সাপ্তাহিক আমেরিকা বাংলা ই-পেপার
আমেরিকা

গ্রিন কার্ডধারীদের পুনঃপ্রবেশে কঠোরতা, বিদেশ থেকে ফিরছেন? বাড়তে পারে জটিলতা

Unknown প্রকাশ: জুন ২৫, ২০২৬ ৪:৫৫
এআই / আমেরিকা বাংলা
এআই / আমেরিকা বাংলা

যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন নীতিতে একাধিক গুরুত্বপূর্ণ আইনি পরিবর্তনের ইঙ্গিত দিয়েছে দেশটির সুপ্রিম কোর্ট, ফেডারেল আপিল আদালত এবং জেলা আদালতের সাম্প্রতিক তিনটি রায়। একদিকে দ্রুত বহিষ্কার কার্যক্রম পুনরায় চালুর অনুমতি দেওয়া হয়েছে, অন্যদিকে বিদেশ সফর শেষে ফেরা গ্রিন কার্ডধারীদের ক্ষেত্রে সীমান্ত কর্মকর্তাদের ক্ষমতা বাড়ানো হয়েছে। একই সময়ে অভিবাসন আদালত প্রাঙ্গণে গ্রেপ্তার ও দীর্ঘ সময় আটকে রাখার নীতির বিরুদ্ধে দেশব্যাপী নিষেধাজ্ঞাও জারি করেছে একটি ফেডারেল আদালত।

 

যুক্তরাষ্ট্রে অভিবাসন ইস্যু দীর্ঘদিন ধরেই রাজনৈতিক বিতর্ক, আইনি লড়াই এবং জনমতের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছে। প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের দ্বিতীয় মেয়াদে ব্যাপক অভিবাসন অভিযান, দ্রুত বহিষ্কার নীতি এবং কঠোর সীমান্ত ব্যবস্থাপনা নতুন করে আলোচনায় এসেছে। সাম্প্রতিক তিনটি রায় অভিবাসন ব্যবস্থার ভবিষ্যৎ নিয়ে নতুন প্রশ্ন তৈরি করেছে।

 

যুক্তরাষ্ট্রের ডিস্ট্রিক্ট অব কলাম্বিয়া সার্কিটের ফেডারেল আপিল আদালত ট্রাম্প প্রশাসনকে অনথিভুক্ত অভিবাসীদের দ্রুত বহিষ্কার কার্যক্রম পুনরায় চালুর অনুমতি দিয়েছে। এর ফলে সীমান্তবর্তী এলাকা ছাড়াও দেশের অভ্যন্তরে অবস্থানরত অনথিভুক্ত অভিবাসীদের বিচারকের সামনে পূর্ণাঙ্গ শুনানির সুযোগ ছাড়াই দ্রুত বহিষ্কার করা যাবে। মঙ্গলবার দেওয়া রায়ে তিন বিচারকের একটি বেঞ্চ নিম্ন আদালতের দেওয়া স্থগিতাদেশ বাতিল করে। এর মাধ্যমে প্রশাসনের সম্প্রসারিত ‘দ্রুত বহিষ্কার’ নীতি আবার কার্যকর করার পথ উন্মুক্ত হয়।

 

দ্রুত বহিষ্কার পদ্ধতিতে কোনো অভিবাসীকে অভিবাসন আদালতে পূর্ণাঙ্গ শুনানির সুযোগ না দিয়েই দেশ থেকে ফেরত পাঠানো সম্ভব। আগে এই ব্যবস্থা সীমান্তে আটক বা সমুদ্রপথে যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশকারী ব্যক্তিদের ক্ষেত্রে প্রয়োগ করা হতো। চলতি বছরের জানুয়ারিতে ট্রাম্প প্রশাসন এর আওতা বাড়িয়ে সারা দেশে বসবাসরত অনথিভুক্ত অভিবাসীদের ক্ষেত্রেও এটি প্রযোজ্য করে।

 

এরপর থেকে অভিবাসন সংক্রান্ত শুনানির জন্য আদালতে আসা অনেক ব্যক্তিকে আদালত প্রাঙ্গণ থেকেই আটক করে কয়েক দিনের মধ্যে বহিষ্কারের অভিযোগ ওঠে। রায়ের পর আমেরিকান সিভিল লিবার্টিজ ইউনিয়নের (এসিএলইউ) ইমিগ্র্যান্টস রাইটস প্রজেক্টের জ্যেষ্ঠ আইনজীবী আনন্দ বালাকৃষ্ণন বলেন, এই নীতি এমন একটি ব্যবস্থাকে আরও শক্তিশালী করবে যেখানে ভুল সিদ্ধান্তের ঝুঁকি রয়েছে এবং অভিবাসীরা ন্যায্য আইনি প্রক্রিয়া থেকে বঞ্চিত হতে পারেন।

 

তবে আপিল আদালতের বিচারক জাস্টিন আর ওয়াকার রায়ে বলেন, বাদীপক্ষ প্রমাণ করতে পারেনি যে সম্প্রসারিত দ্রুত বহিষ্কার নীতি সাংবিধানিক অধিকার লঙ্ঘন করছে। তার মতে, সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে কী পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে এবং কেন নেওয়া হচ্ছে, সে বিষয়ে তাদের জানানো হয় এবং জবাব দেওয়ার সুযোগও দেওয়া হয়।

 

এর আগে নিম্ন আদালতের বিচারক জিয়া কব যুক্তি দিয়েছিলেন, প্রশাসন এমন কোনো পর্যাপ্ত ব্যবস্থা গড়ে তুলতে পারেনি যা নিশ্চিত করবে দীর্ঘদিন ধরে যুক্তরাষ্ট্রে বসবাসকারী ব্যক্তিরা ভুলবশত দ্রুত বহিষ্কারের শিকার হবেন না। তিনি এমন কয়েকটি ঘটনার উল্লেখ করেন, যেখানে দুই বছরের বেশি সময় ধরে দেশে অবস্থানকারী ব্যক্তিদেরও দ্রুত বহিষ্কারের আদেশ দেওয়া হয়েছিল।

 

আপিল আদালত স্বীকার করেছে যে কিছু ক্ষেত্রে ভুল হয়েছে। তবে আদালতের মতে, এসব ঘটনা পৃথক কর্মকর্তাদের আইন অনুসরণে ব্যর্থতার ফল, নীতিগত বা প্রক্রিয়াগত ত্রুটির কারণে নয়। ট্রাম্প প্রশাসনের দাবি, অবৈধ অভিবাসন মোকাবিলায় দ্রুত বহিষ্কার ব্যবস্থা একটি গুরুত্বপূর্ণ হাতিয়ার। বিচার বিভাগ আদালতে বলেছে, সাম্প্রতিক বছরগুলোতে অভিবাসনের চাপ বৃদ্ধি পাওয়ায় এই নীতি প্রশাসনকে আরও কার্যকরভাবে বহিষ্কার কার্যক্রম পরিচালনায় সহায়তা করবে।

 

যুক্তরাষ্ট্রের সুপ্রিম কোর্ট এক গুরুত্বপূর্ণ রায়ে গ্রিন কার্ডধারীদের বহিষ্কারের ক্ষেত্রে ফেডারেল সীমান্ত কর্মকর্তাদের ক্ষমতা আরও বাড়িয়েছে। আদালতের এই সিদ্ধান্তের ফলে বিদেশ সফর শেষে যুক্তরাষ্ট্রে ফেরার সময় কোনো গ্রিন কার্ডধারীর বিরুদ্ধে ‘নৈতিক স্খলনমূলক অপরাধে’ (মোরাল টারপিটিউড) জড়িত থাকার যুক্তিসঙ্গত সন্দেহ থাকলেই তাকে দেশে প্রবেশে বাধা দেওয়া সহজ হবে।

 

মঙ্গলবার ৬-৩ ভোটের সংখ্যাগরিষ্ঠ রায়ে সুপ্রিম কোর্ট জানায়, সীমান্ত কর্মকর্তাদের আর স্পষ্ট ও শক্ত প্রমাণ দিয়ে দেখাতে হবে না যে কোনো গ্রিন কার্ডধারী প্রকৃতপক্ষে এমন অপরাধ করেছেন। কর্মকর্তাদের কাছে বিশ্বাস করার মতো যথেষ্ট কারণ থাকলেই তারা ওই ব্যক্তির যুক্তরাষ্ট্রে পুনঃপ্রবেশের অধিকার প্রশ্নবিদ্ধ করতে পারবেন।

 

বিচারপতি ক্লারেন্স থমাস সংখ্যাগরিষ্ঠ মতামতে বলেন, বিদ্যমান অভিবাসন আইন সরকারকে অপরাধের বিষয়টি ‘স্পষ্ট ও বিশ্বাসযোগ্য প্রমাণ’ দিয়ে প্রতিষ্ঠা করার বাধ্যবাধকতা দেয় না। এই রায়কে ট্রাম্প প্রশাসনের জন্য একটি বড় আইনি সাফল্য হিসেবে দেখা হচ্ছে। এর ফলে যুক্তরাষ্ট্রের প্রবেশবন্দরগুলোতে গ্রিন কার্ডধারীদের স্থায়ী বাসিন্দা মর্যাদা বাতিল বা সীমিত করার ক্ষেত্রে সীমান্ত কর্মকর্তাদের ক্ষমতা বৃদ্ধি পাবে।

 

মামলাটি করেছিলেন চীনা নাগরিক ও যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডধারী মুক চই লাউ। ২০১২ সালে চীন সফর শেষে নিউইয়র্কের জন এফ. কেনেডি আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে ফেরার সময় নিউ জার্সিতে ট্রেডমার্ক জালিয়াতি সংক্রান্ত অভিযোগের কারণে তাকে আনুষ্ঠানিকভাবে দেশে প্রবেশের অনুমতি দেওয়া হয়নি। পরে তিনি শর্তসাপেক্ষে যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশ করলেও এক বছর পর ওই অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন এবং তার বিরুদ্ধে বহিষ্কারের আদেশ জারি করা হয়।

 

লাউ দাবি করেছিলেন, তার বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ ‘নৈতিক স্খলনমূলক অপরাধ’ হিসেবে গণ্য হওয়ার কথা নয়। তবে সুপ্রিম কোর্ট তার যুক্তি গ্রহণ করেনি। ভিন্নমত পোষণকারী বিচারপতি কেতানজি ব্রাউন জ্যাকসন বলেন, সরকারকে প্রথমে প্রমাণ করতে হবে যে কোনো ব্যক্তি সত্যিই অপরাধ করেছেন, তারপরই তার গ্রিন কার্ডধারী মর্যাদা বাতিল করা যেতে পারে। তিনি সতর্ক করে বলেন, এই রায়ের মাধ্যমে সরকারকে অত্যন্ত বিস্তৃত ক্ষমতা দেওয়া হয়েছে, যা ভবিষ্যতে অভিবাসীদের অধিকার ক্ষুণ্ন করতে পারে। তার সঙ্গে বিচারপতি সোনিয়া সোটোমেয়র ও এলেনা কেগানও একমত হন।

 

অভিবাসন ইস্যুতে সরকারের পক্ষে দুটি গুরুত্বপূর্ণ রায় এলেও একই দিনে ক্যালিফোর্নিয়ার একটি ফেডারেল আদালত ট্রাম্প প্রশাসনের আরেকটি নীতির বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান নিয়েছে। উত্তর ক্যালিফোর্নিয়ার জেলা আদালতের বিচারক পি. কেসি পিটস দেশব্যাপী একটি নিষেধাজ্ঞা জারি করে বলেন, অভিবাসন আদালতে হাজির হওয়া ব্যক্তিদের গ্রেপ্তার করার নীতি এবং ১২ ঘণ্টার বেশি সময় ধরে আটক রাখার নীতি আইনবিরোধী।

 

৭১ পৃষ্ঠার রায়ে তিনি উল্লেখ করেন, প্রশাসন এসব নীতি গ্রহণের ক্ষেত্রে যৌক্তিক ব্যাখ্যা দিতে ব্যর্থ হয়েছে এবং প্রশাসনিক আইন লঙ্ঘন করেছে। ট্রাম্প প্রশাসনের সময় থেকেই অভিবাসন আদালতের বাইরে আইসিই কর্মকর্তাদের অবস্থান এবং শুনানিতে অংশ নিতে আসা ব্যক্তিদের গ্রেপ্তারের ঘটনা বাড়তে থাকে। সমালোচকদের মতে, এতে অভিবাসীরা আদালতে হাজির হতে ভয় পান এবং ন্যায়বিচার প্রক্রিয়া ক্ষতিগ্রস্ত হয়।

 

বিচারক পিটস বলেন, আইসিই যাদের গ্রেপ্তার করছে তারা অন্য কোনো অপরাধে অভিযুক্ত নন। যে অভিবাসন মামলার শুনানির জন্য তারা আদালতে আসছেন, সেই মামলার কারণেই তাদের আটক করা হচ্ছে। তিনি আরও বলেন, দীর্ঘ সময় আটক রাখার নীতি পঞ্চম সংশোধনীর অধীনে ব্যক্তির সাংবিধানিক অধিকার লঙ্ঘন করছে। এই রায়ের ফলে আপাতত দেশজুড়ে অভিবাসন আদালতে গ্রেপ্তার অভিযান এবং নির্ধারিত সীমার অতিরিক্ত আটক রাখার নীতি স্থগিত থাকবে।

 

তিনটি রায় একসঙ্গে পর্যালোচনা করলে দেখা যায়, যুক্তরাষ্ট্রের আদালতগুলো অভিবাসন প্রশ্নে একক অবস্থানে নেই। জাতীয় নিরাপত্তা, সীমান্ত নিয়ন্ত্রণ ও অভিবাসন আইন প্রয়োগের ক্ষেত্রে সরকারের ক্ষমতা কতদূর বিস্তৃত হতে পারে এবং সেই ক্ষমতার মুখে ব্যক্তির সাংবিধানিক অধিকার কতটা সুরক্ষিত থাকবে, তা নিয়ে বিভিন্ন আদালতে ভিন্ন দৃষ্টিভঙ্গি দেখা যাচ্ছে।

 

সুপ্রিম কোর্ট ও আপিল আদালতের সিদ্ধান্ত ট্রাম্প প্রশাসনের বহিষ্কার কার্যক্রমকে আরও গতিশীল করার সুযোগ তৈরি করেছে। বিশেষ করে গ্রিন কার্ডধারী এবং অনথিভুক্ত অভিবাসীদের ক্ষেত্রে সরকারের প্রয়োগক্ষমতা উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। অন্যদিকে ক্যালিফোর্নিয়ার রায় দেখিয়েছে, আদালত এমন পদক্ষেপে হস্তক্ষেপ করতে প্রস্তুত, যা অভিবাসীদের ন্যায়বিচার পাওয়ার সুযোগ সীমিত করতে পারে।

 

আনন্দ বালাকৃষ্ণন বলেছেন, দ্রুত বহিষ্কার নীতির সম্প্রসারণ এমন একটি ব্যবস্থাকে আরও শক্তিশালী করবে যেখানে ভুল সিদ্ধান্তের ঝুঁকি রয়েছে এবং অনেক অভিবাসী পূর্ণাঙ্গ আইনি শুনানির সুযোগ থেকে বঞ্চিত হতে পারেন। তার মতে, বিচারিক পর্যালোচনার সুযোগ সীমিত হয়ে গেলে বৈধভাবে বসবাসরত অনেক মানুষও ভুলবশত বহিষ্কারের ঝুঁকিতে পড়তে পারেন।

 

অন্যদিকে অভিবাসন অধিকারবিষয়ক সংগঠন অ্যালায়েন্স ফর জাস্টিস মনে করছে, সুপ্রিম কোর্টের ‘ব্ল্যাঞ্চ বনাম লাউ’ রায় সরকারের হাতে গ্রিন কার্ডধারীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার ক্ষমতা আরও বিস্তৃত করেছে। সংগঠনটির মতে, এই সিদ্ধান্ত ভবিষ্যতে বৈধ স্থায়ী বাসিন্দাদের জন্য নতুন ধরনের আইনি অনিশ্চয়তা তৈরি করতে পারে।

 

সুপ্রিম কোর্টের ভিন্নমত দেওয়া বিচারপতি কেতানজি ব্রাউন জ্যাকসনও রায়ের বিষয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। তার মতে, আদালতের সিদ্ধান্ত সরকারের হাতে একটি ‘বড় ধরনের খালি চেক’ তুলে দিয়েছে, যার ফলে কোনো ব্যক্তির বিরুদ্ধে অপরাধের অভিযোগ প্রমাণিত হওয়ার আগেই তার স্থায়ী আবাসিক মর্যাদা প্রশ্নবিদ্ধ হতে পারে।

 

অন্যদিকে অভিবাসন আদালত প্রাঙ্গণে গ্রেপ্তারবিরোধী মামলায় জয়ী অধিকারকর্মীরা বলছেন, আদালতের এই সিদ্ধান্ত অভিবাসীদের জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ সুরক্ষা তৈরি করেছে। তাদের মতে, আদালতে উপস্থিত হওয়ার কারণে গ্রেপ্তারের আশঙ্কা থাকলে ন্যায়বিচার পাওয়ার পুরো প্রক্রিয়াই বাধাগ্রস্ত হয়। ক্যালিফোর্নিয়ার ফেডারেল আদালতের রায় সেই আশঙ্কা কমাতে সহায়তা করবে।


© America Bangla | All Rights Reserved. আমেরিকা বাংলার পূর্বানুমতি ছাড়া এই প্রতিবেদনের লেখা, ছবি, গ্রাফিক্স বা অন্যান্য মৌলিক কনটেন্ট সম্পূর্ণ বা আংশিকভাবে কপি বা পুনঃপ্রকাশ করা নিষিদ্ধ। অনুমোদিত ব্যবহারের ক্ষেত্রে আমেরিকা বাংলা কে স্পষ্টভাবে সোর্স হিসেবে উল্লেখ করতে হবে।

জনপ্রিয় সংবাদ
বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনার পর তরুণীর মৃত্যু, এক বছরের সাজায় ক্যালিফোর্নিয়ার আইন পরিবর্তনের দাবি

যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন।   মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়।   তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।”   ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে।   প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন।   ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন।   প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল।   মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি।   রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।

যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডে বড় পরিবর্তন, পরিবারভিত্তিক ভিসা আবেদনকারীদের জন্য সুখবর

যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর আগস্ট ২০২৬ সালের ভিসা বুলেটিন প্রকাশ করেছে। নতুন এই আপডেটে পরিবারভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি দেখা গেছে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের স্থায়ী বাসিন্দাদের স্বামী, স্ত্রী ও সন্তানদের জন্য নির্ধারিত এফ২এ ক্যাটাগরিতে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এসেছে।   নতুন ভিসা বুলেটিন অনুযায়ী, পরিবারভিত্তিক কয়েকটি ক্যাটাগরিতে অপেক্ষার সময় কমার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এর মধ্যে এফ২এ ক্যাটাগরির অগ্রগতি সবচেয়ে বেশি, যেখানে যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডধারীদের স্বামী-স্ত্রী ও অবিবাহিত সন্তানদের আবেদন অন্তর্ভুক্ত থাকে।   এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের অবিবাহিত প্রাপ্তবয়স্ক সন্তানদের জন্য এফ১ ক্যাটাগরি এবং অন্যান্য পরিবারভিত্তিক ক্যাটাগরিতেও কিছু অগ্রগতি দেখা গেছে। তবে আবেদনকারীদের ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার তারিখ বা প্রায়োরিটি ডেট অনুযায়ীই পরবর্তী ধাপ নির্ধারণ হবে।   ভিসা বুলেটিনে বলা হয়েছে, পরিবারভিত্তিক অভিবাসন ভিসার সংখ্যা প্রতিবছর নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে দেওয়া হয়। তাই কোনো ক্যাটাগরিতে চাহিদা বেশি হলে অপেক্ষার সময় বাড়তে পারে এবং কম হলে তারিখ এগিয়ে আসতে পারে।   অন্যদিকে কর্মসংস্থানভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য পরিস্থিতি তুলনামূলক কঠিন রয়েছে। বিশেষ করে কিছু এমপ্লয়মেন্ট-বেসড ক্যাটাগরিতে দীর্ঘ অপেক্ষা ও সীমিত ভিসা সংখ্যার কারণে আবেদনকারীদের অনিশ্চয়তা অব্যাহত রয়েছে।   যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ী বসবাসের জন্য আবেদনকারীদের কাছে ভিসা বুলেটিন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এই তালিকার মাধ্যমে জানা যায়, কোন আবেদনকারীরা গ্রিন কার্ডের পরবর্তী ধাপে এগিয়ে যেতে পারবেন এবং কারা এখনও অপেক্ষার তালিকায় থাকবেন।   বিশেষজ্ঞদের মতে, নতুন এই পরিবর্তন অনেক পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীর জন্য আশার খবর হলেও, প্রতিটি আবেদনকারীর পরিস্থিতি নির্ভর করবে তাদের আবেদন জমার তারিখ, দেশভিত্তিক সীমা এবং ভিসা ক্যাটাগরির ওপর।   যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ব্যবস্থায় দীর্ঘদিন ধরে গ্রিন কার্ডের অপেক্ষার তালিকা বড় একটি বিষয় হয়ে আছে। নতুন ভিসা বুলেটিনে পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীদের জন্য অগ্রগতি দেখা গেলেও, সব আবেদনকারী একইভাবে সুবিধা পাবেন না।

মার্কিন ভিসা আপডেট ২০২৬! বাংলাদেশিদের জন্য কোন ভিসা বন্ধ, কোনটা চালু?

২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো।   প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে।   এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে।   অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে।   স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে।   সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে।   সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।

যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশি মালিকানাধীন বিশ্ববিদ্যালয়ের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধন

যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে।   এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন।   নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি।   উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।”   বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে।   এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে।   শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়।   উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন।   বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত।   এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।

পাঁচ সন্তানকে এতিম করে মাকে কুপিয়ে হত্যা, গ্রেপ্তারের সময়ও হাসছিল ঘাতক দুই বোন

যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে এক মর্মান্তিক ও লোমহর্ষক ঘটনার জন্ম দিয়েছে দুই তরুণী বোন। দিনদুপুরে ক্যারোলিন ‘কারো’ পেনা নামের ৩২ বছর বয়সী এক নারীকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগে তাদের গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। নিহত নারী পাঁচ সন্তানের জননী ছিলেন। তবে সবচেয়ে শিউরে ওঠার মতো বিষয় হলো, গ্রেপ্তারের সময় অভিযুক্তদের চেহারায় অনুশোচনার সামান্যতম ছাপ তো ছিলই না, উল্টো তাদের মুখে পৈশাচিক হাসি দেখা গেছে। মেক্সিকো সীমান্তের কাছের শহর দেল রিও থেকে বৃহস্পতিবার বিকেলে পুলিশ তাদের হাতকড়া পরিয়ে নিয়ে যাওয়ার সময় এই দৃশ্য ক্যামেরায় ধরা পড়ে।   আরও পড়ুন... ‘ফোনটা ধরতে পারলে হয়তো তাকে বাঁচাতে পারতাম’- টেক্সাসে পাঁচ সন্তানের মাকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা, দুই বোনসহ তিনজন গ্রেপ্তার   পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নিহত ক্যারোলিনকে বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় দুপুর ২টার পরপরই গুরুতর জখম অবস্থায় ভাল ভার্দে রিজিওনাল মেডিকেল সেন্টারে নেওয়া হয়। তার শরীরে একাধিক ছুরিকাঘাতের চিহ্ন ছিল। ঘটনাস্থলের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, একটি সনিক ড্রাইভ-থ্রু রেস্তোরাঁর বাইরে রক্তাক্ত অবস্থায় ক্যারোলিন তার তিন হামলাকারীর মুখোমুখি দাঁড়িয়ে আছেন।   পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য সান আন্তোনিওর একটি হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছায় এবং প্রায় ৩৫ হাজার বাসিন্দার শহর দেল রিওতে অভিযান চালিয়ে হামলাকারীদের শনাক্ত করে।   সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া গ্রেপ্তারের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, ২১ বছর বয়সী কিটি মিয়া দিয়াজ খালি পায়ে হেঁটে যাওয়ার সময় পুলিশের গাড়িতে ওঠার আগে মৃদু হাসছেন। কিটি নিজেও এক শিশুপুত্রের মা। অন্যদিকে, তার ১৯ বছর বয়সী ছোট বোন আমায়া কুকি দিয়াজ ক্যামেরার দিকে তাকিয়ে নির্লজ্জভাবে দাঁত বের করে হাসতে থাকেন।   ▶️ টেক্সাসে নিজের মাকে নির্মমভাবে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুই মেয়ে |   এমনকি ভিডিও ধারণকারীকে ব্যঙ্গাত্মক সুরে ‘রেকর্ড করা বন্ধ করো’ বলেও চিৎকার করতে শোনা যায় তাকে। দেল রিও পুলিশ জানিয়েছে, এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ২১ বছর বয়সী কায়ান্দ্রা রেনি ফাজ নামের তৃতীয় আরেক নারীকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে ঠিক কী কারণে এই নারকীয় হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে, সে বিষয়ে পুলিশ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি।

আমেরিকা

View more
জীবনযাত্রার বাড়তি ব্যয়ের মধ্যে যুক্তরাষ্ট্রের অনেক পরিবারকে মাসিক বাজেট সামলাতে চাপের মুখে পড়তে হচ্ছে। ছবি: সংগৃহীত
যুক্তরাষ্ট্রে বাড়ছে পারিবারিক আর্থিক চাপ, সময়মতো সব বিল দিতে পারছে না ৩২ শতাংশ পরিবার

যুক্তরাষ্ট্রে জীবনযাত্রার ব্যয় এবং পরিবারের আর্থিক চাপ বাড়ার মধ্যে প্রায় এক-তৃতীয়াংশ পরিবার গত এক বছরে তাদের সব বিল সময়মতো পরিশোধ করতে পারেনি। নতুন এক গবেষণায় দেখা গেছে, ২০২৬ সালে মাত্র ৬৮ শতাংশ মার্কিন পরিবার জানিয়েছে তারা গত ১২ মাসে সব বিল সময়মতো পরিশোধ করতে পেরেছে। ২০২৫ সালে এই হার ছিল ৭১ শতাংশ।   ২২ সেপ্টেম্বর প্রকাশিত অলাভজনক প্রতিষ্ঠান ফাইন্যান্সিয়াল হেলথ নেটওয়ার্কের ‘ফাইন্যান্সিয়াল হেলথ পালস ২০২৬ ইউএস ট্রেন্ডস রিপোর্টে’ এই তথ্য উঠে এসেছে। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ২০২৫ সালের বসন্ত থেকে ২০২৬ সালের বসন্তের মধ্যে যুক্তরাষ্ট্রের পরিবারের আর্থিক অবস্থায় সামগ্রিকভাবে অবনতি হয়েছে। একই সময়ে সঞ্চয় করা, নিয়মিত বিল পরিশোধ এবং ঋণের চাপ সামলানোর ক্ষেত্রে আরও বেশি পরিবার সমস্যায় পড়েছে।   গবেষণায় দেখা যায়, গত ১২ মাসে সব বিল সময়মতো পরিশোধ করতে পেরেছে এমন পরিবারের হার ৩ শতাংশীয় পয়েন্ট কমেছে। অর্থাৎ প্রায় এক-তৃতীয়াংশ পরিবার অন্তত কোনো না কোনো সময়ে সময়মতো সব বিল পরিশোধ করতে পারেনি।   আর্থিক সক্ষমতার আরও কয়েকটি সূচকেও অবনতির চিত্র পাওয়া গেছে। গত এক বছরে আয়ের চেয়ে কম খরচ করেছে এমন পরিবারের হার ৪৯ শতাংশ থেকে কমে ৪৭ শতাংশ হয়েছে। একই সময়ে নিজেদের সামলানোর অযোগ্য ঋণের মাত্রা রয়েছে বলে জানিয়েছে এমন পরিবারের হার ২৯ শতাংশ থেকে বেড়ে ৩১ শতাংশ হয়েছে। আর আর্থিকভাবে ঝুঁকিপূর্ণ পরিবারের হার ১৫ শতাংশ থেকে বেড়ে ১৭ শতাংশ হয়েছে।   আয়ের স্তরভেদে পরিস্থিতির পার্থক্য আরও স্পষ্ট। ফাইন্যান্সিয়াল হেলথ নেটওয়ার্কের প্রতিবেদনে দেখা গেছে, নিম্ন আয়ের পরিবারের ক্ষেত্রে গত এক বছরে আয়ের চেয়ে কম খরচ করতে পেরেছে এমন পরিবারের হার ৩৫ শতাংশ থেকে কমে ৩১ শতাংশ হয়েছে। একই সময়ে সব বিল সময়মতো পরিশোধ করতে পেরেছে এমন নিম্ন আয়ের পরিবারের হার ৫৪ শতাংশ থেকে কমে ৪৯ শতাংশে নেমেছে।   প্রতিবেদনে আরও বলা হয়েছে, খাদ্য, বাসস্থান, বিদ্যুৎ ও অন্যান্য ইউটিলিটি এবং যাতায়াতের মতো প্রয়োজনীয় খরচ বহন করতে পারব বলে পুরোপুরি আত্মবিশ্বাসী মাত্র ১০টির মধ্যে প্রায় ৬টি পরিবার। যেসব পরিবার খাদ্য, ইউটিলিটি বা বাসস্থানের খরচ বহনের সক্ষমতা নিয়ে একেবারেই আত্মবিশ্বাসী নয়, তাদের প্রায় ১০টির মধ্যে ৭টি আর্থিকভাবে ঝুঁকিপূর্ণ শ্রেণিতে পড়ে।   গবেষণার আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, ২০২৫ থেকে ২০২৬ সালের মধ্যে প্রায় ৩ কোটি ৩ লাখ পরিবার, অর্থাৎ দেশের প্রায় ২৩ শতাংশ পরিবার, তাদের আর্থিক সক্ষমতার একটি স্তর থেকে অন্য স্তরে চলে গেছে। এর মধ্যে প্রায় ১ কোটি ৬৫ লাখ পরিবার আর্থিক অবস্থার নিম্ন স্তরে নেমে গেছে, বিপরীতে প্রায় ১ কোটি ৩৮ লাখ পরিবার উন্নতি করেছে।   এদিকে যুক্তরাষ্ট্রে মূল্যস্ফীতির চাপও পুরোপুরি কমেনি। মার্কিন শ্রম পরিসংখ্যান ব্যুরোর সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, আগস্ট ২০২৬-এ ভোক্তা মূল্যসূচক আগের মাসের তুলনায় ০.৪ শতাংশ বেড়েছে এবং এক বছর আগের তুলনায় বেড়েছে ৩.৪ শতাংশ। একই সময়ে খাদ্যের দাম বছরে ২.৭ শতাংশ এবং বাসস্থানের ব্যয় ৩ শতাংশ বেড়েছে। সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন দেখা গেছে জ্বালানি খাতে। এক বছরে জ্বালানি সূচক ১৬.৩ শতাংশ এবং গ্যাসোলিনের দাম ২৭.৪ শতাংশ বেড়েছে।   জ্বালানি ব্যয়ের এই বৃদ্ধি পরিবারের অন্যান্য খরচেও চাপ তৈরি করতে পারে। বিশেষ করে যাতায়াত, পণ্য পরিবহন এবং বিভিন্ন সেবার সঙ্গে জ্বালানি ব্যয়ের সম্পর্ক থাকায় এর প্রভাব সরাসরি ও পরোক্ষভাবে পরিবারের বাজেটে পড়তে পারে। তবে ফাইন্যান্সিয়াল হেলথ নেটওয়ার্কের জরিপ বিল পরিশোধে সমস্যার নির্দিষ্ট কোনো একক কারণ নির্ধারণ করেনি।   ভোক্তাদের ভবিষ্যৎ অর্থনৈতিক পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগের আরেকটি চিত্র পাওয়া গেছে মিশিগান বিশ্ববিদ্যালয়ের সেপ্টেম্বরের জরিপে। প্রাথমিক হিসাবে সেপ্টেম্বরে ভোক্তা আস্থার সূচক ৪৭.৮-এ নেমে এসেছে, যা আগস্টে ছিল ৫১.৭। এক বছরের ব্যবধানে সূচকটি ১৩.২ শতাংশ কমেছে। বর্তমান অর্থনৈতিক পরিস্থিতির সূচকও এক বছরে ১৫.৭ শতাংশ কমেছে।   অর্থনীতিতে সুদের হারও বর্তমানে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হয়ে উঠেছে। ১৬ সেপ্টেম্বর ফেডারেল রিজার্ভের নীতিনির্ধারণী কমিটি ফেডারেল ফান্ডস রেট ২৫ বেসিস পয়েন্ট বাড়িয়ে ৩.৭৫ থেকে ৪ শতাংশের মধ্যে নির্ধারণ করেছে। ফেড জানিয়েছে, মূল্যস্ফীতি এখনো কিছুটা উঁচু এবং এই পদক্ষেপ তাদের ২ শতাংশ মূল্যস্ফীতির লক্ষ্যে ফিরে যাওয়ার প্রচেষ্টার অংশ।   তবে সুদের হার বৃদ্ধির প্রভাব পরিবারভেদে ভিন্ন হতে পারে। ঋণের সুদ, নতুন ঋণ নেওয়ার খরচ এবং কিছু ধরনের ভোক্তা ঋণের মাসিক পরিশোধে এর প্রভাব পড়তে পারে। অন্যদিকে সঞ্চয়কারীরা কিছু ক্ষেত্রে বেশি সুদ পাওয়ার সুবিধাও পেতে পারেন। ফলে সামগ্রিকভাবে সুদের হার বৃদ্ধিকে পরিবারের আর্থিক সংকটের একমাত্র কারণ হিসেবে দেখার সুযোগ নেই।   ফাইন্যান্সিয়াল হেলথ নেটওয়ার্কের প্রতিবেদনের সামগ্রিক চিত্রে বরং দেখা যাচ্ছে, যুক্তরাষ্ট্রের অনেক পরিবার একই সময়ে কয়েকটি চাপের মুখে রয়েছে। প্রয়োজনীয় খরচ মেটানো, সঞ্চয় করা এবং ঋণ সামলানোর সক্ষমতা একসঙ্গে দুর্বল হলে মাসের শেষে হাতে নগদ অর্থের ঘাটতি তৈরি হতে পারে। তখন পরিবারগুলোকে খাদ্য, বাসস্থান, ইউটিলিটি বা অন্যান্য জরুরি খরচকে অগ্রাধিকার দিতে হয় এবং কিছু বিল পিছিয়ে দেওয়ার পরিস্থিতি তৈরি হতে পারে।   এই চাপ নিম্ন আয়ের পরিবারগুলোর ক্ষেত্রে তুলনামূলকভাবে বেশি দৃশ্যমান। গবেষণায় তাদের সময়মতো বিল পরিশোধ এবং আয়ের চেয়ে কম খরচ করার সক্ষমতায় উল্লেখযোগ্য পতন পাওয়া গেছে। ফলে যুক্তরাষ্ট্রের সামগ্রিক অর্থনৈতিক সূচকের পাশাপাশি পরিবারের দৈনন্দিন আর্থিক সক্ষমতাও অর্থনৈতিক পরিস্থিতি বোঝার একটি গুরুত্বপূর্ণ সূচক হয়ে উঠছে।   সব মিলিয়ে, নতুন গবেষণাটি যুক্তরাষ্ট্রের পরিবারের আর্থিক অবস্থায় একটি সতর্কতামূলক পরিবর্তনের ইঙ্গিত দিচ্ছে। সব বিল সময়মতো দিতে না পারা পরিবারের হার বেড়েছে, সঞ্চয়ের সক্ষমতা কমেছে এবং ঋণের চাপ বেড়েছে। একই সময়ে মূল্যস্ফীতি ও জ্বালানি ব্যয়ের চাপ এবং কমে যাওয়া ভোক্তা আস্থাও দেখাচ্ছে যে অনেক পরিবারের জন্য মাসিক বাজেট সামলানো আগের তুলনায় কঠিন হয়ে উঠেছে।   সূত্র: ফাইন্যান্সিয়াল হেলথ নেটওয়ার্ক, যুক্তরাষ্ট্রের শ্রম পরিসংখ্যান ব্যুরো, মিশিগান বিশ্ববিদ্যালয়

আমেরিকা বাংলা ডেস্ক প্রকাশ: সেপ্টেম্বর ২৪, ২০২৬ ২৩:২
নিউইয়র্কবাসীর জন্য ৭০ হাজার বিনামূল্যের অপেরা টিকিট দেওয়ার উদ্যোগ ঘোষণা করেছেন মেয়র জোহরান মামদানি। ছবি: সংগৃহীত

নিউইয়র্কবাসীদের জন্য সুখবর, বিনামূল্যে ৭০ হাজার অপেরা টিকিট দিচ্ছেন মেয়র মামদানি

সাশ্রয়ী মূল্যের এই অ্যাপার্টমেন্টগুলোর লটারিতে অংশ নিতে পারবেন নিউইয়র্কবাসীরা। ছবি: সংগৃহীত

ম্যানহাটনে মাত্র ৮৬৩ ডলারে ২ বেডরুমের অ্যাপার্টমেন্ট, লটারিতে আবেদনের সুযোগ

কুইন্সের অপহরণ মামলায় দোষী সাব্যস্ত আবু চৌধুরী। ছবি: সংগৃহীত

নিজেকে নিউইয়র্কের রাজা দাবি করা বাংলাদেশি সুপারমার্কেট মালিক অপহরণ মামলায় দোষী সাব্যস্ত

যুক্তরাষ্ট্রে কর্মী সংকট কাটাতে স্থানীয়দের পাশাপাশি বিদেশি কর্মীদের ওপর জোর দেওয়ার পরামর্শ দিচ্ছেন বিশেষজ্ঞরা। ছবি: সংগৃহীত
যুক্তরাষ্ট্রে শ্রমিক সংকট, স্থানীয় কর্মী না পেয়ে বৈশ্বিক জনশক্তির দিকে নজর

যুক্তরাষ্ট্রের বিভিন্ন ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে কর্মী সংকট অব্যাহত রয়েছে। স্থানীয় শ্রমবাজারে প্রয়োজনীয় কর্মী খুঁজে না পাওয়ার কারণে অনেক প্রতিষ্ঠানকে নিয়োগ প্রক্রিয়ায় দীর্ঘ সময় ব্যয় করতে হচ্ছে। এ পরিস্থিতিতে ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানগুলোকে স্থানীয় এলাকার বাইরে গিয়ে আন্তর্জাতিক শ্রমবাজার থেকেও দক্ষ কর্মী খোঁজার বিষয়টি বিবেচনা করার পরামর্শ দিয়েছেন অভিবাসন ও আন্তর্জাতিক কর্মী নিয়োগ বিশেষজ্ঞ কার্লোস গনজালেজ।   তার এক মতামতধর্মী লেখায় গনজালেজ বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের শ্রমিক সংকটের একটি অংশ এমন একটি সমস্যার ফল, যেখানে প্রতিষ্ঠানগুলো একই সীমিত ভৌগোলিক এলাকার মধ্যে কর্মী খুঁজতে থাকে। ফলে প্রয়োজনীয় কর্মী না পেয়ে একই নিয়োগ প্রক্রিয়া বারবার চালাতে হয়।   সাম্প্রতিক পরিসংখ্যানেও যুক্তরাষ্ট্রের শ্রমবাজারে কর্মী ঘাটতির চিত্র উঠে এসেছে। ন্যাশনাল ফেডারেশন অব ইন্ডিপেনডেন্ট বিজনেস বা এনএফআইবির আগস্ট ২০২৬ সালের জরিপ অনুযায়ী, ছোট ব্যবসার ৩৫ শতাংশ মালিক এমন পদে নিয়োগ দিতে পারেননি যেগুলোতে কর্মী প্রয়োজন ছিল। এই হার জুলাইয়ের তুলনায় ১ শতাংশ পয়েন্ট কম হলেও দীর্ঘমেয়াদি গড়ের চেয়ে ১১ পয়েন্ট বেশি।   একই জরিপে দেখা যায়, আগস্টে ৫৬ শতাংশ ছোট ব্যবসার মালিক কর্মী নিয়োগ করেছেন বা নিয়োগের চেষ্টা করেছেন। তাদের মধ্যে ৮২ শতাংশ জানিয়েছেন, তারা যে পদগুলোতে কর্মী খুঁজছিলেন সেসব পদের জন্য যোগ্য আবেদনকারী খুব কম পেয়েছেন অথবা কোনো যোগ্য আবেদনকারীই পাননি। এনএফআইবির হিসাবে, ২৯ শতাংশ মালিক অল্পসংখ্যক যোগ্য আবেদনকারী পেয়েছেন এবং ১৮ শতাংশ কোনো যোগ্য আবেদনকারী পাননি।   শ্রমবাজারের সামগ্রিক চিত্রও সংকটের বিষয়টি স্পষ্ট করে। যুক্তরাষ্ট্রের শ্রম পরিসংখ্যান ব্যুরোর জুলাই ২০২৬ সালের চাকরির সুযোগ ও শ্রমিক বদলসংক্রান্ত প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ওই মাসের শেষ কর্মদিবসে দেশটিতে প্রায় ৭৩ লাখ চাকরির পদ খোলা ছিল। একই সময়ে নিয়োগ হয়েছে প্রায় ৫১ লাখ কর্মী।   গনজালেজের মতে, কোনো প্রতিষ্ঠান যদি বারবার একই পদে কর্মী নিয়োগ করে এবং কয়েক মাস পর আবার সেই পদ খালি হয়ে যায়, তাহলে প্রতিষ্ঠানটির সময় ও অর্থ দুটোই ক্ষতিগ্রস্ত হয়। কর্মীদের প্রশিক্ষণ, কাজের সময়সূচি পুনর্বিন্যাস, নতুন কর্মী খোঁজা এবং কর্মী ধরে রাখার ব্যয় বারবার বহন করতে হয়।   তার বক্তব্য অনুযায়ী, অস্থায়ী কর্মী নিয়োগের বিভিন্ন ব্যবস্থা নির্দিষ্ট পরিস্থিতিতে কার্যকর হলেও কোনো প্রতিষ্ঠানের দীর্ঘমেয়াদি প্রয়োজন মেটাতে বারবার অস্থায়ী কর্মী নিয়োগ করা স্থায়ী সমাধান নাও হতে পারে। বিশেষ করে যেসব প্রতিষ্ঠানে একই ধরনের কর্মীর প্রয়োজন বছরের পর বছর থাকে, সেখানে দীর্ঘমেয়াদি কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরির বিষয়টি বিবেচনা করা যেতে পারে।   এ ক্ষেত্রে কর্মসংস্থানভিত্তিক স্থায়ী অভিবাসনের পথগুলোর কথাও তুলে ধরেছেন তিনি। যুক্তরাষ্ট্রের কর্মসংস্থানভিত্তিক তৃতীয় অগ্রাধিকার বা ইবি-৩ কর্মসূচি এমন একটি ব্যবস্থা, যার মাধ্যমে নির্দিষ্ট যোগ্যতার বিদেশি কর্মীরা স্থায়ীভাবে যুক্তরাষ্ট্রে কাজ ও বসবাসের সুযোগের জন্য আবেদন করতে পারেন। তবে এ ধরনের প্রক্রিয়ায় যোগ্যতা, নিয়োগকর্তার ভূমিকা এবং অভিবাসন আইনের বিভিন্ন শর্ত পূরণ করতে হয়।   গনজালেজ মনে করেন, আন্তর্জাতিক কর্মী নিয়োগকে শুধু জরুরি পরিস্থিতির অস্থায়ী ব্যবস্থা হিসেবে না দেখে দীর্ঘমেয়াদি জনবল পরিকল্পনার অংশ হিসেবে বিবেচনা করা যেতে পারে। তার মতে, কর্মী সংকট দীর্ঘস্থায়ী হলে একটি প্রতিষ্ঠানের মানবসম্পদ বিভাগকে স্থানীয় নিয়োগের পাশাপাশি বৈধ আন্তর্জাতিক নিয়োগের সুযোগগুলোও মূল্যায়ন করা উচিত।   তবে বিদেশি কর্মী নিয়োগ নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রে দীর্ঘদিন ধরেই বিতর্ক রয়েছে। সমর্থকদের মতে, আন্তর্জাতিক কর্মী নিয়োগের মাধ্যমে প্রতিষ্ঠানগুলো প্রয়োজনীয় দক্ষতা ও শ্রমশক্তি পেতে পারে। অন্যদিকে সমালোচকেরা মনে করেন, কিছু ক্ষেত্রে বিদেশি কর্মী নিয়োগ স্থানীয় কর্মীদের সঙ্গে প্রতিযোগিতা বাড়াতে এবং মজুরির ওপর চাপ তৈরি করতে পারে।   এই কারণে আন্তর্জাতিক কর্মী নিয়োগকে যুক্তরাষ্ট্রের শ্রমিক সংকটের একমাত্র সমাধান হিসেবে দেখার সুযোগ নেই। স্থানীয় কর্মীদের প্রশিক্ষণ, মজুরি, কর্মপরিবেশ, পরিবহন, আবাসন এবং কর্মী ধরে রাখার নীতির পাশাপাশি বৈধ অভিবাসন ব্যবস্থাও শ্রমবাজারের সামগ্রিক পরিকল্পনার অংশ হতে পারে।   এনএফআইবির আগস্টের তথ্য বলছে, ছোট ব্যবসার ২৩ শতাংশ মালিক শ্রমিকের মান বা প্রাপ্যতাকে তাদের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ পরিচালনাগত সমস্যা হিসেবে উল্লেখ করেছেন। যদিও জুলাইয়ের তুলনায় এ হার ৪ পয়েন্ট কমেছে, এটি দীর্ঘমেয়াদি গড়ের চেয়ে ১১ পয়েন্ট বেশি। একই সময়ে ৩১ শতাংশ ছোট ব্যবসায় দক্ষ কর্মীর জন্য পদ খালি ছিল এবং ১৩ শতাংশ প্রতিষ্ঠানে অদক্ষ কর্মীর পদ খালি ছিল।   গনজালেজের প্রস্তাবিত পদ্ধতির মূল বিষয় হলো, যেসব পদ একই প্রতিষ্ঠানে বারবার খালি হচ্ছে সেগুলোকে আলাদা করে পর্যালোচনা করা। কোনো পদ প্রকৃতপক্ষে অস্থায়ী প্রয়োজনের জন্য, আর কোনটি প্রতিষ্ঠানের স্থায়ী জনবল কাঠামোর অংশ, তা নির্ধারণের পর নিয়োগের পথ ঠিক করার পরামর্শ দিয়েছেন তিনি।   তার মতে, কোনো প্রতিষ্ঠান যদি একই পদে বারবার একই পদ্ধতিতে কর্মী খোঁজে এবং কর্মী ধরে রাখতে না পারে, তাহলে শুধু শ্রমিকের ঘাটতিকে সমস্যার কারণ হিসেবে দেখলে বিষয়টির পুরো চিত্র পাওয়া যায় না। নিয়োগ পদ্ধতি, কর্মপরিবেশ, মজুরি, প্রশিক্ষণ এবং দীর্ঘমেয়াদি কর্মসংস্থানের সুযোগও তখন বিবেচনায় নেওয়া প্রয়োজন।   তবে এই মতামতের একটি গুরুত্বপূর্ণ সীমাবদ্ধতা হলো, লেখক নিজেই আন্তর্জাতিক কর্মী নিয়োগে সহায়তাকারী একটি প্রতিষ্ঠানের আইনবিষয়ক পরিচালক। গ্লোবাল এক্সপ্রেস রিক্রুটিং নামের প্রতিষ্ঠানটি কর্মসংস্থানভিত্তিক অভিবাসন কর্মসূচির মাধ্যমে নিয়োগকর্তাদের আন্তর্জাতিক কর্মী নিয়োগে সহায়তা করে এবং এ থেকে আয় করে। ফলে তার প্রস্তাবিত আন্তর্জাতিক নিয়োগের মডেলকে ব্যবসায়িক স্বার্থের প্রেক্ষাপটেও দেখা প্রয়োজন।   সব মিলিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের শ্রমবাজারে খালি পদ ও যোগ্য কর্মী খুঁজে পাওয়ার সমস্যাটি এখনও গুরুত্বপূর্ণ। সরকারি তথ্য অনুযায়ী জুলাইয়ে ৭৩ লাখ চাকরির সুযোগ খোলা ছিল এবং ছোট ব্যবসার একটি বড় অংশ আগস্টেও প্রয়োজনীয় কর্মী খুঁজে পেতে সমস্যার কথা জানিয়েছে।   বিশেষজ্ঞদের বিভিন্ন মতের মধ্যে একটি বিষয় স্পষ্ট, যুক্তরাষ্ট্রের শ্রমবাজারে কর্মী চাহিদা পূরণে স্থানীয় নিয়োগের পাশাপাশি দক্ষতা উন্নয়ন, কর্মী ধরে রাখা এবং আইনসম্মত আন্তর্জাতিক নিয়োগের সুযোগ নিয়ে আলোচনা অব্যাহত থাকবে।   সূত্র: ইউএস ব্যুরো অব লেবার স্ট্যাটিস্টিকস, ন্যাশনাল ফেডারেশন অব ইন্ডিপেনডেন্ট বিজনেস, ইউএসসিআইএস

আমেরিকা বাংলা ডেস্ক প্রকাশ: সেপ্টেম্বর ২৪, ২০২৬ ২০:৫৬
ক্যালিফোর্নিয়ায় জোড়া খু নের অভিযোগে যুবক গ্রেপ্তার, সিরিয়াল কিলার আতঙ্কে তদন্তকারীরা

ক্যালিফোর্নিয়ায় জোড়া খু নের অভিযোগে যুবক গ্রেপ্তার, সিরিয়াল কিলার আতঙ্কে তদন্তকারীরা

যুক্তরাষ্ট্রে এইচ-১বি ভিসায় ১ লাখ ডলার ফি, অনিশ্চয়তায় আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীদের ভবিষ্যৎ

যুক্তরাষ্ট্রে এইচ-১বি ভিসায় ১ লাখ ডলার ফি, অনিশ্চয়তায় আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীদের ভবিষ্যৎ

২০২৪ সালে পেনসিলভানিয়ায় ট্রাম্পের নির্বাচনী সমাবেশে গু লিবিদ্ধ জেমস কোপেনহেভারের মৃ ত্যু

২০২৪ সালে পেনসিলভানিয়ায় ট্রাম্পের নির্বাচনী সমাবেশে গু লিবিদ্ধ জেমস কোপেনহেভারের মৃ ত্যু

জাতিসংঘে নেতানিয়াহুর ভাষণ শুরু হতেই বিভিন্ন দেশের প্রতিনিধিদের ওয়াকআউট
জাতিসংঘে নেতানিয়াহুর ভাষণ শুরু হতেই বিভিন্ন দেশের প্রতিনিধিদের ওয়াকআউট

যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্কে জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের অধিবেশনে ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু ভাষণ দিতে মঞ্চে ওঠার সঙ্গে সঙ্গেই ওয়াকআউট করেছেন অসংখ্য দেশের প্রতিনিধিরা। বৃহস্পতিবার বিশ্বনেতাদের এই সম্মেলনে নেতানিয়াহু যখন বক্তব্য শুরু করেন, তখন প্রতিবাদস্বরূপ দলে দলে কূটনীতিকরা মিলনায়তন ত্যাগ করেন। তবে এই ঘটনাকে পাত্তা না দিয়ে ওয়াকআউট করা প্রতিনিধিদের ‘নৈতিক কাপুরুষ’ বলে আখ্যায়িত করেন তিনি।   এ সময় গ্যালারিতে থাকা তার সমর্থকরা হিব্রু ভাষায় ‘ইসরায়েলের জনগণ বেঁচে আছে’ বলে স্লোগান দিতে থাকেন। আসন্ন নির্বাচনের আগে ক্রমেই বাড়তে থাকা আন্তর্জাতিক কোণঠাসা পরিস্থিতির মধ্যেই এদিন গাজা যুদ্ধ ও ইসরায়েলি বাহিনীর কর্মকাণ্ডের পক্ষে জোরালো সাফাই গান তিনি।   ভাষণে নিউইয়র্কের মেয়র জোহরান মামদানি, পশ্চিম ইউরোপীয় নেতা এবং কাতার ও তুরস্কের কড়া সমালোচনা করেন নেতানিয়াহু। মেয়র মামদানি তাকে ‘যুদ্ধাপরাধী’ ও ‘ফিলিস্তিনিদের ওপর ভয়াবহ গণহত্যার স্থপতি’ হিসেবে আখ্যা দেওয়ায় নেতানিয়াহু তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করেন। তিনি দাবি করেন, ইসরায়েল কোনো গণহত্যা চালায়নি, বরং তা প্রতিরোধ করেছে।   একই সঙ্গে তিনি কোনো প্রমাণ ছাড়াই মেয়র মামদানির বিরুদ্ধে হামাসকে সমর্থনের ভিত্তিহীন অভিযোগ আনেন। এর প্রতিক্রিয়ায় এক বিবৃতিতে মেয়র মামদানি বলেন, আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালতের (আইসিসি) গ্রেপ্তারি পরোয়ানাভুক্ত নেতানিয়াহু তার গণহত্যার বিষয়টি আড়াল করতেই বরাবরের মতো মিথ্যার আশ্রয় নিয়েছেন।   আগামী পাঁচ সপ্তাহেরও কম সময়ের মধ্যে ইসরায়েলে সাধারণ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে। জনমত জরিপে পিছিয়ে থাকা নেতানিয়াহু এদিন প্রায় ৪০ মিনিট ধরে অনেকটা নির্বাচনী প্রচারণার ঢঙেই ভাষণ দেন, যা ইসরায়েলের প্রধান চারটি টেলিভিশন চ্যানেলে প্রাইম টাইমে সরাসরি সম্প্রচারিত হয়।   এই ভাষণের আগে ম্যানহাটনে তার সরকারের অর্থায়নে পাঁচ শতাধিক ইসরায়েলপন্থী ও ইরানবিরোধী বিলবোর্ড এবং ট্রাক নামানো হয়েছিল। নিজেকে সাতটি ফ্রন্টে লড়াই করা নেতা হিসেবে তুলে ধরে তিনি এদিনও ভাষণে বিভিন্ন সরঞ্জাম প্রদর্শন করেন।   লেবাননে হিজবুল্লাহর ওপর হামলার প্রসঙ্গ টেনে তিনি একটি পেজার হাতে তুলে ধরেন। পাশাপাশি একটি স্টারলিংক ইন্টারনেট রিসিভার দেখিয়ে তিনি জানান, এটি তিনি ইরানি প্রতিনিধিদের জন্য রেখে যাবেন, যাতে তারা নিজ দেশে ফিরে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে স্বাধীনভাবে কথা বলতে পারেন।   ইসরায়েলের এই নেতার আগমন ঘিরে জাতিসংঘের বাইরে ব্যাপক বিক্ষোভ অনুষ্ঠিত হয়েছে। ‘ইসরায়েলকে অস্ত্র দেওয়া বন্ধ করো, গাজাকে বাঁচতে দাও’ স্লোগানে শত শত বিক্ষোভকারী রাস্তা অবরোধ করলে পুলিশ বেশ কয়েকজনকে আটক করে। গাজা যুদ্ধের জেরে ইসরায়েলের নির্বাচনকালীন এই সংক্ষিপ্ত সফরে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সঙ্গে নেতানিয়াহুর কোনো পূর্বনির্ধারিত বৈঠক ছিল না।   তবে ভাষণে ট্রাম্পের ‘সাহসী নেতৃত্বের’ প্রশংসা করে তাকে ইসরায়েলের সবচেয়ে বড় অংশীদার বলে উল্লেখ করেন নেতানিয়াহু।   প্রায় তিন বছর ধরে চলা গাজা যুদ্ধের জেরে ইসরায়েল বর্তমানে চরম কূটনৈতিক বিচ্ছিন্নতার মুখে রয়েছে। ২০২৪ সালে আইসিসির জারি করা গ্রেপ্তারি পরোয়ানার কারণে নেতানিয়াহু অনেক দেশেই সফর করতে পারেন না। অধিকৃত পশ্চিম তীরে ইসরায়েলি বসতি স্থাপনকারীদের ওপর সম্প্রতি ব্রিটেন, ফ্রান্স ও কানাডার নিষেধাজ্ঞাকেও তিনি দুর্বলতা আখ্যা দিয়ে কড়া সমালোচনা করেন।   বসতি স্থাপনকারীদের ভয়াবহ সহিংসতাকে তিনি মাত্র ‘দেড়শতাধিক কিশোর অপরাধীর পাথর ছোড়া ও অগ্নিসংযোগের ঘটনা’ বলে লঘু করে দেখানোর চেষ্টা করেন এবং দাবি করেন যে ইসরায়েল একটি আইনের দেশ।

আমেরিকা বাংলা ডেস্ক প্রকাশ: সেপ্টেম্বর ২৪, ২০২৬ ১৬:৫৯
মিশিগানে হাসপাতালের ভেতর চার মাসের অপরিণত শিশুকে নি র্যাতন, পা ভাঙার অভিযোগ নার্সের বিরুদ্ধে

মিশিগানে হাসপাতালের ভেতর চার মাসের অপরিণত শিশুকে নি র্যাতন, পা ভাঙার অভিযোগ নার্সের বিরুদ্ধে

আমেরিকায় নিত্যপণ্য কিনতে সাশ্রয়ী যেসব সুপারশপ, ওয়ালমার্টের চেয়েও কম দামে বিক্রি করছে কিছু প্রতিষ্ঠান

আমেরিকায় নিত্যপণ্য কিনতে সাশ্রয়ী যেসব সুপারশপ, ওয়ালমার্টের চেয়েও কম দামে বিক্রি করছে কিছু প্রতিষ্ঠান

যুক্তরাষ্ট্রে বেকারত্ব ভাতার আবেদন ৫৭ বছরের সর্বনিম্নে, অর্থনীতিতে মিলছে স্বস্তির ইঙ্গিত

যুক্তরাষ্ট্রে বেকারত্ব ভাতার আবেদন ৫৭ বছরের সর্বনিম্নে, অর্থনীতিতে মিলছে স্বস্তির ইঙ্গিত

0 Comments