   এর আগে একই দিন সকালে দেশের বাজারে স্বর্ণের দাম বাড়ানো হয়। ওই সময় ভরিপ্রতি এক লাফে ৭ হাজার ৬৪০ টাকা বাড়িয়ে ২২ ক্যারেটের এক ভরি স্বর্ণের দাম নির্ধারণ করা হয়েছিল ২ লাখ ৬২ হাজার ৯০ টাকা।   নতুন দাম অনুযায়ী, বর্তমানে দেশের বাজারে ২২ ক্যারেটের প্রতি ভরি (১১.৬৬৪ গ্রাম) স্বর্ণের দাম পড়বে ২ লাখ ৫৮ হাজার ৮২৪ টাকা। পাশাপাশি ২১ ক্যারেটের প্রতি ভরি ২ লাখ ৪৭ হাজার ৪৪ টাকা, ১৮ ক্যারেটের প্রতি ভরি ২ লাখ ১১ হাজার ৭৬০ টাকা এবং সনাতন পদ্ধতির প্রতি ভরি স্বর্ণের দাম পড়বে ১ লাখ ৭৩ হাজার ৩২৭ টাকা।   এ নিয়ে চলতি বছর দেশের বাজারে মোট ২৭ বার স্বর্ণের দাম সমন্বয় করলো বাজুস। এরমধ্যে ১৭ বারই দাম বাড়ানো হয়েছে। আর দাম কমেছে মাত্র ১০ বার। অন্যদিকে গতবছর দেশের বাজারে মোট ৯৩ বার স্বর্ণের দাম সমন্বয় করা হয়েছিল। যেখানে ৬৪ বারই দাম বাড়ানো হয়েছিল। এছাড়া ২০২৫ সালে ২৯ বার কমানো হয়েছিল স্বর্ণের দাম।

অভিবাসন নীতিতে কঠোরতা: এবার মেইনে ফেডারেল ইমিগ্রেশন অভিযানের ঘোষণা

যুক্তরাষ্ট্রে অভিবাসন নীতিতে কঠোরতা আরও স্পষ্ট হচ্ছে। সর্বশেষ মেইন (Maine) অঙ্গরাজ্যে ফেডারেল ইমিগ্রেশন অভিযান শুরুর ঘোষণা দিয়েছে Department of Homeland Security (ডিএইচএস)।   ডিএইচএসের এক মুখপাত্রের বরাতে জানা গেছে, “Operation Catch of the Day” নামে এই বিশেষ অভিযানের মাধ্যমে রাজ্যটিতে অবস্থানরত অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে জড়িত অবৈধ অভিবাসীদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তার করা হবে। অভিযানটি পরিচালনায় ফেডারেল ইমিগ্রেশন কর্মকর্তাদের পাশাপাশি স্থানীয় আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সমন্বয় রয়েছে।   কর্তৃপক্ষ বলছে, এই উদ্যোগের প্রধান লক্ষ্য জননিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং সহিংস বা গুরুতর অপরাধে যুক্ত ব্যক্তিদের আইনের আওতায় আনা। ডিএইচএস আরও জানায়, আইন মেনে বসবাসকারী বা অপরাধে জড়িত নন—এমন অভিবাসীদের লক্ষ্যবস্তু করা হবে না।   তবে মানবাধিকার ও অভিবাসী অধিকার সংগঠনগুলোর আশঙ্কা, এ ধরনের অভিযানে ভয় ও অনিশ্চয়তা তৈরি হতে পারে এবং নিরপরাধ মানুষও হয়রানির শিকার হতে পারেন। এ নিয়ে তারা স্বচ্ছতা ও যথাযথ আইনি প্রক্রিয়া অনুসরণের আহ্বান জানিয়েছে।   বিশ্লেষকদের মতে, মেইনে এই অভিযান শুরুর মাধ্যমে ফেডারেল সরকারের অভিবাসন আইন প্রয়োগ আরও বিস্তৃত পরিসরে জোরদার হলো। এর প্রভাব স্থানীয় অভিবাসী কমিউনিটির পাশাপাশি রাজ্যের রাজনৈতিক ও সামাজিক পরিমণ্ডলেও পড়তে পারে।  সূত্র: ABC News

ভিসা নিয়ে বড় সুখবর দিলো যুক্তরাষ্ট্র

যুক্তরাষ্ট্রের শ্রমবাজারে তীব্র কর্মী সংকট মোকাবিলায় ২০২৬ অর্থবছরে বড় ধরনের পদক্ষেপ নিয়েছে ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রশাসন। নিয়মিত কোটার বাইরে অতিরিক্ত প্রায় ৬৪ হাজার ৭১৬টি এইচ-২বি মৌসুমি অতিথি শ্রমিক ভিসা দেওয়ার চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।   রয়টার্সের বরাতে জানা গেছে, স্থানীয় সময় শুক্রবার (৩০ জানুয়ারি) প্রকাশিত ফেডারেল রেজিস্টার নোটিশে বলা হয়, দেশীয় শ্রমিকের ঘাটতির কারণে যেসব মার্কিন নিয়োগকর্তা বড় ধরনের আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়ছেন, মূলত তাদের স্বার্থ বিবেচনায় নিয়েই এই অতিরিক্ত ভিসার অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। ফলে বছরে নির্ধারিত ৬৬ হাজার এইচ-২বি ভিসার সংখ্যা প্রায় দ্বিগুণে পৌঁছাতে যাচ্ছে।   নতুন এই সিদ্ধান্তে নির্মাণ শিল্প, হোটেল ও রেস্তোরাঁ, ল্যান্ডস্কেপিং এবং সি-ফুড প্রক্রিয়াজাতকরণ খাতের মতো শ্রমনির্ভর মৌসুমি শিল্পগুলো সবচেয়ে বেশি উপকৃত হবে বলে মনে করা হচ্ছে। এসব খাতে দীর্ঘদিন ধরেই দক্ষ স্থানীয় কর্মীর অভাবে বিদেশি শ্রমিক আনার দাবি জানিয়ে আসছিলেন নিয়োগকর্তারা।   ক্ষমতায় আসার পর ট্রাম্প প্রশাসন অবৈধ অভিবাসনের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান নিলেও, বৈধ পথে কর্মসংস্থানের সুযোগ বাড়িয়ে অর্থনীতিকে সচল রাখতে এই নমনীয় সিদ্ধান্ত নিয়েছে। এর আগেও সাবেক প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন প্রশাসনের সময় শ্রমঘাটতি মোকাবিলায় এইচ-২বি ভিসার সংখ্যা বাড়ানো হয়েছিল।   তবে সরকারের এই সিদ্ধান্তের বিরোধিতাও রয়েছে। অভিবাসন কমানোর পক্ষে থাকা বিভিন্ন গোষ্ঠীর আশঙ্কা, বিপুল সংখ্যক বিদেশি শ্রমিক প্রবেশ করলে মার্কিন নাগরিকদের মজুরি কমে যেতে পারে।   এ বিষয়ে পেন্টাগন ও শ্রম মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, দেশের উন্নয়ন প্রকল্প এবং পর্যটন খাত সচল রাখতে এই মুহূর্তে বিদেশি শ্রমিকের বিকল্প নেই। ফেডারেল রেজিস্টারের তথ্যানুযায়ী, অতিরিক্ত এইচ-২বি ভিসা কার্যকরের বিশেষ বিধিমালা আগামী মঙ্গলবার আনুষ্ঠানিকভাবে প্রকাশ করা হবে এবং এরপরই আবেদন প্রক্রিয়া শুরু হবে। সূত্র: দ্য ফিন্যান্সিয়াল এক্সপ্রেস

Top week

ছবি: সংগৃহীত
আন্তর্জাতিক

হরমুজ প্রণালীতে জাহাজ পারাপারের বিনিময়ে ভারতের কাছে তিন ট্যাংকার ফেরত চাইল ইরান

ডেস্ক রিপোর্ট মার্চ ১৬, ২০২৬ 0