- প্রচ্ছদ
- Topic
তুরস্ক
মোবাইল ফোনে খামার তৈরি, গরু-ছাগল ও মুরগি পালন করে আয় করার সুযোগ। এমন আকর্ষণীয় প্রস্তাব দিয়ে তুরস্কের হাজার হাজার মানুষের কাছ থেকে প্রায় ১৩ কোটি ডলার সংগ্রহ করেছিলেন মেহমেত আইদিন নামের এক যুবক। ‘চিফতলিক ব্যাংক’ নামের একটি অনলাইন গেমকে কেন্দ্র করে গড়ে ওঠা এই বিনিয়োগ প্রকল্প শেষ পর্যন্ত বড় ধরনের প্রতারণায় পরিণত হয়। বিপুল অর্থ নিয়ে দেশ ছেড়ে পালিয়ে যাওয়ার পর কয়েক বছর আত্মগোপনে ছিলেন আইদিন। তবে শেষ পর্যন্ত নিজেই কর্তৃপক্ষের কাছে আত্মসমর্পণ করেন। আলোচিত এই মামলায় ২০২৫ সালে তাঁকে ৪৫ হাজার ৩৭৬ বছর ৬ মাসের কারাদণ্ড দেন তুরস্কের একটি আদালত। তুরস্কে ২০১৬ সালে ‘চিফতলিক ব্যাংক’ বা ‘ফার্ম ব্যাংক’ নামের অনলাইন প্ল্যাটফর্মটি চালু করেন মেহমেত আইদিন। জনপ্রিয় কৃষিভিত্তিক গেম ফার্মভিলের আদলে তৈরি এই ব্যবস্থায় ব্যবহারকারীরা ভার্চুয়াল জমি, গরু, ছাগল ও মুরগি কিনতে পারতেন। তবে সাধারণ গেমের সঙ্গে এর বড় পার্থক্য ছিল বাস্তব অর্থ বিনিয়োগের সুযোগ। ব্যবহারকারীদের জানানো হয়েছিল, গেমে বিনিয়োগ করা অর্থ দিয়ে তুরস্কের বিভিন্ন এলাকায় বাস্তব খামার পরিচালনা করা হবে এবং সেখান থেকে পাওয়া মুনাফার একটি অংশ বিনিয়োগকারীদের দেওয়া হবে। শুরুর দিকে অনেক ব্যবহারকারী নিয়মিত অর্থ ফেরত পাওয়ায় প্ল্যাটফর্মটির জনপ্রিয়তা দ্রুত বাড়তে থাকে। নতুন বিনিয়োগকারীরাও লাভের আশায় এতে অর্থ জমা দিতে শুরু করেন। তুরস্কের বিভিন্ন অঞ্চলে খামার, মাংস, দুধ, মধু ও ডিম উৎপাদনসংক্রান্ত ব্যবসার কথা প্রচার করা হয়। কিন্তু ২০১৭ সালের দিকে অনেক গ্রাহক নিজেদের জমা দেওয়া অর্থ তুলতে সমস্যায় পড়েন। একপর্যায়ে নতুন সদস্য নেওয়া এবং বিনিয়োগকারীদের মুনাফা দেওয়া বন্ধ হয়ে যায়। এতে প্রকল্পটির কার্যক্রম নিয়ে সন্দেহ তৈরি হয়। ২০১৮ সালের মার্চে তুরস্কের কর্তৃপক্ষ প্রকল্পটির বিরুদ্ধে প্রতারণার তদন্ত শুরু করে। তদন্তে বেরিয়ে আসে, প্রকল্পটিতে বিপুলসংখ্যক মানুষের কাছ থেকে অর্থ সংগ্রহ করা হয়েছিল। পরবর্তী সময়ে প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, প্রায় ১৮ মাসে আনুমানিক ১ লাখ ৩২ হাজার মানুষের কাছ থেকে ১৩ কোটি ১০ লাখ ডলারের বেশি অর্থ নেওয়া হয়। তবে সব বিনিয়োগকারী আনুষ্ঠানিকভাবে মামলা করেননি। তদন্তের সময় আইদিন দেশ ছেড়ে পালিয়ে যান। তাঁর বিরুদ্ধে আন্তর্জাতিক পুলিশ সংস্থা ইন্টারপোলের মাধ্যমে গ্রেপ্তারি পরোয়ানাও জারি করা হয়। দেশ ছাড়ার পর আইদিন উরুগুয়েসহ বিভিন্ন দেশে অবস্থান করেন বলে তদন্তে উঠে আসে। তাঁর অবস্থান শনাক্ত করতে তুরস্কের কর্তৃপক্ষ একাধিক দেশের সঙ্গে যোগাযোগ করে। আত্মগোপনে থাকার সময় বিলাসবহুল গাড়ি ব্যবহারের খবরও সামনে আসে। তবে কয়েক বছর পর ঘটনাটি অপ্রত্যাশিত মোড় নেয়। ২০২১ সালের জুলাইয়ে ব্রাজিলের সাও পাওলোতে তুরস্কের কনস্যুলেটে স্বেচ্ছায় আত্মসমর্পণ করেন আইদিন। এরপর তাঁকে তুরস্কে ফিরিয়ে আনা হয় এবং ইস্তাম্বুল বিমানবন্দরে গ্রেপ্তার করা হয়। আত্মসমর্পণের আগে প্রকাশিত একটি ভিডিওতে আইদিন দাবি করেছিলেন, কাউকে প্রতারণা করার উদ্দেশ্যে তিনি প্রকল্পটি চালু করেননি। তাঁর বক্তব্য ছিল, ব্যবহারকারীরা যেন গেম খেলার পাশাপাশি বাড়তি আয় করতে পারেন, সেটিই ছিল তাঁর লক্ষ্য। ব্যবসার পরিধি দ্রুত বেড়ে যাওয়ায় কিছু অসাধু ব্যক্তি সুযোগ নিয়েছেন এবং তিনিও ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন বলে দাবি করেন। পরে তদন্তকারীদের কাছে তিনি জানান, জব্দ করা সম্পদ দিয়ে ক্ষতিগ্রস্ত ব্যক্তিদের পাওনা পরিশোধ করা সম্ভব হবে বলে মনে করেছিলেন। তবে আদালতে এসব বক্তব্য তাঁকে দায়মুক্তি দেয়নি। দীর্ঘ বিচারপ্রক্রিয়া শেষে ২০২৫ সালের ৩ ফেব্রুয়ারি ইস্তাম্বুলের আনাদোলু ষষ্ঠ গুরুতর অপরাধ আদালত মামলার রায় ঘোষণা করেন। তথ্যপ্রযুক্তি ব্যবহার করে প্রতারণা, অপরাধলব্ধ অর্থ পাচার এবং অপরাধী সংগঠন পরিচালনাসহ বিভিন্ন অপরাধে মেহমেত আইদিন ও তাঁর ভাই ফাতিহ আইদিনকে পৃথকভাবে ৪৫ হাজার ৩৭৬ বছর ৬ মাস করে কারাদণ্ড দেওয়া হয়। একই মামলায় আরও কয়েকজনকে সাজা দেওয়া হয়। আদালতের বিচারপ্রক্রিয়ায় মোট ২০ জন আসামির নাম ছিল এবং হাজার হাজার মানুষের আর্থিক ক্ষতির বিষয়টি উঠে আসে। অনলাইন গেমের মাধ্যমে বিনিয়োগের সুযোগ দেওয়ার নামে পরিচালিত এই প্রতারণা তুরস্কের অন্যতম আলোচিত আর্থিক কেলেঙ্কারিতে পরিণত হয়। ঘটনাটি দেখিয়েছে, বাস্তব ব্যবসায় বিনিয়োগ ও অস্বাভাবিক মুনাফার প্রতিশ্রুতি দিয়ে কীভাবে একটি সাধারণ গেমকেও অর্থ সংগ্রহের মাধ্যম হিসেবে ব্যবহার করা সম্ভব। দীর্ঘদিন পলাতক থাকার পর আইদিনের স্বেচ্ছায় আত্মসমর্পণ এবং পরবর্তী সময়ে আদালতের নজিরবিহীন দীর্ঘমেয়াদি সাজা দেশটির গণমাধ্যমে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দেয়। সংবাদ সূত্র: আনাদোলু এজেন্সি, দ্য ন্যাশনাল।
মধ্যপ্রাচ্যে নতুন করে সংঘা ত ছড়িয়ে পড়ার আশঙ্কার মধ্যে ইরানের রাজধানী তেহরানে বৈঠকে বসছেন সৌদি আরব, পাকিস্তান ও তুরস্কের শীর্ষ কর্মকর্তারা। সোমবারের এই বৈঠকে আঞ্চলিক নিরাপত্তা পরিস্থিতি, চলমান উত্তেজনা কমানো এবং কূটনৈতিক উদ্যোগের মাধ্যমে সংকট মোকাবিলার বিষয়ে আলোচনা হওয়ার কথা রয়েছে। ইরানকে ঘিরে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সঙ্গে উত্তেজনা বাড়ার পাশাপাশি ইয়েমেনের ইরান-সমর্থিত হুতি গোষ্ঠীর ধারাবাহিক হা মলায় সৌদি আরবের নিরাপত্তা নিয়েও উদ্বেগ বাড়ছে। এমন পরিস্থিতিতে তিন দেশের প্রতিনিধিদের তেহরান সফর মধ্যপ্রাচ্যের কূটনৈতিক তৎপরতায় নতুন গুরুত্ব তৈরি করেছে। বৈঠকে সৌদি আরবের প্রতিনিধিত্ব করবেন দেশটির প্রতিরক্ষামন্ত্রী প্রিন্স খালিদ বিন সালমান। পাকিস্তানের পক্ষ থেকে অংশ নেবেন দেশটির সেনাপ্রধান ফিল্ড মার্শাল আসিম মুনির। তুরস্কের প্রতিনিধিদলে থাকবেন দেশটির গোয়েন্দাপ্রধান ইব্রাহিম কালিন। ইরানের শীর্ষ নিরাপত্তা কর্মকর্তাদের সঙ্গে তাঁদের আলোচনার মূল লক্ষ্য হবে আঞ্চলিক পরিস্থিতি পর্যালোচনা এবং উত্তেজনা কমানোর সম্ভাব্য পথ খুঁজে বের করা। ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ইসমাইল বাঘাই জানিয়েছেন, আলোচনায় ইসরায়েলের সম্প্রসারণবাদী নীতি, ফিলিস্তিন ও লেবাননের পরিস্থিতি এবং ইরানের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সামরিক পদক্ষেপের প্রভাব উঠে আসবে। ইরানের নিরাপত্তা কর্মকর্তাদের ভাষ্য অনুযায়ী, দেশটির সর্বোচ্চ জাতীয় নিরাপত্তা পরিষদের সঙ্গে বৈঠকে আঞ্চলিক নিরাপত্তা নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করবেন তিন দেশের প্রতিনিধিরা। ইরানের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, পাকিস্তানের সেনাপ্রধান আসিম মুনিরের গত সপ্তাহের তেহরান সফরের সময় এই বৈঠকের প্রস্তাব দেওয়া হয়েছিল। ওই সফরে মুনির ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ানসহ দেশটির জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তাদের সঙ্গে আলোচনা করেন। ইরানের পক্ষ থেকে তখন জানানো হয়েছিল, তেহরানের দাবিগুলো পূরণ না হওয়া পর্যন্ত যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে আলোচনায় বসার বিষয়ে তারা আগ্রহী নয়। সৌদি আরবের জনকূটনীতি বিষয়ক উপমন্ত্রী রায়েদ ক্রিমলি বলেছেন, মক্কা প্রতিরক্ষা চুক্তির সদস্য দেশগুলোর চলমান উদ্যোগের অংশ হিসেবেই এই বৈঠক হচ্ছে। এর লক্ষ্য আঞ্চলিক উত্তেজনা কমানো, কূটনৈতিক সমাধানের পথ তৈরি এবং কাতার ও পাকিস্তানের মধ্যস্থতার প্রচেষ্টাকে সমর্থন করা। তাঁর মতে, মধ্যপ্রাচ্যে নিরাপত্তা ও স্থিতিশীলতা প্রতিষ্ঠায় চুক্তির সদস্য দেশগুলো গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে। এ লক্ষ্য অর্জনে তারা অঞ্চলের অন্য দেশগুলোর সঙ্গেও কাজ করতে আগ্রহী। গত আগস্টে সৌদি আরব, পাকিস্তান ও তুরস্ক মক্কা যৌথ প্রতিরক্ষা চুক্তিতে স্বাক্ষর করে। চুক্তির গুরুত্বপূর্ণ শর্ত অনুযায়ী, সদস্য দেশগুলোর কোনো একটির ওপর সশস্ত্র হা মলাকে সব সদস্যের ওপর হা মলা হিসেবে বিবেচনা করা হবে। সদস্য দেশগুলোর সার্বভৌমত্ব, ভৌগোলিক অখণ্ডতা ও আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত সীমান্ত রক্ষায় প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার বিষয়টিও চুক্তিতে অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। পাকিস্তান সম্প্রতি চুক্তিটি অনুমোদন করেছে। তুরস্কের পার্লামেন্টেও এটি অনুমোদনের প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। এই চুক্তির গুরুত্ব বেড়েছে সৌদি আরবের ওপর ক্রমবর্ধমান নিরাপত্তা চাপের কারণে। ইয়েমেনের ইরান-সমর্থিত হুতি গোষ্ঠী সাম্প্রতিক সপ্তাহগুলোতে তাদের হা মলা জোরদার করেছে। রোববার সৌদি আরবের দিকে ছোড়া আরও এক দফা ক্ষে প ণা স্ত্র ও ড্রোন প্রতিহত করার কথা জানিয়েছে দেশটি। এর আগে চলতি মাসে রিয়াদে মক্কা চুক্তির সদস্য দেশগুলোর মন্ত্রীরা জরুরি বৈঠক করেন। ওই বৈঠকে সৌদি আরবে সামরিক বাহিনী ও প্রয়োজনীয় সক্ষমতা দ্রুত মোতায়েনের বিষয়ে একমত হন তাঁরা। এদিকে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে উত্তেজনা আরও তীব্র হয়েছে। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প শুক্রবার ইরানের বিরুদ্ধে নতুন সামরিক অভিযানের সম্ভাবনার কথা বলেন। জবাবে ইরানের নেতারা সতর্ক করে জানিয়েছেন, যুক্তরাষ্ট্র নতুন করে সামরিক পদক্ষেপ নিলে তেহরান আগের চেয়ে আরও কঠোর জবাব দেবে। ইরানের নিরাপত্তা কর্মকর্তারা পারস্য উপসাগরীয় অঞ্চলের সমুদ্রতলের যোগাযোগ কেবল লক্ষ্য করে পাল্টা পদক্ষেপের পরিকল্পনার কথাও জানিয়েছেন। এসব পরিস্থিতি মধ্যপ্রাচ্যে বৃহত্তর সংঘা তের আশঙ্কা বাড়াচ্ছে। সংকট নিরসনে কূটনৈতিক তৎপরতাও চলছে। রোববার কাতারের মধ্যস্থতাকারীরা তেহরানে ইরানি কর্মকর্তাদের সঙ্গে বৈঠক করেন। কয়েক মাস ধরে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে উত্তেজনা কমাতে মধ্যস্থতাকারীর ভূমিকা পালন করছে কাতার। এর আগে পাকিস্তান ও কাতারের উদ্যোগে জুনে একটি অন্তর্বর্তী শান্তি সমঝোতা হয়েছিল। তবে কয়েক সপ্তাহ পর ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে আবার লড়াই শুরু হওয়ায় সেই সমঝোতা টেকেনি। তিন দেশের প্রতিনিধিদের এবারের বৈঠক থেকে তাৎক্ষণিক কোনো সমঝোতা আসবে কি না, তা এখনো স্পষ্ট নয়। তবে সৌদি আরবের নিরাপত্তা উদ্বেগ, হুতি গোষ্ঠীর ধারাবাহিক হা মলা এবং যুক্তরাষ্ট্র-ইরান উত্তেজনার মধ্যে এই আলোচনা আঞ্চলিক কূটনীতির জন্য গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। বৈঠকে উত্তেজনা কমানোর কার্যকর উদ্যোগ নেওয়া সম্ভব হলে তা মধ্যপ্রাচ্যের পরিস্থিতি স্থিতিশীল করার প্রচেষ্টায় ভূমিকা রাখতে পারে।
তুরস্কের ঐতিহাসিক ভান দুর্গের চূড়ায় প্রতিদিন এক অন্যরকম দৃশ্যের অবতারণা করেন সিবগাতুল্লাহ বিলমেজ নামের এক অদম্য ইমাম। খাড়া ও দুর্গম পাহাড়ি পথ পাড়ি দিয়ে তিনি পৌঁছে যান উসমানীয় আমলের সুলাইমান খান মসজিদে। সেখানে আজান দেওয়া ও নামাজের ইমামতি করার পাশাপাশি তুরস্কসহ বিশ্বের নানা প্রান্ত থেকে আসা দর্শনার্থীদের সেবা দেওয়াই এই সাহসী তুর্কি ইমামের প্রতিদিনের মূল কাজ। গত পাঁচ মাস ধরে ঐতিহাসিক এই মসজিদটির ভারপ্রাপ্ত ইমাম হিসেবে অত্যন্ত নিষ্ঠার সাথে দায়িত্ব পালন করছেন সিবগাতুল্লাহ। আতাতুর্ক সাংস্কৃতিক উদ্যান থেকে শুরু করে পাথুরে দুর্গের চূড়ায় পৌঁছাতে প্রতিদিন তাঁকে প্রায় পাঁচ হাজার সিঁড়ি ভাঙতে হয়। ধর্মবিষয়ক অধিদপ্তর এবং স্থানীয় মুফতি কার্যালয়ের অধীনে কাজের পূর্ব অভিজ্ঞতা থাকা এই ইমাম তাঁর বর্তমান দায়িত্ব নিয়ে দারুণ সন্তুষ্ট। প্রতিদিন জোহরের আগেই পাহাড়ি পথ বেয়ে তিনি মসজিদে পৌঁছান এবং মাগরিব শেষে নিচে নেমে আসেন। তবে দুর্গম ভৌগোলিক অবস্থানের কারণে এশা ও ফজরের ওয়াক্তে সেখানে সাধারণ মুসল্লিদের যাতায়াত সম্ভব হয় না বলে ওই দুই সময় জামাত অনুষ্ঠিত হয় না। ভান দুর্গের চূড়ায় অবস্থিত ঐতিহাসিক সুলাইমান খান মসজিদটির সুনির্দিষ্ট নির্মাণকাল অজানা থাকলেও, ১৫৩৪ সালে উসমানীয় সুলতান সুলাইমান দ্য ম্যাগনিফিসেন্ট এটি পুনর্নির্মাণ করেছিলেন। দীর্ঘ সময় পরিত্যক্ত থাকার পর মাত্র তিন বছর আগে এটি সংস্কার করে মুসল্লিদের জন্য পুনরায় উন্মুক্ত করা হয়। বর্তমানে এই মসজিদটি পর্যটকদের কাছে এক বিশেষ আকর্ষণ। সিবগাতুল্লাহ বিলমেজ কেবল ইমামতিই করেন না, আগত দর্শনার্থীদের আন্তরিকভাবে স্বাগত জানিয়ে প্রাচীন ভান নগরী, উরার্তু সভ্যতার ঐতিহাসিক দুর্গ ও মসজিদটির সমৃদ্ধ ইতিহাসও তুলে ধরেন। বিশ্বজুড়ে ছড়িয়ে থাকা নানা দেশের পর্যটকদের সাথে নিয়মিত কথা বলার সুবাদে সিবগাতুল্লাহর ইংরেজি ভাষার দক্ষতাও দারুণভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে। এখন তিনি অনায়াসেই বিদেশি দর্শনার্থীদের সাথে যোগাযোগ করেন এবং ইসলাম ও এর ঐতিহ্য সংক্রান্ত নানা প্রশ্নের উত্তর দেন। অক্লান্ত এই যাত্রার পর দুর্গের চূড়ায় দাঁড়িয়ে চারপাশের নয়নাভিরাম প্রাকৃতিক দৃশ্য দেখলে তাঁর সব শারীরিক ক্লান্তি দূর হয়ে যায়। দর্শনার্থীদের ভালোবাসা ও ‘আল্লাহ আপনার প্রতি সন্তুষ্ট হোন’—এমন দোয়াই তাঁর জীবনের অন্যতম সেরা প্রাপ্তি বলে মনে করেন এই নিষ্ঠাবান ইমাম।
তুরস্কে ১৫ বছরের কম বয়সী শিশুদের সোশ্যাল মিডিয়া ব্যবহার নিষিদ্ধ করেছে দেশটির সরকার। নতুন বিধিমালা অনুযায়ী, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম পরিচালনাকারী প্রতিষ্ঠানগুলো ১৫ বছর পূর্ণ হয়নি এমন শিশুদের সেবা দিতে পারবে না। একই সঙ্গে ১৫ বছর বা তার বেশি বয়সী অপ্রাপ্তবয়স্কদের জন্য বিশেষ নিরাপত্তাব্যবস্থা এবং অভিভাবকদের নিয়ন্ত্রণের সুযোগ নিশ্চিত করতে হবে। শিশুদের অনলাইন নিরাপত্তা, ব্যক্তিগত তথ্যের সুরক্ষা এবং শারীরিক ও মানসিক বিকাশের বিষয়টি গুরুত্ব দিয়ে এই নিয়ম জারি করা হয়েছে। শনিবার (১০ অক্টোবর) তুরস্কের সরকারি গেজেটে নতুন বিধিমালাটি প্রকাশ করা হয়। আন্তর্জাতিক সংবাদ সংস্থা আনাদোলু এজেন্সির প্রতিবেদন অনুযায়ী, দেশটির সাইবার সিকিউরিটি ডিরেক্টরেট এই বিধিমালা জারি করেছে। এতে স্পষ্টভাবে বলা হয়েছে, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম পরিচালনাকারী প্রতিষ্ঠানগুলো ১৫ বছরের কম বয়সী শিশুদের নিজেদের প্ল্যাটফর্মে সেবা দিতে পারবে না। নতুন নিয়মের আওতায় সোশ্যাল মিডিয়া প্রতিষ্ঠানগুলোর ওপর ব্যবহারকারীর বয়স যাচাইয়ের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। কোনো শিশু নির্ধারিত বয়সসীমা পূরণ করেছে কি না, তা নিশ্চিত করতে হবে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানকে। তবে বয়স যাচাইয়ের নামে ব্যবহারকারীর অপ্রয়োজনীয় ব্যক্তিগত তথ্য সংগ্রহ করা যাবে না। বিধিমালায় বলা হয়েছে, বয়স যাচাইয়ের ক্ষেত্রে এমন প্রযুক্তি ব্যবহারকে অগ্রাধিকার দিতে হবে, যা ব্যবহারকারীর সম্পূর্ণ পরিচয় প্রকাশ না করেই তাঁর বয়স নির্ধারিত সীমার মধ্যে রয়েছে কি না, তা নিশ্চিত করতে পারে। অর্থাৎ শুধু বয়স যাচাইয়ের জন্য প্রত্যেক ব্যবহারকারীর বিস্তারিত ব্যক্তিগত পরিচয় সংগ্রহ করা বাধ্যতামূলক নয়। একই সঙ্গে যাচাইয়ের পদ্ধতি যেন কোনো ব্যবহারকারীর প্রতি বৈষম্যমূলক না হয়, সেটিও নিশ্চিত করতে হবে। তবে ১৫ বছর পূর্ণ হয়েছে কিন্তু এখনো প্রাপ্তবয়স্ক হয়নি, এমন কিশোর-কিশোরীদের জন্য সোশ্যাল মিডিয়া সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ করা হয়নি। তাঁদের ক্ষেত্রে বয়স অনুযায়ী আলাদা সেবা এবং প্রয়োজনীয় নিরাপত্তাব্যবস্থা নিশ্চিত করতে হবে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম পরিচালনাকারী প্রতিষ্ঠানগুলোকে এসব ব্যবহারকারীর সর্বোত্তম স্বার্থ বিবেচনায় রেখে সেবা পরিচালনার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। বিশেষ করে অপ্রাপ্তবয়স্ক ব্যবহারকারীদের শারীরিক, মানসিক, মনস্তাত্ত্বিক, সামাজিক ও আবেগগত বিকাশের বিষয়টি গুরুত্ব দিতে হবে। অনলাইন প্ল্যাটফর্মের কার্যক্রম এবং ব্যবহারকারীদের সামনে কী ধরনের কনটেন্ট তুলে ধরা হচ্ছে, সে বিষয়ে শিশুদের নিরাপত্তাকে অগ্রাধিকার দেওয়ার নির্দেশনা রয়েছে। নতুন বিধিমালায় সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের অ্যালগরিদম নিয়েও গুরুত্বপূর্ণ নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। প্রতিষ্ঠানগুলোর বয়স যাচাইয়ের পদ্ধতি, অ্যালগরিদমের কাঠামো এবং শিশুদের জন্য নির্ধারিত সেবার নীতিমালা পরিষ্কার ও যাচাইযোগ্য হতে হবে। ব্যবহারকারী, অভিভাবক এবং সংশ্লিষ্ট সরকারি কর্তৃপক্ষ যেন এসব ব্যবস্থা পরীক্ষা ও মূল্যায়ন করতে পারে, সেই সুযোগ রাখতে হবে। অভিভাবকদের জন্য সহজ ও ব্যবহারবান্ধব নিয়ন্ত্রণব্যবস্থা তৈরির নির্দেশও দেওয়া হয়েছে। এর মাধ্যমে সন্তানদের সোশ্যাল মিডিয়া ব্যবহারের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য নিরাপত্তা সুবিধা ব্যবহার করতে পারবেন অভিভাবকেরা। তবে প্রকাশিত প্রতিবেদনে অভিভাবকদের জন্য নির্দিষ্ট কোন কোন প্রযুক্তিগত নিয়ন্ত্রণ সুবিধা বাধ্যতামূলক করা হয়েছে, তার বিস্তারিত তালিকা উল্লেখ করা হয়নি। বিধিমালার আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ দিক হলো ব্যক্তিগত তথ্যের গোপনীয়তা। শিশুদের বয়স যাচাইয়ের জন্য এমন পদ্ধতি ব্যবহারের কথা বলা হয়েছে, যাতে প্রয়োজনের অতিরিক্ত তথ্য সংগ্রহ না করেও নির্ধারিত বয়সসীমা নিশ্চিত করা সম্ভব হয়। একই সঙ্গে যাচাইয়ের ব্যবস্থাগুলো নির্ভরযোগ্য, পরীক্ষাযোগ্য এবং সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে জবাবদিহিমূলক হতে হবে। তুরস্কের পার্লামেন্ট চলতি বছরের এপ্রিলে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমসংক্রান্ত নতুন আইন পাস করেছিল। সেই আইনের অধীনেই শনিবারের বিধিমালা প্রকাশ করা হয়েছে। অর্থাৎ এটি সম্পূর্ণ নতুন কোনো পৃথক আইন নয়; বরং আগে পাস হওয়া আইনের আওতায় সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম পরিচালনার শর্ত নির্ধারণ করা হয়েছে। নতুন নিয়মের ফলে তুরস্কে সেবা প্রদানকারী সোশ্যাল মিডিয়া প্রতিষ্ঠানগুলোকে বয়সভিত্তিক প্রবেশাধিকার এবং অপ্রাপ্তবয়স্কদের নিরাপত্তাব্যবস্থা নিয়ে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নিতে হবে। তবে বিধিমালা অমান্য করলে ঠিক কত টাকা জরিমানা কিংবা কী ধরনের শাস্তি হতে পারে, সে বিষয়ে আনাদোলু এজেন্সির প্রকাশিত প্রতিবেদনে বিস্তারিত তথ্য দেওয়া হয়নি। একইভাবে বর্তমানে ১৫ বছরের কম বয়সী যেসব শিশুর সোশ্যাল মিডিয়া অ্যাকাউন্ট রয়েছে, সেগুলো বন্ধ কিংবা সীমিত করার জন্য প্রতিষ্ঠানগুলো কত দিন সময় পাবে, তা-ও প্রতিবেদনে স্পষ্ট করা হয়নি। ফলে সব বিদ্যমান অ্যাকাউন্ট ইতিমধ্যে বন্ধ হয়ে গেছে, এমন দাবি করার সুযোগ নেই। তুরস্কের এই সিদ্ধান্তের মাধ্যমে শিশুদের সোশ্যাল মিডিয়া ব্যবহারের ক্ষেত্রে বয়সভিত্তিক নিয়ন্ত্রণ আরও কঠোর করা হলো। নতুন ব্যবস্থায় ১৫ বছরের কম বয়সীদের জন্য সেবা বন্ধ রাখার পাশাপাশি বড় বয়সী অপ্রাপ্তবয়স্কদের নিরাপত্তা, ব্যক্তিগত তথ্যের সুরক্ষা এবং অভিভাবকদের নিয়ন্ত্রণের সুযোগ নিশ্চিত করার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। তবে এই নিয়ম শুধু তুরস্কের সংশ্লিষ্ট সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম সেবার ক্ষেত্রে প্রযোজ্য। অন্য দেশের শিশুদের সোশ্যাল মিডিয়া ব্যবহারের ওপর এর সরাসরি কোনো নিষেধাজ্ঞা তৈরি হচ্ছে না। নতুন বিধিমালার বাস্তবায়ন এবং প্রতিষ্ঠানগুলোর পরবর্তী পদক্ষেপের মাধ্যমে তুরস্কে শিশুদের অনলাইন ব্যবহারে কী ধরনের পরিবর্তন আসে, তা আরও স্পষ্ট হবে। সূত্র: আনাদোলু এজেন্সি
ইয়েমেনে সং ঘা ত তীব্র হয়ে ওঠার মধ্যেই সৌদি আরবের নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ বাড়ছে। এর প্রেক্ষাপটে সৌদি আরব, পাকিস্তান ও তুরস্কের সমন্বয়ে গঠিত মক্কা প্রতিরক্ষা জোট দ্রুত সক্রিয় হওয়ার পথে এগোচ্ছে। ৫ অক্টোবর রিয়াদে অনুষ্ঠিত জরুরি বৈঠকে তিন দেশ সম্মিলিত প্রতিরক্ষা প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নের প্রক্রিয়া শুরু করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। একই সঙ্গে সৌদি আরবে প্রয়োজনীয় সামরিক বাহিনী ও সক্ষমতা দ্রুত মোতায়েনের ব্যবস্থা নেওয়ার কথাও জানানো হয়েছে। মক্কা প্রতিরক্ষা জোটের চুক্তি সই হয়েছিল চলতি বছরের ৭ আগস্ট। চুক্তির মূল বিষয় হলো, তিন দেশের যেকোনো একটির ওপর সশস্ত্র আ ক্র ম ণকে তিন দেশের ওপর আ ক্র ম ণ হিসেবে বিবেচনা করা হবে। ন্যাটোর সম্মিলিত প্রতিরক্ষা নীতির সঙ্গে এর কিছুটা মিল রয়েছে। তবে সাম্প্রতিক বৈঠকের পরও জোটটিকে পুরোপুরি কার্যকর সামরিক জোট হিসেবে বিবেচনা করার মতো সব কাঠামো এখনো তৈরি হয়নি। বরং সদস্য দেশগুলো এখন সেই কাঠামো বাস্তবায়নের দিকে এগোচ্ছে। ৫ অক্টোবরের বৈঠকে সৌদি আরব, পাকিস্তান ও তুরস্কের পররাষ্ট্র ও প্রতিরক্ষা কর্মকর্তাদের পাশাপাশি শীর্ষ সামরিক কর্মকর্তারাও অংশ নেন। বৈঠকে সৌদি আরবের নিরাপত্তার জন্য সম্মত সামরিক বাহিনী ও সক্ষমতা দ্রুত মোতায়েনের প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার সিদ্ধান্ত হয়। তবে ঠিক কত সেনা, কী ধরনের সরঞ্জাম বা কোন কোন ইউনিট সৌদি আরবে পাঠানো হবে, সে বিষয়ে বিস্তারিত প্রকাশ করা হয়নি। বৈঠকে জোটের প্রাতিষ্ঠানিক কাঠামো তৈরির কাজও এগিয়ে নেওয়া হয়েছে। পাকিস্তানের অবসরপ্রাপ্ত লেফটেন্যান্ট জেনারেল নোমান মাহমুদকে মক্কা প্রতিরক্ষা জোটের প্রথম মহাসচিব নিয়োগ করা হয়েছে। তিনি তিন বছরের জন্য দায়িত্ব পালন করবেন। নতুন এই সচিবালয়ের মাধ্যমে তিন দেশের সামরিক সমন্বয়, প্রস্তুতি ও যৌথ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থাকে আরও কার্যকর করার পরিকল্পনা রয়েছে। এই উদ্যোগের পেছনে সবচেয়ে বড় কারণ ইয়েমেনের দ্রুত অবনতিশীল পরিস্থিতি। ইরান-সমর্থিত হুথি বাহিনী ও সৌদি-সমর্থিত ইয়েমেনি সরকারি বাহিনীর মধ্যে সাম্প্রতিক সময়ে লড়াই আবার তীব্র হয়েছে। বিশেষ করে লোহিত সাগরের দক্ষিণ প্রান্তে কৌশলগত বাব আল-মান্দাব প্রণালি এবং এর আশপাশের অঞ্চল নিয়ে দুই পক্ষের লড়াই নতুন মাত্রা পেয়েছে। আন্তর্জাতিক বাণিজ্য ও জ্বালানি পরিবহনের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ এই নৌপথের নিরাপত্তা নিয়ে তাই আঞ্চলিক উদ্বেগও বাড়ছে। ইয়েমেনের আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত সরকারের বাহিনী সম্প্রতি হুথিদের কাছ থেকে গুরুত্বপূর্ণ এলাকা পুনর্দখলের জন্য ‘ডন অব ইয়েমেন’ নামে অভিযান শুরু করেছে। সৌদি নেতৃত্বাধীন জোট এই অভিযানে বিমান সহায়তা দিচ্ছে। জোটের মুখপাত্র মেজর জেনারেল তুরকি আল-মালিকি জানিয়েছেন, অভিযানের প্রথম পর্যায়ে প্রায় ১০০টি যুদ্ধবিমান অংশ নিয়েছে এবং স্থলবাহিনীকে নিয়মিত বিমান সহায়তা দেওয়া হচ্ছে। সরকারি বাহিনী বাব আল-মান্দাব প্রণালির আশপাশে এবং মক্কা বন্দরের কাছে কিছু গুরুত্বপূর্ণ অবস্থান পুনর্দখলের দাবি করেছে। ধুবাব বিমানবন্দর ও আশপাশের এলাকাতেও তাদের অগ্রগতির কথা জানানো হয়েছে। তবে হুথিরা সরকারি বাহিনীর সব দাবির সঙ্গে একমত নয়। একই সময়ে দক্ষিণ-পশ্চিম ইয়েমেনের তায়েজের দিকে হুথিদের অগ্রসর হওয়ার খবরও পাওয়া যাচ্ছে। ফলে সামরিক পরিস্থিতি এখনো অত্যন্ত অনিশ্চিত। ইয়েমেনের লড়াইয়ের প্রভাব এখন সৌদি আরবের ভূখণ্ডেও পড়ছে। সাম্প্রতিক সময়ে হুথিরা সৌদি শহর, বিমানবন্দর ও জ্বালানি অবকাঠামো লক্ষ্য করে ক্ষে প ণাস্ত্র ও ড্রোন ছুড়েছে। সৌদি কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, এসব হা ম লার কয়েকটি লক্ষ্যবস্তু ছিল গুরুত্বপূর্ণ অর্থনৈতিক ও জ্বালানি স্থাপনা। ৫ অক্টোবরের মক্কা জোটের বৈঠকেও সৌদি শহর ও বেসামরিক এবং অর্থনৈতিক স্থাপনায় হা ম লার বিষয়টি গুরুত্ব পেয়েছে। বিশেষভাবে পবিত্র মক্কা ও মদিনাকে ঘিরে যেকোনো নিরাপত্তা হুমকিকে অত্যন্ত গুরুতর হিসেবে দেখছে তিন দেশ। জরুরি বৈঠকের পর দেওয়া যৌথ বিবৃতিতে মক্কা ও মদিনাকে লক্ষ্য করার চেষ্টার নিন্দা জানানো হয়েছে। একই সঙ্গে সৌদি আরবের শহর এবং বেসামরিক ও অর্থনৈতিক স্থাপনায় চলমান হা ম লার বিরুদ্ধেও কঠোর অবস্থান ঘোষণা করা হয়েছে। তুরস্ক ইতোমধ্যে সৌদি আরবকে প্রযুক্তিগত ও প্রতিরক্ষামূলক সহায়তা দেওয়ার পথে এগিয়েছে। রয়টার্স জানিয়েছে, তুরস্কের সহায়তার মধ্যে বিমান প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা, ড্রোন পরিচালনায় সহায়তা, গোয়েন্দা তথ্য ও সামরিক সরঞ্জাম রয়েছে। পাকিস্তানও সৌদি আরবে আগে থেকেই সামরিক উপস্থিতি বজায় রেখেছে। তবে মক্কা চুক্তির আওতায় এই সহায়তা ভবিষ্যতে কতটা বিস্তৃত হবে, সেটিই এখন বড় প্রশ্ন। পাকিস্তানের প্রতিরক্ষামন্ত্রী খাজা আসিফ জানিয়েছেন, পাকিস্তান ও তুরস্ক বর্তমানে সহায়ক ভূমিকা পালন করছে। তাঁর ভাষ্য অনুযায়ী, গোয়েন্দা নজরদারি ও অন্যান্য সহায়তায় দুই দেশ যুক্ত থাকলেও ইয়েমেনের ভেতরে সরাসরি স্থল লড়াইয়ে সৌদি বাহিনীই প্রধান ভূমিকা পালন করছে। এতে পাকিস্তান ও তুরস্ক কতদিন সরাসরি লড়াইয়ের বাইরে থাকতে পারবে, তা নিয়েও প্রশ্ন তৈরি হয়েছে। মক্কা প্রতিরক্ষা জোটের সামনে এখন মূল চ্যালেঞ্জ হলো সৌদি আরবের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা, অথচ ইয়েমেনের সংঘাতে সরাসরি বড় ধরনের সামরিক জড়িয়ে পড়ার ঝুঁকি এড়িয়ে চলা। কারণ ইয়েমেনের ভূখণ্ডে সংঘাত যত দীর্ঘ হবে, সৌদি আরবের শহর, জ্বালানি অবকাঠামো ও গুরুত্বপূর্ণ বাণিজ্যপথের ওপর চাপ তত বাড়তে পারে। সব মিলিয়ে, মাত্র কয়েক মাস আগে গঠিত মক্কা প্রতিরক্ষা জোট এখন রাজনৈতিক ঘোষণা থেকে বাস্তব নিরাপত্তা সহযোগিতার দিকে এগোচ্ছে। তবে জোটটি কতটা কার্যকর হবে, তা নির্ভর করবে তিন দেশের সামরিক সমন্বয়, বাহিনী মোতায়েনের পরিধি এবং ইয়েমেনের চলমান সং ঘা ত কতটা বিস্তৃত হয় তার ওপর। আপাতত সৌদি আরবের নিরাপত্তা হুমকি এই নতুন জোটের জন্য প্রথম বড় পরীক্ষা হয়ে দাঁড়িয়েছে।
ইরাকের সাবেক স্বর্ণকার ও ক্যালিগ্রাফার আলি জামান ছয় বছরের দীর্ঘ পরিশ্রমে হাতে লিখে তৈরি করেছেন বিশাল আকারের একটি পবিত্র কোরআন। তুরস্কের ইস্তাম্বুলে তৈরি এই অনুলিপির প্রতিটি অংশের দৈর্ঘ্য প্রায় ৪ মিটার এবং প্রস্থ দেড় মিটার। আকার ও নির্মাণশৈলীর কারণে কাজটি আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমের নজর কেড়েছে। অ্যাসোসিয়েটেড প্রেসের তথ্য অনুযায়ী, আলি জামানের তৈরি সম্পূর্ণ কোরআনটি ৩০২টি দুই পাশে লেখা বড় শিট বা স্ক্রল নিয়ে গঠিত। প্রতিটির দৈর্ঘ্য প্রায় ১৩ ফুট এবং প্রস্থ প্রায় ৫ ফুট। পাশাপাশি রাখা হলে একটি খোলা অংশ প্রায় ৩ মিটার পর্যন্ত জায়গা নেয়। ইরাকের কুর্দিস্তান অঞ্চলের সুলাইমানিয়ার রাণিয়া এলাকায় ১৯৭১ সালে জন্ম আলি জামানের। জীবিকার জন্য দীর্ঘদিন স্বর্ণকার হিসেবে কাজ করলেও ছোটবেলা থেকেই আরবি ক্যালিগ্রাফির প্রতি তার আগ্রহ ছিল। ২০১৩ সালে জুয়েলারির কাজ ছেড়ে পুরোপুরি ক্যালিগ্রাফিতে মনোযোগ দেন তিনি। ২০১৭ সালে পরিবার নিয়ে তুরস্কের ইস্তাম্বুলে চলে যান আলি জামান। ইসলামী ক্যালিগ্রাফির দীর্ঘ ঐতিহ্য থাকা শহরটিতেই নিজের শিল্পচর্চাকে আরও এগিয়ে নেওয়ার সিদ্ধান্ত নেন। এর আগে ছোট আকারের একটি বড় কোরআন অনুলিপির কাজও করেছিলেন তিনি। পরবর্তী সময়ে আরও বড় পরিসরের একটি কোরআন তৈরির পরিকল্পনা শুরু করেন। প্রায় এক বছর ধরে প্রয়োজনীয় উপকরণ, মাপ ও নকশা নিয়ে প্রস্তুতির পর ২০২০ সালের দিকে মূল কাজ শুরু করেন। এরপর টানা ছয় বছর ধরে প্রতিদিন দীর্ঘ সময় ব্যয় করে তিনি প্রকল্পটি সম্পন্ন করেন। তুরস্কের সংবাদ সংস্থা আনাদোলুর তথ্য অনুযায়ী, আলি জামান আধুনিক প্রিন্টিং বা ডিজিটাল প্রযুক্তির পরিবর্তে ঐতিহ্যবাহী পদ্ধতি অনুসরণ করেছেন। কোরআনের প্রতিটি অক্ষর তিনি হাতে লিখেছেন প্রচলিত কামিশ বা রিড পেন ব্যবহার করে। লেখার জন্য বেছে নিয়েছেন ইসলামী ক্যালিগ্রাফির পরিচিত থুলুথ লিপি। অ্যাসোসিয়েটেড প্রেস জানিয়েছে, লেখার জন্য ব্যবহৃত বড় শিটগুলোও বিশেষভাবে তৈরি করা হয়েছিল। এগুলো তৈরিতে ডিম, কর্নস্টার্চ ও অ্যালামের মতো ঐতিহ্যবাহী উপাদানের মিশ্রণ ব্যবহার করা হয়। ফলে শিটগুলো সাধারণ কাগজের তুলনায় মোটা এবং অনেকটা পার্চমেন্টের মতো। ইস্তাম্বুলের ফাতিহ এলাকার মিহরিমাহ সুলতান মসজিদের একটি ছোট কক্ষে দীর্ঘদিন ধরে কাজটি করেছেন আলি জামান। তার দৈনন্দিন রুটিন শুরু হতো ফজরের নামাজের পর। খাবার ও নামাজের বিরতি ছাড়া দিনের বড় অংশ তিনি ক্যালিগ্রাফির কাজে কাটাতেন বলে আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমকে জানিয়েছেন। কাজটি নিয়ে বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমে বিশ্বের সবচেয়ে বড় হাতে লেখা কোরআনের দাবি করা হলেও এ বিষয়ে আনুষ্ঠানিক গিনেস ওয়ার্ল্ড রেকর্ড স্বীকৃতির তথ্য পাওয়া যায়নি। ফলে এটিকে নিশ্চিতভাবে বিশ্বরেকর্ডধারী কোরআন বলা ঠিক হবে না। গিনেস ওয়ার্ল্ড রেকর্ডসের তালিকা অনুযায়ী, দীর্ঘতম হাতে লেখা কোরআন স্ক্রলের রেকর্ড ভারতের কেরালার জাসীম মোহাম্মদের নামে। ২০২২ সালের ১৮ ডিসেম্বর কেরালার কালিকটে তিনি ১ হাজার ১০৬ মিটার দীর্ঘ হাতে লেখা কোরআন স্ক্রল তৈরি করে রেকর্ডটি অর্জন করেন। তবে জাসীম মোহাম্মদের কাজটি দীর্ঘ স্ক্রলের রেকর্ড, আর আলি জামানের কাজটি বিশাল আকারের পৃথক হাতে লেখা শিট দিয়ে তৈরি। ফলে দুটি কাজের ধরন আলাদা। আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমগুলো আলি জামানের সৃষ্টিকে বিশ্বের অন্যতম বৃহৎ হাতে লেখা কোরআন হিসেবে উল্লেখ করেছে। ছয় বছরের কাজ শেষ হওয়ার পর আলি জামান বলেছেন, জীবদ্দশায় এই কাজটি সম্পন্ন করতে পারাকে তিনি বিশেষ সৌভাগ্য হিসেবে দেখছেন। ভবিষ্যতে তার তৈরি কোরআনটি এমন কোনো জাদুঘর বা স্থানে প্রদর্শিত হোক, যেখানে মানুষ ইসলামী ক্যালিগ্রাফির এই কাজ কাছ থেকে দেখতে পারবেন, এমন প্রত্যাশাও জানিয়েছেন তিনি।
গুরুতর অসুস্থ বাবার জীবন বাঁচাতে লড়াই করছেন এক চিকিৎসক সন্তান। ৬০ বছর বয়সী বাবা হৃদরোগ ও কিডনি বিকল হয়ে ধুঁকছিলেন। নেপালে চিকিৎসা সম্ভব না হওয়ায় তাঁকে তুরস্কে নিয়ে যান ছেলে। টানা ২৫ দিন আইসিইউতে মৃত্যুর সঙ্গে পাঞ্জা লড়ে অবশেষে চোখ খোলেন বাবা। ছেলেকে দেখে হাসিমুখে বলেন, "তুই আমাকে বাঁচিয়ে নিলি।" এই চিকিৎসক ছেলের নাম ডা. বিনোদ সাহ। বাবার জীবন বাঁচানোর এই মুহূর্তটি তাঁর কাছে অন্য যেকোনো সফল চিকিৎসার চেয়ে অনেক বেশি তাৎপর্যপূর্ণ। কারণ হাসপাতালের বিছানায় শুয়ে থাকা এই মানুষটিই একসময় পড়াশোনায় অমনোযোগী এক দুষ্টু ছেলেকে জোর করে চিকিৎসক বানিয়েছিলেন। ডা. বিনোদ সাহের শৈশব কেটেছে নেপালের সিরাহা জেলার গোলবাজারে। বইপত্রের চেয়ে খেলাধুলা আর দুষ্টুমিতেই তাঁর বেশি আগ্রহ ছিল। কিন্তু তাঁর দরিদ্র বাবার স্বপ্ন ছিল ছেলেকে চিকিৎসক বানাবেন। বাবা ছেলেকে কড়া শাসনে রাখতেন, এমনকি পড়াশোনার জন্য তাঁকে বোর্ডিং স্কুলেও পাঠিয়েছিলেন। কিন্তু স্বাধীনচেতা বিনোদ মাত্র দুই মাস পরেই সেখান থেকে পালিয়ে আসেন। তবে বাবা হাল ছাড়েননি। তিনি বলেছিলেন, "প্রয়োজনে কিডনি বিক্রি করে দেব, তবু তোকে ডাক্তার বানাব।" বাবার এই অদম্য জেদ আর কঠোর শাসনই শেষ পর্যন্ত বিনোদের জীবনের মোড় ঘুরিয়ে দেয়। এমবিবিএস ভর্তি পরীক্ষায় প্রথমবার অকৃতকার্য হলেও বাবার উৎসাহে দ্বিতীয়বার মেধা তালিকায় ২৩তম স্থান অধিকার করে তুরস্কে পড়ার পূর্ণাঙ্গ বৃত্তি পান বিনোদ। কিন্তু সেখানে গিয়েও তাঁকে নতুন সংগ্রামের মুখোমুখি হতে হয়। ভাষা না জানা এবং আর্থিক সংকটের মাঝেও তিনি তুর্কি ভাষা শিখে নেন এবং চিকিৎসাবিজ্ঞানে টানা তিন বছর নিজের ক্লাসে প্রথম স্থান অধিকার করেন। পরবর্তীতে শিশু চিকিৎসায় উচ্চতর ডিগ্রি নিয়ে তিনি তুরস্কের হ্যাসেটেপ ইউনিভার্সিটিতে যোগ দেন এবং নবজাতক চিকিৎসায় বিশ্বের অন্যতম শীর্ষ গবেষক হিসেবে স্বীকৃতি পান। ২০১৫ ও ২০২৪ সালে তুরস্ক সরকার তাঁকে 'বর্ষসেরা চিকিৎসক' সম্মাননায় ভূষিত করে। চিকিৎসক হিসেবে অসংখ্য শিশুর প্রাণ বাঁচিয়েছেন ডা. বিনোদ। একবার টানা ৪৮ মিনিট সিপিআর দিয়ে এক নবজাতককে মৃত্যুর মুখ থেকে ফিরিয়ে এনেছিলেন তিনি। বিদেশে তুমুল সফল হলেও মাতৃভূমি নেপালের প্রতি তাঁর টান কখনোই কমেনি। নেপালের শিশুদের জন্য আধুনিক চিকিৎসার আশায় ২০১৬ সালে দেশে ফিরে তিনি গ্র্যান্ড ইন্টারন্যাশনাল হাসপাতালে দেশের প্রথম পেডিয়াট্রিক ইনটেনসিভ কেয়ার ইউনিট (পিআইসিইউ) প্রতিষ্ঠা করেন। তবে নেপালের চিকিৎসাব্যবস্থার সীমাবদ্ধতা, প্রশাসনিক জটিলতা ও প্রাতিষ্ঠানিক হস্তক্ষেপের কারণে তিনি পরবর্তীতে পুনরায় তুরস্কে ফিরে যান এবং সেখানে একটি আধুনিক শিশু ক্লিনিক গড়ে তোলেন। জীবনের এই দীর্ঘ যাত্রায় ডা. বিনোদ সাহ প্রমাণ করেছেন, সঠিক দিকনির্দেশনা থাকলে যেকোনো বাধাই জয় করা সম্ভব। যে বছর তিনি তুরস্কে তাঁর বাবার প্রাণ বাঁচান, সে বছরই তিনি বর্ষসেরা চিকিৎসকের পুরস্কার নিচ্ছিলেন। হুইলচেয়ারে বসে সেই দৃশ্য দেখে তাঁর বাবা বলেছিলেন, "এখন মারা গেলেও আমার কোনো আক্ষেপ নেই। আমার ছেলে আমাকে বাঁচিয়েছে, আমার স্বপ্ন আজ সত্যি হয়েছে।" দুষ্টু ছেলে থেকে আন্তর্জাতিক খ্যাতিসম্পন্ন চিকিৎসক হয়ে ওঠার এই যাত্রাকে বিনোদ তাঁর বাবার প্রতিই উৎসর্গ করেন। তাঁর ভাষায়, "স্বপ্ন দেখার চোখগুলো ছিল আমার বাবার, আর সেই স্বপ্ন পূরণের পথে হাঁটার পা ছিল আমার।"
বিশ্ব অস্ত্র রপ্তানির বাজারে নতুন মাইলফলক স্পর্শ করেছে তুরস্ক। রাশিয়ার Centre for Analysis of World Arms Trade (CAWAT) বা বিশ্ব অস্ত্র বাণিজ্য বিশ্লেষণ কেন্দ্রের ২০২৫ সালের হিসাব অনুযায়ী, ৪ দশমিক ২৩ বিলিয়ন ডলারের অস্ত্র রপ্তানি নিয়ে বিশ্বের শীর্ষ অস্ত্র রপ্তানিকারকদের তালিকায় অষ্টম অবস্থানে উঠে এসেছে দেশটি। এই তালিকায় তুরস্কের পেছনে রয়েছে চীন, যার অস্ত্র রপ্তানির মূল্য ধরা হয়েছে ২ দশমিক ৯৭ বিলিয়ন ডলার। CAWAT-এর হিসাবে, ২০২৫ সালে যুক্তরাষ্ট্র ৪৪ দশমিক ৬০৩ বিলিয়ন ডলারের অস্ত্র রপ্তানি নিয়ে তালিকার শীর্ষে রয়েছে। দ্বিতীয় অবস্থানে রাশিয়া, ১৫ বিলিয়ন ডলার নিয়ে। জার্মানি ৮ দশমিক ৯০৩ বিলিয়ন ডলার নিয়ে তৃতীয় এবং দক্ষিণ কোরিয়া ৮ দশমিক ৭৭৯ বিলিয়ন ডলার নিয়ে চতুর্থ অবস্থানে রয়েছে। তালিকায় পঞ্চম স্থানে ফ্রান্সের অস্ত্র রপ্তানির মূল্য ৮ দশমিক ৬৩০ বিলিয়ন ডলার। এরপর ইসরায়েল ৫ দশমিক ৯৯৫ বিলিয়ন, ইতালি ৫ দশমিক ২২৫ বিলিয়ন, তুরস্ক ৪ দশমিক ২৩ বিলিয়ন, স্পেন ৩ দশমিক ৪৭৬ বিলিয়ন এবং চীন ২ দশমিক ৯৭ বিলিয়ন ডলার নিয়ে শীর্ষ ১০-এ রয়েছে। CAWAT-এর এই হিসাব অনুযায়ী, ২০২৫ সালে প্রথমবারের মতো তুরস্ক এত উঁচু অবস্থানে পৌঁছেছে। রাশিয়ার প্রতিরক্ষা বিষয়ক সংবাদমাধ্যম ও অন্যান্য প্রকাশনায় প্রকাশিত CAWAT-এর প্রতিবেদনে জার্মানি, দক্ষিণ কোরিয়া ও তুরস্কের রপ্তানি পারফরম্যান্সকে বিশেষভাবে উল্লেখ করা হয়েছে। তুরস্কের এই অগ্রগতির পেছনে দেশটির নিজস্ব প্রতিরক্ষা প্রযুক্তি ও উৎপাদন সক্ষমতা বাড়ানোর দীর্ঘমেয়াদি প্রচেষ্টা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে। ড্রোন, সাঁজোয়া যান, নৌযান, ক্ষেপণাস্ত্র, গোলাবারুদ, রাডার ও বিভিন্ন প্রতিরক্ষা প্রযুক্তি নিয়ে তুরস্কের শিল্পখাত গত কয়েক বছরে আন্তর্জাতিক বাজারে নিজেদের উপস্থিতি বাড়িয়েছে। তবে তুরস্কের প্রতিরক্ষা রপ্তানির মোট পরিমাণ নিয়ে বিভিন্ন উৎসে ব্যবহৃত সংজ্ঞা ও হিসাবের কারণে পার্থক্য রয়েছে। তুরস্কের সরকারি প্রতিরক্ষা শিল্প কর্তৃপক্ষের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৫ সালে দেশটির প্রতিরক্ষা ও মহাকাশ খাতের মোট রপ্তানি ছিল ১০ দশমিক ০৫৪ বিলিয়ন ডলার, যা আগের বছরের তুলনায় প্রায় ৪৮ শতাংশ বেশি। এর মধ্যে পণ্য রপ্তানি ছিল ৯ দশমিক ৮৭ বিলিয়ন এবং সেবা রপ্তানি ১৮৪ মিলিয়ন ডলার। তুরস্কের সরকারি তথ্য আরও বলছে, ২০২৫ সালে দেশটির প্রতিরক্ষা ও মহাকাশ খাতে নতুন চুক্তির মূল্য ১৭ দশমিক ৮ বিলিয়ন ডলারে পৌঁছায়, যা ২০২৪ সালের প্রায় ১০ বিলিয়ন ডলারের তুলনায় প্রায় ৭৮ শতাংশ বেশি। একই সময়ে তুরস্ক পর্তুগালের সঙ্গে সামরিক জাহাজ রপ্তানি এবং স্পেনের সঙ্গে হুরজেট প্রশিক্ষণ বিমান নিয়ে বড় চুক্তি করেছে। ইন্দোনেশিয়ার সঙ্গে কেএএএন যুদ্ধবিমান এবং রোমানিয়ার সঙ্গে অফশোর টহল জাহাজ নিয়েও চুক্তি হয়েছে। তুরস্কের প্রতিরক্ষা শিল্পের সম্প্রসারণের আরেকটি দিক হলো বিদেশি সরবরাহের ওপর নির্ভরতা কমানোর চেষ্টা। তুরস্কের প্রতিরক্ষা শিল্প কর্তৃপক্ষের তথ্য অনুযায়ী, ২০০২ সালে দেশটির প্রতিরক্ষা ও মহাকাশ রপ্তানি ছিল মাত্র ২৪৮ মিলিয়ন ডলার। ২০২৫ সালে তা বেড়ে ১০ দশমিক ০৫৪ বিলিয়ন ডলারে পৌঁছায়। অন্যদিকে, আন্তর্জাতিক অস্ত্র বাণিজ্য বিশ্লেষণে ব্যবহৃত আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ উৎস স্টকহোম ইন্টারন্যাশনাল পিস রিসার্চ ইনস্টিটিউট বা SIPRI-এর সর্বশেষ ২০২১-২৫ সময়ের তথ্য তুরস্কের ক্ষেত্রে ভিন্ন চিত্র দেখায়। SIPRI-এর হিসাবে, ওই পাঁচ বছরে তুরস্ক বিশ্বের ১১তম বৃহত্তম প্রধান অস্ত্র রপ্তানিকারক ছিল এবং বৈশ্বিক রপ্তানির ১ দশমিক ৭ শতাংশ তার দখলে ছিল। ২০১৫-১৯ থেকে ২০২০-২৪ সময়ে তুরস্কের অস্ত্র রপ্তানি ১০৩ শতাংশ বেড়েছিল। SIPRI-এর হিসাব আর CAWAT-এর হিসাবের মধ্যে পার্থক্যের কারণ তাদের তথ্য সংগ্রহ ও পরিমাপের পদ্ধতি এক নয়। SIPRI মূলত বড় ধরনের প্রচলিত অস্ত্রের আন্তর্জাতিক হস্তান্তর পরিমাপ করতে ‘ট্রেন্ড-ইন্ডিকেটর ভ্যালু’ বা টিআইভি ব্যবহার করে, যা সরাসরি অস্ত্র বিক্রির আর্থিক মূল্য নয়। অন্যদিকে CAWAT-এর ২০২৫ সালের র্যাঙ্কিংয়ে বাণিজ্যিক চুক্তি ও সরবরাহের আর্থিক মূল্যকে ভিত্তি করা হয়েছে। ফলে তুরস্ক চীনকে পেছনে ফেলে অষ্টম হয়েছে বলা হলে সেটি CAWAT-এর ২০২৫ সালের আর্থিক মূল্যভিত্তিক র্যাঙ্কিংয়ের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য। এটিকে আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত সব ধরনের অস্ত্র রপ্তানির একক বা সর্বজনীন র্যাঙ্কিং হিসেবে দেখলে বিষয়টি বিভ্রান্তিকর হতে পারে। তবে বিভিন্ন সূচকেই তুরস্কের প্রতিরক্ষা শিল্পের দ্রুত সম্প্রসারণের বিষয়টি স্পষ্ট। বিশেষ করে চালকবিহীন বিমান, সাঁজোয়া যান, নৌ প্ল্যাটফর্ম ও বিভিন্ন নিজস্ব প্রতিরক্ষা প্রযুক্তির আন্তর্জাতিক বাজারে চাহিদা বাড়ায় দেশটির রপ্তানি সক্ষমতা গত এক দশকে উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। SIPRI-ও ২০২০-২৪ সময়ে তুরস্কের অস্ত্র রপ্তানি বৃদ্ধির পাশাপাশি ইউরোপ, আফ্রিকা ও এশিয়া-প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলে দেশটির বাজার সম্প্রসারণের কথা উল্লেখ করেছে। সূত্র: Centre for Analysis of World Arms Trade (CAWAT)
আগামী দুই মাসে তিন দেশ সফরের প্রস্তুতি চলছে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের। অক্টোবর ও নভেম্বরে জাপান, তুরস্ক ও সৌদি আরব সফরের সম্ভাব্য পরিকল্পনা নিয়ে সংশ্লিষ্ট দেশগুলোর সঙ্গে আলোচনা শুরু করেছে ঢাকা। তবে এখন পর্যন্ত এই তিন দেশ সফরের সম্ভাব্য সূচিতে প্রতিবেশী ভারতের নাম নেই। কূটনৈতিক সূত্রের বরাতে প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, অক্টোবরের শেষ সপ্তাহে প্রথমে জাপান সফরে যেতে পারেন প্রধানমন্ত্রী। জাপানের প্রধানমন্ত্রী সানায়ে তাকাইচির আমন্ত্রণে সম্ভাব্য এই দ্বিপক্ষীয় সফর তিন থেকে চার দিনের হতে পারে। সফরটি সামনে রেখে ঢাকা ও টোকিওর জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তাদের মধ্যে ইতোমধ্যে আলোচনা হয়েছে। জাপান সফরে দুই দেশের কৌশলগত সম্পর্কের পাশাপাশি বিনিয়োগ, ব্যবসা-বাণিজ্য, জনশক্তি ও অর্থনৈতিক সহযোগিতার বিভিন্ন বিষয় গুরুত্ব পেতে পারে। জাপানও বাংলাদেশের সঙ্গে বিদ্যমান কৌশলগত অংশীদারত্ব আরও এগিয়ে নেওয়ার আগ্রহ জানিয়েছে। এরপর নভেম্বরে তুরস্ক সফরের কথা রয়েছে তারেক রহমানের। দেশটির আনতালিয়ায় আগামী ৯ থেকে ২০ নভেম্বর অনুষ্ঠিত হবে জাতিসংঘের জলবায়ু পরিবর্তনবিষয়ক ৩১তম সম্মেলন - কপ৩১। প্রধানমন্ত্রীকে ওই সম্মেলনে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে। পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী হুমায়ুন কবিরও এর আগে তারেক রহমানের কপ৩১-এ অংশ নেওয়ার পরিকল্পনার কথা জানিয়েছিলেন। তুরস্কের পর নভেম্বরের দ্বিতীয়ার্ধে সৌদি আরব সফরের সম্ভাবনা রয়েছে প্রধানমন্ত্রীর। সৌদি যুবরাজ ও প্রধানমন্ত্রী মোহাম্মদ বিন সালমানের আমন্ত্রণে সম্ভাব্য এই দ্বিপক্ষীয় সফর আয়োজন নিয়ে দুই দেশের কর্মকর্তাদের মধ্যে প্রাথমিক আলোচনা শুরু হয়েছে। সৌদি সফরে দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক, জ্বালানি, বিনিয়োগ, ব্যবসা-বাণিজ্য, বাংলাদেশি জনশক্তির সুযোগ এবং আঞ্চলিক ও আন্তর্জাতিক বিভিন্ন বিষয় আলোচনায় আসতে পারে বলে কূটনৈতিক সূত্রগুলো জানিয়েছে। তবে সফরের চূড়ান্ত তারিখ ও পূর্ণ কর্মসূচি এখনো ঘোষণা করা হয়নি। এদিকে সম্ভাব্য এই তিন দেশ সফরের তালিকায় ভারত না থাকলেও দিল্লি সফরের আলোচনা শেষ হয়ে যায়নি। ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি তারেক রহমানকে দ্বিপক্ষীয় সফরের আমন্ত্রণ জানিয়েছেন। সেপ্টেম্বরে দিল্লিতে ব্রিকস সম্মেলনের আউটরিচ অধিবেশনেও তাকে আলাদাভাবে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল, যদিও তিনি সেখানে যাননি। ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ১৫ সেপ্টেম্বর জানায়, দ্বিপক্ষীয় সফরের আমন্ত্রণের বিষয়ে তখন পর্যন্ত বাংলাদেশের কাছ থেকে কোনো চূড়ান্ত জবাব তারা পায়নি। অন্যদিকে ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস ২১ সেপ্টেম্বর কূটনৈতিক সূত্রের বরাতে জানিয়েছে, দুই পক্ষ নভেম্বরের দ্বিতীয়ার্ধে সম্ভাব্য ভারত সফরের তারিখ নিয়েও আলোচনা করছে। ফলে বর্তমানে ভারত সফর বাতিল হয়েছে বা হচ্ছে না - এমন সিদ্ধান্তে পৌঁছানোর সুযোগও নেই। নিউইয়র্কে জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের অধিবেশন শেষে প্রধানমন্ত্রীর পরবর্তী কূটনৈতিক সফরের সম্ভাব্য গন্তব্য হিসেবে এখন সামনে রয়েছে জাপান, তুরস্ক ও সৌদি আরব। তিন সফরের প্রস্তুতি এগোলেও তারিখগুলো এখনো প্রাথমিক পর্যায়ে রয়েছে। একই সময়ে ভারতের সঙ্গে সম্ভাব্য দ্বিপক্ষীয় সফর নিয়েও আলোচনা অব্যাহত রয়েছে।
ইরানের ওপর অর্থনৈতিক চাপ বাড়ানোর অভিযানে যুক্তরাজ্য, তুরস্ক, ওমান ও সংযুক্ত আরব আমিরাতের পদক্ষেপকে স্বাগত জানিয়েছেন যুক্তরাষ্ট্রের অর্থমন্ত্রী স্কট বেসেন্ট। শনিবার, ২৬ সেপ্টেম্বর তিনি বলেন, ইরানের বিমান সংস্থা ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানের ওপর আরোপিত বিধিনিষেধে ওয়াশিংটনের প্রচেষ্টা ফল দিতে শুরু করেছে। বেসেন্টের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, তুরস্ক ও ওমান ইরানের মাহান এয়ারের ফ্লাইট বন্ধ করেছে। সংযুক্ত আরব আমিরাত ইরানি বিমান সংস্থাগুলোর ফ্লাইট স্থগিত করেছে। উড়োজাহাজ চলাচলে এসব বিধিনিষেধ যুক্তরাষ্ট্রের নিষেধাজ্ঞার চাপ আরও বাড়িয়েছে। ব্যাংক লেনদেনেও নতুন বাধা এসেছে। সংযুক্ত আরব আমিরাতের কেন্দ্রীয় ব্যাংক ইরানের ব্যাংক মেল্লির শাখাগুলোর মাধ্যমে দেশটির সঙ্গে অর্থ লেনদেন বন্ধ করেছে। অর্থপাচার ও সন্ত্রাসে অর্থায়ন প্রতিরোধের নিয়ম লঙ্ঘনের অভিযোগে এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে বলে দেশটির কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে। গত আগস্টে যুক্তরাষ্ট্র ‘অপারেশন ইকোনমিক আউটকাস্ট’ নামে ইরানের ওপর অর্থনৈতিক চাপ বাড়ানোর অভিযান শুরু করে। এরপর সেপ্টেম্বরে ইরানের বিমান খাতের একাধিক প্রতিষ্ঠানকে নিষেধাজ্ঞার আওতায় আনা হয়। বেসেন্টের সর্বশেষ বক্তব্য সেই অভিযানের অগ্রগতির বিষয়ে ওয়াশিংটনের মূল্যায়ন। তবে আরটিভির প্রতিবেদনে উল্লিখিত দেশগুলোর সব বাণিজ্যিক ব্যাংক ইরানের সঙ্গে সব ধরনের লেনদেন বন্ধ করেছে, এমন দাবি পাওয়া তথ্য দিয়ে নিশ্চিত করা যায় না। প্রকাশিত তথ্য নির্দিষ্ট ব্যাংক ও লেনদেনের ওপর বিধিনিষেধের কথাই জানায়।
তুরস্কের এজিয়ান উপকূলে প্রত্নতাত্ত্বিক খননে প্রায় ২ হাজার বছরের পুরোনো একটি বিরল রোমান মোজাইক আবিষ্কৃত হয়েছে। মোজাইকটিতে বিভিন্ন প্রাণী ও পৌরাণিক চরিত্রের পাশাপাশি একটি বিড়াল ও একটি কুকুরের নামও লেখা রয়েছে। গবেষকদের ধারণা, প্রাণী দুটি ওই বাড়ির বাসিন্দাদের কাছে বিশেষভাবে গুরুত্বপূর্ণ ছিল। মোজাইকটি প্রাচীন বন্দরনগরী আদ্রামিত্তেয়নের নিচে থাকা একটি রোমান ভিলার ধ্বংসাবশেষ থেকে পাওয়া গেছে। ধারণা করা হচ্ছে, এটি খ্রিস্টীয় দ্বিতীয় শতাব্দীর শেষভাগ অথবা তৃতীয় শতাব্দীর সময়কার। ভিলাটির কেন্দ্রস্থলে থাকা মোজাইকটির আকার প্রায় ১৬ দশমিক ৪ ফুট বাই ১১ দশমিক ৮ ফুট। মোজাইকটি মোট ১৫টি পৃথক দৃশ্য নিয়ে তৈরি। এতে পাখি, মাছ, বিড়ালসহ বিভিন্ন প্রাণী এবং পৌরাণিক চরিত্রের ছবি রয়েছে। এর কেন্দ্রীয় অংশে সাপের মতো চুলওয়ালা পৌরাণিক চরিত্র গর্গন মেডুসার ছবিও রয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে। তবে মোজাইকের অসংখ্য প্রাণীর মধ্যে মাত্র দুটি প্রাণীর নাম লেখা হয়েছে। একটি বিড়ালের নাম ‘এমেরাল্ড’ এবং একটি কুকুরের নাম ‘ওশান’। বিড়ালটিকে নীল-সবুজ রঙের একটি কুশনের ওপর আরাম করে শুয়ে থাকতে দেখা যায়। তার ওপরে গ্রিক ভাষায় ‘এমেরাল্ড’ নামটি লেখা রয়েছে। মিমার সিনান ফাইন আর্টস বিশ্ববিদ্যালয়ের আদ্রামিত্তেয়ন গবেষণা দলের প্রধান হুসেইন ওজগেনের গবেষণা অনুযায়ী, নামটি ইঙ্গিত করে যে এমেরাল্ড শুধু মোজাইকের অলংকার হিসেবে দেখানো হয়নি। বরং প্রাণীটি ওই বাড়ির মানুষের কাছে পরিচিত ও গুরুত্বপূর্ণ ছিল বলে ধারণা করা হচ্ছে। তার মতে, বিড়ালটিকে পথের কোনো বেওয়ারিশ প্রাণী হিসেবে দেখানোর চেয়ে পরিবারের অংশ হিসেবে তুলে ধরা হয়েছে। গবেষণায় এমেরাল্ড নামটির সম্ভাব্য একটি ব্যাখ্যাও দেওয়া হয়েছে। প্রাচীন রোমান যুগে রোমান মিসরের মরুভূমি অঞ্চলে পান্না উত্তোলন করা হতো। এ কারণে ভিলাটির মালিকের উত্তর আফ্রিকার সঙ্গে ব্যবসায়িক যোগাযোগ থাকা কোনো ব্যবসায়ী হতে পারেন বলে ওজগেন ধারণা করেছেন। অন্যদিকে কুকুর ‘ওশান’-কে মোজাইকে আরও প্রাণবন্ত ভঙ্গিতে দেখানো হয়েছে। ছবিতে কুকুরটিকে দৌড়ানো বা লাফানোর মাঝামাঝি অবস্থায় দেখা যায়। তার পাশে গ্রিক ভাষায় ‘ওশান’ নামটি লেখা রয়েছে। ওজগেনের ধারণা, কুকুরটির নামও বিশেষ কোনো কারণে দেওয়া হয়ে থাকতে পারে। আদ্রামিত্তেয়ন শহরটি সমুদ্রের কাছাকাছি অবস্থিত হওয়ায় ‘ওশান’ নামটি শহরটির ভৌগোলিক অবস্থানের সঙ্গে সম্পর্কিত হতে পারে বলে তিনি মনে করেন। তবে এমেরাল্ড ও ওশানকে আধুনিক অর্থে পোষা প্রাণী হিসেবে পালন করা হতো কি না, তা নিশ্চিতভাবে বলা সম্ভব নয়। গবেষকের মতে, প্রাণী দুটি ওই ভিলার আশপাশে নিয়মিত দেখা যেত এবং সেখানকার মানুষের কাছে পরিচিত ছিল। সেই কারণেই তাদের মোজাইকে আলাদাভাবে তুলে ধরা হয়ে থাকতে পারে। হুসেইন ওজগেন ২০১২ সাল থেকে আদ্রামিত্তেয়নে খননকাজ পরিচালনা করছেন। তবে রোমান ভিলাটি সম্প্রতি শনাক্ত করা হয়। ২০২৫ সাল এবং ২০২৬ সালের শুরুর দিকে সেখানে খননকাজ চালিয়ে এই মোজাইকসহ গুরুত্বপূর্ণ নিদর্শন উদ্ধার করা হয়েছে। প্রাচীন শহরটিতে এখনো প্রত্নতাত্ত্বিক খননকাজ চলছে। ফলে মাটির নিচে আরও নিদর্শন ও প্রাচীন জীবনযাত্রার নানা তথ্য পাওয়া যেতে পারে বলে আশা করছেন গবেষকেরা। সূত্র: নিউইয়র্ক পোস্ট
তুরস্কে ইসরায়েল-সংযুক্ত একটি আন্তর্জাতিক বিনিয়োগ প্রতারণা চক্রের বিরুদ্ধে বড় ধরনের অভিযান চালিয়েছে দেশটির আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী। কর্তৃপক্ষের দাবি, তুরস্ক থেকে পরিচালিত এই চক্রটি ভুয়া ফরেক্স ও ক্রিপ্টোকারেন্সি বিনিয়োগ প্ল্যাটফর্মের মাধ্যমে বিশ্বের বিভিন্ন দেশের মানুষের কাছ থেকে ৩ বিলিয়ন ডলারের বেশি অর্থ হাতিয়ে নিয়েছে। অভিযানে ৯ ইসরায়েলি নাগরিকসহ ২০১ জনকে আটক করা হয়েছে। ইস্তাম্বুলের প্রধান সরকারি কৌঁসুলির কার্যালয়ের চারটি পৃথক তদন্তের ভিত্তিতে শুক্রবার ইস্তাম্বুল ও মুগলা প্রদেশে সমন্বিত অভিযান চালানো হয়। তুরস্কের বিচারমন্ত্রী আকিন গুরলেকের তথ্য অনুযায়ী, অভিযানে ২৮টি প্রতিষ্ঠানের অধীনে পরিচালিত ৪২টি কল সেন্টারসহ ২৮৬টি ঠিকানায় তল্লাশি চালানো হয়। প্রাথমিকভাবে ২৩৯ জনের বিরুদ্ধে আটকাদেশ ছিল। পরে আরও কয়েকজনকে আটক করা হয়। তুরস্কের কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, আটক ব্যক্তিদের মধ্যে ৯ জন ইসরায়েলি নাগরিক। এছাড়া পাকিস্তানসহ বিভিন্ন দেশের নাগরিকও রয়েছেন। তুরস্কের রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যম ও দেশটির স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, আটক ব্যক্তিদের মধ্যে বাংলাদেশি নাগরিকও রয়েছেন। তবে তাঁদের সুনির্দিষ্ট সংখ্যা নিয়ে বিভিন্ন প্রতিবেদনে পার্থক্য রয়েছে। তদন্তকারীদের ভাষ্য, চক্রটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম, সার্চ ইঞ্জিন ও বিভিন্ন ওয়েবসাইটে বিনিয়োগের বিজ্ঞাপন দিত। সেখানে ফরেক্স ও ক্রিপ্টোকারেন্সিতে বিনিয়োগ করে দ্রুত ও বড় অঙ্কের লাভের প্রতিশ্রুতি দেওয়া হতো। আগ্রহী ব্যক্তিদের সঙ্গে বিভিন্ন ভাষায় কথা বলতেন চক্রের কর্মীরা। পরে তাদের নির্দিষ্ট বিনিয়োগ প্ল্যাটফর্মে অর্থ জমা দিতে উৎসাহিত করা হতো। তদন্তে উঠে এসেছে, বিনিয়োগকারীদের জন্য এসব প্ল্যাটফর্মে কৃত্রিম লাভের হিসাব দেখানো হতো। এতে অনেকেই আরও বেশি অর্থ জমা দিতেন। কিন্তু টাকা তোলার চেষ্টা করলে তাদের অ্যাকাউন্ট বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে বলে জানানো হতো। এরপর অ্যাকাউন্ট খুলতে বা কর পরিশোধের নামে অতিরিক্ত অর্থ চাওয়া হতো। কর্তৃপক্ষের দাবি, প্রকৃতপক্ষে এসব অর্থ কোনো বিনিয়োগে ব্যবহার করা হয়নি। বরং বিভিন্ন দেশের ব্যাংক হিসাব ও ক্রিপ্টোকারেন্সি ওয়ালেটে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে। তুরস্কের আর্থিক অপরাধ তদন্ত বোর্ড, গোয়েন্দা সংস্থা ও পুলিশের অনুসন্ধানে চক্রটির কোম্পানিগুলোর মালিকানা এবং চূড়ান্ত সুবিধাভোগীদের মধ্যে ইসরায়েল-সংযুক্ত ব্যক্তিদের প্রাধান্য পাওয়ার তথ্য পাওয়া গেছে বলে জানিয়েছেন বিচারমন্ত্রী গুরলেক। তদন্তে ভুক্তভোগীদের কাছ থেকে পাওয়া শত শত অভিযোগ এবং ইন্টারপোলের মাধ্যমে সংগৃহীত তথ্যও বিশ্লেষণ করা হয়েছে। কর্তৃপক্ষের দাবি, চক্রটির সঙ্গে যুক্ত ব্যক্তিরা বিভিন্ন দেশে স্থানীয় ব্যবস্থাপনার জন্য লোক নিয়োগ করতেন। কোম্পানি নিবন্ধন, মানবসম্পদ ব্যবস্থাপনা ও হিসাবরক্ষণসহ সাংগঠনিক কাজ পরিচালনার জন্য এসব ব্যক্তিকে দায়িত্ব দেওয়া হতো। এরপর লক্ষ্য করা দেশের বাইরে কল সেন্টার স্থাপন করে সেখান থেকে সম্ভাব্য বিনিয়োগকারীদের সঙ্গে যোগাযোগ করা হতো। তদন্তে আরও জানা গেছে, চক্রের কর্মীদের নির্দিষ্ট পরিচয় ও ছদ্মনাম ব্যবহার করতে বলা হতো। বিভিন্ন দেশের মানুষের সঙ্গে তাদের ভাষায় যোগাযোগ করে বিনিয়োগে আগ্রহী করে তোলাই ছিল মূল লক্ষ্য। ভুয়া লাভের হিসাব দেখিয়ে বিনিয়োগকারীদের আরও অর্থ জমা দিতে উৎসাহিত করা হতো বলে তদন্তকারীরা জানিয়েছেন। তুরস্কের কর্তৃপক্ষ বলছে, চক্রটি ইউরোপ, মধ্যপ্রাচ্য, এশিয়া ও আফ্রিকার বিভিন্ন দেশের মানুষকে লক্ষ্যবস্তু বানিয়েছিল। ভুক্তভোগীদের মধ্যে যুক্তরাজ্য, কানাডা, অস্ট্রেলিয়া, সংযুক্ত আরব আমিরাত, রাশিয়া, সিঙ্গাপুর, মালয়েশিয়া, চীন, সুইজারল্যান্ড, বেলজিয়াম, সুইডেন ও দক্ষিণ কোরিয়ার নাগরিকদের কথাও উল্লেখ করা হয়েছে। তদন্তে আরও জানা গেছে, দুই বছরে চক্রটির সঙ্গে সংশ্লিষ্ট লেনদেনের পরিমাণ প্রায় ১৩ বিলিয়ন তুর্কি লিরায় পৌঁছেছিল, যা প্রায় ২৬৬ মিলিয়ন ডলারের সমান। এই অর্থের একটি বড় অংশ অফিস পরিচালনা ও কর্মীদের বেতনসহ বিভিন্ন ব্যয়ের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট ছিল বলে কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে। অন্যদিকে ভুক্তভোগীদের কাছ থেকে নেওয়া অবৈধ অর্থের পরিমাণ ৩ বিলিয়ন ডলারের বেশি বলে তদন্তকারীদের দাবি। অভিযানে সন্দেহভাজনদের প্রায় ১ দশমিক ৫ বিলিয়ন তুর্কি লিরা মূল্যের সম্পদ জব্দ করা হয়েছে। এর মধ্যে যানবাহন, সম্পত্তি এবং বিভিন্ন আর্থিক ও ক্রিপ্টো সম্পদের হিসাব রয়েছে বলে তুরস্কের কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে। অভিযানের পরও চক্রটির সঙ্গে সংশ্লিষ্ট আরও কয়েকজনকে ধরতে অভিযান অব্যাহত রয়েছে। তুরস্কের বিচার মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, অভিযানটি দেশটির গোয়েন্দা সংস্থা এমআইটি, পুলিশ, সাইবার অপরাধ দমন ইউনিট, আর্থিক অপরাধ তদন্ত বোর্ড এবং ইন্টারপোলের সমন্বয়ে পরিচালিত হয়েছে। তদন্ত এখনো চলছে। আটক ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে অভিযোগের বিষয়ে আদালতের পরবর্তী কার্যক্রমের মধ্য দিয়ে মামলার আইনি প্রক্রিয়া এগিয়ে যাবে। সূত্র: তুরস্কের বিচার মন্ত্রণালয়, আনাদোলু এজেন্সি, রয়টার্স
যুক্তরাজ্যের ৪৬ বছর বয়সী ব্যবসায়ী মার্টিন কুরান্ট সবসময় সুন্দর ও নিখুঁত হাসির স্বপ্ন দেখতেন। আর সেই স্বপ্ন পূরণ করতে গিয়েই তার জীবনে নেমে এসেছে এক ভয়াবহ অন্ধকার। দাঁতের চিকিৎসার জন্য তুরস্কে গিয়ে অন্তত ৩৩ হাজার পাউন্ড বাঁচানোর কথা ভেবেছিলেন তিনি। কিন্তু চিকিৎসার মাত্র তিন মাস পরই তাকে মৃত্যুর মুখোমুখি হতে হয়। সাইনাসের সংক্রমণ মস্তিষ্কে ছড়িয়ে পড়ায় তাকে ৫টি ঝুঁকিপূর্ণ ব্রেন সার্জারির মধ্য দিয়ে যেতে হয় এবং কাটাতে হয় দীর্ঘ সময় হুইলচেয়ারে। এখন তাকে নতুন করে হাঁটা ও কথা বলা শিখতে হচ্ছে। মার্টিনের দাঁতের মাড়িতে দীর্ঘদিনের রোগ ছিল, যার ফলে ১৫টি দাঁত মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছিল। যুক্তরাজ্যের এক ডেন্টিস্ট তাকে চিকিৎসার জন্য প্রায় ৪০ হাজার পাউন্ড খরচ হওয়ার কথা জানান। এরপর অনলাইনে খোঁজখবর নিয়ে তিনি তুরস্কের ইস্তাম্বুলে অবস্থিত 'লেমা ডেন্টাল ক্লিনিক'-এর সাথে যোগাযোগ করেন, যারা মাত্র ৬ হাজার ৪০০ পাউন্ডে এই চিকিৎসা দিতে রাজি হয়। মার্টিনের দাবি, হোয়াটসঅ্যাপে শুধু মুখের ছবি দেখেই মাত্র ৪৭ মিনিটের মধ্যে ক্লিনিকটি তাকে একটি চিকিৎসা পরিকল্পনা পাঠিয়ে দেয়। কোনো শারীরিক পরীক্ষা ছাড়াই ২০২৪ সালের মে মাসে ইস্তাম্বুলে গিয়ে তিনি প্রথম ধাপের চিকিৎসা নেন। চিকিৎসার আগে মার্টিন ক্লিনিক কর্তৃপক্ষকে জানিয়েছিলেন যে, তার একটি দাঁতের ওপর এক বছর ধরে পুঁজ বা ফোঁড়া (অ্যাবসেস) রয়েছে। তার আইনি অভিযোগে বলা হয়েছে, ক্লিনিক থেকে তাকে আশ্বস্ত করা হয়েছিল যে এটি কোনো সমস্যা নয়। কিন্তু আগস্ট মাসের দিকে তিনি গুরুতর অসুস্থ হয়ে পড়েন। তার নাক দিয়ে তরল ঝরতে শুরু করে এবং মুখমণ্ডল আংশিক বেঁকে যায়। ৩১ আগস্ট মারাত্মক খিঁচুনি হওয়ার পর তিনি জ্ঞান হারান। হাসপাতালে এমআরআই স্ক্যানে দেখা যায়, তার মাথার খুলির স্তরের মাঝে প্রাণঘাতী পুঁজ জমেছে। জরুরি ভিত্তিতে তার মস্তিষ্কে একাধিক অস্ত্রোপচার করা হয় এবং মাথার খুলির একাংশ সাময়িকভাবে সরিয়ে ফেলতে হয়। ডাক্তাররা জানিয়েছিলেন, তিনি যে বেঁচে ফিরেছেন সেটাই বড় বিস্ময়। মৃত্যুর মুখ থেকে ফিরলেও মার্টিন এখন 'অ্যাফাসিয়া' নামক জটিল স্নায়বিক রোগে ভুগছেন, যার ফলে তার কথা বলা, লেখা ও বোঝার ক্ষমতা মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। নিজের লাভজনক ব্যবসা বিক্রি করে দিয়ে এখন তিনি পুরোপুরি ভাতা ও অন্যের ওপর নির্ভরশীল। যুক্তরাজ্যে কোনো ডেন্টিস্ট এখন তার অসমাপ্ত চিকিৎসার দায়িত্ব নিতেও রাজি হচ্ছেন না। অন্যদিকে, তুরস্কের লেমা ডেন্টাল ক্লিনিক চিকিৎসায় অবহেলার সব অভিযোগ সম্পূর্ণ অস্বীকার করেছে। ক্লিনিকটির দাবি, তারা সব নিয়ম মেনেই চিকিৎসা করেছে এবং মার্টিনের বর্তমান অবস্থার জন্য তাদের চিকিৎসা কোনোভাবেই দায়ী নয়। ক্ষতিপূরণ চেয়ে আইনি লড়াই চালিয়ে যাওয়া মার্টিন এখন অন্যদের সতর্ক করে বলছেন, "এমন ভুল কেউ করবেন না, আমি প্রায় মরেই গিয়েছিলাম।"
তুরস্কের ঐতিহাসিক শহর মারদিন ভ্রমণে গিয়ে ইসলাম গ্রহণ করেছেন দক্ষিণ কোরিয়ার পর্যটক শায়েভন। ইসলাম গ্রহণের পর তিনি ‘আবদুল্লাহ’ নাম বেছে নিয়েছেন। মঙ্গলবার, ১৫ সেপ্টেম্বর তাঁর ইসলাম গ্রহণের বিষয়টি নিশ্চিত করেছে মারদিনের আরতুকলু জেলা মুফত কার্যালয়। দক্ষিণ-পূর্ব তুরস্কের মারদিন শহরটি ঐতিহাসিক স্থাপনা ও বহু শতাব্দীর সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যের জন্য পরিচিত। ভ্রমণের উদ্দেশ্যে শহরটিতে আসা শায়েভন ইসলাম সম্পর্কে জানার পর নিজ ইচ্ছায় মুসলিম হওয়ার সিদ্ধান্ত নেন বলে আরতুকলু জেলা মুফত কার্যালয়ের বিবৃতিতে জানানো হয়েছে। পরে শায়েভনের জন্য আরতুকলু জেলা মুফত কার্যালয়ে ইসলাম গ্রহণের আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন করা হয়। অনুষ্ঠানে আরতুকলু জেলা মুফতি সুলেমান বারান উপস্থিত ছিলেন এবং ইসলাম ধর্মের মৌলিক বিষয়গুলো সম্পর্কে তাঁকে জানানো হয়। এরপর শায়েভন কালেমা শাহাদাত পাঠ করেন এবং মুসলিম হন। ইসলাম গ্রহণের পর তিনি আবদুল্লাহ নামটি গ্রহণ করেন। অনুষ্ঠানের শেষে মুফতি সুলেমান বারান তাঁর হাতে পবিত্র কোরআনের একটি কপি তুলে দেন। তুরস্কের সংবাদমাধ্যম দেমিরোরেন নিউজ এজেন্সির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, নতুন নাম গ্রহণের পর শায়েভন মুফতি বারানের সঙ্গে আলিঙ্গন করে নিজের আনন্দ প্রকাশ করেন। মারদিন তুরস্কের এমন একটি শহর, যার স্থাপত্য ও সাংস্কৃতিক পরিচয়ে বিভিন্ন সভ্যতার প্রভাব রয়েছে। শহরটির ঐতিহাসিক স্থাপনা ও সাংস্কৃতিক বৈচিত্র্যের কারণে তুরস্কসহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশ থেকে পর্যটকেরা এখানে আসেন। শায়েভনের ইসলাম গ্রহণের খবরটি মারদিনের স্থানীয় সংবাদমাধ্যম ও তুরস্কের ধর্মবিষয়ক সংবাদমাধ্যমে প্রকাশিত হয়েছে। তবে তাঁর ব্যক্তিগত জীবন, ইসলাম সম্পর্কে আগ্রহ তৈরির নির্দিষ্ট কারণ বা কতদিন ধরে তিনি এ বিষয়ে জানাশোনা করছিলেন, সে বিষয়ে প্রকাশিত প্রতিবেদনে বিস্তারিত তথ্য পাওয়া যায়নি। সূত্র: আনাদোলু এজেন্সি, দেমিরোরেন নিউজ এজেন্সি।
তুরস্কে এলজিবিটিকিউ সম্প্রদায় ও অধিকারকর্মীদের বিরুদ্ধে চলমান অভিযানের মধ্যে নতুন করে কয়েক ডজন মানুষকে আটক করেছে পুলিশ। মঙ্গলবার ইস্তাম্বুলের প্রধান আদালতের বাইরে সমাবেশ করতে জড়ো হওয়া ব্যক্তিদের আটক করা হয়। এর একদিন আগে দেশটির বিভিন্ন এলাকায় এলজিবিটিকিউ অধিকারকর্মী, সংগঠন ও সংশ্লিষ্ট ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে অভিযান চালানো হয়েছিল। মঙ্গলবারের সমাবেশে অংশ নেওয়া ব্যক্তিরা আগের অভিযানে আটক হওয়া অধিকারকর্মীদের মুক্তির দাবি জানাচ্ছিলেন। বার্তা সংস্থা এএফপির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বিক্ষোভকারীরা স্বাধীনতার পক্ষে স্লোগান দেন। কয়েকজন বিক্ষোভকারী ‘এলজিবিটিকিউ হওয়া অপরাধ নয়’ লেখা একটি ব্যানারও প্রদর্শন করেন। এরপর পুলিশ কয়েকজনকে আটক করে। তুরস্কের সরকারের পক্ষ থেকে সাম্প্রতিক অভিযানকে ‘আমার পরিবার নিরাপদ’ নামে একটি কর্মসূচির অংশ হিসেবে বর্ণনা করা হয়েছে। সরকারের ভাষ্য, এই উদ্যোগের লক্ষ্য পারিবারিক মূল্যবোধ রক্ষা করা। তবে মানবাধিকার সংগঠনগুলো বলছে, সাম্প্রতিক সময়ে এলজিবিটিকিউ সম্প্রদায় ও তাদের সংগঠনগুলোর ওপর চাপ বাড়ানো হয়েছে। গত সপ্তাহে তুরস্কের বিভিন্ন প্রদেশে এলজিবিটিকিউ সংগঠনের কার্যালয়, সমকামীদের জন্য পরিচালিত বার এবং অধিকারকর্মীদের বাড়িতে অভিযান চালানো হয়। এসব অভিযানে কয়েক ডজন মানুষকে আটক করা হয়েছে বলে বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম জানিয়েছে। কিছু সংগঠন ও গণমাধ্যমের ওয়েবসাইট এবং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের হিসাবেও প্রবেশাধিকার সীমিত বা বন্ধ করা হয়েছে বলে মানবাধিকার সংস্থাগুলো জানিয়েছে। তুরস্কের বিচারমন্ত্রী আকিন গুরলেকের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, ‘আমার পরিবার নিরাপদ’ অভিযানের আওতায় ১৫টি প্রদেশে ১৬২ ব্যক্তি, নয়টি সংগঠন এবং ১৩টি ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানকে কেন্দ্র করে আইনি কার্যক্রম চলছে। ইস্তাম্বুল, আঙ্কারা, ইজমির, আইদিন ও মেরসিনের প্রধান কৌঁসুলিদের কার্যালয়ের সমন্বয়ে অভিযান পরিচালিত হচ্ছে বলে ইউরোপ কাউন্সিলের মানবাধিকার কমিশনারের কার্যালয় জানিয়েছে। তুরস্ক সরকার এসব কার্যক্রমের ক্ষেত্রে বিভিন্ন অভিযোগের তদন্তের কথা জানিয়েছে। এর মধ্যে যৌন ব্যবসায় সহায়তা, অশ্লীল উপকরণ তৈরি বা বিতরণ এবং শিশুদের এ ধরনের উপকরণের সংস্পর্শে আনার অভিযোগও রয়েছে বলে প্রকাশিত প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। একই সঙ্গে এলজিবিটিকিউ সংগঠনগুলোর বিদেশি ও সরকারি উৎস থেকে পাওয়া অর্থায়ন নিয়েও তদন্তের কথা বলা হয়েছে। তবে এই অভিযানের পর ইউরোপ কাউন্সিলের মানবাধিকার কমিশনার মাইকেল ও’ফ্লাহার্টি উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। ১৫ সেপ্টেম্বর প্রকাশিত এক বিবৃতিতে তিনি এলজিবিটিকিউ নাগরিক সংগঠন ও মানবাধিকারকর্মীদের লক্ষ্য করে গ্রেপ্তার, অভিযান এবং ওয়েবসাইট ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের হিসাব বন্ধের প্রতিবেদনে উদ্বেগ জানান। ও’ফ্লাহার্টি বলেন, শান্তিপূর্ণভাবে অধিকার নিয়ে কাজ করা বা বৈষম্যহীনতার পক্ষে অবস্থান নেওয়া নিজে অপরাধ হিসেবে বিবেচিত হওয়ার কথা নয়। তাঁর বক্তব্য অনুযায়ী, কোনো ব্যক্তির পরিচয়, সংগঠনের সঙ্গে সম্পৃক্ততা, শান্তিপূর্ণ কর্মকাণ্ড বা বৈধ অর্থায়ন পাওয়ার কারণে নয়, বরং স্বীকৃত অপরাধের বিষয়ে নির্দিষ্ট প্রমাণের ভিত্তিতে তদন্ত ও আটক হওয়া উচিত। তিনি আরও বলেন, আটক ব্যক্তিদের আইনগত সহায়তা পাওয়ার সুযোগ, বিচারিক পর্যালোচনা এবং ন্যায়বিচারের অধিকার নিশ্চিত করা প্রয়োজন। একই সঙ্গে যেকোনো বিধিনিষেধ আইনসম্মত, প্রয়োজনীয় ও আনুপাতিক হওয়া উচিত বলে উল্লেখ করেন তিনি। তুরস্কে সমলিঙ্গের সম্পর্ক নিজে অপরাধ হিসেবে নিষিদ্ধ নয়। তবে দেশটিতে এলজিবিটিকিউ অধিকার নিয়ে দীর্ঘদিন ধরেই রাজনৈতিক ও সামাজিক বিতর্ক রয়েছে। প্রেসিডেন্ট রিসেপ তাইয়েপ এরদোয়ান অতীতে এলজিবিটিকিউ সম্প্রদায়কে নিয়ে কঠোর মন্তব্য করেছেন এবং জনসংখ্যা ও পারিবারিক মূল্যবোধের আলোচনায় এ বিষয়টি তুলে ধরেছেন। সাম্প্রতিক অভিযানের পর অধিকার সংগঠনগুলোর উদ্বেগের কেন্দ্রবিন্দু এখন আটক ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে কী ধরনের আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে এবং সংগঠন ও অধিকারকর্মীদের কর্মকাণ্ডে নতুন কোনো বিধিনিষেধ আরোপ করা হবে কি না। ইউরোপ কাউন্সিলের মানবাধিকার কমিশনারের কার্যালয় জানিয়েছে, তারা পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ অব্যাহত রাখবে। মঙ্গলবারের বিক্ষোভ ও আটকের ঘটনায় তুরস্কে এলজিবিটিকিউ অধিকার, মতপ্রকাশ এবং শান্তিপূর্ণ সমাবেশের অধিকার নিয়ে নতুন করে আন্তর্জাতিক আলোচনা শুরু হয়েছে। তবে চলমান তদন্ত ও আইনি প্রক্রিয়া শেষ হওয়ার আগে আটক ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে আনা অভিযোগের বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্তে পৌঁছানো হয়নি। সূত্র: বিবিসি, ইউরোপ কাউন্সিলের মানবাধিকার কমিশনারের কার্যালয়, এএফপি।
তুরস্কের হাতায় প্রদেশের ইস্কেন্দেরুনে অ্যাসিড হামলায় মুখ ও ডান চোখের গুরুতর ক্ষতির শিকার হয়েছিলেন বারফিন ওজেক। হামলার প্রায় দুই বছর পর ২০২১ সালের ডিসেম্বরে তিনি সেই সাবেক প্রেমিক কাসি ওজান চেলতিককেই বিয়ে করেন, যিনি তার মুখে অ্যাসিড নিক্ষেপের ঘটনায় ১৩ বছর ৬ মাসের কারাদণ্ড পেয়েছিলেন। বিয়ের খবর প্রকাশ্যে আসার পর তুরস্কসহ বিভিন্ন দেশে ঘটনাটি নিয়ে ব্যাপক আলোচনা ও বিতর্ক তৈরি হয়। ঘটনাটি ঘটে ২০১৯ সালের ১৫ জানুয়ারি। ১৯ বছর বয়সী বারফিন একটি কোচিং সেন্টার থেকে বাড়ি ফেরার সময় তার কিছুদিন আগে বিচ্ছেদ হওয়া প্রেমিক কাসিম ওজান চেলতিকের অ্যাসিড হামলার শিকার হন। হামলায় তার মুখে গুরুতর দগ্ধের চিহ্ন তৈরি হয়। চিকিৎসার পরও মুখে স্থায়ী ক্ষতচিহ্ন থেকে যায় এবং তিনি ডান চোখের দৃষ্টিশক্তি হারান। চোখের পাতা ও ঠোঁটেও পরবর্তী সময়ে অস্ত্রোপচার করা হয়। হামলার পর চেলতিককে গ্রেপ্তার করা হয় এবং আদালতে তাকে ইচ্ছাকৃতভাবে আহত করার অপরাধে ১৩ বছর ৬ মাসের কারাদণ্ড দেওয়া হয়। কিন্তু মামলার পরবর্তী পর্যায়ে বারফিন তার বিরুদ্ধে করা অভিযোগ প্রত্যাহার করে নেন। ২০২০ সালের এপ্রিলে তিনি আদালতে এ বিষয়ে আবেদন করেছিলেন। পরে নিজের সিদ্ধান্তের জন্য অনুতপ্ত হওয়ার কথাও জানিয়েছিলেন এবং সে সময় তিনি গভীর মানসিক ট্রমার মধ্যে ছিলেন বলে তুরস্কের সংবাদমাধ্যমগুলোতে প্রকাশিত হয়। এরপর মামলার শেষ পর্যায়ে চেলতিককে মুক্তি দেওয়া হয়। বারফিন ও চেলতিকের মধ্যে আবার সম্পর্ক তৈরি হয় এবং তারা বিয়ের সিদ্ধান্ত নেন। ২০২১ সালের ১২ ডিসেম্বর হাতায়ের কুমলু জেলার একটি বিবাহ নিবন্ধন কার্যালয়ে তাদের বিয়ে সম্পন্ন হয়। সেই বিয়ের খবর ও ছবি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর বিষয়টি নতুন করে আলোচনায় আসে। ঘটনার সবচেয়ে আলোচিত দিক ছিল, যে ব্যক্তির হামলায় বারফিন গুরুতরভাবে আহত হয়েছিলেন এবং দৃষ্টিশক্তি হারিয়েছিলেন, পরবর্তী সময়ে তাকেই তিনি জীবনসঙ্গী হিসেবে বেছে নেন। এ সিদ্ধান্ত নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক প্রতিক্রিয়া দেখা যায়। কেউ তার ব্যক্তিগত সিদ্ধান্তের প্রতি সম্মান দেখানোর কথা বলেন, আবার অনেকে এমন সম্পর্কের পেছনে মানসিক ও সামাজিক প্রভাব নিয়ে প্রশ্ন তোলেন। বারফিনের বাবা ইয়াশার ওজেকও সংবাদমাধ্যমকে জানিয়েছিলেন যে তিনি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের মাধ্যমে বিয়ের খবর জানতে পেরেছিলেন এবং এই বিয়েতে তিনি সম্মতি দেননি। গার্হস্থ্য সহিংসতার ক্ষেত্রে ভুক্তভোগীর সম্পর্ক থেকে বেরিয়ে আসার সিদ্ধান্ত সবসময় সরল বা তাৎক্ষণিক হয় না। ভয়, মানসিক আঘাত, নির্ভরশীলতা, সামাজিক চাপ, অপরাধীর ওপর আবেগগত টান এবং সম্পর্কের জটিলতা একজন ভুক্তভোগীর সিদ্ধান্তকে প্রভাবিত করতে পারে। তাই বাইরে থেকে কোনো সিদ্ধান্তকে সহজভাবে বিচার না করে সহিংসতার শিকার ব্যক্তির নিরাপত্তা, স্বাধীনতা ও প্রয়োজনীয় সহায়তাকে গুরুত্ব দেওয়ার ওপর জোর দেন বিশেষজ্ঞরা। বারফিনের ঘটনাটি একই সঙ্গে অ্যাসিড সহিংসতার ভয়াবহতাও সামনে আনে। অ্যাসিড হামলার শারীরিক ক্ষতি অনেক সময় চিকিৎসার পরও দীর্ঘস্থায়ী হয়। মুখের দাগ, দৃষ্টিশক্তি হারানো এবং একাধিক অস্ত্রোপচারের প্রয়োজনের পাশাপাশি ভুক্তভোগীকে দীর্ঘমেয়াদি মানসিক চাপের মধ্য দিয়েও যেতে হতে পারে। বারফিনের ক্ষেত্রেও হামলার পর মুখের গুরুতর ক্ষতি ও ডান চোখের দৃষ্টিশক্তি হারানোর বিষয়টি তুরস্কের একাধিক সংবাদমাধ্যমে উল্লেখ করা হয়েছে। ২০২১ সালে বিয়ের খবর প্রকাশের পর বারফিনের গল্প আন্তর্জাতিকভাবেও আলোচিত হয়। তবে ঘটনাটিকে শুধু একটি বিস্ময়কর বিয়ের গল্প হিসেবে দেখলে এর মূল বাস্তবতা আড়ালে পড়ে যায়। এর কেন্দ্রে রয়েছে একটি গুরুতর অ্যাসিড হামলা, দীর্ঘমেয়াদি শারীরিক ক্ষতি, একটি ফৌজদারি মামলা এবং পরবর্তী সময়ে ভুক্তভোগীর নেওয়া অত্যন্ত বিতর্কিত ব্যক্তিগত সিদ্ধান্ত। ঘটনাটি গার্হস্থ্য সহিংসতার পর ভুক্তভোগীদের সম্পর্ক, নিরাপত্তা ও মানসিক অবস্থাকে আরও গভীরভাবে বোঝার প্রয়োজনীয়তার কথাও সামনে আনে।
তুরস্কের মেরসিনের একদল তরুণ হাফেজের ওমরাহ পালনের আবেগঘন মুহূর্তের ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে। কাবা শরিফের সামনে গিয়ে আবেগে কেঁদে ফেলা এবং পরে তাওয়াফ শেষে কাবার দেয়াল স্পর্শ করতে পারার দৃশ্য দর্শকদেরও আবেগাপ্লুত করেছে। ঘটনাটি তুরস্কের মেরসিনে চালু হওয়া ‘হাফেজলার উমরেদে’ বা ‘হাফেজরা ওমরাহয়’ প্রকল্পের আওতায় পবিত্র ভূমিতে যাওয়া শিক্ষার্থীদের। মেরসিন প্রাদেশিক মুফতিশিপের সমন্বয়ে, তুরস্কের ধর্মবিষয়ক অধিদপ্তর এবং হজ ও ওমরাহ সেবা বিভাগের সহযোগিতা ও দাতাদের সহায়তায় প্রকল্পটি বাস্তবায়ন করা হয়। প্রকল্পের আওতায় অল্প সময়ের মধ্যে হিফজ সম্পন্ন করা ২০ জন সফল হাফেজ শিক্ষার্থীকে ওমরাহ পালনের সুযোগ দেওয়া হয়। তাদের মধ্যে কয়েকজন মাত্র ছয় মাস থেকে এক বছরের মধ্যে হিফজ সম্পন্ন করেছেন। একই সফরে মহানবী হজরত মুহাম্মদ (সা.)-এর জীবনভিত্তিক ‘ওমরাহ পুরস্কারপ্রাপ্ত যুব জ্ঞান প্রতিযোগিতা’য় ভালো ফল করা আরও চারজন শিক্ষার্থীও অংশ নেয়। মক্কায় পৌঁছে কাবা শরিফের সামনে দাঁড়ানোর পর শিক্ষার্থীদের মধ্যে তৈরি হয় গভীর আবেগ। তুরস্কের ইমাম-হাতিপ শিক্ষক ও প্রকল্পের সঙ্গে যুক্ত মুহাম্মদ দোগাচ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে যে ভিডিও প্রকাশ করেন, সেখানে কয়েকজন ছোট হাফেজকে কাবা শরিফের দিকে তাকিয়ে আবেগাপ্লুত হতে দেখা যায়। ভিডিওর সবচেয়ে আলোচিত মুহূর্তগুলোর একটিতে দেখা যায়, কাবা শরিফের দেয়াল স্পর্শ করতে না পেরে এক শিশু হাফেজ কাঁদছে। পরে তাওয়াফ শেষ করার পর কাবার দেয়াল স্পর্শ করার সুযোগ পেলে তার আবেগ আরও স্পষ্ট হয়ে ওঠে। শিশুটির চোখের পানি ও কাবা স্পর্শ করার মুহূর্তটি ভিডিওটি দেখেছেন এমন অনেকের মন ছুঁয়ে যায়। মেরসিনের এই উদ্যোগের মূল লক্ষ্য ছিল তরুণদের কোরআন এবং মহানবী (সা.)-এর আদর্শ জীবনের সঙ্গে আরও গভীরভাবে যুক্ত করা। একই সঙ্গে তাদের ধর্মীয় ও নৈতিক শিক্ষাকে বাস্তব অভিজ্ঞতার সঙ্গে যুক্ত করে আত্মিক বিকাশে সহায়তা করাও প্রকল্পটির অন্যতম উদ্দেশ্য। ওমরাহ সফরের সময় শিক্ষার্থীরা মক্কা ও মদিনার বিভিন্ন পবিত্র স্থান পরিদর্শনের পাশাপাশি বিভিন্ন ধর্মীয় ও সাংস্কৃতিক কার্যক্রমে অংশ নেয়। মদিনায় মসজিদে নববীতেও তাদের শেষ পাঠ অনুষ্ঠিত হয় বলে তুরস্কের ধর্মবিষয়ক সংবাদমাধ্যম জানিয়েছে। মেরসিনের মুফতি মুস্তাফা তোপাল এই উদ্যোগে সহযোগিতা করা তুরস্কের ধর্মবিষয়ক অধিদপ্তর, হজ ও ওমরাহ সেবা বিভাগ, স্থানীয় মুফতিশিপ, দাতাদের এবং প্রকল্পের সমন্বয়ক মুহাম্মদ দোগাচের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানিয়েছেন। প্রকল্প সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, এ ধরনের উদ্যোগ তরুণদের ধর্মীয় শিক্ষার প্রতি আগ্রহ বাড়ানোর পাশাপাশি তাদের জন্য দীর্ঘস্থায়ী একটি আত্মিক অভিজ্ঞতা তৈরি করতে পারে। কাবা শরিফের সামনে ছোট্ট হাফেজদের সেই আবেগঘন মুহূর্তের ভিডিওটি ১২ সেপ্টেম্বর তুরস্কের সংবাদমাধ্যমে প্রকাশের পর অনলাইনে ব্যাপকভাবে ছড়িয়ে পড়ে। ধর্মীয় অনুভূতি, শিশুদের সরল আবেগ এবং দীর্ঘদিনের হিফজ সম্পন্ন করার পর পবিত্র কাবা দেখার সুযোগ একসঙ্গে মিলে ঘটনাটিকে বিশেষভাবে আলোচিত করে তুলেছে।
তুরস্কে এলজিবিটিকিউ+ (LGBTQ+) এবং এইচআইভি সহায়তা নিয়ে কাজ করা বিভিন্ন অধিকার গোষ্ঠী ও ব্যক্তিদের ওপর সাঁড়াশি অভিযান চালিয়েছে দেশটির পুলিশ। রোববার ভোরে ইস্তাম্বুল, আঙ্কারা, ইজমির, আয়দিন এবং মেরসিনের মতো বড় শহরগুলোতে একযোগে এই তল্লাশি চালানো হয়। অভিযানের সময় পুলিশ বিভিন্ন সংগঠনের কার্যালয় ও জনপ্রিয় আড্ডাস্থলগুলোতে হানা দিয়ে বহু সদস্যকে আটক করেছে। নির্বাচনকে সামনে রেখে গত এক দশক ধরে এলজিবিটিকিউ গোষ্ঠীগুলোর ওপর যে বৈরিতা চলে আসছে, এই অভিযান তারই একটি বড় বহিঃপ্রকাশ। অভিযানের পাশাপাশি অধিকার গোষ্ঠীগুলোর ওয়েবসাইটও ব্লক করে দেওয়া হয়েছে। এই অভিযানের বিষয়ে তুরস্কের বিচারমন্ত্রী আকিন গুরলেক সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে জানান, প্রেসিডেন্ট রিসেপ তাইয়েপ এরদোগানের পরিবার ও শিশু বিষয়ক দশ বছর মেয়াদি নির্বাহী আদেশের সাথে সামঞ্জস্য রেখেই এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। তিনি বলেন, সংবিধান অনুযায়ী পরিবার ও শিশুদের রক্ষা করা রাষ্ট্রের প্রধান দায়িত্ব এবং শিশু, তরুণ বা পরিবারকে লক্ষ্য করে কোনো অপরাধমূলক বা অবৈধ কার্যক্রম কখনোই সহ্য করা হবে না। এই অভিযানে ১৬২ জন সন্দেহভাজন, ৯টি সংগঠন এবং ১৩টি ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানকে তদন্তের আওতায় আনা হয়েছে। এছাড়া এসব সংগঠন আন্তর্জাতিক বিভিন্ন সংস্থা থেকে বিপুল পরিমাণ তহবিল গ্রহণ করেছে বলেও তিনি উল্লেখ করেন। মানবাধিকার সংগঠনগুলো এই অভিযানের তীব্র নিন্দা জানিয়েছে। হিউম্যান রাইটস অ্যাসোসিয়েশনের মতে, এটি কোনো আইনি তদন্ত নয়, বরং পরিবার ও শিশুদের সুরক্ষার আড়ালে পুরো সমাজকে একটি নির্দিষ্ট ছাঁচে ফেলার রাজনৈতিক অপচেষ্টা। অপরাধমূলক সংগঠন গঠন, মাদক বা পতিতাবৃত্তির মতো ভিত্তিহীন অভিযোগ এনে পুরো সম্প্রদায়কে অপরাধী বানানোর চেষ্টা করা হচ্ছে বলে দাবি করেছে তারা। ২০১৫ সালে ইস্তাম্বুল প্রাইড নিষিদ্ধ করার পর থেকেই তুরস্কের ধর্মীয় রক্ষণশীল একে পার্টি তাদের ভোটারদের সন্তুষ্ট করতে এলজিবিটিকিউ গোষ্ঠীর ওপর ক্রমশ চাপ বাড়িয়ে চলেছে। এমনকি সম্প্রতি ভূমধ্যসাগরে ভ্রমণরত একটি এলজিবিটিকিউ প্রমোদতরীকেও তুরস্কের বন্দরে নোঙর করার অনুমতি দেওয়া হয়নি।
তুরস্কের ইস্তাম্বুলের ৪৫ বছর বয়সী দুই সন্তানের বাবা আলী চিফচি জন্মদিনে বাড়িতে ঢোকা এক চোরের সঙ্গে ধস্তাধস্তির সময় তৃতীয় তলার জানালা থেকে পড়ে গুরুতর আহত হন। এতে তার মাথার খুলির প্রায় ৮৩ শতাংশ ক্ষতিগ্রস্ত হয়। চিকিৎসকেরা অস্ত্রোপচার ও দীর্ঘ চিকিৎসার মাধ্যমে বিশেষ প্রযুক্তিতে তার খুলির বড় অংশ পুনর্গঠন করেন। ঘটনার পর আলী মাসের পর মাস আইসিইউতে ছিলেন। পরবর্তী দুই বছরেও তাকে একাধিক জটিল অস্ত্রোপচারের মধ্য দিয়ে যেতে হয়। আলীর ভাষ্য অনুযায়ী, চিকিৎসকেরা তখন তার বেঁচে থাকার সম্ভাবনা মাত্র ১০ শতাংশ বলে জানিয়েছিলেন। দীর্ঘ চিকিৎসার পর তার মাথার খুলির ক্ষতিগ্রস্ত অংশ পুনর্গঠনে ব্যবহার করা হয় বিশেষভাবে তৈরি টাইটানিয়ামের অংশ। এগুলো তৈরি করা হয়েছিল তুরস্কের হেলথ সায়েন্সেস ইউনিভার্সিটির গুলহানে ট্রেনিং অ্যান্ড রিসার্চ হাসপাতালের মেডিকেল ডিজাইন অ্যান্ড প্রোডাকশন সেন্টারে। চিকিৎসকেরা জানান, দুর্ঘটনার পর আলীর কথা বলা, স্মৃতি, ভারসাম্য ও হাঁটার মতো গুরুত্বপূর্ণ কিছু শারীরিক সক্ষমতায় গুরুতর সমস্যা দেখা দিয়েছিল। খুলির পুনর্গঠনের পর এসব স্নায়বিক সমস্যার প্রায় ৯০ শতাংশের উন্নতি হয় বলে চিকিৎসকরা জানিয়েছেন। দুর্ঘটনাটি ঘটে আলীর জন্মদিনে। বাড়িতে ঢোকা চোরকে আটকাতে গিয়ে দুজনের মধ্যে ধস্তাধস্তি শুরু হয়। একপর্যায়ে তারা তৃতীয় তলার জানালা দিয়ে নিচে পড়ে যান। আলী নিচে পড়ে গুরুতর আহত হন, আর চোর তার ওপর পড়ে পরে পালিয়ে যায় বলে আলী জানিয়েছেন। দুই বছর চিকিৎসার পর আলীর মাথার আকৃতি অনেকটাই স্বাভাবিক অবস্থায় ফিরিয়ে আনা সম্ভব হয়। পরবর্তীতে তিনি আবার স্বাভাবিক জীবনে ফিরে কাজও শুরু করেন। আলীর ঘটনা দেখিয়েছে, গুরুতর মাথার আঘাতের চিকিৎসায় আধুনিক মেডিকেল ডিজাইন ও টাইটানিয়াম ইমপ্লান্ট কীভাবে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে। তার ক্ষেত্রে চিকিৎসা ও প্রযুক্তির সমন্বয় ক্ষতিগ্রস্ত খুলির বড় অংশ পুনর্গঠনে সহায়তা করেছে।
ইস্তাম্বুলে ট্যাক্সিতে যাত্রা শেষে ভাড়া দিতে গিয়ে অপ্রত্যাশিত অভিজ্ঞতার মুখোমুখি হয়েছেন দুই ফিলিস্তিনি নারী। ট্যাক্সিচালক তাদের কাছ থেকে কোনো টাকা নিতে অস্বীকৃতি জানান। কারণ জানতে চাইলে তিনি তাদের সঙ্গে সংহতি প্রকাশ করে বলেন, ‘আমরা ভাই। আপনারা আমার বোন।’ দুই নারী ট্যাক্সি থেকে নামার সময় ভাড়া দেওয়ার চেষ্টা করেন। কিন্তু চালক টাকা নিতে রাজি হননি। বিষয়টি নিয়ে জানতে চাইলে তিনি তাদের নিজের বোনের মতো উল্লেখ করে ফিলিস্তিনিদের প্রতি সমর্থন ও সহমর্মিতার বার্তা দেন। ঘটনাটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর অনেকের দৃষ্টি আকর্ষণ করেছে। অল্প সময়ের এই ঘটনাকে অনেকে তুরস্ক ও ফিলিস্তিনের মানুষের মধ্যকার সামাজিক ও মানবিক সংহতির একটি ছোট্ট উদাহরণ হিসেবে দেখছেন। ফিলিস্তিনিদের সঙ্গে তুরস্কের জনগণের দীর্ঘদিনের সাংস্কৃতিক ও রাজনৈতিক ঘনিষ্ঠতা রয়েছে। ইস্তাম্বুলে বসবাসকারী ও ভ্রমণকারী ফিলিস্তিনিরাও বিভিন্ন সময়ে স্থানীয় মানুষের কাছ থেকে সমর্থন পাওয়ার কথা জানিয়েছেন। তবে ওই ট্যাক্সিচালকের পরিচয়, ঘটনাটি ঠিক কবে ঘটেছে এবং ভিডিও বা পোস্টটির মূল উৎস সম্পর্কে নির্ভরযোগ্য বিস্তারিত তথ্য প্রকাশ্যে পাওয়া যায়নি। ফলে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ঘটনাটির বাইরে অতিরিক্ত কোনো তথ্য নিশ্চিতভাবে বলা যাচ্ছে না।
সিগারেটের নেশা ছাড়তে তুরস্কের কুতাহিয়া প্রদেশের ইব্রাহিম ইউজেল ২০১৩ সালে নিয়েছিলেন অদ্ভুত এক কঠোর সিদ্ধান্ত। ২৬ বছর ধরে প্রতিদিন প্রায় দুই প্যাকেট সিগারেট খাওয়ার অভ্যাস ছাড়তে তিনি নিজের মাথার চারপাশে তামার তার দিয়ে তৈরি একটি খাঁচা পরতেন। খাঁচাটিতে তালা লাগিয়ে সেই চাবি স্ত্রী ও মেয়ের কাছে রেখে দিতেন, যাতে চাইলেও দিনের বেলা সহজে সিগারেট ধরাতে না পারেন। তখন ৪২ বছর বয়সী ইব্রাহিম একটি সরকারি প্রতিষ্ঠানে টেকনিশিয়ান হিসেবে কাজ করতেন। বহুবার সিগারেট ছাড়ার চেষ্টা করেও সফল হননি তিনি। নিজের ইচ্ছাশক্তির ওপর পুরোপুরি ভরসা করতে না পেরে শেষ পর্যন্ত এমন একটি ব্যবস্থা করার সিদ্ধান্ত নেন, যা তাকে সরাসরি সিগারেটের কাছে পৌঁছাতেই দেবে না। মোটরসাইকেলের হেলমেট দেখে ধারণাটি তার মাথায় আসে। সেই ধারণা থেকে তামার তার দিয়ে হেলমেটের মতো একটি খাঁচা তৈরি করেন তিনি। খাঁচাটিতে দুটি তালা ছিল এবং বাড়ি থেকে বের হওয়ার সময় একটি চাবি স্ত্রী ও অন্যটি মেয়ের কাছে দিয়ে যেতেন। ফলে ধূমপানের তীব্র ইচ্ছা হলেও নিজের হাতে তালা খুলে সিগারেট ধরানোর সুযোগ থাকত না। ইব্রাহিমের এই সিদ্ধান্তের পেছনে ছিল পারিবারিক একটি কঠিন অভিজ্ঞতাও। তার বাবা ধূমপানের কারণে ফুসফুসের ক্যানসারে আক্রান্ত হয়ে মারা যান। এরপরও নিজের দীর্ঘদিনের আসক্তি কাটিয়ে উঠতে না পারায় তিনি আরও কঠোরভাবে সিগারেট ছাড়ার সিদ্ধান্ত নেন। খাঁচা পরার প্রথম দিকে পরিবারের সদস্যরা বিষয়টি নিয়ে অবাক ও অস্বস্তিতে ছিলেন। তবে ইব্রাহিমের দৃঢ়তা দেখে পরে তার পরিবারও তাকে সমর্থন করতে শুরু করে। ২০১৩ সালের সংবাদ প্রতিবেদন অনুযায়ী, খাঁচাটি ব্যবহারের প্রথম কয়েক দিন তিনি সিগারেট না খেয়ে থাকার কথা জানিয়েছিলেন। ইব্রাহিমের এই অস্বাভাবিক উদ্যোগ তখন আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমে ব্যাপকভাবে আলোচিত হয়। ঘটনাটি মূলত দেখিয়েছিল, দীর্ঘদিনের নিকোটিন আসক্তি থেকে বেরিয়ে আসা কতটা কঠিন হতে পারে এবং তা থেকে মুক্তি পেতে একজন মানুষ কতটা মরিয়া হয়ে উঠতে পারেন। তবে মাথায় তালা দেওয়া খাঁচা কোনো নিরাপদ বা চিকিৎসাবিজ্ঞানে স্বীকৃত ধূমপান ছাড়ার পদ্ধতি নয়। যুক্তরাষ্ট্রের সেন্টারস ফর ডিজিজ কন্ট্রোল অ্যান্ড প্রিভেনশন ধূমপান ছাড়ার জন্য কাউন্সেলিং ও প্রমাণভিত্তিক ওষুধ ব্যবহারের পরামর্শ দেয়। নিকোটিন রিপ্লেসমেন্ট থেরাপি, যেমন নিকোটিন প্যাচ, গাম বা লজেন্স এবং চিকিৎসকের পরামর্শে নির্দিষ্ট ওষুধও ব্যবহার করা যেতে পারে। কাউন্সেলিং ও ওষুধ একসঙ্গে ব্যবহার করলে সফলভাবে ধূমপান ছাড়ার সম্ভাবনা আরও বাড়ে।
যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন। মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়। তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।” ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে। প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন। ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন। প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল। মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি। রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।
যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর আগস্ট ২০২৬ সালের ভিসা বুলেটিন প্রকাশ করেছে। নতুন এই আপডেটে পরিবারভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি দেখা গেছে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের স্থায়ী বাসিন্দাদের স্বামী, স্ত্রী ও সন্তানদের জন্য নির্ধারিত এফ২এ ক্যাটাগরিতে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এসেছে। নতুন ভিসা বুলেটিন অনুযায়ী, পরিবারভিত্তিক কয়েকটি ক্যাটাগরিতে অপেক্ষার সময় কমার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এর মধ্যে এফ২এ ক্যাটাগরির অগ্রগতি সবচেয়ে বেশি, যেখানে যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডধারীদের স্বামী-স্ত্রী ও অবিবাহিত সন্তানদের আবেদন অন্তর্ভুক্ত থাকে। এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের অবিবাহিত প্রাপ্তবয়স্ক সন্তানদের জন্য এফ১ ক্যাটাগরি এবং অন্যান্য পরিবারভিত্তিক ক্যাটাগরিতেও কিছু অগ্রগতি দেখা গেছে। তবে আবেদনকারীদের ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার তারিখ বা প্রায়োরিটি ডেট অনুযায়ীই পরবর্তী ধাপ নির্ধারণ হবে। ভিসা বুলেটিনে বলা হয়েছে, পরিবারভিত্তিক অভিবাসন ভিসার সংখ্যা প্রতিবছর নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে দেওয়া হয়। তাই কোনো ক্যাটাগরিতে চাহিদা বেশি হলে অপেক্ষার সময় বাড়তে পারে এবং কম হলে তারিখ এগিয়ে আসতে পারে। অন্যদিকে কর্মসংস্থানভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য পরিস্থিতি তুলনামূলক কঠিন রয়েছে। বিশেষ করে কিছু এমপ্লয়মেন্ট-বেসড ক্যাটাগরিতে দীর্ঘ অপেক্ষা ও সীমিত ভিসা সংখ্যার কারণে আবেদনকারীদের অনিশ্চয়তা অব্যাহত রয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ী বসবাসের জন্য আবেদনকারীদের কাছে ভিসা বুলেটিন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এই তালিকার মাধ্যমে জানা যায়, কোন আবেদনকারীরা গ্রিন কার্ডের পরবর্তী ধাপে এগিয়ে যেতে পারবেন এবং কারা এখনও অপেক্ষার তালিকায় থাকবেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, নতুন এই পরিবর্তন অনেক পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীর জন্য আশার খবর হলেও, প্রতিটি আবেদনকারীর পরিস্থিতি নির্ভর করবে তাদের আবেদন জমার তারিখ, দেশভিত্তিক সীমা এবং ভিসা ক্যাটাগরির ওপর। যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ব্যবস্থায় দীর্ঘদিন ধরে গ্রিন কার্ডের অপেক্ষার তালিকা বড় একটি বিষয় হয়ে আছে। নতুন ভিসা বুলেটিনে পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীদের জন্য অগ্রগতি দেখা গেলেও, সব আবেদনকারী একইভাবে সুবিধা পাবেন না।
২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো। প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে। এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে। অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে। স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে। সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে। সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।
যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে। এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন। নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি। উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।” বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে। এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে। শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়। উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত। এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।
যুক্তরাষ্ট্রের ফ্লোরিডা অঙ্গরাজ্যে প্রাণীর সঙ্গে যৌন কর্মকাণ্ডের ছবি বা ভিডিও ধারণ, বিতরণ ও সংরক্ষণের অভিযোগে গ্রেপ্তার হয়েছেন বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত রায়ান আবদুল বাতেন। তিনি বাংলাদেশের বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বুয়েট) তড়িৎ ও ইলেকট্রনিক প্রকৌশল বিভাগের সাবেক শিক্ষার্থী এবং যুক্তরাষ্ট্রের ইউনিভার্সিটি অব সাউথ ফ্লোরিডার সহকারী অধ্যাপক। হিলসবরো কাউন্টি শেরিফের কার্যালয়ের সরকারি ওয়েবসাইটে প্রকাশিত গ্রেপ্তারসংক্রান্ত তথ্য অনুযায়ী, গত ২৮ অক্টোবর ২০২৬ তারিখে তাঁকে গ্রেপ্তার করা হয়। প্রকাশিত রেকর্ডে তাঁর বিরুদ্ধে ‘Film, Distribute, or Possess Image or Video of Sexual Activity with an Animal’ শীর্ষক অভিযোগ উল্লেখ করা হয়েছে। অর্থাৎ, প্রাণীর সঙ্গে যৌন কর্মকাণ্ডের ছবি বা ভিডিও ধারণ, বিতরণ কিংবা নিজের কাছে রাখার অভিযোগে তাঁকে গ্রেপ্তার দেখানো হয়েছে। গ্রেপ্তারসংক্রান্ত সরকারি রেকর্ড প্রকাশের পর বিষয়টি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে। বিশেষ করে বুয়েটের সাবেক শিক্ষার্থী এবং যুক্তরাষ্ট্রের একটি বিশ্ববিদ্যালয়ের সহকারী অধ্যাপক হিসেবে তাঁর পরিচয়ের কারণে ঘটনাটি নিয়ে প্রবাসী বাংলাদেশিদের মধ্যেও আলোচনা তৈরি হয়েছে। এদিকে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রাণীটির পরিচয় সম্পর্কে বিভিন্ন দাবি ছড়িয়ে পড়লেও হিলসবরো কাউন্টি শেরিফের কার্যালয়ের প্রকাশিত গ্রেপ্তারসংক্রান্ত তথ্যে নির্দিষ্ট কোনো প্রাণীর নাম উল্লেখ করা হয়নি। ফলে ছাগলের সঙ্গে যৌন কর্মকাণ্ডের যে দাবি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে করা হচ্ছে, তা স্বাধীনভাবে নিশ্চিত হওয়া যায়নি। তথ্যসূত্র: হিলসবরো কাউন্টি শেরিফের কার্যালয় (Hillsborough County Sheriff’s Office), ফ্লোরিডা।