২০০ টাকায় পেট্রোল বিক্রি, কুমিল্লার মুদি দোকানিকে ২০ হাজার টাকা জরিমানা
কুমিল্লার চৌদ্দগ্রামে এক মুদি দোকানে ২০০ টাকা লিটারে পেট্রোল বিক্রির দায়ে দোকানিকে ২০ হাজার টাকা জরিমানা করেছে ভ্রাম্যমাণ আদালত। ভ্রাম্যমাণ আদালত অভিযান পরিচালনা করেন চৌদ্দগ্রাম উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. নুরুল আমিন। শুক্রবার (২৭ মার্চ) চিওড়া বাজারে অভিযানটি চালানো হয়।
ইউএনও নুরুল আমিন জানান, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে দোকানটিতে অভিযান চালানো হয়। সেখানে ২০০ থেকে ২১০ টাকায় পেট্রোল বিক্রি এবং তেল কম দেওয়ার বিষয়টি প্রমাণিত হওয়ায় দোকানির মালিক আবু রায়হান জুয়েলকে ২০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়েছে। ভবিষ্যতের জন্য তাকে সতর্ক করা হয়েছে।
তিনি আরও জানান, বিভিন্ন ডিলার ও সিন্ডিকেটের মাধ্যমে খোলা বাজারে তেল বিক্রি করা হচ্ছে। কারা ফিলিং স্টেশন থেকে তেল নিয়ে অবৈধভাবে বাজারে বিক্রি করছে, তা নজরদারিতে রাখা হচ্ছে।
© America Bangla | All Rights Reserved. আমেরিকা বাংলার পূর্বানুমতি ছাড়া এই প্রতিবেদনের লেখা, ছবি, গ্রাফিক্স বা অন্যান্য মৌলিক কনটেন্ট সম্পূর্ণ বা আংশিকভাবে কপি বা পুনঃপ্রকাশ করা নিষিদ্ধ। অনুমোদিত ব্যবহারের ক্ষেত্রে আমেরিকা বাংলা কে স্পষ্টভাবে সোর্স হিসেবে উল্লেখ করতে হবে।
যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন। মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়। তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।” ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে। প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন। ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন। প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল। মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি। রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।
যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর আগস্ট ২০২৬ সালের ভিসা বুলেটিন প্রকাশ করেছে। নতুন এই আপডেটে পরিবারভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি দেখা গেছে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের স্থায়ী বাসিন্দাদের স্বামী, স্ত্রী ও সন্তানদের জন্য নির্ধারিত এফ২এ ক্যাটাগরিতে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এসেছে। নতুন ভিসা বুলেটিন অনুযায়ী, পরিবারভিত্তিক কয়েকটি ক্যাটাগরিতে অপেক্ষার সময় কমার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এর মধ্যে এফ২এ ক্যাটাগরির অগ্রগতি সবচেয়ে বেশি, যেখানে যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডধারীদের স্বামী-স্ত্রী ও অবিবাহিত সন্তানদের আবেদন অন্তর্ভুক্ত থাকে। এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের অবিবাহিত প্রাপ্তবয়স্ক সন্তানদের জন্য এফ১ ক্যাটাগরি এবং অন্যান্য পরিবারভিত্তিক ক্যাটাগরিতেও কিছু অগ্রগতি দেখা গেছে। তবে আবেদনকারীদের ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার তারিখ বা প্রায়োরিটি ডেট অনুযায়ীই পরবর্তী ধাপ নির্ধারণ হবে। ভিসা বুলেটিনে বলা হয়েছে, পরিবারভিত্তিক অভিবাসন ভিসার সংখ্যা প্রতিবছর নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে দেওয়া হয়। তাই কোনো ক্যাটাগরিতে চাহিদা বেশি হলে অপেক্ষার সময় বাড়তে পারে এবং কম হলে তারিখ এগিয়ে আসতে পারে। অন্যদিকে কর্মসংস্থানভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য পরিস্থিতি তুলনামূলক কঠিন রয়েছে। বিশেষ করে কিছু এমপ্লয়মেন্ট-বেসড ক্যাটাগরিতে দীর্ঘ অপেক্ষা ও সীমিত ভিসা সংখ্যার কারণে আবেদনকারীদের অনিশ্চয়তা অব্যাহত রয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ী বসবাসের জন্য আবেদনকারীদের কাছে ভিসা বুলেটিন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এই তালিকার মাধ্যমে জানা যায়, কোন আবেদনকারীরা গ্রিন কার্ডের পরবর্তী ধাপে এগিয়ে যেতে পারবেন এবং কারা এখনও অপেক্ষার তালিকায় থাকবেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, নতুন এই পরিবর্তন অনেক পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীর জন্য আশার খবর হলেও, প্রতিটি আবেদনকারীর পরিস্থিতি নির্ভর করবে তাদের আবেদন জমার তারিখ, দেশভিত্তিক সীমা এবং ভিসা ক্যাটাগরির ওপর। যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ব্যবস্থায় দীর্ঘদিন ধরে গ্রিন কার্ডের অপেক্ষার তালিকা বড় একটি বিষয় হয়ে আছে। নতুন ভিসা বুলেটিনে পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীদের জন্য অগ্রগতি দেখা গেলেও, সব আবেদনকারী একইভাবে সুবিধা পাবেন না।
২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো। প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে। এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে। অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে। স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে। সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে। সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।
যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে। এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন। নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি। উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।” বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে। এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে। শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়। উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত। এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।
যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে এক মর্মান্তিক ও লোমহর্ষক ঘটনার জন্ম দিয়েছে দুই তরুণী বোন। দিনদুপুরে ক্যারোলিন ‘কারো’ পেনা নামের ৩২ বছর বয়সী এক নারীকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগে তাদের গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। নিহত নারী পাঁচ সন্তানের জননী ছিলেন। তবে সবচেয়ে শিউরে ওঠার মতো বিষয় হলো, গ্রেপ্তারের সময় অভিযুক্তদের চেহারায় অনুশোচনার সামান্যতম ছাপ তো ছিলই না, উল্টো তাদের মুখে পৈশাচিক হাসি দেখা গেছে। মেক্সিকো সীমান্তের কাছের শহর দেল রিও থেকে বৃহস্পতিবার বিকেলে পুলিশ তাদের হাতকড়া পরিয়ে নিয়ে যাওয়ার সময় এই দৃশ্য ক্যামেরায় ধরা পড়ে। আরও পড়ুন... ‘ফোনটা ধরতে পারলে হয়তো তাকে বাঁচাতে পারতাম’- টেক্সাসে পাঁচ সন্তানের মাকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা, দুই বোনসহ তিনজন গ্রেপ্তার পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নিহত ক্যারোলিনকে বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় দুপুর ২টার পরপরই গুরুতর জখম অবস্থায় ভাল ভার্দে রিজিওনাল মেডিকেল সেন্টারে নেওয়া হয়। তার শরীরে একাধিক ছুরিকাঘাতের চিহ্ন ছিল। ঘটনাস্থলের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, একটি সনিক ড্রাইভ-থ্রু রেস্তোরাঁর বাইরে রক্তাক্ত অবস্থায় ক্যারোলিন তার তিন হামলাকারীর মুখোমুখি দাঁড়িয়ে আছেন। পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য সান আন্তোনিওর একটি হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছায় এবং প্রায় ৩৫ হাজার বাসিন্দার শহর দেল রিওতে অভিযান চালিয়ে হামলাকারীদের শনাক্ত করে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া গ্রেপ্তারের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, ২১ বছর বয়সী কিটি মিয়া দিয়াজ খালি পায়ে হেঁটে যাওয়ার সময় পুলিশের গাড়িতে ওঠার আগে মৃদু হাসছেন। কিটি নিজেও এক শিশুপুত্রের মা। অন্যদিকে, তার ১৯ বছর বয়সী ছোট বোন আমায়া কুকি দিয়াজ ক্যামেরার দিকে তাকিয়ে নির্লজ্জভাবে দাঁত বের করে হাসতে থাকেন। ▶️ টেক্সাসে নিজের মাকে নির্মমভাবে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুই মেয়ে | এমনকি ভিডিও ধারণকারীকে ব্যঙ্গাত্মক সুরে ‘রেকর্ড করা বন্ধ করো’ বলেও চিৎকার করতে শোনা যায় তাকে। দেল রিও পুলিশ জানিয়েছে, এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ২১ বছর বয়সী কায়ান্দ্রা রেনি ফাজ নামের তৃতীয় আরেক নারীকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে ঠিক কী কারণে এই নারকীয় হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে, সে বিষয়ে পুলিশ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি।
বাংলাদেশ
View moreবাংলাদেশের টাঙ্গাইলে জন্ম নেওয়া সোমা এস. সাঈদ এখন যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্ক স্টেট সুপ্রিম কোর্টের বিচারপতি। ২০২৫ সালের ৪ নভেম্বর অনুষ্ঠিত নির্বাচনে কুইন্সের একাদশ জুডিশিয়াল ডিস্ট্রিক্ট থেকে তিনি নির্বাচিত হন। বর্তমানে নিউইয়র্কের আদালতের নথিতে তাঁকে কুইন্স সুপ্রিম কোর্টের সিভিল টার্মের বিচারপতি হিসেবে তালিকাভুক্ত করা হয়েছে। নিউইয়র্ক সিটি বোর্ড অব ইলেকশনসের চূড়ান্ত ফলাফল অনুযায়ী, ডেমোক্র্যাটিক পার্টির প্রার্থী সোমা সাঈদ পেয়েছেন ২ লাখ ৭৮ হাজার ৩১ ভোট। ওই নির্বাচনে কুইন্সের ভোটাররা সুপ্রিম কোর্টের পাঁচটি বিচারপতি পদে ভোট দেন। নির্বাচনের পর প্রকাশিত কিছু প্রতিবেদনে তাঁর ভোটের সংখ্যা কম উল্লেখ করা হলেও সরকারি চূড়ান্ত ফলে ২ লাখ ৭৮ হাজার ৩১ ভোটই দেখানো হয়েছে। সুপ্রিম কোর্টে যাওয়ার আগে থেকেই বিচারক হিসেবে কাজের অভিজ্ঞতা রয়েছে সোমা সাঈদের। ২০২১ সালে তিনি কুইন্স কাউন্টি থেকে নিউইয়র্ক সিটি সিভিল কোর্টের বিচারক নির্বাচিত হন। এশিয়ান আমেরিকান বার অ্যাসোসিয়েশন অব নিউইয়র্কের পরিচিতিতে তাঁকে নিউইয়র্ক স্টেট ও যুক্তরাষ্ট্রের প্রথম নির্বাচিত বাংলাদেশি আমেরিকান বিচারক হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে। ২০২২ থেকে ২০২৩ সাল পর্যন্ত ম্যানহাটনের নিউইয়র্ক কাউন্টি ক্রিমিনাল কোর্টেও বিচারিক দায়িত্ব পালন করেন সোমা। সেখানে আসামিদের প্রাথমিক হাজিরাসহ বিভিন্ন ধরনের ফৌজদারি মামলার কার্যক্রম পরিচালনার দায়িত্বে ছিলেন তিনি। বর্তমানে কুইন্স সুপ্রিম কোর্টের সিভিল টার্মের পার্ট ৩১-এর দায়িত্বে রয়েছেন সোমা সাঈদ। আদালতের প্রকাশিত কার্যবিধিতেও তাঁর নাম ও দায়িত্বের উল্লেখ রয়েছে। সোমা সাঈদের জন্ম টাঙ্গাইল জেলায়। তাঁর বাবা আফতাব উদ্দিন সাঈদ বাংলাদেশে ম্যাজিস্ট্রেট হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন। বিভিন্ন প্রতিবেদনে তাঁর মাকে প্রধান শিক্ষিকা হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে। বাংলাদেশে জন্ম ও বেড়ে ওঠার শিকড়ের সঙ্গে সম্পর্ক রেখেই যুক্তরাষ্ট্রের আইন ও বিচারাঙ্গনে নিজের অবস্থান তৈরি করেছেন তিনি। নিউইয়র্কেই তাঁর শিক্ষাজীবনের গুরুত্বপূর্ণ সময় কেটেছে। তিনি আইএস ২৩৮ ও জ্যামাইকা হাইস্কুলে পড়াশোনা করেন। এরপর সিটি কলেজ অব নিউইয়র্ক থেকে স্নাতক এবং আলবেনি ল স্কুল থেকে জুরিস ডক্টর ডিগ্রি অর্জন করেন। বিচারক হওয়ার আগে আইনজীবী হিসেবেও কাজ করেছেন তিনি। নিজের আইন প্রতিষ্ঠান পরিচালনার অভিজ্ঞতাও রয়েছে তাঁর পেশাগত জীবনে। আইন পেশার পাশাপাশি বিভিন্ন পেশাজীবী সংগঠনেও নেতৃত্ব দিয়েছেন সোমা সাঈদ। তিনি কুইন্স কাউন্টি উইমেনস বার অ্যাসোসিয়েশনের প্রথম দক্ষিণ এশীয় ও মুসলিম নারী সভাপতি ছিলেন বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। তাঁকে কুইন্সের প্রথম মুসলিম বিচারক হিসেবেও উল্লেখ করা হয়েছে। ২০২৫ সালের ১৯ ডিসেম্বর নিউইয়র্ক স্টেট সুপ্রিম কোর্টের বিচারপতি হিসেবে শপথ নেন সোমা সাঈদ। নির্বাচনের পর প্রকাশিত প্রতিবেদনে তাঁকে এ পদে নির্বাচিত প্রথম বাংলাদেশি আমেরিকান হিসেবে উল্লেখ করা হয়। শপথ অনুষ্ঠানে যুক্তরাষ্ট্রের আনুষ্ঠানিকতার পাশাপাশি বাংলাদেশের জাতীয় সংগীতও পরিবেশন করা হয়েছিল। নিউইয়র্ক স্টেট সুপ্রিম কোর্টের নাম বাংলাদেশের সুপ্রিম কোর্টের সঙ্গে মিল থাকলেও দুই দেশের আদালতব্যবস্থা এক নয়। নিউইয়র্কে স্টেট সুপ্রিম কোর্ট বিস্তৃত এখতিয়ারসম্পন্ন একটি বিচারিক আদালত, যেখানে দেওয়ানি ও ফৌজদারি মামলার বিচার হয়। নিউইয়র্ক স্টেটের সর্বোচ্চ আদালত হলো কোর্ট অব আপিলস। টাঙ্গাইলের মেয়ে সোমা সাঈদের বিচারিক জীবনের এই অগ্রযাত্রা যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশি আমেরিকানদের সাফল্যের গল্পে নতুন একটি অধ্যায় যুক্ত করেছে। সিভিল কোর্টের বিচারক থেকে নিউইয়র্ক স্টেট সুপ্রিম কোর্টের বিচারপতি হওয়া তাঁর দীর্ঘ পেশাগত পথচলার গুরুত্বপূর্ণ অর্জন হিসেবে সামনে এসেছে।
পুত্রবধূকে চাকরি না দেওয়ায় ক্ষুব্ধ, স্কুলের ফটকে বাঁশের বেড়া দিয়ে মাঠে কলাগাছ লাগালেন জমিদাতা
শাহজালাল বিমানবন্দরে দুই বিমানকর্মীর জুতায় মিলল ১৬ কোটি টাকার স্বর্ণ
সৌদি আরবের মদিনায় হামলার ঘটনায় বাংলাদেশের নিন্দা
চাঁদাবাজি, দখলচেষ্টা ও সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডের অভিযোগে জড়িত ব্যক্তিদের রাজনৈতিক পরিচয় বিবেচনা না করে আইনের আওতায় আনতে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। সরকারের সংশ্লিষ্ট সূত্রের বরাতে শনিবার (৩ অক্টোবর) যুগান্তর এ খবর জানিয়েছে। ঢাকা মহানগর পুলিশের কর্মকর্তারাও চলমান অভিযান জোরদারের কথা বলেছেন। এই অবস্থানের আলোচিত উদাহরণ হয়ে উঠেছে রাজধানীর মিরপুরের রাড্ডা মা ও শিশুস্বাস্থ্যকেন্দ্রে হামলা, লুটপাট ও স্থাপনা ভাঙচুরের ঘটনা। ২৪ সেপ্টেম্বর গভীর রাত থেকে পরদিন ভোরের মধ্যে স্বাস্থ্যকেন্দ্রটিতে হামলা হয়। পরে ভারী যন্ত্র দিয়ে এর স্থাপনার অংশ ভেঙে ফেলা হয়। ঘটনার তদন্তে গ্রেপ্তার ও দলীয় সাংগঠনিক ব্যবস্থা - দুই প্রক্রিয়াই চলছে। রাড্ডার ঘটনায় সম্পৃক্ততার অভিযোগ ওঠার পর বিএনপির সংরক্ষিত নারী আসনের সংসদ সদস্য ফেরদৌসী আহমেদ মিষ্টি ১ অক্টোবর স্পিকারের কাছে পদত্যাগপত্র জমা দেন। সংসদ সচিবালয় তাঁর আসন শূন্য ঘোষণা করেছে। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ জানিয়েছেন, তাঁর বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগের তদন্ত চলবে; সম্পৃক্ততা প্রমাণিত হলে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে। রাড্ডার ঘটনা নিয়ে আলোচনার মধ্যে ঢাকা মহানগর উত্তর বিএনপির আহ্বায়ক কমিটি এবং যুবদল ও ছাত্রদলের সংশ্লিষ্ট দুটি কমিটি বিলুপ্ত করা হয়। কয়েকজন নেতা-কর্মীকে বহিষ্কারও করা হয়েছে। কমিটি বিলুপ্তি ও বহিষ্কারের বিজ্ঞপ্তিগুলোতে সব সিদ্ধান্তের সঙ্গে রাড্ডার ঘটনার সরাসরি সম্পর্কের কথা বলা হয়নি। তদন্তের সর্বশেষ অগ্রগতিতে শনিবার আরও তিনজনকে গ্রেপ্তারের খবর পাওয়া গেছে। lএ নিয়ে রাড্ডার ঘটনায় মোট গ্রেপ্তার হয়েছেন ১৯ জন। গ্রেপ্তার ব্যক্তিদের মধ্যে বিএনপি ও এর অঙ্গসংগঠনের সাবেক ও বর্তমান নেতা-কর্মীও রয়েছেন। গ্রেপ্তার হওয়া আর আদালতে দোষী সাব্যস্ত হওয়া পৃথক বিষয়। স্পেশাল অ্যাকশন ব্যাটালিয়নের মহাপরিচালক আহসান হাবীব পলাশ বলেছেন, গোয়েন্দা তথ্য ও প্রযুক্তি ব্যবহার করে সন্ত্রাসী, চাঁদাবাজ ও অস্ত্রধারীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। ঢাকা মহানগর পুলিশ কমিশনার মোসলেহ উদ্দিন আহমদও বলেছেন, অপরাধের অভিযোগে কাউকে রাজনৈতিক বা সামাজিক প্রভাবের কারণে ছাড় দেওয়া হবে না এবং নগরীতে অভিযান জোরদার করা হবে। একই সময়ে ইসিবি চত্বরের কাছে নিউ গিনি প্রোপার্টিজ ও সালমান মুক্তাদিরের স্টুডিওতে হামলার মামলার তদন্তও চলছে। এটি রাড্ডার ঘটনা থেকে পৃথক মামলা। ওই মামলায় তখন পর্যন্ত সাতজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছিল। দুটি মামলার গ্রেপ্তারের সংখ্যা একসঙ্গে হিসাব করা যাবে না। সূত্র: যুগান্তর, প্রথম আলো
মাছ ধরতে গিয়ে ভয়াবহ বিপদ, শরীরে ঢুকে পেটের ভেতর অন্ত্র ফুটো করল জীবন্ত মাছ
রূপপুরে পৌঁছাল ইউরেনিয়াম, কঠোর নিরাপত্তায় চলছে পরিবহন
ডেঙ্গুর ভয়াবহ থাবা, বাংলাদেশে মৃত্যু ২৫০ ছাড়াল; অক্টোবরে পরিস্থিতি আরও খারাপ হওয়ার আশঙ্কা
বাংলাদেশে বিয়ে ও তালাক নিবন্ধন ব্যবস্থায় বড় ধরনের ডিজিটাল পরিবর্তন আনার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। ধাপে ধাপে দেশের বিবাহ ও তালাক নিবন্ধন কার্যক্রম অনলাইন ব্যবস্থার আওতায় আনা হচ্ছে বলে জানিয়েছেন আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান। শনিবার, ৩ অক্টোবর রাজধানীর নিকেতনে ব্র্যাক লার্নিং সেন্টারে নিকাহ রেজিস্ট্রারদের জন্য আয়োজিত ১০ দিনব্যাপী প্রশিক্ষণ কর্মসূচির উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে তিনি এ তথ্য জানান। কর্মসূচির বিষয় ছিল অনলাইনে বিবাহ ও তালাক নিবন্ধনের সফটওয়্যার ব্যবহারের নিয়ম। আইনমন্ত্রীর বক্তব্য অনুযায়ী, ডিজিটাল নিবন্ধন চালু হলে একজন ব্যক্তি আগে কোথাও বিয়ে করেছেন কি না, তা সহজেই যাচাই করা যাবে। একইভাবে তথ্য গোপন করে কেউ একাধিক বিয়ে করার চেষ্টা করলে নিবন্ধিত তথ্যের মাধ্যমে সেটিও শনাক্ত করা সম্ভব হবে। এই ব্যবস্থার অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ দিক হলো বিবাহের তথ্যকে জাতীয় পরিচয়পত্র, জন্মনিবন্ধন ও পাসপোর্টের কেন্দ্রীয় তথ্যভান্ডারের সঙ্গে পর্যায়ক্রমে যুক্ত করা। ফলে একজন ব্যক্তির পরিচয় ও বৈবাহিক অবস্থার তথ্য যাচাইয়ের সুযোগ আরও সহজ হবে। আইনমন্ত্রী বলেছেন, কোনো ব্যক্তিকে আগে থেকেই বিবাহিত হিসেবে পাওয়া গেলে পরবর্তী বিয়ের ক্ষেত্রে প্রয়োজনীয় অনুমতি নেওয়া হয়েছে কি না, সেটিও যাচাই করা সম্ভব হবে। এর ফলে অননুমোদিত বহুবিবাহ ও তথ্য গোপনের ঘটনা প্রতিরোধে সহায়তা পাওয়া যেতে পারে। বাল্যবিবাহ ঠেকানোর ক্ষেত্রেও এই প্রযুক্তি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে বলে জানিয়েছেন তিনি। কারণ জন্মনিবন্ধন ও জাতীয় পরিচয়পত্রের তথ্যের সঙ্গে বিবাহ নিবন্ধনের তথ্য যুক্ত হলে বয়স যাচাইয়ের সুযোগ বাড়বে। ফলে ভুয়া কাগজপত্র ব্যবহার করে অপ্রাপ্তবয়স্কদের বিয়ে দেওয়ার চেষ্টা শনাক্ত করা সহজ হতে পারে। তবে পুরো দেশজুড়ে ব্যবস্থা চালুর আগে নির্দিষ্ট এলাকায় পরীক্ষামূলকভাবে কার্যক্রম পরিচালনা করা হচ্ছে। এর আগে আইন ও বিচার বিভাগের প্রকল্পের আওতায় ১০টি জেলার ১০টি উপজেলার ১০২টি ইউনিয়নে ডিজিটাল বিবাহ ও তালাক নিবন্ধন ব্যবস্থা পরীক্ষামূলকভাবে চালুর পরিকল্পনা নেওয়া হয়। নির্বাচিত এলাকার নিকাহ রেজিস্ট্রারদের প্রয়োজনীয় প্রশিক্ষণ, ল্যাপটপ ও অন্যান্য ডিজিটাল সরঞ্জাম দেওয়ার উদ্যোগও রয়েছে। সরকারি পরিকল্পনা অনুযায়ী, পরীক্ষামূলক কার্যক্রম সফল হলে অভিজ্ঞতার ভিত্তিতে ধাপে ধাপে দেশের অন্যান্য এলাকাতেও এই ব্যবস্থা সম্প্রসারণ করা হবে। এর আগে সেপ্টেম্বরেও আইনমন্ত্রী জানিয়েছিলেন, ডিজিটাল নিবন্ধন ব্যবস্থার মাধ্যমে জাতীয় পরিচয়পত্র ও জন্মনিবন্ধন তথ্যের সঙ্গে সরাসরি সংযোগ তৈরি হলে ভুয়া কাগজপত্র ব্যবহার করে বাল্যবিবাহ এবং তথ্য গোপন করে অননুমোদিত বহুবিবাহের সুযোগ কমানো সম্ভব হবে। তবে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, ডিজিটাল ব্যবস্থা চালু হলেই বাল্যবিবাহ বা বহুবিবাহ পুরোপুরি বন্ধ হয়ে যাবে—এমন নিশ্চয়তা এখনো দেওয়া হয়নি। এটি মূলত তথ্য যাচাই, নিবন্ধন ও নজরদারি আরও কার্যকর করার একটি প্রযুক্তিগত উদ্যোগ। এর সফলতা নির্ভর করবে সঠিক তথ্য সংযোগ, সব নিকাহ রেজিস্ট্রারের অংশগ্রহণ এবং আইন যথাযথভাবে প্রয়োগের ওপর। সবকিছু ঠিকভাবে বাস্তবায়িত হলে বিয়ের তথ্য গোপন করা কঠিন হতে পারে এবং ভবিষ্যতে একজন ব্যক্তির বৈবাহিক অবস্থাও দ্রুত যাচাই করা সম্ভব হবে। ফলে বিয়ে নিবন্ধন ব্যবস্থায় স্বচ্ছতা বাড়ানোর পাশাপাশি প্রতারণা ও কিছু ধরনের অনিয়ম প্রতিরোধে নতুন সুযোগ তৈরি হতে পারে।
ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের ভারপ্রাপ্ত নেতৃত্বে বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত ত্রিশিতা
বন্ধ মিটারে ২০ ইউনিট বিদ্যুৎ ব্যবহার দেখিয়ে বিল ২৯ হাজার! বিপাকে গ্রাহক