তুরস্ক

ছবি: সংগৃহীত
কাতারে সামরিক হেলিকপ্টার দুর্ঘটনা: ৩ তুর্কিসহ ৭ জন নিহত

মধ্যপ্রাচ্যের দেশ কাতার-এ একটি সামরিক হেলিকপ্টার দুর্ঘটনায় সাতজন আরোহীর সবাই নিহত হয়েছেন। নিহতদের মধ্যে তিনজন তুরস্কের নাগরিক রয়েছেন বলে জানিয়েছে তুরস্কের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়। তুর্কি কর্তৃপক্ষের তথ্য অনুযায়ী, নিহতদের একজন ছিলেন তুর্কি সেনাবাহিনীর সদস্য। বাকি দুজন দেশটির প্রতিরক্ষা সরঞ্জাম নির্মাতা প্রতিষ্ঠান অ্যাসেলসান-এর নিরাপত্তাকর্মী হিসেবে দায়িত্ব পালন করছিলেন।   দুর্ঘটনায় নিহত অন্য চারজন কাতার সশস্ত্র বাহিনী-এর সদস্য বলে নিশ্চিত করা হয়েছে।   রোববার ভোরে কাতারের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় জানায়, নিয়মিত দায়িত্ব পালনকালে যান্ত্রিক ত্রুটির কারণে হেলিকপ্টারটি দুর্ঘটনার কবলে পড়ে। প্রাথমিকভাবে ছয়জন নিহত এবং একজন নিখোঁজ থাকার তথ্য দেওয়া হলেও পরে নিশ্চিত করা হয়, সাতজনই নিহত হয়েছেন।   সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে প্রকাশিত এক বিবৃতিতে জানানো হয়, দুর্ঘটনাস্থল থেকে ছয়জনের মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে এবং পরবর্তী সময়ে নিখোঁজ ব্যক্তির মৃত্যুর বিষয়টিও নিশ্চিত করা হয়।   এদিকে দুর্ঘটনার প্রকৃত কারণ উদ্ঘাটনে তদন্ত শুরু করেছে কাতার কর্তৃপক্ষ। তদন্ত শেষ হলে এ বিষয়ে বিস্তারিত জানা যাবে বলে জানিয়েছে সংশ্লিষ্টরা।

নিজস্ব প্রতিবেদক মার্চ ২২, ২০২৬ 0
ছবি: সংগৃহীত
ইরান কোনো হামলা চালায়নি তুরস্ক বা ওমানের বিরুদ্ধে: সর্বোচ্চ নেতা মোজতবা খামেনি

ইরানের নতুন সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ মোজতবা খামেনি দাবি করেছেন, ইরান বা তার মিত্র বাহিনী তুরস্ক বা ওমানকে লক্ষ্য করে কোনো হামলা চালায়নি।   শুক্রবার (২০ মার্চ) দেওয়া এক বিবৃতিতে খামেনি বলেন, সাম্প্রতিক সময়ে তুরস্ক ও ওমানে সংঘটিত হামলাগুলো ইরানের কোনো কর্মকাণ্ড নয়। তিনি এগুলোকে “শত্রুদের সাজানো ঘটনা (ফলস ফ্ল্যাগ)” হিসেবে বর্ণনা করেন এবং বলেন, এসব ঘটনার উদ্দেশ্য প্রতিবেশী দেশগুলোর মধ্যে বিভেদ সৃষ্টি করা।   তিনি সতর্ক করে বলেন, ভবিষ্যতেও এ ধরনের সাজানো হামলা অন্যান্য দেশে ঘটতে পারে।   এছাড়া আফগানিস্তান ও পাকিস্তানের মধ্যে চলমান উত্তেজনা কমাতে মধ্যস্থতার প্রস্তাব দেন খামেনি। তিনি দুই দেশকে সুসম্পর্ক গড়ে তোলার আহ্বান জানিয়ে বলেন, প্রতিবেশী হিসেবে ইরান তাদের সহায়তায় প্রস্তুত।   খামেনি আরও বলেন, “এই দুই ভ্রাতৃপ্রতিম দেশ যেন একে অপরের সঙ্গে সম্পর্ক স্বাভাবিক করে এবং শান্তিপূর্ণ সহাবস্থান নিশ্চিত করে।”   সূত্র: আল-জাজিরা।

নিজস্ব প্রতিবেদক মার্চ ২১, ২০২৬ 0
সংবাদ সম্মেলনে কাতারের প্রধানমন্ত্রী শেখ মোহাম্মদ বিন আব্দুলরহমান আল থানি (ডানে) ও তুরস্কের পররাষ্ট্রমন্ত্রী হাকান ফিদান। কাতারের রাজধানী দোহায়, ১৯ মার্চ ২০২৬। ছবি: রয়টার্স
ইরান প্রতিশোধের পথে, যুদ্ধ শুরু করেছে ইসরায়েল: কাতারের প্রধানমন্ত্রী

কাতারের প্রধানমন্ত্রী শেখ মোহাম্মদ বিন আব্দুলরহমান আল থানি বলেছেন, মধ্যপ্রাচ্যে চলমান বর্তমান সংঘাত ‘ভয়াবহ উত্তেজনা’ তৈরি করেছে, তবে যুদ্ধের সূচনা করেছে ইসরায়েল। বৃহস্পতিবার দোহার এক যৌথ সংবাদ সম্মেলনে তুরস্কের পররাষ্ট্রমন্ত্রী হাকান ফিদানের সঙ্গে তিনি এ মন্তব্য করেন।   আল থানি বলেন, ইরান প্রতিশোধ নিতে গিয়ে প্রতিবেশী দেশগুলোর ওপর আক্রমণের পথ বেছে নিয়েছে। তবে শত্রুতা অবিলম্বে বন্ধ করা অত্যন্ত জরুরি। উপসাগরীয় অঞ্চলের দেশগুলোর মধ্যে পরস্পরের প্রতি বিশ্বাস পুনরুদ্ধার করা ছাড়া বিকল্প নেই।   সংবাদ সম্মেলনে হাকান ফিদানও ইরানের হামলাকে অগ্রহণযোগ্য বলে মন্তব্য করেন। তিনি বলেন, ইসরায়েলই যুদ্ধের সূচনাকারী। তবে ইরানের ঐতিহাসিক দায়বদ্ধতা রয়েছে যাতে আঞ্চলিক অস্থিরতা আরও বৃদ্ধি না পায়।   উল্লেখ্য, সংবাদ সম্মেলনের ঠিক আগে সম্ভাব্য ক্ষেপণাস্ত্র বা ড্রোন হামলার সতর্ক সংকেত হিসাবে সাইরেন বাজে ওঠে। তবুও পূর্বপরিকল্পনা অনুযায়ী সংবাদ সম্মেলনটি সম্পন্ন হয়।

নিজস্ব প্রতিবেদক মার্চ ২০, ২০২৬ 0
ইমামোগলুর সমর্থনে ইস্তাম্বুলে বিরাট মিছিল
কারাবন্দি ইমামোগলুর মুক্তির দাবিতে প্রকম্পিত ইস্তাম্বুলের রাজপথ

তুরস্কের রাজনীতির জনপ্রিয় মুখ এবং ইস্তাম্বুলের মেয়র একরেম ইমামোগলুর কারাবাসের এক বছর পূর্ণ হওয়ার দিনে বিশাল গণমিছিলে উত্তাল হয়ে উঠেছে শহরটি।  দীর্ঘ এক বছর বিনাবিচারে বন্দি থাকার পর সম্প্রতি তাকে আদালতে তোলা হলে সরকারি আইনজীবী তার বিরুদ্ধে অবিশ্বাস্য ২,৪৩০ বছরের কারাদণ্ড দাবি করেন।  প্রেসিডেন্ট রেচেপ তাইয়েপ এরদোয়ানের প্রধান রাজনৈতিক প্রতিদ্বন্দ্বী হিসেবে পরিচিত এই নেতার বিরুদ্ধে আনা হয়েছে সন্ত্রাসবাদ ও দেশদ্রোহিতার অভিযোগ। তবে সমর্থকদের দাবি, এটি কেবল রাজনৈতিক প্রতিহিংসা ছাড়া আর কিছুই নয়।  জেল থেকে পাঠানো এক চিঠিতে ইমামোগলু বর্তমান শাসনব্যবস্থার ‘দুর্নীতির মানসিকতা’ নিয়ে তীব্র সমালোচনা করেছেন এবং গণতন্ত্র পুনরুদ্ধারে জনগণকে ঐক্যবদ্ধ থাকার আহ্বান জানিয়েছেন।

ডেস্ক রিপোর্ট মার্চ ১৯, ২০২৬ 0
ছবি: সংগৃহীত।
ইরানি ক্ষেপণাস্ত্র ঠেকাতে তুরস্কে ন্যাটোর শক্তিশালী ‘প্যাট্রিয়ট’ মোতায়েন

আঞ্চলিক যুদ্ধ পরিস্থিতির অবনতি ঘটায় তুরস্কের দক্ষিণাঞ্চলীয় ইনজারলিক বিমান ঘাঁটির নিরাপত্তায় নতুন করে ‘প্যাট্রিয়ট’ ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা মোতায়েন করছে ন্যাটো। তুরস্কের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের বরাত দিয়ে আজ বুধবার এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে।   আদানা প্রদেশের এই কৌশলগত ঘাঁটিতে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রসহ ন্যাটোভুক্ত বিভিন্ন দেশের সেনাসদস্যরা অবস্থান করছেন। মূলত ইরান থেকে ধেয়ে আসা সম্ভাব্য ক্ষেপণাস্ত্র হামলা প্রতিহত করতেই এই শক্তিশালী প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা মোতায়েন করা হয়েছে।   প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, গত সপ্তাহে তুরস্কের দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলীয় মালাতিয়া প্রদেশে ন্যাটোর একটি রাডার ঘাঁটির কাছে আরও একটি প্যাট্রিয়ট সিস্টেম স্থাপন করা হয়েছে। উল্লেখ্য, বর্তমান যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর থেকে ইরান থেকে ছোড়া অন্তত তিনটি ক্ষেপণাস্ত্র তুরস্কের আকাশসীমায় প্রবেশের সময় ন্যাটো বাহিনী তা সফলভাবে ধ্বংস করেছে।   নিজেদের পূর্ণাঙ্গ আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা না থাকায় তুরস্ক দীর্ঘদিন ধরেই ন্যাটোর ওপর নির্ভরশীল। বর্তমান পরিস্থিতিতে তুরস্কের আকাশসীমা এবং নাগরিকদের সুরক্ষা নিশ্চিত করতে পূর্ব ভূমধ্যসাগরে মোতায়েন করা ন্যাটোর যুদ্ধজাহাজ ও ভূমিভিত্তিক এই প্যাট্রিয়ট সিস্টেমগুলো ঢাল হিসেবে কাজ করছে।

ডেস্ক রিপোর্ট মার্চ ১৮, ২০২৬ 0
ছবি: সংগৃহীত
ইরানের পর কি তুরস্ক লক্ষ্যবস্তু? ইসরায়েলকে ঘিরে উদ্বেগ আঙ্কারার

ইরানের ওপর যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সামরিক অভিযানের পর মধ্যপ্রাচ্যের উত্তেজনা নতুন মাত্রা পেয়েছে। এই পরিস্থিতিতে তুরস্কে উদ্বেগ দেখা দিয়েছে—ইরানের পর আঞ্চলিক শক্তি হিসেবে তুরস্কও কি ভবিষ্যতে ইসরায়েলের লক্ষ্যবস্তু হতে পারে?   সাম্প্রতিক সময়ে তুরস্কের নেতৃত্ব একাধিক বিবৃতিতে ইরানের ওপর হামলার নিন্দা জানিয়ে সতর্ক করেছে যে, এ সংঘাত মধ্যপ্রাচ্যজুড়ে বড় ধরনের অস্থিরতা তৈরি করতে পারে। তুরস্কের প্রেসিডেন্ট রিসেপ তাইয়েপ এরদোয়ান, পররাষ্ট্রমন্ত্রী হাকান ফিদান এবং সরকারের অন্যান্য কর্মকর্তারা কূটনৈতিক সমাধান ও যুদ্ধবিরতির ওপর গুরুত্বারোপ করেছেন।   ২৮ ফেব্রুয়ারি ইরানে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের হামলার পর এরদোয়ান বলেন, এ ধরনের পদক্ষেপ আন্তর্জাতিক আইন লঙ্ঘনের শামিল এবং এতে পুরো অঞ্চল বড় সংঘাতে জড়িয়ে পড়ার ঝুঁকি রয়েছে। তিনি যুদ্ধ বন্ধ করে সংলাপের মাধ্যমে সমস্যার সমাধানের আহ্বান জানান।   তুরস্কের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ও একই দিনে জানায়, বেসামরিক মানুষের জীবন ঝুঁকিতে ফেলে এমন যেকোনো সামরিক পদক্ষেপ নিয়ে আঙ্কারা গভীরভাবে উদ্বিগ্ন। আঞ্চলিক সমস্যার সমাধান শান্তিপূর্ণ উপায়ে হওয়া উচিত বলেও তারা উল্লেখ করে।   তুরস্কের মতে, ইরানের ওপর হামলা কেবল একটি দেশের মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকবে না; বরং এর প্রভাব পূর্ব ভূমধ্যসাগর থেকে পারস্য উপসাগর পর্যন্ত বিস্তৃত হতে পারে। আঙ্কারা মনে করে, এমন সংঘাত জ্বালানি সরবরাহ, বাণিজ্যপথ এবং আঞ্চলিক স্থিতিশীলতার ওপর বড় ধরনের প্রভাব ফেলতে পারে।   বিশেষ করে জ্বালানি সরবরাহের দিক থেকে তুরস্কের উদ্বেগ বেশি। কারণ দেশটি প্রতিবছর বিপুল পরিমাণ গ্যাস ও জ্বালানি আমদানি করে, যার বড় অংশ মধ্যপ্রাচ্যের পথ ধরে আসে। হরমুজ প্রণালিতে সংঘাত তীব্র হলে তুরস্কের অর্থনীতিতে মূল্যস্ফীতি ও জ্বালানি সংকটের ঝুঁকি তৈরি হতে পারে।   এদিকে ইসরায়েলের কিছু রাজনৈতিক মহলে তুরস্ককে ভবিষ্যতের প্রতিদ্বন্দ্বী হিসেবে উল্লেখ করার ঘটনাও আঙ্কারার উদ্বেগ বাড়িয়েছে। ইসরায়েলের সাবেক প্রধানমন্ত্রী নাফতালি বেনেত এক বক্তব্যে বলেন, আঞ্চলিক রাজনীতিতে তুরস্ককে উপেক্ষা করা যাবে না।   তবে বিশ্লেষকদের মতে, তুরস্ক এখন সরাসরি সংঘাতে জড়াতে চায় না। বরং আঞ্চলিক ভারসাম্য বজায় রেখে কূটনৈতিক উদ্যোগের মাধ্যমে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে চায় আঙ্কারা। একই সঙ্গে নিজেদের নিরাপত্তা ও প্রতিরক্ষা প্রস্তুতিও জোরদার করছে দেশটি।   পর্যবেক্ষকদের মতে, মধ্যপ্রাচ্যের চলমান উত্তেজনা অব্যাহত থাকলে এর প্রভাব শুধু ইরান বা ইসরায়েলের মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকবে না; বরং তা পুরো অঞ্চলের রাজনৈতিক ও নিরাপত্তা কাঠামোকে নতুন করে নাড়িয়ে দিতে পারে।

নিজস্ব প্রতিবেদক মার্চ ১৬, ২০২৬ 0
ছবি: সংগৃহীত
“তুরস্ক কোনো আঞ্চলিক যুদ্ধে জড়াবে না”: প্রেসিডেন্ট এরদোগান

তুরস্ককে কোনো আঞ্চলিক সংঘাতে টেনে নেওয়া সম্ভব হবে না বলে জানিয়েছেন দেশের প্রেসিডেন্ট রিসেপ তাইয়েপ এরদোগান। ইসরায়েল, যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানকে কেন্দ্র করে মধ্যপ্রাচ্যে উত্তেজনা বাড়লেও আঙ্কারা নিজেকে নিরাপদ দূরত্বে রাখার চেষ্টা করছে।   রমজান উপলক্ষে আয়োজিত এক ইফতার অনুষ্ঠানে তিনি বলেন, আমাদের আকাশসীমার বিরুদ্ধে যেকোনো হুমকির প্রতিরোধে আমরা সর্বোচ্চ সতর্ক অবস্থায় আছি। গত রাতেও আমরা একটি ইরানি ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র তৃতীয়বারের মতো প্রতিহত করেছি।   এরদোগান আরও বলেন, আমাদের সরকারের প্রধান লক্ষ্য হচ্ছে দেশকে এই বিস্তৃত আঞ্চলিক সংঘাত থেকে দূরে রাখা। দেশের নিরাপত্তা এবং স্থিতিশীলতা নিশ্চিত করা সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার।   বিশ্লেষকরা মনে করছেন, ইসরায়েল–যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে চলমান উত্তেজনা মধ্যপ্রাচ্যে নতুন করে অস্থিতিশীলতা তৈরি করেছে। এমন পরিস্থিতিতে তুরস্কের কূটনৈতিক অবস্থান আঞ্চলিক স্থিতিশীলতার জন্য গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে।

নিজস্ব প্রতিবেদক মার্চ ১৪, ২০২৬ 0
সংগৃহীত ছবি
ভূমিকম্পে কাঁপল তুরস্ক, ভয়ে রাস্তায় হাজারো মানুষ

তুরস্কের মধ্যাঞ্চলে একটি মাঝারি শক্তির ভূমিকম্প অনুভূত হয়েছে। ভূমিকম্পটির মাত্রা রিখটার স্কেলে ৫.৫ ধরা হয়েছে এবং এখন পর্যন্ত কোনো ক্ষয়ক্ষতির খবর পাওয়া যায়নি।   দেশের দুর্যোগ ও জরুরি ব্যবস্থাপনা সংস্থা এএফএডি জানিয়েছে, ভূমিকম্পের কেন্দ্র তোকাত অঞ্চলের নিকশার শহরে ছিল। ভূমিকম্পটির গভীরতা প্রায় ৬.৪ কিলোমিটার।   স্থানীয় সময় ভোর ৩টা ৩৫ মিনিটে কম্পন অনুভূত হয় এবং আশেপাশের কয়েকটি প্রদেশেও এটি টের পাওয়া যায়। তবে প্রাথমিকভাবে কোনো বড় ক্ষতির তথ্য নেই।   হাবারতুর্কের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ভূমিকম্পের পর অনেক বাসিন্দা ঠান্ডা থাকা সত্ত্বেও বাইরে বা গাড়িতে অপেক্ষা করেছেন, কারণ তারা ভয়ে বাড়িতে ফিরে যেতে সাহস পাচ্ছিলেন না।   তুরস্ক ভূমিকম্প প্রবণ অঞ্চলে অবস্থিত, যেখানে একাধিক সক্রিয় ফল্ট লাইন রয়েছে, তাই দেশটিতে নিয়মিত কম্পন ঘটে।

ডেস্ক রিপোর্ট মার্চ ১৩, ২০২৬ 0
তুরস্কের প্রেসিডেন্ট রিসেপ তাইয়্যেপ এরদোয়ান
পুরো অঞ্চল আগুনে জড়ানোর আগেই ইরানের যুদ্ধ থামাতে হবে: এরদোয়ান

মধ্যপ্রাচ্যে সংঘাত আরও বিস্তার লাভ করার আগেই ইরানের যুদ্ধ বন্ধ করা প্রয়োজন বলে মন্তব্য করেছেন তুরস্কের প্রেসিডেন্ট রিসেপ তাইয়্যেপ এরদোয়ান। তিনি সতর্ক করে বলেছেন, যুদ্ধ অব্যাহত থাকলে পুরো অঞ্চল ‘আগুনে নিক্ষিপ্ত’ হতে পারে। একই সঙ্গে যেকোনো সংকট মোকাবিলায় যুদ্ধের বদলে কূটনীতিকে অগ্রাধিকার দেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন তিনি।   বুধবার তুরস্কের পার্লামেন্টে দেওয়া ভাষণে এরদোয়ান এসব কথা বলেন। তিনি বলেন, “সংঘাত আরও ছড়িয়ে পড়ার আগে এবং পুরো অঞ্চল আগুনে জড়িয়ে পড়ার আগেই এই যুদ্ধ বন্ধ করতে হবে। কূটনীতিকে সুযোগ দেওয়া হলে তা সম্ভব।”   এরদোয়ান জানান, বর্তমান পরিস্থিতি অত্যন্ত স্পর্শকাতর হওয়ায় তুরস্ক খুব সতর্কতার সঙ্গে পদক্ষেপ নিচ্ছে। দেশের চারপাশে ছড়িয়ে পড়া উত্তেজনা থেকে তুরস্ককে সুরক্ষিত রাখতে সরকার সর্বোচ্চ সতর্কতা অবলম্বন করছে।   এর আগে গত সপ্তাহে পশ্চিমা সামরিক জোট ন্যাটোর আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা তুরস্কের দক্ষিণাঞ্চলের দিকে ধেয়ে আসা ইরানের দুটি ক্ষেপণাস্ত্র ভূপাতিত করেছে বলে জানা গেছে। ওই অঞ্চলে ন্যাটো ও যুক্তরাষ্ট্রের ব্যবহৃত বিমান ও রাডার ঘাঁটি রয়েছে। হামলার চেষ্টা ব্যর্থ করার পর সেখানে প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা আরও জোরদার করা হয়েছে।   এরদোয়ান বলেন, যুদ্ধ বন্ধে তুরস্ক সব পক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ রাখছে। যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের ইরানে হামলা শুরুর আগেই তুরস্ক মধ্যস্থতার প্রস্তাব দিয়েছিল বলেও তিনি উল্লেখ করেন। এরপর থেকে সংঘাত নিরসনে কূটনৈতিক উদ্যোগ জোরদারের আহ্বান জানিয়ে আসছেন তুরস্কের এই প্রেসিডেন্ট।   তবে তিনি সতর্ক করে বলেন, তুরস্কের জাতীয় নিরাপত্তার প্রতি কোনো হুমকি তৈরি হলে তার যথাযথ জবাব দেওয়া হবে।   এদিকে তুরস্কের প্রধান বিরোধী দল রিপাবলিকান পিপলস পার্টির (সিএইচপি) চেয়ারম্যান ওজগুর ওজেল এক সাক্ষাৎকারে অভিযোগ করেছেন, মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সঙ্গে ব্যক্তিগত সম্পর্ক বজায় রাখার জন্য এরদোয়ান সরাসরি তার সমালোচনা করা থেকে বিরত থাকছেন।   রয়টার্সকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন, ট্রাম্পের কর্মকাণ্ড নিয়ে আঙ্কারার নীরবতা কোনো নিরপেক্ষতা নয়। বরং এতে যুক্তরাষ্ট্র আরও উৎসাহিত হয়েছে বলেও দাবি করেন তিনি। এরদোয়ান তাঁর বক্তব্যে যুক্তরাষ্ট্র, ইসরায়েল ও ইরানের পদক্ষেপের সমালোচনা করেন এবং মার্কিন-ইসরায়েলি বিমান হামলাকে আন্তর্জাতিক আইনের সুস্পষ্ট লঙ্ঘন বলে উল্লেখ করেন।   তবে অনেক বিশ্বনেতার মতো তিনিও বক্তব্যে সরাসরি ট্রাম্পের নাম উল্লেখ করেননি।   সূত্র: রয়টার্স

নিজস্ব প্রতিবেদক মার্চ ১২, ২০২৬ 0
ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান ও তুরস্কের প্রেসিডেন্ট রিসেপ তাইয়েপ এরদোগান
ইরানের প্রেসিডেন্টকে কড়া সতর্কবার্তা এরদোগানের

ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র তুরস্কের আকাশসীমা অতিক্রম করার অভিযোগে দেশটির প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ানকে সতর্ক করেছেন তুরস্কের প্রেসিডেন্ট রিসেপ তাইয়েপ এরদোগান।   তিনি বলেন, ভবিষ্যতে এমন ঘটনা আবার ঘটলে তুরস্ক তা কোনোভাবেই মেনে নেবে না এবং দেশের নিরাপত্তা রক্ষায় প্রয়োজনীয় সব ধরনের ব্যবস্থা গ্রহণ করবে।   তুরস্কের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, গত ২৮ ফেব্রুয়ারি ইরানে ইসরাইল ও যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক অভিযানের পর থেকে এখন পর্যন্ত দু’বার তুরস্কের আকাশসীমা লঙ্ঘন করেছে ইরানের একটি ক্ষেপণাস্ত্র। প্রথম ঘটনাটি ঘটে ৪ মার্চ এবং দ্বিতীয়টি ৯ মার্চ। উভয় ক্ষেত্রেই ন্যাটোর এয়ার ডিফেন্স সিস্টেম ব্যবহার করে ক্ষেপণাস্ত্রগুলো ধ্বংস করে তুরস্কের প্রতিরক্ষা বাহিনী।   সোমবার আকাশসীমা লঙ্ঘনকারী ক্ষেপণাস্ত্রটি ভূপাতিত করার পর প্রেসিডেন্ট এরদোগান টেলিফোনে পেজেশকিয়ানের সঙ্গে কথা বলেন। তিনি জানান, ইরানের এমন বেপরোয়া ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপের কারণে তুরস্ক এই সংঘাতে সরাসরি জড়িত না থাকলেও নিরাপত্তা ঝুঁকির মুখে পড়ছে।   ফোনালাপে এরদোগান প্রতিবেশী দেশগুলোর দিকে হামলা চালানোকে ‘অবৈধ হস্তক্ষেপ’ হিসেবে উল্লেখ করেন। তিনি বলেন, বন্ধু ও ভ্রাতৃপ্রতিম দেশগুলোর ওপর হামলা কোনো পক্ষেরই উপকারে আসে না এবং আঙ্কারা এ ধরনের কর্মকাণ্ড কখনো সমর্থন করবে না। ভবিষ্যতে যদি আবার এমন ঘটনা ঘটে, তবে তুরস্ক নিজের নিরাপত্তার স্বার্থে কঠোর পদক্ষেপ নিতে বাধ্য হবে বলেও সতর্ক করেন তিনি।   এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি এবং শতাধিক স্কুলছাত্রীর মৃত্যুর ঘটনায় গভীর শোক প্রকাশ করেন তুর্কি প্রেসিডেন্ট।   অন্যদিকে তুরস্কের অভিযোগের জবাবে ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান দাবি করেছেন, তুরস্কের আকাশসীমায় প্রবেশ করা ক্ষেপণাস্ত্রটি ইরান থেকে নিক্ষেপ করা হয়নি। তবে ঘটনাটি খতিয়ে দেখে তদন্ত করা হবে বলেও তিনি আশ্বাস দিয়েছেন।

ডেস্ক রিপোর্ট মার্চ ১০, ২০২৬ 0
ছবি: সংগৃহীত
ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র ইস্যুতে তুরস্ককে পূর্ণ সমর্থন যুক্তরাষ্ট্রের

ইরান থেকে ছোড়া একটি ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ন্যাটোর প্রতিরক্ষা ব্যবস্থায় ভূপাতিত হওয়ার পর তুরস্কের সার্বভৌমত্বের ওপর হামলাকে ‘অগ্রহণযোগ্য’ বলে মন্তব্য করেছেন যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও। তিনি তুরস্ককে যুক্তরাষ্ট্রের পূর্ণ সমর্থনের আশ্বাসও দিয়েছেন।   রাষ্ট্রের পূর্ণ সমর্থনের প্রতিশ্রুতি দেন বলে জানিয়েছে ইউনাইটেড স্টেটস ডিপার্টমেন্ট অব স্টেট।   তুরস্ক জানায়, বুধবার ইরান থেকে উৎক্ষেপণ করা একটি ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র তাদের আকাশসীমার দিকে অগ্রসর হচ্ছিল। পরে ন্যাটোর আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা সেটিকে প্রতিহত করে ধ্বংস করে দেয়।   ফোনালাপে মার্কো রুবিও হাকান ফিদানকে বলেন, তুরস্কের সার্বভৌম ভূখণ্ডে এ ধরনের হামলা অগ্রহণযোগ্য এবং এ বিষয়ে যুক্তরাষ্ট্র তুরস্কের পাশে থাকবে।   তুরস্কের কর্মকর্তাদের মতে, ইরান থেকে ছোড়া ক্ষেপণাস্ত্রটি ইরাক ও সিরিয়া হয়ে তুরস্কের আকাশসীমার দিকে আসছিল। পরে পূর্ব ভূমধ্যসাগরে মোতায়েন থাকা ন্যাটোর আকাশ ও ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার মাধ্যমে সেটি প্রতিহত ও ধ্বংস করা হয়।   তুরস্কের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় ক্ষেপণাস্ত্রটির নির্দিষ্ট লক্ষ্যবস্তু সম্পর্কে কিছু জানায়নি। তবে নাম প্রকাশ না করার শর্তে এক তুর্কি কর্মকর্তা জানান, ক্ষেপণাস্ত্রটি মূলত গ্রিক সাইপ্রাসের একটি ঘাঁটিকে লক্ষ্য করে ছোড়া হয়েছিল, তবে পরে এর গতিপথ পরিবর্তিত হয়।   দক্ষিণ তুরস্কের সিরিয়া সীমান্তের কাছে দোরতইয়োল জেলায় যে ধ্বংসাবশেষ পাওয়া গেছে, তা ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরোধে ব্যবহৃত ইন্টারসেপ্টর ক্ষেপণাস্ত্রের অংশ বলে শনাক্ত করা হয়েছে। এ ঘটনায় কোনো হতাহতের খবর পাওয়া যায়নি।   ফোনালাপে রুবিও ও ফিদান ইরান ও মধ্যপ্রাচ্যের সাম্প্রতিক পরিস্থিতি নিয়েও আলোচনা করেন এবং দুই দেশের দ্বিপক্ষীয় সম্পর্কের দৃঢ়তার বিষয়টি পুনর্ব্যক্ত করেন।   উল্লেখ্য, গত শনিবার যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের যৌথ হামলায় ইরানের বেশ কয়েকজন শীর্ষ কর্মকর্তা নিহত হয়েছেন, যার মধ্যে ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনিও রয়েছেন।

ডেস্ক রিপোর্ট মার্চ ৫, ২০২৬ 0
ছবি: সংগৃহীত
যুক্তরাষ্ট্র–ইসরাইলের বিরুদ্ধে হামলা চলবে: তুরস্কের মন্ত্রীকে আরাগচি

ইসরাইল ও যুক্তরাষ্ট্রের বিরুদ্ধে পাল্টা হামলা চালিয়ে যাওয়ার ঘোষণা দিয়েছে ইরান। দেশটির পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি তুরস্কের পররাষ্ট্রমন্ত্রী হাকান ফিদানের সঙ্গে ফোনালাপে এ অবস্থানের কথা জানিয়েছেন। এ তথ্য জানিয়েছে আলজাজিরা।   ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে এক পোস্টে জানায়, আলোচনায় আরাগচি বলেন—শত্রুপক্ষের ‘অশুভ তৎপরতা’ বন্ধ না হওয়া পর্যন্ত ইরানের সশস্ত্র বাহিনী তাদের অভিযান চালিয়ে যাবে। তিনি দাবি করেন, যেসব ঘাঁটি থেকে ইরানের বিরুদ্ধে হামলার পরিকল্পনা ও পরিচালনা করা হচ্ছে, কেবল সেসব স্থানই লক্ষ্যবস্তু করা হচ্ছে। তেহরানের মতে, এ পদক্ষেপ আন্তর্জাতিক আইনের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ।   এদিকে তুরস্কের আকাশসীমার দিকে একটি ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ছুটে যাওয়ার ঘটনার জেরে আঙ্কারায় নিযুক্ত ইরানের রাষ্ট্রদূতকে তলব করা হয়েছে। বার্তা সংস্থা রয়টার্স জানিয়েছে, ওই ঘটনার পরপরই দুই দেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রীর মধ্যে ফোনালাপ অনুষ্ঠিত হয়।   এর আগে তুরস্ক জানায়, ইরান থেকে নিক্ষেপ করা একটি ক্ষেপণাস্ত্র পূর্ব ভূমধ্যসাগরের আকাশে ন্যাটোর বিমান প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার মাধ্যমে ভূপাতিত করা হয়েছে। তবে ক্ষেপণাস্ত্রটির লক্ষ্যবস্তু কী ছিল, তা এখনো পরিষ্কার নয়। তুরস্কের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, ধ্বংস হওয়া ক্ষেপণাস্ত্রের ধ্বংসাবশেষ ভূমধ্যসাগর উপকূলের দরতিয়ল এলাকায় পড়ে। তবে এ ঘটনায় কোনো হতাহতের খবর পাওয়া যায়নি।

আমেরিকা বাংলা ডেস্ক রিপোর্ট মার্চ ৫, ২০২৬ 0
ইরানের ব্যালিস্টিক মিসাইল নিক্ষেপের একটি দৃশ্য। ছবি অনলাইন।
ইরানের ব্যালিস্টিক মিসাইল তুরস্কের আকাশে আটক

দখলদার ইসরাইল ও যুক্তরাষ্ট্রের ইরান হামলার পর মধ্যপ্রাচ্যে উত্তেজনা তীব্র হয়ে উঠেছে। ২৮ ফেব্রুয়ারি থেকে শুরু হওয়া সংঘাতে ইরান ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা চালাচ্ছে মার্কিন স্বার্থসংশ্লিষ্ট স্থাপনা লক্ষ্য করে। সম্প্রতি জানা গেছে, ইসলামি প্রজাতন্ত্র তুরস্কের দিকে ক্ষেপণাস্ত্র ছুঁড়েছে।   তুরস্কে সরাসরি মার্কিন সামরিক ঘাঁটি না থাকলেও এখানে ন্যাটোর ঘাঁটি রয়েছে, যা আঙ্কারা ও ন্যাটো যৌথভাবে ব্যবহার করে। তাই সম্ভাব্য মার্কিন লক্ষ্যবস্তুতে আঘাত হিসেবে ইরান ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবহার করেছে বলে মনে করা হচ্ছে।   বুধবার (৪ মার্চ) তুরস্ক জানিয়েছে, ইরান থেকে উৎক্ষেপিত একটি ব্যালিস্টিক মিসাইল আঙ্কারার দিকে এগোচ্ছিল। ন্যাটোর আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা মিসাইলটি দেশের আকাশসীমায় প্রবেশের আগেই আটক করতে সক্ষম হয়েছে।

ডেস্ক রিপোর্ট মার্চ ৪, ২০২৬ 0
রোহিঙ্গা প্রত্যাবর্তনে আন্তর্জাতিক উদ্যোগ জোরদারের আহ্বান

বাংলাদেশে আশ্রয় নেওয়া রোহিঙ্গা শরণার্থীদের সম্মানজনক ও নিরাপদ প্রত্যাবাসন নিশ্চিত করতে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের প্রচেষ্টা জোরদার করার আহ্বান জানিয়েছেন তুরস্কের প্রেসিডেন্ট রিসেপ তাইয়্যিপ এরদোয়ানের পুত্র নেকমেতিন বিলাল এরদোয়ান। তিনি বলেন, রোহিঙ্গাদের নিজ জন্মভূমি মিয়ানমারে নিরাপদ প্রত্যাবর্তন নিশ্চিত করা এখন সময়ের দাবি।   বাংলাদেশ সফরের দ্বিতীয় দিনে বৃহস্পতিবার (১৯ ফেব্রুয়ারি) সকাল সাড়ে ১০টায় বিশেষ বিমানে কক্সবাজার বিমানবন্দরে পৌঁছান বিলাল এরদোয়ানের নেতৃত্বে তুরস্কের একটি উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধি দল। তাঁর সঙ্গে ছিলেন জার্মানির বিশ্বকাপজয়ী ফুটবলার মেসুত ওজিল এবং তুরস্কের সহযোগিতা ও সমন্বয় সংস্থা (TIKA)-এর চেয়ারম্যান আরন আবদুল্লাহ।   বিমানবন্দরে প্রতিনিধি দলকে স্বাগত জানান কক্সবাজারের জেলা প্রশাসক মো. আব্দুল মান্নান এবং পুলিশ সুপার এ.এন.এম সাজেদুর রহমান। পরে তারা শরণার্থী ত্রাণ ও প্রত্যাবাসন কমিশনার কার্যালয়ে কমিশনার মোহাম্মদ মিজানুর রহমানের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেন।   সাক্ষাৎ শেষে গণমাধ্যমকে সংক্ষিপ্ত ব্রিফিংয়ে বিলাল এরদোয়ান বলেন, ২০১৭ সালে রোহিঙ্গা সংকট শুরুর পর থেকে শিক্ষা ও মানবিক সহায়তাসহ বিভিন্ন কার্যক্রমের মাধ্যমে তুরস্ক সরকার রোহিঙ্গাদের পাশে রয়েছে এবং ভবিষ্যতেও এই সহায়তা অব্যাহত থাকবে। রোহিঙ্গাদের আশ্রয় দেওয়ার জন্য বাংলাদেশ সরকার ও জনগণের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানিয়ে তিনি বলেন, তুরস্ক সরকার ও জনগণ সবসময় রোহিঙ্গা শরণার্থীদের পাশে থাকবে এবং আন্তর্জাতিক অঙ্গনে তাদের অধিকারের পক্ষে সোচ্চার ভূমিকা রাখবে।   ব্রিফিং শেষে প্রতিনিধি দলটি সড়কপথে উখিয়ার রোহিঙ্গা শরণার্থী শিবির পরিদর্শনে যান। সফরসূচিতে ক্যাম্প-৯–এ তুরস্কের ফিল্ড হাসপাতাল এবং ক্যাম্প-১৬–এ টিকার সহায়তায় পরিচালিত শিক্ষা ও সংস্কৃতি কেন্দ্র পরিদর্শন অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। এছাড়া রোহিঙ্গা ক্যাম্পে আয়োজিত প্রীতি ফুটবল ম্যাচ, ফুটবল টুর্নামেন্টের পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠান এবং পবিত্র রমজান মাসের প্রথম ইফতার কর্মসূচিতেও অংশগ্রহণ করবেন তারা।

ডেস্ক রিপোর্ট ফেব্রুয়ারি ১৯, ২০২৬ 0
গুলশানে বিএনপি চেয়ারপারসনের কার্যালয়ে বৈঠক
তারেক রহমানের সঙ্গে তুরস্কের রাষ্ট্রদূত ও পর্যবেক্ষক দলের গুরুত্বপূর্ণ বৈঠক

রাজনীতিতে নতুন মোড়? গুলশানে বিএনপি চেয়ারপারসনের কার্যালয়ে হয়ে গেল এক হাই-ভোল্টেজ বৈঠক। বাংলাদেশে নিযুক্ত তুরস্কের রাষ্ট্রদূত এবং তুরস্ক থেকে আসা একটি বিশেষ নির্বাচন পর্যবেক্ষক দল সাক্ষাৎ করেছেন তারেক রহমানের সঙ্গে। দেশের বর্তমান পরিস্থিতিতে এই সৌজন্য সাক্ষাৎ ও দীর্ঘ বৈঠকটি রাজনৈতিক মহলে বেশ আলোচনার জন্ম দিয়েছে।   বৈঠকের মূল হাইলাইটস:   বৈঠকের সময়: বুধবার (১১ ফেব্রুয়ারি) সন্ধ্যায় গুলশানে বিএনপি চেয়ারপারসনের রাজনৈতিক কার্যালয়ে এই সভা অনুষ্ঠিত হয়।   উপস্থিত নেতৃবৃন্দ: বিএনপির পক্ষে নেতৃত্বে ছিলেন তারেক রহমান। তার সঙ্গে ছিলেন দলের যুগ্ম মহাসচিব হুমায়ুন কবির এবং চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা এনামুল হক চৌধুরী।   তুরস্কের প্রতিনিধি দল: মেহমেত আকিফ ইয়িলমাজ (এমপি)-এর নেতৃত্বে বিশাল এক প্রতিনিধি দল এই বৈঠকে অংশ নেন। যেখানে দেশটির গুরুত্বপূর্ণ সংসদ সদস্য এবং নীতি-নির্ধারকরা উপস্থিত ছিলেন।   অন্যান্য কার্যক্রম: এর আগে তারেক রহমান অসুস্থ নেতা রিজভীকে দেখতে হাসপাতালেও যান, যা নেতাকর্মীদের মাঝে ব্যাপক উদ্দীপনা তৈরি করেছে।   আন্তর্জাতিক মহলের এই পর্যবেক্ষণ এবং কূটনৈতিক তৎপরতা কি দেশের রাজনৈতিক সমীকরণে কোনো বড় পরিবর্তন আনবে? আপনার মতামত কমেন্টে জানান।

নিজস্ব প্রতিবেদক ফেব্রুয়ারি ১১, ২০২৬ 0
ছবি: বার্তা সংস্থা আনাদোলু
গাজায় শান্তি প্রতিষ্ঠায় কাজ করছে তুরস্ক-মিশর: এরদোয়ান

মধ্যপ্রাচ্য ও উত্তর আফ্রিকার ভূ-রাজনীতিতে এক বড় পরিবর্তনের ইঙ্গিত দিয়ে গাজা সংকট নিরসন ও লিবিয়ায় স্থিতিশীলতা ফেরাতে একযোগে কাজ করার ঘোষণা দিয়েছেন তুরস্কের প্রেসিডেন্ট রিসেপ তায়েপ এরদোয়ান এবং মিশরের প্রেসিডেন্ট আবদেল ফাত্তাহ আল-সিসি। বুধবার মিশরের রাজধানী কায়রোতে দুই রাষ্ট্রপ্রধানের মধ্যে এক ঐতিহাসিক বৈঠক ও যৌথ সংবাদ সম্মেলনে এই গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত জানানো হয়।   সংবাদ সম্মেলনে তুর্কি প্রেসিডেন্ট এরদোয়ান বলেন, গাজায় স্থায়ী শান্তি প্রতিষ্ঠায় তুরস্ক ও মিশর কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে কাজ করছে এবং এই প্রচেষ্টা ভবিষ্যতেও অব্যাহত থাকবে। তিনি গাজার বর্তমান মানবিক বিপর্যয় নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করে বলেন, কয়েক মাসের যুদ্ধবিরতি সত্ত্বেও সেখানকার পরিস্থিতি এখনও ভয়াবহ। শান্তি প্রচেষ্টার পাশাপাশি তুরস্কের অন্যতম লক্ষ্য হলো লিবিয়ার ঐক্য ও আঞ্চলিক অখণ্ডতা রক্ষা করা। দুই দেশই লিবিয়ায় স্থায়ী স্থিতিশীলতা প্রতিষ্ঠায় একমত হয়েছে।   বৈঠকে রাজনৈতিক আলোচনার পাশাপাশি গুরুত্ব পেয়েছে দ্বিপক্ষীয় অর্থনৈতিক সম্পর্কও। এরদোয়ান উল্লেখ করেন, আফ্রিকা মহাদেশে মিশর বর্তমানে তুরস্কের সবচেয়ে বড় বাণিজ্যিক অংশীদার। বর্তমানে দুই দেশের বাণিজ্যের পরিমাণ ৮ থেকে ৯ বিলিয়ন ডলারের ঘরে থাকলেও, দ্রুততম সময়ের মধ্যে তা ১৫ বিলিয়ন ডলারে উন্নীত করার লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। বিশেষ করে সামুদ্রিক বাণিজ্য, পরিবহন, নৌ চলাচলের স্বাধীনতা এবং সামুদ্রিক নিরাপত্তা খাতে পারস্পরিক সহযোগিতা বাড়ানোর বিষয়ে দুই নেতা বিশেষ আগ্রহ প্রকাশ করেন।   বিশ্লেষকরা মনে করছেন, এক সময়ের বৈরী দুই দেশের শীর্ষ নেতার এই বৈঠক কেবল দ্বিপক্ষীয় সম্পর্কই নয়, বরং সমগ্র অঞ্চলের স্থিতিশীলতা ও অর্থনৈতিক অগ্রগতির ক্ষেত্রেও নতুন এক মাইলফলক হিসেবে কাজ করবে।

আমেরিকা বাংলা ডেস্ক ফেব্রুয়ারি ৫, ২০২৬ 0
ইতিহাস গড়তে প্রস্তুত তুরস্কের মনুষ্যবিহীন যুদ্ধযান

তুরস্কের প্রতিরক্ষা শিল্পে নতুন ইতিহাস গড়তে প্রস্তুত মনুষ্যবিহীন যুদ্ধযান ও দেশীয় আকাশযানগুলো। দেশটির শীর্ষ প্রতিরক্ষা প্রতিষ্ঠান টার্কিশ অ্যারোস্পেস ইন্ডাস্ট্রিজ (টিএআই) জানিয়েছে, ২০২৫ সালকে “অসাধারণ” সাফল্যের বছর হিসেবে শেষ করার পর ২০২৬ সালে নকশা উন্নয়ন, গণউৎপাদন ও সরবরাহে নতুন গতি আসছে।   প্রতিষ্ঠানটির প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মেহমেত দেমিরোগলু বলেন, ২০২৫ সালে টিএআই ও সামগ্রিকভাবে তুরস্কের প্রতিরক্ষা শিল্প একাধিক নতুন রেকর্ড স্থাপন করেছে। তাঁর ভাষায়, গত বছরের অন্যতম বড় অর্জন ছিল তুরস্কের নিজস্ব স্টেলথ যুদ্ধবিমান ‘টিএআই কান’ ইন্দোনেশিয়ায় রপ্তানির চুক্তি। প্রায় ১৫ বিলিয়ন ডলারের এই চুক্তিকে তুরস্কের ইতিহাসে সবচেয়ে বড় ও ব্যয়বহুল প্রতিরক্ষা রপ্তানি হিসেবে উল্লেখ করেন তিনি।   দেমিরোগলু বলেন, “এই চুক্তি টিএআই, কান প্রকল্প এবং পুরো দেশের জন্যই বিশাল প্রেরণার উৎস।”   ইউরোপের বাজারেও টিএআই উল্লেখযোগ্য সাফল্য অর্জন করেছে। বছর শেষ হওয়ার আগেই স্পেনের কাছে প্রায় ৩০টি হুরজেট জেট প্রশিক্ষণ বিমান রপ্তানির ঘোষণা দেওয়া হয়, যা টিএআই ও তুরস্কের জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক বলে মন্তব্য করেন তিনি।   ২০২৫ সালে টিএআই মানববিহীন আকাশযান খাতেও বিক্রি অব্যাহত রেখেছে। আঙ্কা ও আকসুংগুর মডেলের মানববিহীন যুদ্ধযান রপ্তানি হয়েছে এবং একই সঙ্গে উন্নত স্টেলথ ড্রোন আঙ্কা থ্রির পরীক্ষা কার্যক্রম চলেছে। এসব সাফল্যের ধারাবাহিকতায় ২০২৬ সালে প্রতিষ্ঠানটি সরবরাহ ও গণউৎপাদনে বিশেষ গুরুত্ব দিচ্ছে।   দেমিরোগলু জানান, হুরজেট ও হুরকুশ জেট প্রশিক্ষণ বিমান এবং মানববিহীন আকাশযানগুলোর সরবরাহ জোরদার করাই এখন টিএআইয়ের প্রধান অগ্রাধিকার। গোকবেয় ইউটিলিটি হেলিকপ্টারের গণউৎপাদন ইতোমধ্যে শুরু হয়েছে এবং ধাপে ধাপে সরবরাহ বাড়ানো হবে। একই সঙ্গে হুরজেটের নতুন প্ল্যাটফর্মগুলো উড্ডয়নের জন্য প্রস্তুত করা হচ্ছে।   চলতি বছরেই টিএআই তাদের স্টেলথ যুদ্ধবিমান ‘কান’-এর পি১ প্রোটোটাইপ উন্মোচন করবে। এরপর একই বছরে পি২ প্রোটোটাইপও উড্ডয়নের জন্য প্রস্তুত হবে। দেমিরোগলু জানান, ২০২৬ সালের মাঝামাঝি সময়ের মধ্যে সব প্রোটোটাইপ একসঙ্গে আকাশে উড়তে দেখা যাবে।   এ ছাড়া তুরস্কের বন অধিদপ্তরের জন্য ১০ টন ওজনের একটি হেলিকপ্টারের প্রথম উড্ডয়নের প্রস্তুতিও চলছে। তুরস্কের সশস্ত্র বাহিনীর জন্য তৈরি হেলিকপ্টারগুলোর উন্নয়ন কাজ ২০২৮ সালের মধ্যে শেষ হবে এবং এরপর গণউৎপাদনে যাওয়া হবে।   অন্যদিকে নতুনভাবে নকশা করা স্টেলথ মানববিহীন যুদ্ধযান আঙ্কা থ্রির ডিজাইন ইতোমধ্যে সম্পন্ন হয়েছে। চলতি বছরেই এটি গণউৎপাদনে প্রবেশ করবে। দেমিরোগলু বলেন, ২০২৬ সালে আরও উন্নত ‘ঘোস্ট’ স্টেলথ বৈশিষ্ট্য নিয়ে আঙ্কা থ্রি আকাশে উড়বে, যদিও প্রোটোটাইপ ও উৎপাদন পর্যায়ে এখনও উল্লেখযোগ্য কাজ বাকি রয়েছে।   তিনি আরও জানান, চলতি বছরেই আঙ্কা থ্রির প্রথম উড্ডয়ন এবং প্রায় ২২টি হুরকুশ বিমানের সরবরাহ দেওয়া হবে। পাশাপাশি হুরজেটের প্রথম ডেলিভারি কনফিগারেশন ২০২৬ সালের প্রথমার্ধে উড্ডয়ন করবে এবং পরীক্ষামূলক ধাপ শেষে সরবরাহ শুরু হবে।

নিজস্ব প্রতিবেদক জানুয়ারী ২৮, ২০২৬ 0
জনপ্রিয় সংবাদ
ইরানের আকাশে ১৬টি চীনা সামরিক বিমানের রহস্য নিয়ে তোলপাড়

মধ্যপ্রাচ্যের ক্রমবর্ধমান উত্তেজনার মধ্যেই একটি চাঞ্চল্যকর দাবি ভূ-রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন করে বিতর্কের ঝড় তুলেছে।   গত ৪৮ থেকে ৫৬ ঘণ্টার মধ্যে ১৬টি চীনা 'ওয়াই-২০' (Y-20) সামরিক কার্গো বিমান তাদের ট্রান্সপন্ডার বা সিগন্যাল বন্ধ রেখে ইরানের আকাশে প্রবেশ করেছে বলে খবর ছড়িয়েছে। কোনো আনুষ্ঠানিক নিশ্চিতকরণ ছাড়াই এই তথ্যটি প্রতিরক্ষা বিশ্লেষক ও সোশ্যাল মিডিয়া ব্যবহারকারীদের মধ্যে তীব্র উদ্বেগ সৃষ্টি করেছে। দাবি করা হচ্ছে, এই বিমানগুলো বেসামরিক রাডার থেকে আড়াল থাকতে বিশেষ কৌশল অবলম্বন করেছিল। নেটিজেন ও সামরিক বিশ্লেষকদের একটি অংশের ধারণা, চীন হয়তো ইরানকে অত্যাধুনিক ইলেকট্রনিক ওয়ারফেয়ার সিস্টেম বা জ্যামিং প্রযুক্তি সরবরাহ করছে। যদি এটি সত্যি হয়, তবে মার্কিন এফ-৩৫ (F-35) যুদ্ধবিমান বা নৌ-অভিযানের জন্য এটি বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়াতে পারে। অনেকে একে যুক্তরাষ্ট্রের প্রতি বেইজিংয়ের সরাসরি ‘সতর্কবার্তা’ হিসেবেও দেখছেন। তবে এই উত্তেজনার মুদ্রার উল্টো পিঠও রয়েছে। ফ্লাইটরাডার২৪-এর মতো আন্তর্জাতিক ফ্লাইট ট্র্যাকিং প্ল্যাটফর্মে এ ধরনের কোনো অস্বাভাবিক ফ্লাইটের রেকর্ড পাওয়া যায়নি। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ১৬টি ভারী সামরিক কার্গো বিমানের মতো বিশাল বহরকে রাডার বা স্যাটেলাইট নজরদারি থেকে সম্পূর্ণ লুকিয়ে রাখা প্রায় অসম্ভব।  বর্তমান ভূ-রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে চীন-ইরান সম্পর্ক গভীর হলেও, সুনির্দিষ্ট প্রমাণের অভাবে বিশ্লেষকরা একে আপাতত ‘সুপরিকল্পিত গুজব’ বা মিসইনফরমেশন হিসেবেই দেখছেন। তেহরান বা বেইজিং—কোনো পক্ষ থেকেই এখন পর্যন্ত এ নিয়ে কোনো আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া মেলেনি।

“এপস্টেইন ফাইলের দাবি: বাইডেনকে হত্যা করে ক্লোন বানানো হয়েছে?”

এপস্টেইন ফাইল: দাবি, বাইডেনকে ২০১৯ সালে হত্যা করে ক্লোন দ্বারা প্রতিস্থাপন করা হয়েছে   জেফরি এপস্টেইনের ফাইল ট্রান্সপারেন্সি অ্যাক্টের সাথে যুক্ত সম্প্রতি প্রকাশিত একটি নথি ত্রাঞ্চে অভিযোগ করা হয়েছে যে, প্রাক্তন মার্কিন প্রেসিডেন্ট জো বাইডেনকে ২০১৯ সালে হত্যা করা হয়েছে এবং তাকে একটি ক্লোন দ্বারা প্রতিস্থাপন করা হয়েছে।   এই নথিগুলি, যা আনক্লাসিফায়েড ডিপার্টমেন্ট অব জাস্টিস (DOJ) রেকর্ডের একটি বিশাল ডেটা রিলিজের অংশ, “চার্লস” নামে একজনের ক্ষুব্ধ ইমেইল অন্তর্ভুক্ত করেছে এবং অন্তর্বর্তী ফাইলিং কোড EFTA00173266 থেকে EFTA00173273 পর্যন্ত চিহ্নিত। এই ইমেইলগুলো তৃতীয় পক্ষের যোগাযোগের মধ্যে পাওয়া গেছে, যা জেফরি এপস্টেইনের নেটওয়ার্ক সংক্রান্ত বিস্তৃত ফেডারেল তদন্তের সময় সংগ্রহ করা হয়েছিল।   এপস্টেইন সম্পর্কিত অন্যান্য প্রকাশনার মতো এখানে রাজনৈতিক ও ব্যবসায়িক ব্যক্তিদের সঙ্গে সম্পর্কের তথ্য নয়, বরং চরম ও ষড়যন্ত্রমূলক দাবিগুলো রয়েছে। ক্লোন তত্ত্বের উল্লেখ “চার্লস” ইমেইলগুলো এপ্রিল ২০২১-এ একজন এফবিআই এজেন্টকে ফরোয়ার্ড করা হয়েছিল, যাকে লাল করা প্রেরক হিসেবে দেখানো হয়েছে। প্রেরক দাবি করেছিলেন যে এটি একটি প্রযুক্তি সংস্থার এক ক্ষুব্ধ প্রাক্তন কর্মচারী বা সহযোগীর মেসেজ। ইমেইলগুলিতে গালাগালি ভাষা ব্যবহৃত হয়েছে এবং এখানে “কোয়ান্টাম” প্রযুক্তি, গোপন সামরিক ট্রাইব্যুনাল, এবং “বাইডেন আপনার বর্তমান প্রেসিডেন্ট নন” এমন দাবির উল্লেখ রয়েছে।   একটি অনুচ্ছেদে বলা হয়েছে যে “বাস্তব” জো বাইডেনকে ২০১৯ সালে নির্বিচারে হত্যা করা হয়েছে এবং তাকে একজন অভিনেতা বা ক্লোন দ্বারা প্রতিস্থাপন করা হয়েছে, যেখানে প্রমাণ হিসেবে “মাস্কের ত্রুটি” দেখানো হয়েছে। তবে এই দাবিগুলোর সঙ্গে কোনো শারীরিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি বা সঙ্গত সাক্ষ্য নেই।   “বাইডেন ক্লোন” দাবি অনলাইনে ষড়যন্ত্র তত্ত্বের একটি পরিচিত অংশ। তত্ত্বটি সাধারণত ধরে যে “বাস্তব” জো বাইডেনকে গোপনে জনমঞ্চ থেকে সরিয়ে দেওয়া হয়েছে, প্রায়শই ২০১৯ বা ২০২০ সালে, এবং তাকে চেহারা মিলানো লোক বা ক্লোন দিয়ে প্রতিস্থাপন করা হয়েছে।   অনুগামীরা প্রায়শই নিম্নমানের ভিডিও এবং ফটোগ্রাফ বিশ্লেষণ করে, চেহারার পরিবর্তন যেমন আলোর পরিবর্তন, বয়সের প্রভাব বা ক্যামেরার ত্রুটিকে কৃত্রিমভাবে আড়াল করার প্রমাণ হিসেবে দেখান।   এ পর্যন্ত কোনো যাচাইযোগ্য প্রমাণ নেই যে প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন কখনো ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন বা প্রতিস্থাপিত হয়েছেন। এই দাবিগুলি সম্পূর্ণভাবে একটি ষড়যন্ত্র তত্ত্ব হিসেবে রয়ে গেছে।   সূত্র: Royanews  

১২ ঘণ্টারও কম সময়ে দেশে আবারও স্বর্ণের দামে বড় পতন

দাম বাড়ানোর ১২ ঘণ্টারও কম সময়ের ব্যবধানে দেশের বাজারে আবারও স্বর্ণের দাম কমিয়েছে বাংলাদেশ জুয়েলার্স অ্যাসোসিয়েশন (বাজুস)। ভরিতে এক লাফে ৩ হাজার ২৬৬ টাকা কমিয়ে ২২ ক্যারেটের প্রতি ভরি স্বর্ণের নতুন দাম নির্ধারণ করা হয়েছে ২ লাখ ৫৮ হাজার ৮২৪ টাকা।   শনিবার (৭ ফেব্রুয়ারি) রাতে বাজুসের এক বিজ্ঞপ্তিতে দাম কমানোর বিষয়টি জানানো হয়েছে। নতুন দাম রোববার (৮ ফেব্রুয়ারি) থেকেই কার্যকর হবে।   এর আগে একই দিন সকালে দেশের বাজারে স্বর্ণের দাম বাড়ানো হয়। ওই সময় ভরিপ্রতি এক লাফে ৭ হাজার ৬৪০ টাকা বাড়িয়ে ২২ ক্যারেটের এক ভরি স্বর্ণের দাম নির্ধারণ করা হয়েছিল ২ লাখ ৬২ হাজার ৯০ টাকা।   নতুন দাম অনুযায়ী, বর্তমানে দেশের বাজারে ২২ ক্যারেটের প্রতি ভরি (১১.৬৬৪ গ্রাম) স্বর্ণের দাম পড়বে ২ লাখ ৫৮ হাজার ৮২৪ টাকা। পাশাপাশি ২১ ক্যারেটের প্রতি ভরি ২ লাখ ৪৭ হাজার ৪৪ টাকা, ১৮ ক্যারেটের প্রতি ভরি ২ লাখ ১১ হাজার ৭৬০ টাকা এবং সনাতন পদ্ধতির প্রতি ভরি স্বর্ণের দাম পড়বে ১ লাখ ৭৩ হাজার ৩২৭ টাকা।   এ নিয়ে চলতি বছর দেশের বাজারে মোট ২৭ বার স্বর্ণের দাম সমন্বয় করলো বাজুস। এরমধ্যে ১৭ বারই দাম বাড়ানো হয়েছে। আর দাম কমেছে মাত্র ১০ বার। অন্যদিকে গতবছর দেশের বাজারে মোট ৯৩ বার স্বর্ণের দাম সমন্বয় করা হয়েছিল। যেখানে ৬৪ বারই দাম বাড়ানো হয়েছিল। এছাড়া ২০২৫ সালে ২৯ বার কমানো হয়েছিল স্বর্ণের দাম।

অভিবাসন নীতিতে কঠোরতা: এবার মেইনে ফেডারেল ইমিগ্রেশন অভিযানের ঘোষণা

যুক্তরাষ্ট্রে অভিবাসন নীতিতে কঠোরতা আরও স্পষ্ট হচ্ছে। সর্বশেষ মেইন (Maine) অঙ্গরাজ্যে ফেডারেল ইমিগ্রেশন অভিযান শুরুর ঘোষণা দিয়েছে Department of Homeland Security (ডিএইচএস)।   ডিএইচএসের এক মুখপাত্রের বরাতে জানা গেছে, “Operation Catch of the Day” নামে এই বিশেষ অভিযানের মাধ্যমে রাজ্যটিতে অবস্থানরত অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে জড়িত অবৈধ অভিবাসীদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তার করা হবে। অভিযানটি পরিচালনায় ফেডারেল ইমিগ্রেশন কর্মকর্তাদের পাশাপাশি স্থানীয় আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সমন্বয় রয়েছে।   কর্তৃপক্ষ বলছে, এই উদ্যোগের প্রধান লক্ষ্য জননিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং সহিংস বা গুরুতর অপরাধে যুক্ত ব্যক্তিদের আইনের আওতায় আনা। ডিএইচএস আরও জানায়, আইন মেনে বসবাসকারী বা অপরাধে জড়িত নন—এমন অভিবাসীদের লক্ষ্যবস্তু করা হবে না।   তবে মানবাধিকার ও অভিবাসী অধিকার সংগঠনগুলোর আশঙ্কা, এ ধরনের অভিযানে ভয় ও অনিশ্চয়তা তৈরি হতে পারে এবং নিরপরাধ মানুষও হয়রানির শিকার হতে পারেন। এ নিয়ে তারা স্বচ্ছতা ও যথাযথ আইনি প্রক্রিয়া অনুসরণের আহ্বান জানিয়েছে।   বিশ্লেষকদের মতে, মেইনে এই অভিযান শুরুর মাধ্যমে ফেডারেল সরকারের অভিবাসন আইন প্রয়োগ আরও বিস্তৃত পরিসরে জোরদার হলো। এর প্রভাব স্থানীয় অভিবাসী কমিউনিটির পাশাপাশি রাজ্যের রাজনৈতিক ও সামাজিক পরিমণ্ডলেও পড়তে পারে।  সূত্র: ABC News

ভিসা নিয়ে বড় সুখবর দিলো যুক্তরাষ্ট্র

যুক্তরাষ্ট্রের শ্রমবাজারে তীব্র কর্মী সংকট মোকাবিলায় ২০২৬ অর্থবছরে বড় ধরনের পদক্ষেপ নিয়েছে ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রশাসন। নিয়মিত কোটার বাইরে অতিরিক্ত প্রায় ৬৪ হাজার ৭১৬টি এইচ-২বি মৌসুমি অতিথি শ্রমিক ভিসা দেওয়ার চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।   রয়টার্সের বরাতে জানা গেছে, স্থানীয় সময় শুক্রবার (৩০ জানুয়ারি) প্রকাশিত ফেডারেল রেজিস্টার নোটিশে বলা হয়, দেশীয় শ্রমিকের ঘাটতির কারণে যেসব মার্কিন নিয়োগকর্তা বড় ধরনের আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়ছেন, মূলত তাদের স্বার্থ বিবেচনায় নিয়েই এই অতিরিক্ত ভিসার অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। ফলে বছরে নির্ধারিত ৬৬ হাজার এইচ-২বি ভিসার সংখ্যা প্রায় দ্বিগুণে পৌঁছাতে যাচ্ছে।   নতুন এই সিদ্ধান্তে নির্মাণ শিল্প, হোটেল ও রেস্তোরাঁ, ল্যান্ডস্কেপিং এবং সি-ফুড প্রক্রিয়াজাতকরণ খাতের মতো শ্রমনির্ভর মৌসুমি শিল্পগুলো সবচেয়ে বেশি উপকৃত হবে বলে মনে করা হচ্ছে। এসব খাতে দীর্ঘদিন ধরেই দক্ষ স্থানীয় কর্মীর অভাবে বিদেশি শ্রমিক আনার দাবি জানিয়ে আসছিলেন নিয়োগকর্তারা।   ক্ষমতায় আসার পর ট্রাম্প প্রশাসন অবৈধ অভিবাসনের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান নিলেও, বৈধ পথে কর্মসংস্থানের সুযোগ বাড়িয়ে অর্থনীতিকে সচল রাখতে এই নমনীয় সিদ্ধান্ত নিয়েছে। এর আগেও সাবেক প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন প্রশাসনের সময় শ্রমঘাটতি মোকাবিলায় এইচ-২বি ভিসার সংখ্যা বাড়ানো হয়েছিল।   তবে সরকারের এই সিদ্ধান্তের বিরোধিতাও রয়েছে। অভিবাসন কমানোর পক্ষে থাকা বিভিন্ন গোষ্ঠীর আশঙ্কা, বিপুল সংখ্যক বিদেশি শ্রমিক প্রবেশ করলে মার্কিন নাগরিকদের মজুরি কমে যেতে পারে।   এ বিষয়ে পেন্টাগন ও শ্রম মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, দেশের উন্নয়ন প্রকল্প এবং পর্যটন খাত সচল রাখতে এই মুহূর্তে বিদেশি শ্রমিকের বিকল্প নেই। ফেডারেল রেজিস্টারের তথ্যানুযায়ী, অতিরিক্ত এইচ-২বি ভিসা কার্যকরের বিশেষ বিধিমালা আগামী মঙ্গলবার আনুষ্ঠানিকভাবে প্রকাশ করা হবে এবং এরপরই আবেদন প্রক্রিয়া শুরু হবে। সূত্র: দ্য ফিন্যান্সিয়াল এক্সপ্রেস

Top week

আমেরিকার এয়ারপোর্টে নতুন নিয়ম, সোমবার থেকেই আইস মোতায়েনের পরিকল্পনা
আমেরিকা

আমেরিকার এয়ারপোর্টে নতুন নিয়ম, সোমবার থেকেই আইস মোতায়েনের পরিকল্পনা

নুরুল্লাহ সাইদ মার্চ ২১, ২০২৬ 0