ডিএইচএস

যুক্তরাষ্ট্রে অবৈধ অভিবাসীদের ৮৪ বিলিয়ন ডলার জরিমানা, দেশ না ছাড়লে প্রতিদিন ৯৯৮ ডলার
যুক্তরাষ্ট্রে অবৈধ অভিবাসীদের ৮৪ বিলিয়ন ডলার জরিমানা, দেশ না ছাড়লে প্রতিদিন ৯৯৮ ডলার

যুক্তরাষ্ট্রের ডিপার্টমেন্ট অব হোমল্যান্ড সিকিউরিটি (ডিএইচএস) জানিয়েছে, প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের দ্বিতীয় মেয়াদের শুরু থেকে এ পর্যন্ত অবৈধ অভিবাসীদের বিরুদ্ধে ১ লাখ ৩ হাজারের বেশি সিভিল জরিমানা জারি করা হয়েছে। এসব জরিমানার মোট পরিমাণ প্রায় ৮৪ বিলিয়ন ডলার। প্রেসিডেন্টের কঠোর অভিবাসন নীতির আওতায় ইতোমধ্যেই ১ বিলিয়ন ডলারের বেশি অর্থ আদায় করা হয়েছে।   বুধবার নিউইয়র্ক পোস্টের এক প্রতিবেদনে বলা হয়, চূড়ান্তভাবে দেশে ফেরতের নির্দেশ পাওয়া যেসব অবৈধ অভিবাসী স্বেচ্ছায় যুক্তরাষ্ট্র ত্যাগ করতে ব্যর্থ হবেন, নির্দেশ পালনের আগ পর্যন্ত তাদের প্রতিদিন ৯৯৮ ডলার করে জরিমানা গুনতে হবে। ডিএইচএস সতর্ক করে জানিয়েছে, দেশে ফেরত পাঠানোর আগেই অভিবাসীদের এই জরিমানা পরিশোধ করতে হবে, অন্যথায় তাদের সম্পদ বাজেয়াপ্ত করা হতে পারে।   প্রশাসনের এই পদক্ষেপের মূল লক্ষ্য হলো অবৈধ অভিবাসীদের গ্রেপ্তার ও জোরপূর্বক বহিষ্কারের বদলে স্বেচ্ছায় দেশত্যাগে উৎসাহিত করা। হোমল্যান্ড সিকিউরিটির মতে, প্রথাগত আইনি প্রক্রিয়ায় দেশে ফেরত পাঠানোর চেয়ে এই পদ্ধতিটি কম ব্যয়বহুল। মার্কিন কাস্টমস অ্যান্ড বর্ডার প্রটেকশন (সিবিপি) তাদের 'সিবিপি হোম' অ্যাপের মাধ্যমে এই নীতির ব্যাপক প্রচারণা চালাচ্ছে। সিবিপির একটি প্রচারপত্রে অভিবাসীদের উদ্দেশ্যে বলা হয়েছে, 'স্বেচ্ছায় দেশে ফেরা নিরাপদ' এবং তারা চাইলে নিজেদের পছন্দমতো ফ্লাইটের টিকিট কেটে দেশে ফিরে যেতে পারেন।   ডিএইচএস জানিয়েছে, যেসব অবৈধ অভিবাসীর কোনো অপরাধমূলক রেকর্ড নেই, তারা স্বেচ্ছায় ফিরে গেলে যুক্তরাষ্ট্রে উপার্জিত অর্থ সাথে নেওয়ার সুযোগ পাবেন এবং ভবিষ্যতে বৈধভাবে যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশের যোগ্যতাও তাদের অক্ষুণ্ণ থাকবে। এমনকি যারা বিমানের টিকিট কিনতে অক্ষম, তারা সরকারি ভর্তুকিতে ভ্রমণের সুবিধাও পেতে পারেন। তবে যারা স্বেচ্ছায় দেশ ছাড়তে অস্বীকৃতি জানাবেন, তাদের কোনো রকম পূর্বপ্রস্তুতির সুযোগ না দিয়েই গ্রেপ্তার করা হবে বলে কঠোর হুঁশিয়ারি দেওয়া হয়েছে।   ডিএইচএসের তথ্যমতে, ট্রাম্পের ক্ষমতায় ফেরার প্রথম বছরে ৩০ লাখেরও বেশি অবৈধ অভিবাসী যুক্তরাষ্ট্র ত্যাগ করেছেন, যার মধ্যে প্রায় ২২ লাখ অভিবাসী স্বেচ্ছায় ফিরে গেছেন। এছাড়া, গত ১৭ মে পর্যন্ত প্রায় ৯ লাখ অবৈধ অভিবাসীকে জোরপূর্বক ফেরত পাঠানো হয়েছে এবং আরও ৯ লাখের বেশি মানুষকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।   ট্রাম্প প্রশাসন তাদের এই নীতিকে চূড়ান্ত বহিষ্কারাদেশ কার্যকর এবং অভিবাসন নিয়ন্ত্রণের খরচ কমানোর একটি বৈধ হাতিয়ার হিসেবে দাবি করেছে। তারা মনে করে, জো বাইডেন প্রশাসনের সময়কালের রেকর্ড সংখ্যক সীমান্ত অতিক্রমের পর বর্তমান পদক্ষেপগুলো অবৈধ অভিবাসন হ্রাসে কার্যকর ভূমিকা রাখছে।   তবে, এই বিপুল অঙ্কের সিভিল জরিমানা নিয়ে তীব্র সমালোচনা করেছেন ডেমোক্র্যাট সিনেট সদস্যরা। সিনেটের বিচার বিভাগীয় কমিটির ইমিগ্রেশন সাবকমিটির র‍্যাংকিং মেম্বার ক্যালিফোর্নিয়ার সিনেটর অ্যালেক্স প্যাডিলা এবং ইলিনয়ের ডেমোক্র্যাটিক হুইপ ডিক ডারবিন চলতি সপ্তাহে ভারপ্রাপ্ত অ্যাটর্নি জেনারেল টড ব্ল্যাঞ্চ এবং ডিএইচএস সেক্রেটারি মার্কওয়েইন মুলিনের কাছে একটি চিঠি পাঠিয়েছেন।   চিঠিতে তারা অবিলম্বে এই অন্যায্য জরিমানার অপপ্রয়োগ বন্ধের আহ্বান জানিয়েছেন। সিনেটরদের অভিযোগ, ড্যাকা (DACA) কর্মসূচির আওতাভুক্ত, গ্রিন কার্ড প্রত্যাশী এবং মানবপাচার বা পারিবারিক সহিংসতার শিকার হওয়া বৈধভাবে অবস্থানকারী অনেক অভিবাসীকেও অযৌক্তিকভাবে এই জরিমানার আওতায় আনা হচ্ছে, যা আইন মান্যকারী অভিবাসীদের সুরক্ষার নীতিকে সরাসরি লঙ্ঘন করছে।

ইসতিয়াক আহমেদ জুলাই ২৩, ২০২৬ ১৪:০
ছবি: নিউইয়র্ক পোস্ট
নিউ জার্সিতে ট্রাম্প-সমর্থক কিশোরীকে চড় মেরে বিপাকে কানাডীয় নারী, চলছে দেশে ফেরত পাঠানোর প্রস্তুতি

যুক্তরাষ্ট্রের নিউ জার্সিতে দেশাত্মবোধক পোশাক পরা এক কিশোরীকে চড় মারার অভিযোগে অভিযুক্ত কানাডীয় নাগরিক কেইটলিন ট্রেসিকে নিয়ে কঠোর অবস্থান নিয়েছে মার্কিন হোমল্যান্ড সিকিউরিটি দপ্তর (ডিএইচএস)। গত ৪ জুলাইয়ের ছুটির সপ্তাহে পয়েন্ট প্লিজ্যান্ট বিচে ঘটা ওই ঘটনার পর ৩৩ বছর বয়সী ট্রেসিকে গ্রেপ্তার করা হয়। বর্তমানে তাকে নিউ জার্সির নিওয়ার্ক-এ অবস্থিত ডেলানি হল অভিবাসন আটক কেন্দ্রে বন্দি রাখা হয়েছে।   ডিএইচএস এক্সে (সাবেক টুইটার) দেওয়া এক কড়া বিবৃতিতে তাকে 'ম্যাপল লিফ মেনেস' হিসেবে আখ্যায়িত করে জানিয়েছে, ভিসার মেয়াদ পার হওয়ার পরও অবৈধভাবে যুক্তরাষ্ট্রে বসবাস করা এবং এক মার্কিন কিশোরীর ওপর হামলা চালানো এই নারীর সে দেশে থাকার কোনো অধিকার নেই। তাকে দ্রুত নিজ দেশে ফেরত পাঠানোর (ডিপোর্ট) প্রস্তুতি চলছে।   কর্মকর্তাদের তথ্য অনুযায়ী, ট্রেসি ২০২৪ সালে পাসপোর্ট নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশ করলেও তার ভিসার মেয়াদ অনেক আগেই শেষ হয়ে যায়। গত ৩ জুলাইয়ের হামলার ঘটনার পর সোমবার তাকে আনুষ্ঠানিকভাবে গ্রেপ্তার করা হয় এবং তার বিরুদ্ধে শিশুর নিরাপত্তা বিঘ্নিত করা, সাধারণ হয়রানি ও কাজে বাধা দেওয়ার মতো একাধিক অভিযোগ গঠন করা হয়।   শুরুতে তাকে ওশান কাউন্টি জেলে রাখা হলেও পরে ইমিগ্রেশন অ্যান্ড কাস্টমস এনফোর্সমেন্ট (আইসিই) তাকে নিজেদের হেফাজতে নেয়। ডিএইচএস সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ঘটনার একটি ভিডিও শেয়ার করেছে, যেখানে দেখা যায় ট্রেসি 'ইউএসএ ২৫০' লেখা ট্যাংক টপ পরা এক কিশোরীর দিকে এগিয়ে গিয়ে দ্রুত দুটি চড় মারছেন।   এদিকে নিউ জার্সির অ্যাজবুরি পার্কে বসবাসরত ট্রেসির মার্কিন স্বামী ম্যাথিউ গেরোনি তার স্ত্রীর মুক্তির জন্য জোর দাবি জানিয়ে আসছেন। উল্লেখ্য, গেরোনির নিজের টিকটক অ্যাকাউন্টটিও বেশ বিতর্কিত, যেখানে তিনি এর আগে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের প্রাণনাশের কামনা করে এবং তার পরিবারের সদস্যদের ক্যানসার হওয়ার প্রার্থনা করে ভিডিও পোস্ট করেছিলেন।   স্ত্রীর আইনি লড়াইয়ের খরচ জোগাতে একটি তহবিল গঠনের চেষ্টাও করেন তিনি। 'গোফান্ডমি' (GoFundMe) প্ল্যাটফর্মে ৯ হাজার ডলারের লক্ষ্যের বিপরীতে প্রায় সাড়ে ৪ হাজার ডলার সংগ্রহ হওয়ার পর 'সহিংস অপরাধ' নীতির লঙ্ঘনের দায়ে সেই ক্যাম্পেইনটি বন্ধ করে দেওয়া হয়। পরে 'গিভসেন্ডগো' (GiveSendGo) প্ল্যাটফর্মে নতুন করে তহবিল সংগ্রহ শুরু হয় এবং শুক্রবার বিকেল পর্যন্ত সেখানে প্রায় ৩ হাজার ৫৬৯ ডলার জমা হয়েছে। প্ল্যাটফর্মটির একজন মুখপাত্র জানিয়েছেন, নতুন এই তহবিল সংগ্রহ তাদের নিজস্ব নীতিমালা ভঙ্গ করেনি।

ইসতিয়াক আহমেদ জুলাই ১৭, ২০২৬ ১৪:০
ছবি: সংগৃহীত
মার্কিন নাগরিকত্ব পেতে খরচ বাড়তে পারে প্রায় ১,৪০০ ডলার

যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকত্ব অর্জনের প্রক্রিয়া শিগগিরই আরও ব্যয়বহুল হয়ে উঠতে পারে। দেশটির স্বরাষ্ট্র নিরাপত্তা বিভাগ (ডিএইচএস) নাগরিকত্ব আবেদন এবং সংশ্লিষ্ট আপিল প্রক্রিয়ার ফি উল্লেখযোগ্য হারে বাড়ানোর প্রস্তাব দিয়েছে। পাশাপাশি নিম্ন আয়ের আবেদনকারীদের জন্য বিদ্যমান ফি ছাড় ও ফি মওকুফের সুবিধা বাতিলেরও পরিকল্পনা করা হয়েছে।   প্রস্তাবটি কার্যকর হলে মার্কিন নাগরিকত্বের জন্য আবেদন করতে আগ্রহীদের অতিরিক্ত কয়েকশ ডলার ব্যয় করতে হবে। বিশেষ করে নিম্ন আয়ের অভিবাসীদের জন্য এটি বড় আর্থিক চাপ তৈরি করতে পারে বলে মনে করছেন অভিবাসন অধিকারকর্মীরা।   বর্তমানে নাগরিকত্বের আবেদনপত্র বা ফরম এন-৪০০ জমা দিতে কাগজে আবেদন করলে ৭৬০ ডলার এবং অনলাইনে আবেদন করলে ৭১০ ডলার ফি দিতে হয়। তবে নতুন প্রস্তাব অনুযায়ী এই ফি বাড়িয়ে যথাক্রমে ১,৩৩০ ডলার ও ১,২৮০ ডলার করার পরিকল্পনা রয়েছে।   একই সঙ্গে নাগরিকত্ব আবেদন প্রত্যাখ্যাত হলে পুনর্বিবেচনার জন্য ব্যবহৃত ফরম এন-৩৩৬-এর ফিও বাড়ানো হতে পারে। বর্তমানে কাগজে আবেদন করলে এর ফি ৮৩০ ডলার এবং অনলাইনে ৭৮০ ডলার। নতুন প্রস্তাব অনুযায়ী তা বেড়ে কাগজে ১,৪৭৫ ডলার এবং অনলাইনে ১,৪২৫ ডলারে পৌঁছাতে পারে।   এর অর্থ হলো, কিছু ক্ষেত্রে আবেদনকারীদের ব্যয় বর্তমানের তুলনায় ৮০ শতাংশেরও বেশি বৃদ্ধি পেতে পারে।   ডিএইচএস আরও জানিয়েছে, বর্তমানে যেসব আবেদনকারীর পারিবারিক আয় ফেডারেল দারিদ্র্যসীমার ৪০০ শতাংশ বা তার কম, তারা নাগরিকত্ব আবেদনে কম ফি দেওয়ার সুযোগ পান। নতুন প্রস্তাব কার্যকর হলে সেই সুবিধা পুরোপুরি তুলে দেওয়া হবে। শুধু তাই নয়, নাগরিকত্ব আবেদন এবং সংশ্লিষ্ট আপিল প্রক্রিয়ার ক্ষেত্রে ফি মওকুফের সুযোগও বাতিল করার পরিকল্পনা রয়েছে। ফলে আর্থিক অসচ্ছলতার কারণে আবেদনকারীরা ভবিষ্যতে বিশেষ ছাড় পাবেন না।   তবে বর্তমান ও সাবেক মার্কিন সশস্ত্র বাহিনীর সদস্যদের জন্য বিদ্যমান ফি ছাড় বহাল থাকবে বলে জানিয়েছে ডিএইচএস। নতুন ফি বৃদ্ধির যৌক্তিকতা ব্যাখ্যা করতে গিয়ে বিভাগটি বলেছে, যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকত্ব ও অভিবাসন সেবা সংস্থা (ইউএসসিআইএস) আবেদন প্রক্রিয়া পরিচালনা করতে যে ব্যয় বহন করে, নতুন ফি সেই ব্যয়ের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ হবে। পাশাপাশি সংস্থাটির আর্থিক স্থিতিশীলতা বজায় রাখতেও এই পদক্ষেপ প্রয়োজন বলে মনে করছে কর্তৃপক্ষ।   অভিবাসন বিশেষজ্ঞদের মতে, ইউএসসিআইএস মূলত আবেদনকারীদের দেওয়া ফি থেকেই পরিচালিত হয়। ফলে কার্যক্রমের ব্যয় বৃদ্ধি পেলে সংস্থাটি প্রায়ই ফি পুনর্নির্ধারণের উদ্যোগ নেয়। তবে নাগরিকত্ব আবেদন ফি উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়ে গেলে অনেক অভিবাসী আবেদন করতে নিরুৎসাহিত হতে পারেন।   বিশেষ করে দীর্ঘদিন ধরে যুক্তরাষ্ট্রে বসবাসকারী নিম্ন ও মধ্যম আয়ের অভিবাসীদের জন্য এটি বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে উঠতে পারে। কারণ নাগরিকত্ব অর্জনের পাশাপাশি আবেদন, নথিপত্র সংগ্রহ, ভাষা ও নাগরিকত্ব পরীক্ষার প্রস্তুতিসহ অন্যান্য খরচও বহন করতে হয়।   প্রস্তাবিত পরিবর্তনগুলো এখনও চূড়ান্ত হয়নি। সংশ্লিষ্ট প্রক্রিয়া শেষ হওয়ার পরই নতুন ফি কাঠামো কার্যকর হবে কি না, সে বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে। তবে প্রস্তাবটি ইতোমধ্যেই অভিবাসী সম্প্রদায়ের মধ্যে ব্যাপক আলোচনা তৈরি করেছে। অনেকেই আশঙ্কা করছেন, নাগরিকত্ব অর্জনের পথ আরও ব্যয়বহুল হয়ে উঠলে যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ীভাবে বসবাসকারী বহু অভিবাসীর জন্য নাগরিকত্ব পাওয়ার সুযোগ সীমিত হয়ে যেতে পারে।

মোহাম্মদ ইব্রাহিম জুন ২৩, ২০২৬ ১৪:০
জনপ্রিয় সংবাদ
বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনার পর তরুণীর মৃত্যু, এক বছরের সাজায় ক্যালিফোর্নিয়ার আইন পরিবর্তনের দাবি

যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন।   মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়।   তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।”   ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে।   প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন।   ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন।   প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল।   মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি।   রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।

যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডে বড় পরিবর্তন, পরিবারভিত্তিক ভিসা আবেদনকারীদের জন্য সুখবর

যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর আগস্ট ২০২৬ সালের ভিসা বুলেটিন প্রকাশ করেছে। নতুন এই আপডেটে পরিবারভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি দেখা গেছে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের স্থায়ী বাসিন্দাদের স্বামী, স্ত্রী ও সন্তানদের জন্য নির্ধারিত এফ২এ ক্যাটাগরিতে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এসেছে।   নতুন ভিসা বুলেটিন অনুযায়ী, পরিবারভিত্তিক কয়েকটি ক্যাটাগরিতে অপেক্ষার সময় কমার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এর মধ্যে এফ২এ ক্যাটাগরির অগ্রগতি সবচেয়ে বেশি, যেখানে যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডধারীদের স্বামী-স্ত্রী ও অবিবাহিত সন্তানদের আবেদন অন্তর্ভুক্ত থাকে।   এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের অবিবাহিত প্রাপ্তবয়স্ক সন্তানদের জন্য এফ১ ক্যাটাগরি এবং অন্যান্য পরিবারভিত্তিক ক্যাটাগরিতেও কিছু অগ্রগতি দেখা গেছে। তবে আবেদনকারীদের ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার তারিখ বা প্রায়োরিটি ডেট অনুযায়ীই পরবর্তী ধাপ নির্ধারণ হবে।   ভিসা বুলেটিনে বলা হয়েছে, পরিবারভিত্তিক অভিবাসন ভিসার সংখ্যা প্রতিবছর নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে দেওয়া হয়। তাই কোনো ক্যাটাগরিতে চাহিদা বেশি হলে অপেক্ষার সময় বাড়তে পারে এবং কম হলে তারিখ এগিয়ে আসতে পারে।   অন্যদিকে কর্মসংস্থানভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য পরিস্থিতি তুলনামূলক কঠিন রয়েছে। বিশেষ করে কিছু এমপ্লয়মেন্ট-বেসড ক্যাটাগরিতে দীর্ঘ অপেক্ষা ও সীমিত ভিসা সংখ্যার কারণে আবেদনকারীদের অনিশ্চয়তা অব্যাহত রয়েছে।   যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ী বসবাসের জন্য আবেদনকারীদের কাছে ভিসা বুলেটিন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এই তালিকার মাধ্যমে জানা যায়, কোন আবেদনকারীরা গ্রিন কার্ডের পরবর্তী ধাপে এগিয়ে যেতে পারবেন এবং কারা এখনও অপেক্ষার তালিকায় থাকবেন।   বিশেষজ্ঞদের মতে, নতুন এই পরিবর্তন অনেক পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীর জন্য আশার খবর হলেও, প্রতিটি আবেদনকারীর পরিস্থিতি নির্ভর করবে তাদের আবেদন জমার তারিখ, দেশভিত্তিক সীমা এবং ভিসা ক্যাটাগরির ওপর।   যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ব্যবস্থায় দীর্ঘদিন ধরে গ্রিন কার্ডের অপেক্ষার তালিকা বড় একটি বিষয় হয়ে আছে। নতুন ভিসা বুলেটিনে পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীদের জন্য অগ্রগতি দেখা গেলেও, সব আবেদনকারী একইভাবে সুবিধা পাবেন না।

মার্কিন ভিসা আপডেট ২০২৬! বাংলাদেশিদের জন্য কোন ভিসা বন্ধ, কোনটা চালু?

২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো।   প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে।   এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে।   অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে।   স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে।   সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে।   সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।

যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশি মালিকানাধীন বিশ্ববিদ্যালয়ের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধন

যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে।   এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন।   নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি।   উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।”   বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে।   এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে।   শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়।   উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন।   বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত।   এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।

পাঁচ সন্তানকে এতিম করে মাকে কুপিয়ে হত্যা, গ্রেপ্তারের সময়ও হাসছিল ঘাতক দুই বোন

যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে এক মর্মান্তিক ও লোমহর্ষক ঘটনার জন্ম দিয়েছে দুই তরুণী বোন। দিনদুপুরে ক্যারোলিন ‘কারো’ পেনা নামের ৩২ বছর বয়সী এক নারীকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগে তাদের গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। নিহত নারী পাঁচ সন্তানের জননী ছিলেন। তবে সবচেয়ে শিউরে ওঠার মতো বিষয় হলো, গ্রেপ্তারের সময় অভিযুক্তদের চেহারায় অনুশোচনার সামান্যতম ছাপ তো ছিলই না, উল্টো তাদের মুখে পৈশাচিক হাসি দেখা গেছে। মেক্সিকো সীমান্তের কাছের শহর দেল রিও থেকে বৃহস্পতিবার বিকেলে পুলিশ তাদের হাতকড়া পরিয়ে নিয়ে যাওয়ার সময় এই দৃশ্য ক্যামেরায় ধরা পড়ে।   আরও পড়ুন... ‘ফোনটা ধরতে পারলে হয়তো তাকে বাঁচাতে পারতাম’- টেক্সাসে পাঁচ সন্তানের মাকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা, দুই বোনসহ তিনজন গ্রেপ্তার   পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নিহত ক্যারোলিনকে বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় দুপুর ২টার পরপরই গুরুতর জখম অবস্থায় ভাল ভার্দে রিজিওনাল মেডিকেল সেন্টারে নেওয়া হয়। তার শরীরে একাধিক ছুরিকাঘাতের চিহ্ন ছিল। ঘটনাস্থলের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, একটি সনিক ড্রাইভ-থ্রু রেস্তোরাঁর বাইরে রক্তাক্ত অবস্থায় ক্যারোলিন তার তিন হামলাকারীর মুখোমুখি দাঁড়িয়ে আছেন।   পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য সান আন্তোনিওর একটি হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছায় এবং প্রায় ৩৫ হাজার বাসিন্দার শহর দেল রিওতে অভিযান চালিয়ে হামলাকারীদের শনাক্ত করে।   সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া গ্রেপ্তারের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, ২১ বছর বয়সী কিটি মিয়া দিয়াজ খালি পায়ে হেঁটে যাওয়ার সময় পুলিশের গাড়িতে ওঠার আগে মৃদু হাসছেন। কিটি নিজেও এক শিশুপুত্রের মা। অন্যদিকে, তার ১৯ বছর বয়সী ছোট বোন আমায়া কুকি দিয়াজ ক্যামেরার দিকে তাকিয়ে নির্লজ্জভাবে দাঁত বের করে হাসতে থাকেন।   ▶️ টেক্সাসে নিজের মাকে নির্মমভাবে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুই মেয়ে |   এমনকি ভিডিও ধারণকারীকে ব্যঙ্গাত্মক সুরে ‘রেকর্ড করা বন্ধ করো’ বলেও চিৎকার করতে শোনা যায় তাকে। দেল রিও পুলিশ জানিয়েছে, এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ২১ বছর বয়সী কায়ান্দ্রা রেনি ফাজ নামের তৃতীয় আরেক নারীকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে ঠিক কী কারণে এই নারকীয় হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে, সে বিষয়ে পুলিশ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি।

Top week

২০২৬ সালের তালিকায় এগিয়ে যে ৫ স্টেট

যুক্তরাষ্ট্রের কোন স্টেট এ বাংলাদেশিদের জীবন সবচেয়ে স্বস্তির? ২০২৬ সালের তালিকায় এগিয়ে যে ৫ স্টেট

নীলুফা নিশাত আগস্ট ১, ২০২৬ ১৪:০