ট্রাম্পপ্রশাসন

এআই / আমেরিকা বাংলা
গ্রিন কার্ডধারীদের পুনঃপ্রবেশে কঠোরতা, বিদেশ থেকে ফিরছেন? বাড়তে পারে জটিলতা

যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন নীতিতে একাধিক গুরুত্বপূর্ণ আইনি পরিবর্তনের ইঙ্গিত দিয়েছে দেশটির সুপ্রিম কোর্ট, ফেডারেল আপিল আদালত এবং জেলা আদালতের সাম্প্রতিক তিনটি রায়। একদিকে দ্রুত বহিষ্কার কার্যক্রম পুনরায় চালুর অনুমতি দেওয়া হয়েছে, অন্যদিকে বিদেশ সফর শেষে ফেরা গ্রিন কার্ডধারীদের ক্ষেত্রে সীমান্ত কর্মকর্তাদের ক্ষমতা বাড়ানো হয়েছে। একই সময়ে অভিবাসন আদালত প্রাঙ্গণে গ্রেপ্তার ও দীর্ঘ সময় আটকে রাখার নীতির বিরুদ্ধে দেশব্যাপী নিষেধাজ্ঞাও জারি করেছে একটি ফেডারেল আদালত।   যুক্তরাষ্ট্রে অভিবাসন ইস্যু দীর্ঘদিন ধরেই রাজনৈতিক বিতর্ক, আইনি লড়াই এবং জনমতের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছে। প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের দ্বিতীয় মেয়াদে ব্যাপক অভিবাসন অভিযান, দ্রুত বহিষ্কার নীতি এবং কঠোর সীমান্ত ব্যবস্থাপনা নতুন করে আলোচনায় এসেছে। সাম্প্রতিক তিনটি রায় অভিবাসন ব্যবস্থার ভবিষ্যৎ নিয়ে নতুন প্রশ্ন তৈরি করেছে।   যুক্তরাষ্ট্রের ডিস্ট্রিক্ট অব কলাম্বিয়া সার্কিটের ফেডারেল আপিল আদালত ট্রাম্প প্রশাসনকে অনথিভুক্ত অভিবাসীদের দ্রুত বহিষ্কার কার্যক্রম পুনরায় চালুর অনুমতি দিয়েছে। এর ফলে সীমান্তবর্তী এলাকা ছাড়াও দেশের অভ্যন্তরে অবস্থানরত অনথিভুক্ত অভিবাসীদের বিচারকের সামনে পূর্ণাঙ্গ শুনানির সুযোগ ছাড়াই দ্রুত বহিষ্কার করা যাবে। মঙ্গলবার দেওয়া রায়ে তিন বিচারকের একটি বেঞ্চ নিম্ন আদালতের দেওয়া স্থগিতাদেশ বাতিল করে। এর মাধ্যমে প্রশাসনের সম্প্রসারিত ‘দ্রুত বহিষ্কার’ নীতি আবার কার্যকর করার পথ উন্মুক্ত হয়।   দ্রুত বহিষ্কার পদ্ধতিতে কোনো অভিবাসীকে অভিবাসন আদালতে পূর্ণাঙ্গ শুনানির সুযোগ না দিয়েই দেশ থেকে ফেরত পাঠানো সম্ভব। আগে এই ব্যবস্থা সীমান্তে আটক বা সমুদ্রপথে যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশকারী ব্যক্তিদের ক্ষেত্রে প্রয়োগ করা হতো। চলতি বছরের জানুয়ারিতে ট্রাম্প প্রশাসন এর আওতা বাড়িয়ে সারা দেশে বসবাসরত অনথিভুক্ত অভিবাসীদের ক্ষেত্রেও এটি প্রযোজ্য করে।   এরপর থেকে অভিবাসন সংক্রান্ত শুনানির জন্য আদালতে আসা অনেক ব্যক্তিকে আদালত প্রাঙ্গণ থেকেই আটক করে কয়েক দিনের মধ্যে বহিষ্কারের অভিযোগ ওঠে। রায়ের পর আমেরিকান সিভিল লিবার্টিজ ইউনিয়নের (এসিএলইউ) ইমিগ্র্যান্টস রাইটস প্রজেক্টের জ্যেষ্ঠ আইনজীবী আনন্দ বালাকৃষ্ণন বলেন, এই নীতি এমন একটি ব্যবস্থাকে আরও শক্তিশালী করবে যেখানে ভুল সিদ্ধান্তের ঝুঁকি রয়েছে এবং অভিবাসীরা ন্যায্য আইনি প্রক্রিয়া থেকে বঞ্চিত হতে পারেন।   তবে আপিল আদালতের বিচারক জাস্টিন আর ওয়াকার রায়ে বলেন, বাদীপক্ষ প্রমাণ করতে পারেনি যে সম্প্রসারিত দ্রুত বহিষ্কার নীতি সাংবিধানিক অধিকার লঙ্ঘন করছে। তার মতে, সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে কী পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে এবং কেন নেওয়া হচ্ছে, সে বিষয়ে তাদের জানানো হয় এবং জবাব দেওয়ার সুযোগও দেওয়া হয়।   এর আগে নিম্ন আদালতের বিচারক জিয়া কব যুক্তি দিয়েছিলেন, প্রশাসন এমন কোনো পর্যাপ্ত ব্যবস্থা গড়ে তুলতে পারেনি যা নিশ্চিত করবে দীর্ঘদিন ধরে যুক্তরাষ্ট্রে বসবাসকারী ব্যক্তিরা ভুলবশত দ্রুত বহিষ্কারের শিকার হবেন না। তিনি এমন কয়েকটি ঘটনার উল্লেখ করেন, যেখানে দুই বছরের বেশি সময় ধরে দেশে অবস্থানকারী ব্যক্তিদেরও দ্রুত বহিষ্কারের আদেশ দেওয়া হয়েছিল।   আপিল আদালত স্বীকার করেছে যে কিছু ক্ষেত্রে ভুল হয়েছে। তবে আদালতের মতে, এসব ঘটনা পৃথক কর্মকর্তাদের আইন অনুসরণে ব্যর্থতার ফল, নীতিগত বা প্রক্রিয়াগত ত্রুটির কারণে নয়। ট্রাম্প প্রশাসনের দাবি, অবৈধ অভিবাসন মোকাবিলায় দ্রুত বহিষ্কার ব্যবস্থা একটি গুরুত্বপূর্ণ হাতিয়ার। বিচার বিভাগ আদালতে বলেছে, সাম্প্রতিক বছরগুলোতে অভিবাসনের চাপ বৃদ্ধি পাওয়ায় এই নীতি প্রশাসনকে আরও কার্যকরভাবে বহিষ্কার কার্যক্রম পরিচালনায় সহায়তা করবে।   যুক্তরাষ্ট্রের সুপ্রিম কোর্ট এক গুরুত্বপূর্ণ রায়ে গ্রিন কার্ডধারীদের বহিষ্কারের ক্ষেত্রে ফেডারেল সীমান্ত কর্মকর্তাদের ক্ষমতা আরও বাড়িয়েছে। আদালতের এই সিদ্ধান্তের ফলে বিদেশ সফর শেষে যুক্তরাষ্ট্রে ফেরার সময় কোনো গ্রিন কার্ডধারীর বিরুদ্ধে ‘নৈতিক স্খলনমূলক অপরাধে’ (মোরাল টারপিটিউড) জড়িত থাকার যুক্তিসঙ্গত সন্দেহ থাকলেই তাকে দেশে প্রবেশে বাধা দেওয়া সহজ হবে।   মঙ্গলবার ৬-৩ ভোটের সংখ্যাগরিষ্ঠ রায়ে সুপ্রিম কোর্ট জানায়, সীমান্ত কর্মকর্তাদের আর স্পষ্ট ও শক্ত প্রমাণ দিয়ে দেখাতে হবে না যে কোনো গ্রিন কার্ডধারী প্রকৃতপক্ষে এমন অপরাধ করেছেন। কর্মকর্তাদের কাছে বিশ্বাস করার মতো যথেষ্ট কারণ থাকলেই তারা ওই ব্যক্তির যুক্তরাষ্ট্রে পুনঃপ্রবেশের অধিকার প্রশ্নবিদ্ধ করতে পারবেন।   বিচারপতি ক্লারেন্স থমাস সংখ্যাগরিষ্ঠ মতামতে বলেন, বিদ্যমান অভিবাসন আইন সরকারকে অপরাধের বিষয়টি ‘স্পষ্ট ও বিশ্বাসযোগ্য প্রমাণ’ দিয়ে প্রতিষ্ঠা করার বাধ্যবাধকতা দেয় না। এই রায়কে ট্রাম্প প্রশাসনের জন্য একটি বড় আইনি সাফল্য হিসেবে দেখা হচ্ছে। এর ফলে যুক্তরাষ্ট্রের প্রবেশবন্দরগুলোতে গ্রিন কার্ডধারীদের স্থায়ী বাসিন্দা মর্যাদা বাতিল বা সীমিত করার ক্ষেত্রে সীমান্ত কর্মকর্তাদের ক্ষমতা বৃদ্ধি পাবে।   মামলাটি করেছিলেন চীনা নাগরিক ও যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডধারী মুক চই লাউ। ২০১২ সালে চীন সফর শেষে নিউইয়র্কের জন এফ. কেনেডি আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে ফেরার সময় নিউ জার্সিতে ট্রেডমার্ক জালিয়াতি সংক্রান্ত অভিযোগের কারণে তাকে আনুষ্ঠানিকভাবে দেশে প্রবেশের অনুমতি দেওয়া হয়নি। পরে তিনি শর্তসাপেক্ষে যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশ করলেও এক বছর পর ওই অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন এবং তার বিরুদ্ধে বহিষ্কারের আদেশ জারি করা হয়।   লাউ দাবি করেছিলেন, তার বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ ‘নৈতিক স্খলনমূলক অপরাধ’ হিসেবে গণ্য হওয়ার কথা নয়। তবে সুপ্রিম কোর্ট তার যুক্তি গ্রহণ করেনি। ভিন্নমত পোষণকারী বিচারপতি কেতানজি ব্রাউন জ্যাকসন বলেন, সরকারকে প্রথমে প্রমাণ করতে হবে যে কোনো ব্যক্তি সত্যিই অপরাধ করেছেন, তারপরই তার গ্রিন কার্ডধারী মর্যাদা বাতিল করা যেতে পারে। তিনি সতর্ক করে বলেন, এই রায়ের মাধ্যমে সরকারকে অত্যন্ত বিস্তৃত ক্ষমতা দেওয়া হয়েছে, যা ভবিষ্যতে অভিবাসীদের অধিকার ক্ষুণ্ন করতে পারে। তার সঙ্গে বিচারপতি সোনিয়া সোটোমেয়র ও এলেনা কেগানও একমত হন।   অভিবাসন ইস্যুতে সরকারের পক্ষে দুটি গুরুত্বপূর্ণ রায় এলেও একই দিনে ক্যালিফোর্নিয়ার একটি ফেডারেল আদালত ট্রাম্প প্রশাসনের আরেকটি নীতির বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান নিয়েছে। উত্তর ক্যালিফোর্নিয়ার জেলা আদালতের বিচারক পি. কেসি পিটস দেশব্যাপী একটি নিষেধাজ্ঞা জারি করে বলেন, অভিবাসন আদালতে হাজির হওয়া ব্যক্তিদের গ্রেপ্তার করার নীতি এবং ১২ ঘণ্টার বেশি সময় ধরে আটক রাখার নীতি আইনবিরোধী।   ৭১ পৃষ্ঠার রায়ে তিনি উল্লেখ করেন, প্রশাসন এসব নীতি গ্রহণের ক্ষেত্রে যৌক্তিক ব্যাখ্যা দিতে ব্যর্থ হয়েছে এবং প্রশাসনিক আইন লঙ্ঘন করেছে। ট্রাম্প প্রশাসনের সময় থেকেই অভিবাসন আদালতের বাইরে আইসিই কর্মকর্তাদের অবস্থান এবং শুনানিতে অংশ নিতে আসা ব্যক্তিদের গ্রেপ্তারের ঘটনা বাড়তে থাকে। সমালোচকদের মতে, এতে অভিবাসীরা আদালতে হাজির হতে ভয় পান এবং ন্যায়বিচার প্রক্রিয়া ক্ষতিগ্রস্ত হয়।   বিচারক পিটস বলেন, আইসিই যাদের গ্রেপ্তার করছে তারা অন্য কোনো অপরাধে অভিযুক্ত নন। যে অভিবাসন মামলার শুনানির জন্য তারা আদালতে আসছেন, সেই মামলার কারণেই তাদের আটক করা হচ্ছে। তিনি আরও বলেন, দীর্ঘ সময় আটক রাখার নীতি পঞ্চম সংশোধনীর অধীনে ব্যক্তির সাংবিধানিক অধিকার লঙ্ঘন করছে। এই রায়ের ফলে আপাতত দেশজুড়ে অভিবাসন আদালতে গ্রেপ্তার অভিযান এবং নির্ধারিত সীমার অতিরিক্ত আটক রাখার নীতি স্থগিত থাকবে।   তিনটি রায় একসঙ্গে পর্যালোচনা করলে দেখা যায়, যুক্তরাষ্ট্রের আদালতগুলো অভিবাসন প্রশ্নে একক অবস্থানে নেই। জাতীয় নিরাপত্তা, সীমান্ত নিয়ন্ত্রণ ও অভিবাসন আইন প্রয়োগের ক্ষেত্রে সরকারের ক্ষমতা কতদূর বিস্তৃত হতে পারে এবং সেই ক্ষমতার মুখে ব্যক্তির সাংবিধানিক অধিকার কতটা সুরক্ষিত থাকবে, তা নিয়ে বিভিন্ন আদালতে ভিন্ন দৃষ্টিভঙ্গি দেখা যাচ্ছে।   সুপ্রিম কোর্ট ও আপিল আদালতের সিদ্ধান্ত ট্রাম্প প্রশাসনের বহিষ্কার কার্যক্রমকে আরও গতিশীল করার সুযোগ তৈরি করেছে। বিশেষ করে গ্রিন কার্ডধারী এবং অনথিভুক্ত অভিবাসীদের ক্ষেত্রে সরকারের প্রয়োগক্ষমতা উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। অন্যদিকে ক্যালিফোর্নিয়ার রায় দেখিয়েছে, আদালত এমন পদক্ষেপে হস্তক্ষেপ করতে প্রস্তুত, যা অভিবাসীদের ন্যায়বিচার পাওয়ার সুযোগ সীমিত করতে পারে।   আনন্দ বালাকৃষ্ণন বলেছেন, দ্রুত বহিষ্কার নীতির সম্প্রসারণ এমন একটি ব্যবস্থাকে আরও শক্তিশালী করবে যেখানে ভুল সিদ্ধান্তের ঝুঁকি রয়েছে এবং অনেক অভিবাসী পূর্ণাঙ্গ আইনি শুনানির সুযোগ থেকে বঞ্চিত হতে পারেন। তার মতে, বিচারিক পর্যালোচনার সুযোগ সীমিত হয়ে গেলে বৈধভাবে বসবাসরত অনেক মানুষও ভুলবশত বহিষ্কারের ঝুঁকিতে পড়তে পারেন।   অন্যদিকে অভিবাসন অধিকারবিষয়ক সংগঠন অ্যালায়েন্স ফর জাস্টিস মনে করছে, সুপ্রিম কোর্টের ‘ব্ল্যাঞ্চ বনাম লাউ’ রায় সরকারের হাতে গ্রিন কার্ডধারীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার ক্ষমতা আরও বিস্তৃত করেছে। সংগঠনটির মতে, এই সিদ্ধান্ত ভবিষ্যতে বৈধ স্থায়ী বাসিন্দাদের জন্য নতুন ধরনের আইনি অনিশ্চয়তা তৈরি করতে পারে।   সুপ্রিম কোর্টের ভিন্নমত দেওয়া বিচারপতি কেতানজি ব্রাউন জ্যাকসনও রায়ের বিষয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। তার মতে, আদালতের সিদ্ধান্ত সরকারের হাতে একটি ‘বড় ধরনের খালি চেক’ তুলে দিয়েছে, যার ফলে কোনো ব্যক্তির বিরুদ্ধে অপরাধের অভিযোগ প্রমাণিত হওয়ার আগেই তার স্থায়ী আবাসিক মর্যাদা প্রশ্নবিদ্ধ হতে পারে।   অন্যদিকে অভিবাসন আদালত প্রাঙ্গণে গ্রেপ্তারবিরোধী মামলায় জয়ী অধিকারকর্মীরা বলছেন, আদালতের এই সিদ্ধান্ত অভিবাসীদের জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ সুরক্ষা তৈরি করেছে। তাদের মতে, আদালতে উপস্থিত হওয়ার কারণে গ্রেপ্তারের আশঙ্কা থাকলে ন্যায়বিচার পাওয়ার পুরো প্রক্রিয়াই বাধাগ্রস্ত হয়। ক্যালিফোর্নিয়ার ফেডারেল আদালতের রায় সেই আশঙ্কা কমাতে সহায়তা করবে।

Unknown জুন ২৪, ২০২৬ ১৪:০
জনপ্রিয় সংবাদ
বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনার পর তরুণীর মৃত্যু, এক বছরের সাজায় ক্যালিফোর্নিয়ার আইন পরিবর্তনের দাবি

যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন।   মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়।   তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।”   ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে।   প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন।   ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন।   প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল।   মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি।   রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।

যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডে বড় পরিবর্তন, পরিবারভিত্তিক ভিসা আবেদনকারীদের জন্য সুখবর

যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর আগস্ট ২০২৬ সালের ভিসা বুলেটিন প্রকাশ করেছে। নতুন এই আপডেটে পরিবারভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি দেখা গেছে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের স্থায়ী বাসিন্দাদের স্বামী, স্ত্রী ও সন্তানদের জন্য নির্ধারিত এফ২এ ক্যাটাগরিতে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এসেছে।   নতুন ভিসা বুলেটিন অনুযায়ী, পরিবারভিত্তিক কয়েকটি ক্যাটাগরিতে অপেক্ষার সময় কমার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এর মধ্যে এফ২এ ক্যাটাগরির অগ্রগতি সবচেয়ে বেশি, যেখানে যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডধারীদের স্বামী-স্ত্রী ও অবিবাহিত সন্তানদের আবেদন অন্তর্ভুক্ত থাকে।   এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের অবিবাহিত প্রাপ্তবয়স্ক সন্তানদের জন্য এফ১ ক্যাটাগরি এবং অন্যান্য পরিবারভিত্তিক ক্যাটাগরিতেও কিছু অগ্রগতি দেখা গেছে। তবে আবেদনকারীদের ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার তারিখ বা প্রায়োরিটি ডেট অনুযায়ীই পরবর্তী ধাপ নির্ধারণ হবে।   ভিসা বুলেটিনে বলা হয়েছে, পরিবারভিত্তিক অভিবাসন ভিসার সংখ্যা প্রতিবছর নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে দেওয়া হয়। তাই কোনো ক্যাটাগরিতে চাহিদা বেশি হলে অপেক্ষার সময় বাড়তে পারে এবং কম হলে তারিখ এগিয়ে আসতে পারে।   অন্যদিকে কর্মসংস্থানভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য পরিস্থিতি তুলনামূলক কঠিন রয়েছে। বিশেষ করে কিছু এমপ্লয়মেন্ট-বেসড ক্যাটাগরিতে দীর্ঘ অপেক্ষা ও সীমিত ভিসা সংখ্যার কারণে আবেদনকারীদের অনিশ্চয়তা অব্যাহত রয়েছে।   যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ী বসবাসের জন্য আবেদনকারীদের কাছে ভিসা বুলেটিন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এই তালিকার মাধ্যমে জানা যায়, কোন আবেদনকারীরা গ্রিন কার্ডের পরবর্তী ধাপে এগিয়ে যেতে পারবেন এবং কারা এখনও অপেক্ষার তালিকায় থাকবেন।   বিশেষজ্ঞদের মতে, নতুন এই পরিবর্তন অনেক পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীর জন্য আশার খবর হলেও, প্রতিটি আবেদনকারীর পরিস্থিতি নির্ভর করবে তাদের আবেদন জমার তারিখ, দেশভিত্তিক সীমা এবং ভিসা ক্যাটাগরির ওপর।   যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ব্যবস্থায় দীর্ঘদিন ধরে গ্রিন কার্ডের অপেক্ষার তালিকা বড় একটি বিষয় হয়ে আছে। নতুন ভিসা বুলেটিনে পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীদের জন্য অগ্রগতি দেখা গেলেও, সব আবেদনকারী একইভাবে সুবিধা পাবেন না।

মার্কিন ভিসা আপডেট ২০২৬! বাংলাদেশিদের জন্য কোন ভিসা বন্ধ, কোনটা চালু?

২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো।   প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে।   এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে।   অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে।   স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে।   সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে।   সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।

যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশি মালিকানাধীন বিশ্ববিদ্যালয়ের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধন

যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে।   এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন।   নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি।   উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।”   বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে।   এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে।   শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়।   উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন।   বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত।   এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।

পাঁচ সন্তানকে এতিম করে মাকে কুপিয়ে হত্যা, গ্রেপ্তারের সময়ও হাসছিল ঘাতক দুই বোন

যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে এক মর্মান্তিক ও লোমহর্ষক ঘটনার জন্ম দিয়েছে দুই তরুণী বোন। দিনদুপুরে ক্যারোলিন ‘কারো’ পেনা নামের ৩২ বছর বয়সী এক নারীকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগে তাদের গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। নিহত নারী পাঁচ সন্তানের জননী ছিলেন। তবে সবচেয়ে শিউরে ওঠার মতো বিষয় হলো, গ্রেপ্তারের সময় অভিযুক্তদের চেহারায় অনুশোচনার সামান্যতম ছাপ তো ছিলই না, উল্টো তাদের মুখে পৈশাচিক হাসি দেখা গেছে। মেক্সিকো সীমান্তের কাছের শহর দেল রিও থেকে বৃহস্পতিবার বিকেলে পুলিশ তাদের হাতকড়া পরিয়ে নিয়ে যাওয়ার সময় এই দৃশ্য ক্যামেরায় ধরা পড়ে।   আরও পড়ুন... ‘ফোনটা ধরতে পারলে হয়তো তাকে বাঁচাতে পারতাম’- টেক্সাসে পাঁচ সন্তানের মাকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা, দুই বোনসহ তিনজন গ্রেপ্তার   পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নিহত ক্যারোলিনকে বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় দুপুর ২টার পরপরই গুরুতর জখম অবস্থায় ভাল ভার্দে রিজিওনাল মেডিকেল সেন্টারে নেওয়া হয়। তার শরীরে একাধিক ছুরিকাঘাতের চিহ্ন ছিল। ঘটনাস্থলের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, একটি সনিক ড্রাইভ-থ্রু রেস্তোরাঁর বাইরে রক্তাক্ত অবস্থায় ক্যারোলিন তার তিন হামলাকারীর মুখোমুখি দাঁড়িয়ে আছেন।   পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য সান আন্তোনিওর একটি হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছায় এবং প্রায় ৩৫ হাজার বাসিন্দার শহর দেল রিওতে অভিযান চালিয়ে হামলাকারীদের শনাক্ত করে।   সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া গ্রেপ্তারের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, ২১ বছর বয়সী কিটি মিয়া দিয়াজ খালি পায়ে হেঁটে যাওয়ার সময় পুলিশের গাড়িতে ওঠার আগে মৃদু হাসছেন। কিটি নিজেও এক শিশুপুত্রের মা। অন্যদিকে, তার ১৯ বছর বয়সী ছোট বোন আমায়া কুকি দিয়াজ ক্যামেরার দিকে তাকিয়ে নির্লজ্জভাবে দাঁত বের করে হাসতে থাকেন।   ▶️ টেক্সাসে নিজের মাকে নির্মমভাবে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুই মেয়ে |   এমনকি ভিডিও ধারণকারীকে ব্যঙ্গাত্মক সুরে ‘রেকর্ড করা বন্ধ করো’ বলেও চিৎকার করতে শোনা যায় তাকে। দেল রিও পুলিশ জানিয়েছে, এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ২১ বছর বয়সী কায়ান্দ্রা রেনি ফাজ নামের তৃতীয় আরেক নারীকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে ঠিক কী কারণে এই নারকীয় হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে, সে বিষয়ে পুলিশ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি।

Top week

আমেরিকার বিলাসবহুল শহর। ছবি:সংগৃহীত

নতুন বাসিন্দা খুঁজছে যুক্তরাষ্ট্রের কয়েকটি অঙ্গরাজ্য, দিচ্ছে ২৩ হাজার ডলার পর্যন্ত প্রণোদনা

সিদ্দিকুর রহমান আগস্ট ৩, ২০২৬ ১৪:০