চীন

যুক্তরাষ্ট্রে যাওয়ার আগে ‘আইসিই অভিযান’ মোকাবিলার প্রশিক্ষণ
যুক্তরাষ্ট্রে যাওয়ার আগে ‘আইসিই অভিযান’ মোকাবিলার প্রশিক্ষণ! চীনা শিক্ষার্থীদের জন্য নতুন ক্যাম্প

যুক্তরাষ্ট্রে উচ্চশিক্ষার উদ্দেশ্যে দেশ ছাড়ার আগে শিক্ষার্থীদের জন্য অভিনব ধরনের নিরাপত্তা প্রশিক্ষণের আয়োজন করছে চীনের কিছু বেসরকারি সামার ক্যাম্প। সেখানে সম্ভাব্য অপহরণ, ঘৃণাজনিত হামলা, অনলাইন প্রতারণার পাশাপাশি যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ও শুল্ক প্রয়োগকারী সংস্থা (আইসিই)-এর আকস্মিক অভিযানের মতো পরিস্থিতি মোকাবিলার মহড়াও করানো হচ্ছে। সাম্প্রতিক সময়ে যুক্তরাষ্ট্রের কঠোর অভিবাসন নীতি এবং বিদেশি শিক্ষার্থীদের নিয়ে অনিশ্চয়তা বাড়ায় এসব প্রশিক্ষণ জনপ্রিয় হয়ে উঠেছে।    প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, প্রশিক্ষণের সময় শিক্ষার্থীদের বাস্তব পরিস্থিতির মতো পরিবেশে বিভিন্ন জরুরি অবস্থার মুখোমুখি করা হয়। কোথাও ‘অপহরণ’ পরিস্থিতির অভিনয়, কোথাও আবার আইসিই কর্মকর্তাদের অভিযানের অনুকরণে মহড়া দেওয়া হয়। প্রশিক্ষকদের দাবি, এসব অনুশীলনের উদ্দেশ্য শিক্ষার্থীদের আতঙ্কিত করা নয়; বরং অপ্রত্যাশিত পরিস্থিতিতে কীভাবে শান্ত থাকতে হবে, নিজের অধিকার সম্পর্কে সচেতন থাকতে হবে এবং নিরাপদ সিদ্ধান্ত নিতে হবে, তা শেখানো।    দক্ষিণ চায়না মর্নিং পোস্টের এক প্রতিবেদনে বেইজিংয়ের এক শিক্ষার্থী জানান, যুক্তরাষ্ট্রে পড়তে যাওয়ার আগে তিনি এমন একটি ক্যাম্পে অংশ নেন। সেখানে তাকে অপহরণের কৃত্রিম পরিস্থিতির মুখোমুখি করা হয় এবং পরে প্রশিক্ষকরা ব্যাখ্যা করেন, সংকটময় মুহূর্তে কীভাবে আচরণ করলে ঝুঁকি কমানো যায়।    ক্যাম্প পরিচালকদের ভাষ্য, তাদের নিরাপত্তা প্রশিক্ষণ যুক্তরাষ্ট্রের বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসের ঝুঁকি মূল্যায়নের ভিত্তিতে তৈরি করা হয়েছে। এতে ক্যাম্পাসে হয়রানি, প্রতারণা, বর্ণবিদ্বেষমূলক হামলা এবং আকস্মিক আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর অভিযানের মতো পরিস্থিতি নিয়ে সচেতনতামূলক অনুশীলন অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।    তবে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, প্রশিক্ষণে অন্তর্ভুক্ত কিছু ঝুঁকির বাস্তবতা নিয়ে প্রশ্নও রয়েছে। উদাহরণ হিসেবে, যুক্তরাষ্ট্রে অপরিচিত ব্যক্তির মাধ্যমে অপহরণের ঘটনা ব্যাপকভাবে বেড়েছে—এমন প্রমাণ পাওয়া যায়নি। তাই বিশেষজ্ঞদের কেউ কেউ মনে করছেন, কিছু মহড়া সম্ভাব্য ঝুঁকির তুলনায় অতিরঞ্জিত হতে পারে।    এদিকে, সাম্প্রতিক সময়ে যুক্তরাষ্ট্রে আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীদের ভিসা নীতি, অবস্থানের মেয়াদ এবং অভিবাসন প্রয়োগে কঠোরতার কারণে চীনা পরিবারগুলোর মধ্যে উদ্বেগ বেড়েছে। এই অনিশ্চয়তার মধ্যেই অনেক অভিভাবক সন্তানদের বিদেশে পাঠানোর আগে অতিরিক্ত নিরাপত্তা প্রস্তুতির ওপর জোর দিচ্ছেন

নীলুফা নিশাত আগস্ট ২, ২০২৬ ১৪:০
বসুন্ধরা আবাসিক এলাকায় চীনা চক্রের আস্তানায় ডিবির অভিযানে ৪ সদস্য গ্রেপ্তার। ছবি: সংগৃহীত
বসুন্ধরায় ভুয়া চাকরির প্রলোভনে প্রতারণার আস্তানা: ৬ হাজার সক্রিয় সিমসহ বিদেশি চক্রের ৪ সদস্য গ্রেপ্তার

রাজধানীর বসুন্ধরা আবাসিক এলাকায় অবৈধ ভিওআইপি, জিএসএম গেটওয়ে এবং অনলাইন জুয়ার সঙ্গে জড়িত একটি সংঘবদ্ধ প্রতারক চক্রের চার সদস্যকে গ্রেপ্তার করেছে ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি)। অভিযানে বিপুল পরিমাণ প্রযুক্তি সরঞ্জাম, ছয় হাজারের বেশি সক্রিয় সিমকার্ড, বিদেশি মদ ও নগদ অর্থ জব্দ করা হয়েছে।   গ্রেপ্তাররা হলেন—ঝর্না চাকমা জিয়ানা (২৭), লিউ হুই জাং (৪৬), ওয়ে ইউজি (৩০) এবং শে ই রান (৪২)।   ডিবি জানায়, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে শনিবার (১ আগস্ট) রাতে ডিবির সাইবার অ্যান্ড স্পেশাল ক্রাইম বিভাগের একটি দল বসুন্ধরা আবাসিক এলাকার একটি ছয়তলা ভবনে অভিযান চালায়। সেখান থেকেই চারজনকে গ্রেপ্তার করা হয়।   অভিযানে তাদের কাছ থেকে ১৪টি ল্যাপটপ, ১৬টি স্মার্টফোন, বিভিন্ন মোবাইল অপারেটরের ছয় হাজারের বেশি সক্রিয় সিমকার্ড, ২০টি জিএসএম গেটওয়ে ডিভাইস, ২৬ বোতল বিদেশি মদ এবং নগদ ২ লাখ ৯ হাজার ৭০০ টাকা জব্দ করা হয়।   ডিবির প্রাথমিক তদন্তে জানা গেছে, ঝর্না চাকমা জিয়ানা পুরো ভবনটি ভাড়া নিয়ে এর চতুর্থ ও পঞ্চম তলা কয়েকজন চীনা নাগরিকের কাছে সাবলেট দেন। সেখানে উন্নত প্রযুক্তি ব্যবহার করে অবৈধ ভিওআইপি ব্যবসা এবং অনলাইন জুয়ার কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছিল বলে অভিযোগ রয়েছে।   তদন্ত সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানান, চক্রটি সাধারণ মানুষকে চাকরির প্রলোভন, বিশেষ অফার কিংবা স্বল্প সময়ে অতিরিক্ত আয়ের প্রতিশ্রুতি দিয়ে মোবাইল ফোনে বার্তা পাঠাত। ওই বার্তায় থাকা লিংকে প্রবেশ করলেই ভুক্তভোগীরা প্রতারণার ফাঁদে পড়তেন এবং ব্যক্তিগত তথ্য বা অর্থ হাতিয়ে নেওয়ার সুযোগ পেত চক্রটি।   আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর নজরদারি এড়াতে প্রতারকরা বিশেষ প্রযুক্তিও ব্যবহার করত। একটি মোবাইল ডিভাইসের সঙ্গে বাহ্যিকভাবে একাধিক সিম স্লট সংযুক্ত করে একই সময়ে ১২টি সিম পরিচালনা করা হতো। এতে প্রতারণার অভিযোগ এলেও সংশ্লিষ্ট ডিভাইসের আইএমইআই নম্বর দ্রুত শনাক্ত করা কঠিন হয়ে পড়ত বলে জানিয়েছে ডিবি।   পুলিশ বলছে, জব্দ করা ডিজিটাল ডিভাইস ও সিমকার্ডের ফরেনসিক পরীক্ষা শেষে চক্রটির কার্যক্রম, আর্থিক লেনদেন এবং সম্ভাব্য আন্তর্জাতিক সংযোগ সম্পর্কে আরও বিস্তারিত তথ্য জানা যাবে।   ডিবি জানিয়েছে, গ্রেপ্তার চারজনের বিরুদ্ধে প্রচলিত আইনে মামলা প্রক্রিয়াধীন রয়েছে। একই সঙ্গে এই চক্রের সঙ্গে জড়িত অন্য ব্যক্তি বা সহযোগীদের শনাক্তে তদন্ত অব্যাহত রয়েছে।

তাবাস্সুম আগস্ট ১, ২০২৬ ১৪:০
যুক্তরাষ্ট্রের একটি এমআরআই স্ক্যানের খরচে চীনে বিমান ভ্রমণ ও চিকিৎসা সম্ভব। ছবি: সংগৃহীত
যুক্তরাষ্ট্রের এক এমআরআইয়ের খরচেই চীনে বিমান ভ্রমণ, পাঁচতারকা হোটেল ও চিকিৎসা!

যুক্তরাষ্ট্রে একটি এমআরআই  স্ক্যানের খরচ নিয়ে সামাজিক মাধ্যমে ব্যাপক আলোচনা শুরু হয়েছে। সাম্প্রতিক সময়ে ভাইরাল হওয়া একটি তুলনায় দাবি করা হয়েছে, যুক্তরাষ্ট্রে একটি এমআরআই করানোর জন্য রোগীকে যে পরিমাণ অর্থ নিজ পকেট থেকে ব্যয় করতে হতে পারে, সেই অর্থের চেয়েও কম খরচে চীনে বিমান ভ্রমণ, পাঁচতারকা হোটেলে থাকা এবং এমআরআই করিয়ে ফিরে আসা সম্ভব।   ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম দ্য ইন্ডিপেনডেন্ট ও মার্কিন সাময়িকী ফর্চুন এ বিষয়ে প্রকাশিত প্রতিবেদনে জানিয়েছে, যুক্তরাষ্ট্রে চিকিৎসা ব্যয়ের উচ্চ হার এবং স্বাস্থ্যবিমার জটিল কাঠামোর কারণে অনেক রোগীকেই ডিডাক্টিবল ও অন্যান্য ব্যক্তিগত খরচ হিসেবে উল্লেখযোগ্য অর্থ পরিশোধ করতে হয়। ফলে একটি সাধারণ ডায়াগনস্টিক পরীক্ষাও অনেকের জন্য বড় আর্থিক বোঝা হয়ে দাঁড়ায়।   বিশেষজ্ঞদের মতে, যুক্তরাষ্ট্রে এমআরআইয়ের খরচ হাসপাতাল, অঙ্গভেদে পরীক্ষার ধরন, কনট্রাস্ট ব্যবহারের প্রয়োজন এবং বীমা সুবিধার ওপর নির্ভর করে কয়েকশ ডলার থেকে কয়েক হাজার ডলার পর্যন্ত হতে পারে। একই পরীক্ষার জন্য হাসপাতালভেদে মূল্যেও বড় পার্থক্য দেখা যায়। স্বাস্থ্যবিষয়ক ওয়েবসাইট হেলথলাইনও উল্লেখ করেছে, যুক্তরাষ্ট্রে এমআরআইয়ের মূল্য স্বচ্ছতার অভাব এবং হাসপাতালভেদে ভিন্ন মূল্য নির্ধারণ রোগীদের অতিরিক্ত ব্যয়ের অন্যতম কারণ।   অন্যদিকে, চীনের বড় শহরগুলোর সরকারি ও উন্নত হাসপাতালগুলোতে একই ধরনের এমআরআই তুলনামূলকভাবে অনেক কম খরচে করা যায়। বিভিন্ন আন্তর্জাতিক চিকিৎসা-পর্যটন বিশ্লেষণ অনুযায়ী, সেখানে একটি এমআরআইয়ের মূল্য সাধারণত ১০০ থেকে ২০০ মার্কিন ডলারের মধ্যে হতে পারে। বিমান ভাড়া, কয়েক রাতের হোটেল এবং অন্যান্য ভ্রমণ ব্যয় যোগ করলেও মোট খরচ অনেক ক্ষেত্রে যুক্তরাষ্ট্রের কিছু হাসপাতালের এমআরআই বিলের চেয়ে কম পড়তে পারে। তবে প্রকৃত ব্যয় শহর, হাসপাতাল, পরীক্ষার ধরন এবং ভ্রমণ মৌসুম অনুযায়ী পরিবর্তিত হয়।   বিশ্লেষকদের মতে, এই মূল্য বৈষম্য চিকিৎসা পর্যটনের প্রতি আগ্রহ বাড়াচ্ছে। আগে যেখানে বিদেশে চিকিৎসা নিতে যাওয়া মূলত প্রসাধনমূলক অস্ত্রোপচার বা দাঁতের চিকিৎসার মধ্যে সীমাবদ্ধ ছিল, এখন অনেক রোগী ব্যয়বহুল ডায়াগনস্টিক পরীক্ষা ও অস্ত্রোপচারের জন্যও বিদেশমুখী হচ্ছেন।   তবে চিকিৎসা বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করে বলছেন, বিদেশে চিকিৎসা নেওয়ার সিদ্ধান্তের ক্ষেত্রে শুধু খরচ নয়, চিকিৎসার ধারাবাহিকতা, পরবর্তী ফলো-আপ, ভাষাগত যোগাযোগ, চিকিৎসা নথির গ্রহণযোগ্যতা এবং জরুরি পরিস্থিতি সামাল দেওয়ার সক্ষমতার বিষয়গুলোও বিবেচনায় নেওয়া জরুরি।   পর্যবেক্ষকদের মতে, এই বিতর্ক মূলত যুক্তরাষ্ট্রের স্বাস্থ্যসেবা ব্যবস্থায় মূল্য নির্ধারণের স্বচ্ছতা, স্বাস্থ্যবিমার কাঠামো এবং রোগীদের ব্যক্তিগত ব্যয়ের চাপ নিয়ে দীর্ঘদিনের আলোচনাকে আবারও সামনে নিয়ে এসেছে।

তাবাস্সুম জুলাই ৩১, ২০২৬ ১৪:০
উইঘুরদের জোরপূর্বক শ্রমের অভিযোগ, চীনের আরও ৪৩ কোম্পানির পণ্য নিষিদ্ধ করল যুক্তরাষ্ট্র
উইঘুরদের জোরপূর্বক শ্রমের অভিযোগ, চীনের আরও ৪৩ কোম্পানির পণ্য নিষিদ্ধ করল যুক্তরাষ্ট্র

যুক্তরাষ্ট্র চীনের আরও ৪৩টি কোম্পানির পণ্য আমদানি নিষিদ্ধ করেছে। দেশটির অভিযোগ, এসব প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে চীনের জিনজিয়াং অঞ্চলে উইঘুর মুসলিমসহ সংখ্যালঘু জনগোষ্ঠীর জোরপূর্বক শ্রম ব্যবহারের সম্পর্ক রয়েছে।    মার্কিন সরকারের উইঘুর ফোর্সড লেবার প্রিভেনশন অ্যাক্ট আওতায় এসব প্রতিষ্ঠানকে নিষেধাজ্ঞার তালিকায় যুক্ত করা হয়েছে। নতুন তালিকা যুক্ত হওয়ার পর নিষেধাজ্ঞার আওতায় থাকা প্রতিষ্ঠানের সংখ্যা ১৪৪ থেকে বেড়ে ১৮৭ হয়েছে। তালিকাভুক্ত কোম্পানিগুলো ওষুধ, ধাতু, তুলা ও ইলেকট্রনিকসহ বিভিন্ন খাতে কাজ করে।    মার্কিন কর্তৃপক্ষের দাবি, জিনজিয়াং অঞ্চলে উইঘুর ও অন্যান্য সংখ্যালঘু জনগোষ্ঠীর ওপর জোরপূর্বক শ্রম ব্যবহারের অভিযোগ রয়েছে। এসব পণ্য যাতে যুক্তরাষ্ট্রের বাজারে প্রবেশ করতে না পারে, সে লক্ষ্যেই আমদানি নিয়ন্ত্রণ আরও কঠোর করা হচ্ছে।    ২০২১ সালে কার্যকর হওয়া উইঘুর ফোর্সড লেবার প্রিভেনশন অ্যাক্ট অনুযায়ী, জিনজিয়াং অঞ্চলে জোরপূর্বক শ্রমের মাধ্যমে তৈরি পণ্য যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশ করেছে বলে সন্দেহ হলে তা আটকে দেওয়ার ক্ষমতা পায় মার্কিন কর্তৃপক্ষ।    এর আগে যুক্তরাষ্ট্র একাধিক দফায় চীনা কোম্পানিকে এই তালিকায় যুক্ত করেছে। এসব প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে অভিযোগ ছিল, তারা জিনজিয়াং থেকে কাঁচামাল সংগ্রহ করে অথবা সেখানকার শ্রম ব্যবস্থার সঙ্গে যুক্ত রয়েছে।    তবে চীন বরাবরই এসব অভিযোগ অস্বীকার করে আসছে। বেইজিংয়ের দাবি, জিনজিয়াং নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের পদক্ষেপ রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত এবং চীনের অভ্যন্তরীণ বিষয়ে হস্তক্ষেপের অংশ।   মানবাধিকার ইস্যুকে কেন্দ্র করে যুক্তরাষ্ট্র ও চীনের মধ্যে দীর্ঘদিন ধরে চলা কূটনৈতিক ও বাণিজ্যিক উত্তেজনার মধ্যেই নতুন এই নিষেধাজ্ঞা এলো।

ইসতিয়াক আহমেদ জুলাই ৩০, ২০২৬ ১৪:০
একসময় সমুদ্র শাসন করত আমেরিকা, এখন চীনের ৪০০০ জাহাজের বিপরীতে যুক্তরাষ্ট্র বানাচ্ছে মাত্র ১৫টি
একসময় সমুদ্র শাসন করত আমেরিকা, এখন চীনের ৪০০০ জাহাজের বিপরীতে যুক্তরাষ্ট্র বানাচ্ছে মাত্র ১৫টি

বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্র মাত্র ১৫টি কার্গো বা মালবাহী জাহাজ নির্মাণ করছে, যেখানে চীনের নির্মাণাধীন জাহাজের সংখ্যা চার হাজারেরও বেশি এবং দক্ষিণ কোরিয়া তৈরি করছে প্রায় ৭৫০টি। আশ্চর্যের বিষয় হলো, আমেরিকার এই ১৫টি জাহাজের মধ্যে ১২টিরই মূল নির্মাণকাজ হচ্ছে দক্ষিণ কোরিয়ায়। তারপরও এটি আগের বছরগুলোর তুলনায় ভালো অবস্থা, কারণ তখন মার্কিন শিপবিল্ডারদের হাতে মাত্র তিন-চারটি জাহাজের অর্ডার থাকত।   সমালোচকদের মতে, যুক্তরাষ্ট্রের জাহাজ নির্মাণ শিল্পের এই চরম দুর্দশা ও পতনের মূল কারণ হলো প্রেসিডেন্ট উড্রো উইলসনের স্বাক্ষরিত শতবর্ষী পুরোনো একটি আইন, যা 'জোনস অ্যাক্ট' নামে পরিচিত। এই আইনের মূল উদ্দেশ্য ছিল বিদেশি জাহাজের ওপর নিষেধাজ্ঞা দিয়ে একচেটিয়াভাবে দেশীয় জাহাজ শিল্পকে সুরক্ষা দেওয়া। কিন্তু বাস্তবে সুরক্ষাবাদের নামে গত এক শতাব্দী ধরে কোনো প্রতিযোগিতা না থাকায় মার্কিন জাহাজ নির্মাণ শিল্প তার সক্ষমতা হারিয়ে এখন খাদের কিনারায় এসে দাঁড়িয়েছে।   বালসা রিসার্চের প্রধান গবেষক জেনিফার চেন জোনস অ্যাক্টের ক্ষতিকর প্রভাব নিয়ে কাজ করেছেন। তিনি জানান, শতবর্ষ ধরে চলা এই আইনের কারণে প্রতি দশকেই আমেরিকার অভ্যন্তরীণ জাহাজ নির্মাণের হার আশঙ্কাজনকভাবে কমেছে। বর্তমানে বাণিজ্যিক পণ্য পরিবহনে সক্ষম এমন জোনস অ্যাক্ট-সমর্থিত মার্কিন জাহাজের সংখ্যা মাত্র ৯২টি।   এর ফলে পুয়ের্তো রিকো, হাওয়াই বা গুয়ামের মতো বন্দরগুলোতে পণ্য পরিবহনের খরচ আন্তর্জাতিক বাজারদর থেকে বহুগুণ বেড়ে গেছে। পরিসংখ্যান অনুযায়ী, একটি জোনস অ্যাক্ট-সমর্থিত দেশীয় ট্যাংকার জাহাজ পরিচালনায় প্রতিদিন খরচ হয় ৮৬ থেকে ৯১ হাজার ডলার, যেখানে একটি আন্তর্জাতিক মাঝারি মানের ট্যাংকারের ক্ষেত্রে এই খরচ মাত্র ৯ হাজার ডলার। সাংহাই থেকে লস অ্যাঞ্জেলেস পর্যন্ত পণ্য নেওয়ার চেয়ে ক্যালিফোর্নিয়ার লং বিচ থেকে হাওয়াইয়ের অনুলুলুতে পণ্য পাঠাতে প্রায় ছয় গুণ বেশি খরচ হয়। আকাশচুম্বী খরচের কারণে যুক্তরাষ্ট্রের অভ্যন্তরীণ পণ্য পরিবহনের মাত্র ৩.৯ শতাংশ নৌপথে সম্পন্ন হয়, যেখানে ইউরোপীয় ইউনিয়নে এই হার ২৮ শতাংশ।   বর্তমানে আমেরিকায় বড় আকারের বাণিজ্যিক জাহাজ নির্মাণের জন্য মাত্র চারটি শিপইয়ার্ড রয়েছে এবং সেগুলো বছরে মাত্র চার-পাঁচটি জাহাজ তৈরি করতে পারে। এই উৎপাদন সক্ষমতা ১৯৮০-এর দশক থেকে স্থবির হয়ে আছে। এই সংকটময় পরিস্থিতিতে ট্রাম্প প্রশাসন জাহাজ নির্মাণ শিল্পকে ঢেলে সাজানোর উচ্চাভিলাষী উদ্যোগ নিয়েছে।   প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প ২৫টি নতুন 'ট্রাম্প-ক্ল্যাস ব্যাটলশিপ' নিয়ে একটি 'গোল্ডেন ফ্লিট' বা সোনালী নৌবহর গঠনের পাশাপাশি নৌবাহিনীর অন্যান্য জাহাজ নির্মাণ বাড়ানোরও ঘোষণা দিয়েছেন। বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করে বলেছেন, দীর্ঘস্থায়ী কোনো সামরিক সংঘাতে জড়ালে মিত্রদের থেকে জাহাজ পাওয়া অসম্ভব হয়ে পড়তে পারে, তাই জাতীয় নিরাপত্তার স্বার্থেই আমেরিকাকে নিজস্ব সক্ষমতা বাড়াতে হবে এবং জোনস অ্যাক্ট থেকে বেরিয়ে আসতে হবে। সম্প্রতি প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প ইরানের সাথে সংঘাতের প্রাথমিক দিনগুলোতে জ্বালানির দাম নিয়ন্ত্রণের লক্ষ্যে ৬০ দিনের জন্য জোনস অ্যাক্ট স্থগিত করেছিলেন, যা এই বিতর্কিত আইনের কার্যকারিতা নিয়ে খোদ প্রশাসনের সংশয়েরই সুস্পষ্ট ইঙ্গিত দেয়।

ইসতিয়াক আহমেদ জুলাই ৩০, ২০২৬ ১৪:০
হোয়াইট হাউসে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাব দিচ্ছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। ছবি: সংগৃহীত
চীন ইরানের কাছে অস্ত্র বিক্রি করলে 'আমি খুব হতাশ হব': ট্রাম্প

ইরানের কাছে চীন যদি অস্ত্র বিক্রি করে, তবে তা তাকে “খুবই হতাশ” করবে বলে মন্তব্য করেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। সম্প্রতি রয়টার্সের এক প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে, আগামী কয়েক সপ্তাহের মধ্যে চীন ইরানকে কাঁধে বহনযোগ্য ৩০০ থেকে ৪০০টি আকাশ প্রতিরক্ষা ক্ষেপণাস্ত্র উৎক্ষেপক সরবরাহ করতে পারে। এই প্রতিবেদন প্রকাশের পরই বিষয়টি নিয়ে নিজের প্রতিক্রিয়া জানান তিনি।   সিএনএন ও রয়টার্সের তথ্য অনুযায়ী, সম্ভাব্য এই অস্ত্র চুক্তির আর্থিক মূল্য প্রায় ৬০ থেকে ৭০ মিলিয়ন ডলার। বৃহস্পতিবার হোয়াইট হাউসের ওভাল অফিসে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে ট্রাম্প বলেন, “যদি এই খবর সত্য হয়, তাহলে আমি খুবই অবাক হব। কারণ প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং আমাকে স্পষ্টভাবে আশ্বাস দিয়েছিলেন যে চীন এ ধরনের কোনো কর্মকাণ্ডে জড়াবে না।” তিনি আরও বলেন, শি জিনপিং খুব ভালো করেই জানেন, এমন কিছু ঘটলে তিনি কতটা হতাশ হবেন।   এর আগে সিএনএনের এক প্রতিবেদনে মার্কিন গোয়েন্দা সংস্থার তথ্যের বরাত দিয়ে বলা হয়েছিল, ইরান তাদের সামরিক সক্ষমতা পুনর্গঠনের লক্ষ্যে বিদেশি অংশীদারদের সহায়তায় অস্ত্রভাণ্ডার শক্তিশালী করার চেষ্টা করছে। সেই প্রতিবেদনে আরও দাবি করা হয়, চীন তেহরানকে নতুন আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা সরবরাহের প্রস্তুতি নিচ্ছে।   তবে ওয়াশিংটনে চীনের দূতাবাস সে সময় এসব দাবি নাকচ করে দেয়। দূতাবাসের এক মুখপাত্র অভিযোগগুলোকে “সম্পূর্ণ অসত্য” বলে উল্লেখ করেন এবং চীনের বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগ প্রত্যাখ্যান করেন।   সর্বশেষ রয়টার্সের প্রতিবেদন এবং ট্রাম্পের প্রতিক্রিয়ার পর চীন ও ইরানের সম্ভাব্য প্রতিরক্ষা সহযোগিতা নিয়ে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে। তবে এ বিষয়ে এখন পর্যন্ত বেইজিং বা তেহরানের পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো অস্ত্র চুক্তির ঘোষণা দেওয়া হয়নি।   বিশ্লেষকদের মতে, মধ্যপ্রাচ্যে সামরিক ভারসাম্য এবং যুক্তরাষ্ট্র-চীন সম্পর্কের প্রেক্ষাপটে বিষয়টি গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠতে পারে। তবে রয়টার্সের প্রতিবেদনে যে তথ্য প্রকাশ করা হয়েছে, তা সংশ্লিষ্ট দেশগুলোর পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে নিশ্চিত করা হয়নি।

মোহাম্মদ ইব্রাহিম জুলাই ২৯, ২০২৬ ১৪:০
শিশুর মৃত্যুর পর গবেষণা প্রক্রিয়া নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন বিশেষজ্ঞরা। ছবি: সংগৃহীত
পরীক্ষামূলক জিন থেরাপিতে ৬ বছরের শিশুর মৃত্যু, ৮ লাখ ৬০ হাজার ডলার ব্যয় করা পরিবার তুলল গুরুতর অভিযোগ

চীনে বিরল জিনগত সমস্যায় আক্রান্ত ছয় বছর বয়সী এক শিশুর চিকিৎসায় পরিবার প্রায় ৮ লাখ ৬০ হাজার মার্কিন ডলার ব্যয় করেছিল। নতুন ধরনের জিন সম্পাদনা প্রযুক্তির মাধ্যমে চিকিৎসা দেওয়ার পর তার অবস্থার উন্নতি হবে এমন আশাই দেখানো হয়েছিল। কিন্তু চিকিৎসার কয়েক দিনের মধ্যেই শিশুটির মৃত্যু হয়। পরে প্রকাশিত এক অনুসন্ধানী প্রতিবেদনে অভিযোগ করা হয়েছে, পর্যাপ্ত নিরাপত্তা প্রমাণ ছাড়াই চিকিৎসাটি মানুষের ওপর প্রয়োগ করা হয়েছিল এবং সম্ভাব্য ঝুঁকি সম্পর্কে পরিবারকে পূর্ণাঙ্গভাবে জানানো হয়নি।   বিজ্ঞানবিষয়ক সাময়িকী সায়েন্স-এর অনুসন্ধানী প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, শিশুটির পরিবারের অনুরোধে তার প্রকৃত নাম প্রকাশ করা হয়নি। প্রতিবেদনে তাকে ‘মেই’ নামে উল্লেখ করা হয়েছে। মেই বিরল সিএইচডি৩ (CHD3) জিনের পরিবর্তনের কারণে স্নাইডার্স ব্লক-ক্যাম্পো সিনড্রোমে আক্রান্ত ছিল। এ ধরনের রোগে আক্রান্ত শিশুদের সাধারণত বুদ্ধিবিকাশ, ভাষা ও শেখার ক্ষেত্রে সমস্যা দেখা দিলেও এটি সাধারণত প্রাণঘাতী নয় এবং সময়ের সঙ্গে দ্রুত অবনতি ঘটে না।   মেইয়ের শিক্ষকরা তার লেখালেখি ও ভাষাগত দক্ষতার দুর্বলতার কথা অভিভাবকদের জানিয়েছিলেন। এরপর পরিবারটি বিভিন্ন বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নেয়। সেসময় গবেষক জিলং কিউ তাদের ‘বেস এডিটিং’ নামে অত্যাধুনিক জিন সম্পাদনা প্রযুক্তির মাধ্যমে চিকিৎসার প্রস্তাব দেন। এটি এমন একটি প্রযুক্তি, যা এখনো বিশ্বজুড়ে পরীক্ষামূলক পর্যায়েই রয়েছে এবং মানুষের ওপর এর ব্যবহার খুবই সীমিত।   সায়েন্স-এর প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, কিউ নিজেও স্বীকার করেছিলেন যে খুব কম গবেষকই এই প্রযুক্তিতে দক্ষ। তবে তিনি অভিভাবকদের আশ্বস্ত করেছিলেন যে তিনি এ ক্ষেত্রে বিশ্বের শীর্ষ গবেষকদের একজন। জিন থেরাপিতে সাধারণত বিশেষ ধরনের ভাইরাস ব্যবহার করে কোষে জিন পৌঁছে দেওয়া হয়। কিন্তু মেইয়ের ক্ষেত্রে লক্ষ্য ছিল মস্তিষ্ক, যেখানে পৌঁছাতে রক্ত-মস্তিষ্ক প্রতিবন্ধক (ব্লাড-ব্রেন ব্যারিয়ার) বড় বাধা হিসেবে কাজ করে। সে কারণে চিকিৎসায় বিপুল পরিমাণ ভাইরাস শরীরে প্রবেশ করাতে হয়েছিল।   প্রতিবেদন অনুযায়ী, মানুষের ওপর এই চিকিৎসা প্রয়োগের আগে গবেষককে ইঁদুর ও বানরের ওপর সফল পরীক্ষা দেখাতে হতো। কিউ পরিবারকে জানান, ইঁদুরের পরীক্ষায় ইতিবাচক ফল পাওয়া গেছে। পরে তিনি বানরের মস্তিষ্কের কিছু ছবি দেখিয়ে দাবি করেন, চিকিৎসাটি নিরাপদ এবং কার্যকর।   তবে সায়েন্স যখন স্বাধীন বিশেষজ্ঞদের দিয়ে সেই তথ্য ও ছবি পর্যালোচনা করায়, তারা ছবিগুলোকে পর্যাপ্ত প্রমাণ হিসেবে গ্রহণযোগ্য মনে করেননি। পারডু বিশ্ববিদ্যালয়ের জীবরসায়নবিদ ডেভিড স্যান্ডার্স বলেন, উপস্থাপিত তথ্য এতটাই দুর্বল ছিল যে এর ভিত্তিতে মানুষের ওপর পরীক্ষা চালানোর মতো আত্মবিশ্বাস তৈরি হওয়ার কথা নয়।   আরও উদ্বেগজনক বিষয় হলো, মেইয়ের চিকিৎসার এক মাস আগে একই থেরাপি দেওয়া চারটি বানরের সবারই মাঝারি থেকে গুরুতর লিভারের ক্ষতি হয়। তাদের মধ্যে একটির কিডনিও ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছিল। বিশেষজ্ঞদের মতে, এটি জিন থেরাপির পরিচিত ও প্রাণঘাতী জটিলতা ‘থ্রমবোটিক মাইক্রোঅ্যাঞ্জিওপ্যাথি’-র লক্ষণ হতে পারে।   প্রতিবেদনে আরও বলা হয়েছে, চিকিৎসা চালিয়ে নিতে গবেষক দলের পক্ষ থেকে পরিবারকে বিভিন্ন ফাউন্ডেশন, গবেষণা প্রতিষ্ঠান এমনকি গবেষণা দলের কয়েকজন সদস্যের ব্যক্তিগত হিসাবেও অর্থ পাঠাতে বলা হয়। এর মধ্যে একটি গবেষণাগারের দায়িত্বে থাকা এক গবেষককে সরাসরি এক লাখ ৩০ হাজার ডলার দেওয়ার কথাও উল্লেখ রয়েছে। এসব লেনদেন নিয়ে পরিবারের মধ্যেও ধীরে ধীরে উদ্বেগ তৈরি হয়।   ২০২৫ সালের ফেব্রুয়ারিতে চিকিৎসকরা পরিবারকে জানান, মেইয়ের সবচেয়ে বড় ঝুঁকি হতে পারে ভাইরাসবাহী উপাদানের বিরুদ্ধে শরীরে আগে থেকে অ্যান্টিবডি থাকা। তা ছাড়া চিকিৎসাটি ‘তুলনামূলকভাবে নিরাপদ’ বলেও তাদের আশ্বস্ত করা হয়। পরের মাসে মেইয়ের মেরুদণ্ডের তরলে বিপুল পরিমাণ ভাইরাস প্রবেশ করিয়ে চিকিৎসা শুরু হয়, যাতে তা মস্তিষ্কে পৌঁছাতে পারে। চিকিৎসার কয়েক দিনের মধ্যেই মেইয়ের জ্বর দেখা দেয়। এরপর তার প্রস্রাব বন্ধ হয়ে যায়, যা কিডনি ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার ইঙ্গিত ছিল। দ্রুত তাকে নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্রে (আইসিইউ) নেওয়া হলেও পরদিন তার মৃত্যু হয়।   হাসপাতালের জরুরি নৈতিকতা কমিটির তদন্তে সিদ্ধান্ত হয়, চিকিৎসাজনিত জটিলতার কারণেই মেইয়ের মৃত্যু হয়েছে। মৃত্যুর কারণ হিসেবে থ্রমবোটিক মাইক্রোঅ্যাঞ্জিওপ্যাথির কথা উল্লেখ করা হয়, যা বানরের পরীক্ষাতেও দেখা গিয়েছিল।   এ ঘটনার পর হাসপাতালকে প্রায় ৩ হাজার ৬০০ ডলার জরিমানা করা হয়। আর যে চিকিৎসক পরিবারকে চিকিৎসাটি তুলনামূলক নিরাপদ বলেছিলেন, তাকে মৌখিক সতর্কবার্তা দেওয়া হয়। এদিকে মেইয়ের পরিবার গবেষক জিলং কিউকে তার গবেষণাপত্র প্রত্যাহারের অনুরোধ জানায়। শুরুতে তিনি রাজি হলেও পরে পরিবারের সঙ্গে আর যোগাযোগ রাখেননি। পরবর্তীতে আন্তর্জাতিক সাময়িকী নেচার কিউর গবেষণাপত্র প্রকাশ করে। তবে সেখানে মেইয়ের মৃত্যুর কোনো উল্লেখ ছিল না। পরিবার বিষয়টি নেচার কর্তৃপক্ষকে জানালেও সাময়িকীটি জানায়, অভিযোগগুলো তথ্যের নির্ভুলতার আওতার বাইরে পড়ে এবং এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট বিশ্ববিদ্যালয়ের পদক্ষেপ নেওয়া উচিত।   সায়েন্স-এর প্রতিবেদন প্রকাশের কয়েক দিনের মধ্যেই সাংহাই জিয়াও টং ইউনিভার্সিটি স্কুল অব মেডিসিন জানিয়েছে, তারা ঘটনার পূর্ণাঙ্গ তদন্ত শুরু করবে। তদন্তে অভিযোগের সত্যতা মিললে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার প্রতিশ্রুতিও দিয়েছে প্রতিষ্ঠানটি।   এদিকে এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে গবেষণায় নৈতিকতা, রোগীর সম্মতি, পরীক্ষামূলক চিকিৎসার নিরাপত্তা এবং গবেষণার তদারকি নিয়ে আন্তর্জাতিক বৈজ্ঞানিক মহলে নতুন করে বিতর্ক শুরু হয়েছে। কয়েকজন বিশেষজ্ঞ ইতোমধ্যে নেচারে প্রকাশিত গবেষণাপত্রের তথ্য ও ছবিগুলোর স্বাধীনভাবে পুনর্মূল্যায়নেরও দাবি জানিয়েছেন।

মোহাম্মদ ইব্রাহিম জুলাই ২৯, ২০২৬ ১৪:০
সিস্যাটসের স্বয়ংক্রিয় সমুদ্র ড্রোনের ধারণ করা চীনা যুদ্ধজাহাজের দৃশ্য। ছবি: সংগৃহীত
ফিলিপাইনের বিশেষ অর্থনৈতিক অঞ্চলের কাছে চীনা যুদ্ধজাহাজের ভিডিও প্রকাশ, আলোচনায় মার্কিন ড্রোন

ফিলিপাইনের বিশেষ অর্থনৈতিক অঞ্চলের কাছাকাছি সমুদ্রে অবস্থানরত একটি চীনা যুদ্ধজাহাজের ভিডিও প্রকাশ করেছে যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়াভিত্তিক সামুদ্রিক প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠান সিস্যাটস (Seasats)। প্রতিষ্ঠানটির দাবি, তাদের স্বয়ংক্রিয় সমুদ্র ড্রোনের ধারণ করা এই ভিডিও বেসরকারি কোনো মার্কিন প্রতিষ্ঠানের প্রকাশিত এ ধরনের প্রথম ফুটেজ।   প্রতিষ্ঠানটির প্রকাশিত ৪২ সেকেন্ডের ভিডিওতে একটি চীনা নৌবাহিনীর টাইপ-০৫২ডি ক্ষেপণাস্ত্রবাহী ডেস্ট্রয়ারকে ফিলিপাইনের লুজন দ্বীপ থেকে প্রায় ৬৫ মাইল দূরে বাশি চ্যানেলে ভাসতে দেখা যায়। রয়টার্স জাহাজটির ডেকের নকশা, সুপারস্ট্রাকচার, ক্রেন ও মাস্টের গঠন বিশ্লেষণ করে এটিকে চীনের পিপলস লিবারেশন আর্মি (পিএলএ) নৌবাহিনীর টাইপ-০৫২ডি যুদ্ধজাহাজ হিসেবে শনাক্ত করেছে।   সিস্যাটস জানিয়েছে, তাদের 'লাইটফিশ' নামের মানববিহীন সমুদ্রযান (ইউএসভি) তাইওয়ান প্রণালিতে স্বয়ংক্রিয়ভাবে দীর্ঘ সময় পরিচালনার সক্ষমতা যাচাইয়ের একটি বাণিজ্যিক অভিযানে ছিল। ওই অভিযানের সময়ই এটি চীনা যুদ্ধজাহাজটির ভিডিও ধারণ করে। প্রতিষ্ঠানটির প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মাইক ফ্লানিগান বলেন, তাদের ড্রোন চীনা যুদ্ধজাহাজের খুব কাছাকাছি গিয়ে ছবি ও বিভিন্ন তথ্য সংগ্রহ করতে সক্ষম হয়েছে। তার ভাষায়, এমন তথ্য সংগ্রহ স্বয়ংক্রিয় সামুদ্রিক প্রযুক্তির কার্যকারিতার একটি গুরুত্বপূর্ণ উদাহরণ।   মাত্র ১২ ফুট লম্বা 'লাইটফিশ' ড্রোনটি দীর্ঘ সময় সমুদ্রে অবস্থান করতে পারে। এটি পানির নিচে ধ্বনিভিত্তিক সংকেত গ্রহণ করে সেগুলোকে রেডিও সংকেতে রূপান্তর করে স্যাটেলাইটের মাধ্যমে স্থলভাগের নিয়ন্ত্রণকেন্দ্রে পাঠায়। এছাড়া এটি যুদ্ধজাহাজের অবস্থান শনাক্ত, আবহাওয়া পর্যবেক্ষণ, সাবমেরিনের সঙ্গে যোগাযোগ, চোরাচালান ও অবৈধ মাছ ধরার কার্যক্রম নজরদারির মতো কাজও করতে পারে।   রয়টার্সের প্রশ্নের জবাবে চীন ওই নির্দিষ্ট যুদ্ধজাহাজের উপস্থিতি নিয়ে কোনো মন্তব্য করেনি। তবে ফিলিপাইন সরকার জানিয়েছে, তারা সংশ্লিষ্ট সব পক্ষকে উত্তেজনা বাড়াতে পারে এমন কর্মকাণ্ড থেকে বিরত থাকার আহ্বান জানাচ্ছে, বিশেষ করে কেউ যদি ফিলিপাইনের বিশেষ অর্থনৈতিক অঞ্চলে অনধিকার প্রবেশ করে।   সিস্যাটসের দাবি, এর আগেও তাদের ড্রোন একাধিকবার চীনা যুদ্ধজাহাজের মুখোমুখি হয়েছে। চলতি বছরের মে মাসে প্রতিষ্ঠানটি জানায়, 'লাইটফিশ' তাইওয়ান প্রণালি স্বয়ংক্রিয়ভাবে অতিক্রম করার সময় একাধিক চীনা যুদ্ধজাহাজ শনাক্ত করে। তখন জাহাজগুলো স্বয়ংক্রিয় পরিচয় শনাক্তকরণ ব্যবস্থা (AIS) বন্ধ রেখেছিল। এরপরও ড্রোনটি সেগুলো অনুসরণ করে ছবি সংগ্রহ করতে সক্ষম হয়।   প্রতিষ্ঠানটির কর্মকর্তাদের মতে, বর্তমানে উপগ্রহ নজরদারি অত্যন্ত উন্নত হলেও সমুদ্রে অনেক সময় জাহাজ নিজেদের অবস্থান গোপন রাখতে সক্ষম হয়। এ কারণে দীর্ঘপাল্লার স্বয়ংক্রিয় সমুদ্রযান উপকূলীয় রাডারের সীমার বাইরে থেকেও গুরুত্বপূর্ণ নজরদারি চালাতে পারে।   সান ডিয়েগোভিত্তিক সিস্যাটস ইতোমধ্যে বিনিয়োগকারীদের কাছ থেকে প্রায় ৪ কোটি ডলার এবং বিভিন্ন সরকারি প্রতিরক্ষা চুক্তির মাধ্যমে ১০ কোটি ডলারের বেশি অর্থ সংগ্রহ করেছে। প্রতিষ্ঠানটি যুক্তরাষ্ট্রের নৌবাহিনীসহ বিভিন্ন সংস্থার জন্য স্বয়ংক্রিয় সমুদ্রযান তৈরি করছে।

মোহাম্মদ ইব্রাহিম জুলাই ২৯, ২০২৬ ১৪:০
নিষেধাজ্ঞার মধ্যেও ইরানের পাশে চীন
নিষেধাজ্ঞার মধ্যেও ইরানের পাশে চীন, কাঁধে বহনযোগ্য চিনের অত্যাধুনিক ক্ষেপণাস্ত্র পেতে যাচ্ছে ইরান

ইরানকে চীন থেকে কাঁধে বহনযোগ্য ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবস্থা সরবরাহ করা হচ্ছে বলে জানিয়েছে সংশ্লিষ্ট কয়েকটি সূত্র। সাম্প্রতিক সংঘাতের পর দুই দেশের মধ্যে সামরিক সহযোগিতা আরও ঘনিষ্ঠ হওয়ার ইঙ্গিত হিসেবে দেখা হচ্ছে এই পদক্ষেপকে।   সূত্রগুলোর বরাতে জানা গেছে, ইরান চীনের তৈরি স্বল্পপাল্লার আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা পাওয়ার চেষ্টা করছে, যা যুদ্ধক্ষেত্রে শত্রুপক্ষের বিমান ও ড্রোন মোকাবিলায় ব্যবহার করা যেতে পারে। তবে এই সরবরাহের পরিমাণ, সময়সূচি এবং আনুষ্ঠানিক চুক্তির বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য প্রকাশ করা হয়নি।   বিশ্লেষকদের মতে, কাঁধে বহনযোগ্য ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবস্থা সাধারণত সেনাদের দ্রুত মোতায়েনযোগ্য প্রতিরক্ষা সক্ষমতা বাড়ায়। বিশেষ করে ড্রোন, হেলিকপ্টার ও নিচু উচ্চতায় উড়তে সক্ষম বিমান প্রতিহত করতে এসব অস্ত্র ব্যবহৃত হয়।   ইরান দীর্ঘদিন ধরে পশ্চিমা নিষেধাজ্ঞার কারণে আধুনিক সামরিক প্রযুক্তি সংগ্রহে নানা বাধার মুখে রয়েছে। এ পরিস্থিতিতে দেশটি চীন ও রাশিয়ার সঙ্গে প্রতিরক্ষা সম্পর্ক জোরদার করেছে।   সাম্প্রতিক সময়ে মধ্যপ্রাচ্যে উত্তেজনা বেড়ে যাওয়ার পর ইরানের সামরিক সক্ষমতা বৃদ্ধি নিয়ে আন্তর্জাতিক মহলে উদ্বেগ দেখা দিয়েছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, নতুন অস্ত্র সরবরাহ হলে আঞ্চলিক শক্তির ভারসাম্যে এর প্রভাব পড়তে পারে।   তবে চীন বা ইরান সরকারের পক্ষ থেকে এ বিষয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো মন্তব্য করা হয়নি। সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো জানিয়েছে, বিষয়টি এখনো গোপনীয় পর্যায়ে রয়েছে এবং সরবরাহ প্রক্রিয়া নিয়ে আলোচনা চলছে।

নীলুফা নিশাত জুলাই ২৮, ২০২৬ ১৪:০
চীন ও পাকিস্তানের নৌ সক্ষমতা মোকাবিলায় আগামী ১০ বছরে ২০০ যুদ্ধজাহাজের লক্ষ্য নির্ধারণ করেছে ভারত। ছবি: সংগৃহীত
চীন-পাকিস্তানকে মোকাবিলায় ২০০ যুদ্ধজাহাজের লক্ষ্য ভারতের

ভারত আগামী ১০ বছরের মধ্যে নিজেদের নৌবাহিনীর জাহাজের সংখ্যা ২০০ ছাড়িয়ে নেওয়ার লক্ষ্য নির্ধারণ করেছে। চীন ও পাকিস্তানের নৌ সক্ষমতা মোকাবিলায় এই পরিকল্পনা নেওয়া হচ্ছে বলে জানা গেছে।   সাউথ চায়না মর্নিং পোস্টের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, চীন বর্তমানে বিশ্বের সবচেয়ে বড় নৌবহর সম্প্রসারণের উদ্যোগ নিয়েছে। অন্যদিকে পাকিস্তানও চীনের তৈরি আধুনিক আক্রমণাত্মক ডুবোজাহাজ নিজেদের নৌবহরে যুক্ত করেছে। এ পরিস্থিতিতে ভারত মহাসাগরে নিজেদের অবস্থান শক্তিশালী করতে নৌবাহিনীর সক্ষমতা বাড়াচ্ছে নয়াদিল্লি।   এই পরিকল্পনার অংশ হিসেবে ভারত সম্প্রতি নিজেদের তৈরি দুটি যুদ্ধজাহাজ নৌবাহিনীতে যুক্ত করেছে। এর মধ্যে রয়েছে স্টেলথ প্রযুক্তির ফ্রিগেট আইএনএস মহেন্দ্রগিরি এবং ডুবোজাহাজ শনাক্ত ও প্রতিরোধে সক্ষম যুদ্ধজাহাজ আইএনএস মালভান। দেশীয় প্রযুক্তিতে তৈরি এসব জাহাজকে ভারতের সামরিক সরঞ্জাম উৎপাদনে স্বনির্ভরতার উদাহরণ হিসেবে দেখা হচ্ছে।   বর্তমানে ভারতীয় নৌবাহিনীতে প্রায় ১৫০টি জাহাজ রয়েছে। এর মধ্যে প্রায় ১৩৫টি ফ্রিগেট, ডেস্ট্রয়ার ও ডুবোজাহাজের মতো গুরুত্বপূর্ণ যুদ্ধজাহাজ। এছাড়া আরও প্রায় ৫০টি জাহাজ নির্মাণাধীন রয়েছে।   ভারতীয় নৌবাহিনীর সাবেক রিয়ার অ্যাডমিরাল ও প্রতিরক্ষা বিশ্লেষক সঞ্জয় মিশ্র বলেন, দেশীয়ভাবে তৈরি জাহাজের ওপর নির্ভর করে ২০৩৫ সালের মধ্যে ২০০ জাহাজের লক্ষ্য অর্জন করা সম্ভব। প্রয়োজনীয় সহায়তা পেলে এই সংখ্যাও ছাড়িয়ে যাওয়া যেতে পারে।   তিনি বলেন, বর্তমান কৌশলগত পরিস্থিতিতে ভারতের অন্তত দুটি শক্তিশালী ও স্বয়ংসম্পূর্ণ নৌবহর প্রয়োজন। তবে এমন সক্ষমতা গড়ে তুলতে আরও বেশি যুদ্ধজাহাজ ও সহায়ক জাহাজ প্রয়োজন হবে।   নৌবহর সম্প্রসারণের গতি বাড়াতে ভারত প্রতি ছয় সপ্তাহ বা তার কাছাকাছি সময়ে একটি করে নতুন যুদ্ধজাহাজ যুক্ত করছে। গত দেড় মাসেই দেশটি নিজস্ব উপকরণ ও প্রযুক্তিতে তৈরি পাঁচটি জাহাজ নৌবাহিনীর বহরে যুক্ত করেছে।   ভারতের দীর্ঘমেয়াদি লক্ষ্য হলো ২০৪৭ সালের মধ্যে জাহাজ নির্মাণে সম্পূর্ণ স্বনির্ভরতা অর্জন করা। তবে এই লক্ষ্য পূরণের পথে বিশেষায়িত ইস্পাত ও অন্যান্য উপাদানের জন্য আমদানিনির্ভরতা, সরবরাহ ব্যবস্থার দুর্বলতা এবং পুরনো জাহাজ নির্মাণ অবকাঠামোর মতো চ্যালেঞ্জ রয়েছে।

তাবাস্সুম জুলাই ২৭, ২০২৬ ১৪:০
উপগ্রহ চিত্রে চীনের হোটান বিমানঘাঁটিতে জে-২০ স্টিলথ যুদ্ধবিমান দেখা গেছে বলে দাবি করা হয়েছে। ছবি: সংগৃহীত
ভারতীয় সীমান্তে চিনের ১১টি অত্যাধুনিক জে-২০ স্টিলথ ফাইটার, চিন্তায় নয়াদিল্লি

ভারত সীমান্তসংলগ্ন দুটি বিমানঘাঁটিতে চীন অন্তত ১১টি জে-২০ ‘মাইটি ড্রাগন’ স্টিলথ যুদ্ধবিমান মোতায়েন করেছে বলে দাবি করা হয়েছে সম্প্রতি প্রকাশিত বাণিজ্যিক উপগ্রহ চিত্র বিশ্লেষণে। ভারতের গণমাধ্যম এনডিটিভি ও স্যাটেলাইট ইমেজিং প্রতিষ্ঠান ভ্যান্টর (Vantor)-এর বিশ্লেষণের ভিত্তিতে প্রকাশিত এই তথ্য দক্ষিণ এশিয়ার নিরাপত্তা পরিস্থিতি নিয়ে নতুন আলোচনা সৃষ্টি করেছে।   প্রতিবেদন অনুযায়ী, গত জুনের শেষ ভাগ এবং জুলাইয়ের শুরুতে তোলা উপগ্রহ চিত্রে চীনের শিনজিয়াং অঞ্চলের হোটান বিমানঘাঁটিতে সাতটি এবং তিব্বতের দামশিয়ুং বিমানঘাঁটিতে আরও চারটি জে-২০ যুদ্ধবিমান দেখা গেছে। হোটান বিমানঘাঁটি লাদাখের লেহ থেকে প্রায় ৩৮৯ কিলোমিটার এবং ভারতীয় বিমানবাহিনীর দৌলত বেগ ওল্ডি ঘাঁটি থেকে প্রায় ২৪৫ কিলোমিটার দূরে অবস্থিত। অন্যদিকে, দামশিয়ুং বিমানঘাঁটি অরুণাচল প্রদেশের তাওয়াং থেকে প্রায় ৩৪৪ কিলোমিটার উত্তর-পশ্চিমে।   প্রতিবেদনটি বলছে, ভারতের মুখোমুখি কোনো চীনা বিমানঘাঁটিতে একসঙ্গে এত সংখ্যক জে-২০ যুদ্ধবিমান প্রকাশ্য বাণিজ্যিক উপগ্রহ চিত্রে ধরা পড়ার ঘটনা এটিই প্রথম। তবে চীনের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় এ বিষয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো মন্তব্য করেনি।   ভারতের মহাকাশ ও প্রতিরক্ষা প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠান নিউস্পেস-এর সহপ্রতিষ্ঠাতা এবং সাবেক যুদ্ধবিমানচালক সমীর যোশী এনডিটিভিকে বলেন, হোটান ও দামশিয়ুং ঘাঁটিতে জে-২০-এর উপস্থিতি দেখায় যে উচ্চ পার্বত্য অঞ্চল থেকে পঞ্চম প্রজন্মের যুদ্ধবিমান পরিচালনা এখন চীনের পিপলস লিবারেশন আর্মি এয়ার ফোর্স (PLAAF)-এর নিয়মিত সক্ষমতায় পরিণত হয়েছে। তার মতে, ভারতের জন্য এখন কাউন্টার-স্টিলথ সেন্সর, সমন্বিত আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা এবং দূরপাল্লার আঘাত হানার সক্ষমতা আরও জোরদার করা গুরুত্বপূর্ণ।   জে-২০ ‘মাইটি ড্রাগন’ চীনের প্রথম পঞ্চম প্রজন্মের স্টিলথ যুদ্ধবিমান। এর বিশেষ নকশা ও কম রাডার প্রতিফলনের সক্ষমতার কারণে এটি শত্রুপক্ষের রাডারে সহজে ধরা পড়ে না। প্রতিরক্ষা বিশ্লেষকদের মতে, এই স্টিলথ প্রযুক্তি আকাশযুদ্ধে উল্লেখযোগ্য কৌশলগত সুবিধা দিতে পারে। ভারতের বর্তমান বহরে থাকা রাফাল, সুখোই-৩০ এমকেআই, মিরাজ-২০০০ কিংবা মিগ-২৯ যুদ্ধবিমান উন্নত হলেও এগুলো স্টিলথ প্ল্যাটফর্ম নয়।   ভারত বর্তমানে নিজস্ব পঞ্চম প্রজন্মের অ্যাডভান্সড মিডিয়াম কমব্যাট এয়ারক্রাফট (AMCA) প্রকল্প নিয়ে কাজ করছে। তবে প্রতিরক্ষা বিশেষজ্ঞদের মতে, এই যুদ্ধবিমান পূর্ণাঙ্গভাবে ভারতীয় বিমানবাহিনীর বহরে যুক্ত হতে এখনও কয়েক বছর সময় লাগবে এবং সেটিও প্রকল্পের পরীক্ষামূলক ধাপ সফলভাবে সম্পন্ন হওয়ার ওপর নির্ভর করবে।   এদিকে চীনের জে-২০ উৎপাদনের গতিও দ্রুত বাড়ছে। দ্য ওয়ার জোন-এর উদ্ধৃতি দিয়ে এনডিটিভির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ২০১৯ সালে চীনের হাতে প্রায় ৫০টি জে-২০ থাকলেও বর্তমানে সেই সংখ্যা আনুমানিক ৩০০ থেকে ৫০০-এর মধ্যে পৌঁছেছে। বিভিন্ন বিশ্লেষণে দাবি করা হচ্ছে, বেইজিং বছরে ১২০টিরও বেশি জে-২০ তৈরি করছে এবং ২০৩০ সালের মধ্যে তাদের বহরে এক হাজারের কাছাকাছি স্টিলথ যুদ্ধবিমান থাকতে পারে। এসব পরিসংখ্যান স্বাধীনভাবে যাচাই করা সম্ভব নয় এবং বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের হিসাবেও পার্থক্য রয়েছে।   বর্তমানে ভারতীয় বিমানবাহিনীর কাছে ৩৬টি রাফাল যুদ্ধবিমান রয়েছে, যা আম্বালা ও হাসিমারা ঘাঁটিতে মোতায়েন আছে। এছাড়া ভারতীয় নৌবাহিনীর জন্য ২৬টি রাফাল কেনার চুক্তি হয়েছে এবং বিমানবাহিনীর জন্য আরও ১১৪টি যুদ্ধবিমান সংগ্রহের পরিকল্পনা নিয়ে আলোচনা চলছে। একই সঙ্গে সুখোই-৩০ এমকেআই, মিরাজ-২০০০ এবং মিগ-২৯ বহরের আধুনিকায়ন কর্মসূচিও চলমান।   প্রতিরক্ষা বিশ্লেষকদের মতে, সীমান্তবর্তী অঞ্চলে চীনের উন্নত যুদ্ধবিমান মোতায়েন দুই দেশের মধ্যে বিদ্যমান সামরিক প্রতিযোগিতাকে আরও গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনার ইঙ্গিত দিচ্ছে। তবে উপগ্রহ চিত্রে যুদ্ধবিমান দেখা গেলেও তাৎক্ষণিক সামরিক অভিযান বা সংঘাতের প্রস্তুতির প্রমাণ হিসেবে একে নিশ্চিতভাবে দেখার সুযোগ নেই। সীমান্ত পরিস্থিতি ও সামরিক মোতায়েন নিয়ে দুই দেশই নিয়মিত নজরদারি ও সক্ষমতা বৃদ্ধি অব্যাহত রেখেছে।

মোহাম্মদ ইব্রাহিম জুলাই ২৭, ২০২৬ ১৪:০
বিশ্ববিদ্যালয়ের টিউশন ফি জোগাতে নির্মাণস্থলে ইট বহন করছে ইউয়ানইউয়ান। ছবি: সংগৃহীত
বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তির খরচ জোটাতে মায়ের সাথে কড়া রোদে ইট টানছেন চিনা তরুণ

চীনের অধিকাংশ শিক্ষার্থী যেখানে বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি পরীক্ষার পর ভ্রমণ কিংবা অবকাশযাপনে সময় কাটান, সেখানে এক কিশোরী সম্পূর্ণ ভিন্ন পথ বেছে নিয়েছে। বিশ্ববিদ্যালয়ের টিউশন ফি জোগাড় করতে সে যোগ দিয়েছে নির্মাণকাজে শ্রমিক হিসেবে কর্মরত মায়ের সঙ্গে। পিঠে ইট বহন করে উপার্জনের সেই গল্প সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর অনেকের প্রশংসা কুড়িয়েছে।   সাউথ চায়না মর্নিং পোস্ট এবং শিয়াওশিয়াং মর্নিং হেরাল্ড-এর প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, 'ইউয়ানইউয়ান' নামে পরিচিত ওই কিশোরী সম্প্রতি চীনের জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয় ভর্তি পরীক্ষা গাওকাও সম্পন্ন করেছে। পরীক্ষা শেষ হওয়ার পর গত জুনের শেষ দিক থেকে দক্ষিণ চীনের গুয়াংডং প্রদেশে মায়ের কর্মস্থল নির্মাণ সাইটে কাজ শুরু করে সে।   ইউয়ানইউয়ানের মা ওয়েই ইউনগুই গত ১৬ বছর ধরে নির্মাণশ্রমিক হিসেবে কাজ করছেন। ৪০ বছর বয়সী ওয়েই একজন একক মা। হুনান প্রদেশের কিদং কাউন্টিতে থাকা ছেলে ও মেয়ের ভরণপোষণের সম্পূর্ণ দায়িত্ব তার কাঁধে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভাইরাল হওয়া একটি ভিডিওতে দেখা যায়, মা ও মেয়ে পিঠে করে একের পর এক ইট বহন করে ভবনের ওপরের তলায় নিয়ে যাচ্ছেন। প্রচণ্ড গরমে ঘাম ঝরিয়ে দুজনের নিরলস পরিশ্রম অনেকের দৃষ্টি কেড়েছে।   ভিডিওতে ওয়েই মেয়েকে বলেন, "তুমি একবারে ১০টি ইট বহন করে ৪ ইউয়ান আয় করেছ। আমি চার গুণ বেশি ইট বহন করে ১৬ ইউয়ান পেয়েছি। সব মিলিয়ে আজ ২০ ইউয়ান আয় হলো। এভাবেই ধীরে ধীরে তোমার বিশ্ববিদ্যালয়ের টিউশন ফি জোগাড় হবে।" ইউয়ানইউয়ান পরে স্বীকার করে, এই কাজ অত্যন্ত কষ্টসাধ্য। তার ভাষায়, "আমি যতটা পারি, ততটাই করছি। আমি চাই মায়ের কষ্ট কিছুটা হলেও কমাতে।" মা ওয়েই জানান, শুরুতে মেয়েকে এত কঠিন শারীরিক শ্রমের কাজে আনতে তিনি রাজি ছিলেন না। কিন্তু মেয়ের অনুরোধ ও দৃঢ় ইচ্ছার কাছে শেষ পর্যন্ত সম্মতি দেন।   তিনি বলেন, "আগে আমার মেয়ে শুধু আমাকে সারাদিন পরিশ্রম করতে দেখত, কিন্তু সেই কষ্টটা অনুভব করতে পারত না। এখন নিজে কাজ করার পর সে আমার জীবনের সংগ্রাম আরও ভালোভাবে বুঝতে শিখেছে এবং আমার প্রতি তার সহমর্মিতা বেড়েছে।"   প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ইউয়ানইউয়ান গাওকাও পরীক্ষায় ঠিক কত নম্বর পেয়েছে বা কোন বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হওয়ার সুযোগ পেয়েছে, তা প্রকাশ করতে চাননি তার মা। তবে তিনি জানিয়েছেন, মেয়ের ফলাফলে তিনি সন্তুষ্ট এবং সে একটি মাঝারি মানের বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হওয়ার যোগ্যতা অর্জন করেছে। ইউয়ানইউয়ান ভবিষ্যতে মনোবিজ্ঞানে পড়াশোনা করতে আগ্রহী।   তাদের বিশ্ববিদ্যালয়ের খরচের জন্য ঠিক কত অর্থ প্রয়োজন, সেটিও প্রকাশ করা হয়নি। তবে চীনে সরকারি বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে বছরে গড়ে প্রায় ৫ হাজার ইউয়ান টিউশন ফি দিতে হয়। চীনে গাওকাও পরীক্ষা অত্যন্ত প্রতিযোগিতাপূর্ণ হিসেবে পরিচিত। দীর্ঘ প্রস্তুতি ও কঠোর পরীক্ষার পর অনেক শিক্ষার্থী পরিবার নিয়ে ভ্রমণে যান অথবা নিজেদের জন্য দামি প্রযুক্তিপণ্য কেনেন। বিশেষ করে আইফোন, আইপ্যাড ও ম্যাকবুক কেনার প্রবণতা অনেক শিক্ষার্থীর মধ্যে দেখা যায়।   সে তুলনায় ইউয়ানইউয়ানের সিদ্ধান্ত সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছে। অনেকেই মা-মেয়ের সংগ্রাম ও পারস্পরিক দায়িত্ববোধের প্রশংসা করেছেন। একজন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহারকারী লিখেছেন, "মা ও মেয়ের এই গল্প সত্যিই হৃদয় ছুঁয়ে গেছে। তাদের জন্য শুভকামনা।" আরেকজন মন্তব্য করেন, "এত অল্প বয়সে কঠোর পরিশ্রম করতে রাজি হওয়া আজকের দিনে বিরল। এমন মানসিকতা ভবিষ্যতে তাকে আরও শক্ত মানুষ হিসেবে গড়ে তুলবে।"   তবে সবাই একই মত পোষণ করেননি। কেউ কেউ বলেছেন, নির্মাণশ্রমের মতো কঠিন কাজের পরিবর্তে তিনি চাইলে রেস্তোরাঁ বা অন্য কোনো খণ্ডকালীন চাকরি করেও বিশ্ববিদ্যালয়ের খরচের জন্য অর্থ উপার্জন করতে পারতেন।

মোহাম্মদ ইব্রাহিম জুলাই ২৬, ২০২৬ ১৪:০
দক্ষিণ চীনে ধেয়ে আসছে টাইফুন ‘নোল’, নিরাপদ আশ্রয়ে ৩ লাখ ৪০ হাজার মানুষ, বাতিল ১৫০ ফ্লাইট
দক্ষিণ চীনে ধেয়ে আসছে টাইফুন ‘নোল’, নিরাপদ আশ্রয়ে ৩ লাখ ৪০ হাজার মানুষ, বাতিল ১৫০ ফ্লাইট

শক্তিশালী টাইফুন ‘নোল’-এর প্রভাবে প্রবল ঝোড়ো হাওয়া ও ভারী বৃষ্টির শঙ্কায় সর্বোচ্চ সতর্ক অবস্থানে রয়েছে দক্ষিণ চীন এবং হংকং। ঘূর্ণিঝড়টি ধেয়ে আসার খবরে চীনের গুয়াংডং প্রদেশ থেকে শনিবার বিকেল পর্যন্ত ৩ লাখ ৪০ হাজারেরও বেশি মানুষকে নিরাপদ আশ্রয়ে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে। একইসঙ্গে হংকং বিমানবন্দরে বাতিল করা হয়েছে দেড় শতাধিক ফ্লাইট। হংকং আবহাওয়া দপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, ঘণ্টায় প্রায় ৯০ মাইল বেগের শক্তিশালী বাতাস নিয়ে টাইফুন নোল দক্ষিণ চীন সাগর অতিক্রম করে গুয়াংডং উপকূলের দিকে অগ্রসর হচ্ছে।   আবহাওয়া পূর্বাভাসে বলা হয়েছে, রোববার সকালে চীনের দক্ষিণাঞ্চলীয় শহর হুইঝোউ এবং শানওয়ের কাছাকাছি কোনো এক স্থানে টাইফুনটি আছড়ে পড়তে পারে। এরপর এটি ক্রমশ স্থলভাগের দিকে অগ্রসর হয়ে ওই অঞ্চলের বিভিন্ন স্থানে প্রবল ঝোড়ো হাওয়া ও ভারী বৃষ্টির কারণ হবে। পরিস্থিতি মোকাবিলায় শনিবার বিকেলের মধ্যেই গুয়াংডং প্রদেশের ঝুঁকিপূর্ণ এলাকাগুলো থেকে বিপুলসংখ্যক মানুষকে সরিয়ে নেওয়ার কথা জানিয়েছে চীনের রাষ্ট্রীয় সম্প্রচারমাধ্যম সিসিটিভি। এছাড়া রোববার ওই প্রদেশের সব ধরনের ট্রেন চলাচল বাতিল করেছে চায়না নিউজ সার্ভিস।   ঝুঁকি এড়াতে শনিবার সন্ধ্যায় চীনের মূল ভূখণ্ডে টাইফুনের জন্য সর্বোচ্চ স্তরের ‘রেড অ্যালার্ট’ জারি করেছে কর্তৃপক্ষ। অন্যদিকে, হংকংয়ের আবহাওয়া দপ্তর তাদের সতর্কীকরণ ব্যবস্থার তৃতীয়-সর্বোচ্চ স্তর ‘সিগন্যাল নম্বর ৮’ জারি করেছে। টাইফুনের প্রভাবে শনিবার বিকেলে হংকংয়ের একটি বহুতল ভবনের নির্মাণকাজের বিশাল ভারা (স্ক্যাফোল্ডিং) ধসে পড়ার খবর পাওয়া গেলেও প্রাথমিকভাবে এতে কোনো হতাহতের ঘটনা ঘটেনি বলে জানিয়েছে স্থানীয় পুলিশ।   টাইফুন নোল-এর প্রভাব পড়েছে পার্শ্ববর্তী তাইওয়ানেও। তাইওয়ানের কেন্দ্রীয় আবহাওয়া প্রশাসন জানিয়েছে, ঘূর্ণিঝড়টির প্রভাবে দ্বীপটির দক্ষিণ ও পূর্বাঞ্চলে ব্যাপক বৃষ্টিপাত হচ্ছে। উল্লেখ্য, চলতি মাসের শুরুতেই চীনে ‘বাভি’ ও ‘মায়সাক’ নামের আরও দুটি শক্তিশালী টাইফুন আঘাত হেনেছিল, যার জেরে সেসময় ২০ লাখেরও বেশি মানুষকে নিরাপদ আশ্রয়ে সরিয়ে নিতে হয়েছিল।

ইসতিয়াক আহমেদ জুলাই ২৫, ২০২৬ ১৪:০
চীন-রাশিয়া ইরানকে অস্ত্র দিলে ‘খুবই খারাপ পরিণতি
চীন-রাশিয়া ইরানকে অস্ত্র দিলে ‘খুবই খারাপ পরিণতি’; ট্রাম্পের কড়া হুঁশিয়ারি

ইরানকে সামরিক সহায়তা দিলে চীন ও রাশিয়ার জন্য ‘খুবই খারাপ’ পরিণতি অপেক্ষা করছে বলে সতর্ক করেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। একই সঙ্গে তিনি দাবি করেছেন, চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং এবং রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন তাকে আশ্বাস দিয়েছেন যে, তারা ইরানকে কোনো অস্ত্র সরবরাহ করবেন না।    শুক্রবার নিজের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ট্রুথ সোশ্যালে দেওয়া এক পোস্টে ট্রাম্প জানান, বেইজিংয়ে সাম্প্রতিক বৈঠকে প্রেসিডেন্ট শি তাকে বলেছেন, কোনো অবস্থাতেই চীন ইরানকে অস্ত্র দেবে বা বিক্রি করবে না। তিনি আরও দাবি করেন, এই প্রতিশ্রুতির আওতায় চীনা কোম্পানিগুলোকেও অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। ট্রাম্প লিখেছেন, দুই দেশের বর্তমান সম্পর্কের কারণে তিনি শি জিনপিংয়ের কথায় আস্থা রাখছেন।    একই পোস্টে ট্রাম্প বলেন, রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনও তাকে একই ধরনের আশ্বাস দিয়েছেন। তাঁর ভাষ্য, পুতিন জানেন যে যুক্তরাষ্ট্র সরাসরি ইউক্রেনের কাছে অস্ত্র বিক্রি করে না; বরং ন্যাটো সদস্য দেশগুলোর কাছে অস্ত্র বিক্রি করা হয় এবং সেসব দেশই পরে ইউক্রেনকে সহায়তা দেয়।    ট্রাম্পের দাবি, ইরানকে সহায়তার ক্ষেত্রে যেসব দেশের নাম সবচেয়ে বেশি আলোচনায় আসে, সেই দুই দেশ—চীন ও রাশিয়া—বর্তমানে এ ধরনের কর্মকাণ্ডে জড়িত নয়। তবে যদি তারা ভবিষ্যতে ইরানকে অস্ত্র সরবরাহ বা সামরিক সহায়তা দেয়, তাহলে তা তাদের জন্য ‘খুবই খারাপ’ হবে এবং সেটি তাদের নিজেদের স্বার্থেরও পরিপন্থী।    তবে ট্রাম্পের এই মন্তব্যের মধ্যেই যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিরক্ষা বিভাগ ভিন্ন ধরনের উদ্বেগের ইঙ্গিত দিয়েছে। প্রতিরক্ষামন্ত্রী পিট হেগসেথ সম্প্রতি কংগ্রেসে বলেন, রাশিয়া ও চীন বিভিন্ন উপায়ে ইরানকে সহায়তা করছে, যদিও তিনি সে বিষয়ে বিস্তারিত প্রকাশ করেননি। এছাড়া মার্কিন গোয়েন্দা সংস্থাগুলোও ইরানের সামরিক সক্ষমতায় সম্ভাব্য রুশ সহায়তার অভিযোগ খতিয়ে দেখছে। এ বিষয়ে মস্কো প্রকাশ্যে কোনো মন্তব্য করেনি।    যুক্তরাষ্ট্র দীর্ঘদিন ধরেই ইরানের অস্ত্র সংগ্রহ ও সামরিক কর্মসূচিতে সহায়তার অভিযোগে রাশিয়া ও চীনের বিভিন্ন ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে নিষেধাজ্ঞা দিয়ে আসছে। মধ্যপ্রাচ্যে চলমান উত্তেজনার মধ্যেই ট্রাম্পের এই মন্তব্য নতুন করে আন্তর্জাতিক কূটনৈতিক আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে এসেছে।

নীলুফা নিশাত জুলাই ২৪, ২০২৬ ১৪:০
১০০ বছরের পুরোনো জটিল সমস্যার সমাধান করে গণিতের ‘নোবেল’ জিতলেন চীনের দুই অধ্যাপক
১০০ বছরের পুরোনো জটিল সমস্যার সমাধান করে গণিতের ‘নোবেল’ জিতলেন চীনের দুই অধ্যাপক

গণিতের সর্বোচ্চ সম্মানগুলোর একটি ফিল্ডস মেডেলে প্রথমবারের মতো ইতিহাস গড়েছে চীন। একসঙ্গে দেশটির দুই নাগরিক—হং ওয়াং ও ইউ দেং—বিশ্বের সবচেয়ে মর্যাদাপূর্ণ এই পুরস্কারে ভূষিত হয়েছেন। যুক্তরাষ্ট্রের ফিলাডেলফিয়ায় অনুষ্ঠিত আন্তর্জাতিক গণিত কংগ্রেসে (আইসিএম) তাদের হাতে তুলে দেওয়া হয় এ সম্মাননা। গণিতে অসাধারণ অবদানের জন্য তাদের সঙ্গে আরও ফিল্ডস মেডেল পেয়েছেন যুক্তরাষ্ট্রের জন পারডন এবং কানাডার জেকব সিমারম্যান।  ফিল্ডস মেডেলকে প্রায়ই গণিতের ‘নোবেল পুরস্কার’ বলা হয়। ১৯৩৬ সাল থেকে প্রতি চার বছর পরপর ৪০ বছরের কম বয়সী গণিতবিদদের যুগান্তকারী গবেষণার স্বীকৃতি হিসেবে এই পদক দেওয়া হয়। এ বছরের প্রতিটি বিজয়ী ১৫ হাজার কানাডিয়ান ডলার অর্থ পুরস্কারও পেয়েছেন।    ৩৫ বছর বয়সী হং ওয়াং চীনের গুয়াংশিতে জন্মগ্রহণ করেন। পিকিং বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়াশোনার পর তিনি ফ্রান্স ও পরে যুক্তরাষ্ট্রে উচ্চশিক্ষা গ্রহণ করেন। বর্তমানে তিনি নিউইয়র্ক বিশ্ববিদ্যালয় (এনওয়াইইউ) এবং ফ্রান্সের ইনস্টিটিউট ডেস হাউটস এতিউডস সায়েন্টিফিকসে অধ্যাপনা করছেন। তিনি ১৯১৭ সালে উত্থাপিত বিখ্যাত ‘কাকেয়া সমস্যার’ ত্রিমাত্রিক রূপের সমাধানে যুগান্তকারী অবদান রাখেন। এই কৃতিত্বের মাধ্যমে তিনি ফিল্ডস মেডেলের ৯০ বছরের ইতিহাসে মাত্র তৃতীয় নারী বিজয়ীও হলেন।  অন্যদিকে ৩৭ বছর বয়সী ইউ দেং পিকিং বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ার পর এমআইটি ও প্রিন্সটন বিশ্ববিদ্যালয়ে উচ্চশিক্ষা সম্পন্ন করেন। বর্তমানে তিনি ইউনিভার্সিটি অব শিকাগোর অধ্যাপক। গ্যাসের অণুর আচরণ বিশ্লেষণের মাধ্যমে তিনি ডেভিড হিলবার্টের ১৯০০ সালে উত্থাপিত বিখ্যাত ‘ষষ্ঠ সমস্যা’র একটি গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি অর্জন করেন, যা দীর্ঘদিন ধরে গণিতবিদদের জন্য অন্যতম বড় চ্যালেঞ্জ হিসেবে বিবেচিত হয়ে আসছিল।  পুরস্কার ঘোষণার পর ফ্রান্সের প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল মাঁখো হং ওয়াংকে ফোন করে অভিনন্দন জানান। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে তিনি লেখেন, ওয়াং ফ্রান্সের গবেষণা ও উচ্চশিক্ষার উৎকর্ষের প্রতীক।    দুই চীনা নাগরিকের একসঙ্গে ফিল্ডস মেডেল জয়ের খবরে চীনের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক উচ্ছ্বাস দেখা গেছে। ওয়েইবো ও রেডনোটে ‘ফিল্ডস মেডেল’ এবং ‘প্রথম চীনা ফিল্ডস মেডেলজয়ী’ বিষয়ক পোস্ট কয়েক কোটি বার দেখা হয়েছে বলে দেশটির গণমাধ্যম জানিয়েছে।    ফিল্ডস মেডেলজয়ী জাতিগত চীনা গণিতবিদ শিং-তুং ইয়াও এই অর্জনকে চীনের গণিত গবেষণার জন্য ‘বহু প্রতীক্ষিত ঐতিহাসিক মাইলফলক’ বলে অভিহিত করেছেন। বিশ্লেষকদের মতে, একসঙ্গে দুই চীনা নাগরিকের এই সাফল্য বিশ্ব গণিত গবেষণায় চীনের ক্রমবর্ধমান অবস্থানকে আরও শক্তিশালী করেছে।

নীলুফা নিশাত জুলাই ২৪, ২০২৬ ১৪:০
ফিলিপাইনে চীনা নাগরিককে হত্যার ঘটনায় অভিযুক্ত প্রধান সন্দেহভাজনকে যুক্তরাষ্ট্রের কাছ থেকে বুঝে নিল চীন। ছবি: সংগৃহীত
যুক্তরাষ্ট্র থেকে চীনে ফেরত পাঠানো হলো ফিলিপাইনে চীনা নাগরিক অপহরণ-হত্যা মামলার প্রধান সন্দেহভাজন

ফিলিপাইনে এক চীনা নাগরিককে অপহরণ ও হত্যার ঘটনায় অভিযুক্ত প্রধান সন্দেহভাজনকে যুক্তরাষ্ট্র থেকে চীনের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। সোমবার চীনের জননিরাপত্তা মন্ত্রণালয় এ তথ্য জানায়।   চীনা কর্তৃপক্ষের ভাষ্য অনুযায়ী, লিউ পদবিধারী ওই সন্দেহভাজন অপরাধ সংঘটিত হওয়ার পর যুক্তরাষ্ট্রে পালিয়ে যান। তাকে গ্রেপ্তার ও বিচারের আওতায় আনতে চীনের পুলিশ যুক্তরাষ্ট্র, ফিলিপাইন এবং দক্ষিণ কোরিয়ার আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সঙ্গে সমন্বিতভাবে কাজ করে। একই সঙ্গে তার বিরুদ্ধে ইন্টারপোলের মাধ্যমে একটি রেড নোটিশ জারি করা হয়।   চীনের সরবরাহ করা প্রমাণের ভিত্তিতে যুক্তরাষ্ট্রের আইনশৃঙ্খলা বাহিনী ২০২৪ সালের অক্টোবরে লিউকে গ্রেপ্তার করে। এরপর আইনি প্রক্রিয়া শেষে চলতি সপ্তাহে তাকে চীনা কর্তৃপক্ষের কাছে হস্তান্তর করা হয়।   চীনের জননিরাপত্তা মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, সীমান্ত পেরিয়ে সংঘটিত গুরুতর অপরাধের তদন্তে আন্তর্জাতিক সহযোগিতার মাধ্যমে এই প্রত্যর্পণ সম্ভব হয়েছে। তাদের দাবি, আন্তর্জাতিক আইন প্রয়োগকারী সংস্থাগুলোর সমন্বিত প্রচেষ্টার ফলেই অভিযুক্তকে বিচারের মুখোমুখি করা যাচ্ছে।   তবে নিহত ব্যক্তির পরিচয়, অপহরণ ও হত্যার ঘটনার বিস্তারিত এবং মামলার বিচারিক অগ্রগতি সম্পর্কে চীনা কর্তৃপক্ষ অতিরিক্ত তথ্য প্রকাশ করেনি। এ ঘটনায় যুক্তরাষ্ট্র বা ফিলিপাইনের পক্ষ থেকেও তাৎক্ষণিকভাবে পৃথক কোনো আনুষ্ঠানিক মন্তব্য পাওয়া যায়নি।   আন্তর্জাতিক অপরাধ দমনে বিভিন্ন দেশের আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর মধ্যে তথ্য আদান-প্রদান, ইন্টারপোলের রেড নোটিশ এবং প্রত্যর্পণ সহযোগিতা সাম্প্রতিক বছরগুলোতে আরও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। এই ঘটনাকেও সেই ধরনের আন্তঃদেশীয় সহযোগিতার একটি উল্লেখযোগ্য উদাহরণ হিসেবে দেখা হচ্ছে।

তাবাস্সুম জুলাই ২০, ২০২৬ ১৪:০
চীনভিত্তিক আর্থিক সহায়তা কর্মসূচিতে মার্কিন শিক্ষার্থীদের প্রতি বৈষম্যের অভিযোগে হার্ভার্ড বিশ্ববিদ্যালয়ে বিচার বিভাগের তদন্ত শুরু। ছবি: সংগৃহীত
চীনা বৃত্তিতে মার্কিন শিক্ষার্থীদের সঙ্গে বৈষম্যের অভিযোগ, হার্ভার্ডে তদন্ত শুরু

যুক্তরাষ্ট্রের প্রভাবশালী শিক্ষা প্রতিষ্ঠান হার্ভার্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের চীনভিত্তিক আর্থিক সহায়তা ও বৃত্তি কর্মসূচি মার্কিন নাগরিক শিক্ষার্থীদের প্রতি বৈষম্য সৃষ্টি করছে কি না, তা খতিয়ে দেখতে তদন্ত শুরু করেছে দেশটির বিচার বিভাগ। সোমবার বিচার বিভাগের সিভিল রাইটস ডিভিশন এ তদন্তের ঘোষণা দেয়।    বিচার বিভাগের ভাষ্য অনুযায়ী, তদন্তের উদ্দেশ্য হলো হার্ভার্ডের কিছু চীন-সংশ্লিষ্ট অর্থায়ন ও বৃত্তি কর্মসূচিতে মার্কিন নাগরিক শিক্ষার্থীদের বাদ দেওয়া হয়েছে কি না এবং তা ১৯৬৪ সালের সিভিল রাইটস অ্যাক্টের টাইটেল সিক্স লঙ্ঘন করছে কি না, তা নির্ধারণ করা। এই আইনে ফেডারেল অর্থায়নপ্রাপ্ত শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে জাতীয় পরিচয়ের ভিত্তিতে বৈষম্য নিষিদ্ধ।   বিচার বিভাগের সিভিল রাইটস ডিভিশনের সহকারী অ্যাটর্নি জেনারেল হারমিট কে. ধিলন বলেন, প্রতিটি মার্কিন শিক্ষার্থীর বৃত্তি, অনুদান ও অন্যান্য আর্থিক সহায়তার জন্য সমানভাবে প্রতিযোগিতার সুযোগ থাকা উচিত। কোনো শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ফেডারেল অর্থ গ্রহণের পাশাপাশি বিদেশি উৎসের এমন অর্থ গ্রহণ করতে পারে না, যার শর্ত অনুযায়ী মার্কিন নাগরিকদের নির্দিষ্ট আর্থিক সহায়তা থেকে বাদ দেওয়া হয়।    বিচার বিভাগ জানায়, ১৯৬৫ সালের উচ্চশিক্ষা আইনের ১১৭ ধারার আওতায় বিশ্ববিদ্যালয়গুলোকে বছরে আড়াই লাখ ডলার বা তার বেশি মূল্যের বিদেশি অনুদান ও চুক্তির তথ্য সরকারকে জানাতে হয়। হার্ভার্ডের জমা দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, বিদেশি উৎস থেকে অর্থায়নের ক্ষেত্রে যুক্তরাষ্ট্রের বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর মধ্যে শীর্ষে রয়েছে প্রতিষ্ঠানটি। তাদের ঘোষিত বিদেশি অর্থায়নের পরিমাণ প্রায় ৪ দশমিক ৫ বিলিয়ন ডলার, যার মধ্যে চীনভিত্তিক উৎস থেকেই এসেছে ৬৩০ মিলিয়ন ডলারের বেশি।    বিচার বিভাগের দাবি, হার্ভার্ডের বিদেশি অর্থায়নের নথি পর্যালোচনায় দেখা গেছে, চীনভিত্তিক কিছু দাতা তাদের অর্থ ব্যবহারের ক্ষেত্রে নির্দিষ্ট দেশের শিক্ষার্থীদের অগ্রাধিকার দেওয়ার শর্ত আরোপ করেছেন। এসব শর্ত অনুসরণ করে হার্ভার্ড যদি নির্দিষ্ট দেশের শিক্ষার্থীদের জন্য আর্থিক সহায়তা বরাদ্দ দিয়ে থাকে, তাহলে তা অন্যান্য দেশের শিক্ষার্থী, বিশেষ করে মার্কিন নাগরিকদের জন্য বৈষম্যের কারণ হতে পারে।    তবে তদন্তের এই পর্যায়ে বিচার বিভাগ স্পষ্ট করেছে, তারা এখনো কোনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্তে পৌঁছায়নি। এটি একটি কমপ্লায়েন্স রিভিউ বা আইন মেনে চলা হয়েছে কি না, তা যাচাইয়ের প্রক্রিয়া।   অন্যদিকে হার্ভার্ড বিশ্ববিদ্যালয় এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, আর্থিক সহায়তা বণ্টনের ক্ষেত্রে তারা জাতি, জাতিগত পরিচয় বা জাতীয়তার ভিত্তিতে কোনো বেআইনি বৈষম্য করে না। বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ বলেছে, তারা বিচার বিভাগের পাঠানো নোটিশ পর্যালোচনা করছে এবং সরকারের সঙ্গে এ বিষয়ে সহযোগিতা করবে।    সাম্প্রতিক মাসগুলোতে ট্রাম্প প্রশাসনের সঙ্গে হার্ভার্ডের একাধিক ইস্যুতে বিরোধ তৈরি হয়েছে। ভর্তি নীতি, বিদেশি অর্থায়ন, আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থী এবং ফেডারেল তহবিল ব্যবহারের মতো বিভিন্ন বিষয়েও বিশ্ববিদ্যালয়টি সরকারের বাড়তি নজরদারির মুখে রয়েছে। নতুন এই তদন্ত সেই ধারাবাহিকতারই অংশ হিসেবে দেখা হচ্ছে।

তাবাস্সুম জুলাই ২০, ২০২৬ ১৪:০
Trump and mark rubio ছবি: কোলাজ আমেরিকা বাংলা
২ লাখ ৫০ হাজার চীনা শিক্ষার্থীর ভিসা বাতিলের দাবি ট্রাম্পের, বাড়ছে উদ্বেগ

যুক্তরাষ্ট্রে অধ্যয়নরত প্রায় আড়াই লাখ চীনা শিক্ষার্থীর স্টুডেন্ট ভিসা বাতিলের দাবি জানিয়েছেন রিপাবলিকান কংগ্রেসম্যান রাইলি মুর। জাতীয় নিরাপত্তার উদ্বেগের কথা উল্লেখ করে তিনি ট্রাম্প প্রশাসনের কাছে এ আহ্বান জানান। এ পদক্ষেপ বাস্তবায়িত হলে যুক্তরাষ্ট্রে অবস্থানরত বিপুল সংখ্যক চীনা শিক্ষার্থী সরাসরি প্রভাবিত হতে পারেন।   নিউজউইকের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ওয়েস্ট ভার্জিনিয়ার রিপাবলিকান প্রতিনিধি রাইলি মুর সম্প্রতি পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিওর কাছে পাঠানো এক চিঠিতে যুক্তরাষ্ট্রে থাকা আনুমানিক ২ লাখ ৫০ হাজার চীনা শিক্ষার্থীর ভিসা বাতিলের আহ্বান জানান। তার দাবি, চীনের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের ক্রমবর্ধমান প্রতিযোগিতার প্রেক্ষাপটে শিক্ষার্থী ভিসা ব্যবস্থায় আরও কঠোর নজরদারি প্রয়োজন।    এর আগে ট্রাম্প প্রশাসন চীনা শিক্ষার্থীদের ভিসা নীতিতে কড়াকড়ি আরোপের উদ্যোগ নিয়েছিল। বিশেষ করে চীনের কমিউনিস্ট পার্টির সঙ্গে সংশ্লিষ্টতা রয়েছে বা সংবেদনশীল গবেষণা ক্ষেত্রে অধ্যয়নরত এমন শিক্ষার্থীদের ভিসা বাতিল এবং ভবিষ্যৎ আবেদন আরও কঠোরভাবে যাচাই করার পরিকল্পনার কথা যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর জানিয়েছিল।    এদিকে ট্রাম্প প্রশাসন সম্প্রতি আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীদের ভিসা ব্যবস্থায়ও নতুন নিয়ম ঘোষণা করেছে। নতুন বিধান অনুযায়ী, শিক্ষার্থী ভিসার মেয়াদ নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকবে এবং পড়াশোনা শেষ হওয়ার পর যুক্তরাষ্ট্র ত্যাগের সময়সীমাও আগের তুলনায় কমানো হয়েছে।    চীনের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এর আগেই যুক্তরাষ্ট্রের চীনা শিক্ষার্থীদের লক্ষ্য করে নেওয়া ভিসা-সংক্রান্ত পদক্ষেপের সমালোচনা করেছে এবং এসব উদ্যোগকে বৈষম্যমূলক বলে উল্লেখ করেছে। একই সঙ্গে বেইজিং জানিয়েছে, তারা বিষয়টি নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের কাছে আনুষ্ঠানিক আপত্তি জানিয়েছে।    এ প্রতিবেদন প্রকাশ পর্যন্ত ট্রাম্প প্রশাসন যুক্তরাষ্ট্রে অবস্থানরত সব চীনা শিক্ষার্থীর ভিসা একযোগে বাতিলের কোনো আনুষ্ঠানিক সিদ্ধান্ত ঘোষণা করেনি। বর্তমানে বিষয়টি রাজনৈতিক পর্যায়ে উত্থাপিত একটি প্রস্তাব হিসেবে রয়েছে এবং এ বিষয়ে প্রশাসনের আনুষ্ঠানিক অবস্থানের দিকে নজর রয়েছে।

বায়জিদ হাসান জুলাই ২০, ২০২৬ ১৪:০
গ্রাফিক্স: আমেরিকা বাংলা
ডলারের আধিপত্য কমাতে চীনা পেমেন্ট সিস্টেমে যুক্ত হলো লিবিয়া

আন্তর্জাতিক বাণিজ্যে মার্কিন ডলারের ওপর একক নির্ভরশীলতা কমাতে যুগান্তকারী এক পদক্ষেপ নিয়েছে লিবিয়া। দেশটির বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলোকে এখন থেকে সরাসরি চীনের ‘ক্রস-বর্ডার ইন্টারব্যাংক পেমেন্ট সিস্টেম’ বা সিআইপিএস-এর সঙ্গে যুক্ত করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। এর ফলে লিবিয়ার ব্যাংকগুলো মার্কিন ডলারের কোনো রকম মধ্যস্থতা ছাড়াই সরাসরি চীনা মুদ্রা ইউয়ানে লেনদেন ও অর্থ আদান-প্রদান করতে পারবে, যা বৈশ্বিক অর্থনীতিতে ডি-ডলারাইজেশন প্রক্রিয়ার একটি বড় দৃষ্টান্ত।   সম্প্রতি বেইজিং সফরকালে লিবিয়ার কেন্দ্রীয় ব্যাংকের গভর্নর নাজি মোহাম্মদ ইসা এবং পিপলস ব্যাংক অব চায়নার (পিবিওসি) গভর্নর প্যান গংশেং-এর মধ্যে অনুষ্ঠিত এক দ্বিপাক্ষিক বৈঠকে এই ঐতিহাসিক সিদ্ধান্ত চূড়ান্ত হয়। এর আগে, দুই দেশের গভর্নর দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্য বৃদ্ধিসহ পারস্পরিক কৌশলগত অংশীদারিত্বের এক নতুন অধ্যায় সূচনার বিষয়ে বিস্তারিত আলোচনা করেন। লিবিয়ার কেন্দ্রীয় ব্যাংকের পক্ষ থেকে এক আনুষ্ঠানিক বিবৃতিতে এই তথ্য নিশ্চিত করা হয়েছে।   বিবৃতিতে জানানো হয়, সিআইপিএস সিস্টেমে যুক্ত হওয়ার ফলে দুই দেশের মধ্যকার আর্থিক লেনদেন প্রক্রিয়া আগের চেয়ে অনেক বেশি সহজ ও দ্রুততর হবে। আন্তর্জাতিক অঙ্গনে ইউয়ানের ব্যবহার সহজ করতে ২০১৫ সালে পিপলস ব্যাংক অব চায়না এই ব্যবস্থাটি চালু করেছিল। এই নেটওয়ার্কের মাধ্যমে মধ্যস্থতাকারী ব্যাংকের প্রয়োজনীয়তা দূর হওয়ায় ডলারের ওপর লিবিয়ার নির্ভরতা উল্লেখযোগ্য হারে কমে আসবে। এই নতুন চুক্তিটি বিশেষ করে লিবিয়ার ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীদের জন্য বড় ধরনের স্বস্তি নিয়ে আসবে বলে মনে করা হচ্ছে। এখন থেকে তারা সরাসরি চীনে অর্থ স্থানান্তর করতে পারবেন। পাশাপাশি, চীনা ব্যাংকগুলোর মাধ্যমে সরাসরি ‘লেটার অব ক্রেডিট’ (এলসি) খোলার প্রক্রিয়াও দ্রুত শুরু করার বিষয়ে দুই দেশ একমত হয়েছে।   দ্বিপাক্ষিক ব্যাংকিং সহযোগিতা আরও জোরদার করতে লিবিয়ার কেন্দ্রীয় ব্যাংকের গভর্নরের নেতৃত্বে দেশটির বাণিজ্যিক ব্যাংকের পরিচালকদের সমন্বয়ে একটি উচ্চপর্যায়ের ব্যাংকিং প্রতিনিধি দল শিগগিরই বেইজিং সফর করবে। এই সফরের মূল লক্ষ্য হলো চীনা ব্যাংকগুলোর সঙ্গে সরাসরি যোগাযোগ স্থাপন এবং ইলেকট্রনিক পেমেন্ট ও আর্থিক স্থানান্তরের ক্ষেত্রে চীনের উন্নত প্রযুক্তি ও অভিজ্ঞতাকে কাজে লাগানো। লিবিয়ার কেন্দ্রীয় ব্যাংক আশা করছে, এই পদক্ষেপের ফলে দেশটিতে অবৈধ মুদ্রা বাজারের প্রভাব অনেকটাই কমে আসবে। একইসঙ্গে এটি মানি লন্ডারিং ও অর্থায়ন প্রতিরোধ সংক্রান্ত আন্তর্জাতিক মানদণ্ড নিশ্চিত করতে সাহায্য করবে, যা বিশ্ব দরবারে লিবিয়ার ব্যাংকিং খাতের ভাবমূর্তি ও সুনাম আরও উজ্জ্বল করবে।

ইসতিয়াক আহমেদ জুলাই ১৮, ২০২৬ ১৪:০
উত্তর কোরিয়ার নেতা কিম জং উন ও চীনের শীর্ষনেতা ওয়াং হুনিংয়ের
রাশিয়ার সঙ্গে ঘনিষ্ঠতার মধ্যেও উত্তর কোরিয়াকে পাশে রাখতে তৎপর চীন

উত্তর কোরিয়ার সঙ্গে সম্পর্ক আরও শক্তিশালী করতে কূটনৈতিক তৎপরতা বাড়িয়েছে চীন। এক মাসের ব্যবধানে দুই দেশের মধ্যে একাধিক উচ্চপর্যায়ের সফর ও বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়েছে। সর্বশেষ চীনের চতুর্থ সর্বোচ্চ নেতা ও চীনা কমিউনিস্ট পার্টির অন্যতম নীতিনির্ধারক ওয়াং হুনিং তিন দিনের সফরে পিয়ংইয়ং গিয়ে উত্তর কোরিয়ার নেতা কিম জং উনের সঙ্গে বৈঠক করেছেন। পাশাপাশি তিনি কিমের অগ্রাধিকারপ্রাপ্ত ওনসান-কালমা উপকূলীয় পর্যটন প্রকল্পও পরিদর্শন করেন।   এই সফরকে কেবল সৌজন্য সফর হিসেবে দেখছেন না কূটনৈতিক বিশ্লেষকরা। বরং এটি বেইজিং ও পিয়ংইয়ংয়ের মধ্যে সম্পর্ক আরও গভীর হওয়ার স্পষ্ট বার্তা হিসেবে দেখা হচ্ছে। বৈঠকে দুই দেশ রাজনৈতিক আস্থা, অর্থনৈতিক সহযোগিতা, সাংস্কৃতিক বিনিময় এবং উচ্চপর্যায়ের যোগাযোগ আরও জোরদারের বিষয়ে একমত হয়েছে।   সফরকালে ওয়াং হুনিং ওনসান-কালমা পর্যটন প্রকল্প ঘুরে দেখেন। প্রায় ২০ হাজার পর্যটকের ধারণক্ষমতাসম্পন্ন এই সমুদ্র উপকূলীয় রিসোর্টকে কিম জং উনের অন্যতম মর্যাদাপূর্ণ উন্নয়ন প্রকল্প হিসেবে বিবেচনা করা হয়। চীনা প্রতিনিধি দলকে প্রকল্পটির ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা তুলে ধরা হয় এবং ওয়াং এটিকে উত্তর কোরিয়ার ‘জনগণকেন্দ্রিক উন্নয়ন নীতির’ একটি উদাহরণ হিসেবে প্রশংসা করেন।   এই সফরের আগে চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং উত্তর কোরিয়া সফর করেন। সেই সফরে দুই দেশ রাজনৈতিক, অর্থনৈতিক, সাংস্কৃতিক ও নিরাপত্তা সহযোগিতা আরও বাড়ানোর বিষয়ে সমঝোতায় পৌঁছায়। এরপর অল্প সময়ের মধ্যেই ওয়াং হুনিংয়ের সফরকে সেই সমঝোতা বাস্তবায়নের ধারাবাহিক পদক্ষেপ হিসেবে দেখা হচ্ছে।   ইউক্রেন যুদ্ধের পর উত্তর কোরিয়ার সঙ্গে রাশিয়ার সম্পর্ক উল্লেখযোগ্যভাবে ঘনিষ্ঠ হয়েছে। এমন প্রেক্ষাপটে পূর্ব এশিয়ায় নিজের ঐতিহ্যগত প্রভাব ধরে রাখতে এবং উত্তর কোরিয়ার সঙ্গে কৌশলগত সম্পর্ক আরও দৃঢ় করতেই সক্রিয় হয়েছে বেইজিং। একই সঙ্গে অর্থনীতি ও পর্যটন খাত পুনরুজ্জীবিত করতে চীনের সহযোগিতাও উত্তর কোরিয়ার জন্য গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে।   রয়টার্সের বিশ্লেষণে বলা হয়েছে, সাম্প্রতিক ধারাবাহিক উচ্চপর্যায়ের সফর, কিম জং উন–ওয়াং হুনিং বৈঠক এবং ওনসান-কালমা প্রকল্পে চীনা প্রতিনিধিদলের আগ্রহ—সব মিলিয়ে চীন ও উত্তর কোরিয়ার সম্পর্ক আগের তুলনায় আরও ঘনিষ্ঠ হচ্ছে এবং বেইজিং পিয়ংইয়ংয়ের সঙ্গে দীর্ঘমেয়াদি কৌশলগত অংশীদারিত্ব আরও শক্তিশালী করার চেষ্টা করছে।   তথ্যসূত্র: রয়টার্স (১৫–১৭ জুলাই ২০২৬), কেসিএনএ।

বায়জিদ হাসান জুলাই ১৭, ২০২৬ ১৪:০
ইসলামাবাদে অনুষ্ঠিত সম্মেলনে পাকিস্তান ও চীনের মধ্যে ৪৪০ মিলিয়ন ডলারেরও বেশি মূল্যের ৯টি চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়েছে। ছবি: সংগৃহীত
চীনের সঙ্গে বড় চুক্তি পাকিস্তানের, নিরাপত্তা নিয়ে আশ্বাস শাহবাজের

পাকিস্তান ও চীনের ওষুধ ও স্বাস্থ্যসেবা খাতের মধ্যে ৪৪০ মিলিয়ন মার্কিন ডলারেরও বেশি মূল্যের ৯টি সহযোগিতা চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়েছে। এই চুক্তিকে দুই দেশের অর্থনৈতিক অংশীদারিত্বের নতুন মাইলফলক হিসেবে উল্লেখ করে পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফ বলেছেন, পাকিস্তানে কর্মরত চীনা নাগরিকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে তার সরকার "কোনো ধরনের প্রচেষ্টারই কমতি রাখবে না।"   শুক্রবার (১৭ জুলাই) ইসলামাবাদে অনুষ্ঠিত পাকিস্তান-চীন বিজনেস-টু-বিজনেস (বি-টু-বি) ফার্মাসিউটিক্যাল, স্বাস্থ্যসেবা ও বায়োটেকনোলজি সম্মেলনে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ মন্তব্য করেন। সম্মেলনে পাকিস্তান ও চীনের সরকারি প্রতিনিধি, ওষুধ কোম্পানির শীর্ষ কর্মকর্তা, বিনিয়োগকারী এবং প্রায় ৩০০ জন চীনা প্রতিনিধি অংশ নেন।   শাহবাজ শরিফ বলেন, পাকিস্তানে অবস্থানরত চীনা নাগরিকদের নিরাপত্তা সরকারের সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার। তার ভাষায়, "আমি দৃঢ়ভাবে বলতে চাই, পাকিস্তানে অবস্থানরত আমাদের চীনা ভাই-বোনদের নিরাপত্তা আমাদের কাছে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার। তাদের সর্বোচ্চ নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে আমরা কোনো প্রচেষ্টাই বাদ দেব না।"   প্রধানমন্ত্রী বলেন, পাকিস্তানের স্থানীয় উদ্যোক্তারা দেশের ওষুধশিল্পের বিকাশে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছেন। তিনি আশা প্রকাশ করেন, নতুন স্বাক্ষরিত চুক্তিগুলো শুধু কাগজে-কলমে সীমাবদ্ধ থাকবে না; বরং বাস্তবায়নের মাধ্যমে চীন-পাকিস্তান অর্থনৈতিক করিডোর (সিপিইসি)-এর দ্বিতীয় ধাপকে আরও গতিশীল করবে। তিনি বলেন, "আজ আমরা পাকিস্তান ও চীনের উদ্যোক্তাদের মধ্যে প্রায় ৪৪০ মিলিয়ন ডলার মূল্যের চুক্তি স্বাক্ষরের সাক্ষী হয়েছি।"   প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, সম্মেলনে স্থানীয়ভাবে টিকা উৎপাদন, বায়োটেকনোলজি, ওষুধ উৎপাদন, প্রযুক্তি স্থানান্তর, হেপাটাইটিস প্রতিরোধ এবং স্বাস্থ্য খাতের বিভিন্ন যৌথ উদ্যোগ নিয়ে মোট ৯টি চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়েছে। পাশাপাশি পাকিস্তানের জাতীয় টিকাদান কর্মসূচিতে সহযোগিতা নিয়ে একটি পৃথক সমঝোতাও হয়েছে।   শাহবাজ শরিফ চীনকে পাকিস্তানের "সবচেয়ে বিশ্বস্ত ও নির্ভরযোগ্য বন্ধু" হিসেবে উল্লেখ করেন। তিনি বলেন, সব আন্তর্জাতিক ফোরামে চীন পাকিস্তানের পাশে থেকেছে এবং সিপিইসি ১.০-এর আওতায় প্রায় ৩০ বিলিয়ন ডলারের বিনিয়োগ পাকিস্তানের অবকাঠামো ও জ্বালানি খাতের উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে। তিনি চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংকে একজন দূরদর্শী নেতা হিসেবে আখ্যায়িত করে শিক্ষা, গবেষণা, প্রযুক্তি ও অর্থনৈতিক উন্নয়নে চীনের সাফল্যের প্রশংসা করেন।   বক্তব্যে সাম্প্রতিক যুক্তরাষ্ট্র-ইরান উত্তেজনার বিষয়েও মন্তব্য করেন পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী। তিনি দাবি করেন, দুই দেশের মধ্যে উত্তেজনা কমাতে পাকিস্তান মধ্যস্থতাকারীর ভূমিকা পালন করেছে এবং এ প্রচেষ্টায় চীনসহ বন্ধুপ্রতিম দেশগুলোর সহযোগিতা পেয়েছে। একই সঙ্গে তিনি বলেন, পাকিস্তান-চীন সম্পর্ক "হিমালয়ের চেয়েও উঁচু, মধুর চেয়েও মিষ্টি এবং ইস্পাতের চেয়েও শক্তিশালী।"   নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ কেন?   সাম্প্রতিক বছরগুলোতে পাকিস্তানে চীনা প্রকৌশলী ও নাগরিকদের ওপর একাধিক সশস্ত্র হামলার পর নিরাপত্তা ইস্যু দুই দেশের সম্পর্কের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হয়ে উঠেছে। বিশেষ করে আফগানিস্তান থেকে যুক্তরাষ্ট্রের সেনা প্রত্যাহার এবং তেহরিক-ই-তালেবান পাকিস্তান (টিটিপি) যুদ্ধবিরতি ভেঙে দেওয়ার পর খাইবার পাখতুনখাওয়া ও বেলুচিস্তানে সহিংসতা বেড়েছে। এসব হামলায় আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর পাশাপাশি চীনা নাগরিক ও সিপিইসি-সংশ্লিষ্ট প্রকল্পেও হামলার ঘটনা ঘটেছে।   সম্প্রতি পাকিস্তান সরকার জানিয়েছে, বেলুচিস্তানের সাইন্দাক তামা ও স্বর্ণখনি এলাকায় নিরাপত্তা আরও জোরদার করা হচ্ছে। কারণ নিরাপত্তা ঝুঁকির কারণে সেখানে সরবরাহ ব্যবস্থা ব্যাহত হচ্ছে। খনিটি পরিচালনা করছে চীনের রাষ্ট্রায়ত্ত মেটালার্জিক্যাল করপোরেশন অব চায়না (এমসিসি)।   উল্লেখ্য, ২০২১ সালে দাসু জলবিদ্যুৎ প্রকল্পে কর্মরত চীনা প্রকৌশলীদের বহনকারী বাসে আত্মঘাতী হামলায় ১০ জন চীনা নাগরিক নিহত হন। ২০২৪ সালে খাইবার পাখতুনখাওয়ার বেসহামে আরেক আত্মঘাতী হামলায় পাঁচ চীনা প্রকৌশলীসহ ছয়জন নিহত হন। একই বছর করাচির জিন্নাহ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের কাছে বিস্ফোরণেও দুই চীনা প্রকৌশলী নিহত হন। এসব ঘটনার পর পাকিস্তান চীনা নাগরিক ও বিনিয়োগ সংশ্লিষ্ট প্রকল্পগুলোর নিরাপত্তা আরও জোরদার করেছে।

মোহাম্মদ ইব্রাহিম জুলাই ১৭, ২০২৬ ১৪:০
জনপ্রিয় সংবাদ
বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনার পর তরুণীর মৃত্যু, এক বছরের সাজায় ক্যালিফোর্নিয়ার আইন পরিবর্তনের দাবি

যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন।   মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়।   তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।”   ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে।   প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন।   ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন।   প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল।   মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি।   রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।

যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডে বড় পরিবর্তন, পরিবারভিত্তিক ভিসা আবেদনকারীদের জন্য সুখবর

যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর আগস্ট ২০২৬ সালের ভিসা বুলেটিন প্রকাশ করেছে। নতুন এই আপডেটে পরিবারভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি দেখা গেছে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের স্থায়ী বাসিন্দাদের স্বামী, স্ত্রী ও সন্তানদের জন্য নির্ধারিত এফ২এ ক্যাটাগরিতে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এসেছে।   নতুন ভিসা বুলেটিন অনুযায়ী, পরিবারভিত্তিক কয়েকটি ক্যাটাগরিতে অপেক্ষার সময় কমার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এর মধ্যে এফ২এ ক্যাটাগরির অগ্রগতি সবচেয়ে বেশি, যেখানে যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডধারীদের স্বামী-স্ত্রী ও অবিবাহিত সন্তানদের আবেদন অন্তর্ভুক্ত থাকে।   এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের অবিবাহিত প্রাপ্তবয়স্ক সন্তানদের জন্য এফ১ ক্যাটাগরি এবং অন্যান্য পরিবারভিত্তিক ক্যাটাগরিতেও কিছু অগ্রগতি দেখা গেছে। তবে আবেদনকারীদের ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার তারিখ বা প্রায়োরিটি ডেট অনুযায়ীই পরবর্তী ধাপ নির্ধারণ হবে।   ভিসা বুলেটিনে বলা হয়েছে, পরিবারভিত্তিক অভিবাসন ভিসার সংখ্যা প্রতিবছর নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে দেওয়া হয়। তাই কোনো ক্যাটাগরিতে চাহিদা বেশি হলে অপেক্ষার সময় বাড়তে পারে এবং কম হলে তারিখ এগিয়ে আসতে পারে।   অন্যদিকে কর্মসংস্থানভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য পরিস্থিতি তুলনামূলক কঠিন রয়েছে। বিশেষ করে কিছু এমপ্লয়মেন্ট-বেসড ক্যাটাগরিতে দীর্ঘ অপেক্ষা ও সীমিত ভিসা সংখ্যার কারণে আবেদনকারীদের অনিশ্চয়তা অব্যাহত রয়েছে।   যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ী বসবাসের জন্য আবেদনকারীদের কাছে ভিসা বুলেটিন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এই তালিকার মাধ্যমে জানা যায়, কোন আবেদনকারীরা গ্রিন কার্ডের পরবর্তী ধাপে এগিয়ে যেতে পারবেন এবং কারা এখনও অপেক্ষার তালিকায় থাকবেন।   বিশেষজ্ঞদের মতে, নতুন এই পরিবর্তন অনেক পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীর জন্য আশার খবর হলেও, প্রতিটি আবেদনকারীর পরিস্থিতি নির্ভর করবে তাদের আবেদন জমার তারিখ, দেশভিত্তিক সীমা এবং ভিসা ক্যাটাগরির ওপর।   যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ব্যবস্থায় দীর্ঘদিন ধরে গ্রিন কার্ডের অপেক্ষার তালিকা বড় একটি বিষয় হয়ে আছে। নতুন ভিসা বুলেটিনে পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীদের জন্য অগ্রগতি দেখা গেলেও, সব আবেদনকারী একইভাবে সুবিধা পাবেন না।

মার্কিন ভিসা আপডেট ২০২৬! বাংলাদেশিদের জন্য কোন ভিসা বন্ধ, কোনটা চালু?

২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো।   প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে।   এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে।   অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে।   স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে।   সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে।   সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।

যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশি মালিকানাধীন বিশ্ববিদ্যালয়ের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধন

যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে।   এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন।   নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি।   উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।”   বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে।   এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে।   শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়।   উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন।   বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত।   এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।

পাঁচ সন্তানকে এতিম করে মাকে কুপিয়ে হত্যা, গ্রেপ্তারের সময়ও হাসছিল ঘাতক দুই বোন

যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে এক মর্মান্তিক ও লোমহর্ষক ঘটনার জন্ম দিয়েছে দুই তরুণী বোন। দিনদুপুরে ক্যারোলিন ‘কারো’ পেনা নামের ৩২ বছর বয়সী এক নারীকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগে তাদের গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। নিহত নারী পাঁচ সন্তানের জননী ছিলেন। তবে সবচেয়ে শিউরে ওঠার মতো বিষয় হলো, গ্রেপ্তারের সময় অভিযুক্তদের চেহারায় অনুশোচনার সামান্যতম ছাপ তো ছিলই না, উল্টো তাদের মুখে পৈশাচিক হাসি দেখা গেছে। মেক্সিকো সীমান্তের কাছের শহর দেল রিও থেকে বৃহস্পতিবার বিকেলে পুলিশ তাদের হাতকড়া পরিয়ে নিয়ে যাওয়ার সময় এই দৃশ্য ক্যামেরায় ধরা পড়ে।   আরও পড়ুন... ‘ফোনটা ধরতে পারলে হয়তো তাকে বাঁচাতে পারতাম’- টেক্সাসে পাঁচ সন্তানের মাকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা, দুই বোনসহ তিনজন গ্রেপ্তার   পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নিহত ক্যারোলিনকে বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় দুপুর ২টার পরপরই গুরুতর জখম অবস্থায় ভাল ভার্দে রিজিওনাল মেডিকেল সেন্টারে নেওয়া হয়। তার শরীরে একাধিক ছুরিকাঘাতের চিহ্ন ছিল। ঘটনাস্থলের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, একটি সনিক ড্রাইভ-থ্রু রেস্তোরাঁর বাইরে রক্তাক্ত অবস্থায় ক্যারোলিন তার তিন হামলাকারীর মুখোমুখি দাঁড়িয়ে আছেন।   পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য সান আন্তোনিওর একটি হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছায় এবং প্রায় ৩৫ হাজার বাসিন্দার শহর দেল রিওতে অভিযান চালিয়ে হামলাকারীদের শনাক্ত করে।   সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া গ্রেপ্তারের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, ২১ বছর বয়সী কিটি মিয়া দিয়াজ খালি পায়ে হেঁটে যাওয়ার সময় পুলিশের গাড়িতে ওঠার আগে মৃদু হাসছেন। কিটি নিজেও এক শিশুপুত্রের মা। অন্যদিকে, তার ১৯ বছর বয়সী ছোট বোন আমায়া কুকি দিয়াজ ক্যামেরার দিকে তাকিয়ে নির্লজ্জভাবে দাঁত বের করে হাসতে থাকেন।   ▶️ টেক্সাসে নিজের মাকে নির্মমভাবে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুই মেয়ে |   এমনকি ভিডিও ধারণকারীকে ব্যঙ্গাত্মক সুরে ‘রেকর্ড করা বন্ধ করো’ বলেও চিৎকার করতে শোনা যায় তাকে। দেল রিও পুলিশ জানিয়েছে, এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ২১ বছর বয়সী কায়ান্দ্রা রেনি ফাজ নামের তৃতীয় আরেক নারীকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে ঠিক কী কারণে এই নারকীয় হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে, সে বিষয়ে পুলিশ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি।

Top week

২০২৬ সালের তালিকায় এগিয়ে যে ৫ স্টেট

যুক্তরাষ্ট্রের কোন স্টেট এ বাংলাদেশিদের জীবন সবচেয়ে স্বস্তির? ২০২৬ সালের তালিকায় এগিয়ে যে ৫ স্টেট

নীলুফা নিশাত আগস্ট ১, ২০২৬ ১৪:০