রাজধানীর জিয়া উদ্যানে ঈদের দিন এক যুবকের আত্মহত্যার চেষ্টার ঘটনা ঘটেছে। এ সময় তিনি প্রয়াত রাষ্ট্রপতি Ziaur Rahman ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী Khaleda Zia-এর সমাধির ওপর উঠে পড়েন। শনিবার (২১ মার্চ) বিকেল ৩টা ৪০ মিনিটের দিকে এ ঘটনা ঘটে। প্রত্যক্ষদর্শীদের বরাত দিয়ে জানা যায়, ওই যুবক জিয়া উদ্যানে প্রবেশ করে হঠাৎ মাজারের ওপর উঠে পড়েন এবং ব্লেড দিয়ে নিজের শরীর ক্ষতবিক্ষত করতে থাকেন। একপর্যায়ে তিনি নিজের গলায়ও আঘাত করার চেষ্টা করেন। ঘটনার একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে। সেখানে দেখা যায়, তিনি সমাধির ওপর গড়াগড়ি দিচ্ছেন। এ সময় দায়িত্বরত পুলিশ সদস্যরা দ্রুত ঘটনাস্থলে গিয়ে তাকে নিয়ন্ত্রণে এনে সেখান থেকে সরিয়ে নেন। ঘটনাস্থলে দায়িত্বে থাকা উপসহকারী পরিদর্শক (এএসআই) কাজী মুস্তাফিজ জানান, ওই যুবক ঘুরতে এসে হঠাৎ আত্মহত্যার চেষ্টা করেন। পরে পুলিশ ও উপস্থিত লোকজনের সহায়তায় তাকে উদ্ধার করা হয়। পরে গুরুতর আহত অবস্থায় তাকে Shaheed Suhrawardy Medical College Hospital-এ পাঠানো হয়।
পবিত্র ঈদুল ফিতর উপলক্ষে ঘরমুখো যাত্রীদের ভিড়ের মধ্যে রাজধানীর সদরঘাট লঞ্চ টার্মিনাল এলাকায় লঞ্চ দুর্ঘটনায় দুইজন নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় আহত হয়েছেন আরও দুজন এবং নিখোঁজ রয়েছেন অন্তত দুইজন। বুধবার (১৮ মার্চ) বিকেল প্রায় ৫টার দিকে এ দুর্ঘটনা ঘটে। সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, কেরানীগঞ্জ এলাকা থেকে ট্রলারে করে আসা কয়েকজন যাত্রী ঢাকা-ইলিশা (ভোলা) রুটের একটি লঞ্চে ওঠার চেষ্টা করছিলেন। এ সময় পেছন দিক থেকে জাকির সম্রাট-৩ নামের একটি লঞ্চ ট্রলারটিকে ধাক্কা দেয়। ধাক্কার ফলে ট্রলারটি দুই লঞ্চের মাঝে চাপা পড়ে যায় এবং ঘটনাস্থলেই দুজনের মৃত্যু হয়। দুর্ঘটনার পর অভিযুক্ত লঞ্চটি দ্রুত টার্মিনাল ত্যাগ করে বলে জানা গেছে। খবর পেয়ে ফায়ার সার্ভিসের সদস্যরা ঘটনাস্থলে পৌঁছে উদ্ধার কার্যক্রম শুরু করেন। আহতদের মধ্যে এক নারীকে উদ্ধার করে মিটফোর্ড হাসপাতাল-এ পাঠানো হয়েছে। তবে তিনি মানসিকভাবে ভীষণ আঘাতপ্রাপ্ত থাকায় এখনো বিস্তারিত কিছু জানাতে পারেননি। ফায়ার সার্ভিস জানিয়েছে, নিখোঁজ ব্যক্তিদের সন্ধানে উদ্ধার অভিযান অব্যাহত রয়েছে। দুর্ঘটনার প্রকৃত কারণ ও ক্ষয়ক্ষতির পূর্ণ বিবরণ জানতে তদন্ত চলছে।
ঢাকা থেকে প্রকাশিত বিভিন্ন জাতীয় দৈনিক পত্রিকার শিরোনামগুলোতে গুরুত্ব পেয়েছে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের প্রথম অধিবেশন, জুলাই সনদ বাস্তবায়ন নিয়ে রাজনৈতিক আলোচনা, জ্বালানি সংকট মোকাবিলায় কূটনৈতিক উদ্যোগ, শ্রমিকদের বেতন–বোনাস পরিস্থিতি এবং মধ্যপ্রাচ্যের উত্তেজনা। নিচে আজকের উল্লেখযোগ্য কয়েকটি পত্রিকার প্রধান সংবাদ তুলে ধরা হলো— কালের কণ্ঠ: ‘মব করে ৭০ হাজারের বেতন ৫ লাখ’ এই প্রতিবেদন অনুযায়ী বলা হয়েছে, পাঁচই অগাস্ট ক্ষমতার পটপরিবর্তনের পর সরকারি সেবা কর্মকাণ্ডের ডিজিটাল রূপান্তরের প্রধান কেন্দ্র এসপায়ার টু ইনোভেটে (এটুআই) 'মবের' মাধ্যমে চাকরি বাগিয়ে নেওয়ার পাশাপাশি বেতন বৃদ্ধির ঘটনা ঘটেছে। এ বিষয়ে যার বিরুদ্ধে গুরুতর অভিযোগ এসেছে, তিনি হলেন ফাহিম আবদুল্লাহ। যিনি একসময় এটুআই ই-ফাইলিং সিস্টেমের জুনিয়র কনসালট্যান্ট ছিলেন। রাজনৈতিক সংশ্লিষ্টতার কারণে ২০২৩ সালে পুলিশ তাকে গ্রেপ্তার করলে পরে চাকরি হারান এটুআই থেকে। আওয়ামী লীগ সরকারের ক্ষমতাচ্যুতির পরদিনই একদল বহিরাগত অনুসারী নিয়ে এটুআই কার্যালয়ে হাজির হয়ে ফাহিম আবদুল্লাহ এটুআইয়ের কর্মকর্তাদের নানা হুমকি দেন চাকরি ফিরিয়ে দিতে। শেষ পর্যন্ত বড় পদ 'প্রজেক্ট ম্যানেজমেন্ট হেড' দখল করে নিতে সক্ষম হন তিনি। এই ব্যক্তি আগে বেতন পেতেন ৭০ হাজার টাকা, তা এখন পাঁচ লাখ টাকায় দাঁড়িয়েছে। 'মবের' ওই চক্রের মাধ্যমে আরও অনেকে উচ্চ বেতনে এটুআইয়ে জায়গা করে নেন। পাশপাশি মবের কারণে অনেকে চাকরি হারিয়েছেন। এসব ঘটনার এক পর্যায়ে এটুআইয়ের সঙ্গে জাতিসংঘ উন্নয়ন কর্মসূচির টানাপোড়েন সৃষ্টি হয়। ২০২৪ সালের ১৪ অক্টোবর পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়কে মব করে কর্মকর্তা-কনসালট্যান্টদের অপসারণ ঘটনার জেরে একটি আনুষ্ঠানিক নোট ভার্বাল পাঠায় ইউএনডিপি। এতে বলা হয়, যারা ন্যাশনাল পার্সোনাল সার্ভিসেস অ্যাগ্রিমেন্ট চুক্তির অধীনে ইউএনডিপির কর্মী হিসেবে কাজ করছেন, তারা বাংলাদেশ সরকারের সরাসরি কর্মচারী নন। তাদের নিয়োগ ও কার্যক্রম ইউএনডিপির নীতিমালা ও জাতিসংঘের প্রশাসনিক বিধি অনুযায়ী পরিচালিত হয়। এই নোটটি দেওয়া হয় এটুআই প্রকল্প থেকে বাদ পড়া ইউএনডিপির অধীন ৯ জন কর্মকর্তা-কনসালট্যান্টের জন্য। ২০২৫ সালের জুনে ইউএনডিপির তদারকি ও তদন্তকারী দপ্তর অডিট ও ইনভেস্টিগেশনস (ওএআই) অফিস এই অভিযোগের তদন্ত করতে আসে। তারা পরে সাফ জানিয়ে দেয়, অভিযুক্ত কর্মকর্তা-কনসালট্যান্টদের বিরুদ্ধে আনুষ্ঠানিক তদন্ত শুরু করার মতো পর্যাপ্ত ভিত্তি নেই। মানবজমিন: ‘প্রত্যাশা ও চ্যালেঞ্জের সংসদ বসছে আজ’ ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের যাত্রা শুরু হচ্ছে আজ বৃহস্পতিবার। গণঅভ্যুত্থানের আকাঙ্ক্ষা অনুযায়ী অন্তর্বর্তী সরকারের হাতে তৈরি জুলাই সনদ বাস্তবায়নে সরকার ও বিরোধী দল যে অঙ্গীকার করেছে, তার বাস্তবায়ন প্রক্রিয়াও শুরু হচ্ছে আজ থেকে। আজ শুরু হওয়া সংসদের মেয়াদকাল থাকবে আগামী ২০৩১ সালের মার্চ পর্যন্ত। গণঅভ্যুত্থান পরবর্তী নির্বাচনে বিপুল সমর্থন নিয়ে বিজয়ী হওয়া সরকারি দল বিএনপি ও তাদের মিত্রদের সামনে জনগণের প্রত্যাশা পূরণের বড় চ্যালেঞ্জ রয়েছে। অন্যদিকে প্রথমবারের মতো বিরোধী দলের দায়িত্বে থাকা জামায়াত এনসিপি জোটের সামনে রয়েছে সরকার ও সরকারি দলের এমপিদের জবাবদিহিতা নিশ্চিত করার দায়িত্ব। সমকাল: ‘প্রথম অধিবেশনে উত্তাপ ছড়াবে জুলাই সনদ’ আজ বৃহস্পতিবার শুরু হতে যাওয়া ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের প্রথম অধিবেশনে ‘জুলাই সনদ বাস্তবায়ন’ নিয়ে গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত আসতে পারে। পাশাপাশি ড. মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বাধীন অন্তর্বর্তী সরকারের সময়ে জারি করা ১৩৩টি অধ্যাদেশের ভবিষ্যৎও এই অধিবেশনেই নির্ধারণ হবে। প্রথম দিনেই আইন, বিচার ও সংসদবিষয়ক মন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান এসব অধ্যাদেশ সংসদে উত্থাপন করতে যাচ্ছেন। অধিবেশনকে সামনে রেখে গতকাল সরকার ও বিরোধীদলীয় এমপিরা পৃথক সংসদীয় দলের বৈঠক করেছেন। বৈঠকে প্রধানমন্ত্রী ও সংসদ নেতা তারেক রহমান জুলাই সনদ বাস্তবায়নে দলের অবস্থান অনুযায়ী নোট অব ডিসেন্টসহ এগোনোর ইঙ্গিত দিয়েছেন। অন্যদিকে জামায়াত ও এনসিপি জোটের সদস্যরা গণভোটে পাস হওয়া সনদ হুবহু বাস্তবায়নের দাবি জানিয়েছেন। তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা, সংসদের উচ্চকক্ষ গঠন পদ্ধতি এবং কয়েকটি সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠানের নিয়োগ প্রক্রিয়া নিয়ে দুই পক্ষের মধ্যে মতবিরোধ তৈরি হয়েছে। প্রথম আলো: ‘স্পিকার ও ডেপুটি স্পিকার পদে কারা, গোপন রাখল বিএনপি’ ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের নতুন স্পিকার ও ডেপুটি স্পিকার কে হচ্ছেন, তা শেষ মুহূর্ত পর্যন্ত গোপন রেখেছে বিএনপি। স্পিকার পদে আবদুল মঈন খান ও হাফিজউদ্দিন আহমদের নাম নিয়ে জোরালো আলোচনা রয়েছে। দু’জনই বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য এবং সাবেক মন্ত্রী। এর মধ্যে হাফিজউদ্দিন আহমদ নতুন সরকারের মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব পেয়েছেন। এদিকে ডেপুটি স্পিকার পদটি বিরোধী দলকে দেওয়ার প্রস্তাব দিয়েছে বিএনপি। তবে বিরোধী দল তা গ্রহণ করবে কি না, তা এখনো স্পষ্ট নয়। বিরোধী দল এই পদ না নিলে বিকল্প প্রস্তুতিও রাখা হয়েছে বলে জানা গেছে। নয়া দিগন্ত: ‘মন্ত্রী–এমপিদের চলনে-বলনে মার্জিত থাকার নির্দেশনা’ চলনে-বলনে মার্জিত থাকা এবং দায়িত্বের বাইরে মন্তব্য না করার নির্দেশ দিয়েছেন বিএনপি চেয়ারম্যান ও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। জাতীয় সংসদ ভবনে অনুষ্ঠিত বিএনপির সংসদীয় দলের বৈঠকে তিনি বলেন, যার যে দায়িত্ব, তার বাইরে যেন কেউ মন্তব্য না করেন। এতে দলের ভাবমূর্তি ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে। প্রধানমন্ত্রী আরও বলেন, মন্ত্রিসভার তরুণ সদস্যদের নিয়মিত সকাল ৯টার মধ্যে অফিসে যেতে হবে এবং ট্রাফিক আইন মেনে চলতে হবে। পাশাপাশি দৈনন্দিন জীবনযাপনে কৃচ্ছ্রসাধনের আহ্বান জানান তিনি। দ্য ডেইলি স্টার: ‘রাশিয়ার তেল কিনতে যুক্তরাষ্ট্রের অনুমতি চাইল ঢাকা’ মধ্যপ্রাচ্যে ইরান, ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্রের চলমান সংঘাতের কারণে বিশ্ববাজারে অপরিশোধিত তেলের দাম বাড়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। এই পরিস্থিতিতে বাংলাদেশ রাশিয়ার তেল কেনার জন্য যুক্তরাষ্ট্রের কাছে সাময়িক ছাড় চেয়েছে। অর্থ ও পরিকল্পনা মন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী ঢাকায় নিযুক্ত মার্কিন রাষ্ট্রদূতের সঙ্গে বৈঠকে এ অনুরোধ জানান। তিনি বলেন, ভারত যেহেতু রাশিয়ার তেল কেনার জন্য অস্থায়ী ছাড় পেয়েছে, বাংলাদেশও সেই সুযোগ প্রত্যাশা করে। বণিক বার্তা: ‘ফেব্রুয়ারির বেতন হয়নি ৫৩% কারখানায়, ঈদ বোনাস দেয়নি ৮৪%’ আসন্ন ঈদুল ফিতরের আগে দেশের শিল্প-কারখানার বড় অংশে এখনো ফেব্রুয়ারির বেতন পরিশোধ হয়নি। শিল্পাঞ্চলের ১০ হাজার ১০০টি কারখানার মধ্যে মাত্র ৪৭ দশমিক ৪০ শতাংশ কারখানায় বেতন দেওয়া হয়েছে। অন্যদিকে ৫২ দশমিক ৬০ শতাংশ কারখানায় এখনো বেতন বকেয়া রয়েছে। একই সঙ্গে ঈদ বোনাস দেওয়া হয়েছে মাত্র ১৬ শতাংশ কারখানায়, বাকি ৮৪ শতাংশ কারখানায় বোনাস এখনো পরিশোধ হয়নি। আজকের পত্রিকা: ‘ডেমু বদলে হচ্ছে কমিউটার, নতুন দুই আন্তনগর ট্রেন’ রেলপথ মন্ত্রণালয় পুরোনো ডেমু ট্রেনকে কমিউটার ট্রেনে রূপান্তর এবং নতুন আন্তনগর ট্রেন চালুর পরিকল্পনা করছে। ঢাকা–পাবনা ও ঢাকা–খুলনা রুটে নতুন আন্তনগর ট্রেন চালু, পুরোনো কারখানার আধুনিকায়ন এবং নতুন কারখানা স্থাপনের পরিকল্পনাও রয়েছে। এছাড়া ঢাকা–চট্টগ্রাম রুটে যাত্রা সময় চার ঘণ্টায় নামিয়ে আনার পরিকল্পনাও বিবেচনায় রয়েছে। নিউ এইজ: ‘ডিজেল সংকটে বোরোর সেচ ব্যাহত’ ডিজেল সংকটের কারণে কয়েকটি জেলায় বোরো ধানের জমিতে সেচ ব্যবস্থাপনায় সমস্যা দেখা দিয়েছে বলে জানিয়েছে কৃষকরা। যদিও কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, জাতীয় পর্যায়ে সেচ কার্যক্রম দীর্ঘ সময়ের জন্য ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কা নেই। দেশ রূপান্তর: ‘হরমুজ ঘিরে উত্তেজনা’ তেল পরিবহনের গুরুত্বপূর্ণ রুট হরমুজ প্রণালি ঘিরে যুক্তরাষ্ট্র, ইসরায়েল ও ইরানের মধ্যে উত্তেজনা বেড়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের দাবি, মাইন স্থাপনে ব্যবহৃত ইরানের ১৬টি নৌযান ধ্বংস করা হয়েছে। অন্যদিকে ইরানের বিরুদ্ধে কঠোর হুঁশিয়ারি দিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। বিশ্লেষকদের মতে, হরমুজ প্রণালিতে উত্তেজনা বাড়লে বৈশ্বিক জ্বালানি বাজারে বড় ধরনের প্রভাব পড়তে পারে।
রাজধানীর একটি পরীক্ষাকেন্দ্রে নকল করার চেষ্টা ধরা পড়ায় শিক্ষককে মারধর ও হেনস্তার অভিযোগে রাসেল মিয়া (৩৪) নামে একজন শিক্ষার্থীকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। বুধবার (১১ মার্চ) বিকেল সাড়ে ৫টায় আগারগাঁওয়ের নৌপরিবহন অধিদপ্তরের সামনের রাস্তা থেকে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়। পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের অধীনে আইডিয়াল এলএলবি কলেজের ফাইনাল পরীক্ষা চলাকালে তেজগাঁও কলেজের পদার্থবিজ্ঞান বিভাগের শিক্ষক সোহেল রানাকে নকল রুখার চেষ্টায় শিক্ষার্থী রাসেল মিয়া ও অন্য এক শিক্ষার্থী শরিফুল ইসলাম হেনস্তা ও শারীরিকভাবে লাঞ্ছিত করেন। তেজগাঁও বিভাগের অতিরিক্ত উপ-পুলিশ কমিশনার (এডিসি) জুয়েল রানা জানান, ঘটনার পর অভিযুক্তদের বহিষ্কার করা হয়েছে। পুলিশ ইতিমধ্যে রাসেল মিয়াকে আইনের আওতায় এনেছে এবং মামলার অপর আসামি গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে। ভুক্তভোগী শিক্ষক সোহেল রানা বলেন, পরীক্ষা শেষে উত্তরপত্র জমা দিয়ে বের হওয়ার সময়ই দুই শিক্ষার্থী হঠাৎ আমার ওপর হামলা চালায়। সহকর্মী ও কেন্দ্রের কর্মচারীরা আমাকে উদ্ধার করেন। পুলিশ এবং শিক্ষামন্ত্রীর দ্রুত পদক্ষেপের কারণে মামলা দ্রুত গ্রহণ করা হয়েছে।
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের প্রথম অধিবেশনকে কেন্দ্র করে আগামীকাল বৃহস্পতিবার রাজধানী ঢাকার শেরেবাংলা নগর ও সংসদ ভবন সংলগ্ন এলাকায় বিশেষ ট্রাফিক ব্যবস্থা গ্রহণ করেছে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ (ডিএমপি)। ভিআইপি মুভমেন্ট এবং জননিরাপত্তা নিশ্চিত করতে নির্দিষ্ট কিছু সড়কে ডাইভারশন দেওয়া হবে। আজ বুধবার দুপুরে ডিএমপির মিডিয়া অ্যান্ড পাবলিক রিলেশনস বিভাগের উপ-পুলিশ কমিশনার মুহাম্মদ তালেবুর রহমান এক বিজ্ঞপ্তিতে এই তথ্য নিশ্চিত করেছেন। কখন এবং কোথায় এই নির্দেশনা? আগামীকাল বৃহস্পতিবার (১২ মার্চ) সকাল ৮টা থেকে বেলা ১১টা পর্যন্ত এই বিশেষ ট্রাফিক ব্যবস্থা কার্যকর থাকবে। মূলত উড়োজাহাজ মোড়, খেজুর বাগান, মানিক মিয়া এভিনিউ, আসাদগেট এবং জুলাই স্মৃতি জাদুঘর এলাকাগুলোতে যানবাহনের অতিরিক্ত চাপ থাকবে। গুরুত্বপূর্ণ ডাইভারশন ও বিকল্প পথসমূহ: ইন্দিরা রোড থেকে বেগম রোকেয়া সরণি: ইন্দিরা রোড দিয়ে এসে উড়োজাহাজ মোড় হয়ে বেগম রোকেয়া সরণির দিকে ডানে মোড় নেওয়া যাবে না। বিকল্প হিসেবে মানিক মিয়া এভিনিউ হয়ে মিরপুর রোড ব্যবহার করতে হবে। মানিক মিয়া এভিনিউ থেকে রোকেয়া সরণি: খেজুর বাগান ক্রসিং দিয়ে বামে মোড় নেওয়া যাবে না। এক্ষেত্রে ফার্মগেট হয়ে গন্তব্যে যাওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। একমুখী চলাচল: উড়োজাহাজ মোড় থেকে খেজুর বাগান পর্যন্ত সড়কের উভয় পাশে দক্ষিণমুখী একমুখী (One-way) যান চলাচল বলবৎ থাকবে। সংসদ অধিবেশনে রাষ্ট্রপতি, প্রধানমন্ত্রীসহ দেশি-বিদেশি বিশিষ্ট ব্যক্তিবর্গের যাতায়াত নির্বিঘ্ন করতে নগরবাসীকে এই ট্রাফিক নির্দেশনা মেনে চলার অনুরোধ জানিয়েছে ডিএমপি।
রাজধানীর মিরপুর-২ নম্বরের ১১ তলাবিশিষ্ট ‘এলএ প্লাজা’য় গতকাল সোমবার দুপুরে এক ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় বাংলাদেশ বিমানবাহিনীর দুই সদস্যের মর্মান্তিক মৃত্যু হয়েছে। নিহতরা হলেন আয়েশা সিদ্দিকা অনন্যা এবং শেখ রাকিবুজ্জামান। ফায়ার সার্ভিস ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, সোমবার দুপুর ১টা ৫২ মিনিটে ভবনের তৃতীয় তলা থেকে আগুনের সূত্রপাত হয়। মুহূর্তেই আগুনের লেলিহান শিখা ও কালো ধোঁয়া পুরো ভবনে ছড়িয়ে পড়লে আতঙ্কিত ব্যবসায়ী ও ক্রেতারা দিগ্বিদিক ছুটতে শুরু করেন। জীবন বাঁচাতে অনেকেই ভবনের ছাদে আশ্রয় নেন। খবর পেয়ে ফায়ার সার্ভিসের ৬টি ইউনিট দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে উদ্ধার অভিযান শুরু করে। প্রায় দেড় ঘণ্টার চেষ্টায় বিকেল ৩টা ২২ মিনিটে আগুন নিয়ন্ত্রণে আসে এবং বিকেল ৪টা ৩৫ মিনিটে তা সম্পূর্ণ নির্বাপণ করা হয়। উদ্ধার অভিযানে অত্যাধুনিক টার্ন টেবিল ল্যাডার (টিটিএল) ব্যবহার করে ছাদ ও বিভিন্ন তলা থেকে ২৪ জনকে (১৪ জন পুরুষ ও ১০ জন নারী) নিরাপদে সরিয়ে আনা সম্ভব হয়। অভিযান চলাকালীন ভবনের চার ও পাঁচতলার মাঝামাঝি সিঁড়ি থেকে আয়েশা ও রাকিবুজ্জামানকে অচেতন অবস্থায় উদ্ধার করে সোহরাওয়ার্দী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়। সেখানে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাদের মৃত ঘোষণা করেন। মিরপুর মডেল থানা পুলিশ জানিয়েছে, নিহতরা কেনাকাটার উদ্দেশ্যে ওই মার্কেটে গিয়েছিলেন বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে। নিহত আয়েশা সিদ্দিকা অনন্যার বাড়ি নীলফামারীর সৈয়দপুরে। তার বাবা পেশায় একজন অটোরিকশা চালক। অন্যদিকে শেখ রাকিবুজ্জামানের বাড়ি মুন্সিগঞ্জের সিরাজদিখান এলাকায়। বর্তমানে তাদের মরদেহ সোহরাওয়ার্দী হাসপাতালের মর্গে রাখা হয়েছে। আজ মঙ্গলবার প্রয়োজনীয় আইনি প্রক্রিয়া শেষে মরদেহ বিমানবাহিনীর কাছে হস্তান্তর করা হবে এবং পরবর্তীতে তা স্বজনদের কাছে ফিরিয়ে দেওয়া হবে। এই মর্মান্তিক ঘটনায় বিমানবাহিনী ও নিহতদের পরিবারে গভীর শোকের ছায়া নেমে এসেছে। অগ্নিকাণ্ডের সঠিক কারণ অনুসন্ধানে তদন্ত চলছে।
ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) তেজগাঁও বিভাগ পরিচালিত বিশেষ অভিযানে ৪৭টি মানুষের মাথার খুলি এবং বিপুল পরিমাণ হাড়সহ কঙ্কাল উদ্ধার করা হয়েছে। এ ঘটনায় চোর চক্রের চারজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। ডিএমপির মিডিয়া অ্যান্ড পাবলিক রিলেশনস বিভাগের উপপুলিশ কমিশনার মুহাম্মদ তালেবুর রহমান সোমবার (৯ মার্চ) রাতের ঘটনাটি নিশ্চিত করেছেন। পুলিশ জানিয়েছে, গ্রেপ্তারকৃতরা দীর্ঘদিন ধরে মানবদেহের হাড় ও কঙ্কাল চুরির সঙ্গে জড়িত। উদ্ধারকৃত খুলি ও হাড়ের উৎস, পাশাপাশি চক্রের সঙ্গে অন্য কারা জড়িত তা শনাক্ত করার জন্য তদন্ত শুরু হয়েছে। বিস্তারিত তথ্য জানাতে বুধবার (১০ মার্চ) ডিএমপি মিডিয়া সেন্টারে এক সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করা হয়েছে।
রাজধানীর মোহাম্মদপুরে ছিনতাইকারীর কবলে পড়েছেন দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) অনুসন্ধান ও তদন্ত শাখা-২-এর মহাপরিচালক মো. মোতাহার হোসেন। শনিবার (৭ মার্চ) রাত ১১টার দিকে মোহাম্মদপুর রেসিডেন্সিয়াল মডেল কলেজের পাশের ফুটপাতে এই ঘটনা ঘটে। এ সময় ছিনতাইকারীরা তাকে মারধর করে আহত করে। ভুক্তভোগী ও পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, রাত ১১টার দিকে মো. মোতাহার হোসেন শহীদ ফারহান ফাইয়াজ চত্বর (নানক চত্বর) এলাকায় ফুটপাতে হাঁটছিলেন। এ সময় কয়েকজন ছিনতাইকারী দেশীয় ধারালো অস্ত্র নিয়ে তাকে ঘিরে ফেলে। পরে তাকে মারধর করে তার কাছে থাকা একটি আইফোন ৬ প্লাস, একটি আইফোন ১২ প্রো ম্যাক্স মডেলের মোবাইল ফোন, নগদ ১৫ হাজার টাকা এবং হাতে থাকা দামি ঘড়ি নিয়ে পালিয়ে যায়। এ ঘটনায় ভুক্তভোগী মহাপরিচালকের পক্ষ থেকে একজন সরকারি কর্মকর্তা বাদী হয়ে মোহাম্মদপুর থানায় মামলা দায়ের করেছেন। তেজগাঁও বিভাগের উপ-পুলিশ কমিশনার (ডিসি) ইবনে মিজান ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, মোহাম্মদপুরে দুদকের মহাপরিচালক ছিনতাইয়ের শিকার হয়েছেন এবং জড়িতদের দ্রুত গ্রেপ্তারে পুলিশ কাজ করছে।
রাজধানীর তেজগাঁও এলাকায় মাদকসেবনকে কেন্দ্র করে সংঘর্ষের জেরে কাঁচের টুকরার আঘাতে ১৬ বছর বয়সী এক পথশিশুর মৃত্যু হয়েছে। স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, তেজগাঁও এলাকার একটি স্থানে মাদকসেবন নিয়ে দুই পথশিশুর মধ্যে ঝগড়া শুরু হয়। একপর্যায়ে একজন কাঁচের টুকরো দিয়ে অন্য শিশুটির ঘাড়ের বাম পাশে আঘাত করলে সে গুরুতর আহত হয়। পরে স্থানীয় লোকজন আহত শিশুটিকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন। ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল পুলিশ ক্যাম্পের কর্মকর্তারা জানান, মরদেহ হাসপাতালের মর্গে রাখা হয়েছে এবং তেজগাঁও থানা পুলিশ ঘটনাটি সম্পর্কে অবগত রয়েছে। এ ঘটনায় অভিযুক্ত একজনকে পুলিশ হেফাজতে নেওয়া হয়েছে। পুলিশ জানিয়েছে, ঘটনার প্রকৃত কারণ উদ্ঘাটনে তদন্ত চলছে এবং আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
বাংলাদেশ ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যকার কৌশলগত ও কূটনৈতিক সম্পর্ককে আরও সুদৃঢ় করতে দুই দিনের রাষ্ট্রীয় সফরে ঢাকা পৌঁছেছেন মার্কিন সহকারী পররাষ্ট্রমন্ত্রী পল কাপুর। মঙ্গলবার রাতে বিমানবন্দরে পৌঁছালে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা তাকে উষ্ণ অভ্যর্থনা জানান। তারেক রহমানের নেতৃত্বে বাংলাদেশে নতুন সরকার গঠনের পর এটিই ওয়াশিংটনের পক্ষ থেকে প্রথম কোনো উচ্চপর্যায়ের সফর। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, এই সফর বর্তমান সরকারের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের ভবিষ্যৎ কর্মপরিকল্পনা এবং অংশীদারিত্বের ক্ষেত্রে অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ। ঢাকাস্থ যুক্তরাষ্ট্র দূতাবাস এক বার্তায় জানিয়েছে, সফরকালে পল কাপুর বাংলাদেশ সরকারের শীর্ষস্থানীয় প্রতিনিধিদের সঙ্গে দ্বিপাক্ষিক স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিষয়ে আলোচনা করবেন। এছাড়া তিনি দেশের শীর্ষ ব্যবসায়ী নেতাদের সঙ্গেও মতবিনিময় করবেন, যেখানে বাণিজ্য ও বিনিয়োগের নতুন সম্ভাবনাগুলো গুরুত্ব পাবে।
মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধাবস্থার কারণে সৌদি আরবের জেদ্দা বিমানবন্দরে আটকে পড়েছিলেন জাতীয় ক্রিকেটার মুশফিকুর রহিম। সব শঙ্কার অবসান ঘটিয়ে সোমবার সকালে তিনি ঢাকার হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে নিরাপদে অবতরণ করেন। পরে দুপুরে তার স্ত্রী জান্নাতুল কিফায়েত সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে মুশফিকের নিরাপদে বাসায় পৌঁছানোর বিষয়টি নিশ্চিত করেন। পবিত্র ওমরাহ পালন শেষে গত শনিবার দুবাই হয়ে দেশে ফেরার কথা ছিল মুশফিকের। কিন্তু মাঝ আকাশে তাদের বহনকারী এমিরেটসের ফ্লাইট যুদ্ধ পরিস্থিতির কারণে আবার জেদ্দায় ফিরে যেতে বাধ্য হয়। বিমানবন্দরে হাজারো যাত্রীর সঙ্গে আটকে পড়েন মুশফিক। বিষয়টি জানার পর যুব ও ক্রীড়ামন্ত্রী আমিনুল হক ব্যক্তিগত তদারকি ও হস্তক্ষেপের মাধ্যমে রোববার গভীর রাতে তাকে দেশের উদ্দেশে রওনা করান। মুশফিক নিরাপদে বাসায় ফেরার পর এক ফেসবুক স্ট্যাটাসে স্বস্তি প্রকাশ করেন তার স্ত্রী জান্নাতুল কিফায়েত। তিনি লিখেছেন, “আলহামদুলিল্লাহ, মুশফিক নিরাপদে বাসায় পৌঁছেছে। আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তায়ালা তার জন্য সবকিছু সহজ করে দিয়েছেন। যাঁরা দুশ্চিন্তা করেছেন এবং মানসিকভাবে পাশে ছিলেন, সবাইকে ধন্যবাদ।” পাশাপাশি বিশ্বের চলমান অস্থিরতা যেন দ্রুত শান্ত হয়, সেই প্রার্থণাও করেন তিনি।
রাজধানী ঢাকাকে জলাবদ্ধতামুক্ত ও আধুনিক মেগাসিটি হিসেবে গড়ে তুলতে ২০২৮ সালের মধ্যে শহরের বুক চিরে বয়ে যাওয়া সবকটি খাল উদ্ধারের ঘোষণা দিয়েছেন সড়ক পরিবহন ও সেতু, রেলপথ এবং নৌ পরিবহন মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী হাবিবুর রশিদ। শুক্রবার বিকেলে রাজধানীর সবুজবাগ এলাকায় জিরানি ও মান্ডা খাল পরিদর্শন শেষে তিনি জানান, দখলদারদের রাজনৈতিক পরিচয় যাই হোক না কেন, কোনো ছাড় দেওয়া হবে না। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের বিশেষ নির্দেশনায় এই মেগা পরিকল্পনা বাস্তবায়িত হতে যাচ্ছে। উদ্ধার অভিযানে বিশেষ যা থাকছে: আদি রূপে প্রত্যাবর্তন: জিরানি ও মান্ডা খালসহ ঢাকার সব খালের পানিপ্রবাহ সচল করে সেগুলোকে আদি রূপে ফিরিয়ে আনা হবে। নান্দনিক পরিবেশ: কেবল খনন নয়, খালের দুই পাড়ে তৈরি হবে দৃষ্টিনন্দন ওয়াকওয়ে বা হাঁটার পথ। কঠোর হুঁশিয়ারি: অবৈধ দখলদারদের নিজ উদ্যোগে সরে যাওয়ার আহ্বান জানানো হয়েছে, অন্যথায় উচ্ছেদ অভিযানে কঠোর ব্যবস্থা নেবে সরকার। পরিবহন খাতে শৃঙ্খলা: সড়ক ও নৌপথে কোনো ধরনের চাঁদাবাজি বরদাশত করা হবে না। আসন্ন ঈদুল ফিতরে মানুষের নিরাপদ যাত্রা নিশ্চিত করতে নেওয়া হয়েছে বিশেষ প্রস্তুতি। প্রতিমন্ত্রী হাবিবুর রশিদ স্পষ্ট জানান, ১৮ কোটি মানুষের বাংলাদেশ গড়তে এবং জনসম্পত্তি রক্ষায় সরকার বদ্ধপরিকর। ঈদের পরেই এই প্রকল্পের দৃশ্যমান অগ্রগতি সাধারণ মানুষের চোখে পড়বে।
রাজধানীর সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে মাদকবিরোধী অভিযান ঘিরে পুলিশের আচরণ নিয়ে নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া দুটি ভিডিওতে দেখা যায়, এক তরুণ পুলিশ কর্মকর্তার সামনে দাঁড়িয়ে কাঁদছেন এবং নিজেকে নির্দোষ দাবি করছেন। একপর্যায়ে তিনি কর্মকর্তার পায়ে ধরার চেষ্টা করেন। আরেক ঘটনায় ‘ঘটনা কী’ জানতে চাইলে এক তরুণকে লাঠিপেটা করা হয়, এতে তিনি মাটিতে লুটিয়ে পড়েন। ঘটনাগুলো ২৩ ফেব্রুয়ারি সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে পরিচালিত অভিযানের সময়ের। অভিযানে নেতৃত্ব দেন রমনা বিভাগের উপকমিশনার (ডিসি) মো. মাসুদ আলম। ভিডিও প্রকাশের পর প্রশ্ন উঠেছে—সুনির্দিষ্ট অভিযোগ বা প্রমাণ ছাড়া অভিযানের নামে কাউকে আটক, হয়রানি বা মারধর করার ক্ষমতা পুলিশের আছে কি না। সুপ্রিম কোর্টের জ্যেষ্ঠ আইনজীবী সারা হোসেন বলেন, পুলিশ কাউকে মারধর করতে পারে না। লাঠি দিয়ে আঘাত করা অপরাধ। যার বিরুদ্ধে অপরাধ প্রমাণিত নয়, তাকে আটক করারও সুযোগ নেই। আত্মরক্ষার প্রয়োজন না থাকলে বলপ্রয়োগের প্রশ্নই আসে না। অভিযোগের বিষয়ে ডিসি মো. মাসুদ আলম বলেন, পুলিশ মারতে চায় না। তবে আইন ভাঙলে কঠোরতা না দেখালে অপরাধীরা ভয় পায় না। তাঁর দাবি, সোহরাওয়ার্দী উদ্যান এলাকায় মাদক বিক্রেতাদের বিরুদ্ধে অভিযান চালাতে গেলে নানা প্রতিকূল পরিস্থিতির মুখে পড়তে হয়। এদিকে ২৩ ফেব্রুয়ারির ঘটনায় মারধরের শিকার এক তরুণ ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী বলে জানা গেছে। ঘটনার প্রতিবাদে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা রাজু ভাস্কর্যের সামনে মানববন্ধন ও শাহবাগ থানার সামনে অবস্থান কর্মসূচি পালন করেন। তাঁরা সংশ্লিষ্ট পুলিশ সদস্যদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানান। সম্প্রতি চাঁদপুরেও মাদকবিরোধী অভিযানে ২১ জনকে আটক করা হয়, যাঁদের মধ্যে অন্তত ১২ জন কিশোর। এসব অভিযানে কিশোর-তরুণদের আটক ও হেনস্তার অভিযোগ উঠেছে। আইনি কাঠামো কী বলছে বাংলাদেশের সংবিধানের ৩৫(৫) অনুচ্ছেদে বলা হয়েছে, কাউকে নির্যাতন বা নিষ্ঠুর, অমানবিক কিংবা লাঞ্ছনাকর আচরণের শিকার করা যাবে না। ফৌজদারি কার্যবিধির ৫৪ ধারায় পরোয়ানা ছাড়া গ্রেপ্তারের সুযোগ থাকলেও সেখানে ‘যুক্তিসংগত কারণ’ থাকার শর্ত রয়েছে। একই আইনের ৪৬ থেকে ৫৩ ধারায় গ্রেপ্তারের প্রক্রিয়া ও বলপ্রয়োগের সীমা নির্ধারণ করা হয়েছে, যেখানে অপ্রয়োজনীয় বলপ্রয়োগ নিষিদ্ধ এবং আটক ব্যক্তির অধিকার সুরক্ষার কথা বলা হয়েছে। মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইন, ২০১৮ অনুযায়ী, ক্ষমতাপ্রাপ্ত কর্মকর্তা যুক্তিসংগত কারণ লিপিবদ্ধ করে তল্লাশি বা আটক করতে পারেন। তবে আইন বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিধান যেকোনো সময়, যেকোনো ব্যক্তিকে আটক বা মারধরের অনুমতি দেয় না। এ ছাড়া ‘নির্যাতন এবং হেফাজতে মৃত্যু (নিবারণ) আইন, ২০১৩’–এ নির্যাতনের অভিযোগে প্রতিকার চাওয়ার সুযোগ রাখা হয়েছে। কেউ মনে করলে যে পুলিশের মাধ্যমে নিরপেক্ষ তদন্ত সম্ভব নয়, তিনি আদালতে আবেদন করতে পারেন। আইনবিদ ও অধিকারকর্মীদের মতে, মাদকবিরোধী অভিযান পরিচালনা পুলিশের দায়িত্ব হলেও তা অবশ্যই আইনের সীমার মধ্যেই হতে হবে। অভিযানের নামে অতিরিক্ত বলপ্রয়োগ বা হয়রানির অভিযোগ জনমনে উদ্বেগ তৈরি করছে।
চলতি ফেব্রুয়ারি মাসে দেশের ভূ-প্রকৃতিতে এক অস্বাভাবিক অস্থিরতা পরিলক্ষিত হচ্ছে। মাত্র ২৬ দিনের ব্যবধানে নয়বার ভূমিকম্প অনুভূত হওয়ায় জনমনে এখন তীব্র আতঙ্ক ও উদ্বেগের সৃষ্টি হয়েছে। সর্বশেষ গত বৃহস্পতিবার দুপুর ১২টা ৪ মিনিট ৫ সেকেন্ডে ভূমিকম্প অনুভূত হয়েছে। ঘন ঘন এই ভূ-কম্পনকে আসন্ন কোনো বড় দুর্যোগের ‘সতর্কবার্তা’ হিসেবে দেখছেন বিশেষজ্ঞরা। ফেব্রুয়ারির কম্পনচিত্র: এক নজরে চলতি মাসের শুরু থেকেই দেশের মাটির নিচে অস্থিরতা শুরু হয়: ১ ফেব্রুয়ারি: সিলেটে ৩ মাত্রার মৃদু কম্পন। ৩ ফেব্রুয়ারি: একদিনেই তিনবার কম্পন (সাতক্ষীরার কলারোয়ায় ৪.১ মাত্রা এবং মিয়ানমারে ৫.৯ ও ৫.২ মাত্রা)। ৯ ও ১০ ফেব্রুয়ারি: সিলেটে আরও দুবার ভূ-কম্পন। ১৯ ফেব্রুয়ারি: সুনামগঞ্জের ছাতকে ৪.১ মাত্রার ভূমিকম্প। ২৫ ফেব্রুয়ারি: সর্বশেষ মিয়ানমারে ৫.১ মাত্রার ভূমিকম্প। ২৬ ফেব্রুয়ারি: রিখটার স্কেলে ভূমিকম্পটির মাত্রা ছিল ৪ দশমিক ৮। এর উৎপত্তিস্থল ভারতের সিকিম অঞ্চলে। বিশেষজ্ঞদের উদ্বেগ ও ভূ-তাত্ত্বিক ঝুঁকি ভূতত্ত্ববিদ অধ্যাপক সৈয়দ হুমায়ুন আখতার এ বিষয়ে সংবাদ মাধ্যমকে জানান, বাংলাদেশ মূলত ভারতীয় ও ইউরেশীয় টেকটোনিক প্লেটের সংযোগস্থলে অবস্থিত, যা ভৌগোলিকভাবে অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ। তিনি সতর্ক করে বলেন, "ছোট ও মাঝারি মাত্রার এই ঘন ঘন কম্পন বড় কোনো ভূমিকম্পের পূর্বলক্ষণ হতে পারে। ভূত্বকের নিচে দীর্ঘদিন ধরে শক্তি জমা হয়ে থাকলে তা বড় বিপর্যয়ের ঝুঁকি তৈরি করে।" উল্লেখ্য, গত নভেম্বরে ৫.৭ মাত্রার এক ভূমিকম্পে দেশে ১০ জনের মৃত্যু এবং শতাধিক আহতের ঘটনা ঘটেছিল। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, দেশের প্রস্তুতি এখনো উদ্ধার তৎপরতার মধ্যেই সীমাবদ্ধ। অবকাঠামোগত ঝুঁকি কমাতে বিল্ডিং কোড কঠোরভাবে অনুসরণ এবং ঝুঁকিপূর্ণ ভবনের তালিকা তৈরি করা এখন সময়ের দাবি। বড় দুর্যোগ মোকাবিলায় নাগরিক সচেতনতা ও ভূমিকম্প-সহনশীল স্থাপনা নির্মাণের কোনো বিকল্প নেই।
রাজধানী ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন এলাকায় বৃহস্পতিবার দুপুরে ভূমিকম্প অনুভূত হয়েছে। দুপুর ১২টা ৪ মিনিট ৫ সেকেন্ডে কম্পনটি অনুভূত হয়। ইউরোপীয়-ভূমধ্যসাগরীয় ভূমিকম্প কেন্দ্রের (ইএমএসসি) তথ্য অনুযায়ী, রিখটার স্কেলে ভূমিকম্পটির মাত্রা ছিল ৪ দশমিক ৮। এর উৎপত্তিস্থল ভারতের সিকিম অঞ্চলে। ইএমএসসি জানিয়েছে, ভূমিকম্পটির অবস্থান ছিল ২৭ দশমিক ২১১ ডিগ্রি উত্তর অক্ষাংশ এবং ৮৮ দশমিক ২১৫ ডিগ্রি পূর্ব দ্রাঘিমাংশে। ভূপৃষ্ঠ থেকে এর গভীরতা ছিল ১০ কিলোমিটার। কম্পন অনুভূত হওয়ার পর রাজধানীসহ বিভিন্ন এলাকায় মানুষ আতঙ্কে ঘরবাড়ি থেকে বাইরে বেরিয়ে আসেন। তবে তাৎক্ষণিকভাবে কোনো হতাহতের বা বড় ধরনের ক্ষয়ক্ষতির তথ্য পাওয়া যায়নি।
রাজধানীর ঢাকার হাজারীবাগ এলাকায় দুর্বৃত্তদের ছুরিকাঘাতে মোসা. শাহরিয়ার শারমিন বিন্থী (১৪) নামে এক স্কুলছাত্রী নিহত হয়েছে। বুধবার (২৫ ফেব্রুয়ারি) রাত সোয়া ৮টার দিকে হাজারীবাগের হায়দার হোটেলের গলিতে এ ঘটনা ঘটে। গুরুতর আহত অবস্থায় তাকে উদ্ধার করে প্রথমে স্থানীয় সিকদার মেডিক্যাল হাসপাতালে নেওয়া হয়। পরে রাত সাড়ে ১০টার দিকে ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতাল-এর জরুরি বিভাগে নেওয়া হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক পরীক্ষা-নিরীক্ষা শেষে তাকে মৃত ঘোষণা করেন। ঢামেক হাসপাতাল পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ পরিদর্শক মো. ফারুক জানান, মরদেহ হাসপাতালের মর্গে রাখা হয়েছে। নিহতের বাবা বেল্লাল হোসেন বলেন, তার মেয়ে ছোট ভাইকে নিয়ে বাসা থেকে বের হয়েছিল। ছোট ভাইকে মসজিদে রেখে সে কিছু কেনাকাটা করতে গেলে অজ্ঞাত ব্যক্তিরা তাকে ছুরিকাঘাত করে পালিয়ে যায়। পরে খবর পেয়ে তাকে উদ্ধার করে হাসপাতালে নেওয়া হয়। শাহরিয়ার শারমিন বিন্থী হাজারীবাগের রায়েরবাজার হাই স্কুলের অষ্টম শ্রেণির শিক্ষার্থী ছিলেন। তাদের গ্রামের বাড়ি শরীয়তপুর জেলার সখিপুর উপজেলার কাছিকাটা গ্রামে। বর্তমানে পরিবারটি হাজারীবাগ এলাকায় ভাড়া বাসায় বসবাস করছে।
দেড় বছরের বিরতির পর পুনরায় চালু হয়েছে আগরতলা-ঢাকা-কলকাতা সরাসরি আন্তর্জাতিক বাস পরিষেবা। মঙ্গলবার (২৪ ফেব্রুয়ারি) দুপুরে ঢাকার কমলাপুর বাস ডিপো থেকে রয়েল মৈত্রীর একটি বাস পরীক্ষামূলকভাবে আখাউড়া আন্তর্জাতিক ইমিগ্রেশন চেকপোস্ট দিয়ে ভারতের ত্রিপুরা রাজ্যের আগরতলায় প্রবেশের মাধ্যমে এই সেবার সূচনা হয়। বাস সার্ভিসের জেনারেল ম্যানেজার (জিএম) ওয়ারিছ আলম জানান, আপাতত সপ্তাহে দুই দিন পরীক্ষামূলকভাবে বাস চলাচল করবে। পরিস্থিতি স্থিতিশীল ও যাত্রী চাহিদা পর্যালোচনার পর দ্রুতই এটি সপ্তাহে তিন দিন নিয়মিত করার পরিকল্পনা রয়েছে। ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট রাজনৈতিক পরিস্থিতি ও ভিসা জটিলতার কারণে এই রুটে বাস চলাচল বন্ধ হয়ে যায়। ১৮ মাসের বিরতির পর দুই দেশের সহযোগিতা ও সৌহার্দ্যের ভিত্তিতে পুনরায় এই সংযোগ চালু হয়েছে। আগরতলা থেকে কলকাতার যাত্রা রেলপথে প্রায় ১,৫০০ কিলোমিটার, তবে ঢাকার মাধ্যমে বাসে মাত্র ৫০০ কিলোমিটার পথ পাড়ি দিতে হয়, ফলে সময় ও খরচ উভয়ই কমে যায়। ত্রিপুরার মুখ্যমন্ত্রী মানিক সাহা এবং রাজ্যের পরিবহনমন্ত্রী সুশান্ত চৌধুরী এই বাস সার্ভিস চালুর উদ্যোগকে স্বাগত জানিয়েছেন। তারা উল্লেখ করেছেন, এই সেবা দুই দেশের মানুষের মধ্যে যোগাযোগ বৃদ্ধি করবে এবং পর্যটন ও ব্যবসায়িক ক্ষেত্রে ইতিবাচক প্রভাব ফেলবে। বাস চালু হওয়ার খবর পেয়ে যাত্রী ও পর্যটকদের মধ্যে উৎসাহও দেখা দিয়েছে।
ছেলে অপহরণ হওয়ার খবর শুনে কান্নায় ভেঙে পড়ে সচিবালয়ের কর্মচারী এক বাবা প্রধানমন্ত্রীর দপ্তরে ঢুকে পড়েন। সেখানে সরাসরি প্রধানমন্ত্রীর মুখোমুখি হয়ে ঘটনার কথা জানালে তাৎক্ষণিকভাবে পুলিশকে ফোন করে দ্রুত উদ্ধারের নির্দেশ দেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। নির্দেশের এক ঘণ্টার মধ্যেই রাজধানীর খিলগাঁওয়ের একটি নির্মাণাধীন ভবন থেকে অপহৃত স্কুলছাত্রকে উদ্ধার করে পুলিশ। পুলিশের রমনা বিভাগের ডিসি মাসুদ আলম জানান, অপহৃত ছেলেটি খিলগাঁওয়ের ন্যাশনাল ল্যাবরেটরি আইডিয়াল স্কুলের নবম শ্রেণির শিক্ষার্থী। সোমবার দুপুর আড়াইটার দিকে স্কুল থেকে বের হওয়ার পর ৪-৫ জন তাকে আটকে জোড়পুকুর এলাকার একটি সাততলা নির্মাণাধীন ভবনে নিয়ে যায়। সেখানে মারধরের পর তার বাবার ফোন নম্বর নিয়ে ৫০ হাজার টাকা চাঁদা দাবি করা হয়। টাকা না দিলে শিশুটিকে হত্যা করার হুমকিও দেওয়া হয়। অপহৃত শিশুর বাবা সচিবালয়ে কর্মরত। ছেলের অপহরণের খবর পেয়ে তিনি কাঁদতে কাঁদতে প্রধানমন্ত্রীর দপ্তরে ঢুকে পড়েন। বিষয়টি জানার সঙ্গে সঙ্গেই প্রধানমন্ত্রী পুলিশ কর্মকর্তাদের ফোন করে দ্রুত উদ্ধারের নির্দেশ দেন। ডিসি মাসুদ আলম বলেন, অপহরণকারীদের ব্যবহৃত নম্বরের মাধ্যমে ‘টাকা পাঠানোর’ আশ্বাস দিয়ে যোগাযোগ শুরু করা হয়। নম্বর সংগ্রহ ও দর কষাকষির একপর্যায়ে তাদের অবস্থান শনাক্ত করে অভিযান চালানো হয়। পুলিশের উপস্থিতি টের পেয়ে অপহরণকারীরা পালিয়ে গেলেও ভবন থেকে শিশুটিকে নিরাপদে উদ্ধার করা সম্ভব হয়। প্রধানমন্ত্রীর প্রেস উইং জানিয়েছে, শিশুটির অপহরণের খবর পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই প্রধানমন্ত্রী দ্রুত ব্যবস্থা নিতে পুলিশকে নির্দেশ দেন, যার ফলেই অল্প সময়ের মধ্যে সফল উদ্ধার অভিযান সম্পন্ন হয়।
হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের আলোচিত তৃতীয় টার্মিনাল নির্মাণকাজ নিয়ে বড় ধরনের আইনি ধাক্কা খেল বাংলাদেশ বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষ (বেবিচক)। বিদেশি ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান ‘অ্যাভিয়েশন ঢাকা কনসোর্টিয়াম’ (এডিসি)-এর সাথে আর্থিক বিরোধের জেরে আন্তর্জাতিক সালিশি বোর্ড বেবিচককে প্রায় ১ হাজার ৬৫০ কোটি টাকা পরিশোধের নির্দেশ দিয়েছে। ঢাকায় ঘোষিত এই রায় উভয় পক্ষের জন্য বাধ্যতামূলক এবং অবিলম্বে কার্যকর করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। মূল ঘটনার বিস্তারিত: আর্থিক পাওনা ও বোর্ডের রায় জাপানের মিৎসুবিশি ও ফুজিটা এবং দক্ষিণ কোরিয়ার স্যামসাং সিঅ্যান্ডটি-র সমন্বয়ে গঠিত কনসোর্টিয়াম ‘এডিসি’-র সাথে বেবিচকের দেনা-পাওনা নিয়ে দীর্ঘদিনের বিরোধ নিষ্পত্তিতে মালয়েশিয়া, যুক্তরাজ্য ও জার্মানির তিন বিচারকের সমন্বয়ে একটি আন্তর্জাতিক সালিশি বোর্ড গঠন করা হয়েছিল। বোর্ড উভয় পক্ষের শুনানি শেষে কয়েকটি খাতে এই বিপুল অর্থ পরিশোধের আদেশ দেয়: কাজের বিল: বিভিন্ন শিরোনামের কাজের বিপরীতে এডিসিকে ৫৮৯ কোটি জাপানি ইয়েন এবং ২৭২ কোটি টাকা দিতে হবে। রিটেনশন মানি: জামানত বা রিটেনশন মানির দ্বিতীয় অংশ হিসেবে ৬০২ কোটি ও ৪০০ কোটি টাকারও বেশি অর্থ পরিশোধের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। বিলম্বে পরিশোধের জরিমানা: পাওনা পরিশোধে দেরি হওয়ায় এবং রিটেনশন মানি ছাড় না করায় অতিরিক্ত ২২ কোটি ইয়েন এবং ২৯ কোটি টাকা ফিন্যান্সিং চার্জ হিসেবে যোগ হয়েছে। পারফরম্যান্স সিকিউরিটি ও আইনি অবস্থান রায়ে উল্লেখ করা হয়েছে যে, কাজের পরিধি বৃদ্ধি বিধিসম্মত হয়নি এবং ২০২৫ সালের ১ জানুয়ারির আগে পারফরম্যান্স সার্টিফিকেট দেওয়ার সময় এখনও আসেনি। ফলে এডিসির পারফরম্যান্স সিকিউরিটি ফেরতের আবেদন আপাতত প্রত্যাখ্যাত হয়েছে। এছাড়া বোর্ড স্পষ্ট জানিয়েছে যে, অ্যাডজুডিকেশন পদ্ধতির ব্যয় নির্ধারণে বেবিচকের কোনো একক এখতিয়ার নেই। বেবিচকের পরবর্তী পদক্ষেপ এই রায়ের ফলে দেশের এভিয়েশন খাতে চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। বেবিচক কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, রায়ের বিষয়টি যথাযথ মন্ত্রণালয়কে অবহিত করা হয়েছে। সরকারের উচ্চপর্যায়ের নির্দেশনা অনুযায়ী পরবর্তী আইনি বা কূটনৈতিক পদক্ষেপ গ্রহণ করা হবে।
ঢাকায় প্রস্তাবিত নতুন দুইটি মেট্রোরেল লাইনের সম্ভাব্য ব্যয় আগের উত্তরা–মতিঝিল রুটের তুলনায় অনেক বেশি হওয়ায় প্রকল্পগুলো নিয়ে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে। উত্তরা থেকে মতিঝিল পর্যন্ত নির্মিত মেট্রোরেল (লাইন–৬)–এ প্রতি কিলোমিটার ব্যয় হয়েছিল প্রায় ১ হাজার ৫৭৪ কোটি টাকা। অথচ নতুন দুই লাইনে সম্ভাব্য ব্যয় দাঁড়াচ্ছে গড়ে প্রায় ৩ হাজার ৬১৮ কোটি টাকা প্রতি কিলোমিটার, যা আগেরটির দ্বিগুণেরও বেশি। কোন দুটি লাইন নিয়ে আলোচনা? প্রথমটি হলো এমআরটি লাইন–১, যা কমলাপুর থেকে বিমানবন্দর এবং নর্দ্দা থেকে পূর্বাচল পর্যন্ত বিস্তৃত হবে (দৈর্ঘ্য ৩১ কিলোমিটারের বেশি)। দ্বিতীয়টি এমআরটি লাইন–৫ (উত্তর), যা হেমায়েতপুর থেকে মিরপুর, গুলশান হয়ে ভাটারা পর্যন্ত যাবে (প্রায় ২০ কিলোমিটার)। দুটি লাইনেরই কিছু অংশ উড়ালপথে এবং কিছু অংশ মাটির নিচ দিয়ে নির্মাণের পরিকল্পনা রয়েছে। ব্যয়ের বড় লাফ দুটি প্রকল্পের সম্মিলিত সম্ভাব্য ব্যয় প্রায় ১ লাখ ৮৪ হাজার ৫০০ কোটি টাকায় পৌঁছাতে পারে বলে বিশ্লেষণে উঠে এসেছে। শুরুতে সরকার যে প্রাক্কলন করেছিল, তার তুলনায় ঠিকাদারদের প্রস্তাবিত দর অনেক বেশি। কয়েকটি প্যাকেজে দর সরকারি হিসাবের তুলনায় কয়েক গুণ বেশি হওয়ায় তা বাতিলের চিন্তাভাবনাও হয়েছে। তবে অর্থায়নকারী সংস্থার অনুমোদন ছাড়া এমন সিদ্ধান্ত কার্যকর করা সম্ভব নয়। ঋণের শর্ত ও প্রতিযোগিতা সংকট প্রকল্প দুটির অর্থায়নে জাপানের উন্নয়ন সহযোগী সংস্থা Japan International Cooperation Agency (জাইকা) ঋণ দিচ্ছে। সংশ্লিষ্টদের মতে, ঋণের সঙ্গে যুক্ত কিছু প্রকৌশলগত শর্তের কারণে দরপত্রে কার্যত জাপানি কোম্পানিগুলোর মধ্যেই প্রতিযোগিতা সীমাবদ্ধ থাকছে। এতে আন্তর্জাতিক প্রতিযোগিতা না হওয়ায় ব্যয় বাড়ছে। ডিএমটিসিএল সূত্রের দাবি, কয়েকটি প্যাকেজে অস্বাভাবিক উচ্চ দর প্রস্তাবের পেছনে সম্ভাব্য যোগসাজশের আশঙ্কাও রয়েছে। দেখা গেছে, চূড়ান্ত দরপত্রে অংশ নিয়েছে অল্পসংখ্যক প্রতিষ্ঠান, এবং দুটি বড় জাপানি কনসোর্টিয়াম পালাক্রমে সর্বনিম্ন দরদাতা হয়েছে। আয়-ব্যয়ের বাস্তবতা উত্তরা–মতিঝিল রুটে চলমান মেট্রোরেল থেকে ২০২৪–২৫ অর্থবছরে টিকিট বিক্রি করে প্রায় ৪০০ কোটি টাকা আয় হয়েছে (অনিরীক্ষিত)। কিন্তু আগামী কয়েক বছর পর্যন্ত ঋণের কিস্তি হিসেবে বছরে ৪৬৫ থেকে ৭৪০ কোটি টাকা পরিশোধ করতে হবে। ফলে নতুন প্রকল্পে অতিরিক্ত ঋণের চাপ ভবিষ্যতে সরকারি অর্থব্যবস্থায় প্রভাব ফেলতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। বিশেষজ্ঞদের মত বিশ্লেষকদের মতে, মূল সমস্যা প্রতিযোগিতার অভাব। উন্মুক্ত আন্তর্জাতিক দরপত্র নিশ্চিত করা গেলে ব্যয় কমানো সম্ভব হতে পারে। অন্যথায় অতিরিক্ত ব্যয়ের বোঝা যাত্রীভাড়া বৃদ্ধি এবং ঋণের চাপ বাড়াতে পারে। মনোরেলের প্রসঙ্গ নতুন সরকার ঢাকায় মেট্রোরেলের পাশাপাশি মনোরেল চালুর কথাও বলেছে। মনোরেলে একটি লাইনের ওপর দিয়ে ট্রেন চলে, ফলে নির্মাণব্যয় তুলনামূলক কম হতে পারে। তবে যাত্রী পরিবহন সক্ষমতা মেট্রোরেলের তুলনায় কম। সব মিলিয়ে, নতুন দুটি মেট্রোরেল প্রকল্পের ভবিষ্যৎ এখন সরকারের সিদ্ধান্তের ওপর নির্ভর করছে। ব্যয় কমিয়ে বাস্তবায়ন করা যাবে কি না, নাকি বিকল্প পরিবহনব্যবস্থার দিকে ঝোঁক বাড়বে—তা সময়ই বলে দেবে।
জলবায়ু পরিবর্তন এবং অনিয়ন্ত্রিত দূষণের কবলে পড়ে বসবাসের অযোগ্য হয়ে উঠছে বিশ্বের মেগাসিটিগুলো, যার মধ্যে ভয়াবহ সংকটে রয়েছে ঢাকা। শুক্রবার সকালে রাজধানীর বায়ুমান ‘বিপর্যয়কর’ পর্যায়ে পৌঁছেছে, যা জনস্বাস্থ্যের জন্য চরম উদ্বেগজনক। সকাল সাড়ে ৯টার দিকে সুইজারল্যান্ডভিত্তিক প্রতিষ্ঠান আইকিউএয়ার (IQAir) ঢাকার এয়ার কোয়ালিটি ইনডেক্স (একিউআই) স্কোর রেকর্ড করেছে ৩২২। এই মানদণ্ড অনুযায়ী ঢাকার বাতাস বর্তমানে স্বাস্থ্যের জন্য অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ এবং জরুরি সতর্কতার দাবি রাখে। বৈশ্বিক বায়ুদূষণের তালিকায় ঢাকা এখন শীর্ষ দেশগুলোর মধ্যে অন্যতম। শুক্রবারের তথ্য অনুযায়ী, ঢাকার ওপরে ছিল কেবল পাকিস্তানের লাহোর, যার স্কোর রেকর্ড করা হয়েছে ৪০৪। তালিকার তৃতীয় ও চতুর্থ অবস্থানে রয়েছে যথাক্রমে কলকাতা (২১২) ও দিল্লি (২০৮)। আইকিউএয়ার-এর মানদণ্ড অনুযায়ী, স্কোর ৩০০ পার হলেই তা ‘বিপর্যয়কর’ হিসেবে বিবেচিত হয়। ঢাকার স্কোর ৩২২ হওয়ায় সাধারণ মানুষের ফুসফুসে ক্ষুদ্রাতিক্ষুদ্র দূষিত কণা প্রবেশের ঝুঁকি কয়েক গুণ বেড়ে গেছে, যা দীর্ঘমেয়াদী শ্বাসকষ্ট ও অন্যান্য রোগের কারণ হতে পারে। পরিবেশবিদদের মতে, শুষ্ক মৌসুমে অপরিকল্পিত নির্মাণকাজ, যানবাহনের কালো ধোঁয়া এবং শহরের চারপাশের ইটভাটাগুলো বায়ুদূষণকে এই চরম অবস্থায় নিয়ে ঠেলে দিয়েছে। বিশেষ করে ভোরবেলা প্রাতঃভ্রমণে বের হওয়া মানুষ এবং কর্মজীবীরা সবচেয়ে বেশি স্বাস্থ্যঝুঁকিতে রয়েছেন। বর্তমান পরিস্থিতিতে বাইরে বের হওয়ার সময় অবশ্যই মাস্ক ব্যবহারের পরামর্শ দিচ্ছেন বিশেষজ্ঞরা। কার্যকর ও স্থায়ী কোনো পদক্ষেপ গ্রহণ না করলে ঢাকার এই বায়ুমান পরিস্থিতি আগামী দিনগুলোতে আরও ভয়াবহ রূপ নিতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।
মধ্যপ্রাচ্যের ক্রমবর্ধমান উত্তেজনার মধ্যেই একটি চাঞ্চল্যকর দাবি ভূ-রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন করে বিতর্কের ঝড় তুলেছে। গত ৪৮ থেকে ৫৬ ঘণ্টার মধ্যে ১৬টি চীনা 'ওয়াই-২০' (Y-20) সামরিক কার্গো বিমান তাদের ট্রান্সপন্ডার বা সিগন্যাল বন্ধ রেখে ইরানের আকাশে প্রবেশ করেছে বলে খবর ছড়িয়েছে। কোনো আনুষ্ঠানিক নিশ্চিতকরণ ছাড়াই এই তথ্যটি প্রতিরক্ষা বিশ্লেষক ও সোশ্যাল মিডিয়া ব্যবহারকারীদের মধ্যে তীব্র উদ্বেগ সৃষ্টি করেছে। দাবি করা হচ্ছে, এই বিমানগুলো বেসামরিক রাডার থেকে আড়াল থাকতে বিশেষ কৌশল অবলম্বন করেছিল। নেটিজেন ও সামরিক বিশ্লেষকদের একটি অংশের ধারণা, চীন হয়তো ইরানকে অত্যাধুনিক ইলেকট্রনিক ওয়ারফেয়ার সিস্টেম বা জ্যামিং প্রযুক্তি সরবরাহ করছে। যদি এটি সত্যি হয়, তবে মার্কিন এফ-৩৫ (F-35) যুদ্ধবিমান বা নৌ-অভিযানের জন্য এটি বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়াতে পারে। অনেকে একে যুক্তরাষ্ট্রের প্রতি বেইজিংয়ের সরাসরি ‘সতর্কবার্তা’ হিসেবেও দেখছেন। তবে এই উত্তেজনার মুদ্রার উল্টো পিঠও রয়েছে। ফ্লাইটরাডার২৪-এর মতো আন্তর্জাতিক ফ্লাইট ট্র্যাকিং প্ল্যাটফর্মে এ ধরনের কোনো অস্বাভাবিক ফ্লাইটের রেকর্ড পাওয়া যায়নি। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ১৬টি ভারী সামরিক কার্গো বিমানের মতো বিশাল বহরকে রাডার বা স্যাটেলাইট নজরদারি থেকে সম্পূর্ণ লুকিয়ে রাখা প্রায় অসম্ভব। বর্তমান ভূ-রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে চীন-ইরান সম্পর্ক গভীর হলেও, সুনির্দিষ্ট প্রমাণের অভাবে বিশ্লেষকরা একে আপাতত ‘সুপরিকল্পিত গুজব’ বা মিসইনফরমেশন হিসেবেই দেখছেন। তেহরান বা বেইজিং—কোনো পক্ষ থেকেই এখন পর্যন্ত এ নিয়ে কোনো আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া মেলেনি।
এপস্টেইন ফাইল: দাবি, বাইডেনকে ২০১৯ সালে হত্যা করে ক্লোন দ্বারা প্রতিস্থাপন করা হয়েছে জেফরি এপস্টেইনের ফাইল ট্রান্সপারেন্সি অ্যাক্টের সাথে যুক্ত সম্প্রতি প্রকাশিত একটি নথি ত্রাঞ্চে অভিযোগ করা হয়েছে যে, প্রাক্তন মার্কিন প্রেসিডেন্ট জো বাইডেনকে ২০১৯ সালে হত্যা করা হয়েছে এবং তাকে একটি ক্লোন দ্বারা প্রতিস্থাপন করা হয়েছে। এই নথিগুলি, যা আনক্লাসিফায়েড ডিপার্টমেন্ট অব জাস্টিস (DOJ) রেকর্ডের একটি বিশাল ডেটা রিলিজের অংশ, “চার্লস” নামে একজনের ক্ষুব্ধ ইমেইল অন্তর্ভুক্ত করেছে এবং অন্তর্বর্তী ফাইলিং কোড EFTA00173266 থেকে EFTA00173273 পর্যন্ত চিহ্নিত। এই ইমেইলগুলো তৃতীয় পক্ষের যোগাযোগের মধ্যে পাওয়া গেছে, যা জেফরি এপস্টেইনের নেটওয়ার্ক সংক্রান্ত বিস্তৃত ফেডারেল তদন্তের সময় সংগ্রহ করা হয়েছিল। এপস্টেইন সম্পর্কিত অন্যান্য প্রকাশনার মতো এখানে রাজনৈতিক ও ব্যবসায়িক ব্যক্তিদের সঙ্গে সম্পর্কের তথ্য নয়, বরং চরম ও ষড়যন্ত্রমূলক দাবিগুলো রয়েছে। ক্লোন তত্ত্বের উল্লেখ “চার্লস” ইমেইলগুলো এপ্রিল ২০২১-এ একজন এফবিআই এজেন্টকে ফরোয়ার্ড করা হয়েছিল, যাকে লাল করা প্রেরক হিসেবে দেখানো হয়েছে। প্রেরক দাবি করেছিলেন যে এটি একটি প্রযুক্তি সংস্থার এক ক্ষুব্ধ প্রাক্তন কর্মচারী বা সহযোগীর মেসেজ। ইমেইলগুলিতে গালাগালি ভাষা ব্যবহৃত হয়েছে এবং এখানে “কোয়ান্টাম” প্রযুক্তি, গোপন সামরিক ট্রাইব্যুনাল, এবং “বাইডেন আপনার বর্তমান প্রেসিডেন্ট নন” এমন দাবির উল্লেখ রয়েছে। একটি অনুচ্ছেদে বলা হয়েছে যে “বাস্তব” জো বাইডেনকে ২০১৯ সালে নির্বিচারে হত্যা করা হয়েছে এবং তাকে একজন অভিনেতা বা ক্লোন দ্বারা প্রতিস্থাপন করা হয়েছে, যেখানে প্রমাণ হিসেবে “মাস্কের ত্রুটি” দেখানো হয়েছে। তবে এই দাবিগুলোর সঙ্গে কোনো শারীরিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি বা সঙ্গত সাক্ষ্য নেই। “বাইডেন ক্লোন” দাবি অনলাইনে ষড়যন্ত্র তত্ত্বের একটি পরিচিত অংশ। তত্ত্বটি সাধারণত ধরে যে “বাস্তব” জো বাইডেনকে গোপনে জনমঞ্চ থেকে সরিয়ে দেওয়া হয়েছে, প্রায়শই ২০১৯ বা ২০২০ সালে, এবং তাকে চেহারা মিলানো লোক বা ক্লোন দিয়ে প্রতিস্থাপন করা হয়েছে। অনুগামীরা প্রায়শই নিম্নমানের ভিডিও এবং ফটোগ্রাফ বিশ্লেষণ করে, চেহারার পরিবর্তন যেমন আলোর পরিবর্তন, বয়সের প্রভাব বা ক্যামেরার ত্রুটিকে কৃত্রিমভাবে আড়াল করার প্রমাণ হিসেবে দেখান। এ পর্যন্ত কোনো যাচাইযোগ্য প্রমাণ নেই যে প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন কখনো ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন বা প্রতিস্থাপিত হয়েছেন। এই দাবিগুলি সম্পূর্ণভাবে একটি ষড়যন্ত্র তত্ত্ব হিসেবে রয়ে গেছে। সূত্র: Royanews
দাম বাড়ানোর ১২ ঘণ্টারও কম সময়ের ব্যবধানে দেশের বাজারে আবারও স্বর্ণের দাম কমিয়েছে বাংলাদেশ জুয়েলার্স অ্যাসোসিয়েশন (বাজুস)। ভরিতে এক লাফে ৩ হাজার ২৬৬ টাকা কমিয়ে ২২ ক্যারেটের প্রতি ভরি স্বর্ণের নতুন দাম নির্ধারণ করা হয়েছে ২ লাখ ৫৮ হাজার ৮২৪ টাকা। শনিবার (৭ ফেব্রুয়ারি) রাতে বাজুসের এক বিজ্ঞপ্তিতে দাম কমানোর বিষয়টি জানানো হয়েছে। নতুন দাম রোববার (৮ ফেব্রুয়ারি) থেকেই কার্যকর হবে। এর আগে একই দিন সকালে দেশের বাজারে স্বর্ণের দাম বাড়ানো হয়। ওই সময় ভরিপ্রতি এক লাফে ৭ হাজার ৬৪০ টাকা বাড়িয়ে ২২ ক্যারেটের এক ভরি স্বর্ণের দাম নির্ধারণ করা হয়েছিল ২ লাখ ৬২ হাজার ৯০ টাকা। নতুন দাম অনুযায়ী, বর্তমানে দেশের বাজারে ২২ ক্যারেটের প্রতি ভরি (১১.৬৬৪ গ্রাম) স্বর্ণের দাম পড়বে ২ লাখ ৫৮ হাজার ৮২৪ টাকা। পাশাপাশি ২১ ক্যারেটের প্রতি ভরি ২ লাখ ৪৭ হাজার ৪৪ টাকা, ১৮ ক্যারেটের প্রতি ভরি ২ লাখ ১১ হাজার ৭৬০ টাকা এবং সনাতন পদ্ধতির প্রতি ভরি স্বর্ণের দাম পড়বে ১ লাখ ৭৩ হাজার ৩২৭ টাকা। এ নিয়ে চলতি বছর দেশের বাজারে মোট ২৭ বার স্বর্ণের দাম সমন্বয় করলো বাজুস। এরমধ্যে ১৭ বারই দাম বাড়ানো হয়েছে। আর দাম কমেছে মাত্র ১০ বার। অন্যদিকে গতবছর দেশের বাজারে মোট ৯৩ বার স্বর্ণের দাম সমন্বয় করা হয়েছিল। যেখানে ৬৪ বারই দাম বাড়ানো হয়েছিল। এছাড়া ২০২৫ সালে ২৯ বার কমানো হয়েছিল স্বর্ণের দাম।
২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো। প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে। এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে। অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে। স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে। সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে। সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।
সাম্প্রতিক সময়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে যে, যুক্তরাষ্ট্রে বিয়ের মাধ্যমে নাগরিকত্ব বা গ্রীন কার্ড পাওয়ার নিয়ম বন্ধ হয়ে গেছে। তবে মার্কিন ইমিগ্রেশন কর্তৃপক্ষ ইউএস সিটিজেনশিপ এন্ড ইমিগ্রেশন সার্ভিস এর অফিসিয়াল তথ্য অনুযায়ী এই দাবি সঠিক নয়। সংস্থাটি জানিয়েছে, বিয়ের মাধ্যমে এখনও গ্রীন কার্ড এবং পরে নাগরিকত্ব পাওয়ার সুযোগ রয়েছে, তবে আবেদনকারীদের নির্দিষ্ট নিয়ম মেনে চলতে হবে এবং বর্তমানে যাচাই-বাছাই আগের তুলনায় বেশি কঠোর করা হয়েছে। ইউএসসিআইএসের নিয়ম অনুযায়ী, একজন মার্কিন নাগরিক বা গ্রীন কার্ডধারী তার স্বামী বা স্ত্রীর জন্য পারিবারিক ভিত্তিতে অভিবাসনের আবেদন করতে পারেন। এ ক্ষেত্রে প্রথমে বৈধ বিয়ের প্রমাণসহ আবেদন জমা দিতে হয়। আবেদন অনুমোদিত হলে বিদেশি স্বামী বা স্ত্রী গ্রীন কার্ড পেতে পারেন এবং স্থায়ী বাসিন্দা হিসেবে যুক্তরাষ্ট্রে থাকার অনুমতি পাবেন। সাধারণত মার্কিন নাগরিককে বিয়ে করলে প্রক্রিয়া তুলনামূলক দ্রুত হয়, আর গ্রীন কার্ডধারীকে বিয়ে করলে অপেক্ষার সময় কিছুটা বেশি হতে পারে। গ্রীন কার্ড পাওয়ার পর নাগরিকত্বের জন্য আবেদন করার নিয়মও আগের মতোই রয়েছে। ইমিগ্রেশন নীতিমালা অনুযায়ী, যদি কেউ মার্কিন নাগরিককে বিয়ে করে গ্রীন কার্ড পান এবং কমপক্ষে তিন বছর একসাথে বসবাস করেন, তাহলে তিনি নাগরিকত্বের জন্য আবেদন করতে পারেন। আর যদি গ্রীন কার্ডধারীকে বিয়ে করেন, তাহলে সাধারণ নিয়ম অনুযায়ী স্থায়ী বাসিন্দা হিসেবে পাঁচ বছর পূর্ণ হলে নাগরিকত্বের আবেদন করা যায়। ইমিগ্রেশন বিশেষজ্ঞদের মতে, বর্তমানে অনেক ক্ষেত্রে বেশি সাক্ষাৎকার নেওয়া হচ্ছে, অতিরিক্ত কাগজপত্র চাওয়া হচ্ছে এবং যৌথ ব্যাংক হিসাব, বাসার ঠিকানা, ট্যাক্স নথি ও পারিবারিক প্রমাণ জমা দিতে হচ্ছে। ভুয়া বিয়ের মাধ্যমে সুবিধা নেওয়া ঠেকাতে এই যাচাই-বাছাই বাড়ানো হয়েছে। এছাড়া আবেদন প্রক্রিয়ায় সময় বেশি লাগার কারণেও অনেকের মধ্যে ভুল ধারণা তৈরি হয়েছে যে বিয়ের মাধ্যমে নাগরিকত্ব বন্ধ হয়ে গেছে। সরকারি তথ্য অনুযায়ী, বিয়ের মাধ্যমে আমেরিকার নাগরিকত্ব বা গ্রীন কার্ড বন্ধ হয়নি। তবে বর্তমানে আবেদন প্রক্রিয়া কঠোর হয়েছে এবং প্রতিটি ক্ষেত্রে বৈধ বিবাহ, একসাথে বসবাস এবং প্রয়োজনীয় কাগজপত্র প্রমাণ করা বাধ্যতামূলক।