চীন

ছবিঃ কোলাজ আমেরিকা বাংলা
চীনের অত্যাধুনিক জে-১০সিই যুদ্ধবিমান কিনছে বাংলাদেশ, চরম উদ্বেগে ভারত

বাংলাদেশ বিমান বাহিনীর আধুনিকায়নের লক্ষ্যে চীনের কাছ থেকে ২০টি অত্যাধুনিক জে-১০সিই (J-10CE) মাল্টিরোল ফাইটার জেট ক্রয়ের সিদ্ধান্ত নিয়েছে ঢাকা। ২.২ বিলিয়ন মার্কিন ডলারের এই বিশাল প্রতিরক্ষা চুক্তি দক্ষিণ এশিয়ার আকাশসীমায় এক বড় ধরনের কৌশলগত পরিবর্তন আনতে যাচ্ছে। তবে প্রতিবেশী দেশ ভারত এই মেগা চুক্তিকে কেবল একটি সাধারণ সামরিক কেনাকাটা হিসেবে দেখছে না; বরং নয়াদিল্লি একে ভারতের চারপাশে চীনের সামরিক বেষ্টনী বা ‘কৌশলগত ঘেরাও’-এর অংশ হিসেবে বিবেচনা করে চরম উদ্বেগ প্রকাশ করেছে।   ২০২৪ সালের আগস্টে শেখ হাসিনা সরকারের পতনের পর প্রধান উপদেষ্টা মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বাধীন অন্তর্বর্তীকালীন সরকার এই যুদ্ধবিমান ক্রয়ের আলোচনাকে প্রথম গতিশীল করে। পরবর্তীতে ২০২৬ সালের ফেব্রুয়ারির নির্বাচনের পর গঠিত বিএনপি নেতৃত্বাধীন সরকারও এই ধারাবাহিকতা বজায় রেখে প্রতিরক্ষা নীতি সচল রেখেছে। মূলত বাংলাদেশ বিমান বাহিনীর দীর্ঘমেয়াদী ‘ফোর্সেস গোল ২০৩০’-এর অংশ হিসেবেই এই মেগা চুক্তিটি করা হয়েছে। বিমান বাহিনীর বহরে থাকা পুরোনো এফ-৭ এবং সীমিত সংখ্যক মিগ-২৯ যুদ্ধবিমানের বিকল্প হিসেবে আকাশসীমার সার্বভৌমত্ব রক্ষা ও সামুদ্রিক নিরাপত্তা জোরদার করতে এই আধুনিক ফাইটার জেটগুলো অপরিহার্য হয়ে পড়েছিল।   জানা গেছে, প্রায় ২.২ বিলিয়ন মার্কিন ডলারের এই চুক্তির অর্থ আগামী ১০ বছরের সহজ কিস্তিতে পরিশোধের সুযোগ পাবে বাংলাদেশ। এর ফলে জাতীয় রাজস্বের ওপর তাৎক্ষণিক কোনো বড় চাপ ছাড়াই সামরিক বাহিনীকে আধুনিক করার সুযোগ মিলছে ঢাকার। আগামী ২০২৬ থেকে ২০২৭ সালের মধ্যে ফাইটার জেটগুলো বাংলাদেশে পৌঁছানোর কথা রয়েছে। এই প্যাকেজের আওতায় শুধু যুদ্ধবিমানই নয়, বরং লজিস্টিকস, পাইলট ও ক্রু ট্রেনিং, দীর্ঘমেয়াদী রক্ষণাবেক্ষণ এবং উন্নত যুদ্ধাস্ত্র সরবরাহ নিশ্চিত করবে বেইজিং, যা দুই দেশের সামরিক নির্ভরতাকে এক অভূতপূর্ব উচ্চতায় নিয়ে যাচ্ছে।   জে-১০সিই মূলত একটি ৪.৫ প্রজন্মের অত্যাধুনিক যুদ্ধবিমান। ২০২৫ সালের মে মাসে ভারত ও পাকিস্তানের মধ্যে সংঘটিত সংক্ষিপ্ত আকাশযুদ্ধ ‘অপারেশন সিন্দুর’-এ পাকিস্তানি বিমান বাহিনীর জে-১০সি ফাইটার জেটের দুর্দান্ত কার্যকারিতা প্রদর্শিত হওয়ার পরই মূলত এই বিমানের প্রতি বাংলাদেশের আগ্রহ বহুগুণ বেড়ে যায়। এই ফাইটার জেটটি অত্যন্ত শক্তিশালী অ্যাক্টিভ ইলেকট্রনিক্যালি স্ক্যানড অ্যারে রাডারে সজ্জিত এবং চীনের তৈরি দূরপাল্লার বিয়ন্ড-ভিজ্যুয়াল-রেঞ্জ এয়ার-টু-এয়ার মিসাইল ‘পিএল-১৫’ ছুঁড়তে সক্ষম। উন্নত ডেটা লিংক এবং এয়ারবোর্ন আর্লি ওয়ার্নিং সিস্টেমের মাধ্যমে এটি যেকোনো আধুনিক পশ্চিমা বা রুশ বিমানকে আকাশযুদ্ধে বড় ধরনের চ্যালেঞ্জ জানাতে পারে।   এদিকে, বাংলাদেশের এই সামরিক আধুনিকায়ন ভারতের প্রতিরক্ষা মহলে গভীর উদ্বেগের জন্ম দিয়েছে। ভারতের সামরিক পরিকল্পনাবিদদের আশঙ্কা, বাংলাদেশের উত্তরাঞ্চলীয় বিমান ঘাঁটিগুলোতে এই আধুনিক চীনা ফাইটার জেট মোতায়েন করা হলে তা ভারতের উত্তর-পূর্বাঞ্চলীয় রাজ্যগুলোকে মূল ভূখণ্ডের সাথে যুক্ত করা সংকীর্ণ ‘শিলিগুড়ি করিডোর’ বা ‘চিকেনস নেক’-এর নিরাপত্তার জন্য বড় ধরনের মনস্তাত্ত্বিক ও কৌশলগত চাপ সৃষ্টি করবে। ভারতের চিফ অব ডিফেন্স স্টাফ জেনারেল অনিল চৌহান ইতিপূর্বেই চীন, পাকিস্তান এবং বাংলাদেশের মধ্যে সম্ভাব্য ‘স্বার্থের মিলন’ নিয়ে সতর্কবার্তা দিয়েছিলেন, যা ভারতের আকাশ প্রতিরক্ষা নীতিকে নতুন করে সাজাতে বাধ্য করছে।   ঐতিহাসিকভাবেই বাংলাদেশের সামরিক সরঞ্জামের ৭০ শতাংশেরও বেশি সরবরাহ করে চীন। তবে শেখ হাসিনা সরকারের বিদায়ের পর ট্রানজিট, তিস্তা চুক্তি ও সীমান্ত ব্যবস্থাপনার মতো ইস্যুতে ভারত-বাংলাদেশ দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কে কিছুটা শীতলতা এসেছে। এমন সময়ে চীনের সাথে এই মেগা চুক্তি বেইজিংয়ের প্রতি ঢাকার কৌশলগত ঝুঁকে পড়াকেই নির্দেশ করে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা। যদিও ঢাকা বিষয়টিকে সম্পূর্ণ নিজস্ব সার্বভৌম সিদ্ধান্ত বলে আখ্যায়িত করেছে এবং ভারতের বিরুদ্ধে কোনো জোটে শামিল হওয়া এর উদ্দেশ্য নয় বলে স্পষ্ট করেছে। বাণিজ্য ও সীমান্ত সুরক্ষায় পারস্পরিক নির্ভরতার কারণে ঢাকা-দিল্লির সম্পর্ক পুরোপুরি ভেঙে পড়ার সম্ভাবনা না থাকলেও, এই চুক্তির মাধ্যমে দক্ষিণ এশিয়ার নিরাপত্তা ব্যবস্থা এখন একটি নতুন এবং অত্যন্ত প্রতিযোগিতামূলক যুগে পদার্পণ করতে যাচ্ছে।

ইসতিয়াক আহমেদ জুন ১৯, ২০২৬ ১৪:০ 0
ছবি: সংগৃহীত
চীনে বিশ্বের বৃহত্তম জলবিদ্যুৎ বাঁধ নির্মাণ শুরু, বাড়ছে ভারতের উদ্বেগ

তিব্বতে ইয়ারলুং সাংপো নদীর নিম্ন অববাহিকায় বিশ্বের সবচেয়ে বড় জলবিদ্যুৎ বাঁধ নির্মাণের কাজ আনুষ্ঠানিকভাবে শুরু করেছে চীন। অরুণাচল প্রদেশ সীমান্ত থেকে প্রায় ৫০ কিলোমিটার দূরে অবস্থিত এই বিশাল প্রকল্পকে ঘিরে ভারতে নতুন করে উদ্বেগ দেখা দিয়েছে। সম্ভাব্য ঝুঁকি মোকাবিলায় ইতোমধ্যে নিজেদের কৌশলগত পরিকল্পনা জোরদার করছে নয়াদিল্লি।   চীনের ৬০ হাজার মেগাওয়াট ক্ষমতাসম্পন্ন মেডোগ হাইড্রোপাওয়ার প্রকল্প বর্তমানে নির্মাণাধীন। এর প্রতিক্রিয়ায় ভারত অরুণাচল প্রদেশের আপার সিয়াং ও সিয়াং জেলায় প্রস্তাবিত ১১ হাজার মেগাওয়াট ক্ষমতার সিয়াং আপার মাল্টিপারপাস প্রজেক্ট (এসইউএমপি) বাস্তবায়নের উদ্যোগ এগিয়ে নিচ্ছে। রাষ্ট্রায়ত্ত প্রতিষ্ঠান এনএইচপিসি পরিচালিত এই প্রকল্প বাস্তবায়িত হলে এটি হবে ভারতের বৃহত্তম জলবিদ্যুৎ কেন্দ্র।   প্রকল্পটি থেকে বছরে প্রায় ৪৭ বিলিয়ন ইউনিট বিদ্যুৎ উৎপাদনের লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে। এর সম্ভাব্য ব্যয় ধরা হয়েছে প্রায় ১৩ বিলিয়ন মার্কিন ডলার, যা ভারতীয় মুদ্রায় প্রায় ১ লাখ ৫০ হাজার কোটি রুপির সমান।   তবে দুই দেশের প্রকল্পের অগ্রগতিতে রয়েছে স্পষ্ট পার্থক্য। চীনের মেডোগ প্রকল্পের নির্মাণকাজ ইতোমধ্যে শুরু হয়ে গেছে। অন্যদিকে ভারতের এসইউএমপি প্রকল্প এখনও সম্ভাব্যতা যাচাই ও প্রাথমিক প্রস্তুতির পর্যায়ে রয়েছে। নির্মাণ-পূর্ব কার্যক্রমও এখনো শুরু হয়নি।   ইয়ারলুং সাংপো নদী ভারতে প্রবেশের পর ‘সিয়াং’ নামে পরিচিত হয় এবং পরে ব্রহ্মপুত্র নদে রূপ নেয়। এই নদী অরুণাচল প্রদেশ ও আসামের লাখো মানুষের জীবিকা, কৃষি ও পরিবেশের সঙ্গে ঘনিষ্ঠভাবে জড়িত। বিশেষজ্ঞদের আশঙ্কা, উজানে এত বড় বাঁধ নির্মিত হলে নদীর স্বাভাবিক প্রবাহে বড় ধরনের পরিবর্তন আসতে পারে। এর ফলে কৃষি, জীববৈচিত্র্য ও স্থানীয় পরিবেশ ক্ষতির মুখে পড়ার পাশাপাশি আকস্মিক বন্যার ঝুঁকিও বাড়তে পারে।   ভারতের কেন্দ্রীয় সরকার সম্প্রতি লোকসভায় লিখিত জবাবে জানিয়েছে, ব্রহ্মপুত্র অববাহিকায় চীনের সব ধরনের কার্যক্রম নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে। একই সঙ্গে নিম্ন অববাহিকার মানুষের জীবন ও জীবিকা সুরক্ষায় প্রয়োজনীয় প্রতিরোধমূলক ও সংশোধনমূলক পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাস দিয়েছে সরকার।   নয়াদিল্লি দীর্ঘদিন ধরে আন্তঃসীমান্ত নদী প্রকল্পে স্বচ্ছতা, তথ্য আদান-প্রদান এবং আগাম পরামর্শের বিষয়ে বেইজিংয়ের ওপর চাপ সৃষ্টি করে আসছে। তবে এ ক্ষেত্রে এখন পর্যন্ত উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি হয়নি বলে জানা গেছে।   ভারতের প্রস্তাবিত এসইউএমপি প্রকল্পের অন্যতম লক্ষ্য হলো নিম্নাঞ্চলের মৌসুমি বন্যা নিয়ন্ত্রণ এবং উজানের সম্ভাব্য পানি প্রত্যাহার বা প্রবাহ পরিবর্তনের প্রভাব মোকাবিলা করা। ফলে প্রকল্পটির অর্থনৈতিক গুরুত্বের পাশাপাশি কৌশলগত ও ভূরাজনৈতিক গুরুত্বও ব্যাপক।   এদিকে সম্ভাব্য পরিস্থিতি মোকাবিলায় ভারতের উত্তর-পূর্বাঞ্চলে বন্যা পূর্বাভাস ব্যবস্থা, নদী পর্যবেক্ষণ নেটওয়ার্ক এবং অবকাঠামোগত সক্ষমতা বৃদ্ধির কাজও জোরদার করা হচ্ছে।   সূত্র: এনডিটিভি

শাহারিয়া নয়ন জুন ১৮, ২০২৬ ১৪:০ 0
চীনের ডিএফ-৫সি তরল-জ্বালানি চালিত ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র | ছবি: সংগৃহীত
যুক্তরাষ্ট্র-জাপানের পারমাণবিক সহযোগিতা নিয়ে চীনের তীব্র আপত্তি ও হুঁশিয়ারি

যুক্তরাষ্ট্র ও জাপানের মধ্যে ‘বর্ধিত পারমাণবিক প্রতিরোধ ব্যবস্থা’ (এক্সটেন্ডেড নিউক্লিয়ার ডিটারেন্স) জোরদার করার সাম্প্রতিক উদ্যোগ নিয়ে তীব্র ক্ষোভ ও গুরুতর উদ্বেগ প্রকাশ করেছে চীন। বেইজিং কড়া সতর্কবার্তা দিয়ে জানিয়েছে, ওয়াশিংটন ও টোকিওর এই নীতি পারমাণবিক অস্ত্রের বিস্তার এবং বিশ্বজুড়ে নতুন করে সংঘাতের ঝুঁকি বহুগুণ বাড়িয়ে দিচ্ছে। তুরস্কভিত্তিক আন্তর্জাতিক বার্তা সংস্থা আনাদোলু এক প্রতিবেদনে এই তথ্য নিশ্চিত করেছে।   বৃহস্পতিবার (১৮ জুন) বেইজিংয়ে আয়োজিত নিয়মিত সংবাদ ব্রিফিংয়ে চীনের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র লিন জিয়ান এই বিষয়ে মুখ খোলেন। তিনি সাফ জানান, ‘বর্ধিত প্রতিরোধ’ মূলত শীতল যুদ্ধের সময়কার একটি পুরোনো ও বিপজ্জনক ধারণা। কিছু দেশ নিজেদের ভূরাজনৈতিক স্বার্থ হাসিলের উদ্দেশ্যে এই পারমাণবিক সহযোগিতার পথ বেছে নিয়েছে, যা আন্তর্জাতিক মহলে চরম অস্থিরতা তৈরি করছে।   সম্প্রতি ওয়াশিংটন ও টোকিওর মধ্যে উচ্চপর্যায়ের ‘বর্ধিত প্রতিরোধ’ সংলাপ এবং দক্ষিণ কোরিয়াকে যুক্ত করে নিউক্লিয়ার কনসালটেশন গ্রুপের একটি বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। ওই বৈঠকেই যুক্তরাষ্ট্র স্পষ্ট করে জানায়, জাপানকে যেকোনো মূল্যে রক্ষা করতে তারা নিজেদের সব ধরনের সামরিক সক্ষমতা, এমনকি প্রয়োজন হলে পারমাণবিক শক্তি ব্যবহার করতেও বিন্দুমাত্র দ্বিধা করবে না। মূলত আমেরিকার এই প্রকাশ্য প্রতিশ্রুতির পরই কড়া প্রতিক্রিয়া দেখালো চীন।   মুখপাত্র লিন জিয়ান বলেন, "পারমাণবিক অস্ত্র বিস্তার রোধ চুক্তি (NPT) পর্যালোচনা সম্মেলনগুলোতে বিশ্বের বহু দেশ এই ধরনের ব্যবস্থার তীব্র বিরোধিতা করেছে। অথচ কিছু দেশ পারমাণবিক বলয় তৈরি করে বিশ্বে নতুন করে অস্ত্রের প্রতিযোগিতা শুরু করতে চাইছে।"   এ সময় জাপানের দ্বিমুখী নীতির কঠোর সমালোচনা করে চীনা মুখপাত্র বলেন, টোকিও একদিকে মুখে পারমাণবিক অস্ত্রমুক্ত শান্তিময় বিশ্বের কথা বলে, অন্যদিকে গোপনে যুক্তরাষ্ট্রের পারমাণবিক ছাতার নিচে আশ্রয় নিয়ে ক্রমেই বেশি নির্ভরশীল হয়ে পড়ছে। জাপানকে এনপিটি-সংক্রান্ত আন্তর্জাতিক বাধ্যবাধকতা মেনে চলার আহ্বান জানিয়ে তিনি আরও বলেন, "জাপানের উচিত ‘তিনটি অ-পারমাণবিক নীতি’ অক্ষরে অক্ষরে অনুসরণ করা এবং কোনোভাবেই পারমাণবিক অস্ত্র অর্জনের চেষ্টা না করা।"   উল্লেখ্য, দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ-পরবর্তী সময় থেকেই যুক্তরাষ্ট্র ও জাপান ঘনিষ্ঠ সামরিক মিত্র হিসেবে কাজ করছে। তবে টোকিওর যেকোনো ধরনের পারমাণবিক বা সামরিক অগ্রগতিকে বেইজিং তাদের জাতীয় নিরাপত্তার জন্য সরাসরি বড় হুমকি হিসেবে দেখে থাকে।

তাবাস্সুম মোহাম্মদ জুন ১৭, ২০২৬ ১৪:০ 0
ছবি: সংগৃহীত
ব্রহ্মপুত্রের উজানে বিশ্বের বৃহত্তম বাঁধ নির্মাণ শুরু চীনের, উদ্বেগে ভারত

তিব্বতে ব্রহ্মপুত্র নদের উজানে বিশ্বের সবচেয়ে বড় জলবিদ্যুৎ বাঁধ নির্মাণকাজ শুরু করেছে চীন। ভারতের সীমান্ত থেকে প্রায় ৫০ কিলোমিটার দূরে অবস্থিত এই মেগা প্রকল্পকে ঘিরে নয়াদিল্লির উদ্বেগ নতুন করে সামনে এসেছে। নদীর স্বাভাবিক প্রবাহ, পরিবেশগত ভারসাম্য এবং আঞ্চলিক নিরাপত্তার ওপর সম্ভাব্য প্রভাব নিয়ে ইতোমধ্যে বিভিন্ন মহলে আলোচনা শুরু হয়েছে।   ভারতীয় সংবাদমাধ্যম এনডিটিভির এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, স্যাটেলাইট চিত্র এবং গোয়েন্দা সংস্থাগুলোর তথ্য বিশ্লেষণে দেখা গেছে, সাম্প্রতিক মাসগুলোতে প্রকল্পটির নির্মাণকাজ উল্লেখযোগ্যভাবে এগিয়েছে। দীর্ঘদিন ধরেই সীমান্ত অতিক্রমকারী নদীগুলোর ওপর চীনের বৃহৎ অবকাঠামো প্রকল্প নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে আসছে ভারত।   প্রস্তাবিত এই বাঁধ নির্মাণ করা হচ্ছে ইয়ারলুং সাংপো নদীর ওপর। তিব্বতে উৎপন্ন এই নদী পরে ভারতের অরুণাচল প্রদেশে প্রবেশ করে সিয়াং নামে পরিচিত হয়। এরপর আসামে প্রবাহিত হয়ে ব্রহ্মপুত্র নামে পরিচিতি পায় এবং শেষ পর্যন্ত বাংলাদেশে যমুনা নদী হিসেবে প্রবাহিত হয়। ফলে নদীটির সঙ্গে ভারত ও বাংলাদেশের কোটি কোটি মানুষের জীবন, কৃষি, মৎস্যসম্পদ এবং অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড সরাসরি জড়িত।   ভারতের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, প্রকল্পটির অগ্রগতি সরকার নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করছে। তাদের মতে, এটি শুধু একটি জলবিদ্যুৎ প্রকল্প নয়, বরং আঞ্চলিক জলসম্পদ ব্যবস্থাপনার ক্ষেত্রেও গুরুত্বপূর্ণ প্রভাব ফেলতে পারে।   বিশেষজ্ঞদের আশঙ্কা, এত বড় আকারের বাঁধ নির্মাণের ফলে নদীর পানিপ্রবাহের স্বাভাবিক ধারা পরিবর্তিত হতে পারে। একই সঙ্গে পলি পরিবহন ব্যবস্থা ব্যাহত হওয়ার ঝুঁকি রয়েছে, যা নিম্নাঞ্চলের কৃষি ও নদীভিত্তিক পরিবেশের ওপর দীর্ঘমেয়াদি প্রভাব ফেলতে পারে। এছাড়া বন্যার ধরন পরিবর্তন, জীববৈচিত্র্যের ক্ষতি এবং নদীর প্রতিবেশ ব্যবস্থায় পরিবর্তনের আশঙ্কাও উড়িয়ে দিচ্ছেন না গবেষকরা।   তবে উদ্বেগের বিষয় শুধু পরিবেশ নয়। কৌশলগত দৃষ্টিকোণ থেকেও এই প্রকল্পকে গুরুত্ব দিচ্ছে ভারত। নিরাপত্তা বিশ্লেষকদের মতে, উজানে এত বড় জলাধার ও বাঁধ নির্মিত হলে ভবিষ্যতে পানিপ্রবাহ নিয়ন্ত্রণের ক্ষেত্রে চীনের সক্ষমতা বৃদ্ধি পাবে। দুই দেশের মধ্যে কোনো ধরনের উত্তেজনা বা বিরোধ দেখা দিলে বিষয়টি অতিরিক্ত কৌশলগত গুরুত্ব পেতে পারে।   অবশ্য চীন শুরু থেকেই দাবি করে আসছে, প্রকল্পটির মূল উদ্দেশ্য বিদ্যুৎ উৎপাদন এবং নবায়নযোগ্য জ্বালানি সক্ষমতা বৃদ্ধি। বেইজিংয়ের বক্তব্য অনুযায়ী, এই প্রকল্পের কারণে নিম্নপ্রবাহের দেশগুলোর পানিপ্রবাহ বা স্বার্থ ক্ষতিগ্রস্ত হবে না।   তবে ভারত এ বিষয়ে সতর্ক অবস্থান নিয়েছে। গত বছর দেশটির পার্লামেন্টে এ সংক্রান্ত এক প্রশ্নের জবাবে পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী জানান, ব্রহ্মপুত্র অববাহিকায় চীনের মেগা প্রকল্পগুলোর অগ্রগতি সরকার গুরুত্বের সঙ্গে পর্যবেক্ষণ করছে।   তিনি বলেন, এই প্রকল্পের বিষয়ে প্রথম তথ্য প্রকাশ্যে আসে ১৯৮৬ সালে। এরপর কয়েক দশক ধরে বিভিন্ন পর্যায়ে পরিকল্পনা, সমীক্ষা ও প্রস্তুতিমূলক কার্যক্রম চালিয়ে আসছে চীন।   ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের বক্তব্য অনুযায়ী, ব্রহ্মপুত্র নদসংক্রান্ত সব ধরনের উন্নয়ন কর্মকাণ্ডের ওপর নিয়মিত নজর রাখা হচ্ছে। পাশাপাশি নিম্নপ্রবাহের জনগণের জীবন ও জীবিকা রক্ষায় প্রয়োজনীয় প্রতিরোধমূলক ও সংশোধনমূলক ব্যবস্থা গ্রহণের বিষয়েও সরকার কাজ করছে।   ভারত আরও জানিয়েছে, তারা একাধিকবার চীনের কাছে নিজেদের উদ্বেগের কথা তুলে ধরেছে। বিশেষ করে উজানের কোনো প্রকল্প যেন নিম্নপ্রবাহের দেশগুলোর স্বার্থ ক্ষতিগ্রস্ত না করে, সে বিষয়ে বেইজিংকে সতর্ক করা হয়েছে।   উল্লেখ্য, ২০০৬ সালে গঠিত ভারত-চীন বিশেষজ্ঞ পর্যায়ের যৌথ ব্যবস্থার আওতায় সীমান্ত অতিক্রমকারী নদীগুলো নিয়ে নিয়মিত আলোচনা হয়ে থাকে। তবে প্রকল্পটির নির্মাণকাজ নতুন গতি পাওয়ায় বিষয়টি আবারও আঞ্চলিক কূটনীতি ও জলনিরাপত্তা আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে উঠে এসেছে।   বিশ্লেষকদের মতে, ব্রহ্মপুত্র শুধু ভারত নয়, বাংলাদেশের জন্যও অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ একটি আন্তর্জাতিক নদী। ফলে ভবিষ্যতে এই প্রকল্পের পরিবেশগত ও জলপ্রবাহগত প্রভাব কী হতে পারে, তা নিয়ে দক্ষিণ এশিয়ার দেশগুলোকে নিবিড় পর্যবেক্ষণ অব্যাহত রাখতে হবে।

মোহাম্মদ ইব্রাহিম জুন ১৭, ২০২৬ ১৪:০ 0
ছবি: সংগৃহীত
ইরান ও লেবাননকে মানবিক সহায়তা দেবে চীন

যুদ্ধ পরিস্থিতিতে সৃষ্ট মানবিক বিপর্যয়ের প্রেক্ষাপটে ইরান ও লেবাননকে মানবিক সহায়তা দেওয়ার ঘোষণা দিয়েছে চীন। দেশটির পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, পুনরুদ্ধার ও পুনর্গঠন কার্যক্রমে সহায়তার অংশ হিসেবে বেইজিং এই সহায়তা প্রদান করবে।   চীনের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র লিন জিয়ান রাজধানী বেইজিংয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে বলেন, ইরান ও লেবাননের যুদ্ধ পরিস্থিতিতে সৃষ্ট মানবিক বিপর্যয়ে চীন গভীরভাবে মর্মাহত।   তিনি বলেন, “সংশ্লিষ্ট দেশগুলোর বাস্তব পরিস্থিতি বিবেচনায় নিয়ে চীন ইরান ও লেবাননকে মানবিক সহায়তা দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। এর মাধ্যমে দেশ দুটির জনগণকে পুনরুদ্ধার ও পুনর্গঠন কার্যক্রমে সহায়তা করার পাশাপাশি অর্থনীতি ও জীবিকার উন্নয়নে সহযোগিতা করা হবে।”   চীনের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় আরও জানায়, এই সহায়তার উদ্দেশ্য শুধুমাত্র মানবিক সংকট মোকাবিলা নয়, বরং যুদ্ধ-পরবর্তী সময়ে স্থিতিশীলতা ও পুনর্গঠন কার্যক্রমকে সহায়তা করা।   প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়, ২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইল ইরানের বিরুদ্ধে সামরিক অভিযান শুরু করার পর এটি দ্বিতীয়বারের মতো তেহরানের জন্য মানবিক সহায়তা ঘোষণা করল বেইজিং। এর আগে মার্চ মাসেও চীন ইরানের জন্য মানবিক সহায়তা পাঠিয়েছিল।   এদিকে আন্তর্জাতিক কূটনৈতিক অঙ্গনে ইরান পরিস্থিতি নিয়ে নতুন সমঝোতার আলোচনা চলছে। জানা গেছে, যুক্তরাষ্ট্র ও ইরান যুদ্ধের অবসান ও সমঝোতা প্রক্রিয়ায় পাকিস্তানের মধ্যস্থতায় একটি সমঝোতা স্মারকে সম্মত হয়েছে। আগামী শুক্রবার সুইজারল্যান্ডে এ চুক্তি স্বাক্ষরের জন্য একটি আনুষ্ঠানিক আয়োজনের প্রস্তুতি চলছে।   চীনের এই সহায়তা ঘোষণাকে বিশ্লেষকরা যুদ্ধ-পরবর্তী পুনর্গঠন প্রক্রিয়ায় বেইজিংয়ের সক্রিয় কূটনৈতিক ও অর্থনৈতিক উপস্থিতির অংশ হিসেবে দেখছেন।

শাহারিয়া নয়ন জুন ১৬, ২০২৬ ১৪:০ 0
এআই যুগের সঙ্গে তাল মেলাতে ১২ হাজার কলা ও মানবিক বিভাগের ডিগ্রি বাতিল করেছে চীন
এআই যুগের সঙ্গে তাল মেলাতে ১২ হাজার কলা ও মানবিক বিভাগের ডিগ্রি বাতিল করেছে চীন

কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) নির্ভর অর্থনীতি গড়ে তোলার লক্ষ্যে উচ্চশিক্ষা ব্যবস্থায় বড় ধরনের পরিবর্তন এনেছে চীন। দেশটির বিশ্ববিদ্যালয়গুলো গত কয়েক বছরে কলা, মানবিক ও ভাষাবিষয়ক প্রায় ১২ হাজার ডিগ্রি কর্মসূচি বাতিল করেছে। একই সময়ে প্রযুক্তি ও এআই-সংশ্লিষ্ট হাজার হাজার নতুন ডিগ্রি চালু করা হয়েছে।   চীনের স্থানীয় গণমাধ্যমের প্রতিবেদন অনুযায়ী, বিশ্ববিদ্যালয় পর্যায়ের শিক্ষা কার্যক্রমকে নতুন অর্থনৈতিক বাস্তবতার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ করতেই এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের তথ্য বলছে, দেশটির বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর প্রায় এক-তৃতীয়াংশ শিক্ষা কার্যক্রম এই পুনর্গঠনের আওতায় এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বিপুলসংখ্যক শিক্ষার্থীর ওপর।   প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ২০২১ থেকে ২০২৫ সালের মধ্যে চীনের বিভিন্ন উচ্চশিক্ষা প্রতিষ্ঠানে ১০ হাজার ২০০টি নতুন স্নাতক ডিগ্রি কর্মসূচি চালু করা হয়েছে। এসব নতুন কোর্সের বড় অংশই কৃত্রিম  বুদ্ধিমত্তা, তথ্যপ্রযুক্তি, উন্নত প্রকৌশল, রোবোটিকস এবং উদীয়মান প্রযুক্তি খাতের সঙ্গে সম্পর্কিত।   সাউথ চায়না মর্নিং পোস্টের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসকদের কাছে কলা ও মানবিক বিষয়ের অনেক ডিগ্রি এখন ক্রমেই কর্মসংস্থানের দিক থেকে কম কার্যকর এবং অতিরিক্ত শিক্ষার্থীপূর্ণ ক্ষেত্র হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। বিপরীতে ‘এমবডিড ইন্টেলিজেন্স’সহ নতুন প্রযুক্তিভিত্তিক ডিগ্রিগুলোকে চীনের দীর্ঘমেয়াদি অর্থনৈতিক পরিকল্পনার সঙ্গে বেশি সামঞ্জস্যপূর্ণ মনে করা হচ্ছে।   সাংহাই বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের এক শিক্ষার্থী সংবাদমাধ্যমটিকে জানান, দুর্বল চাকরির বাজারের কারণে তাদের বিশ্ববিদ্যালয় কিছু প্রচলিত ডিগ্রি কর্মসূচি বন্ধ করে দিয়েছে।   নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক ওই শিক্ষার্থীর ভাষ্য, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার দ্রুত অগ্রগতি পণ্য নকশা বা প্রোডাক্ট ডিজাইন খাতে বড় ধরনের পরিবর্তন এনেছে। আগে যেসব কাজের জন্য মানুষের দক্ষতা অপরিহার্য ছিল, এখন তার অনেকটাই এআই দিয়ে করা সম্ভব হচ্ছে।   তিনি বলেন, “মডেল তৈরি, নকশার প্রাথমিক খসড়া এবং দৃশ্যায়নের মতো অনেক গুরুত্বপূর্ণ কাজ এখন কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার মাধ্যমে সম্পন্ন করা যাচ্ছে।”   বিশ্লেষকেরা বলছেন, চীনের এই উদ্যোগ বৈশ্বিক একটি প্রবণতারই অংশ। বিশ্বের বিভিন্ন দেশ তাদের জাতীয় শিক্ষাব্যবস্থা পুনর্গঠন করে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ও ডিজিটাল দক্ষতাকে বেশি গুরুত্ব দিচ্ছে।   ভারত ইতোমধ্যে জাতীয় বিদ্যালয় শিক্ষা কার্যক্রমে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাবিষয়ক পাঠ অন্তর্ভুক্ত করেছে। সংযুক্ত আরব আমিরাতও জাতীয় পর্যায়ে এআই শিক্ষা উদ্যোগ চালু করেছে। একইভাবে কাজাখস্তান কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাকে জাতীয় প্রতিযোগিতা সক্ষমতার গুরুত্বপূর্ণ উপাদান হিসেবে বিবেচনা করে নতুন শিক্ষা কৌশল বাস্তবায়ন করছে।   ইউরোপেও এ ধরনের পরিবর্তন দেখা যাচ্ছে। স্পেন তার ‘ডিজিটাল স্পেন’ কৌশলের অংশ হিসেবে শিক্ষাক্রমে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বিষয়ে সচেতনতা বৃদ্ধির ওপর জোর দিয়েছে।   অন্যদিকে যুক্তরাজ্যেও শিক্ষা ব্যবস্থায় প্রযুক্তিনির্ভর পরিবর্তনের আলোচনা চলছে। দেশটির শিক্ষামন্ত্রী ব্রিজেট ফিলিপসন গত বছর জানিয়েছিলেন, মাধ্যমিক ও উচ্চমাধ্যমিক পর্যায়ে তথ্যবিজ্ঞান ও কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাবিষয়ক নতুন শিক্ষাগত যোগ্যতা চালুর সম্ভাবনা নিয়ে কাজ করছে সরকার।   যুক্তরাজ্যের জাতীয় শিক্ষাক্রমের গত এক দশকের সবচেয়ে বড় পর্যালোচনার ফল আগামী বছর প্রকাশ হওয়ার কথা রয়েছে। নতুন কাঠামো বাস্তবায়ন শুরু হবে ২০২৮ সালের সেপ্টেম্বর থেকে। ব্রিজেট ফিলিপসন সে সময় বলেছিলেন, “জাতীয় শিক্ষাক্রম সর্বশেষ হালনাগাদের পর এক দশকের বেশি সময় পেরিয়ে গেছে। বর্তমান বিশ্বের চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় তরুণদের প্রস্তুত করা এখন আগের যেকোনো সময়ের চেয়ে বেশি গুরুত্বপূর্ণ।”   তিনি আরও বলেন, “শিক্ষার্থীদের এমন দক্ষতা দিতে হবে, যাতে তারা ভবিষ্যতের সুযোগগুলো কাজে লাগাতে পারে এবং দ্রুত পরিবর্তনশীল বিশ্বের সঙ্গে নিজেদের খাপ খাইয়ে নিতে সক্ষম হয়।”

নীলুফা নিশাত জুন ১৫, ২০২৬ ১৪:০ 0
বাণিজ্যিক রকেটে ৮ উপগ্রহ উৎক্ষেপণ, মহাকাশে চীনের আরেক সাফল্য
বাণিজ্যিক রকেটে ৮ উপগ্রহ উৎক্ষেপণ, মহাকাশে চীনের আরেক সাফল্য

চীন সফলভাবে একটি বাণিজ্যিক রকেটের মাধ্যমে একসঙ্গে আটটি উপগ্রহ মহাকাশের নির্ধারিত কক্ষপথে স্থাপন করেছে। দেশটির উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলে অবস্থিত একটি বাণিজ্যিক মহাকাশ উদ্ভাবন পাইলট জোন থেকে সোমবার (১৫ জুন) এই উৎক্ষেপণ কার্যক্রম পরিচালিত হয়।   তুরস্কভিত্তিক আন্তর্জাতিক সংবাদ সংস্থা আনাদোলুর বরাতে জানা গেছে, ‘লিজিয়ান-১’ নামের ক্যারিয়ার রকেটটি নির্ধারিত সময়েই উৎক্ষেপণ করা হয় এবং কোনো ধরনের প্রযুক্তিগত জটিলতা ছাড়াই সবকটি উপগ্রহকে সফলভাবে তাদের নির্ধারিত কক্ষপথে পৌঁছে দেয়।   চীনের রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যম সিনহুয়া জানায়, লিজিয়ান-১ রকেট সিরিজ বর্তমানে দেশটির বাণিজ্যিক মহাকাশ কর্মসূচির অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ বাহন হিসেবে ব্যবহৃত হচ্ছে। সোমবারের এই মিশনটি ছিল এই সিরিজের ১৩তম সফল উৎক্ষেপণ, যা রকেটটির নির্ভরযোগ্যতা ও প্রযুক্তিগত সক্ষমতার প্রমাণ বহন করে।   উন্নত প্রযুক্তিতে নির্মিত এই রকেটটি তৈরি করেছে ‘ক্যাস স্পেস’ নামের একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠান। সংস্থাটি চাইনিজ একাডেমি অব সায়েন্সেসের অধীন ইনস্টিটিউট অব মেকানিক্সের তত্ত্বাবধানে পরিচালিত হয়ে আসছে। চীনের মহাকাশ খাতে বেসরকারি খাতের অংশগ্রহণ বাড়ানোর কৌশলের অংশ হিসেবে এই ধরনের প্রতিষ্ঠানগুলো গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে।   বিশেষজ্ঞরা বলছেন, একসঙ্গে একাধিক উপগ্রহ উৎক্ষেপণের সক্ষমতা অর্জনের মাধ্যমে চীন শুধু প্রযুক্তিগত দক্ষতাই নয়, বরং বৈশ্বিক বাণিজ্যিক মহাকাশ বাজারেও নিজেদের অবস্থান আরও শক্তিশালী করছে। যোগাযোগ, আবহাওয়া পর্যবেক্ষণ, নেভিগেশন এবং বৈজ্ঞানিক গবেষণার জন্য এসব উপগ্রহ গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।   সাম্প্রতিক বছরগুলোতে চীন ধারাবাহিকভাবে মহাকাশ প্রযুক্তিতে বিনিয়োগ বাড়িয়েছে এবং রাষ্ট্রীয় কর্মসূচির পাশাপাশি বেসরকারি খাতকে উৎসাহিত করছে। ফলে দেশটি দ্রুত বিশ্ব মহাকাশ প্রতিযোগিতায় একটি শক্তিশালী অবস্থান তৈরি করতে সক্ষম হয়েছে।   সূত্র: আনাদোলু এজেন্সি, সিনহুয়া

নীলুফা নিশাত জুন ১৪, ২০২৬ ১৪:০ 0
ছবি: কোলাজ আমেরিকা বাংলা
চীনা নাগরিকদের থেকে গোয়েন্দা তথ্য সংগ্রহে ওয়েবসাইট চালু করল তাইওয়ান

চীনের রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক ব্যবস্থার প্রতি ক্ষুব্ধ নাগরিকদের নিরাপদে গোয়েন্দা তথ্য সরবরাহের সুযোগ করে দিতে একটি নতুন ওয়েবসাইট চালু করেছে তাইওয়ান। রবিবার এই ওয়েবসাইটটি আনুষ্ঠানিকভাবে উন্মুক্ত করার কথা জানায় তাইওয়ান সরকার। গণতান্ত্রিকভাবে শাসিত এই দ্বীপরাষ্ট্রটিকে চীন নিজেদের অবিচ্ছেদ্য ভূখণ্ড বলে দাবি করে আসছে, যার ফলে দীর্ঘদিন ধরেই উভয় দেশের মধ্যে ব্যাপক গুপ্তচরবৃত্তির ঘটনা ঘটছে। বিশেষ করে সাম্প্রতিক সময়ে তাইওয়ানে চীনা গুপ্তচরবৃত্তির অভিযোগ উল্লেখযোগ্য হারে বৃদ্ধি পাওয়ার প্রেক্ষাপটেই পাল্টা ব্যবস্থা হিসেবে এই অভিনব পদক্ষেপ নিল তাইপেই।   তাইওয়ানের জাতীয় নিরাপত্তা ব্যুরো (এনএসবি) তাদের ওয়েবসাইটে এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, সাম্প্রতিক বছরগুলোতে চীনের অর্থনীতি বহুমুখী চ্যালেঞ্জের মুখে পড়লেও সেখানে রাজনৈতিক নিয়ন্ত্রণ অত্যন্ত কঠোর রয়েছে। জীবনযাপন ও সমাজকেন্দ্রিক নানা সংকটের কারণে চীনা সাধারণ নাগরিকদের মধ্যে ব্যাপক মাত্রায় অসন্তোষ তৈরি হয়েছে। এর ফলে ইতিমধ্যেই অনেক চীনা নাগরিক তাইওয়ানের সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলোর সঙ্গে যোগাযোগ করে নানা গুরুত্বপূর্ণ তথ্য দেওয়ার আগ্রহ প্রকাশ করেছেন।   এই উদ্যোগের প্রচারণায় এআই-চালিত একটি এক মিনিটের ভিডিও প্রকাশ করেছে এনএসবি। ভিডিওটিতে দেখানো হয়েছে, চীনে সরকারি কর্মকর্তারা কীভাবে একে একে গুম বা অপসারিত হয়ে যাচ্ছেন এবং একজন ক্ষুব্ধ কর্মকর্তা এই পরিস্থিতির পরিবর্তন চেয়ে নতুন ওয়েবসাইটে তথ্য দিচ্ছেন।চীনে এই ওয়েবসাইটটি ব্লক করা থাকলেও ভিপিএন (VPN) ব্যবহার করে অনেক নাগরিক এটিতে প্রবেশ করতে পারবেন বলে ধারণা করা হচ্ছে। তাইওয়ানের নিরাপত্তা ব্যুরো দেশে ও বিদেশে অবস্থানরত সব চীনা নাগরিককে সাহসের সঙ্গে পরিবর্তনের লক্ষ্যে তথ্য প্রদানের আহ্বান জানিয়েছে।   তারা উল্লেখ করেছে, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য ও ইসরায়েলের মতো দেশগুলোর গোয়েন্দা সংস্থাগুলোর আধুনিক কৌশলের অনুকরণেই এই ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে। উল্লেখ্য, ২০২৪ সালে চীনও ঠিক একই ধরনের কৌশল নিয়েছিল, যেখানে তাইওয়ানের তথাকথিত 'বিচ্ছিন্নতাবাদীদের' সম্পর্কে তথ্য দিতে একটি ইমেইল ঠিকানা চালু করেছিল বেইজিং। তবে বেইজিংয়ের সার্বভৌমত্বের দাবি বরাবরই জোরালোভাবে প্রত্যাখ্যান করে তাইওয়ান বলে আসছে, কেবল দ্বীপটির স্বাধীন জনগণই তাদের নিজেদের ভবিষ্যৎ নির্ধারণ করার অধিকার রাখে।

বায়জিদ হাসান জুন ১৪, ২০২৬ ১৪:০ 0
ছবি: সংগৃহীত
‘গোয়েন্দা কচ্ছপ’ ও সেন্সরযুক্ত মাছ দিয়ে সমুদ্রপথে গুপ্তচরবৃত্তি, নতুন সতর্কতা চীনের

চীনের উপকূলীয় জলসীমায় কচ্ছপ, মাছ এবং অন্যান্য সামুদ্রিক প্রাণী ব্যবহার করে গুপ্তচরবৃত্তি চালানো হচ্ছে বলে দাবি করেছে দেশটির রাষ্ট্রীয় নিরাপত্তা মন্ত্রণালয়। বেইজিংয়ের ভাষ্য অনুযায়ী, বিদেশি শক্তিগুলো সামুদ্রিক তথ্য সংগ্রহের জন্য উন্নত প্রযুক্তিসমৃদ্ধ সেন্সর প্রাণীদের শরীরে স্থাপন করে সংবেদনশীল এলাকায় পাঠাচ্ছে।   শুক্রবার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম উইচ্যাটে প্রকাশিত এক বিবৃতিতে চীনের রাষ্ট্রীয় নিরাপত্তা মন্ত্রণালয় দাবি করে, দেশটির জলসীমায় এক ধরনের ‘সামুদ্রিক গুপ্তচরবৃত্তির স্রোত’ সক্রিয় রয়েছে। এর মাধ্যমে বিদেশি গোয়েন্দা সংস্থাগুলো চীনের উপকূল, সমুদ্রতল এবং সামুদ্রিক পরিবেশসংক্রান্ত গুরুত্বপূর্ণ তথ্য সংগ্রহের চেষ্টা করছে।   বিবৃতিতে বলা হয়, কিছু সামুদ্রিক প্রাণীর শরীরে বিশেষ সেন্সর বসানো হয়েছে, যা সমুদ্রের স্রোত, পানির তাপমাত্রা, গভীরতা এবং সমুদ্রতলের বৈশিষ্ট্য সম্পর্কে তথ্য সংগ্রহ করে। পরে এসব তথ্য বিদেশে অবস্থানরত উপগ্রহে পাঠানো হয় বলে অভিযোগ করেছে চীনা কর্তৃপক্ষ।   চীনের দাবি, এই তথ্য ব্যবহার করে বিদেশি শক্তিগুলো দেশটির উপকূলীয় এলাকার বিস্তারিত সামুদ্রিক মানচিত্র তৈরি করতে পারে, যা ভবিষ্যতে সামরিক বা গোয়েন্দা কর্মকাণ্ডে ব্যবহৃত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। রাষ্ট্রীয় নিরাপত্তা মন্ত্রণালয় আরও জানিয়েছে, তারা বিভিন্ন সময়ে আবহাওয়া পর্যবেক্ষণ যন্ত্র, উচ্চক্ষমতাসম্পন্ন শ্রবণ সেন্সরযুক্ত ভাসমান যন্ত্র এবং সৌরশক্তিচালিত স্বয়ংক্রিয় সামুদ্রিক গ্লাইডার উদ্ধার করেছে। এসব যন্ত্র বন্দর এলাকায় চলাচল, সমুদ্রপথের কার্যক্রম এবং পরিবেশগত তথ্য সংগ্রহে সক্ষম বলে দাবি করা হয়েছে।   চীনা কর্তৃপক্ষের মতে, সমুদ্রস্রোতের গতিবিধি, পানির তাপমাত্রা, তাপমাত্রার বণ্টন এবং সমুদ্রতলের গঠনসংক্রান্ত তথ্য বিদেশি গোয়েন্দা সংস্থার হাতে গেলে তা দেশের জাতীয় নিরাপত্তা, সামরিক স্বার্থ এবং অর্থনৈতিক নিরাপত্তার জন্য ঝুঁকি তৈরি করতে পারে।   তবে চীনের এই দাবিগুলোর পক্ষে স্বাধীনভাবে যাচাই করা কোনো প্রমাণ এখন পর্যন্ত প্রকাশ করা হয়নি। আন্তর্জাতিক নিরাপত্তা বিশ্লেষকদের একটি অংশ মনে করেন, সামুদ্রিক গবেষণা ও পরিবেশ পর্যবেক্ষণে বিভিন্ন ধরনের সেন্সর, ভাসমান যন্ত্র ও স্বয়ংক্রিয় প্রযুক্তি ব্যবহৃত হলেও সেগুলোর সবকিছুকে গুপ্তচরবৃত্তির সঙ্গে যুক্ত করা যায় না। ফলে চীনের অভিযোগগুলোর প্রকৃত ভিত্তি নিয়ে প্রশ্নও রয়েছে।   এদিকে দেশটির নিরাপত্তা সংস্থা জেলে, নৌযান মালিক, গবেষক এবং উপকূলীয় বাসিন্দাদের সন্দেহজনক যেকোনো যন্ত্র বা অস্বাভাবিক সামুদ্রিক বস্তুর বিষয়ে সতর্ক থাকার আহ্বান জানিয়েছে। চীনে সামুদ্রিক গোয়েন্দা সরঞ্জাম শনাক্ত বা উদ্ধারকারীদের জন্য পুরস্কার দেওয়ার ব্যবস্থাও রয়েছে। গত কয়েক বছর ধরে দেশটির বিভিন্ন অঞ্চলে এমন কর্মসূচি চালু রয়েছে। সরকারি তথ্য অনুযায়ী, সন্দেহভাজন নজরদারি সরঞ্জাম শনাক্ত করে কর্তৃপক্ষকে সহায়তা করলে সর্বোচ্চ পাঁচ লাখ ইউয়ান পর্যন্ত পুরস্কার দেওয়া হতে পারে।   বিশ্লেষকদের মতে, সাম্প্রতিক বছরগুলোতে প্রযুক্তিনির্ভর গোয়েন্দা কর্মকাণ্ড, সামুদ্রিক নিরাপত্তা এবং ভূরাজনৈতিক প্রতিযোগিতা নিয়ে যুক্তরাষ্ট্র, চীন ও অন্যান্য শক্তিধর দেশের মধ্যে উত্তেজনা বেড়েছে। সেই প্রেক্ষাপটে চীনের এই অভিযোগ নতুন করে আন্তর্জাতিক আলোচনার জন্ম দিয়েছে।   তবে কচ্ছপ বা মাছ ব্যবহার করে বিদেশি শক্তিগুলো বাস্তবিক অর্থে কতটা গোয়েন্দা কার্যক্রম চালাচ্ছে, সে বিষয়ে এখনো কোনো স্বাধীন ও নির্ভরযোগ্য প্রমাণ প্রকাশিত হয়নি। ফলে বিষয়টি নিয়ে কৌতূহল যেমন তৈরি হয়েছে, তেমনি সংশয়ও রয়ে গেছে।

মোহাম্মদ ইব্রাহিম জুন ১৩, ২০২৬ ১৪:০ 0
ছবি: সংগৃহীত
যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সম্ভাব্য চুক্তির আগে তেহরানে রাশিয়া ও চীনের রাষ্ট্রদূতদের সঙ্গে ইরানের জরুরি বৈঠক

যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে একটি খসড়া সমঝোতা চুক্তি চূড়ান্ত হওয়ার জোর গুঞ্জনের মধ্যেই ইরান তেহরানে রাশিয়া ও চীনের রাষ্ট্রদূতদের সঙ্গে জরুরি ত্রিপক্ষীয় বৈঠক করেছে। শনিবার অনুষ্ঠিত এই বৈঠকে অংশ নেন ইরানের উপ-পররাষ্ট্রমন্ত্রী কাজেম ঘারিভাবাদি।   ইরানের আধা-সরকারি বার্তা সংস্থা ইসনা (ISNA)-এর বরাতে জানা গেছে, বৈঠকে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যকার প্রস্তাবিত সমঝোতা স্মারক (MoU) এবং সাম্প্রতিক কূটনৈতিক অগ্রগতি নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়। বৈঠক শেষে দেওয়া বিবৃতিতে কাজেম ঘারিভাবাদি বলেন, ইরান, চীন এবং রাশিয়ার মধ্যকার কৌশলগত অংশীদারিত্ব ও পারস্পরিক সহযোগিতা ভবিষ্যতেও অব্যাহত থাকবে।   গত কয়েকদিন ধরে ওয়াশিংটন, তেহরান এবং পাকিস্তানের কর্মকর্তাদের বিভিন্ন বক্তব্যে সম্ভাব্য এই সমঝোতা স্মারক নিয়ে আলোচনা চললেও এখন পর্যন্ত চুক্তির সুনির্দিষ্ট শর্ত প্রকাশ করা হয়নি।   আন্তর্জাতিক বিশ্লেষকদের মতে, রাশিয়া ও চীন দীর্ঘদিন ধরেই ইরানের গুরুত্বপূর্ণ কূটনৈতিক ও কৌশলগত অংশীদার হিসেবে ভূমিকা রাখছে। বিশেষ করে সাম্প্রতিক সময়ে চীন যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যকার আলোচনায় মধ্যস্থতাকারী হিসেবে সক্রিয় ভূমিকা পালন করছে। গত মাসে বেইজিং সফরে ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রীকে আলোচনায় পূর্ণ সমর্থনের আশ্বাসও দেয় চীন।   অন্যদিকে রাশিয়ার সঙ্গে ইরানের নিরাপত্তা ও আঞ্চলিক সহযোগিতা আরও ঘনিষ্ঠ হয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে। বিভিন্ন পর্যায়ে মধ্যপ্রাচ্যে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক উপস্থিতি সংক্রান্ত তথ্য আদান-প্রদানের বিষয়েও সহযোগিতার ইঙ্গিত পাওয়া গেছে।

তাবাস্সুম মোহাম্মদ জুন ১২, ২০২৬ ১৪:০ 0
ছবি: সংগৃহীত
সামরিক মহড়ায় চীনের দিক অভিমুখে রকেট নিক্ষেপ করল তাইওয়ান

তাইওয়ানের সামরিক বাহিনী যুক্তরাষ্ট্র থেকে সরবরাহকৃত উচ্চগতির মোবাইল রকেট সিস্টেম এইমার্স ব্যবহার করে সামরিক মহড়ায় চীনের দিকে অভিমুখে রকেট নিক্ষেপ করেছে। বুধবার তাইচুং এলাকায় অনুষ্ঠিত এই লাইভ-ফায়ার অনুশীলনকে সম্ভাব্য চীনা হামলার বিরুদ্ধে প্রতিরক্ষা সক্ষমতা যাচাইয়ের অংশ হিসেবে দেখা হচ্ছে।   মহড়ায় ব্যবহৃত এইমার্স (উচ্চগতির মোবাইল আর্টিলারি রকেট সিস্টেম) মূলত স্বল্প পাল্লার রকেট নিক্ষেপে সক্ষম, যা নিক্ষেপের পর উপকূলের কাছাকাছি সমুদ্র এলাকায় গিয়ে পড়ে। তাইওয়ানের সেনাবাহিনী জানিয়েছে, এবারই প্রথমবারের মতো তাইওয়ান প্রণালীর দিকে রকেট নিক্ষেপ করা হয়েছে, যা চীন ও তাইওয়ানের মধ্যে অত্যন্ত সংবেদনশীল সামুদ্রিক অঞ্চল হিসেবে পরিচিত।   সেনা কর্মকর্তা সার্জেন্ট ওয়াং মিং-হুই বলেন, “বর্তমান শত্রু হুমকির কারণে আমরা এইমার্স প্রশিক্ষণ অব্যাহত রাখব। দেশ রক্ষায় আমাদের সংকল্প অটল।” সামরিক সূত্র অনুযায়ী, মহড়ায় দ্রুত মোতায়েন ও লক্ষ্যভেদ সক্ষমতা যাচাইয়ে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়। “শুট অ্যান্ড স্কুট” কৌশলের মাধ্যমে লঞ্চারগুলো দ্রুত অবস্থান পরিবর্তন করে আঘাত হেনে তাৎক্ষণিকভাবে নিরাপদ স্থানে সরে যায়, যা আধুনিক যুদ্ধ কৌশলের গুরুত্বপূর্ণ অংশ হিসেবে বিবেচিত।   তাইওয়ানের পশ্চিম উপকূলে অনুষ্ঠিত দ্বিতীয় দিনের এই মহড়ায় ১৫৫ মিলিমিটার হাউইটজারসহ অন্যান্য অস্ত্র ব্যবস্থাও ব্যবহার করা হয়। কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, সম্ভাব্য চীনা আক্রমণের সময় দ্রুত প্রতিক্রিয়া এবং নির্ভুল আঘাত নিশ্চিত করাই এই অনুশীলনের মূল লক্ষ্য।   এই বিষয়ে তাইওয়ানের যুক্তরাষ্ট্রে নিযুক্ত প্রতিনিধি আলেকজান্ডার ইউই বলেন, “আমরা একটি দ্বীপ দেশ, তাই পূর্ব বা পশ্চিম দিকে গুলি চালানো সম্ভব। তাই তারা পশ্চিম দিক বেছে নিয়েছে।” চীন দীর্ঘদিন ধরে তাইওয়ানকে নিজেদের অংশ হিসেবে দাবি করে আসছে এবং প্রয়োজনে বল প্রয়োগের মাধ্যমে একীভূত করার অবস্থান জানিয়ে আসছে। অন্যদিকে যুক্তরাষ্ট্র আনুষ্ঠানিক স্বীকৃতি না দিলেও তাইওয়ানকে অস্ত্র সরবরাহসহ প্রতিরক্ষা সহযোগিতা দিয়ে আসছে।   বিশ্লেষকদের মতে, এইমার্স ব্যবহারের মাধ্যমে তাইওয়ান তার “অসম যুদ্ধ কৌশল” আরও শক্তিশালী করছে, যার লক্ষ্য বড় সামরিক শক্তির বিপরীতে দ্রুত, মোবাইল এবং নির্ভুল আঘাতের সক্ষমতা তৈরি করা। সম্প্রতি যুক্তরাষ্ট্র তাইওয়ানের জন্য আরও ৮২টি এইমার্স সিস্টেম বিক্রির পরিকল্পনা করেছিল। তবে সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলোর শীর্ষ বৈঠকের পর সেই প্রক্রিয়া আপাতত স্থগিত রয়েছে বলে জানা গেছে।

শাহারিয়া নয়ন জুন ১০, ২০২৬ ১৪:০ 0
ছবি: সংগৃহীত
চীন–উত্তর কোরিয়ার দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক জোরদারে সুদূরপ্রসারী পরিকল্পনা গ্রহণ

চীন ও উত্তর কোরিয়া দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক আরও গভীর ও দীর্ঘমেয়াদি কাঠামোয় এগিয়ে নিতে ‘সুদূরপ্রসারী পরিকল্পনা’ গ্রহণ করেছে বলে জানিয়েছে উত্তর কোরিয়ার রাষ্ট্রীয় সংবাদ সংস্থা কোরিয়ান সেন্ট্রাল নিউজ এজেন্সি (কেসিএনএ)। বুধবার প্রকাশিত প্রতিবেদনে এই তথ্য জানানো হয়।   প্রতিবেদন অনুযায়ী, গত সোমবার চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং উত্তর কোরিয়া সফর করেন। এই সফরের সময় দুই দেশ ভবিষ্যৎ সম্পর্ক উন্নয়নের লক্ষ্যে দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা গ্রহণের বিষয়ে সম্মত হয়।   শি জিনপিংয়ের এই সফর এমন এক সময় অনুষ্ঠিত হলো, যখন উত্তর কোরিয়া ও রাশিয়ার ঘনিষ্ঠতা উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে। ইউক্রেন যুদ্ধের প্রেক্ষাপটে রাশিয়াকে সহায়তা করতে উত্তর কোরিয়া সেনা ও সামরিক সরঞ্জাম পাঠিয়েছে বলে বিভিন্ন প্রতিবেদনে উল্লেখ রয়েছে।   কেসিএনএ জানায়, উত্তর কোরিয়ার নেতা কিম জং উন ও চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক আরও শক্তিশালী করার লক্ষ্যে একটি দীর্ঘমেয়াদি ও সুদূরপ্রসারী পরিকল্পনা প্রণয়নে সন্তোষ প্রকাশ করেছেন।   সংস্থাটির ভাষ্য অনুযায়ী, দুই দিনের এই সফরে চীন ও উত্তর কোরিয়া তাদের ঐতিহাসিক বন্ধুত্ব ও পারস্পরিক সহযোগিতা আরও গভীর করার প্রতিশ্রুতি পুনর্ব্যক্ত করে। পাশাপাশি দুই দেশ তাদের সম্পর্ককে কৌশলগতভাবে আরও শক্তিশালী অবস্থানে নিয়ে যাওয়ার বিষয়ে একমত হয়।   সফর শেষে কিম জং উনকে পাঠানো এক চিঠিতে শি জিনপিং বলেন, উভয় নেতা পারস্পরিক স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিভিন্ন বিষয়ে গভীর মতবিনিময় করেছেন এবং গুরুত্বপূর্ণ একাধিক বিষয়ে অভিন্ন সমঝোতায় পৌঁছেছেন।   চিঠিতে তিনি আরও উল্লেখ করেন, এই বৈঠক দুই দেশের ঐতিহ্যবাহী বন্ধুত্বকে আরও সুদৃঢ় করা, যৌথ উন্নয়ন ও সমৃদ্ধি এগিয়ে নেওয়া এবং আঞ্চলিক ও বৈশ্বিক শান্তি ও স্থিতিশীলতা রক্ষায় উভয় পক্ষের অঙ্গীকারকে প্রতিফলিত করে।   সূত্র: বিএসএস

শাহারিয়া নয়ন জুন ৯, ২০২৬ ১৪:০ 0
প্রতীকী ছবি
৩৪ তলার ফ্ল্যাট কিনে বিপাকে ক্রেতা, পরে জানা গেল ভবনই মাত্র ৩২ তলা

চীনের এক ব্যক্তি ফ্ল্যাটের মূল্য পরিশোধ করার বহু বছর পর জানতে পারেন, তিনি যে ৩৪ তলার অ্যাপার্টমেন্টটি কিনেছিলেন তার কোনো অস্তিত্বই নেই। কারণ যে ভবনে ফ্ল্যাটটি থাকার কথা ছিল, সেটি নির্মিত হয়েছে মাত্র ৩২ তলা পর্যন্ত। এনডিটিভির প্রতিবেদনে বলা হয়, শেন নামের ওই ব্যক্তি ২০১৩ সালে চীনের শানসি প্রদেশের শিয়ান শহরের নিকটবর্তী একটি এলাকায় একটি অ্যাপার্টমেন্ট কেনার জন্য অর্থ পরিশোধ করেন। পরে তিনি জানতে পারেন, তিনি একটি আবাসন কেলেঙ্কারির শিকার হয়েছেন।   সাউথ চায়না মর্নিং পোস্টের তথ্য অনুযায়ী, শেন কথিত ৩৪তম তলায় ৯০ বর্গমিটারের একটি অ্যাপার্টমেন্ট প্রতি বর্গমিটার ২ হাজার ৬৪৬ ইউয়ান দরে কিনেছিলেন। প্রকল্পটি ‘সীমিত সম্পত্তির অধিকার’ ক্যাটাগরির হওয়ায় এর মূল্য তুলনামূলক কম ছিল। এ ধরনের প্রকল্প অনেক ক্ষেত্রে সরকারি অনুমোদন ছাড়া নির্মিত হয় এবং সাধারণ আবাসিক প্রকল্পের মতো পূর্ণ আইনি সুরক্ষা পায় না।   ২০১৩ সালে শেন অ্যাপার্টমেন্টটির জন্য ১ লাখ ১৭ হাজার ৭০০ ইউয়ান ডাউন পেমেন্ট হিসেবে প্রদান করেন। তার দাবি, প্রয়োজনীয় অনুমোদন ও সনদপত্র পরে সংগ্রহ করে দেওয়া হবে বলে ডেভেলপার তাকে আশ্বস্ত করেছিল। তবে এ ধরনের প্রকল্পে প্রয়োজনীয় আইনি নথিপত্র সংগ্রহ করা অনেক সময় সম্ভব হয় না।   অ্যাপার্টমেন্টটি ২০১৫ সালে হস্তান্তরের কথা থাকলেও নির্মাণকাজে বিলম্ব হওয়ায় সময়সীমা পিছিয়ে যায়। পরে ২০১৭ সালে ডেভেলপার শেনকে জানায়, ভবনটিতে মাত্র ৩২টি তলা রয়েছে। ফলে তিনি যে ইউনিট কিনেছেন বলে মনে করেছিলেন, সেটি বাস্তবে বরাদ্দ দেওয়ার কোনো সুযোগ নেই।   পরবর্তীতে কোম্পানিটি তাকে ৩২ তলায় একটি বিকল্প অ্যাপার্টমেন্টের প্রস্তাব দেয়। কিন্তু শেন তাৎক্ষণিকভাবে বাকি অর্থ পরিশোধ করতে না পারায় সেই ইউনিট অন্য একজন ক্রেতার কাছে বিক্রি করে দেওয়া হয়।   এরপর শেন তার অর্থ ফেরত দাবি করেন। তবে ডেভেলপার জানায়, তারা আর্থিক সংকটে রয়েছে এবং পুরো অর্থ একসঙ্গে ফেরত দেওয়া সম্ভব নয়। ডেভেলপারের সঙ্গে যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হওয়ার আগে শেন ২০২০ সালে ২০ হাজার ইউয়ান এবং ২০২২ সালে আরও ৫০ হাজার ইউয়ান ফেরত পান। পরে তিনি বিষয়টি নিয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের দ্বারস্থ হন। কর্তৃপক্ষ ডেভেলপারকে শেনের অগ্রিম পরিশোধ করা অর্থের অবশিষ্ট ৪৭ হাজার ৭০০ ইউয়ান এবং এর সঙ্গে ২৭ হাজার ইউয়ান সুদ ফেরত দেওয়ার নির্দেশ দেয়। একই সঙ্গে আদেশে বলা হয়, নির্ধারিত অর্থ পরিশোধ না করলে ডেভেলপারকে অতিরিক্ত ৪৭ হাজার ইউয়ান ক্ষতিপূরণ দিতে হবে।   তবে ওই নির্দেশনার পরও চলতি বছরের মে মাস পর্যন্ত শেন তার বকেয়া অর্থ ফেরত পাননি। অ্যাপার্টমেন্টটি কেনার এক দশকের বেশি সময় পার হলেও তিনি এখনো পূর্ণ ক্ষতিপূরণ পাননি। ঘটনাটি চীনে আইনি সুরক্ষাবিহীন স্বল্পমূল্যের আবাসন প্রকল্পে বিনিয়োগের ঝুঁকি নিয়ে নতুন করে আলোচনা তৈরি করেছে।  

শাহারিয়া নয়ন জুন ৮, ২০২৬ ১৪:০ 0
ইলন মাস্কের আগেই বাণিজ্যিক মস্তিষ্ক-চিপ অনুমোদন পেল চীন। ছবি: রয়টার্স
চিন্তার মাধ্যমে ডিভাইস নিয়ন্ত্রণের যুগ? বিশ্বের প্রথম বাণিজ্যিক মস্তিষ্ক-চিপ অনুমোদন

মানুষের মস্তিষ্ককে সরাসরি কম্পিউটারের সঙ্গে যুক্ত করার প্রযুক্তি নিয়ে বিশ্বজুড়ে প্রতিযোগিতা চলছে কয়েক বছর ধরেই। সেই প্রতিযোগিতায় এবার আলোচনার কেন্দ্রে উঠে এসেছে চীন। দেশটির গবেষকরা দাবি করছেন, বিশ্বের প্রথম বাণিজ্যিকভাবে অনুমোদিত মস্তিষ্ক-কম্পিউটার সংযোগকারী চিপ বাজারে আনতে তারা সফল হয়েছেন। এর ফলে প্রযুক্তি খাতে আলোচিত উদ্যোক্তা ইলন মাস্কের প্রতিষ্ঠান নিউরালিংকের আগেই গুরুত্বপূর্ণ একটি মাইলফলক স্পর্শ করল চীন।   চীনা গবেষণা প্রতিষ্ঠান ও প্রযুক্তি কোম্পানিগুলোর যৌথ উদ্যোগে তৈরি ‘নিও’ (NEO) নামের এই চিপ ইতোমধ্যে ক্লিনিক্যাল পরীক্ষা সম্পন্ন করেছে এবং বাণিজ্যিক ব্যবহারের জন্য অনুমোদন পেয়েছে বলে বিভিন্ন আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমে খবর প্রকাশিত হয়েছে।   গবেষকদের মতে, প্রথম ধাপে এই প্রযুক্তি মূলত মেরুদণ্ডে গুরুতর আঘাত পাওয়া এবং পক্ষাঘাতে আক্রান্ত রোগীদের সহায়তার জন্য ব্যবহার করা হবে। চিপটি মানুষের মস্তিষ্কের সংকেত বিশ্লেষণ করে বিভিন্ন ডিজিটাল ডিভাইস বা সহায়ক প্রযুক্তিকে নিয়ন্ত্রণ করতে সক্ষম।   বিশেষজ্ঞদের ভাষ্য অনুযায়ী, এটি এমন একটি প্রযুক্তি যা ভবিষ্যতে কথা বলতে অক্ষম, চলাফেরায় অক্ষম বা স্নায়বিক জটিলতায় ভোগা মানুষের জীবনমান উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।   মস্তিষ্ক-কম্পিউটার সংযোগ প্রযুক্তি নিয়ে সবচেয়ে আলোচিত প্রতিষ্ঠানগুলোর একটি হলো ইলন মাস্কের নিউরালিংক। প্রতিষ্ঠানটি দীর্ঘদিন ধরে এমন একটি প্রযুক্তি উন্নয়নের চেষ্টা করছে, যার মাধ্যমে মানুষ শুধুমাত্র চিন্তার সাহায্যে কম্পিউটার নিয়ন্ত্রণ করতে পারবে।   সম্প্রতি এক অনুষ্ঠানে মাস্ক বলেন, পক্ষাঘাতগ্রস্ত মানুষের চলাচলের সক্ষমতা ফিরিয়ে দেওয়া এবং দৃষ্টিশক্তি পুনরুদ্ধারের মতো সম্ভাবনা এই প্রযুক্তিকে মানবজাতির জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ করে তুলেছে।   নিউরালিংকের লক্ষ্য হলো এমন এক ব্যবস্থা তৈরি করা, যেখানে ব্যবহারকারীরা কীবোর্ডে টাইপ করা, কম্পিউটারের কার্সর নিয়ন্ত্রণ করা কিংবা বিভিন্ন ডিজিটাল কাজ শুধুমাত্র মস্তিষ্কের সংকেতের মাধ্যমে করতে পারবেন।   তবে চীনের ‘নিও’ চিপের বিশেষত্ব হলো এটি তুলনামূলকভাবে কম আক্রমণাত্মক পদ্ধতিতে স্থাপন করা যায়। গবেষকদের তথ্য অনুযায়ী, চিপটি মাথার খুলি ও মস্তিষ্কের সুরক্ষামূলক আবরণের মাঝামাঝি স্থানে বসানো হয়। সেখানে থাকা সেন্সরগুলো মস্তিষ্কের তরঙ্গ সংগ্রহ করে কম্পিউটার ব্যবস্থায় পাঠায়, যা পরে ডিজিটাল নির্দেশনায় রূপান্তরিত হয়।   এ পর্যন্ত ৩৬ জন রোগীর ওপর এই প্রযুক্তির পরীক্ষা চালানো হয়েছে এবং প্রাথমিক ফলাফল ইতিবাচক বলে দাবি করা হচ্ছে।   অন্যদিকে নিউরালিংকের পরীক্ষামূলক এন-১ চিপ এখনো যুক্তরাষ্ট্রের সাধারণ ব্যবহারের অনুমোদন পায়নি। যদিও ২০২৪ সাল থেকে মানবদেহে পরীক্ষামূলক ব্যবহার শুরু হয়েছে। বর্তমানে সীমিত সংখ্যক অংশগ্রহণকারীর ওপর এর কার্যকারিতা পরীক্ষা করা হচ্ছে।   নিউরালিংকের পরীক্ষায় অংশ নেওয়া অড্রি ক্রুস নামের এক নারী সম্প্রতি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে জানান, প্রায় দুই দশক পর তিনি প্রথমবারের মতো নিজের নাম লিখতে সক্ষম হয়েছেন। তার মতে, এই প্রযুক্তি একদিন লাখো মানুষকে শুধু চিন্তার মাধ্যমে বিভিন্ন ডিভাইস নিয়ন্ত্রণের সুযোগ করে দিতে পারে।   তবে প্রযুক্তিটির সম্ভাবনার পাশাপাশি উদ্বেগও কম নয়। সাইবার নিরাপত্তা ও স্নায়ুবিজ্ঞান বিশেষজ্ঞরা বলছেন, মানুষের মস্তিষ্ক থেকে সংগৃহীত তথ্য পৃথিবীর সবচেয়ে ব্যক্তিগত ও সংবেদনশীল তথ্যের মধ্যে অন্যতম।   অস্ট্রেলিয়ার গ্রিফিথ বিশ্ববিদ্যালয়ের সাইবার নিরাপত্তা বিশেষজ্ঞ ডেভিড টাফলির মতে, মস্তিষ্ক-চিপ প্রযুক্তি চিকিৎসাবিজ্ঞানের জন্য আশাব্যঞ্জক হলেও এর নিরাপত্তা নিশ্চিত করা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ তাত্ত্বিকভাবে এসব ডিভাইস হ্যাক হলে ব্যবহারকারীর চিন্তা, স্মৃতি কিংবা স্নায়বিক তথ্য ঝুঁকির মুখে পড়তে পারে।   তিনি সতর্ক করে বলেন, ভবিষ্যতে যদি এই প্রযুক্তি ব্যাপকভাবে ব্যবহৃত হয়, তাহলে তথ্যের মালিকানা, গোপনীয়তা ও নিরাপত্তা নিয়ে নতুন ধরনের আইনি ও নৈতিক প্রশ্ন দেখা দিতে পারে।   বিনিয়োগ বিশ্লেষকদের মতে, বর্তমানে মস্তিষ্ক-কম্পিউটার সংযোগ প্রযুক্তির বৈশ্বিক বাজারের আকার প্রায় ৪৯ কোটি ডলার। আগামী এক দশকের মধ্যে এ বাজার কয়েক গুণ বৃদ্ধি পেতে পারে।   বিশেষজ্ঞদের ধারণা, পক্ষাঘাত, পারকিনসনস রোগ, মৃগীরোগ, স্ট্রোক-পরবর্তী জটিলতা, বাকশক্তি হারানো এবং বিভিন্ন স্নায়বিক সমস্যায় আক্রান্ত কোটি কোটি মানুষের জন্য এই প্রযুক্তি নতুন সম্ভাবনার দ্বার খুলে দিতে পারে।   তবে একই সঙ্গে এটি এমন এক প্রযুক্তিগত যুগের সূচনা করছে, যেখানে মানুষের মস্তিষ্ক, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা এবং ডিজিটাল অবকাঠামোর সম্পর্ক নিয়ে নতুন বিতর্ক সামনে আসবে। ফলে চিকিৎসা, প্রযুক্তি, গোপনীয়তা এবং নৈতিকতার প্রশ্নে আগামী বছরগুলোতে মস্তিষ্ক-চিপ প্রযুক্তি বৈশ্বিক আলোচনার অন্যতম কেন্দ্রবিন্দু হয়ে উঠতে পারে।

মোহাম্মদ ইব্রাহিম জুন ৭, ২০২৬ ১৪:০ 0
ছবি: তিয়ানআনমেন স্কয়ার, চীন
নিষিদ্ধ ইতিহাসের দরজায় আবারও কড়া নাড়ছে চীনের নতুন প্রজন্ম

চীনে ১৯৮৯ সালের তিয়ানআনমেন স্কয়ার আন্দোলন ও পরবর্তী দমন অভিযানের স্মৃতি দীর্ঘদিন ধরেই কঠোর রাষ্ট্রীয় নিয়ন্ত্রণের মধ্যে রয়েছে। পাঠ্যপুস্তক, সংবাদমাধ্যম এবং ইন্টারনেটের নানা স্তরে এই অধ্যায়ের উল্লেখ কার্যত নিষিদ্ধ। তবে প্রযুক্তিনির্ভর সেন্সরশিপের যুগেও ঘটনাটি নিয়ে নতুন করে আগ্রহ দেখাতে শুরু করেছে দেশটির তরুণ প্রজন্ম।   বিশ্লেষকদের মতে, ইতিহাসকে আড়াল করার দীর্ঘ প্রচেষ্টা উল্টো অনেক তরুণের মধ্যে কৌতূহল তৈরি করেছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম, আন্তর্জাতিক ক্রীড়া অঙ্গন কিংবা বিনোদন জগতের নানা ঘটনাকে কেন্দ্র করে তারা এমন প্রশ্ন করতে শুরু করেছে, যা শেষ পর্যন্ত তাদের তিয়ানআনমেনের ইতিহাসের কাছে নিয়ে যাচ্ছে।   তিয়ানআনমেন আন্দোলনের সূচনা হয়েছিল ১৯৮৯ সালের এপ্রিল মাসে। চীনা কমিউনিস্ট পার্টির সাবেক নেতা হু ইয়াওবাংয়ের মৃত্যুর পর বেইজিংয়ের তিয়ানআনমেন স্কয়ারে জড়ো হতে শুরু করেন শিক্ষার্থীরা। উদারপন্থী হিসেবে পরিচিত এই নেতার মৃত্যুতে শোক প্রকাশ করতে গিয়ে তারা দুর্নীতিবিরোধী পদক্ষেপ, মতপ্রকাশের স্বাধীনতা, সংবাদমাধ্যমের স্বাধীনতা এবং রাজনৈতিক সংস্কারের দাবিও তুলতে শুরু করেন।   ক্রমেই আন্দোলনটি বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসের গণ্ডি ছাড়িয়ে বৃহত্তর গণআন্দোলনের রূপ নেয়। এতে যোগ দেন শ্রমিক, শিক্ষক, সাংবাদিক, বুদ্ধিজীবীসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ। মে মাসে শিক্ষার্থীদের অনশন কর্মসূচি আন্দোলনকে আরও তীব্র করে তোলে এবং আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়েরও দৃষ্টি আকর্ষণ করে।   চীনা সরকার প্রথমদিকে পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করলেও পরে আন্দোলনকে রাষ্ট্রীয় স্থিতিশীলতার জন্য হুমকি হিসেবে বিবেচনা করতে শুরু করে। ২০ মে সামরিক আইন জারি করা হয়। এরপর ৩ জুন রাত থেকে ৪ জুন ভোর পর্যন্ত বেইজিংয়ের তিয়ানআনমেন স্কয়ার ও আশপাশের এলাকায় সামরিক অভিযান চালানো হয়। ট্যাংক ও সশস্ত্র সেনাবাহিনী ব্যবহার করে আন্দোলন দমন করা হয়।   নিহতের প্রকৃত সংখ্যা নিয়ে এখনো মতভেদ রয়েছে। বিভিন্ন আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংস্থা ও গবেষণা প্রতিষ্ঠানের হিসাবে কয়েকশ থেকে কয়েক হাজার মানুষের প্রাণহানির আশঙ্কা করা হয়।   তবে চীনা সরকার এ বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য কখনো প্রকাশ করেনি।   তিয়ানআনমেনের ইতিহাসে সবচেয়ে আলোচিত প্রতীক হয়ে আছেন ‘ট্যাংকম্যান’ নামে পরিচিত এক অজ্ঞাত ব্যক্তি। ১৯৮৯ সালের ৫ জুন ট্যাংকের বহরের সামনে একা দাঁড়িয়ে পড়া সেই ব্যক্তির ছবি বিশ্বের অন্যতম শক্তিশালী রাজনৈতিক প্রতীকে পরিণত হয়। তাঁর পরিচয় বা পরবর্তী ভাগ্য সম্পর্কে আজও নিশ্চিত তথ্য জানা যায়নি।   গত কয়েক বছরে চীনে এই ঘটনার স্মৃতি মুছে দেওয়ার প্রচেষ্টা আরও জোরদার হয়েছে। কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাভিত্তিক নজরদারি ব্যবস্থা, স্বয়ংক্রিয় কনটেন্ট ফিল্টারিং এবং কঠোর অনলাইন সেন্সরশিপের মাধ্যমে তিয়ানআনমেন-সংক্রান্ত শব্দ, ছবি কিংবা ইঙ্গিত দ্রুত সরিয়ে ফেলা হয়।   তবে চলতি বছর নতুন করে আলোচনার সূত্রপাত হয় যুক্তরাষ্ট্রের ফিগার স্কেটার Alysa Liu-কে ঘিরে। আন্তর্জাতিক প্রতিযোগিতায় তাঁর সাফল্যের পর চীনের সামাজিক মাধ্যমে তাঁর বাবা আর্থার লিউ সম্পর্কে আলোচনা শুরু হয়। আর্থার লিউ ১৯৮৯ সালের তিয়ানআনমেন আন্দোলনের একজন অংশগ্রহণকারী ছিলেন এবং পরবর্তীতে যুক্তরাষ্ট্রে চলে যান।   সামাজিক মাধ্যমে তাঁকে নিয়ে বিতর্ক শুরু হলে অনেক তরুণ জানতে চান, কেন তিনি এত আলোচিত ব্যক্তি। সেই অনুসন্ধানই অনেককে তিয়ানআনমেন আন্দোলনের ইতিহাসের দিকে নিয়ে যায়।   চীনের জনপ্রিয় সামাজিক মাধ্যম রেডনোটে এ বিষয়ে করা কিছু পোস্ট অল্প সময়ের মধ্যেই মুছে ফেলা হয়। কিন্তু ততক্ষণে অনেক ব্যবহারকারী বিকল্প উৎস থেকে তথ্য খুঁজতে শুরু করেন। কেউ কেউ বিদেশি প্ল্যাটফর্ম ব্যবহার করে ঘটনার বিস্তারিত জানার চেষ্টা করেন।   এ ধরনের ঘটনা নতুন নয়। ২০২২ সালে জনপ্রিয় লাইভস্ট্রিমার Li Jiaqi-এর এক অনুষ্ঠানে ট্যাংকের আকৃতির একটি আইসক্রিম কেক প্রদর্শনের পর অনুষ্ঠানটি হঠাৎ বন্ধ হয়ে যায়। ঘটনাটি নিয়ে প্রশ্ন তুলতে গিয়ে বহু তরুণ প্রথমবারের মতো তিয়ানআনমেনের ইতিহাস সম্পর্কে জানতে পারেন।   চীনের শিক্ষা ব্যবস্থাতেও এ বিষয়ে আলোচনা অত্যন্ত সীমিত। সরকারি পাঠ্যবইয়ে ঘটনাটির উল্লেখ প্রায় অনুপস্থিত। কোথাও কোথাও এটিকে শুধু ‘রাজনৈতিক অস্থিরতা’ হিসেবে বর্ণনা করা হয়। ফলে অনেক শিক্ষার্থী আনুষ্ঠানিক শিক্ষার বাইরে গিয়ে তথ্য অনুসন্ধান করতে বাধ্য হন।   একসময় হংকং ছিল তিয়ানআনমেন স্মরণ অনুষ্ঠানের প্রধান কেন্দ্র। প্রতি বছর হাজারো মানুষ মোমবাতি প্রজ্বালন করে নিহতদের স্মরণ করতেন। তবে ২০২০ সালে জাতীয় নিরাপত্তা আইন কার্যকর হওয়ার পর সেই আয়োজনও বন্ধ হয়ে যায়। স্মরণসভা, জাদুঘর এবং প্রকাশ্য আলোচনা কার্যত নিষিদ্ধ হয়ে পড়ে।   রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, কোনো ঘটনার স্মৃতি সম্পূর্ণ মুছে ফেলা সহজ নয়। বিশেষ করে ডিজিটাল যুগে তথ্যপ্রবাহের নানা পথ রয়েছে। ফলে রাষ্ট্রীয় নিয়ন্ত্রণ যতই কঠোর হোক, নতুন প্রজন্মের একাংশ ইতিহাসের অজানা অধ্যায়গুলো সম্পর্কে জানতে আগ্রহী হয়ে উঠছে।   তাদের অনেকেই হয়তো প্রকাশ্যে মতামত দিচ্ছেন না। তবে সামাজিক মাধ্যম, ব্যক্তিগত আলোচনাচক্র কিংবা বিকল্প তথ্যসূত্রের মাধ্যমে তারা ১৯৮৯ সালের সেই ঘটনার উত্তর খুঁজছেন। ফলে তিয়ানআনমেন আজ শুধু একটি ঐতিহাসিক ঘটনা নয়, বরং স্মৃতি ও বিস্মৃতির লড়াইয়ের প্রতীক হিসেবেও নতুন প্রজন্মের কাছে ফিরে আসছে।

নীলুফা নিশাত জুন ৬, ২০২৬ ১৪:০ 0
ছবি: সংগৃহীত
চীনের হয়ে গুপ্তচরবৃত্তির দায়ে মার্কিন আদালতে সাংবাদিকের দোষ স্বীকার

দীর্ঘ এক দশকেরও বেশি সময় ধরে চীনে বসবাসরত ও কর্মরত একজন মার্কিন সাংবাদিক শেষ পর্যন্ত চীন সরকারের হয়ে 'অবৈধ এজেন্ট' হিসেবে কাজ করার কথা যুক্তরাষ্ট্রের আদালতে স্বীকার করেছেন। থমাস পকেন (দ্বিতীয়) নামের ৫০ বছর বয়সী ওই সাংবাদিক চীনের কাছে মার্কিন সরকারের সংবেদনশীল তথ্য পাচারের ষড়যন্ত্রে লিপ্ত ছিলেন বলে জানিয়েছেন যুক্তরাষ্ট্রের জাতীয় নিরাপত্তা বিষয়ক সহকারী অ্যাটর্নি জেনারেল জন এ. আইজেনবার্গ। সাংবাদিকতার আড়ালে গুপ্তচরবৃত্তির এই ঘটনা আন্তর্জাতিক মহলে ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি করেছে।   আদালতের নথি অনুযায়ী, থমাস পকেন ২০১০ সাল থেকে চীনে বসবাস করছিলেন এবং সেখানে সিসিটিভি ও সিনহুয়া নিউজসহ বেশ কিছু রাষ্ট্রীয় সংবাদ সংস্থায় কাজ করেছেন। ২০১৭ সালে 'ট্রাম্প-চীন বাণিজ্য যুদ্ধ' চলাকালে চীনা প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংয়ের একজন ভাষণ লেখক পকেনকে 'ক্যাথি' নামের এক গুপ্তচরের সাথে পরিচয় করিয়ে দেন। মার্কিন বিচার বিভাগ জানিয়েছে, অন্তত ২০১৯ সাল থেকে চলতি বছরের ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত পকেন সরাসরি চীন সরকারের নির্দেশ ও নিয়ন্ত্রণে কাজ করেছেন।   সম্ভাব্য গোয়েন্দা তথ্যদাতাদের সাথে সাক্ষাতের মতো বিভিন্ন কাজ তাকে দিতেন ক্যাথি। এসব কাজের বিনিময়ে পকেন ক্যাথির কাছ থেকে অন্তত ১ লাখ মার্কিন ডলার গ্রহণ করেছেন। এমনকি ২০১৯ থেকে ২০২৫ সালের মধ্যে তাকে বেশ কয়েকবার যুক্তরাষ্ট্রে ভ্রমণের নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল, যাতে তিনি চীনকে তথ্য সরবরাহ করতে পারে এমন সম্ভাব্য ব্যক্তিদের সাথে যোগাযোগ স্থাপন করতে পারেন।   এফবিআই-এর কাউন্টার-ইন্টেলিজেন্স এবং এসপিওনাজ বিভাগের সহকারী পরিচালক রোমান রোজাভস্কি জানিয়েছেন, এই আমেরিকান সাংবাদিক মূলত মার্কিন লক্ষ্যবস্তুদের ওপর গোয়েন্দা তথ্য সংগ্রহ করতেন এবং পরে তা তার চীনা গোয়েন্দা হ্যান্ডলারদের কাছে পাচার করতেন। মার্কিন গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠান ও রাজনৈতিক স্বাধীনতা নষ্ট করতে চীনের কমিউনিস্ট পার্টি কতদূর পর্যন্ত যেতে পারে, এই মামলাটি তারই একটি সুস্পষ্ট উদাহরণ বলে মন্তব্য করেন তিনি।   তদন্তে জানা গেছে, ক্যাথি ছাড়াও চীনে 'উইলিয়াম' এবং 'রিচার্ড' নামে আরও দুই ব্যক্তির সাথে কাজ করেছেন পকেন। এছাড়া তিনি উহানভিত্তিক একটি গোষ্ঠীর কাছে মার্কিন বিচার বিভাগ ও প্রযুক্তিসংক্রান্ত সংবেদনশীল তথ্য বিক্রি করেছেন এবং সাইবার গোয়েন্দাগিরিতে সহায়তার জন্য বিশেষজ্ঞ খুঁজে দিতেও ওই গোষ্ঠীকে সাহায্য করেছেন।   সম্প্রতি ভার্জিনিয়ার আলেকজান্দ্রিয়ায় অনুষ্ঠিত এক শুনানিতে পকেনের আইনজীবী চার্লস বার্নহ্যাম নিশ্চিত করেন যে, তার মক্কেল নিজের দায় স্বীকার করেছেন। তবে আত্মপক্ষ সমর্থন করে তিনি দাবি করেন, পকেন মূলত দুই দেশের মধ্যে শান্তিপূর্ণ সম্পর্ক তৈরি এবং চীনে ধর্মীয় স্বাধীনতার প্রসার ঘটাতেই এসব কাজ করেছিলেন। আগামী ১ সেপ্টেম্বর গুপ্তচরবৃত্তির এই চাঞ্চল্যকর মামলার সাজা ঘোষণা করা হবে। অভিযোগ প্রমাণিত হওয়ায় এই অপরাধের জন্য পকেনের সর্বোচ্চ ১০ বছরের কারাদণ্ড হতে পারে বলে আদালত সূত্রে জানা গেছে।

ইসতিয়াক আহমেদ জুন ৬, ২০২৬ ১৪:০ 0
ছবি: সংগৃহীত
চীনে ১০ পরিবারের ৯টিরই নিজস্ব বাড়ি, অর্থনৈতিক চাপ ও আবাসন সংকটে বদলাচ্ছে স্বপ্ন

চীনে দীর্ঘ তিন দশক ধরে নিজস্ব বাড়ির মালিক হওয়া ছিল মধ্যবিত্ত জীবনের অন্যতম বড় লক্ষ্য। সরকারি নীতি, অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি এবং পারিবারিক মূল্যবোধ মিলিয়ে বিশ্বের দ্বিতীয় বৃহত্তম অর্থনীতিতে গড়ে উঠেছিল শক্তিশালী আবাসন সংস্কৃতি। তবে ধীরগতির অর্থনীতি ও দীর্ঘস্থায়ী আবাসন সংকট সেই স্বপ্নকে নতুন করে প্রশ্নের মুখে ফেলছে।   চীনের সরকারি পরিসংখ্যান অনুযায়ী, গত বছর দেশটিতে নতুন বাড়ি বিক্রির পরিমাণ নেমে এসেছে ২০১৪ সালের পর সর্বনিম্ন অবস্থানে। ২০২১ সালে যেখানে নতুন বাড়ি বিক্রির মূল্য ছিল ১৬ দশমিক ২ ট্রিলিয়ন ইউয়ান, সেখানে গত বছর তা কমে দাঁড়িয়েছে ৭ দশমিক ৩ ট্রিলিয়ন ইউয়ানে।   ম্যাককোয়ারি ফাইন্যান্সিয়াল গ্রুপের অর্থনীতিবিদেরা চলতি বছরের জানুয়ারিতে প্রকাশিত এক বিশ্লেষণে জানান, নতুন বাড়ি বিক্রির পরিমাণ গত বছর ৮ দশমিক ৭ শতাংশ কমেছে এবং এই নিম্নমুখী প্রবণতা দ্রুত থামার কোনো ইঙ্গিত নেই।   বেইজিংয়ের ৩৬ বছর বয়সী গ্রাফিক ডিজাইনার কাই ইয়োচেংও আপাতত বাড়ি কেনার পরিকল্পনা স্থগিত রেখেছেন। তিনি বলেন, ভাড়া বাসায় থাকলে অনেক সময় অস্থায়ী জীবনের অনুভূতি তৈরি হয় এবং নিজের ইচ্ছামতো ঘর সাজানোর স্বাধীনতা থাকে না। তারপরও বর্তমান পরিস্থিতিতে তিনি ভাড়াতেই থাকতে স্বাচ্ছন্দ্যবোধ করছেন।   তার ভাষায়, “হিসাব করলে ভাড়া থাকাই বেশি যৌক্তিক মনে হয়। তবে মনের ভেতরে নিজের একটি বাড়ির ইচ্ছা এখনো আছে।”   চীনে বাড়ির মালিক হওয়া কেবল সম্পত্তির মালিকানা নয়, এটি পারিবারিক দায়িত্ব ও সামাজিক অবস্থানের প্রতীক হিসেবেও বিবেচিত হয়। হংকং বিশ্ববিদ্যালয়ের সমাজবিজ্ঞানের অধ্যাপক এরিক ফং বলেন, কনফুসীয় পারিবারিক মূল্যবোধ চীনা সমাজে গভীরভাবে প্রভাব ফেলেছে এবং পরিবারকে কেন্দ্র করেই জীবনের অনেক সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।   ১৯৮০-এর দশকে অর্থনৈতিক উদারীকরণের পর চীনের কমিউনিস্ট সরকার ধীরে ধীরে কর্মস্থলনির্ভর আবাসন ব্যবস্থা কমিয়ে ব্যক্তিগত মালিকানাকে উৎসাহিত করতে শুরু করে। ১৯৯০-এর দশকে ভর্তুকিনির্ভর নীতির মাধ্যমে এই প্রক্রিয়া আরও দ্রুত হয়।   ইউনিভার্সিটি অ্যাট অ্যালবানির অধ্যাপক হুয়াং ইউচিন বলেন, অনেক মানুষ খুব কম দামে হঠাৎ করেই বাড়ির মালিক হয়ে যান। এতে বিপুলসংখ্যক ভাড়াটিয়া একসময় বাড়ির মালিক শ্রেণিতে পরিণত হন।   চীনা সমাজে সঞ্চয়ের প্রবণতাও এই প্রবণতাকে আরও শক্তিশালী করে। দ্রুত বাড়তে থাকা সম্পত্তির দাম আবাসন খাতকে জনপ্রিয় বিনিয়োগে পরিণত করে। গবেষণায় দেখা গেছে, অনেক গ্রামীণ অভিবাসী শহরে বাড়ি কিনে সামাজিক গ্রহণযোগ্যতা বাড়াতে চেয়েছেন। আবার সন্তানদের বিয়ের সম্ভাবনা বাড়াতেও বাবা-মায়েরা অ্যাপার্টমেন্ট কিনে দিয়েছেন।   বিভিন্ন জরিপ ও গবেষণা অনুযায়ী, বর্তমানে চীনের প্রতি ১০টি পরিবারের ৯টিরই নিজস্ব বাড়ি রয়েছে, যা বিশ্বের অন্যতম সর্বোচ্চ আবাসন মালিকানার হার।   অন্যদিকে যুক্তরাষ্ট্রে বাড়ির মালিকানার হার প্রায় ৬৫ শতাংশ। উচ্চশিক্ষার ঋণ ও বাড়ির বাড়তি মূল্য অনেক তরুণকে দীর্ঘ সময় ভাড়ায় থাকতে বাধ্য করছে।   তবে চীনের আবাসন খাতের দ্রুত উত্থানের সঙ্গে তৈরি হয়েছে বড় ঝুঁকিও। প্রবৃদ্ধির সময় অনেক নির্মাণ প্রতিষ্ঠান বিপুল ঋণ নেয়। অতিরিক্ত নির্মাণের কারণে বিভিন্ন এলাকায় তৈরি হয় ফাঁকা আবাসিক অঞ্চল ও অবিক্রীত প্রকল্প।   পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে ২০২০ সালে চীনের কেন্দ্রীয় সরকার কঠোর পদক্ষেপ নেয়। আবাসন খাত, যা একসময় দেশের অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডের প্রায় ৩০ শতাংশ জুড়ে ছিল, তা নিয়ন্ত্রণে নীতিগত পরিবর্তন আনা হয়।   এই পদক্ষেপে ঝুঁকিপূর্ণ নির্মাণ কমলেও সম্পত্তির দাম দ্রুত পড়ে যায়। অনেক ক্রেতা অসম্পূর্ণ বা বিলম্বিত ফ্ল্যাটের মুখোমুখি হন। ঋণসংকটে পড়ে বড় বড় নির্মাতা প্রতিষ্ঠানও ধসে পড়ে।   চীনের অন্যতম বৃহৎ নির্মাতা প্রতিষ্ঠান এভারগ্রান্ডকে ২০২৪ সালে হংকংয়ের একটি আদালত বিলুপ্তির নির্দেশ দেয়। কান্ট্রি গার্ডেন ও ভ্যাংকের মতো বড় প্রতিষ্ঠানও আর্থিক চাপে পড়ে।   এই পরিস্থিতির সঙ্গে যুক্ত হয়েছে দুর্বল অভ্যন্তরীণ ভোগব্যয় এবং যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে বাণিজ্যসংঘাতের আশঙ্কা। ফলে সম্ভাব্য ক্রেতারা এখন আরও সতর্ক।   কাই ইয়োচেং বলেন, তিনি ভবিষ্যতে বাড়ি কিনতে চান, তবে আগামী কয়েক বছরে সেই সিদ্ধান্ত নিচ্ছেন না।   পাঁচ বছর পেরিয়ে গেলেও আবাসন খাত এখনো সংকট কাটিয়ে উঠতে পারেনি। মার্চ মাসেও দেশজুড়ে নতুন বাড়ির দাম কমেছে, যদিও কয়েকটি বড় শহরে সামান্য উন্নতির ইঙ্গিত পাওয়া গেছে।   রিয়েল এস্টেট প্রতিষ্ঠান কুশম্যান অ্যান্ড ওয়েকফিল্ডের কর্মকর্তা ঝ্যাং শিয়াওদুয়ান বলেন, সরকারের ইতিবাচক বার্তা থাকলেও বাস্তবে ক্রয়ক্ষমতার বড় ধরনের পুনরুদ্ধার দেখা যাচ্ছে না।   গত বছর চীন ১ দশমিক ২ ট্রিলিয়ন ডলারের বাণিজ্য উদ্বৃত্ত অর্জন করলেও সাধারণ মানুষের আয় ও ক্রয়ক্ষমতায় সেই প্রবৃদ্ধির প্রভাব স্পষ্ট হয়নি বলে মনে করছেন বিশ্লেষকেরা।   কুনমিং শহরের ৩০ বছর বয়সী আলোকচিত্রী ম্যান্ডি ফেং বলেন, বাড়ির দাম কমলেও অর্থনৈতিক অনিশ্চয়তা মানুষের মধ্যে ভয় তৈরি করছে।   তার ভাষায়, “মানুষ বাড়ি কিনতে চায় না, এমন নয়। কিন্তু আয় অনিশ্চিত এবং উপার্জন কম থাকলে কেউ ঋণ নিতে সাহস পায় না।”   বিশেষজ্ঞরা বলছেন, বর্তমান প্রজন্মের মধ্যে আবাসন নিয়ে দৃষ্টিভঙ্গিও বদলাচ্ছে। বেইজিংয়ের জনসংযোগ কর্মকর্তা ঝো ঝ্যাং বলেন, তিনি সম্ভবত নিজের সন্তানদের জন্য বাড়ি কিনবেন না, যদিও নিজের ফ্ল্যাট কিনতে বাবা-মায়ের সহায়তা পেয়েছিলেন।   তার মতে, চীনের আবাসন বাজার ধীরে ধীরে পশ্চিমা দেশের মতো হয়ে উঠছে, যেখানে ভবিষ্যতে ভাড়া বাসায় থাকার প্রবণতা আরও বাড়তে পারে।

নুরুল্লাহ সাইদ মে ১৮, ২০২৬ ১৪:০ 0
ছবি: সংগৃহীত।
নাচ ভুলে স্কুলের মধ্যে শুরু করল মারামারি, কুং-ফু রোবটের তাণ্ডবে তোলপাড় চীনে

চীনের জিনজিয়াং প্রদেশের একটি স্কুলের বার্ষিক ক্রীড়া অনুষ্ঠানে ঘটে গেল এক অদ্ভুত ও আতঙ্কিত করার মতো ঘটনা। স্কুলের শিক্ষার্থীদের আনন্দ দিতে আনা একটি হিউম্যানয়েড (মানুষের মতো দেখতে) রোবট হঠাৎ নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যায়। রোবটটি নির্ধারিত নাচের তাল বাদ দিয়ে অনুষ্ঠানস্থলেই এলোপাথাড়ি 'কুং-ফু কিক' মারতে শুরু করে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভাইরাল হওয়া ভিডিওতে দেখা যায়, রোবটটি প্রথমে সুশৃঙ্খলভাবে শিক্ষার্থীদের সাথে তাল মিলিয়ে নাচছিল। কিন্তু হঠাৎ যান্ত্রিক ত্রুটির কারণে এটি ভারসাম্য হারিয়ে ফেলে এবং চারপাশের পারফর্মারদের লক্ষ্য করে লাথি চালাতে থাকে। এসময় আতঙ্কিত শিক্ষার্থীরা নিজেদের বাঁচাতে এদিক-ওদিক ছুটতে শুরু করে। অবস্থা বেগতিক দেখে দ্রুত টেকনিশিয়ান এবং আয়োজকরা এগিয়ে আসেন। তারা রোবটটিকে জাপটে ধরে সরিয়ে নিয়ে যান। তবে সৌভাগ্যবশত, এই ঘটনায় কোনো শিক্ষার্থী বা দর্শক আহত হননি। বিশেষজ্ঞদের ধারণা, রোবটটির সেন্সর সিস্টেমে কোনো যান্ত্রিক ত্রুটি অথবা সফটওয়্যারে গোলযোগের কারণে এটি নির্ধারিত প্রোগ্রাম থেকে বিচ্যুত হয়েছিল। কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা সম্পন্ন রোবটের এমন অনাকাঙ্ক্ষিত আচরণ নিয়ে নেটিজেনদের মধ্যে বেশ হাসাহাসি চললেও, জননিরাপত্তায় রোবট ব্যবহারের ঝুঁকি নিয়ে নতুন করে বিতর্ক শুরু হয়েছে।

ইসমাইল হোসাইন মে ৫, ২০২৬ ১৪:০ 0
ছবি: সংগৃহীত।
বেইজিং অটো শোতে এক্সপেং-এর উড়ন্ত গাড়ি আর হিউম্যানয়েড রোবট দেখে তাজ্জব বিশ্ব!

ভবিষ্যতের যাতায়াত ব্যবস্থাকে আমূল বদলে দিতে বেইজিংয়ে অনুষ্ঠিত ১৯তম আন্তর্জাতিক অটোমোবাইল প্রদর্শনীতে (অটো চায়না ২০২৬) চমক দেখালো বিশ্বের অন্যতম শীর্ষস্থানীয় প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠান এক্সপেং (XPENG)। শুক্রবার (২৪ এপ্রিল) প্রতিষ্ঠানটি তাদের পূর্ণাঙ্গ ‘ফিজিক্যাল এআই’ (Physical AI) ইকোসিস্টেম প্রদর্শনের মাধ্যমে বিশ্ববাসীকে নতুন এক অভিজ্ঞতার স্বাদ দিয়েছে। এবারের প্রদর্শনীতে এক্সপেং তাদের শক্তিশালী প্রোডাক্ট লাইনআপের মধ্যে নতুন মডেলের ইলেকট্রিক গাড়ি GX, MONA M03, পরবর্তী প্রজন্মের P7 এবং X9 হাইলাইট করেছে। তবে সবচেয়ে বেশি আকর্ষণ কেড়েছে প্রতিষ্ঠানটির অত্যাধুনিক হিউম্যানয়েড রোবট ‘IRON’ এবং উড়ন্ত গাড়ি বা ফ্লাইং কার ‘ল্যান্ড এয়ারক্রাফ্ট ক্যারিয়ার’। এক্সপেং-এর চেয়ারম্যান ও সিইও হে শিয়াওপেং বলেন, “গত ১২ বছরের যাত্রায় আমরা এখন এক নতুন ধাপে পৌঁছেছি। স্মার্ট ইভি থেকে ফ্লাইং কার, এআই চিপ থেকে হিউম্যানয়েড রোবট—আমরা আমাদের ফিজিক্যাল এআই ভিশনকে বাস্তবে রূপ দিচ্ছি। আমাদের লক্ষ্য কেবল যাতায়াত সহজ করা নয়, বরং প্রযুক্তিকে মানুষের জীবনের আরও গভীরে পৌঁছে দেওয়া।” প্রদর্শনীতে এক্সপেং তাদের নতুন ‘VLA 2.0’ ইন্টেলিজেন্ট ড্রাইভিং সিস্টেমের রিপোর্ট প্রকাশ করে। এতে দেখা যায়, গ্রাহকদের গাড়ি কেনার সিদ্ধান্তে এই এআই প্রযুক্তি প্রধান ভূমিকা পালন করছে। এছাড়া প্রতিষ্ঠানটি তাদের প্রথম রোবোট্যাক্সি (Robotaxi) প্রোটোটাইপ 'GX' উন্মোচন করেছে, যা পুরোপুরি স্বয়ংক্রিয় বা L4 অটোনোমাস ড্রাইভিং সক্ষম। এতে রয়েছে শক্তিশালী ‘টুরিং’ এআই চিপ, যা ৩০০০ TOPS কম্পিউটিং পাওয়ার প্রদান করে। ২০২৫ সালে বৈশ্বিক বাজারে এক্সপেং-এর সরবরাহ গত বছরের তুলনায় ৯৬% বৃদ্ধি পেয়েছে। ভবিষ্যতে প্রতিষ্ঠানটি এআই চালিত স্মার্ট মোবিলিটি বা যাতায়াত ব্যবস্থায় বিশ্বসেরা হওয়ার লক্ষ্য নিয়ে কাজ করে যাচ্ছে।

ইসমাইল হোসাইন এপ্রিল ২৪, ২০২৬ ১৪:০ 0
ছবি: সংগৃহীত।
তোলপাড় সৃষ্টি করেছে ডিপসিক-ভি৪, এআই দুনিয়ায় এবার রাজত্ব করতে যাচ্ছে চীন?

বিশ্বের কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বাজারে আধিপত্য বিস্তারের লড়াই এবার আরও তুঙ্গে। ওপেনএআই-এর চ্যাটজিপিটি এবং গুগলের জেমিনাই-কে সরাসরি টেক্কা দিতে চীনভিত্তিক স্টার্টআপ ‘ডিপসিক’ বাজারে এনেছে তাদের লেটেস্ট মডেল ‘ডিপসিক-ভি৪’।  শুক্রবার (২৪ এপ্রিল, ২০২৬) এক আনুষ্ঠানিক ঘোষণায় কোম্পানিটি এই নতুন মডেলের প্রিভিউ সংস্করণ উন্মোচন করেছে। মার্কিন মডেলের চেয়েও সস্তা:ডিপসিক-ভি৪ এর সবচেয়ে বড় চমক হলো এর অবিশ্বাস্য কম দাম। কোম্পানিটির দাবি, তাদের এই মডেলটি ব্যবহার করতে খরচ হবে ওপেনএআই বা অ্যানথ্রপিকের মডেলগুলোর তুলনায় কয়েক গুণ কম।  যেখানে মার্কিন কোম্পানিগুলো তাদের শক্তিশালী মডেলগুলোর এপিআই (API) ব্যবহারের জন্য উচ্চমূল্য রাখে, সেখানে ডিপসিক অত্যন্ত সস্তায় একই মানের বা তার চেয়েও উন্নত সেবা দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিচ্ছে। কারিগরি সক্ষমতা: ডিপসিকের নতুন এই মডেলে রয়েছে ‘ভি৪-প্রো’ (V4-Pro) এবং ‘ভি৪-ফ্ল্যাশ’ (V4-Flash) নামক দুটি সংস্করণ। এর মধ্যে প্রো সংস্করণটিতে ১.৬ ট্রিলিয়ন প্যারামিটার রয়েছে, যা একে বর্তমান বিশ্বের অন্যতম শক্তিশালী এআই মডেলে পরিণত করেছে। এটি গণিত এবং কোডিংয়ের ক্ষেত্রে ওপেন-সোর্স মডেলগুলোর মধ্যে শীর্ষস্থানে রয়েছে এবং বিশ্বজ্ঞানের ক্ষেত্রে জেমিনাই ৩.১-প্রো-র ঠিক পরেই এর অবস্থান। ১ মিলিয়ন টোকেন উইন্ডো: গবেষকদের মতে, ডিপসিক-ভি৪ এর সবচেয়ে বড় বৈশিষ্ট্য হলো এর ১ মিলিয়ন টোকেন সমৃদ্ধ কন্টেক্সট উইন্ডো। এর মানে হলো, এই এআই একবারে কয়েক হাজার পৃষ্ঠার বই বা বিশালাকার কোডবেস বিশ্লেষণ করতে পারবে কোনো তথ্য না হারিয়েই। হুয়াওয়ে চিপের প্রভাব: মার্কিন নিষেধাজ্ঞার কারণে এনভিডিয়া (Nvidia) চিপের সংকট থাকলেও, ডিপসিক তাদের এই মডেলটিকে চীনের তৈরি হুয়াওয়ে অ্যাসেন্ড (Huawei Ascend) চিপের ওপর ভিত্তি করে তৈরি করেছে। এটি প্রমাণ করে যে, হার্ডওয়্যার সীমাবদ্ধতা সত্ত্বেও চীন এআই প্রযুক্তিতে দ্রুত এগিয়ে যাচ্ছে।

ইসমাইল হোসাইন এপ্রিল ২৩, ২০২৬ ১৪:০ 0
ছবি: সংগৃহীত।
সুপার পাউডার থেকে সুপার পাওয়ার: প্লাজমা প্রযুক্তিতে যুক্তরাষ্ট্রকে হারিয়ে দিচ্ছে চীন

বিশ্বজুড়ে প্রযুক্তিগত শ্রেষ্ঠত্ব এবং সামরিক শক্তিতে একচ্ছত্র আধিপত্য বিস্তার করতে এবার ‘সুপার পাউডার’ প্রযুক্তিতে বড় ধরনের সাফল্য দেখালো চীন। সম্প্রতি চীনের গুয়াংডং প্রদেশে বিশ্বের বৃহত্তম 'প্লাজমা মিল' (Plasma Mill) সুবিধা উন্মোচন করা হয়েছে, যা দেশটির প্রতিরক্ষা এবং উন্নত প্রযুক্তি খাতকে এক নতুন উচ্চতায় নিয়ে যাবে বলে ধারণা করা হচ্ছে। আধুনিক সামরিক সরঞ্জাম, যেমন— রাডার ফাঁকি দিতে সক্ষম স্টিলথ যুদ্ধবিমান থেকে শুরু করে শব্দের চেয়ে দ্রুতগামী হাইপারসনিক মিসাইল তৈরির মূল ভিত্তি হলো মাইক্রন-স্কেলের এই বিশেষ সুপার পাউডার। এতদিন এই পাউডার উৎপাদনে সীমাবদ্ধতা থাকলেও চীনের নতুন এই প্লাজমা মিলটি আগের পদ্ধতির চেয়ে ১০ গুণ বেশি দক্ষ। দেখতে সাধারণ ড্রামের মতো মনে হলেও এই প্লাজমা মিলগুলো অত্যন্ত সূক্ষ্ম প্রযুক্তি ব্যবহার করে ধাতব অংশকে আণুবীক্ষণিক কণায় রূপান্তর করে। যেমন— স্টিলথ বিমানের গায়ে যে বিশেষ আবরণ (Radar-absorbing coating) থাকে, তা তৈরি হয় ম্যাগনেটিক আয়রন ফ্লেক বা লোহার ক্ষুদ্রাতিক্ষুদ্র কণা থেকে। এছাড়া জেট ইঞ্জিনের টারবাইন ব্লেড তৈরির জন্য এই উন্নত পাউডার অপরিহার্য, যা উচ্চ তাপে সংকুচিত করে নিখুঁত আকার দেওয়া হয়। প্রতিরক্ষা বিশেষজ্ঞদের মতে, উন্নত অস্ত্রশস্ত্র ও সেমিকন্ডাক্টর শিল্পে এতদিন যুক্তরাষ্ট্রের যে আধিপত্য ছিল, চীনের এই নতুন শিল্প-বিপ্লব তাকে বড় চ্যালেঞ্জের মুখে ঠেলে দেবে। এখন থেকে চীন অনেক বড় পরিসরে এবং অনেক দ্রুত এই জটিল উপকরণগুলো উৎপাদন করতে পারবে। চীনের এই নতুন উদ্ভাবন শুধুমাত্র সামরিক ক্ষেত্রেই নয়, বরং মহাকাশ গবেষণা এবং উচ্চপ্রযুক্তির ইলেকট্রনিক্স খাতেও দেশটিকে বিশ্বসেরা হওয়ার দৌড়ে কয়েক ধাপ এগিয়ে দিল।

ইসমাইল হোসাইন এপ্রিল ২২, ২০২৬ ১৪:০ 0
জনপ্রিয় সংবাদ
যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশি মালিকানাধীন বিশ্ববিদ্যালয়ের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধন

যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে।   এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন।   নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি।   উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।”   বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে।   এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে।   শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়।   উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন।   বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত।   এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।

মার্কিন ভিসা আপডেট ২০২৬! বাংলাদেশিদের জন্য কোন ভিসা বন্ধ, কোনটা চালু?

২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো।   প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে।   এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে।   অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে।   স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে।   সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে।   সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।

দেশের প্রথম ৪০ তলা ভবন ‘শান্তা পিনাকল’ হস্তান্তর সম্পন্ন

বাংলাদেশের আবাসন শিল্পে এক নতুন ইতিহাস রচিত হলো। রাজধানীর তেজগাঁও শিল্প এলাকায় নির্মিত দেশের প্রথম ৪০ তলা বিশিষ্ট আকাশচুম্বী বাণিজ্যিক ভবন ‘শান্তা পিনাকল’ আনুষ্ঠানিকভাবে হস্তান্তর করেছে শান্তা হোল্ডিংস। ৫০০ ফুট উচ্চতার এই আইকনিক ভবনটি এখন দেশের সর্বোচ্চ সম্পন্ন হওয়া ইমারত। গত শনিবার (১৮ এপ্রিল) ভবনের ৪০তম তলায় আয়োজিত এক আড়ম্বরপূর্ণ অনুষ্ঠানের মাধ্যমে এটি হস্তান্তর করা হয়। অনুষ্ঠানে শান্তা হোল্ডিংসের চেয়ারম্যান খন্দকার মনির উদ্দিন, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, স্থপতি এহসান খানসহ প্রতিষ্ঠানের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা, ভূমি মালিক এবং গ্রাহকরা উপস্থিত ছিলেন। স্থাপত্যশৈলী ও আধুনিক প্রযুক্তি:‘শান্তা পিনাকল’ শুধুমাত্র উচ্চতার কারণেই অনন্য নয়, বরং এটি আধুনিক নির্মাণশৈলী ও প্রযুক্তির এক অনন্য সমন্বয়। এটি বাংলাদেশের প্রথম ভবন যা পরিবেশবান্ধব স্থাপত্যের জন্য আন্তর্জাতিক ‘লিড প্ল্যাটিনাম’ (LEED Platinum) স্বীকৃতি পেয়েছে। সিঙ্গাপুরভিত্তিক বিখ্যাত ইঞ্জিনিয়ারিং প্রতিষ্ঠান ‘মেইনহার্ট’ (Meinhardt) এর সহায়তায় ভবনটির স্ট্রাকচারাল ডিজাইন এবং ভূমিকম্প প্রতিরোধক ব্যবস্থা নিশ্চিত করা হয়েছে। বিশেষ বৈশিষ্ট্যসমূহ: উন্নত লিফট ব্যবস্থা: ভবনটিতে রয়েছে ৮টি দ্রুতগামী লিফট, যা প্রতি সেকেন্ডে ৪ মিটার উচ্চতায় উঠতে সক্ষম। এটি দেশের দ্রুততম ভার্টিক্যাল ট্রান্সপোর্ট ব্যবস্থা। পরিবেশ ও সুরক্ষা: ভবনে ব্যবহৃত হয়েছে ৩৬ মিমি পুরুত্বের ডাবল গ্লেজড গ্লাস, যা তাপ ও শব্দ নিরোধক। এছাড়া এটি দেশের প্রথম ‘উইন্ড টানেল টেস্ট’ করা ভবন, যা প্রতিকূল আবহাওয়ায় এর স্থায়িত্ব নিশ্চিত করে। আইবিএমএস প্রযুক্তি: পুরো ভবনটি একটি ইন্টেলিজেন্ট বিল্ডিং ম্যানেজমেন্ট সিস্টেম (iBMS) দ্বারা পরিচালিত, যা সার্বক্ষণিক নিরাপত্তা ও জ্বালানি সাশ্রয় নিশ্চিত করবে। অগ্নি নিরাপত্তা: আন্তর্জাতিক এনএফপিএ (NFPA) স্ট্যান্ডার্ড অনুসরণ করে এখানে অত্যাধুনিক অগ্নিনির্বাপক ব্যবস্থা স্থাপন করা হয়েছে। অনুষ্ঠানে শান্তা হোল্ডিংসের পক্ষ থেকে জানানো হয়, ‘শান্তা পিনাকল’ হস্তান্তর দেশের রিয়েল এস্টেট খাতের সক্ষমতার এক বড় প্রমাণ। এটি শুধুমাত্র তেজগাঁও নয়, বরং পুরো ঢাকার বাণিজ্যিক পরিবেশকে বিশ্বমানের স্তরে নিয়ে যাবে। দেশের ইতিহাসে প্রথমবার অ্যালুমিনিয়াম ফর্মওয়ার্ক ব্যবহারের মাধ্যমে মাত্র সাত দিনে এক একটি তলার ছাদ ঢালাইয়ের রেকর্ড গড়ে এই প্রকল্পের কাজ সম্পন্ন করা হয়েছে। ঢাকার আকাশসীমায় নতুন এই ল্যান্ডমার্ক দেশের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি এবং আধুনিক নগরায়নের এক শক্তিশালী প্রতীক হিসেবে দাঁড়িয়ে আছে।

৩০ মার্চ থেকে কার্যকর হচ্ছে যুক্তরাষ্ট্রের নতুন ভিসা নিয়ম: যা জানা প্রয়োজন

যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা প্রত্যাশীদের জন্য কঠোর হচ্ছে নিয়মাবলী। আগামী ৩০ মার্চ থেকে কার্যকর হতে যাচ্ছে নতুন ভিসা রুলস, যেখানে আবেদনকারীদের সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের প্রোফাইল পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে যাচাই বা স্ক্রিনিং করা হবে। মার্কিন প্রশাসনের এই নতুন পদক্ষেপে বাংলাদেশসহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশের ভিসা প্রত্যাশীদের মধ্যে ব্যাপক আলোচনার সৃষ্টি হয়েছে। নতুন এই নিয়ম মূলত অ-অভিবাসী (Non-immigrant) এবং অভিবাসী (Immigrant) উভয় ধরণের ভিসার ক্ষেত্রে প্রযোজ্য হতে পারে। বিশেষ করে যারা ট্যুরিস্ট ভিসা, স্টুডেন্ট ভিসা এবং কাজের সন্ধানে এইচ-১বি (H-1B) ভিসার জন্য আবেদন করবেন, তাদের সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের তথ্য প্রদান বাধ্যতামূলক করা হচ্ছে। আবেদনকারীদের গত পাঁচ বছরের ব্যবহৃত সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমগুলোর ইউজার আইডি বা হ্যান্ডেল নাম ফর্মে উল্লেখ করতে হবে। ফেসবুক, টুইটার (বর্তমানে এক্স), ইনস্টাগ্রাম এবং ইউটিউবের মতো জনপ্রিয় প্ল্যাটফর্মগুলো এই স্ক্রিনিংয়ের আওতায় থাকবে। তবে পাসওয়ার্ড দেওয়ার প্রয়োজন হবে না। মূলত আবেদনকারীর নিরাপত্তা ঝুঁকি এবং পূর্ববর্তী কোনো উসকানিমূলক বা সন্দেহজনক কর্মকাণ্ড আছে কি না, তা যাচাই করতেই এই পদক্ষেপ। মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তর জানিয়েছে, জাতীয় নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং জননিরাপত্তার স্বার্থেই এই স্ক্রিনিং প্রক্রিয়া জোরদার করা হয়েছে। কোনো ব্যক্তি যদি অতীতে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে উগ্রবাদ বা আইনবিরোধী কোনো কাজে লিপ্ত থেকে থাকেন, তবে তার ভিসা আবেদন বাতিল হওয়ার সম্ভাবনা তৈরি হবে। ভিসা বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ৩০ মার্চের পর যারা আবেদন করবেন, তাদের অবশ্যই গত ৫ বছরের ডিজিটাল ফুটপ্রিন্ট সম্পর্কে সতর্ক থাকতে হবে। কোনো ভুল তথ্য দিলে বা তথ্য গোপন করলে তা স্থায়ীভাবে ভিসা প্রত্যাখ্যাত হওয়ার কারণ হতে পারে। এছাড়া ইমেইল অ্যাড্রেস এবং ফোন নম্বর প্রদানের ক্ষেত্রেও অতিরিক্ত সতর্কতা অবলম্বনের পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। এই নতুন নিয়ম চালুর ফলে ভিসা প্রক্রিয়াকরণে কিছুটা অতিরিক্ত সময় লাগতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। তাই প্রয়োজনীয় কাগজপত্র এবং অনলাইন প্রোফাইল গুছিয়ে আবেদন করার পরামর্শ দিচ্ছে সংশ্লিষ্ট দপ্তরগুলো।

স্ট্যানফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের সমাবর্তনে গুগল প্রধান সুন্দর পিচাইকে দেখে শিক্ষার্থীদের মঞ্চ বর্জন

যুক্তরাষ্ট্রের ঐতিহ্যবাহী স্ট্যানফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের সমাবর্তন অনুষ্ঠানে গুগলের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (সিইও) সুন্দর পিচাইয়ের বক্তব্য চলাকালীন ফিলিস্তিনপন্থী শিক্ষার্থীদের তীব্র বিক্ষোভ ও অনুষ্ঠান বর্জনের (ওয়াকআউট) ঘটনা ঘটেছে। রোববার বিশ্ববিদ্যালয়ের ১৩৫তম সমাবর্তন অনুষ্ঠানে সুন্দর পিচাই প্রধান বক্তা হিসেবে মঞ্চে ওঠার পরপরই এই ঘটনা ঘটে।   সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া বিভিন্ন ভিডিওতে দেখা যায়, সুন্দর পিচাই বক্তব্য শুরু করার মুহূর্তেই সমাবর্তনস্থলে উপস্থিত ১০০ জনেরও বেশি গ্র্যাজুয়েট শিক্ষার্থী তাদের আসন ছেড়ে উঠে দাঁড়ান। এ সময় তারা "ফ্রি, ফ্রি প্যালেস্টাইন" (ফিলিস্তিনের মুক্তি চাই) বলে উচ্চকণ্ঠে স্লোগান দিতে দিতে স্টেডিয়াম ত্যাগ করেন। কট্টর বামপন্থী ছাত্র সংগঠন 'স্টুডেন্টস ফর জাস্টিস ইন প্যালেস্টাইন' এবং 'নো টেক ফর অ্যাপার্থাইড'-এর যৌথ আহ্বানে এই প্রতিবাদের আয়োজন করা হয়।   বিক্ষোভের মূল কারণ হিসেবে ইসরায়েল সরকারের সাথে গুগলের ১.২ বিলিয়ন ডলারের ক্লাউড কম্পিউটিং চুক্তি 'প্রজেক্ট নিম্বাস'-কে দায়ী করা হচ্ছে। আমাজনের সাথে যৌথভাবে পরিচালিত এই প্রকল্পের মাধ্যমে গুগল ইসরায়েল সরকারকে ক্লাউড ও কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) প্রযুক্তি সরবরাহ করে আসছে। আন্দোলনকারী শিক্ষার্থী ও মানবাধিকার কর্মীদের অভিযোগ, গুগলের এই প্রযুক্তি ফিলিস্তিনিদের ওপর নজরদারি এবং ইসরায়েলের সামরিক ও নিরাপত্তা বাহিনীর বিভিন্ন ধ্বংসাত্মক কার্যকলাপে ব্যবহৃত হতে পারে। যদিও গুগল বরাবরই এই দাবি অস্বীকার করে বলেছে, এটি কেবল সরকারি বেসামরিক কাজের জন্য একটি ক্লাউড সেবা।   উল্লেখ্য, সুন্দর পিচাই নিজে ১৯৯৫ সালে এই স্ট্যানফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয় থেকেই মেটেরিয়ালস সায়েন্স অ্যান্ড ইঞ্জিনিয়ারিংয়ে স্নাতকোত্তর ডিগ্রি অর্জন করেছিলেন। নিজের সাবেক শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে আমন্ত্রিত অতিথি হিসেবে এসে তাকে এমন নজিরবিহীন প্রতিবাদের মুখে পড়তে হলো। এর আগে ২০২৪ সালেও এই প্রজেক্ট নিম্বাসের বিরুদ্ধে গুগলের ক্যালিফোর্নিয়া ও নিউইয়র্ক অফিসে কর্মকর্তা-কর্মচারীরা অবস্থান ধর্মঘট করলে গুগল কয়েক ডজন কর্মীকে চাকরিচ্যুত করেছিল।   চলতি বছর আমেরিকার বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের সমাবর্তন অনুষ্ঠানে বিশ্বখ্যাত প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানের প্রধানদের লক্ষ্য করে শিক্ষার্থীদের এমন ক্ষোভ প্রকাশের ঘটনা নিয়মিত চিত্র হয়ে দাঁড়িয়েছে। কিছুদিন আগেই অ্যারিজোনা বিশ্ববিদ্যালয়ের সমাবর্তনে গুগলের সাবেক সিইও এরিক শ্মিড বক্তব্য দিতে গেলে এআই প্রযুক্তির ক্ষতিকর প্রভাব নিয়ে শিক্ষার্থীরা তাকে ধুয়ে দেয়। তবে স্ট্যানফোর্ডের অনুষ্ঠানে শিক্ষার্থীদের এই তুমুল হট্টগোল ও কক্ষ ত্যাগের মাঝেও সুন্দর পিচাই তাঁর বক্তব্য চালিয়ে যান, যেখানে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা ভূ-রাজনীতির চেয়ে দ্রুত পরিবর্তনশীল বিশ্বে শিক্ষার্থীদের আশাবাদী থাকার পরামর্শই বেশি প্রাধান্য পায়।

Top week

ছবি: সংগৃহীত
আমেরিকা

স্ট্যানফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের সমাবর্তনে গুগল প্রধান সুন্দর পিচাইকে দেখে শিক্ষার্থীদের মঞ্চ বর্জন

তাবাস্সুম মোহাম্মদ জুন ১৪, ২০২৬ ১৪:০ 0