সাপ্তাহিক আমেরিকা বাংলা ই-পেপার

ক্যালিফোর্নিয়া

চীনের অনিবন্ধিত এজেন্ট হিসেবে কাজের অভিযোগে ফেডারেল মামলার মুখোমুখি হয়েছেন ক্যালিফোর্নিয়ার এই রিয়েল এস্টেট এজেন্ট। ছবি: সংগৃহীত
লস অ্যাঞ্জেলেসে বিলাসবহুল জীবনযাপন করা চীনা নারী গুপ্তচরবৃত্তির অভিযোগে গ্রেপ্তার

ক্যালিফোর্নিয়ার ইরভিনের ৩৪ বছর বয়সী রিয়েল এস্টেট এজেন্ট ওয়ানইং ঝাং, যিনি ‘হিদার ঝাং’ নামেও পরিচিত, চীনের সরকারের অনিবন্ধিত এজেন্ট হিসেবে কাজ এবং যুক্তরাষ্ট্রে তাইওয়ানের প্রেসিডেন্ট লাই চিং-তে’র পরিবারের সদস্যকে নজরদারির অভিযোগে গ্রেপ্তার হয়েছেন। যুক্তরাষ্ট্রের বিচার বিভাগ জানিয়েছে, রোববার লস অ্যাঞ্জেলেস আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়। অভিযোগ অনুযায়ী, তিনি চীনের উদ্দেশে একটি ফ্লাইটে ওঠার প্রস্তুতি নিচ্ছিলেন।   ফেডারেল অভিযোগপত্র অনুযায়ী, ২০২৫ সালের জুন থেকে সেপ্টেম্বরের মধ্যে ঝাং চীনা সরকারি কর্মকর্তাদের নির্দেশনা ও নিয়ন্ত্রণে যুক্তরাষ্ট্রে বিভিন্ন কার্যক্রমে অংশ নেন। এর মধ্যে ছিল তাইওয়ানের একজন উচ্চপর্যায়ের সরকারি কর্মকর্তার পরিবারের সদস্যদের বাসস্থানের ওপর নজরদারি। মার্কিন কর্মকর্তারা বলছেন, এই কাজে ঝাং অন্য একজনের সঙ্গে সমন্বয় করেন এবং নজরদারি থেকে পাওয়া ছবি, ভিডিও ও গাড়ির নম্বর চীনা কর্মকর্তাদের কাছে পাঠান।   মার্কিন কর্মকর্তারা সরাসরি অভিযোগপত্রে ভুক্তভোগীর নাম প্রকাশ না করলেও এফবিআই ও একাধিক মার্কিন সংবাদমাধ্যম জানিয়েছে, লক্ষ্য ছিলেন তাইওয়ানের প্রেসিডেন্ট লাই চিং-তে’র ছেলে লাই টিং-ইউ। তিনি যুক্তরাষ্ট্রের সিয়াটল এলাকায় বসবাস ও কাজ করেন। অভিযোগ অনুযায়ী, ২০২৫ সালের ১ সেপ্টেম্বর ঝাং ও তার এক সহযোগী ভাড়া করা গাড়িতে করে ওই ব্যক্তির বাড়ির কাছে যান। প্রতিবেশীর নিরাপত্তা ক্যামেরায় তাদের গাড়িতে অপেক্ষা এবং পরে বাড়িতে আসা পরিবারের সদস্যদের ছবি বা ভিডিও করার দৃশ্য ধরা পড়ে বলে তদন্তকারীরা জানিয়েছেন।   অভিযোগপত্রে আরও বলা হয়েছে, ওই অভিযানের সময় ঝাং চীনা এক কর্মকর্তাকে বার্তা পাঠিয়ে জানান যে তিনি লক্ষ্য ব্যক্তিকে দেখতে পেয়েছেন। পরে ওই কর্মকর্তা ফোনে কথা বলতে চাইলে ঝাং জানান, তিনি তখন ভিডিও ধারণ করছেন। তদন্তকারীদের দাবি, ঝাং ওই ব্যক্তির বাড়ির সামনে থাকা দুটি গাড়ির নম্বরও চীনা কর্মকর্তাকে পাঠিয়েছিলেন। মার্কিন কর্মকর্তাদের ভাষ্য, উচ্চপর্যায়ের তাইওয়ানি কর্মকর্তার পরিবারের সদস্যদের অবস্থান, বাড়ি ও গাড়ির তথ্য ভবিষ্যতে চাপ প্রয়োগের কাজে ব্যবহার করা হতে পারে।   ফেডারেল তদন্তে ঝাংয়ের চীনা কর্মকর্তাদের সঙ্গে যোগাযোগের বিষয়টিও উঠে এসেছে। অভিযোগপত্র অনুযায়ী, তার আইক্লাউড অ্যাকাউন্টের তথ্য ও বার্তা পর্যালোচনা করে তদন্তকারীরা জানতে পারেন, তিনি বেইজিংয়ের ইউনিভার্সিটি অব ইন্টারন্যাশনাল রিলেশনসে পড়াশোনা করেছিলেন। সেখানে পড়ার সময়ের এক সাবেক সহপাঠীর সঙ্গে তার যোগাযোগ ছিল, যাকে তদন্তকারীরা চীনা সরকারের সঙ্গে যুক্ত বলে উল্লেখ করেছেন। ওই ব্যক্তির মাধ্যমে পরে ঝাং আরেক চীনা সরকারি কর্মকর্তার সঙ্গে যোগাযোগ করেন বলে অভিযোগে বলা হয়েছে।   অভিযোগপত্রে বলা হয়, ২০২৫ সালের জুনে ঝাং চীনে গিয়ে চীনা কর্মকর্তাদের সঙ্গে দেখা করেন। এরপর যুক্তরাষ্ট্রে একটি বাড়ি নিয়ে তাদের মধ্যে আলোচনা হয়। আগস্টের শেষ দিকে ঝাং ও আরেক ব্যক্তি ক্যালিফোর্নিয়ার জন ওয়েন বিমানবন্দর থেকে লাস ভেগাস যান এবং সেখান থেকে ১ সেপ্টেম্বর সিয়াটলের উদ্দেশে রওনা হন। সিয়াটলে পৌঁছে তারা একটি গাড়ি ভাড়া করে নজরদারির কথিত স্থানে যান। তদন্তকারীরা বলছেন, পুরো যাত্রাটি চীনা কর্মকর্তাদের নির্দেশনায় পরিচালিত হয়েছিল।   গ্রেপ্তারের আগে ঝাংয়ের জীবনযাপনও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বেশ দৃশ্যমান ছিল। বিভিন্ন পোস্টে তাকে প্যারিসসহ বিভিন্ন জায়গায় ভ্রমণ এবং যুক্তরাষ্ট্রের পশ্চিমাঞ্চলে বন্ধুদের সঙ্গে সময় কাটাতে দেখা যায়। তার স্বামী এডরিক ডিংও একই রিয়েল এস্টেট প্রতিষ্ঠানে কাজ করেন। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের পোস্টে তাদের বিভিন্ন সময় একসঙ্গে থাকার ছবি এবং বিভিন্ন অনুষ্ঠান ও খাবারের জায়গায় যাওয়ার তথ্য দেখা যায়। তবে এসব ব্যক্তিগত তথ্যের সঙ্গে তার বিরুদ্ধে আনা ফেডারেল অভিযোগের সরাসরি কোনো সম্পর্ক প্রতিষ্ঠিত হয়নি।   শিক্ষাজীবন নিয়েও বিভিন্ন প্রতিবেদনে তথ্য এসেছে। প্রকাশ্য পেশাগত তথ্য অনুযায়ী, ঝাং ইউনিভার্সিটি অব সাদার্ন ক্যালিফোর্নিয়া বা ইউএসসিতে পড়াশোনা করেছেন বলে উল্লেখ রয়েছে। অন্যদিকে ফেডারেল অভিযোগপত্রে বেইজিংয়ের ইউনিভার্সিটি অব ইন্টারন্যাশনাল রিলেশনসে তার পড়াশোনার তথ্য রয়েছে। তদন্তকারী এফবিআই কর্মকর্তা ওই বিশ্ববিদ্যালয়ের সঙ্গে চীনের গোয়েন্দা কাঠামোর ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক থাকার কথা অভিযোগপত্রে উল্লেখ করেছেন, যদিও এটিকে ঝাংয়ের বিরুদ্ধে অপরাধের স্বতন্ত্র প্রমাণ হিসেবে আদালত এখনো নির্ধারণ করেনি।   ঝাংয়ের স্বামী এডরিক ডিং গ্রেপ্তারের বিষয়ে বিস্তারিত মন্তব্য করতে রাজি হননি। সিবিএস নিউজের পক্ষ থেকে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, বিষয়টি সম্পর্কে তিনি এখনো কিছু জানেন না এবং পরে আর মন্তব্য করতে চাননি। ঝাংয়ের বিরুদ্ধে বর্তমানে একটি ফেডারেল অভিযোগ রয়েছে এবং তার আইনজীবী বিষয়টি নিয়ে প্রকাশ্যে বিস্তারিত বক্তব্য দিয়েছেন কি না, তাৎক্ষণিকভাবে তা পরিষ্কার ছিল না।   সোমবার লস অ্যাঞ্জেলেসের ফেডারেল আদালতে ঝাংয়ের প্রাথমিক হাজিরা অনুষ্ঠিত হয়। আদালতে তিনি নিজের নাম ও অভিযোগটি বুঝতে পেরেছেন কি না, সে বিষয়ে সংক্ষিপ্তভাবে কথা বলেন। তাকে ইউএস মার্শালদের হেফাজতে রাখা হয়েছে এবং পরবর্তী শুনানিতে তার জামিন বা হেফাজতে থাকার বিষয়ে সিদ্ধান্ত হওয়ার কথা। অভিযোগ প্রমাণিত হলে ফেডারেল আইনে তার সর্বোচ্চ ১০ বছরের কারাদণ্ড হতে পারে। তবে আদালতে দোষী প্রমাণিত না হওয়া পর্যন্ত তিনি আইনগতভাবে নির্দোষ হিসেবে বিবেচিত হবেন।   ঝাংয়ের গ্রেপ্তারের ঘটনাটি যুক্তরাষ্ট্রে চীনের কথিত গোপন তৎপরতা নিয়ে সাম্প্রতিক কয়েকটি মামলার ধারাবাহিকতার অংশ। এর আগে ক্যালিফোর্নিয়ার আর্কাডিয়ার সাবেক মেয়র ইলিন ওয়াং চীনের হয়ে যুক্তরাষ্ট্রে অনিবন্ধিত এজেন্ট হিসেবে কাজ করার অভিযোগে দোষ স্বীকার করেছিলেন। এছাড়া সাবেক তাইওয়ানের প্রেসিডেন্ট সাই ইং-ওয়েনের যুক্তরাষ্ট্র সফরের সময় নজরদারির অভিযোগে আরেক ব্যক্তির বিরুদ্ধেও মামলা হয়েছিল। এসব ঘটনায় যুক্তরাষ্ট্রের কর্মকর্তারা বিদেশি সরকারের গোপন তৎপরতা মোকাবিলায় পাল্টা গোয়েন্দা কার্যক্রম জোরদারের কথা জানিয়েছেন।   তাইওয়ানের প্রেসিডেন্টের কার্যালয়ও ঘটনাটিকে গুরুত্বের সঙ্গে নিয়েছে। তাইওয়ানি কর্মকর্তারা এটিকে বিদেশে থাকা তাইওয়ানি নাগরিক ও তাদের পরিবারের ওপর নজরদারি এবং চাপ প্রয়োগের বৃহত্তর প্রবণতার অংশ হিসেবে দেখছেন। অন্যদিকে চীনের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, তারা এই নির্দিষ্ট ঘটনা সম্পর্কে অবগত নয় এবং তথাকথিত চীনা গুপ্তচরবৃত্তির অভিযোগ ব্যবহার করে চীনকে হেয় করার বিরোধিতা করে।   তথ্যসূত্র: যুক্তরাষ্ট্রের বিচার বিভাগ, অ্যাসোসিয়েটেড প্রেস ও সিবিএস নিউজ।

মোহাম্মদ ইব্রাহিম অক্টোবর ৫, ২০২৬ ১৪:০
চীনে ৩০ কোটি ডলারের সার্ভার পাচারের অভিযোগে ক্যালিফোর্নিয়ার ব্যবসায়ী গ্রেপ্তার
চীনে ৩০ কোটি ডলারের সার্ভার পাচারের অভিযোগে ক্যালিফোর্নিয়ার ব্যবসায়ী গ্রেপ্তার

যুক্তরাষ্ট্রের রপ্তানি নিয়ন্ত্রণ এড়িয়ে চীনে ৩০ কোটি ডলারের বেশি মূল্যের উচ্চক্ষমতাসম্পন্ন কম্পিউটার সার্ভার পাঠানোর অভিযোগে ক্যালিফোর্নিয়ার এক প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানের মালিককে গ্রেপ্তার করেছে মার্কিন কর্তৃপক্ষ। বৃহস্পতিবার, ১ অক্টোবর গ্রেগ লুই নামের ওই ব্যবসায়ীকে গ্রেপ্তারের কথা জানায় বিচার বিভাগ। তিনি ইউ কং লুই নামেও পরিচিত। তাঁর বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ এখনো আদালতে প্রমাণিত হয়নি।   বিচার বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, ৩৮ বছর বয়সী লুই ‘আর্থমেড কম্পিউটার’ নামে একটি প্রতিষ্ঠানের মালিক। গত ২৯ সেপ্টেম্বর তাঁর বিরুদ্ধে তিনটি অভিযোগে ফেডারেল আদালতে অভিযোগপত্র দেওয়া হয়। অভিযোগগুলো হলো রপ্তানি নিয়ন্ত্রণ আইন লঙ্ঘনের ষড়যন্ত্র, যুক্তরাষ্ট্র থেকে পণ্য পাচার এবং অর্থ পাচারের ষড়যন্ত্র।   অভিযোগপত্রে বলা হয়েছে, লুই ও তাঁর সহযোগীরা যুক্তরাষ্ট্রে তৈরি উচ্চক্ষমতাসম্পন্ন গ্রাফিকস প্রসেসরযুক্ত সার্ভার কেনেন। এসব প্রযুক্তি চীনে পাঠাতে মার্কিন সরকারের বিশেষ অনুমতি প্রয়োজন ছিল। কিন্তু মার্কিন সরবরাহকারীদের দেওয়া নথিতে সার্ভারগুলোর শেষ গন্তব্য সম্পর্কে ভুল তথ্য দেখিয়ে সেগুলো প্রথমে মালয়েশিয়া ও সিঙ্গাপুরে পাঠানো হয়। তদন্তকারীদের দাবি, পরে সেখান থেকে সার্ভারগুলো চীনে পুনরায় রপ্তানি করা হয়।   বিচার বিভাগ একটি নির্দিষ্ট চালানের বিবরণও দিয়েছে। তাদের দাবি, ২০২৪ সালের জানুয়ারিতে লুই প্রায় ৭৬ লাখ ডলারে ২৭টি সার্ভার কেনার অর্ডার দেন এবং সেগুলো লস অ্যাঞ্জেলেস থেকে মালয়েশিয়ার কুয়ালালামপুরে পাঠানো হয়। অভিযোগপত্র অনুযায়ী, পরবর্তী সময়ে এক সহযোগীর ইমেইলে ওই সার্ভারগুলো চীনের একজন ক্রেতার কাছে পাঠানোর কথা উল্লেখ ছিল।   বিচার বিভাগের দাবি, এই কার্যক্রমের অংশ হিসেবে ২০২৪ সালের জানুয়ারি থেকে অক্টোবরের মধ্যে লুইয়ের প্রতিষ্ঠান মালয়েশিয়াভিত্তিক দুটি চালান প্রতিষ্ঠানের কাছ থেকে ১৭ কোটি ৬০ লাখ ডলারের বেশি পেয়েছে। এই অর্থপ্রাপ্তির হিসাব এবং অভিযোগে উল্লেখ করা ৩০ কোটি ডলারের বেশি সার্ভারের মূল্য এক বিষয় নয়।   মার্কিন কর্তৃপক্ষের বক্তব্য, উচ্চক্ষমতাসম্পন্ন এসব প্রসেসর কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার কাজে ব্যবহৃত হয় এবং এ ধরনের প্রযুক্তি রপ্তানিতে জাতীয় নিরাপত্তার কারণে বিধিনিষেধ রয়েছে। মামলাটি এফবিআই, বাণিজ্য বিভাগ এবং প্রতিরক্ষা বিভাগের তদন্তকারীরা দেখছেন। বিচার বিভাগ জানিয়েছে, অভিযোগপত্র দোষী সাব্যস্ত হওয়ার প্রমাণ নয়; আদালতে অভিযোগ প্রমাণিত না হওয়া পর্যন্ত লুই নির্দোষ হিসেবে বিবেচিত হবেন।   সূত্র: যুক্তরাষ্ট্রের বিচার বিভাগের ১ অক্টোবর ২০২৬ সালের সংবাদ বিজ্ঞপ্তি; রয়টার্স।

নীলুফা নিশাত অক্টোবর ৩, ২০২৬ ১৪:০
ক্যালিফোর্নিয়ায় দাবানলের ধ্বংসস্তূপে গড়ে উঠল ১৪ মিলিয়ন ডলারের বিলাসবহুল বাড়ি
ক্যালিফোর্নিয়ায় দাবানলের ধ্বংসস্তূপে গড়ে উঠল ১৪ মিলিয়ন ডলারের বিলাসবহুল বাড়ি

২০২৫ সালের ভয়াবহ দাবানলে ধ্বংসস্তূপে পরিণত হওয়া ক্যালিফোর্নিয়ার প্যাসিফিক প্যালিসেডসে নতুন করে প্রাণ ফিরতে শুরু করেছে। আগুন নেভার পর ওই ‘বার্ন স্কার’ বা দাবানলকবলিত এলাকায় গড়ে ওঠা প্রথম দিককার একটি নতুন বাড়ি বিক্রির জন্য বাজারে তোলা হয়েছে, যার দাম হাঁকা হচ্ছে ১ কোটি ৩৯ লাখ ৯০ হাজার (প্রায় ১৪ মিলিয়ন) ডলার। প্যাসিফিক প্যালিসেডসের ৮৩৭ মাস্কিংগাম অ্যাভিনিউতে অবস্থিত পাঁচ বেডরুমের এই বিলাসবহুল বাড়িটি স্থানীয়দের ঘুরে দাঁড়ানোর এক উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত হিসেবে দেখছেন সংশ্লিষ্ট আবাসন ব্যবসায়ীরা।   কম্পাস-এর তালিকাভুক্ত ব্রোকার রায়ান জানকুলা জানান, দাবানলের সময় যে সড়কটি তুলনামূলকভাবে বেঁচে গিয়েছিল, সেখানেই বাড়িটি নির্মিত হয়েছে। অ্যালিসন হোয়াইট হোমস-এর ডেভেলপার অ্যালিসন হোয়াইট বর্তমানে এই এলাকায় মোট ১৪টি বাড়ি নির্মাণ করছেন। এর মধ্যে মাস্কিংগাম অ্যাভিনিউয়ের বাড়িটির কাজ সবার আগে শেষ হয়েছে, কারণ দাবানল শুরুর আগেই এর অনুমতিপত্র নেওয়া ছিল।   হোয়াইট জানান, বাকি বাড়িগুলোর বেশিরভাগই ওই দাবানলে গৃহহীন হয়ে পড়া মানুষদের জন্য তৈরি করা হচ্ছে। ক্যালিফোর্নিয়ার ওই এলাকায় বর্তমানে ১ হাজার ১০০-এর বেশি নতুন বাড়ির নির্মাণকাজ চললেও এখন পর্যন্ত মাত্র ৪৩টি বাড়িকে পুনরায় বসবাসের সনদ বা ‘সার্টিফিকেট অব অকুপেন্সি’ দেওয়া হয়েছে।   প্রায় ১৪ মিলিয়ন ডলারের এই বাড়িটি শুধু বিলাসবহুলই নয়, বরং ভবিষ্যতে যেকোনো ধরনের দাবানল মোকাবিলার অত্যাধুনিক প্রযুক্তিসম্পন্ন। ৬ হাজার ৫১১ বর্গফুটের এই সুবিশাল বাসভবনে রয়েছে চমৎকার সানরুম, শেফস কিচেন, কাস্টম ওয়েট বার, মুভি থিয়েটার এবং স্পা-সুবিধাযুক্ত বাথরুম। বাইরের অংশে রয়েছে দৃষ্টিনন্দন ইনফিনিটি পুল, সনা, কোল্ড প্লাঞ্জ, আউটডোর কিচেন এবং ফায়ার পিট।   নিরাপত্তার কথা বিশেষভাবে মাথায় রেখে এতে অত্যাধুনিক ফায়ার সাপ্রেশন সিস্টেম, ছাদে স্প্রিঙ্কলার এবং আগুন-প্রতিরোধী বিশেষ ভেন্ট ব্যবহার করা হয়েছে, যা ক্লায়েন্টদের বাড়তি স্বস্তি দেবে।   তবে সার্বিক এই পুনর্গঠন প্রক্রিয়া স্থানীয়দের জন্য মোটেও সহজ নয়। অনেক মানুষ যারা ৩০-৪০ বছর ধরে নিজেদের চিরস্থায়ী ঠিকানায় বসবাস করছিলেন, তারা মানসিকভাবে দারুণ বিপর্যস্ত। এর পাশাপাশি প্রশাসনিক দীর্ঘসূত্রিতা ও শান্তা ইনেজ জলাধারে পানির অভাবের মতো দীর্ঘমেয়াদি সমস্যাগুলো আবাসন বাজারকে বেশ ভাবাচ্ছে।   যে কারণে দাবানলকবলিত এলাকার বাইরে নির্মিত কিছু বিলাসবহুল বাড়ির দাম এরই মধ্যে ২ মিলিয়ন ডলার পর্যন্ত কমানো হয়েছে। এতসব চ্যালেঞ্জ ও শঙ্কার পরও প্রতিনিয়ত নতুন বাড়ির কাজ শুরু হওয়ার দৃশ্য স্থানীয় গৃহহীন বাসিন্দাদের মনে নতুন করে আশা জাগাচ্ছে।

ইসতিয়াক আহমেদ অক্টোবর ৩, ২০২৬ ১৪:০
ক্যালিফোর্নিয়ার নার্স মরিন ওয়ানজিরুকে দুই দশক যুক্তরাষ্ট্রে বসবাসের পর কেনিয়ায় ফেরত পাঠিয়েছে আইসিই। ছবি: সংগৃহীত
কানাডায় যাওয়ার পরিকল্পনার মধ্যেই নার্সকে ডিপোর্ট করল আইসিই

যুক্তরাষ্ট্রে প্রায় দুই দশক বসবাসের পর কেনিয়ায় ফেরত পাঠানো হয়েছে ক্যালিফোর্নিয়ার নার্স ও দুই সন্তানের মা মরিন ওয়ানজিরু এনগুরেকে। পরিবারের সঙ্গে কানাডায় যাওয়ার পরিকল্পনা থাকলেও সান ফ্রান্সিসকোয় আইসিইর কার্যালয়ে নির্ধারিত সাক্ষাতে গিয়ে আটক হন তিনি। নিউজউইকের প্রতিবেদন অনুযায়ী, এক মাসের বেশি আটক থাকার পর ২২ সেপ্টেম্বর তাঁকে কেনিয়ায় পাঠানো হয়।    এনগুরে ২০০৬ সালের নভেম্বরে স্টুডেন্ট ভিসায় বৈধভাবে যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশ করেন। পরে ক্যালিফোর্নিয়ায় নার্স হিসেবে কর্মজীবন গড়ে তোলেন। তিনি মার্টিনেজের কন্ট্রা কস্টা কাউন্টি রিজিওনাল মেডিকেল সেন্টারে কাজ করেছেন এবং কাউন্টির করোনাভাইরাস মোকাবিলার কার্যক্রমেও অংশ নিয়েছেন বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ রয়েছে।    তাঁর স্বামী পিটার মুচেন্দু সান ফ্রান্সিসকো ক্রনিকলকে জানিয়েছেন, ট্রাম্প প্রশাসনের ডিপোর্টেশন অভিযানের মধ্যে জানুয়ারি থেকেই তাঁরা যুক্তরাষ্ট্র ছাড়ার পরিকল্পনা করছিলেন। আটকের আগেই পরিবারটি কানাডাকে বেছে নেয়। নিউজউইকের তথ্য অনুযায়ী, ব্রিটিশ কলাম্বিয়ায় স্বাস্থ্যসেবা খাতে চাকরির সুযোগও পেয়েছিলেন এনগুরে।    তবে যুক্তরাষ্ট্রের হোমল্যান্ড সিকিউরিটি বিভাগের বক্তব্য, এনগুরে স্টুডেন্ট ভিসায় অনুমোদিত থাকার সময় অতিক্রম করেছিলেন। বিভাগের দাবি অনুযায়ী, ২০১২ সালের ফেব্রুয়ারিতে একজন অভিবাসন বিচারক তাঁর বিরুদ্ধে চূড়ান্ত বহিষ্কারাদেশ দেন। তাঁকে অন্যায়ভাবে আটক করা হয়েছে বলে পরিবার ও সমর্থকদের দাবি প্রত্যাখ্যান করেছে কর্তৃপক্ষ।    এনগুরের আইনজীবী রেজিন ডুপুই নিউজউইককে জানিয়েছেন, তাঁকে ফেরত পাঠানোর পর স্বামী ও দুই সন্তানও কেনিয়ায় গিয়ে তাঁর সঙ্গে মিলিত হয়েছেন। পরিবারটি এখন পরবর্তী পদক্ষেপ বিবেচনা করছে। কানাডায় স্থানান্তরের সম্ভাবনাও তাঁদের বিবেচনায় রয়েছে, তবে এ বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্তের কথা জানানো হয়নি।

তাবাস্সুম অক্টোবর ২, ২০২৬ ১৪:০
শিশু লুনার মৃত্যুর পর তদন্ত শুরু করে লস অ্যাঞ্জেলেস পুলিশ ডিপার্টমেন্ট। ছবি: সংগৃহীত
লস অ্যাঞ্জেলেসে ডাস্টবিনে মিলল ৪ মাস বয়সী শিশুর মরদেহ, হত্যার অভিযোগে গ্রেপ্তার মা

যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়া অঙ্গরাজ্যের দক্ষিণ লস অ্যাঞ্জেলেসে ডাস্টবিন থেকে চার মাস বয়সী এক শিশুর মরদেহ উদ্ধারের ঘটনায় তার ১৯ বছর বয়সী মায়ের বিরুদ্ধে হত্যা মামলা হয়েছে। তাকিয়াহ রোশেল বাবার্সের বিরুদ্ধে একটি হত্যা মামলা এবং শিশুর মৃত্যুর কারণ হওয়া নির্যাতনের একটি গুরুতর অভিযোগ আনা হয়েছে। লস অ্যাঞ্জেলেস কাউন্টি জেলা অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, তিনি ২০ লাখ ডলার জামিনে আটক রয়েছেন।   লস অ্যাঞ্জেলেস পুলিশ বিভাগের (এলএপিডি) তথ্য অনুযায়ী, ২৮ সেপ্টেম্বর রাত সাড়ে ১০টার দিকে দক্ষিণ লস অ্যাঞ্জেলেসের আলবা স্ট্রিটের ৫২০০ ব্লকে একটি শিশুকে ডাস্টবিনের ভেতর পাওয়া যাওয়ার খবর পেয়ে নিউটন ডিভিশনের কর্মকর্তারা সেখানে যান। ঘটনাস্থলে তারা শিশুটিকে অচেতন অবস্থায় দেখতে পান। পরে লস অ্যাঞ্জেলেসের দমকল বিভাগের কর্মীরা তাকে স্থানীয় একটি হাসপাতালে নিয়ে গেলে চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন।   পুলিশ জানিয়েছে, শিশুটিকে উদ্ধারের সময় তার মরদেহ একটি আবর্জনার পাত্রের ভেতরে ছিল এবং ধারণা করা হচ্ছে, উদ্ধারের আগের ২৪ ঘণ্টার মধ্যেই তাকে সেখানে রাখা হয়েছিল। ঘটনাটি প্রথমে মৃত্যুর তদন্ত হিসেবে নেওয়া হলেও পরে পুলিশ এটিকে হত্যাকাণ্ড হিসেবে তদন্ত শুরু করে। তদন্তের এক পর্যায়ে শিশুটির মা তাকিয়াহ বাবার্সকে সন্দেহভাজন হিসেবে শনাক্ত করা হয় এবং ২৯ সেপ্টেম্বর তাকে কোনো ধরনের ঘটনার সৃষ্টি ছাড়াই গ্রেপ্তার করা হয়।   পরিবারের সদস্যরা শিশুটির নাম লুনা বাবার্স বলে জানিয়েছেন। তার দেখাশোনা করতেন লরা লেসি ও হারম্যান জনসন, যারা বাবার্সের পালক অভিভাবক। ২৮ সেপ্টেম্বর সন্ধ্যায় তারা শিশুটিকে তার মায়ের কাছে রেখে যান। পরে শিশুটিকে খুঁজে না পেয়ে তারা এলাকায় ফিরে আসেন এবং জানতে পারেন, কাছাকাছি একটি ডাস্টবিন থেকে একটি শিশুকে উদ্ধার করা হয়েছে।   লস অ্যাঞ্জেলেস টাইমসের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, শিশুটিকে যেখানে পাওয়া যায় সেটি পুয়েব্লো দেল রিও আবাসিক এলাকার কাছাকাছি। স্থানীয় এক বাসিন্দা রাতে ডাস্টবিনে আবর্জনা ফেলতে গিয়ে ভেতরে একটি কালো কাপড়ের ব্যাগ দেখতে পান। প্রথমে তিনি সেটিকে পুতুল মনে করেছিলেন। পরে শিশুটিকে দেখতে পেয়ে তিনি আরেক প্রতিবেশীর সঙ্গে জরুরি সেবায় ফোন করেন।   শিশুটির পরিবারের সদস্যরা এ ঘটনায় গভীর শোক প্রকাশ করেছেন। লরা লেসি স্থানীয় সংবাদমাধ্যমকে বলেছেন, লুনা তার কাছে ছিল এবং ঘটনার আগে তিনি শিশুটিকে বাবার্সের কাছে রেখে গিয়েছিলেন। পরিবারের পক্ষ থেকে বাবার্সের বিরুদ্ধে ইচ্ছাকৃতভাবে শিশুটির মৃত্যুর অভিযোগ তোলা হলেও, এসব বক্তব্য এখনো আদালতে প্রমাণিত হয়নি। তদন্তকারীরাও শিশুটির মৃত্যুর সুনির্দিষ্ট কারণ বা ঘটনার সম্ভাব্য উদ্দেশ্য প্রকাশ করেননি।   ঘটনার পর দক্ষিণ লস অ্যাঞ্জেলেসের ওই এলাকায় স্থানীয় বাসিন্দারা শিশুটির স্মরণে মোমবাতি, ফুল ও বেলুন দিয়ে একটি অস্থায়ী স্মৃতিচিহ্ন তৈরি করেন। ৩০ সেপ্টেম্বর স্থানীয় বাসিন্দা ও স্বজনেরা লুনার স্মরণে একটি মোমবাতি প্রজ্বালন অনুষ্ঠানে অংশ নেন। পরিবারের সদস্যরা সেখানে শিশুটির মৃত্যুতে শোক প্রকাশ করেন। লস অ্যাঞ্জেলেস পুলিশ বিভাগ জানিয়েছে, তাদের শিশু নির্যাতন তদন্তকারী ইউনিট ঘটনাটির পরিস্থিতি খতিয়ে দেখছে। শিশুটির মৃত্যুর কারণ নির্ধারণসহ ঘটনার আগে কী ঘটেছিল, সে বিষয়ে তদন্ত অব্যাহত রয়েছে। পুলিশ বলেছে, এ বিষয়ে তথ্য থাকা ব্যক্তিদের তদন্তকারীদের সঙ্গে যোগাযোগ করতে বলা হয়েছে।   ১ অক্টোবর আদালতে বাবার্সের প্রাথমিক শুনানি হওয়ার কথা থাকলেও তা পিছিয়ে দেওয়া হয় এবং তিনি কোনো আবেদন বা জবানবন্দি দেননি। তার পরবর্তী আদালত-শুনানি ৩০ অক্টোবর নির্ধারণ করা হয়েছে। হত্যাসহ তার বিরুদ্ধে আনা অভিযোগগুলো এখনো বিচারাধীন, তাই আদালতে দোষ প্রমাণিত না হওয়া পর্যন্ত তিনি আইনগতভাবে নির্দোষ হিসেবে বিবেচিত হবেন।   সূত্র: লস অ্যাঞ্জেলেস পুলিশ বিভাগ, লস অ্যাঞ্জেলেস টাইমস, এবিসি৭

মোহাম্মদ ইব্রাহিম অক্টোবর ২, ২০২৬ ১৪:০
সান ফ্রান্সিসকোতে বাসা ভাড়া মারাত্মক আকার ধারণ করেছে, যা যুক্তরাষ্ট্রের অন্য যেকোনো শহরের চেয়ে বেশি। ছবি: সংগৃহীত
নিউইয়র্কের চেয়েও ব্যয়বহুল সান ফ্রান্সিসকোর দুই বেডরুমের বাসা, ভাড়া ৬,৩৪০ ডলার

সান ফ্রান্সিসকোতে বাড়িভাড়ার চাপ নতুন উচ্চতায় পৌঁছেছে। যুক্তরাষ্ট্রের ভাড়া বাজার নিয়ে জাম্পারের সেপ্টেম্বরের প্রতিবেদনে দেখা গেছে, শহরটিতে এক বেডরুমের অ্যাপার্টমেন্টের মধ্যম ভাড়া মাসে ৪ হাজার ৪০০ ডলারে উঠেছে, যা এক বছর আগের তুলনায় ২৫ দশমিক ৪ শতাংশ বেশি। একই সময়ে দুই বেডরুমের অ্যাপার্টমেন্টের মধ্যম ভাড়া বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৬ হাজার ৩৪০ ডলারে, যা যুক্তরাষ্ট্রের বড় শহরগুলোর মধ্যে সর্বোচ্চ।   জাম্পারের তথ্য অনুযায়ী, দুই বেডরুমের ভাড়ার ক্ষেত্রে সান ফ্রান্সিসকো নিউইয়র্ক সিটিকেও ছাড়িয়ে গেছে। নিউইয়র্কে একই ধরনের বাসার মধ্যম ভাড়া ৫ হাজার ৪৫০ ডলার। অর্থাৎ দুই বেডরুমের বাসার ক্ষেত্রে সান ফ্রান্সিসকোতে মধ্যম ভাড়া নিউইয়র্কের তুলনায় মাসে ৮৯০ ডলার বেশি। এক বেডরুমের ক্ষেত্রে অবশ্য নিউইয়র্ক এখনো এগিয়ে। নিউইয়র্কে এর মধ্যম ভাড়া ৪ হাজার ৫৮০ ডলার, সান ফ্রান্সিসকোতে ৪ হাজার ৪০০ ডলার।   সান ফ্রান্সিসকোর এক বেডরুমের ভাড়া শুধু নিউইয়র্কের কাছাকাছি পৌঁছেছে তা নয়, গত এক বছরে এর বৃদ্ধির হারও উল্লেখযোগ্য। জাম্পারের হিসাব বলছে, সেপ্টেম্বর মাসে এক বেডরুমের ভাড়া মাসিক হিসাবে ২ দশমিক ৩ শতাংশ এবং বার্ষিক হিসাবে ২৫ দশমিক ৪ শতাংশ বেড়েছে। দুই বেডরুমের ক্ষেত্রে মাসিক বৃদ্ধি ৩ দশমিক ৬ শতাংশ এবং এক বছরের ব্যবধানে বৃদ্ধি ২৬ দশমিক ৮ শতাংশ। জুলাই মাসেই দুই বেডরুমের মধ্যম ভাড়া প্রথমবারের মতো ৬ হাজার ডলার ছাড়িয়েছিল।   ভাড়ার এই ঊর্ধ্বগতির পেছনে কয়েকটি কারণ রয়েছে বলে জাম্পার জানিয়েছে। এর মধ্যে অন্যতম হলো কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই খাতে কর্মসংস্থানের দ্রুত বৃদ্ধি। সান ফ্রান্সিসকো ও আশপাশের এলাকায় এ খাতের নতুন কর্মসংস্থান বাড়ায় আবাসনের চাহিদাও বাড়ছে। কিন্তু সেই তুলনায় নতুন আবাসন সরবরাহ সীমিত থাকায় ভাড়ার ওপর অতিরিক্ত চাপ তৈরি হচ্ছে। জাম্পারের প্রধান নির্বাহী শন মুলাহি বলেন, যুক্তরাষ্ট্রে এখন একক কোনো ভাড়া বাজার নেই, বিভিন্ন শহরে আবাসন সরবরাহ ও চাহিদার পার্থক্যের কারণে পরিস্থিতি আলাদা হয়ে উঠেছে।   সান ফ্রান্সিসকোর এই পরিস্থিতি পুরো বে এরিয়া অঞ্চলের সঙ্গে তুলনা করলেও স্পষ্ট হয়ে ওঠে। জাম্পারের সেপ্টেম্বরের তথ্য অনুযায়ী, পাশের সান হোসেতে এক বেডরুমের মধ্যম ভাড়া ২ হাজার ৮৯০ ডলার। অন্যদিকে ওকল্যান্ডে একই ধরনের বাসার মধ্যম ভাড়া ২ হাজার ১০০ ডলার। অর্থাৎ সান ফ্রান্সিসকোর ৪ হাজার ৪০০ ডলারের তুলনায় এই দুই শহরে ভাড়া অনেক কম।   জাতীয় চিত্র আরও বড় পার্থক্য দেখাচ্ছে। সেপ্টেম্বর মাসে যুক্তরাষ্ট্রজুড়ে এক বেডরুমের অ্যাপার্টমেন্টের মধ্যম ভাড়া ছিল ১ হাজার ৫১৮ ডলার, যা এক বছর আগের তুলনায় মাত্র শূন্য দশমিক ১ শতাংশ বেশি। দুই বেডরুমের মধ্যম ভাড়া ছিল ১ হাজার ৯০৩ ডলার, যা বার্ষিক হিসাবে শূন্য দশমিক ৫ শতাংশ বেড়েছে। অর্থাৎ জাতীয় বাজারে ভাড়ার পরিবর্তন তুলনামূলকভাবে সীমিত থাকলেও সান ফ্রান্সিসকোতে বৃদ্ধি অনেক বেশি।   জাম্পারের প্রতিবেদনে আরও বলা হয়েছে, সেপ্টেম্বর মাসে সান ফ্রান্সিসকো যুক্তরাষ্ট্রের শহরগুলোর মধ্যে এক বেডরুমের ভাড়া বৃদ্ধির দিক থেকেও শীর্ষে ছিল। এক বছরে ২৫ দশমিক ৪ শতাংশ বৃদ্ধির পর শহরটির পরেই ছিল ভার্জিনিয়া বিচ, যেখানে এক বেডরুমের ভাড়া বেড়েছে ১৬ দশমিক ৪ শতাংশ। অন্যদিকে অতিরিক্ত আবাসন সরবরাহের কারণে টেক্সাসের কয়েকটি শহরে ভাড়া কমেছে।   ভাড়ার চাপ নিয়ে স্থানীয় পর্যায়েও উদ্বেগ বাড়ছে। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সান ফ্রান্সিসকোর মেয়র ড্যানিয়েল লুরি চলতি মাসে শহরের আবাসন পরিস্থিতিকে ‘ভাড়া জরুরি অবস্থা’ হিসেবে উল্লেখ করেছেন। তিনি ভাড়ার দ্রুত বৃদ্ধি এবং উচ্ছেদের আশঙ্কা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। ভাড়াটিয়াদের সুরক্ষায় ভাড়া বৃদ্ধির সর্বোচ্চ সীমা ১০ শতাংশ নির্ধারণ এবং ভাড়াটিয়াদের আইনি সহায়তার জন্য প্রায় ৫ কোটি ৫০ লাখ ডলারের তহবিলের প্রস্তাবও দেওয়া হয়েছে।   জাম্পারের তথ্য অনুযায়ী, সেপ্টেম্বরের শেষ নাগাদ সান ফ্রান্সিসকোতে তাদের প্ল্যাটফর্মে প্রায় ৬৫০টি ভাড়ার বাসা তালিকাভুক্ত ছিল। শহরটির সামগ্রিক মধ্যম ভাড়া ছিল প্রায় ৪ হাজার ৫০০ ডলার, যা জাতীয় গড়ের তুলনায় ১৩৭ শতাংশ বেশি। তবে জাম্পারের হিসাব মূলত অনলাইনে প্রকাশিত ভাড়ার তালিকার মধ্যম মূল্যভিত্তিক। অর্থাৎ এটি শহরের প্রতিটি বাসার প্রকৃত চুক্তিভিত্তিক ভাড়া বা সব ভাড়াটিয়ার পরিশোধ করা অর্থের সরাসরি পরিমাপ নয়। প্রতিষ্ঠানটি জানিয়েছে, তাদের জাতীয় ভাড়া সূচক যুক্তরাষ্ট্রের জনসংখ্যার দিক থেকে ১০০টি বড় শহরের এক ও দুই বেডরুমের সক্রিয় ভাড়ার তালিকা বিশ্লেষণ করে তৈরি করা হয়।   সূত্র: রয়টার্স

মোহাম্মদ ইব্রাহিম অক্টোবর ২, ২০২৬ ১৪:০
যুক্তরাষ্ট্রে শিক্ষাঋণের মাসিক কিস্তিতে রাজ্যভেদে বড় পার্থক্য, শীর্ষে ভার্মন্ট
যে রাজ্যে শিক্ষাঋণের মাসিক কিস্তি সবচেয়ে বেশি, নতুন প্রতিবেদনে চমকপ্রদ তথ্য

যুক্তরাষ্ট্রে উচ্চশিক্ষার খরচ শুধু কলেজে পড়ার সময়ই নয়, পড়াশোনা শেষ হওয়ার পরও বহু মানুষের ওপর দীর্ঘদিন আর্থিক চাপ তৈরি করছে। নতুন এক প্রতিবেদনে দেখা গেছে, দেশটির বিভিন্ন রাজ্যে শিক্ষাঋণের মাসিক কিস্তিতে বড় ধরনের পার্থক্য রয়েছে। কোথাও ঋণগ্রহীতাদের মধ্যম মাসিক কিস্তি ২৫৮ ডলার, আবার কোথাও তা ১৬০ ডলারের কাছাকাছি।   ওয়ালেটহাবের ১ অক্টোবর প্রকাশিত বিশ্লেষণ অনুযায়ী, ভার্মন্টে শিক্ষাঋণের মধ্যম মাসিক কিস্তি সবচেয়ে বেশি—২৫৮ ডলার। এরপর রয়েছে ম্যাসাচুসেটস ২৫০ ডলার, মেরিল্যান্ড ২৪৯ ডলার, নিউ হ্যাম্পশায়ার ২৪৯ ডলার এবং কানেকটিকাট ২৪৭ ডলার।   তালিকার শীর্ষ ১০-এর মধ্যে রয়েছে নিউ জার্সি ২৪৬ ডলার, নিউইয়র্ক ২৪২ ডলার, ইলিনয় ২৩৮ ডলার এবং ক্যালিফোর্নিয়া ২৩৭ ডলার। ক্যালিফোর্নিয়া এ তালিকায় নবম অবস্থানে রয়েছে।   অন্যদিকে, সবচেয়ে কম মধ্যম মাসিক কিস্তি দেখা গেছে ওয়াইওমিং ও আরকানসাসে—দুই রাজ্যেই ১৬০ ডলার। নর্থ ডাকোটায় ১৬১ ডলার, কেনটাকিতে ১৬২ ডলার এবং ওয়েস্ট ভার্জিনিয়ায় ১৬৫ ডলার। ফলে সর্বোচ্চ ও সর্বনিম্ন রাজ্যের মধ্যে মাসিক কিস্তির ব্যবধান প্রায় ৯৮ ডলার।   ওয়ালেটহাব এই তালিকা তৈরি করতে ৫০টি রাজ্যের ভোক্তা-আর্থিক তথ্য বিশ্লেষণ করে প্রতিটি রাজ্যে ঋণগ্রহীতাপ্রতি শিক্ষাঋণের মধ্যম মাসিক পরিশোধের পরিমাণ নির্ধারণ করেছে। এখানে ‘মধ্যম’ অর্থ হলো তালিকার মাঝামাঝি অবস্থানের পরিমাণ; এটি প্রত্যেক ঋণগ্রহীতার প্রকৃত গড় কিস্তি বোঝায় না।   দেশজুড়ে শিক্ষাঋণের পরিমাণও বিশাল। যুক্তরাষ্ট্রের ফেডারেল স্টুডেন্ট এইডের সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, জুন ২০২৬ পর্যন্ত ৪ কোটি ২৩ লাখ ঋণগ্রহীতার নামে ১.৭ ট্রিলিয়ন ডলারের বেশি ফেডারেল শিক্ষাঋণ বকেয়া ছিল। এর মধ্যে শিক্ষা বিভাগের সরাসরি ব্যবস্থাপনায় থাকা ঋণের পরিমাণ ১.৬৪ ট্রিলিয়ন ডলারের বেশি।   ফেডারেল স্টুডেন্ট এইডের তথ্য আরও বলছে, জুন ২০২৬ পর্যন্ত প্রায় ৯৩ লাখ ঋণগ্রহীতা খেলাপির পর্যায়ে ছিলেন। তাদের বকেয়া ফেডারেল শিক্ষাঋণের পরিমাণ ছিল প্রায় ২৩৪ বিলিয়ন ডলার। একই সময়ে ১ কোটি ৭৪ লাখের বেশি ঋণগ্রহীতার অন্তত একটি ঋণ পরিশোধ বা বকেয়া অবস্থায় ছিল।   ঋণের সুদের হারও পরিশোধের সময়কে প্রভাবিত করে। ২০২৬–২৭ শিক্ষাবর্ষে নতুন করে বিতরণ করা স্নাতক পর্যায়ের ফেডারেল ডাইরেক্ট সাবসিডাইজড ও আনসাবসিডাইজড ঋণের নির্ধারিত সুদের হার ৬.৫২ শতাংশ। একই সময়ে স্নাতকোত্তর পর্যায়ের ডাইরেক্ট আনসাবসিডাইজড ঋণের হার ৮.০৭ শতাংশ এবং ডাইরেক্ট প্লাস ঋণের হার ৯.০৭ শতাংশ।   ওয়ালেটহাবের বিশ্লেষক চিপ লুপোর হিসাব অনুযায়ী, প্রায় ৪০ হাজার ৫০০ ডলারের ঋণ এবং ৬.৫২ শতাংশ স্থির সুদের হার ধরে ২০ বছরের মধ্যে ঋণ পুরোপুরি পরিশোধ করতে মাসে প্রায় ৩০২ ডলার দিতে হবে। অর্থাৎ অনেক ঋণগ্রহীতা বর্তমানে যে মধ্যম কিস্তি দিচ্ছেন, সেই হারে ঋণ শোধ করতে ২০ বছরেরও বেশি সময় লাগতে পারে।   রাজ্যভেদে কিস্তির এই পার্থক্য শিক্ষাঋণের আর্থিক চাপ যে যুক্তরাষ্ট্রজুড়ে সমান নয়, সেটিই তুলে ধরছে। বিশেষ করে ভার্মন্ট, ম্যাসাচুসেটস, মেরিল্যান্ড ও নিউ হ্যাম্পশায়ারের মতো রাজ্যে মধ্যম মাসিক কিস্তি ২৪৯ থেকে ২৫৮ ডলারের মধ্যে। বিপরীতে ওয়াইওমিং ও আরকানসাসে তা ১৬০ ডলার।

অলি উল্লাহ আল মাসুদ অক্টোবর ১, ২০২৬ ১৪:০
হাসপাতালে চিকিৎসাধীন ১৭ মাস বয়সী ব্রুকলিন মারিস। ছবি: সংগৃহীত
কোষ্ঠকাঠিন্য সারাতে কাঁচা দুধ পান, ই-কোলাই সংক্রমণে ক্যালিফোর্নিয়ায় ১৭ মাসের শিশুর কিডনি বিকল

যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় কাঁচা ছাগলের দুধ পান করার পর ১৭ মাস বয়সী এক শিশু গুরুতর E. coli সংক্রমণে আক্রান্ত হয়ে মৃত্যুর কাছাকাছি চলে গিয়েছিল। ব্রুকলিন মারিস নামের শিশুটিকে শ্বাস নিতে ভেন্টিলেটরে রাখতে হয়, কিডনি কাজ না করায় কয়েক দিন ডায়ালাইসিস দিতে হয়। চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার হৃদস্পন্দন তিনবার বন্ধ হয়ে যায় বলে শিশুটির মা এমিলি মারিসের বরাত দিয়ে অনুসন্ধানী প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে প্রোপাবলিকা।   ঘটনার শুরু ২০২৫ সালের ২ জুন। সাঁতার শেখার ক্লাস থেকে ফেরার পথে পরিবারের গাড়ির পেছনের আসনে থাকা ব্রুকলিন হঠাৎ বমি করতে শুরু করে। প্রথমে বমির রং ছিল হলুদ, পরে তা নীলচে-সবুজ ও গাঢ় রঙের হয়ে যায়। দুই দিন ধরে অবস্থার অবনতি হতে থাকলে তাকে জরুরি বিভাগে নেওয়া হয়। সেখানে চিকিৎসকেরা রক্ত পরীক্ষায় গুরুতর সমস্যা দেখতে পেয়ে প্রায় ৭০ মাইল দূরের রেডি চিলড্রেনস হাসপাতালে স্থানান্তরের ব্যবস্থা করেন।   হাসপাতালে পরীক্ষা করে ব্রুকলিনের শরীরে E. coli O157 নামের বিপজ্জনক একটি ব্যাকটেরিয়ার সংক্রমণ শনাক্ত হয়। এর ফলে তার হেমোলাইটিক ইউরেমিক সিনড্রোম বা এইচইউএস দেখা দেয়। এই অবস্থায় ক্ষুদ্র রক্তনালিতে রক্ত জমাট তৈরি হয়ে কিডনিসহ গুরুত্বপূর্ণ অঙ্গ ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে। ব্রুকলিনের কিডনি গুরুতরভাবে আক্রান্ত হওয়ায় তাকে ডায়ালাইসিস দিতে হয় এবং শ্বাস-প্রশ্বাসের জন্য ভেন্টিলেটরে রাখতে হয়। এক পর্যায়ে তার রক্তে অম্লতা এত বেড়ে যায় যে হৃদযন্ত্রের স্বাভাবিক বৈদ্যুতিক কার্যক্রমও ব্যাহত হয়।   ব্রুকলিনের মা এমিলি মারিস জানিয়েছেন, মেয়েকে হারানোর আশঙ্কায় তারা হাসপাতালের সেই দিনগুলোতে জানতেন না সে বাঁচবে কি না। চিকিৎসকেরা তার খাবারের সাম্প্রতিক ইতিহাস জানতে চাইলে এমিলি কাঁচা ছাগলের দুধ দেওয়ার কথা জানান। চিকিৎসকেরা তখন দুধটিকেই সম্ভাব্য সংক্রমণের উৎস হিসেবে সন্দেহ করেন। পরে ব্রুকলিনের মল পরীক্ষায় E. coli O157 শনাক্ত হয়, যা কাঁচা দুধের মাধ্যমে ছড়াতে পারে এমন অন্যতম গুরুতর খাদ্যবাহিত জীবাণু।   ব্রুকলিনের ক্ষেত্রে কাঁচা দুধ বেছে নেওয়ার পেছনে ছিল কোষ্ঠকাঠিন্যের সমস্যা। এমিলি ৪৮ বছর বয়সে তৃতীয় সন্তানের মা হন। সাত সপ্তাহ আগেই জন্ম নেওয়া ব্রুকলিনের ওজন ছিল কম এবং তার ফুসফুসও পুরোপুরি বিকশিত হয়নি। জন্মের পর প্রথম এক মাস তাকে নবজাতক নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্রে থাকতে হয়। পরে মায়ের দীর্ঘস্থায়ী ব্যথার চিকিৎসায় এমন একটি ওষুধ শুরু হলে, যা বুকের দুধের মাধ্যমে শিশুর শরীরে যেতে পারে, এমিলিকে বুকের দুধের বিকল্প খুঁজতে হয়।   বাজারের গরুর দুধ খেয়ে ব্রুকলিনের কোষ্ঠকাঠিন্য বাড়ছিল বলে এমিলি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের একটি মায়েদের গ্রুপে বিকল্পের সন্ধান করেন। সেখানে কয়েকজন মা কাঁচা ছাগলের দুধের প্রশংসা করেন এবং কাছাকাছি একটি খামারের কথা জানান। খামারটি ছিল তাদের বাড়ি থেকে প্রায় ১০ মাইল দূরে। এমিলি সেখানে গিয়ে কাঁচা ছাগলের দুধ সংগ্রহ করেন। দুধটি তখনও উষ্ণ ছিল এবং ব্রুকলিন সেটি সহজেই পান করেছিল। এরপর প্রায় ছয় মাস কোনো বড় সমস্যা ছাড়াই শিশুটিকে ওই দুধ দেওয়া হয়।   তদন্তে আরও গুরুত্বপূর্ণ একটি তথ্য উঠে আসে। ব্রুকলিন অসুস্থ হওয়ার কয়েক দিনের মধ্যেই একই খামারের দুধ পান করা ছয় বছর বয়সী আরেক শিশুও গুরুতর অসুস্থ হয়ে পড়ে। ভিক্টোরিয়া নামের ওই শিশুরও E. coli O157 সংক্রমণ এবং হেমোলাইটিক ইউরেমিক সিনড্রোম ধরা পড়ে। তাকেও রেডি চিলড্রেনস হাসপাতালে নিবিড় পরিচর্যা নিতে হয়। দুই পরিবারের মধ্যে পরে যোগাযোগ হয় এবং তারা জানতে পারেন, তাদের সন্তানরা একই খামারের দুধ পান করার পর একই বিরল ধরনের E. coli সংক্রমণে আক্রান্ত হয়েছে।   ব্রুকলিন হাসপাতালে থাকার সময় তার মা দুধ বিক্রেতা কোর্টনি বেকারকে বিষয়টি জানান এবং অন্যদের কাছে দুধ বিক্রি সাময়িকভাবে বন্ধ রাখার অনুরোধ করেন। বেকার প্রথমে জানান, তার দুধ পরীক্ষায় কোনো অস্বাভাবিকতা পাওয়া যায়নি। পরে কথোপকথনে তিনি স্বীকার করেন যে E. coli পরীক্ষা করা হয়নি। এর পরও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে খামার থেকে ‘পরিষ্কার ও পরীক্ষিত’ ছাগলের দুধ পাওয়ার প্রচার চালানো হচ্ছিল বলে প্রোপাবলিকার প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।   এরপর ক্যালিফোর্নিয়ার কৃষি ও খাদ্য নিরাপত্তা কর্মকর্তারা খামারটি নিয়ে তদন্ত শুরু করেন। ২০২৫ সালের ২০ জুন কর্মকর্তারা সেখানে গিয়ে বেকারের সঙ্গে কথা বলেন। বেকারের বক্তব্য ছিল, দুধ মানুষের জন্য নয়, পোষা প্রাণীর খাবার হিসেবে বিক্রি করা হয়। ক্যালিফোর্নিয়ায় মানুষের ব্যবহারের জন্য কাঁচা দুধ বিক্রি করতে লাইসেন্সের প্রয়োজন হলেও নির্দিষ্ট শর্তে পোষা প্রাণীর খাবার হিসেবে কাঁচা দুধ বিক্রির সুযোগ রয়েছে। প্রোপাবলিকার প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, এই ব্যবস্থার সুযোগ নিয়ে কিছু বিক্রেতা মানুষের ব্যবহারের জন্যও দুধ সরবরাহ করছেন বলে স্বাস্থ্য ও নিয়ন্ত্রক কর্মকর্তাদের মধ্যে উদ্বেগ রয়েছে।   তদন্তের সময় কর্মকর্তারা খামারটিকে দুধজাত পণ্য উৎপাদন বন্ধের নির্দেশ দেন এবং অনুমোদন ছাড়া খাদ্যপণ্য পরিচালনার জন্য একটি লঙ্ঘন নোটিশ দেন। পরে খামার থেকে একটি দুধের নমুনা সংগ্রহ করা হয়। তবে সেই নমুনায় E. coli-সহ কয়েকটি জীবাণুর উপস্থিতি পাওয়া যায়নি। তদন্তকারীরা উল্লেখ করেছেন, নমুনাটি শিশুদের অসুস্থ হওয়ার কয়েক সপ্তাহ পর সংগ্রহ করা হয়েছিল এবং খামারটির পক্ষ থেকেই নমুনাটি দেওয়া হয়েছিল। ফলে ওই পরীক্ষার ফল থেকে আগের দুধে E. coli ছিল কি না, তা নিশ্চিতভাবে বলা যায়নি।   খামারের মালিক কোর্টনি বেকার প্রোপাবলিকাকে জানিয়েছেন, তিনি প্রতিবেদনের তথ্য উপস্থাপনের সঙ্গে তীব্রভাবে একমত নন। তার দাবি, খামারের দুধ পোষা প্রাণীর জন্য বিক্রি করা হতো এবং ক্রেতারা সেটি কীভাবে ব্যবহার করবেন, সেটি তার নিয়ন্ত্রণের বিষয় নয়। তিনি আরও বলেছেন, খামার থেকে নেওয়া পরীক্ষার ফল নেতিবাচক ছিল। বেকারের পক্ষ থেকে মামলার অভিযোগের বিরুদ্ধে আদালতে পূর্ণাঙ্গভাবে লড়াই করার কথা জানানো হয়েছে। বিষয়টি এখনো আদালতে বিচারাধীন।   অন্যদিকে, ব্রুকলিনের পরিবার ও ভিক্টোরিয়ার পরিবার খামারের মালিকের বিরুদ্ধে মামলা করেছে। তাদের অভিযোগ, মানুষের পান করার উপযোগী হিসেবে উপস্থাপন করে দূষিত কাঁচা দুধ বিক্রি করা হয়েছিল। মামলাটি এখনো চলমান এবং অভিযোগগুলো আদালতে প্রমাণিত হয়নি।   হাসপাতাল থেকে সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরলেও ব্রুকলিনের স্বাভাবিক বিকাশে দীর্ঘমেয়াদি প্রভাব পড়েছে বলে তার মা জানিয়েছেন। আগে হাঁটাচলা ও কথা বলার ক্ষেত্রে এগিয়ে থাকা শিশুটি পরে শারীরিক থেরাপি নিতে শুরু করে। তার হাঁটায় সামান্য সমস্যা দেখা দেয় এবং ঘুমের ক্ষেত্রেও সমস্যা তৈরি হয়। চিকিৎসকেরা ভবিষ্যতে কিডনি নিয়ে জটিলতার ঝুঁকির কথা জানিয়েছেন এবং নিয়মিত কিডনি বিশেষজ্ঞের তত্ত্বাবধানে থাকার পরামর্শ দিয়েছেন।   ঘটনাটি আবারও কাঁচা দুধের নিরাপত্তা নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রে চলমান বিতর্ক সামনে এনেছে। যুক্তরাষ্ট্রের খাদ্য ও ওষুধ প্রশাসন বা এফডিএ বলছে, কাঁচা দুধে E. coli, সালমোনেলা, লিস্টেরিয়া ও ক্যাম্পিলোব্যাক্টরের মতো ক্ষতিকর জীবাণু থাকতে পারে। শিশু, বয়স্ক ব্যক্তি, গর্ভবতী নারী এবং রোগ প্রতিরোধক্ষমতা দুর্বল ব্যক্তিদের ক্ষেত্রে এসব জীবাণু বিশেষ ঝুঁকিপূর্ণ।   এফডিএ আরও জানিয়েছে, কাঁচা দুধের অতিরিক্ত পুষ্টিগুণ বা রোগ প্রতিরোধের সুবিধা রয়েছে, এমন দাবির বৈজ্ঞানিক ভিত্তি নেই। দুধকে নির্দিষ্ট তাপমাত্রায় গরম করে জীবাণু ধ্বংস করার প্রক্রিয়াই পাস্তুরায়ন। কাঁচা দুধে জীবাণু থাকার ঝুঁকি পুরোপুরি দূর করা যায় না, এমনকি প্রাণী সুস্থ দেখালেও।   ক্যালিফোর্নিয়ায় মানুষের ব্যবহারের জন্য কাঁচা দুধ বিক্রি বৈধ হলেও সংশ্লিষ্ট খামারকে নির্দিষ্ট লাইসেন্স, স্বাস্থ্যবিধি ও সতর্কতামূলক লেবেল সংক্রান্ত শর্ত মানতে হয়। রাজ্যের জনস্বাস্থ্য বিভাগও জানিয়েছে, এসব ব্যবস্থা থাকলেও কাঁচা দুধ পাস্তুরিত দুধের মতো নিরাপদ বলে নিশ্চয়তা দেওয়া যায় না।   মেয়ের গুরুতর অসুস্থতার পর এমিলি মারিস এখন অন্য অভিভাবকদের কাঁচা দুধের ঝুঁকি সম্পর্কে সচেতন করতে চাইছেন। নিজের সিদ্ধান্ত নিয়ে অনুশোচনা প্রকাশ করে তিনি জানিয়েছেন, তার উদ্দেশ্য অন্য কোনো পরিবারকে একই অভিজ্ঞতার মধ্য দিয়ে যেতে না দেওয়া। তবে কাঁচা দুধের খামারের বিরুদ্ধে চলমান মামলার চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত এখনো হয়নি।   সূত্র: প্রোপাবলিকা ও যুক্তরাষ্ট্রের খাদ্য ও ওষুধ প্রশাসন (এফডিএ)।

মোহাম্মদ ইব্রাহিম অক্টোবর ১, ২০২৬ ১৪:০
ক্যালিফোর্নিয়ায় ৭ বছরের শিশুকে যৌ ন নির্যাতন, আমৃ ত্যু কারাদণ্ডের মুখে ডেল্টা এয়ারলাইন্সের সাবেক পাইলট
ক্যালিফোর্নিয়ায় ৭ বছরের শিশুকে যৌ ন নির্যাতন, আমৃ ত্যু কারাদণ্ডের মুখে ডেল্টা এয়ারলাইন্সের সাবেক পাইলট

যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় একটি চাঞ্চল্যকর শিশু যৌন নির্যাতনের মামলায় দোষী সাব্যস্ত হয়েছেন ডেল্টা এয়ারলাইন্সের সাবেক এক পাইলট এবং তার সাবেক প্রেমিকা। কনট্রা কস্টা কাউন্টি সুপিরিয়র কোর্টের জুরিবোর্ড সম্প্রতি তাদের এই রায় প্রদান করে।   আদালত সূত্রে জানা গেছে, দোষী সাব্যস্ত ৩৫ বছর বয়সী পাইলট রুস্তম ভাগওয়াগার এবং ৪৬ বছর বয়সী জেনিফার স্পিটজ পাওয়েলকে এখন সর্বোচ্চ ২৩০ বছর থেকে আমৃত্যু কারাদণ্ডের সাজা ভোগ করতে হতে পারে। ফ্লোরিডার বাসিন্দা রুস্তমের পাশাপাশি পাওয়েলের বিরুদ্ধেও আলাদা জুরিবোর্ড এই রায় ঘোষণা করেছে।   ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় থেকে জানানো হয়, ভাগওয়াগার এবং পাওয়েল পরস্পর যোগসাজশে সাত বছর বয়সী এক মেয়ে শিশুর ওপর দিনের পর দিন অমানবিক যৌন নির্যাতন চালিয়েছিলেন। ২০১৭ সালের অক্টোবর থেকে ২০২২ সাল পর্যন্ত দীর্ঘ সময় ধরে এই পাশবিক নির্যাতন চলে।   এই ঘৃণ্য অপরাধের জেরে গত ২০২৫ সালের ২৬ জুলাই সান ফ্রান্সিসকো আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে একটি ফ্লাইট অবতরণের পরপরই ককপিট থেকে পাইলট রুস্তমকে গ্রেপ্তার করে হোমল্যান্ড সিকিউরিটি এবং শেরিফ অফিসের কর্মকর্তারা। হতবাক যাত্রীদের সামনেই তাকে আটক করে নিয়ে যাওয়া হয় এবং এর ঠিক তিন দিন পর তার সাবেক প্রেমিকা পাওয়েলকেও গ্রেপ্তার করে পুলিশ।   রায় ঘোষণার আগ পর্যন্ত দোষী সাব্যস্ত এই দুই অপরাধীকে বর্তমানে মার্টিনেজ ডিটেনশন ফ্যাসিলিটিতে কড়া পাহারায় আটকে রাখা হয়েছে। কনট্রা কস্টা কাউন্টির ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নি ডায়ানা বেকটন এই বিচারপ্রক্রিয়ায় ভুক্তভোগীর সাহসিকতার ভূয়সী প্রশংসা করেছেন।   তিনি বলেন, আদালতে সাক্ষ্য দিয়ে এবং নির্যাতনকারীদের মুখোমুখি দাঁড়িয়ে এই তরুণী যে অসাধারণ সাহসের পরিচয় দিয়েছে, তা সত্যিই প্রশংসনীয়। এই রায়ের মাধ্যমে আসামিদের উপযুক্ত জবাবদিহিতার আওতায় আনা সম্ভব হয়েছে উল্লেখ করে তিনি পুরো প্রসিকিউশন ও তদন্তকারী দলের প্রতি গভীর কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন।

ইসতিয়াক আহমেদ অক্টোবর ১, ২০২৬ ১৪:০
ক্যালিফোর্নিয়ায় ছাগলের কাঁচা দুধ খেয়ে মৃত্যুর মুখে ১৭ মাসের শিশু, বিকল কিডনি
ক্যালিফোর্নিয়ায় ছাগলের কাঁচা দুধ খেয়ে মৃত্যুর মুখে ১৭ মাসের শিশু, বিকল কিডনি

যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় কোষ্ঠকাঠিন্যের সমস্যা দূর করতে ১৭ মাস বয়সী শিশু ব্রুকলিন ম্যারিসকে কাঁচা বা অপাস্তুরিত ছাগলের দুধ খাওয়ানো শুরু করেছিল তার পরিবার। কিন্তু এই একটি সিদ্ধান্তই প্রায় কেড়ে নিচ্ছিল শিশুটির প্রাণ। ই-কোলাই ব্যাকটেরিয়ার মারাত্মক সংক্রমণে কিডনি বিকল হয়ে তিনবার কার্ডিয়াক অ্যারেস্টের (হার্ট অ্যাটাক) শিকার হয় সে। বর্তমানে শিশুটি প্রাণে বাঁচলেও তাকে আজীবন বয়ে বেড়াতে হবে দীর্ঘমেয়াদি স্বাস্থ্য জটিলতা।   প্রোপাবলিকা-র প্রতিবেদন অনুযায়ী, ব্রুকলিনের জন্ম হয়েছিল নির্ধারিত সময়ের সাত সপ্তাহ আগে। অপরিণত ফুসফুস ও কম ওজন নিয়ে জন্ম নেওয়া এই ‘মিরাকল বেবি’কে নিয়ে মা এমিলি ম্যারিসের উদ্বেগের অন্ত ছিল না। স্তনপান করানো সম্ভব না হওয়ায় তিনি বাজারের ফর্মুলা বা প্যাকেটজাত গরুর দুধের বিকল্প খুঁজছিলেন।   ফেসবুকের একটি গ্রুপের মায়েদের পরামর্শে তিনি বাড়ির কাছাকাছি একটি খামার থেকে কাঁচা ছাগলের দুধ এনে খাওয়াতে শুরু করেন। প্রথম ছয় মাস ব্রুকলিনের শারীরিক উন্নতি দেখা গেলেও হঠাৎ একদিন ভয়ানক বিপত্তি ঘটে।   গ্রীষ্মের এক দিনে ব্রুকলিন হঠাৎ গাড়ির ভেতর বমি করে দেয়। পরবর্তী দুই দিন ধরে সে প্রথমে হলুদ ও পরে ‘নীলাভ-সবুজ’ রঙের পিত্ত বমি করতে থাকে। তাকে জরুরিভিত্তিতে ৭০ মাইল দূরের একটি শিশু হাসপাতালে নেওয়া হয়। চিকিৎসকরা জানান, সে ই-কোলাই ব্যাকটেরিয়ার কারণে হেমোলাইটিক ইউরেমিক সিন্ড্রোমে (এইচইউএস) আক্রান্ত, যা মূলত রক্তনালী ক্ষতিগ্রস্ত করে এবং কিডনি বিকল করে দেয়।   তাকে ভেন্টিলেটর ও ডায়ালাইসিসে রাখা হয়। মৃত্যুর মুখ থেকে তাকে ফিরিয়ে আনতে চিকিৎসকদের রীতিমতো যুদ্ধ করতে হয়েছে।   ব্রুকলিন বেঁচে ফিরলেও আগের মতো আর স্বাভাবিক নেই। সে এখন সামান্য খুঁড়িয়ে হাঁটে এবং রাতে ঠিকমতো ঘুমাতে পারে না। চিকিৎসকরা জানিয়েছেন, তাকে আজীবন কিডনির সমস্যায় ভুগতে হতে পারে এবং সে কখনোই অ্যালকোহল পান করতে পারবে না। এদিকে নিজের ‘ভুল’ সিদ্ধান্তের কারণে মা এমিলি এখন তীব্র অনুশোচনায় ভুগছেন। তিনি বলেন, “আমি যতদিন বাঁচব, এই কাজটি করার জন্য নিজেকে ঘৃণা করব। আমিই তাকে এই দুধ দিয়েছিলাম, আমি কতটা বোকা ছিলাম!”   স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞদের মতে, কাঁচা বা অপাস্তুরিত দুধ পান করার উপকারিতা নিয়ে যেসব দাবি করা হয়, তার কোনো বৈজ্ঞানিক ভিত্তি নেই। সংক্রামক রোগ বিশেষজ্ঞ ডা. উজমা সৈয়দের মতে, পাস্তুরিকরণের আগে কাঁচা দুধ পানের কারণে প্রচুর মানুষ অসুস্থ হতো। পাস্তুরিত দুধের তুলনায় কাঁচা দুধে খাদ্যবাহিত অসুস্থতার ঝুঁকি ১০০ গুণ বেশি। সুস্থ প্রাণীর দুধেও ই-কোলাই, সালমোনেলা বা লিস্টেরিয়ার মতো মারাত্মক ক্ষতিকর প্যাথোজেন থাকতে পারে, যা গরুর গোবর বা খামারিদের হাত থেকে ছড়াতে পারে।   ক্যালিফোর্নিয়ায় কেবল লাইসেন্সধারী খামারই মানুষের পানের জন্য কাঁচা দুধ বিক্রি করতে পারে। কিন্তু এমিলি যে খামার থেকে দুধ কিনেছিলেন, সেটি লাইসেন্সবিহীন ছিল। খামার মালিকের দাবি, তারা এই দুধ কেবল ‘পোষা প্রাণীর’ খাবার হিসেবে বিক্রি করেছিলেন। এই ঘটনার পর ব্রুকলিনের পরিবারসহ একই খামারের দুধ খেয়ে অসুস্থ হওয়া আরেক শিশুর পরিবার ওই খামার মালিকের বিরুদ্ধে অবহেলার অভিযোগ এনে মামলা দায়ের করেছে। বর্তমানে মামলাটি চলমান রয়েছে।

ইসতিয়াক আহমেদ সেপ্টেম্বর ৩০, ২০২৬ ১৪:০
ক্যালিফোর্নিয়ার সান্তা ক্রুজে উত্তাল ঢেউয়ে ভেসে গেলেন দম্পতি, রোমহর্ষক অভিযানে উদ্ধার
ক্যালিফোর্নিয়ার সান্তা ক্রুজে উত্তাল ঢেউয়ে ভেসে গেলেন দম্পতি, রোমহর্ষক অভিযানে উদ্ধার

যুক্তরাষ্ট্রের উত্তর ক্যালিফোর্নিয়ায় সমুদ্রের পাড়ে পাথরের ওপর থেকে উত্তাল ঢেউয়ে ভেসে গেছেন এক দম্পতি। পরে এক নাটকীয় ও শ্বাসরুদ্ধকর অভিযানের মাধ্যমে তাদের উদ্ধার করা হয়। গত মঙ্গলবার বিকেলে সান্তা ক্রুজের কুখ্যাত ও বিপজ্জনক হিসেবে পরিচিত প্যান্থার বিচে ভয়ংকর এই ঘটনা ঘটে। তবে তাৎক্ষণিকভাবে ওই দম্পতির নাম ও পরিচয় প্রকাশ করা হয়নি।   এনবিসি নিউজের প্রকাশিত একটি ভিডিওতে দেখা যায়, সান্তা ক্রুজ ফায়ার ডিপার্টমেন্ট এবং ক্যালিফোর্নিয়া স্টেট পার্কস পাবলিক সেফটির উদ্ধারকারী সাঁতারুরা ওই দম্পতিকে বরফশীতল প্রশান্ত মহাসাগরের পানি থেকে টেনে তুলছেন। এরপর সমুদ্রসৈকতের বালুর ওপর তাদের বুকে কম্প্রেশন (সিপিআর) দিতে দেখা যায়।   ভিডিওতে আরও দেখা যায়, পাহাড়ের চূড়ায় দাঁড়িয়ে এক কর্মকর্তা বাইনোকুলারের সাহায্যে নজর রাখছেন এবং সেখানে উপস্থিত সাধারণ মানুষ উদ্ধারকারী দলকে ওই দম্পতির অবস্থান শনাক্ত করতে সাহায্য করছেন।   উদ্ধারকৃত ওই দম্পতির উভয়েরই বয়স ত্রিশের কোঠায় বলে জানা গেছে। সাগর থেকে তুলে আনার পর দ্রুত তাদের প্রয়োজনীয় চিকিৎসা সেবা দেওয়া হয়। তবে বর্তমানে তাদের শারীরিক অবস্থা ঠিক কেমন, সে সম্পর্কে কর্তৃপক্ষের তরফ থেকে সুনির্দিষ্ট কোনো তথ্য জানানো হয়নি।

ইসতিয়াক আহমেদ সেপ্টেম্বর ৩০, ২০২৬ ১৪:০
১১ হাজার ৬৯৫টি লেগোর টুকরোয় পৃথিবীর মানচিত্র বানিয়ে বিশ্ব রেকর্ড গড়লেন দুই বন্ধু
১১ হাজার ৬৯৫ লেগো টুকরোয় পৃথিবীর মানচিত্র, দুই বন্ধুর বিশ্ব রেকর্ড

যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ার দুই বন্ধু লেগোর ১১ হাজার ৬৯৫টি টুকরা জুড়ে তৈরি করেছেন পুরো পৃথিবীর মানচিত্র। আর এই কাজটি তাঁরা শেষ করেছেন মাত্র ৪ ঘণ্টা ৫৯ মিনিট ৫১ সেকেন্ডে। অসাধারণ এই কীর্তির স্বীকৃতি হিসেবে গিনেস ওয়ার্ল্ড রেকর্ডসে নাম উঠেছে তাঁদের।   রেকর্ড গড়া দুই বন্ধু হলেন আথেনা লিওং ও সেভি সুইফট। গত ১২ এপ্রিল ক্যালিফোর্নিয়ার হেওয়ার্ডের ‘ব্রিক বাই ব্রিক টয়েজ’ নামের একটি দোকানে তাঁরা এই চ্যালেঞ্জে অংশ নেন।   গিনেস ওয়ার্ল্ড রেকর্ডসের নিয়ম অনুযায়ী, পৃথিবীর মানচিত্রটি তৈরি করতে তাঁদের সর্বোচ্চ ৫ ঘণ্টা ৩০ মিনিট সময় দেওয়া হয়েছিল। কিন্তু নির্ধারিত সময় শেষ হওয়ার প্রায় ৩০ মিনিট আগেই তাঁরা কাজটি সম্পন্ন করে ফেলেন।   চ্যালেঞ্জে নামার আগে প্রায় এক মাস ধরে তাঁরা লেগো দিয়ে পৃথিবীর মানচিত্র তৈরির অনুশীলন করেন। ছোটবেলা থেকেই লেগোর প্রতি আথেনার বিশেষ আগ্রহ ছিল। পরে সেভির সঙ্গে পরিচয়ের পর দুজনের মধ্যে লেগোর প্রতি ভালোবাসার পাশাপাশি আরও অনেক বিষয়ে আগ্রহের মিল খুঁজে পান তাঁরা।   বিশ্ব রেকর্ড গড়ার পরিকল্পনাটিও প্রথম আথেনার মাথায় আসে। গিনেস ওয়ার্ল্ড রেকর্ডসকে তিনি জানান, ছোটবেলায় লেগো তাঁকে নিজের কল্পনাশক্তি প্রকাশের সুযোগ করে দিত। তখন নিজের চিন্তাগুলো বাস্তবে রূপ দেওয়ার মতো দক্ষতা বা প্রয়োজনীয় উপকরণ তাঁর ছিল না। সেভির সঙ্গে পরিচয়ের পর সেই আগ্রহ নতুনভাবে ফিরে আসে।   তবে এই রেকর্ডের একটি আলাদা দিকও রয়েছে। এর আগে এককভাবে দ্রুততম সময়ে লেগো দিয়ে পৃথিবীর মানচিত্র তৈরির রেকর্ড করেছিলেন অস্ট্রেলিয়ার ক্ল্যারি ফারকাশ। ২০২৩ সালে তিনি ৭ ঘণ্টা ৯ মিনিট ৪১ সেকেন্ডে কাজটি শেষ করেন।   আথেনা ও সেভির দলীয় রেকর্ড সেই সময়ের তুলনায় অনেক দ্রুত হলেও ক্ল্যারি ফারকাশের একক রেকর্ড এখনো বহাল রয়েছে। অর্থাৎ, দলগতভাবে নতুন রেকর্ড হলেও একক বিভাগে আগের রেকর্ডটি এখনো অক্ষুণ্ন।

অলি উল্লাহ আল মাসুদ সেপ্টেম্বর ২৯, ২০২৬ ১৪:০
লিঙ্গ পরিবর্তন অস্ত্রোপচারের পর স্বামীর চিকিৎসার নল খুলতে চেয়েছিলেন স্ত্রী
লিঙ্গ পরিবর্তন অস্ত্রোপচারের পর স্বামীর চিকিৎসার নল খুলতে চেয়েছিলেন স্ত্রী, নিহত নিউইয়র্ক টাইমস কর্মকর্তা

ক্যালিফোর্নিয়ায় গুলিতে নিহত নিউইয়র্ক টাইমসের গেমস বিভাগের প্রকৌশল পরিচালক জোনাথন ম্যাককিনসি মৃত্যুর আগের বছর স্ত্রী ও শ্বশুর-শাশুড়ির বিরুদ্ধে নির্যাতনের অভিযোগ তুলেছিলেন। আদালতের নথিতে পারিবারিক সহিংসতা ও সন্তানদের হেফাজত নিয়ে তাঁর ও স্ত্রী ক্যান্ডিস জ্যাংয়ের পাল্টাপাল্টি অভিযোগের তথ্য উঠে এসেছে।    ৪০ বছর বয়সী ম্যাককিনসিকে গত শনিবার ক্যালিফোর্নিয়ার ডাবলিন শহরের একটি স্পোর্টস কমপ্লেক্সের পার্কিং এলাকায় গুলি করে হত্যা করা হয়। তাঁর শ্বশুর শোইয়ং ঝাং ও শাশুড়ি শিলি চেনকে গ্রেপ্তার করে হত্যার অভিযোগ আনা হয়েছে।    আদালতে করা আবেদনে ম্যাককিনসি অভিযোগ করেন, তাঁর স্ত্রী দীর্ঘদিন ধরে তাঁকে শারীরিক ও মানসিকভাবে নির্যাতন করেছেন এবং তাঁদের তিন সন্তানকেও নির্যাতন করেছেন। তাঁর দাবি, শ্বশুর-শাশুড়িও এ ধরনের আচরণে যুক্ত ছিলেন। ম্যাককিনসি আরও অভিযোগ করেন, তিনি ট্রান্সজেন্ডার পরিচয়ের কারণে শ্বশুরবাড়ির কাছ থেকে অপমান ও নির্যাতনের শিকার হয়েছেন। এসবই আদালতে তোলা অভিযোগ; এগুলো প্রমাণিত তথ্য নয়।    অন্যদিকে, জ্যাংও ম্যাককিনসির বিরুদ্ধে পারিবারিক সহিংসতা ও সন্তানদের প্রতি নির্যাতনের অভিযোগ করেছিলেন। ২০২৫ সালে শিশু নির্যাতনের অভিযোগে ম্যাককিনসির বিরুদ্ধে মামলাও হয়; তিনি অভিযোগ অস্বীকার করেন। পরে দুজনই একে অপরের বিরুদ্ধে সুরক্ষা আদেশ চেয়ে আবেদন করেন।    ম্যাককিনসি ও জ্যাংয়ের বিবাহবিচ্ছেদ এবং সন্তানদের হেফাজত নিয়ে আইনি বিরোধ চলছিল। তবে হত্যার পেছনে সুনির্দিষ্ট কারণ কী, তা পুলিশ প্রকাশ করেনি। তাঁদের দুই মেয়ের বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগের সত্যতা নির্ধারণ করবে আদালত।

নীলুফা নিশাত সেপ্টেম্বর ২৯, ২০২৬ ১৪:০
ক্যালিফোর্নিয়ায় অভিবাসন ধরপাকড় রুখতে নতুন আইনে সই গভর্নর নিউসমের
ক্যালিফোর্নিয়ায় অভিবাসন ধরপাকড় রুখতে নতুন আইনে সই গভর্নর নিউসমের

যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়া অঙ্গরাজ্যে কেন্দ্রীয় অভিবাসন প্রয়োগকারী সংস্থাগুলোর (ICE) ওপর নজরদারি ও জবাবদিহি বাড়াতে একাধিক নতুন বিলে স্বাক্ষর করেছেন গভর্নর গ্যাভিন নিউসম। গত মঙ্গলবার স্বাক্ষরিত এই আইনগুলোর অন্যতম লক্ষ্য হলো রাজ্যটিতে অভিবাসীদের সুরক্ষা নিশ্চিত করা এবং ফেডারেল সরকারের নীতির বিপরীতে ক্যালিফোর্নিয়ার নিজস্ব অবস্থান জোরালো করা।   নতুন আইনের আওতায় আইন প্রয়োগকারী সংস্থাগুলোর বিতর্কিত ‘ইলেকট্রোশক গ্লাভস’ বা বৈদ্যুতিক শক দেওয়া হাতমোজার ব্যবহার সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ করা হয়েছে। আগামী বছর থেকে কার্যকর হতে যাওয়া এই নিষেধাজ্ঞাটি অন্তত ২০৩০ সাল পর্যন্ত বহাল থাকবে। সম্প্রতি ইউএস ইমিগ্রেশন অ্যান্ড কাস্টমস এনফোর্সমেন্ট (আইসিই) তাদের কর্মকর্তাদের জন্য এ ধরনের গ্লাভস কেনার উদ্যোগ নেওয়ার পরই ক্যালিফোর্নিয়া প্রশাসন এমন কঠোর পদক্ষেপ নিল।   নতুন এই আইনগুলোতে শক গ্লাভস নিষিদ্ধ করার পাশাপাশি বেসরকারি ডিটেনশন বা আটক কেন্দ্রগুলোর ওপর ২৫ শতাংশ কর আরোপ করা হয়েছে। এছাড়া অভিবাসন তল্লাশি বা অভিযানের সময় ফ্ল্যাশ-ব্যাং গ্রেনেডের ব্যবহার সীমিত করা এবং ক্যালিফোর্নিয়ায় পরিচালিত সিভিল ডিটেনশন কেন্দ্রগুলোতে স্বাস্থ্য, নিরাপত্তা ও নজরদারি আরও জোরদার করার কথা বলা হয়েছে।   যেসব আইসিই কর্মকর্তা অতীতে গুরুতর অসদাচরণের দায়ে অভিযুক্ত হয়েছেন, তারা যাতে ক্যালিফোর্নিয়া অঙ্গরাজ্যের কোনো সরকারি কর্মী বা পুলিশ কর্মকর্তা হিসেবে নিয়োগ না পান, নতুন আইনে সেই নিষেধাজ্ঞাও আরোপ করা হয়েছে। গভর্নর নিউসম এক বিবৃতিতে জানান, কেন্দ্রীয় সরকার যখন অভিবাসী সম্প্রদায়কে রক্ষায় ব্যর্থ হয়েছে, তখন ক্যালিফোর্নিয়া তাদের নিরাপত্তা ও স্বচ্ছতা নিশ্চিতে এগিয়ে এসেছে।   এর আগেও ক্যালিফোর্নিয়ায় আইসিই-এর কার্যক্রম সীমিত করার বেশ কিছু উদ্যোগ আইনি বাধার মুখে পড়েছিল। চলতি বছরের শুরুর দিকেই ক্যালিফোর্নিয়ার আরেকটি আইন একটি ফেডারেল আপিল আদালতের আদেশে আটকে যায়। ওই আইনে ফেডারেল অভিবাসন এজেন্টসহ বেশির ভাগ আইন প্রয়োগকারী কর্মকর্তাকে সরকারি দায়িত্ব পালনের সময় মুখ ঢেকে রাখার ওপর নিষেধাজ্ঞা দেওয়া হয়েছিল।   গত নভেম্বরে ট্রাম্প প্রশাসন আইনটিকে চ্যালেঞ্জ করে আদালতে যুক্তি দিয়েছিল যে, এটি সংবিধানের লঙ্ঘন এবং এর ফলে হয়রানি ও সহিংসতার ঝুঁকিতে থাকা কর্মকর্তাদের নিরাপত্তা বিঘ্নিত হবে। তবে মঙ্গলবার গভর্নর নিউসম যে বিলগুলোতে স্বাক্ষর করেছেন, তার মধ্যে ওই মুখ ঢাকা নিষিদ্ধের একটি সংশোধিত ও সীমিত সংস্করণও অন্তর্ভুক্ত রয়েছে, যা অঙ্গরাজ্যের আইন প্রয়োগকারী সংস্থাগুলোর জন্য প্রযোজ্য হবে।

ইসতিয়াক আহমেদ সেপ্টেম্বর ২৯, ২০২৬ ১৪:০
ক্যালিফোর্নিয়ায় মুসলিমদের দুই ঈদ পেল সরকারি ছুটির স্বীকৃতি, কার্যকর নতুন আইন
ক্যালিফোর্নিয়ায় মুসলিমদের দুই ঈদ পেল সরকারি ছুটির স্বীকৃতি, কার্যকর নতুন আইন

যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়া অঙ্গরাজ্যের সরকারি ছুটির তালিকায় এবার আনুষ্ঠানিকভাবে যুক্ত হয়েছে মুসলিম সম্প্রদায়ের প্রধান দুই ধর্মীয় উৎসব ঈদুল ফিতর ও ঈদুল আজহা। গত ২৭ সেপ্টেম্বর অঙ্গরাজ্যটির গভর্নর গ্যাভিন নিউসম ‘এবি ২০১৭’ শীর্ষক একটি বিলে স্বাক্ষর করার মাধ্যমে ঐতিহাসিক এই স্বীকৃতি কার্যকর করেন।   সান ফ্রান্সিসকোর অ্যাসেম্বলি সদস্য ম্যাট হ্যানি ‘স্টেট হলিডেজ: ঈদ’ নামের এই বিলটি উত্থাপন করেছিলেন। আইনসভার বিভিন্ন ধাপে অনুমোদনের পর গত ৩০ আগস্ট ক্যালিফোর্নিয়ার উভয় কক্ষে বিলটি পাস হয় এবং পরবর্তীতে গভর্নরের চূড়ান্ত স্বাক্ষরের মাধ্যমে এটি আইনে পরিণত হয়। নতুন এই আইনের আওতায় ইসলামি চান্দ্রপঞ্জিকা অনুযায়ী শাওয়াল মাসের প্রথম দিন ঈদুল ফিতর এবং জিলহজ মাসের ১০ তারিখ ঈদুল আজহা হিসেবে সরকারি ছুটির তালিকায় অন্তর্ভুক্ত থাকবে।   তবে এই সরকারি স্বীকৃতির অর্থ এই নয় যে, ক্যালিফোর্নিয়ার সব সরকারি-বেসরকারি প্রতিষ্ঠান বা আদালত বাধ্যতামূলকভাবে বন্ধ থাকবে। আইনে ঈদকে বিচারিক ছুটির তালিকা থেকে আলাদা রাখা হয়েছে, ফলে ঈদের দিন আদালত বা বেসরকারি ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ রাখার কোনো আইনি বাধ্যবাধকতা নেই।   তবে মুসলিম শিক্ষার্থীদের জন্য বিশেষ সুবিধা রাখা হয়েছে এই আইনে। ঈদের নামাজ বা ধর্মীয় আনুষ্ঠানিকতায় অংশ নেওয়ার জন্য কোনো শিক্ষার্থী স্কুলে অনুপস্থিত থাকলে তা ‘অনুমোদিত অনুপস্থিতি’ হিসেবে গণ্য হবে। এছাড়া স্থানীয় স্কুল কর্তৃপক্ষ ও কমিউনিটি কলেজগুলো চাইলে নিজেদের সিদ্ধান্তে ঈদের দিন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ রাখতে পারবে।   পাশাপাশি সরকারি চাকরিজীবীদের জন্যও উৎসব পালনের বিশেষ সুযোগ তৈরি হয়েছে। নির্ধারিত শর্ত মেনে সরকারি কর্মীরা ঈদ উপলক্ষে আট ঘণ্টার ছুটির সুবিধা গ্রহণ করতে পারবেন, যা তাদের অবকাশ বা ব্যক্তিগত ছুটি থেকে সমন্বয় করা যাবে। অ্যাসেম্বলি সদস্য আশ কালরা, স্টেফানি নগুয়েন এবং সিনেটর আইশা ওয়াহাবসহ বেশ কয়েকজন আইনপ্রণেতা এই বিলটির সহ-উদ্যোক্তা ছিলেন।   নতুন এই আইনের ফলে ক্যালিফোর্নিয়ায় মুসলিমদের ধর্মীয় উৎসবগুলো রাষ্ট্রীয়ভাবে অনন্য স্বীকৃতি পেল, যা ধর্মীয় স্বাধীনতা ও অধিকার রক্ষায় একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।

ইসতিয়াক আহমেদ সেপ্টেম্বর ২৮, ২০২৬ ১৪:০
ক্যালিফোর্নিয়ার আবাসিক এলাকায় ঘুরে বেড়াচ্ছে আফ্রিকার বিষধর সাপ গাবুন ভাইপার, আতঙ্কে এলাকাবাসী
ক্যালিফোর্নিয়ার আবাসিক এলাকায় ঘুরে বেড়াচ্ছে আফ্রিকার বিষধর সাপ গাবুন ভাইপার, আতঙ্কে এলাকাবাসী

ক্যালিফোর্নিয়ার অরেঞ্জ কাউন্টির একটি আবাসিক এলাকায় আফ্রিকার অত্যন্ত বিষাক্ত 'গাবুন ভাইপার' সাপের উপস্থিতি নিয়ে ব্যাপক আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে। সান্তা আনা পুলিশ বিভাগ সম্প্রতি জননিরাপত্তায় একটি সতর্কবার্তা জারি করেছে এবং সাপটির একটি ছবি প্রকাশ করেছে।   পুলিশ জানিয়েছে, মেইন স্ট্রিট এবং এডিঙ্গার অ্যাভিনিউয়ের কাছাকাছি একটি গাছে সাপটিকে সর্বশেষ দেখা গেছে। ধারণা করা হচ্ছে, স্পট করা সাপটি লম্বায় চার থেকে পাঁচ ফুট, তবে পূর্ণবয়স্ক একটি গাবুন ভাইপার সাত ফুট পর্যন্ত লম্বা হতে পারে। উত্তর আমেরিকার স্থানীয় প্রজাতি না হওয়ায় এই বিদেশি সাপটি কীভাবে এখানে এলো, তা নিয়ে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।   সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রকাশিত সাপটির ছবি নিয়ে অবশ্য মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা গেছে। অনেকেই সন্দেহ প্রকাশ করেছেন যে, ছবিটি হয়তো কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই দিয়ে তৈরি করে পুলিশকে বোকা বানানো হয়েছে।   এই বিষয়ে সান্তা আনা পুলিশ জানিয়েছে, তারা নেটিজেনদের এই উদ্বেগটি গুরুত্বের সঙ্গে দেখছে এবং সাপটি আসলেই এলাকায় আছে কি না, তা নিশ্চিত করতে নিবিড় তদন্ত চলছে। সাপটি শনাক্ত ও উদ্ধারের জন্য সাউদার্ন ক্যালিফোর্নিয়া হারপেটোলজি অ্যাসোসিয়েশন অ্যান্ড রেসকিউ (SCHA&R)-এর সভাপতির সহায়তা নিচ্ছে পুলিশ। সাপটি ধরা পড়লে সেটিকে কোয়ারেন্টাইনে রেখে একটি বিদেশি প্রাণী অভয়ারণ্যে স্থানান্তর করা হবে বলে নিশ্চিত করেছে কর্তৃপক্ষ।   গাবুন ভাইপার মূলত সাব-সাহারান আফ্রিকার রেইনফরেস্ট ও সাভানা অঞ্চলে বসবাস করে। এটি আফ্রিকার সবচেয়ে ভারী বিষাক্ত সাপ, যার ওজন প্রায় আট কেজি (১৮ পাউন্ড) পর্যন্ত হতে পারে। বিশ্বের যেকোনো সাপের তুলনায় এর বিষদাঁত সবচেয়ে বড়, যা প্রায় ১.৬ ইঞ্চি লম্বা হয়। বাদামি, বেগুনি এবং কালচে জ্যামিতিক নকশার কারণে এরা জঙ্গলের শুকনো পাতার মাঝে চমৎকারভাবে লুকিয়ে থাকতে পারে।   ইঁদুর ও মাটিতে থাকা পাখিদের শিকার করা এই সাপটি অত্যন্ত ভয়ংকর। সান্তা আনা পুলিশ স্থানীয় বাসিন্দাদের সতর্ক করে বলেছে, কেউ যেন সাপটির কাছে না যান বা নিজে থেকে ধরার চেষ্টা না করেন। সাপটি দেখতে পেলে অবিলম্বে পুলিশের নন-ইমার্জেন্সি নম্বরে (714-834-4211) যোগাযোগ করার অনুরোধ জানানো হয়েছে।

ইসতিয়াক আহমেদ সেপ্টেম্বর ২৮, ২০২৬ ১৪:০
ক্যালিফোর্নিয়ার সেরিটোসে বাংলাদেশি ফলের গাছে ভরা প্রকৌশলী জলিল খানের বাড়ির আঙিনা
হাজার মাইল দূরে ক্যালিফোর্নিয়ায় এক টুকরো বাংলাদেশ, দেশীয় ফলের সাম্রাজ্য গড়েছেন ইঞ্জিনিয়ার জলিল খান

ক্যালিফোর্নিয়ার সেরিটোস শহরে নিজের বাড়ির আঙিনায় দেশীয় নানা ফলের গাছ লাগিয়ে যেন এক টুকরো বাংলাদেশ গড়ে তুলেছেন বাংলাদেশি প্রকৌশলী ইঞ্জিনিয়ার জলিল খান। আম, জাম, কাঁঠাল, জামরুল, পেয়ারা, কলা, লেবু, কমলা ও আখসহ বাংলাদেশের পরিচিত নানা ফলের গাছে ভরে উঠেছে তাঁর বাড়ির আঙিনা। প্রবাসের জীবনে এই বাগানই হয়ে উঠেছে তাঁর শিকড়ের সঙ্গে সম্পর্ক ধরে রাখার অন্যতম মাধ্যম।   বরিশালে জন্ম নেওয়া জলিল খান বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয় (বুয়েট) থেকে পড়াশোনা শেষ করে যুক্তরাষ্ট্রে পাড়ি জমান। কর্মজীবনে তিনি ক্যালিফোর্নিয়ার ট্রান্সপোর্টেশন ডিপার্টমেন্টে কাজ করেছেন। দীর্ঘদিন ধরে বসবাস করছেন দক্ষিণ ক্যালিফোর্নিয়ার সেরিটোস শহরে।   যুক্তরাষ্ট্রে দীর্ঘ সময় কাটালেও বাংলাদেশের মাটি, প্রকৃতি, দেশীয় ফল ও সংস্কৃতির প্রতি তাঁর ভালোবাসা কমেনি। সেই টান থেকেই নিজের বাড়ির আঙিনায় একে একে লাগাতে শুরু করেন দেশের পরিচিত ফলের গাছ। সময়ের সঙ্গে সেই শখের বাগান এখন পরিণত হয়েছে বড় পরিসরের একটি দেশীয় ফলের বাগানে।   এই বাগানে শুধু আম, জাম বা কাঁঠালই নয়, রয়েছে জামরুল, পেয়ারা, কলা, লেবু, কমলা ও আখসহ নানা ধরনের ফল। পরিবারের প্রয়োজন মেটানোর পাশাপাশি বাগানের উৎপাদিত ফল স্থানীয় বাংলাদেশি কমিউনিটির মানুষের মধ্যেও বিলিয়ে দেন জলিল খান।   দক্ষিণ ক্যালিফোর্নিয়ার আবহাওয়া দেশীয় কিছু ফল চাষের জন্য উপযোগী হওয়ায় বাগানে ভালো ফলনও পাচ্ছেন তিনি। জলিল খানের দাবি, চলতি বছর তাঁর একটি জামগাছ থেকেই প্রায় ৪০ মণ জাম পাওয়া গেছে। এত বিপুল পরিমাণ জামের খবর ছড়িয়ে পড়লে বিভিন্ন জায়গা থেকে বাংলাদেশিরা তাঁর বাগানে আসতে শুরু করেন।   জানা গেছে, যুক্তরাষ্ট্রের বিভিন্ন অঙ্গরাজ্য থেকেও বাংলাদেশিরা জলিল খানের বাড়িতে এসে বাগানের জাম সংগ্রহ করেছেন। ফলে তাঁর বাড়ির এই ফলের বাগান এখন শুধু পরিবারের শখের বিষয় নয়, স্থানীয় বাংলাদেশি কমিউনিটির কাছেও এটি হয়ে উঠেছে পরিচিত একটি জায়গা।   দেশের প্রতি ভালোবাসার আরেকটি নিদর্শন রয়েছে তাঁর বাড়ির নামেও। জলিল খান নিজের বাড়ির নাম দিয়েছেন ‘নাচ মহল’। সন্তানদেরও বাংলাদেশি সংস্কৃতি ও মূল্যবোধের সঙ্গে পরিচিত করে বড় করছেন তিনি। প্রবাসে জন্ম ও বেড়ে ওঠা নতুন প্রজন্মের কাছে দেশের সংস্কৃতি ও শিকড়ের সঙ্গে সম্পর্ক ধরে রাখার বিষয়টিকে গুরুত্ব দেন তিনি।   জলিল খানের কাছে এই বাগান শুধু ফল চাষের জায়গা নয়। এটি তাঁর শিকড়ের সঙ্গে সম্পর্ক ধরে রাখার একটি মাধ্যম। হাজার মাইল দূরে থেকেও বাংলাদেশের পরিচিত ফল, গাছপালা ও সংস্কৃতিকে নিজের জীবনের অংশ করে রেখেছেন তিনি। ভবিষ্যতে বাগানে আরও দেশীয় ফলের গাছ লাগানোর পাশাপাশি স্বাস্থ্যসচেতনতামূলক বিভিন্ন কার্যক্রম শুরু করার পরিকল্পনা রয়েছে জলিল খানের। প্রবাসী বাংলাদেশিদের প্রতিও তাঁর আহ্বান, সুযোগ ও জায়গা থাকলে বাড়ির আঙিনায় ফলের গাছ লাগানো। তাঁর বিশ্বাস, সবুজের সঙ্গে সম্পর্ক তৈরি করার পাশাপাশি এভাবেই নতুন প্রজন্মের কাছে নিজেদের শিকড়ের গল্পও পৌঁছে দেওয়া সম্ভব।

নুরুল্লাহ সাইদ সেপ্টেম্বর ২৮, ২০২৬ ১৪:০
ক্যালিফোর্নিয়ায় নিউইয়র্ক টাইমস কর্মকর্তাকে গুলি করে হ ত্যা, কয়েক মিনিটেই শ্বশুর-শাশুড়ি গ্রেপ্তার
ক্যালিফোর্নিয়ায় নিউইয়র্ক টাইমস কর্মকর্তাকে গুলি করে হ ত্যা, কয়েক মিনিটেই শ্বশুর-শাশুড়ি গ্রেপ্তার

যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়া অঙ্গরাজ্যের ডাবলিনে নিউইয়র্ক টাইমসের গেমস বিভাগের এক শীর্ষ কর্মকর্তাকে প্রকাশ্যে গুলি করে হত্যা করা হয়েছে। নিহত জোনাথন ম্যাককিনসে (৪০) প্রতিষ্ঠানটির ইঞ্জিনিয়ারিং ডিরেক্টর হিসেবে কর্মরত ছিলেন। শনিবার বিকেলে ডাবলিন স্পোর্টস গ্রাউন্ডের পার্কিং লটে এই ভয়ংকর হত্যাকাণ্ডের ঘটনা ঘটে।   পুলিশ জানিয়েছে, ঘটনার মাত্র কয়েক মিনিটের মধ্যেই হত্যায় জড়িত থাকার সন্দেহে নিহতের শ্বশুর ও শাশুড়িকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। ২০২৩ সালের জানুয়ারি থেকে ম্যাককিনসে নিউইয়র্ক টাইমসে কর্মরত ছিলেন বলে প্রতিষ্ঠানটির এক মুখপাত্র নিশ্চিত করেছেন।   ডাবলিন পুলিশ সার্ভিস জানায়, শনিবার স্থানীয় সময় বিকেল ৩টা ৮ মিনিটের দিকে স্পোর্টস কমপ্লেক্সের পাশ দিয়ে যাওয়ার সময় টহলরত এক পুলিশ সার্জেন্ট পার্কিং লটে এক ব্যক্তিকে রক্তাক্ত অবস্থায় পড়ে থাকতে দেখেন। ঠিক একই সময়ে জরুরি সেবা নম্বর ৯১১-এ একাধিক কল আসতে শুরু করে। ঘটনাস্থলে পৌঁছে পুলিশ ম্যাককিনসের একাধিক গুলিবিদ্ধ মরদেহ উদ্ধার করে এবং স্পটেই তাকে মৃত ঘোষণা করা হয়।   এ সময় প্রত্যক্ষদর্শীদের সহায়তায় ঘটনাস্থলে থাকা সন্দেহভাজন দুজনকে দ্রুত আটক করে পুলিশ। পরে তাদের পরিচয় নিশ্চিত করা হয়—তারা হলেন ম্যাককিনসের শ্বশুর শৌয়ং ঝাং (৭৭) এবং শাশুড়ি শিলিং চেন (৭৭)। তারা দুজনই ডাবলিনের বাসিন্দা। তাদের বিরুদ্ধে হত্যার অভিযোগ এনে সান্তা রিটা কারাগারে পাঠানো হয়েছে। আগামী বুধবার ইস্ট কাউন্টি হল অব জাস্টিসে তাদের হাজির করার কথা রয়েছে।   চাঞ্চল্যকর এই হত্যাকাণ্ডের পেছনের মূল উদ্দেশ্য এখনও আনুষ্ঠানিকভাবে জানায়নি পুলিশ। তবে তদন্তকারী কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, এই ঘটনায় নতুন করে কোনো সন্দেহভাজন নেই এবং জননিরাপত্তার জন্য আর কোনো হুমকি নেই। এদিকে, মার্কিন গণমাধ্যম ফক্স নিউজের হাতে আসা আদালতের নথিপত্র থেকে জানা গেছে, নিহত ম্যাককিনসে বেশ কয়েকটি আইনি জটিলতার মধ্যে দিয়ে যাচ্ছিলেন।   ২০২৫ সালের অক্টোবরে তার বিরুদ্ধে শিশু নির্যাতনের অভিযোগে একটি মামলা হয়েছিল, যার প্রাক-শুনানি গত ১০ সেপ্টেম্বর হওয়ার কথা ছিল। এছাড়া ম্যাককিনসে এবং তার স্ত্রী ক্যান্ডিস জ্যাং উভয়ের বিরুদ্ধে পারিবারিক সহিংসতা ও সন্তানের হেফাজত নিয়ে পাল্টাপাল্টি মামলা ছিল। এমনকি ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে তিনি বিবাহবিচ্ছেদেরও আবেদন করেছিলেন, যার শুনানি আগামী ১০ অক্টোবর অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা ছিল।

ইসতিয়াক আহমেদ সেপ্টেম্বর ২৮, ২০২৬ ১৪:০
ক্যালিফোর্নিয়ায় পরপর দুই ভূ ক ম্পনে বিভিন্ন এলাকায় কম্পন অনুভূত হয়
ক্যালিফোর্নিয়ায় পরপর দুই ভূ ক ম্পন, কেঁপে উঠল বিস্তীর্ণ এলাকা

রোববার সকালে ক্যালিফোর্নিয়ায় পরপর দুটি ভূ ক ম্পন আঘাত হানে। এতে সাউথ বে এলাকা ছাড়াও আশপাশের বিভিন্ন অঞ্চলে কম্পন অনুভূত হয়।   মার্কিন ভূতাত্ত্বিক জরিপ সংস্থা (USGS) জানিয়েছে, স্থানীয় সময় সকাল ৭টা ২০ মিনিটের কিছু পর ৩ দশমিক ৫ মাত্রার একটি ভূ ক ম্পন আঘাত হানে। এর প্রায় ২০ মিনিট পর ২ দশমিক ৬ মাত্রার আরেকটি কম্পন অনুভূত হয়।   ভূ ক ম্পন দুটির কম্পন সান হোসে থেকে ওয়ালনাট ক্রিক পর্যন্ত বিভিন্ন এলাকায় অনুভূত হয়েছে বলে জানা গেছে।   ক্যালিফোর্নিয়াজুড়ে সাম্প্রতিক সময়ে ভূ ক ম্পনের তৎপরতা কিছুটা বেড়েছে। গত কয়েক সপ্তাহে দক্ষিণ ক্যালিফোর্নিয়ার বিভিন্ন এলাকায় বেশ কয়েকটি ছোট ভূ ক ম্পনও অনুভূত হয়েছে।   সাম্প্রতিক এক শনিবারে ওই অঞ্চলে ৬০টির বেশি কম মাত্রার ভূ ক ম্পন রেকর্ড করা হয়। এর বেশিরভাগের মাত্রাই ছিল ২ দশমিক ০-এর নিচে।   লস এঞ্জেলেস এলাকাতেও সাম্প্রতিক সময়ে কয়েকটি ভূ ক ম্পন হয়েছে। ১৭ সেপ্টেম্বর কম্পটনের কাছে ৩ দশমিক ১ মাত্রার একটি ভূ ক ম্পন আঘাত হানে। এর কম্পন লং বিচ, ডাউনি ও প্যারামাউন্ট এলাকায় অনুভূত হয়। এর আগে মাসের শুরুতে কম্পটনের কাছে ৩ দশমিক ২ মাত্রার আরেকটি ভূ ক ম্পন হয়েছিল।   দক্ষিণ ক্যালিফোর্নিয়ার উপকূলের আরও দক্ষিণে ও সমুদ্রেও সাম্প্রতিক সময়ে ভূ ক ম্পন হয়েছে। ক্যাটালিনা দ্বীপের দক্ষিণ-পূর্বে কয়েক মিনিটের ব্যবধানে দুটি ভূ ক ম্পন আঘাত হানে। একই সপ্তাহান্তে সান ফ্রান্সিসকো বে এলাকায় ৩ দশমিক ৪ মাত্রার আরেকটি ভূ ক ম্পন অনুভূত হয়।   সাম্প্রতিক ভূ ক ম্পনগুলোর মাত্রা তুলনামূলকভাবে কম হলেও ক্যালিফোর্নিয়ার বড় ফল্টগুলো নিয়ে বিজ্ঞানীদের দীর্ঘদিনের সতর্কতা রয়েছে।   ক্যালটেকের ভূকম্পবিদ ড. লুসি জোন্স বলেছেন, সান আন্দ্রেয়াস ফল্ট বড় ধরনের ভয়াবহ ভূ ক ম্পন সৃষ্টি করতে পারে। তবে ঠিক কখন এমন ঘটনা ঘটবে, তা বিজ্ঞানীরা নির্ভুলভাবে পূর্বাভাস দিতে পারেন না।   জোন্স এর আগে সান আন্দ্রেয়াস ফল্টের দক্ষিণ অংশে ৭ দশমিক ৮ মাত্রার একটি সম্ভাব্য ভূ ক ম্পনের মডেল তৈরি করেছেন। এমন একটি ঘটনা হলে দক্ষিণ ক্যালিফোর্নিয়াজুড়ে দীর্ঘস্থায়ী ও শক্তিশালী কম্পন হতে পারে।   গবেষণার মডেল অনুযায়ী, এ ধরনের ভূ ক ম্পনে পরিবহনব্যবস্থা, পানির অবকাঠামোসহ গুরুত্বপূর্ণ বিভিন্ন সেবা ব্যাহত হতে পারে।   এদিকে ইউনিভার্সিটি অব বার্নের গবেষকরাও ক্যালিফোর্নিয়ার কাহন পাস এলাকায় ভূ ক ম্পনজনিত চাপ নিয়ে গবেষণা করেছেন। সেখানে সান আন্দ্রেয়াস ও সান জাসিন্টো ফল্টের মিলনস্থল রয়েছে।   গবেষকেরা এলাকাটিকে সম্ভাব্য একটি ‘ভূ ক ম্পনের প্রবেশদ্বার’ হিসেবে বিবেচনা করে ভবিষ্যতে কোনো ভূ ক ম্পনের কম্পন দুটি ফল্টব্যবস্থাজুড়ে ছড়িয়ে পড়তে পারে কি না, তা নিয়ে গবেষণা করছেন।

অলি উল্লাহ আল মাসুদ সেপ্টেম্বর ২৭, ২০২৬ ১৪:০
ক্যালিফোর্নিয়ায় প্রতি গ্যালন ডিজেলের গড় দাম ৮ ডলার ৪২ সেন্টে পৌঁছেছে
ক্যালিফোর্নিয়ায় ডিজেল ৮ ডলার ছাড়িয়েছে, কিছু পাম্পে ছুঁয়েছিল প্রায় ১০ ডলার

ক্যালিফোর্নিয়ায় ডিজেলের দাম রেকর্ডের কাছাকাছি অবস্থান করছে। আজ রোববার, ২৭ সেপ্টেম্বর AAA-এর হিসাবে রাজ্যটিতে এক গ্যালন ডিজেলের গড় দাম ৮ দশমিক ৪২ ডলার। এক বছর আগে একই সময়ে দাম ছিল মাত্র ৫ দশমিক ১৬ ডলার। অর্থাৎ এক বছরের ব্যবধানে গ্যালনপ্রতি দাম বেড়েছে প্রায় ৩ দশমিক ২৫ ডলার।   মাত্র এক মাস আগেও ক্যালিফোর্নিয়ায় ডিজেলের গড় দাম ছিল ৭ দশমিক ২১ ডলারের কাছাকাছি। ২২ সেপ্টেম্বর তা ৮ দশমিক ৪৩৮৭ ডলারে উঠে সর্বকালের সর্বোচ্চ গড়ের রেকর্ড করে। এরপর সামান্য কমলেও আজকের ৮ দশমিক ৪১৬ ডলারের গড় এখনো সেই রেকর্ডের খুব কাছাকাছি।   বে এরিয়াতেও পরিস্থিতি আরও ব্যয়বহুল। আজ সান হোসেতে ডিজেলের গড় দাম ৮ দশমিক ৬৬ ডলার। এক মাস আগে সেখানে ছিল প্রায় ৭ দশমিক ৩০ ডলার এবং এক বছর আগে ৫ দশমিক ১৯ ডলারের কাছাকাছি। সেপ্টেম্বরের শুরুতে ক্যালিফোর্নিয়ার কয়েকটি নির্দিষ্ট পাম্পে ডিজেলের দাম ৯ দশমিক ৯৯৯ ডলার পর্যন্ত উঠেছিল। তবে প্রায় ১০ ডলারের ওই দামটি ছিল কিছু নির্দিষ্ট স্টেশনের, রাজ্যজুড়ে গড় দাম নয়।   শুধু ডিজেল নয়, সাধারণ গ্যাসোলিনের দামও আবার বাড়ছে। আজ ক্যালিফোর্নিয়ায় এক গ্যালন রেগুলার গ্যাসের গড় ৬ দশমিক ৩৫ ডলার। গতকাল ছিল ৬ দশমিক ৩৪ ডলার, এক সপ্তাহ আগে ৬ দশমিক ১৫ ডলার এবং এক মাস আগে ৫ দশমিক ৬৪ ডলার। জাতীয় পর্যায়ে আজ রেগুলার গ্যাসের গড় ৪ দশমিক ৪৮ ডলার। ফলে ক্যালিফোর্নিয়ার চালকেরা জাতীয় গড়ের তুলনায় গ্যালনপ্রতি প্রায় ১ দশমিক ৮৭ ডলার বেশি দিচ্ছেন।   জাতীয় পর্যায়েও ডিজেলের দাম অস্বাভাবিক উঁচু। আজ যুক্তরাষ্ট্রে এক গ্যালন ডিজেলের গড় ৬ দশমিক ৪৭ ডলার, যেখানে এক বছর আগে ছিল ৩ দশমিক ৬৯ ডলার। ২২ সেপ্টেম্বর জাতীয় গড় ৬ দশমিক ৫৩ ডলারের কাছাকাছি উঠে রেকর্ড করেছিল।   মূল সমস্যার একটি হলো ডিজেলের সরবরাহ। যুক্তরাষ্ট্রের এনার্জি ইনফরমেশন অ্যাডমিনিস্ট্রেশনের সর্বশেষ সাপ্তাহিক হিসাবে ২১ সেপ্টেম্বর জাতীয় পর্যায়ে অন-হাইওয়ে ডিজেলের গড় ছিল ৬ দশমিক ৫২৯ ডলার। একই সময়ে ক্যালিফোর্নিয়ায় সরকারি সাপ্তাহিক গড় ছিল ৮ দশমিক ২৫ ডলারের কাছাকাছি।   রয়টার্স জানিয়েছে, যুক্তরাষ্ট্রে বছরের এই সময়ের হিসাবে ডিজেলের মজুত রেকর্ড নিম্ন পর্যায়ে রয়েছে। EIA-এর পূর্বাভাস অনুযায়ী, সেপ্টেম্বর থেকে ২০২৬ সালের শেষ পর্যন্ত দেশের ডিস্টিলেট মজুত ১০ কোটি ব্যারেলের নিচে থাকতে পারে। ইরান যুদ্ধ ও হরমুজ প্রণালিতে বিঘ্নের পাশাপাশি ইউক্রেনের হামলায় রাশিয়ার তেল অবকাঠামো ক্ষতিগ্রস্ত হওয়াও আন্তর্জাতিক ডিজেল সরবরাহে চাপ বাড়িয়েছে। বিশ্লেষকদের আশঙ্কা, বৈশ্বিক ডিজেল সংকট ২০২৭ সালেও গড়াতে পারে।   উচ্চ ডিজেলের প্রভাব শুধু ট্রাক বা ডিজেলচালিত গাড়ির মালিকদের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়। NBC Bay Area-কে বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করেছেন, ট্রাকিং ও পণ্য পরিবহনের খরচ বাড়লে সেই বাড়তি ব্যয়ের একটি অংশ শেষ পর্যন্ত ভোক্তার ওপর পড়তে পারে। মুদি পণ্য থেকে বিভিন্ন ভোগ্যপণ্যে এর প্রভাবকে তারা ‘সাপ্লাই চেইন ইনফ্লেশন’ হিসেবে বর্ণনা করছেন।   পরিস্থিতি নিয়ে ওয়াশিংটনেও আলোচনা চলছে। রয়টার্স জানিয়েছে, মার্কিন জ্বালানিমন্ত্রী ক্রিস রাইট সম্প্রতি বড় কয়েকটি রিফাইনারির কর্মকর্তাদের সঙ্গে ডিজেল রপ্তানি স্বেচ্ছায় সীমিত করার সম্ভাবনা নিয়ে কথা বলেছেন। তবে বিশ্লেষকদের মতে, সরাসরি রপ্তানি নিষেধাজ্ঞা উল্টো আন্তর্জাতিক সরবরাহ আরও সংকুচিত করে পরিস্থিতি খারাপ করতে পারে।   এদিকে ক্যালিফোর্নিয়া সরকার কম দামের বিকল্প হিসেবে ইথানল মিশ্রিত ই১৫ গ্যাসোলিন বাজারে দ্রুত আনার উদ্যোগ নিয়েছে। গভর্নর গ্যাভিন নিউজম ১৯ সেপ্টেম্বর এ সংক্রান্ত নতুন আইনে স্বাক্ষর করেছেন। রাজ্য সরকারের উদ্ধৃত এক গবেষণায় দাবি করা হয়েছে, পর্যাপ্ত অবকাঠামো তৈরি হলে ই১৫ গ্যালনপ্রতি দাম সর্বোচ্চ ২০ সেন্ট পর্যন্ত কমাতে পারে। তবে এটি ডিজেলের বর্তমান সংকটের সরাসরি সমাধান নয়।

অলি উল্লাহ আল মাসুদ সেপ্টেম্বর ২৬, ২০২৬ ১৪:০
ক্যালিফোর্নিয়ায় বৃষ্টিভেজা রাতে ডাস্টবিনের পাশে ফেলে যাওয়া হয়েছিল নবজাতক, অবশেষে গ্রেপ্তার মা
ক্যালিফোর্নিয়ায় বৃষ্টিভেজা রাতে ডাস্টবিনের পাশে ফেলে যাওয়া হয়েছিল নবজাতক, অবশেষে গ্রেপ্তার মা

যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় এক সদ্যোজাত সন্তানকে ডাস্টবিনের পাশে ফেলে যাওয়ার অভিযোগে দীর্ঘ ১৬ মাসের তদন্ত শেষে ওই শিশুর মাকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। অ্যাস্ট্রিড নোহেমি লোপেজ রামোস নামের ২৬ বছর বয়সী ওই নারীকে শিশু বিপন্ন করার অভিযোগে গ্রেপ্তার করা হয়। বর্তমানে তাকে ক্যালিফোর্নিয়ার ব্যানিং শহরের ল্যারি ডি. স্মিথ কারেকশনাল ফ্যাসিলিটিতে বন্দি রাখা হয়েছে এবং তার জামিনের জন্য ৩৫ হাজার মার্কিন ডলার নির্ধারণ করেছে আদালত।   রিভারসাইড পুলিশ ডিপার্টমেন্ট জানিয়েছে, গত ২০২৫ সালের ৪ মে জ্যাকসন স্ট্রিটের একটি অ্যাপার্টমেন্ট কমপ্লেক্সের ডাস্টবিনের কাছে বৃষ্টির মধ্যে এক নবজাতককে কাঁদতে দেখেন স্থানীয় এক বাসিন্দা। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে শিশুটিকে উদ্ধার করে হাসপাতালে পাঠায়।   উদ্ধারের সময় শিশুটির শরীরে তখনও নাড়ি যুক্ত ছিল এবং কোনো ধরনের আবরণ ছাড়াই তাকে বৃষ্টির মাঝে অরক্ষিত অবস্থায় ফেলে রাখা হয়েছিল। চিকিৎসকদের ধারণা, উদ্ধারের মাত্র কয়েক ঘণ্টা আগেই শিশুটির জন্ম হয়েছিল। রিভারসাইড পুলিশের যৌন নিপীড়ন ও শিশু নির্যাতন বিভাগের গোয়েন্দারা এই ঘটনার দীর্ঘ ও নিবিড় তদন্ত শেষে বৃহস্পতিবার অভিযুক্ত মাকে গ্রেপ্তার করতে সক্ষম হন।   আদালতের নথি অনুযায়ী, আগামী বছরের ১২ জানুয়ারি রিভারসাইড হল অব জাস্টিসে অভিযুক্তকে হাজির করার দিন ধার্য করা হয়েছে। এই ঘটনার পর স্থানীয় প্রশাসন ক্যালিফোর্নিয়ার ‘সেফলি সারেন্ডারড বেবি ল’-এর কথা আবারও বাসিন্দাদের স্মরণ করিয়ে দিয়েছে। এই আইনের আওতায় কোনো মা চাইলে সন্তান জন্মের ৭২ ঘণ্টার মধ্যে কোনো ধরনের আইনি জবাবদিহি ছাড়াই নবজাতককে নিরাপদ আশ্রয়ে সমর্পণ করতে পারেন। মূলত শিশু পরিত্যাগের কারণে অনাকাঙ্ক্ষিত মৃত্যু রোধ করতেই আইনটি প্রণয়ন করা হয়েছিল।

ইসতিয়াক আহমেদ সেপ্টেম্বর ২৬, ২০২৬ ১৪:০
জনপ্রিয় সংবাদ
বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনার পর তরুণীর মৃত্যু, এক বছরের সাজায় ক্যালিফোর্নিয়ার আইন পরিবর্তনের দাবি

যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন।   মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়।   তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।”   ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে।   প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন।   ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন।   প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল।   মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি।   রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।

যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডে বড় পরিবর্তন, পরিবারভিত্তিক ভিসা আবেদনকারীদের জন্য সুখবর

যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর আগস্ট ২০২৬ সালের ভিসা বুলেটিন প্রকাশ করেছে। নতুন এই আপডেটে পরিবারভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি দেখা গেছে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের স্থায়ী বাসিন্দাদের স্বামী, স্ত্রী ও সন্তানদের জন্য নির্ধারিত এফ২এ ক্যাটাগরিতে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এসেছে।   নতুন ভিসা বুলেটিন অনুযায়ী, পরিবারভিত্তিক কয়েকটি ক্যাটাগরিতে অপেক্ষার সময় কমার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এর মধ্যে এফ২এ ক্যাটাগরির অগ্রগতি সবচেয়ে বেশি, যেখানে যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডধারীদের স্বামী-স্ত্রী ও অবিবাহিত সন্তানদের আবেদন অন্তর্ভুক্ত থাকে।   এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের অবিবাহিত প্রাপ্তবয়স্ক সন্তানদের জন্য এফ১ ক্যাটাগরি এবং অন্যান্য পরিবারভিত্তিক ক্যাটাগরিতেও কিছু অগ্রগতি দেখা গেছে। তবে আবেদনকারীদের ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার তারিখ বা প্রায়োরিটি ডেট অনুযায়ীই পরবর্তী ধাপ নির্ধারণ হবে।   ভিসা বুলেটিনে বলা হয়েছে, পরিবারভিত্তিক অভিবাসন ভিসার সংখ্যা প্রতিবছর নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে দেওয়া হয়। তাই কোনো ক্যাটাগরিতে চাহিদা বেশি হলে অপেক্ষার সময় বাড়তে পারে এবং কম হলে তারিখ এগিয়ে আসতে পারে।   অন্যদিকে কর্মসংস্থানভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য পরিস্থিতি তুলনামূলক কঠিন রয়েছে। বিশেষ করে কিছু এমপ্লয়মেন্ট-বেসড ক্যাটাগরিতে দীর্ঘ অপেক্ষা ও সীমিত ভিসা সংখ্যার কারণে আবেদনকারীদের অনিশ্চয়তা অব্যাহত রয়েছে।   যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ী বসবাসের জন্য আবেদনকারীদের কাছে ভিসা বুলেটিন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এই তালিকার মাধ্যমে জানা যায়, কোন আবেদনকারীরা গ্রিন কার্ডের পরবর্তী ধাপে এগিয়ে যেতে পারবেন এবং কারা এখনও অপেক্ষার তালিকায় থাকবেন।   বিশেষজ্ঞদের মতে, নতুন এই পরিবর্তন অনেক পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীর জন্য আশার খবর হলেও, প্রতিটি আবেদনকারীর পরিস্থিতি নির্ভর করবে তাদের আবেদন জমার তারিখ, দেশভিত্তিক সীমা এবং ভিসা ক্যাটাগরির ওপর।   যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ব্যবস্থায় দীর্ঘদিন ধরে গ্রিন কার্ডের অপেক্ষার তালিকা বড় একটি বিষয় হয়ে আছে। নতুন ভিসা বুলেটিনে পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীদের জন্য অগ্রগতি দেখা গেলেও, সব আবেদনকারী একইভাবে সুবিধা পাবেন না।

মার্কিন ভিসা আপডেট ২০২৬! বাংলাদেশিদের জন্য কোন ভিসা বন্ধ, কোনটা চালু?

২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো।   প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে।   এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে।   অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে।   স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে।   সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে।   সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।

যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশি মালিকানাধীন বিশ্ববিদ্যালয়ের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধন

যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে।   এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন।   নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি।   উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।”   বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে।   এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে।   শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়।   উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন।   বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত।   এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।

পাঁচ সন্তানকে এতিম করে মাকে কুপিয়ে হত্যা, গ্রেপ্তারের সময়ও হাসছিল ঘাতক দুই বোন

যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে এক মর্মান্তিক ও লোমহর্ষক ঘটনার জন্ম দিয়েছে দুই তরুণী বোন। দিনদুপুরে ক্যারোলিন ‘কারো’ পেনা নামের ৩২ বছর বয়সী এক নারীকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগে তাদের গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। নিহত নারী পাঁচ সন্তানের জননী ছিলেন। তবে সবচেয়ে শিউরে ওঠার মতো বিষয় হলো, গ্রেপ্তারের সময় অভিযুক্তদের চেহারায় অনুশোচনার সামান্যতম ছাপ তো ছিলই না, উল্টো তাদের মুখে পৈশাচিক হাসি দেখা গেছে। মেক্সিকো সীমান্তের কাছের শহর দেল রিও থেকে বৃহস্পতিবার বিকেলে পুলিশ তাদের হাতকড়া পরিয়ে নিয়ে যাওয়ার সময় এই দৃশ্য ক্যামেরায় ধরা পড়ে।   আরও পড়ুন... ‘ফোনটা ধরতে পারলে হয়তো তাকে বাঁচাতে পারতাম’- টেক্সাসে পাঁচ সন্তানের মাকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা, দুই বোনসহ তিনজন গ্রেপ্তার   পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নিহত ক্যারোলিনকে বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় দুপুর ২টার পরপরই গুরুতর জখম অবস্থায় ভাল ভার্দে রিজিওনাল মেডিকেল সেন্টারে নেওয়া হয়। তার শরীরে একাধিক ছুরিকাঘাতের চিহ্ন ছিল। ঘটনাস্থলের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, একটি সনিক ড্রাইভ-থ্রু রেস্তোরাঁর বাইরে রক্তাক্ত অবস্থায় ক্যারোলিন তার তিন হামলাকারীর মুখোমুখি দাঁড়িয়ে আছেন।   পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য সান আন্তোনিওর একটি হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছায় এবং প্রায় ৩৫ হাজার বাসিন্দার শহর দেল রিওতে অভিযান চালিয়ে হামলাকারীদের শনাক্ত করে।   সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া গ্রেপ্তারের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, ২১ বছর বয়সী কিটি মিয়া দিয়াজ খালি পায়ে হেঁটে যাওয়ার সময় পুলিশের গাড়িতে ওঠার আগে মৃদু হাসছেন। কিটি নিজেও এক শিশুপুত্রের মা। অন্যদিকে, তার ১৯ বছর বয়সী ছোট বোন আমায়া কুকি দিয়াজ ক্যামেরার দিকে তাকিয়ে নির্লজ্জভাবে দাঁত বের করে হাসতে থাকেন।   ▶️ টেক্সাসে নিজের মাকে নির্মমভাবে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুই মেয়ে |   এমনকি ভিডিও ধারণকারীকে ব্যঙ্গাত্মক সুরে ‘রেকর্ড করা বন্ধ করো’ বলেও চিৎকার করতে শোনা যায় তাকে। দেল রিও পুলিশ জানিয়েছে, এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ২১ বছর বয়সী কায়ান্দ্রা রেনি ফাজ নামের তৃতীয় আরেক নারীকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে ঠিক কী কারণে এই নারকীয় হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে, সে বিষয়ে পুলিশ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি।

Top week

মার্কিন নাগরিকদের নির্দিষ্ট চার ধরনের আত্মীয়কে পরিবারভিত্তিক ভিসায় যুক্তরাষ্ট্রে নেওয়ার সুযোগ রয়েছে

ফ্যামিলি ভিসায় পরিবারের ৪ সদস্যকে যুক্তরাষ্ট্রে নিতে পারেন মার্কিন নাগরিকরা, জানুন বিস্তারিত নিয়ম

অক্টোবর ১, ২০২৬ ১৪:০