গ্রিন কার্ড আবেদন

ছবি: সংগৃহীত
এইচ-১বি ভিসাধারীদের জন্য স্বস্তির আভাস, যুক্তরাষ্ট্রেই গ্রিন কার্ডের আবেদন চালিয়ে যেতে পারবেন

যুক্তরাষ্ট্রে কর্মরত হাজারো বিদেশি পেশাজীবীর মধ্যে সম্প্রতি উদ্বেগ তৈরি হয়েছিল ট্রাম্প প্রশাসনের নতুন অভিবাসন নীতিকে ঘিরে। বিশেষ করে এইচ-১বি ভিসাধারীদের অনেকেই আশঙ্কা করছিলেন, গ্রিন কার্ডের আবেদন প্রক্রিয়া সম্পন্ন করতে তাদের বাধ্যতামূলকভাবে নিজ দেশে ফিরে যেতে হতে পারে। তবে নতুন ব্যাখ্যায় মার্কিন অভিবাসন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, অর্থনৈতিকভাবে গুরুত্বপূর্ণ ও জাতীয় স্বার্থসংশ্লিষ্ট অনেক আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে থেকেই তাদের গ্রিন কার্ডের আবেদন চালিয়ে যেতে পারবেন।   মার্কিন সাময়িকী নিউজউইকের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, গত শুক্রবার ট্রাম্প প্রশাসন একটি নীতিগত নির্দেশনা জারি করে, যেখানে দীর্ঘদিনের প্রচলিত অভিবাসন ব্যবস্থায় বড় ধরনের পরিবর্তনের ইঙ্গিত দেওয়া হয়। ওই নির্দেশনায় বলা হয়, অস্থায়ী ভিসায় যুক্তরাষ্ট্রে অবস্থানরত বিদেশি নাগরিকদের স্থায়ী বাসিন্দা হওয়ার আবেদন সাধারণভাবে নিজ দেশের মার্কিন দূতাবাস বা কনস্যুলেটের মাধ্যমে সম্পন্ন করতে হবে।   এই ঘোষণার পর যুক্তরাষ্ট্রের প্রযুক্তি, প্রকৌশল, স্বাস্থ্যসেবা, গবেষণা ও আর্থিক খাতে কর্মরত বহু বিদেশি কর্মীর মধ্যে অনিশ্চয়তা ছড়িয়ে পড়ে। কারণ দীর্ঘদিন ধরেই এইচ-১বি ভিসাধারীরা যুক্তরাষ্ট্রে অবস্থান করেই “অ্যাডজাস্টমেন্ট অব স্ট্যাটাস” প্রক্রিয়ার মাধ্যমে গ্রিন কার্ডের আবেদন করে আসছিলেন।   তবে রোববার ইউএস সিটিজেনশিপ অ্যান্ড ইমিগ্রেশন সার্ভিসেস (ইউএসসিআইএস)-এর মুখপাত্র জ্যাক কাহলার এক ই-মেইল বার্তায় জানান, প্রশাসন মূলত কংগ্রেসের “মূল উদ্দেশ্য” পুনর্ব্যক্ত করছে। তিনি বলেন, যারা যুক্তরাষ্ট্রের অর্থনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখছেন অথবা জাতীয় স্বার্থে ভূমিকা পালন করছেন, তাদের ক্ষেত্রে বর্তমান প্রক্রিয়া অব্যাহত থাকার সম্ভাবনা রয়েছে।   জ্যাক কাহলার বলেন, “যেসব আবেদন অর্থনৈতিকভাবে উপকারী অথবা জাতীয় স্বার্থের সঙ্গে সম্পর্কিত, সেসব আবেদনকারী সম্ভবত বর্তমান পথেই এগোতে পারবেন। তবে ব্যক্তিগত পরিস্থিতি বিবেচনায় কিছু আবেদনকারীকে বিদেশে গিয়ে আবেদন সম্পন্ন করতে বলা হতে পারে।”   এই বক্তব্যের পর অনেক এইচ-১বি ভিসাধারীর মধ্যে কিছুটা স্বস্তি ফিরে এসেছে। বিশেষ করে প্রযুক্তিখাতের দক্ষ কর্মীদের জন্য এই ব্যাখ্যা গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।   যুক্তরাষ্ট্রের প্রযুক্তি শিল্পে ভারত, বাংলাদেশ, চীনসহ বিভিন্ন দেশের বিপুলসংখ্যক দক্ষ কর্মী এইচ-১বি ভিসার মাধ্যমে কাজ করছেন। গুগল, মাইক্রোসফট, অ্যামাজন, মেটা ও বিভিন্ন স্বাস্থ্যসেবা প্রতিষ্ঠান উচ্চ দক্ষতাসম্পন্ন বিদেশি কর্মীদের ওপর অনেকাংশে নির্ভরশীল। ফলে নতুন নীতির কারণে যদি কর্মীদের বাধ্যতামূলকভাবে নিজ দেশে ফিরে যেতে হতো, তাহলে অনেক প্রতিষ্ঠানের কার্যক্রমেও প্রভাব পড়তে পারত বলে আশঙ্কা তৈরি হয়েছিল।   অভিবাসন আইনজীবীরা বলছেন, ট্রাম্প প্রশাসনের নতুন অবস্থান মূলত অভিবাসন ব্যবস্থাকে আরও কঠোর করার প্রচেষ্টার অংশ। প্রশাসনের দাবি, কংগ্রেস কখনোই অস্থায়ী ভিসাকে স্থায়ী বসবাসের “স্বয়ংক্রিয় পথ” হিসেবে বিবেচনা করেনি। তাই ভবিষ্যতে গ্রিন কার্ড প্রক্রিয়াকে আরও নিয়ন্ত্রিত করার চেষ্টা দেখা যেতে পারে।   তবে এখনো অনেক বিষয় অস্পষ্ট রয়ে গেছে। বিশেষ করে কোন আবেদনকারী “জাতীয় স্বার্থ” বা “অর্থনৈতিক অবদান” ক্যাটাগরিতে পড়বেন, সে বিষয়ে বিস্তারিত নির্দেশিকা প্রকাশ করা হয়নি। ফলে বাস্তব প্রয়োগে জটিলতা তৈরি হতে পারে বলে মনে করছেন অভিবাসন বিশেষজ্ঞরা।   আইনজীবীদের আশঙ্কা, যদি আবেদনকারীদের বিদেশে গিয়ে প্রক্রিয়া সম্পন্ন করতে বাধ্য করা হয়, তাহলে অনেকেই দীর্ঘ সময় যুক্তরাষ্ট্রের বাইরে আটকে পড়তে পারেন। কারণ ভারতসহ কয়েকটি দেশের জন্য গ্রিন কার্ডের দীর্ঘ জট রয়েছে। আবার কিছু দেশে মার্কিন দূতাবাসে অভিবাসন ভিসা কার্যক্রম ধীরগতিতে চলায় অপেক্ষার সময় আরও বাড়তে পারে।   এ ছাড়া নতুন নীতির কারণে পরিবার বিচ্ছিন্নতা, চাকরিতে অনিশ্চয়তা এবং করপোরেট কার্যক্রমে বিঘ্নের ঝুঁকিও রয়েছে। অনেক এইচ-১বি ভিসাধারীর সন্তান যুক্তরাষ্ট্রে স্কুলে পড়াশোনা করছে এবং পরিবার নিয়ে তারা দীর্ঘদিন ধরে সেখানে বসবাস করছেন। হঠাৎ করে বিদেশে গিয়ে আবেদন সম্পন্ন করতে হলে তাদের ব্যক্তিগত ও পেশাগত জীবনে বড় ধরনের প্রভাব পড়তে পারে।   বিশ্লেষকদের মতে, ট্রাম্প প্রশাসনের নতুন নীতি অভিবাসন ব্যবস্থায় বড় পরিবর্তনের ইঙ্গিত দিলেও সর্বশেষ ব্যাখ্যা দক্ষ বিদেশি কর্মীদের জন্য কিছুটা স্বস্তির বার্তা দিয়েছে। তবে চূড়ান্ত বাস্তবতা নির্ভর করবে ইউএসসিআইএস ভবিষ্যতে কী ধরনের নির্দেশিকা ও বাস্তবায়ন পদ্ধতি গ্রহণ করে তার ওপর।

তাবাস্সুম মে ২৪, ২০২৬ ১৪:০
ছবি: সংগৃহীত।
এইচ-১বি ভিসা লটারিতে সুযোগ পাননি? যুক্তরাষ্ট্রে যাওয়ার জন্য রয়েছে আরও ৮টি বিকল্প পথ

যুক্তরাষ্ট্রের উচ্চাকাঙ্ক্ষী কর্মীদের জন্য এইচ-১বি (H-1B) ভিসা সবসময়ই আকর্ষণের কেন্দ্রবিন্দুতে থাকে। তবে ২০২৭ অর্থ বছরের জন্য এইচ-১বি ভিসার লটারি প্রক্রিয়া ইতোমধ্যে শেষ হয়েছে। যারা এই লটারিতে মনোনীত হতে পারেননি বা সুযোগ হারিয়েছেন, তাদের হতাশ হওয়ার কিছু নেই। বিশেষজ্ঞদের মতে, যুক্তরাষ্ট্রে বৈধভাবে কাজ করার এবং থাকার জন্য আরও অন্তত আটটি বিকল্প ভিসার পথ খোলা রয়েছে। সম্প্রতি এক প্রতিবেদনে এই বিকল্প সুযোগগুলোর কথা তুলে ধরা হয়েছে: ১. ও-১ (O-1) ভিসা: অসাধারণ মেধার স্বীকৃতি যাদের বিজ্ঞান, শিল্প, শিক্ষা, ব্যবসা বা খেলাধুলায় অসাধারণ দক্ষতা রয়েছে, তারা ও-১ ভিসার জন্য আবেদন করতে পারেন। এই ভিসার জন্য কোনো বার্ষিক সীমা বা লটারি পদ্ধতি নেই। ২. এল-১ (L-1) ভিসা: আন্তঃপ্রতিষ্ঠান বদলি যদি কেউ কোনো বহুজাতিক কোম্পানিতে কর্মরত থাকেন যার শাখা যুক্তরাষ্ট্রে রয়েছে, তবে তিনি এল-১ ভিসার মাধ্যমে বদলি হয়ে সে দেশে যেতে পারেন। এটি মূলত ম্যানেজার বা বিশেষায়িত জ্ঞানসম্পন্ন কর্মীদের জন্য। ৩. ই-২ (E-2) ইনভেস্টর ভিসা: যুক্তরাষ্ট্রের সাথে বাণিজ্যিক চুক্তি রয়েছে এমন দেশের নাগরিকরা (যেমন বাংলাদেশ) নির্দিষ্ট পরিমাণ অর্থ বিনিয়োগ করে এই ভিসা পেতে পারেন। যদিও বাংলাদেশিদের জন্য এই প্রক্রিয়ায় কিছু সীমাবদ্ধতা রয়েছে, তবে এটি একটি কার্যকর পথ। ৪. টিএন (TN) ভিসা: উত্তর আমেরিকার নাগরিকদের জন্য এটি মূলত কানাডা ও মেক্সিকোর নাগরিকদের জন্য উন্মুক্ত। নির্দিষ্ট পেশাজীবীরা নাফটা (NAFTA) চুক্তির আওতায় এই সুবিধা পান। ৫. এইচ-১বি১ (H-1B1) ভিসা: এটি এইচ-১বি ভিসার একটি বিশেষ সংস্করণ যা কেবল চিলি এবং সিঙ্গাপুরের নাগরিকদের জন্য সংরক্ষিত।   ৬. ই-৩ (E-3) ভিসা: এই বিশেষ ক্যাটাগরির ভিসাটি শুধুমাত্র অস্ট্রেলিয়ার নাগরিকদের জন্য বরাদ্দ করা হয়েছে যারা যুক্তরাষ্ট্রে বিশেষায়িত পেশায় কাজ করতে চান।   ৭. ইবি-১ (EB-1) গ্রিন কার্ড : যাদের অসাধারণ দক্ষতা রয়েছে বা যারা আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত কোনো পুরস্কার পেয়েছেন, তারা সরাসরি গ্রিন কার্ডের জন্য ইবি-১ ক্যাটাগরিতে আবেদন করতে পারেন। ৮. ক্যাপিট-এক্সেম্পট (Cap-Exempt) এইচ-১বি : উচ্চশিক্ষা প্রতিষ্ঠান, অলাভজনক গবেষণা সংস্থা বা সরকারি গবেষণা সংস্থায় কাজের ক্ষেত্রে লটারির প্রয়োজন হয় না। একে 'ক্যাপ-এক্সেম্পট' বলা হয়, যা সারা বছরই আবেদন করা সম্ভব। অভিবাসন বিশেষজ্ঞদের মতে, এইচ-১বি লটারিতে নাম না আসা মানেই স্বপ্ন শেষ হয়ে যাওয়া নয়। সঠিক পরিকল্পনা এবং নিজের যোগ্যতার ভিত্তিতে উপরের যে কোনো একটি পথ বেছে নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রে ক্যারিয়ার গড়া সম্ভব। তবে প্রতিটি ভিসার নিজস্ব শর্ত ও আবেদন প্রক্রিয়া রয়েছে, যা অত্যন্ত সতর্কতার সাথে যাচাই করা প্রয়োজন।

তাবাস্সুম এপ্রিল ৬, ২০২৬ ১৪:০
জনপ্রিয় সংবাদ
বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনার পর তরুণীর মৃত্যু, এক বছরের সাজায় ক্যালিফোর্নিয়ার আইন পরিবর্তনের দাবি

যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন।   মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়।   তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।”   ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে।   প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন।   ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন।   প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল।   মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি।   রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।

মার্কিন ভিসা আপডেট ২০২৬! বাংলাদেশিদের জন্য কোন ভিসা বন্ধ, কোনটা চালু?

২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো।   প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে।   এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে।   অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে।   স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে।   সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে।   সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।

যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশি মালিকানাধীন বিশ্ববিদ্যালয়ের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধন

যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে।   এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন।   নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি।   উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।”   বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে।   এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে।   শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়।   উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন।   বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত।   এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।

পাঁচ সন্তানকে এতিম করে মাকে কুপিয়ে হত্যা, গ্রেপ্তারের সময়ও হাসছিল ঘাতক দুই বোন

যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে এক মর্মান্তিক ও লোমহর্ষক ঘটনার জন্ম দিয়েছে দুই তরুণী বোন। দিনদুপুরে ক্যারোলিন ‘কারো’ পেনা নামের ৩২ বছর বয়সী এক নারীকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগে তাদের গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। নিহত নারী পাঁচ সন্তানের জননী ছিলেন। তবে সবচেয়ে শিউরে ওঠার মতো বিষয় হলো, গ্রেপ্তারের সময় অভিযুক্তদের চেহারায় অনুশোচনার সামান্যতম ছাপ তো ছিলই না, উল্টো তাদের মুখে পৈশাচিক হাসি দেখা গেছে। মেক্সিকো সীমান্তের কাছের শহর দেল রিও থেকে বৃহস্পতিবার বিকেলে পুলিশ তাদের হাতকড়া পরিয়ে নিয়ে যাওয়ার সময় এই দৃশ্য ক্যামেরায় ধরা পড়ে।   আরও পড়ুন... ‘ফোনটা ধরতে পারলে হয়তো তাকে বাঁচাতে পারতাম’- টেক্সাসে পাঁচ সন্তানের মাকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা, দুই বোনসহ তিনজন গ্রেপ্তার   পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নিহত ক্যারোলিনকে বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় দুপুর ২টার পরপরই গুরুতর জখম অবস্থায় ভাল ভার্দে রিজিওনাল মেডিকেল সেন্টারে নেওয়া হয়। তার শরীরে একাধিক ছুরিকাঘাতের চিহ্ন ছিল। ঘটনাস্থলের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, একটি সনিক ড্রাইভ-থ্রু রেস্তোরাঁর বাইরে রক্তাক্ত অবস্থায় ক্যারোলিন তার তিন হামলাকারীর মুখোমুখি দাঁড়িয়ে আছেন।   পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য সান আন্তোনিওর একটি হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছায় এবং প্রায় ৩৫ হাজার বাসিন্দার শহর দেল রিওতে অভিযান চালিয়ে হামলাকারীদের শনাক্ত করে।   সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া গ্রেপ্তারের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, ২১ বছর বয়সী কিটি মিয়া দিয়াজ খালি পায়ে হেঁটে যাওয়ার সময় পুলিশের গাড়িতে ওঠার আগে মৃদু হাসছেন। কিটি নিজেও এক শিশুপুত্রের মা। অন্যদিকে, তার ১৯ বছর বয়সী ছোট বোন আমায়া কুকি দিয়াজ ক্যামেরার দিকে তাকিয়ে নির্লজ্জভাবে দাঁত বের করে হাসতে থাকেন।   ▶️ টেক্সাসে নিজের মাকে নির্মমভাবে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুই মেয়ে |   এমনকি ভিডিও ধারণকারীকে ব্যঙ্গাত্মক সুরে ‘রেকর্ড করা বন্ধ করো’ বলেও চিৎকার করতে শোনা যায় তাকে। দেল রিও পুলিশ জানিয়েছে, এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ২১ বছর বয়সী কায়ান্দ্রা রেনি ফাজ নামের তৃতীয় আরেক নারীকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে ঠিক কী কারণে এই নারকীয় হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে, সে বিষয়ে পুলিশ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি।

দেশের প্রথম ৪০ তলা ভবন ‘শান্তা পিনাকল’ হস্তান্তর সম্পন্ন

বাংলাদেশের আবাসন শিল্পে এক নতুন ইতিহাস রচিত হলো। রাজধানীর তেজগাঁও শিল্প এলাকায় নির্মিত দেশের প্রথম ৪০ তলা বিশিষ্ট আকাশচুম্বী বাণিজ্যিক ভবন ‘শান্তা পিনাকল’ আনুষ্ঠানিকভাবে হস্তান্তর করেছে শান্তা হোল্ডিংস। ৫০০ ফুট উচ্চতার এই আইকনিক ভবনটি এখন দেশের সর্বোচ্চ সম্পন্ন হওয়া ইমারত। গত শনিবার (১৮ এপ্রিল) ভবনের ৪০তম তলায় আয়োজিত এক আড়ম্বরপূর্ণ অনুষ্ঠানের মাধ্যমে এটি হস্তান্তর করা হয়। অনুষ্ঠানে শান্তা হোল্ডিংসের চেয়ারম্যান খন্দকার মনির উদ্দিন, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, স্থপতি এহসান খানসহ প্রতিষ্ঠানের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা, ভূমি মালিক এবং গ্রাহকরা উপস্থিত ছিলেন। স্থাপত্যশৈলী ও আধুনিক প্রযুক্তি:‘শান্তা পিনাকল’ শুধুমাত্র উচ্চতার কারণেই অনন্য নয়, বরং এটি আধুনিক নির্মাণশৈলী ও প্রযুক্তির এক অনন্য সমন্বয়। এটি বাংলাদেশের প্রথম ভবন যা পরিবেশবান্ধব স্থাপত্যের জন্য আন্তর্জাতিক ‘লিড প্ল্যাটিনাম’ (LEED Platinum) স্বীকৃতি পেয়েছে। সিঙ্গাপুরভিত্তিক বিখ্যাত ইঞ্জিনিয়ারিং প্রতিষ্ঠান ‘মেইনহার্ট’ (Meinhardt) এর সহায়তায় ভবনটির স্ট্রাকচারাল ডিজাইন এবং ভূমিকম্প প্রতিরোধক ব্যবস্থা নিশ্চিত করা হয়েছে। বিশেষ বৈশিষ্ট্যসমূহ: উন্নত লিফট ব্যবস্থা: ভবনটিতে রয়েছে ৮টি দ্রুতগামী লিফট, যা প্রতি সেকেন্ডে ৪ মিটার উচ্চতায় উঠতে সক্ষম। এটি দেশের দ্রুততম ভার্টিক্যাল ট্রান্সপোর্ট ব্যবস্থা। পরিবেশ ও সুরক্ষা: ভবনে ব্যবহৃত হয়েছে ৩৬ মিমি পুরুত্বের ডাবল গ্লেজড গ্লাস, যা তাপ ও শব্দ নিরোধক। এছাড়া এটি দেশের প্রথম ‘উইন্ড টানেল টেস্ট’ করা ভবন, যা প্রতিকূল আবহাওয়ায় এর স্থায়িত্ব নিশ্চিত করে। আইবিএমএস প্রযুক্তি: পুরো ভবনটি একটি ইন্টেলিজেন্ট বিল্ডিং ম্যানেজমেন্ট সিস্টেম (iBMS) দ্বারা পরিচালিত, যা সার্বক্ষণিক নিরাপত্তা ও জ্বালানি সাশ্রয় নিশ্চিত করবে। অগ্নি নিরাপত্তা: আন্তর্জাতিক এনএফপিএ (NFPA) স্ট্যান্ডার্ড অনুসরণ করে এখানে অত্যাধুনিক অগ্নিনির্বাপক ব্যবস্থা স্থাপন করা হয়েছে। অনুষ্ঠানে শান্তা হোল্ডিংসের পক্ষ থেকে জানানো হয়, ‘শান্তা পিনাকল’ হস্তান্তর দেশের রিয়েল এস্টেট খাতের সক্ষমতার এক বড় প্রমাণ। এটি শুধুমাত্র তেজগাঁও নয়, বরং পুরো ঢাকার বাণিজ্যিক পরিবেশকে বিশ্বমানের স্তরে নিয়ে যাবে। দেশের ইতিহাসে প্রথমবার অ্যালুমিনিয়াম ফর্মওয়ার্ক ব্যবহারের মাধ্যমে মাত্র সাত দিনে এক একটি তলার ছাদ ঢালাইয়ের রেকর্ড গড়ে এই প্রকল্পের কাজ সম্পন্ন করা হয়েছে। ঢাকার আকাশসীমায় নতুন এই ল্যান্ডমার্ক দেশের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি এবং আধুনিক নগরায়নের এক শক্তিশালী প্রতীক হিসেবে দাঁড়িয়ে আছে।

Top week

ফিলাডেলফিয়ায় গুলিতে নিহত বাংলাদেশি প্রবাসী মাহফুজুল হক | ছবি: সংগৃহীত
আমেরিকা

যুক্তরাষ্ট্রের ফিলাডেলফিয়ায় ডোরড্যাশে খাবার পৌঁছে দিতে গিয়ে গুলিতে নিহত বাংলাদেশি মাহফুজুল হক

তাবাস্সুম জুলাই ৭, ২০২৬ ১৪:০