তুরস্কের কারিগরি ও প্রযুক্তিগত সহযোগিতায় বগুড়ায় একটি আধুনিক ড্রোন তৈরির কারখানা স্থাপন করতে যাচ্ছে বাংলাদেশ। জেলাটিতে নির্মিতব্য আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের পাশেই এই কারখানা স্থাপনের চূড়ান্ত পরিকল্পনা গ্রহণ করা হয়েছে। নতুন এই উদ্যোগটি দেশের সামরিক ও প্রযুক্তিগত খাতের উন্নয়নে এক বড় মাইলফলক হতে যাচ্ছে। গত বৃহস্পতিবার সচিবালয়ের গণমাধ্যম কেন্দ্রে আয়োজিত ‘বিএসআরএফ সংলাপ’ অনুষ্ঠানে উপস্থিত হয়ে স্থানীয় সরকার প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের বরাত দিয়ে এই তথ্য নিশ্চিত করেন। বাংলাদেশ সেক্রেটারিয়েট রিপোর্টার্স ফোরামের (বিএসআরএফ) সভাপতি মাসুদুল হকের সভাপতিত্বে ও সাধারণ সম্পাদক উবায়দুল্লাহ বাদলের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানটি অনুষ্ঠিত হয়। প্রতিমন্ত্রী জানান, গত বুধবার জাতীয় সংসদের প্রশ্নোত্তর পর্বে মাননীয় প্রধানমন্ত্রী স্পষ্ট করে জানিয়েছেন যে, তুরস্কের সঙ্গে যৌথ উদ্যোগে বগুড়া বিমানঘাঁটির পাশে এই আধুনিক ড্রোন তৈরির কারখানা নির্মাণ করা হবে। এই কারখানায় তৈরি ড্রোন দেশের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ ও কৌশলগত প্রয়োজনে ব্যবহার করা হবে। উত্তরাঞ্চলের আকাশপথের উন্নয়ন প্রসঙ্গে মীর শাহে আলম বলেন, দেশের উত্তরাঞ্চলে বর্তমানে কোনো আন্তর্জাতিক মানের বিমানবন্দর নেই। সেই অভাব পূরণে বগুড়া বিমানবন্দরকে আন্তর্জাতিক মানে উন্নীত করার কাজ এখন পুরোদমে চলছে। তিনি আরও জানান, কেবল বিমানবন্দরই নয়, উত্তরাঞ্চলকে কেন্দ্র করে বাংলাদেশ বিমানবাহিনীর একটি পূর্ণাঙ্গ প্রথম বিমানঘাঁটি স্থাপনের অনুমোদনও এরমধ্যে দেওয়া হয়েছে। ভবিষ্যতে বিমানবাহিনীর বহরে যেসব নতুন ও আধুনিক যুদ্ধবিমান যুক্ত হবে, সেগুলো মূলত এই ঘাঁটিতেই রাখা হবে। উল্লেখ্য, পাকিস্তান আমলে নির্মিত বগুড়া বিমানবন্দরটি দেশের অন্যতম পুরোনো বিমানবন্দর। পরবর্তীতে শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান এবং সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার শাসনামলে বিমানবন্দরটির আধুনিকায়নে একাধিক উদ্যোগ নেওয়া হলেও নানা রাজনৈতিক জটিলতার কারণে অতীতে প্রকল্পটি আর এগোতে পারেনি।
তুরস্কের একটি বেসরকারি হাসপাতালে দাঁতের চিকিৎসার সময় হৃদ্যন্ত্র হঠাৎ বন্ধ হয়ে এলা কোকাচোগুর নামে সাত বছর বয়সী এক শিশুর মৃত্যু হয়েছে। একসঙ্গে আটটি দাঁতের ফিলিং করার জন্য তাকে সাধারণ অজ্ঞান (জেনারেল অ্যানেস্থেশিয়া) দেওয়া হয়েছিল। ঘটনাটি দেশজুড়ে আলোচনার জন্ম দিয়েছে এবং এরই মধ্যে বিচার বিভাগীয় তদন্ত শুরু হয়েছে। আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, তুরস্কের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের বুরদুর শহরের বাসিন্দা এলা গত ৩ জুলাই দাঁতের চিকিৎসার জন্য পাশের ইসপার্তা শহরের দাভরাজ প্রাইভেট ইয়াশাম হাসপাতাল যান। চিকিৎসকদের ভাষ্য অনুযায়ী, শিশুটির দাঁতে একাধিক ক্ষয় (ক্যাভিটি) ছিল। তার বয়স কম হওয়া এবং দাঁতের চিকিৎসা নিয়ে ভীত থাকার কারণে আলাদা আলাদা সময়ে চিকিৎসা না করে একবারেই আটটি ফিলিং সম্পন্ন করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। এজন্য তাকে জেনারেল অ্যানেস্থেশিয়া দেওয়া হয়। তবে চিকিৎসা চলাকালেই এলা হঠাৎ কার্ডিয়াক অ্যারেস্টে আক্রান্ত হন। হাসপাতালের চিকিৎসকেরা সঙ্গে সঙ্গে তাকে পুনরুজ্জীবিত (রিসাসিটেশন) করার চেষ্টা করেন। কিন্তু সব চেষ্টা ব্যর্থ হলে তার মৃত্যু হয়। ঘটনার পর শোকাহত পরিবার স্থানীয় প্রসিকিউটরের কাছে আনুষ্ঠানিক অভিযোগ দায়ের করেছে। অভিযোগের ভিত্তিতে বিচার বিভাগীয় তদন্ত শুরু হয়েছে। পরিবারের দাবি, শিশুটিকে অজ্ঞান করার আগে প্রয়োজনীয় সব স্বাস্থ্য পরীক্ষা করা হয়েছিল কি না, তা খতিয়ে দেখা উচিত। তাদের আইনজীবী প্রশ্ন তুলেছেন, চিকিৎসার আগে অ্যালার্জি পরীক্ষা, রক্ত পরীক্ষা এবং অন্যান্য প্রয়োজনীয় মূল্যায়ন যথাযথভাবে সম্পন্ন করা হয়েছিল কি না। এছাড়া অ্যানেস্থেশিয়ার মাত্রা সঠিক ছিল কি না এবং পুরো চিকিৎসা প্রক্রিয়ায় একজন যোগ্য অ্যানেস্থেসিওলজিস্ট উপস্থিত ছিলেন কি না, সেটিও তদন্তে গুরুত্ব পাচ্ছে। এলার মৃত্যুর সঠিক কারণ জানতে ইতোমধ্যে ময়নাতদন্ত সম্পন্ন হয়েছে। ফরেনসিক বিশেষজ্ঞরা এর প্রতিবেদন বিশ্লেষণ করবেন এবং তদন্তের ফলাফলের ভিত্তিতে পরবর্তী আইনি পদক্ষেপ নেওয়া হবে। হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, চিকিৎসার সময় সব ধরনের চিকিৎসা প্রোটোকল অনুসরণ করা হয়েছে। তাদের দাবি, হৃদ্যন্ত্র বন্ধ হয়ে যাওয়ার ঘটনাটি একটি অপ্রত্যাশিত জটিলতা ছিল। অন্যদিকে ইসপার্তা চেম্বার অব ডেন্টিস্টস-এর সভাপতি নাইম শেনইউর্ত বলেন, ময়নাতদন্ত ও ফরেনসিক তদন্ত শেষ হওয়ার আগে মৃত্যুর প্রকৃত কারণ সম্পর্কে নিশ্চিতভাবে কিছু বলা সম্ভব নয়। তদন্তে যদি কোনো অবহেলা বা পেশাগত ত্রুটি প্রমাণিত হয়, তাহলে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে। এলার মৃত্যু তুরস্কে শিশুদের ক্ষেত্রে জেনারেল অ্যানেস্থেশিয়ার মাধ্যমে দীর্ঘ ও জটিল দাঁতের চিকিৎসার নিরাপত্তা নিয়ে নতুন করে বিতর্ক সৃষ্টি করেছে। অনেক বিশেষজ্ঞের মতে, এ ধরনের জটিল চিকিৎসা শিশুদের জন্য বিশেষায়িত হাসপাতালেই করা উচিত, যেখানে জরুরি শিশু চিকিৎসা দল সব সময় প্রস্তুত থাকে। এলা ছিলেন মেহমেত ইয়িলদিজলি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের দ্বিতীয় শ্রেণির শিক্ষার্থী। পড়াশোনার পাশাপাশি জিমন্যাস্টিকস ছিল তার সবচেয়ে প্রিয়। দুই ভাইবোনের সঙ্গে স্থানীয় একটি ক্রীড়া ক্লাবে নিয়মিত অনুশীলন করতেন এবং অল্প বয়সেই কয়েকটি প্রতিযোগিতায় অংশ নিয়েছিলেন। তবে তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত কোনো সিদ্ধান্তে না পৌঁছানোর আহ্বান জানিয়েছে তুরস্কের সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ।
তুরস্কের আঙ্কারায় অনুষ্ঠিত ন্যাটো সম্মেলনের ফাঁকে সদস্য দেশগুলো অন্তত ৫০ বিলিয়ন মার্কিন ডলারের নতুন প্রতিরক্ষা চুক্তি ঘোষণা করেছে। ইউরোপীয় দেশগুলো এর মাধ্যমে যুক্তরাষ্ট্রের দীর্ঘদিনের দাবি অনুযায়ী নিজেদের প্রতিরক্ষা ব্যয় বাড়ানোর অঙ্গীকার আরও জোরালোভাবে তুলে ধরেছে। সম্মেলনের প্রতিরক্ষা শিল্প ফোরামে একাধিক বড় চুক্তি ঘোষণা করা হয়। এর মধ্যে রয়েছে সাব (Saab)-এর কাছ থেকে নতুন নজরদারি বিমান, এয়ারবাস A400M কৌশলগত পরিবহন বিমান বহর এবং ন্যাটোর যৌথ আকাশ সক্ষমতা বাড়াতে নতুন সামরিক সরঞ্জাম সংগ্রহের পরিকল্পনা। এসব উদ্যোগের লক্ষ্য ইউরোপের প্রতিরক্ষা সক্ষমতা শক্তিশালী করা এবং যুক্তরাষ্ট্রের ওপর নির্ভরতা কমানো। ন্যাটো মহাসচিব Mark Rutte বলেন, ইউরোপীয় দেশগুলো গত কয়েক বছরে প্রতিরক্ষা ব্যয়ে ‘অভূতপূর্ব বৃদ্ধি’ করেছে। তাঁর ভাষায়, রাশিয়ার নিরাপত্তা হুমকির পাশাপাশি যুক্তরাষ্ট্রের চাপও এই ব্যয় বৃদ্ধিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে। অন্যদিকে সম্মেলনে যোগ দিয়ে মার্কিন প্রেসিডেন্ট Donald Trump বলেন, তিনি মিত্রদের অগ্রগতিতে পুরোপুরি সন্তুষ্ট নন এবং ইউরোপকে নিজেদের নিরাপত্তার জন্য আরও বেশি দায়িত্ব নিতে হবে। একই সঙ্গে তিনি আবারও গ্রিনল্যান্ডের ওপর যুক্তরাষ্ট্রের নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠার ইচ্ছার কথা উল্লেখ করেন। এ নিয়ে ডেনমার্কের প্রধানমন্ত্রী পুনর্ব্যক্ত করেন যে গ্রিনল্যান্ড বিক্রির জন্য নয় এবং এর ভবিষ্যৎ নির্ধারণের অধিকার গ্রিনল্যান্ডের জনগণের। এ বছরের ন্যাটো সম্মেলনে ইউক্রেন যুদ্ধ, মধ্যপ্রাচ্যের নিরাপত্তা পরিস্থিতি এবং ইউরোপের প্রতিরক্ষা শিল্প সম্প্রসারণ ছিল প্রধান আলোচ্য বিষয়। বিশ্লেষকদের মতে নয়, বরং সম্মেলনের ঘোষিত চুক্তিগুলোই দেখাচ্ছে—ইউরোপীয় দেশগুলো এখন প্রতিরক্ষা সক্ষমতা বাড়াতে আগের যেকোনো সময়ের তুলনায় বেশি বিনিয়োগে আগ্রহী।
তুরস্কের রাজধানী আঙ্কারায় ন্যাটো শীর্ষ সম্মেলনের আগে ইরানের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রের নতুন সামরিক হামলাকে “অত্যন্ত প্রয়োজনীয়” বলে মন্তব্য করেছেন ন্যাটো মহাসচিব মার্ক রুটে। তাঁর দাবি, যুদ্ধবিরতি কার্যকর থাকা সত্ত্বেও ইরান তা লঙ্ঘন করেছে, তাই যুক্তরাষ্ট্রের কঠোর প্রতিক্রিয়া ছিল যৌক্তিক। সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে রুটে বলেন, “যখন একটি যুদ্ধবিরতি কার্যকর থাকার কথা, অথচ ইরান সেটি লঙ্ঘন করছে, তখন যুক্তরাষ্ট্রের দৃঢ়ভাবে প্রতিক্রিয়া জানানো অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।” তিনি আরও বলেন, ন্যাটো মধ্যপ্রাচ্যের নিরাপত্তা পরিস্থিতি গভীরভাবে পর্যবেক্ষণ করছে এবং মিত্র দেশগুলোর মধ্যে সমন্বয় অব্যাহত রয়েছে। এই মন্তব্য এমন সময় এলো, যখন হরমুজ প্রণালিতে তিনটি বাণিজ্যিক জাহাজে হামলার পর যুক্তরাষ্ট্র ইরানের বিভিন্ন সামরিক লক্ষ্যবস্তুতে নতুন করে হামলা চালিয়েছে। একই সঙ্গে ওয়াশিংটন ইরানের তেল বিক্রির জন্য আগে দেওয়া বিশেষ লাইসেন্সও প্রত্যাহার করেছে। যুক্তরাষ্ট্রের অভিযোগ, এসব হামলার মাধ্যমে ইরান যুদ্ধবিরতির শর্ত ভঙ্গ করেছে। অন্যদিকে তেহরান অভিযোগ প্রত্যাখ্যান করে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক পদক্ষেপকে আগ্রাসন হিসেবে বর্ণনা করেছে। এদিকে আঙ্কারায় অনুষ্ঠিত ন্যাটো সম্মেলনে মধ্যপ্রাচ্যের নিরাপত্তা পরিস্থিতি অন্যতম প্রধান আলোচ্য বিষয় হয়ে উঠেছে। ফ্রান্স ও যুক্তরাজ্য হরমুজ প্রণালিতে আন্তর্জাতিক বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচলের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে একটি বহুজাতিক সামুদ্রিক মিশন গঠনের প্রস্তাব দিয়েছে। বিষয়টি নিয়ে উপসাগরীয় আরব দেশগুলোর সঙ্গেও আলোচনা চলছে। সম্মেলনে রুটে আরও জানান, ইউরোপীয় মিত্র দেশ ও কানাডা সাম্প্রতিক সময়ে প্রতিরক্ষা ব্যয় উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়িয়েছে। তাঁর ভাষায়, এটি ন্যাটোর সম্মিলিত প্রতি সম্মেলনে রুটে আরও জানান, ইউরোপীয় মিত্র দেশ ও কানাডা সাম্প্রতিক সময়ে প্রতিরক্ষা ব্যয় উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়িয়েছে। তাঁর ভাষায়, এটি ন্যাটোর সম্মিলিত প্রতিরক্ষা সক্ষমতা আরও শক্তিশালী করবে এবং জোটের মধ্যে দায়িত্ব বণ্টনকে আরও ভারসাম্যপূর্ণ করবে।
ওয়াশিংটন: তুরস্কের প্রেসিডেন্ট রিসেপ তাইয়্যেপ এরদোয়ানের সঙ্গে উচ্চপর্যায়ের বৈঠকের পর যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প জানিয়েছেন, তুরস্কের ওপর আরোপিত মার্কিন প্রতিরক্ষা-সংক্রান্ত নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহারের উদ্যোগ নেওয়া হবে। একই সঙ্গে তিনি তুরস্ককে পুনরায় এফ-৩৫ যুদ্ধবিমান কর্মসূচিতে অন্তর্ভুক্ত করার বিষয়েও সিদ্ধান্ত নেওয়ার কথা বিবেচনা করছেন। এই ঘোষণা যুক্তরাষ্ট্র-তুরস্ক সম্পর্কের দীর্ঘদিনের টানাপোড়েনে নতুন মোড় আনতে পারে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা। বৈঠকে দুই নেতা প্রতিরক্ষা সহযোগিতা, ন্যাটো জোটের ভবিষ্যৎ, মধ্যপ্রাচ্যের নিরাপত্তা, সিরিয়ার পরিস্থিতি এবং আঞ্চলিক স্থিতিশীলতা নিয়ে আলোচনা করেন। বৈঠক শেষে ট্রাম্প বলেন, তিনি এরদোয়ানের সঙ্গে অত্যন্ত ইতিবাচক আলোচনা করেছেন এবং দুই দেশের কৌশলগত অংশীদারিত্ব আরও শক্তিশালী করতে চান। তুরস্ক ২০১৯ সালে রাশিয়ার তৈরি এস-৪০০ আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা কেনার পর যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সম্পর্কের অবনতি ঘটে। ওয়াশিংটনের দাবি ছিল, একই সঙ্গে এস-৪০০ এবং এফ-৩৫ যুদ্ধবিমান ব্যবহৃত হলে এফ-৩৫-এর অত্যাধুনিক প্রযুক্তিগত তথ্য রাশিয়ার হাতে পৌঁছানোর ঝুঁকি তৈরি হতে পারে। এই উদ্বেগের কারণেই তুরস্ককে এফ-৩৫ কর্মসূচি থেকে বাদ দেওয়া হয় এবং ২০২০ সালে ‘কাউন্টারিং আমেরিকাস অ্যাডভার্সারিজ থ্রু স্যাংশনস অ্যাক্ট (CAATSA)’ আইনের আওতায় তুরস্কের প্রতিরক্ষা শিল্পের ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা হয়। এস-৪০০ ইস্যুর পর থেকে আঙ্কারা ধারাবাহিকভাবে দাবি করে আসছে, তারা ন্যাটোর সদস্য রাষ্ট্র হিসেবে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে প্রতিরক্ষা সহযোগিতা আরও জোরদার করতে চায় এবং এফ-৩৫ কর্মসূচিতে পুনরায় অন্তর্ভুক্ত হতে আগ্রহী। তুরস্কের সরকার বরাবরই যুক্তরাষ্ট্রের নিষেধাজ্ঞাকে অন্যায্য বলে উল্লেখ করেছে। ট্রাম্পের সাম্প্রতিক ঘোষণার পর এফ-৩৫ কর্মসূচিতে তুরস্কের ফেরার সম্ভাবনা আবারও আলোচনায় এসেছে। তবে বিষয়টি এখনই কার্যকর হচ্ছে না। মার্কিন আইন অনুযায়ী, নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার এবং উন্নত সামরিক সরঞ্জাম বিক্রির ক্ষেত্রে কংগ্রেসের পর্যালোচনা ও অনুমোদনসহ একাধিক আইনি প্রক্রিয়া রয়েছে। ফলে ট্রাম্পের ঘোষণার পরও বাস্তবায়নে সময় লাগতে পারে। বিশ্লেষকদের মতে, যদি নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার করা হয়, তাহলে তা শুধু যুক্তরাষ্ট্র-তুরস্ক প্রতিরক্ষা সম্পর্কই নয়, ন্যাটোর অভ্যন্তরীণ সহযোগিতা এবং মধ্যপ্রাচ্য ও কৃষ্ণসাগর অঞ্চলের নিরাপত্তা কৌশলেও গুরুত্বপূর্ণ প্রভাব ফেলতে পারে। একই সঙ্গে ইউক্রেন যুদ্ধ, সিরিয়ার পরিস্থিতি এবং ন্যাটোর দক্ষিণাঞ্চলীয় নিরাপত্তা জোরদারে তুরস্কের ভূমিকা আরও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠতে পারে। তবে ট্রাম্পের এই ঘোষণা এখনও একটি নীতিগত অবস্থান। এটি কার্যকর হতে হলে যুক্তরাষ্ট্রের প্রশাসনিক ও আইনগত প্রক্রিয়া সম্পন্ন হওয়ার পাশাপাশি কংগ্রেসের অবস্থানও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে। তাই তুরস্কের ওপর মার্কিন প্রতিরক্ষা নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার এবং এফ-৩৫ কর্মসূচিতে পুনরায় অন্তর্ভুক্তির বিষয়টি এখনো চূড়ান্ত হয়নি।
তুরস্কের রাজধানী আঙ্কারায় অনুষ্ঠেয় ন্যাটো শীর্ষ সম্মেলনের পাশাপাশি আগামী ৭ ও ৮ জুলাই দুই দিনব্যাপী বিশেষ কর্মসূচি ‘অ্যালিস ইন আঙ্কারা’ অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে। তুরস্কের যোগাযোগ অধিদপ্তর, মিউনিখ সিকিউরিটি কনফারেন্স (এমএসসি) এবং সেটার (SETA) যৌথ উদ্যোগে এই আন্তর্জাতিক ফোরামের আয়োজন করা হয়েছে। ঐতিহাসিক ‘আঙ্কারা প্যালাস’ ভবনে আয়োজিত এই কর্মসূচিতে বিভিন্ন দেশের উচ্চপদস্থ সরকারি কর্মকর্তা ও নীতি-নির্ধারকদের উপস্থিতিতে মোট ৪৫টি সাইড ইভেন্ট অনুষ্ঠিত হবে। অফিশিয়াল ন্যাটো সম্মেলনকে আরও ফলপ্রসূ করতে এবং মিত্র দেশগুলোর মধ্যে নিরাপত্তা বিষয়ে পারস্পরিক আলোচনার জন্য একটি আন্তর্জাতিক প্ল্যাটফর্ম তৈরি করাই এই আয়োজনের মূল লক্ষ্য। দুই দিনব্যাপী এই কর্মসূচিতে বিভিন্ন প্যানেল আলোচনা ও গোলটেবিল বৈঠকে বৈশ্বিক নিরাপত্তার নানা দিক নিয়ে কথা হবে। এর মধ্যে ন্যাটোর প্রতিরক্ষা সক্ষমতা, ইউরোপের নিরাপত্তা কাঠামো, সাইবার নিরাপত্তা, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) এবং হাইব্রিড হুমকির মতো বিষয়গুলো গুরুত্ব পাবে। এছাড়াও ইউক্রেন যুদ্ধের নিরাপত্তা, জ্বালানি করিডোর সংকট এবং কৃষ্ণসাগর, মধ্যপ্রাচ্য ও ইন্দো-প্যাসিফিকের সাম্প্রতিক ভূ-রাজনৈতিক পরিস্থিতি নিয়েও এতে বিস্তারিত আলোচনা করা হবে। এই আয়োজনের মাধ্যমে ন্যাটোর শীর্ষ সম্মেলনের সময়ে বৈশ্বিক কূটনীতি ও নিরাপত্তার অন্যতম প্রধান কেন্দ্রে পরিণত হতে যাচ্ছে আঙ্কারা।
ইউরোপ থেকে যুক্তরাষ্ট্র তাদের সামরিক সক্ষমতা ও সৈন্য কমিয়ে নিলে উত্তর আটলান্টিক নিরাপত্তা জোটে (ন্যাটো) তুরস্কের গুরুত্ব ও ভূমিকা বহুগুণ বৃদ্ধি পাবে বলে জানিয়েছেন নেদারল্যান্ডসের সেনাপ্রধান জেনারেল অনো আইশেলশেইম। তুরস্কের কৌশলগত ভৌগোলিক অবস্থান এবং দেশটির ক্রমাগত বিস্তৃত হতে থাকা শক্তিশালী প্রতিরক্ষা শিল্পের কারণে ন্যাটোর কাছে আঙ্কারা দিন দিন আরও বেশি অপরিহার্য হয়ে উঠছে বলে তিনি মন্তব্য করেন। তুরস্কের রাজধানী আঙ্কারায় অনুষ্ঠেয় ন্যাটো শীর্ষ সম্মেলনের প্রাক্কালে আনাদোলু এজেন্সিকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি এই কথা বলেন। ডাচ সেনাপ্রধান জানান, আঙ্কারা সম্মেলনটি ন্যাটোর জন্য বেশ কয়েকটি ঐতিহাসিক পরিবর্তনের মোড় হিসেবে চিহ্নিত হবে। জোটের বর্তমান শীর্ষ অগ্রাধিকার হওয়া উচিত আগের সম্মেলনে নির্ধারিত প্রতিরক্ষা বাজেট জিডিপির ৩.৫ শতাংশে উন্নীত করার প্রতিশ্রুতি দ্রুত বাস্তবায়ন করা। নেদারল্যান্ডস এ ক্ষেত্রে একটি শ্বেতপত্র বা হোয়াইট পেপার প্রস্তুত করেছে এবং তারা ন্যাটোর প্রতিরক্ষা ব্যয় ৫ শতাংশে নিয়ে যেতেও নিজেদের সদিচ্ছা প্রকাশ করেছে। জেনারেল আইশেলশেইম স্পষ্ট করে বলেন, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ইউরোপ থেকে তাদের সামরিক শক্তি গুটিয়ে নেওয়ার যে সিদ্ধান্ত নিয়েছে, সেই শূন্যস্থান পূরণ করতে এখন ইউরোপীয় দেশগুলোকেই ন্যাটোর ভেতর বড় ধরনের দায়িত্ব কাঁধে তুলে নিতে হবে। তিনি এটিকে ইউরোপের জন্য একটি ঐতিহাসিক মুহূর্ত হিসেবে বর্ণনা করেন। একই সাথে তিনি চলমান রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ এবং ইরান-ইসরায়েল-যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যকার চলমান উত্তেজনা নিরসনে এই সম্মেলন থেকে একটি শান্তির পথ খোঁজার তাগিদ দেন। নতুন বৈশ্বিক পরিস্থিতিতে ন্যাটোর নতুন রূপ বা 'ন্যাটো ৩.০' ভিশন নিয়ে কথা বলতে গিয়ে ডাচ সেনাপ্রধান বলেন, যুদ্ধ শুরু হলে দ্রুত সাড়া দেওয়ার জন্য আমাদের এখন সহনশীল সমাজ এবং শক্তিশালী প্রতিরক্ষা শিল্প দরকার। সামরিক সক্ষমতা বাড়াতে শুধু অত্যন্ত ব্যয়বহুল ও আধুনিক যুদ্ধাস্ত্রের পেছনে ছুটলে হবে না, একই সাথে স্বল্প খরচের হালকা চালকহীন ড্রোন (ইউএভি) এবং কম খরচের ইন্টারসেপ্টর ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবস্থার ওপর জোর দিতে হবে। আর তুরস্কের প্রতিরক্ষা শিল্প ইতিমধ্যেই এই লক্ষ্য অর্জনে দারুণ সক্ষমতা দেখিয়েছে। তুরস্কের অনন্য গুরুত্বের কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, ভৌগোলিক কারণেই তুরস্ক ন্যাটোর দক্ষিণ-পূর্ব অঞ্চলের মূল অভিভাবক এবং যুক্তরাষ্ট্রের পর এই জোটে তুরস্কেরই রয়েছে দ্বিতীয় বৃহত্তম সশস্ত্র বাহিনী। মার্কিনরা নিজেদের গুটিয়ে নিলে ন্যাটোর যে শক্তির ঘাটতি তৈরি হবে, তা পূরণে তুরস্কের সামরিক সহায়তা অত্যন্ত জরুরি হবে। তুরস্কের প্রতিরক্ষা কোম্পানিগুলো পরিদর্শন করে নিজের মুগ্ধতার কথা জানিয়ে তিনি বলেন, ইউরোপের অন্যান্য দেশের চেয়ে তুর্কি প্রতিরক্ষা শিল্প এখন অনেক এগিয়ে এবং তাদের সাথে যৌথ সামরিক সহযোগিতা বাড়ানোর ব্যাপক সম্ভাবনা রয়েছে।
তুরস্কে সড়ক দুর্ঘটনায় আহত এক ব্যক্তিকে উদ্ধার করতে গিয়ে বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে প্রাণ হারিয়েছেন ২৭ বছর বয়সী এক নববিবাহিত যুবক। বিয়ের মাত্র এক সপ্তাহ পর এবং হানিমুন থেকে ফেরার একদিনের মধ্যেই ঘটে এই মর্মান্তিক ঘটনা। ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম দ্য ইউএস সান জানিয়েছে, নিহত যুবকের নাম ফুরকান আলান। পরিবারের সদস্যদের ভাষ্য, তিনি এমন একজন মানুষ ছিলেন, যিনি বিপদে কাউকে দেখলে কখনো পাশ কাটিয়ে চলে যেতে পারতেন না। সেই মানবিকতাই শেষ পর্যন্ত তার জীবনের মূল্য হয়ে দাঁড়ায়। প্রতিবেদন অনুযায়ী, দুর্ঘটনাটি তুরস্কের উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলের বুরসা প্রদেশের মুদানিয়া এলাকায় ঘটে। ২৯ বছর বয়সী ওনুর উসলো নামের এক চালক গাড়ির নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে একটি বিদ্যুতের খুঁটিতে ধাক্কা দেন। এতে খুঁটিটি ভেঙে পড়ে এবং উচ্চ ভোল্টেজের বিদ্যুৎ লাইন ছিঁড়ে সড়কের ওপর পড়ে যায়। এ সময় নিজের গাড়িতে ওই পথ দিয়ে যাচ্ছিলেন ফুরকান আলান। দুর্ঘটনা দেখে তিনি গাড়ি থামিয়ে আহত চালককে সহায়তা করতে এগিয়ে যান। তিনি জরুরি সেবা বিভাগে ফোন করেন এবং আহত ব্যক্তিকে প্রাথমিকভাবে সাহায্য করার চেষ্টা করছিলেন। পুলিশের প্রাথমিক তদন্তে জানা যায়, ফোনে কথা বলতে বলতে আহত ব্যক্তির কাছে যাওয়ার সময় ফুরকান অসাবধানতাবশত সড়কে পড়ে থাকা উচ্চ ভোল্টেজের বৈদ্যুতিক তারের ওপর পা দেন। সঙ্গে সঙ্গে তিনি বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হন। খবর পেয়ে জরুরি উদ্ধারকর্মী ও চিকিৎসকরা দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছান। তারা আহত চালক এবং ফুরকান দুজনকেই উদ্ধারের চেষ্টা করেন। তবে চিকিৎসকেরা ঘটনাস্থলেই ফুরকানকে মৃত ঘোষণা করেন। অন্যদিকে আহত চালককে প্রাথমিক চিকিৎসা দিয়ে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। তার চিকিৎসা চলছে। ঘটনার পর পুলিশ ও প্রসিকিউটর ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন। তদন্ত শেষে ময়নাতদন্তের জন্য ফুরকানের মরদেহ মুদানিয়া স্টেট হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়। স্থানীয় গণমাধ্যমের তথ্যমতে, ফুরকান মাত্র এক সপ্তাহ আগে বিয়ে করেছিলেন। স্ত্রীকে নিয়ে হানিমুন শেষে ঘটনার মাত্র একদিন আগে বুরসায় ফিরেছিলেন। দুর্ঘটনার দিন তিনি কর্মস্থল থেকে নিজের ভাইকে আনতে যাচ্ছিলেন। ফুরকানের পরিবার জানিয়েছে, তিনি সব সময় অন্যের পাশে দাঁড়াতে চেষ্টা করতেন। তাদের ভাষায়, "তিনি এমন একজন মানুষ ছিলেন, যিনি বিপদে কাউকে ফেলে রেখে চলে যেতে পারতেন না। অন্যরা যেখানে হয়তো চলে যেত, সেখানে তিনি থেমে সাহায্যের হাত বাড়িয়েছিলেন।" এই হৃদয়বিদারক ঘটনার পর বুরসায় তার জানাজা ও দাফন সম্পন্ন হয়েছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও অনেকেই তার মানবিকতা ও আত্মত্যাগের প্রশংসা করেছেন। বিশেষজ্ঞরা মনে করিয়ে দেন, সড়ক দুর্ঘটনার পর যদি বিদ্যুতের খুঁটি বা বৈদ্যুতিক তার ক্ষতিগ্রস্ত হয়, তাহলে উদ্ধারকাজে এগিয়ে যাওয়ার আগে অবশ্যই নিরাপদ দূরত্ব বজায় রাখতে হবে এবং বিদ্যুৎ সরবরাহ বন্ধ না হওয়া পর্যন্ত ছিঁড়ে পড়া তারের কাছাকাছি যাওয়া থেকে বিরত থাকতে হবে। কারণ উচ্চ ভোল্টেজের বিদ্যুৎ লাইন অত্যন্ত প্রাণঘাতী হতে পারে।
ন্যাটো সম্মেলনে তুর্কি প্রেসিডেন্টের বক্তব্য; মধ্যপ্রাচ্যে উত্তেজনার মূল কারণ হিসেবে ফিলিস্তিন ইস্যুর কথা উল্লেখ মধ্যপ্রাচ্যে স্থায়ী শান্তি প্রতিষ্ঠার একমাত্র উপায় হলো দ্বিরাষ্ট্রভিত্তিক সমাধান বলে মন্তব্য করেছেন তুরস্কের প্রেসিডেন্ট রিসেপ তাইয়েপ এরদোয়ান। তিনি বলেছেন, ১৯৬৭ সালের সীমানার ভিত্তিতে স্বাধীন, সার্বভৌম ও ভৌগোলিকভাবে অখণ্ড একটি ফিলিস্তিনি রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠা ছাড়া এ অঞ্চলে দীর্ঘমেয়াদি শান্তি সম্ভব নয়। সোমবার (২৯ জুন) তুরস্কের রাজধানী আঙ্কারায় অনুষ্ঠিত ন্যাটো শীর্ষ সম্মেলনে দেওয়া বক্তব্যে এসব কথা বলেন এরদোয়ান। কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আল জাজিরা এ তথ্য জানিয়েছে। এরদোয়ান বলেন, মধ্যপ্রাচ্যে চলমান উত্তেজনার মূল কারণ ফিলিস্তিন ইস্যু। তিনি ন্যাটোর সদস্য দেশগুলোর প্রতি দ্বিরাষ্ট্রভিত্তিক সমাধান বাস্তবায়নে সক্রিয় ভূমিকা রাখার আহ্বান জানান। তিনি বলেন, ইসরায়েলের ক্রমবর্ধমান ভূমি দখল ও বসতি স্থাপন বন্ধ না হলে এ অঞ্চলে স্থায়ী শান্তি প্রতিষ্ঠা সম্ভব নয়। ন্যাটোকে সামনে রেখে বৈশ্বিক নিরাপত্তা পরিস্থিতির কথাও তুলে ধরেন তুরস্কের প্রেসিডেন্ট। তিনি বলেন, ইউরো-আটলান্টিক নিরাপত্তা বর্তমানে একটি ঐতিহাসিক সন্ধিক্ষণে রয়েছে। জোটের পূর্ব ও দক্ষিণ-পূর্ব সীমান্তে যুদ্ধ, সংকট, সন্ত্রাসবাদ এবং অনিয়মিত অভিবাসনের কারণে ন্যাটোকে তার নিরাপত্তা কৌশল পুনর্গঠন করতে হচ্ছে। এরদোয়ান বলেন, পুরোনো নিরাপত্তা ধারণা ও কাঠামো একে একে ভেঙে পড়ছে। কিন্তু তার পরিবর্তে কী ধরনের নতুন ব্যবস্থা গড়ে উঠবে, তা এখনো স্পষ্ট নয়। ফলে বিশ্ব ক্রমেই আরও বেশি উত্তেজনা, অনিশ্চয়তা ও অস্থিতিশীলতার দিকে এগিয়ে যাচ্ছে। তিনি আরও বলেন, বৈশ্বিক রাজনীতি ও আন্তর্জাতিক ব্যবস্থাকে ব্যাখ্যা করতে ব্যবহৃত প্রচলিত ধারণাগুলোর অনেকটাই এখন কার্যকারিতা হারিয়েছে। বিশেষ করে গাজা ও লেবাননের সাম্প্রতিক ঘটনাগুলো মানবতার বিবেককে নাড়া দেওয়ার পাশাপাশি আন্তর্জাতিক প্রতিষ্ঠানগুলোর বিশ্বাসযোগ্যতাকেও প্রশ্নের মুখে ফেলেছে। ন্যাটোর প্রতিরোধক্ষমতা বজায় রাখা এবং সদস্য দেশগুলোর মধ্যে সংহতি আরও জোরদারের আহ্বান জানিয়ে এরদোয়ান বলেন, টেক্সাস থেকে আঙ্কারা পর্যন্ত বিস্তৃত একটি নিঃশর্ত নিরাপত্তা ও প্রতিরক্ষা নেটওয়ার্ক গড়ে তোলা প্রয়োজন। তিনি আরও বলেন, যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে যুদ্ধবিরতি যাতে স্থায়ী সমাধানে রূপ নেয়, সে লক্ষ্যে তুরস্ক পাকিস্তান, কাতার এবং অন্যান্য মিত্র দেশের সঙ্গে কাজ চালিয়ে যাবে। পাশাপাশি লেবাননসহ অঞ্চলের সাম্প্রতিক হামলাগুলোর ওপরও নিবিড় নজর রাখছে আঙ্কারা। এরদোয়ান বলেন, ‘গণহত্যাকারী গোষ্ঠীর উসকানিকে কোনোভাবেই সুযোগ দেওয়া উচিত নয়। তারা আমাদের অঞ্চলে স্থিতিশীলতা প্রতিষ্ঠা সহ্য করতে পারে না, বরং এটিকে নিজেদের নিরাপত্তার জন্যও হুমকি হিসেবে দেখে।’
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রশাসন তুরস্কের কাছে ৭০০ মিলিয়ন ডলারেরও বেশি মূল্যের কয়েক ডজন জেট ইঞ্জিন বিক্রির পরিকল্পনা আনুষ্ঠানিকভাবে কংগ্রেসকে জানিয়েছে। তবে এই সিদ্ধান্ত ঘিরে ইতোমধ্যে কংগ্রেসের ভেতরে মতবিরোধ দেখা দিয়েছে, বিশেষ করে ডেমোক্র্যাট আইনপ্রণেতাদের একটি অংশ এর বিরোধিতা করছেন। বার্তা সংস্থা রয়টার্সের খবরে জানা যায়, ২০১৯ সালে রাশিয়ার কাছ থেকে এস-৪০০ আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা কেনার কারণে তুরস্কের ওপর যুক্তরাষ্ট্রের আরোপিত নিষেধাজ্ঞা এবং কংগ্রেসের পূর্ববর্তী আপত্তি সত্ত্বেও ট্রাম্প প্রশাসন এই চুক্তি এগিয়ে নিতে চাইছে। বুধবার রাতে কংগ্রেসে পাঠানো এক বিজ্ঞপ্তিতে মার্কিন পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানায়, রাজনৈতিক, সামরিক, অর্থনৈতিক, মানবাধিকার এবং অস্ত্র নিয়ন্ত্রণসহ বিভিন্ন বিষয় পর্যালোচনা করেই এই রপ্তানি লাইসেন্স অনুমোদনের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। প্রশাসনের ভাষ্য অনুযায়ী, যুক্তরাষ্ট্রের জাতীয় স্বার্থ ও মিত্র দেশের সঙ্গে প্রতিরক্ষা সহযোগিতা জোরদার করাই এই উদ্যোগের লক্ষ্য। আগামী মাসে তুরস্কের রাজধানী আঙ্কারায় অনুষ্ঠেয় ন্যাটো সম্মেলনের আগে এই পদক্ষেপকে কূটনৈতিক দৃষ্টিকোণ থেকে গুরুত্বপূর্ণ হিসেবে দেখা হচ্ছে। বিশ্লেষকদের মতে, এটি তুরস্কের প্রেসিডেন্ট রিসেপ তাইয়েপ এরদোয়ানের প্রতি ওয়াশিংটনের সদিচ্ছার বার্তা হতে পারে। ট্রাম্প প্রশাসন দীর্ঘদিন ধরেই তুরস্ককে ন্যাটোর একটি গুরুত্বপূর্ণ মিত্র হিসেবে বিবেচনা করে আসছে। তবে কংগ্রেস চাইলে আগামী ১৫ দিনের মধ্যে যৌথ প্রস্তাব এনে এই বিক্রয় চুক্তি আটকে দিতে পারে। যদিও এমন প্রস্তাব কার্যকর করতে হলে প্রতিনিধি পরিষদ ও সিনেট—উভয় কক্ষেই তা অনুমোদন পেতে হবে। এরপরও প্রেসিডেন্টের ভেটো দেওয়ার ক্ষমতা থাকায় চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নিয়ে অনিশ্চয়তা থেকেই যাচ্ছে। প্রতিনিধি পরিষদের পররাষ্ট্রবিষয়ক কমিটির শীর্ষ ডেমোক্র্যাট সদস্য গ্রেগরি মিকস এই চুক্তির কড়া সমালোচনা করেছেন। তার অভিযোগ, তুরস্কের এস-৪০০ ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবস্থা এবং যুক্তরাষ্ট্র-তুরস্ক সম্পর্কের ভবিষ্যৎ নিয়ে প্রশাসন পর্যাপ্ত ব্যাখ্যা দিতে ব্যর্থ হয়েছে। মিকস বলেন, “এই ধরনের সামরিক সরঞ্জাম সরবরাহ করতে কয়েক বছর সময় লাগে। অথচ প্রশাসন আমাদের নীতিগত গুরুত্বপূর্ণ উদ্বেগগুলোর সন্তোষজনক জবাব দিতে পারছে না।” এদিকে ট্রাম্প নিজেও বুধবার সাংবাদিকদের বলেন, তুরস্ককে খুশি করবে—এমন কিছু সিদ্ধান্ত তিনি নিতে যাচ্ছেন, যা এই চুক্তির সঙ্গে সম্পর্কিত হতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। জানা গেছে, যুক্তরাষ্ট্রের বহুজাতিক প্রতিষ্ঠান জেনারেল ইলেকট্রিক (জিই)-এর তৈরি এসব ইঞ্জিন তুরস্কের নিজস্ব প্রযুক্তিতে নির্মাণাধীন পঞ্চম প্রজন্মের যুদ্ধবিমান ‘কান’ (KAAN)-এ ব্যবহারের পরিকল্পনা রয়েছে। ২০১৬ সালে শুরু হওয়া এই প্রকল্পের লক্ষ্য হলো প্রতিরক্ষা খাতে বিদেশি নির্ভরতা কমিয়ে দেশীয় সক্ষমতা বৃদ্ধি করা। তবে তুর্কি কর্মকর্তারা স্বীকার করেছেন, তাদের বিমানবাহিনীর প্রধান শক্তি হিসেবে থাকা মার্কিন এফ-১৬ যুদ্ধবিমান পুরোপুরি প্রতিস্থাপন করতে আরও কয়েক বছর সময় লাগবে। প্রসঙ্গত, ২০১৯ সালে রাশিয়ার এস-৪০০ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা কেনার পর যুক্তরাষ্ট্র-তুরস্ক সম্পর্কের অবনতি ঘটে। এর জেরে ওয়াশিংটন আঙ্কারার ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করে এবং তুরস্ককে এফ-৩৫ যুদ্ধবিমান কর্মসূচি থেকে বাদ দেয়। একই সঙ্গে কংগ্রেস আইন পাস করে, যাতে এস-৪০০ ব্যবস্থা বহাল থাকা পর্যন্ত তুরস্কের কাছে এফ-৩৫ বিক্রি নিষিদ্ধ থাকে। এ অবস্থায় নতুন করে জেট ইঞ্জিন বিক্রির উদ্যোগকে অনেকেই দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের নতুন পরীক্ষার মুখ হিসেবে দেখছেন। বৃহস্পতিবার আরও কয়েকজন ডেমোক্র্যাট আইনপ্রণেতা এই পরিকল্পনার বিরোধিতা করেন। প্রতিনিধি ক্রিস পাপাস বলেন, “মার্কিন আইন লঙ্ঘনের পরও এরদোয়ান সরকারকে কোনোভাবেই পুরস্কৃত করা উচিত নয়।” তিনি তুরস্ককে এফ-৩৫ যুদ্ধবিমান না দেওয়ার আহ্বানও জানান। অন্যদিকে প্রতিনিধি ডিনা টাইটাস সতর্ক করে বলেন, প্রশাসন যদি এই পরিকল্পনা এগিয়ে নেয়, তবে তিনি কংগ্রেসে প্রস্তাব এনে জেট ইঞ্জিন বিক্রি ঠেকানোর উদ্যোগ নেবেন। সব মিলিয়ে, তুরস্ককে জেট ইঞ্জিন বিক্রির এই উদ্যোগ যুক্তরাষ্ট্রের অভ্যন্তরীণ রাজনীতিতেই নতুন বিতর্কের জন্ম দিয়েছে, যার প্রভাব ভবিষ্যৎ কূটনৈতিক সম্পর্কেও পড়তে পারে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।
আগের দুই ম্যাচে হেরে বিশ্বকাপ থেকে বিদায় নিশ্চিত হয়ে গিয়েছিল তুরস্কের। অন্যদিকে প্রথম দুই ম্যাচে টানা জয় তুলে নিয়ে রাউন্ড অব ৩২ নিশ্চিত করেছিল স্বাগতিক যুক্তরাষ্ট্র। ফলে শেষ গ্রুপ ম্যাচটি ছিল তুরস্কের জন্য সম্মান রক্ষার লড়াই, আর যুক্তরাষ্ট্রের জন্য গ্রুপপর্ব অপরাজিত থেকে শেষ করার সুযোগ। তবে নাটকীয় এক ম্যাচে শেষ হাসি হেসেছে তুরস্ক। যোগ করা সময়ের একেবারে শেষ মুহূর্তের গোলে স্বাগতিকদের ৩-২ ব্যবধানে হারিয়ে সান্ত্বনার জয় নিয়ে বিশ্বকাপ মিশন শেষ করেছে তারা। লস অ্যাঞ্জেলেসে অনুষ্ঠিত ম্যাচটি দেখতে উপস্থিত ছিলেন হলিউড তারকা ব্র্যাড পিট, এডওয়ার্ড নর্টন ও ওয়েন উইলসন। উৎসবমুখর পরিবেশে শুরু হওয়া ম্যাচে শুরুতেই এগিয়ে যায় যুক্তরাষ্ট্র। ম্যাচের মাত্র ২ মিনিট ১৩ সেকেন্ডে কর্নার থেকে পাওয়া বল নিচু শটে জালে পাঠিয়ে গোল করেন সেল্টিকের ডিফেন্ডার অস্টন ট্রাস্টি। এটি বিশ্বকাপে যুক্তরাষ্ট্রের ইতিহাসে দ্বিতীয় দ্রুততম গোল। এর আগে ২০১৪ বিশ্বকাপে ঘানার বিপক্ষে ৩০ সেকেন্ডে গোল করেছিলেন ক্লিন্ট ডেম্পসি। তবে দ্রুতই ম্যাচে ফিরে আসে তুরস্ক। বারিস আলপার ইলমাজের চমৎকার ব্যাকহিল পাস থেকে কাছ থেকে বল জালে জড়িয়ে চলতি বিশ্বকাপে দলের প্রথম গোল করেন আরদা গুলের। এরপর বাঁ দিক থেকে গড়ে ওঠা আক্রমণে অরকুন ককচুর শট বারিস আলপার ইলমাজের গায়ে লেগে জালে ঢুকে গেলে ২-১ ব্যবধানে এগিয়ে যায় তুরস্ক। এই গোলের আক্রমণ তৈরিতেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখেন আরদা গুলের। বিরতির পর আরও আক্রমণাত্মক ফুটবল খেলতে শুরু করে যুক্তরাষ্ট্র। এর ফলও পায় তারা। ২০ গজ দূর থেকে সেবাস্টিয়ান বারহাল্টারের দুর্দান্ত শটে সমতায় ফেরে স্বাগতিকরা। এরপর জয়ের জন্য মরিয়া হয়ে ওঠে যুক্তরাষ্ট্র। বদলি হিসেবে মাঠে নামা ক্রিস্টিয়ান পুলিসিচ একাধিকবার গোলের সুযোগ তৈরি করেন। এর মধ্যে একটি শক্তিশালী শট অসাধারণ দক্ষতায় রক্ষা করেন তুরস্কের গোলরক্ষক উগুরচান চাকির। অন্যদিকে তুরস্কও পাল্টা আক্রমণে সুযোগ সৃষ্টি করতে থাকে। কেনান ইলদিজের বাঁকানো শট অল্পের জন্য লক্ষ্যভ্রষ্ট হয়। বারিস আলপার ইলমাজও একটি নিশ্চিত সুযোগ নষ্ট করেন। তবে যোগ করা সময়ের একেবারে শেষ মুহূর্তে কান উজুনের ছোঁয়া থেকে আসা বল জালে পাঠিয়ে তুরস্ককে ৩-২ ব্যবধানের নাটকীয় জয় এনে দেন কান আয়হান। এই জয়েও অবশ্য টুর্নামেন্টে তুরস্কের ভাগ্য বদলায়নি। দুই হার ও এক জয় নিয়ে তারা গ্রুপের তলানিতে থেকেই বিশ্বকাপ শেষ করেছে। অন্যদিকে প্রথম দুই ম্যাচে জয় পাওয়ায় গ্রুপসেরা হিসেবেই নকআউট পর্বে উঠেছে যুক্তরাষ্ট্র। আগামী ২ জুলাই ক্যালিফোর্নিয়ার সান্তা ক্লারায় রাউন্ড অব ৩২-এ বসনিয়া ও হার্জেগোভিনার মুখোমুখি হবে স্বাগতিকরা।
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প দাবি করেছেন, যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েল যৌথ বাহিনীর বিরুদ্ধে ইরানের হয়ে রাশিয়া, চীন ও তুরস্ক যুদ্ধে জড়িয়ে পড়ার সম্ভাবনা ছিল। তবে তার ব্যক্তিগত কূটনৈতিক উদ্যোগের কারণেই এই তিন দেশ সংঘাত থেকে দূরে থেকেছে। ওয়াশিংটনে গণমাধ্যমের সঙ্গে আলাপকালে ট্রাম্প বলেন, মধ্যপ্রাচ্যের উত্তেজনাপূর্ণ পরিস্থিতিতে বিশ্বের প্রভাবশালী তিন নেতার সঙ্গে তিনি সরাসরি যোগাযোগ করেছিলেন। তার মতে, রাশিয়া, চীন ও তুরস্কের নিরপেক্ষ অবস্থান সম্ভাব্য বৃহত্তর আঞ্চলিক যুদ্ধ এড়াতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে। তুরস্কের প্রেসিডেন্ট রিসেপ তাইয়েপ এরদোয়ানের প্রসঙ্গে ট্রাম্প বলেন, ইসরায়েলের প্রতি এরদোয়ানের অবস্থানের কারণে তিনি চাইলে ইরানের পক্ষে সরাসরি ভূমিকা নিতে পারতেন। তবে ট্রাম্পের অনুরোধে তিনি সংঘাত থেকে দূরে থাকেন। ট্রাম্প এরদোয়ানকে একজন শক্তিশালী ও দূরদর্শী নেতা হিসেবেও উল্লেখ করেন। চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংয়ের ভূমিকাও প্রশংসা করেন ট্রাম্প। তিনি বলেন, মধ্যপ্রাচ্য থেকে চীনের বিপুল জ্বালানি আমদানি হওয়ায় বেইজিংয়ের এই সংঘাতে জড়ানোর অর্থনৈতিক কারণ ছিল। কিন্তু তার অনুরোধে শি জিনপিংও নিরপেক্ষ অবস্থান বজায় রেখেছেন। রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন সম্পর্কেও ট্রাম্প বলেন, পুতিন এই সংঘাত থেকে দূরে ছিলেন। যদিও বর্তমানে রাশিয়ার নিজস্ব বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ ইস্যু রয়েছে, তারপরও তিনি মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধে জড়াননি। ট্রাম্পের ভাষায়, বিশ্বের তিনটি শক্তিধর দেশের এই নিরপেক্ষ অবস্থান ছিল “অবিশ্বাস্য” এবং “চমকপ্রদ” একটি কূটনৈতিক সাফল্য। তিনি মনে করেন, তাদের এই সিদ্ধান্ত বৃহত্তর আন্তর্জাতিক সংঘাতের ঝুঁকি কমিয়েছে। সূত্র: তাস
আসন্ন ন্যাটো শীর্ষ সম্মেলনের আগেই তুরস্কের প্রতি বন্ধুত্বের এক বড় বার্তা দিতে যাচ্ছে যুক্তরাষ্ট্রের ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রশাসন। মার্কিন কংগ্রেসের আপত্তি থাকা সত্ত্বেও আঙ্কারার কাছে কয়েকশ মিলিয়ন ডলার মূল্যের যুদ্ধবিমানের ইঞ্জিন বিক্রির উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। বুধবার এই বিষয়ের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট চারটি সূত্র নিশ্চিত করেছে যে, চুক্তিটি চূড়ান্ত হওয়ার পথে রয়েছে। জানা গেছে, ৭০০ মিলিয়ন ডলারেরও বেশি মূল্যের এই প্যাকেজের আওতায় তুরস্কের কাছে বেশ কয়েক ডজন ইঞ্জিন বিক্রি করা হবে। স্বনামধন্য প্রতিষ্ঠান জেনারেল ইলেকট্রিক (জিই)-এর তৈরি এই ইঞ্জিনগুলো তুরস্কের নিজস্ব প্রযুক্তিতে তৈরি প্রথম যুদ্ধবিমান 'কান' (Kaan)-এ ব্যবহৃত হবে। প্রতিরক্ষাক্ষেত্রে স্বয়ংসম্পূর্ণতা অর্জনের লক্ষ্যে ন্যাটো সদস্য তুরস্ক ২০১৬ সালে এই মেগা প্রকল্পটির সূচনা করেছিল। ডোনাল্ড ট্রাম্পের শাসনামলে যুক্তরাষ্ট্র ও তুরস্কের মধ্যে সাধারণত উষ্ণ সম্পর্কই বজায় ছিল। ট্রাম্প একাধিকবার তুর্কি প্রেসিডেন্ট রিসেপ তাইয়েপ এরদোগানের প্রশংসাও করেছেন। তবে, আঙ্কারা রাশিয়ার কাছ থেকে এস-৪০০ আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা ক্রয় করার পর যুক্তরাষ্ট্র তাদের এফ-৩৫ যুদ্ধবিমান প্রকল্প থেকে তুরস্ককে বাদ দেয় এবং নিষেধাজ্ঞা আরোপ করে, যা দুই দেশের সম্পর্কে বড় ধরনের ফাটল ধরিয়েছিল। মার্কিন প্রতিনিধি পরিষদের পররাষ্ট্র বিষয়ক কমিটির শীর্ষ ডেমোক্র্যাট সদস্য গ্রেগরি মিকস এই নতুন ইঞ্জিন চুক্তির অনানুষ্ঠানিক পর্যালোচনা চলাকালীন আপত্তি তুলেছিলেন এবং এখনও এর পক্ষে সবুজ সংকেত দেননি। তা সত্ত্বেও আগামী কয়েক দিনের মধ্যেই চুক্তিটি চূড়ান্ত হবে বলে আশা করা হচ্ছে এবং এরপর মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তর কংগ্রেসকে আনুষ্ঠানিকভাবে বিষয়টি অবহিত করবে। প্রায় এক বছর আগে তুর্কি পররাষ্ট্রমন্ত্রী হাকান ফিদান এই ইঞ্জিন বিক্রির প্রক্রিয়াটি আটকে থাকা নিয়ে প্রকাশ্যে অসন্তোষ প্রকাশ করেছিলেন। দীর্ঘ প্রতীক্ষার পর অবশেষে সেই জট খুলতে চলেছে। উল্লেখ্য, আগামী ৭ ও ৮ জুলাই তুরস্কে ন্যাটো নেতাদের শীর্ষ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে। জোটে ব্যয়ভার বণ্টন, প্রতিরক্ষা খাতে বরাদ্দ এবং যুক্তরাষ্ট্র-ইরান যুদ্ধের সময় হরমুজ প্রণালী নিরাপদ রাখার বিষয়ে মিত্রদের ভূমিকা নিয়ে বিদ্যমান উত্তেজনার মাঝেই এই সম্মেলন আয়োজিত হতে যাচ্ছে।
দীর্ঘদিনের রাজনৈতিক দূরত্ব কাটিয়ে সম্পর্ক স্বাভাবিক করার প্রক্রিয়ার মধ্যে এবার সামরিক সহযোগিতার ক্ষেত্রেও নতুন পদক্ষেপ নিয়েছে মিসর ও তুরস্ক। দুই দেশ যৌথ বিমান বাহিনীর মহড়া শুরু করেছে, যা সাম্প্রতিক বছরগুলোতে তাদের প্রতিরক্ষা সহযোগিতার অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ উদ্যোগ হিসেবে দেখা হচ্ছে। মিসরের সশস্ত্র বাহিনী বৃহস্পতিবার এক বিবৃতিতে জানায়, দেশটির একাধিক বিমানঘাঁটিতে তুরস্কের বিমান বাহিনীর অংশগ্রহণে যৌথ প্রশিক্ষণ কর্মসূচি শুরু হয়েছে। সামরিক বাহিনীর ভাষ্য অনুযায়ী, দুই দেশের মধ্যে প্রতিরক্ষা সহযোগিতা জোরদার করা এবং যৌথ অভিযানে সমন্বয় সক্ষমতা বাড়ানোর লক্ষ্যেই এই মহড়ার আয়োজন করা হয়েছে। মিসরের সামরিক মুখপাত্র জানান, প্রশিক্ষণ কার্যক্রমে উভয় দেশের বহুমুখী যুদ্ধবিমান অংশ নিচ্ছে। কয়েক দিনব্যাপী চলা এই মহড়ায় আধুনিক নিরাপত্তা ও যুদ্ধক্ষেত্রের বিভিন্ন চ্যালেঞ্জ মোকাবিলার অনুশীলন অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। মহড়ার প্রথম ধাপে দুই দেশের পাইলট ও বিমান বাহিনীর সদস্যদের মধ্যে তাত্ত্বিক আলোচনা, পেশাগত মতবিনিময় এবং অভিজ্ঞতা বিনিময়ের আয়োজন করা হয়। এর মাধ্যমে যৌথ অভিযানের ধারণা ও কৌশলগত সমন্বয় আরও সুসংহত করার চেষ্টা চলছে। পরবর্তী ধাপে বাস্তব প্রশিক্ষণ কার্যক্রম শুরু হয়। এতে মিসর ও তুরস্কের পাইলটরা যৌথভাবে প্রশিক্ষণ উড্ডয়ন পরিচালনা করছেন এবং বিভিন্ন কল্পিত সামরিক পরিস্থিতিতে সমন্বিত অভিযান পরিচালনার অনুশীলন করছেন। সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের মতে, এসব কার্যক্রমের মূল লক্ষ্য হলো যৌথ অভিযানে পারস্পরিক সক্ষমতা বৃদ্ধি এবং কৌশলগত সমন্বয় আরও কার্যকর করা। মিসরের সামরিক বাহিনী বলেছে, এই মহড়া অংশগ্রহণকারী সদস্যদের দক্ষতা উন্নয়ন, যুদ্ধ প্রস্তুতি বৃদ্ধি এবং ভিন্ন ভিন্ন পরিস্থিতিতে যৌথ বিমান অভিযান পরিচালনার সক্ষমতা শক্তিশালী করতে সহায়তা করবে। বিশ্লেষকদের মতে, এই যৌথ মহড়া শুধু সামরিক প্রশিক্ষণ নয়, বরং দুই দেশের কূটনৈতিক সম্পর্কের উন্নতিরও একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রতীক। এক সময় আঞ্চলিক বিভিন্ন ইস্যুতে কায়রো ও আঙ্কারার মধ্যে তীব্র মতপার্থক্য ছিল। বিশেষ করে ২০১৩ সালে মিসরের রাজনৈতিক পরিবর্তনের পর দুই দেশের সম্পর্ক উল্লেখযোগ্যভাবে শীতল হয়ে পড়ে। তবে সাম্প্রতিক বছরগুলোতে উভয় দেশ সম্পর্ক পুনর্গঠনের উদ্যোগ নেয়। কূটনৈতিক যোগাযোগ বৃদ্ধি, রাষ্ট্রদূত বিনিময় এবং অর্থনৈতিক সহযোগিতা সম্প্রসারণের মাধ্যমে ধীরে ধীরে সম্পর্ক স্বাভাবিক পর্যায়ে ফিরে আসে। এরই ধারাবাহিকতায় নিরাপত্তা ও প্রতিরক্ষা খাতেও সহযোগিতা বাড়ানোর উদ্যোগ দেখা যাচ্ছে। মধ্যপ্রাচ্য ও পূর্ব ভূমধ্যসাগরীয় অঞ্চলের পরিবর্তিত ভূরাজনৈতিক বাস্তবতায় মিসর ও তুরস্কের এই ঘনিষ্ঠতা আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষকদেরও দৃষ্টি আকর্ষণ করেছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, দুই দেশের মধ্যে সামরিক সহযোগিতা বৃদ্ধি আঞ্চলিক নিরাপত্তা, প্রতিরক্ষা কৌশল এবং রাজনৈতিক ভারসাম্যের ওপরও প্রভাব ফেলতে পারে। বর্তমান যৌথ বিমান মহড়া সেই পরিবর্তিত সম্পর্কেরই একটি বাস্তব প্রতিফলন হিসেবে দেখা হচ্ছে। উভয় দেশই আশা করছে, এই ধরনের সহযোগিতা ভবিষ্যতে আরও বিস্তৃত সামরিক ও নিরাপত্তা অংশীদারিত্বের পথ সুগম করবে।
বিশ্ব রাজনীতির প্রেক্ষাপট বদলে দিতে এবার কি তবে আত্মপ্রকাশ করতে যাচ্ছে বহুল আলোচিত ‘মুসলিম ন্যাটো’? পশ্চিম এশিয়া তথা মুসলিম বিশ্বের সামরিক ও নিরাপত্তা কাঠামোকে শক্তিশালী করতে এক বিশাল উদ্যোগ গ্রহণ করেছেন তুরস্কের প্রেসিডেন্ট রিসেপ তাইয়েপ এরদোগান। আগামী সপ্তাহেই তুরস্কে আয়োজিত হতে যাচ্ছে এক মেগা বৈঠক, যেখানে অংশ নিতে যাচ্ছে পাকিস্তান, সৌদি আরব এবং মিশর। তুরস্কের 'আন্তালিয়া ডিপ্লোম্যাসি ফোরাম'-এর সমান্তরালে এই বৈঠকটি অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে। সংবাদ সংস্থা ব্লুমবার্গের প্রতিবেদন অনুযায়ী, তুরস্কের আমন্ত্রণে সাড়া দিয়ে এই তিন দেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রীরা বৈঠকে যোগ দেবেন। মূলত আমেরিকা, চীন কিংবা রাশিয়ার ওপর নির্ভরতা কমিয়ে মুসলিম বিশ্বের শক্তিশালী দেশগুলো যাতে নিজস্ব একটি সামরিক ও নিরাপত্তা বলয় গড়ে তুলতে পারে, সেই লক্ষ্যেই এই উদ্যোগ। ভূ-রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা এই সম্ভাব্য জোটকে 'মুসলিম ন্যাটো' হিসেবে অভিহিত করছেন। এর আগে বৃহস্পতিবার (১৬ এপ্রিল) পাকিস্তানের রাজধানী ইসলামাবাদে এই চার দেশের শীর্ষ কর্মকর্তাদের মধ্যে একটি প্রাথমিক আলোচনা সম্পন্ন হয়েছে। সেখানে পশ্চিম এশিয়ায় দীর্ঘমেয়াদী স্থিতিশীলতা রক্ষা এবং সদস্য দেশগুলোর সার্বভৌমত্ব রক্ষায় যৌথ নিরাপত্তা কৌশলের রূপরেখা নিয়ে আলোচনা হয়। বিশ্লেষকদের মতে, আন্তর্জাতিক আইন মেনে চলা এবং অভ্যন্তরীণ বিষয়ে ভিনদেশের হস্তক্ষেপ না করার নীতির ওপর ভিত্তি করেই এই জোট গঠিত হচ্ছে। যদি এই উদ্যোগ সফল হয়, তবে বিশ্ব রাজনীতিতে পশ্চিমা শক্তির একাধিপত্য চ্যালেঞ্জের মুখে পড়তে পারে। একই সাথে কাশ্মীর ইস্যুসহ বিভিন্ন আঞ্চলিক বিষয়ে দক্ষিণ এশিয়ায় নতুন মেরুকরণ তৈরি হওয়ার সম্ভাবনাও দেখছেন বিশেষজ্ঞরা।
ফিলিস্তিনিদের ওপর পদ্ধতিগত নিপীড়ন এবং বর্ণবাদী নীতি অনুসরণের অভিযোগে ইসরায়েলকে জাতিসংঘ (UN) থেকে স্থগিত করার জোরালো আহ্বান জানিয়েছেন তুরস্কের পার্লামেন্ট স্পিকার নুমান কুর্তুলমুস। ইস্তাম্বুলে আয়োজিত ১৫২তম ইন্টার-পার্লামেন্টারি ইউনিয়ন (IPU) অ্যাসেম্বলির উদ্বোধনী অধিবেশনে তিনি এই দাবি উত্থাপন করেন। তুরস্কের রাষ্ট্রীয় সংবাদ সংস্থা আনাদোলুর বরাতে জানা গেছে, কুর্তুলমুস তার ভাষণে দক্ষিণ আফ্রিকার বর্ণবাদবিরোধী আন্দোলনের ইতিহাসের কথা স্মরণ করিয়ে দেন। তিনি উল্লেখ করেন যে, ১৯৭৪ সালে বর্ণবাদী নীতির কারণে যেভাবে দক্ষিণ আফ্রিকাকে জাতিসংঘ থেকে স্থগিত করা হয়েছিল, বর্তমান পরিস্থিতিতে ইসরায়েলের বিরুদ্ধেও একই ধরনের ব্যবস্থা নেওয়া উচিত। তিনি বলেন, ইসরায়েল বর্তমানে ফিলিস্তিনিদের জন্য পৃথক আইন এবং বৈষম্যমূলক ব্যবস্থা চালু রেখেছে, যা স্পষ্টত একটি বর্ণবাদী বা 'অ্যাপার্থাইড' ব্যবস্থার প্রতিফলন। ইসরায়েলি বাহিনীর অব্যাহত হামলা ও গণহত্যামূলক কর্মকাণ্ডের তীব্র সমালোচনা করে তিনি বলেন, আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়কে এখনই কঠোর পদক্ষেপ নিতে হবে। অন্যথায় বর্তমান বৈশ্বিক ব্যবস্থার গ্রহণযোগ্যতা চরম সংকটের মুখে পড়বে। কুর্তুলমুস আরও সতর্ক করে বলেন, আন্তর্জাতিক আইন প্রয়োগে ব্যর্থতা বিশ্বশান্তির জন্য বড় হুমকি হয়ে দাঁড়িয়েছে। ফিলিস্তিনি ভূখণ্ডে ইসরায়েলি দখলদারিত্ব, নির্বিচারে আটক এবং অমানবিক আচরণের বিরুদ্ধে সোচ্চার হওয়ার জন্য তিনি বিশ্বনেতাদের প্রতি আহ্বান জানান।
মধ্যপ্রাচ্যের চলমান সংঘাত নিরসনে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে গঠনমূলক আলোচনার ওপর গুরুত্বারোপ করেছে তুরস্ক। দেশটি বলেছে, যুদ্ধবিরতিকে স্থায়ী শান্তিতে রূপ দিতে সংলাপের বিকল্প নেই এবং এ প্রক্রিয়ায় তারা সমর্থন অব্যাহত রাখবে।' আল জাজিরার খবরে বলা হয়েছে, ন্যাটো সদস্য ও ইরানের প্রতিবেশী তুরস্ক ইতোমধ্যে যুক্তরাষ্ট্র, ইরান এবং মধ্যস্থতাকারী পাকিস্তানের সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ বজায় রাখছে। দেশটি শুরু থেকেই যুদ্ধ বন্ধের আহ্বান জানিয়ে আসছে। তুরস্কের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় সাপ্তাহিক ব্রিফিংয়ে জানায়, চলমান যুদ্ধবিরতি ধরে রেখে তা স্থায়ী শান্তিতে পরিণত করতে প্রয়োজনীয় সহায়তা দিতে প্রস্তুত রয়েছে আঙ্কারা। একই সঙ্গে সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলোকে আলোচনায় গঠনমূলক ভূমিকা পালনের আহ্বান জানানো হয়েছে। কূটনৈতিক সূত্রগুলো জানিয়েছে, চলমান সংলাপকে আরও এগিয়ে নিতে আঞ্চলিক পর্যায়ে সমন্বয় বাড়ানো হচ্ছে। এ প্রেক্ষাপটে তুরস্ক, পাকিস্তান, সৌদি আরব ও মিশরের পররাষ্ট্রমন্ত্রীরা সপ্তাহের শেষে তুরস্কের দক্ষিণাঞ্চলীয় প্রদেশ আনতালিয়ায় একটি কূটনৈতিক ফোরামের ফাঁকে বৈঠকে বসতে পারেন। এদিকে পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফ কাতার সফর শেষে তুরস্কে যাওয়ার কথা রয়েছে। ধারণা করা হচ্ছে, আঞ্চলিক শক্তিগুলোর এই ধারাবাহিক যোগাযোগ ও কূটনৈতিক তৎপরতা ইরান–যুক্তরাষ্ট্র সংলাপকে এগিয়ে নিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। বিশ্লেষকদের মতে, বর্তমান পরিস্থিতিতে যুদ্ধবিরতি টিকিয়ে রাখা এবং তা দীর্ঘমেয়াদি সমাধানে রূপ দিতে বহুপাক্ষিক কূটনীতি ক্রমেই গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠছে।
উগান্ডার সেনাপ্রধান জেনারেল মুহুজি কাইনেরুগাবা তুরস্কের কাছে এক অদ্ভুত ও নজিরবিহীন দাবি জানিয়ে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে শোরগোল ফেলে দিয়েছেন। তিনি সোমালিয়ায় উগান্ডার দীর্ঘদিনের সামরিক অভিযানের ‘পুরস্কার’ হিসেবে তুরস্কের কাছে ১০০ কোটি মার্কিন ডলার এবং সেই দেশের সবচাইতে সুন্দরী নারীকে স্ত্রী হিসেবে দাবি করেছেন। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্স-এ (সাবেক টুইটার) দেওয়া এক পোস্টে তিনি এই আল্টিমেটাম দেন। জেনারেল মুহুজি অভিযোগ করেন, সোমালিয়ায় উগান্ডার সেনারা জীবনের ঝুঁকি নিয়ে শান্তি রক্ষা করলেও এর বাণিজ্যিক সুবিধা ভোগ করছে তুরস্ক। তিনি স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন, আগামী ৩০ দিনের মধ্যে এই দাবি মানা না হলে উগান্ডায় অবস্থিত তুর্কি দূতাবাস বন্ধ করে দেওয়া হবে এবং তুর্কি এয়ারলাইনসের ফ্লাইট উগান্ডার আকাশসীমায় নিষিদ্ধ করা হবে। এমনকি তিনি উগান্ডার নাগরিকদের তুরস্কে ভ্রমণেও নিষেধাজ্ঞা জারির হুমকি দিয়েছেন। উল্লেখ্য, জেনারেল মুহুজি উগান্ডার প্রেসিডেন্ট ইয়োওয়েরি মুসেভেনির ছেলে। ইতিপূর্বেও তিনি ইতালির নারী প্রধানমন্ত্রী জর্জিয়া মেলোনিকে বিয়ের প্রস্তাব দিয়ে এবং বিনিময়ে ১০০টি গরু দেওয়ার ঘোষণা দিয়ে বিতর্কিত হয়েছিলেন। তৎকালীন সময়ে তার এমন আচরণের জন্য প্রেসিডেন্ট মুসেভেনিকে ক্ষমা পর্যন্ত চাইতে হয়েছিল। এবার তুরস্ককে ঘিরে তার এই নতুন দাবি দুই দেশের কূটনৈতিক সম্পর্কে চরম অস্থিরতা তৈরি করেছে।
তুরস্কের ইস্তাম্বুল শহরে ইসরায়েলি কনস্যুলেটের আশপাশে পুলিশের সঙ্গে বন্দুকযুদ্ধে অন্তত দুইজন হামলাকারী নিহত হয়েছেন এবং আরও একজন গুরুতর আহত হয়েছেন। বুধবার স্থানীয় সময় বিভিন্ন গণমাধ্যমের তথ্যের ভিত্তিতে রয়টার্স জানায়, ঘটনাস্থলে কয়েক মিনিট ধরে গুলির শব্দ শোনা যায় এবং পরিস্থিতি দ্রুত উত্তেজনাপূর্ণ হয়ে ওঠে। নিরাপত্তা বাহিনী তাৎক্ষণিকভাবে পাল্টা অবস্থান নিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনার চেষ্টা করে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ভিডিওতে দেখা গেছে, কনস্যুলেট ভবনের সামনে টানা গুলিবর্ষণ চলছে এবং এক ব্যক্তিকে রক্তাক্ত অবস্থায় পড়ে থাকতে দেখা যায়। অন্য কিছু ফুটেজে এক হামলাকারীকে পার্ক করা নিরাপত্তা বাহিনীর গাড়ির আড়াল নিয়ে স্বয়ংক্রিয় রাইফেল ও হ্যান্ডগান দিয়ে গুলি চালাতে দেখা যায়। ঘটনাস্থলের আশপাশে দুইজনের মরদেহ পড়ে থাকতে দেখা গেছে। স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, এ ঘটনায় দুই পুলিশ সদস্যও আহত হয়েছেন। কনস্যুলেটটি ওই এলাকার একটি বহুতল ভবনের ওপরের দিকে অবস্থিত। ২০২৩ সালে হামাস-ইসরায়েল যুদ্ধ শুরুর পর থেকে ওই এলাকায় নিরাপত্তা ব্যবস্থা আরও জোরদার করা হয়েছিল। অন্যদিকে, একটি সূত্র জানিয়েছে, বর্তমানে তুরস্কে কোনো ইসরায়েলি কূটনীতিক অবস্থান করছেন না। তুরস্কের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী মুস্তাফা চিফতচি জানিয়েছেন, হামলায় জড়িত তিনজন একটি উগ্রপন্থী গোষ্ঠীর সঙ্গে সম্পৃক্ত, যারা ধর্মকে অপব্যবহার করে। নিহতদের মধ্যে দুজন সহোদর ছিলেন বলেও তিনি উল্লেখ করেন।
তুরস্কের বাণিজ্যিক রাজধানী ইস্তাম্বুলে অবস্থিত ইসরায়েলি কনস্যুলেটের বাইরে ভয়াবহ এক বন্দুকযুদ্ধের ঘটনা ঘটেছে। মঙ্গলবার (৭ এপ্রিল) সকালে ঘটা এই সংঘর্ষে সন্দেহভাজন তিন হামলাকারী নিহত হয়েছেন। তুর্কি সংবাদমাধ্যম এবং সরকারি সূত্রের বরাত দিয়ে এই তথ্য নিশ্চিত করেছে আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমগুলো। তুরস্কের রাষ্ট্রীয় সম্প্রচার মাধ্যম জানিয়েছে, ইস্তাম্বুলের লেভেন্ট ডিস্ট্রিক্টে অবস্থিত ইসরায়েলি কনস্যুলেট লক্ষ্য করে হঠাৎ গোলাগুলি শুরু হয়। এতে দায়িত্বরত দুই পুলিশ সদস্য গুরুতর আহত হয়েছেন। ঘটনার পরপরই দ্রুত ব্যবস্থা নেয় তুর্কি আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী। পুলিশের পাল্টা গুলিতে ঘটনাস্থলেই তিন হামলাকারী নিহত বা "নিউট্রালাইজড" হয়। তুর্কি চ্যানেল 'হ্যাবারতুর্ক'-এর প্রচারিত ফুটেজে দেখা গেছে, কনস্যুলেট ভবনের চারপাশ ঘিরে রেখেছে পুলিশের বিপুল সংখ্যক সদস্য এবং বিশেষ ইউনিট। পুরো এলাকাটি বর্তমানে নিরাপত্তা বেষ্টনীতে ঢাকা রয়েছে এবং সাধারণের চলাচল বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। এখনও পর্যন্ত কোনো গোষ্ঠী এই হামলার দায় স্বীকার করেনি। আহত পুলিশ সদস্যদের নিকটস্থ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে এবং তাদের অবস্থা আশঙ্কাজনক বলে জানা গেছে। ঘটনার পর ইস্তাম্বুল জুড়ে নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করা হয়েছে। সাম্প্রতিক সময়ে মধ্যপ্রাচ্য পরিস্থিতি নিয়ে উত্তেজনার প্রেক্ষাপটে এই হামলা আন্তর্জাতিক মহলে উদ্বেগের সৃষ্টি করেছে। তুর্কি প্রশাসন জানিয়েছে, এটি কোনো পরিকল্পিত সন্ত্রাসী হামলা কি না তা খতিয়ে দেখতে উচ্চপর্যায়ের তদন্ত শুরু হয়েছে।
তুরস্কের জলসীমায় এক ভয়াবহ নৌকাডুবির ঘটনায় অন্তত ১৮ জন অভিবাসনপ্রত্যাশীর করুণ মৃত্যু হয়েছে। বুধবার ভোরে এজিয়ান সাগর পাড়ি দিয়ে ইউরোপে পৌঁছানোর চেষ্টাকালে এই মর্মান্তিক দুর্ঘটনা ঘটে। কর্তৃপক্ষের তথ্যমতে, একটি মোটরচালিত রাবার বোটে করে অভিবাসনপ্রত্যাশীদের একটি দল সমুদ্র পাড়ি দিচ্ছিল। তুরস্কের কোস্টগার্ড বারবার নৌকাটিকে থামার সংকেত দিলেও চালক তা উপেক্ষা করে দ্রুত গতিতে এগিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করেন। উত্তাল সমুদ্রের ঢেউয়ের তোড়ে একপর্যায়ে নৌকাটিতে পানি ঢুকতে শুরু করে। দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের জনপ্রিয় পর্যটন কেন্দ্র বোদরুমের কাছে নৌকাটি নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে উল্টে যায়। উদ্ধারকারীরা এখন পর্যন্ত ২১ জনকে জীবিত উদ্ধার করতে সক্ষম হয়েছেন। তবে ১৮ জনের মরদেহ উদ্ধার করা হলেও এখনো অনেকে নিখোঁজ রয়েছেন বলে ধারণা করা হচ্ছে। নিখোঁজদের সন্ধানে ওই এলাকায় ব্যাপক তল্লাশি অভিযান চালাচ্ছে কোস্টগার্ড।
যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন। মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়। তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।” ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে। প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন। ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন। প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল। মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি। রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।
২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো। প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে। এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে। অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে। স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে। সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে। সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।
যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে। এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন। নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি। উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।” বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে। এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে। শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়। উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত। এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।
যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে এক মর্মান্তিক ও লোমহর্ষক ঘটনার জন্ম দিয়েছে দুই তরুণী বোন। দিনদুপুরে ক্যারোলিন ‘কারো’ পেনা নামের ৩২ বছর বয়সী এক নারীকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগে তাদের গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। নিহত নারী পাঁচ সন্তানের জননী ছিলেন। তবে সবচেয়ে শিউরে ওঠার মতো বিষয় হলো, গ্রেপ্তারের সময় অভিযুক্তদের চেহারায় অনুশোচনার সামান্যতম ছাপ তো ছিলই না, উল্টো তাদের মুখে পৈশাচিক হাসি দেখা গেছে। মেক্সিকো সীমান্তের কাছের শহর দেল রিও থেকে বৃহস্পতিবার বিকেলে পুলিশ তাদের হাতকড়া পরিয়ে নিয়ে যাওয়ার সময় এই দৃশ্য ক্যামেরায় ধরা পড়ে। আরও পড়ুন... ‘ফোনটা ধরতে পারলে হয়তো তাকে বাঁচাতে পারতাম’- টেক্সাসে পাঁচ সন্তানের মাকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা, দুই বোনসহ তিনজন গ্রেপ্তার পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নিহত ক্যারোলিনকে বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় দুপুর ২টার পরপরই গুরুতর জখম অবস্থায় ভাল ভার্দে রিজিওনাল মেডিকেল সেন্টারে নেওয়া হয়। তার শরীরে একাধিক ছুরিকাঘাতের চিহ্ন ছিল। ঘটনাস্থলের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, একটি সনিক ড্রাইভ-থ্রু রেস্তোরাঁর বাইরে রক্তাক্ত অবস্থায় ক্যারোলিন তার তিন হামলাকারীর মুখোমুখি দাঁড়িয়ে আছেন। পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য সান আন্তোনিওর একটি হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছায় এবং প্রায় ৩৫ হাজার বাসিন্দার শহর দেল রিওতে অভিযান চালিয়ে হামলাকারীদের শনাক্ত করে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া গ্রেপ্তারের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, ২১ বছর বয়সী কিটি মিয়া দিয়াজ খালি পায়ে হেঁটে যাওয়ার সময় পুলিশের গাড়িতে ওঠার আগে মৃদু হাসছেন। কিটি নিজেও এক শিশুপুত্রের মা। অন্যদিকে, তার ১৯ বছর বয়সী ছোট বোন আমায়া কুকি দিয়াজ ক্যামেরার দিকে তাকিয়ে নির্লজ্জভাবে দাঁত বের করে হাসতে থাকেন। ▶️ টেক্সাসে নিজের মাকে নির্মমভাবে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুই মেয়ে | এমনকি ভিডিও ধারণকারীকে ব্যঙ্গাত্মক সুরে ‘রেকর্ড করা বন্ধ করো’ বলেও চিৎকার করতে শোনা যায় তাকে। দেল রিও পুলিশ জানিয়েছে, এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ২১ বছর বয়সী কায়ান্দ্রা রেনি ফাজ নামের তৃতীয় আরেক নারীকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে ঠিক কী কারণে এই নারকীয় হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে, সে বিষয়ে পুলিশ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি।
বাংলাদেশের আবাসন শিল্পে এক নতুন ইতিহাস রচিত হলো। রাজধানীর তেজগাঁও শিল্প এলাকায় নির্মিত দেশের প্রথম ৪০ তলা বিশিষ্ট আকাশচুম্বী বাণিজ্যিক ভবন ‘শান্তা পিনাকল’ আনুষ্ঠানিকভাবে হস্তান্তর করেছে শান্তা হোল্ডিংস। ৫০০ ফুট উচ্চতার এই আইকনিক ভবনটি এখন দেশের সর্বোচ্চ সম্পন্ন হওয়া ইমারত। গত শনিবার (১৮ এপ্রিল) ভবনের ৪০তম তলায় আয়োজিত এক আড়ম্বরপূর্ণ অনুষ্ঠানের মাধ্যমে এটি হস্তান্তর করা হয়। অনুষ্ঠানে শান্তা হোল্ডিংসের চেয়ারম্যান খন্দকার মনির উদ্দিন, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, স্থপতি এহসান খানসহ প্রতিষ্ঠানের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা, ভূমি মালিক এবং গ্রাহকরা উপস্থিত ছিলেন। স্থাপত্যশৈলী ও আধুনিক প্রযুক্তি:‘শান্তা পিনাকল’ শুধুমাত্র উচ্চতার কারণেই অনন্য নয়, বরং এটি আধুনিক নির্মাণশৈলী ও প্রযুক্তির এক অনন্য সমন্বয়। এটি বাংলাদেশের প্রথম ভবন যা পরিবেশবান্ধব স্থাপত্যের জন্য আন্তর্জাতিক ‘লিড প্ল্যাটিনাম’ (LEED Platinum) স্বীকৃতি পেয়েছে। সিঙ্গাপুরভিত্তিক বিখ্যাত ইঞ্জিনিয়ারিং প্রতিষ্ঠান ‘মেইনহার্ট’ (Meinhardt) এর সহায়তায় ভবনটির স্ট্রাকচারাল ডিজাইন এবং ভূমিকম্প প্রতিরোধক ব্যবস্থা নিশ্চিত করা হয়েছে। বিশেষ বৈশিষ্ট্যসমূহ: উন্নত লিফট ব্যবস্থা: ভবনটিতে রয়েছে ৮টি দ্রুতগামী লিফট, যা প্রতি সেকেন্ডে ৪ মিটার উচ্চতায় উঠতে সক্ষম। এটি দেশের দ্রুততম ভার্টিক্যাল ট্রান্সপোর্ট ব্যবস্থা। পরিবেশ ও সুরক্ষা: ভবনে ব্যবহৃত হয়েছে ৩৬ মিমি পুরুত্বের ডাবল গ্লেজড গ্লাস, যা তাপ ও শব্দ নিরোধক। এছাড়া এটি দেশের প্রথম ‘উইন্ড টানেল টেস্ট’ করা ভবন, যা প্রতিকূল আবহাওয়ায় এর স্থায়িত্ব নিশ্চিত করে। আইবিএমএস প্রযুক্তি: পুরো ভবনটি একটি ইন্টেলিজেন্ট বিল্ডিং ম্যানেজমেন্ট সিস্টেম (iBMS) দ্বারা পরিচালিত, যা সার্বক্ষণিক নিরাপত্তা ও জ্বালানি সাশ্রয় নিশ্চিত করবে। অগ্নি নিরাপত্তা: আন্তর্জাতিক এনএফপিএ (NFPA) স্ট্যান্ডার্ড অনুসরণ করে এখানে অত্যাধুনিক অগ্নিনির্বাপক ব্যবস্থা স্থাপন করা হয়েছে। অনুষ্ঠানে শান্তা হোল্ডিংসের পক্ষ থেকে জানানো হয়, ‘শান্তা পিনাকল’ হস্তান্তর দেশের রিয়েল এস্টেট খাতের সক্ষমতার এক বড় প্রমাণ। এটি শুধুমাত্র তেজগাঁও নয়, বরং পুরো ঢাকার বাণিজ্যিক পরিবেশকে বিশ্বমানের স্তরে নিয়ে যাবে। দেশের ইতিহাসে প্রথমবার অ্যালুমিনিয়াম ফর্মওয়ার্ক ব্যবহারের মাধ্যমে মাত্র সাত দিনে এক একটি তলার ছাদ ঢালাইয়ের রেকর্ড গড়ে এই প্রকল্পের কাজ সম্পন্ন করা হয়েছে। ঢাকার আকাশসীমায় নতুন এই ল্যান্ডমার্ক দেশের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি এবং আধুনিক নগরায়নের এক শক্তিশালী প্রতীক হিসেবে দাঁড়িয়ে আছে।