- প্রচ্ছদ
- Topic
গাজা
যুদ্ধবিধ্বস্ত ফিলিস্তিনের গাজা থেকে যুক্তরাজ্যের অন্যতম মর্যাদাপূর্ণ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ইম্পেরিয়াল কলেজ লন্ডনে উচ্চশিক্ষার সুযোগ পেয়েছেন ফিলিস্তিনি তরুণী হায়া জাবের। যুক্তরাজ্য সরকারের সম্মানজনক চেভেনিং স্কলারশিপের আওতায় তিনি পাবলিক হেলথ বিষয়ে মাস্টার্স করছেন। তাঁর লক্ষ্য, উচ্চশিক্ষায় অর্জিত জ্ঞান ও অভিজ্ঞতা কাজে লাগিয়ে ভবিষ্যতে ফিলিস্তিনের স্বাস্থ্যসেবার উন্নয়নে ভূমিকা রাখা। চেভেনিং স্কলারশিপ কর্তৃপক্ষের প্রকাশিত এক বিবৃতিতে হায়া জাবেরের এই শিক্ষাযাত্রার কথা তুলে ধরা হয়েছে। এতে জানানো হয়, দীর্ঘদিনের স্বপ্ন পূরণের পথে গুরুত্বপূর্ণ একটি ধাপ অতিক্রম করেছেন তিনি। তাঁর উচ্চশিক্ষার এই সুযোগ বাস্তবায়নে সহযোগিতা করছে বিসেইসু ফাউন্ডেশন। নিজের অনুভূতি প্রকাশ করে হায়া জাবের বলেন, গাজা থেকে আসা একজন শিক্ষার্থী হিসেবে এই যাত্রা তাঁর কাছে শুধু একটি একাডেমিক ডিগ্রি অর্জনের বিষয় নয়। এটি ব্রিটিশ সংস্কৃতিকে কাছ থেকে জানার, দীর্ঘস্থায়ী সম্পর্ক গড়ে তোলার এবং ব্যক্তিগত ও পেশাগতভাবে নিজেকে আরও সমৃদ্ধ করার একটি সুযোগ। হায়ার উচ্চশিক্ষার বিষয় পাবলিক হেলথ বা জনস্বাস্থ্য। এই বিষয়ে রোগ প্রতিরোধ, স্বাস্থ্যনীতি, স্বাস্থ্যব্যবস্থাপনা এবং জনগোষ্ঠীর স্বাস্থ্য সুরক্ষার মতো গুরুত্বপূর্ণ বিষয় নিয়ে পড়াশোনা ও গবেষণার সুযোগ রয়েছে। অর্জিত দক্ষতা ভবিষ্যতে ফিলিস্তিনের স্বাস্থ্য খাতে কাজে লাগানোর আশা করছেন তিনি। দীর্ঘদিনের সংঘাত এবং সাম্প্রতিক যুদ্ধের কারণে গাজার স্বাস্থ্যব্যবস্থা ব্যাপক সংকটের মুখে পড়েছে। হাসপাতাল ও চিকিৎসাকেন্দ্রের কার্যক্রম, প্রয়োজনীয় চিকিৎসাসামগ্রীর সরবরাহ এবং সাধারণ মানুষের চিকিৎসাসেবা পাওয়ার সুযোগ মারাত্মকভাবে ব্যাহত হয়েছে। এমন পরিস্থিতিতে জনস্বাস্থ্য বিষয়ে দক্ষ জনবল গড়ে তোলা ফিলিস্তিনের ভবিষ্যৎ স্বাস্থ্যব্যবস্থার জন্য বিশেষ গুরুত্বপূর্ণ। চেভেনিং স্কলারশিপ যুক্তরাজ্য সরকারের একটি আন্তর্জাতিক বৃত্তি কর্মসূচি। এর মাধ্যমে বিভিন্ন দেশের সম্ভাবনাময় শিক্ষার্থী ও ভবিষ্যৎ নেতৃত্বকে যুক্তরাজ্যে উচ্চশিক্ষার সুযোগ দেওয়া হয়। একাডেমিক শিক্ষার পাশাপাশি আন্তর্জাতিক যোগাযোগ, নেতৃত্বের দক্ষতা এবং পেশাগত অভিজ্ঞতা অর্জনের সুযোগও এই কর্মসূচির গুরুত্বপূর্ণ অংশ। অন্যদিকে বিসেইসু ফাউন্ডেশন চেভেনিংয়ের অংশীদার হিসেবে শিক্ষার্থীদের উচ্চশিক্ষার সুযোগ সম্প্রসারণে সহযোগিতা করে। হায়া জাবেরের শিক্ষাযাত্রাও এই অংশীদারত্বের মাধ্যমে সহায়তা পাচ্ছে। চেভেনিং কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, আন্তর্জাতিক অংশীদারদের সহযোগিতায় বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্তের সম্ভাবনাময় শিক্ষার্থীদের উচ্চশিক্ষার সুযোগ তৈরি করতে পেরে তারা গর্বিত। ভবিষ্যৎ প্রজন্মের নেতৃত্ব গড়ে তোলার লক্ষ্যেই এই সহযোগিতা অব্যাহত রয়েছে। গাজা থেকে লন্ডনের একটি আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত বিশ্ববিদ্যালয়ে পৌঁছানো হায়া জাবেরের জন্য তাই শুধু ব্যক্তিগত অর্জন নয়। তাঁর এই শিক্ষাযাত্রার সঙ্গে যুক্ত রয়েছে ভবিষ্যতে নিজ দেশের মানুষের স্বাস্থ্যসেবায় অবদান রাখার দীর্ঘদিনের স্বপ্ন।
ফিলিস্তিনের গাজা উপত্যকায় মানবিক সংকটে থাকা ২৫ হাজার মানুষের মধ্যে রান্না করা গরম খাবার বিতরণ করেছে সৌদি আরব। দেশটির মানবিক সহায়তা সংস্থা কিং সালমান হিউম্যানিটারিয়ান এইড অ্যান্ড রিলিফ সেন্টার (কেএস রিলিফ) মধ্য ও দক্ষিণ গাজার ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর জন্য এই খাদ্যসহায়তার ব্যবস্থা করেছে। রোববার (১ নভেম্বর) সৌদি প্রেস এজেন্সি জানিয়েছে, চলমান মানবিক সংকটে খাদ্যের চাহিদা মেটাতে এই কার্যক্রম পরিচালনা করা হচ্ছে। কেএস রিলিফের তথ্য অনুযায়ী, সংস্থাটির পরিচালিত কেন্দ্রীয় রান্নাঘরে প্রতিদিন প্রায় ২৫ হাজার মানুষের জন্য গরম খাবার প্রস্তুত করা হয়। পরে এসব খাবার গাজার বিভিন্ন এলাকায় খাদ্যসংকটে থাকা মানুষের কাছে পৌঁছে দেওয়া হয়। বিশেষ করে বাস্তুচ্যুত পরিবার এবং প্রয়োজনীয় খাদ্য সংগ্রহে সমস্যায় থাকা মানুষদের সহায়তা করাই এই কর্মসূচির উদ্দেশ্য। গাজায় কেএস রিলিফের সহযোগী প্রতিষ্ঠান হিসেবে কাজ করছে সৌদি সেন্টার ফর কালচার অ্যান্ড হেরিটেজ। প্রতিষ্ঠানটি রান্নাঘরের কার্যক্রম পরিচালনা, খাবার প্রস্তুত, প্যাকেটজাত এবং বিভিন্ন এলাকায় বিতরণের ব্যবস্থা সমন্বয় করে। সংস্থাটির দাবি, এই কার্যক্রমের মাধ্যমে সংকটে থাকা পরিবারগুলোর দৈনন্দিন খাদ্যচাহিদা পূরণে সহায়তা করা হচ্ছে। এর আগে গত মে মাসে জাতিসংঘের মানবিক সহায়তা সমন্বয়বিষয়ক দপ্তরের একটি প্রতিনিধিদল গাজায় কেএস রিলিফের রান্নাঘর ও খাদ্য বিতরণকেন্দ্র পরিদর্শন করে। প্রতিনিধিরা খাবার প্রস্তুত, প্যাকেটজাত এবং বিতরণের কার্যক্রম পর্যবেক্ষণ করেন। একই সঙ্গে ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের কাছে খাদ্যসহায়তা পৌঁছে দেওয়ার ব্যবস্থাও পর্যালোচনা করেন। খাদ্যসহায়তার পাশাপাশি গাজায় বিশুদ্ধ পানির সংকট মোকাবিলায়ও কাজ করছে সৌদি আরব। ২০২৫ সালের অক্টোবরে খান ইউনিস ও মধ্য গাজার প্রায় তিন লাখ মানুষের জন্য বিশুদ্ধ পানি সরবরাহের লক্ষ্যে একটি পানি লবণমুক্তকরণ প্রকল্পের প্রথম ধাপ চালু করে কেএস রিলিফ। প্রকল্পটির উদ্বোধনে জাতিসংঘের বিভিন্ন সংস্থার প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন। কেএস রিলিফের সরকারি পরিসংখ্যান অনুযায়ী, ২০১৫ সালে প্রতিষ্ঠার পর থেকে ফিলিস্তিনে ১৬৮টি মানবিক সহায়তা প্রকল্প গ্রহণ করেছে সংস্থাটি। এসব প্রকল্পের মোট মূল্য প্রায় ৫৫ কোটি ২০ লাখ ডলার। এর মধ্যে খাদ্যনিরাপত্তা খাতে ৫২টি প্রকল্পের জন্য বরাদ্দ রয়েছে ১১ কোটি ডলারের বেশি। স্বাস্থ্যসেবা, শিক্ষা, আশ্রয় এবং বিশুদ্ধ পানি সরবরাহের মতো ক্ষেত্রেও সহায়তা দেওয়া হচ্ছে। গাজায় দীর্ঘদিনের সংঘাত ও মানবিক সংকটের কারণে বহু পরিবার নিয়মিত খাবার ও বিশুদ্ধ পানি সংগ্রহে সমস্যার মুখে রয়েছে। এই পরিস্থিতিতে সৌদি আরবের কেন্দ্রীয় রান্নাঘরের মাধ্যমে প্রতিদিন গরম খাবার সরবরাহের উদ্যোগ অব্যাহত রয়েছে। তবে খাদ্যসহায়তার এই কর্মসূচি গাজার সামগ্রিক খাদ্যসংকট কতটা দূর করতে পারছে, সে বিষয়ে স্বাধীন মূল্যায়নের তথ্য প্রকাশ করা হয়নি। সূত্র: সৌদি প্রেস এজেন্সি
ফিলিস্তিনের গাজায় ইসরায়েলের সামরিক অভিযান নিয়ে প্রকাশ্যে কথা বলায় যুক্তরাজ্যে চিকিৎসকদের কণ্ঠরোধ করা হচ্ছে বলে অভিযোগ করেছেন ব্রিটিশ-জর্ডানীয় চিকিৎসক ডা. নাদিম ক্রো। তাঁর দাবি, ফিলিস্তিনিদের প্রতি সমর্থন জানিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে মত প্রকাশকারী চিকিৎসকদের বিরুদ্ধে বিভিন্ন সংগঠনের পক্ষ থেকে পেশাগত নিয়ন্ত্রক সংস্থায় অভিযোগ করা হচ্ছে। এতে চিকিৎসকদের মধ্যে স্বাধীনভাবে মত প্রকাশের ক্ষেত্রে ভীতি তৈরি হচ্ছে। বিশেষ করে যুক্তরাজ্যের জেনারেল মেডিকেল কাউন্সিলের (জিএমসি) কাছে চিকিৎসকদের বিরুদ্ধে অভিযোগ পাঠানোর প্রক্রিয়া নিয়ে উদ্বেগ জানিয়েছেন তিনি। গত ২৯ অক্টোবর কুদস নিউজ নেটওয়ার্কের এক প্রতিবেদনে ক্রোর বক্তব্য তুলে ধরা হয়। তিনি অভিযোগ করেন, যুক্তরাজ্যের ক্যাম্পেইন অ্যাগেইনস্ট অ্যান্টিসেমিটিজম (সিএএ), ইউকে লইয়ার্স ফর ইসরায়েল (ইউকেএলএফআই) এবং সংবাদমাধ্যম ডেইলি মেইল ও টেলিগ্রাফের মধ্যে একটি সমন্বিত যোগাযোগব্যবস্থা রয়েছে বলে তাঁর মনে হচ্ছে। তাঁর ভাষ্য, এর মাধ্যমে বিশেষ করে চিকিৎসক ও অন্যান্য পেশাজীবীর বিরুদ্ধে অভিযোগের নথি বা তথ্যসংকলন প্রকাশ করা হয়, যা পরবর্তী সময়ে সংশ্লিষ্ট নিয়ন্ত্রক সংস্থার কাছে অভিযোগ জানানোর ক্ষেত্রে ব্যবহার হতে পারে। তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে সংশ্লিষ্ট সংগঠনগুলোর বক্তব্য ওই প্রতিবেদনে পাওয়া যায়নি। ক্রোর নিজের অভিজ্ঞতাও এ বিতর্কের কেন্দ্রে রয়েছে। ২০২৪ সালের ১৪ আগস্ট লন্ডনের রয়্যাল ফ্রি হাসপাতালে জরুরি বিভাগে দায়িত্ব পালনকালে তাঁকে কাজ থেকে সাময়িকভাবে সরিয়ে দেওয়া হয়। তাঁর ব্যক্তিগত এক্স অ্যাকাউন্টে ইসরায়েলের সমালোচনা এবং ফিলিস্তিনিদের প্রতি সমর্থন জানিয়ে দেওয়া কয়েকটি পোস্টের বিষয়ে এক সহকর্মী অভিযোগ জানানোর পর হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ এ পদক্ষেপ নেয়। ক্রোর দাবি, অভিযোগের নির্দিষ্ট বিষয়বস্তু তাঁকে প্রথমে জানানো হয়নি। পরে তাঁকে পোস্টগুলো মুছে ফেলতে বলা হয়, অন্যথায় পূর্ণাঙ্গ তদন্তের মুখোমুখি হতে হবে বলে তিনি মনে করেছিলেন। পরবর্তী সময়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের পোস্টগুলো মুছে ফেলার পর ১৬ আগস্ট তাঁর ওপর থেকে সাময়িক নিষেধাজ্ঞা তুলে নেওয়া হয় এবং পরদিন তিনি আবার কাজ করেন। তবে নিজের সঙ্গে আচরণের বিষয়ে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের কাছে আনুষ্ঠানিক অভিযোগ জানানোর পরও যথাযথ জবাব পাননি বলে দাবি করেন তিনি। শেষ পর্যন্ত কর্মস্থলে আস্থা হারিয়ে অসুস্থতাজনিত কারণে কাজ থেকে বিরত থাকেন এবং পরে চাকরি ছেড়ে দেন। রয়্যাল ফ্রি লন্ডন এনএইচএস ফাউন্ডেশন ট্রাস্টের বিরুদ্ধে বৈষম্য ও হয়রানির অভিযোগে ২০২৬ সালের জুনে কর্মসংস্থান ট্রাইব্যুনালে মামলা করেন তিনি। মামলায় ক্রো অভিযোগ করেছেন, তাঁর ফিলিস্তিনপন্থী ও জায়নবাদবিরোধী রাজনৈতিক বিশ্বাস এবং আরবীয় বংশপরিচয়ের কারণে বৈষম্যের শিকার হয়েছেন। তাঁর দাবি, একই ধরনের বিষয়ে অন্যদের ক্ষেত্রে ভিন্ন আচরণ করা হলেও ফিলিস্তিনের পক্ষে মত প্রকাশ করায় তাঁকে বেশি কঠোর পরিস্থিতির মুখোমুখি হতে হয়েছে। মামলায় প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষ বৈষম্য, হয়রানি এবং চাকরি ছাড়তে বাধ্য হওয়ার অভিযোগও অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। তবে রয়্যাল ফ্রি হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ এসব অভিযোগের সঙ্গে একমত নয়। তাদের বক্তব্য, ক্রোর বিরুদ্ধে কোনো আনুষ্ঠানিক শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি; বিষয়টি অনানুষ্ঠানিকভাবে পর্যালোচনা করা হয়েছিল। যুক্তরাজ্যের চিকিৎসা পেশায় মত প্রকাশের স্বাধীনতা এবং পেশাগত আচরণবিধি নিয়ে এ ঘটনা নতুন করে বিতর্ক তৈরি করেছে। চিকিৎসকদের পেশাগত আচরণ ও রোগীদের নিরাপত্তা তদারকির দায়িত্বে থাকা জেনারেল মেডিকেল কাউন্সিলের কাছে অভিযোগ জমা পড়লে সংশ্লিষ্ট চিকিৎসকের বিরুদ্ধে তদন্ত শুরু হতে পারে। তবে কোনো অভিযোগ জমা পড়া মানেই সংশ্লিষ্ট চিকিৎসক পেশাগত অসদাচরণ করেছেন, এমন নয়। অভিযোগের সত্যতা ও প্রমাণের ভিত্তিতেই নিয়ন্ত্রক সংস্থাকে সিদ্ধান্ত নিতে হয়। ক্রোর বক্তব্য, গাজায় মানবিক বিপর্যয় নিয়ে চিকিৎসকদের কথা বলার অধিকার থাকা উচিত। তাঁর মতে, রাজনৈতিক মতামত ও পেশাগত দায়িত্বের মধ্যে পার্থক্য বজায় রেখেই চিকিৎসকদের স্বাধীনভাবে মানবিক বিষয়ে অবস্থান জানানোর সুযোগ দিতে হবে। অন্যদিকে, রয়্যাল ফ্রি কর্তৃপক্ষের বক্তব্য, কর্মীদের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রকাশিত বক্তব্য সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের মূল্যবোধ ও পেশাগত আচরণবিধির সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ হওয়া প্রয়োজন। ক্রোর দায়ের করা মামলার চূড়ান্ত নিষ্পত্তির তথ্য এখনো পাওয়া যায়নি। সংবাদসূত্র: কুদস নিউজ নেটওয়ার্ক, দ্য ন্যাশনাল ও লেই ডে।
ফিলিস্তিনের গাজায় যুদ্ধাহত ও চিকিৎসাবঞ্চিত শিশুদের চিকিৎসার্থে এক লাখ পাউন্ডের বেশি তহবিল সংগ্রহ করেছেন বাংলাদেশ জাতীয় ফুটবল দলের মিডফিল্ডার হামজা চৌধুরী। বাংলাদেশি মুদ্রায় এই তহবিলের পরিমাণ প্রায় এক কোটি ৬৫ লাখ টাকা। যুক্তরাজ্যের অলাভজনক সংস্থা নজুম স্পোর্টসের সঙ্গে যৌথভাবে আয়োজিত এক দাতব্য অনুষ্ঠান থেকে বিপুল এই অর্থ সংগ্রহ করা হয়েছে। ইংল্যান্ডের পেশাদার ফুটবল ক্লাব শেফিল্ড ইউনাইটেডের হয়ে খেলা এই বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত তারকা সম্প্রতি নিজের ইনস্টাগ্রাম অ্যাকাউন্টে দেওয়া এক পোস্টে এই অর্জনের কথা নিশ্চিত করেছেন। গত রোববার যুক্তরাজ্যের টাওয়ার হ্যামলেটস টাউন হলে নজুম স্পোর্টসের উদ্যোগে এই বিশেষ দাতব্য অনুষ্ঠানটি আয়োজিত হয়। মুসলিম অ্যাথলেটদের সহায়তা ও ক্ষমতায়নের লক্ষ্যে ২০২০ সালে প্রতিষ্ঠিত এই সংস্থাটি অনুষ্ঠানে হামজাকে নিয়ে একটি বিশেষ আলোচনা সভার আয়োজন করে। এর পাশাপাশি মুসলিম খেলোয়াড়দের স্বাক্ষরিত জার্সি, পদক ও বিভিন্ন স্মারক নিলামে তোলা হয়। এই নিলামের মূল আকর্ষণ ছিল হামজা চৌধুরীর লেস্টার সিটির হয়ে জেতা ঐতিহাসিক ট্রফি ও স্মারকগুলো। এর মধ্যে তার এফএ কাপজয়ী জার্সিটি সাত হাজার পাউন্ড এবং কমিউনিটি শিল্ডজয়ী পদকটি তিন হাজার পাউন্ডে বিক্রি হয়। অনুষ্ঠানটির টিকিট বিক্রি এবং নিলাম থেকে পাওয়া পুরো অর্থ ‘চিলড্রেন নট নাম্বারস’ নামের একটি দাতব্য সংস্থাকে প্রদান করা হয়েছে। সংগৃহীত অর্থের ব্যবহার সম্পর্কে হামজা চৌধুরী জানিয়েছেন, এই তহবিলের সম্পূর্ণ অর্থ গাজার শিশুদের জীবন রক্ষাকারী জরুরি চিকিৎসায় ব্যয় করা হবে। ‘চিলড্রেন নট নাম্বারস’ সংস্থাটি গাজার শিশুদের জরুরি সহায়তা প্রদান এবং উন্নত চিকিৎসার জন্য নিরাপদ স্থানে স্থানান্তরের মতো অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ কাজ করে যাচ্ছে। হামজা কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করে জানান, স্বল্প সময়ে আয়োজিত এই নিলাম থেকে অর্জিত তহবিল গাজার বিশাল দুর্ভোগের তুলনায় অত্যন্ত সামান্য হলেও, প্রতিটি ছোট প্রচেষ্টাই বড় পার্থক্য গড়ে তুলতে পারে। এদিকে, মাঠের বাইরে এমন মহতী ও মানবিক উদ্যোগের পাশাপাশি হামজা বর্তমানে জাতীয় দলের হয়েও মাঠে নামার অপেক্ষায় আছেন। আগামী সাফ চ্যাম্পিয়নশিপে ৫ নভেম্বর ভুটানের বিপক্ষে প্রথম ম্যাচে তিনি খেলতে না পারলেও, প্রধান কোচ টমাস ডুলির ভাষ্যমতে ৯ নভেম্বর তিনি দলের সঙ্গে যোগ দিতে পারেন। সবকিছু ঠিক থাকলে আগামী ১১ নভেম্বর শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে গ্রুপ পর্বের শেষ ম্যাচে লাল-সবুজের জার্সিতে তাকে দেখার জোরালো সম্ভাবনা রয়েছে।
ফিলিস্তিনের যুদ্ধবিধ্বস্ত গাজায় বিদ্যুতের সংকট, খাবারের অভাব আর পরিবারের কঠিন পরিস্থিতির মধ্যেও চিকিৎসক হওয়ার স্বপ্ন ছাড়েননি তরুণ কারিম আয়াদ, আলখোদারি। রাতে একটি ছোট সৌরশক্তিচালিত বাতির আলোয় বসে চিকিৎসাবিজ্ঞানের পড়াশোনা চালিয়ে যাচ্ছেন তিনি। যুদ্ধের কারণে স্বাভাবিক শিক্ষাজীবন ব্যাহত হলেও প্রতিদিন পাঠ্যবই পড়া, লেকচারের নোট পর্যালোচনা এবং গুরুত্বপূর্ণ বিষয়গুলো মনে রাখার চেষ্টা করেন এই শিক্ষার্থী। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নিজের দৈনন্দিন সংগ্রামের কিছু মুহূর্ত তুলে ধরার পর তাঁর পড়াশোনা চালিয়ে যাওয়ার প্রচেষ্টা মানুষের নজরে এসেছে। গাজার বাসিন্দা কারিমের বয়স ২০ বছর বলে তাঁর ব্যক্তিগত পরিচিতিতে উল্লেখ করা হয়েছে। চিকিৎসক হওয়ার স্বপ্ন নিয়ে পড়াশোনা শুরু করলেও যুদ্ধ তাঁর জীবনকে সম্পূর্ণ বদলে দিয়েছে। নিজের অভিজ্ঞতা তুলে ধরে কারিম জানিয়েছেন, একসময় ঘরে বসে স্বাভাবিক পরিবেশে পড়াশোনা করতেন তিনি। কিন্তু যুদ্ধের মধ্যে পরিবারের বাড়ি ধ্বংস হয়ে যাওয়ার পর সেই সুযোগ আর নেই। এখন সীমিত আলো, বিদ্যুতের অভাব এবং প্রয়োজনীয় শিক্ষা উপকরণের সংকটের মধ্যেই তাঁকে পড়াশোনা চালাতে হচ্ছে। পড়ার জন্য ছোট একটি জায়গা তৈরি করে সেখানেই সময় কাটান তিনি। নিজের নামে পরিচালিত একটি অনলাইন তহবিল সংগ্রহের আবেদনে কারিম লিখেছেন, তিনি গাজার একজন মেডিকেল শিক্ষার্থী এবং ছোট একটি সৌরশক্তিচালিত বাতির আলোয় বসেই নিজের কথা লিখছেন। তাঁর ভাষায়, চিকিৎসাবিজ্ঞানের পড়াশোনা চালিয়ে যাওয়াটা যে এত কঠিন সংগ্রামে পরিণত হবে, তা কখনো কল্পনাও করেননি। যুদ্ধের মধ্যে কখনো মোমবাতির আলোয়, কখনো সামান্য আলোর ব্যবস্থা করে পড়াশোনা করেছেন তিনি। প্রতিকূল পরিস্থিতির মধ্যেও চিকিৎসক হওয়ার লক্ষ্য থেকে সরে আসতে চান না এই তরুণ। কারিমের বর্ণনা অনুযায়ী, যুদ্ধ শুরুর পর তাঁর পরিবারের দীর্ঘদিনের বসতবাড়ি ধ্বংস হয়ে যায়। বাবার বহু বছরের পরিশ্রমে গড়ে তোলা সেই বাড়ির সঙ্গে হারিয়ে যায় তাঁর পড়ার ঘর ও প্রয়োজনীয় জিনিসপত্রও। পরে বাবার সহযোগিতায় সাধারণ কাঠ ও হাতের কাছে পাওয়া উপকরণ দিয়ে একটি ছোট পড়ার টেবিল তৈরি করেন তিনি। এই টেবিল আর সামান্য আলোর ব্যবস্থাই এখন তাঁর পড়াশোনার অন্যতম ভরসা। পরিবারের দৈনন্দিন প্রয়োজন মেটানোর পাশাপাশি নিজের শিক্ষাজীবন এগিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করছেন কারিম। শিক্ষাজীবন সম্পর্কে কারিম জানিয়েছেন, প্রতিকূল পরিস্থিতির মধ্যেও তিনি উচ্চমাধ্যমিক পরীক্ষায় ৯৯ শতাংশ নম্বর অর্জন করেছিলেন। চিকিৎসাবিজ্ঞানে পড়াশোনার পাশাপাশি জরুরি চিকিৎসা ও প্রাথমিক চিকিৎসা বিষয়ে প্রশিক্ষণ সম্পন্ন করার কথাও জানিয়েছেন তিনি। এমনকি যুদ্ধের কঠিন সময়ের মধ্যে পবিত্র কোরআন মুখস্থ করেছেন বলেও নিজের অভিজ্ঞতায় উল্লেখ করেছেন। তবে তাঁর এসব শিক্ষাগত অর্জনের বিস্তারিত স্বাধীনভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি। চিকিৎসক হয়ে ভবিষ্যতে মানুষের সেবা করাই তাঁর মূল লক্ষ্য। কারিমের এই সংগ্রাম গাজার শিক্ষা ব্যবস্থার বৃহত্তর সংকটের একটি উদাহরণ। ২০২৩ সালের অক্টোবর থেকে শুরু হওয়া যুদ্ধে উপত্যকার শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলো ব্যাপক ক্ষতির মুখে পড়েছে। জাতিসংঘের শিশু তহবিল ইউনিসেফের ২০২৬ সালের তথ্য অনুযায়ী, গাজার প্রায় ৯৮ শতাংশ স্কুল ভবন ক্ষতিগ্রস্ত অথবা ধ্বংস হয়েছে। দীর্ঘদিন নিয়মিত শ্রেণিকক্ষে পড়াশোনা থেকে বঞ্চিত থাকার পর চলতি বছরের সেপ্টেম্বরে বহু শিশু আবার অস্থায়ী শিক্ষাকেন্দ্রে ফিরতে শুরু করেছে। তবে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের অবকাঠামো, প্রয়োজনীয় উপকরণ এবং নিরাপদ পরিবেশের সংকট এখনো কাটেনি। জাতিসংঘের মানবিক সহায়তা সমন্বয় দপ্তরের সেপ্টেম্বরের প্রতিবেদন অনুযায়ী, গাজায় নতুন শিক্ষাবর্ষ শুরু হলেও প্রায় দুই লাখ শিশু তখনো কোনো ধরনের নিয়মিত শিক্ষাকার্যক্রমের আওতায় আসতে পারেনি। অন্যদিকে প্রায় পাঁচ লাখ শিশু জাতিসংঘ ও সহযোগী সংস্থাগুলোর সহায়তায় পরিচালিত শিক্ষাকেন্দ্রগুলোতে অন্তর্ভুক্ত ছিল। অনেক জায়গায় তাঁবু ও অস্থায়ী স্থাপনায় পাঠদান চলছে। পর্যাপ্ত বিদ্যুৎ, ইন্টারনেট এবং শিক্ষা উপকরণের অভাবে উচ্চশিক্ষার শিক্ষার্থীরাও স্বাভাবিকভাবে পড়াশোনা করতে পারছেন না। গাজায় বিদ্যুতের সংকট মোকাবিলায় সৌরশক্তিচালিত বাতি ও চার্জিং ব্যবস্থা অনেক পরিবারের কাছে গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। এসব ছোট যন্ত্রের সাহায্যে রাতে ঘরে আলো জ্বালানো, মোবাইল ফোন চার্জ দেওয়া এবং শিক্ষার্থীদের পড়াশোনা চালিয়ে যাওয়ার সুযোগ তৈরি হচ্ছে। তবে যুদ্ধের কারণে বাস্তুচ্যুত বহু পরিবারের পক্ষে এমন সাধারণ সরঞ্জাম সংগ্রহ করাও কঠিন। ফলে অনেক শিক্ষার্থীকেই সীমিত সুযোগের মধ্যে নিজেদের পড়াশোনার ব্যবস্থা করতে হচ্ছে। নিজের ভবিষ্যৎ নিয়ে কারিমের প্রত্যাশা, একদিন পড়াশোনা শেষ করে চিকিৎসক হিসেবে মানুষের পাশে দাঁড়াতে পারবেন তিনি। যুদ্ধ তাঁর পরিবার, বাড়িঘর এবং স্বাভাবিক জীবনযাত্রাকে বিপর্যস্ত করলেও চিকিৎসক হওয়ার ইচ্ছা হারিয়ে ফেলেননি। ছোট একটি সৌরবাতির আলোয় তাঁর প্রতিদিনের পড়াশোনা চালিয়ে যাওয়ার প্রচেষ্টা গাজার তরুণ প্রজন্মের শিক্ষা ও ভবিষ্যৎ নিয়ে চলমান সংগ্রামের বাস্তব চিত্র তুলে ধরছে।
যুদ্ধবিধ্বস্ত গাজায় বিদ্যুতের সংকট, প্রয়োজনীয় শিক্ষা উপকরণের অভাব আর পরিবারের কঠিন পরিস্থিতির মধ্যেও চিকিৎসক হওয়ার স্বপ্ন ছাড়েননি তরুণ শিক্ষার্থী কারিম আয়াদ আলখোদারি। রাতে একটি ছোট সৌরশক্তিচালিত বাতির আলোয় বসে চিকিৎসাবিজ্ঞানের পাঠ পড়েন তিনি। পড়ার উপকরণ পর্যালোচনা করা, গুরুত্বপূর্ণ বিষয় মনে রাখা এবং নিয়মিত পড়াশোনা চালিয়ে যাওয়াই এখন তাঁর দৈনন্দিন জীবনের অংশ। নিজের জীবনের এমন মুহূর্তগুলো সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তুলে ধরেছেন কারিম। তাঁর ব্যক্তিগত অভিজ্ঞতা গাজার প্রতিকূল পরিবেশে শিক্ষাজীবন চালিয়ে যাওয়ার সংগ্রামকে সামনে এনেছে। কারিমের নিজের ভাষ্যে, চিকিৎসক হওয়ার স্বপ্ন তাঁর কাছে কেবল পেশাগত লক্ষ্য নয়, বরং কঠিন সময়েও এগিয়ে চলার প্রেরণা। যুদ্ধের মধ্যে কখনো মোমবাতির আলোয়, কখনো হাতের কাছে পাওয়া সামান্য আলোর সাহায্যে পড়াশোনা করেছেন তিনি। চিকিৎসাবিজ্ঞানের পাঠের পাশাপাশি জরুরি চিকিৎসা ও প্রাথমিক চিকিৎসা বিষয়ে প্রশিক্ষণও সম্পন্ন করেছেন বলে জানিয়েছেন। ভবিষ্যতে চিকিৎসক হয়ে মানুষের পাশে দাঁড়াতে চান তিনি, বিশেষ করে এমন মানুষদের, যাঁরা প্রয়োজনের সময় যথাযথ চিকিৎসা পান না। কারিমের পরিবারের সংকটও তাঁর পড়াশোনাকে কঠিন করে তুলেছে। তাঁর প্রকাশিত বিবরণ অনুযায়ী, গত ১০ অক্টোবর তাঁদের পারিবারিক বাড়িটি ধ্বংস হয়ে যায়। বাড়িটি তাঁর বাবা প্রায় ৩৮ বছর ধরে নিজের হাতে গড়ে তুলেছিলেন। এখন পরিবারের সাত সদস্যকে একটি ছোট ভাড়া করা ঘরে থাকতে হচ্ছে। খাবার, বিশুদ্ধ পানি, নিরাপদ আশ্রয় এবং চিকিৎসার খরচ জোগাড় করাও তাঁদের জন্য প্রতিদিনের বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে। এমন পরিস্থিতিতে পড়াশোনার জন্য নির্দিষ্ট একটি জায়গা তৈরি করে নেওয়ার চেষ্টা করেছেন কারিম। সীমিত আলো ও প্রয়োজনীয় সরঞ্জামের মধ্যেই বইপত্র নিয়ে বসেন তিনি, যাতে পড়ার ধারাবাহিকতা নষ্ট না হয়। যুদ্ধের কারণে শিক্ষা কার্যক্রম ব্যাহত হওয়া, ঘন ঘন স্থান পরিবর্তন এবং বিদ্যুতের অভাব গাজার বহু শিক্ষার্থীর জন্য বড় বাধা হয়ে উঠেছে। চিকিৎসাবিজ্ঞানের মতো বিষয়, যেখানে নিয়মিত অধ্যয়ন ও অনুশীলন জরুরি, সেখানে এসব সীমাবদ্ধতা শিক্ষার্থীদের জন্য বাড়তি চাপ তৈরি করছে। গাজায় শিক্ষাজীবন ধরে রাখার লড়াই কারিমের একার নয়। ২০২৪ সালে বিএমজে গ্লোবাল হেলথের একটি লেখায় গাজার আরেক চিকিৎসাশিক্ষার্থী যুদ্ধ, বাস্তুচ্যুতি, ক্ষুধা এবং বিদ্যুৎ ও ইন্টারনেটের সীমাবদ্ধতার মধ্যেও পড়াশোনা চালিয়ে যাওয়ার অভিজ্ঞতা তুলে ধরেছিলেন। ২০২৬ সালেও গাজায় শিক্ষার্থীদের জন্য বিকল্প শিক্ষার পরিবেশ তৈরির উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। তবে কারিমের অভিজ্ঞতা দেখায়, এমন উদ্যোগের পাশাপাশি অনেক শিক্ষার্থীকে ব্যক্তিগতভাবে নানা সংকট মোকাবিলা করে নিজেদের পড়াশোনা এগিয়ে নিতে হচ্ছে। কারিমের লক্ষ্য একদিন চিকিৎসক হয়ে গাজার মানুষের সেবা করা। তাঁর পরিবারের আর্থিক সংকট ও পড়াশোনার খরচ মেটাতে অনলাইনে তহবিল সংগ্রহের উদ্যোগও নেওয়া হয়েছে। নিজের বিবরণে তিনি জানিয়েছেন, কঠিন পরিস্থিতির মধ্যেও পড়াশোনা চালিয়ে যেতে চান এবং ভবিষ্যতে চিকিৎসাসেবার মাধ্যমে অন্যদের সহায়তা করতে চান। সীমিত আলোয় বইয়ের পাতায় চোখ রেখে তাঁর এই চেষ্টা গাজায় যুদ্ধের মধ্যে শিক্ষার ধারাবাহিকতা ধরে রাখার এক ব্যক্তিগত উদাহরণ হয়ে উঠেছে। সূত্র: কারিম আয়াদ আলখোদারির ব্যক্তিগত বিবরণ ও বিএমজে গ্লোবাল হেলথ।
গাজায় ইনসুলিন ও রক্তে শর্করা পরীক্ষার সরঞ্জামের ঘাটতিতে ডায়াবেটিসে আক্রান্ত শিশুদের চিকিৎসা ব্যাহত হচ্ছে। গাজার স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় সতর্ক করেছে, ওষুধের সংকট ও প্রাথমিক স্বাস্থ্যসেবা কেন্দ্রগুলো বন্ধ থাকায় নিয়মিত চিকিৎসার ওপর নির্ভরশীল রোগীরা গুরুতর ঝুঁকিতে পড়ছেন। মন্ত্রণালয়ের ১১ অক্টোবরের হিসাবে গাজায় প্রায় ৭১ হাজার ডায়াবেটিস রোগী রয়েছেন। তাঁদের মধ্যে প্রায় সাড়ে তিন হাজার টাইপ-১ ডায়াবেটিস রোগী, যাঁদের বেঁচে থাকার জন্য নিয়মিত ইনসুলিন প্রয়োজন। দীর্ঘমেয়াদি বিভিন্ন রোগে আক্রান্ত প্রায় সাড়ে তিন লাখ মানুষ ওষুধের ঘাটতির মুখে রয়েছেন বলে জানিয়েছে মন্ত্রণালয়। মন্ত্রণালয়ের হিসাবে, তাদের ও জাতিসংঘের ফিলিস্তিনি শরণার্থী সহায়তা সংস্থা ইউএনআরডব্লিউএর পরিচালিত প্রাথমিক স্বাস্থ্যসেবা কেন্দ্রগুলোর ৮১ শতাংশ কার্যক্রম বন্ধ রেখেছে। এতে নিয়মিত পরীক্ষা, চিকিৎসকের পরামর্শ ও রোগীদের পরবর্তী পর্যবেক্ষণের সুযোগ কমেছে। গাজায় পণ্য ও চিকিৎসাসামগ্রী প্রবেশে ইসরায়েলি বিধিনিষেধের পাশাপাশি স্বাস্থ্য অবকাঠামোর ক্ষয়ক্ষতি এবং বিদ্যুৎ ও জ্বালানির সংকট পরিস্থিতিকে জটিল করেছে। নির্ধারিত তাপমাত্রায় ইনসুলিন সংরক্ষণের ব্যবস্থাও ব্যাহত হচ্ছে। আন্তর্জাতিক ডায়াবেটিস ফেডারেশনও গত ৪ আগস্ট প্রকাশিত এক বিবৃতিতে গাজায় ইনসুলিন ও প্রয়োজনীয় সরঞ্জামের সংকট নিয়ে উদ্বেগ জানিয়েছিল। সংস্থাটি বলেছে, ইনসুলিন পেন, গ্লুকোমিটার, পরীক্ষার স্ট্রিপ ও সিরিঞ্জের অভাবে নিরাপদে ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণ কঠিন হচ্ছে। অবিচ্ছিন্ন চিকিৎসা না পেলে রোগীদের ডায়াবেটিক কিটোঅ্যাসিডোসিসসহ গুরুতর জটিলতা ও মৃত্যুর ঝুঁকি বাড়ে। ওষুধ ও পরীক্ষার সরঞ্জাম বাধাহীনভাবে পৌঁছানোর পাশাপাশি নির্ভরযোগ্য সংরক্ষণ ও বিতরণব্যবস্থা নিশ্চিত করার আহ্বান জানিয়েছে ফেডারেশন। গাজার স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ও জরুরি ওষুধ ও চিকিৎসাসামগ্রীর সরবরাহ বাড়ানোর দাবি জানিয়েছে।
গাজায় একটি ভবন কেন এখনো দাঁড়িয়ে আছে, এমন মন্তব্য করে সমালোচনার মুখে পড়া লন্ডনের রেস্তোরাঁ মালিক হারমান সিং কাপুর এবার নিজের ব্যবসা টিকিয়ে রাখতে মানুষের সহায়তা চেয়েছেন। সোমবার, ১২ অক্টোবর এক্সে দেওয়া পোস্টে ভারতীয় বংশোদ্ভূত এই ব্যবসায়ী তাঁর ‘সিংস ডাইনিং’ রেস্তোরাঁয় টেবিল বুক করার আহ্বান জানান। বকেয়া রেন্ট ও নেতিবাচক অনলাইন রিভিউয়ের কারণে ব্যবসা চাপে পড়েছে বলে দাবি করেছেন তিনি। কাপুরের অভিযোগ, গুগল তাঁর রেস্তোরাঁ সম্পর্কে ভুয়া এক তারকার রিভিউ গ্রহণ করছে, অথচ প্রকৃত গ্রাহকদের পাঁচ তারকার রিভিউ প্রকাশ করছে না। এতে ব্যবসা ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে বলে দাবি করেন তিনি। তবে রিভিউ কারসাজি এবং গুগলের বিরুদ্ধে তাঁর অভিযোগ স্বাধীনভাবে প্রমাণিত হয়নি। সহায়তার আবেদনে কাপুর বলেন, রেস্তোরাঁটি তাঁর জীবিকা এবং দীর্ঘদিনের পরিশ্রমে গড়ে তোলা প্রতিষ্ঠান। রেন্ট বকেয়া থাকায় বাড়িওয়ালা আদালতে যাওয়ার কথা জানিয়েছেন বলেও দাবি করেন তিনি। গ্রাহকদের রেস্তোরাঁয় আসার পাশাপাশি তাঁর আবেদন পরিচিতদের সঙ্গে শেয়ার করার অনুরোধ জানান। একই পোস্টে তিনি রেস্তোরাঁয় হালাল খাবার পরিবেশন না করার নীতিও পুনর্ব্যক্ত করেন। তাঁর এই আবেদনের পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে গাজা নিয়ে আগের ভিডিওটি আবার আলোচনায় আসে। দ্য কারেন্টের প্রতিবেদন অনুযায়ী, ওই ভিডিওতে কাপুর একটি ভবনের আকাশ থেকে তোলা ছবি দেখিয়ে ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু ও ইসরায়েলি সামরিক বাহিনীকে উদ্দেশ করে প্রশ্ন করেন, গাজায় ভবনটি কেন এখনো দাঁড়িয়ে আছে। সমালোচকেরা তাঁর বক্তব্যকে আরও ধ্বংসের আহ্বান হিসেবে দেখেছেন। তবে গাজা নিয়ে মন্তব্যের প্রতিক্রিয়াতেই রেস্তোরাঁটির আর্থিক সংকট তৈরি হয়েছে, এমন সরাসরি সম্পর্ক প্রতিষ্ঠিত হয়নি। ব্যবসার সংকট ও অনলাইন রিভিউ নিয়ে অভিযোগগুলো মূলত কাপুরের নিজের বক্তব্যের ওপর নির্ভরশীল। ১৩ অক্টোবর আরেক পোস্টে কাপুর জানান, সিংস ডাইনিং এখনো চালু রয়েছে। ইন্ডিয়াটাইমসের প্রতিবেদন অনুযায়ী, তিনি নিজে বন্ধের ঘোষণা না দেওয়া পর্যন্ত রেস্তোরাঁটি খোলা থাকবে বলে জানিয়েছেন এবং গ্রাহকদের সরাসরি এসে খাবার খাওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন।
২০২৬ সালের শান্তিতে নোবেল পুরস্কার পেয়েছেন দক্ষিণ আফ্রিকার মানবাধিকারকর্মী ও আন্তর্জাতিক বিচারক নাভি পিলাই। শুক্রবার (৯ অক্টোবর) নরওয়ের রাজধানী অসলোতে বিজয়ীর নাম ঘোষণা করে নরওয়েজিয়ান নোবেল কমিটি। আন্তর্জাতিক আইন প্রতিষ্ঠা, মানবাধিকার রক্ষা এবং যু দ্ধাপরাধ ও গণ হ ত্যার বিচার নিশ্চিত করতে দীর্ঘদিনের অবদানের স্বীকৃতি হিসেবে তাঁকে এ পুরস্কারের জন্য নির্বাচিত করা হয়েছে। ৮৫ বছর বয়সী নাভি পিলাই জাতিসংঘের সাবেক মানবাধিকারবিষয়ক হাইকমিশনার। তিনি ২০০৮ থেকে ২০১৪ সাল পর্যন্ত এ দায়িত্ব পালন করেন। আন্তর্জাতিক বিচারব্যবস্থায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখার পাশাপাশি ইসরায়েলের মানবাধিকার পরিস্থিতি নিয়ে সমালোচনামূলক অবস্থানের কারণে বিভিন্ন সময়ে আলোচনায় এসেছেন তিনি। নোবেল কমিটির চেয়ারম্যান ইয়র্গেন ওয়াটনে ফ্রিডনেস বলেন, আন্তর্জাতিক আইন ও শান্তি প্রতিষ্ঠায় অসাধারণ সাহসিকতা এবং সততার পরিচয় দিয়েছেন নাভি পিলাই। বিশেষ করে যু দ্ধাপরাধ, মানবতাবিরোধী অপরাধ ও গণ হ ত্যার বিচার নিশ্চিত করতে তাঁর ভূমিকা আন্তর্জাতিক বিচারব্যবস্থাকে শক্তিশালী করেছে। নোবেল কমিটির বিবৃতিতে বলা হয়েছে, বিশ্বজুড়ে যু দ্ধ ও সংঘাত বাড়ার পাশাপাশি আন্তর্জাতিক আদালত এবং বিচারিক প্রতিষ্ঠানগুলো রাজনৈতিক চাপের মুখে পড়ছে। এমন পরিস্থিতিতে আন্তর্জাতিক আইনের শাসন প্রতিষ্ঠা এবং সহিং সতা ছাড়াই বিরোধ নিষ্পত্তির গুরুত্ব তুলে ধরতেই পিলাইয়ের অবদানকে স্বীকৃতি দেওয়া হয়েছে। সংবাদমাধ্যম টাইমস অব ইসরায়েলের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, জাতিসংঘের মানবাধিকারবিষয়ক হাইকমিশনার হিসেবে দায়িত্ব পালনের সময় ইসরায়েলের বিভিন্ন কর্মকাণ্ডের সমালোচনা করেছিলেন পিলাই। বিশেষ করে ফিলিস্তিনি ভূখণ্ডে মানবাধিকার পরিস্থিতি নিয়ে তাঁর অবস্থান ইসরায়েল এবং দেশটির সমর্থকদের মধ্যে অসন্তোষ তৈরি করেছিল। ২০১৪ সালে যুক্তরাষ্ট্রের কংগ্রেসের শতাধিক সদস্য পিলাইয়ের কাছে একটি চিঠি পাঠান। চিঠিতে তাঁর নেতৃত্বাধীন জাতিসংঘের মানবাধিকার কার্যক্রমে ইসরায়েলের বিরুদ্ধে পক্ষপাতমূলক আচরণের অভিযোগ তোলা হয়। তবে এসব অভিযোগের মধ্যেও আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সুরক্ষার পক্ষে নিজের অবস্থান বজায় রাখেন তিনি। পরবর্তী সময়ে ২০২১ থেকে ২০২৫ সাল পর্যন্ত অধিকৃত ফিলিস্তিনি ভূখণ্ড ও ইসরায়েলসংক্রান্ত জাতিসংঘের স্বাধীন আন্তর্জাতিক তদন্ত কমিশনের নেতৃত্ব দেন পিলাই। তাঁর নেতৃত্বাধীন কমিশন ২০২৫ সালে গাজায় ইসরায়েলের কর্মকাণ্ডকে গণ হ ত্যা হিসেবে চিহ্নিত করে প্রতিবেদন প্রকাশ করে। তবে ইসরায়েল ওই অভিযোগ প্রত্যাখ্যান করেছে। কমিশনের এই অনুসন্ধান আন্তর্জাতিক অঙ্গনে ব্যাপক আলোচনা তৈরি করে। দক্ষিণ আফ্রিকার ডারবানে ভারতীয় তামিল বংশোদ্ভূত একটি পরিবারে জন্ম নেওয়া নাভি পিলাইয়ের পেশাগত জীবন শুরু হয় বর্ণবৈষম্যের বিরুদ্ধে আইনি লড়াইয়ের মধ্য দিয়ে। দক্ষিণ আফ্রিকায় বর্ণবাদী শাসনব্যবস্থার সময় তিনি নেলসন ম্যান্ডেলাসহ বর্ণবৈষম্যবিরোধী আন্দোলনের সঙ্গে যুক্ত ব্যক্তিদের পক্ষে আইনি লড়াইয়ে অংশ নেন। ১৯৬৭ সালে ডারবানে নিজের আইন প্রতিষ্ঠান প্রতিষ্ঠা করেন পিলাই। পরে যুক্তরাষ্ট্রের হার্ভার্ড বিশ্ববিদ্যালয় থেকে আইন বিষয়ে উচ্চশিক্ষা গ্রহণ করেন এবং ১৯৮৮ সালে ডক্টর অব জুরিডিক্যাল সায়েন্স ডিগ্রি অর্জন করেন। ১৯৯৫ সালে তিনি দক্ষিণ আফ্রিকার হাইকোর্টের বিচারক হিসেবে নিয়োগ পান। এরপর রুয়ান্ডার গণ হ ত্যার বিচারের জন্য গঠিত আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে বিচারক ও প্রেসিডেন্ট হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন তিনি। সেখানে যৌন সহিং সতা ও ধ র্ষ ণকে গণ হ ত্যা এবং মানবতাবিরোধী অপরাধ হিসেবে বিচারের আওতায় আনার ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখেন। পরে আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালতের বিচারক হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেন পিলাই। মিয়ানমারের বিরুদ্ধে গণ হ ত্যার অভিযোগে আন্তর্জাতিক বিচার আদালতে চলমান মামলায়ও তিনি অ্যাডহক বিচারক হিসেবে যুক্ত রয়েছেন। আন্তর্জাতিক বিচারব্যবস্থার বিভিন্ন পর্যায়ে তাঁর দীর্ঘ অভিজ্ঞতা এবং মানবাধিকার প্রতিষ্ঠায় ধারাবাহিক ভূমিকার বিষয়টি এবারের নোবেল পুরস্কারের সিদ্ধান্তে বিশেষ গুরুত্ব পেয়েছে। নোবেল কমিটির মতে, আন্তর্জাতিক আইনের কার্যকারিতা নিশ্চিত করা ছাড়া দীর্ঘস্থায়ী শান্তি প্রতিষ্ঠা সম্ভব নয়। যু দ্ধাপরাধের জন্য দায়ীদের বিচারের মুখোমুখি করা এবং নি র্যা তনের শিকার মানুষের ন্যায়বিচার নিশ্চিত করার মধ্য দিয়েই একটি শান্তিপূর্ণ বিশ্বব্যবস্থা গড়ে তোলা সম্ভব। আগামী ১০ ডিসেম্বর নরওয়ের অসলোতে আনুষ্ঠানিকভাবে নাভি পিলাইয়ের হাতে শান্তিতে নোবেল পুরস্কার তুলে দেওয়া হবে। আন্তর্জাতিক আইন ও মানবাধিকার প্রতিষ্ঠায় তাঁর কয়েক দশকের কাজের স্বীকৃতি হিসেবে এবারের পুরস্কারকে দেখছে নোবেল কমিটি।
গাজায় ইসরায়েলি সামরিক অভিযানে বেসামরিক মানুষের প্রাণহানি নিয়ে নির্মিত তথ্যচিত্র ‘নাজা’ যুক্তরাষ্ট্রের প্রেক্ষাগৃহে প্রদর্শিত হচ্ছে। ইসরায়েলি পরিচালক ইউভাল আব্রাহাম ও র্যাচেল সোরের ছবিটিতে কয়েকজন সেনা ও গোয়েন্দা কর্মকর্তার বক্তব্য তুলে ধরা হয়েছে। তাঁদের দাবি, হামলার লক্ষ্য নির্ধারণের সময় সম্ভাব্য বেসামরিক প্রাণহানির হিসাব করা হতো। ইসরায়েলি সামরিক বাহিনী তথ্যচিত্রটির মূল অভিযোগ অস্বীকার করেছে। গত ৩০ সেপ্টেম্বর নিউইয়র্কের আইএফসি সেন্টারে ছবিটির প্রদর্শন শুরু হয়। আগামী ৯ অক্টোবর থেকে লস অ্যাঞ্জেলেস, শিকাগোসহ যুক্তরাষ্ট্রের আরও কয়েকটি শহরে এটি মুক্তি পাওয়ার কথা। এর আগে ভেনিস চলচ্চিত্র উৎসবে ‘নাজা’ বিশেষ জুরি পুরস্কার পায়। তথ্যচিত্রে সাক্ষাৎকার দেওয়া ব্যক্তিদের মুখ ও কণ্ঠ গোপন রাখা হয়েছে। তাঁরা গাজায় নজরদারি, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার ব্যবহার এবং হামলার লক্ষ্য নির্ধারণের প্রক্রিয়া সম্পর্কে কথা বলেছেন। নির্মাতাদের বক্তব্য, পরিচয় প্রকাশ পেলে তাঁদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার আশঙ্কা ছিল। সাক্ষাৎকারদাতাদের দাবিগুলো চলচ্চিত্র নির্মাণের সময় যাচাই করা হয়েছে বলেও জানিয়েছেন তাঁরা। তবে ছবিতে তুলে ধরা প্রতিটি ঘটনার বিবরণ স্বাধীনভাবে নিশ্চিত করা সম্ভব হয়নি। ইসরায়েলি সামরিক বাহিনীর ভাষ্য, তাদের নির্দেশনায় যোদ্ধা ও বেসামরিক মানুষের মধ্যে পার্থক্য স্পষ্টভাবে করা হয় এবং বেসামরিক ক্ষতি কমানোর চেষ্টা থাকে। বাহিনীটি কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ব্যবহারের কথা স্বীকার করলেও বলেছে, হামলার লক্ষ্য গোয়েন্দা কর্মকর্তারা নির্বাচন করেন এবং হামলার সিদ্ধান্ত নেন দায়িত্বপ্রাপ্ত কমান্ডাররা। ছবিটি ঘিরে ইসরায়েলে তীব্র প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে। প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু এর সমালোচনা করেছেন। অন্যদিকে নিউইয়র্কে ছবিটির প্রদর্শনীর বাইরেও বিক্ষোভ হয়েছে। নির্মাতা আব্রাহাম বলেছেন, ২০২৩ সালের ৭ অক্টোবর হামাসের হামলা অন্যায় ছিল; একই সঙ্গে সেই হামলা গাজায় বেসামরিক মানুষের প্রাণহানিকে ন্যায্যতা দেয় না। ‘নাজা’ যুক্তরাষ্ট্রে মুক্তি পাওয়ায় গাজা যুদ্ধের পাশাপাশি ইসরায়েলকে মার্কিন সামরিক সহায়তা নিয়েও আলোচনা নতুন করে সামনে এসেছে। তবে তথ্যচিত্রে সাক্ষাৎকারদাতাদের অভিযোগ, নির্মাতাদের বক্তব্য এবং ইসরায়েলি বাহিনীর জবাব আলাদা করে বিবেচনা করা জরুরি। সূত্র: অ্যাসোসিয়েটেড প্রেস, রয়টার্স ও দ্য গার্ডিয়ান।
ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহু বলেছেন, গাজায় হামাসের কোনো শাসন থাকবে না। ২০২৩ সালের ৭ অক্টোবর হামাসের নেতৃত্বাধীন হামলায় নিহতদের স্মরণে সোমবার, ৫ অক্টোবর জেরুজালেমের মাউন্ট হার্জল সামরিক সমাধিক্ষেত্রে আয়োজিত রাষ্ট্রীয় অনুষ্ঠানে তিনি এ ঘোষণা দেন। একই সঙ্গে ওই হামলায় জড়িত এবং জিম্মিদের আটকে রাখার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে অভিযান অব্যাহত রাখার কথাও জানিয়েছেন তিনি। হামাসের নেতৃত্বাধীন ৭ অক্টোবরের হামলার তিন বছর পূর্তি উপলক্ষে সোমবার ইসরায়েলে জাতীয়ভাবে স্মরণ দিবস পালন করা হয়। হামলা শুরুর সময় সকাল ৬টা ২৯ মিনিট থেকে সরকারি ভবনগুলোতে জাতীয় পতাকা অর্ধনমিত রাখা হয়। এই রাষ্ট্রীয় স্মরণ অনুষ্ঠানেই গাজার ভবিষ্যৎ শাসন নিয়ে নিজের অবস্থান আবারও স্পষ্ট করেন নেতানিয়াহু। স্মরণসভায় নেতানিয়াহু বলেন, গত তিন বছরে ইসরায়েল বড় ধরনের সাফল্য অর্জন করেছে। তবে এখনো কিছু কাজ বাকি রয়েছে এবং সেগুলো সম্পন্ন করার পরিকল্পনা রয়েছে। এরপরই তিনি স্পষ্টভাবে জানান, গাজায় হামাসের শাসন থাকতে দেওয়া হবে না। নেতানিয়াহু আরও জানিয়েছেন, ৭ অক্টোবরের হামলায় যারা অংশ নিয়েছিল অথবা জিম্মিদের আটকে রাখার সঙ্গে যারা যুক্ত ছিল, তাদের বিরুদ্ধে ইসরায়েলের অভিযান অব্যাহত থাকবে। তাঁর এই বক্তব্য এমন সময়ে এসেছে, যখন যুদ্ধ-পরবর্তী গাজার শাসনব্যবস্থা কেমন হবে, তা নিয়ে বিভিন্ন পরিকল্পনা সামনে এলেও বাস্তবে বিষয়টির চূড়ান্ত সমাধান এখনো হয়নি। ২০২৩ সালের ৭ অক্টোবর হামাসের নেতৃত্বে যোদ্ধারা দক্ষিণ ইসরায়েলে হামলা চালায়। এএফপির হিসাবে, ইসরায়েলের সরকারি তথ্যের ভিত্তিতে ওই হামলায় ১ হাজার ২২১ জন নিহত হন। একই সময় ২৫১ জনকে জিম্মি করে গাজায় নিয়ে যাওয়া হয়। তাঁদের মধ্যে ৪৪ জনকে মৃত অবস্থায় নিয়ে যাওয়া হয়েছিল বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। ওই হামলার পর গাজায় ব্যাপক সামরিক অভিযান শুরু করে ইসরায়েল। গাজার স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, এরপর থেকে সেখানে ৭৪ হাজার ২০০ জনের বেশি মানুষ নিহত হয়েছেন। গত অক্টোবরে যুদ্ধবিরতি ঘোষণার পরও ইসরায়েলি বাহিনীর হামলায় আরও ১ হাজার ৪৪০ জনের বেশি মানুষ নিহত হয়েছেন বলে মন্ত্রণালয় জানিয়েছে। গাজার যুদ্ধ-পরবর্তী শাসনব্যবস্থা নিয়ে ইতোমধ্যে বিভিন্ন পরিকল্পনা সামনে আসতে শুরু করেছে। তবে গাজার প্রশাসনিক ও রাজনৈতিক নিয়ন্ত্রণ ভবিষ্যতে কার হাতে থাকবে, সেই প্রশ্ন এখনো পুরোপুরি নিষ্পত্তি হয়নি। এই পরিস্থিতিতেই নেতানিয়াহু জানিয়েছেন, ভবিষ্যৎ ব্যবস্থায় হামাসের শাসন থাকবে না। ২০২৩ সালের অক্টোবরের হামলার পর গাজার পাশাপাশি মধ্যপ্রাচ্যের আরও কয়েকটি অঞ্চলে সামরিক সংঘাতে জড়িয়েছে ইসরায়েল। এর মধ্যে লেবাননে ইরান-সমর্থিত হিজবুল্লাহর সঙ্গে সংঘাতও রয়েছে। সোমবারের স্মরণসভায় হিজবুল্লাহ নিয়েও নিজের অবস্থান তুলে ধরেন নেতানিয়াহু। তিনি জানান, হিজবুল্লাহর বিরুদ্ধে ইসরায়েলের হামলা অব্যাহত থাকবে। তাঁর ভাষ্য অনুযায়ী, এর মাধ্যমে লেবাননের সঙ্গে ভবিষ্যতে শান্তির সুযোগ তৈরির চেষ্টা করা হবে। লেবাননের অধিকাংশ মানুষ ইসরায়েলের সঙ্গে শান্তি চায় বলেও দাবি করেন তিনি। স্মরণসভার বক্তব্যে ইরানের নেতৃত্ব নিয়েও কথা বলেন ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রী। তেহরানের বর্তমান নেতৃত্বকে ইসরায়েলের অস্তিত্বের জন্য হুমকি তৈরি করতে দেওয়া হবে না বলে জানান তিনি। ইরানের বর্তমান নেতৃত্ব প্রতিষ্ঠার পর থেকে এখন সবচেয়ে দুর্বল অবস্থায় রয়েছে বলেও দাবি করেন নেতানিয়াহু। এএফপির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, গত ২৮ ফেব্রুয়ারি ইরানে ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্র যৌথ হামলা চালানোর পর মধ্যপ্রাচ্যে নতুন যুদ্ধ শুরু হয়। সেই সংঘাতের প্রেক্ষাপটেও সোমবারের বক্তব্যে ইরানের বিরুদ্ধে নিজের সরকারের অবস্থান তুলে ধরেছেন নেতানিয়াহু। তিন বছর আগে ৭ অক্টোবরের হামলা ইসরায়েল ও গাজার পরিস্থিতিকে বড় ধরনের সংঘাতের দিকে নিয়ে যায়। এরপর থেকে গাজায় ব্যাপক প্রাণহানি ও ধ্বংসের পাশাপাশি পুরো অঞ্চলে সংঘাত ছড়িয়ে পড়ে। যুদ্ধবিরতি ঘোষিত হলেও গাজায় সহিংসতা পুরোপুরি বন্ধ হয়নি। এর মধ্যেই যুদ্ধ-পরবর্তী গাজার ভবিষ্যৎ নিয়ে আলোচনা অব্যাহত রয়েছে। হামাসের ভূমিকা, ইসরায়েলি বাহিনীর অবস্থান এবং ভবিষ্যৎ প্রশাসনিক কাঠামো নিয়ে বিভিন্ন পক্ষের মধ্যে মতপার্থক্য রয়েছে। নেতানিয়াহুর সোমবারের বক্তব্যে তাঁর সরকারের অবস্থান আবারও সামনে এসেছে। ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী জানিয়েছেন, ৭ অক্টোবরের হামলার সঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধে অভিযান অব্যাহত রাখার পাশাপাশি গাজায় হামাসের শাসনের অবসান নিশ্চিত করতে চান তিনি। তবে গাজার ভবিষ্যৎ শাসনব্যবস্থার পূর্ণ কাঠামো কী হবে, সে বিষয়ে স্মরণসভার বক্তব্যে বিস্তারিত কোনো পরিকল্পনা তুলে ধরেননি। ফলে তিন বছর পূর্তির রাষ্ট্রীয় স্মরণসভায় নেতানিয়াহুর বক্তব্যের প্রধান বার্তা ছিল গাজার ভবিষ্যৎ নিয়ে ইসরায়েলের অবস্থান। যুদ্ধ-পরবর্তী শাসনব্যবস্থা নিয়ে আলোচনা চললেও তিনি স্পষ্টভাবে জানিয়েছেন, গাজায় হামাসের কোনো শাসন থাকবে না। সূত্র: এএফপি
গাজায় ব্যাপক ধ্বংসযজ্ঞের চিত্র সামনে এনে ফিলিস্তিনি বেসামরিক মানুষের জন্য জরুরি মানবিক সহায়তা ও আশ্রয়ের ব্যবস্থা করার আহ্বান জানিয়েছেন হলিউড অভিনেত্রী অ্যাঞ্জেলিনা জোলি। গুগল আর্থের সাম্প্রতিক স্যাটেলাইট ছবি ব্যবহার করে যুদ্ধের আগে ও পরের গাজার বিভিন্ন এলাকার চিত্র সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে শেয়ার করেছেন তিনি। শনিবার ইনস্টাগ্রামে প্রকাশ করা পোস্টে জোলি গাজার রাফাহ, খান ইউনিস ও গাজা সিটির কয়েকটি এলাকার আগের ও বর্তমান চিত্র পাশাপাশি তুলে ধরেন। ছবিগুলোতে আগে ঘনবসতিপূর্ণ বিভিন্ন এলাকা এখন ব্যাপকভাবে ধ্বংসস্তূপে পরিণত হতে দেখা যায়। তিনি লিখেছেন, এখন গুগল আর্থ খুললেই গাজায় কী ঘটেছে, তার একটি চিত্র দেখা সম্ভব। জোলি বলেন, গাজার পুরো পুরো মহল্লা ধ্বংসস্তূপে পরিণত হয়েছে। বাড়িঘর, স্কুল, বিশ্ববিদ্যালয়, হাসপাতাল, সড়ক, পানি ও পয়োনিষ্কাশন ব্যবস্থা এবং মানুষের বেঁচে থাকার জন্য প্রয়োজনীয় অন্যান্য অবকাঠামো ক্ষতিগ্রস্ত অথবা ধ্বংস হয়েছে। তবে স্যাটেলাইট ছবিতে শুধু ভৌত ধ্বংসই দেখা যায়, এর আড়ালে থাকা মানুষের দুর্ভোগ, নিহত পরিবার কিংবা বেঁচে থাকা মানুষের প্রতিদিনের সংগ্রাম ছবিতে পুরোপুরি বোঝা সম্ভব নয় বলেও উল্লেখ করেন তিনি। জাতিসংঘের স্যাটেলাইট সেন্টার ইউএনওস্যাটের তথ্য তুলে ধরে জোলি জানান, ২০২৬ সালের ১৬ জুন পর্যন্ত গাজার প্রায় ৮২ শতাংশ স্থাপনা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এর মধ্যে বড় একটি অংশ সম্পূর্ণ ধ্বংস হয়ে গেছে। ইউএনওস্যাটের হিসাবে ক্ষতিগ্রস্ত স্থাপনার সংখ্যা দুই লাখের বেশি। শীত ঘনিয়ে আসায় গাজার মানবিক পরিস্থিতি আরও উদ্বেগজনক হয়ে উঠছে বলেও সতর্ক করেছেন জোলি। তাঁর শেয়ার করা তথ্য অনুযায়ী, প্রায় ১৯ লাখ ৮০ হাজার মানুষ, যা গাজার জনসংখ্যার প্রায় ৯৪ শতাংশ, আশ্রয় ও নিত্যপ্রয়োজনীয় সামগ্রীর সহায়তা প্রয়োজন। অথচ ত্রাণ ও আশ্রয় তৈরির প্রয়োজনীয় উপকরণ পৌঁছানোর ক্ষেত্রে এখনও নানা ধরনের বাধা ও বিলম্ব রয়েছে। জোলি বলেন, শীত আসার আগেই মানুষের নিরাপদ আশ্রয় প্রয়োজন। একই সঙ্গে প্রয়োজন অনুযায়ী বেসামরিক মানুষের কাছে মানবিক সহায়তা পৌঁছানো এবং হাসপাতালগুলোতে পর্যাপ্ত চিকিৎসাসামগ্রী সরবরাহ নিশ্চিত করতে হবে। তিনি গাজার মানুষের বাড়িঘর, স্কুল, হাসপাতাল ও অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামো পুনর্গঠনের পরিবেশ তৈরিরও আহ্বান জানান। গাজার মানবিক পরিস্থিতি নিয়ে এর আগেও সরব হয়েছেন অ্যাঞ্জেলিনা জোলি। দীর্ঘদিন জাতিসংঘের শরণার্থী সংস্থার সঙ্গে যুক্ত থাকা এই অভিনেত্রী চলতি বছরের জানুয়ারিতে মিসরের দিক থেকে রাফাহ সীমান্ত ক্রসিং পরিদর্শন করেন। সেখানে তিনি মিসরীয় রেড ক্রিসেন্টসহ মানবিক সহায়তা কার্যক্রমের সঙ্গে যুক্ত কর্মীদের সঙ্গে কথা বলেন এবং গাজার জন্য প্রস্তুত রাখা ত্রাণ ও চিকিৎসাসামগ্রীও দেখেন। সেই সফরেও জোলি গাজায় মানবিক সহায়তা প্রবেশের পথ নিরাপদ ও ধারাবাহিক রাখার পাশাপাশি ত্রাণ, জ্বালানি ও চিকিৎসাসামগ্রী সরবরাহ উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়ানোর আহ্বান জানিয়েছিলেন। এবার স্যাটেলাইট ছবির মাধ্যমে ধ্বংসের পরিসর তুলে ধরে তিনি আবারও আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের দৃষ্টি গাজার বেসামরিক মানুষের জরুরি প্রয়োজনের দিকে ফেরানোর চেষ্টা করলেন।
গাজার জাবালিয়া শরণার্থীশিবিরের মুহান্নাদ আল-হাসানি ২০১৫ সালে মাত্র ২৬ দিনে পবিত্র কোরআন মুখস্থ করেছিলেন। তখন তাঁর বয়স ছিল ১৪ বছর। ওই বছরের ২৫ জুলাই প্রকাশিত আল জাজিরা নেটের প্রতিবেদনে তাঁর এই অর্জনের কথা উঠে আসে। মুহান্নাদ জাবালিয়ার ‘আল-আওদা ইলাল্লাহ’ মসজিদে ‘আন-নুখবা’ নামের নিবিড় কোরআন মুখস্থ কর্মসূচিতে অংশ নিয়েছিলেন। ফজরের নামাজের পর থেকে আসরের নামাজ পর্যন্ত তিনি সেখানে থাকতেন। প্রতিদিন প্রায় ২৫ পৃষ্ঠা মুখস্থ করে শিক্ষকের কাছে পড়ে শোনাতেন। আল জাজিরাকে মুহান্নাদ বলেছিলেন, কর্মসূচিটি নিবিড় হলেও তাঁর কাছে বিরক্তিকর লাগেনি। কোরআন মুখস্থ শেষ করার পর তিনি তা মনে রাখার জন্য নিয়মিত পুনরাবৃত্তি করছিলেন। একই কর্মসূচিতে গাজার আরও কয়েকজন কিশোর কোরআন মুখস্থ করেছিলেন। ঘটনাটি ২০১৫ সালের; এটি সাম্প্রতিক কোনো অর্জনের খবর নয়।
গাজা ও পশ্চিম তীরে ইসরায়েল সরকারের চলমান কার্যক্রমকে 'বিশ্ববিবেকের জন্য এক বিরাট কলঙ্ক' বলে তীব্র নিন্দা জানিয়েছেন যুক্তরাজ্যের প্রভাবশালী মন্ত্রী ও লেবার পার্টির শীর্ষ নেতা এড মিলিব্যান্ড। লেবার পার্টির বার্ষিক সম্মেলনে দেওয়া এক বক্তব্যে তিনি এ বিষয়ে যুক্তরাজ্যের অবস্থান স্পষ্ট করেন। তিনি দ্ব্যর্থহীন ভাষায় বলেন, ইসরায়েল যতই নিরাপত্তাজনিত হুমকির মুখে থাকুক না কেন, ফিলিস্তিনিদের ওপর চলা এই চরম বর্বরতা কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য হতে পারে না। সম্মেলনে সাধারণ ফিলিস্তিনিদের দুঃখ-দুর্দশা নিয়ে বিশ্বজুড়ে যে ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে, সেটিকে অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে নেওয়ার কথা জানান মিলিব্যান্ড। এ বিষয়ে কার্যকর ও বাস্তবমুখী পদক্ষেপ নেওয়ারও প্রতিশ্রুতি দেন তিনি। লেবার পার্টির নতুন নীতিমালার আলোকে পশ্চিম তীরে অবৈধ ইসরায়েলি বসতি স্থাপনকারীদের উচ্ছেদ এবং গাজায় সংঘটিত যুদ্ধাপরাধের মতো গুরুতর বিষয়গুলো এখন জোরালোভাবে সামনে আনা হচ্ছে। শুধু মৌখিক প্রতিবাদেই সীমাবদ্ধ না থেকে, ইসরায়েলের ওইসব অবৈধ বসতি থেকে পণ্য আমদানি নিষিদ্ধ করা এবং সেখানে ব্রিটিশ অর্থায়ন ও নির্মাণ খাতের যেকোনো সহায়তা বন্ধ করার মতো কঠোর ঘোষণাও দিয়েছেন এই নেতা। তবে মিলিব্যান্ড তার বক্তব্যে স্পষ্ট করেছেন যে, তাদের এই কঠোর অবস্থান বা প্রতিবাদ সাধারণ ইসরায়েলি জনগণের বিরুদ্ধে নয়, বরং ইসরায়েল সরকারের আগ্রাসী ভূমিকার বিরুদ্ধে। ফিলিস্তিন রাষ্ট্র গঠনের পথ রুদ্ধ করার যেকোনো চক্রান্ত দৃঢ়তার সঙ্গে প্রতিহত করতে তারা বদ্ধপরিকর। সামাজিক ন্যায়বিচার ও অন্যায়ের প্রতিবাদের পারিবারিক মূল্যবোধের কথা উল্লেখ করে তিনি জানান, অন্যায়ের সামনে নীরব থাকার কোনো সুযোগ নেই এবং আগামী প্রজন্মের জন্য একটি নিরাপদ বিশ্ব নিশ্চিত করা সবার নাগরিক দায়িত্ব। বয়স বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে মূল্যবোধ ফিকে হয়ে যায় না—এ কথা স্মরণ করিয়ে দিয়ে তিনি যুক্তরাজ্যের জাতীয় আদর্শ রক্ষায় সোচ্চার থাকার অঙ্গীকার করেন। পাশাপাশি জলবায়ু সুরক্ষা, নিরাপত্তা ও বাণিজ্য স্বার্থে ইউরোপীয় ইউনিয়নের সঙ্গে যুক্তরাজ্যের সহযোগিতা ও অংশীদারত্ব আরও জোরদার করার তাগিদ দেন তিনি।
উয়েফা নেশনস লিগের ম্যাচের প্রাক্কালে ইসরায়েল জাতীয় ফুটবল দলের খেলোয়াড়দের সাথে প্রথাগত করমর্দন বা হাত মেলাতে অস্বীকৃতি জানিয়েছেন রিপাবলিক অব আয়ারল্যান্ডের ফুটবলাররা। রোববার হাঙ্গেরির নিরপেক্ষ ভেন্যুতে অনুষ্ঠিত এই ম্যাচের উদ্বোধনী আনুষ্ঠানিকতার সময় নজিরবিহীন এই ঘটনা ঘটে। ফিলিস্তিনের গাজায় চলমান মানবিক সংকট এবং প্রাণহানির প্রতিবাদে আইরিশ ফুটবলারদের এই নীরব অবস্থান আন্তর্জাতিক ক্রীড়াঙ্গনে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছে। ব্রিটিশ ও আইরিশ সংবাদমাধ্যমগুলোর প্রতিবেদনে এই তথ্য নিশ্চিত করা হয়েছে। নিরাপত্তাজনিত কারণে ইসরায়েলের ঘরের মাঠের এই ম্যাচটি সরিয়ে নেওয়া হয়েছিল হাঙ্গেরির দেবরিসেন শহরের নাগিয়েরদেই স্টেডিয়ামে। প্রত্যক্ষদর্শী ও আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমের তথ্য অনুযায়ী, রোববার ম্যাচ শুরুর আগে আনুষ্ঠানিকতা পালনের জন্য আয়ারল্যান্ডের খেলোয়াড়রা যখন মাঠে প্রবেশ করছিলেন, তখন গ্যালারিতে উপস্থিত স্বল্পসংখ্যক ইসরায়েলি সমর্থক তাদের লক্ষ্য করে দুয়ো ধ্বনি দিতে থাকেন এবং বিদ্রূপ করেন। তবে গ্যালারির সেই বিরূপ আচরণের তোয়াক্কা না করেই মাঠে নামেন আইরিশ ফুটবলাররা। এ সময় গাজা সংঘাতে প্রাণ হারানো সাধারণ মানুষের স্মরণে ও শোক প্রকাশে আয়ারল্যান্ড দলের প্রতিটি খেলোয়াড়ের বাহুতে কালো আর্মব্যান্ড বাঁধা ছিল। ম্যাচ শুরুর আগে নিয়ম অনুযায়ী উভয় দেশের জাতীয় সঙ্গীত বাজানো হয়। ইসরায়েলের জাতীয় সঙ্গীত চলাকালীন আয়ারল্যান্ডের ফুটবলাররা মাথা নত করে নীরবে দাঁড়িয়ে থাকেন। তবে জাতীয় সঙ্গীত শেষ হওয়ার পর ফিফা ও উয়েফার প্রচলিত রীতি অনুযায়ী দুই দলের খেলোয়াড়দের পরস্পরের সাথে হাত মেলানোর কথা থাকলেও আইরিশ ফুটবলাররা তা থেকে বিরত থাকেন এবং ইসরায়েলি খেলোয়াড়দের এড়িয়ে সরাসরি নিজেদের অর্ধে চলে যান। উয়েফা নেশনস লিগের এবারের আসরে লিগ বি এর ৩ নম্বর গ্রুপে আয়ারল্যান্ড ও ইসরায়েলকে একই সাথে রাখা নিয়ে শুরু থেকেই তীব্র বিতর্ক ও সমালোচনা চলছিল। আয়ারল্যান্ডের সাধারণ মানুষ ও ক্রীড়াপ্রেমীদের একটি বড় অংশ এই ম্যাচ বয়কটের দাবি জানিয়ে আসছিলেন। বিশেষ করে আইরিশ স্পোর্ট ফর প্যালেস্টাইন নামের একটি সংগঠনের উদ্যোগে স্টপ দ্য গেম বা খেলা বন্ধ করো শীর্ষক প্রচারণার মাধ্যমে আয়ারল্যান্ডের ফুটবলারদের এই ম্যাচ থেকে সরে দাঁড়ানোর জোরালো আহ্বান জানানো হয়েছিল। তবে আন্তর্জাতিক ফুটবল সংস্থার কঠোর নিয়মকানুন এবং সম্ভাব্য বড় ধরনের শাস্তির কথা বিবেচনা করে শেষ পর্যন্ত মাঠে নামার সিদ্ধান্ত নেয় আয়ারল্যান্ড ফুটবল অ্যাসোসিয়েশন। ম্যাচের আগে আয়োজিত আনুষ্ঠানিক সংবাদ সম্মেলনে আয়ারল্যান্ড দলের প্রধান কোচ হেইমির হ্যালগ্রিমসন দলের অবস্থান স্পষ্ট করেন। তিনি জানান, কেবল ফুটবলের নিয়মের কারণে তারা মাঠে নামছেন এবং ইসরায়েলের বিপক্ষে এই ম্যাচে তার দলের অংশগ্রহণকে কোনোভাবেই গাজার বর্তমান পরিস্থিতির প্রতি সমর্থন বা স্বীকৃতি হিসেবে দেখা উচিত হবে না। সংবাদ সম্মেলনে কোচ হ্যালগ্রিমসন আরও বলেন, দলের প্রত্যেক খেলোয়াড় একটি বিষয়ে একমত এবং তারা সবাইকে এটি পরিষ্কারভাবে জানিয়ে দিতে চান যে, মাঠে নামার অর্থ এই নয় যে তারা গাজায় ঘটে চলা ঘটনাগুলোকে মেনে নিচ্ছেন। মূলত খেলোয়াড়দের সেই নৈতিক অবস্থানেরই প্রতিফলন দেখা গেছে রোববারের ম্যাচে কালো ব্যাজ ধারণ এবং করমর্দন থেকে বিরত থাকার মধ্য দিয়ে। ইউরোপের দেশগুলোর মধ্যে আয়ারল্যান্ড শুরু থেকেই ফিলিস্তিনিদের অধিকারের প্রশ্নে অত্যন্ত সোচ্চার এবং এই ঘটনার মাধ্যমে দেশটির ক্রীড়াবিদরাও নিজেদের অবস্থান নতুন করে তুলে ধরলেন। সূত্র: আইরিশ টাইমস ও আন্তর্জাতিক ক্রীড়া সংবাদমাধ্যম
গাজায় প্রায় তিন বছর ধরে চলা যুদ্ধে ফিলিস্তিনি নি হ তের সংখ্যা ৭৪ হাজার ছাড়িয়েছে। গাজার স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের সর্বশেষ হিসাবে, ২০২৩ সালের ৭ অক্টোবর থেকে এখন পর্যন্ত ৭৪ হাজার ১৬ জন ফিলিস্তিনি নি হ ত এবং ১ লাখ ৭৫ হাজার ৬৮ জন আ হ ত হয়েছেন। শনিবার প্রকাশিত সর্বশেষ হিসাবে বলা হয়েছে, আগের ৪৮ ঘণ্টায় গাজার হাসপাতালগুলোতে আরও সাতজনের ম র দে হ পৌঁছেছে। তাদের মধ্যে ছয়জন নতুন করে নি হ ত হয়েছেন এবং একজন আগের আ ঘা তে মা রা গেছেন। একই সময়ে আরও ৩৮ জন আ হ ত হয়েছেন বলে স্বাস্থ্য কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে। তবে ধ্বং স স্তূপের নিচে এবং বিভিন্ন এলাকায় এখনো অনেক ম র দে হ পড়ে থাকার কথা জানিয়েছে গাজার স্বাস্থ্য কর্তৃপক্ষ। উদ্ধারকারী ও অ্যাম্বুলেন্স দল সব জায়গায় পৌঁছাতে না পারায় প্রকৃত হ তা হ তের সংখ্যা আরও বেশি হতে পারে বলে তাদের দাবি। গত বছরের অক্টোবরে যু দ্ধ বি রতি কার্যকর হওয়ার পর বড় আকারের লড়াই কমে এলেও গাজায় হা ম লা পুরোপুরি বন্ধ হয়নি। ইসরায়েল বলছে, নিরাপত্তা হু ম কি বা হা ম লার জবাবে তারা বিভিন্ন লক্ষ্যবস্তুতে অভিযান চালাচ্ছে। রোববারও মধ্য ও দক্ষিণ গাজায় ইসরায়েলি হা ম লায় অন্তত দুই ফিলিস্তিনি নি হ ত এবং কয়েকজন আ হ ত হয়েছেন বলে হাসপাতাল কর্মকর্তারা জানিয়েছেন। গাজা সিটিতে একটি গাড়িতে হা ম লায় একজন নি হ ত হন। ইসরায়েলি সামরিক বাহিনীর দাবি, সেখানে একজন সামরিক অপারেটিভকে লক্ষ্য করা হয়েছিল। খান ইউনিসের আল-মাওয়াসি এলাকায় আরেক হা ম লায় একজন নি হ ত ও তিনজন আ হ ত হন। ইসরায়েলি বাহিনী সেখানে হামাসের একজন সদস্যকে লক্ষ্য করার কথা জানিয়েছে। অ্যাসোসিয়েটেড প্রেস জানিয়েছে, গাজার স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় হা ম লায় নি হ তদের মধ্যে বেসামরিক নাগরিক ও যোদ্ধাদের আলাদা হিসাব দেয় না। তবে তাদের বিস্তারিত হ তা হ তের নথিকে জাতিসংঘের বিভিন্ন সংস্থা ও আন্তর্জাতিক সংগঠন সাধারণভাবে নির্ভরযোগ্য হিসেবে বিবেচনা করে। মন্ত্রণালয়ের হিসাবে নি হ তদের প্রায় অর্ধেক নারী ও শিশু। জাতিসংঘের সাম্প্রতিক মানবিক প্রতিবেদনেও গাজার পরিস্থিতিকে অত্যন্ত সংকটজনক বলা হয়েছে। ব্যাপক ধ্বং স, চলমান হা ম লা, জরুরি সরঞ্জাম প্রবেশে সীমাবদ্ধতা এবং অর্থসংকটের কারণে স্বাস্থ্যসেবাসহ মৌলিক সেবা মারাত্মক চাপে রয়েছে। বাস্তুচ্যুত মানুষের জন্য ক্ষতিগ্রস্ত ভবন ও বন্যাপ্রবণ এলাকায় থাকার ঝুঁকিও বাড়ছে। ২০২৩ সালের ৭ অক্টোবর হামাস নেতৃত্বাধীন যোদ্ধাদের ইসরায়েলে হা ম লায় প্রায় ১ হাজার ২০০ মানুষ নি হ ত হন, যাদের অধিকাংশই বেসামরিক নাগরিক, এবং ২৫১ জনকে জি ম্মি করা হয়। এরপর গাজায় ব্যাপক সামরিক অভিযান শুরু করে ইসরায়েল। বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যস্থতায় হওয়া যু দ্ধ বি রতির পরবর্তী ধাপও অনেকটাই স্থবির। ইসরায়েলি বাহিনী এখনো গাজার অর্ধেকের বেশি এলাকা নিয়ন্ত্রণ করছে। প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু বলেছেন, হামাস নিরস্ত্র না হওয়া পর্যন্ত ইসরায়েলি বাহিনী প্রত্যাহার করা হবে না। গাজার স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের হিসাবে, যু দ্ধ বি রতি কার্যকর হওয়ার পরও ১ হাজার ১৪৫ জন ফিলিস্তিনি নি হ ত হয়েছেন। একই সময়ে ৪ হাজার ৯৫৩ জন আ হ ত হয়েছেন বলে মন্ত্রণালয় জানিয়েছে। ৭৪ হাজার ১৬ জন নি হ তের এই সংখ্যা গাজার স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের রিপোর্ট করা হিসাব। যু দ্ধ চলমান থাকায় এবং ধ্বং স স্তূপের নিচে ও দুর্গম এলাকায় বহু মানুষ পড়ে থাকার কথা জানানোয় প্রকৃত সংখ্যা আরও বেশি হতে পারে বলে স্বাস্থ্য কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে। সূত্র: অ্যাসোসিয়েটেড প্রেস, গাজার স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়, আরব নিউজ
গাজার পরিবার ও শিশুদের জন্য এক কোটির বেশি খাবার প্রস্তুত করেছে সংযুক্ত আরব আমিরাতের একটি বড় মানবিক উদ্যোগ। শনিবার দুবাই ওয়ার্ল্ড ট্রেড সেন্টারে বিপুলসংখ্যক স্বেচ্ছাসেবী ও কমিউনিটির সদস্যদের অংশগ্রহণে এসব খাদ্যসহায়তার প্যাকেজ প্রস্তুত করা হয়। ‘আহমেদ বিন রাশিদ হিউম্যানিটারিয়ান ব্রিজ’ নামের এই উদ্যোগ আয়োজন করে মোহাম্মদ বিন রাশিদ আল মাকতুম গ্লোবাল ইনিশিয়েটিভস। সহযোগিতায় ছিল গাজায় আমিরাতের চলমান মানবিক কার্যক্রম ‘অপারেশন শিভ্যালরাস নাইট ৩’। প্রয়াত শেখ আহমেদ বিন রাশিদ আল মাকতুমের স্মরণে উদ্যোগটির নামকরণ করা হয়। গত ২১ সেপ্টেম্বর তার মৃত্যুর পর দুবাইয়ে ১০ দিনের শোক ঘোষণা করা হয়েছিল। জীবদ্দশায় দাতব্য ও মানবিক কর্মকাণ্ডের সঙ্গে তার দীর্ঘ সম্পৃক্ততার প্রতি সম্মান জানাতেই এই উদ্যোগ নেওয়া হয়। শনিবারের আয়োজনে স্বেচ্ছাসেবী, সাধারণ মানুষ এবং শেখ আহমেদ বিন রাশিদের শুভানুধ্যায়ীরা একসঙ্গে গাজার জন্য খাবারের প্যাকেজ প্রস্তুত করেন। দুবাই মিডিয়া অফিস জানিয়েছে, এসব খাদ্যসহায়তা গাজার পরিবার ও শিশুদের কাছে পৌঁছে দেওয়ার উদ্দেশ্যে প্রস্তুত করা হয়েছে। অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন দুবাই সিভিল এভিয়েশন অথরিটির প্রেসিডেন্ট এবং এমিরেটস এয়ারলাইন অ্যান্ড গ্রুপের চেয়ারম্যান ও প্রধান নির্বাহী শেখ আহমেদ বিন সাঈদ আল মাকতুম, শেখ মোহাম্মদ বিন রাশিদ বিন মোহাম্মদ বিন রাশিদ আল মাকতুম এবং মোহাম্মদ বিন রাশিদ আল মাকতুম গ্লোবাল ইনিশিয়েটিভসের মহাসচিব মোহাম্মদ আল গেরগাওয়িসহ জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তারা। আয়োজকেরা বলছেন, উদ্যোগটির লক্ষ্য শুধু খাদ্য পাঠানো নয়, আমিরাতের মানুষের মধ্যে স্বেচ্ছাসেবা ও মানবিক কাজে অংশগ্রহণের সংস্কৃতিও আরও শক্তিশালী করা। ‘অপারেশন শিভ্যালরাস নাইট ৩’-এর মুখপাত্র মোহাম্মদ সালেহ আল শরিফ বলেন, ২০২৩ সালের নভেম্বরে কার্যক্রমটি শুরু হওয়ার পর থেকে গাজার মানুষের দুর্ভোগ কমাতে বিভিন্ন ধরনের সহায়তা দেওয়া হচ্ছে। খাদ্যের পাশাপাশি গাজার শীতকালীন পরিস্থিতি সামনে রেখে আরেকটি বড় সহায়তা কার্যক্রমও শুরু করেছে আমিরাত। দেশটি ১০ লাখ মানুষের জন্য শীতবস্ত্র ও প্রয়োজনীয় সামগ্রী দেওয়ার উদ্যোগ নিয়েছে। ইতোমধ্যে ৫ হাজার শীতকালীন কিট পাঠানো হয়েছে, যাতে ৫০ হাজার জ্যাকেট, কম্বল ও অন্যান্য প্রয়োজনীয় সামগ্রী রয়েছে। দ্য ন্যাশনালের আজকের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ‘অপারেশন শিভ্যালরাস নাইট ৩’-এর আওতায় গাজার জন্য আমিরাতের সহায়তার পরিমাণ এখন পর্যন্ত ১৪ দশমিক ৬ বিলিয়ন দিরহামের বেশি। এর আগেও গাজার জন্য একই ধরনের বড় খাদ্যসহায়তা কর্মসূচি নিয়েছিল আমিরাত। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে মোহাম্মদ বিন রাশিদ আল মাকতুম গ্লোবাল ইনিশিয়েটিভসের আরেক কর্মসূচিতে ২০ হাজারের বেশি স্বেচ্ছাসেবীর অংশগ্রহণে এক কোটির বেশি খাবার প্রস্তুত করা হয়েছিল।
যুদ্ধবিধ্বস্ত গাজায় কাজ করার সময় ইসরায়েলি বিমান হামলায় অল্পের জন্য প্রাণে রক্ষা পেয়েছিলেন মার্কিন ট্রমা সার্জন ডা. ফিরোজ সিধওয়া। গত ২৩ মার্চ খান ইউনিসের নাসের হাসপাতালে কাজ করার সময় একটি ভয়াবহ বোমা হামলার মুখে পড়েন তিনি। সেদিনের সেই স্মৃতি স্মরণ করে তিনি জানান, বিস্ফোরণের তীব্রতায় আইসিইউর একটি দরজা ছিটকে সরাসরি তার মুখে এসে পড়েছিল। হাসপাতালে উপস্থিত ফিলিস্তিনিরা তাৎক্ষণিকভাবে বিপদের কথা বুঝতে পেরে তাকে রক্ষার জন্য ছুটে আসেন। ওই হামলায় ডা. সিধওয়ার এক রোগীসহ অন্তত দুজনের মৃত্যু হয়। এত বড় একটি ঘটনার পর পরিবারের তীব্র উদ্বেগ থাকা সত্ত্বেও তিনি পুনরায় গাজায় ফিরে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। নিজের মায়ের শত বারণ আর কান্নার জবাবে তিনি বলেছেন, কাউকে না কাউকে তো এই বিপদের দিনে মানুষের পাশে দাঁড়াতেই হবে। জাতিসংঘের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, গত তিন বছরে বিশ্বজুড়ে এক হাজারেরও বেশি ত্রাণকর্মী ও চিকিৎসাকর্মী নিহত হয়েছেন। স্বাধীন গবেষণা সংস্থা 'হিউম্যানিটেরিয়ান আউটকামস'-এর তথ্যমতে, ২০০০ সালের পর থেকে চিকিৎসাকর্মীদের ওপর হামলার ঘটনা ১৫০০ শতাংশেরও বেশি বৃদ্ধি পেয়েছে। গত বছর গাজা, সুদান, দক্ষিণ সুদান এবং কঙ্গো প্রজাতন্ত্রে এমন হামলার ঘটনা ছিল সবচেয়ে বেশি। গাজার পাশাপাশি ইউক্রেনেও চিকিৎসাকর্মীরা মারাত্মক ঝুঁকির মধ্যে রয়েছেন। মার্কিন ট্রমা সার্জন ডা. মাইকেল সামোতোওকা বছরে ৬ থেকে ১০ বার ইউক্রেনে চিকিৎসা দিতে যান। তিনি জানান, ২০২৩ সালের ডিসেম্বরে তার ব্যবহৃত একটি অপারেশন থিয়েটারেও মিসাইল হামলা চালানো হয়েছিল, যা মানসিকভাবে চরম বিপর্যস্ত করার মতো একটি ঘটনা। যুদ্ধের ময়দানে চিকিৎসাকর্মীদের ওপর এমন ধারাবাহিক ও পরিকল্পিত হামলার বিষয়ে এই দুই চিকিৎসকই আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের কঠোর হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন। ডা. সামোতোওকা মনে করেন, যুদ্ধরত দেশগুলোর উচিত জেনেভা কনভেনশন মেনে চলা এবং যারা বেসামরিক নাগরিক ও চিকিৎসাকর্মীদের ওপর হামলা করে এই আইন অমান্য করছে, তাদের অবশ্যই শাস্তির আওতায় আনা। অন্যদিকে ডা. সিধওয়া একধাপ এগিয়ে মার্কিন নাগরিকদের তাদের কংগ্রেস সদস্যদের কাছে একটি বিশেষ দাবি তোলার আহ্বান জানিয়েছেন। তিনি বলেন, যারা প্রতিনিয়ত চিকিৎসক ও নার্সদের হত্যা করছে, যুক্তরাষ্ট্রের উচিত অবিলম্বে তাদের অস্ত্র সরবরাহ বন্ধ করে দেওয়া। এ বিষয়ে মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তর এক আনুষ্ঠানিক বিবৃতিতে জানিয়েছে, চিকিৎসাকর্মী ও হাসপাতালের ওপর যেকোনো হামলার তারা তীব্র নিন্দা জানায় এবং এর সঙ্গে জড়িতদের জবাবদিহির আওতায় আনাকে যুক্তরাষ্ট্র সমর্থন করে।
গাজায় ইসরায়েলি হামলা ও আগের হামলায় আহতদের মৃত্যুর খবরের মধ্যেই উপত্যকাটির প্রাথমিক পুনর্গঠনে প্রায় ২৪০ কোটি ডলারের পরিকল্পনা প্রকাশ করেছে যুক্তরাষ্ট্র সমর্থিত ‘বোর্ড অব পিস’। বুধবার, ২৩ সেপ্টেম্বর নিউইয়র্কে জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের অধিবেশনের ফাঁকে ৬৬টি প্রকল্পের এই প্রস্তাব তুলে ধরা হয়। একই দিনে গাজাজুড়ে সাত ফিলিস্তিনির মৃত্যুর খবর পাওয়া গেছে। বোর্ড অব পিসের গাজাবিষয়ক উচ্চ প্রতিনিধি নিকোলাই ম্লাদেনভ পরে জানান, প্রথম ধাপের প্রকল্পগুলো ছয় মাসে বাস্তবায়নের লক্ষ্য রাখা হয়েছে। এতে ব্যয় ধরা হয়েছে প্রায় ২৪৫ কোটি ডলার। পানি, পয়োনিষ্কাশন, বিদ্যুৎ, স্বাস্থ্যসেবা, শিক্ষা, আশ্রয় এবং ধ্বংসস্তূপ সরানোর কাজ রয়েছে পরিকল্পনায়। তবে ছয় মাসের সময়সীমা নির্দিষ্ট প্রতিশ্রুতি নয়; মাঠের নিরাপত্তা পরিস্থিতির ওপর কাজ শুরুর গতি নির্ভর করবে বলে তিনি জানান। বুধবার দক্ষিণ গাজার খান ইউনিসের কাছে আল মাওয়াসিতে একটি গাড়িতে ড্রোন হামলায় দুজন নিহত হন। মধ্য গাজার দেইর আল বালাহতে আরেকটি গাড়িতে হামলায় অন্তত দুজন এবং গাজা নগরীতে পৃথক হামলায় অন্তত একজন নিহত হন। আগের দিনগুলোতে ইসরায়েলি গুলিতে আহত এক নারী ও এক পুরুষও এদিন মারা যান। এই সাতজনের সবাই বুধবারের নতুন হামলায় নিহত হয়েছেন, এমনটি নয়। আল মাওয়াসির হামলায় হামাসের একজন জ্যেষ্ঠ অর্থবিষয়ক কর্মকর্তাকে হত্যা করা হয়েছে বলে দাবি করেছেন ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু। পুনর্গঠন শুরুর পথে নিরাপত্তা ও যুদ্ধবিরতি চুক্তি বাস্তবায়ন বড় বাধা হয়ে আছে। ম্লাদেনভের ভাষ্য অনুযায়ী, হামাসের অস্ত্র সমর্পণের প্রক্রিয়া এখনো শুরু হয়নি এবং গাজায় মানবিক সহায়তা পৌঁছানোর সুযোগও প্রয়োজনের তুলনায় কম। তিনি বলেন, যেসব এলাকায় নিরাপত্তা প্রতিষ্ঠিত হবে, সেখানে পুনর্গঠনের কাজ এগোনো সম্ভব হবে। বোর্ড অব পিসের হিসাব অনুযায়ী, প্রস্তাবিত অর্থ শুধু প্রাথমিক কাজের জন্য। যুদ্ধের ক্ষয়ক্ষতি কাটিয়ে মধ্যমেয়াদে অবকাঠামো পুনর্গঠনে আরও বিপুল অর্থ প্রয়োজন হবে। ফলে নিউইয়র্কে পরিকল্পনা ঘোষণার পরও গাজাবাসীর জন্য জরুরি প্রশ্ন রয়ে গেছে: নিরাপদে কাজ শুরু করার মতো পরিস্থিতি কবে তৈরি হবে।
ফিলিস্তিনের উত্তর গাজায় নিজেদের পরিচালিত একটি ড্রোন বিধ্বস্ত ও পরবর্তীতে বিস্ফোরিত হয়ে দুই ইসরাইলি রিজার্ভ সেনার মর্মান্তিক মৃত্যু হয়েছে। শুক্রবার (২৫ সেপ্টেম্বর) ইসরাইলি সামরিক বাহিনীর এক বিবৃতিতে এই তথ্য নিশ্চিত করা হয়েছে। নিজেদের ড্রোনের আঘাতেই নিজ বাহিনীর সদস্যদের মৃত্যুর এই ঘটনা ইসরাইলি সামরিক মহলে ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি করেছে। নিহত ওই দুই সেনা হলেন— নাদাভ কালি (২৪) এবং অফেক মোয়ালেম (২৩)। নাদাভ কালি ইসরাইলের হার হালুতজ এলাকার এবং অফেক মোয়ালেম জেরুজালেমের বাসিন্দা ছিলেন। তারা দুজনেই ইসরাইলি সেনাবাহিনীর ১৬তম ব্রিগেডের অধীনে দায়িত্ব পালন করছিলেন। ৯৯তম ডিভিশনের প্রধান ব্রিগেডিয়ার জেনারেল এলাদ তজুরি নিহতদের ‘চমৎকার সৈনিক’ হিসেবে আখ্যা দিয়ে জানান, এদের মধ্যে একজন সার্জেন্ট এবং অন্যজন স্কোয়াড কমান্ডার হিসেবে দায়িত্বরত ছিলেন। এই দুর্ঘটনার বিস্তারিত প্রেক্ষাপট জানিয়ে ব্রিগেডিয়ার জেনারেল তজুরি বলেন, বিস্ফোরকবাহী ওই ড্রোনটির প্রথম অভিযান ওই দুই সেনা সফলভাবেই সম্পন্ন করেছিলেন। তবে দ্বিতীয় অভিযানের সময় ঘটে বিপত্তি; ড্রোনটি নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে একটি সামরিক চৌকির ভেতরে বিধ্বস্ত হয়। দুর্ঘটনার পর পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করতে ওই দুই সেনা ঘটনাস্থলের কাছাকাছি গেলে বিধ্বস্ত ড্রোনটি হঠাৎ বিস্ফোরিত হয়। এতে তারা দুজনই গুরুতরভাবে আহত হন। আহত দুই সেনাকে দ্রুত উদ্ধার করে আশকেলনের বারজিলাই মেডিকেল সেন্টারে নিয়ে যাওয়া হয়। তবে হাসপাতালে পৌঁছানোর পর দায়িত্বরত চিকিৎসকরা তাদের মৃত ঘোষণা করেন। সামরিক বাহিনী জানিয়েছে, এই ঘটনায় অন্য কোনো সেনার হতাহতের খবর পাওয়া যায়নি। ইসরাইলের স্থানীয় গণমাধ্যমের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, এই দুর্ঘটনার পর প্রাথমিক পর্যালোচনা শেষ না হওয়া পর্যন্ত সেনাবাহিনী তাদের সব ধরনের ড্রোন পরিচালনার কার্যক্রম সাময়িকভাবে স্থগিত করেছে। উল্লেখ্য, ইসরাইলি সেনাবাহিনীর ১৬তম ব্রিগেড গত ১০ সেপ্টেম্বর থেকে উত্তর গাজায় তাদের সামরিক অভিযান পরিচালনা করে আসছিল।
ফিলিস্তিনের গাজা উপত্যকায় ইসরায়েলের সামরিক অভিযানকে ‘গণহত্যা’ হিসেবে আখ্যা দিয়ে এর তীব্র নিন্দা জানিয়েছেন স্পেনের প্রধানমন্ত্রী পেদ্রো সানচেজ। বুধবার (২৩ সেপ্টেম্বর) নিউইয়র্কে জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের ৮১তম অধিবেশনের উচ্চপর্যায়ের বৈঠকে দেওয়া ভাষণে তিনি গাজা পরিস্থিতি নিয়ে স্পেনের কঠোর অবস্থান তুলে ধরেন। সানচেজ বলেন, ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর সরকার গাজায় যে কর্মকাণ্ড চালিয়ে যাচ্ছে, স্পেন তার ‘গণহত্যা’কে কোনো ধরনের রাখঢাক ছাড়াই নিন্দা করছে। জাতিসংঘের মঞ্চে দেওয়া বক্তব্যে তিনি একই সঙ্গে ইউক্রেন, লেবানন ও ইরানসহ বিভিন্ন সংঘাতে সামরিক শক্তি ব্যবহারের বিরোধিতা করেন। স্প্যানিশ প্রধানমন্ত্রীর বক্তব্য অনুযায়ী, গত কয়েক বছর ধরে স্পেন বিভিন্ন ধরনের আগ্রাসী যুদ্ধের বিরোধিতা করে আসছে। তার সরকার আন্তর্জাতিক আইন ও জাতিসংঘ সনদের প্রতি সম্মান বজায় রাখার ওপর গুরুত্ব দিচ্ছে। যুদ্ধের মাধ্যমে আন্তর্জাতিক বিরোধের সমাধানের পরিবর্তে কূটনৈতিক উদ্যোগ ও বহুপাক্ষিক সহযোগিতার প্রয়োজনীয়তার কথাও তুলে ধরেন তিনি। গাজা প্রসঙ্গে সানচেজের অবস্থান নতুন নয়। স্পেন দীর্ঘদিন ধরেই ইসরায়েলের সামরিক অভিযান এবং গাজার মানবিক পরিস্থিতি নিয়ে সমালোচনা করে আসছে। ২০২৫ সালের সেপ্টেম্বরে স্পেন সরকার ইসরায়েলের বিরুদ্ধে অস্ত্র নিষেধাজ্ঞা আরও শক্তিশালী করার পাশাপাশি ইসরায়েলগামী সামরিক সরঞ্জাম বহনকারী জাহাজ ও বিমানকে স্পেনের বন্দর ও আকাশসীমা ব্যবহারে বিধিনিষেধ আরোপের ঘোষণা দেয়। স্পেনের সরকারি তথ্য অনুযায়ী, দেশটির সরকার ইসরায়েলের কাছে অস্ত্র, গোলাবারুদ ও সামরিক সরঞ্জাম কেনাবেচা নিষিদ্ধ করার জন্য আইনি কাঠামো আরও শক্ত করার পদক্ষেপও নিয়েছে। একই সঙ্গে গাজায় মানবিক সহায়তা বাড়ানো এবং ফিলিস্তিনি কর্তৃপক্ষকে সহযোগিতা জোরদারের কথাও জানিয়েছে মাদ্রিদ। জাতিসংঘে দেওয়া বক্তব্যে সানচেজ শুধু গাজার পরিস্থিতি নয়, ইউক্রেন ও মধ্যপ্রাচ্যের অন্যান্য সংঘাতের কথাও উল্লেখ করেন। তার বক্তব্যে যুদ্ধের পরিবর্তে আন্তর্জাতিক আইন, কূটনীতি ও বহুপাক্ষিক সহযোগিতাকে গুরুত্ব দেওয়ার বিষয়টি উঠে আসে। স্পেনের সরকারি সূত্র জানিয়েছে, জাতিসংঘের ৮১তম অধিবেশনের আগে সানচেজ জাতিসংঘ মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেসের সঙ্গেও বৈঠক করেন। সেখানে গাজা, ইউক্রেন ও মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাতসহ বৈশ্বিক বিভিন্ন সংকট নিয়ে আলোচনা হয়। এদিকে, গাজা নিয়ে আন্তর্জাতিক পর্যায়ে ‘গণহত্যা’ শব্দটির ব্যবহার ক্রমেই গুরুত্বপূর্ণ রাজনৈতিক ও আইনি বিতর্কের বিষয় হয়ে উঠেছে। জাতিসংঘ মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেস ২২ সেপ্টেম্বর সাধারণ পরিষদের অধিবেশনের উদ্বোধনী বক্তব্যে গাজায় ব্যাপক প্রাণহানি ও ধ্বংসের কথা তুলে ধরে আন্তর্জাতিক মানবিক আইন মেনে চলার আহ্বান জানান। তিনি গাজা নিয়ে আন্তর্জাতিক বিচার আদালতের অন্তর্বর্তীকালীন আদেশগুলোর কথাও উল্লেখ করেন। তবে ইসরায়েল গাজায় গণহত্যার অভিযোগ অস্বীকার করে আসছে। ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু জাতিসংঘে তার বক্তব্যে দেশটির সামরিক অভিযানকে সমর্থন করার প্রস্তুতির কথা জানিয়েছেন এবং সমালোচকদের বক্তব্যের জবাব দেওয়ার কথা বলেছেন। ইসরায়েলের বক্তব্য অনুযায়ী, তাদের সামরিক অভিযান হামাসের বিরুদ্ধে পরিচালিত হচ্ছে। গাজা যুদ্ধের পাশাপাশি ফিলিস্তিন রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠা ও দুই রাষ্ট্রভিত্তিক সমাধান নিয়েও এবারের জাতিসংঘ অধিবেশনে ব্যাপক আলোচনা হচ্ছে। জাতিসংঘ মহাসচিব গুতেরেস ২২ সেপ্টেম্বর বলেন, গাজা ও পশ্চিম তীরকে একটি সার্বভৌম ফিলিস্তিনি সরকারের অধীনে রাজনৈতিক, অর্থনৈতিক ও ভৌগোলিকভাবে সংযুক্ত রাখা এবং ১৯৬৭ সালের আগের সীমারেখার ভিত্তিতে ইসরায়েল ও ফিলিস্তিনকে পাশাপাশি দুটি রাষ্ট্র হিসেবে প্রতিষ্ঠা করাই দীর্ঘমেয়াদি শান্তির পথ। গাজা ইস্যুতে স্পেনের অবস্থান ইউরোপের মধ্যেও আলোচনার বিষয় হয়ে উঠেছে। দেশটি ২০২৪ সালের মে মাসে ফিলিস্তিন রাষ্ট্রকে আনুষ্ঠানিকভাবে স্বীকৃতি দেয় এবং এরপর থেকে গাজায় যুদ্ধবিরতি, মানবিক সহায়তা ও দুই রাষ্ট্রভিত্তিক সমাধানের পক্ষে ধারাবাহিকভাবে অবস্থান নিয়ে আসছে। জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদে সানচেজের বক্তব্যের মধ্য দিয়ে গাজা নিয়ে স্পেনের অবস্থান আরও একবার স্পষ্ট হয়েছে। তিনি সামরিক পদক্ষেপের পরিবর্তে আন্তর্জাতিক আইন, কূটনীতি এবং মানবিক সহায়তার ওপর জোর দিয়েছেন। একই সঙ্গে ইসরায়েলের বিরুদ্ধে অস্ত্র নিষেধাজ্ঞা বজায় রাখার বিষয়ে স্পেনের নীতিগত অবস্থানও পুনর্ব্যক্ত করেছেন। সূত্র: স্পেনের প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়, জাতিসংঘ, রয়টার্স
যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন। মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়। তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।” ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে। প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন। ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন। প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল। মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি। রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।
যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর আগস্ট ২০২৬ সালের ভিসা বুলেটিন প্রকাশ করেছে। নতুন এই আপডেটে পরিবারভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি দেখা গেছে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের স্থায়ী বাসিন্দাদের স্বামী, স্ত্রী ও সন্তানদের জন্য নির্ধারিত এফ২এ ক্যাটাগরিতে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এসেছে। নতুন ভিসা বুলেটিন অনুযায়ী, পরিবারভিত্তিক কয়েকটি ক্যাটাগরিতে অপেক্ষার সময় কমার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এর মধ্যে এফ২এ ক্যাটাগরির অগ্রগতি সবচেয়ে বেশি, যেখানে যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডধারীদের স্বামী-স্ত্রী ও অবিবাহিত সন্তানদের আবেদন অন্তর্ভুক্ত থাকে। এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের অবিবাহিত প্রাপ্তবয়স্ক সন্তানদের জন্য এফ১ ক্যাটাগরি এবং অন্যান্য পরিবারভিত্তিক ক্যাটাগরিতেও কিছু অগ্রগতি দেখা গেছে। তবে আবেদনকারীদের ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার তারিখ বা প্রায়োরিটি ডেট অনুযায়ীই পরবর্তী ধাপ নির্ধারণ হবে। ভিসা বুলেটিনে বলা হয়েছে, পরিবারভিত্তিক অভিবাসন ভিসার সংখ্যা প্রতিবছর নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে দেওয়া হয়। তাই কোনো ক্যাটাগরিতে চাহিদা বেশি হলে অপেক্ষার সময় বাড়তে পারে এবং কম হলে তারিখ এগিয়ে আসতে পারে। অন্যদিকে কর্মসংস্থানভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য পরিস্থিতি তুলনামূলক কঠিন রয়েছে। বিশেষ করে কিছু এমপ্লয়মেন্ট-বেসড ক্যাটাগরিতে দীর্ঘ অপেক্ষা ও সীমিত ভিসা সংখ্যার কারণে আবেদনকারীদের অনিশ্চয়তা অব্যাহত রয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ী বসবাসের জন্য আবেদনকারীদের কাছে ভিসা বুলেটিন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এই তালিকার মাধ্যমে জানা যায়, কোন আবেদনকারীরা গ্রিন কার্ডের পরবর্তী ধাপে এগিয়ে যেতে পারবেন এবং কারা এখনও অপেক্ষার তালিকায় থাকবেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, নতুন এই পরিবর্তন অনেক পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীর জন্য আশার খবর হলেও, প্রতিটি আবেদনকারীর পরিস্থিতি নির্ভর করবে তাদের আবেদন জমার তারিখ, দেশভিত্তিক সীমা এবং ভিসা ক্যাটাগরির ওপর। যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ব্যবস্থায় দীর্ঘদিন ধরে গ্রিন কার্ডের অপেক্ষার তালিকা বড় একটি বিষয় হয়ে আছে। নতুন ভিসা বুলেটিনে পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীদের জন্য অগ্রগতি দেখা গেলেও, সব আবেদনকারী একইভাবে সুবিধা পাবেন না।
২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো। প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে। এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে। অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে। স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে। সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে। সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।
যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে। এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন। নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি। উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।” বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে। এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে। শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়। উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত। এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।
যুক্তরাষ্ট্রের ফ্লোরিডা অঙ্গরাজ্যে প্রাণীর সঙ্গে যৌন কর্মকাণ্ডের ছবি বা ভিডিও ধারণ, বিতরণ ও সংরক্ষণের অভিযোগে গ্রেপ্তার হয়েছেন বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত রায়ান আবদুল বাতেন। তিনি বাংলাদেশের বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বুয়েট) তড়িৎ ও ইলেকট্রনিক প্রকৌশল বিভাগের সাবেক শিক্ষার্থী এবং যুক্তরাষ্ট্রের ইউনিভার্সিটি অব সাউথ ফ্লোরিডার সহকারী অধ্যাপক। হিলসবরো কাউন্টি শেরিফের কার্যালয়ের সরকারি ওয়েবসাইটে প্রকাশিত গ্রেপ্তারসংক্রান্ত তথ্য অনুযায়ী, গত ২৮ অক্টোবর ২০২৬ তারিখে তাঁকে গ্রেপ্তার করা হয়। প্রকাশিত রেকর্ডে তাঁর বিরুদ্ধে ‘Film, Distribute, or Possess Image or Video of Sexual Activity with an Animal’ শীর্ষক অভিযোগ উল্লেখ করা হয়েছে। অর্থাৎ, প্রাণীর সঙ্গে যৌন কর্মকাণ্ডের ছবি বা ভিডিও ধারণ, বিতরণ কিংবা নিজের কাছে রাখার অভিযোগে তাঁকে গ্রেপ্তার দেখানো হয়েছে। গ্রেপ্তারসংক্রান্ত সরকারি রেকর্ড প্রকাশের পর বিষয়টি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে। বিশেষ করে বুয়েটের সাবেক শিক্ষার্থী এবং যুক্তরাষ্ট্রের একটি বিশ্ববিদ্যালয়ের সহকারী অধ্যাপক হিসেবে তাঁর পরিচয়ের কারণে ঘটনাটি নিয়ে প্রবাসী বাংলাদেশিদের মধ্যেও আলোচনা তৈরি হয়েছে। এদিকে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রাণীটির পরিচয় সম্পর্কে বিভিন্ন দাবি ছড়িয়ে পড়লেও হিলসবরো কাউন্টি শেরিফের কার্যালয়ের প্রকাশিত গ্রেপ্তারসংক্রান্ত তথ্যে নির্দিষ্ট কোনো প্রাণীর নাম উল্লেখ করা হয়নি। ফলে ছাগলের সঙ্গে যৌন কর্মকাণ্ডের যে দাবি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে করা হচ্ছে, তা স্বাধীনভাবে নিশ্চিত হওয়া যায়নি। তথ্যসূত্র: হিলসবরো কাউন্টি শেরিফের কার্যালয় (Hillsborough County Sheriff’s Office), ফ্লোরিডা।