- প্রচ্ছদ
- Topic
ঢাকা
মানবিক বিভাগে পড়াশোনা করেও আন্তর্জাতিক উচ্চশিক্ষার পথে বড় সাফল্য অর্জন করেছেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ইসলামের ইতিহাস ও সংস্কৃতি বিভাগের শিক্ষার্থী মারুফ হাসান। ২০১৯-২০ শিক্ষাবর্ষের এই শিক্ষার্থী যুক্তরাষ্ট্রের ইউনিভার্সিটি অব নেব্রাস্কা অ্যাট ওমাহাতে ইতিহাস বিষয়ে ফুল ফান্ডেড মাস্টার্স প্রোগ্রামে ভর্তির সুযোগ পেয়েছেন। শুধু একটি বিশ্ববিদ্যালয় নয়, উচ্চশিক্ষার জন্য আবেদন করে বিশ্বের ১৩টি বিশ্ববিদ্যালয় থেকে অফার পেয়েছেন মারুফ। নিজের একাডেমিক আগ্রহ, গবেষণার সুযোগ এবং ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা বিবেচনা করে শেষ পর্যন্ত যুক্তরাষ্ট্রের ইউনিভার্সিটি অব নেব্রাস্কা অ্যাট ওমাহাকে বেছে নেন তিনি। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শহীদ সার্জেন্ট জহুরুল হক হলের আবাসিক শিক্ষার্থী মারুফের এই অর্জন বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য মানবিক বিভাগের শিক্ষার্থীদের জন্য। কারণ প্রচলিত ধারণার বিপরীতে মানবিক বিষয়ে পড়াশোনা করেও আন্তর্জাতিক পর্যায়ে উচ্চশিক্ষা ও গবেষণার বিস্তর সুযোগ রয়েছে। স্নাতক পর্যায়ে ইসলামের ইতিহাস ও সংস্কৃতি নিয়ে পড়াশোনার পর আরও বিস্তৃত পরিসরে ইতিহাস নিয়ে গবেষণা করার লক্ষ্য থেকেই মাস্টার্সে বিষয়টি বেছে নিয়েছেন মারুফ। ইতিহাস, সংস্কৃতি ও সমাজের বিভিন্ন দিক নিয়ে ভবিষ্যতে গবেষণার মাধ্যমে জ্ঞানচর্চায় অবদান রাখার পরিকল্পনা রয়েছে তাঁর। মারুফের মতে, বিদেশে উচ্চশিক্ষার জন্য শুধু ভালো ফলাফল যথেষ্ট নয়। নিজের একাডেমিক আগ্রহ স্পষ্ট করা, গবেষণার সক্ষমতা তৈরি করা, দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা করা এবং শক্তিশালী আবেদনপত্র প্রস্তুত করাও সমান গুরুত্বপূর্ণ। ১৩টি বিশ্ববিদ্যালয় থেকে অফার পাওয়ার পর নিজের লক্ষ্য অনুযায়ী একটি বিশ্ববিদ্যালয় বেছে নেওয়ার এই অভিজ্ঞতা বাংলাদেশের শিক্ষার্থীদের জন্যও গুরুত্বপূর্ণ বার্তা দিচ্ছে। বিশেষ করে মানবিক বিভাগের শিক্ষার্থীরা চাইলে সঠিক প্রস্তুতি, গবেষণামুখী মানসিকতা এবং ধারাবাহিক প্রচেষ্টার মাধ্যমে বিশ্বের বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ে উচ্চশিক্ষার সুযোগ তৈরি করতে পারেন। মারুফ হাসানের সাফল্য তাই শুধু ব্যক্তিগত অর্জন নয়, বাংলাদেশের মানবিক বিভাগের শিক্ষার্থীদের জন্যও একটি অনুপ্রেরণার উদাহরণ।
যুক্তরাষ্ট্রের প্যাসিফিক ফ্লিটের কমান্ডার অ্যাডমিরাল স্টিভ কোহলার তিন দিনের সরকারি সফরে মঙ্গলবার (৪ আগস্ট) ঢাকায় আসছেন। সফরকালে তিনি বাংলাদেশের জ্যেষ্ঠ সরকারি ও সামরিক কর্মকর্তাদের সঙ্গে বৈঠক করবেন। আলোচনায় দুই দেশের প্রতিরক্ষা সহযোগিতা, সামুদ্রিক নিরাপত্তা, মানবিক সহায়তা, দুর্যোগ মোকাবিলা এবং সামরিক শিক্ষা ও প্রশিক্ষণ জোরদারের বিষয় গুরুত্ব পাবে বলে জানিয়েছে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস। মার্কিন দূতাবাসের তথ্য অনুযায়ী, ৪ থেকে ৬ আগস্ট পর্যন্ত সফরে অ্যাডমিরাল কোহলার একাধিক উচ্চপর্যায়ের বৈঠকে অংশ নেবেন। এসব বৈঠকে ইন্দো-প্যাসিফিক অঞ্চলে সহযোগিতা এবং সামুদ্রিক নিরাপত্তা নিয়ে আলোচনা হবে। অ্যাডমিরাল স্টিভ কোহলার বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্রের প্যাসিফিক ফ্লিটের কমান্ডার। বিশ্বের অন্যতম বৃহৎ এই নৌবহর ইন্দো-প্যাসিফিক অঞ্চলে যুক্তরাষ্ট্রের নৌ কার্যক্রম পরিচালনা করে। তিনি ২০২৪ সালের এপ্রিল থেকে এ দায়িত্ব পালন করছেন। মার্কিন দূতাবাস জানিয়েছে, এই সফরের লক্ষ্য বাংলাদেশ ও যুক্তরাষ্ট্রের দীর্ঘদিনের প্রতিরক্ষা অংশীদারিত্ব আরও শক্তিশালী করা এবং সামুদ্রিক নিরাপত্তা, মানবিক সহায়তা, দুর্যোগ মোকাবিলা ও পেশাগত সামরিক শিক্ষায় সহযোগিতা বাড়ানোর সুযোগ নিয়ে আলোচনা করা।
দক্ষিণ এশিয়ার সবচেয়ে অনিরাপদ ও অপরাধপ্রবণ শহর হিসেবে চিহ্নিত হয়েছে বাংলাদেশের রাজধানী ঢাকা। আন্তর্জাতিক তথ্যভিত্তিক প্ল্যাটফর্ম নামবিও প্রকাশিত ২০২৬ সালের মধ্যবর্ষের ক্রাইম ইনডেক্সে ঢাকার অপরাধ সূচক ৬২.২ এবং নিরাপত্তা সূচক ৩৭.৮। এ সূচকে দক্ষিণ এশিয়ার বড় শহরগুলোর মধ্যে ঢাকার অবস্থান সবচেয়ে নিচে। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, অপরাধের দিক থেকে বৈশ্বিক তালিকায় ঢাকার অবস্থান ৫৯তম। অর্থাৎ বিশ্বের সবচেয়ে অপরাধপ্রবণ বড় শহরগুলোর শীর্ষ ১৫ শতাংশের মধ্যেই রয়েছে বাংলাদেশের রাজধানী। নামবিওর তথ্য অনুযায়ী, নিরাপত্তার বিচারে পাকিস্তান, ভারত, নেপাল ও শ্রীলঙ্কার বেশ কয়েকটি বড় শহরের তুলনায়ও পিছিয়ে রয়েছে ঢাকা। শহরটিতে অপরাধ নিয়ে জনসাধারণের উদ্বেগ, রাতে একা চলাচলের নিরাপত্তা এবং ছিনতাই, চুরি ও সহিংস অপরাধের আশঙ্কা তুলনামূলক বেশি বলে জরিপে উঠে এসেছে। তবে বিশেষজ্ঞরা মনে করিয়ে দিয়েছেন, নামবিওর ক্রাইম ইনডেক্স কোনো সরকারি অপরাধ পরিসংখ্যান নয়। এটি বিশ্বের বিভিন্ন শহরের বাসিন্দাদের স্বেচ্ছায় দেওয়া মতামত ও অভিজ্ঞতার ভিত্তিতে প্রস্তুত করা হয়। ফলে এই সূচক জনমতের প্রতিফলন হলেও, এটি কোনো দেশের আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর আনুষ্ঠানিক অপরাধের হিসাবকে প্রতিস্থাপন করে না। তবুও আন্তর্জাতিক অঙ্গনে একটি শহরের নিরাপত্তা সম্পর্কে ধারণা তৈরিতে নামবিওর এই সূচক ব্যাপকভাবে আলোচিত হয়। বিনিয়োগ, পর্যটন এবং বিদেশি নাগরিকদের বসবাসের পরিবেশ মূল্যায়নের ক্ষেত্রেও অনেকেই এ ধরনের সূচককে প্রাথমিক তথ্যসূত্র হিসেবে বিবেচনা করেন।
যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন আইন লঙ্ঘনের অভিযোগে আরও ২৩ জন বাংলাদেশি নাগরিককে বিশেষ চার্টার ফ্লাইটে দেশে ফেরত পাঠানো হয়েছে। বৃহস্পতিবার (৩০ জুলাই) ভোরে ওমনি এয়ার ইন্টারন্যাশনালের একটি বিশেষ ফ্লাইটে তারা ঢাকার হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে পৌঁছান। সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, দেশে ফিরে আসা এসব বাংলাদেশি বিভিন্ন সময়ে উন্নত কর্মসংস্থানের আশায় বাংলাদেশ ছেড়েছিলেন। পরবর্তীতে তারা দুবাই, কাতার, দক্ষিণ আফ্রিকা, ব্রাজিল ও পেরুসহ বিভিন্ন দেশে অবস্থান করেন এবং সেখান থেকে সীমান্ত অতিক্রম করে অবৈধভাবে যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশ করেন বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রের দাবি। সূত্রের তথ্য অনুযায়ী, যুক্তরাষ্ট্রে পৌঁছানোর পর তারা বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে কাজ করলেও বৈধ অভিবাসন-সংক্রান্ত শর্ত পূরণ করতে পারেননি। পরে মার্কিন অভিবাসন আইন লঙ্ঘনের অভিযোগে দেশটির অভিবাসন কর্তৃপক্ষ তাদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করে। প্রয়োজনীয় আইনি প্রক্রিয়া সম্পন্ন হওয়ার পর তাদের বাংলাদেশে ফেরত পাঠানো হয়। বিমানবন্দরে পৌঁছানোর পর বেসরকারি উন্নয়ন সংস্থা ব্র্যাক প্রত্যেক প্রত্যাবর্তনকারীকে ৫ হাজার টাকা করে আর্থিক সহায়তা দেয়। পাশাপাশি তাদের জন্য খাবারেরও ব্যবস্থা করা হয়। ইমিগ্রেশন ও অন্যান্য আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন করার পর দুপুর দেড়টার দিকে তারা বিমানবন্দর ত্যাগ করেন। সাম্প্রতিক মাসগুলোতে যুক্তরাষ্ট্রে বৈধ কাগজপত্র ছাড়া অবস্থান বা অভিবাসন আইন লঙ্ঘনের অভিযোগে বিভিন্ন দেশের নাগরিকদের নিজ নিজ দেশে ফেরত পাঠানোর কার্যক্রম জোরদার হয়েছে। এর অংশ হিসেবে বাংলাদেশি নাগরিকদেরও পর্যায়ক্রমে বিশেষ ফ্লাইটে দেশে ফেরত পাঠানো হচ্ছে। অভিবাসন বিশেষজ্ঞরা বরাবরই সতর্ক করে আসছেন, বিদেশে কর্মসংস্থান বা স্থায়ীভাবে বসবাসের উদ্দেশ্যে যাত্রার ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট দেশের অভিবাসন আইন ও বৈধ ভিসা প্রক্রিয়া অনুসরণ করা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। অন্যথায় গ্রেপ্তার, আটক এবং শেষ পর্যন্ত নিজ দেশে ফেরত পাঠানোর মতো পরিস্থিতির মুখোমুখি হতে হতে পারে।
ঢাকার ১৩ বছর বয়সী এক কিশোরী আড়াই মাস পর নিজের সাত মাসের শিশুসন্তানকে ফিরে পেয়েছে। ঢাকা জেলা লিগ্যাল এইড কার্যালয়ের উদ্যোগ এবং চকবাজার থানার পুলিশের সহায়তায় শিশুটিকে উদ্ধার করা হয়। পরে লিগ্যাল এইডের বিচারক অন্তর্বর্তী আদেশে শিশুটিকে মায়ের জিম্মায় রাখার নির্দেশ দেন। আদালত-সংশ্লিষ্ট তথ্য অনুযায়ী, কিশোরীটির দাবি, ১২ বছর বয়সে ফেসবুকের মাধ্যমে পরিচয়ের পর শাকিল ওরফে শাকিব মিয়া নামে এক যুবকের সঙ্গে তার বিয়ে হয়। পরবর্তীতে তাদের একটি পুত্রসন্তানের জন্ম হয়। তবে সন্তান জন্মের কয়েক মাস পর স্বামী ও শাশুড়ি তাকে বাড়ি থেকে বের করে দেন এবং শিশুটিকে নিজেদের কাছে রেখে দেন। একই সঙ্গে শিশুর অভিভাবকত্ব নিয়ে আদালতে মামলাও করা হয় বলে অভিযোগ রয়েছে। সন্তানকে ফিরে পেতে গত ১ জুলাই কিশোরীটি ঢাকা জেলা লিগ্যাল এইড কার্যালয়ে আবেদন করেন। অভিযোগের পর উভয় পক্ষকে হাজির হওয়ার নির্দেশ দেওয়া হলেও অভিযুক্তরা নির্ধারিত দিনে উপস্থিত হননি। এরপর লিগ্যাল এইডের নির্দেশে চকবাজার থানা পুলিশ শিশুটিকে উদ্ধার করে আদালতে হাজির করে। মঙ্গলবার অনুষ্ঠিত শুনানিতে বিচারক শিশুটিকে মায়ের কাছে রাখার নির্দেশ দেন এবং মামলার পরবর্তী শুনানির তারিখ নির্ধারণ করেন। মামলার শুনানিতে কিশোরীর মা অভিযোগ করেন, তার মেয়ে স্কুলে পড়াশোনা করছিল এবং তাকে প্রলোভন দেখিয়ে নিয়ে যাওয়া হয়। তিনি আরও দাবি করেন, কিশোরীকে শারীরিক নির্যাতনেরও শিকার হতে হয়েছে। এসব অভিযোগের বিষয়ে আদালতে আইনি প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে। বাংলাদেশে ১৮ বছরের নিচে নারীর বিয়ে আইনত নিষিদ্ধ। শিশু বিবাহ নিরোধ আইন, ২০১৭ অনুযায়ী এমন বিয়ে শাস্তিযোগ্য অপরাধ। একই সঙ্গে শিশুর সর্বোত্তম স্বার্থকে গুরুত্ব দিয়ে অভিভাবকত্ব ও হেফাজত-সংক্রান্ত বিষয়ে আদালত প্রয়োজনীয় সিদ্ধান্ত গ্রহণ করতে পারেন। ঘটনাটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছে। শিশু বিবাহ, অপ্রাপ্তবয়স্ক মায়ের নিরাপত্তা এবং সন্তানের হেফাজত নিয়ে বিদ্যমান আইন কার্যকরভাবে বাস্তবায়নের প্রয়োজনীয়তা নিয়েও নতুন করে প্রশ্ন উঠেছে।
ঢাকা থেকে চেন্নাইগামী ইউএস-বাংলা এয়ারলাইনসের একটি ফ্লাইটে দীর্ঘ বিলম্ব ও শীতাতপ নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা অকার্যকর থাকার অভিযোগে যাত্রীদের দুর্ভোগের খবর পাওয়া গেছে। নির্ধারিত সময়ের প্রায় সাড়ে সাত ঘণ্টা পর ফ্লাইট ছাড়ার পাশাপাশি পুরো যাত্রাপথে কেবিনে পর্যাপ্ত ঠান্ডা বাতাস না থাকায় যাত্রীরা মারাত্মক ভোগান্তির শিকার হয়েছেন বলে অভিযোগ করেছেন তারা। জানা গেছে, ইউএস-বাংলার ফ্লাইট বিএস২০৫ রোববার সকাল ১০টা ৪৫ মিনিটে হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে চেন্নাইয়ের উদ্দেশ্যে ছেড়ে যাওয়ার কথা ছিল। তবে বিভিন্ন কারণ দেখিয়ে ফ্লাইটটি বিলম্বিত হতে থাকে এবং শেষ পর্যন্ত সন্ধ্যা ৬টা ১৬ মিনিটে উড্ডয়ন করে। রাত সাড়ে ৮টার দিকে এটি চেন্নাই পৌঁছায়। ফ্লাইটের যাত্রীদের অভিযোগ, বিলম্বের কারণ হিসেবে শুরুতে প্রতিকূল আবহাওয়ার কথা জানানো হলেও পরে কারিগরি ত্রুটি এবং জ্বালানিসংক্রান্ত সমস্যার কথা বলা হয়। এতে যাত্রীদের মধ্যে বিভ্রান্তি তৈরি হয়। ফ্লাইটের এক যাত্রী সামিয়া শতাব্দী সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নিজের অভিজ্ঞতা তুলে ধরে জানান, বিকেল ৪টা ৪০ মিনিটের দিকে যাত্রীদের বিমানে ওঠানো হয়। কিন্তু উড্ডয়নের আগ পর্যন্ত কেবিনে শীতাতপ নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা চালু ছিল না। এমনকি পুরো যাত্রাপথেও এসি কার্যকরভাবে চালু হয়নি, ফলে গরমে যাত্রীদের চরম দুর্ভোগ পোহাতে হয়। তিনি আরও উল্লেখ করেন, ফ্লাইটের উল্লেখযোগ্য সংখ্যক যাত্রী চিকিৎসার উদ্দেশ্যে চেন্নাই যাচ্ছিলেন। তাদের মধ্যে বয়স্ক ব্যক্তি ও শিশুও ছিলেন, যারা এই পরিস্থিতিতে সবচেয়ে বেশি কষ্ট ভোগ করেন। কেবিন ক্রুরা বারবার এসি চালু হবে বলে আশ্বাস দিলেও শেষ পর্যন্ত তা কার্যকর হয়নি। সামিয়ার দাবি, পরে ক্রু সদস্যরা জানান যে উড্ডয়নের আগেই এসির সমস্যার বিষয়টি জানা ছিল এবং যাত্রীদের বিমানে রেখেই তা ঠিক করার চেষ্টা করা হয়। কিন্তু সমস্যা পুরোপুরি সমাধান না করেই ফ্লাইট পরিচালনা করা হয়। পরিকল্পনা ছিল, চেন্নাই থেকে ফিরে এসে ত্রুটি মেরামত করা হবে। তবে এ বিষয়ে ইউএস-বাংলা এয়ারলাইনসের ভিন্ন বক্তব্য রয়েছে। প্রতিষ্ঠানটির মুখপাত্র মো. কামরুল ইসলাম দ্য বিজনেস স্ট্যান্ডার্ডকে বলেন, বিভিন্ন কারণে ফ্লাইটটি বিলম্বে ছেড়েছে। তবে বিমানের শীতাতপ নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা পুরোপুরি অচল ছিল না; এটি আংশিকভাবে সচল ছিল, যদিও শতভাগ সক্ষমতায় কাজ করছিল না। অন্যদিকে হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের নির্বাহী পরিচালক গ্রুপ ক্যাপ্টেন এস এম রাগিব সামাদ জানান, ইউএস-বাংলা কর্তৃপক্ষ তাদের জানিয়েছে যে বিমানের দুটি এয়ার কন্ডিশনিং প্যাকের একটি কারিগরি ত্রুটির কারণে বিকল ছিল, অন্যটি সচল ছিল। সংশ্লিষ্ট কারিগরি নির্দেশনা অনুযায়ী এই অবস্থায় ফ্লাইট পরিচালনা করা অনুমোদিত থাকলেও এতে যাত্রীরা যে ভোগান্তির শিকার হয়েছেন, তা অস্বীকার করা যাচ্ছে না। বিষয়টি নিয়ে এয়ারলাইনসকে আনুষ্ঠানিক ব্যাখ্যা দিতে বলা হয়েছে বলেও জানান তিনি। ঘটনাটি নিয়ে যাত্রীদের মধ্যে ক্ষোভ তৈরি হয়েছে। বিশেষ করে চিকিৎসার জন্য ভ্রমণ করা যাত্রীদের দুর্ভোগ প্রশ্ন তুলেছে ফ্লাইট পরিচালনার মান ও যাত্রীসেবার বিষয়ে। বিমান চলাচলে নিরাপত্তার পাশাপাশি যাত্রীস্বাচ্ছন্দ্য নিশ্চিত করা নিয়েও নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে।
ঢাকা, ৮ জুলাই: বিশ্বের বিভিন্ন শহরের জীবনযাত্রার মান নিয়ে যুক্তরাজ্যভিত্তিক গবেষণা প্রতিষ্ঠান ইকোনমিস্ট ইন্টেলিজেন্স ইউনিট (ইআইইউ) প্রকাশিত ‘গ্লোবাল লাইভেবিলিটি ইনডেক্স ২০২৬’-এ আবারও বিশ্বের সবচেয়ে কম বাসযোগ্য শহরগুলোর তালিকায় উঠে এসেছে বাংলাদেশের রাজধানী ঢাকা। ১৭৩টি শহরের মধ্যে ঢাকার অবস্থান ১৭১তম, অর্থাৎ বিশ্বের তৃতীয় কম বাসযোগ্য শহর হিসেবে স্থান পেয়েছে রাজধানী। গত ৭ জুলাই প্রকাশিত এ প্রতিবেদনে দেখা যায়, ঢাকার চেয়ে নিচে অবস্থান করছে শুধু লিবিয়ার রাজধানী ত্রিপোলি এবং যুদ্ধবিধ্বস্ত সিরিয়ার রাজধানী দামেস্ক। তালিকার সর্বশেষ অবস্থানে রয়েছে দামেস্ক। প্রতিবছরের মতো এবারও বিশ্বের বিভিন্ন শহরকে পাঁচটি প্রধান সূচকের ভিত্তিতে মূল্যায়ন করেছে ইআইইউ। এগুলো হলো—স্থিতিশীলতা, স্বাস্থ্যসেবা, সংস্কৃতি ও পরিবেশ, শিক্ষা এবং অবকাঠামো। এসব সূচকের অধীনে ৩০টিরও বেশি বিষয় বিশ্লেষণ করে প্রতিটি শহরের বাসযোগ্যতার স্কোর নির্ধারণ করা হয়েছে। ইআইইউর মূল্যায়নে ঢাকার নিম্ন অবস্থানের পেছনে দুর্বল অবকাঠামো, দীর্ঘস্থায়ী যানজট, স্বাস্থ্যসেবার সীমাবদ্ধতা, বায়ুদূষণ, অপরিকল্পিত নগরায়ন এবং নগর ব্যবস্থাপনার নানা চ্যালেঞ্জকে গুরুত্বপূর্ণ কারণ হিসেবে তুলে ধরা হয়েছে। দ্রুত জনসংখ্যা বৃদ্ধি এবং নাগরিক সেবার ওপর বাড়তি চাপও রাজধানীর জীবনযাত্রার মানকে নেতিবাচকভাবে প্রভাবিত করছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। দক্ষিণ এশিয়ার শহরগুলোর মধ্যে পাকিস্তানের করাচির অবস্থান ১৭০তম, যা ঢাকার এক ধাপ ওপরে। অন্যদিকে, বিশ্বের সবচেয়ে বাসযোগ্য শহরের তালিকায় শীর্ষস্থান অর্জন করেছে ডেনমার্কের রাজধানী কোপেনহেগেন। দ্বিতীয় স্থানে রয়েছে অস্ট্রিয়ার ভিয়েনা এবং তৃতীয় স্থানে অস্ট্রেলিয়ার মেলবোর্ন। ইকোনমিস্ট ইন্টেলিজেন্স ইউনিটের গ্লোবাল লাইভেবিলিটি ইনডেক্স আন্তর্জাতিকভাবে নগর জীবনের মান মূল্যায়নের অন্যতম গ্রহণযোগ্য সূচক হিসেবে পরিচিত। বহুজাতিক প্রতিষ্ঠান, আন্তর্জাতিক সংস্থা এবং বিভিন্ন দেশের সরকার বিদেশে কর্মী নিয়োগ, ঝুঁকি মূল্যায়ন, নগর পরিকল্পনা ও বিনিয়োগ বিশ্লেষণে এই সূচকের তথ্য ব্যবহার করে থাকে। বিশেষজ্ঞদের মতে, রাজধানীর গণপরিবহন ব্যবস্থার উন্নয়ন, কার্যকর ট্রাফিক ব্যবস্থাপনা, বায়ুদূষণ নিয়ন্ত্রণ, স্বাস্থ্যসেবার সম্প্রসারণ, উন্নত অবকাঠামো নির্মাণ এবং পরিকল্পিত নগরায়ন নিশ্চিত করা গেলে ভবিষ্যতে আন্তর্জাতিক বাসযোগ্যতা সূচকে ঢাকার অবস্থানের উন্নতি সম্ভব হতে পারে। যদিও জনমনে এ সূচকটি প্রায়ই ‘বসবাসের অযোগ্য শহরের তালিকা’ হিসেবে পরিচিত, ইআইইউর এই মূল্যায়ন মূলত বিভিন্ন শহরের তুলনামূলক বাসযোগ্যতার মান নির্ধারণ করে। অর্থাৎ এটি কোনো শহরকে সম্পূর্ণভাবে বসবাসের অযোগ্য ঘোষণা করে না; বরং আন্তর্জাতিক মানদণ্ডে জীবনযাত্রার সামগ্রিক পরিবেশের তুলনামূলক চিত্র তুলে ধরে।
আসন্ন সিটি করপোরেশন নির্বাচনকে সামনে রেখে দেশের ১৩টি সিটি করপোরেশনের মধ্যে প্রাথমিকভাবে আটটিতে মেয়রপ্রার্থী চূড়ান্ত করেছে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী। দলটির কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদের বৈঠকে এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে। সোমবার (২২ জুন) অনুষ্ঠিত বৈঠকে ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের জন্য মহানগর উত্তর জামায়াতের আমির সেলিম উদ্দিন এবং ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের জন্য সাবেক ডাকসু সহসভাপতি (ভিপি) মো. আবু সাদিককে প্রার্থী হিসেবে মনোনয়নের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। দলীয় সূত্রে জানা গেছে, এসব নাম এখনো চূড়ান্ত অনুমোদনের অপেক্ষায় রয়েছে। জামায়াতের সর্বোচ্চ নীতিনির্ধারণী ফোরাম মজলিশে শুরার অনুমোদনের পর আনুষ্ঠানিকভাবে প্রার্থীদের নাম ঘোষণা করা হবে। ঢাকার বাইরে আরও ছয়টি সিটি করপোরেশনের জন্যও প্রার্থী নির্ধারণ করা হয়েছে। চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনে দলের নগর শাখার সাংগঠনিক সম্পাদক ও সাবেক কাউন্সিলর মুহাম্মদ শামসুজ্জামান হেলালী, গাজীপুর সিটি করপোরেশনে সাবেক বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষক হাফিজুর রহমান, বরিশাল সিটি করপোরেশনে কেন্দ্রীয় সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল মুয়াযযম হোসাইন হেলালকে প্রার্থী হিসেবে বেছে নেওয়া হয়েছে। এ ছাড়া রংপুর সিটি করপোরেশনে মহানগর আমির এ টি এম আজম খান, খুলনা সিটি করপোরেশনে কেন্দ্রীয় কর্মপরিষদ সদস্য মোহাম্মদ মাহফুজুর রহমান এবং নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশনে মহানগর আমির মোহাম্মদ আবদুল জব্বারকে প্রার্থী হিসেবে প্রাথমিকভাবে মনোনীত করা হয়েছে। তবে দেশের বাকি কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ সিটি করপোরেশনে এখনো প্রার্থী চূড়ান্ত হয়নি। রাজশাহী, সিলেট, ময়মনসিংহ, কুমিল্লা এবং নবগঠিত বগুড়া সিটি করপোরেশনের সম্ভাব্য প্রার্থীদের বিষয়ে দল আরও পর্যবেক্ষণ ও মূল্যায়ন করছে বলে জানা গেছে। জামায়াতের নেতারা বলছেন, স্থানীয় সরকার নির্বাচনে অংশগ্রহণের প্রস্তুতির অংশ হিসেবে সম্ভাব্য প্রার্থীদের সাংগঠনিক গ্রহণযোগ্যতা, জনসম্পৃক্ততা এবং স্থানীয় পর্যায়ে রাজনৈতিক অবস্থান বিবেচনা করা হয়েছে। নির্বাচনী তফসিল ঘোষণার আগেই অধিকাংশ সিটিতে সাংগঠনিক প্রস্তুতি সম্পন্ন করতে চায় দলটি। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, স্থানীয় সরকার নির্বাচনকে কেন্দ্র করে বড় রাজনৈতিক দলগুলোর পাশাপাশি জামায়াতও এখন সাংগঠনিক প্রস্তুতি জোরদার করছে। বিশেষ করে ঢাকা উত্তর ও দক্ষিণ সিটির মতো গুরুত্বপূর্ণ এলাকায় প্রার্থী নির্ধারণের মাধ্যমে দলটি আগাম নির্বাচনী বার্তা দিতে চেয়েছে। এদিকে প্রাথমিকভাবে নির্ধারিত প্রার্থীদের নাম চূড়ান্ত অনুমোদন পেলে সংশ্লিষ্ট সিটিগুলোতে দলীয় প্রচার-প্রচারণা ও সাংগঠনিক কার্যক্রম আরও জোরদার করা হতে পারে বলে দলীয় সূত্রে ইঙ্গিত পাওয়া গেছে।
রাজধানীর যানজট ও ট্রাফিক ব্যবস্থাপনায় শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনতে ঢাকার প্রধান সড়কগুলো থেকে ব্যাটারিচালিত অটোরিকশা সরিয়ে দেওয়ার নীতিগত সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছে সংশ্লিষ্ট সূত্র। ঢাকা মহানগর পুলিশের ট্রাফিক বিভাগ এবং সরকারের বিভিন্ন পর্যায়ের আলোচনায় এ বিষয়ে ইতিবাচক অগ্রগতি হয়েছে। তবে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত আসবে সরকারের উচ্চপর্যায়ের বৈঠকের পর। সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো জানায়, রাজধানীতে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাভিত্তিক ক্যামেরা চালুর পর ট্রাফিক ব্যবস্থাপনায় কিছুটা উন্নতি এসেছে। সড়কে শৃঙ্খলা প্রতিষ্ঠা, সিগন্যাল অমান্য রোধ এবং আইন লঙ্ঘনকারীদের শনাক্ত করতে প্রযুক্তির ব্যবহার কার্যকর ভূমিকা রাখছে। কিন্তু ব্যাটারিচালিত অটোরিকশার ক্ষেত্রে একই ধরনের নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠা করা যাচ্ছে না। ঢাকা মহানগর পুলিশের ট্রাফিক বিভাগের কর্মকর্তারা বলছেন, রাজধানীতে বিপুল সংখ্যক অটোরিকশা নিয়ন্ত্রণহীনভাবে চলাচল করছে। এসব যানবাহনের বড় অংশের নেই বৈধ নিবন্ধন, নির্ধারিত নম্বরপ্লেট কিংবা চালকের লাইসেন্স। ফলে ট্রাফিক আইন লঙ্ঘনের ঘটনা ঘটলেও প্রযুক্তিনির্ভর ব্যবস্থার মাধ্যমে কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া কঠিন হয়ে পড়ছে। সম্প্রতি স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ও সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলোর সঙ্গে অনুষ্ঠিত একাধিক বৈঠকে বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে আলোচিত হয়েছে। আলোচনায় অংশ নেওয়া সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের মতে, রাজধানীর প্রধান সড়কে অটোরিকশার অনিয়ন্ত্রিত চলাচল যানজট বৃদ্ধির পাশাপাশি সড়ক নিরাপত্তার জন্যও চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে। ট্রাফিক বিভাগের অভ্যন্তরীণ তথ্য অনুযায়ী, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাভিত্তিক ক্যামেরা চালুর পর ব্যক্তিগত গাড়ি, বাস ও মোটরসাইকেলের চালকদের মধ্যে ট্রাফিক আইন মানার প্রবণতা বেড়েছে। উল্টো পথে চলাচল, স্টপলাইন অতিক্রম করা এবং সিগন্যাল অমান্যের ঘটনা আগের তুলনায় কমেছে। কিন্তু অটোরিকশার ক্ষেত্রে এই পরিবর্তন খুব একটা দৃশ্যমান নয়। মাঠ পর্যায়ে দায়িত্ব পালনকারী কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, রাজধানীর বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ মোড় ও সড়কে এখনো অনেক অটোরিকশাকে সিগন্যাল অমান্য করতে, উল্টো পথে চলতে এবং যত্রতত্র যাত্রী ওঠানামা করতে দেখা যায়। ফলে সামগ্রিক ট্রাফিক ব্যবস্থাপনায় বিঘ্ন সৃষ্টি হচ্ছে। সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, সরকারের চূড়ান্ত অনুমোদন পাওয়া গেলে প্রথম ধাপে ঢাকার প্রধান প্রধান সড়ক থেকে ব্যাটারিচালিত অটোরিকশা সরিয়ে দেওয়া হবে। পরে পরিস্থিতি মূল্যায়ন করে রাজধানীর অন্যান্য এলাকাতেও নিয়ন্ত্রণমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হতে পারে। ঢাকা মহানগর পুলিশের অতিরিক্ত কমিশনার (ট্রাফিক) মো. আনিসুর রহমান জানিয়েছেন, সম্প্রতি স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে অনুষ্ঠিত বৈঠকে বিষয়টি আলোচনা হয়েছে। তবে অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ বিষয় থাকায় অটোরিকশা নিয়ে বিস্তারিত সিদ্ধান্ত তখন নেওয়া সম্ভব হয়নি। আগামী মাসে সরকারের উচ্চপর্যায়ে এ বিষয়ে আরেকটি বৈঠক হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। তিনি বলেন, ওই বৈঠকে সিদ্ধান্ত হলে রাজধানীর প্রধান সড়কে অটোরিকশা চলাচল বন্ধের বিষয়ে প্রয়োজনীয় নির্দেশনা দেওয়া হতে পারে। এরপর সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলো বাস্তবায়ন কার্যক্রম শুরু করবে। ট্রাফিক বিভাগের কর্মকর্তারা মনে করছেন, শুধু অভিযান চালিয়ে বিপুল সংখ্যক অটোরিকশা নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব নয়। এজন্য প্রয়োজন প্রশাসনিক, নীতিগত এবং রাজনৈতিক পর্যায়ের সমন্বিত উদ্যোগ। একই সঙ্গে বিকল্প পরিবহন ব্যবস্থা, চালকদের পুনর্বাসন এবং বাস্তবায়ন কৌশলও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠবে। এদিকে রাজধানীবাসীর একাংশ মনে করছেন, প্রধান সড়ক থেকে অটোরিকশা সরানো হলে যান চলাচলে শৃঙ্খলা বাড়তে পারে। তবে অন্যদিকে অনেক যাত্রী ও চালক বিকল্প ব্যবস্থার বিষয়টি নিশ্চিত করার ওপর গুরুত্ব দিচ্ছেন। ফলে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত কার্যকর হওয়ার আগে বিষয়টি নিয়ে আরও আলোচনা হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। সরকারি সিদ্ধান্ত এলে রাজধানীর পরিবহন ব্যবস্থায় এটি একটি বড় পরিবর্তন হিসেবে বিবেচিত হবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
রাজধানীর হাইকোর্ট-সংলগ্ন জাতীয় ঈদগাহ ময়দানে ধর্মীয় ভাবগাম্ভীর্য ও উৎসবমুখর পরিবেশে পবিত্র ঈদুল আজহার প্রধান জামাত অনুষ্ঠিত হয়েছে। বৃহস্পতিবার (২৮ মে) সকাল সাড়ে ৭টায় অনুষ্ঠিত এ জামাতে রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন ও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান অংশ নিয়ে ঈদের নামাজ আদায় করেন। ঈদের প্রধান জামাতে মন্ত্রিপরিষদের সদস্য, প্রতিমন্ত্রী, সংসদ সদস্য, সুপ্রিম কোর্ট ও হাইকোর্ট বিভাগের বিচারপতি, ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের প্রশাসক আবদুস সালাম, বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতা, সরকারের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা, বিভিন্ন মুসলিম দেশের কূটনীতিক এবং বিভিন্ন শ্রেণি-পেশা ও বয়সের মুসল্লিরা অংশ নেন। প্রধান জামাতে ইমামতি করেন বায়তুল মোকাররম জাতীয় মসজিদের খতিব মুফতি মোহাম্মদ আবদুল মালেক। দুই রাকাত ওয়াজিব নামাজ আদায়ের পর খুতবা অনুষ্ঠিত হয়। পরে দেশ, জাতি ও মুসলিম উম্মাহর শান্তি, সমৃদ্ধি এবং কল্যাণ কামনা করে বিশেষ মোনাজাত করা হয়। ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের (ডিএসসিসি) ব্যবস্থাপনায় জাতীয় ঈদগাহ ময়দানকে ঈদের জামাতের জন্য প্রস্তুত করা হয়। মুসল্লিদের নিরাপদ ও স্বাচ্ছন্দ্যময় পরিবেশে নামাজ আদায়ের লক্ষ্যে প্রয়োজনীয় অবকাঠামোগত ও সেবামূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়। ঈদের প্রধান জামাতে নারীদের জন্য পৃথক প্রবেশপথ, ওজুর ব্যবস্থা এবং সংরক্ষিত নামাজের স্থান রাখা হয়। পাশাপাশি অতি গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিদের (ভিআইপি) জন্যও বিশেষ ব্যবস্থা ছিল। মুসল্লিদের সুবিধার্থে জাতীয় ঈদগাহে পর্যাপ্ত ওজুখানা, মেডিকেল টিম এবং প্রয়োজনীয় সেবা নিশ্চিত করা হয়। সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, সাড়ে তিন হাজার নারীসহ প্রায় ৩৫ হাজার মুসল্লির নামাজ আদায়ের ব্যবস্থা করা হয়েছিল। ধর্মীয় ভাবগাম্ভীর্য, শৃঙ্খলা ও ভ্রাতৃত্বের আবহে জাতীয় ঈদগাহে পবিত্র ঈদুল আজহার প্রধান জামাত সম্পন্ন হয়।
ডিজিটাল প্রযুক্তির ছোঁয়ায় বদলে যেতে শুরু করেছে রাজধানী ঢাকার ট্রাফিক নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা। সড়কের শৃঙ্খলা ফেরাতে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের (ডিএমপি) ট্রাফিক বিভাগ পরীক্ষামূলকভাবে চালু করেছে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা ‘এআই’ প্রযুক্তিনির্ভর নজরদারি ব্যবস্থা। তবে এই আধুনিক প্রযুক্তির কৃতিত্ব কার—তা নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে একটি বিভ্রান্তি তৈরি হয়েছে। নেটিজেনদের একাংশ এটিকে বিএনপির সফলতা হিসেবে প্রচার করলেও অনুসন্ধানে জানা গেছে, মূল উদ্যোগ ও টেন্ডার প্রক্রিয়াটি ছিল তৎকালীন অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের। সম্প্রতি রাজধানীর কারওয়ানবাজারের সোনারগাঁও হোটেল ক্রসিংয়ে গিয়ে দেখা যায় এক ভিন্ন চিত্র। একসময় যেখানে এক লেনের যানবাহন আটকে অন্য লেন ছাড়তে ট্রাফিক পুলিশকে রীতিমতো গলদঘর্ম হতে হতো, সেখানে এখন আর কোনো দৌড়ঝাঁপ নেই। সিগন্যালে লাল-সবুজ বাতি জ্বলার সাথে সাথেই স্বয়ংক্রিয়ভাবে থেমে যাচ্ছে ও চলতে শুরু করছে সব ধরনের যানবাহন। চালকদের মধ্যেও ট্রাফিক আইন মানার এক ধরনের বাধ্যবাধকতা তৈরি হয়েছে, যা রাজধানীর চিরচেনা যানজটের চিত্রে কিছুটা স্বস্তি এনেছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এই সফলতার প্রশংসা করে অনেকেই এটিকে রাজনৈতিক দল বিএনপির অবদান হিসেবে উল্লেখ করছেন। তবে ট্রাফিক বিভাগ এবং সংশ্লিষ্ট সূত্র নিশ্চিত করেছে, ২০২৪ সালের অক্টোবরে অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বাধীন অন্তর্বর্তীকালীন সরকারই প্রথম ঢাকায় এআই ক্যামেরা স্থাপনের এই দূরদর্শী উদ্যোগ নিয়েছিল। প্রকল্পের শুরুতেই গুলশান-২ গোলচত্বর এলাকায় পরীক্ষামূলকভাবে এই কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার ক্যামেরা বসানো হয়। সেখানে দেখা যায়, ট্রাফিক আইন অমান্যকারী যেকোনো যানবাহনকে মুহূর্তে শনাক্ত করছে এই এআই ক্যামেরা এবং সেই স্বয়ংক্রিয় তথ্য সরাসরি চলে যাচ্ছে ট্রাফিক বিভাগের সেন্ট্রাল কমান্ড সেন্টারে। গুলশানের এই পরীক্ষামূলক কার্যক্রম সফল হওয়ার পর পর্যায়ক্রমে বিজয় সরণিসহ রাজধানীর আরও vanished ছয়টি গুরুত্বপূর্ণ মোড়ে এই ক্যামেরা বসানোর কাজ প্রক্রিয়াধীন ছিল। প্রযুক্তির এই আধুনিকায়নে স্বস্তি প্রকাশ করেছেন সাধারণ নগরবাসী ও শিক্ষার্থীরা। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী নাইম উল ইসলাম নিজের অভিজ্ঞতা জানিয়ে বলেন, লাল বাতি জ্বলছে আর সমস্ত গাড়ি নিজ থেকেই থেমে যাচ্ছে, এটা আমাদের জন্য একদম নতুন এক অভিজ্ঞতা। আশা করি এর মাধ্যমে ঢাকার সড়কের দীর্ঘদিনের অব্যবস্থাপনা কিছুটা হলেও দূর হবে। তবে এই প্রযুক্তির কারণে অসাবধানী চালকদের গুনতে হচ্ছে জরিমানা। নতুন এই ব্যবস্থার মুখে পড়া মোটরসাইকেল চালক সোহেল রানা জানান, প্রথম দিন বিষয়টা বুঝতে পারিনি। ট্রাফিক আইন ভঙ্গের কারণে হঠাৎ মোবাইলে ২০০০ টাকা মামলার মেসেজ পাই। এরপর থেকে রাস্তায় চলাচল করার সময় খুব সতর্ক থাকি। এদিকে সড়ক ব্যবস্থাপনায় প্রযুক্তির ব্যবহারকে স্বাগত জানালেও চালকদের সচেতনতার ওপর জোর দিচ্ছেন বিশেষজ্ঞরা। বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বুয়েট) পুরকৌশল বিভাগের অধ্যাপক ও পরিবহন বিশেষজ্ঞ ড. মো. হাদিউজ্জামান বলেন, সিগন্যালগুলোকে পুরোপুরি আধুনিক ও কার্যকর করতে হলে চালকদের আইন মানার প্রবণতা বা কমপ্লায়েন্স অত্যন্ত জরুরি। চালকরা যদি সচেতন না হন, তবে কোনো উন্নত প্রযুক্তিই শেষ পর্যন্ত কাজে আসবে না। বিদ্যমান ট্রাফিক ব্যবস্থার সীমাবদ্ধতা উল্লেখ করে এই বিশেষজ্ঞ আরও বলেন, "বর্তমানে সড়কে গাড়ি থামিয়ে মামলা দেওয়ার যে প্রচলিত পদ্ধতি রয়েছে, তাতে বেশ কিছু সমস্যা হয়। একটি গাড়ি থামালে পেছনের সবগুলো গাড়ি আটকে গিয়ে কৃত্রিম যানজট তৈরি হয়। অনেক সময় চালক ও পুলিশের মধ্যে বাকবিতণ্ডায় সময় নষ্ট হয়। এছাড়া ভিআইপি যানবাহনের ক্ষেত্রে আইন প্রয়োগে অনেক সময় পুলিশ দ্বিধায় পড়ে। এই বাস্তবতায় সড়কে শৃঙ্খলা ফেরাতে এআইনির্ভর স্বয়ংক্রিয় মামলা ব্যবস্থার কোনো বিকল্প নেই।" উদ্যোগটি যার আমলেই নেওয়া হোক না কেন, প্রযুক্তির সঠিক ব্যবহার এবং চালকদের আইন মানার মানসিকতা বজায় থাকলে ঢাকার ট্রাফিক ব্যবস্থাপনায় এক যুগান্তকারী পরিবর্তন আসবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। সূত্র: দ্য ডেল্টা লেন্স
রাজধানীর তেজগাঁও থানায় বিস্ফোরক আইনের একটি মামলায় ১ মাস ১৬ দিন বয়সী কন্যাসন্তানসহ কারাগারে পাঠানো হয়েছে যুব মহিলা লীগের নেত্রী শিল্পী বেগমকে (৩৭)। মঙ্গলবার (২১ এপ্রিল ২০২৬) ঢাকা চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালত এই আদেশ দেন। আদালত প্রাঙ্গণে কোলের শিশুকে দুধ পান করানোর সময় পুলিশ তাঁকে হাজতখানায় নিতে চাইলে এক আবেগঘন ও থমথমে পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়। আসামিপক্ষের আইনজীবীরা মানবিক দিক বিবেচনা করে জামিনের জোর আবেদন জানালেও আদালত তা মঞ্জুর করেননি। শিল্পী বেগমের আইনজীবী ফারজানা ইয়াসমিন রাখী জানান, সিজারের মাধ্যমে জন্ম নেওয়া এই শিশুর নিয়মিত স্বাস্থ্য পরীক্ষা প্রয়োজন এবং কারাগারে মা ও শিশুর নিরাপত্তা ও মানবাধিকার চরম ঝুঁকির মুখে পড়বে। আদালতের এই সিদ্ধান্তে আইনজীবীরা গভীর শোক ও ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন। মামলার বিবরণী অনুযায়ী, ২০২৪ সালের জুলাইয়ে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন চলাকালীন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের এক ছাত্রের বাসায় হামলা, ভাঙচুর ও লুটপাটের অভিযোগে শিল্পী বেগমকে গ্রেপ্তার করা হয়। তদন্ত কর্মকর্তার দাবি, তিনি ওই আন্দোলন দমনে সক্রিয় ভূমিকা পালন করেছিলেন। তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত তাঁকে কারাগারে আটক রাখা প্রয়োজন বলে পুলিশের আবেদনে উল্লেখ করা হয়। রাজনীতির মারপ্যাঁচে নিষ্পাপ শিশুর এই কারাবাস নিয়ে আদালত পাড়ায় চলছে নানা আলোচনা।
বাজারে ছেঁড়া-ফাটা ও ময়লাযুক্ত নোটের আধিক্য দূর করতে এবং লেনদেন স্বাভাবিক রাখতে দেশের সকল তফসিলি ব্যাংককে কড়া নির্দেশনা দিয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংক। ১২ এপ্রিল ২০২৬ (রোববার) জারি করা এক পরিপত্রে জানানো হয়েছে, জনসাধারণের কাছ থেকে এই ধরণের নোট গ্রহণ এবং তার বিপরীতে বিনিময় মূল্য প্রদানে কোনো ব্যাংক অনীহা প্রকাশ করলে সংশ্লিষ্ট শাখার বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে। বাংলাদেশ ব্যাংকের ‘পরিচ্ছন্ন নোট নীতিমালা’ (Clean Note Policy) বাস্তবায়নের লক্ষ্যে এই নির্দেশনা জারি করা হয়েছে। বিশেষ করে ৫, ১০, ২০ এবং ৫০ টাকার মতো ছোট মূল্যমানের নোটগুলো বিশেষ কাউন্টারের মাধ্যমে গ্রহণ করে গ্রাহককে ফ্রেশ বা পুনঃপ্রচলনযোগ্য নোট প্রদান করতে বলা হয়েছে। পরিপত্রে উল্লেখ করা হয়, ইতিপূর্বে এ বিষয়ে নির্দেশনা থাকলেও বাজারে এখনো ত্রুটিপূর্ণ নোটের আধিক্য লক্ষ্য করা যাচ্ছে। ব্যাংক কোম্পানি আইন, ১৯৯১-এর ৪৫ ধারার ক্ষমতাবলে জারিকৃত এই নির্দেশনা অবিলম্বে কার্যকর করার নির্দেশ দিয়েছেন কারেন্সী ম্যানেজমেন্ট ডিপার্টমেন্টের পরিচালক কে এম ইব্রাহিম। জনসাধারণের ভোগান্তি কমাতে এবং স্বচ্ছ লেনদেন নিশ্চিত করতে এই বিষয়টি ‘অতীব গুরুত্বপূর্ণ’ হিসেবে গণ্য করছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক।
রাজধানীর বায়তুল মোকাররম মসজিদের দক্ষিণ ফটকের জিপিও লিংক রোড এলাকায় হকার উচ্ছেদকে কেন্দ্র করে ব্যবসায়ী ও হকারদের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। এতে উভয় পক্ষের কয়েকজন আহত হয়েছেন। শনিবার (১১ এপ্রিল) সকাল ১০টার দিকে বায়তুল মোকাররমের দক্ষিণ গেটসংলগ্ন স্বর্ণ গলি এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, গত ৯ এপ্রিল ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশন (ডিএসসিসি) ওই এলাকায় ফুটপাত দখলমুক্ত করতে উচ্ছেদ অভিযান চালায়। এ সময় ফুটপাতে থাকা অস্থায়ী দোকানপাট বুলডোজার দিয়ে সরিয়ে দেওয়া হয়। তবে পরদিনই হকাররা পুনরায় সেখানে দোকান বসানোর চেষ্টা করলে সোনা ব্যবসায়ীরা বাধা দেন। এতে উভয় পক্ষের মধ্যে উত্তেজনা সৃষ্টি হয়। এরই ধারাবাহিকতায় শনিবার সকালে বায়তুল মোকাররম স্বর্ণ ব্যবসায়ী সমিতির উদ্যোগে ফুটপাত থেকে অস্থায়ী দোকান সরানোর চেষ্টা করা হলে হকাররা বাধা দেন। একপর্যায়ে পরিস্থিতি সংঘর্ষে রূপ নেয়। দুই পক্ষের মধ্যে ধাওয়া–পাল্টাধাওয়া ও ইটপাটকেল নিক্ষেপের ঘটনা ঘটে। এ ঘটনায় কয়েকজন আহত হন। পরে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনেন। পল্টন মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মনির হোসেন জানান, উচ্ছেদ কার্যক্রম ঘিরেই এ উত্তেজনার সৃষ্টি হয়েছে। তিনি বলেন, ‘বড় ধরনের কোনো সংঘর্ষ হয়নি। পরিস্থিতি এখন স্বাভাবিক রয়েছে এবং ঘটনাস্থলে পুলিশ মোতায়েন রয়েছে।’
রাজধানীর ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে (ঢামেক) জরুরি বিভাগে চিকিৎসকদের সঙ্গে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় (ঢাবি) এর শিক্ষার্থীদের সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। এতে উভয় পক্ষের কয়েকজন আহত হয়েছেন বলে জানা গেছে। ঘটনার পর চিকিৎসকেরা জরুরি বিভাগের সেবা সাময়িকভাবে বন্ধ রাখেন। বুধবার (৮ এপ্রিল) বিকেল সাড়ে ৫টার দিকে হাসপাতালের জরুরি বিভাগে এ ঘটনার সূত্রপাত হয়। জানা যায়, এক শিক্ষার্থী চিকিৎসা নিতে জরুরি বিভাগে এলে তাকে প্রয়োজনীয় চিকিৎসাপত্র দেওয়া হয়। তবে হাসপাতালে নির্ধারিত ওষুধ না থাকায় বাইরে থেকে তা সংগ্রহ করতে বলা হয়। এ নিয়ে কিছু সময় পর ওই শিক্ষার্থী তার সহপাঠীদের নিয়ে ফিরে এসে কর্তব্যরত চিকিৎসকদের সঙ্গে বাকবিতণ্ডায় জড়ান। একপর্যায়ে ওষুধ না পাওয়ার অভিযোগ ঘিরে পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে ওঠে এবং তা হাতাহাতিতে রূপ নেয়। পরে কয়েক দফায় ধাওয়া-পাল্টাধাওয়ার ঘটনাও ঘটে, যা পুরো এলাকায় উত্তেজনা ছড়িয়ে দেয়। ঢামেক পুলিশ ক্যাম্পের দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তা জানান, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অমর একুশে হলের কিছু শিক্ষার্থী ও চিকিৎসকদের মধ্যে এই সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। পরে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনা হয়। তবে এ ঘটনার পর থেকে জরুরি বিভাগে নতুন রোগী ভর্তি নেওয়া সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। পরিস্থিতি পুরোপুরি স্বাভাবিক না হওয়া পর্যন্ত সেবা কার্যক্রম সীমিত থাকবে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে।
রাজধানীর জিয়া উদ্যানে ঈদের দিন এক যুবকের আত্মহত্যার চেষ্টার ঘটনা ঘটেছে। এ সময় তিনি প্রয়াত রাষ্ট্রপতি Ziaur Rahman ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী Khaleda Zia-এর সমাধির ওপর উঠে পড়েন। শনিবার (২১ মার্চ) বিকেল ৩টা ৪০ মিনিটের দিকে এ ঘটনা ঘটে। প্রত্যক্ষদর্শীদের বরাত দিয়ে জানা যায়, ওই যুবক জিয়া উদ্যানে প্রবেশ করে হঠাৎ মাজারের ওপর উঠে পড়েন এবং ব্লেড দিয়ে নিজের শরীর ক্ষতবিক্ষত করতে থাকেন। একপর্যায়ে তিনি নিজের গলায়ও আঘাত করার চেষ্টা করেন। ঘটনার একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে। সেখানে দেখা যায়, তিনি সমাধির ওপর গড়াগড়ি দিচ্ছেন। এ সময় দায়িত্বরত পুলিশ সদস্যরা দ্রুত ঘটনাস্থলে গিয়ে তাকে নিয়ন্ত্রণে এনে সেখান থেকে সরিয়ে নেন। ঘটনাস্থলে দায়িত্বে থাকা উপসহকারী পরিদর্শক (এএসআই) কাজী মুস্তাফিজ জানান, ওই যুবক ঘুরতে এসে হঠাৎ আত্মহত্যার চেষ্টা করেন। পরে পুলিশ ও উপস্থিত লোকজনের সহায়তায় তাকে উদ্ধার করা হয়। পরে গুরুতর আহত অবস্থায় তাকে Shaheed Suhrawardy Medical College Hospital-এ পাঠানো হয়।
যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন। মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়। তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।” ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে। প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন। ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন। প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল। মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি। রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।
যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর আগস্ট ২০২৬ সালের ভিসা বুলেটিন প্রকাশ করেছে। নতুন এই আপডেটে পরিবারভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি দেখা গেছে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের স্থায়ী বাসিন্দাদের স্বামী, স্ত্রী ও সন্তানদের জন্য নির্ধারিত এফ২এ ক্যাটাগরিতে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এসেছে। নতুন ভিসা বুলেটিন অনুযায়ী, পরিবারভিত্তিক কয়েকটি ক্যাটাগরিতে অপেক্ষার সময় কমার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এর মধ্যে এফ২এ ক্যাটাগরির অগ্রগতি সবচেয়ে বেশি, যেখানে যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডধারীদের স্বামী-স্ত্রী ও অবিবাহিত সন্তানদের আবেদন অন্তর্ভুক্ত থাকে। এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের অবিবাহিত প্রাপ্তবয়স্ক সন্তানদের জন্য এফ১ ক্যাটাগরি এবং অন্যান্য পরিবারভিত্তিক ক্যাটাগরিতেও কিছু অগ্রগতি দেখা গেছে। তবে আবেদনকারীদের ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার তারিখ বা প্রায়োরিটি ডেট অনুযায়ীই পরবর্তী ধাপ নির্ধারণ হবে। ভিসা বুলেটিনে বলা হয়েছে, পরিবারভিত্তিক অভিবাসন ভিসার সংখ্যা প্রতিবছর নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে দেওয়া হয়। তাই কোনো ক্যাটাগরিতে চাহিদা বেশি হলে অপেক্ষার সময় বাড়তে পারে এবং কম হলে তারিখ এগিয়ে আসতে পারে। অন্যদিকে কর্মসংস্থানভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য পরিস্থিতি তুলনামূলক কঠিন রয়েছে। বিশেষ করে কিছু এমপ্লয়মেন্ট-বেসড ক্যাটাগরিতে দীর্ঘ অপেক্ষা ও সীমিত ভিসা সংখ্যার কারণে আবেদনকারীদের অনিশ্চয়তা অব্যাহত রয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ী বসবাসের জন্য আবেদনকারীদের কাছে ভিসা বুলেটিন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এই তালিকার মাধ্যমে জানা যায়, কোন আবেদনকারীরা গ্রিন কার্ডের পরবর্তী ধাপে এগিয়ে যেতে পারবেন এবং কারা এখনও অপেক্ষার তালিকায় থাকবেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, নতুন এই পরিবর্তন অনেক পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীর জন্য আশার খবর হলেও, প্রতিটি আবেদনকারীর পরিস্থিতি নির্ভর করবে তাদের আবেদন জমার তারিখ, দেশভিত্তিক সীমা এবং ভিসা ক্যাটাগরির ওপর। যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ব্যবস্থায় দীর্ঘদিন ধরে গ্রিন কার্ডের অপেক্ষার তালিকা বড় একটি বিষয় হয়ে আছে। নতুন ভিসা বুলেটিনে পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীদের জন্য অগ্রগতি দেখা গেলেও, সব আবেদনকারী একইভাবে সুবিধা পাবেন না।
২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো। প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে। এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে। অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে। স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে। সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে। সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।
যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে। এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন। নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি। উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।” বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে। এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে। শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়। উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত। এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।
যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে এক মর্মান্তিক ও লোমহর্ষক ঘটনার জন্ম দিয়েছে দুই তরুণী বোন। দিনদুপুরে ক্যারোলিন ‘কারো’ পেনা নামের ৩২ বছর বয়সী এক নারীকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগে তাদের গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। নিহত নারী পাঁচ সন্তানের জননী ছিলেন। তবে সবচেয়ে শিউরে ওঠার মতো বিষয় হলো, গ্রেপ্তারের সময় অভিযুক্তদের চেহারায় অনুশোচনার সামান্যতম ছাপ তো ছিলই না, উল্টো তাদের মুখে পৈশাচিক হাসি দেখা গেছে। মেক্সিকো সীমান্তের কাছের শহর দেল রিও থেকে বৃহস্পতিবার বিকেলে পুলিশ তাদের হাতকড়া পরিয়ে নিয়ে যাওয়ার সময় এই দৃশ্য ক্যামেরায় ধরা পড়ে। আরও পড়ুন... ‘ফোনটা ধরতে পারলে হয়তো তাকে বাঁচাতে পারতাম’- টেক্সাসে পাঁচ সন্তানের মাকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা, দুই বোনসহ তিনজন গ্রেপ্তার পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নিহত ক্যারোলিনকে বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় দুপুর ২টার পরপরই গুরুতর জখম অবস্থায় ভাল ভার্দে রিজিওনাল মেডিকেল সেন্টারে নেওয়া হয়। তার শরীরে একাধিক ছুরিকাঘাতের চিহ্ন ছিল। ঘটনাস্থলের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, একটি সনিক ড্রাইভ-থ্রু রেস্তোরাঁর বাইরে রক্তাক্ত অবস্থায় ক্যারোলিন তার তিন হামলাকারীর মুখোমুখি দাঁড়িয়ে আছেন। পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য সান আন্তোনিওর একটি হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছায় এবং প্রায় ৩৫ হাজার বাসিন্দার শহর দেল রিওতে অভিযান চালিয়ে হামলাকারীদের শনাক্ত করে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া গ্রেপ্তারের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, ২১ বছর বয়সী কিটি মিয়া দিয়াজ খালি পায়ে হেঁটে যাওয়ার সময় পুলিশের গাড়িতে ওঠার আগে মৃদু হাসছেন। কিটি নিজেও এক শিশুপুত্রের মা। অন্যদিকে, তার ১৯ বছর বয়সী ছোট বোন আমায়া কুকি দিয়াজ ক্যামেরার দিকে তাকিয়ে নির্লজ্জভাবে দাঁত বের করে হাসতে থাকেন। ▶️ টেক্সাসে নিজের মাকে নির্মমভাবে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুই মেয়ে | এমনকি ভিডিও ধারণকারীকে ব্যঙ্গাত্মক সুরে ‘রেকর্ড করা বন্ধ করো’ বলেও চিৎকার করতে শোনা যায় তাকে। দেল রিও পুলিশ জানিয়েছে, এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ২১ বছর বয়সী কায়ান্দ্রা রেনি ফাজ নামের তৃতীয় আরেক নারীকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে ঠিক কী কারণে এই নারকীয় হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে, সে বিষয়ে পুলিশ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি।