- প্রচ্ছদ
- Topic
তুরস্ক
তুরস্কের এজিয়ান উপকূলে প্রত্নতাত্ত্বিক খননে প্রায় ২ হাজার বছরের পুরোনো একটি বিরল রোমান মোজাইক আবিষ্কৃত হয়েছে। মোজাইকটিতে বিভিন্ন প্রাণী ও পৌরাণিক চরিত্রের পাশাপাশি একটি বিড়াল ও একটি কুকুরের নামও লেখা রয়েছে। গবেষকদের ধারণা, প্রাণী দুটি ওই বাড়ির বাসিন্দাদের কাছে বিশেষভাবে গুরুত্বপূর্ণ ছিল। মোজাইকটি প্রাচীন বন্দরনগরী আদ্রামিত্তেয়নের নিচে থাকা একটি রোমান ভিলার ধ্বংসাবশেষ থেকে পাওয়া গেছে। ধারণা করা হচ্ছে, এটি খ্রিস্টীয় দ্বিতীয় শতাব্দীর শেষভাগ অথবা তৃতীয় শতাব্দীর সময়কার। ভিলাটির কেন্দ্রস্থলে থাকা মোজাইকটির আকার প্রায় ১৬ দশমিক ৪ ফুট বাই ১১ দশমিক ৮ ফুট। মোজাইকটি মোট ১৫টি পৃথক দৃশ্য নিয়ে তৈরি। এতে পাখি, মাছ, বিড়ালসহ বিভিন্ন প্রাণী এবং পৌরাণিক চরিত্রের ছবি রয়েছে। এর কেন্দ্রীয় অংশে সাপের মতো চুলওয়ালা পৌরাণিক চরিত্র গর্গন মেডুসার ছবিও রয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে। তবে মোজাইকের অসংখ্য প্রাণীর মধ্যে মাত্র দুটি প্রাণীর নাম লেখা হয়েছে। একটি বিড়ালের নাম ‘এমেরাল্ড’ এবং একটি কুকুরের নাম ‘ওশান’। বিড়ালটিকে নীল-সবুজ রঙের একটি কুশনের ওপর আরাম করে শুয়ে থাকতে দেখা যায়। তার ওপরে গ্রিক ভাষায় ‘এমেরাল্ড’ নামটি লেখা রয়েছে। মিমার সিনান ফাইন আর্টস বিশ্ববিদ্যালয়ের আদ্রামিত্তেয়ন গবেষণা দলের প্রধান হুসেইন ওজগেনের গবেষণা অনুযায়ী, নামটি ইঙ্গিত করে যে এমেরাল্ড শুধু মোজাইকের অলংকার হিসেবে দেখানো হয়নি। বরং প্রাণীটি ওই বাড়ির মানুষের কাছে পরিচিত ও গুরুত্বপূর্ণ ছিল বলে ধারণা করা হচ্ছে। তার মতে, বিড়ালটিকে পথের কোনো বেওয়ারিশ প্রাণী হিসেবে দেখানোর চেয়ে পরিবারের অংশ হিসেবে তুলে ধরা হয়েছে। গবেষণায় এমেরাল্ড নামটির সম্ভাব্য একটি ব্যাখ্যাও দেওয়া হয়েছে। প্রাচীন রোমান যুগে রোমান মিসরের মরুভূমি অঞ্চলে পান্না উত্তোলন করা হতো। এ কারণে ভিলাটির মালিকের উত্তর আফ্রিকার সঙ্গে ব্যবসায়িক যোগাযোগ থাকা কোনো ব্যবসায়ী হতে পারেন বলে ওজগেন ধারণা করেছেন। অন্যদিকে কুকুর ‘ওশান’-কে মোজাইকে আরও প্রাণবন্ত ভঙ্গিতে দেখানো হয়েছে। ছবিতে কুকুরটিকে দৌড়ানো বা লাফানোর মাঝামাঝি অবস্থায় দেখা যায়। তার পাশে গ্রিক ভাষায় ‘ওশান’ নামটি লেখা রয়েছে। ওজগেনের ধারণা, কুকুরটির নামও বিশেষ কোনো কারণে দেওয়া হয়ে থাকতে পারে। আদ্রামিত্তেয়ন শহরটি সমুদ্রের কাছাকাছি অবস্থিত হওয়ায় ‘ওশান’ নামটি শহরটির ভৌগোলিক অবস্থানের সঙ্গে সম্পর্কিত হতে পারে বলে তিনি মনে করেন। তবে এমেরাল্ড ও ওশানকে আধুনিক অর্থে পোষা প্রাণী হিসেবে পালন করা হতো কি না, তা নিশ্চিতভাবে বলা সম্ভব নয়। গবেষকের মতে, প্রাণী দুটি ওই ভিলার আশপাশে নিয়মিত দেখা যেত এবং সেখানকার মানুষের কাছে পরিচিত ছিল। সেই কারণেই তাদের মোজাইকে আলাদাভাবে তুলে ধরা হয়ে থাকতে পারে। হুসেইন ওজগেন ২০১২ সাল থেকে আদ্রামিত্তেয়নে খননকাজ পরিচালনা করছেন। তবে রোমান ভিলাটি সম্প্রতি শনাক্ত করা হয়। ২০২৫ সাল এবং ২০২৬ সালের শুরুর দিকে সেখানে খননকাজ চালিয়ে এই মোজাইকসহ গুরুত্বপূর্ণ নিদর্শন উদ্ধার করা হয়েছে। প্রাচীন শহরটিতে এখনো প্রত্নতাত্ত্বিক খননকাজ চলছে। ফলে মাটির নিচে আরও নিদর্শন ও প্রাচীন জীবনযাত্রার নানা তথ্য পাওয়া যেতে পারে বলে আশা করছেন গবেষকেরা। সূত্র: নিউইয়র্ক পোস্ট
তুরস্কে ইসরায়েল-সংযুক্ত একটি আন্তর্জাতিক বিনিয়োগ প্রতারণা চক্রের বিরুদ্ধে বড় ধরনের অভিযান চালিয়েছে দেশটির আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী। কর্তৃপক্ষের দাবি, তুরস্ক থেকে পরিচালিত এই চক্রটি ভুয়া ফরেক্স ও ক্রিপ্টোকারেন্সি বিনিয়োগ প্ল্যাটফর্মের মাধ্যমে বিশ্বের বিভিন্ন দেশের মানুষের কাছ থেকে ৩ বিলিয়ন ডলারের বেশি অর্থ হাতিয়ে নিয়েছে। অভিযানে ৯ ইসরায়েলি নাগরিকসহ ২০১ জনকে আটক করা হয়েছে। ইস্তাম্বুলের প্রধান সরকারি কৌঁসুলির কার্যালয়ের চারটি পৃথক তদন্তের ভিত্তিতে শুক্রবার ইস্তাম্বুল ও মুগলা প্রদেশে সমন্বিত অভিযান চালানো হয়। তুরস্কের বিচারমন্ত্রী আকিন গুরলেকের তথ্য অনুযায়ী, অভিযানে ২৮টি প্রতিষ্ঠানের অধীনে পরিচালিত ৪২টি কল সেন্টারসহ ২৮৬টি ঠিকানায় তল্লাশি চালানো হয়। প্রাথমিকভাবে ২৩৯ জনের বিরুদ্ধে আটকাদেশ ছিল। পরে আরও কয়েকজনকে আটক করা হয়। তুরস্কের কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, আটক ব্যক্তিদের মধ্যে ৯ জন ইসরায়েলি নাগরিক। এছাড়া পাকিস্তানসহ বিভিন্ন দেশের নাগরিকও রয়েছেন। তুরস্কের রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যম ও দেশটির স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, আটক ব্যক্তিদের মধ্যে বাংলাদেশি নাগরিকও রয়েছেন। তবে তাঁদের সুনির্দিষ্ট সংখ্যা নিয়ে বিভিন্ন প্রতিবেদনে পার্থক্য রয়েছে। তদন্তকারীদের ভাষ্য, চক্রটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম, সার্চ ইঞ্জিন ও বিভিন্ন ওয়েবসাইটে বিনিয়োগের বিজ্ঞাপন দিত। সেখানে ফরেক্স ও ক্রিপ্টোকারেন্সিতে বিনিয়োগ করে দ্রুত ও বড় অঙ্কের লাভের প্রতিশ্রুতি দেওয়া হতো। আগ্রহী ব্যক্তিদের সঙ্গে বিভিন্ন ভাষায় কথা বলতেন চক্রের কর্মীরা। পরে তাদের নির্দিষ্ট বিনিয়োগ প্ল্যাটফর্মে অর্থ জমা দিতে উৎসাহিত করা হতো। তদন্তে উঠে এসেছে, বিনিয়োগকারীদের জন্য এসব প্ল্যাটফর্মে কৃত্রিম লাভের হিসাব দেখানো হতো। এতে অনেকেই আরও বেশি অর্থ জমা দিতেন। কিন্তু টাকা তোলার চেষ্টা করলে তাদের অ্যাকাউন্ট বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে বলে জানানো হতো। এরপর অ্যাকাউন্ট খুলতে বা কর পরিশোধের নামে অতিরিক্ত অর্থ চাওয়া হতো। কর্তৃপক্ষের দাবি, প্রকৃতপক্ষে এসব অর্থ কোনো বিনিয়োগে ব্যবহার করা হয়নি। বরং বিভিন্ন দেশের ব্যাংক হিসাব ও ক্রিপ্টোকারেন্সি ওয়ালেটে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে। তুরস্কের আর্থিক অপরাধ তদন্ত বোর্ড, গোয়েন্দা সংস্থা ও পুলিশের অনুসন্ধানে চক্রটির কোম্পানিগুলোর মালিকানা এবং চূড়ান্ত সুবিধাভোগীদের মধ্যে ইসরায়েল-সংযুক্ত ব্যক্তিদের প্রাধান্য পাওয়ার তথ্য পাওয়া গেছে বলে জানিয়েছেন বিচারমন্ত্রী গুরলেক। তদন্তে ভুক্তভোগীদের কাছ থেকে পাওয়া শত শত অভিযোগ এবং ইন্টারপোলের মাধ্যমে সংগৃহীত তথ্যও বিশ্লেষণ করা হয়েছে। কর্তৃপক্ষের দাবি, চক্রটির সঙ্গে যুক্ত ব্যক্তিরা বিভিন্ন দেশে স্থানীয় ব্যবস্থাপনার জন্য লোক নিয়োগ করতেন। কোম্পানি নিবন্ধন, মানবসম্পদ ব্যবস্থাপনা ও হিসাবরক্ষণসহ সাংগঠনিক কাজ পরিচালনার জন্য এসব ব্যক্তিকে দায়িত্ব দেওয়া হতো। এরপর লক্ষ্য করা দেশের বাইরে কল সেন্টার স্থাপন করে সেখান থেকে সম্ভাব্য বিনিয়োগকারীদের সঙ্গে যোগাযোগ করা হতো। তদন্তে আরও জানা গেছে, চক্রের কর্মীদের নির্দিষ্ট পরিচয় ও ছদ্মনাম ব্যবহার করতে বলা হতো। বিভিন্ন দেশের মানুষের সঙ্গে তাদের ভাষায় যোগাযোগ করে বিনিয়োগে আগ্রহী করে তোলাই ছিল মূল লক্ষ্য। ভুয়া লাভের হিসাব দেখিয়ে বিনিয়োগকারীদের আরও অর্থ জমা দিতে উৎসাহিত করা হতো বলে তদন্তকারীরা জানিয়েছেন। তুরস্কের কর্তৃপক্ষ বলছে, চক্রটি ইউরোপ, মধ্যপ্রাচ্য, এশিয়া ও আফ্রিকার বিভিন্ন দেশের মানুষকে লক্ষ্যবস্তু বানিয়েছিল। ভুক্তভোগীদের মধ্যে যুক্তরাজ্য, কানাডা, অস্ট্রেলিয়া, সংযুক্ত আরব আমিরাত, রাশিয়া, সিঙ্গাপুর, মালয়েশিয়া, চীন, সুইজারল্যান্ড, বেলজিয়াম, সুইডেন ও দক্ষিণ কোরিয়ার নাগরিকদের কথাও উল্লেখ করা হয়েছে। তদন্তে আরও জানা গেছে, দুই বছরে চক্রটির সঙ্গে সংশ্লিষ্ট লেনদেনের পরিমাণ প্রায় ১৩ বিলিয়ন তুর্কি লিরায় পৌঁছেছিল, যা প্রায় ২৬৬ মিলিয়ন ডলারের সমান। এই অর্থের একটি বড় অংশ অফিস পরিচালনা ও কর্মীদের বেতনসহ বিভিন্ন ব্যয়ের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট ছিল বলে কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে। অন্যদিকে ভুক্তভোগীদের কাছ থেকে নেওয়া অবৈধ অর্থের পরিমাণ ৩ বিলিয়ন ডলারের বেশি বলে তদন্তকারীদের দাবি। অভিযানে সন্দেহভাজনদের প্রায় ১ দশমিক ৫ বিলিয়ন তুর্কি লিরা মূল্যের সম্পদ জব্দ করা হয়েছে। এর মধ্যে যানবাহন, সম্পত্তি এবং বিভিন্ন আর্থিক ও ক্রিপ্টো সম্পদের হিসাব রয়েছে বলে তুরস্কের কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে। অভিযানের পরও চক্রটির সঙ্গে সংশ্লিষ্ট আরও কয়েকজনকে ধরতে অভিযান অব্যাহত রয়েছে। তুরস্কের বিচার মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, অভিযানটি দেশটির গোয়েন্দা সংস্থা এমআইটি, পুলিশ, সাইবার অপরাধ দমন ইউনিট, আর্থিক অপরাধ তদন্ত বোর্ড এবং ইন্টারপোলের সমন্বয়ে পরিচালিত হয়েছে। তদন্ত এখনো চলছে। আটক ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে অভিযোগের বিষয়ে আদালতের পরবর্তী কার্যক্রমের মধ্য দিয়ে মামলার আইনি প্রক্রিয়া এগিয়ে যাবে। সূত্র: তুরস্কের বিচার মন্ত্রণালয়, আনাদোলু এজেন্সি, রয়টার্স
যুক্তরাজ্যের ৪৬ বছর বয়সী ব্যবসায়ী মার্টিন কুরান্ট সবসময় সুন্দর ও নিখুঁত হাসির স্বপ্ন দেখতেন। আর সেই স্বপ্ন পূরণ করতে গিয়েই তার জীবনে নেমে এসেছে এক ভয়াবহ অন্ধকার। দাঁতের চিকিৎসার জন্য তুরস্কে গিয়ে অন্তত ৩৩ হাজার পাউন্ড বাঁচানোর কথা ভেবেছিলেন তিনি। কিন্তু চিকিৎসার মাত্র তিন মাস পরই তাকে মৃত্যুর মুখোমুখি হতে হয়। সাইনাসের সংক্রমণ মস্তিষ্কে ছড়িয়ে পড়ায় তাকে ৫টি ঝুঁকিপূর্ণ ব্রেন সার্জারির মধ্য দিয়ে যেতে হয় এবং কাটাতে হয় দীর্ঘ সময় হুইলচেয়ারে। এখন তাকে নতুন করে হাঁটা ও কথা বলা শিখতে হচ্ছে। মার্টিনের দাঁতের মাড়িতে দীর্ঘদিনের রোগ ছিল, যার ফলে ১৫টি দাঁত মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছিল। যুক্তরাজ্যের এক ডেন্টিস্ট তাকে চিকিৎসার জন্য প্রায় ৪০ হাজার পাউন্ড খরচ হওয়ার কথা জানান। এরপর অনলাইনে খোঁজখবর নিয়ে তিনি তুরস্কের ইস্তাম্বুলে অবস্থিত 'লেমা ডেন্টাল ক্লিনিক'-এর সাথে যোগাযোগ করেন, যারা মাত্র ৬ হাজার ৪০০ পাউন্ডে এই চিকিৎসা দিতে রাজি হয়। মার্টিনের দাবি, হোয়াটসঅ্যাপে শুধু মুখের ছবি দেখেই মাত্র ৪৭ মিনিটের মধ্যে ক্লিনিকটি তাকে একটি চিকিৎসা পরিকল্পনা পাঠিয়ে দেয়। কোনো শারীরিক পরীক্ষা ছাড়াই ২০২৪ সালের মে মাসে ইস্তাম্বুলে গিয়ে তিনি প্রথম ধাপের চিকিৎসা নেন। চিকিৎসার আগে মার্টিন ক্লিনিক কর্তৃপক্ষকে জানিয়েছিলেন যে, তার একটি দাঁতের ওপর এক বছর ধরে পুঁজ বা ফোঁড়া (অ্যাবসেস) রয়েছে। তার আইনি অভিযোগে বলা হয়েছে, ক্লিনিক থেকে তাকে আশ্বস্ত করা হয়েছিল যে এটি কোনো সমস্যা নয়। কিন্তু আগস্ট মাসের দিকে তিনি গুরুতর অসুস্থ হয়ে পড়েন। তার নাক দিয়ে তরল ঝরতে শুরু করে এবং মুখমণ্ডল আংশিক বেঁকে যায়। ৩১ আগস্ট মারাত্মক খিঁচুনি হওয়ার পর তিনি জ্ঞান হারান। হাসপাতালে এমআরআই স্ক্যানে দেখা যায়, তার মাথার খুলির স্তরের মাঝে প্রাণঘাতী পুঁজ জমেছে। জরুরি ভিত্তিতে তার মস্তিষ্কে একাধিক অস্ত্রোপচার করা হয় এবং মাথার খুলির একাংশ সাময়িকভাবে সরিয়ে ফেলতে হয়। ডাক্তাররা জানিয়েছিলেন, তিনি যে বেঁচে ফিরেছেন সেটাই বড় বিস্ময়। মৃত্যুর মুখ থেকে ফিরলেও মার্টিন এখন 'অ্যাফাসিয়া' নামক জটিল স্নায়বিক রোগে ভুগছেন, যার ফলে তার কথা বলা, লেখা ও বোঝার ক্ষমতা মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। নিজের লাভজনক ব্যবসা বিক্রি করে দিয়ে এখন তিনি পুরোপুরি ভাতা ও অন্যের ওপর নির্ভরশীল। যুক্তরাজ্যে কোনো ডেন্টিস্ট এখন তার অসমাপ্ত চিকিৎসার দায়িত্ব নিতেও রাজি হচ্ছেন না। অন্যদিকে, তুরস্কের লেমা ডেন্টাল ক্লিনিক চিকিৎসায় অবহেলার সব অভিযোগ সম্পূর্ণ অস্বীকার করেছে। ক্লিনিকটির দাবি, তারা সব নিয়ম মেনেই চিকিৎসা করেছে এবং মার্টিনের বর্তমান অবস্থার জন্য তাদের চিকিৎসা কোনোভাবেই দায়ী নয়। ক্ষতিপূরণ চেয়ে আইনি লড়াই চালিয়ে যাওয়া মার্টিন এখন অন্যদের সতর্ক করে বলছেন, "এমন ভুল কেউ করবেন না, আমি প্রায় মরেই গিয়েছিলাম।"
তুরস্কের ঐতিহাসিক শহর মারদিন ভ্রমণে গিয়ে ইসলাম গ্রহণ করেছেন দক্ষিণ কোরিয়ার পর্যটক শায়েভন। ইসলাম গ্রহণের পর তিনি ‘আবদুল্লাহ’ নাম বেছে নিয়েছেন। মঙ্গলবার, ১৫ সেপ্টেম্বর তাঁর ইসলাম গ্রহণের বিষয়টি নিশ্চিত করেছে মারদিনের আরতুকলু জেলা মুফত কার্যালয়। দক্ষিণ-পূর্ব তুরস্কের মারদিন শহরটি ঐতিহাসিক স্থাপনা ও বহু শতাব্দীর সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যের জন্য পরিচিত। ভ্রমণের উদ্দেশ্যে শহরটিতে আসা শায়েভন ইসলাম সম্পর্কে জানার পর নিজ ইচ্ছায় মুসলিম হওয়ার সিদ্ধান্ত নেন বলে আরতুকলু জেলা মুফত কার্যালয়ের বিবৃতিতে জানানো হয়েছে। পরে শায়েভনের জন্য আরতুকলু জেলা মুফত কার্যালয়ে ইসলাম গ্রহণের আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন করা হয়। অনুষ্ঠানে আরতুকলু জেলা মুফতি সুলেমান বারান উপস্থিত ছিলেন এবং ইসলাম ধর্মের মৌলিক বিষয়গুলো সম্পর্কে তাঁকে জানানো হয়। এরপর শায়েভন কালেমা শাহাদাত পাঠ করেন এবং মুসলিম হন। ইসলাম গ্রহণের পর তিনি আবদুল্লাহ নামটি গ্রহণ করেন। অনুষ্ঠানের শেষে মুফতি সুলেমান বারান তাঁর হাতে পবিত্র কোরআনের একটি কপি তুলে দেন। তুরস্কের সংবাদমাধ্যম দেমিরোরেন নিউজ এজেন্সির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, নতুন নাম গ্রহণের পর শায়েভন মুফতি বারানের সঙ্গে আলিঙ্গন করে নিজের আনন্দ প্রকাশ করেন। মারদিন তুরস্কের এমন একটি শহর, যার স্থাপত্য ও সাংস্কৃতিক পরিচয়ে বিভিন্ন সভ্যতার প্রভাব রয়েছে। শহরটির ঐতিহাসিক স্থাপনা ও সাংস্কৃতিক বৈচিত্র্যের কারণে তুরস্কসহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশ থেকে পর্যটকেরা এখানে আসেন। শায়েভনের ইসলাম গ্রহণের খবরটি মারদিনের স্থানীয় সংবাদমাধ্যম ও তুরস্কের ধর্মবিষয়ক সংবাদমাধ্যমে প্রকাশিত হয়েছে। তবে তাঁর ব্যক্তিগত জীবন, ইসলাম সম্পর্কে আগ্রহ তৈরির নির্দিষ্ট কারণ বা কতদিন ধরে তিনি এ বিষয়ে জানাশোনা করছিলেন, সে বিষয়ে প্রকাশিত প্রতিবেদনে বিস্তারিত তথ্য পাওয়া যায়নি। সূত্র: আনাদোলু এজেন্সি, দেমিরোরেন নিউজ এজেন্সি।
তুরস্কে এলজিবিটিকিউ সম্প্রদায় ও অধিকারকর্মীদের বিরুদ্ধে চলমান অভিযানের মধ্যে নতুন করে কয়েক ডজন মানুষকে আটক করেছে পুলিশ। মঙ্গলবার ইস্তাম্বুলের প্রধান আদালতের বাইরে সমাবেশ করতে জড়ো হওয়া ব্যক্তিদের আটক করা হয়। এর একদিন আগে দেশটির বিভিন্ন এলাকায় এলজিবিটিকিউ অধিকারকর্মী, সংগঠন ও সংশ্লিষ্ট ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে অভিযান চালানো হয়েছিল। মঙ্গলবারের সমাবেশে অংশ নেওয়া ব্যক্তিরা আগের অভিযানে আটক হওয়া অধিকারকর্মীদের মুক্তির দাবি জানাচ্ছিলেন। বার্তা সংস্থা এএফপির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বিক্ষোভকারীরা স্বাধীনতার পক্ষে স্লোগান দেন। কয়েকজন বিক্ষোভকারী ‘এলজিবিটিকিউ হওয়া অপরাধ নয়’ লেখা একটি ব্যানারও প্রদর্শন করেন। এরপর পুলিশ কয়েকজনকে আটক করে। তুরস্কের সরকারের পক্ষ থেকে সাম্প্রতিক অভিযানকে ‘আমার পরিবার নিরাপদ’ নামে একটি কর্মসূচির অংশ হিসেবে বর্ণনা করা হয়েছে। সরকারের ভাষ্য, এই উদ্যোগের লক্ষ্য পারিবারিক মূল্যবোধ রক্ষা করা। তবে মানবাধিকার সংগঠনগুলো বলছে, সাম্প্রতিক সময়ে এলজিবিটিকিউ সম্প্রদায় ও তাদের সংগঠনগুলোর ওপর চাপ বাড়ানো হয়েছে। গত সপ্তাহে তুরস্কের বিভিন্ন প্রদেশে এলজিবিটিকিউ সংগঠনের কার্যালয়, সমকামীদের জন্য পরিচালিত বার এবং অধিকারকর্মীদের বাড়িতে অভিযান চালানো হয়। এসব অভিযানে কয়েক ডজন মানুষকে আটক করা হয়েছে বলে বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম জানিয়েছে। কিছু সংগঠন ও গণমাধ্যমের ওয়েবসাইট এবং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের হিসাবেও প্রবেশাধিকার সীমিত বা বন্ধ করা হয়েছে বলে মানবাধিকার সংস্থাগুলো জানিয়েছে। তুরস্কের বিচারমন্ত্রী আকিন গুরলেকের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, ‘আমার পরিবার নিরাপদ’ অভিযানের আওতায় ১৫টি প্রদেশে ১৬২ ব্যক্তি, নয়টি সংগঠন এবং ১৩টি ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানকে কেন্দ্র করে আইনি কার্যক্রম চলছে। ইস্তাম্বুল, আঙ্কারা, ইজমির, আইদিন ও মেরসিনের প্রধান কৌঁসুলিদের কার্যালয়ের সমন্বয়ে অভিযান পরিচালিত হচ্ছে বলে ইউরোপ কাউন্সিলের মানবাধিকার কমিশনারের কার্যালয় জানিয়েছে। তুরস্ক সরকার এসব কার্যক্রমের ক্ষেত্রে বিভিন্ন অভিযোগের তদন্তের কথা জানিয়েছে। এর মধ্যে যৌন ব্যবসায় সহায়তা, অশ্লীল উপকরণ তৈরি বা বিতরণ এবং শিশুদের এ ধরনের উপকরণের সংস্পর্শে আনার অভিযোগও রয়েছে বলে প্রকাশিত প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। একই সঙ্গে এলজিবিটিকিউ সংগঠনগুলোর বিদেশি ও সরকারি উৎস থেকে পাওয়া অর্থায়ন নিয়েও তদন্তের কথা বলা হয়েছে। তবে এই অভিযানের পর ইউরোপ কাউন্সিলের মানবাধিকার কমিশনার মাইকেল ও’ফ্লাহার্টি উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। ১৫ সেপ্টেম্বর প্রকাশিত এক বিবৃতিতে তিনি এলজিবিটিকিউ নাগরিক সংগঠন ও মানবাধিকারকর্মীদের লক্ষ্য করে গ্রেপ্তার, অভিযান এবং ওয়েবসাইট ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের হিসাব বন্ধের প্রতিবেদনে উদ্বেগ জানান। ও’ফ্লাহার্টি বলেন, শান্তিপূর্ণভাবে অধিকার নিয়ে কাজ করা বা বৈষম্যহীনতার পক্ষে অবস্থান নেওয়া নিজে অপরাধ হিসেবে বিবেচিত হওয়ার কথা নয়। তাঁর বক্তব্য অনুযায়ী, কোনো ব্যক্তির পরিচয়, সংগঠনের সঙ্গে সম্পৃক্ততা, শান্তিপূর্ণ কর্মকাণ্ড বা বৈধ অর্থায়ন পাওয়ার কারণে নয়, বরং স্বীকৃত অপরাধের বিষয়ে নির্দিষ্ট প্রমাণের ভিত্তিতে তদন্ত ও আটক হওয়া উচিত। তিনি আরও বলেন, আটক ব্যক্তিদের আইনগত সহায়তা পাওয়ার সুযোগ, বিচারিক পর্যালোচনা এবং ন্যায়বিচারের অধিকার নিশ্চিত করা প্রয়োজন। একই সঙ্গে যেকোনো বিধিনিষেধ আইনসম্মত, প্রয়োজনীয় ও আনুপাতিক হওয়া উচিত বলে উল্লেখ করেন তিনি। তুরস্কে সমলিঙ্গের সম্পর্ক নিজে অপরাধ হিসেবে নিষিদ্ধ নয়। তবে দেশটিতে এলজিবিটিকিউ অধিকার নিয়ে দীর্ঘদিন ধরেই রাজনৈতিক ও সামাজিক বিতর্ক রয়েছে। প্রেসিডেন্ট রিসেপ তাইয়েপ এরদোয়ান অতীতে এলজিবিটিকিউ সম্প্রদায়কে নিয়ে কঠোর মন্তব্য করেছেন এবং জনসংখ্যা ও পারিবারিক মূল্যবোধের আলোচনায় এ বিষয়টি তুলে ধরেছেন। সাম্প্রতিক অভিযানের পর অধিকার সংগঠনগুলোর উদ্বেগের কেন্দ্রবিন্দু এখন আটক ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে কী ধরনের আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে এবং সংগঠন ও অধিকারকর্মীদের কর্মকাণ্ডে নতুন কোনো বিধিনিষেধ আরোপ করা হবে কি না। ইউরোপ কাউন্সিলের মানবাধিকার কমিশনারের কার্যালয় জানিয়েছে, তারা পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ অব্যাহত রাখবে। মঙ্গলবারের বিক্ষোভ ও আটকের ঘটনায় তুরস্কে এলজিবিটিকিউ অধিকার, মতপ্রকাশ এবং শান্তিপূর্ণ সমাবেশের অধিকার নিয়ে নতুন করে আন্তর্জাতিক আলোচনা শুরু হয়েছে। তবে চলমান তদন্ত ও আইনি প্রক্রিয়া শেষ হওয়ার আগে আটক ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে আনা অভিযোগের বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্তে পৌঁছানো হয়নি। সূত্র: বিবিসি, ইউরোপ কাউন্সিলের মানবাধিকার কমিশনারের কার্যালয়, এএফপি।
তুরস্কের হাতায় প্রদেশের ইস্কেন্দেরুনে অ্যাসিড হামলায় মুখ ও ডান চোখের গুরুতর ক্ষতির শিকার হয়েছিলেন বারফিন ওজেক। হামলার প্রায় দুই বছর পর ২০২১ সালের ডিসেম্বরে তিনি সেই সাবেক প্রেমিক কাসি ওজান চেলতিককেই বিয়ে করেন, যিনি তার মুখে অ্যাসিড নিক্ষেপের ঘটনায় ১৩ বছর ৬ মাসের কারাদণ্ড পেয়েছিলেন। বিয়ের খবর প্রকাশ্যে আসার পর তুরস্কসহ বিভিন্ন দেশে ঘটনাটি নিয়ে ব্যাপক আলোচনা ও বিতর্ক তৈরি হয়। ঘটনাটি ঘটে ২০১৯ সালের ১৫ জানুয়ারি। ১৯ বছর বয়সী বারফিন একটি কোচিং সেন্টার থেকে বাড়ি ফেরার সময় তার কিছুদিন আগে বিচ্ছেদ হওয়া প্রেমিক কাসিম ওজান চেলতিকের অ্যাসিড হামলার শিকার হন। হামলায় তার মুখে গুরুতর দগ্ধের চিহ্ন তৈরি হয়। চিকিৎসার পরও মুখে স্থায়ী ক্ষতচিহ্ন থেকে যায় এবং তিনি ডান চোখের দৃষ্টিশক্তি হারান। চোখের পাতা ও ঠোঁটেও পরবর্তী সময়ে অস্ত্রোপচার করা হয়। হামলার পর চেলতিককে গ্রেপ্তার করা হয় এবং আদালতে তাকে ইচ্ছাকৃতভাবে আহত করার অপরাধে ১৩ বছর ৬ মাসের কারাদণ্ড দেওয়া হয়। কিন্তু মামলার পরবর্তী পর্যায়ে বারফিন তার বিরুদ্ধে করা অভিযোগ প্রত্যাহার করে নেন। ২০২০ সালের এপ্রিলে তিনি আদালতে এ বিষয়ে আবেদন করেছিলেন। পরে নিজের সিদ্ধান্তের জন্য অনুতপ্ত হওয়ার কথাও জানিয়েছিলেন এবং সে সময় তিনি গভীর মানসিক ট্রমার মধ্যে ছিলেন বলে তুরস্কের সংবাদমাধ্যমগুলোতে প্রকাশিত হয়। এরপর মামলার শেষ পর্যায়ে চেলতিককে মুক্তি দেওয়া হয়। বারফিন ও চেলতিকের মধ্যে আবার সম্পর্ক তৈরি হয় এবং তারা বিয়ের সিদ্ধান্ত নেন। ২০২১ সালের ১২ ডিসেম্বর হাতায়ের কুমলু জেলার একটি বিবাহ নিবন্ধন কার্যালয়ে তাদের বিয়ে সম্পন্ন হয়। সেই বিয়ের খবর ও ছবি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর বিষয়টি নতুন করে আলোচনায় আসে। ঘটনার সবচেয়ে আলোচিত দিক ছিল, যে ব্যক্তির হামলায় বারফিন গুরুতরভাবে আহত হয়েছিলেন এবং দৃষ্টিশক্তি হারিয়েছিলেন, পরবর্তী সময়ে তাকেই তিনি জীবনসঙ্গী হিসেবে বেছে নেন। এ সিদ্ধান্ত নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক প্রতিক্রিয়া দেখা যায়। কেউ তার ব্যক্তিগত সিদ্ধান্তের প্রতি সম্মান দেখানোর কথা বলেন, আবার অনেকে এমন সম্পর্কের পেছনে মানসিক ও সামাজিক প্রভাব নিয়ে প্রশ্ন তোলেন। বারফিনের বাবা ইয়াশার ওজেকও সংবাদমাধ্যমকে জানিয়েছিলেন যে তিনি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের মাধ্যমে বিয়ের খবর জানতে পেরেছিলেন এবং এই বিয়েতে তিনি সম্মতি দেননি। গার্হস্থ্য সহিংসতার ক্ষেত্রে ভুক্তভোগীর সম্পর্ক থেকে বেরিয়ে আসার সিদ্ধান্ত সবসময় সরল বা তাৎক্ষণিক হয় না। ভয়, মানসিক আঘাত, নির্ভরশীলতা, সামাজিক চাপ, অপরাধীর ওপর আবেগগত টান এবং সম্পর্কের জটিলতা একজন ভুক্তভোগীর সিদ্ধান্তকে প্রভাবিত করতে পারে। তাই বাইরে থেকে কোনো সিদ্ধান্তকে সহজভাবে বিচার না করে সহিংসতার শিকার ব্যক্তির নিরাপত্তা, স্বাধীনতা ও প্রয়োজনীয় সহায়তাকে গুরুত্ব দেওয়ার ওপর জোর দেন বিশেষজ্ঞরা। বারফিনের ঘটনাটি একই সঙ্গে অ্যাসিড সহিংসতার ভয়াবহতাও সামনে আনে। অ্যাসিড হামলার শারীরিক ক্ষতি অনেক সময় চিকিৎসার পরও দীর্ঘস্থায়ী হয়। মুখের দাগ, দৃষ্টিশক্তি হারানো এবং একাধিক অস্ত্রোপচারের প্রয়োজনের পাশাপাশি ভুক্তভোগীকে দীর্ঘমেয়াদি মানসিক চাপের মধ্য দিয়েও যেতে হতে পারে। বারফিনের ক্ষেত্রেও হামলার পর মুখের গুরুতর ক্ষতি ও ডান চোখের দৃষ্টিশক্তি হারানোর বিষয়টি তুরস্কের একাধিক সংবাদমাধ্যমে উল্লেখ করা হয়েছে। ২০২১ সালে বিয়ের খবর প্রকাশের পর বারফিনের গল্প আন্তর্জাতিকভাবেও আলোচিত হয়। তবে ঘটনাটিকে শুধু একটি বিস্ময়কর বিয়ের গল্প হিসেবে দেখলে এর মূল বাস্তবতা আড়ালে পড়ে যায়। এর কেন্দ্রে রয়েছে একটি গুরুতর অ্যাসিড হামলা, দীর্ঘমেয়াদি শারীরিক ক্ষতি, একটি ফৌজদারি মামলা এবং পরবর্তী সময়ে ভুক্তভোগীর নেওয়া অত্যন্ত বিতর্কিত ব্যক্তিগত সিদ্ধান্ত। ঘটনাটি গার্হস্থ্য সহিংসতার পর ভুক্তভোগীদের সম্পর্ক, নিরাপত্তা ও মানসিক অবস্থাকে আরও গভীরভাবে বোঝার প্রয়োজনীয়তার কথাও সামনে আনে।
তুরস্কের মেরসিনের একদল তরুণ হাফেজের ওমরাহ পালনের আবেগঘন মুহূর্তের ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে। কাবা শরিফের সামনে গিয়ে আবেগে কেঁদে ফেলা এবং পরে তাওয়াফ শেষে কাবার দেয়াল স্পর্শ করতে পারার দৃশ্য দর্শকদেরও আবেগাপ্লুত করেছে। ঘটনাটি তুরস্কের মেরসিনে চালু হওয়া ‘হাফেজলার উমরেদে’ বা ‘হাফেজরা ওমরাহয়’ প্রকল্পের আওতায় পবিত্র ভূমিতে যাওয়া শিক্ষার্থীদের। মেরসিন প্রাদেশিক মুফতিশিপের সমন্বয়ে, তুরস্কের ধর্মবিষয়ক অধিদপ্তর এবং হজ ও ওমরাহ সেবা বিভাগের সহযোগিতা ও দাতাদের সহায়তায় প্রকল্পটি বাস্তবায়ন করা হয়। প্রকল্পের আওতায় অল্প সময়ের মধ্যে হিফজ সম্পন্ন করা ২০ জন সফল হাফেজ শিক্ষার্থীকে ওমরাহ পালনের সুযোগ দেওয়া হয়। তাদের মধ্যে কয়েকজন মাত্র ছয় মাস থেকে এক বছরের মধ্যে হিফজ সম্পন্ন করেছেন। একই সফরে মহানবী হজরত মুহাম্মদ (সা.)-এর জীবনভিত্তিক ‘ওমরাহ পুরস্কারপ্রাপ্ত যুব জ্ঞান প্রতিযোগিতা’য় ভালো ফল করা আরও চারজন শিক্ষার্থীও অংশ নেয়। মক্কায় পৌঁছে কাবা শরিফের সামনে দাঁড়ানোর পর শিক্ষার্থীদের মধ্যে তৈরি হয় গভীর আবেগ। তুরস্কের ইমাম-হাতিপ শিক্ষক ও প্রকল্পের সঙ্গে যুক্ত মুহাম্মদ দোগাচ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে যে ভিডিও প্রকাশ করেন, সেখানে কয়েকজন ছোট হাফেজকে কাবা শরিফের দিকে তাকিয়ে আবেগাপ্লুত হতে দেখা যায়। ভিডিওর সবচেয়ে আলোচিত মুহূর্তগুলোর একটিতে দেখা যায়, কাবা শরিফের দেয়াল স্পর্শ করতে না পেরে এক শিশু হাফেজ কাঁদছে। পরে তাওয়াফ শেষ করার পর কাবার দেয়াল স্পর্শ করার সুযোগ পেলে তার আবেগ আরও স্পষ্ট হয়ে ওঠে। শিশুটির চোখের পানি ও কাবা স্পর্শ করার মুহূর্তটি ভিডিওটি দেখেছেন এমন অনেকের মন ছুঁয়ে যায়। মেরসিনের এই উদ্যোগের মূল লক্ষ্য ছিল তরুণদের কোরআন এবং মহানবী (সা.)-এর আদর্শ জীবনের সঙ্গে আরও গভীরভাবে যুক্ত করা। একই সঙ্গে তাদের ধর্মীয় ও নৈতিক শিক্ষাকে বাস্তব অভিজ্ঞতার সঙ্গে যুক্ত করে আত্মিক বিকাশে সহায়তা করাও প্রকল্পটির অন্যতম উদ্দেশ্য। ওমরাহ সফরের সময় শিক্ষার্থীরা মক্কা ও মদিনার বিভিন্ন পবিত্র স্থান পরিদর্শনের পাশাপাশি বিভিন্ন ধর্মীয় ও সাংস্কৃতিক কার্যক্রমে অংশ নেয়। মদিনায় মসজিদে নববীতেও তাদের শেষ পাঠ অনুষ্ঠিত হয় বলে তুরস্কের ধর্মবিষয়ক সংবাদমাধ্যম জানিয়েছে। মেরসিনের মুফতি মুস্তাফা তোপাল এই উদ্যোগে সহযোগিতা করা তুরস্কের ধর্মবিষয়ক অধিদপ্তর, হজ ও ওমরাহ সেবা বিভাগ, স্থানীয় মুফতিশিপ, দাতাদের এবং প্রকল্পের সমন্বয়ক মুহাম্মদ দোগাচের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানিয়েছেন। প্রকল্প সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, এ ধরনের উদ্যোগ তরুণদের ধর্মীয় শিক্ষার প্রতি আগ্রহ বাড়ানোর পাশাপাশি তাদের জন্য দীর্ঘস্থায়ী একটি আত্মিক অভিজ্ঞতা তৈরি করতে পারে। কাবা শরিফের সামনে ছোট্ট হাফেজদের সেই আবেগঘন মুহূর্তের ভিডিওটি ১২ সেপ্টেম্বর তুরস্কের সংবাদমাধ্যমে প্রকাশের পর অনলাইনে ব্যাপকভাবে ছড়িয়ে পড়ে। ধর্মীয় অনুভূতি, শিশুদের সরল আবেগ এবং দীর্ঘদিনের হিফজ সম্পন্ন করার পর পবিত্র কাবা দেখার সুযোগ একসঙ্গে মিলে ঘটনাটিকে বিশেষভাবে আলোচিত করে তুলেছে।
তুরস্কে এলজিবিটিকিউ+ (LGBTQ+) এবং এইচআইভি সহায়তা নিয়ে কাজ করা বিভিন্ন অধিকার গোষ্ঠী ও ব্যক্তিদের ওপর সাঁড়াশি অভিযান চালিয়েছে দেশটির পুলিশ। রোববার ভোরে ইস্তাম্বুল, আঙ্কারা, ইজমির, আয়দিন এবং মেরসিনের মতো বড় শহরগুলোতে একযোগে এই তল্লাশি চালানো হয়। অভিযানের সময় পুলিশ বিভিন্ন সংগঠনের কার্যালয় ও জনপ্রিয় আড্ডাস্থলগুলোতে হানা দিয়ে বহু সদস্যকে আটক করেছে। নির্বাচনকে সামনে রেখে গত এক দশক ধরে এলজিবিটিকিউ গোষ্ঠীগুলোর ওপর যে বৈরিতা চলে আসছে, এই অভিযান তারই একটি বড় বহিঃপ্রকাশ। অভিযানের পাশাপাশি অধিকার গোষ্ঠীগুলোর ওয়েবসাইটও ব্লক করে দেওয়া হয়েছে। এই অভিযানের বিষয়ে তুরস্কের বিচারমন্ত্রী আকিন গুরলেক সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে জানান, প্রেসিডেন্ট রিসেপ তাইয়েপ এরদোগানের পরিবার ও শিশু বিষয়ক দশ বছর মেয়াদি নির্বাহী আদেশের সাথে সামঞ্জস্য রেখেই এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। তিনি বলেন, সংবিধান অনুযায়ী পরিবার ও শিশুদের রক্ষা করা রাষ্ট্রের প্রধান দায়িত্ব এবং শিশু, তরুণ বা পরিবারকে লক্ষ্য করে কোনো অপরাধমূলক বা অবৈধ কার্যক্রম কখনোই সহ্য করা হবে না। এই অভিযানে ১৬২ জন সন্দেহভাজন, ৯টি সংগঠন এবং ১৩টি ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানকে তদন্তের আওতায় আনা হয়েছে। এছাড়া এসব সংগঠন আন্তর্জাতিক বিভিন্ন সংস্থা থেকে বিপুল পরিমাণ তহবিল গ্রহণ করেছে বলেও তিনি উল্লেখ করেন। মানবাধিকার সংগঠনগুলো এই অভিযানের তীব্র নিন্দা জানিয়েছে। হিউম্যান রাইটস অ্যাসোসিয়েশনের মতে, এটি কোনো আইনি তদন্ত নয়, বরং পরিবার ও শিশুদের সুরক্ষার আড়ালে পুরো সমাজকে একটি নির্দিষ্ট ছাঁচে ফেলার রাজনৈতিক অপচেষ্টা। অপরাধমূলক সংগঠন গঠন, মাদক বা পতিতাবৃত্তির মতো ভিত্তিহীন অভিযোগ এনে পুরো সম্প্রদায়কে অপরাধী বানানোর চেষ্টা করা হচ্ছে বলে দাবি করেছে তারা। ২০১৫ সালে ইস্তাম্বুল প্রাইড নিষিদ্ধ করার পর থেকেই তুরস্কের ধর্মীয় রক্ষণশীল একে পার্টি তাদের ভোটারদের সন্তুষ্ট করতে এলজিবিটিকিউ গোষ্ঠীর ওপর ক্রমশ চাপ বাড়িয়ে চলেছে। এমনকি সম্প্রতি ভূমধ্যসাগরে ভ্রমণরত একটি এলজিবিটিকিউ প্রমোদতরীকেও তুরস্কের বন্দরে নোঙর করার অনুমতি দেওয়া হয়নি।
তুরস্কের ইস্তাম্বুলের ৪৫ বছর বয়সী দুই সন্তানের বাবা আলী চিফচি জন্মদিনে বাড়িতে ঢোকা এক চোরের সঙ্গে ধস্তাধস্তির সময় তৃতীয় তলার জানালা থেকে পড়ে গুরুতর আহত হন। এতে তার মাথার খুলির প্রায় ৮৩ শতাংশ ক্ষতিগ্রস্ত হয়। চিকিৎসকেরা অস্ত্রোপচার ও দীর্ঘ চিকিৎসার মাধ্যমে বিশেষ প্রযুক্তিতে তার খুলির বড় অংশ পুনর্গঠন করেন। ঘটনার পর আলী মাসের পর মাস আইসিইউতে ছিলেন। পরবর্তী দুই বছরেও তাকে একাধিক জটিল অস্ত্রোপচারের মধ্য দিয়ে যেতে হয়। আলীর ভাষ্য অনুযায়ী, চিকিৎসকেরা তখন তার বেঁচে থাকার সম্ভাবনা মাত্র ১০ শতাংশ বলে জানিয়েছিলেন। দীর্ঘ চিকিৎসার পর তার মাথার খুলির ক্ষতিগ্রস্ত অংশ পুনর্গঠনে ব্যবহার করা হয় বিশেষভাবে তৈরি টাইটানিয়ামের অংশ। এগুলো তৈরি করা হয়েছিল তুরস্কের হেলথ সায়েন্সেস ইউনিভার্সিটির গুলহানে ট্রেনিং অ্যান্ড রিসার্চ হাসপাতালের মেডিকেল ডিজাইন অ্যান্ড প্রোডাকশন সেন্টারে। চিকিৎসকেরা জানান, দুর্ঘটনার পর আলীর কথা বলা, স্মৃতি, ভারসাম্য ও হাঁটার মতো গুরুত্বপূর্ণ কিছু শারীরিক সক্ষমতায় গুরুতর সমস্যা দেখা দিয়েছিল। খুলির পুনর্গঠনের পর এসব স্নায়বিক সমস্যার প্রায় ৯০ শতাংশের উন্নতি হয় বলে চিকিৎসকরা জানিয়েছেন। দুর্ঘটনাটি ঘটে আলীর জন্মদিনে। বাড়িতে ঢোকা চোরকে আটকাতে গিয়ে দুজনের মধ্যে ধস্তাধস্তি শুরু হয়। একপর্যায়ে তারা তৃতীয় তলার জানালা দিয়ে নিচে পড়ে যান। আলী নিচে পড়ে গুরুতর আহত হন, আর চোর তার ওপর পড়ে পরে পালিয়ে যায় বলে আলী জানিয়েছেন। দুই বছর চিকিৎসার পর আলীর মাথার আকৃতি অনেকটাই স্বাভাবিক অবস্থায় ফিরিয়ে আনা সম্ভব হয়। পরবর্তীতে তিনি আবার স্বাভাবিক জীবনে ফিরে কাজও শুরু করেন। আলীর ঘটনা দেখিয়েছে, গুরুতর মাথার আঘাতের চিকিৎসায় আধুনিক মেডিকেল ডিজাইন ও টাইটানিয়াম ইমপ্লান্ট কীভাবে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে। তার ক্ষেত্রে চিকিৎসা ও প্রযুক্তির সমন্বয় ক্ষতিগ্রস্ত খুলির বড় অংশ পুনর্গঠনে সহায়তা করেছে।
ইস্তাম্বুলে ট্যাক্সিতে যাত্রা শেষে ভাড়া দিতে গিয়ে অপ্রত্যাশিত অভিজ্ঞতার মুখোমুখি হয়েছেন দুই ফিলিস্তিনি নারী। ট্যাক্সিচালক তাদের কাছ থেকে কোনো টাকা নিতে অস্বীকৃতি জানান। কারণ জানতে চাইলে তিনি তাদের সঙ্গে সংহতি প্রকাশ করে বলেন, ‘আমরা ভাই। আপনারা আমার বোন।’ দুই নারী ট্যাক্সি থেকে নামার সময় ভাড়া দেওয়ার চেষ্টা করেন। কিন্তু চালক টাকা নিতে রাজি হননি। বিষয়টি নিয়ে জানতে চাইলে তিনি তাদের নিজের বোনের মতো উল্লেখ করে ফিলিস্তিনিদের প্রতি সমর্থন ও সহমর্মিতার বার্তা দেন। ঘটনাটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর অনেকের দৃষ্টি আকর্ষণ করেছে। অল্প সময়ের এই ঘটনাকে অনেকে তুরস্ক ও ফিলিস্তিনের মানুষের মধ্যকার সামাজিক ও মানবিক সংহতির একটি ছোট্ট উদাহরণ হিসেবে দেখছেন। ফিলিস্তিনিদের সঙ্গে তুরস্কের জনগণের দীর্ঘদিনের সাংস্কৃতিক ও রাজনৈতিক ঘনিষ্ঠতা রয়েছে। ইস্তাম্বুলে বসবাসকারী ও ভ্রমণকারী ফিলিস্তিনিরাও বিভিন্ন সময়ে স্থানীয় মানুষের কাছ থেকে সমর্থন পাওয়ার কথা জানিয়েছেন। তবে ওই ট্যাক্সিচালকের পরিচয়, ঘটনাটি ঠিক কবে ঘটেছে এবং ভিডিও বা পোস্টটির মূল উৎস সম্পর্কে নির্ভরযোগ্য বিস্তারিত তথ্য প্রকাশ্যে পাওয়া যায়নি। ফলে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ঘটনাটির বাইরে অতিরিক্ত কোনো তথ্য নিশ্চিতভাবে বলা যাচ্ছে না।
সিগারেটের নেশা ছাড়তে তুরস্কের কুতাহিয়া প্রদেশের ইব্রাহিম ইউজেল ২০১৩ সালে নিয়েছিলেন অদ্ভুত এক কঠোর সিদ্ধান্ত। ২৬ বছর ধরে প্রতিদিন প্রায় দুই প্যাকেট সিগারেট খাওয়ার অভ্যাস ছাড়তে তিনি নিজের মাথার চারপাশে তামার তার দিয়ে তৈরি একটি খাঁচা পরতেন। খাঁচাটিতে তালা লাগিয়ে সেই চাবি স্ত্রী ও মেয়ের কাছে রেখে দিতেন, যাতে চাইলেও দিনের বেলা সহজে সিগারেট ধরাতে না পারেন। তখন ৪২ বছর বয়সী ইব্রাহিম একটি সরকারি প্রতিষ্ঠানে টেকনিশিয়ান হিসেবে কাজ করতেন। বহুবার সিগারেট ছাড়ার চেষ্টা করেও সফল হননি তিনি। নিজের ইচ্ছাশক্তির ওপর পুরোপুরি ভরসা করতে না পেরে শেষ পর্যন্ত এমন একটি ব্যবস্থা করার সিদ্ধান্ত নেন, যা তাকে সরাসরি সিগারেটের কাছে পৌঁছাতেই দেবে না। মোটরসাইকেলের হেলমেট দেখে ধারণাটি তার মাথায় আসে। সেই ধারণা থেকে তামার তার দিয়ে হেলমেটের মতো একটি খাঁচা তৈরি করেন তিনি। খাঁচাটিতে দুটি তালা ছিল এবং বাড়ি থেকে বের হওয়ার সময় একটি চাবি স্ত্রী ও অন্যটি মেয়ের কাছে দিয়ে যেতেন। ফলে ধূমপানের তীব্র ইচ্ছা হলেও নিজের হাতে তালা খুলে সিগারেট ধরানোর সুযোগ থাকত না। ইব্রাহিমের এই সিদ্ধান্তের পেছনে ছিল পারিবারিক একটি কঠিন অভিজ্ঞতাও। তার বাবা ধূমপানের কারণে ফুসফুসের ক্যানসারে আক্রান্ত হয়ে মারা যান। এরপরও নিজের দীর্ঘদিনের আসক্তি কাটিয়ে উঠতে না পারায় তিনি আরও কঠোরভাবে সিগারেট ছাড়ার সিদ্ধান্ত নেন। খাঁচা পরার প্রথম দিকে পরিবারের সদস্যরা বিষয়টি নিয়ে অবাক ও অস্বস্তিতে ছিলেন। তবে ইব্রাহিমের দৃঢ়তা দেখে পরে তার পরিবারও তাকে সমর্থন করতে শুরু করে। ২০১৩ সালের সংবাদ প্রতিবেদন অনুযায়ী, খাঁচাটি ব্যবহারের প্রথম কয়েক দিন তিনি সিগারেট না খেয়ে থাকার কথা জানিয়েছিলেন। ইব্রাহিমের এই অস্বাভাবিক উদ্যোগ তখন আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমে ব্যাপকভাবে আলোচিত হয়। ঘটনাটি মূলত দেখিয়েছিল, দীর্ঘদিনের নিকোটিন আসক্তি থেকে বেরিয়ে আসা কতটা কঠিন হতে পারে এবং তা থেকে মুক্তি পেতে একজন মানুষ কতটা মরিয়া হয়ে উঠতে পারেন। তবে মাথায় তালা দেওয়া খাঁচা কোনো নিরাপদ বা চিকিৎসাবিজ্ঞানে স্বীকৃত ধূমপান ছাড়ার পদ্ধতি নয়। যুক্তরাষ্ট্রের সেন্টারস ফর ডিজিজ কন্ট্রোল অ্যান্ড প্রিভেনশন ধূমপান ছাড়ার জন্য কাউন্সেলিং ও প্রমাণভিত্তিক ওষুধ ব্যবহারের পরামর্শ দেয়। নিকোটিন রিপ্লেসমেন্ট থেরাপি, যেমন নিকোটিন প্যাচ, গাম বা লজেন্স এবং চিকিৎসকের পরামর্শে নির্দিষ্ট ওষুধও ব্যবহার করা যেতে পারে। কাউন্সেলিং ও ওষুধ একসঙ্গে ব্যবহার করলে সফলভাবে ধূমপান ছাড়ার সম্ভাবনা আরও বাড়ে।
ইরানের ওপর অর্থনৈতিক চাপ আরও বাড়াতে তুরস্কের একটি ব্যাংক ও এর দুটি সহযোগী প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে নিষেধাজ্ঞা দিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। শুক্রবার মার্কিন অর্থ মন্ত্রণালয় ইস্তাম্বুলভিত্তিক গোল্ডেন গ্লোবাল ইয়াতিরিম ব্যাংকাসি এবং এর দুটি সহযোগী প্রতিষ্ঠানকে নিষেধাজ্ঞার আওতায় আনার কথা জানায়। ওয়াশিংটনের অভিযোগ, এসব প্রতিষ্ঠান ইরানের বিপ্লবী গার্ডের কুদস বাহিনীর সঙ্গে সংশ্লিষ্ট বাণিজ্যিক ও আর্থিক লেনদেনে সহায়তা করেছে। নিষেধাজ্ঞার আওতায় পড়া প্রতিষ্ঠান তিনটি হলো গোল্ডেন গ্লোবাল ইয়াতিরিম ব্যাংকাসি, গোল্ডেন গ্লোবাল পোর্টফয় পোনেতিমি এবং গোল্ডেন গ্লোবাল ভারলিক কিরালামা। মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, তিনটি প্রতিষ্ঠানকেই বিশেষভাবে নিষেধাজ্ঞাপ্রাপ্ত ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের তালিকায় যুক্ত করা হয়েছে। এর ফলে মার্কিন আর্থিক ব্যবস্থার সঙ্গে তাদের লেনদেনের সুযোগ বন্ধ হয়ে গেছে। মার্কিন অর্থ মন্ত্রণালয়ের অভিযোগ, গোল্ডেন গ্লোবাল ইরানের ছায়া ব্যাংকিং ব্যবস্থার মাধ্যমে চীন থেকে তুরস্কে তেল বিক্রির অর্থ স্থানান্তরে ভূমিকা রেখেছে। পরে সেই অর্থ নগদ অর্থ ও সোনায় রূপান্তরের সুযোগ তৈরি করা হতো বলেও অভিযোগ করেছে ওয়াশিংটন। প্রতিষ্ঠানটি ইরানের আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলোর জন্য ব্যাংকিং সেবা দেওয়ার মাধ্যমে ইরানের বিপ্লবী গার্ডের কুদস বাহিনীর নিয়ন্ত্রিত হিসাব ব্যবহারের সুযোগ করে দিয়েছে বলেও মার্কিন কর্তৃপক্ষ দাবি করেছে। মার্কিন অর্থমন্ত্রী স্কট বেসেন্ট বলেছেন, ইরানের সঙ্গে বাণিজ্য ও আর্থিক কর্মকাণ্ডে সহায়তা করা প্রতিষ্ঠানগুলোর বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্র ব্যবস্থা নেওয়া অব্যাহত রাখবে। ইরানের আর্থিক যোগাযোগব্যবস্থা দুর্বল করার বৃহত্তর মার্কিন উদ্যোগের অংশ হিসেবেই সর্বশেষ এই নিষেধাজ্ঞা দেওয়া হয়েছে। এর আগে ইরানের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট আর্থিক লেনদেনের অভিযোগে অন্য দেশের প্রতিষ্ঠানগুলোর বিরুদ্ধেও ব্যবস্থা নিয়েছে ওয়াশিংটন। রয়টার্সের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বর্তমান নিষেধাজ্ঞা কার্যক্রমে নেটো জোটভুক্ত কোনো দেশের ব্যাংকের বিরুদ্ধে এটিই প্রথম এমন পদক্ষেপ। নিষেধাজ্ঞা বিশেষজ্ঞদের মতে, তুরস্কের একটি ব্যাংককে লক্ষ্য করে এ পদক্ষেপের মাধ্যমে ইরানের সঙ্গে আর্থিক যোগাযোগ রাখা প্রতিষ্ঠানগুলোর জন্য সতর্কবার্তা দেওয়া হয়েছে। তাদের আশঙ্কা, তুরস্কের ব্যাংকটির সঙ্গে ব্যবসা চালিয়ে যাওয়া অন্য বিদেশি আর্থিক প্রতিষ্ঠানও পরবর্তী সময়ে ঝুঁকির মুখে পড়তে পারে। তবে গোল্ডেন গ্লোবাল ব্যাংক মার্কিন অভিযোগ প্রত্যাখ্যান করেছে। ব্যাংকটি জানিয়েছে, তারা স্থানীয় ও আন্তর্জাতিক ব্যাংকিং এবং নিয়মনীতি মেনে কার্যক্রম পরিচালনা করে আসছে। মার্কিন নিষেধাজ্ঞার সিদ্ধান্তে যেসব ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের কথা উল্লেখ করা হয়েছে, তারা তাদের গ্রাহক নয় এবং তাদের সঙ্গে ব্যাংকটির প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষ কোনো সম্পর্কও নেই বলে দাবি করেছে প্রতিষ্ঠানটি। অভিযোগকে ভিত্তিহীন উল্লেখ করে আইনি অধিকার প্রয়োগের কথাও জানিয়েছে ব্যাংকটি। মার্কিন অর্থ মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৫ সালে গোল্ডেন গ্লোবাল ব্যাংকের মোট সম্পদের পরিমাণ ছিল প্রায় ২৫ হাজার কোটি তুর্কি লিরা। রয়টার্সের হিসাবে, এই অর্থের পরিমাণ প্রায় ৫২ কোটি মার্কিন ডলারের সমান। আকারে ছোট হলেও তুরস্কের এই ব্যাংককে লক্ষ্য করে নিষেধাজ্ঞা দেওয়াকে ইরানের আর্থিক নেটওয়ার্কের ওপর চাপ বাড়ানোর বৃহত্তর মার্কিন উদ্যোগের অংশ হিসেবে দেখা হচ্ছে। এদিকে নিষেধাজ্ঞার কার্যকারিতা নিয়েও বিশেষজ্ঞদের মধ্যে প্রশ্ন রয়েছে। একজন নিষেধাজ্ঞা বিশেষজ্ঞ মনে করেন, গোল্ডেন গ্লোবালের ওপর পদক্ষেপ ইরানের ওপর চাপ কিছুটা বাড়াতে পারে। তবে এর মাধ্যমে যুদ্ধের গতিপথ পরিবর্তন করা সম্ভব হবে কি না, তা নিয়ে সংশয় রয়েছে। একই সঙ্গে অতিরিক্ত অর্থনৈতিক চাপ ইরানের পাল্টা প্রতিক্রিয়ার ঝুঁকি বাড়াতে পারে বলেও সতর্ক করা হয়েছে। সর্বশেষ এই পদক্ষেপের মাধ্যমে ইরানের অর্থনৈতিক ও আর্থিক যোগাযোগব্যবস্থার ওপর চাপ আরও জোরদার করল যুক্তরাষ্ট্র। এর আগে সংযুক্ত আরব আমিরাতের কয়েকটি ব্যাংক শাখার বিরুদ্ধেও ইরানের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট লেনদেনের অভিযোগে ব্যবস্থা নেওয়ার উদ্যোগ নিয়েছিল ওয়াশিংটন। মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, ইরানের সঙ্গে আর্থিক লেনদেন ও নিষেধাজ্ঞা এড়ানোর কাজে সহায়তাকারী প্রতিষ্ঠানগুলোর বিরুদ্ধে ব্যবস্থা অব্যাহত থাকবে। সূত্র: রয়টার্স
যুক্তরাষ্ট্রের ফেডারেল ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন বা এফবিআইয়ের মোস্ট ওয়ান্টেড ফ্রডস্টার্স তালিকায় তুরস্কের নাগরিক অনুর সিমসেককে যুক্ত করা হয়েছে। মার্কিন প্রতিরক্ষা বিভাগের জন্য সামরিক যন্ত্রাংশ সরবরাহের সরকারি চুক্তিতে জালিয়াতির অভিযোগে তাকে খুঁজছে এফবিআই। তার অবস্থান বা গ্রেপ্তারে সহায়ক তথ্যের জন্য সর্বোচ্চ ১ লাখ ৫০ হাজার ডলার পুরস্কার ঘোষণা করেছে সংস্থাটি। এফবিআইয়ের অভিযোগ অনুযায়ী, ২০১৯ সালের এপ্রিল থেকে ২০২২ সালের ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত সিমসেক ও তার সহযোগীরা একটি ফ্রন্ট কোম্পানি ব্যবহার করে মার্কিন প্রতিরক্ষা বিভাগের সামরিক যন্ত্রাংশ সরবরাহের চুক্তি পাওয়ার চেষ্টা করেন। এসব যন্ত্রাংশ মার্কিন নৌবাহিনীর এয়ারক্রাফট ক্যারিয়ার ও সাবমেরিন, মেরিন কোরের সাঁজোয়া যান এবং সেনাবাহিনীর ট্যাংকসহ বিভিন্ন সামরিক ব্যবস্থায় ব্যবহারের জন্য নির্ধারিত ছিল। অভিযোগ রয়েছে, যুক্তরাষ্ট্রে অনুমোদিত প্রস্তুতকারক হিসেবে একটি কোম্পানিকে উপস্থাপন করা হলেও যন্ত্রাংশগুলো তুরস্কে তৈরি করা হতো। পরে যুক্তরাষ্ট্রে পাঠানোর সময় প্যাকেজিং থেকে তুরস্কে উৎপাদনের পরিচয় সরিয়ে ফেলা হতো এবং যন্ত্রাংশের উৎপত্তি সম্পর্কে মার্কিন সরকার ও সরকারি ঠিকাদারদের কাছে মিথ্যা তথ্য দেওয়া হতো। মামলায় আরও অভিযোগ রয়েছে, সামরিক প্রযুক্তির রপ্তানি নিয়ন্ত্রিত কিছু নকশা সংগ্রহ করে তুরস্কে যন্ত্রাংশ তৈরিতে ব্যবহার করা হয়। এসব নকশা যুক্তরাষ্ট্রের বাইরে নেওয়ার অনুমতি ছিল না। তদন্তকারীদের মতে, এই চক্রের মাধ্যমে অর্জিত কয়েক লাখ ডলার আন্তর্জাতিক ব্যাংক লেনদেনের মাধ্যমে তুরস্কে পাঠানো হয়। মামলার আরেক আসামি ইয়ুকসেল সেনবল ২০২৪ সালের মে মাসে যুক্তরাষ্ট্রকে প্রতারণার ষড়যন্ত্র, তারের মাধ্যমে প্রতারণা, অর্থ পাচার ও রপ্তানি নিয়ন্ত্রণ আইন লঙ্ঘনসহ ২৫টি ফেডারেল অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। একই বছরের অক্টোবরে তাকে ১৫ মাসের কারাদণ্ড দেওয়া হয় এবং ২ লাখ ৭৫ হাজার ৪৩০ ডলার ৯০ সেন্ট বাজেয়াপ্তের নির্দেশ দেওয়া হয়। সিমসেকের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রের ফেডারেল আদালতে যুক্তরাষ্ট্র সরকারকে প্রতারণার ষড়যন্ত্র, তারের মাধ্যমে প্রতারণা, অর্থ পাচারের ষড়যন্ত্র এবং রপ্তানি নিয়ন্ত্রণ আইন লঙ্ঘনসহ একাধিক অভিযোগ রয়েছে। ২০২৩ সালের ২৫ অক্টোবর তার বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করা হয়। মামলাটি এফবিআইসহ একাধিক মার্কিন তদন্ত সংস্থা তদন্ত করেছে। এফবিআই জানিয়েছে, সিমসেকের অবস্থান সম্পর্কে নির্ভরযোগ্য তথ্য থাকলে তা সংস্থাটিকে জানানো যেতে পারে। তার গ্রেপ্তার ও দোষী সাব্যস্ত হওয়ার ক্ষেত্রে সহায়ক তথ্যের জন্য সর্বোচ্চ ১ লাখ ৫০ হাজার ডলার পুরস্কার দেওয়া হবে। তবে আদালতে অভিযোগ প্রমাণিত না হওয়া পর্যন্ত সিমসেক আইনগতভাবে নির্দোষ হিসেবে বিবেচিত হবেন। এফবিআইয়ের তথ্য অনুযায়ী, তিনি বর্তমানে পলাতক।
সৌদি আরব, পাকিস্তান ও তুরস্কের নতুন মক্কা যৌথ প্রতিরক্ষা চুক্তিতে বাংলাদেশের যোগ দেওয়ার সম্ভাবনা নিয়ে আলোচনা চলছে বলে জানিয়েছেন পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তারা। তবে এ বিষয়ে এখনো নীতিগত কোনো সিদ্ধান্ত হয়নি বলে স্পষ্ট করেছেন বাংলাদেশের পররাষ্ট্রবিষয়ক প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ। মক্কা যৌথ প্রতিরক্ষা চুক্তিটি সৌদি আরব, পাকিস্তান ও তুরস্কের মধ্যে গত ৭ আগস্ট ২০২৬ মক্কায় স্বাক্ষরিত হয়। সৌদি যুবরাজ মোহাম্মদ বিন সালমান, পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফ এবং তুরস্কের প্রেসিডেন্ট রিসেপ তাইয়েপ এরদোয়ান নিজ নিজ দেশের পক্ষে চুক্তিতে সই করেন। চুক্তিটির অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো সম্মিলিত প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা। এতে বলা হয়েছে, তিন দেশের যেকোনো একটির ওপর সশস্ত্র হামলা হলে সেটিকে তিন দেশের সবার ওপর হামলা হিসেবে বিবেচনা করা হবে। ভবিষ্যতে এই কাঠামোয় আরও দেশকে যুক্ত করার সুযোগ রাখার কথাও সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলো জানিয়েছে। বাংলাদেশের যোগ দেওয়ার সম্ভাবনা নিয়ে কয়েক দিন ধরে স্থানীয় ও আঞ্চলিক গণমাধ্যমে আলোচনা চললেও এখন পর্যন্ত সরকারের পক্ষ থেকে কোনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়নি। রোববার আরব নিউজকে শামা ওবায়েদ বলেন, “এ বিষয়ে এখনো কোনো সিদ্ধান্ত হয়নি, তবে আলোচনা চলছে।” এর আগে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের পররাষ্ট্রবিষয়ক উপদেষ্টা হুমায়ুন কবিরও সম্ভাব্য এই জোটে বাংলাদেশের অবস্থান নিয়ে কথা বলেন। সোমবার তিনি দ্বিপক্ষীয় ও বহুপক্ষীয় বিষয় দেখভালের দায়িত্ব নিয়ে পররাষ্ট্রবিষয়ক প্রতিমন্ত্রীর দায়িত্ব গ্রহণ করেন। বাংলাদেশ সংবাদ সংস্থাকে দেওয়া বক্তব্যে হুমায়ুন কবির বলেন, সৌদি আরব, পাকিস্তান ও তুরস্ককে নিয়ে সম্ভাব্য কোনো অর্থনৈতিক বা প্রতিরক্ষা কাঠামোয় যোগ দেওয়ার বিষয়ে বাংলাদেশ ইতিবাচক অবস্থান বিবেচনা করছে। তবে এ ক্ষেত্রে দেশের নিজস্ব জাতীয় স্বার্থকে গুরুত্ব দেওয়া হবে বলেও তিনি জানান। মক্কা চুক্তিতে থাকা তিন দেশই নিজেদের অঞ্চলে গুরুত্বপূর্ণ সামরিক শক্তি হিসেবে বিবেচিত। পাকিস্তানের রয়েছে বিশ্বের অন্যতম বড় সক্রিয় সামরিক বাহিনী এবং মুসলিম বিশ্বের একমাত্র পারমাণবিক অস্ত্রভাণ্ডার। সৌদি আরবের রয়েছে বড় অর্থনৈতিক সক্ষমতা, আঞ্চলিক প্রভাব ও প্রতিরক্ষা অবকাঠামো। অন্যদিকে তুরস্ক ন্যাটোর সদস্য এবং দেশটির রয়েছে বড় সামরিক বাহিনী ও শক্তিশালী নিজস্ব প্রতিরক্ষা শিল্প। ফলে তিন দেশের এই প্রতিরক্ষা জোট মধ্যপ্রাচ্য ও বৃহত্তর মুসলিম বিশ্বের নিরাপত্তা কাঠামোয় নতুন মাত্রা যোগ করেছে। বাংলাদেশের জন্য সৌদি আরবের সঙ্গে সম্পর্কও এ আলোচনায় গুরুত্বপূর্ণ। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান আগামী অক্টোবরে প্রথমবারের মতো সরকারি সফরে সৌদি আরবের রিয়াদে যাওয়ার কথা রয়েছে। সৌদি যুবরাজের আমন্ত্রণে এ সফর অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা। সফর সামনে রেখে সৌদি আরবের উপপররাষ্ট্রমন্ত্রী ওয়ালিদ বিন আবদুলকরিম আল-খুরাইজিও চলতি মাসের শুরুতে ঢাকা সফর করেন। তিনি প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেন। ওই বৈঠকের পর প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় জানায়, দুই পক্ষ বাংলাদেশ-সৌদি দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ককে নতুন উচ্চতায় নেওয়ার বিষয়ে একমত হয়েছে। জনসংখ্যার দিক থেকে বাংলাদেশ বিশ্বের তৃতীয় বৃহত্তম মুসলিম-অধ্যুষিত দেশ। দেশটির সক্রিয় সামরিক সদস্যের সংখ্যা প্রায় ২ লাখ ৪ হাজার, যা জনবলের দিক থেকে এশিয়ার অন্যতম বড় সামরিক বাহিনী। সব মিলিয়ে, মক্কা যৌথ প্রতিরক্ষা চুক্তিতে বাংলাদেশের সম্ভাব্য যোগদানের বিষয়টি এখনো আলোচনার পর্যায়ে রয়েছে। তবে সৌদি আরবের সঙ্গে ঢাকার ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক এবং সামনে প্রধানমন্ত্রীর রিয়াদ সফরকে ঘিরে এ আলোচনা আগামী দিনগুলোতে আরও গুরুত্ব পেতে পারে।
গাজা উপত্যকায় সাম্প্রতিক ইসরায়েলি হামলার তীব্র নিন্দা জানিয়েছে তুরস্ক, মিসর ও কাতার। একই সঙ্গে ইসরায়েলকে যুদ্ধবিরতি চুক্তির অধীনে দেওয়া সব প্রতিশ্রুতি পূরণ এবং এমন কোনো পদক্ষেপ না নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছে তিন দেশ, যা পরিস্থিতিকে আরও উত্তপ্ত করতে পারে। বৃহস্পতিবার (২০ আগস্ট) এক যৌথ বিবৃতিতে এ অবস্থান জানায় যুদ্ধবিরতি ও শান্তি আলোচনায় মধ্যস্থতাকারী হিসেবে কাজ করা তুরস্ক, মিসর ও কাতার। তারা বলেছে,গাজায় ইসরায়েলি হামলা অব্যাহত থাকায় যুদ্ধবিরতি বাস্তবায়নের প্রচেষ্টা গুরুতরভাবে বাধাগ্রস্ত হচ্ছে। যৌথ বিবৃতিতে তিন দেশ গাজায় বেসামরিক মানুষ, নারী ও শিশুসহ হতাহতের ঘটনায় গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করে। তাদের মতে, সাম্প্রতিক হামলা আঞ্চলিক ও আন্তর্জাতিক পর্যায়ে চলমান শান্তি প্রচেষ্টার জন্য গুরুত্বপূর্ণ সময়ে নতুন করে সংকট তৈরি করছে। রয়টার্সের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, মঙ্গলবার থেকে গাজায় ইসরায়েলি হামলায় অন্তত ১৬ ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছেন বলে স্থানীয় চিকিৎসকদের বরাতে জানা গেছে। ইসরায়েল জানিয়েছে, হামলার লক্ষ্য ছিল হামাসের সদস্যরা। তুরস্ক, মিসর ও কাতার বলেছে, গাজা সংঘাতের অবসানে যে সমন্বিত পরিকল্পনা বাস্তবায়নের চেষ্টা চলছে, সাম্প্রতিক সামরিক তৎপরতা সেটিকে ঝুঁকির মধ্যে ফেলছে। তিন মধ্যস্থতাকারী দেশ ইসরায়েলকে যুদ্ধবিরতি চুক্তির সব বাধ্যবাধকতা পূরণ এবং উত্তেজনা বাড়াতে পারে—এমন কর্মকাণ্ড থেকে বিরত থাকার আহ্বান জানিয়েছে। এদিকে যুদ্ধবিরতি বাস্তবায়নের পরবর্তী ধাপ নিয়েও ইসরায়েল ও হামাসের মধ্যে মতপার্থক্য রয়েছে। প্রস্তাবিত পরিকল্পনায় হামাসের নিরস্ত্রীকরণ এবং গাজা থেকে ইসরায়েলি সেনা প্রত্যাহারের মতো বিষয় রয়েছে। তবে কোনটি আগে বাস্তবায়িত হবে, তা নিয়ে দুই পক্ষের মধ্যে বিরোধের কারণে আলোচনা এগোতে বাধার মুখে পড়েছে। তিন দেশ আন্তর্জাতিক সম্প্রদায় এবং যুক্তরাষ্ট্রের নেতৃত্বাধীন ‘বোর্ড অব পিস’-এর প্রতি যুদ্ধবিরতি কার্যকরভাবে বাস্তবায়ন নিশ্চিত করার আহ্বান জানিয়েছে। একই সঙ্গে গাজায় নতুন করে উত্তেজনা ও সহিংসতা ছড়িয়ে পড়া ঠেকাতে দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার দাবি জানিয়েছে তারা। তুরস্ক, মিসর ও কাতারের এই অবস্থান এমন সময়ে এলো, যখন গাজায় যুদ্ধবিরতি কার্যকর থাকার পরও ইসরায়েলি হামলা পুরোপুরি বন্ধ হয়নি এবং সংঘাতের স্থায়ী সমাধান নিয়ে কূটনৈতিক প্রচেষ্টা এখনও অনিশ্চয়তার মধ্যে রয়েছে।
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রায় প্রতিটি গুরুত্বপূর্ণ সফর ও অনুষ্ঠানে দেখা যাচ্ছে হোয়াইট হাউসের কর্মকর্তা নাটালি হার্পকে। গত মাসে তুরস্ক থেকে নিরাপত্তাজনিত কারণে ট্রাম্পকে গোপনে অন্য একটি উড়োজাহাজে সরিয়ে নেওয়ার সময়ও হাতে গোনা কয়েকজন কর্মকর্তার মধ্যে ছিলেন তিনি। এরপর থেকেই ট্রাম্পের কাছে হার্পের প্রবেশাধিকার এবং হোয়াইট হাউসে তার প্রভাব নিয়ে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে। ফোর্বসের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, হার্প বর্তমানে প্রেসিডেন্টের স্পেশাল ও এক্সিকিউটিভ অ্যাসিস্ট্যান্ট হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। তবে তার আনুষ্ঠানিক পদের চেয়েও ট্রাম্পের সঙ্গে তার ঘনিষ্ঠ কর্মসম্পর্ক এবং প্রায় সার্বক্ষণিক উপস্থিতিই বেশি নজর কাড়ছে। গত জুলাইয়ে তুরস্কে ন্যাটো সম্মেলন শেষে যুক্তরাষ্ট্রে ফেরার সময় নিরাপত্তা হুমকির কারণে ট্রাম্পের যাত্রাপথে অত্যন্ত গোপন পরিবর্তন আনা হয়েছিল। রয়টার্সের তথ্য অনুযায়ী, সম্ভাব্য হামলার হুমকির পর সিক্রেট সার্ভিসের নির্দেশনায় ট্রাম্পকে এয়ার ফোর্স ওয়ান থেকে গোপনে অন্য একটি সামরিক উড়োজাহাজে নেওয়া হয়। একটি ক্যাটারিং ট্রাক ব্যবহার করে প্রেসিডেন্টকে সরিয়ে নেওয়ার এই অভিযান এতটাই গোপন ছিল যে তার সঙ্গে খুব সীমিতসংখ্যক কর্মকর্তা ছিলেন। সিবিএস নিউজের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সেই গোপন ফ্লাইটে ট্রাম্পের সঙ্গে ছিলেন প্রতিরক্ষামন্ত্রী পিট হেগসেথ এবং হোয়াইট হাউসের তিন ঘনিষ্ঠ কর্মকর্তা নাটালি হার্প, ড্যান স্ক্যাভিনো ও ওয়াল্ট নাউটা। অন্যদিকে পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও ও অর্থমন্ত্রী স্কট বেসেন্ট ছিলেন এয়ার ফোর্স ওয়ানের ডিকয় ফ্লাইটে। এত গুরুত্বপূর্ণ নিরাপত্তা পরিস্থিতিতেও হার্পের ট্রাম্পের সঙ্গে থাকা তার অবস্থান নিয়ে আলোচনাকে আরও জোরালো করেছে। বিশেষ করে তিনি কীভাবে প্রেসিডেন্টের সবচেয়ে ঘনিষ্ঠ কর্মীদের একজন হয়ে উঠলেন এবং ট্রাম্পের কাছে তার প্রবেশাধিকার কতটা বিস্তৃত, তা নিয়ে রাজনৈতিক মহল ও সংবাদমাধ্যমে প্রশ্ন উঠছে। হার্পকে ট্রাম্পের আশপাশে প্রায়ই ল্যাপটপ ও বহনযোগ্য প্রিন্টার নিয়ে দেখা যায়। প্রেসিডেন্টের জন্য সংবাদ প্রতিবেদন, সোশ্যাল মিডিয়া পোস্ট এবং অন্যান্য তথ্য প্রিন্ট করে দেওয়ার কারণে হোয়াইট হাউসের পরিমণ্ডলে তিনি ‘হিউম্যান প্রিন্টার’ নামেও পরিচিত হয়ে উঠেছেন। বিভিন্ন প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ট্রাম্প কোন সংবাদ বা তথ্য দেখছেন, তা তার কাছে পৌঁছে দেওয়ার ক্ষেত্রে হার্পের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রয়েছে। হার্পের রাজনৈতিক পরিচিতি তৈরি হয় ট্রাম্পের প্রথম মেয়াদে। ক্যানসারের চিকিৎসার সময় তিনি প্রকাশ্যে ট্রাম্পের ‘রাইট টু ট্রাই’ আইনের প্রশংসা করেন এবং নিজের চিকিৎসার প্রসঙ্গে ট্রাম্পকে কৃতিত্ব দেন। পরে ২০২০ সালের রিপাবলিকান ন্যাশনাল কনভেনশনেও বক্তব্য দেন তিনি। একসময় ওয়ান আমেরিকা নিউজে কাজ করা হার্প পরে ট্রাম্পের রাজনৈতিক টিমের সঙ্গে যুক্ত হন এবং ধীরে ধীরে তার ঘনিষ্ঠ সহযোগীদের একজন হয়ে ওঠেন। সাম্প্রতিক সময়ে জর্জিয়ার ডেমোক্র্যাট সিনেটর জন অসফও প্রকাশ্যে হার্পের সঙ্গে ট্রাম্পের ঘনিষ্ঠতা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন। বিষয়টি নিয়ে সোমবার হোয়াইট হাউসে প্রেসিডেন্টকে প্রশ্ন করা হলেও ট্রাম্প সরাসরি উত্তর দেননি। বরং প্রশ্নকারী সাংবাদিকের সমালোচনা করেন। তবে হার্পের বিরুদ্ধে কোনো অনিয়মের অভিযোগ প্রমাণিত হয়েছে এমন তথ্য সামনে আসেনি। মূলত প্রেসিডেন্টের সঙ্গে তার অস্বাভাবিকভাবে ঘনিষ্ঠ কর্মসম্পর্ক, গুরুত্বপূর্ণ বৈঠক ও সফরে নিয়মিত উপস্থিতি এবং তুরস্কের উচ্চঝুঁকির গোপন ফ্লাইটে জায়গা পাওয়াই তাকে নতুন করে আলোচনার কেন্দ্রে নিয়ে এসেছে। ট্রাম্প প্রশাসনে আনুষ্ঠানিক পদমর্যাদার বাইরে প্রেসিডেন্টের ব্যক্তিগত আস্থা কার ওপর কতটা রয়েছে, সেটি বরাবরই গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। নাটালি হার্পের ক্ষেত্রে সাম্প্রতিক ঘটনাগুলো দেখাচ্ছে, তিনি এখন ট্রাম্পের সবচেয়ে কাছাকাছি থাকা হোয়াইট হাউস কর্মকর্তাদের একজন।
মক্কা প্রতিরক্ষা চুক্তি আরও দেশের জন্য উন্মুক্ত রাখার কথা জানালেন তুরস্কের প্রেসিডেন্ট; হামলা হলে সদস্যদের যৌথ প্রতিক্রিয়ার নীতি, বাড়ছে আঞ্চলিক প্রতিরক্ষা সহযোগিতা। তুরস্ক, সৌদি আরব ও পাকিস্তানের মধ্যে সম্প্রতি স্বাক্ষরিত মক্কা যৌথ প্রতিরক্ষা চুক্তিতে মিসরও যোগ দিতে পারে বলে জানিয়েছেন তুরস্কের প্রেসিডেন্ট রিসেপ তাইয়্যেপ এরদোয়ান। তিনি বলেছেন, ভবিষ্যতে চুক্তিটি অন্য দেশগুলোর জন্যও উন্মুক্ত রাখা হয়েছে। আল জাজিরা আরবির ‘আল মুকাবালা’ অনুষ্ঠানের জন্য দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে এরদোয়ান বলেন, কোনো সদস্য দেশ বাইরের কোনো পক্ষের সশস্ত্র হামলার শিকার হলে সেটিকে সব সদস্যের ওপর হামলা হিসেবে বিবেচনা করার নীতি চুক্তিতে রাখা হয়েছে। মিসরের সম্ভাব্য অংশগ্রহণকে তিনি চুক্তি সম্প্রসারণের একটি সম্ভাব্য পথ হিসেবে উল্লেখ করেন। গত ৭ আগস্ট পবিত্র মক্কায় এরদোয়ান, সৌদি যুবরাজ মোহাম্মদ বিন সালমান এবং পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফ চুক্তিতে স্বাক্ষর করেন। চুক্তির মূল নীতির মধ্যে রয়েছে—তিন দেশের যেকোনো একটির ওপর সশস্ত্র হামলাকে তিন দেশের সবার ওপর হামলা হিসেবে বিবেচনা করা। চুক্তির আওতায় তিন দেশ প্রতিরক্ষা ও নিরাপত্তা সহযোগিতা আরও বাড়ানোর পরিকল্পনা করেছে। এর মধ্যে উচ্চপর্যায়ের রাজনৈতিক ও সামরিক সমন্বয়, নিয়মিত যৌথ সামরিক মহড়া এবং প্রতিরক্ষা শিল্পে যৌথ উন্নয়ন ও প্রযুক্তি সহযোগিতার বিষয় রয়েছে। সামরিক মহড়ায় স্থল, নৌ, আকাশ ও সাইবার সক্ষমতাকেও গুরুত্ব দেওয়ার কথা জানানো হয়েছে। তবে তুরস্ক ও পাকিস্তান দুদেশই জোর দিয়ে বলেছে, চুক্তিটি কোনো নির্দিষ্ট দেশকে লক্ষ্য করে করা হয়নি। বিশেষ করে ইরানকে লক্ষ্য করে এই প্রতিরক্ষা কাঠামো তৈরি হয়েছে—এমন ধারণা প্রত্যাখ্যান করেছে আঙ্কারা। ইরানও চুক্তিটি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেনি। ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ইসমাইল বাঘাই বলেছেন, আঞ্চলিক দেশগুলোর নিজেদের নিরাপত্তা কাঠামো গড়ে তোলার প্রচেষ্টা নিয়ে তেহরানের ভয়ের কোনো কারণ দেখছে না। তবে তিনি চুক্তিটি যেন অন্তর্ভুক্তিমূলক হয় এবং আঞ্চলিক বাস্তবতা ও প্রকৃত নিরাপত্তা হুমকি বিবেচনায় নেয়, সেই প্রত্যাশা জানিয়েছেন। মিসরের সম্ভাব্য যোগদান নিয়ে অবশ্য এখনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হয়নি। আল জাজিরার বিশ্লেষণে বলা হয়েছে, মিসরকে সম্ভাব্য সদস্য হিসেবে বিবেচনা করা হলেও কায়রো নতুন কোনো প্রতিরক্ষা অঙ্গীকারে কতটা আগ্রহী হবে, তা নিয়ে প্রশ্ন রয়েছে। এদিকে এরদোয়ান সাক্ষাৎকারে হরমুজ প্রণালির পরিস্থিতি নিয়েও কথা বলেছেন। তিনি জানিয়েছেন, প্রণালিটি পুনরায় চালু করা তুরস্কের অগ্রাধিকার। একই সঙ্গে আঞ্চলিক উত্তেজনা কমাতে কাতারের মধ্যস্থতামূলক ভূমিকার প্রশংসা করেছেন তিনি। সিরিয়া, গাজা ও লেবাননের পরিস্থিতি নিয়েও কথা বলেন তুরস্কের প্রেসিডেন্ট। তিনি বলেন, আঞ্চলিক অস্থিরতার মধ্যে তুরস্ক তার প্রতিবেশীদের একা ছেড়ে দেবে না। সিরিয়ায় স্থিতিশীলতা প্রতিষ্ঠার প্রচেষ্টা চালিয়ে যাওয়ার পাশাপাশি গাজায় সহায়তা অব্যাহত রাখার কথাও জানান তিনি। এফ-৩৫ যুদ্ধবিমান নিয়েও কথা বলেন এরদোয়ান। তিনি দাবি করেন, মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের কাছ থেকে এফ-৩৫ পাওয়ার বিষয়ে প্রতিশ্রুতি পেয়েছেন। তবে তুরস্কের রুশ নির্মিত এস-৪০০ আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা কেনার কারণে দেশটির এফ-৩৫ কর্মসূচিতে ফেরার বিষয়ে যুক্তরাষ্ট্রে এখনো রাজনৈতিক ও আইনি জটিলতা রয়েছে। বিশ্লেষকদের কাছে মক্কা চুক্তির গুরুত্ব শুধু তিন দেশের পারস্পরিক প্রতিরক্ষা প্রতিশ্রুতিতে সীমাবদ্ধ নয়। এটি এমন এক সময়ে এসেছে, যখন ইরানকে ঘিরে আঞ্চলিক উত্তেজনা, উপসাগরীয় নিরাপত্তা এবং যুক্তরাষ্ট্রের নিরাপত্তা ভূমিকা নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন তৈরি হয়েছে। ফলে মিসরসহ আরও দেশ এতে যুক্ত হলে মধ্যপ্রাচ্য ও দক্ষিণ এশিয়ার নিরাপত্তা কাঠামোয় এর প্রভাব আরও বিস্তৃত হতে পারে।
মাত্র কয়েক মিনিটের সিদ্ধান্ত। অস্ত্রোপচারের ঠিক আগে এক হাজার পাউন্ড ছাড়ে ব্রাজিলিয়ান বাট লিফট বা বিবিএল করানোর প্রস্তাব পেয়েছিলেন ব্রিটিশ নারী হেইলি ডাওয়েল। স্বামীর ভাষ্য অনুযায়ী, সিদ্ধান্ত নেওয়ার জন্য তাদের হাতে ছিল মাত্র পাঁচ মিনিট। সেই অস্ত্রোপচারের পর জটিলতায় ৩৮ বছর বয়সী তিন সন্তানের এই মায়ের মৃত্যু হয়। এখন তার মৃত্যু নিয়ে তদন্তে বিদেশে কসমেটিক সার্জারি করাতে যাওয়া রোগীদের যথাযথভাবে ঝুঁকি জানানোর বিষয়টি নতুন করে সামনে এসেছে। ইংল্যান্ডের হ্যাম্পশায়ারের ইস্টলির বাসিন্দা হেইলি ২০২৩ সালের অক্টোবরে স্বামী নিল ডাওয়েলের সঙ্গে তুরস্কের ইস্তাম্বুলে যান। পরিকল্পনা ছিল টামি টাক ও লাইপোসাকশন করানোর। কিন্তু স্বামীর দাবি, অস্ত্রোপচারের অল্প সময় আগে চিকিৎসক তার নিতম্বের আকৃতি নিয়ে মন্তব্য করে অতিরিক্তভাবে বিবিএল করানোর প্রস্তাব দেন। সাম্প্রতিক ইনকোয়েস্টে উঠে আসা তথ্য অনুযায়ী, ওই অতিরিক্ত অস্ত্রোপচারের জন্য এক হাজার পাউন্ড ছাড়ের প্রস্তাব দেওয়া হয়েছিল। নিল ডাওয়েলের দাবি, স্ত্রীকে সিদ্ধান্ত নেওয়ার জন্য পর্যাপ্ত সময় দেওয়া হয়নি এবং ঝুঁকিগুলোও যথাযথভাবে ব্যাখ্যা করা হয়নি। হেইলি ২০২৩ সালের ২ অক্টোবর ইস্তাম্বুলের বিহিটি ক্লিনিকে অস্ত্রোপচার করান। পরদিন ৩ অক্টোবর তার মৃত্যু হয়। আদালতে উপস্থাপিত তথ্যে বলা হয়েছে, অস্ত্রোপচারের পর তিনি দুবার কার্ডিয়াক অ্যারেস্টের শিকার হন। তার মৃত্যুর সঙ্গে ফ্যাট এম্বোলিজমের সম্পর্ক পাওয়া যায়। এ অবস্থায় শরীরের চর্বির কণা রক্তপ্রবাহে ঢুকে ফুসফুসসহ গুরুত্বপূর্ণ অঙ্গে রক্ত চলাচল বাধাগ্রস্ত করতে পারে। বিবিএল এমন একটি কসমেটিক সার্জারি, যেখানে শরীরের অন্য অংশ থেকে লাইপোসাকশনের মাধ্যমে চর্বি সংগ্রহ করে নিতম্বে স্থানান্তর করা হয়। এই প্রক্রিয়ায় চর্বি ভুল জায়গায় প্রবেশ করলে গুরুতর জটিলতা তৈরি হতে পারে। হেইলির স্বামী শুরু থেকেই দাবি করে আসছেন, তার স্ত্রী যে তিনটি প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়ে গিয়েছিলেন, সবগুলোর বিষয়ে যথাযথ সম্মতি ছিল না। ২০২৪ সালে প্রাথমিক শুনানিতে তিনি আরও অভিযোগ করেন, অস্ত্রোপচারের ঝুঁকি তাদের পরিষ্কারভাবে জানানো হয়নি। তার আরেকটি গুরুতর অভিযোগ ছিল অস্ত্রোপচারের সময়কাল নিয়ে। নিলের ভাষ্য অনুযায়ী, অস্ত্রোপচারটি প্রায় ছয় ঘণ্টা চলার কথা থাকলেও তা শেষ হয় প্রায় এক ঘণ্টা ৪৫ মিনিটে। তিনি দাবি করেন, সার্জন অস্ত্রোপচারের মাঝপথে চলে যান এবং অ্যানেসথেটিস্টের ওপর দায়িত্ব রেখে যান। নিল আরও অভিযোগ করেছিলেন, হেইলির মৃত্যুর পর তাকে একটি কনসেন্ট ফর্মে সই করতে বলা হয়েছিল। এসব অভিযোগের সবকটি আদালতে চূড়ান্তভাবে প্রমাণিত হয়েছে এমন নয়। তবে হেইলির মৃত্যু ঘিরে চলমান তদন্তে রোগীর সম্মতি, তাকে দেওয়া তথ্য এবং অস্ত্রোপচারের পরিস্থিতি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হয়ে উঠেছে। হেইলির মৃত্যুর ঘটনায় যুক্তরাজ্যে ইনকোয়েস্ট পরিচালনা করছেন হ্যাম্পশায়ারের এরিয়া করোনার নিকোলাস ওয়াকার। ২০২৫ সালের নভেম্বরে তুরস্কে চলমান ফৌজদারি ও দেওয়ানি আইনি প্রক্রিয়ার কারণে ইনকোয়েস্ট সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছিল। তুরস্কের স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ও বিষয়টি তদন্ত করছে এবং নিল ডাওয়েল সংশ্লিষ্ট ক্লিনিকের বিরুদ্ধে দেওয়ানি মামলা করেছেন। করোনার তদন্তের পরিধি শুধু হেইলির মৃত্যুর মধ্যে সীমাবদ্ধ রাখেননি। বিদেশে কসমেটিক সার্জারি করাতে যাওয়া ব্রিটিশ নাগরিকেরা সিদ্ধান্ত নেওয়ার আগে ঝুঁকি সম্পর্কে কতটা তথ্য পাচ্ছেন, সেটিও পর্যালোচনায় আনা হয়েছে। ব্রিটিশ সরকারের তথ্য অনুযায়ী, শুধু ২০২৩ সালেই চিকিৎসা নিতে তুরস্কে যাওয়ার পর অন্তত ছয় ব্রিটিশ নাগরিকের মৃত্যু হয়েছিল। কম খরচে কসমেটিক সার্জারির জন্য তুরস্ক ব্রিটিশদের কাছে জনপ্রিয় হলেও একাধিক মৃত্যুর পর বিদেশে অস্ত্রোপচারের ঝুঁকি নিয়ে সতর্ক করে আসছে যুক্তরাজ্যের স্বাস্থ্য কর্তৃপক্ষ। হেইলি ডাওয়েলের ঘটনায় সবচেয়ে বড় প্রশ্ন এখন কেবল অস্ত্রোপচারের ফলাফল নয়। অস্ত্রোপচারের কয়েক মিনিট আগে নতুন একটি উচ্চঝুঁকির প্রক্রিয়া করানোর সিদ্ধান্ত একজন রোগী কতটা বুঝে এবং স্বাধীনভাবে নিতে পারেন, সেই প্রশ্নও সামনে এনেছে এই মৃত্যু।
ইরানের সম্ভাব্য হামলার আশঙ্কায় যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পকে তুরস্ক থেকে গোপনে সরিয়ে নেওয়ার এক নজিরবিহীন নিরাপত্তা অভিযান চালানো হয়েছিল বলে জানা গেছে। ন্যাটো সম্মেলন শেষে গত ৮ জুলাই তুরস্কের রাজধানী আঙ্কারা ছাড়ার সময় ট্রাম্পকে প্রকাশ্যে এয়ার ফোর্স ওয়ানে উঠতে দেখা গেলেও পরে বিমানবন্দরের একটি ক্যাটারিং ট্রাক ব্যবহার করে তাঁকে অন্য একটি সামরিক বিমানে সরিয়ে নেওয়া হয়। বিষয়টি প্রথমে ওয়াশিংটন পোস্টের এক প্রতিবেদনে উঠে আসে। প্রতিবেদন অনুযায়ী, গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে ট্রাম্পের বিরুদ্ধে ইরানের পক্ষ থেকে একটি বিশ্বাসযোগ্য হত্যাচেষ্টার আশঙ্কা তৈরি হয়েছিল। সেই পরিস্থিতিতে প্রেসিডেন্ট কোন বিমানে করে তুরস্ক ছাড়ছেন, তা গোপন রাখতে নিরাপত্তা কর্মকর্তারা একটি বিভ্রান্তিমূলক পরিকল্পনা করেন। পরিকল্পনার অংশ হিসেবে ট্রাম্পকে প্রথমে পুরোনো এয়ার ফোর্স ওয়ানে প্রকাশ্যে উঠতে দেখা যায়। সাংবাদিকদের ক্যামেরার সামনেই তিনি বিমানে ওঠেন। কিন্তু পরে বিমানের অন্য পাশ দিয়ে তাঁকে বিমানবন্দরের একটি ক্যাটারিং ট্রাকে করে অপেক্ষমাণ একটি ছোট সামরিক বিমানের কাছে নিয়ে যাওয়া হয়। সেই সামরিক বিমানটি ছিল এয়ার ফোর্সের সি-৩২এ, যা আকারে ছোট হলেও প্রেসিডেন্টের বহরে ব্যবহৃত বিমানের সঙ্গে সাদৃশ্য রয়েছে। ট্রাম্পের সঙ্গে কয়েকজন শীর্ষ সহযোগীও ওই গোপন ফ্লাইটে ছিলেন। প্রতিরক্ষামন্ত্রী পিট হেগসেথও ওই বিমানে ওঠেন বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। এদিকে সাংবাদিক ও হোয়াইট হাউসের কিছু কর্মীকে পুরোনো এয়ার ফোর্স ওয়ানেই রাখা হয়েছিল। ফলে বাইরে থেকে দেখে মনে হচ্ছিল ট্রাম্প ওই বিমানেই যুক্তরাজ্যের উদ্দেশে রওনা হয়েছেন। এমনকি সাংবাদিকদের বিমানের জানালার পর্দা বন্ধ রাখার নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল বলে প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে। গোপন সামরিক বিমানে ট্রাম্প যুক্তরাজ্যের রয়্যাল এয়ার ফোর্সের মিলডেনহল ঘাঁটিতে পৌঁছান। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বিভ্রান্তিমূলক ফ্লাইটটি পৌঁছানোর প্রায় নয় মিনিট আগেই ট্রাম্পের প্রকৃত বিমান সেখানে অবতরণ করে। পরে তাঁকে আবার প্রকাশ্যে পুরোনো এয়ার ফোর্স ওয়ান থেকে নামতে দেখা যায়। কীভাবে তাঁকে আবার ওই বিমানে ফিরিয়ে নেওয়া হয়েছিল, সে বিষয়ে বিস্তারিত প্রকাশ করা হয়নি। ট্রাম্প তুরস্কে যাওয়ার সময় কাতারের দেওয়া একটি নতুন বোয়িং ৭৪৭-৮ বিমানে ভ্রমণ করেছিলেন। যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্টের জন্য বিমানটি নিরাপত্তা ও যোগাযোগ ব্যবস্থাসহ বিশেষভাবে প্রস্তুত করা হয়েছিল। তবে তুরস্ক থেকে ফেরার সময় ট্রাম্প পুরোনো এয়ার ফোর্স ওয়ান ব্যবহারের সিদ্ধান্ত নেন। সেই বিমানটিকেই পরে নিরাপত্তা পরিকল্পনায় বিভ্রান্তি তৈরির জন্য ব্যবহার করা হয়। হোয়াইট হাউস গোপন বিমান পরিবর্তনের বিষয়টি স্বীকার করলেও নতুন কাতার-দেওয়া বিমানের নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগকে গুরুত্বহীন বলে দেখিয়েছে। কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, প্রেসিডেন্টের নিরাপত্তার জন্য প্রয়োজনীয় সব ধরনের ব্যবস্থা নেওয়া হতে পারে। ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে চলমান তীব্র উত্তেজনার মধ্যেই ট্রাম্পের তুরস্ক ত্যাগের এই গোপন অভিযান সামনে এলো। প্রেসিডেন্টের গতিবিধি ও অবস্থান গোপন রাখতে এমন জটিল নিরাপত্তা ব্যবস্থা নেওয়ার ঘটনা যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্টের নিরাপত্তা ব্যবস্থার কঠোরতারও ইঙ্গিত দিচ্ছে।
ইরানের গুপ্তহত্যার হুমকির মুখে চরম গোপনীয়তা ও নজিরবিহীন নিরাপত্তার মধ্য দিয়ে গত মাসে তুরস্ক ত্যাগ করেছিলেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। সাধারণ কোনো প্রটোকল নয়, বরং একটি ক্যাটারিং ট্রাকে লুকিয়ে ছোট একটি সামরিক বিমানে করে তাকে যুক্তরাজ্যে নিয়ে যাওয়া হয়। এই পুরো সময়টিতে হোয়াইট হাউসের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছিল যে, প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প তার নিয়মিত ‘এয়ার ফোর্স ওয়ান’ বিমানেই ভ্রমণ করছেন। মূলত হামলাকারীদের বিভ্রান্ত করতেই এই প্রতারণামূলক ও অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ কৌশল গ্রহণ করেছিল মার্কিন গোয়েন্দা সংস্থাগুলো। সোমবার (১০ আগস্ট) প্রভাবশালী মার্কিন সংবাদমাধ্যম ওয়াশিংটন পোস্টের এক বিশেষ প্রতিবেদনে ট্রাম্পের এই গোপন যাত্রার রোমহর্ষক তথ্য প্রকাশ্যে আনা হয়েছে। আন্তর্জাতিক সংবাদ সংস্থা রয়টার্সও এই তথ্যের সত্যতা নিশ্চিত করেছে। ওয়াশিংটন পোস্টের প্রতিবেদন থেকে জানা যায়, ন্যাটোর একটি শীর্ষ সম্মেলনে যোগ দিতে কাতারের উপহার দেওয়া একটি বিলাসবহুল ও নতুনভাবে সাজানো বোয়িং ৭৪৭ বিমানে চড়ে তুরস্কের রাজধানী আঙ্কারায় পৌঁছেছিলেন ডোনাল্ড ট্রাম্প। কিন্তু সম্মেলন শেষে তার ফেরার সময় দৃশ্যপট পাল্টে যায়। মার্কিন গোয়েন্দারা ইরানের পক্ষ থেকে ট্রাম্পের ওপর হামলার গুরুতর একটি হুমকির তথ্য পান। এরপরই প্রেসিডেন্টকে নিরাপদে সরিয়ে নিতে একটি নিখুঁত ও অভিনব ছক কষা হয়। আঙ্কারা ত্যাগ করার সময় ট্রাম্প প্রথমে সবার সামনে ক্যামেরার আলোতে একটি পুরোনো ‘এয়ার ফোর্স ওয়ান’ বিমানে ওঠেন। নিজের সামাজিক মাধ্যম ট্রুথ সোশ্যাল-এ তিনি একটি পোস্ট দিয়ে জানান যে, পুরোনো দিনের স্মৃতিচারণ এবং ব্রিটেনের আরএএফ মিলডেনহল ঘাঁটিতে অবস্থানরত মার্কিন সেনাদের প্রদর্শনের উদ্দেশ্যে তিনি এই পুরোনো বিমানটি ব্যবহার করছেন। এটি ছিল মূলত হামলাকারীদের নজর অন্যদিকে ঘোরানোর একটি সুপরিকল্পিত টোপ। বাস্তবে ক্যামেরার আড়ালে ঘটেছিল অন্য ঘটনা। পুরোনো এয়ার ফোর্স ওয়ানে ওঠার পরপরই ট্রাম্পকে অত্যন্ত গোপনে বিমানবন্দরের একটি ক্যাটারিং ট্রাকে করে মার্কিন বিমানবাহিনীর একটি ছোট সি-৩২এ সামরিক বিমানে সরিয়ে নেওয়া হয়। এরপর ট্রাম্পকে বহনকারী সেই সি-৩২এ বিমানটি দ্রুত যুক্তরাজ্যের উদ্দেশে উড়াল দেয় এবং রাত প্রায় ১০টা ২০ মিনিটে নিরাপদে গন্তব্যে পৌঁছায়। অন্যদিকে, মূল টোপ হিসেবে ব্যবহৃত পুরোনো এয়ার ফোর্স ওয়ান বিমানটিতে সাংবাদিক ও হোয়াইট হাউসের কয়েকজন কর্মীকে ওঠানো হয়। নিরাপত্তার স্বার্থে ফ্লাইট চলাকালীন প্রেস কেবিনের জানালার পর্দা সম্পূর্ণ বন্ধ রাখার কঠোর নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল। সাংবাদিকরা জানতেনই না যে তাদের বিমানে প্রেসিডেন্ট নেই। ট্রাম্পের বিমান পৌঁছানোর কয়েক মিনিট পর ওই ডিকয় বা টোপ হিসেবে ব্যবহৃত বিমানটি যুক্তরাজ্যে অবতরণ করে। পরবর্তীতে এক প্রশ্নের জবাবে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প সাংবাদিকদের শুধু এতটুকুই জানিয়েছিলেন যে, তারা একটি অত্যন্ত বিপজ্জনক ফ্লাইটে ছিলেন। মার্কিন প্রেসিডেন্টের এমন আকস্মিক ও গোপন ফ্লাইটের বিষয়ে হোয়াইট হাউসের যোগাযোগ পরিচালক স্টিভ চেউং সংবাদমাধ্যমকে বলেন, মার্কিন প্রেসিডেন্টের অনেক শত্রু রয়েছে যারা প্রতিনিয়ত তাকে লক্ষ্যবস্তু বানানোর চেষ্টা করছে। সরকার এবং সংশ্লিষ্ট নিরাপত্তা সংস্থাগুলো প্রেসিডেন্টের জীবনের সুরক্ষায় এবং সেই হুমকিগুলো মোকাবিলায় হাতে থাকা সম্ভাব্য প্রতিটি উপায় ব্যবহার করে থাকে। তবে এই গোপন অভিযান ও ইরানের নির্দিষ্ট হুমকির বিষয়ে মার্কিন প্রতিরক্ষা সদর দপ্তর পেন্টাগনের কাছ থেকে তাৎক্ষণিকভাবে কোনো আনুষ্ঠানিক মন্তব্য পাওয়া যায়নি। আন্তর্জাতিক বিশ্লেষকদের মতে, দীর্ঘদিন ধরেই যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে চরম ভূ-রাজনৈতিক উত্তেজনা বিরাজ করছে। বিশেষ করে ইরানি জেনারেল কাসেম সোলেইমানি নিহতের ঘটনার পর থেকে মার্কিন শীর্ষ কর্মকর্তাদের ওপর প্রতিশোধমূলক হামলার শঙ্কা প্রকাশ করে আসছে মার্কিন গোয়েন্দা সংস্থাগুলো। ট্রাম্পের এই রোমহর্ষক গোপন সফর সেই চলমান নিরাপত্তা ঝুঁকিরই একটি সুস্পষ্ট প্রমাণ।
সৌদি আরব, তুরস্ক ও পাকিস্তানের মধ্যে স্বাক্ষরিত নতুন মক্কা যৌথ প্রতিরক্ষা চুক্তি কোনো সামরিক অক্ষ বা ধর্মীয় জোট তৈরির উদ্যোগ নয় বলে জানিয়েছে রিয়াদ। সৌদি কর্মকর্তাদের ভাষ্য, চুক্তিটির মূল লক্ষ্য হলো তিন দেশের প্রতিরক্ষা সহযোগিতা বাড়ানো, যৌথ প্রতিরোধ সক্ষমতা শক্তিশালী করা এবং দীর্ঘমেয়াদে নিজেদের প্রতিরক্ষা সক্ষমতা আরও টেকসই করা। চুক্তিটি কোনো পারমাণবিক উচ্চাকাঙ্ক্ষার সঙ্গেও সম্পর্কিত নয় বলে সৌদি পক্ষ জানিয়েছে। গত ৭ আগস্ট মক্কায় সৌদি যুবরাজ ও প্রধানমন্ত্রী মোহাম্মদ বিন সালমান, তুরস্কের প্রেসিডেন্ট রিসেপ তাইয়েপ এরদোয়ান এবং পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফের উপস্থিতিতে চুক্তিটি স্বাক্ষরিত হয়। চুক্তির সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ দিক হলো—তিন দেশের যেকোনো একটির ওপর সশস্ত্র হামলাকে তিন দেশের ওপর হামলা হিসেবে বিবেচনা করা হবে। এর ফলে কোনো একটি দেশ আক্রান্ত হলে অন্য দুই দেশও যৌথ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার আওতায় আসবে। এই ঘোষণা মধ্যপ্রাচ্য ও দক্ষিণ এশিয়ার নিরাপত্তা সমীকরণে নতুন করে আলোচনার জন্ম দিয়েছে। কারণ, সৌদি আরব মধ্যপ্রাচ্যের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ সামরিক ও অর্থনৈতিক শক্তি, তুরস্ক ন্যাটোর সদস্য এবং বড় প্রতিরক্ষা শিল্পের অধিকারী, আর পাকিস্তানের রয়েছে বড় সামরিক বাহিনী ও পারমাণবিক সক্ষমতা। তবে তিন দেশই চুক্তিটিকে প্রতিরক্ষামূলক উদ্যোগ হিসেবে তুলে ধরছে। তুরস্কের পক্ষ থেকেও বলা হয়েছে, এটি কোনো নির্দিষ্ট দেশের বিরুদ্ধে পরিচালিত নয় এবং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়ানো কিছু ব্যাখ্যা চুক্তিটির প্রকৃত উদ্দেশ্যকে ভুলভাবে উপস্থাপন করছে। চুক্তিটি এমন এক সময়ে হয়েছে, যখন মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধ ও নিরাপত্তা পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ বাড়ছে। ফলে নতুন এই প্রতিরক্ষা কাঠামোকে অনেকেই আঞ্চলিক নিরাপত্তা ব্যবস্থায় সম্ভাব্য পরিবর্তনের ইঙ্গিত হিসেবে দেখছেন। তবে সৌদি আরবের বক্তব্য হলো, এর উদ্দেশ্য নতুন কোনো ‘সামরিক অক্ষ’ তৈরি করা নয়। বিশেষ করে পাকিস্তানের সঙ্গে সৌদি আরবের সামরিক সম্পর্ক নতুন নয়। ২০২৫ সালে দুই দেশ একটি Strategic Mutual Defense Agreement স্বাক্ষর করেছিল, যেখানে এক দেশের ওপর আগ্রাসনকে উভয়ের বিরুদ্ধে আগ্রাসন হিসেবে বিবেচনার নীতি রাখা হয়েছিল। নতুন মক্কা চুক্তিতে তুরস্ক যুক্ত হওয়ায় সেই প্রতিরক্ষা সহযোগিতা এখন ত্রিপক্ষীয় কাঠামো পেয়েছে। চুক্তির সম্ভাব্য প্রভাব শুধু সামরিক ক্ষেত্রেই সীমাবদ্ধ নয়। তিন দেশের মধ্যে সামরিক প্রশিক্ষণ, সমন্বয়, প্রতিরক্ষা শিল্প, প্রযুক্তি ও গোয়েন্দা সহযোগিতা বাড়ার সম্ভাবনাও রয়েছে। পাকিস্তান ও তুরস্কের প্রতিরক্ষা শিল্পের অভিজ্ঞতা সৌদি আরবের নিজস্ব প্রতিরক্ষা সক্ষমতা বাড়ানোর ক্ষেত্রেও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠতে পারে। অন্যদিকে, চুক্তির ভবিষ্যৎ প্রভাব নিয়ে ভারতসহ আঞ্চলিক শক্তিগুলোও নজর রাখছে। বিশেষ করে পাকিস্তানের সঙ্গে ভারতের দীর্ঘদিনের নিরাপত্তা উত্তেজনার কারণে তুরস্ক ও সৌদি আরবের সঙ্গে ইসলামাবাদের এই নতুন প্রতিরক্ষা কাঠামোকে দিল্লি কীভাবে মূল্যায়ন করে, সেটিও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠতে পারে। তবে এখনই এটিকে ন্যাটোর মতো পূর্ণাঙ্গ সামরিক জোট হিসেবে চিহ্নিত করা ঠিক হবে না। চুক্তির প্রকাশ্য ভাষ্য অনুযায়ী এটি পারস্পরিক প্রতিরক্ষা ও সক্ষমতা বৃদ্ধির কাঠামো; আর সৌদি আরব স্পষ্টভাবেই বলছে, এর লক্ষ্য কোনো নতুন সামরিক অক্ষ তৈরি করা নয়। অর্থাৎ, মক্কা থেকে তিন দেশের প্রতিরক্ষা সহযোগিতার নতুন অধ্যায় শুরু হলেও এর প্রকৃত কৌশলগত প্রভাব কতটা বিস্তৃত হবে, তা নির্ভর করবে ভবিষ্যতে চুক্তির অধীনে তারা কতটা যৌথ সামরিক পরিকল্পনা, প্রশিক্ষণ, প্রযুক্তি ও প্রতিরক্ষা সহযোগিতা বাস্তবায়ন করে তার ওপর।
যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন। মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়। তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।” ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে। প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন। ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন। প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল। মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি। রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।
যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর আগস্ট ২০২৬ সালের ভিসা বুলেটিন প্রকাশ করেছে। নতুন এই আপডেটে পরিবারভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি দেখা গেছে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের স্থায়ী বাসিন্দাদের স্বামী, স্ত্রী ও সন্তানদের জন্য নির্ধারিত এফ২এ ক্যাটাগরিতে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এসেছে। নতুন ভিসা বুলেটিন অনুযায়ী, পরিবারভিত্তিক কয়েকটি ক্যাটাগরিতে অপেক্ষার সময় কমার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এর মধ্যে এফ২এ ক্যাটাগরির অগ্রগতি সবচেয়ে বেশি, যেখানে যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডধারীদের স্বামী-স্ত্রী ও অবিবাহিত সন্তানদের আবেদন অন্তর্ভুক্ত থাকে। এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের অবিবাহিত প্রাপ্তবয়স্ক সন্তানদের জন্য এফ১ ক্যাটাগরি এবং অন্যান্য পরিবারভিত্তিক ক্যাটাগরিতেও কিছু অগ্রগতি দেখা গেছে। তবে আবেদনকারীদের ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার তারিখ বা প্রায়োরিটি ডেট অনুযায়ীই পরবর্তী ধাপ নির্ধারণ হবে। ভিসা বুলেটিনে বলা হয়েছে, পরিবারভিত্তিক অভিবাসন ভিসার সংখ্যা প্রতিবছর নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে দেওয়া হয়। তাই কোনো ক্যাটাগরিতে চাহিদা বেশি হলে অপেক্ষার সময় বাড়তে পারে এবং কম হলে তারিখ এগিয়ে আসতে পারে। অন্যদিকে কর্মসংস্থানভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য পরিস্থিতি তুলনামূলক কঠিন রয়েছে। বিশেষ করে কিছু এমপ্লয়মেন্ট-বেসড ক্যাটাগরিতে দীর্ঘ অপেক্ষা ও সীমিত ভিসা সংখ্যার কারণে আবেদনকারীদের অনিশ্চয়তা অব্যাহত রয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ী বসবাসের জন্য আবেদনকারীদের কাছে ভিসা বুলেটিন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এই তালিকার মাধ্যমে জানা যায়, কোন আবেদনকারীরা গ্রিন কার্ডের পরবর্তী ধাপে এগিয়ে যেতে পারবেন এবং কারা এখনও অপেক্ষার তালিকায় থাকবেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, নতুন এই পরিবর্তন অনেক পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীর জন্য আশার খবর হলেও, প্রতিটি আবেদনকারীর পরিস্থিতি নির্ভর করবে তাদের আবেদন জমার তারিখ, দেশভিত্তিক সীমা এবং ভিসা ক্যাটাগরির ওপর। যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ব্যবস্থায় দীর্ঘদিন ধরে গ্রিন কার্ডের অপেক্ষার তালিকা বড় একটি বিষয় হয়ে আছে। নতুন ভিসা বুলেটিনে পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীদের জন্য অগ্রগতি দেখা গেলেও, সব আবেদনকারী একইভাবে সুবিধা পাবেন না।
২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো। প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে। এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে। অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে। স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে। সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে। সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।
যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে। এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন। নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি। উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।” বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে। এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে। শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়। উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত। এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।
যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে এক মর্মান্তিক ও লোমহর্ষক ঘটনার জন্ম দিয়েছে দুই তরুণী বোন। দিনদুপুরে ক্যারোলিন ‘কারো’ পেনা নামের ৩২ বছর বয়সী এক নারীকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগে তাদের গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। নিহত নারী পাঁচ সন্তানের জননী ছিলেন। তবে সবচেয়ে শিউরে ওঠার মতো বিষয় হলো, গ্রেপ্তারের সময় অভিযুক্তদের চেহারায় অনুশোচনার সামান্যতম ছাপ তো ছিলই না, উল্টো তাদের মুখে পৈশাচিক হাসি দেখা গেছে। মেক্সিকো সীমান্তের কাছের শহর দেল রিও থেকে বৃহস্পতিবার বিকেলে পুলিশ তাদের হাতকড়া পরিয়ে নিয়ে যাওয়ার সময় এই দৃশ্য ক্যামেরায় ধরা পড়ে। আরও পড়ুন... ‘ফোনটা ধরতে পারলে হয়তো তাকে বাঁচাতে পারতাম’- টেক্সাসে পাঁচ সন্তানের মাকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা, দুই বোনসহ তিনজন গ্রেপ্তার পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নিহত ক্যারোলিনকে বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় দুপুর ২টার পরপরই গুরুতর জখম অবস্থায় ভাল ভার্দে রিজিওনাল মেডিকেল সেন্টারে নেওয়া হয়। তার শরীরে একাধিক ছুরিকাঘাতের চিহ্ন ছিল। ঘটনাস্থলের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, একটি সনিক ড্রাইভ-থ্রু রেস্তোরাঁর বাইরে রক্তাক্ত অবস্থায় ক্যারোলিন তার তিন হামলাকারীর মুখোমুখি দাঁড়িয়ে আছেন। পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য সান আন্তোনিওর একটি হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছায় এবং প্রায় ৩৫ হাজার বাসিন্দার শহর দেল রিওতে অভিযান চালিয়ে হামলাকারীদের শনাক্ত করে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া গ্রেপ্তারের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, ২১ বছর বয়সী কিটি মিয়া দিয়াজ খালি পায়ে হেঁটে যাওয়ার সময় পুলিশের গাড়িতে ওঠার আগে মৃদু হাসছেন। কিটি নিজেও এক শিশুপুত্রের মা। অন্যদিকে, তার ১৯ বছর বয়সী ছোট বোন আমায়া কুকি দিয়াজ ক্যামেরার দিকে তাকিয়ে নির্লজ্জভাবে দাঁত বের করে হাসতে থাকেন। ▶️ টেক্সাসে নিজের মাকে নির্মমভাবে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুই মেয়ে | এমনকি ভিডিও ধারণকারীকে ব্যঙ্গাত্মক সুরে ‘রেকর্ড করা বন্ধ করো’ বলেও চিৎকার করতে শোনা যায় তাকে। দেল রিও পুলিশ জানিয়েছে, এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ২১ বছর বয়সী কায়ান্দ্রা রেনি ফাজ নামের তৃতীয় আরেক নারীকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে ঠিক কী কারণে এই নারকীয় হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে, সে বিষয়ে পুলিশ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি।