সাপ্তাহিক আমেরিকা বাংলা ই-পেপার

চিকিৎসার

চিকিৎসার খরচে সঞ্চয় শেষ
চিকিৎসার খরচে সঞ্চয় শেষ, অবসরকালেও ওষুধ কমিয়ে খাচ্ছেন বহু আমেরিকান

যুক্তরাষ্ট্রে অবসরপ্রাপ্ত ও বয়স্ক নাগরিকদের জন্য চিকিৎসা ব্যয় বড় আর্থিক চ্যালেঞ্জ হয়ে উঠছে। চিকিৎসকের ফি, অস্ত্রোপচার, প্রেসক্রিপশনের ওষুধ এবং দীর্ঘমেয়াদি পরিচর্যার খরচ সামলাতে গিয়ে অনেক পরিবারকে নিজেদের সঞ্চয়ের ওপর নির্ভর করতে হচ্ছে। আগামী ৩ নভেম্বরের মধ্যবর্তী নির্বাচনের আগে স্বাস্থ্যসেবার ব্যয় এখন বয়স্ক ভোটারদের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ আলোচনার বিষয়।   অ্যাসোসিয়েটেড প্রেসের ৩১ অক্টোবর প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে যুক্তরাষ্ট্রের ওহাইও অঙ্গরাজ্যের ৮৩ বছর বয়সী বারবারা ওয়েইগ্যান্ডের জীবনের একটি ঘটনা তুলে ধরা হয়েছে। অবসর জীবনের জন্য তিনি দীর্ঘদিন ধরে অর্থ সঞ্চয় করেছিলেন। নিজের স্বাস্থ্য ভালো রাখা এবং ভবিষ্যতের আর্থিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করার চেষ্টা করেছিলেন। কিন্তু চলতি বছর কাঁধের অস্ত্রোপচার এবং মূত্রথলির ক্যানসার শনাক্ত হওয়ার পর তাঁর আর্থিক পরিস্থিতি কঠিন হয়ে পড়ে।   ক্যানসারের চিকিৎসাসংক্রান্ত ব্যয় মেটাতে তাঁকে অবসরকালীন সঞ্চয় থেকে ৪ হাজার ডলার তুলে নিতে হয়েছে। তাঁর ভাষ্য অনুযায়ী, মাসিক আয়ের ওপর নির্ভর করে নতুন চিকিৎসা ব্যয় বহন করা সম্ভব হচ্ছিল না।   যুক্তরাষ্ট্রে ৬৫ বছর বা তার বেশি বয়সী নাগরিকদের স্বাস্থ্যসেবায় মেডিকেয়ার গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। কিন্তু ২০২৭ সাল থেকে বিভিন্ন পরিকল্পনায় পরিবর্তন আসছে। ফলে বয়স্ক নাগরিকদের নিজেদের স্বাস্থ্যবিমার সুবিধা, ওষুধের খরচ এবং মাসিক প্রিমিয়াম নতুন করে যাচাই করতে হচ্ছে।   মেডিকেয়ারের ওষুধ সুবিধা পার্ট ডিতে নিজস্ব পকেট থেকে ব্যয় করার সর্বোচ্চ সীমা, সাময়িক ফেডারেল প্রিমিয়াম সহায়তার অবসান এবং ওষুধের দাম নিয়ে নতুন সমঝোতা—এসব বিষয় আগামী বছরের স্বাস্থ্যসেবা ব্যয়ের ওপর প্রভাব ফেলতে পারে।   কিছু অঙ্গরাজ্যে বিমা কোম্পানিগুলো মেডিকেয়ার অ্যাডভান্টেজ পরিকল্পনায় নতুন গ্রাহক গ্রহণ সীমিত করছে। কোথাও কোথাও কিছু পরিকল্পনা বন্ধ বা বাজার থেকে প্রত্যাহারও করা হচ্ছে।ফলে দীর্ঘদিন ধরে একই স্বাস্থ্যবিমার ওপর নির্ভরশীল বয়স্ক ব্যক্তিদের নতুন পরিকল্পনা খুঁজতে হচ্ছে।   স্বাস্থ্যসেবার সবচেয়ে বড় সমস্যাগুলোর একটি হয়ে উঠেছে প্রেসক্রিপশনের ওষুধের দাম।কাইজার ফ্যামিলি ফাউন্ডেশনের মার্চ মাসের এক জরিপে দেখা গেছে, যুক্তরাষ্ট্রের প্রায় ১০ জন প্রাপ্তবয়স্কের মধ্যে ৪ জন গত এক বছরে ওষুধের ব্যয়ের কারণে চিকিৎসকের নির্দেশনা অনুযায়ী ওষুধ গ্রহণ করতে পারেননি।   জরিপে অংশ নেওয়া প্রায় পাঁচজনের একজন জানিয়েছেন, অর্থ সাশ্রয়ের জন্য তাঁরা ওষুধ অর্ধেক করেছেন অথবা নির্ধারিত মাত্রার কিছু অংশ বাদ দিয়েছেন।ওহাইওর ৮৩ বছর বয়সী বারবারা ওয়েইগ্যান্ডও ওষুধ দীর্ঘদিন চালিয়ে নিতে একদিন পরপর সেবনের কথা ভাবছিলেন বলে জানিয়েছেন। তাঁর এই অভিজ্ঞতা বয়স্ক নাগরিকদের স্বাস্থ্যসেবা ব্যয়ের চাপ কতটা গভীর, তা তুলে ধরেছে।

বায়জিদ হাসান অক্টোবর ৩০, ২০২৬ ১৪:০ 0
যুক্তরাষ্ট্রে সরকারি স্বাস্থ্যসেবা সহায়তার নিয়মে পরিবর্তনের ফলে কিছু বৈধ অভিবাসীর চিকিৎসা ব্যয় নিয়ে উদ্বেগ
স্বাস্থ্যবিমার সুবিধা হারানোর শঙ্কায় যুক্তরাষ্ট্রের লাখো বৈধ অভিবাসী, চিকিৎসার খরচ নিয়ে বাড়ছে উদ্বেগ

যুক্তরাষ্ট্রে সরকারি স্বাস্থ্যসেবা সহায়তার নিয়মে পরিবর্তনের ফলে কিছু বৈধ অভিবাসীর চিকিৎসা ব্যয় নিয়ে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। নতুন বিধিনিষেধের আওতায় নির্দিষ্ট কিছু শ্রেণির অভিবাসী ১ অক্টোবর থেকে সরকারি স্বাস্থ্যবিমা সহায়তা হারিয়েছেন। এর ফলে যেসব পরিবার নিয়মিত চিকিৎসা, ওষুধ কিংবা দীর্ঘমেয়াদি স্বাস্থ্যসেবার ওপর নির্ভরশীল, তাদের আর্থিক চাপ বাড়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে।   ১০ অক্টোবর প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সরকারি স্বাস্থ্যবিমা সহায়তার নিয়ম পরিবর্তনের কারণে যুক্তরাষ্ট্রের বিভিন্ন অঙ্গরাজ্যে বহু বৈধ অভিবাসী ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার ঝুঁকিতে রয়েছেন। স্বাস্থ্যনীতি নিয়ে গবেষণাকারী প্রতিষ্ঠান কেএফএফের হিসাব অনুযায়ী, নয়টি অঙ্গরাজ্য ও ওয়াশিংটন ডিসিতে ২ লাখ ৮১ হাজারের বেশি অভিবাসী এই পরিবর্তনের প্রভাবে সহায়তা হারিয়েছেন বা হারানোর ঝুঁকিতে পড়েছেন। তবে সবার ক্ষেত্রে একই নিয়ম প্রযোজ্য নয়; ব্যক্তির অভিবাসন-অবস্থা ও সংশ্লিষ্ট অঙ্গরাজ্যের বিধানের ওপর বিষয়টি নির্ভর করে।   প্রতিবেদনে অ্যারিজোনায় প্রায় ২৯ হাজার এবং ফ্লোরিডায় প্রায় ১ লাখ ৭৭ হাজার বৈধ অভিবাসীর স্বাস্থ্যবিমা সহায়তা হারানোর হিসাব উল্লেখ করা হয়েছে। এসব পরিসংখ্যান থেকে বোঝা যায়, সরকারি নীতির পরিবর্তন অনেক পরিবারের চিকিৎসার পরিকল্পনা ও দৈনন্দিন ব্যয়ের ওপর প্রভাব ফেলতে পারে।   স্বাস্থ্যবিমার সুবিধা হারালে চিকিৎসকের পরামর্শ, পরীক্ষা-নিরীক্ষা, হাসপাতালে ভর্তি এবং ওষুধ কেনার খরচ নিজের পকেট থেকে বহন করতে হতে পারে। বিশেষ করে যেসব পরিবারে শিশু, বয়স্ক মানুষ কিংবা দীর্ঘদিন ধরে চিকিৎসা নেওয়া সদস্য রয়েছেন, তাদের জন্য পরিস্থিতি কঠিন হয়ে উঠতে পারে। সীমিত আয়ের পরিবারগুলোর ক্ষেত্রে চিকিৎসার ব্যয় মেটাতে সঞ্চয় খরচ করা বা অন্যান্য প্রয়োজনীয় ব্যয় কমানোর পরিস্থিতিও তৈরি হতে পারে।   যুক্তরাষ্ট্রে বসবাসরত বাংলাদেশি পরিবারগুলোর জন্যও বিষয়টি গুরুত্বপূর্ণ। তবে সব বাংলাদেশি অভিবাসী বা সব বৈধ অভিবাসীর স্বাস্থ্যবিমা বন্ধ হয়ে গেছে—এমন ধারণা সঠিক নয়। সরকারি স্বাস্থ্যসেবা সহায়তার যোগ্যতা ব্যক্তির অভিবাসন-অবস্থা, বয়স, আয়, পারিবারিক পরিস্থিতি এবং অঙ্গরাজ্যের নিয়ম অনুযায়ী নির্ধারিত হয়।   যাঁরা স্বাস্থ্যবিমা বন্ধ হওয়ার নোটিশ পেয়েছেন, তাঁদের প্রথমে নোটিশটি ভালোভাবে পড়ে কারণ ও পরবর্তী পদক্ষেপ সম্পর্কে নিশ্চিত হওয়া উচিত। সিদ্ধান্তটি ভুল বলে মনে হলে নোটিশে উল্লেখ করা নিয়ম অনুযায়ী পুনর্বিবেচনা বা আপিলের সুযোগ আছে কি না, তা যাচাই করা প্রয়োজন। প্রয়োজনে সংশ্লিষ্ট অঙ্গরাজ্যের স্বাস্থ্যসেবা দপ্তর কিংবা যোগ্য পরামর্শকের সহায়তা নেওয়া যেতে পারে।   এই পরিবর্তন যুক্তরাষ্ট্রে সরকারি ব্যয়, অভিবাসননীতি এবং নাগরিকদের স্বাস্থ্যসেবা পাওয়ার সুযোগ নিয়ে চলমান বিতর্কের অংশ। সরকারের ব্যয় নিয়ন্ত্রণের উদ্যোগের পাশাপাশি অসুস্থ ও স্বল্প আয়ের মানুষের চিকিৎসা পাওয়ার সুযোগ কীভাবে নিশ্চিত করা হবে, তা নিয়েও প্রশ্ন উঠছে।   প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রচারিত অসম্পূর্ণ তথ্যের ওপর নির্ভর না করে নিজেদের যোগ্যতা সরকারি দপ্তরের মাধ্যমে যাচাই করা। স্বাস্থ্যবিমা সংক্রান্ত কোনো সিদ্ধান্ত নেওয়ার আগে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছ থেকে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া উচিত।

বায়জিদ হাসান অক্টোবর ২৪, ২০২৬ ১৪:০ 0
অলিভার অ্যালভিস। ছবি:সংগৃহীত
২০২৩ সালের পর থেকে আর ঘুমাননি! চিকিৎসার খোঁজে ঘুরছেন দেশে দেশে

ইংল্যান্ডের উইল্টশায়ারের সাবেক ট্রেনচালক অলিভার অ্যালভিসের দাবি, ২০২৩ সালের ডিসেম্বরের এক রাতের পর থেকে তিনি আর স্বাভাবিকভাবে ঘুমাতে পারছেন না। প্রথমে বিষয়টিকে সাময়িক মানসিক চাপের ফল মনে হলেও দিন, সপ্তাহ ও মাস পেরিয়ে যাওয়ার পরও তার ঘুম ফেরেনি বলে জানিয়েছেন তিনি। চিকিৎসকেরাও এখন পর্যন্ত তার সমস্যার সুনির্দিষ্ট কারণ শনাক্ত করতে পারেননি।   মেইল অনলাইনকে নিজের অভিজ্ঞতার কথা বলতে গিয়ে অলিভার বলেন, এটি শুধু ঘুমের অভাব নয়, তার কাছে মনে হয় ঘুম যেন পুরোপুরি অদৃশ্য হয়ে গেছে। তার ভাষায়, তিনি ঘুমঘুম অনুভব করেন না এবং ঘুমিয়েও পড়েন না। সব সময় যেন সতর্ক অবস্থায় থাকেন।   ঘুমহীনতার এই সমস্যা শুরু হওয়ার পর একপর্যায়ে নিজের পেশা নিয়েও উদ্বিগ্ন হয়ে পড়েন অলিভার। এক সপ্তাহের বেশি সময় ঘুমাতে না পারার পর ২০২৪ সালের জানুয়ারিতে ট্রেনচালকের চাকরি ছেড়ে দেন তিনি। যাত্রীদের নিরাপত্তার কথা বিবেচনা করেই এমন সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন বলে জানান তিনি।   চাকরি ছাড়ার পর নিজের বাড়ি বিক্রি করে মায়ের সঙ্গে থাকতে শুরু করেন অলিভার। এরপর চিকিৎসার সন্ধানে নিজের জমানো অর্থ ব্যয় করে বিভিন্ন দেশে ঘুরেছেন তিনি। তুরস্ক, কলম্বিয়া, ভারতসহ ইউরোপের বিভিন্ন দেশেও গেছেন সমাধানের আশায়। কিন্তু এখনো তার সমস্যার কোনো নিশ্চিত ব্যাখ্যা মেলেনি।   চিকিৎসকদের আলোচনায় বিরল একটি ঘুমের সমস্যা, প্যারাডক্সিক্যাল ইনসমনিয়া বা স্লিপ স্টেট মিসপারসেপশনের সম্ভাবনার কথা এসেছে। এই অবস্থায় একজন ব্যক্তি মনে করতে পারেন যে তিনি খুব কম বা একেবারেই ঘুমাননি, যদিও বাস্তবে তার কিছুটা ঘুম হতে পারে। তবে অলিভারের নিজের অভিজ্ঞতা এই ব্যাখ্যার সঙ্গে পুরোপুরি মেলে না বলে তিনি মনে করেন।   দীর্ঘদিনের এই সমস্যায় তার স্বাভাবিক জীবন পুরোপুরি বদলে গেছে। চাকরি ছেড়ে দেওয়া থেকে শুরু করে বাড়ি বিক্রি এবং চিকিৎসার জন্য বিভিন্ন দেশে ঘুরে বেড়ানো, সবকিছুর কেন্দ্রেই রয়েছে ঘুম ফিরে পাওয়ার চেষ্টা।   অলিভার এখনো নিজের সমস্যার কারণ খুঁজে বের করার চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন। তিনি জানিয়েছেন, আবার স্বাভাবিকভাবে ঘুমাতে পারার জন্য নিজের সবকিছু দিয়ে দিতেও তিনি প্রস্তুত।

Unknown আগস্ট ৭, ২০২৬ ১৪:০ 0
জনপ্রিয় সংবাদ
বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনার পর তরুণীর মৃত্যু, এক বছরের সাজায় ক্যালিফোর্নিয়ার আইন পরিবর্তনের দাবি

যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন।   মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়।   তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।”   ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে।   প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন।   ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন।   প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল।   মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি।   রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।

যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডে বড় পরিবর্তন, পরিবারভিত্তিক ভিসা আবেদনকারীদের জন্য সুখবর

যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর আগস্ট ২০২৬ সালের ভিসা বুলেটিন প্রকাশ করেছে। নতুন এই আপডেটে পরিবারভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি দেখা গেছে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের স্থায়ী বাসিন্দাদের স্বামী, স্ত্রী ও সন্তানদের জন্য নির্ধারিত এফ২এ ক্যাটাগরিতে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এসেছে।   নতুন ভিসা বুলেটিন অনুযায়ী, পরিবারভিত্তিক কয়েকটি ক্যাটাগরিতে অপেক্ষার সময় কমার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এর মধ্যে এফ২এ ক্যাটাগরির অগ্রগতি সবচেয়ে বেশি, যেখানে যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডধারীদের স্বামী-স্ত্রী ও অবিবাহিত সন্তানদের আবেদন অন্তর্ভুক্ত থাকে।   এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের অবিবাহিত প্রাপ্তবয়স্ক সন্তানদের জন্য এফ১ ক্যাটাগরি এবং অন্যান্য পরিবারভিত্তিক ক্যাটাগরিতেও কিছু অগ্রগতি দেখা গেছে। তবে আবেদনকারীদের ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার তারিখ বা প্রায়োরিটি ডেট অনুযায়ীই পরবর্তী ধাপ নির্ধারণ হবে।   ভিসা বুলেটিনে বলা হয়েছে, পরিবারভিত্তিক অভিবাসন ভিসার সংখ্যা প্রতিবছর নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে দেওয়া হয়। তাই কোনো ক্যাটাগরিতে চাহিদা বেশি হলে অপেক্ষার সময় বাড়তে পারে এবং কম হলে তারিখ এগিয়ে আসতে পারে।   অন্যদিকে কর্মসংস্থানভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য পরিস্থিতি তুলনামূলক কঠিন রয়েছে। বিশেষ করে কিছু এমপ্লয়মেন্ট-বেসড ক্যাটাগরিতে দীর্ঘ অপেক্ষা ও সীমিত ভিসা সংখ্যার কারণে আবেদনকারীদের অনিশ্চয়তা অব্যাহত রয়েছে।   যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ী বসবাসের জন্য আবেদনকারীদের কাছে ভিসা বুলেটিন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এই তালিকার মাধ্যমে জানা যায়, কোন আবেদনকারীরা গ্রিন কার্ডের পরবর্তী ধাপে এগিয়ে যেতে পারবেন এবং কারা এখনও অপেক্ষার তালিকায় থাকবেন।   বিশেষজ্ঞদের মতে, নতুন এই পরিবর্তন অনেক পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীর জন্য আশার খবর হলেও, প্রতিটি আবেদনকারীর পরিস্থিতি নির্ভর করবে তাদের আবেদন জমার তারিখ, দেশভিত্তিক সীমা এবং ভিসা ক্যাটাগরির ওপর।   যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ব্যবস্থায় দীর্ঘদিন ধরে গ্রিন কার্ডের অপেক্ষার তালিকা বড় একটি বিষয় হয়ে আছে। নতুন ভিসা বুলেটিনে পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীদের জন্য অগ্রগতি দেখা গেলেও, সব আবেদনকারী একইভাবে সুবিধা পাবেন না।

মার্কিন ভিসা আপডেট ২০২৬! বাংলাদেশিদের জন্য কোন ভিসা বন্ধ, কোনটা চালু?

২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো।   প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে।   এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে।   অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে।   স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে।   সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে।   সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।

যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশি মালিকানাধীন বিশ্ববিদ্যালয়ের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধন

যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে।   এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন।   নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি।   উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।”   বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে।   এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে।   শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়।   উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন।   বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত।   এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।

প্রাণীর সঙ্গে যৌন কর্মকাণ্ডের অভিযোগে গ্রেপ্তার বুয়েটের সাবেক শিক্ষার্থী ও সাউথ ফ্লোরিডা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক

যুক্তরাষ্ট্রের ফ্লোরিডা অঙ্গরাজ্যে প্রাণীর সঙ্গে যৌন কর্মকাণ্ডের ছবি বা ভিডিও ধারণ, বিতরণ ও সংরক্ষণের অভিযোগে গ্রেপ্তার হয়েছেন বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত রায়ান আবদুল বাতেন। তিনি বাংলাদেশের বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বুয়েট) তড়িৎ ও ইলেকট্রনিক প্রকৌশল বিভাগের সাবেক শিক্ষার্থী এবং যুক্তরাষ্ট্রের ইউনিভার্সিটি অব সাউথ ফ্লোরিডার সহকারী অধ্যাপক।   হিলসবরো কাউন্টি শেরিফের কার্যালয়ের সরকারি ওয়েবসাইটে প্রকাশিত গ্রেপ্তারসংক্রান্ত তথ্য অনুযায়ী, গত ২৮ অক্টোবর ২০২৬ তারিখে তাঁকে গ্রেপ্তার করা হয়। প্রকাশিত রেকর্ডে তাঁর বিরুদ্ধে ‘Film, Distribute, or Possess Image or Video of Sexual Activity with an Animal’ শীর্ষক অভিযোগ উল্লেখ করা হয়েছে। অর্থাৎ, প্রাণীর সঙ্গে যৌন কর্মকাণ্ডের ছবি বা ভিডিও ধারণ, বিতরণ কিংবা নিজের কাছে রাখার অভিযোগে তাঁকে গ্রেপ্তার দেখানো হয়েছে।   গ্রেপ্তারসংক্রান্ত সরকারি রেকর্ড প্রকাশের পর বিষয়টি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে। বিশেষ করে বুয়েটের সাবেক শিক্ষার্থী এবং যুক্তরাষ্ট্রের একটি বিশ্ববিদ্যালয়ের সহকারী অধ্যাপক হিসেবে তাঁর পরিচয়ের কারণে ঘটনাটি নিয়ে প্রবাসী বাংলাদেশিদের মধ্যেও আলোচনা তৈরি হয়েছে।   এদিকে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রাণীটির পরিচয় সম্পর্কে বিভিন্ন দাবি ছড়িয়ে পড়লেও হিলসবরো কাউন্টি শেরিফের কার্যালয়ের প্রকাশিত গ্রেপ্তারসংক্রান্ত তথ্যে নির্দিষ্ট কোনো প্রাণীর নাম উল্লেখ করা হয়নি। ফলে ছাগলের সঙ্গে যৌন কর্মকাণ্ডের যে দাবি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে করা হচ্ছে, তা স্বাধীনভাবে নিশ্চিত হওয়া যায়নি।   তথ্যসূত্র: হিলসবরো কাউন্টি শেরিফের কার্যালয় (Hillsborough County Sheriff’s Office), ফ্লোরিডা।

Top week

যুক্তরাষ্ট্রের ইউনিভার্সিটি অব সাউথ ফ্লোরিডার সহকারী অধ্যাপক রাইয়ান আবদুল বাতেন। গ্রাফিক্স: আমেরিকা বাংলা

প্রাণীর সঙ্গে যৌন কর্মকাণ্ডের অভিযোগে গ্রেপ্তার বুয়েটের সাবেক শিক্ষার্থী ও সাউথ ফ্লোরিডা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক

নভেম্বর ২, ২০২৬ ১৩:০