নিউ ইয়র্কে প্রাইভেট স্কুলে কর ছাড় সুবিধা, শিক্ষাব্যবস্থায় নতুন উদ্যোগ গভর্নর হোকুলের
যুক্তরাষ্ট্রের নিউ ইয়র্ক অঙ্গরাজ্যে শিক্ষার্থীদের জন্য নতুন সম্ভাবনার দ্বার খুলতে যাচ্ছে। শিক্ষা ব্যবস্থায় বড় ধরনের পরিবর্তনের ইঙ্গিত দিয়ে গভর্নর ক্যাথি হোকুল ফেডারেল সরকারের প্রাইভেট স্কুল ট্যাক্স ক্রেডিট প্রোগ্রামে যোগ দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। এর মাধ্যমে নিউ ইয়র্ক দ্বিতীয় ডেমোক্র্যাট-শাসিত অঙ্গরাজ্য হিসেবে এই কর্মসূচিতে যুক্ত হতে যাচ্ছে।
প্রস্তাবিত এই কর্মসূচির আওতায় করদাতারা নির্দিষ্ট শিক্ষা সহায়তা সংস্থায় অনুদান দিলে কেন্দ্রীয় কর থেকে সর্বোচ্চ ১ হাজার ৭০০ ডলার পর্যন্ত ছাড় পাবেন। এই অর্থ শিক্ষার্থীদের প্রাইভেট স্কুলের বেতন, টিউশনি, অতিরিক্ত শিক্ষাসহায়তা এবং অন্যান্য শিক্ষা ব্যয়ে ব্যবহার করা হবে।
বৃহস্পতিবার রাতে এক সভায় গভর্নর ক্যাথি হোকুল এই পরিকল্পনার ঘোষণা দেন। তিনি বলেন, এই উদ্যোগ নিউ ইয়র্কের শিক্ষার্থীদের জন্য গুরুত্বপূর্ণ সহায়তা তৈরি করতে পারে। তবে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়ার আগে শিক্ষা ব্যবস্থার ওপর সম্ভাব্য প্রভাব এবং প্রকল্পের বিভিন্ন দিক বিস্তারিতভাবে পর্যালোচনার নির্দেশ দিয়েছেন তিনি।
শিক্ষা খাত সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন সংগঠন গভর্নরের এই পদক্ষেপকে স্বাগত জানিয়েছে। তাদের মতে, কর্মসূচিটি বহু পরিবারের শিক্ষা ব্যয় কমাতে সহায়তা করবে এবং ধর্মীয় ও ব্যক্তিমালিকানাধীন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলো উপকৃত হবে।
তবে সমালোচকদের একাংশের আশঙ্কা, এই উদ্যোগ সরকারি শিক্ষা ব্যবস্থার ওপর পরোক্ষ চাপ সৃষ্টি করতে পারে। তাদের মতে, সরকারি স্কুল ব্যবস্থার বাইরে অর্থায়নের সুযোগ বাড়লে দীর্ঘমেয়াদে ভারসাম্যহীনতা তৈরি হতে পারে।
এর আগে গভর্নর হোকুল চার্টার স্কুল সম্প্রসারণের প্রস্তাব দিয়েছিলেন এবং সরকারি স্কুলগুলোর উন্নয়নে বড় বাজেট বরাদ্দ করেছিলেন। নতুন এই কর সুবিধা কর্মসূচিতে যুক্ত হওয়ার সিদ্ধান্তকে নিউ ইয়র্কের শিক্ষা ব্যবস্থায় নতুন নীতিগত পরিবর্তনের অংশ হিসেবে দেখা হচ্ছে।
© America Bangla | All Rights Reserved. আমেরিকা বাংলার পূর্বানুমতি ছাড়া এই প্রতিবেদনের লেখা, ছবি, গ্রাফিক্স বা অন্যান্য মৌলিক কনটেন্ট সম্পূর্ণ বা আংশিকভাবে কপি বা পুনঃপ্রকাশ করা নিষিদ্ধ। অনুমোদিত ব্যবহারের ক্ষেত্রে আমেরিকা বাংলা কে স্পষ্টভাবে সোর্স হিসেবে উল্লেখ করতে হবে।
যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন। মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়। তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।” ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে। প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন। ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন। প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল। মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি। রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।
যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর আগস্ট ২০২৬ সালের ভিসা বুলেটিন প্রকাশ করেছে। নতুন এই আপডেটে পরিবারভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি দেখা গেছে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের স্থায়ী বাসিন্দাদের স্বামী, স্ত্রী ও সন্তানদের জন্য নির্ধারিত এফ২এ ক্যাটাগরিতে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এসেছে। নতুন ভিসা বুলেটিন অনুযায়ী, পরিবারভিত্তিক কয়েকটি ক্যাটাগরিতে অপেক্ষার সময় কমার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এর মধ্যে এফ২এ ক্যাটাগরির অগ্রগতি সবচেয়ে বেশি, যেখানে যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডধারীদের স্বামী-স্ত্রী ও অবিবাহিত সন্তানদের আবেদন অন্তর্ভুক্ত থাকে। এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের অবিবাহিত প্রাপ্তবয়স্ক সন্তানদের জন্য এফ১ ক্যাটাগরি এবং অন্যান্য পরিবারভিত্তিক ক্যাটাগরিতেও কিছু অগ্রগতি দেখা গেছে। তবে আবেদনকারীদের ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার তারিখ বা প্রায়োরিটি ডেট অনুযায়ীই পরবর্তী ধাপ নির্ধারণ হবে। ভিসা বুলেটিনে বলা হয়েছে, পরিবারভিত্তিক অভিবাসন ভিসার সংখ্যা প্রতিবছর নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে দেওয়া হয়। তাই কোনো ক্যাটাগরিতে চাহিদা বেশি হলে অপেক্ষার সময় বাড়তে পারে এবং কম হলে তারিখ এগিয়ে আসতে পারে। অন্যদিকে কর্মসংস্থানভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য পরিস্থিতি তুলনামূলক কঠিন রয়েছে। বিশেষ করে কিছু এমপ্লয়মেন্ট-বেসড ক্যাটাগরিতে দীর্ঘ অপেক্ষা ও সীমিত ভিসা সংখ্যার কারণে আবেদনকারীদের অনিশ্চয়তা অব্যাহত রয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ী বসবাসের জন্য আবেদনকারীদের কাছে ভিসা বুলেটিন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এই তালিকার মাধ্যমে জানা যায়, কোন আবেদনকারীরা গ্রিন কার্ডের পরবর্তী ধাপে এগিয়ে যেতে পারবেন এবং কারা এখনও অপেক্ষার তালিকায় থাকবেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, নতুন এই পরিবর্তন অনেক পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীর জন্য আশার খবর হলেও, প্রতিটি আবেদনকারীর পরিস্থিতি নির্ভর করবে তাদের আবেদন জমার তারিখ, দেশভিত্তিক সীমা এবং ভিসা ক্যাটাগরির ওপর। যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ব্যবস্থায় দীর্ঘদিন ধরে গ্রিন কার্ডের অপেক্ষার তালিকা বড় একটি বিষয় হয়ে আছে। নতুন ভিসা বুলেটিনে পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীদের জন্য অগ্রগতি দেখা গেলেও, সব আবেদনকারী একইভাবে সুবিধা পাবেন না।
২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো। প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে। এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে। অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে। স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে। সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে। সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।
যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে। এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন। নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি। উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।” বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে। এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে। শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়। উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত। এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।
যুক্তরাষ্ট্রের ফ্লোরিডা অঙ্গরাজ্যে প্রাণীর সঙ্গে যৌন কর্মকাণ্ডের ছবি বা ভিডিও ধারণ, বিতরণ ও সংরক্ষণের অভিযোগে গ্রেপ্তার হয়েছেন বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত রায়ান আবদুল বাতেন। তিনি বাংলাদেশের বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বুয়েট) তড়িৎ ও ইলেকট্রনিক প্রকৌশল বিভাগের সাবেক শিক্ষার্থী এবং যুক্তরাষ্ট্রের ইউনিভার্সিটি অব সাউথ ফ্লোরিডার সহকারী অধ্যাপক। হিলসবরো কাউন্টি শেরিফের কার্যালয়ের সরকারি ওয়েবসাইটে প্রকাশিত গ্রেপ্তারসংক্রান্ত তথ্য অনুযায়ী, গত ২৮ অক্টোবর ২০২৬ তারিখে তাঁকে গ্রেপ্তার করা হয়। প্রকাশিত রেকর্ডে তাঁর বিরুদ্ধে ‘Film, Distribute, or Possess Image or Video of Sexual Activity with an Animal’ শীর্ষক অভিযোগ উল্লেখ করা হয়েছে। অর্থাৎ, প্রাণীর সঙ্গে যৌন কর্মকাণ্ডের ছবি বা ভিডিও ধারণ, বিতরণ কিংবা নিজের কাছে রাখার অভিযোগে তাঁকে গ্রেপ্তার দেখানো হয়েছে। গ্রেপ্তারসংক্রান্ত সরকারি রেকর্ড প্রকাশের পর বিষয়টি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে। বিশেষ করে বুয়েটের সাবেক শিক্ষার্থী এবং যুক্তরাষ্ট্রের একটি বিশ্ববিদ্যালয়ের সহকারী অধ্যাপক হিসেবে তাঁর পরিচয়ের কারণে ঘটনাটি নিয়ে প্রবাসী বাংলাদেশিদের মধ্যেও আলোচনা তৈরি হয়েছে। এদিকে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রাণীটির পরিচয় সম্পর্কে বিভিন্ন দাবি ছড়িয়ে পড়লেও হিলসবরো কাউন্টি শেরিফের কার্যালয়ের প্রকাশিত গ্রেপ্তারসংক্রান্ত তথ্যে নির্দিষ্ট কোনো প্রাণীর নাম উল্লেখ করা হয়নি। ফলে ছাগলের সঙ্গে যৌন কর্মকাণ্ডের যে দাবি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে করা হচ্ছে, তা স্বাধীনভাবে নিশ্চিত হওয়া যায়নি। তথ্যসূত্র: হিলসবরো কাউন্টি শেরিফের কার্যালয় (Hillsborough County Sheriff’s Office), ফ্লোরিডা।
আমেরিকা
View moreসৌদি আরবে ভয়াবহ সড়ক দুর্ঘটনায় নারী ও শিশুসহ সাত বাংলাদেশি নিহত হয়েছেন। শনিবার (৭ নভেম্বর) মদিনা থেকে জেদ্দায় যাওয়ার পথে মহাসড়কে এ মর্মান্তিক দুর্ঘটনা ঘটে। নিহত সাতজনের বাড়ি কক্সবাজারের চকরিয়া উপজেলায় বলে একাধিক সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে। জেদ্দায় বাংলাদেশ কনস্যুলেটের কর্মকর্তাদের বরাত দিয়ে প্রকাশিত সংবাদ অনুযায়ী, বাংলাদেশিরা একটি গাড়িতে করে মদিনা থেকে জেদ্দার দিকে যাচ্ছিলেন। পথে চালক গাড়ির নিয়ন্ত্রণ হারালে সেটি দুর্ঘটনার কবলে পড়ে। এতে গাড়িতে থাকা সাতজনই ঘটনাস্থলে প্রাণ হারান। নিহতদের পরিচয় সম্পর্কে আল আবীর কোল্ড স্টোর ট্রেডিং কোম্পানির মার্কেটিং ম্যানেজার নুরুজ্জামানের দেওয়া তথ্যের বরাত দিয়ে জানা গেছে, নিহতদের মধ্যে রয়েছেন প্রতিষ্ঠানটির স্টোরকিপার জিয়াউর রহমান, তাঁর দুই ছেলে ও এক মেয়ে। এ ছাড়া প্রতিষ্ঠানটির ফর্কলিফট চালক ইলিয়াসের স্ত্রী এবং মক্কায় কর্মরত স্টোরকিপার আলমশাহ ও তাঁর মাত্র এক মাস বয়সী কন্যাশিশু রয়েছে। অর্থাৎ, দুর্ঘটনায় একই পরিবারের একাধিক সদস্য প্রাণ হারিয়েছেন। বিশেষ করে এক মাস বয়সী শিশুটির মৃত্যুর খবর প্রবাসী বাংলাদেশিদের মধ্যে গভীর শোকের সৃষ্টি করেছে।জানা গেছে, নিহত ব্যক্তিরা সৌদি আরবে আল আবীর কোল্ড স্টোর ট্রেডিং কোম্পানির সঙ্গে সংশ্লিষ্ট ছিলেন। প্রতিষ্ঠানটির রিয়াদ ও জেদ্দায় কার্যালয় রয়েছে। দুর্ঘটনার খবর পাওয়ার পর সৌদি আরবের স্থানীয় পুলিশ ও উদ্ধারকারী দল ঘটনাস্থলে পৌঁছে মরদেহ উদ্ধার করে। পরে সেগুলো স্থানীয় হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়।জেদ্দায় বাংলাদেশ কনস্যুলেট জানিয়েছে, নিহতদের মরদেহ দেশে ফিরিয়ে আনার জন্য প্রয়োজনীয় আইনি প্রক্রিয়া সম্পন্ন করতে স্বজনদের সহযোগিতা করা হবে। মরদেহ দ্রুত পরিবারের কাছে হস্তান্তরের জন্য স্থানীয় কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ ও প্রয়োজনীয় কার্যক্রম পরিচালনার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এদিকে, একসঙ্গে সাত বাংলাদেশির মৃত্যুতে কক্সবাজারের চকরিয়ায় তাঁদের স্বজন ও পরিচিতজনদের মধ্যে শোকের পরিবেশ তৈরি হয়েছে। প্রবাসে উপার্জনের জন্য যাওয়া মানুষগুলোর এমন মর্মান্তিক মৃত্যুতে পরিবারগুলোর সামনে নেমে এসেছে অপূরণীয় ক্ষতি। দুর্ঘটনার সুনির্দিষ্ট স্থান, সময় এবং গাড়ি নিয়ন্ত্রণ হারানোর পেছনে বিস্তারিত কারণ সম্পর্কে এখনো পূর্ণাঙ্গ তথ্য প্রকাশিত হয়নি। মরদেহ দেশে ফেরানোর প্রক্রিয়া এবং পরিবারের কাছে হস্তান্তরের বিষয়েও পরবর্তী সরকারি তথ্যের অপেক্ষা রয়েছে।
বাবার জন্য খাবার কিনতে গিয়ে গুলিবিদ্ধ মনিরুল, বিএসএফের হাতে যাওয়ার পর নিখোঁজ
স্বাস্থ্যবিমার নতুন সময় শুরু, ২০২৭ সালের কভারেজ নিতে এখনই আবেদন করুন
বন্যার পানিতে আটকে মা-ছেলে, ফেসবুকের পোস্ট দেখে ছুটে এলেন দুই কিশোর
যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাস অঙ্গরাজ্যের হিউস্টনে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডের মধ্যে দুই ছোট মেয়েকে বাঁচাতে নিজের জীবন বিপন্ন করেছেন এক মা। তিনতলা বাড়ির ভেতরে আগুন ও কালো ধোঁয়ায় আটকে পড়ার পর সন্তানদের বাঁচাতে তিনি যে সিদ্ধান্ত নিয়েছেন, তা এখন মানুষের হৃদয় ছুঁয়ে যাচ্ছে। ঘটনাটি ঘটে বৃহস্পতিবার (৫ নভেম্বর) রাত দেড়টার দিকে হিউস্টনের শ্যাডি একরস এলাকায় বেল স্ট্রিটের কাছে একটি টাউনহাউসে। আগুন দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে বাড়ির বিভিন্ন অংশে। পরিবারের গাড়িতেও আগুন ধরে যায়। স্থানীয় সংবাদমাধ্যম কেপিআরসি জানিয়েছে, বাড়িটিতে বসবাস করতেন ক্যাসি গঞ্জালেস ও তাঁর স্বামী এফ্রেইন গঞ্জালেস। তাঁদের দুই মেয়ের বয়স মাত্র চার ও পাঁচ বছর।আগুন লাগার পর বাবা এফ্রেইন পরিবারের সদস্যদের বাঁচাতে মরিয়া হয়ে চেষ্টা করেন। পরিবারের গাড়িতে বিস্ফোরণের পর তিনি আগুনের মধ্যে ছুটে যান। শরীরের বিভিন্ন অংশ পুড়ে গেলেও পরিবারের কাছে ফিরে যাওয়ার চেষ্টা করেন। কিন্তু ধোঁয়ার কারণে তিনি আর ভেতরে এগোতে পারেননি। বর্তমানে তিনি আশঙ্কাজনক অবস্থায় হাসপাতালে চিকিৎসাধীন। অন্যদিকে বাড়ির তৃতীয় তলায় দুই মেয়েকে নিয়ে আটকা পড়েন মা ক্যাসি। চারদিকে কালো ধোঁয়া, আগুনের তীব্রতা এবং বের হওয়ার পথ বন্ধ হয়ে যাওয়ায় সন্তানদের বাঁচাতে তাঁকে কঠিন সিদ্ধান্ত নিতে হয়।নিচে তখন প্রতিবেশীরা ছুটে এসেছেন। তাঁদের মধ্যে ছিলেন জন বাউয়ার ও আরেক প্রতিবেশী। আগুনের ভয়াবহতা উপেক্ষা করে তাঁরা বাড়ির পেছনে পৌঁছানোর চেষ্টা করেন। সন্তানদের সাহস জোগাতে মা বলেন, সাহসী হতে হবে। এরপর তৃতীয় তলার জানালা দিয়ে দুই মেয়েকে নিচে নামিয়ে দেন। নিচে দাঁড়িয়ে থাকা প্রতিবেশীরা দুই শিশুকেই ধরে ফেলেন। সৌভাগ্যক্রমে শিশু দুটির দৃশ্যমান কোনো আঘাত লাগেনি।কিন্তু সন্তানদের নিরাপদে পাঠানোর পর নিজের জীবন বাঁচাতে জানালা দিয়ে বের হওয়ার চেষ্টা করেন ক্যাসি। ততক্ষণে ধোঁয়া এতটাই ঘন হয়ে গিয়েছিল যে প্রতিবেশীরা তাঁকে নিরাপদে ধরতে পারেননি। তিনি তিনতলা থেকে নিচে পড়ে আহত হন। পরে তাঁকে হাসপাতালে নেওয়া হয়। বর্তমানে তিনি চিকিৎসাধীন এবং সুস্থ হয়ে ওঠার চেষ্টা করছেন। প্রতিবেশী জন বাউয়ার জানান, আগুনের শব্দে তাঁর ঘুম ভেঙে যায়। বাইরে কমলা রঙের আগুনের আলো দেখতে পেয়ে তিনি দ্রুত বাড়ির দিকে ছুটে যান। তিনি জানতেন না ঠিক কাকে বা কতজনকে ধরে ফেলতে হবে। কিন্তু বিপদের মুহূর্তে পিছিয়ে যাননি।বাউয়ার বলেন, তিনি শুধু সেই মুহূর্তে যতটুকু সম্ভব সাহায্য করার চেষ্টা করেছেন। পরিবারের সদস্যরা তাঁকে নায়ক হিসেবে দেখলেও নিজের কাজকে মানবিক দায়িত্ব হিসেবেই দেখছেন তিনি। এদিকে আগুন লাগার প্রকৃত কারণ এখনো তদন্তাধীন। পরিবারের গাড়িটি ২০২৫ সালের কিয়া টেলুরাইড বলে জানিয়েছে সংবাদমাধ্যমটি। গাড়ি থেকে আগুনের সূত্রপাত হয়েছিল কি না, তা এখনো নিশ্চিত নয়।এই মুহূর্তে পরিবারের সবচেয়ে বড় লড়াই হলো সুস্থ হয়ে ফিরে আসা। হাসপাতালে মা চিকিৎসাধীন, বাবা আশঙ্কাজনক অবস্থায় জীবনযুদ্ধ করছেন। আর দুই ছোট শিশু ভয়াবহ সেই রাতের স্মৃতি নিয়ে স্বাভাবিক জীবনে ফেরার চেষ্টা করছে। একটি পরিবারের জীবনে কয়েক মুহূর্তেই সবকিছু বদলে গেল। তবে বিপদের সেই রাতে প্রতিবেশীদের মানবিক সাহস দুই শিশুর জীবনে নতুন করে বেঁচে থাকার সুযোগ তৈরি করেছে।
যুক্তরাষ্ট্রের বাজারে ইসরাইলি প্রতিষ্ঠানের কৃত্রিম মাংস, খেয়ে হতাশ খাদ্যবিশেষজ্ঞ, গন্ধ প্লাস্টিকের মতো!
পুলিশ দেখলেই আতঙ্ক নয়, অভিবাসী পরিবারকে স্বস্তি দিতে নতুন সিদ্ধান্ত হিউস্টনে
ব্রুকলিনে গাড়ির ধাক্কায় আহত পথচারীকে ফেলে যাওয়ার অভিযোগে সাবেক এফবিআই এজেন্ট গ্রেপ্তার
ফিলিস্তিনিদের সহায়তায় তহবিল সংগ্রহের জন্য যুক্তরাষ্ট্রে কনসার্ট আয়োজন করতে গিয়ে বাধার মুখে পড়েছেন গ্র্যামি পুরস্কারজয়ী মার্কিন র্যাপার ম্যাকলেমোর। তাঁর অভিযোগ, ফিলিস্তিনের সমর্থনে অনুষ্ঠান আয়োজনের কথা জানার পর যুক্তরাষ্ট্রের নয়টি বড় ভেন্যু কনসার্টের প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করেছে। দুই দশকের বেশি সময়ের সংগীতজীবনে এমন অভিজ্ঞতা আগে কখনো হয়নি বলে জানিয়েছেন তিনি। শনিবার (৭ নভেম্বর) তুরস্কের বার্তা সংস্থা আনাদোলু এজেন্সির প্রতিবেদনে জানানো হয়, শুক্রবার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ইনস্টাগ্রামে দেওয়া দীর্ঘ এক বিবৃতিতে এসব অভিযোগ করেন ম্যাকলেমোর। তিনি জানান, ইউরোপের তিনটি শহরে সফলভাবে কনসার্ট আয়োজনের পর একই উদ্যোগ যুক্তরাষ্ট্রেও নেওয়ার পরিকল্পনা করেছিলেন। ম্যাকলেমোরের পরিকল্পনা ছিল ‘ফ্রি প্যালেস্টাইন’ শিরোনামে যুক্তরাষ্ট্রের বিভিন্ন বড় ভেন্যুতে কনসার্ট আয়োজন করা। এসব অনুষ্ঠানের মাধ্যমে ফিলিস্তিনিদের জন্য তহবিল সংগ্রহ এবং তাঁদের প্রতি সংহতি প্রকাশ করতে চেয়েছিলেন তিনি। কিন্তু কয়েক সপ্তাহ ধরে যোগাযোগ করেও নয়টি বড় ভেন্যু থেকে ইতিবাচক সাড়া পাননি বলে অভিযোগ করেন এই শিল্পী। প্রত্যাখ্যান করা ভেন্যুগুলোর মধ্যে রয়েছে ম্যাডিসন স্কয়ার গার্ডেন, প্রুডেনশিয়াল সেন্টার, বার্কলেস সেন্টার ও ইউবিএস এরিনা। এ ছাড়া ইনটুইট ডোম, কিয়া ফোরাম, ক্রিপ্টো ডটকম এরিনা, চেজ সেন্টার এবং ক্লাইমেট প্লেজ এরিনার নামও উল্লেখ করেছেন ম্যাকলেমোর। তাঁর দাবি, সেপ্টেম্বরের মাঝামাঝি সময়ের মধ্যে তাঁর দল এসব ভেন্যুতে বছরের শেষ পর্যন্ত কনসার্ট আয়োজনের সম্ভাব্য তারিখ পেয়েছিল। কিন্তু অনুষ্ঠানগুলো ফিলিস্তিনিদের সহায়তায় তহবিল সংগ্রহের জন্য আয়োজন করা হচ্ছে জানার পর সেই সুযোগ আর দেওয়া হয়নি। ইনস্টাগ্রামের বিবৃতিতে ম্যাকলেমোর বলেন, কয়েক সপ্তাহ ধরে যোগাযোগের পর যুক্তরাষ্ট্রের নয়টি বড় ভেন্যু তাঁদের ফিরিয়ে দিয়েছে। তাঁর ভাষায়, ফিলিস্তিনের সমর্থনে অনুষ্ঠান আয়োজনের বিষয়টি সামনে আসার পর তাঁদের জন্য দরজা বন্ধ হয়ে যায়। দুই দশকের বেশি সময় ধরে বিভিন্ন দেশে কনসার্ট আয়োজন করেছেন ম্যাকলেমোর। কিন্তু এতগুলো বড় ভেন্যু থেকে একই ধরনের প্রত্যাখ্যানের অভিজ্ঞতা আগে কখনো হয়নি বলে জানিয়েছেন তিনি। বিষয়টি নিয়ে হতাশা ও ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন এই মার্কিন শিল্পী। এ ঘটনার জন্য বিনোদনশিল্পের প্রভাবশালী ব্যক্তিদের সমালোচনা করেছেন ম্যাকলেমোর। তাঁর অভিযোগ, ফিলিস্তিনিদের পক্ষে প্রকাশ্যে অবস্থান নেওয়া শিল্পীদের কণ্ঠরোধের চেষ্টা চলছে। মতপ্রকাশের স্বাধীনতার চেয়ে বাণিজ্যিক স্বার্থকে বেশি গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে বলেও দাবি করেন তিনি। ম্যাকলেমোর বলেন, যুক্তরাষ্ট্র এমন একটি দেশ, যেখানে মতপ্রকাশের স্বাধীনতাকে অত্যন্ত গুরুত্ব দেওয়া হয়। অথচ কোন শিল্পী কোন মানবিক উদ্যোগের পক্ষে দাঁড়াতে পারবেন, তা প্রভাবশালী ও বিত্তবান ব্যক্তিরা নির্ধারণ করবেন কেন—এমন প্রশ্ন তোলেন তিনি। ফিলিস্তিনপন্থী শিল্পী ও সমর্থকদের ভয়ভীতি দেখানো এবং তাঁদের বক্তব্য প্রকাশে বাধা দেওয়ার অভিযোগও করেন ম্যাকলেমোর। একই ধরনের অভিজ্ঞতার বিষয়ে আগে প্রকাশ্যে কথা না বলার জন্য অনুশোচনা প্রকাশ করেছেন তিনি। তবে যুক্তরাষ্ট্রে বাধার মুখে পড়লেও ইউরোপে অনুষ্ঠিত কনসার্টগুলোর অভিজ্ঞতা ইতিবাচক বলে জানিয়েছেন ম্যাকলেমোর। তাঁর তথ্য অনুযায়ী, আয়ারল্যান্ডের ডাবলিন, ফ্রান্সের প্যারিস ও যুক্তরাজ্যের লন্ডনে আয়োজিত তিনটি কনসার্টের সব টিকিট বিক্রি হয়ে যায়। ইউরোপের ওই তিনটি অনুষ্ঠানে কয়েক দশ হাজার দর্শক অংশ নিয়েছিলেন বলে জানান তিনি। ফিলিস্তিনিদের অধিকারের পক্ষে সংহতি জানাতে ৪০ জনের বেশি শিল্পী ও বক্তাও এসব আয়োজনে অংশ নেন। যুক্তরাষ্ট্রের ভেন্যুগুলো থেকে প্রত্যাখ্যাত হওয়ার পরও ফিলিস্তিনিদের সহায়তায় তহবিল সংগ্রহের উদ্যোগ বন্ধ করবেন না বলে জানিয়েছেন ম্যাকলেমোর। প্রয়োজনে যুক্তরাষ্ট্রের বাইরে আরও কনসার্ট আয়োজনের পরিকল্পনার কথাও বলেছেন তিনি। ইনস্টাগ্রামের বিবৃতিতে ম্যাকলেমোর জানান, ফিলিস্তিনি জনগণের পাশে দাঁড়ানো এবং তাঁদের জন্য অর্থ সংগ্রহের অঙ্গীকার আগের মতোই রয়েছে। বড় ভেন্যুতে সুযোগ না পেলেও নিজেদের উদ্যোগে অনুষ্ঠানের আয়োজন করবেন বলে জানিয়েছেন তিনি। তাঁর ভাষায়, অন্যরা মঞ্চ ব্যবহারের সুযোগ না দিলে তাঁরা নিজেদের মঞ্চ তৈরি করবেন। ফিলিস্তিনিদের প্রতি সংহতি প্রকাশ এবং মানবিক সহায়তার জন্য সংগীতের মাধ্যমে কাজ চালিয়ে যাওয়ার অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করেছেন এই মার্কিন শিল্পী। সূত্র: আনাদোলু এজেন্সি
ভেটেরানস ডেতে যুক্তরাষ্ট্রে ফেডারেল দপ্তরে ছুটি, বন্ধ থাকবে বিভিন্ন আদালত
ভারত থেকে যুক্তরাষ্ট্র, মার্কিন নির্বাচনে জয়ী হয়ে ইতিহাস গড়লেন মুসলিম নারী সাবা হায়দার